শেখ হাসিনার ভিশন ও মিশন

“আশ্বিনের এক সোনালি রোদ্দুর ছড়ানো দুপুরে… টুঙ্গিপাড়ায় আমার জন্ম। গ্রামের ছায়ায় ঘেরা, মায়ায় ভরা প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও শান্ত নিরিবিলি পরিবেশ এবং সরল-সাধারণ জীবনের মাধুর্যের মধ্যদিয়ে আমি বড় হয়ে উঠি।… আমার শৈশবের স্বপ্ন-রঙিন দিনগুলো কেটেছে গ্রাম-বাংলার নরম পলিমাটিতে, বর্ষায় কাদা-পানিতে, শীতের মিষ্টি রোদ্দুরে, ঘাসফুল আর পাতায় পাতায় শিশিরের ঘ্রাণ নিয়ে, জোনাকজ্বলা অন্ধকারে ঝিঁঝির ডাক শুনে, তালতমালের ঝোপে বৈচি, দীঘির শাপলা আর শিউলি-বকুল কুড়িয়ে মালা গেঁথে, ধুলোমাটি মেখে, বর্ষায় ভিজে খেলা করে।”
শেখ হাসিনা, রচনা সমগ্র, প্রথম খ-, পৃ. ২৫-২৬

uttaranনূহ-উল-আলম লেনিন: জীবনের ৭১তম আশ্বিন পেরুবেন শেখ হাসিনা। ধুলোমাটি মাখা, বর্ষায় ভেজা এবং দেশবাসীর ভালোবাসায় সিক্ত ৭১টি ফুল দিয়ে তার বর্ণাঢ্য জীবনের মালা গাঁথা। কিন্তু ৭১টি ফুলের বেশ কয়েকটি রক্তাক্ত, দলিত-মথিত। আবার অনেকগুলো ফুলের সৌন্দর্য-সুষমা এবং সুঘ্রাণ কেবল বাংলাদেশই নয়, দেশ-মহাদেশের সীমান্ত ছাড়িয়ে সারাবিশ্বকে মুগ্ধ ও আমোদিত করেছে। বিশ্বের সেরা রাষ্ট্রনায়কদের শিরোপা তার মাথায়। তার শিরোপার উষ্ণীষে লেখা রয়েছে ‘মাদার অব হিউম্যানিটি’।
বিবিসি’র জরিপে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে যেমন আখ্যায়িত করা হয়েছে ‘সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি’ হিসেবে, তেমনি বাঙালির ইতিহাসের সবচেয়ে সফল, যোগ্য-দক্ষ রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে শেখ হাসিনার নামটিও বঙ্গবন্ধুর পাশাপাশি উচ্চারিত হবে। পিতা-পুত্রী এবং দুজন স্বতন্ত্র মানুষ হলেও, বঙ্গবন্ধুর আরাধ্য এবং অসমাপ্ত কাজগুলো সম্পন্ন করে শেখ হাসিনা ও বঙ্গবন্ধু পরস্পরের পরিপূরক হয়ে উঠেছেন। আমার কথাকে কেউ অতিশয়োক্তি মনে করতে পারেন। কিন্তু নির্মোহভাবে চিন্তা করলেই ইতিহাসের আর্শিতে আমার কথার সত্যতা ধরা পড়বে। এ-কথা তর্কাতীত যে বঙ্গবন্ধু একমেবাদ্বিতীয়ম। বঙ্গবন্ধুকে সবার ঊর্ধ্বেই ভাবতে হবে। রাষ্ট্রনায়ক, রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রী হবেন অনেকেই। কিন্তু জাতির পিতা তো একজনই। বাংলাদেশের স্থপতি একজনই। বঙ্গবন্ধু কারও সাথে তুলনীয় নন। তবে বঙ্গবন্ধু-কন্যা শেখ হাসিনা তিন-দফায় রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থেকে যে কাজগুলো করেছেন, জীবিত থাকলে বঙ্গবন্ধু সেই কাজগুলোই অনেক আগে করতেন। আর বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন রূপায়ণে, তার প্রিয় দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানো এবং তার আরাধ্য ‘সোনার বাংলা’ গড়ে তোলার বিশাল কর্মযজ্ঞ শেখ হাসিনা সম্পন্ন করে বাংলাদেশকে বিশ্বসভায় রোলমডেল হিসেবে দাঁড় করিয়েছেন। শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর চিন্তাধারা বাস্তবায়ন করেছেন বলেই বঙ্গবন্ধুর সাথে মিলিয়ে পরস্পরের পরিপূরক বলেছি। দেশবাসী এখন শেখ হাসিনার মধ্যে বঙ্গবন্ধুর ছায়া দেখতে পান। সেটি কেবল সন্তান হিসেবে নয়, সফল রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে।
