বিভাগ: ইতিহাস : প্রবন্ধ

সংবিধান ও বাজেট

aaমসিউর রহমান: ‘বাজেট’ শব্দটি বহুল ব্যবহৃত। ব্যক্তি, পরিবার, মুদি দোকান, বহুজাতিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানÑ সকলের নির্দিষ্ট সময়ের আয়-ব্যয়ের হিসাব এবং আয়-ব্যয় নিয়ন্ত্রণের কৌশল বাজেটে অন্তর্ভুক্ত হয়। সরকারের আয়-ব্যয়ের হিসাব বোঝাতে সংবিধানে বাজেট শব্দটি ব্যবহার করা হয়নি, ‘অনুমিত আয় ও ব্যয়’ বা ‘বার্ষিক আর্থিক বিবৃতি’ ব্যবহার করা হয়েছে :
“প্রত্যেক অর্থ-বৎসর সম্পর্কে উক্ত বৎসরের জন্য সরকারের অনুমিত আয় ও ব্যয়-সংবলিত একটি বিবৃতি (এই ভাগে ‘বার্ষিক আর্থিক বিবৃতি’ নামে অভিহিত) সংসদে উপস্থাপিত হইবে।” [পরিচ্ছেদ ৮৭(১)]
২. সংবিধান কতিপয় ব্যয়কে দায়যুক্ত শ্রেণিভুক্ত করেছে যথা : রাষ্ট্রপতির পারিশ্রমিক ও দপ্তর সংশ্লিষ্ট ব্যয়, স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার, সুপ্রিমকোর্টের বিচারকগণ, সুদ, পরিশোধÑ তহবিলের দায় (সিংকিং ফান্ড), আদালত বা ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে রায়, ইত্যাদি বাবদ ব্যয়। দায়যুক্ত ব্যয়ের প্রস্তাব সংসদ আলোচনা করতে পারে, কিন্তু দায়যুক্ত ব্যয়ের দাবি ভোটে অনুমোদিত বা প্রত্যাখ্যান করা যায় না। [পরিচ্ছেদ ৮৮, ৮৯(১)] যে সকল প্রতিষ্ঠান সাধারণ বা দলীয় রাজনৈতিক বিতর্কের বাইরে রাখা হয়, সে সকল প্রতিষ্ঠানের ব্যয় ‘দায়যুক্ত শ্রেণিভুক্ত’।
৩. দায়যুক্ত নয় এমন সকল অন্যান্য মঞ্জুরি দাবি সংসদে বিতর্কের বিষয় এবং ভোটে অনুমোদন বা প্রত্যাখ্যান করা যায়। সংসদ সরকার প্রস্তাবিত ‘মঞ্জুরি দাবি’ কমাতে পারে কিন্তু বাড়াবার অধিকার নাই। [পরিচ্ছেদ ৮৮, ৮৯(১ ও ২)]
৪. সরকারের রাজস্ব এবং প্রাপ্তির হিসাব সংসদ অনুমোদন করে না; আর্থিক বিবৃতিতে প্রস্তাবিত ব্যয়ের জন্য পর্যাপ্ত আর্থিক সংস্থানের ব্যবস্থা আছে কি না বোঝাবার জন্য সরকারের আয়ের হিসাব দেয়া হয়। তবে রাজস্ব আহরণ বা কর-আরোপ সংক্রান্ত সকল বিষয় সংসদ কর্তৃক অনুমোদিত হতে হয় :
“সংসদের কোনো আইনের দ্বারা বা কর্তৃত্ব ব্যতীত কোনো কর আরোপ বা সংগ্রহ করা যাইবে না।” [পরিচ্ছেদ ৮৩]
৫. কোনো অর্থ বিল অথবা সরকারি অর্থ ব্যয়ের প্রশ্ন জড়িত কোনো বিল রাষ্ট্রপতির সুপারিশ ছাড়া সংসদে উত্থাপন করা যায় না। তবে সংসদ প্রস্তাবিত কর হার হ্রাস করতে অথবা কর বিলোপ করতে পারেÑ সেজন্য রাষ্ট্রপতির অনুমোদন দরকার হয় না। দায়যুক্ত মঞ্জুরি দাবি ব্যতীত অন্যান্য মঞ্জুরি দাবি সংসদে উত্থাপনের জন্য রাষ্ট্রপতির পূর্বানুমতির প্রয়োজন, তবে সংসদ মঞ্জুরি দাবি (দায়যুক্ত দাবি বাদে) হ্রাস করতে বা প্রত্যাখ্যান করতে পারে। [পরিচ্ছেদ ৮২, ৮৯(২ ও ৩)]
