বিভাগ: প্রবন্ধ

সরকারের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় নারীর ক্ষমতায়ন

11-6-2018 6-32-33 PMমফিদা আকবরঃ নারী এবং পুরুষ। উভয়েই মানুষ। কিন্তু আমাদের সমাজে নারীকে সেভাবে মূল্যায়ন করা হয় না। অথচ একটি দেশ অথবা জাতির অর্ধেক জনগোষ্ঠীই নারী। সেই অর্ধেক জনগোষ্ঠীকে যদি অবরুদ্ধ বা কর্মহীন রাখা হয় তাহলে কোনো দেশ বা জাতিই উন্নয়নশীল সমৃদ্ধ জাতিতে পরিণত হতে পারে না। এ বিষয়টি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উপলব্ধি করে দেশ ও সমাজকে সমৃদ্ধ করার লক্ষ্যে নারীকে কাজে লাগিয়ে যেমন মর্যাদা দিয়েছেন তেমনি সমতা এনেছেন নারী-পুরুষের জীবনে। তার সরকার নারীর ক্ষমতায়নে বিশ্বাসী। তিনি আন্তর্জাতিক পরিম-লে রাষ্ট্র পরিচালনা, নারীর ক্ষমতায়নসহ বিভিন্ন বিষয়ে রোল মডেল হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই নারীর অধিকার এবং ক্ষমতায়ন প্রতিষ্ঠায় কাজ করে যাচ্ছিল। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানই নারীর ক্ষমতায়নের জন্য কাজ শুরু করেছিলেন। ১৯৭৫-এর পর সবই থমকে দাঁড়িয়েছিল। বঙ্গবন্ধু যেসব কাজ শুরু করে শেষ করতে পারেন নি, ক্রমপর্যায়ে সেসব কাজই করছেন তারই যোগ্য উত্তরসূরি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
প্রসঙ্গক্রমে উল্লেখ্য, ১৯৯৬-এর আগে বাংলাদেশে কোনো নারী সচিব, ডিসি, এসপি, ইউএনও ছিল না। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নারী বলেই নয়, তিনি পিতার মতো সাহসী এবং প্রজ্ঞাবান নারী হিসেবে একটি দেশের সার্বিক উন্নয়ন বিবেচনা করে পুরুষের পাশাপাশি নারীর মেধা-দক্ষতাকে সমানভাবে কাজে লাগানোর বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়েছেন। সেই বিবেচনা থেকেই আজ বাংলাদেশে নারী সচিব, পুলিশ সুপার, জেলা প্রশাসক, আর্মি, নেভি, এয়ারফোর্সে প্রথম নারী সদস্যদের আওয়ামী লীগ সরকারই নিয়োগ দিয়েছে। শুধু তাই নয়, মহিলা বিচারপতি, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি, সুপ্রিমকোর্টের অ্যাপিলেট ডিভিশনের বিচারপতি হিসেবেও নারীদের নিয়োগ দেওয়া। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়েও প্রথম নারী ভিসি নিয়োগ দিয়েছে এই সরকার।
নারী ও শিশুদের জন্য বর্তমান সরকার যেসব কর্মসূচি নিয়েছে এবং দৃশ্যমান হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে নিরলসভাবে, তা নিম্নরূপÑ
* বর্তমান সরকারের সময়ে দেশের অর্ধেক জনসংখ্যা নারীর অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে উন্নয়নের মূল ধারায় সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে ব্যাপক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। যেসব কার্যক্রমের মাধ্যমে নারী আজ স্বাবলম্বী হচ্ছে। চ্যালেঞ্জ নিয়ে পেশাদারিত্ব কাজে নিজেকে সম্পৃক্ত করে মেধা-মননের বিকাশ ঘটাচ্ছে।
* নারী অধিকার সুরক্ষাসহ নারীকে দেশের সকল উন্নয়নের স্রোতধারায় সম্পৃক্ত করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা হয়েছে। নারীর প্রতি সহিংসতা রোধে পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধ ও সুরক্ষা আইন প্রণয়ন করা হয়েছে।
* নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশ আজ উন্নয়নশীল বিশ্বে রোল মডেল। এর স্বীকৃতি হিসেবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ইউএন উইমেন ‘প্লানেট ৫০:৫০ চ্যাম্পিয়ন’ ও গ্লোবাল পার্টনারশিপ ফোরাম ‘এজেন্ট অব চেঞ্জ অ্যাওয়ার্ড-২০১৬’ প্রদান করা হয়। নারীর ক্ষমতায়ন এবং নারী শিক্ষার প্রতি অঙ্গীকারের জন্য প্রধানমন্ত্রী ২০১৪ সালে ইউনেস্কোর ‘পিস ট্রি’ পুরস্কার পান। এবং এ বছর এপ্রিল মাসে প্রধানমন্ত্রী গ্লোবাল উইমেন লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ডে-২০১৮ এ ভূষিত হন।
* এই সরকারের সময়ে বাংলাদেশের ইতিহাসে জাতীয় সংসদে প্রথমবারের মতো নারী স্পিকার নিয়োজিত রয়েছেন। পাশাপাশি সংসদ নেতা, উপনেতা এবং বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে নারীগণ দায়িত্ব পালন করছেন গুরুত্ব সহকারে। মন্ত্রিসভায় প্রধানমন্ত্রীসহ দুজন পূর্ণ মন্ত্রী এবং তিনজন প্রতিমন্ত্রীসহ মোট পাঁচজন নারী মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন।
* জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্যদের আসন সংখ্যা ৪৫ থেকে বাড়িয়ে ৫০ করা হয়েছে।
* বর্তমানে নির্বাচিত নারী সংসদ সদস্য ২১ জন। সংরক্ষিত আসনসহ বর্তমানে জাতীয় সংসদে সর্বমোট ৭১ জন নারী সংসদ সদস্য রয়েছেন।
* ২০১৫ সালে প্রকাশিত গ্লোবাল জেন্ডার গ্যাপ রিপোর্ট অনুযায়ী নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান এখন বিশ্বে ষষ্ঠ স্থানে।
