বিভাগ: অন্যান্য

রংপুর ও রাজশাহীতে ‘উন্নয়ন রোডম্যাপ’ শীর্ষক সেমিনার

uttaranমো. রাজীব পারভেজ: ভিশন ২০২১ ও ভিশন ২০৪১-এর আলোকে উন্নয়নশীল থেকে উন্নত দেশে পরিণত করতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার বদ্ধপরিকর। এ লক্ষ্য অর্জনে সরকার স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন রোডম্যাপ প্রণয়ন করেছে। বর্তমান সরকার আন্তরিকভাবে মনে করে উন্নয়ন রোডম্যাপ বাস্তবসম্মত, স্থানীয় পর্যায়ের চাহিদা ও জনগণের আকাক্সক্ষা অনুসারে হওয়া উচিত। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় অর্থ ও পরিকল্পনা উপ-কমিটি স্থানীয় পর্যায়ে সমস্যা ও উন্নয়ন চাহিদা নিরূপণ করে কার্যকর উন্নয়ন রোডম্যাপ প্রস্তুতে পরামর্শপত্র প্রস্তুতের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। কমিটির সিদ্ধান্ত অনুসারে প্রতিটি বিভাগের সংশ্লিষ্ট জেলাগুলোর রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং বিভিন্ন পেশাজীবীদের নিয়ে অলোচনার মাধ্যমে সরাসরি এলাকার সমস্যা ও উন্নয়ন সম্ভাবনা বিষয়ে মতামত সংগ্রহ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। সারাদেশের বিভাগভিত্তিক মতামত গ্রহণ শেষে একটি পূর্ণাঙ্গ জাতীয় ‘উন্নয়ন রোডম্যাপ’ পরামর্শপত্র তৈরি করা হবে। এ কর্মসূচির অংশ হিসেবে গত ৭ আগস্ট রংপুর এবং ৯ আগস্ট রাজশাহী বিভাগে দুই ধাপে দিনব্যাপী ‘উন্নয়ন রোডম্যাপ’ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