৬. সংসদ কর্তৃক আইন পাস হবার পর তা অনুমোদনের জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে উপস্থাপন করা হয়। রাষ্ট্রপতি ১৫ (পনেরো) দিনের মধ্যে আইন অনুমোদন করেন অথবা পর্যবেক্ষণসহ পুনর্বিবেচনার জন্য পাঠান, পুনর্বিবেচিত আইন পাঠাবার পর সাত দিনের মধ্যে সম্মতি দেবার বিধান বলবৎ আছে। অর্থ বিলের ওপর পর্যবেক্ষণ করা অথবা অনুমোদন প্রত্যাখ্যান করার ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির নাই। [পরিচ্ছেদ ৮০]
৭. কোনো বিল মানিবিল কি না মাননীয় স্পিকার সে সম্পর্কে প্রত্যয়ন করেন; স্পিকারের প্রত্যয়নই চূড়ান্ত। সংসদ কর্তৃক অনুমোদিত মানিবিলে অনুমোদন রাষ্ট্রপতির পক্ষে বাধ্যতামূলক; মানিবিল পর্যবেক্ষণসহ পুনর্বিবেচনার জন্য ফেরত দেবার ক্ষমতা তার নাই। [পরিচ্ছেদ ৮০(৩), ৮১(১, ২)]
৮. সংবিধান মানিবিলের বিবরণ ও সংজ্ঞা দিয়েছে : কর আরোপ, নিয়ন্ত্রণ, রদবদল, মওকুফ বা রহিতকরণ; সরকারের ঋণ গ্রহণ, গ্যারান্টি দেয়া, সরকারের আর্থিক দায়-দায়িত্ব সম্পর্কে আইন সংশোধন; সংযুক্ত তহবিলের রক্ষণাবেক্ষণ, অর্থ জমা বা উত্তোলন, দায় আরোপ, দায় রদবদল বা বিলোপ; সংযুক্ত তহবিল বা প্রজাতন্ত্রের সরকারি হিসাবের রক্ষণাবেক্ষণ, নিরীক্ষা ইত্যাদি। কিন্তু শুধু নিম্নোক্ত কারণে কোনো বিল অর্থবিল বলিয়া গণ্য নয় :
কোনো জরিমানা বা অন্য অর্থদ- আরোপ বা রদবদল, কিংবা লাইসেন্স-ফি বা কোনো কার্যের জন্য ফি বা উসুল আরোপ বা প্রদান কিংবা স্থানীয় উদ্দেশ্যসাধনকল্পে কোনো স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক কোনো কর আরোপ, নিয়ন্ত্রণ, রদবদল, মওকুফ বা রহিতকরণের বিধান করা হইয়াছে, কেবল এই কারণে কোনো বিল অর্থবিল বলিয়া গণ্য হইবে না। [পরিচ্ছেদ ৮১(২)]
৯. বার্ষিক আর্থিক বিবৃতি ছাড়াও সংবিধান অপ্রত্যাশিত বা আকস্মিক পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য কিছু নমনীয় পদ্ধতির ব্যবস্থা করেছে। কোনো কর্ম বিভাগের (সার্ভিস) জন্য অপর্যাপ্ত ব্যয় অনুমোদিত হলে অথবা ব্যয়ের অনুমোদন না থাকলে, রাষ্ট্রপতি সম্পূরক ব্যয় অথবা অতিরিক্ত ব্যয়ের অনুমতি দিতে পারেন। ব্যয় অনুমোদনের সাধারণ নিয়ম অনুসরণ করে সম্পূরক বা অতিরিক্ত ব্যয় অনুমোদন করা হবে। [পরিচ্ছেদ ৯১] আমাদের বাজেট পদ্ধতিতে সম্পূরক ও অতিরিক্ত ব্যয়ের পার্থক্য করা হয় না। বৎসর শেষে, সকল অতিরিক্ত ব্যয় সম্পূরক ব্যয় হিসাবে সংসদে প্রস্তাব পেশ করা হয়।
১০. সম্পূরক বাজেট ও সংশোধিত বাজেটের মধ্যে পার্থক্য আছে। মূল বাজেটের অনুমোদিত ব্যয় এবং অতিরিক্ত অথবা সম্পূরক ব্যয় সম্পূরক বাজেটের অন্তর্ভুক্ত হয়; প্রকৃত ব্যয় মূল অনুমোদিত ব্যয়ের কম হলে তা পরিবর্তন করা হয় না। সংশোধিত বাজেটে হ্রাসকৃত ব্যয় ধরা হয়, তাই সংশোধিত বাজেট সম্পূরক বাজেট হতে ছোট হতে পারে।
