মহান শিক্ষা দিবসের আলোকেই আজকের শিক্ষানীতি

uttaranরায়হান কবির: ১৭ সেপ্টেম্বর মহান শিক্ষা দিবস। বাঙালি জাতির রাজনৈতিক সংগ্রামের গৌরবোজ্জ্বল ঐতিহ্যে শিক্ষা আন্দোলন এক অনন্য মাইলফলক। পৃথিবীর আর কোনো জাতিকে ভাষা, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক অধিকার আদায়ের জন্য বাঙালি জাতির ন্যায় এত সংগ্রাম ও আত্মত্যাগ করতে হয়নি। বাঙালি জাতির প্রায় সকল অধিকারই রক্তঝরা আন্দোলন-সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের মধ্যদিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
১৯৪৭ সালের অবৈজ্ঞানিক দ্বি-জাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে দেশভাগের পর পূর্ববাংলার জনগণ শিক্ষা, অর্থনীতি, সামরিক-বেসামরিক চাকরি, ব্যবসা-বাণিজ্য সর্বক্ষেত্রে চরম বিমাতাসুলভ ও বৈষম্যমূলক আচরণের শিকার হয়। বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির ওপর আগ্রাসন, রবীন্দ্রসংগীত চর্চায় নিষেধাজ্ঞা, নজরুলের কবিতার বিকৃতি যেমনÑ ‘মহাশ্মশান’-এর পরিবর্তে ‘গোরস্তান’, ‘সকালে উঠিয়া আমি মনে মনে বলি, সারাদিন আমি যেন ভাল হয়ে চলি’Ñ এর পরিবর্তে ‘ফজরে উঠিয়া আমি দিলে দিলে বলি, সারাদিন যেন আমি নেক হয়ে চলি’ ইত্যাদি অপতৎপরতা শিক্ষাবিদ ও সংস্কৃতিসেবীদের ক্ষুব্ধ করে তোলে।
১৯৫৯ সালের ৩০ ডিসেম্বর সামরিক শাসক আইয়ুব খান তৎকালীন শিক্ষা সচিব এসএম শরিফকে চেয়ারম্যান করে ১১ সদস্যবিশিষ্ট ‘জাতীয় শিক্ষা কমিশন’ গঠন করেন। গঠিত ওই কমিশন ১৯৫৯ সালের ২৬ আগস্ট তাদের প্রতিবেদন পেশ করে। এতে শিক্ষা বিষয়ে যেসব প্রস্তাবনা ছিল তা প্রকারান্তরে শিক্ষা সংকোচনের পক্ষে গিয়েছিল। প্রস্তাবিত প্রতিবেদনে বলা হয়, সস্তায় শিক্ষা ক্রয় করা যায় বলে যে ভুল ধারণা রয়েছে তা ত্যাগ করতে হবে। এতে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষার ক্ষেত্রেও শিক্ষার্থীদের বেতন বর্ধিত করার প্রস্তাব ছিল। এই তথাকথিত ‘জাতীয় শিক্ষানীতি’তে যেসব বিষয় সুপারিশ করা হয়েছিল তা ছিলÑ শিক্ষাকে ব্যয়বহুল পণ্যের মতো শুধু উচ্চবিত্তের সন্তানদের স্বার্থে উচ্চ শিক্ষাকে সীমিত করা এবং সাধারণের জন্য উচ্চ শিক্ষার সুযোগ একেবারেই সংকুচিত করে ফেলার ষড়যন্ত্র। শিক্ষা ব্যয় পুঁজিবিনিয়োগ হিসেবে দেখে শিক্ষার্থীরা তা বহন করা, যে অভিভাবক বেশি বিনিয়োগ করবেন তিনি বেশি লাভবান হবেন; অবৈতনিক শিক্ষার ধারণাকে ‘অবাস্তব কল্পনা’ বলে উল্লেখ; ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে ডিগ্রি পর্যন্ত ইংরেজি পাঠ বাধ্যতামূলক; উর্দুকে জনগণের ভাষায় পরিণত করা; সাম্প্রদায়িকতাকে কৌশলে জিইয়ে রাখার চেষ্টা ইত্যাদি।
ওই কমিশন বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বায়ত্তশাসনের পরিবর্তে পূর্ণ সরকারি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা, বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে রাজনীতি নিষিদ্ধ করা, ছাত্র-শিক্ষকদের কার্যকলাপের ওপর তীক্ষè নজর রাখার প্রস্তাব করে। শিক্ষকদের কঠোর পরিশ্রম করাতে ১৫ ঘণ্টা কাজের বিধান রাখা হয়। রিপোর্টের শেষ পর্যায়ে বর্ণমালা সংস্কারেরও প্রস্তাব ছিল। ছাত্রলীগ ও ছাত্র ইউনিয়নসহ বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন আইয়ুবের এই শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়।
