প্রতিক্রিয়া

11-6-2018 5-49-24 PM

11-6-2018 5-49-24 PMরাজনৈতিক পরিবারের সন্তান হয়েও ক্যারিয়ারের শুরুতে নিজেকে একটু আড়ালেই রেখেছিলেন নিজেকে। ছিলেন নিজ কর্মক্ষেত্রে শতভাগ ব্যস্ত। হয়েছেন সফলও। অথচ বাবা প্রয়াত জিল্লুর রহমান ছিলেন আওয়ামী লীগের বিপদের সর্বোচ্চ কা-ারি, আজন্ম জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য অনুসারী। মা আইভি রহমান ২১ আগস্ট ‘প্রয়াণযাত্রা’ মিছিলে যোগ দেওয়ার আগেও ছিলেন রাজনীতির অতন্দ্র প্রহরী, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছায়াসঙ্গী। তবে বাবা রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর হুট করেই রাজনৈতিক আলোয় চলে আসেন নাজমুল হক পাপন। বাবার ছেড়ে দেওয়া আসনে উপনির্বাচনে হয়ে গেছেন সংসদ সদস্য। ক্রমেই নিজেকে সাজিয়েছেন জনপ্রতিনিধি রূপে। সময় চাকায় চড়ে পেয়েছেন বিসিবির সাংগঠনিক প্রধানের দায়িত্ব। বলতে দ্বিধা নেই, তার অধীনেই বাংলাদেশ ক্রিকেট নতুন উচ্চতা স্পর্শ করেছে। ‘টিম বাংলাদেশ’ হিসেবে সারাবিশ্বে জায়গা করে নিয়েছে। শুধু ক্রিকেট নয়Ñ ক্রীড়াঙ্গনেও তার ভূমিকা এখন অনেক ক্ষেত্রেই অনিবার্য এবং ঈর্ষণীয় অনেকের কাছেই। চলতি মাসের ১৮ তারিখ এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (এসিসি) প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নিচ্ছেনÑ সেই নাজমুল হক পাপনই ২১ আগস্টের ভয়াবহতার কথা মনে করে মনের অজান্তেই কেঁদে ওঠেন। আজও ভুলতে পারেন নি সেই নারকীয় ঘটনার কথা। দীর্ঘ ১৪ বছর পর যখন ওই মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে তখন কিছুটা হলেও স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন পাপন।

শ্রেণী:

পাকিস্তানি গোয়েন্দা নজরদারিতে : শেখ মুজিব, বঙ্গবন্ধু ও তাঁর রাজনীতি

Posted on by 0 comment
10-4-2018 6-07-58 PM

মাত্র ২৮ বছর বয়সে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বাঙালির ন্যায্য অধিকার আদায়ের সংগ্রাম শুরু করেন, যা স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মধ্যদিয়ে সফল পরিণতি লাভ করে।

প্রফেসর ড. মোহাম্মদ সেলিম: পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্ম এবং ভাঙনের ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভূমিকা অনস্বীকার্য। পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য সংগ্রাম, ত্যাগ ও কষ্ট স্বীকার করেছেন, অন্যদিকে পাকিস্তান রাষ্ট্র ভেঙে বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য অত্যাচার-নিপীড়ন, মৃত্যুঝুঁকি, দীর্ঘকাল রাষ্ট্রীয় প্রতিহিংসার শিকার হয়ে কারাভোগসহ নানারকম শারীরিক মানসিক যন্ত্রণা সহ্য করেছেন। মাত্র ২৮ বছর বয়সে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বাঙালির ন্যায্য অধিকার আদায়ের সংগ্রাম শুরু করেন, যা স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মধ্যদিয়ে সফল পরিণতি লাভ করে।
পাকিস্তান সরকার শত্রু চিনতে ভুল করেনি। পূর্ব পাকিস্তানে খ্যাতিমান, প্রভাবশালী অনেক নেতা তখন ছিলেন। যেমন শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী, খান আতাউর রহমান প্রমুখ। কিন্তু পাকিস্তান সরকারের কাছে তরুণ নেতা মুজিবের ন্যায় অন্যরা এত ‘বিপজ্জনক’ ছিল না। ১৯৪৮ সাল থেকেই শেখ মুজিবকে পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্য হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। যে কারণে ১৯৪৮ থেকে ১৯৭১ পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুর সকল কর্মকা- পাকিস্তানের গোয়েন্দা শাখার (ইন্টেলিজেন্স ব্রাঞ্চ) কঠোর নজরদারির মধ্যে ছিল। প্রতিদিন তাঁর রাজনৈতিক তৎপরতা সম্পর্কে প্রতিবেদন তৈরি করা হতো। এভাবে পাকিস্তান আমলে ১৯৪৮ থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক তৎপরতা সম্পর্কে গোয়েন্দা প্রতিবেদনের মোট ৪৭টি ফাইল পাওয়া গেছে। বাংলাদেশের স্বাধিকার আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ উৎস হিসেবে এই গোয়েন্দা প্রতিবেদনগুলোর গুরুত্ব অপরিসীম। প্রতিবেদন/দলিলসমূহ ১৪ খ-ে বিন্যস্ত করে প্রকাশের উদ্যোগ নিয়েছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্ট। ১৯৪৮-১৯৫০ সালের গোয়েন্দা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রথম খ- “সিক্রেট ডকুমেন্টস অব ইন্টেলিজেন্স ব্রাঞ্চ অন ফাদার অব দি নেশন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান” প্রকাশিত হয়েছে। সম্পাদনা করেছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রথম প্রকাশ সেপ্টেম্বর, ২০১৮; প্রকাশ করেছে হাক্কানী পাবলিশার্স, মূল্য ৯০০ টাকা, পৃষ্ঠা সংখ্যা ৫৮২।
গ্রন্থের প্রারম্ভে ‘মুখবন্ধ’-এ তথ্যসমৃদ্ধ সংক্ষিপ্ত আলোচনায় বঙ্গবন্ধুর সংগ্রামী রাজনৈতিক জীবন এবং গোয়েন্দা প্রতিবেদনের গুরুত্ব ও সীমাবদ্ধতা ব্যাখ্যা করা হয়েছে। কীভাবে বাঙালির ইতিহাসের মূল্যবান উৎসের সন্ধান পেলেন, দলিলপত্র সংগ্রহ করলেন এবং প্রকাশ করলেনÑ এর বস্তুনিষ্ঠ বর্ণনা দিয়েছেন বঙ্গবন্ধু-কন্যা শেখ হাসিনা। পাকিস্তান রাষ্ট্রের প্রথম তিন বছরে বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক কর্মকা-ের বহু জানা-অজানা ঘটনার নথিপত্র, বঙ্গবন্ধুর লেখা চিঠি, তাঁর নিকট লেখা আত্মীয়-স্বজন, নেতা-কর্মীদের চিঠি, বিভিন্ন জনসভায় প্রদত্ত ভাষণ, আত্মপক্ষ সমর্থনে বঙ্গবন্ধুর বক্তব্য, বিভিন্ন গোয়েন্দা প্রতিবেদন ইত্যাদি সংকলিত হয়েছে। ১৯৪৮ সালে ২৪টি, ১৯৪৯ সালে ১৩৫টি এবং ১৯৫০ সালে ১৬২টি প্রতিবেদন সন্নিবেশিত হয়েছে। সংগত কারণে অনুমান করা যায় যে, বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক তৎপরতা বৃদ্ধির সঙ্গে আনুপাতিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে পাকিস্তানের গোয়েন্দা শাখার নজরদারি এবং নথিপত্র।
‘স্বপ্নে’র পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পরপর রাজনৈতিক দল হিসেবে মুসলিম লীগের জনপ্রিয়তা ছিল তুঙ্গে। উল্লেখ্য, ১৯৪৬ সালের বঙ্গীয় প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে গ্রামাঞ্চলে  মুসলিম লীগ প্রায় ৯৪% ভোট লাভ করে। এই নির্বাচনে তরুণ ছাত্রনেতা শেখ মুজিব মুসলিম লীগ প্রার্থীদের জয় লাভে, সামগ্রিকভাবে পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। এই পরিপ্রেক্ষিতে পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্মের মাত্র চার মাস পরে পাকিস্তান আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী রাজনৈতিক দল মুসলিম লীগ বা পাকিস্তান সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করা ছিল বেশ ঝুঁকিপূর্ণ।
এই সময়ের গুরুত্বপূর্ণ আন্দোলন হলো ভাষা আন্দোলন ও বিনা ক্ষতিপূরণে জমিদারি প্রথার উচ্ছেদ। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের আন্দোলন, খাদ্য সংকট, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা, কর্ডন প্রথা, জনসাধারণের জন্য সামরিক প্রশিক্ষণ, ইত্যাদি। তবে ১৯৪৮ সাল থেকেই গোপন নথিপত্রে পাকিস্তান সরকারের হিন্দুদের প্রতি সাম্প্রদায়িক নীতি এবং ভারত-বিদ্বেষ লক্ষ করা যায়।
ভাষা আন্দোলনে বঙ্গবন্ধুর ভূমিকা কেউ কেউ স্বীকার করতে চান না। যারা একটু চালাক তারা বলেন, এটা আওয়ামী প্রচারণা মাত্র। এমন কী ভাষা সংগ্রামীদের স্মৃতিকথায় বঙ্গবন্ধুর অবদানের উল্লেখ নেই। অথচ পাকিস্তানি গোয়েন্দাদের বহু প্রতিবেদনে ভাষা আন্দোলনে বঙ্গবন্ধুর প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ ও নেতৃত্বদানের উল্লেখ পাওয়া যায়। এ প্রসঙ্গে একটি প্রতিবেদন উদ্ধৃত করা যেতে পারে
”Secret information was received on 12.3.48 that the subject (Bangabandhu) along with others took part in the discussions held at Fazlul Haq Hall on 10.3.48 and gave opinion in favour of violating section 144 cr.p.c. on 11.3.48. On this decision, small batches of Hindu and Muslim students were sent out on 11.3.48 to picket the G.P.O., the secretariat and other important Govt. offices. The subject (Bangabandhu) was arrested on 11.3.48 for violating the orders.” (P. 36)
পুলিশি গোয়েন্দা প্রতিবেদন অনুযায়ী ১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করার সিদ্ধান্ত দিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু। সচিবালয় এবং জিপিও’র সামনে ধর্মঘটে ছাত্র-জনতাকে সংগঠিত করেন ও নিজে অংশগ্রহণ করেন। সচিবালয়ের সামনের রাস্তা থেকে বঙ্গবন্ধুকে পুলিশ গ্রেফতার করে। রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে ঢাকা এবং ঢাকার বাইরে সভা-সমাবেশ করেছেন। প্রচারপত্র, লিফলেট বিতরণের ব্যবস্থা করেছেন। নিজে বহু পুস্তিকা প্রকাশ করেছেন। এগুলো গোপন তৎপরতা ছিল না। লিফলেট এবং পুস্তিকায় বঙ্গবন্ধুর নাম মুদ্রিত ছিল। তিনি আরবি হরফে বাংলা লেখার তীব্র সমালোচনা করেন। উল্লেখ্য, গোয়েন্দা প্রতিবেদনে রাষ্ট্র ভাষার আন্দোলনকে ভাষা বিতর্ক (Language Controversy) বলা হয়েছে।
পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পরপর জমিদারি প্রথা বাতিলের দাবি বেশ গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত হয়। এটা ছিল পূর্ববঙ্গের অধিকাংশ কৃষিজীবী মানুষের প্রাণের দাবি। ১৯৪৬ সালের মুসলিম লীগের নির্বাচনী ইশতেহারেও অঙ্গীকার ছিল জমিদারি প্রথা উচ্ছেদের। তারপরও পাকিস্তান অর্জনের পরপর শাসকগোষ্ঠী এ বিষয়ে শ্রেণি স্বার্থে খুব একটা আগ্রহ দেখায় নি। বঙ্গবন্ধু জমিদারি প্রথা উচ্ছেদের পক্ষে ব্যাপক জনমত গড়ে তোলেন। গোয়েন্দা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ”He (Bangabandhu) advised the people to creat public opinion in favour of abolition of the Zamindar system without any compensation.” (P. 96)
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র থাকাকালীন বঙ্গবন্ধু ১৯৪৮ সালে সম্পূর্ণ মানবিক কারণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হতদরিদ্র নিম্ন বেতনভোগী চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের জীবন-জীবিকার যৌক্তিক আন্দোলনে জড়িয়ে পড়েন। অসহায় কর্মচারীদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য তাকে বেশ চড়া মূল্য দিতে হয়। তারপরও সারাজীবন নীতি-আদর্শ মূল্যবোধের সঙ্গে আপস করেন নি। কর্মচারীদের আন্দোলনের প্রেক্ষাপট সম্পর্কে বঙ্গবন্ধু তাঁর আত্মজীবনীতে লিখেছেনÑ
“পাকিস্তান হওয়ার পূর্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রেসিডেন্সিয়াল বিশ্ববিদ্যালয় ছিল। এখন এটাই পূর্ব বাংলার একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয়। ছাত্র অনেক বেড়ে গিয়েছিল। কর্মচারীদের সংখ্যা বাড়ে নাই। তাদের সারাদিন ডিউটি করতে হয়। পূর্বে বাসা ছিল, এখন তাদের বাসা প্রায়ই নিয়ে যাওয়া হয়েছে, কারণ নতুন রাজধানী হয়েছে, ঘরবাড়ির অভাব। এরা পোশাক পেত, পাকিস্তান হওয়ার পরে কাউকেই পোশাক দেওয়া হয় নাই। চাউলের দাম ও অন্যান্য জিনিসের দাম বেড়ে গেছে। চাকরির কোনো নিশ্চয়তাও ছিল না। ইচ্ছামত তাড়িয়ে দিত, ইচ্ছামত চাকরি দিত।” (পৃ. ১৯২)
সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীরাও কর্মচারীদের আন্দোলনে সংহতি জানায়। এবং ধর্মঘটে অংশগ্রহণ করে। এতে করে বিশ্ববিদ্যালয়ে এক অচল অবস্থা সৃষ্টি হয়। বঙ্গবন্ধু অন্যান্য ছাত্রনেতাদের নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং কর্মচারীদের বিরোধ মীমাংসার একাধিক উদ্যোগ নিয়ে ব্যর্থ হন। একপর্যায়ে উপাচার্যের বাসভবন থেকেই পুলিশ বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করে।
বঙ্গবন্ধু লিখেছেনÑ
“আমরা তাঁকে (উপাচার্য) বোঝাতে চেষ্টা করলাম, তিনি বুঝেও বুঝলেন না। এর কারণ ছিল সরকারের চাপ।… একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্ণধার ও শিক্ষাবিদ সরকারের চাপে এই রকম একটা কথার মারপ্যাঁচ করতে পারে এটা আমার ভাবতেও কষ্ট হয়েছিল।” (পৃ. ১১৩)
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পুলিশ ব্যবহার করে ছাত্রদের আবাসিক হল ত্যাগ করতে বাধ্য করে। বঙ্গবন্ধুসহ ২৭ জন ছাত্রকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হয়। তবে অনেকে মুচলেকা এবং জরিমানা দিয়ে ছাত্রত্ব ফিরে পায়। এ প্রসঙ্গে বঙ্গবন্ধুর সুস্পষ্ট বক্তব্য হলো
“আমি কোনো অন্যায় দাবি করি নাই, অত্যন্ত ন্যায় সঙ্গত দাবি করেছি। মুচলেকা ও জরিমানা দেওয়ার অর্থ হলো দোষ স্বীকার করে নেওয়া, আমি তা করব না।” (পৃ. VII)
উপাচার্য দুজন প্রাধ্যক্ষকে দায়িত্ব দেন বঙ্গবন্ধুসহ অন্যান্য ছাত্রনেতার সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার জন্য। এ ১৭ এপ্রিল ১৯৪৯ সালের গোয়েন্দা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় যে,
”SK. Majibar (Mujibur) Rahman and others refused any relaxation unless the University withdraws the punishment from the students unconditionally.” (P. 121)
কারাগারে বন্দী থাকা অবস্থায় বঙ্গবন্ধু আইন বিভাগের ফাইনাল পরীক্ষায় অংশগ্রহণের অনুমতি প্রার্থনা করেছিলেন। এ বিষয়ে সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের প্রাধ্যক্ষকের সঙ্গে ২৮ জুন ১৯৫০ তারিখে কারাগারে নিরাপত্তা বন্দী বঙ্গবন্ধুর সাক্ষাৎ হয়। তিনি প্রাধ্যক্ষকে অনুরোধ করেন তার ওপর আরোপিত শাস্তি (১৫ টাকার জরিমানা) রহিত করে, পরীক্ষায় অংশগ্রহণের অনুমতিদানের জন্য।
শেষ পর্যন্ত জরিমানা প্রদান না করায় বঙ্গবন্ধু তার ছাত্রত্ব ফিরে পাননি। অবশ্য কয়েক বছর পূর্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বঙ্গবন্ধুকে প্রদান করা শাস্তি প্রত্যাহার করেছেন। আমার ধারণা, অন্যায় আদেশ প্রত্যাহার না করে ঐদিনটি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হিসেবে বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক কর্মকা-সহ সামগ্রিক অবদান নিয়ে আলোচনা, সেমিনার, র‌্যালি, আলোকচিত্র প্রদর্শনী ইত্যাদি আয়োজন করা যেত। এমনি আয়োজনের মধ্যদিয়ে নবীন ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে জাতির পিতার আদর্শ, দর্শন ও মূল্যবোধ সঞ্চারিত করার কার্যকর সুযোগ সৃষ্টি করা যেত।
পূর্ববঙ্গের সাধারণ মানুষের নিকট পাকিস্তান আন্দোলন ছিল প্রকৃতপক্ষে আর্থ-সামাজিক মুক্তির সোপান। কিন্তু বহু কাক্সিক্ষত ‘আজাদী’ লাভের পরও পূর্ববঙ্গের জনগণের অবস্থা আরও অবনতি হতে থাকে। বিশেষভাবে গ্রামাঞ্চলে কাপড়ের সরবরাহ অপ্রতুল হওয়ায় মানুষ কাপড় কিনতে পারছে না, কালোবাজারে অধিক মূল্যে কাপড় বিক্রি হচ্ছে, খাদ্যাভাব দেখা দিচ্ছে। বঙ্গবন্ধু অভিযোগ করেন খাদ্যশস্যে উদ্বৃত্ত বরিশালেও চালের মণ ৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তার ওপর বাড়তি কর, দুর্নীতি মানুষের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলছে। ১৭.৫.১৯৪৮ তারিখে নারায়ণগঞ্জে অনুষ্ঠিত জনসভায় বঙ্গবন্ধু আরও বলেন
”When we point these out and demand their remedy and also eradication of corruption and injustice, we are damned as traitors, fifth columnists etc., we declare that we have worked to achieve Pakistan and we shall fight to defend it, if necessary.” (P. 19)
বঙ্গবন্ধু বিভিন্ন জনসভায় খাদ্য ঘাটতি নিয়ে বক্তৃতা করেন। তিনি বলেন, সরকারের ভ্রান্ত খাদ্যনীতির কারণে দেশের শতকরা ৭০ ভাগ মানুষ অনাহারে আছে (পৃ. ২৮১)। বঙ্গবন্ধু সারাজীবন শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। ১৯৪৮ সাল থেকেই তিনি সর্বজনীন প্রাথমিক শিক্ষার দাবি তোলেন। তিনি তরুণদের রাজনৈতিক সচেতনতার পাশাপাশি প্রকৃত শিক্ষা গ্রহণের জন্য অনুপ্রাণিত করেন। কেবল পাঠ্যপুস্তকে সীমাবদ্ধ না থেকে পাঠচক্র এবং বিতর্ক প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহণে উৎসাহিত করেন (পৃ. ২৬৯)।
পাকিস্তানের প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে এক বিবৃতি বঙ্গবন্ধু পাকিস্তান সরকারের তীব্র সমালোচনা করে বলেন,
“১৯৪৭ সালের ১৫ই আগস্ট আমরা যে ‘আজাদী’ লাভ করিয়াছি, সেটা যে গণ আজাদী নয়, তা’ গত একটি বছরে সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হইয়াছে। ‘জাতীয় মন্ত্রিসভা’ দীর্ঘ একটি বছরে জনগণের দুইশ’ বছরের পুঞ্জীভূত দুঃখ-দুর্দ্দশা মোচনের কোন চেষ্টা করেনই নাই, বরঞ্চ সেই বোঝার উপর অসংখ্য শাকের আটি চাপাইয়াছেন।” (পৃ. ৪৪)
কৈশোর থেকেই বঙ্গবন্ধুর মনোজগতে এদেশের অবহেলিত-দরিদ্র জনগোষ্ঠীর প্রতি বিশেষ মনোযোগ-দরদ লক্ষ্য করা যায়। সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নত করার ব্রত তাকে জনমানুষের একজনে পরিণত করেছে আবার নিঃস্ব, দরিদ্র জনগোষ্ঠী তাকে নিজেদের একজন বলে বিশ্বাস করত। এই সময়ে বক্তৃতা-বিবৃতিতে বঙ্গবন্ধু ‘কর্ডন প্রথা’র বিরুদ্ধে অনেক বক্তব্য প্রদান করেছেন। কর্ডন প্রথার মাধ্যমে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় এক জেলা থেকে অন্য জেলায় খাদ্যশস্য পরিবহনে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। কিন্তু পাকিস্তান আমলেও তা অব্যাহত ছিল। কর্ডন প্রথার জন্য অধিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কৃষক ও দরিদ্র মানুষ। কারণ খাদ্যশস্যের অভাব এবং মূল্যবৃদ্ধির জন্য কর্ডন প্রথাকে দায়ী করা হয়। তাই যৌক্তিক কারণেই বঙ্গবন্ধু তথাকথিত কর্ডন প্রথার বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নিয়েছিলেন। চাপে পড়ে সরকার বাধ্য হয় নিপীড়নমূলক এই প্রথা বাতিল করতে। ২১.৯.১৯৪৯ তারিখে লিখিত একপত্রে বঙ্গবন্ধু লিখেছেন,
“… perhaps you remember that I told you. ‘Be united the cordon system will be withdrawn.’ The ministers got frightened and abolished the cordon system. If we are united, everything will be alright.”  (P. 274)

