বিভাগ: শোক সংবাদ/স্মরণ

যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় শোক দিবস পালিত

15উত্তরণ প্রতিবেদন: সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদসহ দেশবিরোধী সকল ষড়যন্ত্র রুখে দিয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মহান আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ একটি অসাম্প্রদায়িক প্রগতিশীল কল্যাণকর বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার প্রত্যয়ের মধ্য দিয়ে গত ১৫ আগস্ট রাষ্ট্রীয়ভাবে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে স্বাধীন বাংলাদেশের মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪২তম শাহাদাতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস। শোক দিবসে রাজধানীর সব পথ যেন মিশে গিয়েছিল ৩২ নম্বর বঙ্গবন্ধু ভবন অভিমুখে। সকাল সাড়ে ৬টায় ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পুষ্পস্তবক অর্পণের পর সশস্ত্র বাহিনীর একটি চৌকস দল গার্ড অব অনার প্রদান করে। এ সময় বিউগলে বেজে ওঠে করুণ সুর। পরে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। বঙ্গবন্ধুসহ ১৫ আগস্টের শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে তারা মোনাজাত করেন। এ সময়  বঙ্গবন্ধুর কনিষ্ঠ কন্যা শেখ রেহানা উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রপতি বঙ্গভবনের উদ্দেশ্যে রওনার হওয়ার পর স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী এবং প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহা বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। এরপর জননেত্রী শেখ হাসিনা দলের প্রেসিডিয়াম, উপদেষ্টা পরিষদ ও কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্যদের নিয়ে জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন।
শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বোন শেখ রেহানাকে সাথে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের ঐতিহাসিক স্মৃতিবিজড়িত বাড়ির ভেতরে যান। পঁচাত্তরের ১৫ আগস্টের কালরাতে যে সিঁড়িতে বঙ্গবন্ধুর মরদেহ পড়েছিল, সেখানে গোলাপের পাপড়ি ছিটিয়ে দেন তিনি। পরে একটি কক্ষে বসে কিছু সময় পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন প্রধানমন্ত্রী। প্রায় আধাঘণ্টা পর বঙ্গবন্ধু জাদুঘর থেকে বোন শেখ রেহানাকে সাথে নিয়ে বনানী কবরস্থানে যান শেখ হাসিনা। সেখানে মা-ভাইসহ পরিবারের অন্য সদস্যদের কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।
এ সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম এমপির নেতৃত্বে ১৪ দল, ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, যুবলীগ মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, যুব মহিলা লীগ, জাতীয় শ্রমিক লীগ, কৃষক লীগ, ছাত্রলীগ বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করে। এছাড়াও সারাদিন ধরেই বিভিন্ন সংগঠন বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানান।
পরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানাসহ আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ যান গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায়। সেখানে জাতির পিতার সমাধিতে প্রধানমন্ত্রী পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ শেষে মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে অংশ নেন তারা। পরে বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। মোনাজাতে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। মোনাজাতে দেশ-জাতি এবং সমগ্র মুসলিম উম্মাহর শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করা হয়। এ দুটি স্থানেও তিন বাহিনীর একটি সুসজ্জিত দল বঙ্গবন্ধুর প্রতি গার্ড অব অনার প্রদান করে।
বাদ আছর বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে মহিলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে আয়োজিত মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা।
গত ১৬ আগস্ট বিকেলে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪২তম শাহাদাতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ আলোচনা সভার আয়োজন করেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন জননেত্রী শেখ হাসিনা।

পাঠকের মন্তব্য:

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না। তারকাচিহ্নযুক্ত (*) ঘরগুলো আবশ্যক।

*