বিভাগ: প্রতিবেদন, সাফল্য

রাজশাহী বরিশালে আওয়ামী লীগের জয়

8-6-2018 7-05-49 PMউত্তরণ প্রতিবেদনঃ গত ৩০ জুলাই তিন সিটি কর্পোরেশনে উৎসবমুখর পরিবেশে শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। রাজশাহী ও বরিশাল সিটি কর্পোরেশনে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন ও সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ এবং সিলেটে বিএনপি প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী। যেসব কেন্দ্রে অভিযোগ পাওয়া গেছে কমিশনের পক্ষ থেকে যেসব কেন্দ্রে ভোট স্থগিত করে দেওয়া হয়েছে। অধিকাংশ ভোটকেন্দ্রে পুরুষের পাশাপাশি নারী ভোটারদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। তিন কর্পোরেশনেই ভোটাররা উৎসবের আমেজে প্রচ- রোদ, কয়েক দফায় গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি উপেক্ষা করে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দিয়েছেন। ভোটগ্রহণ শুরুর আগে থেকেই কেন্দ্রের সামনে জড়ো হতে থাকেন নানা বয়সী মানুষ। লম্বা লাইন দাঁড়িয়ে শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দেন ভোটাররা। কোনো প্রকার চাপ বা গ-গোল ছাড়াই পছন্দের প্রার্থীকে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দিতে পেরে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন ভোটাররা।
রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন (রাসিক) নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মেয়রপ্রার্থী এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন নৌকা প্রতীকে ১ লাখ ৬৬ হাজার ৩৯৪ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। আর বিএনপি প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল পেয়েছেন ৭৮ হাজার ৪৯২ ভোট। বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হওয়ার পর এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, বিজয়ী করে মানুষ যে দায়িত্ব দিয়েছে তা পালনের সর্বাত্মক চেষ্টা করব। এলাকার উন্নয়নে একনিষ্ঠভাবে কাজ করে যাব।
বরিশালে আওয়ামী লীগ প্রার্থী সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ ১০৭টি কেন্দ্রে ১ লাখ ৭ হাজার ৩৫৩ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম বিএনপি প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ার পেয়েছেন ১৩ হাজার ১৩৫ ভোট। এই সিটিতে ১৫টি ভোটকেন্দ্র স্থগিত এবং একটি কেন্দ্রের ভোট বাতিল করা হয়েছে। বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের বিজয়ী মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ বলেছেন, নগরবাসীর উন্নয়নে নিজেকে উৎসর্গ করব। বরিশালকে সুন্দর ও আধুনিক নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া হবে। তবে এ ব্যাপারে সবাইকে সহযোগিতা করতে হবে। চূড়ান্ত ফল ঘোষণায় বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হওয়ার পর এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি এসব কথা বলেন। আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়ন কর্মকা-ের জন্যই জনগণ নৌকায় ভোট দিয়ে আমাকে বিজয়ী করেছেন।
হালনাগাদ ভোটার তালিকা অনুযায়ী এবার সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৪২ হাজার ১৬৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ২১ হাজার ৪৩৬ জন এবং নারী ভোটার ১ লাখ ২০ হাজার ৭৩০ জন। এই সিটি কর্পোরেশনের চতুর্থ নির্বাচনে মেয়র পদে ৬ জন, সাধারণ ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে ৯৪ জন এবং সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে ৩৫ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র ১২৩টি এবং ভোটকক্ষের সংখ্যা ৭৫০। এর মধ্যে ১১টি কেন্দ্রে ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট গ্রহণ করা হবে। এই নির্বাচনে ২০৩ জন স্থানীয় ও তিনজন বিদেশি পর্যবেক্ষক নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করেন।
সিলেটে ঘোষিত বেসরকারি ফলাফলে ১৩৪ ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১৩২ কেন্দ্রে আরিফুল হক চৌধুরী পেয়েছেন ৯০ হাজার ৪৯৬ ভোট। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী বদরউদ্দিন আহমদ কামরান (নৌকা) পেয়েছেন ৮৫ হাজার ৮৭০ ভোট। আরিফুল ৪ হাজার ৬২৬ ভোটে এগিয়ে রয়েছেন।
অন্য দুটি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ স্থগিত রয়েছে। স্থগিত কেন্দ্র দুটিতে মোট ভোট ৪ হাজার ৭৮৭।
ফলে স্থগিত দুই কেন্দ্রের পুনর্নির্বাচনের পর চূড়ান্ত ফল পাওয়া যাবে। তবে ওই দুই কেন্দ্রে শতভাগ ভোট পড়লে মাত্র ১৬২ ভোট পেলেই জয় নিশ্চিত হবে আরিফুল হক চৌধুরীর। দুই প্রধান প্রার্থীর ভোটের ব্যবধান স্থগিত দুটি কেন্দ্রের ভোটের চেয়ে কম হওয়ায় সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে ফল ঘোষণা করা হয়নি। ভোটের দিন বিকেল ৪টায় ভোট গ্রহণ শেষ হওয়ার পর বিএনপির প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী হতাশার সুরে নতুন করে নির্বাচন আয়োজনের দাবি তোলেন। দিনভর কারচুপির অভিযোগ করলেও বিএনপি প্রার্থী আরিফুল হক ভোট বর্জন করেন। ফলাফল ঘোষণার শুরু থেকেই চমক দেখা যায়। সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে যে দুটি কেন্দ্রে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) গ্রহণ করা হয়েছে, তাতে এগিয়ে যান আরিফুল হক চৌধুরী। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মেয়র প্রার্থী ডা. মোয়াজ্জেম হোসেন খান ও সিপিবি-বাসদের মেয়র প্রার্থী ছিলেন আবু জাফর।

পাঠকের মন্তব্য:

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না। তারকাচিহ্নযুক্ত (*) ঘরগুলো আবশ্যক।

*