আশ্চর্য হবার কিছু নেই যে, গোপন নথিপত্রে বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে নানারকম অপমানজনক, আপত্তিকর, অসত্য বিশেষণ ব্যবহার করা হয়েছে। প্রতিবেদনগুলো রচনা করেছেন নিম্নপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তাগণ প্রতিবেদন পাঠে মনে হচ্ছে স্ব-স্ব বড়কর্তার মনোরঞ্জন এবং সন্তুষ্টি অর্জন করাও প্রতিবেদনকারীদের উদ্দেশ্য ছিল। যা হোক পাকিস্তান সরকার শুরু থেকেই বঙ্গবন্ধুকে পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্য হুমকি, পাকিস্তানের শত্রু হিসেবে প্রচারণা চালায়। ১৯৪৮-১৯৫০ এই তিন বছরের বহু প্রতিবেদনে বঙ্গবন্ধু, ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগকে দেশদ্রোহী বাহিনী (fifth columnist) বলা হয়েছে। ব্যক্তি বঙ্গবন্ধুকে চিহ্নিত করা হয়েছে অত্যন্ত নির্দয় (ruthless), চরম যুদ্ধংদেহী (most militant), কমিউনিস্ট, পাকিস্তানের জন্য ক্ষতিকর। এই সব ছিল পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর কায়েমী স্বার্থে আঘাতের প্রতিক্রিয়া হিসেবে বঙ্গবন্ধুর চরিত্রহননের হীন ষড়যন্ত্র মাত্র।
দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে জন্ম নেওয়া পাকিস্তান শুরু থেকেই হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতি সন্দেহপ্রবণ ছিল। ১৯.৪.১৯৪৮ তারিখের গোয়েন্দা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় যে, দুই বাংলাকে ঐক্যবদ্ধ করার জন্য হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীকে শরৎ বোস এবং কলকাতার হিন্দুরা প্রচুর অর্থ দিচ্ছে। ফরিদপুরে ২৯.৪.১৯৪৮ তারিখে সোহরাওয়ার্দী ও বঙ্গবন্ধুর জনসভা সম্পর্কে গোপন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় যে, জনসভায় প্রায় ১০০০ মানুষ সমবেত হয়, যার দুই-তৃতীয়াংশ ছিল হিন্দু। লক্ষ্য করা যায় বিভিন্ন জনসভা ও ছাত্র সমাবেশের প্রতিবেদনে হিন্দুদের উপস্থিতি গুরুত্ব সহকারে উল্লেখ করা হয়েছে। পুরো পাকিস্তান আমলে এই ধারা অব্যাহত ছিল। উল্লেখ্য, পূর্ব বাংলার সকল আন্দোলন-সংগ্রামের জন্য হিন্দু সম্প্রদায় এবং ভারতকে দায়ী করা হতো।
বলার অপেক্ষা রাখে না বঙ্গবন্ধু আপাতমস্তকে একজন নির্ভীক ও আদর্শবাদী মানুষ ছিলেন। তাই একজন সৎ মানুষ যে আদর্শবাদী রাজনীতিক হবেন এটাই স্বাভাবিক। নানারকম দুঃখ, কষ্ট, বেদনা, অত্যাচার-নিপীড়ন সহ্য করা আবার ক্ষমতা, মোহ, প্রলোভন উপেক্ষা করে লক্ষ্যে অবিচল থাকাÑ সবার পক্ষে সম্ভব না। প্রখর আত্মমর্যাদাসম্পন্ন, অকুতোভয় বঙ্গবন্ধু কোনো রক্তচক্ষুকে পরোয়া করতেন না। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নিরাপত্তা বন্দী শেখ মুজিবুর রহমানের মনোভাব সম্পর্কে গোয়েন্দা কর্মকর্তা উল্লেখ করেছেন যে,
“He (Bangabandhu) preferred to remain and die in jail than to be released conditionally. From the above it appears that he has not changed his political views and his attitude is stiff.” (P. 451)
বঙ্গবন্ধু সারাজীবন তাঁর দেশ এবং জনগণের কল্যাণকে প্রাধান্য দিয়েছেন। এক গভীর জীবনবোধের অধিকারী হওয়ায়, সাধারণ দুঃখ-কষ্ট তাকে দুর্বল করতে পারেনি। কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ২৬.৫.১৯৫০ তারিখে একপত্রে বঙ্গবন্ধু লিখেন,
“…. to the man who lives for an idea, for his country, for the good of humanity, life has an extensive meaning, and to that extent pain becomes less important to him.” (P. 439)
বঙ্গবন্ধুকে কোনো মামলায় একবার গ্রেফতার করলে, নানা ছুতায় তাঁর আটকাদেশ বৃদ্ধি করা হতো। ডিটেনশনের মেয়াদ বৃদ্ধির সময় সরকার বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে মিথ্যা এবং অস্পষ্ট নানা অভিযোগ উত্থাপন করত। ১৯.৯.১৯৫০ সালের ডিটেনশন আদেশের বিরুদ্ধে বঙ্গবন্ধু লিখিতভাবে জানান
“The grounds you have shown are absolutely false and vague. There is not an iota of truth in it. I do not belief to adopt violent means to overthrow the Govt. nor I am connected with any secret associations and illegal activities.” (P. 521)

পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী নানা নিপীড়নমূলক কখনও কখনও ভয়-ভীতি দেখিয়ে বঙ্গবন্ধুকে কাবু করার চেষ্টা করেছে। কারাগারে শারীরিক অসুস্থতা তাঁকে কষ্ট দিয়েছে। কিন্তু মানসিকভাবে তিনি, কখনও ভেঙে পড়েন নি। কঠিন ব্যক্তিত্ব এবং দৃঢ় মনোবল তাঁকে আরও প্রত্যয়ী করেছে। লক্ষ্য অর্জনে অবিচল বিশ্বাস তাঁকে যে কোনো ত্যাগ স্বীকারে বিন্দুমাত্র কুণ্ঠিত করেনি। ফরিদপুর জেলা কারাগার থেকে ২১.১২.১৯৫০ তারিখে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীকে লেখা পত্রে বঙ্গবন্ধুর ইস্পাতকঠিন মনোবলের প্রমাণ পাওয়া যায়। তিনি লিখেছেন-
“I do not know, how long this case will continue, any how I do not care for that. … I know, those who prepared to die for any cause are seldom defeated. Great things are achieved through great sacrifices.” (P. 556)

প্রথম খ- প্রকাশিত হয়েছে, আরও ১৩টি খ- প্রকাশিত হলে ১৯৪৮-১৯৭১ সাল পর্যন্ত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সংগ্রামী জীবনের নানা অধ্যায় সম্পর্কে আরও স্বচ্ছ, বস্তুনিষ্ঠ ধারণা পাওয়া যাবে। ইতিহাসের উৎস হিসেবে এই হাজার হাজার পৃষ্ঠা নথিপত্রের মূল্য অপরিসীম। বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক জীবন থেকে বাংলাদেশের অভ্যুদ্বয়ের ইতিহাসকে পৃথক করা যায় না। বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ অবিচ্ছেদ্য। বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ পর্বের গোপনীয় নথিপত্র উন্মুক্ত করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের কৃতজ্ঞতা পাশে আবদ্ধ করেছেন।

শ্রেণী:

কোটাবিরোধী আন্দোলন ও ছাত্রলীগ

Posted on by 0 comment
28

28স্বদেশ রায়: কোটাবিরোধী আন্দোলনের নেতৃত্বে যে শিবির ও ছাত্রদল ছিল আর তাদের পেছনে ছিল বিএনপি-জামাতÑ এ নিয়ে এখন আর কারও কোনো সন্দেহ নেই। এ আন্দোলনের উদ্দেশ্য ছিল সাধারণ ছাত্রদের প্রতারণা করে সরকার উচ্ছেদের আন্দোলন করা, একটি সহিংসতার মধ্য দিয়ে আইন বহির্ভূতভাবে খালেদাকে জেল থেকে বের করাÑ আর এ নিয়েও এখন যদি কেউ প্রশ্ন তোলে তাহলে ধরে নিতে হবে তিনি জামাত-বিএনপির পক্ষ হয়ে কাজ করছেন। তবে আন্দোলনের ভেতর দিয়ে দল হিসেবে আওয়ামী লীগের যে লাভটি হয়েছে তারা ক্ষমতায় আসার ৯ বছর পরে তাদের ছাত্র সংগঠনের প্রকৃত রূপটি চিনতে পেরেছে। এমন কি ইচ্ছে করলে বাসদ ও কমিউনিস্ট পার্টিও তাদের ছাত্র সংগঠনের প্রকৃতরূপ এই আন্দোলনের ভেতর দিয়ে চিনতে পারে। বাস্তবে এই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বেরিয়ে এসেছে, ছাত্রলীগ, ছাত্র ইউনিয়ন ও ছাত্র ফ্রন্টের মধ্যে গত ৯ বছরে শিবিরের অনুপ্রবেশ ঘটেছে সীমাহীনভাবে। এখানে জামায়াতে ইসলামী নীতি অনুসরণ করেছে কমিউনিস্ট পার্টির। কমিউনিস্ট পার্টি যেমন অবিভক্ত ভারতে কংগ্রসের মধ্যে, মুসলিম লীগের মধ্যে ঢুকে তাদের কাজ করার নীতি অনুসরণ করত, জামায়াতে ইসলামী এখন ঠিক সেই কাজটি করছে। বাস্তবে নীতি বা উদ্দেশ্যের পার্থক্য থাকলেও কমিউনিস্ট পার্টি ও ধর্মীয় মৌলবাদীদের কর্মপন্থা একই রকম। তাই জামাত যত সহজ ও সুন্দরভাবে কমিউনিস্ট পার্টির নীতি ও কৌশল অনুসরণ করতে পারবে, এবং করে লাভবান হবে কোনো মাস পিপলের পার্টি অর্থাৎ আওয়ামী লীগ, কংগ্রেস এদের পক্ষে সেটা সম্ভব নয়।
যে কোনো পার্টির ভেতর অন্য একটি পার্টির আদর্শের বা লক্ষ্যের লোকজন উদ্দেশ্যমূলকভাবে ঢোকা সব সময়ই খারাপ। আওয়ামী লীগ সৃষ্টির পরপরই যখন কমিউনিস্ট পার্টির লোকজন খুব বেশি আওয়ামী লীগে প্রবেশ করতে থাকে, সে সময়ে বঙ্গবন্ধুর নেতা, আওয়ামী লীগের নেতা হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী কিন্তু অত্যন্ত সচেতন ছিলেন এ বিষয়ে। এম আর আখতার মুকুল প্রায় বলতেন, ১৯৫৪-র যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনের সময় হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী প্রায়ই বঙ্গবন্ধুকে (তৎকালীন তরুণ নেতা শেখ মুজিব) বলতেন, মুজিব দেখ বেশি লাল মিয়ারা যেন আমাদের দলের হয়ে মনোনয়ন না পায়। তাছাড়া তিনি দু-একজনকে চিহ্নিত করে, তাদের সঙ্গে রসিকতার ছলে বলতেন, তোমাদের মতো আর কত লাল মিয়া আমাদের মধ্যে ঢুকে পড়েছে। সেদিন এই লাল মিয়ারা বেশি পরিমাণে আওয়ামী লীগে ঢুকে পড়ার কারণেই কিন্তু ১৯৫৭ সালে আওয়ামী লীগ ভাঙেÑ আর ন্যাশনাল আওয়ামী লীগ (ন্যাপ)-এর জন্ম হয়।
আজ অবশ্য ছাত্রলীগে বা আওয়ামী লীগে জামাত-শিবির অনুপ্রবেশ করে ১৯৫৭-এর মতো আওয়ামী লীগকে দ্বিখ-িত বা ১৯৭২-এর মতো ছাত্রলীগকে দ্বিখ-িত, ১৯৮৪-র মতো আওয়ামী লীগ থেকে বেরিয়ে গিয়ে বাকশাল করার মতো শক্তি তৈরি করার কোনো উপায় নেই। কারণ, এখন শেখ হাসিনার বলয় থেকে বেরিয়ে যে কোনো কিছু করা সম্ভব নয় এটা গোপন শত্রুরাও বোঝে। তাই এই ২০১৮-তে তাদের নীতি হলো আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগে প্রবেশ করে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের প্রাণশক্তিকে নষ্ট করে দেও। ছাত্রলীগের প্রাণশক্তি যে তারা অনেকখানি নষ্ট করতে পেরেছে তা বোঝা গেল এই কোটাবিরোধী আন্দোলনে ছাত্রলীগের অসহায়ত্ত দেখে। তবে একদিক থেকে এটা ছাত্রলীগ, আওয়ামী লীগ ও বাংলাদেশের আশা-ভরসার কেন্দ্রস্থল শেখ হাসিনার জন্য ভালো হয়েছে। কারণ, শেখ হাসিনা প্রকৃত সত্যটি জানতে পারলেন যে তার ছাত্রলীগের ভেতর কতটা ঘুণপোকা ধরেছে। তিনি এখন নিঃসন্দেহে এর থেকে উত্তরণের পথ খুঁজে বের করতে পারবেন।
প্রথমত; এই কোটাবিরোধী আন্দোলনের পরে এটা স্পষ্ট হয়ে গেছে যে, ছাত্রলীগ যাদের দ্বারা দেখভাল করা হয়েছে, ও ছাত্রলীগের যে নেতৃত্ব আছে তারা শতভাগ যোগ্য নন। কেন তারা যোগ্য নন, এ বিষয়টির কারণ খুঁজতে হবে ব্যর্থতার মধ্যে। এখানে ছাত্রলীগের এবং ছাত্রলীগকে দেখভাল করেছে তাদের সব থেকে বড় ব্যর্থতা, ভার্চুয়াল জগৎ দিয়ে বা সোশ্যাল মাধ্যমে যে এত গুজব ছড়ানো হচ্ছে আর সাধারণ ছাত্রদের প্রতারণা করে একত্রিত করা হচ্ছেÑ এর কাউন্টার কিছু ভার্চুয়াল জগৎ দিয়ে বা সোশ্যাল মাধ্যমে ছাত্রলীগ প্রতিরোধ করতে পারেনিÑ এই কোটাবিরোধী আন্দোলনের সময়। অন্যদিকে যারা ছাত্রলীগকে নিয়ন্ত্রণ করে তারাও এ কাজে ছাত্রলীগকে নিয়োজিত করতে পারেনি। উভয়কে এখানে অসহায় দেখা গেছে। তাছাড়া উভয়ই উপলব্ধি করতে পারেনি, সোশ্যাল ফোরাম কতটা শক্তিশালী। অথচ সহজে তাদের বোঝা উচিত ছিল এর আগে এই সোশ্যাল ফোরামের মাধ্যমে পজিটিভ আন্দোলন গণজাগরণ মঞ্চ হয়েছে আবার নেগেটিভ আন্দোলন মাহমুদুর রহমানের ও বিএনপি-জামাতের তত্ত্বাবধায়নে হেফাজতের আন্দোলন হয়েছে। এর থেকে বোঝা যায়, ইতিহাস থেকে যে শিক্ষা নিতে হয় সেটা ছাত্রলীগ নেতৃত্ব ও ছাত্রলীগকে যারা দেখভাল করে তারা কেউই নেয়নি। না হয় তারা এই ভার্চুয়াল জগতের শক্তি উপলব্ধি করতে অক্ষম। তাই এবারের কাউন্সিলের পরে আগামীতে যে ছাত্রলীগ হবে সেই ছাত্রলীগের নেতৃত্বকে অন্তত এতটুকু যোগ্যতাসম্পন্ন হতে হবে, তারা যেন বর্তমানের এই সোশ্যাল মাধ্যমের ক্ষমতা বোঝে। তারা যেন খোঁজখবর রাখে, কীভাবে এই সোশ্যাল মাধ্যম ট্রাম্পের নির্বাচনে কাজ করেছে, ব্রেক্সিটে কাজ করেছে। আর ছাত্রলীগের যে অবশ্যই একটি সোশ্যাল মাধ্যম শক্তি বা ইউনিট সারাদেশে গড়ে তুলতে হবেÑ এটা যেন নেতৃত্বের মাথায় থাকে। অন্যদিকে ছাত্রলীগের দেখভালের দায়িত্ব এখন নতুন প্রজন্মের হাতে দিতে হবে, যারা বর্তমানের এই প্রযুক্তির বিশ্বের ক্ষমতা অ্যানালিসিস করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার যোগ্যতা রাখেন। কারণ, ডিজিটাল বাংলাদেশ হওয়াতে এখন স্মার্ট ফোনের এক একটি জেনারেশনের সঙ্গে সঙ্গে তরুণদের এক একটি জেনারেশন বদলে যাচ্ছে। এই বদলকে ধরতে হবে। এ বদল ধরতে না পারলে সময়ের কাছে হেরে যাওয়া ছাড়া কোনো পথ খোলা নেই।
এরপরে যে কঠোরতা দরকার তা হলো ছাত্রলীগে অনুপ্রবেশকারী ঠেকানো। এই অনুপ্রবেশকারী ঠেকানোর প্রশ্ন আজ কেন আসছে? কেন অনুপ্রবেশ করার সুযোগ পেল? ২০০৯-এ ক্ষমতায় আসার পরেই শেখ হাসিনা দৃঢ়ভাবে বলেছিলেন, আমাদের যথেষ্ট লোক আছে, আমাদের অন্য দলের কাউকে নেওয়ার প্রয়োজন নেই। বাস্তবে আওয়ামী লীগের ছাত্রলীগের নেতৃত্ব বেছে বের করা এখন খুবই সহজ। কারণ, এখন চার প্রজন্মের, পাঁচ প্রজন্মের আওয়ামী লীগ পরিবার দেশে দাঁড়িয়ে গেছে, মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবার আছে। তাই ছাত্রলীগের নেতৃত্ব খোঁজার জন্য আওয়ামী লীগকে বাইরে যাবার কোনো দরকার নেই। এখন যেটা দরকার, একঝাঁক শিক্ষিত ও নিবেদিত নেতৃত্ব খুঁজে বের করা। এখানে কেউ যেন কারও কোটারি তৈরি না করে। ১৯৭৫-এর ১৫ আগস্টের পর থেকে দেখে এসেছি, ছাত্রলীগের সব থেকে বড় শত্রু আওয়ামী লীগের বিভিন্ন নেতার কোটারি। ছাত্রলীগের মূল নেতা শেখ হাসিনা, তার বাইরে তাদের কোনো নেতা নেইÑ তার বাইরে আছে শুধু ছাত্রলীগ। যে সকল তরুণের বুকে দৃঢ়ভাবে আছে ছাত্রলীগ তাদেরই নেতৃত্বে আনার শিক্ষা এই কোটাবিরোধী আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগ নিশ্চয়ই পেয়েছে।
অন্যদিকে আওয়ামী লীগের জন্য একটা বড় চ্যালেঞ্জ হলো, তাদের ছাত্রলীগকে মিডিয়া সব সময়ই নেগেটিভভাবে চিহ্নিত করে। ছাত্রলীগের ছেলেদের সময়ই কম মেধাবী, গু-া এমনি ধরনের নানান অভিধায় চিহ্নিত করা হয়। ছাত্রদলের সভাপতি ছিল পিন্টু, চিহ্নিত গু-া, অশিক্ষিত। বাংলাদেশের মিডিয়ার তা নিয়ে কোনো রা ছিল না। শিবিরের কত নেতা কত ছেলের রগ কেটেছে তা নিয়ে আজও বাংলাদেশের কোনো মিডিয়ায় কোনো রিপোর্ট হয়নি। অথচ শিবির তাড়াতে গিয়ে, বিএনপির সন্ত্রাস ঠেকাতে গিয়ে যেসব মামলা হয়েছে ছাত্রলীগ নেতাদের নামে তাদের ওই সব মামলার হিসাব দিয়ে মিডিয়ায় চিহ্নিত করা হয়, এরা এতগুলো মামলার আসামি। ছাত্রলীগ নিয়ে সাগর পাড়ি দিতে আওয়ামী লীগকে কেন যে এই ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ সময় সর্বদা পার হতে হয় এ এক বড় রহস্য। তবে এ রহস্যের মূল অত্যন্ত সোজা। এর কারণ, অধিকাংশ ক্ষেত্রে ১৯৭৫-এর ১৫ আগস্টের পর সামরিক শাসনের বেনিফিসিয়ারি, এমনকি যারা বিভিন্ন সময় আওয়ামী লীগ ভাঙার পরে ওই সব দলে গেছে তারাই মিডিয়ার নানান স্থানে। অন্যদিকে পাকিস্তান আমল থেকে তথাকথিত সুশীল সমাজ আওয়ামী-বিরোধী, এর একমাত্র কারণ এই সুশীল সমাজ মূলত রক্ষণশীল অর্থাৎ কট্টর মুসলিম লীগ ও সামরিক শাসনের দাস। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ মূলত সৃষ্টি হয় মুসলিম লীগের উদারনৈতিক অংশের সমন্বয়ে। যে কারণে আজ যেমন এক শ্রেণির বুদ্ধিজীবী ছাত্রলীগকে গু-া হিসেবে চিহ্নিত করে, ছাত্রলীগার মানেই অশিক্ষিত, খারাপ ছাত্র হিসেবে চিহ্নিত করে। পাকিস্তান আমলে বদরুদ্দীন ওমরের মতো বহু তথাকথিত বাম ও ছদ্মবেশী ডানরা তৎকালীন আওয়ামী লীগকে গু-াদের পার্টি হিসেবে চিহ্নিত করার চেষ্টা করত। মূলত অগণতান্ত্রিক শক্তির হাতকে শক্তিশালী করার জন্য। এমনকি তারা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর মেধা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। আজ বঙ্গবন্ধুর ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’, ‘কারাগারের রোজনামচা’ বের হওয়ার পরে তাদের অনেক চেলা চামু-াদের মুখে বঙ্গবন্ধুর মেধার প্রশংসা শুনি। অথচ সেদিনও ভেবে দেখা হয়নি এই ভূখ-ে একমাত্র নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব যিনি, সব সময়ে ভবিষ্যৎ ভেবে সিদ্ধান্ত নিতেন এবং তার সিদ্ধান্তে তিনি মৃত্যুকে স্বীকার করেও অটল থাকতেন। একমাত্র সর্বোচ্চ প্রজ্ঞাবান ব্যক্তি ছাড়া এটা সম্ভব হয় না। তাই আজও অনেকের স্বীকার করতে দ্বিধা হয়, তবে ভবিষ্যতের ইতিহাস বলবে, এই ভূখ-ে বঙ্গবন্ধুর জীবদশ্মায় যত রাজনীতিক ছিলেন কেউই রাজনৈতিক ধীশক্তিতে তার ধারে কাছে ছিলেন না। অথচ এর বদলে তখন মিডিয়া বঙ্গবন্ধু ও আওয়ামী লীগকে ভিন্নভাবে চিহ্নিত করত।
আগামীতে যারা ছাত্রলীগের নেতা হবে, তাদের মাথায় রাখতে হবে মিডিয়ার সহযোগিতা তারা খুব বেশি পাবে না। তাদের তাই বঙ্গবন্ধুর মতো লক্ষ্যে স্থির থেকে দৃঢ়চিত্ত নিয়ে কাজ করতে হবে। আর পাশাপাশি সোশ্যাল মাধ্যমের টিমকে সর্বোচ্চ শক্তিশালী করতে হবে। অন্য আরেকটি হীনমন্যতা থেকে তাদের বের হয়ে আসতে হবে। মিডিয়া ছাড়াও সারাক্ষণ নানানভাবে প্রচার করা হয় ছাত্রশিবিরের ছেলেমেয়েরা মেধাবী ও সৎ। মোটেই তা নয়। ছাত্রলীগের ছেলেমেয়েরা তাদের থেকে অনেক মেধাসম্পন্ন, কারণ তারা উদার চিন্তার ধারক-বাহক। শুধু তাদের দিন ও রাতের ভেতর একটা সময় বের করে পড়াশোনা করতে হবে। অন্যদিকে শিবিরকে সৎ ভাবার কোনো কারণ নেই, কারণ তারা রাজাকারের সন্তান। একজন খুনি ও ধর্ষকের ছেলে কখনও সৎ হতে পারে না। মূলত তাদের অপরাধকে ঢেকে দেওয়ার জন্য এক শ্রেণির লোক তাদের পক্ষ হয়ে এই প্রচার করে। শুধু তাই নয় তাদের চোখ-কান খোলা রেখে সবকিছু বুঝতে হবে। যেমন গণজাগরণ মঞ্চের সময় মতিউর রহমান নিজে উদ্যোগ নিয়ে হাসনাত আবদুল হাইকে দিয়ে লাকির চরিত্র হনন হয় এমন গল্প লিখিয়ে তার পত্রিকায় ছেপেছিলেন আর এ মুহূর্তে দুজন ছাত্রীকে রাত ১১টার পরে তাদের গার্জেনের কাছে দেওয়া হলে তার প্রতিবাদে চৈনিক কমিউনিস্ট সৈয়দ আবুল মুকসুদ বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে বলে এই প্রথম প্রাতিষ্ঠানিকভাবে নারী নির্যাতন হয়েছে। তাই এসব ভ-দের চিনেই ছাত্রলীগকে ভবিষ্যতের রাজনীতি করতে হবে।

শ্রেণী:

বুদ্ধিজীবী দিবস : কলঙ্কময় দিন

Posted on by 0 comment

তানভীর ইমামঃ ১৪ ডিসেম্বর। শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস। আজ দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তানদের হারানোর দিন। বাঙালি জাতির ইতিহাসে আরেক বেদনাদায়ক দিন। ১৯৭১ সালের এই দিনে পাকবাহিনীর সাথে আমাদের চূড়ান্ত বিজয় যখন নিশ্চিত, ঠিক তখন হানাদার বাহিনী ও তাদের এ দেশীয় দোসর রাজাকার, আলবদর, আলশামস বাহিনী জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বরেণ্য শিক্ষাবিদ, গবেষক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, সাংবাদিক, কবি ও সাহিত্যিকদের রাতের আঁধারে চোখ বেঁধে বাসা থেকে ধরে নিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে। স্বাধীনতা-বিরোধী এই চক্রটি বুঝতে পেরেছিল, পরাজয় তাদের অনিবার্য। তারা বুঝতে পেরেছিল জাতির এই শ্রেষ্ঠ সন্তান বুদ্ধিজীবীরা বেঁচে থাকলে এ দেশ দ্রুত এগিয়ে যাবে। তাই পরিকল্পিতভাবে জাতিকে মেধাহীন ও পঙ্গু করতে রাতের অন্ধকারে এই পৈশাচিক কায়দায় হত্যাকা- চালানো হয়। পাকবাহিনী ও তাদের এ দেশীয় দোসররা এই বর্বর হত্যাযজ্ঞের পর ঢাকার মিরপুর, রায়েরবাজারসহ বিভিন্ন স্থানে বুদ্ধিজীবীদের লাশ ফেলে রেখে যায়। ১৬ ডিসেম্বর মুক্তিযুদ্ধে বিজয় অর্জনের পরপরই শহীদ বুদ্ধিজীবীদের নিকট আত্মীয়রা এসব স্থানে গলিত ও ক্ষত-বিক্ষত লাশ খুঁজে পায়। লাশের গায়ে ছিল আঘাতের চিহ্ন। চোখ, হাত-পা ছিল বাঁধা। কারও কারও শরীরে ছিল একাধিক গুলি। কারও চোখ উপড়ে ফেলা হয়েছে। অনেককে হত্যা করা হয়েছিল ধারাল অস্ত্র দিয়ে। লাশের ক্ষত চিহ্নের কারণে অনেকেই তাদের প্রিয়জনের মৃতদেহ শনাক্ত করতে পারেন নি। স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের অভ্যুদয়ে এসব বুদ্ধিজীবী মেধা, মনন ও তাদের লেখনির মাধ্যমে স্বাধীনতার সংগঠক ও মুক্তিকামী বাঙালির প্রেরণা জুগিয়েছেন। আর সেটিই কাল হয়ে দাঁড়ায় তাদের জন্য। এসব বরেণ্য বুদ্ধিজীবীর তালিকা নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে তৎকালীন জামায়াতে ইসলামীর সশস্ত্র সংগঠন কুখ্যাত আলবদর ও আলশামস বাহিনী। পেছন থেকে মদদ জোগায় এ দেশের দায়িত্বে থাকা পাকিস্তানি জেনারেল রাও ফরমান আলী।
১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বরের এই হত্যাকা- ছিল পৃথিবীর ইতিহাসে জঘন্যতম বর্বর ঘটনা। যা বিশ্বের শান্তিকামী মানুষকে স্তম্ভিত করেছিল। ১৯৭২ সালে প্রকাশিত বুদ্ধিজীবী দিবসের সংকলন (জাতীয়ভাবে), পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ এবং আন্তর্জাতিক নিউজ ম্যাগাজিন ‘নিউজ উইক’-এর সাংবাদিক নিকোলাস টমালিনের লেখায় উল্লেখ রয়েছে শহীদ বুদ্ধিজীবীর সংখ্যা ১০৭০। অবশ্য পরবর্তীকালে এই সংখ্যা আরও বেশি বলা হয়েছে বিভিন্ন জার্নালে।
স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে ’৭১-এর ২৯ ডিসেম্বর গঠিত বুদ্ধিজীবী তদন্ত কমিটির রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, রাও ফরমান আলী এ দেশের ২০ হাজারের মতো বুদ্ধিজীবীকে হত্যার পরিকল্পনা করেছিল। কিন্তু বিজয় সন্নিকটে হওয়ায় পরিকল্পনা অনুযায়ী হত্যাকা-ের চূড়ান্ত বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। তথ্যে জানা যায়, ফরমান আলীর টার্গেট ছিল শীর্ষ বুদ্ধিজীবীদের গভর্নর হাউসে দাওয়াত করে এবং সেখানেই তাদের মেরে ফেলা। ওই সময় বুদ্ধিজীবী তদন্ত কমিটির প্রধান জহির রায়হান (বিশিষ্ট চলচ্চিত্রকার) বলেছিলেন, এরা নির্ভুলভাবে বাংলাদেশের গণতন্ত্রমনা বুদ্ধিজীবীদের বাছাই করে আঘাত হেনেছে। উল্লেখ্য, কমিশনের আহ্বায়ক জহির রায়হান নিখোঁজ হন ১৯৭২ সালের ৩০ জানুয়ারি। জহির রায়হান তার অগ্রজ সাংবাদিক শহীদুল্লাহ কায়সারের সন্ধানে মিরপুর বিহারি পল্লিতে যাওয়ার পর নিখোঁজ হন বলে উল্লেখ রয়েছে। এখানে উল্লেখ্য, মিরপুর মুক্ত হয় ৩১ জানুয়ারি। তার আগে এই অঞ্চলটি ছিল আলশামস বাহিনীর দখলে।
বাংলাদেশ সরকারের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ একটি তদন্ত কমিশন গঠনের সিদ্ধান্ত নেন ১৯৭১ সালের ৩১ ডিসেম্বর। কিন্তু তার এ সিদ্ধান্তটি সর্বশেষ আলোর মুখ দেখেনি।
বুদ্ধিজীবী নিধন তদন্ত কমিশন প্রণীত একটি দলিলে উল্লেখ রয়েছে, বুদ্ধিজীবী হত্যায় যারা ভূমিকা রাখে তাদের মধ্যে রয়েছে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ব্রিগেডিয়ার রাজা, ব্রিগেডিয়ার আসলাম, ক্যাপ্টেন তারেক, কর্নেল তাজ, কর্নেল তাহের, ভিসি প্রফেসর ড. সৈয়দ সাজ্জাদ হোসাইন, ড. মোহর আলী, আল বদরের শীর্ষ নেতা এবিএম খালেক মজুমদার, আশরাফুজ্জামান খান ও চৌধুরী মাইনুদ্দীন। মূল নেতৃত্ব দেন মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলী।
১৪ ডিসেম্বরের মাত্র ১০ দিন আগে (৪ ডিসেম্বর) ঢাকায় নতুন করে কারফিউ জারি করা হয়। ডিসেম্বরের ১০ তারিখ থেকে বুদ্ধিজীবী হত্যাকা-ের প্রস্তুতি নেওয়া হতে থাকে। ১৪ ডিসেম্বর পরিকল্পনার মূল অংশ বাস্তবায়ন হয়। সেদিন প্রায় ২০০ জনের মতো বুদ্ধিজীবীকে তাদের বাসা থেকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। তাদের চোখে কাপড় বেঁধে মিরপুর, মোহাম্মদপুর, নাখালপাড়া, রাজারবাগসহ রাজধানীর বহু স্থানে নির্যাতন কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাদের ওপর বর্বর ও বীভৎস নির্যাতন চালানো হয়। পরে তাদের হত্যা করে রায়েরবাজার এবং মিরপুর বধ্যভূমিতে ফেলে রাখা হয়। বুদ্ধিজীবী হত্যাকা-ের দুদিন পর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে পাকবাহিনী আত্মসমর্পণ করে মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনীর কাছে। মুক্তিযোদ্ধারা দীর্ঘ ৯ মাস মরণপণ লড়াই করে ৩০ লাখ শহীদ ও ৩ লাখ মা-বোনোর সম্ভ্রমের বিনিময়ে ছিনিয়ে আনেন বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা। পৃথিবীর মানচিত্রে সগৌরবে স্থান করে নেয় বাংলাদেশের মানচিত্র।
ইতিহাসের খেরোখাতায় দেখা যায়, বুদ্ধিজীবী হত্যার তালিকা প্রস্তুতে সহযোগিতা ও হত্যাকা- বাস্তবায়নের পেছনে ছিল মূলত জামাতে ইসলামীর নেতৃত্বে গড়ে ওঠা কুখ্যাত আলবদর বাহিনী। বুদ্ধিজীবী হত্যার প্রধান ঘাতক ছিলেন বদর বাহিনীর অপারেশন ইনচার্জ চৌধুরী মঈনুদ্দীন ও আশরাফুজ্জামান খান। ১৬ ডিসেম্বরের পর আশরাফুজ্জামান খানের নাখালপাড়ার বাড়ি থেকে তার একটি ব্যক্তিগত ডায়রি উদ্ধার করা হয়, যার দুটি পৃষ্ঠায় ২০ জন বুদ্ধিজীবীর নাম ও বিশ্ববিদ্যালয়ে তাদের বাসস্থানের নম্বর লেখা ছিল। তার গাড়ির ড্রাইভার মফিজুদ্দিনের দেওয়া সাক্ষ্য অনুযায়ী রায়েরবাজারের বিল ও মিরপুরের শিয়ালবাড়ি বদ্ধভূমি থেকে কয়েকজন বুদ্ধিজীবীর গলিত লাশ পাওয়া যায়, যাদের আশরাফুজ্জামান নিজ হাতে গুলি করে হত্যা করে। আর পূর্ব দেশের সাংবাদিক চৌধুরী মঈনুদ্দীন ’৭১ সালে জামাতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা ছিল। মহান মুক্তিযুদ্ধে এ দুজনের অপরাধ চিহ্নিত করে আন্তর্জাতিক মানবতাবিরোধী অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) তাদের মৃত্যুদ-ের রায় দেন। বিদেশে পালিয়ে থাকায় তাদের রায় কার্যকর করা সম্ভব হয়নি। তবে মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের কারণে তাদের এ দেশীয় সহযোগী ও শীর্ষ রাজাকার গোলাম আজম, মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী, আলী আহসান মুজাহিদ, কামরুজ্জামান, কাদের মোল্লা, সাকা চৌধুরী, মীর কাশেম আলী ও দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীসহ বিভিন্নজনের শাস্তি হয়েছে, রায় কার্যকর করা হয়েছে।
দেশের মেধাবী ও শ্রেষ্ঠ সন্তান বুদ্ধিজীবীদের স্মৃতিঘেরা শোকাবহ এই দিনে তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাই। স্বাধীনতার দীর্ঘদিন পরে হলেও গোটা জাতি ও শহীদদের স্ত্রী-পুত্র-কন্যা এবং স্বজনরা আনন্দিত এই জন্য যে, বুদ্ধিজীবী হত্যাকারী শীর্ষ যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হয়েছে, সর্বোচ্চ শাস্তি হয়েছে। অপেক্ষমাণ অনেকেরই শাস্তির প্রক্রিয়া চলছে। এসব সম্ভব হয়েছে যুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সরকার আজ রাষ্ট্র ক্ষমতায় থাকায়। স্বাধীনতার ৪৬ বছর পর হলেও জাতি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে কলঙ্কমোচনের সুযোগ পেয়েছে।
লেখক : সংসদ সদস্য, সিরাজগঞ্জ-৪