১৯৬০ ও ১৯৬১ সালে এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকে। ঢাকা কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বহু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্ব-স্ব দাবির ভিত্তিতে জুলাই-আগস্ট মাসজুড়ে আন্দোলন চলতে থাকে। এ আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ১০ সেপ্টেম্বর সচিবালয় ঘেরাও কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। পরবর্তী সময়ে আন্দোলনকে বেগবান করার জন্য ১০ সেপ্টেম্বর সচিবালয় ঘেরাও কর্মসূচি বাতিল করে ১৭ সেপ্টেম্বর দেশব্যাপী হরতাল কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়। ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের নেতৃত্বে ১৭ সেপ্টেম্বর দেশব্যাপী হরতাল পালিত হয়। ছাত্রদের সাথে সাধারণ মানুষও হরতালে অংশ নেয়। ওই দিন সকাল ১০টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে হাজার হাজার মানুষ সমাবেশে উপস্থিত হন। সমাবেশ শেষে মিছিল বের হয়। মিছিল নবাবপুরের দিকে যাত্রা শুরু করে। কিন্তু হাইকোর্টের সামনে পুলিশ এতে বাধা দেয়। তখন মিছিলকারীরা সংঘাতে না গিয়ে আবদুল গনি রোডে অগ্রসর হয়। এ সময় পুলিশ মিছিলের পেছন থেকে লাঠিচার্জ, কাঁদানে গ্যাস ও গুলিবর্ষণ করে। ওই দিন পুলিশের গুলিতে বাবুল, মোস্তফা, ওয়াজিউল্লাহ শহিদ হন। ওই দিন শুধু ঢাকা নয়, সারাদেশে মিছিলের ওপর পুলিশ হামলা চালায়। এদিন টঙ্গীতে ছাত্র-শ্রমিক মিছিলে পুলিশের গুলিতে সুন্দর আলী নামে এক শ্রমিকেরও হত্যার খবর রয়েছে। বহু ছাত্র-জনতা পুলিশ ও ইপিআরের নির্যাতন ও গুলিতে সারাদেশে আহত হন।
১৭ সেপ্টেম্বরের ঘটনা ছাত্র আন্দোলনকে আরও বেগবান করে তোলে। ছাত্রসমাজ বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। সাধারণ জনগণ ছাত্রসমাজের প্রতি আরও দৃঢ় সমর্থন ব্যক্ত করেন। সারাদেশে তিন দিনব্যাপী শোকের কর্মসূচি ঘোষণা করে আন্দোলনের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখা হয়। ২৪ সেপ্টেম্বর পল্টন ময়দানে এক ছাত্র জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। জনগণের সমর্থিত ছাত্রসমাজের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন দমন করতে ব্যর্থ হয়ে আইয়ুবের সামরিক সরকার তথাকথিত ‘জাতীয় শিক্ষানীতি’ স্থগিত ঘোষণা করতে বাধ্য হয়।
গণবিরোধী শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে এবং একটি গণমুখী সার্বজনীন আধুনিক শিক্ষানীতির দাবিতে ছাত্র আন্দোলন ও শহিদদের আত্মদান তথা শিক্ষার ন্যায্য অধিকার ও সুযোগ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের প্রতীক ১৭ সেপ্টেম্বরকে সেদিন ‘শিক্ষা দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এরপর থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর ‘শিক্ষা দিবস’ হিসেবে পালিত হচ্ছে। বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলন ও পাকিস্তানি শাসন-শোষণ-নিপীড়নের বিরুদ্ধে সংগ্রামে শিক্ষা আন্দোলনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্বাধীনতার সংগ্রামে শিক্ষা আন্দোলনের চেতনা ছিল জাগরণের মন্ত্র।