একটি রাজনৈতিক পরিবারে শেখ হাসিনার জন্ম। ছাত্রজীবনে গভীরভাবে ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন তিনি। কিন্তু জাতীয় রাজনীতিতে, যে পটভূমিতে তাকে আসতে হয়েছে, তা ছিল তার চিন্তার বাইরে। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু সপরিবারে নিহত না হলে, শেখ হাসিনাকে অপ্রস্তুত অবস্থায় ১৯৮১ সালে পুত্র-কন্যাদের ছেড়ে মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে স্বদেশ প্রত্যাবর্তন এবং দলের দায়িত্বভার নিতে হতো না। শেখ হাসিনার জবানীতেই আমরা জানি, তিনি লিখেছেনÑ
“রাজনৈতিক পরিবারে আমার জন্ম। পিতা জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক আদর্শের মধ্য দিয়ে বড় হয়েছি। একদিন যে আমাকেও তাঁর মতো রাজনৈতিক নেতৃত্ব দিয়ে দেশ পরিচালনা করতে হবে ভাবিনি। সময়ের দাবি আমাকে এখানে এনে দাঁড় করিয়েছে। পিতার স্বপ্ন ছিল বাংলার দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানো। আমি এই আদর্শ নিয়ে বিগত ২৮ বছর যাবত জনগণের সেবক হিসেবে রাজনীতি করে যাচ্ছি।”
Ñ শেখ হাসিনা, রচনা সমগ্র, দ্বিতীয় খ-ের প্রথম সংস্করণের ভূমিকা, ৩০ নভেম্বর, ২০০৯

এই লেখার পর আরও ১০ বছর অতিক্রান্ত হয়েছে। পিতার আদর্শের পথ ধরে তার রাজনৈতিক জীবনের ৩৮ বছর পূর্ণ হয়েছে।
এই ৩৮ বছরের রাজনীতিতে শেখ হাসিনার ভিশন ও মিশন কী ছিল? অনেকেই সরলীকরণ করে বলেন, পিতার হত্যার বিচার, তার মর্যাদা পুনরুদ্ধার এবং আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনাই ছিল শেখ হাসিনার ভিশন ও মিশন। নিঃসন্দেহে তার রাজনৈতিক পরিকল্পনা ও লক্ষ্যের মধ্যে এই অভীষ্টগুলো ছিল। ইতোমধ্যে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার হয়েছে, অপরাধীদের কয়েকজনের মৃত্যুদ- কার্যকর হয়েছে। বঙ্গবন্ধুকে সাংবিধানিকভাবে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় অর্থাৎ জাতির পিতার মর্যাদায় পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে। ১৯৯৬ সালেই আওয়ামী লীগকে পুনরায় ফিরিয়ে আনা হয়েছে। যদি এটুকুতেই শেখ হাসিনার রাজনৈতিক ভিশন সীমাবদ্ধ থাকত, তা হলে এই ভিশন বা লক্ষ্য অর্জিত হওয়ার পর তার আর রাজনীতিতে থাকার প্রয়োজন ছিল না। বস্তুত কেবল ক্ষমতায় যাওয়ার জন্যই তিনি রাজনীতি করেন নি এবং করছেন না। রাজনীতি সম্পর্কে তার দৃষ্টিভঙ্গি হচ্ছে :
“আমাদের রাজনৈতিক চিন্তাভাবনায় কিছু পরিবর্তন আনা প্রয়োজন বলে আমি মনে করি। ক্ষমতায় আরোহণের জন্য আমাদের দেশে সাধারণত রাজনৈতিক ইস্যুকেই প্রাধান্য দেওয়া হয়ে থাকে। সমাজ সংস্কার বা অর্থনৈতিক কর্মকা-কে ইস্যু করা হয় না। রাজনৈতিক দলগুলো বিশেষ করে বিরোধী দল রাজনৈতিক ইস্যুর সন্ধানে অনেক সময় ব্যয় করেছে। অবশ্য এটা ঠিক যে, একটা পর্যায় পর্যন্ত এর প্রয়োজন ছিল। প্রয়োজন ছিল ততদিন পর্যন্ত যতদিন গণতান্ত্রিক বিধিব্যবস্থা ছিল না।… আমি মনে করি, আমাদের রাজনীতির একটা পরিবর্তন প্রয়োজন। প্রতিযোগিতা হতে হবে জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি। আন্দোলন হবে সমাজ সংস্কারের জন্য। আর এ উন্নয়ন মুষ্টিমেয় মানুষের জন্য নয়। এ উন্নয়ন অবশ্যই হতে হবে বৃহৎ জনগোষ্ঠীর জন্য।”
