বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী: ফোর্সেস গোল ২০৩০-এর লক্ষ্য পানে

30

30মুফরাত রাহিন: ‘মারো কেন? বাবুকে নালিশ দিবো কিন্তু!’Ñ কথাটি বাংলার নারী জাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়ার প্রখ্যাত ‘মতিচূর’ গ্রন্থ থেকে নেওয়া। কথাটি তাচ্ছিল্যের সাথে বলেছিলেন লেখিকা। তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, এভাবে মার খাওয়া যদি প্রতিরোধ না করা হয় তবে মার খেয়েই যেতে হবে।
বাংলার বাঘ বলে খ্যাত শেরে বাংলা একে ফজলুল হক যখন ছোটবেলা নদীতে সাঁতার কাটতে যেতেন, তখন উনার মা চিন্তিত থাকতেন আর মানা করতেন নদীতে নামতে, তাতে কুমির আছে বলে। সে সময় ফজলুল হক বলতেন, ‘মা আমরা যদি নদীতে না নামি, তাহলে কুমির তাড়াবো কি করে?’ কুমির তাড়ানো বলতে সে সময়ের দখলদার ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে তাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন।
ইতিহাস সাক্ষী, যুগে যুগে প্রত্যেক জাতি নিজেদের অধিকার, ন্যায্য দাবি আদায় এবং তা রক্ষার জন্য যুদ্ধ করে এসেছে। যুদ্ধ মানব সভ্যতার সাথেই জড়িত।
বাংলাদেশ। একটি স্বপ্নের নাম। কোটি কোটি বাঙালির স্বপ্নের দেশ। বিশ্বে বাঙালি জাতির একমাত্র স্বাধীন রাষ্ট্র। ১৯৭১ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে বীর বাঙালি সাহসিকতার সাথে যুদ্ধ করে স্বাধীনতা ছিনিয়ে আনে। স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু উনার দূরদৃষ্টিতে বুঝতে পেরেছিলেন স্বাধীনতা অর্জনের চেয়ে তা রক্ষা করা কঠিন। শত্রুদের ষড়যন্ত্র থেমে নেই। তাই দেশ রক্ষায় গঠন করেন সশস্ত্র বাহিনী এবং এর উন্নয়নে যথেষ্ট গুরুত্ব দেন। মিসর থেকে নিয়ে আসেন ৪৪টি ট্যাংক, সংগ্রহ করেন যুদ্ধবিমান, যুদ্ধজাহাজ প্রভৃতি। বাহিনীর সদস্যদের জন্য ব্যবস্থা করেন উন্নত প্রশিক্ষণের।
কিন্তু ’৭৫-এর বঙ্গবন্ধুর নির্মম হত্যাকা-ের পর থেমে যায় সশস্ত্র বাহিনীর অগ্রযাত্রা। পিছিয়ে পড়ে উন্নয়ন।
১৯৯৬ সালে সরকার গঠন করেন বঙ্গবন্ধু-কন্যা, গণতন্ত্রের মানস কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বাবার মতোই দূরদৃষ্টিসম্পন্ন নেত্রী। তিনিও গুরুত্ব দিলেন সশস্ত্র বাহিনীর উন্নয়নে। শুরু হলো বাহিনীর অগ্রযাত্রা। একে একে সংগ্রহ করে দিলেন ফ্রিগেট, মিগ-২৯ এর মতো অত্যাধুনিক সামরিক সরঞ্জামাদি।
কিন্তু দেশ রক্ষার উন্নয়নের কারণে শত্রুদের ষড়যন্ত্রের শিকার হলেন তিনি। আবারও থেমে গেল সশস্ত্র বাহিনীর অগ্রযাত্রা ২০০১ থেকে। চুরির মহাউৎসবে মেতে উঠল ২০০১ সালের ষড়যন্ত্রের সরকার। দেশ রক্ষার তাগিদে জনগণের টাকায় কেনা মিগ-২৯ গোপনে বিক্রি করে নিজেদের পকেট ভরতে চাইল। শত্রুতাবশত নৌবাহিনীর ফ্রিগেট ডিকমিশিং করে বসিয়ে রাখল।
২০০৮ সালে জনগণের ভালোবাসা নিয়ে, সকল ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে ভূমিধস বিজয় নিয়ে ফিরে এলেন শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী হয়ে। উনার শক্তিশালী সাহসী নেতৃত্বে আবার পুরোদমে শুরু হলো সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়ন। তিনি প্রণয়ন করলেন যুগোপযোগী পরিকল্পনা ‘ফোর্সেস গোল ২০৩০’।
‘ফোর্সেস গোল ২০৩০’-এর আলোকে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী হয়ে উঠছে দক্ষ, চৌকষ, আধুনিক শক্তিশালী মেধাবী সশস্ত্র বাহিনী।
নি¤েœ ‘ফোর্সেস গোল ২০৩০’-এর কিছু দিক তুলে ধরা হলোÑ
ফোর্সেস গোল ২০৩০ (ঋড়ৎপবং এড়ধষ ২০৩০) হলো বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়নের জন্য বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক গৃহীত একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। এ পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে সশস্ত্র বাহিনীর আকার বৃদ্ধি, আধুনিক যুদ্ধ সরঞ্জাম সংগ্রহ ও সর্বোচ্চ পর্যায়ের প্রশিক্ষণ প্রদান। পরিকল্পনায় দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পের ওপর জোর দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।

