বিভাগ: যুদ্ধাপরাধ

স্থানীয় পর্যায়ের যুদ্ধাপরাধে অভিযুক্তদেরও বিচার হচ্ছে

43আশরাফ সিদ্দিকী বিটু: আওয়ামী লীগ সরকার নির্বাচনী ওয়াদা অনুযায়ী আমাদের কলঙ্কমুক্ত করতে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে যারা মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছে, তাদের বিচারের ব্যবস্থা করেছে। সেই প্রেক্ষিতে ট্রাইব্যুনাল গঠন করে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করা হচ্ছে। দেশের শীর্ষ যুদ্ধাপরাধীদের কয়েকজনের বিচার সম্পন্ন হয়ে দুজনের রায় কার্যকর হয়েছে। বিচার সম্পন্ন হওয়ার আগে ও পরে কয়েকজন মৃত্যুবরণ করেছে, আরও কয়েকজনের রায় কার্যকর হওয়ার অপেক্ষায় আছে। শুধু শীর্ষস্থানীয় যুদ্ধাপরাধীই নয়, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের স্থানীয় বা তৃণমূল পর্যায়ের ৮০ অভিযুক্তকে বিচারের আওতায় আনা হয়েছে, বিচারাধীন ১৬টি মামলায় এদের আসামি করা হয়েছে। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় হত্যা, গণহত্যা, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ, লুটপাটসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের সাথে এদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযুক্তরা মুক্তিযুদ্ধের সময় দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে নানাভাবে পাকিস্তানি বাহিনীকে সহায়তা করাসহ নিজেরাও অনেক অপরাধ করেছে। পাশাপাশি ট্রাইব্যুনালের তদন্ত দলের কাছে ৬৭৫টি অভিযোগ নিয়ে কাজ চলছে যেসব অভিযোগের সাথে জড়িত প্রায় সাড়ে ৩ হাজার অপরাধী। পর্যায়ক্রমে এদেরও বিচারের মুখোমুখি করা হবে। সরকার থেকে বিভিন্ন সময় বলা হয়েছে, সব পর্যায়ের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করা হবে, তারই অংশ হিসেবে এদেরও বিচারের মুখোমুখি হতে হবে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ২১টি মামলার বিচার শেষ হয়েছে। এসব মামলার রায়ে ২৫ জনের বিভিন্ন মেয়াদে দ- হয়। দ-প্রাপ্তদের অধিকাংশই জামাতে ইসলামী ও বিএনপির উচ্চ পর্যায়ের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ। বিচারের রায় কার্যকর করতে গিয়ে সরকারকে নানাবিধ চাপ ও ষড়যন্ত্রকে মোকাবিলা করতে হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃঢ়তায় বিচারের রায় কার্যকর সম্ভব হয়েছে। বিচারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র এখনও চলছে, রায় কার্যকর করার সময় ঘনিয়ে এলেই সহিংসতা শুরু করে জামাতে ইসলামী ও বিএনপি। তথাপি রায় কার্যকর হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও হবে।
শুধু শীর্ষস্থানীয় রাজনৈতিক বা ক্ষমতাধর ব্যক্তিই নয়, এখন তৃণমূল বা স্থানীয় পর্যায়ে অপরাধীদেরও বিচার হবে। অপরাধী যে-ই হোক তাকে বিচারের আওতায় আনছেন ট্রাইব্যুনাল। তবে অপরাধী যে দলেরই হোক না কেন, তাদের বিচারের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। ’৭১ সালে যুদ্ধাপরাধী হয়ে পরবর্তীতে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছেন, তাদেরও বিচারের মুখোমুখি করা হচ্ছে এবং তৃণমূলেও এমন যাদের পাওয়া যাবে তাদেরও বিচার করা হবে।
উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের ২৪ নভেম্বর একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার রাজাকার কমান্ডার ও স্থানীয় আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত নেতা মোবারক হোসেনের ফাঁসির আদেশ হয়েছে। স্থানীয় পর্যায়েও যারা অপরাধী তাদেরও বিচার হচ্ছে। বর্তমানে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন ১৬টি মামলায় অভিযুক্তের সংখ্যা প্রায় ১০০।
নেত্রকোনার ৯ জন : মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দুটি মামলায় নেত্রকোনার ৯ জনের বিচার চলছে। এর মধ্যে আটক নেত্রকোনার ওবায়দুল হক তাহের ও আতাউর রহমান ননীর বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে এবং বিচার প্রায় শেষ পর্যায়ে। অন্য মামলায় ৭ আসামি রয়েছেন। এরা সবাই পূর্বধলা উপজেলার বাসিন্দা। আসামিদের মধ্যে আবদুর রহমান (৮০) ও আহম্মদ আলী (৭৮) গ্রেফতার হয়েছে।