* উপজেলা পরিষদে একটি করে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানের পদ সৃষ্টি করা হয়েছে। প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদে নারীদের জন্য ৩টি করে সংরক্ষিত আসন রাখা হয়েছে।
* বর্তমানে মোট ৪ হাজার ৫৪০টি ইউনিয়ন পরিষদ রয়েছে। সেই হিসাবে সংরক্ষিত আসনে সর্বমোট ১৩ হাজার ৬২০ জন নারী সদস্য রয়েছেন।
* বর্তমানে সচিব পদে সাতজন নারী এবং ৭৮ জন নারী অতিরিক্ত সচিব পদে দায়িত্ব পালন করছেন।
* বর্তমান সরকার সর্বপ্রথম জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর হিসেবে একজন নারী অধ্যাপককে নিয়োগ প্রদান করেছে।
* আওয়ামী লীগ সরকার সর্বপ্রথম সচিব পদে নারীকে নিয়োগ প্রদান করেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি পদে একজন নারী দায়িত্ব পালন করছেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম নারী প্রো-ভিসি নিয়োগ।
* আওয়ামী লীগ সরকার সর্বপ্রথম রাষ্ট্রদূত, সেনা, নৌ, বিমান বাহিনী, সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগে নারী বিচারপতি, হাইকোর্ট বিভাগে বিচারপতি, জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার পদে নারী নিয়োগ করেছে।
* প্রথমবারের নারী ‘নির্বাচন কমিশনার’ হিসেবে একজন নারীকে নিয়োগ। বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর পদেও ইতোপূর্বে একজন নারী দায়িত্ব পালন করেছেন। ফলে নারীর প্রশাসনিক ক্ষমতায়নের বিষয়টি সর্বক্ষেত্রে দৃশ্যমান হচ্ছে।
* দুস্থ, নির্যাতিত, অসহায়, দরিদ্র ও তালাকপ্রাপ্ত ৭১ লাখ ভিজিডি নারী উপকারভোগীদের প্রতি ২৪ মাসের সাইকেলের জন্য মাসে ৩০ কেজি পুষ্টি চাল প্রদান করা হয়েছে। ২০১৮-১৯ অর্থবছর থেকে ১০.৪০ লাখ দুস্থ, নির্যাতিত, অসহায়, দরিদ্র ও তালাকপ্রাপ্ত নারীকে সময় বৃদ্ধি করে ৩৬ মাস সাইকেলের জন্য মাসে ৩০ কেজি পুষ্টি চাল প্রদান করা হচ্ছে।
* গর্ভবতী দরিদ্র ২৭.৭৬ লাখ মহিলাকে মা ও শিশুর পুষ্টি ঘাটতি নিবারণে প্রতি ২৪ মাসের সাইকেলে মাসে ৫০০ টাকা হারে মাতৃত্বকাল ভাতা প্রদান করা হয়েছে। ২০১৮-১৯ অর্থবছর থেকে গর্ভবতী দরিদ্র ৭ লাখ গর্ভবতী দরিদ্র মহিলাদের ভাতার পরিমাণ ৫০০ টাকার স্থলে ৮০০ টাকা এবং ২৪ মাসের পরিবর্তে ৩৬ মাস করা হয়েছে।
* দুগ্ধবতী উপকারভোগী ১১.০৯ লাখ মাকে প্রতি ২৪ মাসের সাইকেলে মাসিক ৫০০ টাকা হারে ল্যাকটেটিং মা ভাতা প্রদান করা হয়েছে। ২০১৮-১৯ অর্থবছর থেকে ভাতার পরিমাণ ৫০০ টাকার পরিবর্তে ৮০০ টাকা এবং সময় ২৪ মাসের পরিবর্তে ৩৬ মাস করা হয়েছে।
* নওগাঁ, নাটোর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার ২২ উপজেলায় ৫০ হাজার অতিদরিদ্র মহিলাকে ১৫ হাজার ৫০০ টাকা এবং ৩০ হাজার বর্গা/প্রান্তিক চাষিকে ১০ হাজার ৬০০ টাকা করে জীবিকায়নের জন্য অনুদান প্রদান করা হয়েছে।
* ওহাবংঃসবহঃ ঈড়সঢ়ড়হবহঃ ভড়ৎ ঠঁষহবৎধনষব এৎড়ঁঢ় উবাবষড়ঢ়সবহঃ (ওঈঠএউ) প্রকল্পের আওতায় সাত জেলার আট উপজেলায় ৮ হাজার উপকারভোগী মহিলাকে স্বাবলম্বীকরণে ব্যবসা পরিচালনার জন্য মাথাপিছু এককালীন ১৫ হাজার টাকা অনুদান এবং প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
* “শেখ হাসিনার বারতা, নারী-পুরুষ সমতা” বিষয়ক সেøাগানটি ব্রান্ডিংকরণে মন্ত্রণালয়ের চিঠি, খাম, প্যাড ও ফোল্ডারে ব্যবহার করে প্রচার করা হচ্ছে।
* নারী ক্ষমতায়নে কার্যক্রমসমূহকে ব্রান্ডিংকরণ ও বাস্তবায়নে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
* নারী উদ্যোক্তাদের উন্নয়ন ও নারী ক্ষমতায়ন কার্যক্রমকে ব্র্যান্ডিংকরণে জয়িতা ফাউন্ডেশন গঠন করা হয়েছে।
* জয়িতার মাধ্যমে ১৮০টি স্টলের মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ের ১৮ হাজার নারী উদ্যোক্তা তাদের উৎপাদিত পণ্য বাজারজাত করেছে, ১৪ হাজার ৯৬০ জন নারী উদ্যোক্তাকে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হয়েছে, ২৩ হাজার ৫০০ জন নারী উদ্যোক্তাকে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে এবং ১৪ হাজার নারী উদ্যোক্তাকে তাদের উৎপাদিত পণ্যের বাজারজাতকরণে সুবিধা প্রদান করা হয়েছে।
* জয়িতা অন্বেষণে ইউনিয়ন থেকে প্রাপ্ত আবেদনের সংখ্যা ৩১,৩১৮ এবং উপজেলা হতে মনোনীত জয়িতার সংখ্যা ৯,২৩৪। জেলা পর্যায়ে সম্মাননা প্রদানকৃত জয়িতার সংখ্যা ১,৩৪২ এবং বিভাগীয় পর্যায়ে সম্মাননা প্রদানকৃত জয়িতা ১৯৫ জন।
* দেশে-বিদেশে ৭৯৯ জন নারী উদ্যোক্তার উৎপাদিত পণ্যের বাজারজাতকরণ সুবিধা প্রদান করা হয়েছে।
* নারী উদ্যোক্তাদের দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ৩১ হাজার ২৫০ জন তৃণমূল নারী উদ্যোক্তাকে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে।
* ৮টি কর্মজীবী মহিলা হোস্টেলের মাধ্যমে ১৯ হাজার ৯২৯ জন কর্মজীবী নারীকে আবাসিক হোস্টেল সুবিধা প্রদান করা হয়েছে।