ক্রয় তালিকা
ফোর্সেস গোল ২০৩০ অনুসারে সশস্ত্র বাহিনীর জন্য ২০১০ সাল থেকে ক্রয়কৃত সমরাস্ত্রের তালিকাÑ

সেনাবাহিনী
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ব্যবহার করে নোরা বি-৫২কে২ এসপিএইচ; ৪৪টি এমবিটি ২০০০ ট্যাংক; ১৮টি নোরা বি-৫২ স্বয়ংক্রিয় কামান; ৩৬টি ডব্লিউএস-২২ মাল্টিপল রকেট লঞ্চার সিস্টেম; ৬৩৫টি বিটিআর-৮০ এপিসি; ২২টি অটোকার কোবরা এলএভি; ২ রেজিমেন্ট এফএম-৯০ স্বল্পপাল্লার বিমান বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র; কিউডব্লিউ-২ কাঁধে বহনযোগ্য বিমান বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র; এফএন-৬ কাঁধে বহনযোগ্য বিমান বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৯কে১১৫-২ মেতিস-এম; মেতিস-এম ট্যাংক বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র; পিফ-৯৮ ট্যাংক বিধ্বংসী রকেট; এসএলসি-২ ওয়েপন লোকেটিং রাডার; দুটি ইউরোকপ্টার এএস৩৬৫ ডাউফিন হেলিকপ্টার; ৬টি এমআই-১৭১এসএইচ হেলিকপ্টার; একটি সি-২৯৫ডব্লিউ পরিবহন বিমান; ৩৬টি ব্রামোর সি৪আই মনুষ্যবিহীন আকাশযান; ১০০টি ট্রাই শার্ক স্পিডবোট; একটি টাইপ সি কমান্ড ভেসেল।

নৌ-বাহিনী
দুটি টাইপ ০৩৫জি ডুবোজাহাজ; দুটি টাইপ ০৫৩এইচ২ ফ্রিগেট; দুটি হ্যামিল্টন ক্লাস ফ্রিগেট; ৪টি টাইপ ০৫৬ কর্ভেট; ৪টি দুর্জয় ক্লাস পেট্রোল ভেসেল; ৫টি পদ্মা ক্লাস পেট্রোল ভেসেল; একটি তেলবাহী ট্যাংকার; দুটি ডরনিয়ার ডিও-২২৮এনজি মেরিটাইম টহল বিমান; দুটি এডব্লিউ-১০৯ হেলিকপ্টার।

