ভাষা আন্দোলন

পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর ঢাকা সফরের প্রাক্কালে ১৯৪৮ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান গণপরিষদে বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবি উত্থাপন করেন কংগ্রেসের ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত। ২৭ ফেব্রুয়ারি, ১৯৪৮ সলিমুল্লাহ হলের এক সভায় শামসুল আলমকে আহ্বায়ক করে গঠিত হয় রাষ্ট্রভাষা কর্মপরিষদ। প্রথম থেকেই তমুদ্দন মজলিশ ভাষা আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিল। কর্মপরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে ১১ মার্চ ১৪৪ ধারা ভেঙে সচিবালয়ের সামনে ছাত্র গণবিক্ষোভ প্রদর্শিত হয়। শেখ মুজিব, শামসুল হক, অলি আহাদ, কাজী গোলাম মাহবুব, রণেশ দাশগুপ্ত, ধরিণী রায়, শওকত আলী ও আবদুল ওয়াদদুসহ সেদিন ৬৯ জন ছাত্র-যুব নেতা গ্রেফতার বরণ করেন। ১৯৪৮ সালের ১৬ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বটতলায় শেখ মুজিবের সভাপতিত্বে রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে ছাত্রসভা অনুষ্ঠিত হয়। ১৯ মার্চ জিন্নাহ ঢাকা সফরকালে রেসকোর্স ময়দানে এবং পরের দিন কার্জন হলে অনুষ্ঠিত সভায় জিন্নাহ তাঁর বক্তৃতায় উর্দুকে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্র ভাষা ঘোষণা করেন। ‘নো’ ‘নো’ বলে তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ জানান শেখ মুজিবুর রহমানসহ কয়েকজন ছাত্র। এসব ঘটনার ভেতর দিয়ে ১৯৪৮ সালে বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে সূচিত ভাষা আন্দোলন ১৯৫২ সালে গণজাগরণে পরিণত হয়।
১৯৫১ সালের ২৭ মার্চ যুব সম্মেলনকে কেন্দ্র করে ঢাকা শহরে ১৪৪ ধারা জারি এবং সম্মেলন স্থল বার লাইব্রেরি হল পুলিশ দখল করে নেওয়ায় বুড়িগঙ্গা নদীর অপর পারের গ্রিনবোটে বসে বিভিন্ন জেলা থেকে আগত প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে একটি যুব সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। গঠিত হয় পূর্ব পাকিস্তান যুবলীগ। সম্মেলনে মাহমুদ আলীকে সভাপতি, খাজা আহমদ, ইয়ার মোহাম্মদ খান, শামসুদ্দোহা, আবদুল মজিদ এবং মিসেস দৌলতুন্নেসাকে সহ-সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক পদে অলি আহাদ, যুগ্ম সম্পাদক : আবদুল মতিন ও রুহুল আমিন এবং কোষাধ্যক্ষ নির্বাচিত হন তাসাদ্দক আহমদ চৌধুরী। কার্যকরী সংসদের সদস্য ছিলেনÑ মাহমুদ নুরুল হুদা, মো. তোয়াহা, মতিউর রহমান (রংপুর), আবদুল হালিম (ঢাকা), আবদুস সামাদ (সিলেট), মকসুদ আহমদ, কে. জি. মোস্তফা, কবির আহমদ (চট্টগ্রাম), এমএ ওয়াদুদ, আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী, প্রাণেশ সমাদ্দার, তাজউদ্দিন আহমদ, আকমল হোসেন, মোতাহার হোসেন ও মিস রোকেয়া খাতুন। যুবলীগ ভাষা আন্দোলন ও আওয়ামী লীগের শক্ত-ভিত গড়ে তোলায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখে। যুবলীগে বামপন্থিদের প্রভাব ছিল বেশি। নানা কারণে এই সংগঠন শেষ পর্যন্ত ৬-৭ বছরের বেশি টেকেনি।