* কর্মজীবী নারীদের আর্থিক ক্ষমতায়নের জন্য ৭৪টি ডে-কেয়ার সেন্টারের মাধ্যমে ৩৬ হাজার ১৮৩ জন শিশুকে দিবাযতœ সেবা প্রদান করা হয়েছে।
* ভিজিডি উপকারভোগী ৬৩.৫০ লাখ মহিলাকে পুষ্টি, স্বাস্থ্য, আয়বর্ধক ও সামাজিক সচেতনতামূলক প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে।
* মাতৃত্বকাল ভাতাভোগী ২২ লাখ মহিলাকে বছরে ১০ দিন স্বাস্থ্য ও পুষ্টি বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে।
* ল্যাকটেটিং ভাতাপ্রাপ্ত ৭.২৯ লাখ মাকে দারিদ্র্য নিরসন, মা ও শিশুর মৃত্যুহার হ্রাস, মাতৃদুগ্ধ পানের হার বৃদ্ধি, গর্ভাবস্থায় পুষ্টি উপাদান গ্রহণ, ইপিআই, প্রসব ও প্রসবোত্তর সেবার গুরুত্ব ও পরিবার পরিকল্পনা গ্রহণের বিষয়ে সচেতনতামূলক প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে।
* নারী উন্নয়ন, অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন ও নির্যাতন প্রতিরোধে ৩৩.৪৩ লাখ মহিলাকে বিভিন্ন ট্রেডে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে।
* মহিলা বিষয়ক অধিদফতরের আওতাধীন জাতীয় মহিলা প্রশিক্ষণ একাডেমি কর্তৃক পরিচালিত ২০০৯-১০ অর্থবছর থেকে ২০১৭-১৮ অর্থবছর পর্যন্ত মোট ১.৮৪ লাখ জনকে দক্ষতা উন্নয়ন, স্বল্প ও শিক্ষিত মহিলাকে আবাসিক ও অনাবাসিক বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ এবং নিবন্ধিত স্বেচ্ছাসেবী মহিলা সমিতির নেতৃবৃন্দদের সক্ষমতা প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে।
* গার্মেন্টসে কর্মরত ৩৮৪ নারীকে দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে।
* যৌতুক ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে ১১ হাজার ৬৩৬টি উঠান বৈঠকের মাধ্যমে ১ কোটি ৫৫ লাখ ১৭৭ জনকে সচেতন করা হয়েছে।
* ৬৪টি উপজেলায় বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে মনিটরিং কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ২০১৫ হতে ২০১৭ সাল পর্যন্ত ২ হাজার ৭৬৩ জন শিশু বাল্যবিবাহ থেকে পরিত্রাণ পেয়েছে।
* দুস্থ ও প্রশিক্ষিত নারীদের আয়বর্ধক কর্মকা-ে সহায়তার উদ্দেশ্যে ১৭ হাজার ৫০টি সেলাই মেশিন বিতরণ করা হয়েছে।
* ৬০টি ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার হতে ৩৩ হাজার ৫০৩ জন নির্যাতিত নারী ও শিশুকে প্রয়োজনীয় সেবা প্রদান করা হয়েছে।
* ৪০টি সদর হাসপাতাল এবং ২০টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেল হতে ৪০ হাজার ৮৪৩ জন নির্যাতনের শিকার নারী ও শিশুকে বিভিন্ন সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।
* ডিএনএ ল্যাবরেটরিতে ৪ হাজার ৬১৯টি মামলার শিশুর পিতৃ পরিচয় নির্ধারণে ডিএনএ পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়েছে।
* ন্যাশনাল ট্রমা কাউন্সিলিং সেন্টার হতে ১ হাজার ৪৭০ জন নারী ও শিশুকে মনোসামাজিক কাউন্সিলিং প্রদান করা হয়েছে।
* নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে ন্যাশনাল হেল্পলাইন ১০৯-এর মাধ্যমে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ ও বাল্যবিবাহ বন্ধে ৯ লাখ ৮৪ হাজার ১২৫টি ফোনকল গ্রহণ করা হয়েছে।
* রোহিঙ্গা নারী ও শিশুদের জন্য মনোসামাজিক কাউন্সিলিং সেবা প্রদানের লক্ষ্যে কক্সবাজারের উখিয়ায় রিজিওনাল ট্রমা কাউন্সিলিং সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে।
* নারী নির্যাতন প্রতিরোধ সেলের মাধ্যমে নির্যাতিতা, দুস্থ ও অসহায় ১ হাজার ৪৩০ জন মহিলাকে আইনগত পরামর্শ দেওয়া এবং মোকদ্দমা দায়েরের লক্ষ্যে জেলা লিগ্যাল এইড কমিটিতে ১২৩টি অভিযোগ প্রেরণ করা হয়েছে। মোহরানা ও খোরপোষ বাবদ বিবাদীর কাছ থেকে বাদিনীকে ৩৭.৮৮ লাখ টাকা আদায় করা হয়েছে।
* ১০.২৫ কোটি টাকা ক্রমপুঞ্জিত হয়ে ৬৯.১৪০২ কোটি টাকা ৬৪ জেলার ৪৯১ উপজেলায় ০.৬৩ লাখ দুস্থ ও অসহায় মহিলার মধ্যে ৫ থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ বিতরণ করা হয়েছে।
* দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষ্যে দরিদ্র, বেকার ও অসহায় মহিলাদের আত্ম-কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে ২.৫১ লাখ মহিলার মাঝে ৩৪৯০.৬২ লাখ টাকা ঋণ প্রদান করা হয়েছে।
* দারিদ্র্য বিমোচনে মাতৃত্বকালীন ভাতাপ্রাপ্ত মায়েদের জন্য ‘স্বপ্ন প্যাকেজ’ কর্মসূচির আওতায় ৫৭.৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে ১০ জেলার ১০ উপজেলায় ৭০০ উপকারভোগী মায়ের স্বাস্থ্যসম্মত ল্যাট্রিনসহ আবাসন সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
* অসহায়, নির্যাতিত ও দুস্থ মহিলা ও শিশু কল্যাণ তহবিলের মাধ্যমে অসহায় মহিলা ও শিশুদের সহায়তার জন্য ১১ হাজার ৮৪১ জন মহিলাকে ৫ কোটি টাকা তহবিলের লভ্যাংশ থেকে সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।