রংপুর বিভাগ
রংপুর অঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, সম্ভাবনা এবং চাহিদা নিয়ে দিনব্যাপী ‘উন্নয়ন রোডম্যাপ-রংপুর বিভাগ’ শীর্ষক সেমিনার গত ৭ আগস্ট রংপুর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির অডিটরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়। রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় অর্থ ও পরিকল্পনা সম্পাদক, অর্থ ও পরিকল্পনা উপ-কমিটি সদস্য সচিব টিপু মুনশি এমপির সঞ্চালনায় সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় অর্থ ও পরিকল্পনা উপ-কমিটির চেয়ারম্যান ড. মসিউর রহমান। বিভাগীয় সেমিনারের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য তুলে ধরে স্বাগত বক্তব্য রাখেন অর্থ ও পরিকল্পনা উপ-কমিটির  মো. রাজীব পারভেজ। ‘উন্নয়ন রোডম্যাপ-রংপুর বিভাগ’ শীর্ষক সেমিনারের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অর্থ ও পরিকল্পনা উপ-কমিটির সদস্য ও বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. তুহিন ওয়াদুদ ও পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে পিছিয়ে পড়া রংপুর বিভাগের সচিত্র প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন অর্থ ও পরিকল্পনা উপ-কমিটির সদস্য ও বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোরশেদ হোসেন।
সেমিনারে রংপুর অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, আঞ্চলিক বৈষম্য নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ, দ্রুত গ্যাস সংযোগ, স্বল্প মূল্যে বিদ্যুৎ, ফার্নেস অয়েলে ভর্তুকি, কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন, রংপুর বিভাগে বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে আলাদা শিল্প, কর, ভ্যাট, শুল্ক ও ঋণনীতি ঘোষণা, ট্যাক্স হলিডের মেয়াদ বৃদ্ধি, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প বিকাশে বিশেষ প্রণোদনা প্রদান, বিনিয়োগ সম্ভাবনা যাচাইয়ের জন্য রিসার্চ সেন্টার স্থাপন, সিরাজগঞ্জ থেকে বগুড়া-রংপুর হাইওয়ের পাশ দিয়ে রেললাইন নির্মাণ, পর্যাপ্ত অবকাঠামো সুবিধাসহ ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক স্থাপন, জ্ঞানভিত্তিক শিল্প প্রসারের উদ্যোগ, কুড়িগ্রাম-ফুলছড়ি-জামালপুর হয়ে ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর ব্রিজ নির্মাণ, আন্তঃনগর রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার সক্ষমতা বৃদ্ধি, কৃষিভিত্তিক রংপুর অঞ্চলে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন, অঞ্চলভিত্তিক বিনিয়োগ ব্যবস্থার প্রচলন, কৃষি প্রক্রিয়াজাত শিল্পে বিশেষ নীতি সহায়তা প্রদান, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যে পিছিয়ে পড়া রংপুর বিভাগে জনসংখ্যার অনুপাতে মহিলা বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় দ্রুত স্থাপন, রংপুর বিভাগ থেকে দ্রুতগতির ইলেক্ট্রনিক রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা চালুকরণ, রংপুর বিভাগের উন্নয়নের স্বার্থে নর্থবেঙ্গল ডেভেলপমেন্ট মিনিস্ট্রি গঠন, লালমনিরহাট ও ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দর চালুকরণ, বেনাপোল স্থলবন্দরের ন্যায় রংপুর বিভাগে অবস্থিত সকল স্থলবন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি, রংপুর অঞ্চলে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে কম্প্রিহেনসিভ ইনভেস্টমেন্ট পলিসি গ্রহণ, প্রতি জেলায় স্পেশাল ইকোনমিক জোন প্রতিষ্ঠা, পিছিয়ে পড়া অঞ্চলের জন্য বিশেষ স্বল্প সুদে ব্যাংক ঋণ প্রদান এবং পণ্যভিত্তিক শিল্পের বিকাশে প্রয়োজনীয় সহায়তার দাবি তুলে ধরেন রংপুর অঞ্চলের শিল্পপতি ও ব্যবসায়ী উদ্যোক্তাবৃন্দ।
রংপুর বিভাগের উন্নয়ন, সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি ও রংপুর চেম্বারের সাবেক সভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবু এবং নভোএয়ারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরশাদ জামাল দিপু, রংপুর চেম্বারের সাবেক সভাপতি মো. আবুল কাশেম, এফবিসিসিআই’র পরিচালক ও রংপুর চেম্বারের সাবেক সভাপতি মো. মোছাদ্দেক হোসেন বাবলু, ড. কানিজ আকলিমা সুলতানা, হারাগাছ পৌরসভার সাবেক মেয়র ও রংপুর চেম্বারের পরিচালক মো. মামুনুর রশিদ মামুন, রংপুর চেম্বারের সিনিয়র সহ-সভাপতি মোজতোবা হোসেন রিপন, অ্যাডভোকেট ইন্দ্র নাথ রায়, রংপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক রশিদ বাবু, সাংবাদিক রফিক সরকার, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তুষার কান্তি ম-ল প্রমুখ।
অনুষ্ঠানের প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান বলেন, পিছিয়ে পড়া রংপুর অঞ্চলের উদ্যোক্তা ও শিল্পপতিবৃন্দকে সম্পৃক্ত করে তাদের চাহিদা অনুযায়ী কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করার লক্ষ্যে আজকের এই সেমিনারের আয়োজন। তিনি বলেন, দেশের উন্নয়নের মূল স্রোতে রংপুর অঞ্চলকে সম্পৃক্ত করতে বর্তমান সরকার বদ্ধ পরিকর। কেননা টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়নের লক্ষ্যে নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টি, মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি ও আঞ্চলিক বৈষম্য নিরসন একান্ত জরুরি বলে তিনি মনে করেন। তিনি বলেন, সেমিনারের মাধ্যমে এ অঞ্চলের ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিদের কাছ থেকে যেসব সমস্যা ও সম্ভাবনার বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে তা নিরসনের ব্যাপারে তিনি সরকারের নীতি-নির্ধারণী মহলে তুলে ধরবেন।
সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ অর্থ ও পরিকল্পনা উপ-কমিটির অন্যান্য সদস্যবৃন্দ, রংপুর বিভাগের আট জেলার ব্যবসায়ী ও শিল্প উদ্যোক্তাবৃন্দ, রংপুর জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ, রংপুর চেম্বার পরিচালনা পর্ষদের সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তা-পরিচালকবৃন্দ, সুধীজন, প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ।