ইতোমধ্যে ১৯৫১ সালের ৮ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রভাষা কর্মপরিষদ দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শাখা গঠনের উদ্যোগ নেয়। ১৯৫১ সালের ১৬ অক্টোবর আততায়ীর গুলিতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী খান নিহত হন। গভর্নর জেনারেল খাজা নাজিমুদ্দিন প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। লিয়াকত আলীর মৃত্যুর পর খাজা নাজিমুদ্দিন ঢাকায় সফরে এসে পুনরায় উর্দুকে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার ঘোষণা দেন। এর প্রতিক্রিয়ায় ১৯৫২ সালের ৩০ জানুয়ারি মওলানা ভাসানীর সভাপতিত্বে সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম কমিটি গঠিত হয়। সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম কমিটিতে ছিলেনÑ

১. মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী : সভাপতি, পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ
২. আবুল হাশিম : খেলাফতে রাব্বানী পার্টি
৩. শামসুল হক : সাধারণ সম্পাদক, পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ
৪. আবদুল গফুর : সম্পাদক, সাপ্তাহিক সৈনিক
৫. অধ্যাপক আবুল কাসেম : তমদ্দুন মজলিশ
৬. আতাউর রহমান খান : আওয়ামী মুসলিম লীগ
৭. কামরুদ্দিন আহমদ : সভাপতি, লেবার ফেডারেশন
৮. খয়রাত হোসেন : সদস্য, পূর্ববঙ্গ আইন পরিষদ
৯. আনোয়ারা খাতুন : সদস্য, পূর্ববঙ্গ আইন পরিষদ
১০. আলমাস আলী : নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী মুসলিম লীগ
১১. আবদুল আওয়াল : নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী মুসলিম লীগ
১২. সৈয়দ আবদুর রহিম : সভাপতি, রিকশা ইউনিয়ন
১৩. মো. তোয়াহা : সহ-সভাপতি, পূর্ব পাকিস্তান যুবলীগ
১৪. অলি আহাদ : সাধারণ সম্পাদক, পূর্ব পাকিস্তান যুবলীগ
১৫. শামসুল হক চৌধুরী : ভারপ্রাপ্ত সভাপতি, পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্রলীগ
১৬. খালেক নেওয়াজ খান : সাধারণ সম্পাদক, পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্রলীগ
১৭. কাজী গোলাম মাহবুব : আহ্বায়ক, সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ
১৮. মীর্জা গোলাম হাফিজ : সিভিল লিবার্টি কমিটি
১৯. মজিবুল হক : সহ-সভাপতি, সলিমুল্লাহ হল ছাত্র সংসদ
২০. হেদায়েত হোসেন চৌধুরী : সাধারণ সম্পাদক, সলিমুল্লাহ হল ছাত্র সংসদ
২১. শামসুল আলম : সহ-সভাপতি, ফজলুল হক মুসলিম হল ছাত্র সংসদ
২২. আনোয়ারুল হক খান : সাধারণ সম্পাদক, ফজলুল হক মুসলিম হল ছাত্র সংসদ
২৩. গোলাম মাওলা : সহ-সভাপতি, ঢাকা মেডিকেল কলেজ ছাত্র সংসদ
২৪. সৈয়দ নূরুল আলম : পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্রলীগ
২৫. মোহাম্মদ নূরুল হুদা : ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ
২৬. শওকত আলী : পূর্ববঙ্গ কর্মীশিবির, ১৫০ মোগলটুলী, ঢাকা
২৭. আবদুল মতিন : আহ্বায়ক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ
২৮. আখতার উদ্দিন আহমদ : নিখিল পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্রলীগ

