বিভাগ: আরও…

রাজধানীতে নবান্ন উৎসব

49বাংলা পঞ্জিকার হিসাবে গত ১৫ নভেম্বর ছিল পহেলা অগ্রহায়ণ। কৃষকের বোনা মাঠের ফসল ঘরে তোলার দিন নবান্ন। পাকা ধানের ম-ম গন্ধে গোলা ভরে ওঠার দিন। আবহমান গ্রাম বাংলার উৎসব-আনন্দের দিন। যদিও শহুরে নাগরিক জীবনে সেই দৃশ্যের দেখা মেলে না। পাওয়া যায় না শেকড়ের সেই অনুভব। তবে এদিন যান্ত্রিক শহর ঢাকায় বিরাজ করেছে নবান্নের আবহ। মৃত্তিকাসংলগ্ন উৎসবের টানে সাত-সকালে ঘর থেকে বেরিয়েছিল সংস্কৃতিপ্রেমী নগরবাসী। সেই সুবাদে শাহবাগের বিশ্ববিদ্যালয় এলাকাসহ চারুকলার বকুলতলা যেন হয়ে উঠেছিল একখ- গ্রাম-বাংলা। উৎসবে আগত শুভানুধ্যায়ীদের জন্য নৃত্য-গীত ও কথনের নবান্ন আবাহনের পাশাপাশি ছিল মুড়ি-মুড়কি, বাতাসা কিংবা পিঠা-পুলি পিঠা দিয়ে আপ্যায়ন। নানা পরিবেশনা ও বিশিষ্টজনদের আলোচনায় উচ্চারিত হয়েছে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির বারতা। হেমন্তের হালকা শীতে চারুকলার বকুলতলায় বেজেছে ঢাকঢোলের বোল। একতারা-দোতারা ও বাঁশির সুরে নাগরিক মন ফিরে গেছে শেকড়ের পানে। ‘এসো মিলি সবে নবান্নের উৎসবে’ স্লোগানে গ্রামীণ ঐতিহ্যের অনুসারী এই উৎসবের আয়োজন করে জাতীয় নবান্ন উৎসব উদযাপন পর্ষদ। বিকেলে পর্ষদের পক্ষ থেকে ধানমন্ডির রবীন্দ্র সরোবরেও অনুষ্ঠিত হয়েছে এই উৎসব।
উদ্বোধনী বক্তব্যে নবান্ন উৎসবের প্রাচীন ঐতিহ্যটি বিস্তৃত পরিসরে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান আবুল মাল আবদুল মুুহিত এমপি। বলেন, সার্বজনীন উৎসব চর্চা বাড়াতে হবে। নবান্ন উৎসব আমাদের সার্বজনীন উৎসব। এই উৎসবে সব ধর্ম, শ্রেণি-পেশার মানুষ একত্রিত হতে পারে। নবান্ন উৎসবে গ্রাম-বাংলার কৃষককে স্মরণ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, আজ আমরা এক দেহে লীন হয়ে গেছি। আজ আমাদের সবার একটাই পরিচয়, আমরা বাঙালি। এই তো উৎসবের মাহাত্ম্য।
উৎসব সাজানো হয় নবান্ন-বিষয়ক গান ও নাচ দিয়ে। প্রায় আড়াই ঘণ্টা ব্যাপ্তির সকালের আয়োজনে ছিলÑ মাটির গান, কৃষকের গান, ফসল তোলার আনন্দের গান। সংগীত পরিবেশন করেনÑ ফরিদা পারভীন, আবু বকর সিদ্দিক, সত্যেন সেন শিল্পী গোষ্ঠীর শিল্পীরা, উদীচী শিল্পী গোষ্ঠী। সমবেত নৃত্য পরিবেশন করে এমআর ওয়াসেকের পরিচালনায় নন্দন কলাকেন্দ্র গারোদের সাংস্কৃতিক সংগঠন আচিক। ঘরে ফসল তোলা ও বণ্টনের রকমফের নিয়ে বিভিন্নধর্মী নৃত্য পরিবেশন করে সাংস্কৃতিক সংগঠন কাদামাটি।
প্রথম পর্বের পরিবেশনা শেষে সকাল ৯টা ৫ মিনিটে চারুকলার বকুলতলা থেকে বের হয় নবান্ন শোভাযাত্রা। এটি টিএসসি চত্বর ঘুরে পুনরায় চারুকলার বকুলতলায় এসে শেষ হয়। পরে বিকেল ৩টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত একযোগে চারুকলার বকুলতলা ও ধানমন্ডির রবীন্দ্র সরোবরে উৎসবের দ্বিতীয় পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।

পাঠকের মন্তব্য:

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না। তারকাচিহ্নযুক্ত (*) ঘরগুলো আবশ্যক।

*