শ্রেণী:

আনান কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়িত করতে হবে

41
41

রোহিঙ্গা সমস্যা ড. ইমতিয়াজ আহমেদ

উত্তরণ : রোহিঙ্গা সমস্যাটিকে আপনি কীভাবে দেখছেন?
ইমতিয়াজ আহমেদ : দুটো জিনিস আমার মনে হয় খুব জরুরি। ১. মিয়ানমারের আরাকান প্রদেশে এক ধরনের সংঘর্ষ হয়েছে এবং যেভাবে ফুটেজ এসেছে, নিউজ মিডিয়া কভার করেছে, বিশেষ করে ইন্টারন্যাশনাল মিডিয়া, সেখানে হয় মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর সহায়তায় বা মিয়ানমার বাহিনীর নীরবতায় একটি সংঘর্ষ হয়েছে। সেই সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে রীতিমতো রোহিঙ্গাদের ওখান থেকে বের করে দেওয়া হচ্ছে। বের করার ফলে ইতোমধ্যেই ২ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।
প্রথমত; মানবিক বিবেচনায় যেহেতু শিশু ও নারী রয়েছে সেহেতু এখানে তাদের আশ্রয় দেওয়া হলো প্রাথমিক কাজ এবং সেই কাজটা করার জন্য একটা ‘Pro-active Policy’ দরকার। ‘Pro-active Policy’-র মধ্যে বিশেষ করে যেসব আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো আছে, যারা এ ধরনের রিফিউজি কন্ডিশনে কাজ করে তাদের সহায়তা নেওয়া, যা UNHCR থেকে শুরু করে এমন কী ইন্টারন্যাশনাল রেডক্রিসেন্টসহ বিভিন্ন যে আন্তর্জাতিক সংস্থা আছে। সেখানে একটি ‘Pro-active Policy’ করা এবং তাদের জন্য এলাকাটি খুলে দেওয়া উচিত। কারণ তারা যেন দেখে রিপোর্ট করতে পারে এবং একই সাথে আন্তর্জাতিক মিডিয়াকেও সেখানে নিয়ে দেখানো প্রয়োজন। এবং যেসব বর্ণনা আসছে সেই বর্ণনা প্রচার করা প্রয়োজন। এর একটা বড় কারণ হলো Mass Atrocities হয়েছে। তাতে ২ থেকে আড়াই লাখ লোক পালিয়ে এসেছে। যেভাবে পালিয়ে এসেছে একেবারে সবকিছু ছেড়ে। এ রকম একটা পরিস্থিতিতে বোঝা যাচ্ছে যে, সেখানে Crime Against Humanity হয়েছে। এখন Crime Against Humanity , ২০১৭-তে হওয়া আর সত্তর দশকে বা নব্বই দশকে যখন এসেছিল, তার মধ্যে মৌলিক পার্থক্য আছে।
সত্তর দশকে যখন ৩ লাখ বা ওই পরিমাণ লোক তখনও ওরা বিতাড়িত করেছে, আবার ফেরত গেছে UNHCR-এর মাধ্যমে। নব্বই দশকেও তাই হয়েছে। নব্বই দশকে বা সত্তর দশকে এতগুলো আন্তর্জাতিক লিগ্যাল ইনস্ট্রুমেন্ট ছিল না। এটা এখন হয়েছে। সেটা ইন্টারন্যাশনাল সিভিল কোর্ট থেকে শুরু করে R2P (Responsibility to Protect) সেটা জেনারেল অ্যাসেম্বলি দ্বারা পাস করানো, তার ওপরে যেটা আমরা দেখতে পারছি সেটা হলো একেবারে Crime Against Humanity এমন কী ধর্ষণের ব্যাপারেও সুনির্দিষ্ট যেটা জেনোসাইডাল সেটাও একটা লিগ্যাল ইস্যু তৈরি হয়েছে। সেই হিসেবে একটা Mass Atrocities করে বা  Crime Against Humanity করে বা Ethnic Cleansing এমন কী ডেসমন্ড টুটু বলেছেন, জেনোসাইড ভালো যেই করে পার পাওয়া কোনো সুযোগ নেই। সেটা প্রচার করা প্রয়োজন এবং আন্তর্জাতিকভাবে সেটা প্রচার করা প্রয়োজন এবং আন্তর্জাতিক মিডিয়া, জাতীয় মিডিয়া সব জায়গায় প্রচার করা।
দ্বিতীয়ত; একটা স্থায়ী সমাধান দরকার। কারণ সত্তর দশকে একবার হয়েছে। নব্বই দশকে একবার হয়েছে। এই যে বারবার তারা করছে এবং Almost তিন জেনারেশন ধরে তারা stateless রয়ে গেছে। সেই জায়গায় আমার মনে হয়, ‘Pro-active Policy’ আমাদের দরকার, পররাষ্ট্রনীতিতে যেটা হয় আন্তর্জাতিক সম্মেলনের মাধ্যমে আর না হলে জাতিসংঘের মাধ্যমে যেভাবেই হোক। আন্তর্জাতিক সম্মেলন জাতিসংঘের মাধ্যমে হতে পারে, জাতিসংঘের বাইরেও হতে পারে।
এখানে মনে রাখা দরকার, বাংলাদেশে যে রোহিঙ্গা রিফিউজি এসেছে শুধুমাত্র তা নাÑ একাধিক দেশে কিছু রোহিঙ্গা শরণার্থী আছে। থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ভারত, পাকিস্তান, সৌদি আরব ও মধ্যপ্রাচ্যে এমন কী ইউরোপেও আছে। সেই হিসাবে যতগুলো দেশে রোহিঙ্গা শরণার্থী আছে সব দেশকে নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই একটা আন্তর্জাতিক সম্মেলন হতেই পারে। কারণ সবার তো একটা চিন্তা-ভাবনা আছে এ বিষয়টির ভবিষ্যৎ কী? সেই আন্তর্জাতিক সম্মেলন একেবারেই যে জাতিসংঘের মাধ্যমে করতে হবে তা না। কারণ জাতিসংঘের মাধ্যমে প্রসেস করতে হলে অনেক ধরনের আমলাতান্ত্রিকতা থাকে এবং পাঁচ সদস্যের সমর্থন থাকতে হয় ইত্যাদি। সেটাও আমি বাদ দিতে চাচ্ছি না। সেই প্রসেসও চালু করা উচিত, যা ইতোমধ্যে আমাদের সরকার বলেছে তারা জাতিসংঘে উত্থাপন করবে। সেই সাথে জাতিসংঘের বাইরেও এই পদক্ষেপ নেওয়া উচিত বলে আমি মনে করি। ওখানে যে জিনিসটা হাইলাইটস করা দরকার তা হলো Crime Against Humanity..
এই দুটো ‘Pro-active policy’-এর যদি একটি Humanitarian ধরি, আরেকটি স্থায়ী সমাধান ধরি, তা হলে দ্বিতীয়টার মধ্যে কিছুটা অবস্থান আরও ভালো। যেহেতু ইতোমধ্যে অং সান সু চি’র কারণেই বলতে গেলে একটা ‘কফি আনান কমিশন’ রয়েছে। একটা রিপোর্টও তৈরি হয়েছে এবং সেখানে সুনির্দিষ্ট করা যেতে পারে। অনেকে হয়তো যে শব্দটা বলেছেন, Muslim Community in the Rakhain, মিয়ানমার সরকার বলছে তারা ‘বাঙালি’, সেই শব্দটা রাখেনি; আর আমরা বলছি রোহিঙ্গা সেই শব্দটিও রাখেনি। কিন্তু না রাখলেও শব্দটা তারা মিলিতভাবে রেখেছেন Muslim Community in the Rakhain. এ ব্যাপারে বলাই হয়েছে ঝঃধঃবষবংং. শেক্সপিয়রের সেই কথাÑ ‘নামে কী আসে যায়’ আমার কথাও নামে কী আসে যায়, সমাধান করতে হবে। সেই জায়গায় নাম যারা যেভাবে চায়, আজ বা কাল যে কোনো সময় রাখা যাবে। কিন্তু আমাকে তো প্রথমে তাদের অধিকার রক্ষা করতে হবে। অধিকার রক্ষা করার ব্যাপারেই সুনির্দিষ্টভাবেই কফি আনান কমিশনের রিপোর্ট আছে। যেটা অং সান সু চি নিজেই বলেছিলেন যে, তিনি এটা Abide (মেনে চলবেন) করবেন।
কিন্তু দেখা গেল রিপোর্টের পরের দিনই একটা ঘটনা ঘটল। এই যে বিভিন্ন জঙ্গিবাদী গোষ্ঠী বলা হচ্ছে, সেটা মিয়ানমারের দ্বারা তৈরি কি না সেটাও তো আমরা জানি না। এটা কারা তৈরি করছে? কারণ এ ধরনের পরিবেশে এটা হওয়াটা অস্বাভাবিক না। কারণ যারা বছরের পর বছর Stateless রয়ে গেছে সেখানে স্বাভাবিকভাবেই এক ধরনের মেলিটেন্সি এমন কী সেলফ ডিফেন্স মেলিটেন্সি তৈরি হতে পারে। আমার মনে হচ্ছে, সেখানে বড় আকারে ‘Pro-active Policy’ দরকার। এই কফি আনান কমিশনের রিপোর্টটা আছে এবং সেখানে অনেকে হয়তো বলছে যে একটা দুটি দেশ এখানে আসেনি; কিন্তু আমি মনে করি, বিভিন্ন দূত পাঠাবার মাধ্যমে তাদের বুঝানোর একটা বিষয় আছে এবং হাইলেভেল দূতও যেতে পারে। একাধিক দূতও যেতে পারে। যারা এই বিষয়ে জানেন তাদের নেওয়া যেতে পারে। তাদের সমর্থন না পেলেও অন্তত আমাদের বুঝাতে হবে। কারণ তারা হয়তো বলবে আমরা তো বুঝি না, আমরা তো অন্য সাইটে বুঝেছি। ইতোমধ্যে আমরা দেখেছি মিয়ানমার সরকার একটা ‘Pro-active Policy’ করছে বিভিন্ন জায়গায়। সেই জায়গায় আমরা যদি থেমে থাকি তা হলে যতদিন যাবে তত আমাদের ক্ষতি। আমার মনে হয়, একটা বড় ধরনের ‘চৎড়-ধপঃরাব চড়ষরপু’ দরকার।
এখানে সবকিছু যে বাস্তবায়ন হবে তা না। এখানে একটু বলে রাখি ওই যে, Crime Against Humanity, ওই কারণে আমাদের যুক্তি আরাকানে যেহেতু মিয়ানমার মিলিটারি ফেইল করেছে, To protect the resident। R2P-তে বলাই হচ্ছে Citizen and Non-Citizen। শুধু সিটিজেনের প্রোটেকশন নয়, নন-সিটিজেনেরও কথা বলা হচ্ছে। আমি ধরে নিচ্ছি, তারা নন-সিটিজেন, তারপরও প্রোটেকশন কিন্তু মিয়ানমার সরকারের দায়িত্ব, যেহেতু তারা মিয়ানমারের ভূমিতে থাকে। সেই হিসেবে যেহেতু তারা ব্যর্থ হয়েছে কাজেই আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষা ফোর্স আমরা দাবি করতেই পারি। তবে মনে রাখতে হবে, দাবি করলেই সবকিছু রাতারাতি হবে তা নয়। দাবির মাধ্যমেই প্রকাশ পাবে আমরা কতটুকু গুরুত্ব দিচ্ছি এবং সত্তর দশক আর নব্বই দশকের সেই ইতিহাসের মধ্যে থাকতে চাচ্ছি না। এবার বড় ধরনের সমাধান চাচ্ছি। আমার মনে হয়, বাংলাদেশ বড় আকারের কাজে নেমে পড়লে আন্তর্জাতিকমহলকে পাশে পাবে। ইতোমধ্যে আমরা কিছুটা সাড়া পাচ্ছি। আমেরিকা থেকে কিছুটা পজিটিভ রেসপন্স এসেছে। ডেসমন্ড টুটু থেকে শুরু করে কলকাতায় মিছিল হয়েছে, ইন্দোনেশিয়ায় মিছিল হয়েছে, মিছিল হচ্ছে বিভিন্ন জায়গায়। সেই জায়গায় আমার মনে হয় যদি ভালো স্পেস তৈরি করতে পারে তা হলে আশা করি, তাদের ফেরত যাওয়ার মাধ্যমে একটা স্থায়ী সমাধান হবে। কূটনৈতিক তৎপরতা বড় আকারে বাড়ানো দরকার, ‘Pro-active Policy’ দরকার।
আরেকটি বিষয়, আমাদের দেশের এনজিওগুলো যথেষ্ট শক্তিশালী। পৃথিবীর অন্যতম এনজিওগুলো বাংলাদেশে রয়ে গেছে। এদের কাজে লাগানো উচিত। তার চেয়ে বড় কথা যেহেতু দু-দুবার আমাদের অভিজ্ঞতা আছে আমরা জানি যে, এটা কীভাবে করতে হবে। সেখানেও একটা বড় পলিসি দরকার। কারণ সেখানেও আর্থিক এবং বিভিন্ন ধরনের সাহায্য অবশ্যই আমাদের দরকার।
উত্তরণ : মিয়ানমার সরকার যে রোহিঙ্গাদের বহিরাগত ঘোষণা করেছে, আন্তর্জাতিক আইন এবং ঐতিহাসিকভাবে তার কী কোনো ভিত্তি আছে?
ইমতিয়াজ আহমেদ : না, কোনোভাবেই না। এটা তো ওরা যখন সত্তর দশকে ’৭৮-এ যখন ফেরত গেল সেই অ্যারেজমেন্টে তারা নিজেরাই বলেছে যে ওরা ওখানকার বাসিন্দা। ওরা তো দু-দুবার ফেরত নিয়েছে। ফেরত আমি যখন নিই তার মানে কি? স্বাভাবিকভাবেই সে আমার। আমি তো ফেরত নিয়েছি। এই যে ফেরত নিয়েছে, তার সংখ্যা আছে, ঠিকানা আছে এবং তারা যদি ওদের কাগজপত্র নিয়ে যায় তা হলে কিন্তু UNHCR-এ আছে। বাংলাদেশ সরকারের কাছে আছে, সেই হিসেবে পার পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। কথা হচ্ছে, যে সমস্যাটা আমরা এখন দেখছি এটা বহু বছরের সমস্যা। সবাই ভালো করে জানে মিয়ানমার সরকার প্রথম দিকে কিছুটা অধিকার দিয়েছিল; কিন্তু আস্তে আস্তে এই অধিকার নিয়ে যাচ্ছে, তারও রেকর্ড আছে।
উত্তরণ : এছাড়া ইতোমধ্যে রোহিঙ্গাদের মাঝখান থেকে একাধিকজন মিয়ানমারের মন্ত্রী হয়েছেন; এমপি হয়েছেন, সেক্ষেত্রে এটা কী করে বলেন তারা?
ইমতিয়াজ আহমেদ : সেটা বলে পার পাওয়ার কোনো উপায় নেই। যদি ওই অবস্থা-ই হতো তা হলে আন্তর্জাতিকমহল এতটা সোচ্চার হয়ে উঠত না। কফি আনান কমিশনও হতো না। কারণ ওখানে বলাই হয়েছে Stateless। একেবারে বলাই হচ্ছে কীভাবে তারা সিটিজেনশিপ পেতে পারে। কোন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পেতে পারেÑ সবকিছু বলা হচ্ছে। সেই জায়গায় ওই কথা বলে পার পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
উত্তরণ : কোনো কোনো দেশি-বিদেশি শক্তি রোহিঙ্গাদের সশস্ত্র তৎপরতায় ইন্ধন দিয়ে প্রকারান্তরে বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করতে চাইছে, এ ব্যাপারে অভিমত বলুন।
ইমতিয়াজ আহমেদ : আমার মনে হয় না, এই শরণার্থীর মাধ্যমে বাংলাদেশ এক ধরনের ইনস্টাবল বা ওই ধরনের সমস্যায় পড়ে যাবে। বাংলাদেশে বড় ধরনের কনশাসনেস আছে রোহিঙ্গাদের সমস্যা সমাধান করতে হবে। বড় আকারে মেজরিটি শরণার্থী হলো মুসলমান। সেই হিসেবে একটা সহানুভূতি আছে। জার্নালিস্টরা ভালো বলতে পারবে। জার্নালিস্টরা জানিয়েছে, তারা (রোহিঙ্গা শরণার্থীরা) আমাদের লোকাল লেবেলে এখনও সাপোর্ট পাচ্ছে; সহানুভূতি পাচ্ছে তাদের আশ্রয় দেওয়ার ব্যাপারে। এর বড় কারণ হতে পারে তারা মুসলমান, ভাষাগত মিল আছে। আরেকটি জিনিস একাত্তরের কারণে আমাদের মধ্যে শরণার্থীর (ভারত আমাদের তখন সাপোর্ট দিয়েছে, সেহেতু একাত্তরের সাথে শরণার্থীর একটা সম্পর্ক আছে, যার জন্য প্রতিটি বাসায় এক-দুজন শরণার্থী পাওয়া যাবে আত্মীয়-স্বজন মিলিয়ে।) সেই অর্থে শরণার্থীর ব্যাপারে আমাদের সব সময় একটা দুর্বলতা রয়েছে। সব সময় চাই তারা আশ্রয় যেন নিতে পারে। তারপর আশ্রয়ের পর যে সমাধান সেই সমাধানটা যেন হয়। সেই জায়গায় আমার মনে হয় না বাংলাদেশের রাজনীতির অন্য কোনোভাবে নেওয়া। কারণ এ ব্যাপারে বড় কনশাসনেস আছে। আরেকটা বিষয় মনে রাখতে হবে, দু-দুবার কিন্তু তারা এসেছে, থেকেছে আবার চলে গেছে। কোনোবারই বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে কোনো প্রভাব পড়েনি।
উত্তরণ : রোহিঙ্গাদের ওপর নেমে আসা মানবিক বিপর্যয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এখনও তেমন সাড়া দিচ্ছেন না। আপনার কী মনে হয়?
ইমতিয়াজ আহমেদ : আমার মনে হয় এটা দেখা দরকার দুই পর্যায়ে। একটা হলো স্থায়ী সমাধানের ব্যাপারে। আমি মনে করি, কফি আনান কমিশনের রিপোর্টে যেভাবে আছে সেটাকে অং সান সু চি সরকারকে সেটা ইমপ্লান্টেশন করতে বাধ্য করানো। তাদের সহায়তাই এটা হয়েছে এবং তাদের বলেছেও এটা অনরফব করব। সেই হিসেবে সেই ল্যাঙ্গুয়েজই এটা সমাধান করতে চায় না কেন। আমি যদি ধরেও নিই Muslim Community in the RakhainÑ GB k‡ã Zviv mgvavb Ki‡Z Pv‡”Q, As a Muslim Community হিসেবে ওই জায়গায় প্রথমে একটা লিগ্যাল ইন্সট্রুমেন্ট না হলেও মোরাল ইন্সট্রুমেন্ট তৈরি হয়েছে এই কফি আনান কমিশনের রিপোর্টটি। যেহেতু কফি আনান কমিশন রিপোর্ট বের করার পর বলতে গেলে সাথে সাথে এ ধরনের রি-অ্যাকশনের। একই সাথে আরেকটা বিষয় খেয়াল রাখতে হবে যে, অভ্যন্তরীণ রাজনীতির সাথে এ বিষয়টি পড়ে না যায়। অভ্যন্তরীণ রাজনীতি বলতে আমি বুঝাচ্ছি বাংলাদেশের না, মিয়ানামারের যে অভ্যন্তরীণ রাজনীতি মূলত অং সান সু চি’র সাথে আর্মিদের মারামারিটি। এই মারামারি একেবারে সিরিয়াস মারামারি। আর্মির দল স্বাভাবিকভাবে চেষ্টা করছে বুঝাতে যে, অং সান সু চি (has failed to protect) মিয়ানমারের নেতৃত্ব দিতে ব্যর্থ। এখন যদি সু চি রোহিঙ্গাদের পক্ষ নেয় তখন ‘এত বৌড্ডিষ্ট নয়’ এভাবে বলবে। এই জায়গায় অং সান সু চিও বিপদে পড়েছে। তার ওপর সব ফোকাস পড়েছে। সেখানে আমি মনে করি, Focus should be Military. Military এই কর্মকা- শুরু করেছে অন্তত অং সান সু চি একটি কমিশন রিপোর্ট তৈরি করেছে। অনেকে বলছে চোখ দেখানোর জন্য। তাই যদি হয় সেটা তো বের হয়েছে। সেই জায়গায় আমাদের ফেইস হওয়া উচিত। ওখানকার সেনাবাহিনী প্রথমত; ওখানকার বাসিন্দাদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ, দ্বিতীয়ত; তারা একটা Mass Atrocities মাঝে জড়িত। ওই Mass Atrocities যদি আমি লিগ্যাল ইনস্ট্রুমেন্ট দেখি তা হলে ওই জায়গায় সেইভ জোন না বললেও অন্তত আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষী বাহিনী যেন নিরাপত্তা দিতে পারে। যেহেতু মিয়ানমার সেনাবাহিনী ব্যর্থ।
আজকে যদি মিয়ানমার সেনাবাহিনী ফেইল না করত তারা যদি নিরাপত্তা দিতে পারত সেই হিসেবে তারা যদি এমন একটা ব্যবস্থা করত যেখানে আড়াই লাখ লোককে পালিয়ে আসতে হতো না এপারে। তা হলে আমরা বুঝতে পারতাম, তাদের নিরাপত্তা বাহিনী যথেষ্ট প্রফেশনাল। তারা কেবল ইনডিপেনডেন্ট। অনেকে বলে তারাই ইন্ধন জোগাচ্ছে যেহেতু তারা ফেইল করেছে। সেই হিসেবে একটা সুযোগ তৈরি হয়েছে সেখানে একটা আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষী বাহিনী তৈরি করা। সেটা আশিয়ান ফোর্স দিয়েও হতে পারে। আশিয়ানের বাইরের ফোর্স দিয়েও হতে পারে এবং তার পরে স্থায়ী সমাধান। স্থায়ী সমাধান তখনই আসবে যখন নাগরিকের বিষয়টি আসবে। এবারও যদি নাগরিক না হন আবার ফেরত গেল আবার দু-এক বছর পর আবার এলো, সেই জিনিসটি যেন না হয়।
উত্তরণ : রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানের উপায় কী?
ইমতিয়াজ আহমেদ : আমার মনে হয়, এমনিতেই কিছুটা হয়তো দেরি হয়েছে। তবে যেহেতু প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে বলেছেন, এক. এদের আশ্রয় আমরা দেব, সেটা যথেষ্ট পজেটিভ। দ্বিতীয়. ইতোমধ্যে বলা হচ্ছে আমরা এটা জাতিসংঘে উত্থাপন করব। এবং পরে সেভ জোনের কথা বলা হচ্ছে। এগুলো স্বাভাবিকভাবে একটা সিগন্যাল দিবে মিয়ানমার সরকারকে। কিন্তু এটাকে বাড়ানো দরকার। আমি মনে করি, একাধিক দূত পাঠানো দরকার বিভিন্ন দেশে। এখন দেখা যাচ্ছে যে, ভারত এবং চীন এই দেশকে আমরা নিয়ে আসতে পারছি এবং মিয়ানমার উল্টো দেখাচ্ছে ওই দুই শক্তি তো আমাদের সাথে। এই জায়গায় আমি মনে করি, যেহেতু দুই দেশেই আমাদের কাছের এবং এই সরকারের সাথে ভারতের সাথেও ভালো সম্পর্ক, চীনের সাথেও ভালো সম্পর্ক, সেহেতু হাইলেভেল ডেলিগেশনে অন্তত বসে একটা ব্রিফ করা, নরেন্দ্র মোদিকে ব্রিফ করা, শি পিন জিংকে ব্রিফ করা। এবং ব্রিফ করে বলা এই হলোÑ এটা বারবার ঘটছে। ফলে একটি ট্রান্সপারেন্ট প্রসেসে এটা করতে হবে।
ওরা (মিয়ানমার) যদি বলে থাকে রোহিঙ্গারা আমাদের দিক থেকে এসেছে এবং ওরা বলছে, ওরা (রোহিঙ্গারা) ওরা এসেছে ৬০০ বছর আগে; ৬০০ বছর আগে বা ১৯৪৭-এর আগে যদি মিয়ানমার এসে থাকে তা হলে যে কোনো আন্তর্জাতিক আইনের তারা ওখানকার বাসিন্দা। সেই বিষয়টি আমরা রক্ষা করতে চাচ্ছি। এখানে যদি তোমরা ট্রান্সপারেন্সির মাধ্যমে আসতে চাও আমাদের কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু এভাবেই ঈৎরসব অমধরহংঃ ঐঁসধহরঃু হয়ে যাবে! আজকে না হয় আমার বর্ডারে হলো, কাল-পরশু তো তোমার বর্ডারে হতে পারে। অন্য বর্ডারে হতে পারে। তখন কি হবে।
এটা যদি আন্তর্জাতিকমহল মেনে নেয় তা হলে ভয়ঙ্কর ব্যাপার। তা হলে যে কোনো লোক তার হিসেবে বলবে, আমি এই ধর্মের লোক চাচ্ছি না বা আমি ওই ভাষার লোক চাচ্ছি না। তখন কী হবে? সেই ব্যাপারে আমি মনে করি, যে কাজটি করা হয়েছে এটাকে আরও বাড়িয়ে দেওয়া এবং এই বাড়ানোর মাধ্যমে তারাও একটা মেসেজ পাবে। Quite Diplomacy-এর সময় আর নেই। কারণ যেহেতু সবার হাতে মোবাইল ফোন, টুইটার, ফেইসবুক, সেই জায়গায় আমি যদি Quite Diplomacy করি তা হলে দেখা যাবে অন্য সাইট একাকে এমনভাবে ব্যবহার করবে তখন কিন্তু আমাদের ভয়েজটা শোনা যাবে না। তখন ওরা ভাববে কিছু শোনা যাচ্ছে না, হৈচৈ করছে না, তা হলে আমাদের এত মাথা ব্যথা কিসের? যাতে মাথা ব্যথা হয় সেদিকে আমাদের নিয়ে যেতে হবে। যার জন্য আমি মনে করি, এটাকে (রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে কূটনৈতিক তৎপরতা) আরও বাড়ানো প্রয়োজন।
উত্তরণ : রোহিঙ্গা সমস্যার শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা কতটুকু? এ ব্যাপারে জননেত্রী শেখ হাসিনা সরকারের ভূমিকাকে কীভাবে মূল্যায়ন করছেন। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে প্রধানমন্ত্রী বিশ্বশান্তির আবেদন জানান, বরাবরই তিনি জাতিসংঘ অধিবেশনে অনেক সময় হাতে নিয়ে যান এবং বিশ্ব নেতৃবৃন্দের সাথে সাক্ষাৎ করেন। এবারের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে কী ভূমিকা প্রত্যাশা করেন?
ইমতিয়াজ আহমেদ : বিষয়টি বড় আকারে উঠাতে হবে। তার দেশে আড়াই-৩ লাখ, আমি যদি আগেরগুলো ধরি তা হলে ৫ থেকে ৬ লাখ লোক অন্য দেশে বাস করছে। এটা তো বড় একটা unthinkable at refugee situation। এটা তো নাম্বার ওয়ান বিষয় হিসেবে আনতে হবে। তবে ওখানে বলার আগে সে সময়টা এখন থেকে ১৬ তারিখ যদি আমি ধরিÑ তার মধ্যে কার্যক্রমটা না করি, আমাকে ঐড়সবড়িৎশ করতে হবে। হঠাৎ করে একজন যদি শোনে প্রথমবার সে তো চৎবঢ়ধৎবফ না। তবে আগে থেকে যদি ব্রিফ করে তখন জবধপঃরড়হ হিসেবে তারাও একটা স্ট্যান্ড নিতে পারে। সেই জায়গায় যতগুলো দূতাবাস আছে তাদের আমাদের অ্যাকটিভ করতে হবে। কিন্তু তার চেয়ে বড় কথা হলো এটাকে আরও সিস্টেমেটিক্যাল যারা সরকারে আছেন, বিষয়টি ভালো করে জানেন, তাদের নিয়ে চতুর্মুখী কূটনীতি এবং বিভিন্ন জায়গায় পাঠানো। কারণ জাতিসংঘে বা নিউইয়র্কে যাওয়ার আগে যদি এই কাজটা না করি, নিউইয়র্কে এসে প্রথমবার যদি মোদি শোনেন, বা শি জিন পিং শোনেন বা চাইনিজরা শোনেন তখন তারা বলবে আমরা তো কিছুই জানি না, আমরা খোঁজ নেই, পরে জানাব। যার জন্য প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে পুরো বিষয়টিই আগে থেকে যতগুলো দেশ এমন কী যেহেতু Muslim Country  Rakhainরা বিশেষ করে মেজরিটি অনেকে হিন্দুও আছে। যেহেতু মেজরিটি অনেক মুসলিম দেশ যেমন অ্যাকটিভ। ইন্দোনেশিয়াকে আমরা দেখেছি, তার্কি আমরা দেখেছি, সৌদি আরবকে দেখেছি, সেসব জায়গাতে অ্যাকটিভ করা। আমাকে দুই জায়গায় অ্যাকটিভ করতে হবে। একটি হলো মুসলিম, আরেকটি হলো মানবিক। নন-মুসলিম রয়েছে মানুষ হিসেবে। আশিয়ানের মতো। আশিয়ানে ইতোমধ্যে ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া দুই দেশ কিন্তু ওখানে আক্রান্ত, থ্যাইল্যান্ডও ওখানে আক্রান্ত। চতুর্মুখী তৎপর থাকা দরকার, যখন প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘে নিয়ে যাবেন তখন যেন অন্তত একটা রেজ্যুলেশন আসে এবং কর্মকা- যেন আসে এবং তার কিছুটা পথ তৈরি হয়েছে। ইতোমধ্যে আমেরিকা সরকার স্ট্যান্ড নিয়েছে। সেই জায়গায় মনে করি, আমি যদি অপেক্ষা করি আগে উনি বলুক তা হলে আমার মনে হয় না এটা কাজ দেবে। তাই আগে থেকেই কাজটা শুরু করতে হবে।