বিমান বাহিনী
১৬টি এফ-৭ যুদ্ধবিমান; ১৬টি ইয়াক-১৩০ প্রশিক্ষণ বিমান; ৯টি কে-৮ প্রশিক্ষণ বিমান; ১১টি পিটি-৬ প্রাথমিক প্রশিক্ষণ বিমান; ৩টি এল-৪১০ পরিবহন প্রশিক্ষণ বিমান; ১৬টি এমআই-১৭১এসএইচ হেলিকপ্টার; দুটি এডব্লিউ-১৩৯ হেলিকপ্টার; ৫ ব্যাটারি এফএম-৯০ স্বল্পপাল্লার বিমান বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র; জেএইচ-১৬ রাডার; জেওয়াই-১১বি রাডার; ওয়াইএলসি-২ রাডার; ওয়াইএলসি-৬ রাডার; সেলেক্স আরএটি-৩১ডি রাডার।
সাংগঠনিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন
সেনাবাহিনী : সিলেটে ১৭ পদাতিক ডিভিশন প্রতিষ্ঠা; কক্সবাজারে ১০ পদাতিক ডিভিশন প্রতিষ্ঠা; পদ্মাসেতুর পাশে ৯৯ কম্পোজিট ব্রিগেড প্রতিষ্ঠা; পদাতিক বাহিনীকে ব্যালাস্টিক হেলমেট, কেভলার বুলেট প্রুফ জ্যাকেট, নাইট ভিশন গগলস, আই প্রোটেক্টিভ গিয়ার, জিপিএস ডিভাইস, উন্নত যোগাযোগ যন্ত্র ও বিডি-০৮ অ্যাসল্ট রাইফেল দ্বারা সজ্জিত করা।
নৌ-বাহিনী : নৌবাহিনীর উড্ডয়ন শাখা প্রতিষ্ঠা; নৌবাহিনীর ডুবোজাহাজ শাখা প্রতিষ্ঠা; কক্সবাজারের পেকুয়ায় বানৌজা শেখ হাসিনা নামক ডুবোজাহাজ ঘাঁটি স্থাপন।
বিমান বাহিনী : ঢাকায় বঙ্গবন্ধু বিমান ঘাঁটি স্থাপন; কক্সবাজারে বিমান ঘাঁটি স্থাপন; বিমান বাহিনীতে আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র শাখা প্রতিষ্ঠা।
দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্প : বাংলাদেশ সমরাস্ত্র কারখানা; বিডি-০৮ অ্যাসল্ট রাইফেল প্রস্তুতকরণ; বিডি-০৮ লাইট মেশিন গান প্রস্তুতকরণ; গ্রেন-৮৪ বিডি গ্রেনেড তৈরি; কামান ও মর্টারের শেল তৈরি; ৬০ মিমি ও ৮২মিমি মর্টার; এফএন-১৬ ঈগল ম্যানপ্যাড।
বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি : অরুনিমা বলীয়ান ট্রাক সংযোজন; খুলনা শিপইয়ার্ড; পদ্মা ক্লাস পেট্রোল ভেসেল নির্মাণ; দুর্জয় ক্লাস পেট্রোল ভেসেল নির্মাণ; ল্যান্ডিং ক্রাফট ইউটিলিটি নির্মাণ; ল্যান্ডিং ক্রাফট ট্যাংক নির্মাণ; হাইড্রোগ্রাফিক জরিপ জাহাজ নির্মাণ।
নারায়ণগঞ্জ ডকইয়ার্ড : ল্যান্ডিং ক্রাফট ট্যাংক নির্মাণ; স্পিডবোট নির্মাণ; আনন্দ শিপইয়ার্ড; তেলবাহী জাহাজ নির্মাণ; বঙ্গবন্ধু অ্যারোনটিকাল সেন্টার সম্পাদনা; এফ-৭ যুদ্ধবিমানের ওভারহোলিং; এমআই-১৭ হেলিকপ্টার।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
সেনাবাহিনী : সেনাবাহিনীকে উত্তর, দক্ষিণ ও কেন্দ্রীয় কোরে ভাগ করা; পটুয়াখালীর লেবুখালীতে পদাতিক ডিভিশন স্থাপন; কিশোরগঞ্জের মিঠামইনে রিভারাইন ইনফ্যান্ট্রি ব্রিগেড স্থাপন; দুই রেজিমেন্ট ট্যাংক ক্রয়; দূরপাল্লার ট্যাংক বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ক্রয়।
নৌ-বাহিনী : দুটি ফ্রিগেট ক্রয়; ৬টি টাইপ-০৫৬ কর্ভেট ক্রয়; ৪টি দুর্জয় ক্লাস পেট্রোল ভেসেল ক্রয়; পটুয়াখালীতে বানৌজা শেরে বাংলা নামক সর্ববৃহৎ নৌঘাঁটি স্থাপন; দুটি ডুবোজাহাজ বিধ্বংসী হেলিকপ্টার ক্রয়; দুটি সামুদ্রিক টহল বিমান ক্রয়।
বিমান বাহিনী : এক ব্যাটারি মধ্যম পাল্লার বিমান বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ক্রয়; মনুষ্যবিহীন আকাশযান ক্রয়; ৮টি মাল্টিরোল কম্ব্যাট এয়ারক্রাফট ক্রয়; এমআই-১৭১ এসএইচ হেলিকপ্টার ক্রয়; দুটি এডব্লিউ-১৩৯ হেলিকপ্টার ক্রয়; দুটি এডব্লিউ-১১৯ হেলিকপ্টার ক্রয়। [তথ্য সূত্র : ফোর্সেস গোল-২০৩০, উইকিপিডিয়া]
উল্লেখ্য হচ্ছে, ঐতিহ্য অনুযায়ী কোনো দেশের সশস্ত্র বাহিনীই তাদের পরিকল্পনার সব প্রকাশ করে না। মূল পরিকল্পনার ক্ষুদ্র অংশই প্রকাশ করে আর সিংহভাগ গোপন রাখে। অর্থাৎ বলা যায়, উপরে উল্লিখিত পরিকল্পনা থেকে আরও কয়েকগুণ বেশি শক্তিশালী, দক্ষ, চৌকষ, মেধাবী সশস্ত্র বাহিনী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে দুর্বার গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী। সশস্ত্র বাহিনীর উন্নয়ন ধারার এই অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ সরকার সব সময়ই প্রয়োজন।