Ñ বৃহৎ জনগোষ্ঠীর জন্য উন্নয়ন, শেখ হাসিনা, রচনা সমগ্র, ১ম খ-, পৃ. ২১১-২১৩

জননেত্রী শেখ হাসিনা তার বিভিন্ন লেখা ও বক্তৃতায় যে কথাগুলো বারবার উচ্চারণ করেছেন, তা হলোÑ (১) সকল মানুষের মৌলিক চাহিদাগুলো পূর্ণ করতে হবে; (২) প্রত্যেক কর্মক্ষম নাগরিকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা; (৩) প্রতিটি মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা; (৪) শিক্ষা, চিকিৎসা ও বাসস্থানের নিশ্চয়তা প্রভৃতি নিশ্চিত করাই হবে রাজনীতির মূল লক্ষ্য। বিশেষ করে তিনি গুরুত্ব দিয়েছেন সমাজের সংখ্যাগরিষ্ঠ বঞ্চিত মানুষের ওপর। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে তাদের বঞ্চনার অবসান ঘটানোই হবে রাজনীতির লক্ষ্য। আর এজন্য, তার ভাষায় :
“… সম্পদের সুষম বণ্টন প্রয়োজন। কেউ খাবে কেউ খাবে না তা হবে না। সকলের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠিত হতে হবে। রাজনীতির মৌলিক পরিবর্তন আনতে হবে।
আমাদের দেশের জনগণের মৌলিক চাহিদা পূরণের জন্য কর্মসূচি প্রয়োজন। আর্থ-সামাজিক কর্মসূচিকে আরও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। রাজনীতির উদ্দেশ্য হচ্ছে রাষ্ট্রের নাগরিকদের সুখ সুবিধা নিশ্চিত করা, শান্তি-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করা, সুস্থ সবল জাতি গঠন করা। রাজনীতি হতে হবে ব্যক্তি স্বার্থের ঊর্ধ্বে। দেশকে আমরা কী দিতে পারলাম সেটাই একজন রাজনীতিবিদের চিন্তা-ভাবনা হতে হবে।… দেশকে গড়ে তোলা, মানুষের সুখ সমৃদ্ধি নিয়ে আসা, মানুষের জীবনের ন্যূনতম চাহিদা মিটানোÑ অর্থাৎ অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে একটি সুন্দর সমাজ নির্মাণ, যেখানে মানুষ নিরাপদে চলবে, শান্তিতে ঘুমাবে।
আমাদের চিন্তা মানুষকে ঘিরে। দেশের মানুষের কল্যাণ সাধনেই আমরা নিবেদিত। মানুষের অসহায়ত্ত আমাদের পীড়া দেয়। তাই সামাজিক সমস্যা দূর করা এবং অর্থনৈতিক মুক্তি অর্জনের মাধ্যমে এই ঘুণে ধরা সমাজ ভেঙে নতুন সমাজ গড়াÑ এমন একটি সমাজ, যেখানে থাকবে না শোষণ বঞ্চনা। সুখী সমৃদ্ধ দেশ গড়ার লক্ষ্যেই নতুন সমাজ গড়তে হবে।”
Ñ শেখ হাসিনা, রচনা সমগ্র, ১ম খ-, পৃ. ২১৩-২১৪

এ-কথাগুলো যে কেবল আপ্তবাক্য নয়, শেখ হাসিনা তিন-দফা রাষ্ট্র পরিচালনায় অর্থাৎ দেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনকালে বাস্তব কাজ দিয়ে তা প্রমাণ করেছেন।
শেখ হাসিনা এ-কথা ভালোভাবেই উপলব্ধি করেছেন, কেবল চটকদার প্রতিশ্রুতি ঘোষণা এবং বাগাড়ম্বর দিয়ে বেশিদিন জনগণের আস্থা ধরে রাখা সম্ভব নয়। যে মৌলিক চাহিদাগুলো পূরণের কথা তিনি বলেছেন, তা করতে হলে সম্পদ সৃষ্টি করতে হবে। সম্পদ না থাকলে সম্পদের সুষম বণ্টনের কথা অর্থহীন হয়ে পড়বে। খাদ্য ঘাটতি এবং খাদ্য আমদানিনির্ভর দেশে সর্বাগ্রে প্রয়োজন খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি করা। মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে পর্যাপ্ত খাদ্য প্রয়োজন। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে, তার প্রথম প্রধানমন্ত্রিত্বের আমলেই (১৯৯৬-২০০১) বাংলাদেশ খাদ্যে আত্মনির্ভরশীলতার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছায়। কিন্তু ২০০১ সালের বিতর্কিত নির্বাচনে বিএনপি-জামাত জোট ক্ষমতায় আসায় দেশ আবার খাদ্য উৎপাদনে পিছিয়ে পড়ে। খাদ্য উৎপাদনে প্রবৃদ্ধির হার ঋণাত্মক হয়ে দাঁড়ায়। ২০০৯ থেকে চলতি বছর পর্যন্ত, টানা ১০ বছর ক্ষমতায় থাকার ফলে বাংলাদেশ এখন খাদ্যে আত্মনির্ভরশীল। প্রত্যেক মানুষের ন্যূনতম খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। ফলে ৪৪ শতাংশ থেকে চরম দারিদ্র্যসীমা ৯ শতাংশে নেমে এসেছে। অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সামাজিক পরিবর্তনের যে কথা শেখ হাসিনা তার রাজনৈতিক দর্শনে বারবার উল্লেখ করেছিলেন, সেই উন্নয়ন অভিযাত্রায় বাংলাদেশ এখন নতুন পর্যায়ে উন্নীত হয়েছে। স্বল্পোন্নত বা দরিদ্র দেশের লজ্জা ঘুচিয়ে বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদায় অভিষিক্ত করেছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও বিশ্বব্যাংক। ১০ বছর আগে যেখানে বাংলাদেশের মাথাপ্রতি আয় ছিল ৪৫০-৫০০ ডালারে সীমাবদ্ধ, সেই মাথাপ্রতি আয় বর্তমানে প্রায় ১ হাজার ৮০০ ডলারের কোটা স্পর্শ করেছে। ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশের মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হওয়ার লক্ষ্য ঘোষিত আছে। কিন্তু ইতোমধ্যেই বাংলাদেশ নিম্নমধ্যম আয়ের দেশের কাতারে উন্নীত হয়েছে। বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির হার প্রায় ৭ শতাংশ স্পর্শ করেছে। ১০ বছর আগের ২৮০০/৩০০০ মেগাওয়াট থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ১৮০০০ মেগাওয়াটে উন্নীত হয়েছে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের কর্মযজ্ঞের ভিতর দিয়ে বাংলাদেশ পারমাণবিক ক্লাবে যুক্ত হতে চলেছে। রপ্তানি আয় বিপুলভাবে বেড়েছে। বেড়েছে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্সের হার। বৈদেশিক মুদ্রার সঞ্চয় ৩৬ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। আর এসবের ফলেই সম্ভব হয়েছে বিশ্বব্যাংকের ও অন্যান্য দাতাগোষ্ঠীর ঋণ সাহায্য প্রত্যাখ্যান করে নিজস্ব তহবিল থেকে দেশের সর্ববৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্প পদ্মাসেতুর নির্মাণকাজ এগিয়ে নেওয়া। শেখ হাসিনার দূরদর্শী এবং আত্মমর্যাদাশীল নেতৃত্বের দৃঢ় প্রত্যয়ী ভূমিকার জন্যই এই অসম্ভবকে সম্ভব করা যাচ্ছে। এক পদ্মাসেতু নির্মাণের সাফল্য বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সম্ভ্রমপূর্ণ অবস্থান এনে দিয়েছে। এখন আর কেউ বাংলাদেশকে পরনির্ভরশীল দেশ অথবা হেনরি কিসিঞ্জারের মতো ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ বলার ঔদ্ধত্য দেখাতে পারবে না। তৈরি পোশাক শিল্প, সিমেন্ট শিল্প, জাহাজ শিল্প, ঔষধ শিল্প এবং তথ্যপ্রযুক্তিসহ বিভিন্ন সেবা খাতে বাংলাদেশের চমকপ্রদ উন্নয়ন, আমাদের রপ্তানি বাণিজ্যের নতুন নতুন খাত সৃষ্টি করেছে। এটা অত্যন্ত শ্লাঘার বিষয় যে বাংলাদেশ মাছ, সবজি প্রভৃতি উৎপাদনে বিশ্বের শীর্ষ ৫টি দেশের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। আমরা গৌরবের সাথে বলতে পারছি, বাংলাদেশ মহাকাশ যুগে প্রবেশ করেছে। ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১’ এর মাধ্যমে বাংলাদেশ মহাকাশ পরিবারের সদস্য হয়েছে। ডিজিটাল বাংলাদেশ এখন আর স্বপ্ন নয়, বাস্তব।
