বিভাগ: প্রধানমন্ত্রী

মানুষের উন্নত জীবন নিশ্চিত করাই আমার কাম্য

11-6-2018 6-03-34 PMউত্তরণ প্রতিবেদনঃ আমার জীবন উৎসর্গ করে দিয়েছি বাংলার মানুষের জন্য। বাংলার মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করা, বাংলার মানুষের উন্নত জীবন দেয়া এটাই আমার কাম্য। বারবার মৃত্যুর মুখোমুখি হয়েছি। ২১ আগস্ট খুনি খালেদা জিয়া ও তার ছেলে তারেক জিয়া গ্রেনেড হামলা করে আমাকে হত্যা করতে চেয়েছিল। আইভি রহমানসহ ২৪ জনকে হত্যা করেছে। আল্লাহর রহমত আমি বেঁচে গেছি। ওরা কি করেছে : বাংলাদেশকে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসী দেশ করেছে। বারবার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন করেছে। মানি লন্ডারিং করেছে। বিএনপি বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস সৃষ্টি করে দেশে অরাজক পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। ওরা বাংলাদেশের ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়ার পথ বন্ধ করে দিয়েছিল। দেশকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে গেছে। তার একটাই কারণ, তারা স্বাধীনতায় বিশ^াস করে না। তারা মানুষের উন্নতিতে বিশ^াস করে না। খালেদা জিয়া এতিমের টাকা চুরি করে, এতিমদের না দিয়ে নিজে আত্মসাৎ করে। যে কারণে আজ সাজা ভোগ করছে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস মাথা চাড়া দিয়ে উঠতে পারে না। আবারও নৌকায় ভোট চেয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, নৌকা জয়লাভ করলে মানুষ সুখী-সমৃদ্ধশালী হয়ে বিশে^র বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে। আমরা দেশের উন্নয়ন করেছি। আমার তো জীবনের চাওয়া-পাওয়া নেই। বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি আমার পিতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান, আমার মা বেগম ফজিলাতুন্নেছা, আমার ভাই শেখ জামাল, শেখ কামাল ও ছোট্ট শিশু রাসেলকেসহ আমার পরিবারের সকলকে হত্যা করেছে। আমার আত্মীয়-স্বজনকে হত্যা করেছে। আমি বিদেশে ছিলাম বিধায় বেঁচে গেছি। সব হারিয়েছি। স্বজন হারিয়ে ছয় বছর দেশের বাইরে ছিলাম। দেশে এসে সারাদেশে ঘুরেছি, দেখেছি মানুষের দুঃখ-দুর্দশা। বাংলার মানুষের পেটে খাবার ছিল না। পরনে ছিল ছেঁড়া কাপড়। মাথা গোঁজার ঠাঁই ছিল না। ঘরের চালা দিয়ে পানি পড়ত। রাস্তার পাশে পড়ে থাকত। আপনাদের মাঝেই খুঁজে পাই আমার হারানো স্বজনদের। প্রধানমন্ত্রী বলেন, যখনই আপনারা নৌকায় ভোট দিয়েছেন তখনই দেশ উন্নত হয়েছে। যখনই ক্ষমতায় এসেছি। তখনই বাংলার মানুষের দুঃখ-দুর্দশা লাঘবে কাজ করেছি। আমার বাবা এদেশ স্বাধীন করেছেন। তিনি মানুষের দুঃখ-দুর্দশা লাঘবে কাজ করেছেন। আমার বাবা চেয়েছেন এদেশের মানুষ সুখে-শান্তিতে থাকুক। আমিও বাবার সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে কাজ করছি। মানুষ সুন্দর থাকবে যেটা ছিল আমার বাবার আকাক্সক্ষা। সেই আকাক্সক্ষা বাস্তবায়নে কাজ করছি। জঙ্গি, সন্ত্রাস ও মাদকের স্থান বাংলাদেশে হবে না। ইতোমধ্যে আমরা জঙ্গি দমনে সক্ষম হয়েছি। প্রতিটি উপজেলায় মিনি স্টেডিয়াম করা হবে, যাতে যুবক ও শিক্ষার্থীরা মাদক ও সন্ত্রাসে জড়িয়ে না পড়ে। খেলাধুলা করে শিক্ষার্থীরা ও যুবসমাজ ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা পাবে। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সকলকে লেখাপড়া শিখতে হবে। লেখাপড়ার বিকল্প নেই। লেখাপড়া করে মানুষের মতো মানুষ হয়ে বিশে^র দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পার।