রাজশাহী বিভাগ
অর্থনৈতিক উন্নয়ন, সম্ভাবনা ও চাহিদা নিয়ে রাজশাহীতে ‘উন্নয়ন রোডম্যাপ’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত গত হয় ৯ আগস্ট। দিনব্যাপী রাজশাহী চেম্বার ভবন মিলনায়তনে আয়োজিত এই সেমিনারে বক্তারা বলেছেন, রাজশাহীর উন্নয়নের জন্য রাজনৈতিক স্বদিচ্ছা প্রয়োজন। এটি ছাড়া রাজশাহীর উন্নয়ন হবে না। তাই এ ব্যাপারে সরকারকেই কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে। উত্তরাঞ্চল বরাবরই বঞ্চনার শিকার। রাজনৈতিক স্বদিচ্ছার অভাবে এ অঞ্চল পিছিয়ে গেছে। নানা দাবি নিয়ে বিভিন্ন সময় আন্দোলন হলেও কোনো সরকারের পক্ষ থেকেই এসবের প্রতিফলন ঘটেনি। ফলে এ অঞ্চলের প্রাকৃতিক পরিবেশও এখন হুমকির মুখে। গড়ে ওঠেনি শিল্প-কারখানা। সৃষ্টি হয়নি কর্মসংস্থান। অথচ ভিন্ন চিত্র দক্ষিণাঞ্চলে। এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। বক্তারা আরও বলেন, দেশের বিভাগগুলোতে উন্নয়নের এমন তফাৎ থাকলে সেটাকে উন্নয়ন বলা যাবে না। সুষমভাবে সব বিভাগের উন্নয়ন হলেই দেশের উন্নয়ন হবে। শরীরের একটা অঙ্গ রোগাক্রান্ত থাকলে যেমন সুস্থ থাকা যায় না, তেমনি দেশের একটা অংশকে পেছনে ফেলে দিয়ে ভিশন-২০২১ এবং ২০৪১ বাস্তবায়ন সম্ভব হবে না। তাই রাজশাহীকেও উন্নয়নের ধারায় যুক্ত করতে হবে। এজন্য প্রয়োজন রাজনৈতিক স্বদিচ্ছা।
সেমিনারের সভাপতি প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান বলেন, সরকার সুষমভাবে দেশের সব স্থানের উন্নয়ন করতে চায়। রাজশাহীর ব্যাপারেও সরকার খুব আন্তরিক। এই সেমিনার থেকে উঠে আসা এ অঞ্চলের নানা সমস্যা ও দাবির কথা তিনি লিপিবদ্ধ করেছেন। রাজশাহীর উন্নয়নের স্বার্থে বিষয়গুলো নিয়ে সরকার কাজ করবে। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকলে দেশের কোনো অঞ্চলই পিছিয়ে থাকবে না বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা। যে সম্ভাবনা রয়েছে তা কাজে লাগিয়ে উন্নয়ন সাধিত করা সম্ভব। ভিশন ২০২১ এবং ভিশন ২০৪১ লক্ষ্য রেখে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বিভিন্ন অঞ্চলভিত্তিক সম্ভাবনাকে খুঁজে বের করে তা কাজে লাগিয়ে উন্নয়নের রোডম্যাপে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি।
বিভাগীয় সেমিনারের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য তুলে ধরে স্বাগত বক্তব্য রাখেন অর্থ ও পরিকল্পনা উপ-কমিটির সাইফুল্লাহ আল মামুন ও মো. রাজীব পারভেজ। ‘উন্নয়ন রোডম্যাপ-রাজশাহী বিভাগ’ শীর্ষক সেমিনারের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক রাশেদ কবীর লিখন।