বিভাগ: প্রবন্ধ

শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন ও বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা

PM2 হারুন হাবীব: বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের হৃতগৌরব পুনরুদ্ধারের ইতিহাস রচনায় অবধারিতভাবেই শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের দিনটি অবিস্মরণীয়। বিদেশের মাটিতে প্রায় ছয় বছর নির্বাসন শেষে স্বদেশের মাটিতে প্রত্যাবর্তন করেন তিনি ১৯৮১ সালের ১৭ মে। বঙ্গবন্ধু-কন্যার এই স্বদেশে ফিরে আসা রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক জীবনে নতুন যুগের সূচনা করে বাংলাদেশের। আমার স্পষ্ট মনে পড়ে, নতুন দিল্লি থেকে বিমানে উড়ে যেদিন তিনি ঢাকার মাটিতে পা রাখেন, লাখো মানুষ হৃদয়ের সবটুকু আবেগ দিয়ে সেদিন তাকে স্বাগত জানিয়েছিল। এই আবেগের মাঝে ছিল অনেক স্বপ্নভঙ্গের পর নতুন স্বপ্নদেখা, নতুন আশায় বুক বাঁধা।
PM1গণমানুষের সেই স্বপ্ন ও প্রত্যাশার প্রেক্ষাপট কারও অজানা নয়। কেবলমাত্র দলীয় নেতাকর্মী নন, বঙ্গবন্ধুবিহীন বাংলাদেশে তারই কন্যাকে স্বাগত জানাতে ঢাকা বিমানবন্দরে সেদিন জড়ো হয়েছিল সর্বস্তরের লাখো উদ্বেলিত মানুষ; যে মানুষ জাতির পিতার ধমনি বহনকারীকে স্বাগত জানিয়েছে পরিপূর্ণ আবেগ ও ভালোবাসায়, যে মানুষ সেনাপতি শাসন থেকে মুক্তি চেয়েছে, যে মানুষ মনেপ্রাণে জাতীয় মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের পুনঃপ্রতিষ্ঠা চেয়েছে, জাতির পিতার হত্যাকারীদের বিচার চেয়েছে, লাখো শহিদের বাংলাদেশ ফিরে চেয়েছে।
১৯৭৫ সালে স্বাধীনতাবিরোধী চক্রের হাতে প্রায় সপরিবারে নিহত হলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। কেবলমাত্র দেশের বাইরে অবস্থানের কারণে বেঁচে থাকলেন তার দুই কন্যাÑ শেখ হাসিনা ও শেখ রেহেনা। এই ভয়াবহ হত্যাকা-, যা ঘটে স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার মাত্র সাড়ে তিন বছরের মাথায়, জাতিকে স্তম্ভিত করে, হতাশায় নিমজ্জিত করে সীমাহীন। সেই সুযোগে জেনারেল জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে বাঙালির অসাম্প্রদায়িক জাতিসত্তার বিরোধীরা মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশকে ক্ষতবিক্ষত করে চলেছে। ভেঙে চলে জাতীয় মুক্তিযুদ্ধের, পাকিস্তানি স্বৈশাসনের বিরুদ্ধে বাঙালির দীর্ঘ জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের এক একটি স্তম্ভ। যে আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব দিয়েছে, সেই দলটিকে রাষ্ট্রীয় কূটকৌশলে ছিন্নভিন্ন করার সব চেষ্টা নেওয়া হয়। এক সর্বগ্রাসী হতাশা সর্বত্র; জাতি কী মুক্তি পাবে ভয়ঙ্কর এই মহাপ্রলয় থেকে? আছেন কী কোনো ত্রাতা, যিনি হাল ধরবেন উত্তাল ঝড়ের সাগরে?