শেখ হাসিনার ভিশন, দেশের সামাজিক ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন সাধন করা। তিনি এই ‘ঘুণে ধরা সমাজ ভেঙে নতুন সমাজ গড়ার’ প্রত্যয় ঘোষণা করেছিলেন। এই প্রত্যয় বা ২০০৯ সালের ‘দিনবদলের ইশতেহারে’ ঘোষিত ‘ভিশন-২০২১’, এখন আর রূপকল্পেই সীমাবদ্ধ নেই। বাংলাদেশের স্কুলে যাওয়ার বয়সী প্রতিটি শিশু এখন প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পাচ্ছে। নারী শিক্ষার ক্ষেত্রে এসেছে বৈপ্লবিক পরিবর্তন। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে মেয়েদের হার ৫৫ শতাংশ এবং ছেলেদের ৪৫ শতাংশ। শতাব্দী প্রাচীন অজ্ঞানতার অন্ধকার ঘুচিয়ে এক নীরব সামাজিক পরিবর্তন সংঘটিত হচ্ছে;Ñ যা নারীর প্রকৃত ক্ষমতায়নের পূর্বশর্ত সৃষ্টি করছে। শিক্ষার হার দাঁড়িয়েছে ৭২ শতাংশ।
স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ বিপুলভাবে সম্প্রসারিত হয়েছে। প্রতিটি ইউনিয়নে/ওয়ার্ডে কমিউনিটি হাসপাতালসহ সরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাসেবা লাভের সুযোগ বৃদ্ধি, নতুন নতুন হাসপাতাল নির্মাণ এবং মানসম্পন্ন ঔষধ উৎপাদনে বাংলাদেশের অগ্রগতি এখন আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। আমাদের জনগোষ্ঠীর গড় আয়ুষ্কাল ৭১ বছরে উন্নীত হওয়া, দক্ষিণ এশিয়ায় শিশুমৃত্যু এবং মাতৃমৃত্যুর হার সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামিয়ে আনার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান প্রথম। এসব পরিসংখ্যান ও সূচকই প্রমাণ করে সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে শেখ হাসিনার উন্নয়ন-দর্শন কী বিপুল সাফল্য অর্জন করেছে।
কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও অগ্রগতি অব্যাহত। তবে গরিব-মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ যত সহজে বাড়ানো যায়, উচ্চশিক্ষিত যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ জ্যামিতিক হারে বাড়ানো যায় না। সেবা খাতে ঈর্ষণীয় উন্নতি, তথ্যপ্রযুক্তিতে উন্নতির ধারা বেগবান হলেও, শিল্পায়নের ক্ষেত্রে উন্নতির জন্য কিছুটা সময় প্রয়োজন। শেখ হাসিনা বিশেষ প্রণোদনা দিয়ে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধির বহুমুখী উদ্যোগ নিয়েছেন। শিল্পায়ন ছাড়া প্রয়োজনীয় কর্মসংস্থান হবে না। সরকারের ধারাবাহিকতা থাকলে অচিরেই সেই লক্ষ্যও অর্জিত হবে। ছিন্নমূল গরিব মানুষের মাথা গুজবার ঠাঁই করে দেওয়ার জন্য গৃহীত প্রকল্পগুলো চলমান। সামগ্রিক মাথাপিছু আয়, সুষম বণ্টন এবং জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন করতে পারলে কোনো মানুষই গৃহহীন থাকবে না।
বাংলাদেশ প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত সমস্যাগুলোর সম্মানজনক সমাধান করেছে। শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বে মিয়ানমার ও ভারতের সাথে সমুদ্রসীমার নিষ্পত্তির মাধ্যমে সমুদ্রবিজয় একদিকে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বকে সংহত করেছে, অন্যদিকে ব্লু ইকোনমির সম্ভাবনার দুয়ার উন্মুক্ত হয়েছে। ভারতের সাথে দীর্ঘদিনের ঝুলে থাকা স্থলসীমানা চুক্তি বাস্তবায়ন হয়েছে। আমাদের সাথে আর কোনো সীমানা বিরোধ নেই। আমাদের সীমান্তÑ শান্তির সীমান্ত।