মহেশখালীর ১৯ জন : কক্সবাজারের মহেশখালীর ১৯ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিলের জন্য ২৩ নভেম্বর দিন ধার্য রয়েছে। এই মামলায় অভিযুক্তরা হলেনÑ কক্সবাজার চেম্বার অব কমার্সের সাবেক সভাপতি ও এলডিপি নেতা সালামতউল্লাহ খান, বিএনপির সাবেক এমপি মোহাম্মদ রশিদ মিয়া বিএ, মৌলভী জাকারিয়া শিকদার, অলি আহমদ, মো. জালাল উদ্দিন, মৌলভী নূরুল ইসলাম, মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম সাবুল, মমতাজ আহম্মদ, হাবিবুর রহমান, মৌলভী আমজাদ আলী, আবদুল মজিদ, বাদশা মিয়া, ওসমান গণি, আবদুল শুক্কুর, শামসুদ্দোহা, মো. জাকারিয়া, মো. জিন্নাহ ওরফে জিন্নাত আলী, আবদুল আজিজ ও জালাল। আসামিদের বিরুদ্ধে ১৩টি ঘটনায় ৯৪ জনকে হত্যা, অসংখ্য ধর্ষণ, নির্যাতন, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ রয়েছে। এদের মধ্যে ৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শামসুদ্দোহার কারাগারেই মৃত্যু হয়েছে। বাকি ১২ আসামি পলাতক রয়েছেন।
যশোরের ৯ জন : যশোর-৬ আসনের বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য সাখাওয়াত হোসেনসহ ৯ আসামির বিরুদ্ধে একটি মামলা অভিযোগ গঠনের পর্যায়ে রয়েছে। ৮ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল। এই মামলায় মোট ১২ আসামি। এদের ৩ জনের সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় তাদের অব্যাহতি দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। সাখাওয়াত হোসেন ছাড়া অন্য ৮ আসামি হলেনÑ মো. বিল্লাল হোসেন, মো. ইব্রাহিম হোসেন, শেখ মোহাম্মদ মুজিবর রহমান, মো. আবদুল আজিজ সরদার, মো. আজিজ সরদার, কাজী ওয়াহেদুল ইসলাম, মো. লুৎফর মোড়ল এবং মো. আবদুল খালেক মোড়ল। তাদের মধ্যে সাখাওয়াত হোসেনসহ ৩ জন গ্রেফতার হয়ে কারাগারে আছেন। গ্রেফতারকৃত বাকি দুজন হচ্ছেনÑ মো. বিল্লাল হোসেন ও মো. লুৎফর মোড়ল।
জামালপুরের ৮ জন : মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় আলবদর বাহিনীর প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ আশরাফ হোসাইনসহ জামালপুরের আটজনকে অভিযুক্ত করে বিচার শুরুর নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। আগামী ১৮ নভেম্বর তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষ্যগ্রহণের কার্যক্রম শুরু হবে। বিচারপতি আনোয়ারুল হকের নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল এই আটজনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের ৫টি অভিযোগে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করার নির্দেশ দেন।
আদেশে ট্রাইব্যুনাল বলেন, অভিযুক্তরা ১৯৭১ সালে বিখ্যাত রাজাকার হিসেবে এলাকায় পরিচিত ছিলেন। তারা আলবদর, রাজাকার ও শান্তি কমিটির সদস্য হিসেবে জামালপুর সাব-ডিভিশনে মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বাধীনতার পক্ষের মানুষদের ওপর নারকীয়তা চালান। ১৯৭১ সালের দৈনিক সংগ্রামে প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী সেই বছর এপ্রিল মাসেই পাকিস্তান হানাদার বাহিনী জামালপুরে যাওয়ার পরপরই তখনকার ময়মনসিংহ জেলা ইসলামী ছাত্রসংঘের সভাপতি মুহাম্মদ আশরাফ হোসাইনের নেতৃত্বে আলবদর বাহিনী গঠিত হয়। আশরাফ এখন পলাতক। অভিযুক্ত ৮ জনের মধ্যে অ্যাডভোকেট শামসুল হক ও এসএম ইউসুফ আলী বন্দী আছেন। পলাতক অন্য আসামিরা হলেনÑ অধ্যাপক শরীফ আহমেদ ওরফে শরীফ হোসেন, মোহাম্মদ আবদুল মান্নান, মোহাম্মদ আবদুল বারী, মো. হারুন ও মোহাম্মদ আবুল হাসেম।
কিশোরগঞ্জের ৫ জন : একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আটক কিশোরগঞ্জ করিমগঞ্জের অ্যাডভোকেট শামসুদ্দিন আহমেদসহ ৫ আসামির বিচার চলছে। এদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছেন ট্রাইব্যুনাল। মামলার অন্য ৪ পলাতক আসামি হলেনÑ গাজী মো. আবদুল মান্নান, নাসির উদ্দিন আহমেদ ওরফে ক্যাপ্টেন নাসির, মো. হাফিজ উদ্দিন এবং মো. আজহারুল ইসলাম। গত ১৩ মে এই ৫ জনের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধের সময় হত্যা, গণহত্যা, আটক, লুণ্ঠন, নির্যাতনের ৭টি অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল।