সাক্ষাৎকার গ্রহণ : আনিস আহামেদ

অনুলিখন : রায়হান কবির

আলোকচিত্রী : আরিফুল ইসলাম সোহেল

 

শ্রেণী:

নিত্যপণ্যে কোনো ভ্যাট থাকছে না

Posted on by 0 comment
63

প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী প্রস্তাবিত বাজেটে ১২৭ পণ্য ও সেবা খাতে ভ্যাট অব্যাহতি সুবিধা থাকছে। এ ছাড়া প্রায় ১ হাজার ২০০ নিত্যপণ্য ক্রয়ে কোনো ভ্যাট থাকছে না। ভ্যাট অব্যাহতিপ্রাপ্ত মৌলিক খাদ্যপণ্যের মধ্যে রয়েছেÑ চাল, ডাল, ডিম, ফল, তরল দুধ, ভোজ্যতেল, পেঁয়াজ, রসুন, হলুদ, মরিচ, মাংস, মুড়ি, চিড়া, আলুসহ সব ধরনের সবজি।
সকল প্রকার কৃষিজ পণ্য, হাঁস-মুরগি, গবাদিপশু, পশুর মাংস, মাছ, ফলমূল, শাকসবজি, ভোজ্যতেল, চিনি, গুড়, লবণ, তুলা, পাট, রেশম সুতাসহ ৫৪৯টি পণ্য মূসকের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে। ৯৩ ধরনের জীবন রক্ষাকারী ওষুধ, গণপরিবহন সেবা, জনস্বাস্থ্য, চিকিৎসাসেবা, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের ওপর ভ্যাট অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশের অভ্যন্তরে সব অস্থায়ী হোটেল ও রেস্তোরাঁয় খাদ্যদ্রব্য সরবরাহকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে। অর্থাৎ, সাধারণ মানুষ যেসব হোটেলে খাওয়া-দাওয়া করে, তাতেও ভ্যাট হবে না। এ ছাড়া 63বাণিজ্য সুরক্ষার জন্য আমদানি পর্যায়ে ১ হাজার ৬৬৬টি এইচএস লাইনের আওতায় বিদ্যমান সব পণ্যে সম্পূরক শুল্কারোপ করা হয়েছে। এ ছাড়া কৃষি, গবাদিপশু ও মৎস্য চাষ খাত সংশ্লিষ্ট ৪০৪টি ক্ষেত্রে ভ্যাট অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। প্রসঙ্গত, ভ্যাট আদায়ের মাধ্যমে ৯১ হাজার ১৭৬ কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের আশা করছেন মুহিত, যা এনবিআরের মাধ্যমে তার ২ লাখ ৪৮ হাজার ১৯০ কোটি টাকা রাজস্ব আহরণ পরিকল্পনার ৩৬ দশমিক ৮ শতাংশ।
জীবন রক্ষাকারী প্রায় সব ওষুধে মূসক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। সমাজকল্যাণ কার্যক্রমকে মূসকের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যক্রমের জন্য পাঠ্যপুস্তক সরবরাহ কার্যক্রমে ৫ শতাংশ ভ্যাট অব্যাহতি। কৃষিকাজে ব্যবহৃত উপকরণ, যেমনÑ বীজ, সেচসেবা, কীটনাশক, যন্ত্রপাতি মূসকের আওতার বাইরে। ডেইরি, ফাউড্রি, পাটশিল্পের কাজে ব্যবহৃত সব যন্ত্রপাতিতে মূসক অব্যাহতি সব ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক কর্মকা- ভ্যাটের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে।