শ্রেণী:

‘মোল্লারা ঈশ্বরের মতো আচরণ করছে’

53

মূল্যবৃদ্ধির বিরুদ্ধে, দুর্নীতির প্রতিবাদে, দারিদ্র্য, বেকারত্ব, নিম্ন মজুরি, বৈষম্য, মুদ্রাস্ফীতি, অভিযোগ তুলে গত বছরের ২০১৭ সালের ২৮ ডিসেম্বর ইরানে বিক্ষোভ শুরু হয়। দাবি ছিল, যে দেশে মানুষ কাজ পাচ্ছে না, সে দেশের সরকার আঞ্চলিক সংঘর্ষ থামাতে এক বিপুল ব্যয়ভার বহন করছে কেন? 

53সাইদ আহমেদ বাবু; বিশ্ব রাজনীতিতে ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক দিক থেকে ইরান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইরান মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়া এবং মধ্য এশিয়ার কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থান করে। বিশ্ব বাণিজ্যের বিরাট একটা অংশ ইরান প্রভাবিত অঞ্চল দিয়ে হয়ে থাকে। তাই ইরান ভৌগোলিক দিক থেকে বিশ্ব শক্তিগুলোর কাছে কৌশলগত গুরুত্ব বহন করে। বাণিজ্যিক পথ ও গ্যাস পাইপলাইনের জন্য দক্ষিণ এশিয়াতেও ইরান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সবার চোখ এখন ইরানের দিকে। গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে দেশটির দ্বিতীয় জনবহুল শহর মাশহাদ শহরে বিক্ষোভের প্রথম স্ফুলিঙ্গ জ্বলে উঠেছিল। এরপর তা দেশটির পশ্চিমে কারমেনশাহ এবং দক্ষিণে বন্দর আব্বাসে ছড়িয়ে পড়ে। রাজধানী তেহরানে এর হাওয়া লাগে। এই প্রতিবাদ ২০০৯ সালের সবুজ আন্দোলন থেকে আলাদা, যেটিতে সংস্কারপন্থি নাগরিকরা নির্বাচনে কারচুপির প্রতিবাদে রাজপথে নেমে এসেছিল। এটি ১৯৯৯-এর তেহরানে সংঘটিত ছাত্র বিক্ষোভ থেকেও আলাদা, যে আন্দোলন হয়েছিল সংস্কারপন্থি পত্রিকা সালামের বন্ধের প্রতিবাদে।
ইরানের হাসান রৌহানি নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রতি জনগণের আকাক্সক্ষা বৃদ্ধি পায় যখন তারা ২০১৫ সালে পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদ এবং জাতিসংঘের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তি করে। রৌহানি বলেছিলেন, পারমাণবিক চুক্তি দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকে আকর্ষিত করবে কিন্তু পারমাণবিক চুক্তির পরও অবস্থার কোনো পরির্বতন হয়নি। মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ ট্রাম্পের নেতৃত্বে পারমাণবিক অবরোধ আরও জোরদার করেছে। ট্রাম্পের এই বিরাগভাজন হওয়ার জন্য বিভিন্ন উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠানকে ইরানের অভ্যন্তরে বিনিয়োগের আগ্রহকে বিনষ্ট করে দিয়েছে। ২০১৩-তে ক্ষমতায় এসে ব্যাপক অর্থনৈতিক সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দেন রৌহানি। কিন্তু অভিযোগ, গত চার বছরে রৌহানির কথা কাজে লাগেনি। ইরানের জনগণের যে সরকারি সাহায্য প্রয়োজন ছিল তার বেশিরভাগই পূরণ হয়নি।
