বিভাগ: কূটনীতি

শেখ হাসিনা সরকারের ধারাবাহিকতা চান সৌদি বাদশাহ সালমান

11-6-2018 6-10-04 PMউত্তরণ প্রতিবেদন:  সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের অসামান্য উন্নয়নের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। গত ১৭ অক্টোবর বিকেলে সৌদি আরবের রিয়াদে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌদি বাদশার বৈঠকের পর পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক সৌদি বাদশার উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, যদি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের ধারাবাহিকতা বজায় থাকে তাহলে সৌদি আরব ও বাংলাদেশের মধ্যকার সম্পর্ক আরও উন্নত হবে এবং সকল ক্ষেত্রে উন্নতি সাধিত হবে। পররাষ্ট্র সচিব বলেন, সৌদি বাদশাহ তিনবার প্রধানমন্ত্রীর সরকারের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার কথা উচ্চারণ করেন। এদিকে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী। তারা দ্বিপক্ষীয় স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোচনা করেন। এদিন দুই দেশের মধ্যে শিল্প ও বিদ্যুৎ খাতে সহযোগিতা সংক্রান্ত ৫টি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রিয়াদস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের নিজস্ব জায়গায় এবং নিজস্ব অর্থে নবনির্মিত চ্যান্সেরি ভবন উদ্বোধন করেছেন। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রা কেউ থামাতে পারবে না।

সৌদি বাদশার সঙ্গে বৈঠক
পররাষ্ট্র সচিব জানান, সৌদি বাদশাহ নিজে রাজপ্রসাদের প্রবেশ দ্বারে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান। বাদশাহ প্রধানমন্ত্রীকে বলেন, এটি আপনার ঘর এবং আপনাকে সবসময় এখানে স্বাগতম। বাদশাহ বলেন, সৌদি আরব ও বাংলাদেশ দুটি ভ্রাতৃপ্রতিম দেশ এবং ধর্মের পাশাপাশি আমরা বিভিন্ন বিষয়ে একই বন্ধনে বাঁধা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাদশার আথিয়েতার জন্য ধন্যবাদ জানালে সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদ বলেন, এটা তার দায়িত্ব। তিনি বলেন, দুদেশের মধ্যকার সম্পর্ক অনেক উন্নত হয়েছে এবং উল্লেখ করেন যে অর্থনীতি, সংস্কৃতি, প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও জোরদারের সুযোগ রয়েছে। বাদশাহ বলেন, আমরা যৌথভাবে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়ছি। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এটা অব্যাহত থাকবে এবং এটি দুই ভ্রাতৃপ্রতিম দেশের জনগণের অভিন্ন আশা-আকাক্সক্ষার প্রতিফলন। প্রধানমন্ত্রী প্রতিরক্ষাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদারের প্রস্তাব করলে বাদশাহ প্রস্তাবগুলো যথাযথ বলে অভিহিত করেন। বাদশাহ বলেন, আনুষ্ঠানিক পর্যায়ে আলোচনার পর এক্ষেত্রে পদক্ষেপ নেব। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সৌদি আরবে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি কাজ করছে উল্লেখ করে এক্ষেত্রে তাদের দেখাশোনা করার জন্য সৌদি সরকারকে ধন্যবাদ জানান। সৌদি বাদশাহ সেদেশে বসবাসরত বাংলাদেশিরা সৌদি অর্থনীতিতে বিরাট অবদান রাখছে উল্লেখ করে বলেন, তাদের দেখভাল করা আমার দায়িত্ব। প্রধানমন্ত্রী সৌদি বাদশাকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান। পররাষ্ট্র সচিব বলেন, বাদশাহ আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন এবং ‘আমরা এটি কূটনৈতিক পর্যায়ে সম্পন্ন করব বলে জানিয়েছেন।’ তিনি বলেন, বাদশাহ ফিলিস্তিনিদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করে বলেছেন, ‘বাংলাদেশ সবসময় মুসলিম উম্মার প্রশ্নে লড়াই করে। বিশেষ করে ফিলিস্তিন ইস্যুতে।’ বাদশাহ বলেন, ‘এ ইস্যুতে বাংলাদেশের অবস্থান সবসময় সম্মানজনক এবং এজন্য আমরা অত্যন্ত কৃতজ্ঞ।’ শেখ হাসিনা সৌদি বাদশাহ’র আমন্ত্রণে চার দিনের সরকারি সফরে ১৬ অক্টোবর সন্ধ্যায় রিয়াদ পৌঁছেন।