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অর্থ ও পরিকল্পনা সম্পাদক টিপু মুনশি এমপির সঞ্চালনায় সেমিনারে আরও বক্তব্য রাখেন রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ওমর ফারুক চৌধুরী এমপি, সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার, জেলা প্রশাসক এসএম আবদুল কাদের, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী সরকার, রাজশাহী চেম্বারের সভাপতি মনিরুজ্জামান, বাংলাদেশ রেশম শিল্প মালিক সমিতির সভাপতি লিয়াকত আলী, জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মর্জিনা পারভীন, কবিকুঞ্জের সাধারণ সম্পাদক আরিফুল হক কুমার প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, অপার সম্ভাবনার এলাকা রাজশাহী অঞ্চল। দেশের খাদ্য চাহিদার বড় একটি অংশ জোগান দেয় এই অঞ্চল। এ অঞ্চলের কৃষজ পণ্যের পেছনে আমাদের এলাকার নারীদের যে অবদান তা খাটো করে দেখার অবকাশ নাই। তারপরও এই নারীরাই কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তার অভাবের কারণে কর্মতৎপরতা থেকে পিছিয়ে পড়ছে। আমাদের এলাকায় কৃষিপণ্য মজুদের কোনো পর্যাপ্ত ও আধুনিক ব্যবস্থা নেই। কৃষিভিত্তিক শিল্প নেই। নেই গার্মেন্ট শিল্প। ঈশ্বরদীতে একটি মাত্র ইপিজেড রয়েছে, যা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। একসময় রেশম শিল্প ছিল জগৎ বিখ্যাত। সেই রেশম কারখানা আজ বন্ধ, সরকারের উদ্যোগে মাত্র কয়েকদিন আগে তা আংশিক চালু হয়েছে। সরকার আম রপ্তানিতে লক্ষ্য পূরণ করতে পারেনি আর এই অঞ্চলে ক্রেতার অভাবে আম নষ্ট হয়েছে। কৃষক এবার আম রাস্তায় ফেলে গেছে। আমাদের এখনই প্রয়োজন সরকারি উদ্যোগে এ ধরনের কৃষজ পণ্য প্রসেসিং জোন করে বৃহৎ শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা, যাতে কর্মসংস্থানের অভাব মেটে। একসময় কৃষক লাক্ষা চাষে ব্যাপক সুনাম অর্জন করেছিল, এই অঞ্চলেই খয়ের উৎপাদনে এগিয়ে থাকলেও পরিকল্পনা ও পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে তার মৃত্যু ঘটেছে। প্রতিবছর কাজের সন্ধানে নারী-পুরুষ সীমান্ত পাড়ি দিচ্ছে। এর মধ্যে কেউ নিরাপদভাবে কেউবা আবার অনিরাপদ প্রক্রিয়ায়। অঞ্চলভিত্তিক শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠলে এ প্রবণতা হ্রাস পাবে। কৃষি পণ্য সংরক্ষণাগার, কৃষজ পণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণের ব্যবস্থা যেমন নিতে হবে তেমনি এই এলাকায় চামড়া, মৎস্যভিত্তিক ইত্যাদি শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার সম্ভাবনা রয়েছে। সর্বোপরি জেলাভিত্তিক মাঝারি শিল্পের পাশাপাশি এ অঞ্চলে বৃহৎ শিল্প গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। রাজশাহী থেকে আবদুলপুর ডুয়েল রেললাইন, নদী ড্রেজিং করে খুলনার সাথে নৌপথ চালু, বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রূপান্তর করে কার্গো বিমানের ব্যবস্থা করা, ভারতের মালদার সাথে যোগাযোগব্যবস্থা সহজ করে রপ্তানি বাড়ানো, সার কারখানা স্থাপনসহ বিভিন্ন প্রস্তাবনা উত্থাপন করেন বক্তারা।

পাঠকের মন্তব্য:

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না। তারকাচিহ্নযুক্ত (*) ঘরগুলো আবশ্যক।

*