দাম কমবে
বাজেটে শুল্কহার হ্রাস ও কর রেয়াতির প্রস্তাব করায় বেশ কিছু পণ্য ও যন্ত্রপাতির দাম কমতে পারে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছেÑ চাল, ডাল, ডিম, ফল, মাছ, মাংস, মধু, তরল দুধ, লবণ, ভোজ্যতেল, পেঁয়াজ, রসুন, হলুদ, মরিচ, মাংস, মুড়ি, চিড়া, চিনি, আলুসহ সব ধরনের শাক-সবজিসহ প্রায় ৫৪৯টি পণ্যের ওপর ভ্যাট অব্যাহতির প্রস্তাব করা হয়েছে। এ ছাড়া কলা, খেজুর, ডুমুর, আনারস, পেয়ারা, আম, গাব, লেবু জাতীয় ফল, আঙ্গুর, তরমুজ, আপেল, নাশপাতিসহ যে কোনো ফল, গোলমরিচ, ভ্যানিলা, দারুচিনি, লবঙ্গ, জায়ফল, জৈত্রী, এলাচ, মৌরী, ফেনেল, ধনিয়া, জিরা, আদা, জাফনার, হলুদ, তেজপাতা, কারি, মসলা, গম, মেসলিন; রাই, বার্লি, জই, ভুট্টা, ধান, সব ধরনের চাল, মুড়ি, সোরঘাম শস্য, বাজরা, ক্যানারাই বীজও ভ্যাট অব্যাহতিপ্রাপ্ত পণ্যের তালিকায় রয়েছে। ভ্যাট না থাকায় খরচ বাড়বে না দেশের মধ্যে (সরবরাহ) অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত যানবাহনের মাধ্যমে পরিবহন সেবা, ভাড়াকৃত পরিবহন ছাড়া ট্যাক্সি, বাস, মিনিবাস, লঞ্চ, স্টিমার, ফেরির মাধ্যমে পরিবহন সেবারও। এয়ারলাইন্স (চার্টার্ড বিমান ও হেলিকপ্টার ভাড়া প্রদানকারী সংস্থা ব্যতীত) ও খাদ্যশস্য পরিবহন সেবাদাতাদেরও বাড়বে না খরচ। কৃষি পণ্যের মধ্যে বীজ, সব ধরনের সেচসেবা, বীজ সংরক্ষণ সেবা, মৎস্য, জলজপ্রাণী ও জলজসম্পদ আহরণ ও সংরক্ষণ সংক্রান্ত সেবা। সিলিন্ডার ক্যাপাসিটি ভেদে কমবে হাইব্রিড গাড়ির দাম। এ ছাড়া তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতে স্থানীয় সংযোজন ও উৎপাদনকে উৎসাহিত করতে যন্ত্রাংশ ও কাঁচামালের ওপর কর ও শুল্ক ছাড় দেওয়া হয়েছে। ফলে দেশে সংযোজিত ও উৎপাদিত কম্পিউটার, ল্যাপটপ, ট্যাব ও ফোনের দাম কমবে। প্রস্তাবিত বাজেটে কম্পিউটার, ল্যাপটপ ও ট্যাব উৎপাদনে ব্যবহার হয় এমন প্রায় ৫০টি পণ্যে আমদানি শুল্ক কমিয়ে অভিন্ন ১ শতাংশ করা হয়েছে। এ ছাড়া ৯৩ ধরনের জীবন রক্ষাকারী ওষুধ এবং গণপরিবহন সেবা, জনস্বাস্থ্য ও চিকিৎসাসেবা, শিক্ষা, ও প্রশিক্ষণের ওপর ভ্যাট অব্যাহতির প্রস্তাব করা হয়েছে। এ ছাড়া দেশীয় শিল্পের বিকাশ এবং প্রতিযোগিতামূলক রপ্তানি বাণিজ্যের লক্ষ্যে রেফ্রিজারেটর ও ফ্রিজ, এসি, পামওয়েল, সয়াবিন তেল ও এলপিজি সিলিন্ডার স্থানীয়ভাবে উৎপাদনে ২০১৯ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত ভ্যাট অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। ফলে এসব পণ্যের দাম কমবে।

মো. আবদুস শুকুর ইমন

শ্রেণী:

ডাউন সিনড্রোম বা ডাউন শিশু

Posted on by 0 comment
58

58ডা. রেজাউল করিম কাজল: ডাউন সিনড্রোম (Down syndrome) বা ডাউন শিশু প্রকৃতির খেয়ালে তৈরি এক বিশেষ ধরনের শিশু। প্রতি ৫০০ হতে ৭০০ শিশুর মধ্যে একটি শিশু ডাউন সিনড্রোম বা ডাউন শিশু হিসেবে জন্মগ্রহণ করতে পারে। আমেরিকায় প্রতিবছর প্রায় ৬ হাজার ডাউন শিশুর জন্ম হয়। বলা হয়ে থাকে, আমাদের দেশে প্রায় ২ লাখ ডাউন শিশু আছে আর প্রতিদিন জন্ম নেয় প্রায় ১৫টি। ডাউন শিশুরা সাধারণত আমাদের সমাজে প্রতিবন্ধী শিশু হিসেবে বেঁচে থাকে। সারাবিশ্বে ২১ মার্চ ‘বিশ্ব ডাউন সিনড্রোম দিবস’ পালিত হয়।
আমাদের শরীর গঠনের সবচেয়ে ক্ষুদ্র অংশকে কোষ বা সেল বলা হয়। প্রতিটি মানব কোষের মধ্যে ২৩ জোড়া ক্রোমোজম নামের অঙ্গাণু থাকে যার অর্ধেক আসে মায়ের কাছ থেকে আর অর্ধেক আসে বাবার কাছ থেকে। কোটি কোটি ডিএনএ-এর সমন্নয়ে এক একটি ক্রোমোজম তৈরি হয়। এই ডিএনএ-কে বলা হয় আমাদের বংশগতির ধারক ও বাহক। অর্থাৎ আমাদের শারীরিক ও মানসিক বৈশিষ্ট্য যেমনÑ আচার-আচরণ, বুদ্ধিমত্তা, চেহারা, উচ্চতা, গায়ের রং সব কিছুই এই ডিএনএ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। অন্যদিকে মানব শরীরে এই ডিএনএ বা ক্রোমোজমের অসামঞ্জস্য দেখা দিলে নানারকম শারীরিক ও মানসিক ত্রুটি দেখা দেয়, যাদের আমরা সাধারণভাবে জন্মগত ত্রুটি বা জেনেটিক ত্রুটি বলে থাকি। ডাউন সিনড্রোম বা ডাউন শিশু সে রকম একটি জেনেটিক ত্রুটিযুক্ত মানব শিশু, যার শরীরের প্রতিটি কোষে ২১নং ক্রোমোজমটির সাথে আংশিক বা পূর্ণভাবে আর একটি ক্রোমোজম (Trisomy 21) সন্নিবেশিত থাকে। আর এই অতিরিক্ত ক্রোমোজমটির কারণে ডাউন শিশুর বিশেষ কিছু শারীরিক ও মানসিক ত্রুটি লক্ষ্য করা যায়। চেহারা একই রকম হয় বলে খুব সহজেই ডাউন শিশুদের চেনা যায়।
ডাউন শিশুদের শারীরিক বৈশিষ্ট্য : ডাউন শিশুদের কিছু নির্দিষ্ট শারীরিক বৈশিষ্ট্য লক্ষ্য করা যায়। যেমনÑ
১. মাংশপেশির শিথিলতা- Reduced muscle ton
২. বামন বা কম উচ্চতা- Short stature
৩. চোখের কোণা ওপরের দিকে উঠানো- Upward slanting Eyes
৪. চ্যাপ্টা নাক- Flattened Nose
৫. ছোট কান- Short Ear
৬. হাতের তালুতে একটি মাত্র রেখা- Single Palmar Crease
৭. জিহ্বা বের হয়ে থাকা ইত্যাদি- Single Palmar Crease
ডাউন শিশুদের মানসিক জটিলতা : অন্য শিশুদের চেয়ে ডাউন শিশুরা শারীরিক ও মানসিকভাবে দেরিতে বেড়ে ওঠে। বেড়ে ওঠার মাইলফলকগুলো যেমন বসতে শেখা, দাঁড়াতে শেখা, হাঁটতে শেখা, কথা বলতে শেখাÑ এসব দেরিতে ঘটে। আবার কেউ কেউ কোনো একটি কখনই শেখে না। ডাউন শিশুরা বেশির ভাগই বুদ্ধি প্রতিবন্ধী হয়ে থাকে। অনেক সময় এরা অত্যন্ত হাসিখুশি ও সংগীতপ্রিয় হয়ে থাকে।
ডাউন শিশুর শারীরিক জটিলতা : বেশির ভাগ ডাউন শিশুর জন্মগত হার্টের সমস্যা থাকে, যার কারণে অনেকেই জন্মের পর মারা যায়। কারও কারও হার্টের অপারেশনের প্রয়োজন হয়। শুধু তাই নয়, ডাউন শিশুদের অনেকেই লিউকেমিয়া, থায়রয়েড সমস্যা, দৃষ্টিশক্তি ও শ্রবণশক্তির সমস্যা, পরিপাকতন্ত্রের সমস্যা, জীবাণু সংক্রমণ, শারীরিক স্থূলতা ইত্যাদি জটিলতায় ভুগতে পারে। ডাউন শিশুদের গড় আয়ু সাধারণ মানুষের চেয়ে কম।
কী কারণে ডাউন শিশুর জন্ম হয় : ঠিক কী কারণে মায়ের গর্ভে ডাউন শিশুর জন্ম হয়, তা সম্পূর্ণ জানা যায়নি। তবে এ কথা প্রমাণিত, যে কোনো নারী যত অধিক বয়সে মা হবেন, তার সন্তান ডাউন শিশু হওয়ার সম্ভাবনাও তত বেশি হবে। যেমন ২৫ বছর বয়সের প্রতি ১ হাজার ২০০ গর্ভবতী মায়ের মধ্যে একজনের, ৩০ বছর বয়সের প্রতি ৯০০ মায়ের মধ্যে একজনের ডাউন শিশু হতে পারে। কিন্তু ৩৫ বছর বয়সের পর ঝুঁকি দ্রুত বাড়তে থাকে। ৩৫ বছর বয়সের প্রতি ৩৫০ গর্ভবতী মায়ের মধ্যে একজনের এবং ৪০ বছর বয়সের প্রতি ১০০ মায়ের একজনের ডাউন শিশু হতে পারে। অধিক বয়সের মায়ের গর্ভে ডাউন শিশু হওয়ার সম্ভাবনা বাড়লেও যেহেতু যুবতী বয়সেই বেশির ভাগ নারী মা হয়ে থাকেন, তাই যুবতী বয়সের মায়েদের মধ্যেই ডাউন শিশু সচরাচর দেখা যায়। তার মানে যে কোনো বয়সের মায়ের ডাউন শিশু হতে পারে। অন্যদিকে কোনো মায়ের আগে একটি ডাউন শিশু থাকলে পরবর্তীতে ডাউন শিশু হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। পরিবেশ দূষণ, গর্ভবতী মায়ের ভেজাল খাদ্যে ও প্রসাধনী গ্রহণ, তেজস্ক্রিয়তা ইত্যাদি কারণেও ডাউন শিশুর জন্ম হতে পারে বলে ধারণা করা হয়। অনেক সময় বাবা-মা ত্রুটিযুক্ত ক্রোমোজমের বাহক হলে তাদের সন্তানও ডাউন শিশু হতে পারে।
কীভাবে ডাউন শিশু শনাক্ত করা যায় : একজন চিকিৎসক যে কোনো বয়সের শিশুকে দেখেই ডাউন শিশু কি-না তা সন্দেহ করতে পারেন। কারণ তাদের কিছু নির্দিষ্ট শারীরিক বৈশিষ্ট্য থাকে। বাবা-মায়েরা যখন দেখেন তাদের সন্তানের চেহারা একটু ভিন্ন ধরনের, শিশুর গায়ে শক্তি কম, নির্ধারিত বয়সে বসতে, দাঁড়াতে বা হাঁটতে শিখছে না, শারীরিক বৃদ্ধি কম, কম বুদ্ধিসম্পন্ন, তখন তারা চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। চিকিৎসক শিশুর রক্তের ক্রোমোজম সংখ্যা বা ক্যারিওটাইপিং পরীক্ষার মাধ্যমে ডাউন শিশু কি-না তা নিশ্চিত করেন।
প্রসূতি মায়ের ডাউন শিশু জন্ম নেওয়ার ঝুঁকি নির্ণয় পরীক্ষা : ১১ থেকে ১৪ সপ্তাহের মধ্যে গর্ভবতী মায়ের রক্তে প্যাপ-এ, এইচসিজি এবং ১৬ থেকে ২০ সপ্তাহের মধ্যে এএফপি, ইসট্রিয়ল, এইচসিজি ইত্যাদি রাসায়নিক পদার্থের মাত্রা পরীক্ষা করে ডাউন শিশুর জন্ম হওয়ার ঝুঁকি সম্পর্কে ধারণা করা যায়। তা ছাড়া আল্ট্রাসনোগ্রাফি করে মায়ের পেটে ১১ থেকে ১৪ সপ্তাহের শিশুর ঘাড়ের পিছনের তরলের মাত্রা (Nuchal Translucency), নাকের হাড়ের (Nasal Bone) উপস্থিতি, ‘ডাকটাস ভেনোসাস (Ductus Venosus)’ নামক প্রাথমিক রক্তনালীর রক্তপ্রবাহ ইত্যাদি নির্ণয়ের মাধ্যমেও ডাউন শিশু জন্ম নেওয়ার ঝুঁকি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। পরীক্ষা-নিরীক্ষার রিপোর্ট অনুযায়ী উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত মায়েদের ডাউন শিশুর নিশ্চিত পরীক্ষা করার উপদেশ দেওয়া হয়।
পেটের সন্তান ডাউন শিশু কি-না তার নিশ্চিত পরীক্ষা : গর্ভাবস্থার ১১ থেকে ১৪ সপ্তাহের মধ্যে প্রাথমিক গর্ভফুল থেকে কোষকলা সংগ্রহের (Chorionic Villus Sampling) মাধ্যমে অথবা ১৫ থেকে ১৮ সপ্তাহের মধ্যে গর্ভের বাচ্চার চারপাশের তরল পদার্থ সংগ্রহের (Amniocentesis) মাধ্যমে বাচ্চার ডিএনএ পরীক্ষা করে গর্ভের বাচ্চাটি ডাউন শিশু কি-না তা ১০০ শতাংশ নিশ্চিত করা যায়। এ সময় বাচ্চার আকার হয় প্রায় ২-৪ ইঞ্চির মতো। কাজেই রিপোর্ট অনুযায়ী বাবা-মা গর্ভাবস্থা চালিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে নিশ্চিত হয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
প্রতিরোধের উপায় : সুযোগ ও সচেতনতার অভাবে আমাদের দেশে এখনও বেশির ভাগ গর্ভবতী মা চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে থাকতে পারেন না। অন্যদিকে চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে থাকলেও গর্ভবতী মাকে ডাউন শিশু সম্পর্কে বা অন্য কোনো জন্মগত ত্রুটি সম্পর্কে ধারণা দেওয়ার ব্যাপারটি উপেক্ষিত। তা ছাড়া দেশের সব জায়গায় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার সুযোগ নেই। অনেক প্রতীক্ষার পর কোনো বাবা-মায়ের যখন একটি ডাউন শিশুর জন্ম হয় তখন ওই সংসারে আনন্দের বদলে চরম হতাশা নেমে আসে। ডাউন শিশু পরিবার, সমাজ ও দেশের বোঝা। কাজেই সচেতন হওয়া ছাড়া প্রতিরোধের কোনো উপায় নেই। উন্নত বিশ্বে প্রত্যেকটি গর্ভবতী মাকে ডাউন শিশু এবং অন্যান্য সম্ভাব্য জন্মগত ত্রুটি ও তা নির্ণয়ের পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পর্কে ধারণা দেওয়া চিকিৎসকের জন্য বাধ্যতামূলক। যেহেতু মায়ের বয়স বাড়ার সাথে সাথে ডাউন শিশু হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ে, তাই চিকিৎসাবিজ্ঞানে অধিক বয়সে, বিশেষ করে ৩৫-ঊর্ধ্ব বয়সে মা হওয়াকে নিরুৎসাহিত করা হয়। মেধাবী শিশুর জন্ম নিশ্চিত করতে হলে ডাউন শিশুর মতো প্রতিরোধযোগ্য প্রতিবন্ধী বা জন্মগত ত্রুটির বিষয়টি পাঠ্যবইতে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। গর্ভবতী মাকে সেবাদানের ক্ষেত্রে অনাগত শিশুর জন্মগত ত্রুটির বিষয়টিকে গুরুত্ব দিতে হবে। আশার কথা, মায়ের গর্ভে ডাউন শিশু নির্ণয়ের যাবতীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা এখন দেশেই হচ্ছে। চাই শুধু সচেতনতা।

লেখক : সহযোগী অধ্যাপক, প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিভাগ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়

শ্রেণী:

উন্নয়ন অগ্রগতির পথে বাংলাদেশ

Posted on by 0 comment

জননেত্রী শেখ হাসিনার মহা-উন্নয়ন নীতির প্রভাবে বাংলাদেশ আজ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একটি উন্নয়নের মডেলে পরিণত হয়েছে। অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশের তুলনায় দ্রুত সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যাপক বিনিয়োগ শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি খাতে উন্নয়ন বরাদ্দ, সোশ্যাল সেফটি নেটওয়ার্কে বরাদ্দ বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থানের ব্যাপক সুযোগ সৃষ্টির ফলে এই সময়ে গ্রামীণ দারিদ্র্যের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। গত নির্বাচনী ইশতেহারে ৫টি অগ্রাধিকার বিষয় নির্ধারণ করা হয়েছিল। এগুলো হচ্ছেÑ বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উৎপাদন বৃদ্ধি, দারিদ্র্য হ্রাস ও বৈষম্য ঘুচানো, দ্রব্যমূল্য হ্রাস ও বিশ্বমন্দার নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলা, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা। ইতোমধ্যে ইশতেহারের সব কটি প্রতিশ্রুতি যথাযথভাবে পালিত হওয়াতে এই সাফল্যগুলো জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের কাজের ওপর ব্যক্তিগত নজরদারি এবং প্রতিটি মন্ত্রণালয়ে নিয়মিত কর্মকর্তাদের সাথে সভা করা ব্রিফিং প্রদানে কাজের গতি ত্বরান্বিত হয়েছে। যার সুফল জনগণ পাচ্ছে। ইতোমধ্যে গড় প্রবৃদ্ধি ৬.২ শতাংশ অর্জন সম্ভব হয়েছে। মাথা পিছু আয় ১ হাজার ২০০ ডলারের ওপরে উঠে এসেছে। দারিদ্র্যের হার বর্তমানে ২৪ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ইতিহাসের সর্বোচ্চ ২২.৩৯ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ চলে এসেছে। এমডিজি লক্ষ অর্জনে বাংলাদেশ এ বিষয়ে এগিয়ে গিয়েছে। ইতোমধ্যে ৮টি সূচকে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সক্ষম হয়েছে বাংলাদেশ। আরও ১০টি সূচকে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছে। এই সাফল্যের কারণে ইতোমধ্যে ৩টি আন্তর্জাতিক পুরস্কার লাভ করেছে বাংলাদেশ। সামাজিক সূচকে অগ্রগতি হয়েছে বলে স্বীকার করেছে জাতিসংঘের উন্নয়ন ও বাণিজ্য সংস্থা। শিক্ষার হারের ক্ষেত্রে ৭০ শতাংশে উপনীত হয়েছে দেশ। বর্তমানে দেশে স্কুলগামী শিশু শতভাগ। প্রাথমিক ৭৮ লাখ ৭০ হাজার ১২৯ জনকে উপবৃত্তি প্রদান করা হয়েছে। মাধ্যমিকে ৪০ শতাংশ উপবৃত্তি পাচ্ছে।
নারী উন্নয়নের ক্ষেত্রে লিঙ্গ বৈষম্য কমিয়ে আনা হয়েছে। নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে বিশ্বের শীর্ষ ১০-এ উঠেছে বাংলাদেশ। স্বাস্থ্যসেবায় অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জিত হয়েছে। পাঁচ বছরের শিশুমৃত্যু হার ক্রমেই কমে আসছে।
মানুষের আয়ুষ্কাল বেড়ে ৬৯ দশমিক ও ৪ বছরে উপনীত হয়েছে। নিরাপদ পানি ব্যবহারের হার ৯৮ দশমিক ৩ শতাংশ। স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট ব্যবহারের হার ৬৩.৮ শতাংশ। প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় বিশ্বের মধ্যে মডেল হয়ে দাঁড়িয়েছে। ৩৩ আইটেমের প্রায় ৫০০ কোটি টাকার ঔষধ বিনামূল্যে সরবরাহ করা হচ্ছে। পোলিওমুক্ত হয়েছে বাংলাদেশ। কৃষি, খাদ্য স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে বাংলাদেশ, ১১ লাখ ৩২ হাজার ২০২ টন চাল এবং ২ লাখ ২৬ হাজার ৭১৩ টন গম মজুদ রয়েছে।
সামাজিক নিরাপত্তার জন্য সর্বমোট ১২৮টি কর্মসূচি চলমান রয়েছে। চলতি অর্থবছরের ৩০ হাজার ৭৫১ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়। সড়ক, সেতু, নৌ-পরিবহন সেক্টরে, পদ্মা ব্রিজ, প্রকল্পের কাজ শুরু করা হয়েছে। বহুল প্রত্যাশিত ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাজ শিগগিরই শুরু করা হবে। এ ছাড়া, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চার লেনের কাজ প্রায় সমাপ্তির পথে, বাণিজ্য ও রপ্তানিতে গত ২০১৩-১৪ অর্থবছরে রপ্তানি আয় হয়েছে ৩০.১৮ বিলিয়ন ডলার। বিদ্যুৎ খাতে ব্যাপক উন্নতি সাধিত হয়েছে। ফলে দেশের ৬৮ শতাংশ মানুষ বিদ্যুৎ সুবিধা পাচ্ছেন। গত ছয় বছরে বিদ্যুৎ উৎপাদন বেড়েছে ৫ হাজার ৬১৯ মেগাওয়াট। প্রবাসী কল্যাণ ও জনশক্তি রপ্তানিতে এ পর্যন্ত ১৬০টি দেশে ৯০ হাজার বাংলাদেশি বিভিন্ন পেশায় কাজ করছেন। বছরে আয় হচ্ছে ৬১.১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ডিজিটালসেবার ক্ষেত্রে ৭ কোটি অনলাইন জন্মনিবন্ধন সম্ভব হয়েছে। ৪ কোটি ৮৪ লাখ ইন্টারনেট সংযোগ দেওয়া সম্ভব হয়েছে। দেশে বর্তমানে ১১ কোটি ৮৪ লাখ মোবাইল গ্রাহক ২৫ হাজার ওয়েবসাইট নিয়ে বিশ্বের বৃহত্তম পোর্টাল জাতীয় তথ্য বাতায়ন চালু করা হয়েছে। সশস্ত্র বাহিনীর তিন শাখাতেই ব্যাপক আধুনিকীকরণ করা হয়েছে। কৃষি খাতে কৃষি ঋণের সুদ হার ২.০ শতাংশ কমানো হয়েছে। ইতোমধ্যে ৮৫ লাখ টন আলু উৎপাদন করে বাংলাদেশ শীর্ষ ১০ দেশের তালিকায় উঠে এসেছে। তথ্যপ্রযুক্তির অগ্রগতির স্বীকৃতি হিসেবে পাবলিক সেক্টরে এক্সিলেন্স পাবলিক ক্যাটাগরিতে গ্লোবাল আইসিটি এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড পেল বাংলাদেশ।
জনগণের আয় বৈষম্য ক্রয় ক্ষেত্রে দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে কম বাংলাদেশে। বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়, দক্ষিণ এশিয়ার অন্য সব দেশের তুলনায় আয় বৈষম্য কমছে বাংলাদেশে। বাণিজ্য ও রপ্তানি আয়ের ক্ষেত্রে ২০১৩-১৪ অর্থবছরে রপ্তানি আয় হয়েছে ৩০.১৮ বিলিয়ন ডলার। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনভিত্তিক পিউ রিসার্স সেন্টারের এক গবেষণায় দেখা গেছে, বাণিজ্য উদারিকরণে বিশ্বে দ্বিতীয় অবস্থানে উঠে এসেছে বাংলাদেশ, দক্ষিণ এশিয়ার শীর্ষে রয়েছে বাংলাদেশ।
প্রবাসী কল্যাণ ও জনশক্তির ক্ষেত্রে ১৬০টি দেশে ৯০ লাখ বাংলাদেশি নাগরিক বিভিন্ন পেশায় কর্মরত আছেন। বর্তমানে প্রবাসী আয়ের ৬১.৯০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও পুরস্কারের ক্ষেত্রে তথ্যপ্রযুক্তিতে অগ্রগতির স্বীকৃতি হিসেবে পাবলিক সেক্টরে এক্সিলেন্স ক্যাটাগরিতে গ্লোবাল আইসিটি এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড পেল বাংলাদেশ।

ফজলুল কাদের মজনু, সভাপতি, ভোলা জেলা আওয়ামী লীগ

শ্রেণী:

সাধারণ মানুষের আশীর্বাদ ও আশাবাদ

51

২৮ সেপ্টেম্বর জননেত্রী শেখ হাসিনার ৬৯তম জন্মদিন

উত্তরণ প্রতিবেদন:

51 মো. সামসুল আলম
বীর মুক্তিযোদ্ধা
গ্রাম : মাইজবাড়ী
পো : নগদাবাড়ী
উপজেলা : গোপালপুর
জেলা : টাঙ্গাইল
অত্যাধুনিক ও উন্নত বাংলাদেশ গড়ার অগ্রপথিকের জন্মদিবস ঘটা করে পালন করা হোক। এবং দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার স্বার্থে তার দীর্ঘায়ু কামনা করে দোয়া ও আশীর্বাদ চাইব।
অন্য নেতারা নিজেদের আখের গোছাতে ব্যস্ত। সত্যিকারের দেশপ্রেম তাদের কাছে খুঁজে পাওয়া যায় না। আর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ দেশের আপামর জনগণের সুখ-দুঃখের সাথী, তিনি বৈষয়িক লোভ-লালসা ত্যাগ করে জীবন-মৃত্যুর হুমকি থাকা সত্ত্বেও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস দমনে তৎপর রয়েছেন।
যুদ্ধপরাধীদের বিচার, জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদ দমন করা।
বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, বাংলাদেশ এগিয়ে যাবেÑ প্রধানমন্ত্রীর এই স্লোগান একেবারে যথার্থ। কারণ সারাবিশে^ অর্থনৈতিক মন্দা থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশে উন্নয়ন ও প্রবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রয়েছে। পদ্মা সেতুর মতো বৃহৎ প্রকল্প বিদেশি সাহায্য ছাড়াই বাস্তবায়িত হচ্ছে। ইতোমধ্যেই এ দেশ নি¤œমধ্য আয়ের দেশে পরিণত হয়েছে। দ্রব্যমূল্যের দাম সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে। খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জিত হয়েছে।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দ্বারাই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সম্ভব, অন্য কারও দ্বারা সম্ভব হতো না এবং বাকি বিচারও সম্পন্ন হবে না অন্য কেউ ক্ষমতায় এলে। অন্য রাজনৈতিক দলগুলো সন্ত্রাসের মদতদাতা।

51bমো. সহিদুল ইসলাম
গ্রাম : সিচাড়পাড়া
পো : বেলুপাড়া
উপজেলা : সোনাতলা
জেলা : বগুড়া
অনেক ষড়যন্ত্র, অনেক কূটকৌশল, অনেক ধকল মোকাবিলা করে আজ দেশকে উন্নতির দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। এই মহান নেত্রী বঙ্গবন্ধু-কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার জন্মজয়ন্তীতে জানাচ্ছি পৃথিবীর সব সুগন্ধি ফুলের শুভেচ্ছা।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অন্যসব নেতাদের চেয়ে ভিন্নÑ এ কথাটির সাথে আমি ১০০ ভাগ একমত এজন্য যে, একজন দেশনেত্রীর যতগুলো গুণ থাকা চাই তা তার মধ্যে বিরাজমান। তিনি প্রকৃতপক্ষে দেশ এবং দেশের মানুষকে ভালোবাসেন, তা তিনি কাজে প্রমাণ দেখান। অন্যপক্ষে অন্যসব নেতারা মুখে শুধু বলে দেশকে ভালোবাসে দেশের মানুষকে ভালোবাসে; কিন্তু কাজে তার উল্টোটা করে থাকে। বঙ্গবন্ধু-কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা সর্বদা দেশের কল্যাণে এবং দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিটি কাজ আমার পছন্দ। কারণ একটাই, তিনি দেশের স্বার্থে কাজ করে থাকেন। তিনি সৎ, ন্যায় ও নিষ্ঠাবান। তাই তিনি কোনো কাজে বিরোধী শক্তিকে ভয় পান না।
দেশ আজ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবেÑ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই স্লোগানের সাথে আমি শতভাগ একমত, কারণ দেশে প্রযুক্তির উন্নয়ন হচ্ছে। বিদ্যুৎ আজ দেশের ঘরে ঘরে প্রায় পৌঁছেছে। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি হয়েছে এবং হচ্ছে। প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ ও ডিজিটাল সুবিধা পাচ্ছে। ছয়-সাত বছর আগেও কলেজ-বিশ^বিদ্যালয়ে ভর্তি হতে প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছাত্র-ছাত্রীদের দেশের একপ্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্তে ছোটাছুটি করে ভর্তি ফরম এবং ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়েছে। কিন্তু আজ ডিজিটালের ছোঁয়ায় ঘরে বসেই মোবাইলের মাধ্যমে সেই কাজটি করতে পারছে শিক্ষার্থীরা। এতে যেমন চরম কষ্ট লাঘব হয়েছে তেমনি অর্থও সাশ্রয় হচ্ছে। দরিদ্র পরিবারের সন্তানরা কম সময়ে এবং কম খরচে বিশ^বিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পাচ্ছে। খাদ্য উৎপাদন বাড়ছে। দেশে শিল্পায়নের উন্নয়ন হচ্ছে, যার ফলে কর্মসংস্থান বাড়ছে এবং দারিদ্র্য বিমোচন হচ্ছে। তা ছাড়া যুব উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে যুব কর্মসংস্থান হচ্ছে। এক কথায় প্রতিটি ক্ষেত্রে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রয়েছে।

51cবীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আ. মান্নান
সহকারী কমান্ডার সাংগঠনিক
বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ
উপজেলা শাখা, শ্রীবরদী, শেরপুর
প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিবসে তাকে আমি লাল গোলাপ ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানাতে চাই। কারণ যার মন ফুলের মতো পবিত্র ও উদার। চাঁদে কলঙ্ক আছে কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর কোনো কলঙ্ক খুঁজে পাওয়া যায় না।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে আপসহীন, ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার রূপকার, তার সব সম্পদ দেশের মানুষের কল্যাণে দান করেছেন। এসব কারণে তিনি অন্য নেতাদের থেকে ভিন্ন।
প্রধানমন্ত্রীর ‘শোষণহীন দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গড়ার কর্মসূচি’ আমার কাছে সবচেয়ে বেশি ভালো লেগেছে। তা ছাড়া বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার কার্যক্রমকে আমি আরও বেশি ভালোবাসি।

52aমো. কাদির আকন্দ
পিতা : আফির উদ্দিন আকন্দ
গ্রাম : ভাওয়াল গাজীপুর
গাজীপুর সদর, গাজীপুর
হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা গণতন্ত্রের মানসকন্যা সফল রাষ্ট্রনায়ক বাংলাদেশের উন্নয়নের পথিক গণমানুষের নেত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার ৬৯তম জন্মদিনে পরম করুণাময়ের কাছে তার দীর্ঘায়ু ও সুস্বাস্থ্য কামনা করি। আমার ও এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর আদর্শ অনুসরণ করে, সুনিদিষ্ট লক্ষ নির্ধারণ করে বাস্তবায়ন করুন। অন্যরা গতানুগতিক রাষ্ট্র পরিচালনা করেন।
বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারী ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের আওতায় এনে তাদের বিচারকার্য সম্পন্ন করে জাতিকে কলঙ্কমুক্ত করা। এবং খাদ্য, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রধানমন্ত্রীর সঠিক ও সক্রিয় সিদ্ধান্ত।
বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে এবং বাংলাদেশ এগিয়ে যাবেÑ প্রধানমন্ত্রীর এই স্লোগানের সাথে আমি সম্পূর্ণ একমত। কারণ, প্রধানমন্ত্রী রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিতে কোনো ভুল বা আপস করবেন না বলে আমি বিশ^াস করি। সঠিকভাবে রাষ্ট্র পরিচালনা করে, সঠিক রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে সকল ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে এবং সকল কর্মী-সমর্থকদের ঐক্যবদ্ধ করে আবারও রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসবে এবং দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।

52bমো. জাফর আলী
কৃষক, জয়দেবপুর
গাজীপুর সদর, গাজীপুর
হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অবিসাংবাদিত নেতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জ্যেষ্ঠ কন্যা বর্তমান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার ৬৯তম জন্মদিন উপলক্ষে কৃষক শ্রমিক মেহনতি মানুষের পক্ষে শ্রদ্ধাপূর্ণ শুভেচ্ছা।
আপনার জন্মদিন বাঙালি জাতির জন্য অনেক সৌভাগ্যের দিন। আপনার পিতার জন্ম না হলে যেন বাংলাদেশ নামের ভূ-খ- আমরা পেতাম না, পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে আমরা স্বাধীন হতে পারতাম না, তেমনি আপনার জন্ম না হলে সামরিক শাসকদের হাত থেকে গণতন্ত্র পেতাম না, পেতাম না শোষণমুক্ত বাংলাদেশ, আমরা পেতাম না জঙ্গিমুক্ত বাংলাদেশ, যুদ্ধাপরাধীমুক্ত বাংলাদেশ, বাঙালি জাতি পেত না জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার ও বিচারের রায়ের বাস্তবায়ন।
শেখ হাসিনা ক্ষমতা গ্রহণের পর দেশ সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। কৃষিতে সাফল্য, অর্থনীতিতে অগ্রগতি, তথ্যপ্রযুক্তিতে দেশ অনেক এগিয়ে যাচ্ছে। ভিশন ২০২১-এর মাধ্যমে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়া এখন আর স্বপ্ন নয় বাস্তবে রূপ নিয়েছে। শিক্ষার অগ্রগতি নারী শিক্ষার প্রসার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষকদের জাতীয়করণ এগুলো সবই আপনার জন্য হয়েছে। রাস্তাঘাট, ব্রিজ কালভার্টÑ ঢাকার দৃষ্টিনন্দন ফ্লাইওভার ব্রিজ, যমুনা সেতু ও রেললাইন নির্মাণ এবং বর্তমানে পদ্মা সেতুর মতো স্বপ্নের সেতুর বাস্তবায়নের কাজ শুরু মেট্রোরেলের কাজ শুরু ইত্যাদি কাজ বাস্তাবায়নের কথা বলে স্বল্প পরিসরে শেষ করা যাবে না।
আপনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে পাহাড়ে শান্তিচুক্তির মাধ্যমে শান্তি ফিরে এসেছে। ভারতের ছিটমহল বিনিময় সম্ভব হয়েছে। ভারত ও মিয়ানমারের সাথে সমুদ্র বিজয় হয়েছেÑ এসব সম্ভব হয়েছে একমাত্র আপনার যোগ্য নেতৃত্বে ও দেশ পরিচালনায়। তাই দেশ আজ নি¤œমধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে বিশ^দরবারে স্বীকৃতি পেয়েছে। আর সে হিসেবে আপনি বারবার ছিনিয়ে এনেছেন বিশ^দরবার থেকে বিভিন্ন সম্মানজনক স্বীকৃতি।
ঘাতকরা বারবার আপনাকে হত্যা করতে চেয়েছে। কিন্তু এ দেশের জন্য দেশের মানুষের জন্য আল্লাহ আপনাকে বারবার বাঁচিয়ে রেখেছেন। সেজন্য আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া। তাই আপনার এই জন্মদিনে আল্লাহর কাছে প্রার্থনাÑ আল্লাহ আপনাকে দীর্ঘায়ু দান করুন, সুস্বাস্থ্য ও সুস্থ রাখুন। ভোট ও ভাতের লড়াইয়ের জন্য দুঃখী মানুষের জন্য দেশের উন্নয়নের জন্য, জঙ্গিমুক্ত, বঙ্গবন্ধুর খুনিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার জন্য আপনার মতো প্রধানমন্ত্রীর বারবার দরকার এ কামনায়।

52cপিয়ারা বেগম
কাঁচামাল ব্যবসায়ী ও গৃহিণী
স্বামী : রফিজ উদ্দিন
গ্রাম : হাতিয়ার, ২৩নং ওয়ার্ড
গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন
জননেত্রী শেখ হাসিনার ৬৯তম জন্মদিন। আমি দোয়া করি উনি যেন সুস্থ থাকেন এবং আমাদের মতো গরিব মানুষের জন্য কাজ করে যেতে পারেন। আমি একজন কাঁচামাল বিক্রেতা। আমি প্রতিদিন আমার গ্রাম থেকে কাঁচামাল কিনে এনে বিক্রি করি। আমার মা যেমন আমার কাছে খুব প্রিয় এবং সব সময় আমাকে বটগাছের মতো ছায়া দিতেন। আমাদের নেত্রীকেও আমার সেরকমই মনে হয়। উনি দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রেখে, গরিবদের শ্রমের মজুরি বাড়িয়ে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো রেখে, দেশের প্রত্যেকটা ক্ষেত্রে উন্নতি করে এবং বিশেষ করে মহিলাদের জন্য বিভিন্ন ধরনের কাজ করেন। আমার মনে হয় আমার মায়ের মতোই উনি যে কোনো ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে পারেন। তিনি যখনই প্রধানমন্ত্রী হন আমার মতোই গরিরবা পেট ভরে খেতে পারেন, কাজ পায় এবং ফসল ভালো হয়।