বাংলাদেশের উন্নয়নের গতি কেউ থামাতে পারবে না : প্রধানমন্ত্রী
বাংলাদেশ উন্নয়নের মহাসড়কে যাত্রা শুরু করেছে এবং এই উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রা কেউ থামাতে পারবে না বলে প্রধানমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৭ অক্টোবর রিয়াদস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের নিজস্ব জায়গায় এবং নিজস্ব অর্থে নবনির্মিত চ্যান্সেরি ভবন উদ্বোধন উপলক্ষে প্রদত্ত ভাষণে এ-কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশকে উন্নয়নের যে কাজটা করার দরকার ছিল আমরা তা করেছি। বাংলাদেশ উন্নয়নের মহাসড়কে যাত্রা শুরু করেছে এবং এই অগ্রযাত্রা কেউ থামাতে পারবে না বলে আমি বিশ্বাস করি। প্রধানমন্ত্রী এ সময় সামনে নির্বাচন এবং জনগণ ভোট দিলে তিনি আবার সরকারে আসবেন, নচেৎ নাই এবং বাংলাদেশের কাক্সিক্ষত উন্নয়ন করতে পারায় সেজন্য তার কোনো আফসোস থাকবে না বলেও উল্লেখ করেন। প্রধানমন্ত্রী তার বক্তৃতার শুরুতেই জাতির পিতার কথা স্মরণ করে বলেন, তিনি যে আমাদের স্বাধীন করে দিয়ে গেছেন তাই নয়, বিশ্বে একটি মর্যাদাপূর্ণ জাতি হিসেবে গড়ে ওঠার জন্য বিভিন্ন দেশে আমাদের নিজেদের জায়গায় নিজস্ব দূতাবাস হবে সে প্রক্রিয়াটিও শুরু করে যান। প্রধানমন্ত্রী এ সময় বলেন, আমাদের নিজস্ব দূতাবাস ভবনটি আজকে উদ্বোধনের সময় আমার বারবারই মনে পড়ছিল আজ যদি জাতির পিতা বেঁচে থাকতেন তাহলে বহু আগেই বাংলাদেশ বিশ্বে একটি মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত হতো।
প্রধানমন্ত্রী এ সময় হজযাত্রীদের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে হাজিদের সুবিধার্থে তার সরকার গৃহীত পদক্ষেপসমূহের উল্লেখ করে বলেন, তার সরকার হজ অফিস মক্কাতে নিয়ে গিয়েছে এবং হজ মৌসুমে হাজিদের সুবিধার্থে মক্কা এবং মদিনাতেও নিজস্ব জায়গায় অফিস তৈরির উদ্যোগ নেবে। তিনি সৌদিস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসকে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সমস্যা সমাধানে মনযোগী হওয়ার আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী এমপি এবং সৌদি আরবে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত কেএসএ গোলাম মসীহ বক্তৃতা করেন। প্রায় ৬০ কোটি টাকা ব্যয়ে এই ভবনে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থাসহ সেবা প্রত্যাশীদের জন্য ৫১০ বর্গমিটারের একটি শেডও নির্মাণ করা হয়েছে।