* নারীর ক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রায় ১৫৪ কোটি টাকা বিনিয়োগের মাধ্যমে আত্ম-কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে।
* আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়া, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও আয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করা হয়েছে।
* বাল্যবিবাহ ও যৌতুক প্রতিরোধ বিষয়ের ওপর সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে ৪৪ উপজেলায় ৫২৯টি কিশোর-কিশোরী ক্লাব স্থাপন করা হয়েছে।
* ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে মহিলাদের তথ্য-যোগাযোগ প্রযুক্তির সুবিধা সম্পর্কে সচেতনকরণে ১৩টি তথ্যকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।
* গ্রামীণ ও শহরাঞ্চলের ২৫ লাখ মহিলাকে তথ্যপ্রযুক্তি সেবা প্রদান করা হয়েছে। এপ্রিল ২০১৭ থেকে মার্চ ২০২২ মেয়াদে দেশের আট বিভাগের ৬৪ জেলার ৪৯০ উপজেলায় দ্বিতীয় পর্যায় প্রকল্পের কার্যক্রম বাস্তবায়িত হচ্ছে।
* দুস্থ মহিলাদের উৎপাদনে উৎসাহ ও বিক্রয়ের মাধ্যমে আর্থিক সহায়তা প্রদানের উদ্দেশ্যে মহিলা বিষয়ক অধিদফতরের সদর কার্যালয়ের নীচতলায় রাজস্ব বাজেটের আওতায় বিক্রয় ও প্রদর্শনী কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। বিক্রয় ও প্রদর্শনী কেন্দ্র ‘অঙ্গনার’ ২০০৯-১০ থেকে ২০১৮-১৯ অর্থবছর পর্যন্ত ৬৮.১৮ লাখ টাকার সামগ্রী ক্রয়, ৭১.৬০ লাখ টাকার সামগ্রী বিক্রয় এবং ৩.৪২ লাখ টাকা মুনাফা হয়।
* জয়িতা ফাউন্ডেশন : জয়িতা ফাউন্ডেশনের আওতায় নারীর আর্থিক ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে ঢাকায় ধানমন্ডি এলাকায় অবস্থিত শপিংমল রাপা প্লাজায় ‘জয়িতা’ নামে বিক্রয় কেন্দ্র গড়ে তোলা হয়েছে। এর মাধ্যমে সারাদেশে প্রায় ১৪টি মহিলা সমিতির উৎপাদিত পণ্যসামগ্রী বাজারজাত করে প্রায় ১৮ হাজার জন নারী স্বাবলম্বী হয়ে দেশের অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখছে।
* তথ্য আপা : তথ্য আপা প্রকল্পের ১৩ উপজেলায় প্রতিষ্ঠিত তথ্যকেন্দ্রের মাধ্যমে আয়োজিত উঠান বৈঠকসমূহে নারী নির্যাতনের শিকার মহিলাদের বিভিন্ন আইনগত সহায়তা প্রদানের জন্য তথ্যসেবা দেওয়া হয়ে থাকে। তাছাড়া তথ্যকেন্দ্রে এসে মহিলারা তাদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের জন্য তথ্যসেবা পেয়ে থাকেন। ১ কোটি মহিলাকে তথ্যসেবা প্রদানে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
* কিশোর-কিশোরী ক্লাব স্থাপন : সমাজের বিভিন্ন স্তরের প্রান্তিক ও অসহায় কিশোর-কিশোরীদের জেন্ডার বেইজড্ ভায়োলেন্স প্রতিরোধ করার জন্য ৬৪ জেলার ৪৮৯ উপজেলায় ৫ হাজার ২৯২টি ক্লাবের মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনয়ন করা হয়েছে।
* ইনকাম জেনারেটিং অ্যাক্টিভিটিস (আইজিএ) ট্রেনিং অব উইমেন অ্যাট উপজেলা লেভেল : ৮টি বিভাগ, ৬৪টি জেলা এবং ৪২৬টি উপজেলায় ২ লাখ ১৭ হাজার ৪৪০ জন সুবিধাবঞ্চিত দুস্থ মহিলাকে বিভিন্ন ট্রেডে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। ২৫০ কোটি ৫৬ লাখ ২২ হাজার প্রাক্কলিত ব্যয়ে জানুয়ারি ২০১৭ হতে ডিসেম্বর ২০১৯ মেয়াদে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে।
* মাতৃত্বজনিত ছুটি : মাতৃত্বজনিত ছুটি তিন মাস হতে চার মাস এবং চার মাস হতে ছয় মাসে উন্নীত করা হয়েছে।
* সর্বস্তরে পিতার নামের পাশাপাশি মাতার নাম অন্তর্ভুক্তকরণ : সর্বস্তরে পিতার নামের পাশাপাশি মাতার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
* হেল্পলাইন : নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে ন্যাশনাল হেল্পলাইন ১০৯-এর মাধ্যমে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ ও বাল্যবিবাহ বন্ধে ৯ লাখ ৮৪ হাজার ১২৫টি ফোনকল গ্রহণ করা হয়েছে।
* মোবাইল অ্যাপস : নির্যাতনের শিকার নারী ও শিশুদের তাৎক্ষণিক সহায়তায় জয় মোবাইল অ্যাপস ২৯ জুলাই ২০১৮ সালে চালু করা হয়েছে। এই অ্যাপসে ৩টি মোবাইল নম্বর এফঅ্যান্ডএফ হিসেবে সংরক্ষণ করা হয়।
* ‘শেখ হাসিনার বারতা, নারী-পুরুষ সমতা’ বিষয়ক সেøাগানটি ব্রান্ডিংকরণে মন্ত্রণালয়ের চিঠি, খাম, প্যাড ও ফোল্ডার ব্যবহার করে প্রচার করা হচ্ছে।
* প্রতিবন্ধী শিশুদের কল্যাণে : বাংলাদেশ শিশু একাডেমির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে প্রতিবন্ধী শিশুদের কল্যাণে চিত্রাঙ্কন বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদানের লক্ষ্যে ‘স্বপ্নরাঙা’ নামে প্র্রশিক্ষণ কার্যক্রম বাস্তবায়িত হচ্ছে। এতে দুজন প্রশিক্ষক প্রায় ৪০ জন প্রশিক্ষণার্থী ৩টি শাখায় প্রশিক্ষণ প্রদান করে থাকেন। উল্লেখ্য, এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম বিনা বেতনে পরিচালিত হচ্ছে।

