বিভাগ: প্রতিবেদন

শেখ হাসিনার অনন্য রেকর্ড

38 2PMউত্তরণ প্রতিবেদন: বাংলাদেশের ইতিহাসে একসঙ্গে ৩টি রেকর্ড গড়লেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। টানা তৃতীয় মেয়াদে সরকারপ্রধান, চতুর্থবার প্রধানমন্ত্রী ও দীর্ঘমেয়াদি দলীয়প্রধান। একই সঙ্গে নারী নেতৃত্বের বিচারে দক্ষিণ এশিয়া, এশিয়া ও বিশ্ব প্রেক্ষাপটেও তিনি আসীন হলেন অনন্য উচ্চতায়। বিশ্বে সরাসরি সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী দলের নারী নেতা হিসেবে টানা তিন মেয়াদে সরকার গঠনের ইতিহাস এখন শুধু তারই হাতের মুঠোয়। গত ৭ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথগ্রহণের মধ্য দিয়ে একটানা ক্ষমতার দিক থেকে তিনি ছুঁয়ে ফেললেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতী ইন্দিরা গান্ধীর রেকর্ড। এই মেয়াদের এক বছর পূর্ণ হলেই আধুনিক সংসদীয় পদ্ধতির সরকার ব্যবস্থার বিশ্ব-ইতিহাসে একটানা ক্ষমতায় থাকার দিক থেকে তিনি সবাইকে ছাড়িয়ে যাবেন। তাছাড়া দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে নেতৃত্ব দেওয়া দেশের প্রাচীনতম ও বৃহত্তম রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে টানা ৩৮ বছর নেতৃত্ব দিচ্ছেন শেখ হাসিনা। বিশ্ব রাজনীতিতে এটিও বিরল ঘটনা। এবার নিয়ে চারবার প্রধানমন্ত্রীর পদ অলঙ্কৃত করলেন তিনি, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় সংসদীয় সরকারের প্রধান হিসেবে সংখ্যায় অল্প হলেও দেখা গেছে প্রভাবশালী নারী মুখ। তাদের হাত ধরে এগিয়েছে নারীমুক্তির আন্দোলনও। বিশ্বের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ইতিহাস হয়ে আছেন শ্রীলংকার শ্রীমাভো বন্দরনায়েক। তিনি মোট তিনবার প্রধানমন্ত্রী হন। তবে পৃথক তিন মেয়াদে। নারী রাজনীতিক হিসেবে বিশ্বে গুরুত্বসহকারে উচ্চারিত নাম ইন্দিরা গান্ধী। তিনি ভারতের প্রথম ও একমাত্র নারী প্রধানমন্ত্রী। ১৯৬৬ সালে প্রধানমন্ত্রী লাল বাহাদুর শাস্ত্রীর মৃত্যু হলে তার অপূর্ণ মেয়াদে এক বছরের জন্য প্রধানমন্ত্রী হন তিনি। তবে সরাসরি সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী দলের নেতা হিসেবে পরের বছর প্রধানমন্ত্রী হন তিনি। ১৯৭১ সালে আবার প্রধানমন্ত্রী হন। অর্থাৎ ১৯৬৬ সালে প্রথম বছরের প্রধানমন্ত্রিত্ব বাদ দিলে তিনি বিজয়ী দলের নেতা হিসেবে টানা দুবার সরকার গঠন করেছিলেন। আরেকবার প্রধামন্ত্রী হন ১৯৮০ সালে। এই হিসাবে নারী নেতৃত্বের ইতিহাসে ইন্দিরা গান্ধীর সব রেকর্ড ছাপিয়ে যাওয়ার দোরগোড়ায় রয়েছেন শেখ হাসিনা। একই সঙ্গে এক্ষেত্রে তিনি হতে চলেছেন বিশ্বে অদ্বিতীয়।
যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়ার মতো রাষ্ট্রপতি পদ্ধতির সরকার ও সুদান, সোয়াজিল্যান্ডের মতো সাম্রাজ্যিক শাসন বাদ দিলে আধুনিক গণতান্ত্রিক বিশ্বে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সবচেয়ে বেশি দিন প্রায় ৩১ বছর টানা ক্ষমতায় ছিলেন সিঙ্গাপুরের লি কুয়ান ইউ। তার কাছাকাছি আছেন মালয়েশিয়ার প্রবাদপ্রতিম নেতা মাহাথির মোহাম্মদ। দীর্ঘ ২২ বছরের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকার পর গত বছর মে মাসে শতবর্ষী এই নেতা আবার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন। তবে দক্ষিণ এশিয়ার কোনো দেশে তাদের মতো একহাতে এত লম্বা শাসনের ইতিহাস নেই। এদিক থেকে ভারত-পাকিস্তানসহ সার্কভুক্ত দেশের সব নেতার মধ্যে এগিয়ে থাকছেন শেখ হাসিনা।