কমিটি ১৯৫২-এর ২১শে ফেব্রুয়ারি ঢাকায় বিক্ষোভ-সমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করে। সরকার ১৪৪ ধারা জারি করে। সেদিন ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করেই বিশ্ববিদ্যালয় বটতলায় গাজীউল হকের সভাপতিত্বে ছাত্র সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। ১৪৪ ধারা ভঙ্গের ব্যাপারে কারো কারো দ্বিধা-দ্বন্দ্ব ছিল। সে সময় কারাবন্দি হিসেবে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় শেখ মুজিবুর রহমান, যুবলীগ নেতা অলি আহাদ ও মোহাম্মদ তোয়াহা এবং ছাত্রলীগ নেতা কাজী গোলাম মাহবুব ও খালেক নেওয়াজ প্রমুখের সঙ্গে ভাষা আন্দোলন সম্পর্কে গোপনে মিলিত হন এবং ভাষা আন্দোলনের পাশাপাশি তিনি তার কারামুক্তির দাবিতে ১৬ ফেব্রুয়ারি থেকে অনশন পালনের কথা জানান। তিনি ভাষা আন্দোলনের ব্যাপারে ছাত্রনেতাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন। পরামর্শ দিতেন। প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান লিখেছেনÑ শেখ মুজিব কারাগারে থেকেও আন্দোলনের ব্যাপারে তাদের কাছে ‘চিরকুট’ পাঠাতেন, এবং তিনি প্রয়োজনে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে হলেও আন্দোলন এগিয়ে নেওয়ার পক্ষে ছিলেন। ছাত্রনেতাদের সাথে যোগাযোগ ও আন্দোলনে তার এই ভূমিকার কথা জানতে পেরে ২১শে ফেব্রুয়ারির আগেই তাকে ও মহিউদ্দিন আহমেদকে ফরিদপুর জেলে স্থানান্তর করা হয়।
কিন্তু এসব করেও আন্দোলন ব্যাহত করা সম্ভব হয় না।
রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ ১৪৪ ধারা ভঙ্গের বিরুদ্ধে ছিল। মওলানা ভাসানীর সভাপতিত্বে আওয়ামী লীগ কার্যালয় ১৫০ মোগলটুলিতে ২০ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম কমিটির সভায় ১৪৪ ধারা ভঙ্গের বিরুদ্ধে আতাউর রহমান খান, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শামসুল হক, রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম কমিটির আহ্বায়ক কাজী গোলাম মাহবুব এবং যুবলীগ নেতা মোহাম্মদ তোয়াহা প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। দীর্ঘ সভায় কোনো ঐকমত্য না হওয়ায় রাত ১টা ৩০ মিনিটে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক শামসুল হক একুশে ফেব্রুয়ারির কর্মসূচি প্রত্যাহারের প্রস্তাব উত্থাপন করেন। এ নিয়ে তীব্র বাদানুবাদ হয়। সভার সভাপতি মওলানা ভাসানী ১৪৪ ধারা ভঙ্গের পক্ষে থাকলেও সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম কমিটির সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য ১৪৪ ধারা ভঙ্গের বিরুদ্ধে ভোট দেন। প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান লিখেছেনÑ সংগঠনগতভাবে আওয়ামী লীগের ভাষা আন্দোলন প্রশ্নে দ্বিধা-দ্বন্দ্বের কারণ সোহরাওয়ার্দী সাহেব উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করার পক্ষে ছিলেন। একুশে ফেব্রুয়ারি গুলিবর্ষণের নিন্দা করে বিবৃতি দিলেও সোহরাওয়ার্দী তখনও রাষ্ট্রভাষা বাংলার পক্ষে ছিলেন না। অথচ মওলানা ভাসানী ও শেখ মুজিব দৃঢ়ভাবে বাংলার পক্ষে ছিলেন। শেখ মুজিব জেল থেকে মুক্তি পাওয়ার পর করাচি গিয়ে সোহরাওয়ার্দীর কাছে পুরো পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করার পর তিনি তার মত পরিবর্তন করেন। দ্রষ্টব্য : জিল্লুর রহমান, ভাষা আন্দোলন ও মাতৃভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় আওয়ামী লীগ, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কর্তৃক প্রকাশিত স্মারক গ্রন্থ গৌরবের ৫৫ বছর।