হাসপাতাল কার্যক্রম
* মহিলা ও শিশু ডায়াবেটিস এন্ডোক্রিন ও মেটাবলিক হাসপাতাল স্থাপন।
* ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনে শিশু ও মহিলা কার্ডিয়াক ইউনিট স্থাপন।
* ৫০ শয্যা বিশিষ্ট মহিলা ও শিশু ডায়াবেটিস, এন্ডোক্রিন ও মেটাবলিক হাসপাতাল স্থাপন, উত্তরা, ঢাকা।
* ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনে নার্সেস হোস্টেল স্থাপন।
* নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে বিভিন্ন আইন/বিধি, কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে। যেমনÑ
* জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতি ২০১১;
* নারী উন্নয়নে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা ২০১৩-২৫;
* নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে কর্মপরিকল্পনা ২০১৩-২৫;
* পারিবারিক সহিংসতা (প্রতিরোধ ও সুরক্ষা) আইন ২০১০;
* জাতীয় শিশু নীতি ২০১১;
* শিশু আইন ২০১৩;
* পারিবারিক সহিংসতা (প্রতিরোধ ও সুরক্ষা) বিধিমালা ২০১৩;
* ডিএনএ আইন ২০১৪;
* বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন ২০১৭;
* বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা ২০১৮ প্রণয়ন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে;
* এছাড়া নিম্নবর্ণিত আইন/বিধিমালা খসড়া প্রণয়ন করা হয়েছে;
* জাতীয় সাইকোলজি কাউন্সিলিং পলিসি ২০১৪ (খসড়া);
* বাল্যবিবাহ নিরোধ বিধিমালা ২০১৭ (খসড়া);
* জাতীয় ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি আইন ২০১৬ (খসড়া);
* যৌতুক নিরোধ আইন ২০১৭ (খসড়া)।