১১. অর্থবছর শুরু হওয়ার আগে (১ জুলাই) আর্থিক বিবৃতি অনুমোদন বাধ্যতামূলক। কোনো কারণে যদি ঐ সময়ের মধ্যে আর্থিক বিবৃতি অনুমোদিত না হয়, তাহলে সংসদ প্রস্তাবিত ব্যয়ের আংশিক মঞ্জুরি দিতে পারে। উক্ত আংশিক মঞ্জুরি চূড়ান্ত মঞ্জুরির অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়। [পরিচ্ছেদ ৯২(১)] ১৯৮০-এর দশকে সংসদ আনুমানিক তিন মাসের ব্যয়ের অগ্রিম মঞ্জুরি দিত; আগস্ট বা সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত বাজেট আলোচনা চলত। ১৯৯০-এর দশক হতে অগ্রিম মঞ্জুরি ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে গেছে; জুন মাসের মধ্যেই সম্পূরক বাজেট এবং নতুন বছরের বাজেট (১ জুলাই হতে কার্যকর) আলোচনা ও অনুমোদন সমাপ্ত হয়। যুক্তরাজ্য পার্লামেন্ট একবার অনুমোদিত বাজেটের ৫৬ শতাংশ অগ্রিম অনুমোদন দিয়েছিল।
১২. যদি এমন পরিস্থিতির উদ্ভব হয় যে, ব্যয়ের পরিমাণ ও বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে সরকার কোনো স্পষ্ট ধারণা করতে পারে না এবং মঞ্জুরি দাবির জন্য যে সকল তথ্য ও যুক্তি সাধারণত দেয়া হয় তা দেয়া সম্ভব হয় না, তাহলে সরকারের সীমাবদ্ধতা বিবেচনা করে সংসদ নামমাত্র বা প্রতীকী ব্যয় অনুমোদন করতে পারে। তবে ঐ বৎসরের মধ্যে নির্ভরযোগ্য তথ্য উপস্থাপন করে প্রকৃত ব্যয় নিয়মানুগ করতে হয়। [পরিচ্ছেদ ৯২(১)(খ)]
১৩. সংসদ চলতি বছরের প্রয়োজন মিটাবার জন্য ব্যয় অনুমোদন করে। চলতি বছরের প্রয়োজন নয় এমন প্রয়োজন হলে সংসদ বিশেষ ব্যয় অনুমোদন করতে পারে। [পরিচ্ছেদ ৯২(গ)] এরূপ ব্যয়ের দৃষ্টান্ত অতি বিরল। লর্ড মে উল্লেখ করেছেন যে, যুক্তরাজ্য সংসদ একবার দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালনকারী একজন স্পিকারের সম্মানার্থে মূর্তি স্থাপনের জন্য এরূপ ব্যয় অনুমোদন করেছিল। ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময় ইরাক হতে প্রত্যাবর্তনকারী বাঙালিদের কাছ হতে ইরাকি দিনার কেনার জন্য এ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছিল। এরূপ ব্যয় নিয়মিত ব্যয়ে পরিণত হয় না; নিয়মিত ব্যয় এবং এককালীন আকস্মিক ব্যয়ের পার্থক্য নির্ধারণের জন্য এই পদ্ধতি সহায়ক। [পরিচ্ছেদ ৯২(গ)] তবে সংস্কৃতি ঐতিহ্য সংরক্ষণের জন্য সরকার যদি বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মূর্তি স্থাপন কর্মসূচি গ্রহণ করে, তাহলে ঐ কর্মসূচি সাধারণ সেবা হিসেবে বাজেটে অন্তর্ভুক্ত হবে।
১৪. সংসদ দুটি পর্বে সরকারি তহবিল হতে ব্যয় অনুমোদন করে। প্রথম পর্বে বিভিন্ন কর্ম বিভাগের জন্য বিবিধ প্রয়োজন মিটাবার জন্য (যথা : বেতন-ভাতা, ভ্রমণ, অফিস পরিচালনা ইত্যাদি) অনুমোদন দেয়া হয় এবং সর্বমোট ব্যয় অনুমোদিত হয়। দ্বিতীয় পর্বে সংযুক্ত তহবিল হতে অর্থ উত্তোলনের জন্য টাকার পরিমাণ নির্দিষ্ট করে আইন করা হয়। সরকার আইন দ্বারা নির্ধারিত অর্থ উত্তোলন এবং ব্যয় করতে পারে। [পরিচ্ছেদ ৯০]