অতএব বঙ্গবন্ধু-কন্যার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের মাঝে বহু প্রার্থিত এক জাতীয় নবজাগরণ আছে, আছে সাহসের নব অভিযাত্রা, যে অভিযাত্রার সাফল্যে নিজেকে তিনি দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
স্বাধীনতার মাত্র কয়েক বছরের মাথায় রাষ্ট্রের স্থপতিকে হত্যা করে জনগণতান্ত্রিক স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশকে যেভাবে অকেজো, অর্থহীন করার চেষ্টা হয়েছিল, যেভাবে ইতিহাসের স্বাভাবিক যাত্রাপথ রুদ্ধ করার চেষ্টা হয়েছিল, স্বাধীনতার পরাজিত শত্রু ও সাম্প্রদায়িক শক্তিকে যেভাবে পুনর্বাসিত করা হয়েছিল, বলাই বাহুল্য, শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের মধ্য দিয়ে সেই অশুভ ভয়ঙ্কর ধারার বিরুদ্ধে প্রথমবারের মতো প্রতিরোধ গড়ে ওঠে। সামরিক আধিপত্যবাদ ও দুঃশাসনের বিরুদ্ধে ক্রমান্বয়ে মাথা তুলে দাঁড়াবার শক্তি সঞ্চয় করে। এটিই ইতিহাস যে, বঙ্গবন্ধুর এই জ্যেষ্ঠকন্যা জাতির লুণ্ঠিত গৌরব পুনরুদ্ধার সংগ্রামে অধিনায়কত্ব দান করে চলেন, নতুন মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক হনÑ যা তার ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক সাফল্য।
সে-কারণেই তার দেশে ফিরে আসা জাতীয় জীবনের এক নতুন আশীর্বাদ; এবং একই সঙ্গে অভিশাপও প্রতিপক্ষের জন্যে। ধানমন্ডির ৩২ নম্বর বাড়িতে গিয়ে রক্তের চিহ্ন দেখতে হয় শেখ হাসিনাকে বুকভাঙা কান্নায়। কিন্তু শোক করার সময় কোথায়? সময়ের কষাঘাত বাস্তবতায় ফিরিয়ে আনে তাকে; শোক ও রোদনকে পরিণত করতে হয় শক্তিতে। না, তিনি রোদন করতে আসেন নি, এসেছেন বদ্ধ ইতিহাসের দুয়ার খুলে তার জন্মভূমিকে রাহুমুক্ত করতে, জাতির পিতার স্বপ্নের বাংলাদেশকে পুনরুদ্ধার করতে। অনেক বড় এক চ্যালেঞ্জ; ইতিহাসের অমোঘ নিয়মেই যা তারই হাতে সমর্পিত। অতএব পিতা, মাতা, ভাই ও ভাতৃবধূদের স্মৃতিতে শোক করার সময় কই!
ইতিহাস সাক্ষ্য দেবে, জেনারেল জিয়াউর রহমানের অবৈধ শাসনামলে মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী দলটিকে আঘাতের পর আঘাতে জর্জরিত করা হয়। ভুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয় বঙ্গবন্ধুকে, জাতীয় ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে। সেই দুর্দিনে, দেশের বাইরে অবস্থানকালেই, আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হলো শেখ হাসিনা। অবিন্যস্ত দলকে সংগঠিত করা যেমন গুরু দায়িত্ব, তেমনি অসীম গুরুত্ববাহী অর্পিত কাজ ঘাতক ব্যষ্টিত শাসককূলের বিরুদ্ধে নিজেকে রক্ষা করা, বিধ্বস্ত বাংলাদেশকে জাগিয়ে তোলা এবং লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতাকে স্বমহীমায় পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা।
বলা বাহুল্যÑ এ কাজ সহজ ছিল না। মৃত্যুকে বারবার তুচ্ছজ্ঞান করেও শেখ হাসিনা তার অভিষ্ঠ দায়িত্ব সম্পাদন করেছেন; ঘাতকের বারংবারের হুমকিÑ আক্রমণেও পিছিয়ে আসেন নি, পথভ্রষ্ঠ হননি; হলে, অধঃপতনের গহ্বর থেকে বাংলাদেশ রাষ্ট্রকে ফিরে পাওয়া সহজ হতো না।
