২৫ মার্চ ‘গণহত্যা দিবস’ ঘোষণার দাবি

উত্তরণ ডেস্ক: জাতীয় সংসদের অধিবেশনকক্ষে পিনপতন নীরবতা। কক্ষের বড় পর্দায় একের পর এক ভেসে উঠছে একাত্তরে পাকিস্তানি বাহিনীর বর্বরতার ছবি। পানিতে ভাসছে অসংখ্য নারী-পুরুষের লাশ। আবেগাপ্লুত বঙ্গবন্ধু-কন্যা শেখ হাসিনাকে চোখ মুছতে দেখা গেল। অধিবেশনকক্ষের ভারী বাতাস কাতর করে তুলেছে সবাইকেই। অনেকেই বারবার চোখ মুছছেন, আবার বর্বরতার চিত্র দেখছেন, আবার কাঁদছেন। মাত্র ১৮ মিনিটের এই প্রামাণ্যচিত্রে সংসদ ভবনে এক শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
গত ২৫ মার্চ বিকেলে জাতীয় সংসদ অধিবেশনের চিত্র। অধিবেশনে পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যা নিয়ে সাধারণ আলোচনার আগে একাত্তরের ২৫ মার্চ রাতে এবং মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি বাহিনীর নির্মম বর্বতার ‘সচিত্র প্রতিবেদন’ দেখানো হয়। ১৪৭ বিধিতে জাসদের সংসদ সদস্য শিরীন আখতার পাকিস্তানি বাহিনীর নির্মমতায় নিহতদের স্মরণে প্রতি বছর ২৫ মার্চ ‘গণহত্যা দিবস’ পালনের প্রস্তাব উত্থাপন করার পর একাত্তরের ওই ভয়াল চিত্র সংসদে উপস্থাপনের জন্য স্পিকারের অনুমতি চান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ২৫ মার্চই শুধু নয়, এর পথ ধরেই দেশে যে গণহত্যা শুরু হয়েছিল… অনেক সংসদ সদস্য আছেন এখানে যারা যুবক, একাত্তরের সেই ভয়াল চিত্র তারা দেখেন নি। এখানে আলোচনা হবে। মাননীয় স্পিকার, আপনার অনুমতি নিয়ে আমি ওই সময়কার কিছু ছবি-ভিডিও দেখাতে চাই, যেগুলো ওই সময়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারিত হয়েছিল। এরপর সংসদ কক্ষে রাখা বড় পর্দায় একাত্তরে পাকিস্তানি বাহিনীর নির্মমতার বিভিন্ন চিত্র, ভিডিও দেখানো হয়।
এরপর দীর্ঘ আলোচনা শেষে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর গণহত্যার দিনটি জাতীয়ভাবে ‘গণহত্যা দিবস’ হিসেবে পালনের প্রস্তাব পাস হয়। একই সঙ্গে এই দিবসের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায়ে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক মহলে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করার প্রস্তাবটি সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে প্রস্তাবটির ওপর দীর্ঘ চার ঘণ্টার সাধারণ আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ প্রায় অর্ধশত সংসদ সদস্য অংশ নেন। তবে শিরীন আখতারের প্রস্তাবের ওপর সামান্য সংশোধনী আনেন সরকারদলীয় চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ। সংশোধনীতে তিনি বলেন, ‘মূল প্রস্তাবের দ্বিতীয় পঙ্ক্তিতে অবস্থিত আন্তর্জাতিকভাবে শব্দটির পূর্বে জাতিসংঘসহ শব্দটি সন্নিবেশ করা হউক।’ আলোচনায় ১ ডিসেম্বরকে মুক্তিযোদ্ধা দিবস ঘোষণা এবং সিমলা চুক্তি অনুযায়ী আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে পাকিস্তানি ১৯৫ যুদ্ধাপরাধীর বিচারের দাবিও জানানো হয়।
প্রমাণ্যচিত্রে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ, ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা, বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার, ভয়াল গণহত্যা, বুদ্ধিজীবী হত্যাকা-, ২৫ মার্চ গণহত্যা নিয়ে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন রিপোর্ট, গণহত্যা নিয়ে বিভিন্ন রাষ্ট্র ও সরকার-প্রধানদের বক্তব্য এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হল ও ইপিআরে গণহত্যার চিত্র স্থান পায়।

পাঠকের মন্তব্য:

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না। তারকাচিহ্নযুক্ত (*) ঘরগুলো আবশ্যক।

*