বাংলাদেশে মিয়ানমার থেকে উদ্বাস্তু হয়ে আসা ১০ লক্ষাধিক মানুষের স্রোত আমাদের উন্নয়ন অভিযাত্রাকে ব্যাহত করছে। জননেত্রী শেখ হাসিনা সর্বোচ্চ মানবিক দৃষ্টি নিয়ে রোহিঙ্গা উদ্বাস্তুদের এদেশে সাময়িকভাবে থাকার ব্যবস্থা করতে এগিয়ে এসেছেন। তিনি বলেন, আমরা আমাদের ‘খাদ্য ভাগ করে খাব’, তবুও এই মানুষগুলোকে জোর করে মৃত্যুপুরী মিয়ানমারে ঠেলে দেব না। শান্তিপূর্ণ আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের তাদের মাতৃভূমিতে ফিরে যাওয়ার পরিবেশ সৃষ্টি করার উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি ও তার সরকার। তার এই ভূমিকা বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত হয়েছে। এজন্যই তাকে ‘মানবতার মা’ বলে পাশ্চাত্যের গণমাধ্যমে উচ্চ প্রশংসা করা হয়েছে।
রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও তিনি অনেক সমস্যার জট খুলেছেন। পিতার নেতৃত্বে গৃহীত ’৭২-এর যে সংবিধান সামরিক শাসকরা যথেচ্ছভাবে পরিবর্তন ও কাটছাঁট করেছিল। দেশের সর্বোচ্চ আদালত তা অবৈধ ঘোষণা করেছে। জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে জাতীয় সংসদ সংবিধান (ত্রয়োদশ-পঞ্চদশ) সংশোধন করে দেশে ’৭২-এর সংবিধান ফিরিয়ে এনেছেন। দেশ পরিচালিত হচ্ছে জাতীয় চার মূলনীতি তথা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, আদর্শ এবং বঙ্গবন্ধুর নির্দেশিত পথে। তিনি আমাদের দেশকে পাকিস্তানি ধারায় ফিরিয়ে নেওয়ার হাত থেকে পুনরুদ্ধার করেছেন। একইসঙ্গে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তিনি যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করেছেন। জাতিকে কলঙ্কমুক্ত করেছেন।
’৭১ পেরুলেন শেখ হাসিনা। কিন্তু না চিন্তায় না শারীরিকভাবে কোনো বার্ধক্য বা জড়তা তাকে কাবু করতে পারেনি। বিপুল তার প্রাণশক্তি এবং কর্মক্ষমতা। ২০০৪ সালের ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা ছাড়াও বহুবার তাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। এখনও তিনি প্রাণ হাতে নিয়ে মাতৃভূমির দেওয়া দায়িত্ব পালন করে চলেছেন। রাজনীতির বাইরে তার কার্যত কোনো ‘ব্যক্তিগত জীবন নেই’। দেশের জনগণ এবং আওয়ামী লীগই তার আত্মার আত্মীয়, ধ্যান, জ্ঞান এবং সর্বক্ষণের সহযাত্রী।
নিজেকে তিনি ‘আলোর পথযাত্রী’ বলেছেন। যথার্থই তিনি আলো হাতে আঁধারের যাত্রী। বাংলাদেশে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যা করে অন্ধকারের রাজত্ব কায়েম হয়েছিল, বঙ্গবন্ধু-কন্যা শেখ হাসিনা সেই অন্ধকারের রাজত্বের অবসান ঘটিয়েছেন। আমরা, বাঙালি জাতি তার নেতৃত্বেই আলোকোজ্জ্বল ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি।
