বিভাগ: সংগঠন

রাজধানীতে গণসংযোগ : নৌকায় ভোট দিন

PMসরদার মাহামুদ হাসান রুবেল: অক্টোবরের শুরুতে রাজধানীতে আনুষ্ঠানিকভাবে নৌকা প্রতীকে ভোট চেয়ে সপ্তাহব্যাপী নির্বাচনী প্রচার ও গণসংযোগে ঢাকা মহানগরীর একাধিক স্থানে নৌকা মার্কায় ভোট চেয়ে লিফলেট বিতরণসহ নৌকা মার্কার পক্ষে জোয়ার তুলেছেন দলের কেন্দ্রীয় নেতারা। জনসংযোগকালে নেতারা ‘বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকুন, উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে জননেত্রী শেখ হাসিনাকে সহযোগিতা করুন’ শিরোনামে লিফলেট ঘুরে ঘুরে সাধারণ মানুষ ও ভোটারদের মধ্যে বিতরণ করেন। নির্বাচনী প্রচার ও গণসংযোগ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে বিএনপির দেওয়া সাত-দফা দাবিকে অবাস্তব, অযৌক্তিক ও সংবিধানবিরোধী আখ্যা দিয়ে তা প্রত্যাখ্যান করেছেন আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতারা। দলের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে গণসংযোগে অংশ নিয়েছেন।
গত ১ অক্টোবর রাজধানীর গুলশান-২ নম্বরে গণসংযোগের উদ্বোধন এবং শান্তিনগর কাঁচাবাজারে গণসংযোগকালে ‘খালেদা জিয়ার মুক্তি ও নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে যারা আন্দোলনে রাজপথে নামবে তাদের সঙ্গে আমাদের ঐক্য হবে। সেখানে যদি শয়তানও থাকে তাদের সঙ্গেও ঐক্য হবে’ বিএনপির জনসভায় গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের এমন বক্তব্যের জবাবে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি বলেন, শয়তানের সঙ্গে জোট করে তারাই যারা নিজেরাই শয়তান আর বিএনপির সাত-দফা দাবির কোনো কোনোটি সংবিধানবিরোধী। কাজেই এসব অবাস্তব দাবি এই সময়ে, নির্বাচনের সিডিউল ঘোষণার আর মাত্র এক মাস বাকি, এর মধ্যে মেনে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তারা নিজেরাই ক্ষমতায় থাকলে এই সময়ের মধ্যে দাবিগুলো মেনে নিতে পারত না। অসংবিধানিক দাবি কেউ মেনে নিতে পারে না।
বিএনপি-জামাতের সহিংসতা ও নাশকতার বিরুদ্ধে সচেতন থাকার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, তারা দেশে আবারও নাশকতা ও সহিংসতা করতে চাইলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যেমন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে, তেমনি জনগণকে সঙ্গে নিয়েও আমরা তাদের প্রতিহত করব।
একই দিনে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ এমপির নেতৃত্বে গঠিত টিম বিকেল সাড়ে ৪টায় রাজধানীর ওয়ারী থানার ৩টি ওয়ার্ডে গণসংযোগ করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগ সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক এমপি, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম এমপি, এনামুল হক শামীম, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস এমপি, এসএম কামাল হোসেন, ওয়ারী থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি চৌধুরী আশিকুর রহমান লাভলু, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ মহিলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিনু চৌধুরী প্রমুখ। এই দিনে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক এমপির নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের অন্য নির্বাচনী প্রচার টিম রাজধানীর মোহাম্মদপুর টাউন হল এলাকায় নৌকা প্রতীকে ভোট চেয়ে গণসংযোগ করেন। এ সময় কেন্দ্রীয় নেতা আহম্মদ হোসেন, খালেদ মাহমুদ চৌধুরী এমপি, ফরিদুন্নাহার লাইলী এমপি, সুজিত রায় নন্দী, আবদুস সাত্তার, ড. রোকেয়া সুলতানা, ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাদেক খানসহ স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
আওয়ামী লীগের গণসংযোগ কর্মসূচি ২ অক্টোবর রাজধানীর রাসেল স্কোয়ার, পল্টনের জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমসহ কয়েকটি এলাকায় নৌকা মার্কায় ভোট চেয়ে গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ করেছেন কেন্দ্রীয় নেতারা। রাসেল স্কোয়ারে গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি যদি আবার নাশকতা করে, ২০১৪ সালের মতো বোমা-সন্ত্রাস করে অথবা সহিংসতার আগুন ছড়ায়, এর জন্য আমরা জনগণকে সতর্ক করে দেব যে দেশে এখন শান্তি আছে। বিএনপি এই শান্তিকে নষ্ট করতে চায়, পরিবেশ নষ্ট করতে চায়। তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের জন্য এর চেয়ে ভালো পরিবেশ নেই। বিএনপি এখন আন্দোলনে ব্যর্থ হয়ে সন্ত্রাসের পুনরাবৃত্তি ঘটাতে পারে সেজন্য আমরা জনগণকে স্মরণ করিয়ে দেব, সতর্ক করিয়ে দেব। গণসংযোগের সময় সঙ্গে ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ এমপি, সাংগঠনিক সম্পাদক একেএম এনামুল হক শামীম, কেন্দ্রীয় সদস্য গোলাম কবির রাব্বানী চিনু, স্থানীয় সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস এমপি প্রমুখ।