গত ২০১৭-এর ডিসেম্বরের প্রথম দিকে রৌহানির সরকার তার বাজেটের বিস্তারিত অংশ জনসম্মুখে প্রকাশ করে। রৌহানির বাজেটের ভালো দিকগুলো ম্লান হয়ে যায় যখন জনগণ দেখতে পেল যে একটা বিশাল অঙ্কের অর্থ যাচ্ছে মোল্লা নিয়ন্ত্রিত প্রতিষ্ঠানে। এর স্বরাষ্ট্রনীতি এবং পররাষ্ট্রনীতি উভয়ই তেল রাজস্বের ওপর নির্ভরশীল (লেবানিজ রাজনৈতিক গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ এবং সিরিয়ার সরকারের প্রতি সমর্থনের ব্যাপারগুলোসহ)। মুদ্রাস্ফীতি ঠেকাতে সরকার ইতোমধ্যে জ্বালানি এবং রুটির ওপর ভর্তুকী বাতিল করেছে। এসব কারণে সাম্প্রতিক সময়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পায়। রৌহানির মুদ্রাস্ফীতি ঠেকানোর নীতি ইরানি শ্রমিকশ্রেণি এবং নিম্ন মধ্যবিত্তদের ওপর সরাসরি আঘাত হেনেছে। প্রত্যাশামাফিক কোনো অগ্রগতি সাধারণ জীবনে হয়নি, যা হতাশায় তৈরি করেছে জনসাধারণকে মাঠে নামিয়েছে।
মূল্যবৃদ্ধির বিরুদ্ধে, দুর্নীতির প্রতিবাদে, দারিদ্র্য, বেকারত্ব, নিম্ন মজুরি, বৈষম্য, মুদ্রাস্ফীতি, অভিযোগ তুলে গত বছরের ২০১৭ সালের ২৮ ডিসেম্বর ইরানে বিক্ষোভ শুরু হয়। দাবি ছিল, যে দেশে মানুষ কাজ পাচ্ছে না, সে দেশের সরকার আঞ্চলিক সংঘর্ষ থামাতে এক বিপুল ব্যয়ভার বহন করছে কেন? সরকারের কাছে জবাবদিহি দাবি করে শুরুতে পথে নেমেছিল সাধারণ জনগণ। সেই আন্দোলনের পিছনে না ছিল কোনো রাজনৈতিক দলের কলকাঠি, না মিছিলের সামনে ছিল কোনো পরিচিত নেতার নেতৃত্ব।
ইরানের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মাশাদ থেকেই বিক্ষোভ শুরু হয়। হাজার হাজার মানুষ ইরানের অধিকাংশ এলাকায় সরকারবিরোধী এ আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন এবং দেশটির নতুন নতুন শহরে বিক্ষোভ ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়েছে। মাশহাদে শুরু হওয়া বিক্ষোভ থেকে ৫২ জনকে পুলিশ গ্রেফতার করায় দ্রুতই সেটি সরকারবিরোধী আন্দোলনে পরিণত হয়। পরে তা ইরানের আরও অন্যান্য শহরেও ছড়িয়ে পড়ে। প্রাথমিকভাবে অর্থনৈতিক সংকট এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে এই বিক্ষোভের সূচনা হলেও এরই মধ্যে তা রাজনৈতিক সমাবেশে পরিণত হয়েছে।
রাজধানী তেহরানসহ দেশটির বড় বড় শহর ছাড়াও বেশ কিছু স্থানে সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি, প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানিসহ ইসলামি বিপ্লবের নেতাদের পদত্যাগ ও তাদের ‘নিপাত’ যাওয়ার দাবিতে স্লোগান দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন শহরে খামেনির ছবিও পুড়িয়ে দিচ্ছেন বিক্ষোভকারীরা। দেশটির এমন সব প্রদেশে বিক্ষোভের সূত্রপাত, যা একসময় বর্তমান সরকারের ঘাঁটি হিসেবেই পরিচিত ছিল। কিন্তু সেখানকার বাসিন্দা, বিশেষ করে তরুণেরা রাস্তায় নেমে আসে। বিক্ষোভ হয়েছে ধর্মীয় নেতাদের আবাসস্থল হিসেবে খ্যাত কোম শহরেও। বিক্ষোভকারীদের বক্তব্য হচ্ছে জনগণ ভিক্ষা করছে, মোল্লারা ‘ঈশ্বরের মতো আচরণ করছে’ একপর্যায়ে এই অসন্তোষ সরকারবিরোধী বিক্ষোভে পরিণত হয়। বিক্ষোভ শুরুর পরই যথারীতি পশ্চিমা গণমাধ্যম এই আন্দোলনকে সমর্থন করে সংবাদ প্রকাশ করেছে। এবং এই বিক্ষোভকে গণতন্ত্র ও মানবাধিকার, বাকস্বাধীনতা ও নারী অধিকার আদায়ের আন্দোলন বলে মূল্যায়িত করেছে। এর সঙ্গে ইরানি বংশোদ্ভূত প্রবাসীদের একটি বড় অংশই বুদ্ধিবৃত্তিক জায়গা থেকে যোগ দিয়েছে।
ইরানের ৮০টির বেশি শহরে বিক্ষোভ হয়েছে। বিক্ষোভে হাজারো মানুষ অংশ নিয়েছে। বিক্ষোভকালে ২২ জন প্রাণ হারিয়েছে। গ্রেফতার হয়েছে হাজারো বিক্ষোভকারী। তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ হয়। এবার যে প্রতিবাদের ঢেউ ইরানে উঠেছে তা কোনো রাজনৈতিক সংস্কারের জন্য নয়। তা আসলে ইরানে যে সংকটগুলো সৃষ্টি হয়েছে তার বিরুদ্ধে। এই বিদ্রোহ হচ্ছে বেকারত্ব, বঞ্চনা আর নৈরাশ্যের বিরুদ্ধে। যে স্লোগানগুলো ইরানের সর্বোচ্চ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে দেওয়া হচ্ছে তা উঠতি তারুণ্যনির্ভর জনসমষ্টির মৌলিক চাহিদা মেটাতে ইসলামি প্রজাতন্ত্রটির ব্যর্থতাকেই নির্দেশ করছে। কারখানাগুলোতে এবং তেল প্রকল্পগুলোতে শ্রমিক-শ্রেণি বিক্ষোভরত রয়েছে। তার সাথে যোগ দিয়েছে অবসরপ্রাপ্ত চাকরিজীবীরা এবং ব্যাংক সংকটে অর্থ হারিয়েছে এমন ব্যক্তিরা। প্রকৃত অর্থে এই বিদ্রোহ হচ্ছে শ্রমিক-শ্রেণি এবং নি¤œ মধ্যবিত্তের যারা তাদের জীবনমান নিচে নামতে দেখছে। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, তারা কষ্টে আছে। অন্যদিকে, ধনিক এলিট-শ্রেণি সব সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছে। তারা দেশে কিংবা দেশের বাইরে গিয়ে ভোগ-বিলাসিতা করছে।
ইরানে সরকারবিরোধী আন্দোলন আরও ছড়িয়ে পড়ায় বিক্ষোভ সংগঠিত করার অভিযোগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোকে নিষিদ্ধ করেছে দেশটির সরকার। মিডিয়াকে দৃঢ়ভাবে নিয়ন্ত্রিত রাখা হয় ৩৮ বছর আগে ইসলামি বিপ্লব করা মধ্যপ্রাচ্যের দেশটিতে।
বিশেষভাবে বললে, সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্য সাধারণ ইরানিদের রাস্তায় নামতে বাধ্য করেছে। অথচ দেশটির এলিট-শ্রেণিকে বিলাসী জীবনযাপন করতে দেখা যায়।
অনেকে আবার এই বিক্ষোভের কারণ হিসেবে উল্লেখ করছেন ইরানের বিতর্কিত পররাষ্ট্রনীতিকে। বলছেন, আঞ্চলিক দ্বন্দ্বে ইরান ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে যাওয়াকে কেন্দ্র করেই এই অসন্তোষ। আরেক দল বলছেন, সৌদি জোটের আরোপিত অবরোধের কারণে ইরানের জনগণের জীবনযাত্রা প্রভাবিত হয়ে তৈরি হয়েছে এই বিক্ষোভের পটভূমি। রুহানির অর্থনৈতিক কারণ জনগণের মনে যে চাপা রোষ ছিল, বিক্ষোভে সেটাই প্রকটভাবে ফুটে উঠেছে। আবার অন্যদিকে, দেশটিতে রাজনৈতিক দমন-পীড়ন পরিস্থিতির উন্নতি হয় নি। তাই একদিকে তৈরি হয়েছে আর্থ-সামাজিক অসন্তোষ। আরেকদিকে