এক মহা-দুর্দিনে দিকভ্রান্ত স্বদেশের হাল ধরেছিলেন ইতিহাসের আশীর্বাদ বহনকারী শেখ হাসিনা। এ যেন বঙ্গবন্ধু বা তার রক্তেরই ফিরে আসা। স্বাধীনতাবিরোধী দেশি-বিদেশি চক্রের হাতে জাতির জনকের অভাবিত হত্যাকা-ের পর ঘন যে তমসা, সেই তমসা তাড়াতে প্রথম আলোর মশাল জ্বালিয়েছিলেন তিনি। সেই মশাল, প্রাথমিক সংকট-সীমাবদ্ধতার পর, দিকে দিকে আলোকিত করতে থাকে, শুরু হয় রাহু মুক্তির পালা। তার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের দিনটিকে, সে-কারণে, জাতীয় নব জাগৃতির দিন বলতে দ্বিধা হয় না আমার। সব আবর্জনা দূর করতে নববর্ষের প্রভাতে যেমন বাঙালি একাকার হয়, নব প্রতিশ্রুতিতে সমৃদ্ধ হয়, তেমনি এক শুভ প্রতিশ্রুতির বাতাস বইতে দেখি তার স্বদেশ ফেরার দিন থেকে।
শেখ হাসিনাকে রাষ্ট্রের প্রধানমন্ত্রী হিসেবেই আমি দেখিনে কেবল। প্রধানমন্ত্রী হন অনেকেই, হয়েছেন এবং হবেনও। তাকে দেখি আমি বাংলাদেশ রাষ্ট্র জনকের বেঁচে যাওয়া দুই কন্যার একজন হিসেবে, যিনি রাষ্ট্রকে তার ছিনতাইকৃত গৌরব ফিরিয়ে দেওয়ার মহাসমরে নেতৃত্ব দিয়ে চলেছেন। পঁচাত্তরের রক্তপাতের পর দুই যুগের যে ভয়ঙ্কর স্বদেশ, অভাবিত জেগে ওঠা আবারও যে ‘নব্য পাকিস্তান’ (!), তারই বিপরীতে বাঙালির রাষ্ট্রকে আজকের বাস্তবতায় ফিরিয়ে আনার যে সাহসী ও প্রজ্ঞাবান নেতৃত্বÑ তারই সর্বাধিনায়কের নাম শেখ হাসিনা।
আমার বিশ্বাস, তিনবারের সরকারপ্রধান শেখ হাসিনা সামাজিক ও অর্থনৈতিক যুদ্ধের পাশাপাশি একটি বড় রাজনৈতিক যুদ্ধের নেতৃত্ব দিয়ে চলেছেন। সে যুদ্ধ কতটা প্রয়োজনীয়, কতটা ভয়ঙ্কর এবং কতটা ঝুঁকিপূর্ণÑ তা বলার অপেক্ষা রাখে না এবং যুদ্ধটি এমন এক সময়ে ঘটে চলেছে যখন বাংলাদেশ রাষ্ট্রের শত্রুরা নানা অঙ্গনে সংগঠিত এবং প্রতিষ্ঠিত।
তিন যুগেরও বেশি সময়ের ব্যবধানে বঙ্গবন্ধু হত্যাকা-ের বিচার সম্পন্ন করাটি ছিল ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার মানদ-ে এক ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত, যা জাতিকে বড় দায়মুক্তি দিয়েছে, বড় কলঙ্ক থেকে মুক্তি দিয়েছে। শেখ হাসিনার সাহসী ও দৃঢ় প্রত্যয়ী নেতৃত্বে ঘৃণ্য ঘাতকেরা শাস্তি লাভ করেছে, কৃত অপরাধের দায়ে দ-িত হয়েছে, যা সাধারণ কোনো কাজ ছিল না। যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠনের মধ্য দিয়ে একাত্তরের মানবতাবিরোধী তস্করদের ঐতিহাসিক বিচার প্রক্রিয়াটি তিনি কেবল শুরুই করেন নি, প্রবল সাহস ও বিচক্ষণতায়, দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র উপেক্ষা করে, এগিয়ে নিয়েছেন। এই দুটি কাজ, যা অভাবিত ভাবা হতো একসময়, বাঙালি জাতিকে সভ্য জাতিতে পরিণত করেছে, দৃঢ়চিত্ত করেছে, বাংলাদেশকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে সাহায্য করেছে; একই সঙ্গে জাতীয় স্বাধীনতার লাখো শহিদ ও লাখো বীর সৈনিকদের আত্মাকে সম্মানিত করেছে।