সন্ধ্যায় রাজধানীর নিউমার্কেটে ওবায়দুল কাদের এমপি বলেন, হেরে যাওয়ার ভয় থাকলে বিএনপি নির্বাচনে আসবে না। আগামী ডিসেম্বরের নির্বাচনের জন্য সবাই প্রস্তুত। বিএনপিও প্রস্তুত। কিন্তু এবার ঝুঁকি নিতে চায় না তারা। এবার সারাদেশে নৌকার জোয়ার। সেই জোয়ার থামানোর জন্য নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করবে বিএনপি। সেখানেও যদি ব্যর্থ হয়, নির্বাচনে আসবে না। নির্বাচনে হেরে যাওয়ার ভয় থাকলে বিএনপি নির্বাচনে আসবে না। হেরে যাওয়ার ভয় থেকেই প্রতিদিন বিএনপি নেতারা আবল-তাবল বকছেন।  স্থানীয় সংসদ সদস্য শেখ ফজলে নূর তাপস এমপির সভাপতিত্বে গণসংযোগে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ এমপি, শ্রমবিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান সিরাজ, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেনসহ স্থানীয় মহানগর নেতারা।
৫ অক্টোবর গণসংযোগ কর্মসূচির গাবতলীতে ওবায়দুল কাদের এমপি বলেছেন, আওয়ামী লীগের সময় দেশের ব্যাপক উন্নয়নে মানুষ সন্তুষ্ট। আওয়ামী লীগ সরকার দেশে যে পরিমাণ উন্নয়ন করছে তা গত ১০০ বছরেও কেউ দেখেনি। বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এলে দেশে উন্নয়ন হবে না। এ কারণে দেশের মানুষ বিএনপিকে চায় না। ধানের শীষ এখন সাপের বিষ।
ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাদেক খানের সঞ্চালনায় গণসংযোগে আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম এমপি, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস এমপি, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য আসলামুল হক আসলাম, দারুস সালাম থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাজী ফরিদুল হক হ্যাপি প্রমুখ। এদিকে রাজধানীর খিলগাঁওতে দলের পক্ষে গণসংযোগ করেন ওবায়দুল কাদের এমপি। এ সময় স্থানীয় এমপি সাবের হোসেন চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
৬ অক্টোবর গণসংযোগ কর্মসূচিতে ওবায়দুল কাদের এমপি বলেছেন, জনবিচ্ছিন্ন হয়ে বিএনপি নির্বাচন ঠেকাতে গোপনে নাশকতা চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। বিএনপি আন্দোলন নয়, বোমা-সন্ত্রাস ও সহিংসতার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে এসব করে নির্বাচন ঠেকানো যাবে না। নাশকতা করলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিরোধ করা হবে। তিনি আরও বলেন, রাজনীতির মানবিক মূল্যবোধ নষ্ট করেছে বিএনপি। এর আগে মানবিক মূল্যবোধ ছিল, খালেদা জিয়া কোনো বিপদে পড়লে চলে যেতেন শেখ হাসিনার কাছে। কুমিল্লার হাসপাতালে ভর্তি হলেন খালেদা জিয়া, শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ কর্মীরা তাকে দেখতে গিয়েছেন। খালেদার সন্তান মারা যাওয়ায় দেখতে গেলেন প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কী আচরণ করেছেন দেশবাসী তা জানে।
এছাড়াও কেন্দ্রীয় নেতাদের একাধিক টিম ৬ অক্টোবর রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে গণসংযোগ চালিয়ে নৌকায় ভোট চেয়ে নগরবাসীর মধ্যে লিফলেট বিতরণ করেছেন। বিকেলে ইস্কাটন রোডে রমনা থানা আওয়ামী লীগ আয়োজিত প্রচারপত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, কেন্দ্রীয় নেত্রী মারুফা আক্তার পপিসহ স্থানীয় নেতারা বক্তব্য রাখেন এবং দোকানে দোকানে গিয়ে নৌকার পক্ষে ভোট প্রার্থনা করেন।
৯ অক্টোবর একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলার রায় ঘিরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর অবস্থানে রয়েছে জানিয়ে ওবায়দুল কাদের এমপি বলেছেন, রায় নিয়ে বিএনপি সহিংসতা, নাশকতার চেষ্টা করলে ছাড় দেওয়া হবে না। সন্ধ্যায় রাজধানীর শ্যামপুরে দলের নির্বাচনী গণসংযোগ ও প্রচারপত্র বিলি কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে ওবায়দুল কাদের এসব নির্দেশনা দেন। সংক্ষিপ্ত সমাবেশ শেষে উপস্থিত জনগণের মাঝে নৌকা প্রতীকে ভোট চেয়ে প্রচারপত্র বিলি করেন তিনি। এ সময় বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান সিরাজ, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ দক্ষিণের সভাপতি হাজী আবুল হাসনাত, সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ প্রমুখ।

পাঠকের মন্তব্য:

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না। তারকাচিহ্নযুক্ত (*) ঘরগুলো আবশ্যক।

*