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দক্ষিণাঞ্চল ছিল অবহেলিত। ক্ষমতায় আসার পর দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়ন করেছি। দেশের দ্বিতীয় পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে এ অঞ্চলেই। আমরা আরেকটি দ্বীপ খুঁজছি। সেখানে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র গড়ে তুলব। সমুদ্রসম্পদ কাজে লাগানো হবে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পটুয়াখালী পায়রা তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ২৭ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৩টায় আকাশপথে বরগুনার তালতলীর জনসভা মঞ্চে আসেন এবং বরগুনার বিভিন্ন উপজেলার ২১টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন করেন। প্রধানমন্ত্রী জনসভা মঞ্চে উপস্থিত হলে লাখো জনতা করতালির মাধ্যমে তাকে অভিবাদন জানান। এ সময় জনসভা মাঠে এক আনন্দঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। মানুষ প্রধানমন্ত্রীকে সানন্দচিত্রে স্বাগত জানান। উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন শেষে তালতলী উপজেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে আয়োজিত তালতলী সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠের বিশাল জনসভায় ভাষণ দেন। দুপুর গড়াতেই জনসভা মাঠ জনসমুদ্রে পরিণত হয়। জনসভা মাঠসহ উপজেলা শহরের সর্বত্র মানুষে পরিপূর্ণ হয়ে যায়। আজকের জনসভা তালতলীর ইতিহাসে ঐতিহাসিক জনসভা। এত লোক তালতলীর ইতিহাসে কোনো জনসভায় হয়নি।
প্রধানমন্ত্রী জনসভায় ভাষণের পূর্বে বরগুনা সদর হাসপাতাল ৫০ শয্যা            থেকে ২৫০ শয্যায় উন্নীতকরণ, বরগুনা জেলা গ্রন্থাগার, বরগুনা পুলিশ লাইনের মহিলা ব্যারাক, দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিশুদের হোস্টেল নির্মাণ,                 ঘূর্ণিঝড়, বরগুনা সদর ইউনিয়ন ভূমি অফিস, ডৌয়াতলা ইউনিয়ন                   ভূমি অফিস, বুড়িরচর ইউনিয়ন ভূমি অফিস, হোসনাবাদ ইউনিয়ন ভূমি অফিস, সিডর ও আইলায় উপকূলীয় এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত বন্যা নিয়ন্ত্রণ                 বাঁধ পুনর্বাসন, বরগুনা-বাকেরগঞ্জ-কাঠালতলী-পাদ্রীশিবপুর-সুবিদখালী সড়ক, হাজারবিঘা-কামরাবাদ-পুরাকাটা ফেরিঘাট সড়কের চেইনেজ ও আরসিসি গার্ডার ব্রিজ নির্মাণ, বরগুনা সদরের গৌড়িচন্না ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স ভবন, বামনা উপজেলা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন, বেতাগী উপজেলা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন, বেতাগী উপজেলার বদনাখালী খালের ওপর গার্ডার ব্রিজ নির্মাণ, তালতলী উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্স ভবন, বামনা উপজেলা পরিষদ ভবন, আমতলী থানা ভবন, আমতলী ইউনুস আলী খান কলেজের চতুর্থ তলা একাডেমি ভবন কাম সাইক্লোন শেল্টার, এম বালিয়াতলী ডিএন কলেজের চতুর্থ তলা একাডেমিক ভবন কাম সাইক্লোন শেল্টার, সৈয়দ ফজলুল হক ডিগ্রি কলেজের চতুর্থ তলা একাডেমিক ভবন কাম সাইক্লোন শেল্টার, তালতলী প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন কেন্দ্র, তালতলী ও বামনা উপজেলায় একটি বাড়ি একটি খামার ও পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক ভবনের উদ্বোধন করেছেন।
বরগুনা জেলা আওয়ামী লীগ সাংগঠনিক সম্পাদক মো. গোলাম সরোয়ার টুকুর উপস্থাপনায় সভায় বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি, শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু এমপি, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ এমপি, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী এমপি, সাবেক চিফ হুইপ আলহাজ আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ এমপি, নৌ পরিবহনমন্ত্রী মো. শাজাহান খান এমপি, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ সাংগঠনিক সম্পাদক কৃষিবিদ আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাসিম এমপি, তালুকদার মো. ইউনুস এমপি, অ্যাডভোকেট ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু এমপি, অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন, অধ্যক্ষ শাহ আলম, ইসহাক আলী খান পান্না, বরগুনা জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. দেলোয়ার হোসেন, বরগুনা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক আলহাজ জাহাঙ্গীর কবির, তালতলী উপজেলার আওয়ামী লীগ সাবেক সভাপতি মো. ফজলুল হক জোমাদ্দার, তালতলী উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক মো. তৌফিকুজ্জামান তনু।

পাঠকের মন্তব্য:

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না। তারকাচিহ্নযুক্ত (*) ঘরগুলো আবশ্যক।

*