২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার ভিশন বা লক্ষ্য তিনি ঘোষণা করেছেন। ২০০৯ সালের নির্বাচনী ইশতেহারে ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে গড়ে তোলার রূপকল্প (ভিশন) ঘোষণা করেছিলেন। তার সেই ভিশন বিপুল জনসমর্থন নিয়ে তিনি বাস্তবায়িত করে চলেছেন। ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত বাংলাদেশ গড়ার ভিশনও তিনি এবং নতুন প্রজন্ম নিঃসন্দেহে সাফল্যের পথে এগিয়ে নিতে সক্ষম হবেন। ১৯৮১ সালে যে ভিশন ও মিশন নিয়ে মাতৃভূমিতে ফিরে এসেছিলেন, সে মিশন তার সফল হয়েছে। সময়ের সাথে ভিশন পরিবর্তন হয়। এই পরিবর্তনের বিজ্ঞান বুঝেছেন বলেই শেখ হাসিনা সকল সংকট মোকাবিলা করে এগিয়ে যাচ্ছেন।
তার এই ৩৮ বছরের চলার পথ কুসুমাস্তীর্ণ ছিল না। আশির দশকে, মাত্র ৩৫ বছর বয়সে আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্বভার গ্রহণের সময়, স্বাভাবিকভাবেই তার অভিজ্ঞতার ভা-ারটি সমৃদ্ধ ছিল না। তিনি বয়োজ্যেষ্ঠ এবং বঙ্গবন্ধুর সহকর্মী হিসেবে আস্থাভাজনদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে দল পরিচালনার চেষ্টা করেন। কিন্তু তখনকার অনেক নেতা-ই ভেবেছিলেন, অনভিজ্ঞ এবং বয়োকনিষ্ঠ শেখ হাসিনাকে তারা হাতের পুতুল হিসেবে ব্যবহার করতে পারবেন। কিন্তু তারা ভুল ভেবেছিলেন। বঙ্গবন্ধু-কন্যা শেখ হাসিনার অভিজ্ঞতা কম থাকলেও তার ঋজু এবং আত্মমর্যাদাশীল ব্যক্তিত্বকে তারা খাটো করে দেখেছেন। যখন প্রয়োজন ছিল দলের মধ্যে ইস্পাতদৃঢ় ঐক্য, তখন দলের নেতৃত্বের একটি অংশ ছিল শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে নানামুখী চক্রান্তমূলক তৎপরতায় লিপ্ত। কৃত্রিমভাবে দলের মধ্যে ইস্যু সৃষ্টি করে দলে ভাঙন অনিবার্য করে তোলেন। প্রথমে মিজানুর রহমান চৌধুরী দল থেকে বেরিয়ে ‘মিজান আওয়ামী লীগ’ গঠন করেন, তারপর সিলেটের প্রবীণ নেতা দেওয়ান ফরিদ গাজী এবং মোফাফ্ফর হোসেন পল্টু স্বতন্ত্র আওয়ামী লীগ গঠন করেন। তবে সবচেয়ে বড় আঘাত আসে প্রয়াত আবদুর রাজ্জাকের দিক থেকে।
আশির দশকে দলের প্রভাবশালী সংগঠন ও নেতা দলের সাধারণ সম্পাদক আবদুর রাজ্জাক শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন। গড়ে তোলেন ‘বাকশাল’ নামে নতুন রাজনৈতিক দল। ছাত্রলীগকে ভেঙে দু-টুকরো করেন। অঙ্গ সহযোগী সংগঠনগুলোতেও একই খেলা চলে। ফলে দলের ওপর বিরাট একটা ধাক্কা এসে পড়ে। এইসব ধাক্কা সামাল দিয়ে দলের ঐক্য ও সংহতি পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য শেখ হাসিনা পিতার মতোই চারণের বেশে দেশের প্রায় প্রতিটি উপজেলা-জেলা সফর করেন। ১৯৯১-এর নির্বাচনকালেই বাকশালের সংকট চূড়ান্ত রূপ নেয়। নির্বাচনের পর আবদুর রাজ্জাক ও মহিউদ্দিন আহমদের নেতৃত্বাধীন অংশটি বাকশাল বিলুপ্ত করে দলে ফিরে আসেন। ঐক্যের প্রতীক জননেত্রী শেখ হাসিনা উদার ও সহনশীল দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে ফিরে আসা নেতা-কর্মীদের অ্যাকোমেডেট করেন।
এরপর নব্বইয়ের দশকে ড. কামাল হোসেন দল থেকে বেরিয়ে গণফোরাম করেন। কিছু নেতাকর্মী বিভ্রান্ত হয়ে ড. কামালের পথ ধরেন। প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. মোহাম্মদ সেলিমও গোস্বা করে দল থেকে বেরিয়ে তৃণমূল আওয়ামী লীগ নামে স্বতন্ত্র দল করার ব্যর্থ চেষ্টা করেন।