রাজনৈতিক অসন্তোষ। প্রেসিডেন্ট রুহানি অবশেষে হুঁশিয়ারির পাশপাশি ইরানের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে নাগরিকদের উদ্বিগ্নতার কথা স্বীকার করেছেন যে, ২০০৯ সালে বিপুল সংখ্যক সমাবেশে প্রতিবাদ বিক্ষোভের প্রেক্ষিতে সমস্যাগুলো সমাধানের প্রয়োজন ছিল। একই সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের ধ্বংসাত্মক আচরণ থেকে বিরত থাকতে সতর্ক করা হয়েছে। ইরানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল রহমান রাহমানী ফাজলি বলেন, যারাই জনগণের সম্পদ নষ্ট করবে বা আইনভঙ্গ করবে, তাদের নিজের আচরণের মূল্য দিতে হবে। এর আগে দেওয়া এক সতর্ক বার্তায় তিনি নাগরিকদের বে-আইনি জটলা পাকাতে বারণ করেন।
হাজার হাজার লোক রাস্তায় নেমেছে। আবার বহু লোক সরকারকে রক্ষার জন্যও রাস্তায় নেমেছে। এটি ইরানের জন্য সংকটকাল। শ্রমিক-শ্রেণির এই বিক্ষোভের ফলে দেশটির সরকার চাপে রয়েছে। বিক্ষোভকারীদের বিদেশের এজেন্ট বলে গালি দিলেই সমস্যার সমাধান হবে না। ইরানি দেশপ্রেম খুবই দৃঢ়। ইরানিরা হোয়াইট হাউস থেকে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে না; কিন্তু তারা ভবিষ্যতের নিরাপত্তা না পেলে ক্ষান্তও হবে না। বিবিসি জানিয়েছে, দেশটির বিভিন্ন প্রান্তের মূলত তরুণ ও পুরুষ বিক্ষোভকারীরা সরাসরি দেশ থেকে মোল্লাতন্ত্রের উচ্ছেদে ডাক দিচ্ছেন। ইরানের পরমাণু কর্মসূচি বন্ধসহ ইসলামি প্রজাতন্ত্র ও এর প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কারও চাইছেন তারা। বিভিন্ন শহরে খামিনির ছবিও পুড়িয়ে দিচ্ছেন বিক্ষোভকারীরা।
পরিস্থিতি এখন যে দিকেই যাক না কেন, মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতার জন্য ইরানের স্থিতিশীলতা জরুরি। এই স্থিতিশীলতা যদি বিঘিœত হয়, তাহলে তা গোটা মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে যাবে। এতে জঙ্গি-সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আরও উৎসাহিত হবে। মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি এখনও উত্তপ্ত। ইরানের বিক্ষোভ তাতে নতুন একটি মাত্রা যোগ করল।
অনেক বিশ্লেষক এবারের বিক্ষোভকে ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের প্রতিবিপ্লব হিসেবে দেখতে চাচ্ছেন। এখন পর্যন্ত এই বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা সেরকম না হলেও তাদের স্লোগানগুলো কিন্তু ওইসব বিশ্লেষকে শঙ্কিত করেছে। মোল্লাতন্ত্রী ইরানি ক্ষমতাসীন সরকারের নানা ব্যর্থতার বিরুদ্ধে তরুণ সমাজ ও জনগণের পুঞ্জিভূত ক্ষোভের স্বতঃস্ফূর্ত প্রকাশকেই তথাকথিত বিশ্লেষকগণ ‘প্রতিবিপ্লব’ হিসেবে চিহ্নিত করতে চাচ্ছেন। আমাদের কাছে এটা স্পষ্ট অসংগঠিত ও অরাজনৈতিক জনগোষ্ঠীর এই স্বতঃস্ফূর্ত বিক্ষোভ কোনো প্রতি বিপ্লবের প্রকাশ নয়; বরং স্বাভাবিক গণতান্ত্রিক আশা-আকাক্সক্ষারই বহিঃপ্রকাশ।