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পর দীর্ঘ দুই যুগ ধরে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষে রাষ্ট্র শাসিত হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ ও ইতিহাস বিরোধীদের হাতে। জেনারেল এরশাদ ও খালেদা জিয়ার সরকার দেশকে, পরিকল্পিতভাবে, সাম্প্রদায়িক বানিয়েছে নিত্যনতুন পরিকল্পনায়, যাতে বাংলাদেশ অকার্যকর হয়। সরকার, প্রশাসন ও সেনাবাহিনীতে একাত্তরের চেতনাবিরোধীদের জায়গা দিয়ে এমন এক প্রাচীর তৈরি করা হয়েছিল, যা ভাঙা সহজ কাজ ছিল না। কাজেই বঙ্গবন্ধু-কন্যা ভয়ঙ্কর ঝুঁকি নিতে হয়েছে। ব্যক্তি ও পারিবারিক জীবনের সুখ ও সাচ্ছন্দ্য পরিত্যাগ করতে হয়েছে। তাকে দৃঢ়চিত্তে অগ্রসর হতে হয়েছে প্রভাবশালী দেশি-বিদেশি মহলের প্রতিবন্ধকতা-প্রতিরোধ। বিপদসংকুল পথে সামনে এগুবার এই যে সাহস, এই যে দৃঢ়তাÑ তার সবটাই দেখাতে পেরেছেন শেখ হাসিনা। সকলেই জানি, গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি বিকাশে সরকার বিরোধীদের স্বাধীন ও উন্মুক্ত কার্যক্রম জরুরি। এছাড়া রাষ্ট্র গণতান্ত্রিক, মানবিক কিংবা আধুনিক হয় না। কিন্তু বাংলাদেশ রাষ্ট্রের দুর্ভাগ্য এই যে, চার যুগ পরও এই রাষ্ট্রের অস্তিত্ব বিরোধীরা সর্বাংশে সক্রিয়, যারা পাকিস্তানকে পুনর্বাসিত করতে চায়, একাত্তরের পরাজয়ের শোধ নিতে চায়। গণতান্ত্রিক অধিকারের আবরণে এরা রাষ্ট্রের ইতিহাস ও মৌলিক চেতনার প্রতিপক্ষ হিসেবে নিজেদের আবির্ভূত করে; রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে নিত্যনতুন যুদ্ধ চাপিয়ে পুরনো প্রভুর জয়গান করে! কাজেই যে বাংলাদেশ লাখো শহিদের রক্তে অর্জিত তাকে সুরক্ষা দিতে জাতির জনকের কন্যার সাহসী নেতৃত্ব জাতীয় আশীর্বাদ বৈকি।
অনেক অর্জনের পর, বাংলাদেশ রাষ্ট্র আজও কঠিন সময়ের মুখোমুখি। দুর্ভাগ্য এতটাই যে, রাষ্ট্রবিরোধীরা আজও জয় লাভ করার স্বপ্ন দেখে! কাজেই আত্মতুষ্টির সুযোগ কোথায়? সে কারণেই বলি, প্রতিপক্ষের একাধিক আক্রমণ পরাস্থ করার পরও দীর্ঘস্থায়ী সমরে জেতার প্রস্তুতির বিকল্প নেই। সে-কারণে প্রয়োজন আদর্শিক যোদ্ধা তৈরি করার কৃতিত্ব। ভুলে গেলে চলবে না যে, অসাম্প্রদায়িক জাতিসত্ত্বার প্রতিপক্ষরা প্রাথমিকভাবে পরাস্থ হলেও তারা দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে। অতএব আত্মতুষ্টির সুযোগ নেই।
ইত্যাদি বিবেচনায় রাজনৈতিক যুদ্ধের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক যুদ্ধকে এগিয়ে নেয়ার বিকল্প দেখিনে আমি। চাই বাঙালি জীবনের নতুন এক নবজাগৃতি; যা মুক্তিযুদ্ধের আদর্শচর্চার আরাধ্য কাজ। রাজনীতি কেবলই সেøাগানসর্বস্ব হয়ে উঠুক, তা কারও কাম্য হতে পারে না। এই প্রক্রিয়া সাময়িক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে সক্ষম বটে; কিন্তু বৃহৎ আক্রমণ প্রতিহত করার জন্যে সামর্থ হারায়।