গৌরবময় সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্যদিয়ে ৩০ লাখ শহিদের জীবনের বিনিময়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পর শিক্ষা আন্দোলনের চেতনা বাস্তবায়নে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। ১৯৭২ সালে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বভার গ্রহণের মাত্র ছয় মাসের মধ্যেই বঙ্গবন্ধু ১৯৭২ সালের ২৬ জুলাই বিশিষ্ট বিজ্ঞানী ড. কুদরত-ই-খুদার নেতৃত্বে বাংলাদেশ শিক্ষা কমিশন নিয়োগ করেন। কুদরত-ই-খুদা কমিশন দেড় বছর কঠোর পরিশ্রম করে ব্যাপক জরিপ ও পর্যালোচনাভিত্তিক বাংলাদেশের শিক্ষা সংস্কারের একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রণয়ন করে একটি রিপোর্ট ১৯৭৪ সালের ৩০ মে সরকারের নিকট দাখিল করেন। কমিশন রিপোর্টের অপেক্ষা না করে তিনি কতিপয় জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন। তিনি মার্চ ’৭১ থেকে ডিসেম্বর ’৭১ পর্যন্ত সময়কালের ছাত্রদের সকল বকেয়া টিউশন ফি মওকুফ করেন; শিক্ষকদের ৯ মাসের বকেয়া বেতন পরিশোধ করেন; আর্থিক সংকট থাকা সত্ত্বেও বঙ্গবন্ধু পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত সকল শিক্ষার্থীকে বিনামূল্যে পুস্তক বিতরণ করেন এবং অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষা অবৈতনিক ঘোষণা করেন।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার সংবিধানে শিক্ষা মৌলিক অধিকার এবং প্রত্যেক নাগরিকের জন্য শিক্ষা প্রাপ্তির নিশ্চয়তা প্রদান করে। বঙ্গবন্ধুর যুগান্তকারী পদক্ষেপ হচ্ছে তিনি দেশের সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়কে সরকারিকরণ করেন। বঙ্গবন্ধুর আরেকটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হচ্ছে জাতীয় সংসদে ১৯৭৩ সালের বিশ্ববিদ্যালয় আইন পাস করার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের স্বায়ত্তশাসন প্রদান। বঙ্গবন্ধু অফিস-আদালতে বাংলা প্রচলনের কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিলেন। সেনাবাহিনীসহ সকল অফিসে বাংলা চালু করা ছিল তাৎপর্যপূর্ণ। বাংলা একাডেমিতে সাঁটলিপি, মুদ্রাক্ষর ও নথি লেখার প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু করা হয়। জাতিসংঘে বাংলায় ভাষণ দিয়ে তিনি বাংলা ভাষার মর্যাদা বৃদ্ধি করেছিলেন। কিন্তু ড. কুদরত-ই-খুদা কমিশন স্বাধীন দেশের উপযোগী একটি আধুনিক গণমুখী শিক্ষানীতি প্রণয়ন করলেও ১৫ আগস্টের হত্যাকা-ের পর পরিস্থিতির পরিবর্তনের ফলে তা বাস্তবায়িত হয়নি। এরপর ১৫ আগস্টের সুবিধাভোগী গোষ্ঠী প্রায় অর্ধডজন শিক্ষানীতি প্রণয়ন করলেও তার অনেক কিছুই ছিল বাষট্টির শিক্ষা আন্দোলনের চেতনা-পরিপন্থী। রাজনীতির নামে ছাত্রদের হাতে অস্ত্র তুলে দেওয়া, সেশন জট সৃষ্টি, ছাত্রসমাজকে টেন্ডারবাজি ও চাঁদাবাজিতে যুক্ত করা, শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস সৃষ্টিসহ বিভিন্ন অপতৎপরতা চালায় ’৭৫-পরবর্তী সামরিক শাসকগোষ্ঠী ও তাদের উত্তরসূরিরা।
১৯৯৬ সালে দীর্ঘ ২১ বছর পর বঙ্গবন্ধু-কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ আবারও রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বভার গ্রহণ করলে শিক্ষা আন্দোলনের চেতনা বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। বঙ্গবন্ধুর শিক্ষা-দর্শন বাস্তবায়নের মধ্যদিয়ে শিক্ষার মান্নোনয়ন ঘটে। এ সময় একটি গণমুখী শিক্ষানীতি প্রণীত হয়। শিক্ষা খাতে দেওয়া হয় সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ। সাক্ষরতার হার বিএনপি আমলের ৪৪ শতাংশ থেকে বেড়ে ৬৫ শতাংশে দাঁড়ায়। কিন্তু ২০০১-এ বিএনপি-জামাত জোট ক্ষমতায় গিয়ে শিক্ষার হার ৬৫ থেকে ৪৪ শতাংশে নামিয়ে আনে। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ আবারও রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করায় শিক্ষার হার বৃদ্ধি পায়। বর্তমান শিক্ষার হার বৃদ্ধি পেয়ে ৭২ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।
বাষট্টির শিক্ষা আন্দোলনের মৌল চেতনা এবং একটি কল্যাণমুখী শিক্ষাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার কার্যক্রম যতটুকুই বাস্তবায়িত হয়েছে তা আওয়ামী লীগ আমলেই হয়েছে। আওয়ামী লীগ আমলেই প্রাথমিক বিদ্যালয়কে সরকারিকরণ, প্রাথমিক শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করা, সার্বজনীন শিক্ষার অধিকার, একটি যুগোপযোগী শিক্ষানীতি প্রণয়ন, মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত বিনামূল্যে বই বিতরণের মধ্যদিয়ে ধনী-গরিব সকলের জন্য শিক্ষাগ্রহণের অবাধ সুযোগ সৃষ্টি, বিশ্ববিদ্যালয়কে স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা প্রদান, দেশের বিভিন্ন স্থানে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট ও চিকিৎসা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, সেশনজটমুক্ত শিক্ষাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা, অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন, ভর্তি পরীক্ষা, পরীক্ষার ফল প্রকাশ প্রভৃতি কার্যক্রমের মধ্যদিয়ে শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও সহজলভ্য করা, দেশের প্রায় সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পর্যায়ক্রমে মাল্টিমিডিয়া ও ইন্টারনেট সংযোগ প্রদান, প্রধান শিক্ষকসহ শিক্ষকদের পদমর্যাদা, বেতন-ভাতা, ট্রেনিং ও দক্ষতা বাড়ানোর ব্যবস্থা করা, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়ক ট্রাস্ট ফান্ড গঠন করা, ছাত্রী উপবৃত্তির পাশাপাশি উপজেলা পর্যায়ে দরিদ্র ছাত্রদের জন্য উপবৃত্তি চালু, যুবশক্তিকে অধিক হারে বৃত্তিমূলক ও কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলতে বিভিন্ন বৃত্তিমূলক কোর্স চালুসহ শিক্ষাক্ষেত্রে যতটুকু অগ্রগতি সবই অর্জিত হয়েছে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে।

Category:

Leave a Reply