‘বাংলাদেশে বিনিয়োগ করুন’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উভয় দেশের পারস্পরিক স্বার্থে সৌদি উদ্যোক্তাদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, এ ব্যাপারে তার সরকার সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করবে। গত ১৭ অক্টোবর বাদশাহ সৌদ রাজপ্রাসাদে সৌদি আরবের ব্যবসায়ীদের সংগঠন সৌদি চেম্বার এবং রিয়াদ চেম্বার অব কমার্স নেতৃবৃন্দের সঙ্গে এক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি পারস্পরিক স্বার্থেই আপনাদের বাংলাদেশে ব্যবসা, প্রযুক্তি এবং উদ্ভাবনী চিন্তা নিয়ে আসার আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। আমরা যাতে আমাদের উন্নয়ন অভিযাত্রায় একে অপরের হাতে হাত রেখে চলতে পারি।
শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ সৌদি উদ্যোক্তাদের দেশের বিভিন্ন উদীয়মান খাত যেমন পুঁজিবাজার, বিদ্যুৎ, জ্বালানি, টেলিকমিউনিকেশন এবং তথ্য প্রযুক্তি, পেট্রোকেমিক্যাল, ওষুধ শিল্প, জাহাজ নির্মাণ এবং কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতে বিনিয়োগের আমন্ত্রণ জানাচ্ছে। তিনি বলেন, আমি আপনাদের হাল্কা প্রকৌশল শিল্প, ব্লু ইকোনমি, গবেষণা এবং উন্নয়ন ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন, পানি এবং সমুদ্রসম্পদ এবং অন্যান্য ভৌত অবকাঠামোগত প্রকল্পে এবং সেবামূলত খাত যেমন ব্যাংকিং এবং অর্থনীতি, লজিস্টিক এবং মানবসম্পদ খাতেও বিনিয়োগের আমন্ত্রণ জানাই।
প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থানের কথা উল্লেখ করে বলেন, এদেশের ভৌগোলিক অবস্থান দেশটিকে আঞ্চলিক যোগাযোগ, বিদেশি বিনিয়োগ এবং গ্লোবাল আউট সোর্সিংয়ের একটি কেন্দ্রে পরিণত করেছে। ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকাগুলো (ইপিজেড) শতভাগ রপ্তানিনির্ভর। সরকারি ও বেসরকারি খাতে বিনিয়োগকে টেকসই করার জন্যই সরকার এই শিল্পাঞ্চলগুলো গড়ে তুলেছে। তিনি বলেন, আমরা সৌদি আরবের বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে ২ হাজার একর জমি বরাদ্দ করেছি, যেগুলো বিনিয়োগকারীদের নিজস্ব চাহিদা মোতাবেক তারা ব্যবহার করতে পারবেন।

ঢাকা ও রিয়াদের মধ্যে ৫টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর
বাংলাদেশ ও সৌদি আরব গত ১৭ অক্টোবর শিল্প ও বিদ্যুৎ খাতে সহযোগিতা সংক্রান্ত ৫টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে। রিয়াদে বাদশাহ সৌদ প্রসাদে সমঝোতা স্মারকগুলো স্বাক্ষরিত হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কাউন্সিল অব সৌদি চেম্বার ও রিয়াদ চেম্বার অব কমার্স নেতৃবৃন্দের সঙ্গে তার বৈঠকের পর স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠান প্রত্যক্ষ করেন। সমঝোতা স্মারকগুলো হলো : বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ ও সৌদি আরবের ইঞ্জিনিয়ারিং ডাইমেনশনের মধ্যে সহযোগিতার নীতিমালা সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক, বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশন ও সৌদি আরবের হানওয়াহ্ ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মধ্যে নির্মাণ সহযোগিতা সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক, বাংলাদেশ স্টিল অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং কর্পোরেশন (বিএসইসি) ও সৌদি আরবের ইঞ্জিনিয়ারিং ডাইমেনশনের মধ্যে সমঝোতা স্মারক, বাংলাদেশে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প উন্নয়ন বিষয়ে বাংলাদেশের শিল্পমন্ত্রী ও সৌদি আরবের আলফানার কোম্পানির মধ্যে সমঝোতা স্মারক এবং বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেপজা) ও সৌদি আরবের আল বাওয়ানী কো. লি.-এর মধ্যে সমঝোতা স্মারক। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব সাজ্জাদুল হাসান বাংলাদেশের পক্ষে সকল সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন।