অন্যদিকে একই দিনে অর্থাৎ ২০ ফেব্রুয়ারি রাতে ফজলুল হক হলের পুকুর পাড়ে ছাত্রনেতাদের বৈঠকে পর দিন ১৪৪ ধারা ভঙ্গের পক্ষে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। এই সভায় উপস্থিত ছিলেনÑ ১. যুবলীগ নেতা গাজীউল হক ২. হাবিবুর রহমান শেলী (সাবেক প্রধান বিচারপতি) ৩. মোহাম্মদ সুলতান (পরবর্তীতে ছাত্র ইউনিয়নের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি) ৪. এম আর আখতার মুকুল (ছাত্রলীগ নেতা ও পরবর্তীতে প্রখ্যাত সাংবাদিক) ৫. জিল্লুর রহমান (ছাত্রলীগ নেতা ও পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি) ৬. আবদুল মমিন (ছাত্রলীগ নেতা, মন্ত্রি ও পরবর্তীতে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য) ৭. এসএ বারী এটি (ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও জিয়াউর রহমান সরকারের মন্ত্রী) ৮. সৈয়দ কামরুদ্দিন শহুদ (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শনের অধ্যাপক) ৯. আনোয়ারুল হক খান (মুজিবনগর সরকারের তথ্য সচিব) ১০. মঞ্জুর হোসেন (চিকিৎসক) ১১. আনোয়ার হোসেন প্রমুখ।
কিন্তু রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম কমিটির বিরোধিতা সত্ত্বেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আমতলায় গাজীউল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় স্বতঃস্ফূর্তভাবে ছাত্রসমাজ ১৪৪ ধারা ভঙ্গের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ৫ জন-৫ জন করে মিছিল নিয়ে প্রাদেশিক পরিষদের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়। ১৪৪ ধারা ভঙ্গের জন্য পুলিশ মিছিলের ওপরে ঝাঁপিয়ে পড়ে। পুলিশি বাধা উপেক্ষা করে ২১শে ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে ঢাকার রাজপথে হাজার হাজার ছাত্র-জনতা নেমে আসে। পুলিশ মিছিল লক্ষ্য করে বেপরোয়া গুলিবর্ষণ করে। শহীদ হন রফিক, জব্বার, শফিক, বরকত, সালাম প্রমুখ। এই বর্বরোচিত হত্যাকা-ের পর মুসলিম লীগ সরকার গণরোষের শিকারে পরিণত হয়। ঢাকাসহ দেশের দৃশ্যপট বদলে যায়। ঢাকায় হাজার হাজার মানুষ রাজপথে নেমে আসে। পূর্ব পাকিস্তান ব্যবস্থাপক সভার কয়েকজন সদস্য অধিবেশন থেকে বেরিয়ে এসে আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি জানান। ২২, ২৩ ফেব্রুয়ারিতে আন্দোলন অপ্রতিরোধ্য হয়ে ওঠে। সরকার বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার ঘোষণা দিতে বাধ্য হয়। একইসঙ্গে ১৯৫৩ সালে প্রাদেশিক পরিষদ ভেঙ্গে দেওয়া এবং ১৯৫৪ সালে প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠানের অঙ্গীকার ঘোষণা করা হয়। এভাবে সবচেয়ে সংগঠিত প্রধান রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে এ দেশের সকল অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক শক্তির ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন এবং বীর শহীদানের আত্মদানের ভেতর দিয়ে ভাষা আন্দোলন কাক্সিক্ষত বিজয় অর্জন করে। ভাষা আন্দোলনের পটভূমিতে ১৯৫২ সালের ২৬ এপ্রিল বামপন্থি প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠন পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়ন আত্মপ্রকাশ করে। ছাত্র ইউনিয়নের যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন কাজী আনোয়ারুল আজিম ও সৈয়দ আবদুস সাত্তার। ’৫২ সালের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে সভাপতি নির্বাচিত হন মোহাম্মদ সুলতান ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইলিয়াস।

Category:

Leave a Reply