বিভাগ: সাফল্য

সক্ষমতা সূচকে ৭ ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ

বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় সক্ষমতা সূচকে (জিসিআই) এক বছরে সাত ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ। ১৩৭ দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৯৯তম। গত বছর ১৩৮ দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১০৬তম। জিসিআই পর্যবেক্ষণে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর গত ১৬ বছরের মধ্যে এবারই প্রথম ১০০-র নিচে নেমে আসার সম্মান অর্জন করল বাংলাদেশ। এক ডজন বিষয়ে ভালো অবস্থার ভিত্তিতে এ অবস্থান নির্ণয় করা হয়। এতে গতবারের শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে সুইজারল্যান্ড।
বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) ‘বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় সক্ষমতা প্রতিবেদন ২০১৭-১৮’ শীর্ষক জরিপ প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়। ২০১৬ সালের অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের নির্বাহীদের সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে তৈরি করা এ প্রতিবেদনটি গত ২৭ সেপ্টেম্বর সারাবিশ্বে একযোগে প্রকাশ করা হয়। বাংলাদেশে ডব্লিউইএফের অংশীদার বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) ঢাকায় এ প্রতিবেদন প্রকাশ করে। রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রতিবেদনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন সংস্থার গবেষণা পরিচালক ড. খোন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম। বাংলাদেশে দলনেতা হিসেবে জরিপ গবেষণাটি পরিচালনা করেন তিনি। সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য ও ড. মোস্তাফিজুর রহমান এতে উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, অবকাঠামো উন্নয়ন ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের সূচক এবার বাংলাদেশের অবস্থান উন্নয়নে ইতিচাক প্রভাব ফেলেছে। প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার এখনও বৈশ্বিক তুলনায় নি¤œ পর্যায়ে থাকলেও এ সূচকে গত বছরের ১২৫ থেকে এবার ১০৭তম অবস্থানে আসা সম্ভব হয়েছে। এই সূচকে ১৮ ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ। অবকাঠামো উন্নয়ন সূচকে তিন ধাপ এগিয়েছে। তবে এতদিন বাংলাদেশের ওপরে থাকা তিন দেশ বাদ পড়ার কারণেও সূচকে বাংলাদেশের অগ্রগতি সহজ হয়েছে। জরিপে ১২ পয়েন্টের মধ্যে স্কোর এবং অবস্থান দুই বিবেচনাতেই এগিয়েছে বাংলাদেশ। মোট ৭ স্কোরের মধ্যে বাংলাদেশের স্কোর বেড়েছে ২ দশমিক ৬ শতাংশ। ৩ দশমিক ৭ থেকে স্কোর এখন ৩ দশমিক ৯। ব্যবসা পরিচালনায় মৌলিক প্রয়োজন সূচকে অগ্রগতি বাংলাদেশের অগ্রগতিতে বড় ভূমিকা রেখেছে। এ সূচকে গত বছরের ১০৫ থেকে এবারের অবস্থান ১০১তম।
সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা সূচকে গতবারের তুলনায় ৯ ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ। ৬৫তম অবস্থান থেকে এখন ৫৬তম অবস্থানে বাংলাদেশ। স্বাস্থ্য ও প্রাথমিক শিক্ষায়ও অবস্থান কিছুটা এগিয়েছে। তবে মানবসম্পদ উন্নয়ন, উচ্চশিক্ষা, প্রযুক্তি খাতে উন্নয়ন, আর্থিক খাতের সংবেদনশীলতা, শ্রমবাজার উন্নয়নে বাংলাদেশের অগ্রগতি খুব বেশি সন্তোষজনক নয়। এ ধরনের অনেক সূচকে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের তুলনায় পিছিয়ে আছে বাংলাদেশ।

পাঠকের মন্তব্য:

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না। তারকাচিহ্নযুক্ত (*) ঘরগুলো আবশ্যক।

*