বিভাগ: ক্রীড়া

মেয়েদের নৈপুণ্যে আবারও আলোকিত ফুটবল

PMআরিফ সোহেল: বাংলাদেশের কিশোরী ফুটবলাররাÑ বুদ্ধিমত্তা, ক্ষিপ্রতা, অসীম ধৈর্য, অদম্য ইচ্ছেশক্তি, দুর্দান্ত টেকনিক-ট্যাকটিস, আর দুরন্ত গতি দিয়ে উড়িয়ে দিয়েছে একে একে চার প্রতিপক্ষকেই। যদিও শেষ ম্যাচে প্রতিপক্ষ ভিয়েতনাম নিয়ে ভয় ছিল। কিন্তু বাংলাদেশের কিশোরীরা সেই ভয়কে অবলীলায় জয় করেছে। করেছেন স্বপ্ন পূরণ। এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ নারী ফুটবলের ‘এফ’ গ্রুপে শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট অর্জন করেছে বাংলাদেশ।
২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮ কমলাপুরের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে ভিয়েতনামকে হারিয়েছে টানা চার জয়ে ১২ পয়েন্ট তুলে নিয়েছেন আঁখি-তহুরারা। এই জয়ে এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ নারী ফুটবলের বাছাই পর্বের দ্বিতীয় রাউন্ডে খেলবে বাংলাদেশ।
গ্রুপপর্বে প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশের মেয়েরা বাহরাইনকে ১০-০ গোলে, এরপর লেবাননকে ৮-০ গোলে এবং সবশেষে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে ৭-০ গোলে হারিয়ে স্বপ্ন-প্রত্যাশার ঘুড়ি উড়িয়েছিল। আর অলিখিত ফাইনালে ভিয়েতনামকে ২-০ গোলের ব্যবধানে হারিয়ে ‘এফ’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন হয়ে লাল সবুজের প্রতিনিধিরা রাঙিয়েছে ঘুড়ির আকাশ।
বাংলাদেশ-ভিয়েতনামÑ আগের তিন ম্যাচে সব সমীকরণেই ছিল সমপর্যায়ে। দু-দলেরই ২৫টি গোল ছিল ঝুড়িতে। তাই জয় ভিন্ন পথ খোলা ছিল না। চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সেই ম্যাচে দারুণ জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে দলের হয়ে গোলের সূচনা করেছেন তহুরা খাতুন। আর দ্বিতীয়ার্ধে ব্যবধান দ্বিগুণ করেছেন আঁখি খাতুন।
২০১৬ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত বাছাইপর্বে চ্যাম্পিয়ন হয়েই চূড়ান্তপর্বে নাম লিখিয়েছিল বাংলাদেশ। গতবারের চেয়ে এবার দলসংখ্যা বেড়েছে বাছাইপর্বে। তাই গত আসরের মতো গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হলেই চূড়ান্ত পর্বে যাওয়ার সুযোগ থাকছে না। ছয় গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন এবং সেরা দুই রানার্সআপ দলকে খেলতে হবে দ্বিতীয় রাউন্ডে। আগামী বছর ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হবে চূড়ান্ত পর্বে যাওয়ার লড়াই।
এই প্রতিযোগিতায় গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হলেই এশিয়ার বড় বড় দলের সঙ্গে খেলবে বাংলাদেশ। চূড়ান্ত পর্বে খেলবে ৮টি দল, ৪টি গতবারের চার সেমিফাইনালিস্ট দক্ষিণ কোরিয়া, উত্তর কোরিয়া, জাপান ও চীন। আর থাইল্যান্ড খেলবে সরাসরি স্বাগতিক দল হিসেবে। পাশাপাশি বাছাই থেকে আসবে অস্ট্রেলিয়ার মতো দল। তাই ওই সেরা দলগুলোর সঙ্গে চূড়ান্ত পর্বে খেলতে পারা হবে বাংলাদেশের কিশোরীদের বড় অর্জন।
মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে দুটি আন্তর্জাতিক ফুটবল টুর্নামেন্ট চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশের কিশোরী ফুটবলাররা। দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণই মেয়েদের ফুটবলে প্রতিভাবান প্রজন্ম তৈরি করছে। স্বপ্নের ডালাপালা খুঁজে ফিরছে আকাশ উচ্চতা। উল্লেখ্য, মেয়েরা প্রায় দুই বছরের বেশি সময় ধরে একই ছাতার নীচে অনুশীলন করে যাচ্ছে। মেয়েদের হাত ধরেই নতুন করে আলোকিত হচ্ছে ফুটবল। বিপুল জনপ্রিয় ফুটবলে আবারও সৃষ্টি হয়েছে সম্ভাবনার ইতিবাচক বাতাবরণ।

পাঠকের মন্তব্য:

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না। তারকাচিহ্নযুক্ত (*) ঘরগুলো আবশ্যক।

*