১৫. সরকার কর্তৃক প্রাপ্ত সকল অর্থ সংযুক্ত তহবিল অথবা প্রজাতন্ত্রের সরকারি হিসাবে জমা হয়। সংযুক্ত তহবিলে সংজ্ঞার বা বিবরণ নিম্নরূপ :
সরকার কর্তৃক প্রাপ্ত সকল রাজস্ব, সরকার কর্তৃক সংগৃহীত সকল ঋণ এবং কোনো ঋণ পরিশোধ হইতে সরকার কর্তৃক প্রাপ্ত সকল অর্থ একটি মাত্র তহবিলের অংশে পরিণত হইবে এবং তাহা “সংযুক্ত তহবিল” নামে অভিহিত হইবে। [পরিচ্ছেদ ৮৪(১)]
১৬. সরকারের কোনো কর্মকর্তা বা প্রতিষ্ঠান সংযুক্ত তহবিলে জমা হবে না এমন কোনো টাকা পেলে তা প্রজাতন্ত্রের সরকারি হিসাবে জমা হয় :
(ক) রাজস্ব কিংবা এই সংবিধানের ৮৪ অনুচ্ছেদের (১) দফার কারণে যেরূপ অর্থ সংযুক্ত তহবিলের অংশে পরিণত হইবে, তাহা ব্যতীত প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিযুক্ত কিংবা প্রজাতন্ত্রের বিষয়াবলীর সহিত সংশ্লিষ্ট কোনো ব্যক্তি কর্তৃক প্রাপ্ত বা ব্যক্তির নিকট জমা রহিয়াছে, এইরূপ সকল অর্থ; অথবা
(খ) যে কোনো মোকদ্দমা, বিষয়, হিসাব বা ব্যক্তি বাবদ যে কোনো আদালত কর্তৃক প্রাপ্ত বা আদালতের নিকট জমা রহিয়াছে, এইরূপ সকল অর্থ। [পরিচ্ছেদ ৮৬ (ক, খ)]
প্রজাতন্ত্রের সরকারি হিসাবে অর্থ জমা বা উক্ত হিসাব হতে অর্থ উত্তোলন ও ব্যয় আইন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। প্রজাতন্ত্রের জমা অর্থ বাজেটে রাজস্ব প্রাপ্তি খাতে স্থানান্তর করে ব্যয় অনুমোদন করতে হয়। [পরিচ্ছেদ ৮৫]
১৭. প্রজাতন্ত্রের সরকারি হিসাবের ধারণায় অস্পষ্টতা রয়েছে। প্রজাতন্ত্রের সরকারি হিসাবে জমা অর্থের রক্ষণাবেক্ষণ দায়িত্ব সরকারের; কিন্তু প্রকৃত অর্থে সরকার এ অর্থের মালিক নয়। উদাহরণ : সরকারি কর্মকর্তারা সাধারণ ভবিষ্য তহবিলে টাকা জমা দেন, সরকার সমপরিমাণ টাকা অনুদান হিসাবে জমা করেন, এ টাকা ব্যবহারের জন্য সরকার নির্দিষ্ট হারে সুদ দেয়, যা ঐ ভবিষ্য তহবিলে জমা হয়। সরকারি কর্মকর্তা নির্ধারিত সময়ে সুদসহ সমুদয় অর্থ উত্তোলন করতে পারেন (নিজের জমা + সরকারের জমা + সরকারের দেয়া সুদ)। বিতর্কিত রাজস্ব সংক্রান্ত মোকদ্দমায় ১০% – ৫০% অগ্রিম জমা, মামলা-মোকদ্দমার ফাইন, ইত্যাদি রাজস্ব হিসাবে সংযুক্ত তহবিলে জমা হবে না প্রজাতন্ত্রের সরকারি হিসাবে জমা হবে বিষয়টি বিশ্লেষণ ও স্পষ্ট হওয়া বাঞ্ছনীয়।
১৮. সংসদ যথাসময় বাজেট অনুমোদন না করতে পারলে রাষ্ট্রপতি একটি বিশেষ ক্ষমতা ব্যবহার করতে পারেন। প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শক্রমে উক্ত বৎসরের আর্থিক বিবৃতি অনধিক ৬০ দিন (অর্থাৎ ২/১২ = ১৬.১৬) ব্যয়ের অনুমতি দিতে পারে। [পরিচ্ছেদ ৯২(৩)] এ ব্যবস্থার রাজনৈতিক দিক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অথবা সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা নিয়ে মতপার্থক্য থাকলে, তা দূর করতে সময় লাগে। ৬০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি না হলে, সংসদ ভেঙে যায় এবং ৯০ দিনের মধ্যে নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
১৯. সংসদ ভেঙে যাওয়া অবস্থায় রাষ্ট্রপতি সরকারের ব্যয় নির্বাহের জন্য অধ্যাদেশ জারি করতে পারেন। [পরিচ্ছেদ ৯৩(৩)] উক্ত উপ-ধারায় রাজস্ব কর আরোপ সম্পর্কে কোনো উল্লেখ নাই, ফলে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়। রাজস্ব আহরণ না হলে ব্যয় নির্বাহ সম্ভব নয়। [পরিচ্ছেদ ৮৩, পূর্বে উদ্ধৃত] দীর্ঘ সময় সামরিক শাসন বজায় থাকলে অধ্যাদেশ জারি করে কর আদায় করা হয়। অধ্যাদেশ জারির মাধ্যমে রাজস্ব আহরণের বৈধতা সম্পর্কে কোনো প্রামাণ্য মতামত/ব্যাখ্যা এখনও পাওয়া যায়নি।
২০. বার্ষিক আর্থিক বিবৃতি অনুমোদনের জন্য নির্ধারিত নিয়ম-নীতির মধ্যে দায়বদ্ধতার মৌলিক বিধান খুঁজে পাওয়া যায়। সংসদে পর্যাপ্ত যুক্তি, তথ্য ও প্রাক্কলনসহ প্রস্তাব উপস্থাপন করতে হবে। যে সকল ক্ষেত্রে সরকারের পক্ষে এ শর্ত মানা সম্ভব নয়, সংবিধান সে সকল ক্ষেত্রে ভোট অন অ্যাকাউন্ট, ভোট অন ক্রেডিট ইত্যাদি ব্যতিক্রম নির্দেশ করেছে। সংসদে যে দাবি উপস্থাপন করা হয় তা বাস্তব ও বিশ্বাসযোগ্য হওয়া আবশ্যক। অতি রঞ্জিত প্রস্তাব সংবিধানের বিধির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। যথা : আর্থিক কর্মকা- আকস্মিক কোনো বছর ২০ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে অথবা অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি স্থিতিশীল বা সীমিত থাকা সত্ত্বেও রাজস্ব ২০-২৫ ভাগ বৃদ্ধি পাবেÑ এ জাতীয় প্রাক্কলন বাস্তবানুগ নয়।
২১. বাজেটের কলেবর এবং বাস্তবায়ন যোগ্যতা নিয়ে অনেক মন্তব্য হয়েছে, যা সম্পূর্ণ প্রাসঙ্গিক মনে হয় না। গত কয়েক বছর ৬-৭ শতাংশ আর্থিক প্রবৃদ্ধি হয়েছে, ৫-৭ শতাংশ মূল্যস্ফীতিসহ অভিহিত (নমিনাল) প্রবৃদ্ধির হার ১১-১৪ শতাংশ হয়েছে। রাজস্ব প্রশাসনের উন্নতির ফলে ৫-৬ পার্সেন্টেজ পয়েন্ট রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি পেলে সর্বোচ্চ রাজস্ব বৃদ্ধি হবে ২০ শতাংশ। রাজস্বের অনুপাত ১১-১২ শতাংশ এবং ঘাটতি বাজেট ব্যয় প্রায় ৪.৫ শতাংশে স্থিতিশীল ছিল। বাজেটের কলেবর অর্থনৈতিক কর্মকা-ের সম্প্রসারণের সাথে সংগতিপূর্ণ; অতিমাত্রায় বাড়েনি বা হ্রাস পায়নি।

পাঠকের মন্তব্য:

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না। তারকাচিহ্নযুক্ত (*) ঘরগুলো আবশ্যক।

*