শ্রম ও কর্মসংস্থান
শ্রমিকদের কল্যাণের জন্য গঠিত হয় শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। বিগত ১০ বছর উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় স্বর্ণ যুগ অতিক্রম করেছে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। এ-সময়ে মন্ত্রণালয়ের দুটি পরিদফতর অধিদফতরে রূপ পেয়েছে। জনবল বেড়েছে অনেক গুণ। কাজের পরিধি বৃদ্ধি পেয়েছে, বেড়েছে সেবার গতি। এ-সময়ে বেশ কয়েকটি আইন, বিধি, নীতিমালা প্রণিত হয়েছে, সংশোধিত হয়েছে। নতুন নতুন সেক্টরে মজুরি কমিশন গঠিত হয়েছে। শ্রমিকদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ অনেকাংশেই নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে। শ্রমিকদের কল্যাণে নতুন তহবিল গঠিত হয়েছে, বাস্তবায়ন হয়েছে। বর্তমানে শ্রমিক অসন্তোষ নেই বললেই চলে।

আইন, বিধিমালা প্রণয়ন ও সংশোধন
শিশু শ্রম নিরসন নীতিমালা ২০১০, বাংলাদেশ শ্রমনীতিমালা ২০১২, বাংলাদেশ শ্রম আইন সংশোধন ২০১৩, জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেইফটি (ওএসএইচ) নীতিমালা ২০১৩, গৃহকর্মী সুরক্ষা ও কল্যাণ নীতি ২০১৫ প্রণয়ন করা হয়েছে। এছাড়া বর্তমানে ইউপিজেড আইন এবং শ্রম আইন সংশোধনের কাজও শেষ পর্যায়ে।