১৯৯৬ সালের ১৪ জুনের নির্বাচনে দলকে ২১ বছর পর ক্ষমতায় নেওয়ার পর, স্বাভাবিক প্রত্যাশা ছিল শেখ হাসিনার নেতৃত্বের বিরুদ্ধে আর কেউ মাথা তুলে দাঁড়াবে না; আর কোনো ষড়যন্ত্র হবে না। কিন্তু ২০০৭ সালের ১/১১-এর পরিবর্তনের ফলে জরুরি অবস্থা জারি ও ফখরুদ্দীনের তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের পরও আমরা নতুন ষড়যন্ত্রের খেলা দেখতে পেলাম। একদিকে মহলবিশেষের মাইনাস টু ফর্মুলার নামে কার্যত শেখ হাসিনাকে রাজনীতি থেকে নির্বাসিত করা, অন্যদিকে আওয়ামী লীগকেও ভাঙার ষড়যন্ত্র চলে। শেখ হাসিনাকে গ্রেফতারের আগেই ‘সংস্কারপন্থি’ বলে কথিত দলের চারজন সিনিয়র নেতা আমির হোসেন আমু, আবদুর রাজ্জাক, তোফায়েল আহমেদ এবং সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত পৃথক পৃথকভাবে কিন্তু অভিন্ন ভাষায় সংবাদ সম্মেলন করে দলের ‘সংস্কার’ দাবি করেন। এই নেতৃবৃন্দের অবিমৃশ্যকারী এই তৎপরতার সাথে উচ্চাভিলাষী সেনা কর্মকর্তা ও সেনা গোয়েন্দা সংস্থার যোগসাজশ ছিল বলে জানা যায়। যে কারণেই হোক, এই ঘটনা কার্যত শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রতি এক ধরনের অনাস্থা যেমন প্রকাশ পায়, তেমনি দলীয় ফোরামে সংস্কার প্রস্তাব না তুলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি তোলায় দলের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির প্রয়াস হিসেবেই কর্মীদের কাছে প্রতিভাত হয়। কিন্তু বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সর্বস্তরের নেতা ও কর্মীরা ছিল জননেত্রী শেখ হাসিনার পেছনে প্রবলভাবে ঐক্যবদ্ধ ও সংহত। ফলে দল ভাঙার সকল প্রয়াশ ব্যর্থ হয়।
এভাবেই ঘরে বাইরের বহুমুখী ষড়যন্ত্র এবং চাপ মোকাবিলা করেই শেখ হাসিনা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে চোখের মণির মতো রক্ষা করে চলেছেন। কেবল রক্ষাই নয়, দলকে দেশের সবচেয়ে গণভিত্তিসম্পন্ন সর্ববৃহৎ অজেয় দলে পরিণত করেছেন।
বাংলাদেশের বাস্তবতা হলো বর্তমানে জাতিকে মুক্তিযুদ্ধের ধারায় পরিচালনার ক্ষেত্রে শেখ হাসিনার বিকল্প কোনো নেতা নেই। মুসলমানপ্রধান দেশগুলোতে শেখ হাসিনাই একমাত্র সরকারপ্রধান যিনি অকুতোভয়ে সেকুলার গণতন্ত্রের পক্ষে সবচেয়ে সোচ্চার ভূমিকা পালন করে চলেছেন। জঙ্গিবাদ, ধর্মান্ধতা, সাম্প্রদায়িকতা, অস্ত্র প্রতিযোগিতা, জাতিগত বিদ্বেষ এবং শক্তি প্রদর্শনের হুমকিমুক্ত, ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত এক শান্তিপূর্ণ বিশ্ব গড়ে তোলার প্রবক্তা হিসেবে জাতিসংঘ এবং আন্তর্জাতিক ফোরামে বাংলাদেশের জননন্দিত প্রধানমন্ত্রীর শান্তি ফর্মুলা মানব জাতির সামনে নতুন আশাবাদ সৃষ্টি করেছে। তিনি এখন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছেও আস্থাভাজন বিশ্বনেত্রী।
’৭২-এ পদার্পণ এবং বিগত ৩৮ বছরের পথচলার অক্লান্ত সারথি শেখ হাসিনা বারবার নিজেকে অতিক্রম করেছেন। রবীন্দ্রনাথ যেমন তার সৃষ্টিকর্মে বারবার নিজেকে অতিক্রম করায় কখনোই পুরনো বা অচল হননি, তেমনি বাংলাদেশের উন্নয়নের রূপকার, রাজনীতির কুশলী শিল্পী এবং চিন্তক শেখ হাসিনাও রাজনৈতিক সৃজনশীলতায় বারবার নিজেকে অতিক্রম করে চলেছেন। সেজন্যই তার নেতৃত্ব কখনও পুরনো হয় না, সেকেলে হয় না। প্রিয় নেত্রী, প্রিয় সতীর্থ শেখ হাসিনা, জন্মদিনে আপনাকে ফুলেল শুভেচ্ছাÑ নমিত শ্রদ্ধা।

Category:

Leave a Reply