১৯৮১ থেকে ২০১৯ সাল। তার প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় সরকারের পথপরিক্রমায় বাংলাদেশের চেহারা সুষ্পষ্টভাবেই ভিন্ন। বাংলাদেশ আজ আর তলাবিহীন ঝুড়ি নয়। আন্তর্জাতিক মানদ-ে বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের রোল মডেল। দক্ষিণ এশিয়ার সবগুলো দেশের চাইতে প্রতিটি উন্নয়ন সূচকে এগিয়ে বাংলাদেশ। শেখ হাসিনার পালাক্রমিক রাষ্ট্রশাসনে রাষ্ট্র আজ উন্নয়ন ও প্রগতির মহাসড়কের যাত্রি। বলা বাহুল্য, বঙ্গবন্ধু-কন্যার কাছে জনপ্রত্যাশা অপরিসীম। প্রত্যাশার এই সীমা এতটাই যে সবাই যেন ভুলতে বসেন কী ভয়ঙ্কর কূট-পরিকল্পনা ও ষড়যন্ত্রে, পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশের জন্মকে ব্যর্থ করার চেষ্টা হয়েছিল পঁচাত্তর-পরবর্তীকালে! কিন্তু শেখ হাসিনা ব্যর্থ হননি। বঙ্গবন্ধুর অবর্তমানে বাংলাদেশকে তিনি নতুন জীবন দান করেছেন। প্রবল প্রতিকূলতার মধ্যেও মুক্তিযুদ্ধের লুণ্ঠিত ধারাকে তিনি ফিরিয়ে এনেছেন।
এরপরও বলি, রাজনৈতিক জীবনের কঠিনতম সময় পার করছেন বঙ্গবন্ধু-কন্যা। বাস্তবতা এই যে, বাংলাদেশ রাষ্ট্রের বিরোধীরা নানা ফ্রন্টে ঐক্যবদ্ধ। তারা এক অঘোষিত ‘যুদ্ধ’ চাপিয়ে দিয়েছে। আর অমোঘ সত্যটি এই যে, নতুন সেই যুদ্ধেও বহুধাবিভক্ত ‘বাংলাদেশপন্থি’ শিবিরগুলোকে নেতৃত্ব দিতে হচ্ছে বঙ্গবন্ধুর কন্যাকেই। খুব কমই দেখা হয়েছে শেখ হাসিনার সঙ্গে। যতবার হয়েছে, ততবারই দেখেছি তাকে সাবলীল, বঙ্গবন্ধুর পাওয়া মেজাজ ও অন্তরঙ্গতায় ভরা খাঁটি বাঙালি হিসেবে। এই কিছুকাল আগেও বাংলা নববর্ষের এক শুভেচ্ছা বিনিময়ের দিনে অভ্যাগতদের সঙ্গে প্রাণখোলা কথাবার্তা বলতে দেখেছিলাম তাকে। এমনই খোলামেলা যে অনেকেই ভয় পেয়ে ভাবতে শুরু করেছিলেন, এতটা খোলামেলা হতে যান কেন তিনি? কিন্তু শেখ হাসিনা কোনোকিছু লুকোবার চেষ্টা করেন, বা তা করার প্রয়োজন বোধ করেনÑ এমনটা ভাবা অনুচিত। যা তিনি ভাবেন, যুক্তিযুক্ত মনে করেনÑ তাকে তিনি রাখঢাকের প্রয়োজন বোধ করেন না। শেখ হাসিনা যাÑ তিনি তাই। এতেই তার স্বাতন্ত্র্যতা।
বঙ্গবন্ধু-কন্যার মুখ থেকে যখন মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় রাষ্ট্রকে এগিয়ে নেওয়ার সাহসী প্রত্যয় শুনি, যা আমার মতো মানুষের কাছে ভালোবাসার অনন্ত উচ্চারণ, তখন নিভৃতে বসবাস করেও নিশ্চিত হই, আশান্বিত হই। সাহসে বুক বাঁধি, যখন তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন, আমরা বিজয়ী জাতি, মুক্তিযুদ্ধ করে বিজয়ী হয়েছি; কাজেই যত বড় চ্যালেঞ্জ আসুক, আমরা তার মোকাবেলা করে সামনে এগিয়ে যাব। বলার অপেক্ষা রাখে না, এই প্রত্যয়ী উচ্চারণ বাংলাদেশকে আরও এবং আরও সামনে এগুবার শক্তি ও সাহস জোগাবে।
জয় বাংলা।

লেখক : মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযুদ্ধ গবেষক ও লেখক

পাঠকের মন্তব্য:

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না। তারকাচিহ্নযুক্ত (*) ঘরগুলো আবশ্যক।

*