38 PM১৯৯৬ সালের ১২ জুন সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে বিজয়ী হলে প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। ওই বছরের ২৩ জুন তার নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভা শপথ নেয়। এরপর ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের ঐতিহাসিক নবম সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতাসীন হয় আওয়ামী লীগসহ মহাজোট। ৬ জানুয়ারি শপথগ্রহণের মধ্য দিয়ে দ্বিতীয় মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী হন শেখ হাসিনা। পূর্ণ পাঁচ বছর মেয়াদ শেষ করেন। তৃতীয়বার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন ২০১৪ সালের ১২ জানুয়ারি।
সর্বশেষ গত ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আরেক দফা নিরঙ্কুশ বিজয় হয় আওয়ামী লীগের। এর ভিত্তিতে গত ৭ জানুয়ারি টানা তৃতীয় মেয়াদে ও মোট চতুর্থবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়ছেন শেখ হাসিনা। এই হিসাবে সব মিলিয়ে ১৫ বছরের বেশি সময় ধরে সরকারপ্রধানের দায়িত্ব পালন করে আসছেন তিনি। এ রেকর্ড আর কারও নেই। এর আগে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া সর্বমোট তিন মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন। তবে এ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন সব মিলিয়ে ১০ বছরের কিছু বেশি সময়।
বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে শেখ হাসিনার রেকর্ড : বাংলাদেশের ৩টি জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ছিলেন শেখ হাসিনা। ১৯৮৬ সালে এরশাদ সরকারের আমলে অনুষ্ঠিত তৃতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দ্বিতীয় সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হয় আওয়ামী লীগ। প্রথমবারের মতো বিরোধীদলীয় নেতা হন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। এরপর গণ-অভ্যুত্থানের মুখে এরশাদ সরকারের পতনের পর ১৯৯১ সালে অনুষ্ঠিত পঞ্চম সংসদ নির্বাচনেও দ্বিতীয় সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের প্রধান হিসেবে বিরোধীদলীয় নেতা হন তিনি। ২০০১ সালে অষ্টম জাতীয় সংসদেও বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। এ হিসাবে শেখ হাসিনা তিন মেয়াদে ১২ বছরের ওপরে বিরোধীদলীয় নেতা ছিলেন, যেটিও মেয়াদ ও সময়কালের দিক থেকে রেকর্ড। অন্যদিকে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া দুই মেয়াদে এবং ১০ বছরের মতো বিরোধীদলীয় নেতার দায়িত্ব পালন করেছেন।
আওয়ামী লীগ সভাপতি হিসেবে রেকর্ড : জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বড় মেয়ে শেখ হাসিনা ছয় বছর নির্বাসিত জীবন শেষে ১৯৮১ সালের ১৭ মে আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবেই দেশে ফেরেন। এর আগে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু সপরিবারে নিহত হন। সে-সময় শেখ হাসিনা ও তার বোন বিদেশে থাকায় বেঁচে গেলেও তাদের দেশে ফিরতে দেয়নি তৎকালীন জিয়াউর রহমানের সামরিক সরকার। ওই সময় থেকে আজ পর্যন্ত টানা প্রায় ৩৮ বছর ধরে এবং টানা অষ্টমবারের মতো আওয়ামী লীগ সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন শেখ হাসিনা। এই সময়ে অনুষ্ঠিত সব কাউন্সিলেই সর্বসম্মতিক্রমে দলীয় প্রধান নির্বাচিত হয়েছেন তিনি।

পাঠকের মন্তব্য:

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না। তারকাচিহ্নযুক্ত (*) ঘরগুলো আবশ্যক।

*