বাংলাদেশের উন্নয়নে অংশীদার হতে চান সৌদি যুবরাজ
সৌদি যুবরাজ, উপ-প্রধানমন্ত্রী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান বিন আবদুল আজিজ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে বাংলাদেশের ব্যাপক উন্নয়নের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করে বলেন, তিনিও এ উন্নয়নের অংশীদার হতে চান। গত ১৭ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সালমানের বৈঠক সম্পর্কে জেদ্দা থেকে মক্কা যাওয়ার পথে বিমানে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে সৌদি যুবরাজকে উদ্ধৃতি করে পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক বলেন, তিনি (যুবরাজ) বলেছেন, বাংলাদেশে সাম্প্রতিক যে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে, সে-সম্পর্কে আমি অবগত আছি এবং এই উন্নয়নের বিকাশে আমিও তার অংশীদার হতে চাই।
শহীদুল হককে উদ্ধৃত করে বাসস জানায়, মোহাম্মদ বিন সালমান তার কর্মকর্তাদের বাংলাদেশ দেখে আসা এবং বাংলাদেশে উন্নয়নের কী ঘটছে তা পর্যবেক্ষণে বিশেষজ্ঞ পাঠানোর কথা বলেছেন। তিনি বলেন, তখন আমরা সিদ্ধান্ত নেব কোন কোন ক্ষেত্রে বাংলাদেশে বিনিয়োগ প্রয়োজন।
পররাষ্ট্র সচিব বলেন, গত ১৭ অক্টোবর রাতে রিয়াদের রয়্যাল প্যালেসে অত্যন্ত উষ্ণ ও আন্তরিক পরিবেশে এই বৈঠক হয়। শহীদুল হক বলেন, প্রায় আধা ঘণ্টা স্থায়ী এই বৈঠকে তিনি (মোহাম্মদ বিন সালমান) খুবই উৎফুল্ল ছিলেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন যুবরাজকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান, তখন তিনি (যুবরাজ) অত্যন্ত উষ্ণতার সঙ্গে এই আমন্ত্রণ গ্রহণ করেন এবং বলেন, আমি শীঘ্রই বাংলাদেশ সফর করব। শেখ হাসিনা মুসলিম উম্মাহর ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, আমরা আমাদের নিজেদের মধ্যে কোনো ঝগড়া-বিবাদ করব না; বরং আমরা আমাদের যে কোনো সমস্যা নিজেরাই সমাধান করব। প্রধানমন্ত্রী যখন জানান, ২০০৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত তিনি ছয়বার সৌদি আরব সফর করেছেন, তখন সৌদি যুবরাজ তাকে (শেখ হাসিনা) ‘হাফ সৌদি’ বলে বর্ণনা করেন।
‘এটিও আপনার বাড়ি’ এ-কথা উল্লেখ করে সৌদি যুবরাজ বলেন, আপনি অনেকবার সৌদি আরব সফর করেছেন, তাই আপনি ‘হাফ সৌদি’ হয়ে গেছেন। মুসলিম উম্মাহর মধ্যে শান্তি বজায় রাখা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে একমত পোষণ করে যুবরাজ বলেন, আমরাও এটা চাই এবং আমরা সবাই একত্রে শান্তিতে বসবাস ও উন্নয়ন করতে চাই।
যুবরাজ বলেন, প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সঙ্গে সৌদি আরবের চমৎকার সহযোগিতার সম্পর্ক রয়েছে। তিনি বলেন, বিভিন্ন ক্ষেত্রে এই সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে এবং ভবিষ্যতে আরও তা বৃদ্ধি পাবে। পররাষ্ট্র সচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মোহাম্মদ বিন সালমানের বৈঠকে মূলত দুটি বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা করা হয়। এর একটি হচ্ছে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ এবং অন্যটি হচ্ছে প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত।
শহীদুল হক বলেন, আমরা আশা করছি বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধিতে সৌদির একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দল খুব শীঘ্র বাংলাদেশ সফর করবে এবং দেশটি বাংলাদেশে বড় ধরনের বিনিয়োগ করবে। পররাষ্ট্র সচিব বলেন, সৌদি আরব বাংলাদেশে আরও বিনিয়োগ করার জন্য খুবই উৎসাহী।

পাঠকের মন্তব্য:

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না। তারকাচিহ্নযুক্ত (*) ঘরগুলো আবশ্যক।

*