বিভাগ: সংসদ

সংরক্ষিত ৫০ নারী আসনের মেয়াদ আরও ২৫ বছর

8-6-2018 7-13-04 PM

সংসদে সর্বসম্মতিক্রমে সংবিধানের সপ্তদশ সংশোধনী পাস

উত্তরণ প্রতিবেদন: জাতীয় সংসদে ২৯৮ : শূন্য বিভক্তি ভোটে অর্থাৎ সর্বসম্মতিক্রমে গত ৮ জুলাই জাতীয় সংসদে সংবিধান (সপ্তদশ সংশোধন) বিল-২০১৮ পাস হয়েছে। দু-দফা বিভক্তি ভোটে সরকার ও বিরোধী দলের অধিবেশনে উপস্থিত ২৯৮ এমপির সবাই ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে বিলটিতে সমর্থন জানান। প্রায় ২ ঘণ্টাব্যাপী এই বিভক্তি ভোট চলার পর ভোট গণনা শেষে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী ২৯৮ : শূন্য ভোটের ব্যবধানে সর্বসম্মতিক্রমে বিলটি পাসের ঘোষণা করলে সবাই তুমুল টেবিল চাপড়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। বিলটি পাসের ফলে জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত ৫০ নারী আসনের মেয়াদ আরও ২৫ বছর বাড়ল।
স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে বিলটি পাসের জন্য উত্থাপন করেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক এমপি।
সংবিধানের ৬৫ অনুচ্ছেদের (৩) উপ-দফায় সংশোধনী এনে বলা হয়েছেÑ “সংবিধান (সপ্তদশ সংশোধন) আইন-২০১৮ প্রবর্তনকালে বিদ্যমান সংসদের অব্যবহিত পরবর্তী সংসদের প্রথম বৈঠকের তারিখ থেকে পঁচিশ বছর অতিবাহিত হওয়ার অব্যবহিত পরবর্তীতে সংসদে ভেঙে না যাওয়া পর্যন্ত পঞ্চাশটি আসন শুধু নারী সদস্যদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে এবং তারা আইনানুযায়ী আগের সদস্যদের মাধ্যমে সংসদে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতির ভিত্তিতে একক হস্তান্তরযোগ্য ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হবেন।”
বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সম্বলিত বিবৃতিতে বলা হয়েছেÑ স্বাধীনতার স্থপতি ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশনায় বাংলাদেশে জাতীয় পর্যায়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও আইন প্রণয়নে নারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে তদানীন্তন গণপরিষদ প্রণীত ১৯৭২ সালের মূল সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৬৫-এর দফা (৩)-এর বিধানে জাতীয় সংসদে নারী সদস্যদের জন্য সংবিধান প্রবর্তন থেকে ১০ বছর সময় অতিবাহিত হওয়ার অব্যবহিত পরবর্তী সময়ে সংসদ ভেঙে না যাওয়া পর্যন্ত ১৫টি আসন সংরক্ষণ করা হয়।
সংরক্ষিত নারী আসনের ধারাবাহিকতা বজায় থাকার কারণে সমাজে সবক্ষেত্রে নারীদের অধিকতর অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়েছে। সর্বশেষ সংশোধনী অনুযায়ী সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৬৫-এর দফা (৩)-এর বিদ্যমান বিধান অনুযায়ী বর্তমানে সংরক্ষিত নারী আসনের ১০ (দশ) বছর মেয়াদ ২৮ জানুয়ারি ২০১৯ শেষ হবে। সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে মেয়াদ বৃদ্ধি করা না হলে ওই সময় অতিবাহিত হওয়ার পর জাতীয় সংসদে নারীদের জন্য কোনো আসন সংরক্ষিত থাকবে না। সংরক্ষিত আসনের প্রয়োজনীয়তা এখনও বিদ্যমান রয়েছে। একাদশ জাতীয় সংসদ সংরক্ষিত আসনের নারী সদস্যদের নিয়ে গঠন করতে হলে দশম সংসদ বহাল থাকা অবস্থায় সংবিধানে এ সংক্রান্ত বিধান সংশোধন করা আবশ্যক।
আমাদের সংসদীয় ব্যবস্থায় ১৯৭৩ সালের নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত প্রথম সংসদে সংরক্ষিত নারী আসন ছিল ১৫টি। ১৯৭৯ সালের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে গঠিত দ্বিতীয় সংসদে তা বাড়িয়ে ৩০টি করা হয়। ১৯৮৬ সালের নির্বাচনের পর গঠিত সংসদ সংখ্যা একই ছিল। কিন্তু আইনের মেয়াদ শেষ হওয়ার কারণে ১৯৮৮ সালের নির্বাচনে গঠিত চতুর্থ সংসদ ছিল সংরক্ষিত নারী আসনবিহীন। ১৯৯১ সালের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে গঠিত পঞ্চম সংসদে আইন পাস হওয়ার মধ্য দিয়ে আবার ৩০টি সংরক্ষিত নারী আসন ব্যবস্থা সংসদে বহাল হয়। ১৯৯৬ সালের সংসদেও এই ৩০টি আসনই ছিল। কিন্তু ২০০১ সালের নির্বাচনের পর গঠিত অষ্টম সংসদে আবার সংরক্ষিত নারী আসন ছিল না আইনের কার্যকাল শেষ হওয়ার কারণে। ২০০৮ সালের নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত নবম সংসদে সংরক্ষিত নারী ছিল ৪৫টি। ২০০৪ সালে চতুর্দশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংরক্ষিত নারী আসন ৩৫ থেকে বাড়িয়ে ৪৫ করা হয়েছিল। অবশেষে ২০১১ সালে ৪৫ থেকে বেড়ে তা দাঁড়ায় ৫০-এ, যা বর্তমান সংসদ পর্যন্ত বহাল রয়েছে।

পাঠকের মন্তব্য:

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না। তারকাচিহ্নযুক্ত (*) ঘরগুলো আবশ্যক।

*