53aমো. আমিনুল ইসলাম
ক্ষুদে ব্যবসায়ী, ২০নং ওয়ার্ড
গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন
১৯৪৭ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতার ঘর আলোকিত করে যে মানুষটি জন্মগ্রহণ করেছিলেন, আজ তারই হাত ধরে দারিদ্র্যমুক্ত কৃষি-শিল্প ও প্রযুক্তিনির্ভর এক উদীয়মান দেশের সুনাগরিক হওয়ার স্বপ্ন দেখছে ১৬ কোটি মানুষের স্বপ্নময় চোখ। জীবনের শেষ শ্রমটুকুও দেশের জন্য নিবেদন করার অসীম মানসিকতার জন্যই আজ তিনি আমাদের কাছে নন্দিত নেত্রী, ক্ষুধা, দারিদ্র্য, সন্ত্রাস, জঙ্গি তৎপরতা ও দুর্নীতির করাল গ্রাস থেকে ত্রাতার ভূমিকায় অবতীর্ণ গণতন্ত্রের মানস-কন্যা তিনি। ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত সফলভাবে দেশ চালানোর পর প্রতিহিংসা পরায়ণ এ দেশের নিকৃষ্ট অশুভ গোষ্ঠী ২১ আগস্ট তাকে বাবার পরিণামের পুনরাবৃত্তির জন্য রাজপথে গ্রেনেড নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। কিন্তু আমি বিশ^াস করি, সেদিন মহান সৃষ্টিকর্তা তাকে বাংলাদেশের বিভীষিকাময় দুর্নীতি, জঙ্গিদের নিয়ন্ত্রণ থেকে দেশকে রক্ষা এবং স্বাধীনতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধীদের চূড়ান্ত বিচারের জন্য দ্বিতীয়বার জীবন দান করেছিলেন। শরীরে মরণব্যাধীর জীবাণু বহন করে যেমন সুস্থ দেহ কামনা করা সম্ভব নয়, তেমনি দেশদ্রোহীদের নিয়ে সুন্দর সমাজের স্বপ্ন বাস্তবায়নও সম্ভব নয়। এই বিশ^াসে বিশ^াসী জননেত্রী শেখ হাসিনার হাতেই যুদ্ধপরাধীদের চূড়ান্ত বিচার ও পরাজয় ঘটবে। এটি আমার চূড়ান্ত বিশ^াস। একটি দেশকে সামগ্রিকভাবে এগিয়ে নেওয়ার জন্য চাই দুরদর্শী দৃষ্টিভঙ্গি ও নেতৃত্ব। তেমনি একটি দূরদর্শী ও তরুণ নেতৃত্ব নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ইতোমধ্যেই ২৬ হাজার ২০০ স্কুল সরকারিকরণের মাধ্যমে শতভাগ শিশুকে স্কুলে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে সৃজনশীল পদ্ধতি প্রর্বতনে এ দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা বন্ধ্যত্ব থেকে মুক্ত হয়ে সৃজনশীল প্রজন্ম গঠনে এগিয়ে যাচ্ছে। শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে নকল নির্বাসিত হয়েছে। ১২ হাজার ২১৭টি কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপনের মাধ্যমে স্বাস্থ্য খাতকে যুগোপযোগী করা হয়েছে। খাদ্য নিরাপত্তায় স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন ও ১২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ১০,০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন, জাতীয় গ্রিডে ৬ কোটি ৮০ লাখ ঘনফুট গ্যাস যুক্ত করেন, দারিদ্র্যের হার ৩০ শতাংশে নামিয়ে আনা, যোগাযোগ ব্যবস্থায় যুগান্তরকারী পরিবর্তন এবং ১১ লাখ ৭৬ হাজার ৮৪ শ্রমিককে বিদেশে পাঠানো আমাদের চোখের সামনে দৃশ্যমান। আমাদের এখন প্রত্যয় একটি দুর্নীতি ও সন্ত্রাসমুক্ত সমাজের মাধ্যমে ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত করা। পাশাপাশি একটি সুষ্ঠু ও সুন্দর রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও মানবিক সমাজ উপহার দেওয়া। জননেত্রীর জন্মদিনে এই প্রত্যয়ই হোক আমাদের পক্ষ থেকে শুভ জন্মদিনে তার জন্য উপহার।

53bমো. আ. রহিম
পিতা : মৃত মো. মফিজ উদ্দিন বেপারী
গ্রাম : পশ্চিম দিঘির পাড়
পো. : দাউদকান্দি
জেলা : কুমিল্লা
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার পরিবারের সবাইকে হারিয়ে দিন-রাত্রি পরিশ্রম করে শত ব্যবস্থতার মাঝে দেশের উন্নয়ন এবং সুনাম বয়ে আনেন এমন সংবাদ পাওয়ার প্রত্যাশায় অধীর আগ্রহে বসে থাকেন।
প্রধানমন্ত্রী একজন এতিম, তিনি ইসলামিক শরিয়তকে অক্ষুণœ রেখে অতিরিক্ত সাজগোজ, মেকআপ ছাড়া সভা-সমাবেশে, রাজনৈতিক ও সামাজিক কাজে নিজেকে অতি সাধারণ একজন মানুষ হিসেবে উপস্থাপন করেন। সেজন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অন্য নেতাদের থেকে ভিন্ন মনে হয়। প্রধানমন্ত্রী মুখে যা বলেন তা বাস্তবে পরিণত করেন। যেমনÑ পদ্মা সেতু ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, বিশ^ব্যাংক যেভাবে মিথ্যাচার করে পদ্ধা সেতুর অর্থায়ন বন্ধ করে দিয়েছে জাতির পিতার কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা অতি সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে নিজস্ব অর্থায়নে জাতির পিতার স্বপ্নের পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন এবং যুদ্ধপরাধীদের বিচার কাজ একের পর এক কাজ করে যাচ্ছেন, তা দেখে আমার কাছে সবচেয়ে ভালো লাগছে।

53cমো. হযরত আলী
পিতা : মো. গাবুর আলী
মাতা : মোছা. রহিমা বেগম
গ্রাম : বড় রাজারামপুর
ডাকঘর : খেজমতপুর
উপজেলা : পীরগঞ্জ
জেলা : রংপুর
মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে জানাই হাজারও ফুলের শুভেচ্ছা। আপনার জন্মদিনে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। যার জন্ম না হলে বাংলাদেশ স্বাধীন হতো না এবং এই স্বাধীন দেশে আপনার মতো প্রধানমন্ত্রীর জন্ম না হলে আমরা পৃথিবীর বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারতাম না। যার জন্য স্বপ্ন দেখি উন্নত বিশে^র সাথে তাল মিলিয়ে চলার, তিনি আর কেউ ননÑ তিনি আমাদের দেশের প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা। তাই আপনার জন্মদিনে জানাইÑ আপনি যেন আমাদের মাঝে যুগ যুগ ধরে সুস্থ অবস্থায় বেঁচে থাকেন। বাংলাদেশের জনগণের নয়নের মণি প্রধানমন্ত্রী হয়ে বাংলার বুকে জাতির পিতার স্বপ্ন বাস্তবায়নের লক্ষ নিয়ে।
‘বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে’ আমি প্রধানমন্ত্রীর এ কথাটির সাথে একমত। এ কথাটি একমাত্র তিনিই বলতে পারেন অন্য কেউ নন। কারণ, তিনি এ কথাটি যেভাবে জোর দিয়ে বলেছেন ঠিক সেই জোর দিয়েই তিনি দেশের উন্নয়নের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। আমাদের এই প্রধানমন্ত্রী থাকা অবস্থায় আমরা কি পাইনি (যুদ্ধপরাধীদের বিচার হচ্ছে, পদ্মা সেতু হচ্ছে, আমরা সমুদ্রসীমা জয় করলাম, ছিটমহল পেলাম) তাই বলি যে করতে পারে সে বলতেই পারেন। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবেÑ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে।

54শাহ্ মো. শামসুল আরেফীন পান্নু
গ্রাম : পূর্ব উমারের পাড়
ডাকঘর : বিশারকান্দী
থানা : বানারীপাড়া
জেলা : বরিশাল
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বাংলার ১৬ কোটি মানুষের জন্য আপনি একটি নক্ষত্র, আপনার আসন্ন জন্মদিনে আপনাকে শুভেচ্ছা তা’নক্ষত্রতুল্য। কারণ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ্ব সমাদ্রিত, স্বদেশ ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে তার ভূমিকা তবৎড় ঞড়ষবৎধহপব.  তিনি এজন্যই ভিন্ন, কারণ তার পিতার ন্যায় তার একমাত্র উদ্দেশ্য জাতিকে ভালোবাসা, অন্য কিছু নয়। তার চলাফেরায় কোনো গাম্ভীর্জতা নেই।
বিশ্বকে আঙ্গুলের তুড়ি দেখিয়ে, নিজেস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতুর মতো বৃহৎ কাজ শুরু করে দেওয়ার সাহসি পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী আপনাকে স্বাগতম। আপনাকে আরও স্বাগত জানাচ্ছি, জাতীর ছিটমহল সমস্যা দূরীকরণকল্পে আপনার সাহসি পদক্ষেপের জন্য।
সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন ছিল নতুন একটি বাংলাদেশ গড়ার, পক্ষান্তরে প্রধানমন্ত্রী আপনি তার মেয়ে হিসেবে আপনার প্রতিটি পদক্ষেপ জাতি আজ জাতির পিতার প্রতিচ্ছবিই দেখছে। দেশের অবকাঠামগত কাজ যেমনÑ উন্নত রাস্তাঘাট, চমক লাগানো ফ্লাইওভার, পদ্মা সেতু তৈরির মতো সাহসি পদক্ষেপ, সারাদেশের ডুয়েল গেজ রেললাইন এটি তাহার স্পষ্ট প্রমাণ। তাই জাতির পিতার কন্যার স্লোগান ইতোমধ্যেই যথোপযুক্ত প্রমাণিত।

গ্রন্থনা : মো. রশীদুল হাসান

শ্রেণী:

অথঃ নাম পরিবর্তন সমাচার

49

49মো. শাহজাহান মিয়া: যুদ্ধাপরাধী কাদের মোল্লার নামটি এখন সর্বজন পরিচিত। গত ২০১৩ সালের ১২ ডিসেম্বর মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের জন্য দেশের সর্বোচ্চ আদালতের রায়ে তার মৃত্যুদ- কার্যকর হয়। এই কাদের মোল্লা ‘মুহাম্মদ’ বা ‘মোহাম্মদ’ নামের সংক্ষিপ্ত রূপ ‘মো.’ লিখলে বিরক্ত হতেন। কোনো শিক্ষার্থী যদি তাদের নামের বানানে ‘মো.’ ব্যবহার করত তবে তিনি ক্ষিপ্ত হতেন। শিক্ষার্থীদের উপদেশ দিতেনÑ ‘মোহাম্মদ অতি পবিত্র নাম, এ নামের সংক্ষিপ্ত রূপ হয় না। নামের সংক্ষিপ্ত রূপ ব্যবহার করেন হিন্দুরা, তোমরা তা কখনও করবে না।’
ব্যাপারটা জানতে পারি বন্ধু প্রফেসর শৈলেন কুমার দাসের কথায়। তিনি ও আমার অন্য এক বন্ধু মাওলানা মুহাম্মদ শোয়াইব ১৯৭৭ সালে একই সাথে বিডিআর হেড কোয়ার্টারে অবস্থিত রাইফেলস পাবলিক স্কুলে শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। কিছুকাল পরে বিজ্ঞান শিক্ষক হিসেবে কাদের মোল্লাও যোগদান করেন। কাদের মোল্লা তিন-চার বছর তাদের সহকর্মী ছিলেন। তিনি তখন জামাতে ইসলামের সক্রিয় কর্মী।
এবার আরেক বিচারাধীন যুদ্ধাপরাধী মাওলানা সুবহানের একটি আচরণের কথা। আমি ২০০৩ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত পাবনা সরকারি মহিলা কলেজে বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক পদে কর্মরত ছিলাম। অধ্যক্ষ ছিলেন প্রফেসর মো. আবদুল করিম। ওই সময়ে পাবনা এলাকার সংসদ সদস্য ছিলেন মাওলানা আবদুস সুবহান। তিনি জামাতে ইসলাম থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন। আমি ছিলাম কলেজের শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক। কলেজের নানা প্রয়োজনে অধ্যক্ষ আমাকে নিয়ে মাওলানার কাছে যেতেন। মাওলানা তখন হেম সাগর লেনে চিত্রনায়িকা সুচিত্রা সেনদের ফেলে যাওয়া বাড়িতে ইমাম গায্যালী নাম সম্বলিত একটি কিন্ডার গার্টেন স্কুল প্রতিষ্ঠা করেছেন। অনেক সন্ধ্যায় আমার সহকর্মীদের নিয়ে সুচিত্রা সেনদের বাড়ি দেখানোর জন্য ইমাম গায্যালী স্কুলে যেতাম। সহকর্মীরা অনেকেই বলতেন, ‘প্রতিষ্ঠানটির নামের সাথে সুচিত্রা সেনের নামটি যুক্ত থাকলেই মানানসই হতো।’ অনেকে আবার দুঃখ করে বলতেন, ‘মাওলানা হিন্দু নাম কিছুতেই মেনে নেবেন না।’ আমাদের হায় আফসোস ওই পর্যন্তই ঠেকে থাকত।
মাওলানা যে হিন্দু নাম মেনে নেবেন না তার একটি প্রমাণের কথা আমি জানি। যতদূর মনে পড়ে ২০০৪ সালে কলেজের শিক্ষক পরিষদের এক ইফতার পার্টিতে প্রধান অতিথি হিসেবে মাওলানা সুবহানকে দাওয়াত করা হয়েছিল। এডওয়ার্ড কলেজ, শহীদ বুলবুল কলেজের শিক্ষক পরিষদ এবং শহরের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গকে দাওয়াত করা হয়। অনুষ্ঠানটির সঞ্চালকের দায়িত্বে ছিলেন দর্শন বিভাগের প্রভাষক সেলিনা জামান।
আমন্ত্রিত অতিথিবর্গের উপস্থিতিতে মিলনায়তন পরিপূর্ণ। যথাসাধ্য হরেক রকমের ইফতারির প্লেট তাদের সামনে রাখা হয়েছে। সেলিনা জামান মাইকের স্পিকার হাতে নিয়ে ঘোষণা দিলেন, ‘সুধিম-লী, আজ আমাদের মাঝে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত আছেন, পাবনার মাননীয় সাংসদ মাওলানা আবদুস সুবহান।’ তার এই ঘোষণা শেষ হতে না হতেই মাওলানা আসন ছেড়ে উঠে সেলিনার কাছ থেকে স্পিকারটি হাতে নিয়ে বললেন, ‘আমি সাংসদ শব্দটির তীব্র আপত্তি জানাই, সাংসদ হিন্দুদের শব্দ, এ শব্দ ওরা ব্যবহার করে, আমরা কেন করব? এই প্রতিবাদে আমি এই অনুষ্ঠান বর্জন করলাম।’ এ কথা বলে তিনি সত্যি সত্যি সিঁড়ি বেয়ে দোতলা থেকে নিচে নেমে কালো রঙের জিপে চড়ে কলেজ ত্যাগ করলেন। অধ্যক্ষ প্রফেসর আবদুল করিম বহু সাধ্য সাধনা করেও ফেরাতে পারলেন না। অগত্যা সংসদ সদস্য বিবর্জিত হয়েই আমাদের ইফতার পার্টি শেষ করতে হলো।
শেষ করব পাকিস্তানপ্রেমী খালেদা জিয়ার একটা মন্তব্য প্রসঙ্গ দিয়ে। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন বানচালের আন্দোলনকে ইস্যু করে দেশব্যাপী জ্বালাও পোড়াও ও হত্যার নারকীয় পরিবেশ সৃষ্টি করল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ও তাদের মদতপুষ্ট জামাতে ইসলাম। দেশের মানুষ এ অপ্রত্যাশিত দৃশ্য দেখে হতবিহ্বল হয়ে পড়লেন। তারা চিন্তা করলেন দেশকে যারা এমন ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে আর যাই হোক তাদের হাতে রাষ্ট্রক্ষমতা দেয়া যাবে না। তারা নির্লিপ্তভাবে ঘরে বসে রইলেন, পথে নামলেন না। জনসমর্থন বিবর্জিত আন্দোলন ব্যর্থ হয়ে গেল। বিরোধীদলীয় নেত্রীর ব্যর্থ আক্রোশ বর্ষিত হলো একজন নারী পুলিশ কর্মীর ওপর : ‘দেশ কোথায়? গোপালি? গোপালগঞ্জ জেলার নামটাই বদলে যাবে। গোপালগঞ্জ আর থাকবে না।’
সুযোগ পেলে তিনি যে এ কাজটি করবেন তা ভাবার যথেষ্ট কারণ আছে।   গোপাল-গঞ্জ হিন্দু নাম। যারা এ দেশকে পাকিস্তান বানানোর স্বপ্নে আজও বিভোর, তারা কেন হিন্দু নাম রাখবেন?
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৫৫ সালে পাকিস্তান গণপরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি ২৫ আগস্ট করাচিতে পাকিস্তান গণপরিষদে এক ঐতিহাসিক ভাষণ দেন। ভাষণটি দিয়েছিলেন ইংরেজিতে। প্রাসঙ্গিক বিবেচনায় বঙ্গানুবাদসহ অংশবিশেষ তুলে দেওয়া হলো ‘Sir, you will see that they want to place the word East Pakistan instead of East Bengal. We have demanded So many times that you should use Bengal instead of Pakistan. The word Bengal has a history, has a tradition of its own. You can change it only after the people have been consulted. If you want to change it then we have to go back to Bengal and ask them whether they accept it” [অনুবাদ : স্যার, আপনি দেখবেন ওরা ‘পূর্ব বাংলা’ নামের পরিবর্তে ‘পূর্ব পাকিস্তান’ নাম রাখতে চায়। আমরা বহুবার দাবি জানিয়েছি যে, আপনারা এটাকে বাংলা নামে ডাকেন। ‘বাংলা’ শব্দটার একটা নিজস্ব ইতিহাস আছে, আর আছে এর একটা ঐতিহ্য। আপনারা এই নাম আমাদের জনগণের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে পরিবর্তন করতে পারেন। আপনার যদি ওই নাম পরিবর্তন করতে চান, তা হলে আমাদের বাংলায় আবার যেতে হবে এবং সেখানকার জনগণের কাছে জিজ্ঞেস করতে হবে তারা নাম পরিবর্তনকে মেনে নেবে কিনা।]
স্বপ্ন দেখা ভালো। স্বপ্ন না দেখলে স্বপ্ন পূরণ হয় না। প্রশ্ন, তারা কাদের নিয়ে স্বপ্ন পূরণ করতে চান? বঙ্গবন্ধুর পরামর্শমতো তারা যদি জনগণের কাছে জিজ্ঞেস করেন, জনগণ নাম পরিবর্তন চান কিনা। কী জবাব পাবে তারা?
গায়ের জোরে বলা যত সহজ নাম পরিবর্তন তত সহজ নয়। সেখানে জনগণের জোর থাকা চাই। যে মাটিতে জাতির পিতা ঘুমিয়ে আছেন সেই মাটির নাম বদলাতে জনসমর্থন পাওয়া যাবে কি? জনগণ কখনও ভুল করে না।

শ্রেণী: