বিভাগ: প্রতিবেদন

মাদক গডফাদারের মৃত্যুদণ্ডের বিধান

উত্তরণ প্রতিবেদনঃ মাদক নির্মূলে কঠোর আইন পাস করেছে জাতীয় সংসদ। ইয়াবা (অ্যামফিটামিন), কোকেন, হেরোইন পরিবহন, কেনাবেচা, ব্যবসা, সংরক্ষণ, উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, হস্তান্তর, সরবরাহ ইত্যাদি অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ মৃত্যুদ- বা যাবজ্জীবনের বিধান রেখে সংসদে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ বিল-২০১৮ পাস হয়েছে।
পাসকৃত বিলে মাদক বহনের পরিমাণ অনুযায়ী সাজা কম-বেশির বিধান রাখা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এই আইনের অধীন অপরাধ সংঘটনে অর্থ বিনিয়োগ, সরবরাহ, মদদ ও পৃষ্ঠপোষকতা দিলেও একই ধরনের শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে গত ২৭ অক্টোবর জাতীয় সংসদ অধিবেশনে বিলটি পাসের প্রস্তাব করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আছাদুজ্জামান খান কামাল এমপি। পরে বিলটি কণ্ঠভোটে পাস হয়। পাসকৃত বিলে কোকেন, কোকো মাদক চাষাবাদ, উৎপাদন বা প্রক্রিয়াজাতকরণের ক্ষেত্রে ২৫ গ্রামের বেশি হলে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদ- বা যাবজ্জীবন দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। আর ২৫ গ্রামের নিচে হলে কমপক্ষে দুই বছর ও সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদ-ের বিধান আছে। এছাড়া ইয়াবা বহনের ক্ষেত্রে অ্যামফিটামিনের পরিমাণ ২০০ গ্রামের বেশি হলে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদ- অথবা যাবজ্জীবন কারাদ- এবং অর্থদ-ের বিধান রাখা হয়েছে। তবে ১০০ গ্রাম বা মিলিলিটার হলে সর্বনিম্ন পাঁচ বছর এবং সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদ-ের বিধান রাখা হয়েছে।
বিলে কেউ যদি সজ্ঞানে কোনো মাদকদ্রব্য অপরাধ সংঘটনের জন্য তার মালিকানাধীন অথবা দখলি কোনো বাড়িঘর, জায়গাজমি, যানবাহন, যন্ত্রপাতি অথবা সাজসরঞ্জাম কিংবা অর্থ-সম্পদ ব্যবহারের অনুমতি দেন তাহলে সেটা অপরাধ বলে গণ্য হবে। এই অপরাধের শাস্তি সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদ-। লাইসেন্সপ্রাপ্ত না এমন কোনো ব্যক্তির কাছে অথবা তার জায়গায় যদি মাদকদ্রব্য উৎপাদনে ব্যবহারযোগ্য কোনো যন্ত্রপাতি, ওয়াশ অথবা অন্যান্য উপকরণ পাওয়া যায় সেটাও অপরাধ বলে গণ্য হবে। এর শাস্তি ন্যূনতম দুই বছরের কারাদ-, সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদ-।

পাঠকের মন্তব্য:

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না। তারকাচিহ্নযুক্ত (*) ঘরগুলো আবশ্যক।

*