পোশাক কারখানার নিরাপত্তা
২০১৩ সালের রানা প্লাজার মর্মান্তিক ট্র্যাজেডির পরে তৈরি পোশাক খাতে নতুন যুগের সূচনা হয়েছে। তৈরি পোশাক শিল্পে বিশ্বের ১০টি গ্রিন ফ্যাক্টরির মধ্যে আজ বাংলাদেশেরই ৭টি। নতুন নতুন যত গার্মেন্ট কারখানা তৈরি হয়েছে সবগুলোই অত্যাধুনিক কারখানা। বর্তমানে শত শত গ্রিন ফ্যাক্টরির দেশ বাংলাদেশ। নতুন সব কারখানাই কমপ্লায়েন্স কারখানা। প্রতিটি কারখানায় সেফটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। গার্মেন্ট শিল্পের কারখানার সংস্কার কাজ তদারকির জন্য রেমিডিয়েশন কো-অর্ডিনেশন সেল-আরসিসি কাজ শুরু করেছে। এ কাজে সম্প্রতি ৬০ জন ইঞ্জিনিয়ার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

বিশেষায়িত হাসপাতাল
শ্রমিকের পেশাগত অসুখের চিকিৎসার জন্য পিপিপি’র মাধ্যমে প্রায় ৩০৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নারায়ণগঞ্জে দেশের প্রথম ৩০০ শয্যার পেশাগত বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণের কাজ আগামী মাসেই শুরু হবে। গত ২২ জুলাই শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং এএফসি হেলথ কেয়ার ও ভারতের ফোর্টিজ হেলথ লিমিটেডের মধ্যে হাসপাতাল নির্মাণের বিষয়ে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।

ওএসএইচ একাডেমি নির্মাণের উদ্যোগ
জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেইফটি (ওএসএইচ) নীতিমালা ২০১৩ প্রণয়ন করা হয়েছে। ২০১৬ থেকে ওএসএইচ ডে পালন করা হচ্ছে। রাজশাহীতে ৫ একর জমির ওপর নিজস্ব জায়গায় পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেইফটি-ওএসএইচ একাডেমি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মহিলা হোস্টেল নির্মাণ
নারায়ণগঞ্জের বন্দর এবং চট্টগ্রামের কালুরঘাট এলাকায় নারী শ্রমিকদের আবাসন সুবিধা প্রদানের জন্য ২ হাজার ৭০০ আসনের ডরমেটরির নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে যেখানে যেখানে শ্রম অধিদফতরের নিজস্ব জায়গা আছে শ্রমঘন এলাকায় মহিলা শ্রমিকদের জন্য আরও হোস্টেল নির্মাণ করা হবে।

শ্রমিকদের ডাটাবেইজ তৈরি
বিজিএমইএ, বিকেএমইএ-র প্রতিটি শ্রমিককে ডাটাবেইজের আওতায় আনার প্রক্রিয়া প্রায় শেষ পর্যায়ে।