হবিগঞ্জের তিন ভাই : মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলার দুই ভাই মহিবুর রহমান বড় মিয়া ও মুজিবুর রহমান আঙ্গুর মিয়া এবং তাদের চাচাতো ভাই আবদুর রাজ্জাকের বিরুদ্ধে করা মামলাটি সাক্ষ্যগ্রহণের পর্যায়ে রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে হত্যা, ধর্ষণ, অপহরণ, নির্যাতন, অগ্নিসংযোগসহ ৪টি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়। ১০ ফেব্রুয়ারি ট্রাইব্যুনালের গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হলে ওই দিনই নবীগঞ্জ উপজেলার ইমামবাড়ী এলাকা থেকে খাগাউড়া ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান মহিবুর রহমান বড় মিয়া (৭০) ও তার ছোট ভাই বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান আঙ্গুর মিয়াকে (৬৫) গ্রেফতার করে পুলিশ। পরবর্তী সময়ে আবদুর রাজ্জাকও গ্রেফতার হন।
হবিগঞ্জে আওয়ামী লীগের এক নেতা : একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও মুড়াকরি ইউপি চেয়ারম্যান পলাতক লিয়াকত আলীর বিরুদ্ধে একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে মামলা হয়েছে। এই মামলার তদন্ত শেষ পর্যায়ে। নভেম্বরে তদন্ত শেষে প্রতিবেদন দাখিল করা হতে পারে। লিয়াকতসহ আরও ৫-৬ জনের বিরুদ্ধে একাত্তরে হত্যা, গণহত্যা, নির্যাতন, অপহরণসহ বিভিন্ন অভিযোগ  রয়েছে।
হবিগঞ্জে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান নেজামে ইসলামী পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা মাওলানা মো. সফি উদ্দিনসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। হবিগঞ্জ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি দায়ের করেন মুক্তিযোদ্ধা মো. ইলিয়াস কামাল। আদালতের বিচারক মো. কাউসার আলম মামলাটি তদন্তের জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত শাখার প্রধান সমন্বয়ক বরাবর প্রেরণের নির্দেশ দিয়েছেন। অভিযুক্ত মাওলানা সফি উদ্দিন লাখাই উপজেলার মানপুর গ্রামের মতিউর রহমানের ছেলে। মামলার অন্য আসামিরা হলেনÑ একই উপজেলার মুড়িয়াউক গ্রামের মো. জাহিদ মিয়া ও মো. তাজুল ইসলাম ওরফে পোকন রাজাকার এবং জিরু-া গ্রামের মো. ছালেক মিয়া ওরফে ছায়েক মিয়া। মামলার বাদী মুক্তিযুদ্ধকালীন লাখাই উপজেলার কমান্ডার ও বিটিসিএলের সাবেক পরিচালক (অর্থ) ইলিয়াস কামাল অভিযোগ করেন, ১৯৭১ সালের ৩০ ও ৩১ অক্টোবর সফি উদ্দিনসহ তার সঙ্গীরা লাখাই উপজেলার মানপুর ও মুড়িয়াউক গ্রামে অভিযান চালিয়ে বাদীর বাবা ইদ্রিছ মিয়া ও সহযোদ্ধা শাহজাহানের বাবা আবদুল জব্বারকে ধরে নিয়ে প্রকাশ্যে গুলি করে লাশ মানপুরের উজাদুর বিলে ফেলে দেন। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে অভিযুক্ত রাজাকাররা কৃষ্ণপুর, গঙ্গানগরসহ আশপাশের গ্রামে লুটতরাজ, অগ্নিসংযোগ, ধর্ষণ, নৃশংস গণহত্যা চালান।
শরীয়তপুরের ২ জন : একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আটক শরীয়তপুরের সোলায়মান মোল্লা ওরফে সলেমান মৌলভী ও পলাতক ইদ্রিস আলীর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। ১ নভেম্বর এই মামলার পরবর্তী শুনানি হয়। ট্রাইব্যুনালের নির্দেশে ১৪ জুন রাতে শরীয়তপুর সদর উপজেলার আঙ্গারিয়া ইউনিয়নের কাশিপুর গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে সলেমান মৌলভীকে গ্রেফতার করা হয়।
সাতক্ষীরা জামাতের সাবেক এমপির মামলা : একাত্তরে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আটক সাতক্ষীরা জেলা জামাত নেতা ও সাবেক এমপি মাওলানা আবদুল খালেক ম-লের বিরুদ্ধে আগামী ৯ ডিসেম্বরের মধ্যে তদন্তের অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। এর আগে নাশকতার উদ্দেশে কয়েকজন সহযোগীকে নিয়ে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার খলিলনগর মহিলা মাদ্রাসায় গোপন বৈঠকের অভিযোগে নিজ বাড়ি থেকে ১৬ জুন ভোরে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে আবদুল খালেক ম-লের বিরুদ্ধে একাত্তরে মোস্তফা গাজী নামে একজনকে হত্যার অভিযোগে ট্রাইব্যুনালের মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়।
হোসেন ও মোসলেম প্রধান : একাত্তরে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সৈয়দ মো. হুসাইন ওরফে হোসেন (৬৪) এবং গ্রেফতার কিশোরগঞ্জের মো. মোসলেম প্রধানের (৬৬) বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিলের জন্য আগামী ১৯ নভেম্বর দিন ঠিক করেছেন ট্রাইব্যুনাল। আসামি দুজনের বিরুদ্ধে হত্যা, গণহত্যা, লুণ্ঠন, অগ্নিসংযোগ, অপহরণ, আটক ও নির্যাতনসহ ৬টি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ রয়েছে।
ময়মনসিংহের এমপি হান্নানসহ ৪ জন : একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গ্রেফতার ময়মনসিংহের এমপি জাতীয় পার্টির এমএ হান্নানসহ ৪ জনকে সেফ হোমে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। ২০ থেকে ২৩ অক্টোবর ধানমন্ডি সেফ হোমে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। অন্য ৩ আসামি হলেনÑ এমপির ছেলে রফিক সাজ্জাদ এবং ডা. খন্দকার গোলাম সাব্বির ও মিজানুর রহমান মিন্টু। এই ৪ জনের বিরুদ্ধে অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ১৭ নভেম্বর দিন ধার্য রয়েছে।
পটুয়াখালীর ৫ জন : পটুয়াখালী সদর থানার ইসাহাক শিকদার, আবদুল গনি হাওলাদার, আবদুল আওয়াল ওরফে মৌলভী আওয়াল, আবদুস সাত্তার প্যাদা ও সুলাইমান মৃধাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আটক দেখানো হয়েছে। এদের সবাই নাশকতার অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় কারাগারে ছিলেন। এদের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ১ ডিসেম্বর দিন ধার্য রয়েছে।
নোয়াখালীর ৫ জন : মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেফতার নোয়াখালীর সুধারাম থানার ৫ আসামির বিরুদ্ধে ৩টি অভিযোগ আমলে নিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। অভিযোগ আমলে নিয়ে পরবর্তী শুনানির জন্য ২৪ নভেম্বর দিন ধার্য করা হয়েছে। তারা হলেনÑ আমীর আহম্মেদ ওরফে আমীর আলী, মো. ইউসুফ, মো. জয়নাল আবেদীন ও মো. আবদুল কুদ্দুস। এদের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধের সময় নোয়াখালীর সুধারাম থানায় ১১১ জনকে গণহত্যাসহ ৩টি অভিযোগ রয়েছে।
মৌলভীবাজারের ৫ জন : মৌলভীবাজার, রাজনগর ও কলমগঞ্জ থানার ৫ জনের বিরুদ্ধে বিচার চলছে। তারা হলেনÑ শামছুল হোসেন তরফদার (৬৫), নেসার আলী (৭৫), ইউনুস আহমেদ (৭১), মো. উজের আহমেদ চৌধুরী (৬০) ও মোবারক মিয়া (৬৫)। এদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করার পর ইউনুছ আহমদ ও উজায়ের আহমদ চৌধুরীকে রাজনগর থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ২ ডিসেম্বর পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য রয়েছে।
এ ছাড়াও শেখ মো. মজিদসহ অন্যরা, মো. আমজাদ আলীসহ অন্যরা, মো. আমীর আহমদ এবং অন্য ৪ জনের পৃথক ৩টি মামলায় ১৫ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। ২০১০ সালের ২৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত ২১টি মামলার বিচার শেষ হয়েছে। এতদিন দুটি ট্রাইব্যুনালে বিচার কাজ চললেও গত ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে একটি ট্রাইব্যুনাল নিষ্ক্রিয় করা হয়। বর্তমানে বিচারপতি মো. আনোয়ারুল হকের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের একটি ট্রাইব্যুনালে এসব মামলার বিচার চলছে। ট্রাইব্যুনাল অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে মামলা শেষ করতে কার্য পরিচালনা করছে।

লেখক : সহ-সম্পাদক, কেন্দ্রীয় উপ-কমিটি, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং পরিচালক, সিআরআই

পাঠকের মন্তব্য:

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না। তারকাচিহ্নযুক্ত (*) ঘরগুলো আবশ্যক।

*