ট্রেড ইউনিয়ন লাইসেন্স সহজিকরণ
শ্রমিকদের সেবা প্রাপ্তি সহজকরণে শ্রম মন্ত্রণালয়ের ট্রেড ইউনিয়ন রেজিস্ট্রেশন সহজিকরণ করা হয়েছে। ২০১৩ সালে শ্রম আইন সংশোধনের আগে তৈরি পোশাক শিল্পে যেখানে ট্রেড ইউনিয়নের সংখ্যা ছিল ৮২, আজ সেখানে ৬৯০।

শিশুশ্রম নিরসন
এসডিজি’কে সামনে রেখে ২০২১ সালের মধ্যে সব ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রম নিরসনে সরকার দৃঢ়ভাবে অঙ্গীকারবদ্ধ। ২০২৫ সালের মধ্যে শিশুশ্রম মুক্ত বাংলাদেশ গড়তে কাজ করছে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। ২০২১ সালের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রম নিরসনের লক্ষ্যে ২৮৪ কোটি ৪৯ লাখ টাকার প্রকল্প প্রকল্প হাতে নিয়েছে। ইতোমধ্যে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) এই প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত ১ লাখ শিশুকে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ঝুঁকিমুক্ত জীবনে ফিরিয়ে আনা হবে। সেই সঙ্গে প্রতিমাসে দেওয়া হবে ১ হাজার টাকা করে বৃত্তি। চলতি বছর থেকে ২০২০ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে।

দক্ষ নারী শ্রমিক তৈরিতে প্রশিক্ষণ
দেশের উত্তরাঞ্চলের পাঁচ জেলার মেয়েদের গার্মেন্টসে দক্ষ কর্মী তৈরিতে ঢাকা, চট্টগ্রাম এবং ঈশ্বরদী ইপিজেডে থাকা-খাওয়া, সম্মানিসহ প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন তহবিল
প্রাতিষ্ঠানিক-অপ্রাতিষ্ঠানিক শ্রমিকের কল্যাণের জন্য শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন তহবিল রয়েছে। এই তহবিলে বর্তমানে জমার পরিমাণ প্রায় ৩১০ কোটি টাকা। এই তহবিল থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ২৫ কোটি টাকার মতো অসহায় শ্রমিকদের সহায়তা করছে।

কেন্দ্রীয় তহবিল
মন্ত্রণালয় বাংলাদেশ শ্রম আইনের আলোকে গত ২০১৬ সালে গার্মেন্ট শ্রমিকদের জন্য কেন্দ্রীয় তহবিল গঠন করেছে। শতভাগ রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাকের মোট রপ্তানির ০.০৩ শতাংশ সরাসরি এই তহবিলে জমা হচ্ছে। গত দুবছরে এই তহবিলে প্রায় ১০০ কোটি টাকা জমা হয়েছে।
গত এক-দেড় দশক আগেও নারীকে নানা বৈরিতা ও প্রতিকূলতার মধ্যদিয়েই পথ চলতে হতো। নারীর মর্যাদা, দক্ষতা, যোগ্যতা, মেধা-মননের বিষয়টি পরিলক্ষিত হতো না। যে কোনো কর্মক্ষেত্রেই একটি নির্দিষ্ট সীমানা পর্যন্তই নারীকে আটকে রাখা হতো। কিন্তু একজন নারীও যে সর্বত্র চ্যালেঞ্জিং পেশায় নিজেকে পুরুষের পাশাপাশি সমানভাবে সাহসিকতা, দৃঢ়তা ও দক্ষতার প্রমাণ রাখতে পারে, তা আজ প্রমাণিত। আর এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করার সাহস ও সুযোগ করে দিয়েছে আজকের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নারী আজ পুরুষের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করছে সর্বত্র। মাটি কাটা থেকে শুরু করে পাহাড়ে ওঠা।
অথচ গত এক দশক আগেও পেশাদারিত্বের উজ্জ্বল ভূমিকায় নিজেকে উত্তীর্ণ করা নারীর পক্ষে সম্ভব ছিল না। একজন নারীকে পরিবারের গৃহস্থালি কাজে এবং সন্তান লালন-পালনেই উল্লেখযোগ্য ভূমিকাই ছিল শেষ কথা। আর এসব কাজ অর্থনৈতিক বিবেচনায় ছিল মূল্যহীন। যদিও একজন নারী দিনমান গৃহস্থালি কাজে নিজের সুখ-আহ্লাদ বিসর্জন দিয়ে কাজ করত, তারপরও পরিবারে তার মতামতের কোনো গুরুত্ব ছিল না। পুরুষ উপার্জনক্ষম বলে পরিবারে তার কথাই ছিল শেষ কথা। আজ দিন বদলেছে। নারী স্বাবলম্বী হয়েছে। সমাজে নারীর গুরুত্ব বেড়েছে।

পাঠকের মন্তব্য:

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না। তারকাচিহ্নযুক্ত (*) ঘরগুলো আবশ্যক।

*