শ্রেণী:

প্যারিস অন প্লানেট সম্মেলন

Posted on by 0 comment
43

43সাইদ আহমেদ বাবু: পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার লক্ষ্যে ২০১৫ সালে প্যারিসে একটি চুক্তিতে পৌঁছায় সারাবিশ্ব। ২০০৯-এ ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে যা সম্ভব হয়নি। উষ্ণায়নের জন্য দায়ী গ্রিন হাউস গ্যাসের নিঃসরণ কমানোর দায় কোন দেশ কতটা নেবে, সেই প্রশ্নে কোপেনহেগেনের বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলন ভেস্তে গিয়েছিল। পারল প্যারিস। ১৯৬টি দেশ ১৩ দিন ধরে প্যারিস জলবায়ু সম্মেলন ২০১৭ আলোচনা করে সামনে নিয়ে এলো এক চূড়ান্ত খসড়া। যাতে বলা হলো, পৃথিবীর তাপমাত্রা যেন বর্তমানের চেয়ে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি না বাড়ে সেটি নিশ্চিত করাই হোক বিশ্বের লক্ষ্য। তবে সকলের ইচ্ছে উষ্ণায়নকে দেড় ডিগ্রি সেলসিয়াসের সীমায় বেঁধে রাখা। উন্নয়নশীল দেশগুলোকে এজন্য যথেষ্ট অনুদান দেওয়া ও পাঁচ বছর অন্তর উষ্ণায়নের পরিস্থিতি বারবার দেখার কথাও বলা রয়েছে খসড়ায়। ১৯৫টি দেশের প্রতিনিধি এ সম্মেলনে অংশ নিয়েছেন। সব দেশের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলন। সবাই মোটামুটি একটা মতৈক্যে পৌঁছাতে পেরেছে। মনে হয়, সবাই বুঝতে পেরেছে এ ছাড়া কোনো উপায় নেই। কারণ জলবায়ু পরিবর্তন কম-বেশি সবাইকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। জাতিসংঘের মহাসচিব বলেছেন ‘মনুমেন্টাল সাকসেস’Ñ এ কথার একটা গুরুত্ব আছে। প্রতিটি দেশের বিভিন্ন প্রকার ধ্যান-ধারণা, মত-পথ ছিল। সবাইকে মতৈক্যে আনা সত্যি একটা কঠিন কাজ। বাংলাদেশের দাবি ছিল বেশি অর্থ পাওয়ার। এই শতাব্দীতে যেন তাপমাত্রা না বাড়ে, তাপমাত্রার বৃদ্ধি যেন দেড় ডিগ্রিতে সীমাবদ্ধ থাকে। শিল্পোন্নত দেশের কার্বন নিঃসরণের ফলে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। সে জন্য আমরা ক্ষতিপূরণ চাই।
উষ্ণায়ন থেকে বিশ্বকে বাঁচাতে এটাই প্রথম কোনো আন্তর্জাতিক খসড়ায়, যাতে সায় দিয়েছে ভারত, চীন এবং জি-৭৭ গোষ্ঠীভুক্ত দেশগুলোও। কার্বন নির্গমনের প্রশ্নে উন্নত বনাম উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রচেষ্টায় এই প্রথম মধ্যপন্থা দেখাল প্যারিসের সম্মেলন। ১৩ দিনের মাথায় এখানে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওলাঁদ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন ফঁব পেশ করলেন খসড়া প্রস্তাব। আহ্বান জানালেন খনিজ তেল ও কয়লার মতো জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে নির্গত বিষাক্ত গ্রিন হাউস গ্যাস নিয়ন্ত্রণ করা এবং বিশ্বের তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে রোধ করা এই ‘ঐতিহাসিক’ খসড়া গ্রহণ করুক প্রতিটি দেশ।
তবে শুধু ভারত, বাংলাদেশ, চীন বা সৌদি নয়, পৃথিবীকে বাঁচাতে পৃথিবীর প্রতিটি দেশকেই এগিয়ে আসতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন ওলাঁদ। তিনি জানান, এ রিপোর্টের পরিকল্পনা দেশগুলো গ্রহণ করলে গ্রিন হাউস গ্যাস নিঃসরণে অনেকটাই রোধ করা যাবে। আর তা না হলে পুনরায় ব্যর্থ হবে পৃথিবীকে বাঁচানোর এই উদ্যোগ। ২০০৯ সালে কোপেনহাগেনের জলবায়ু সম্মেলন ভেস্তে যাওয়ার প্রসঙ্গ তুলে ওলাঁদ বলেন, ইতিহাসের প্রতি আমাদের দায়বদ্ধ থাকতে হবে।
জলবায়ুর পরিবর্তন ঠেকাতে এই খসড়াই যে এ মুহূর্তে একমাত্র আশার আলো তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন বান কি মুনও। তার কথায়, কোটি কোটি মানুষ আমাদের দিকে তাকিয়ে। জাতীয় স্বার্থের খাতিরেই এবার আমাদের বিশ্বজুড়ে এক হওয়ার সময় এসেছে। প্যারিস চুক্তির ভিন্নতা অন্য চুক্তিগুলোর চেয়ে প্যারিস চুক্তির প্রধান পার্থক্য হচ্ছে এর সময়কাল বেশি। এতে ২০৫০ সালের মধ্যে বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আর ২০২০ সালের মধ্যে চুক্তিতে অনুমোদন দেওয়া দেশগুলোকে কার্বন নির্গমন নির্দিষ্ট সীমায় নামাতে হবে।
এই চুক্তির ভিত্তিতে উন্নয়নশীল দেশগুলোকে অর্থ ও প্রযুক্তি দিয়ে সাহায্য করবে ধনী দেশগুলো। বাংলাদেশ ছিল জি-৭৭ গ্রুপে। এ ছাড়া অন্যান্য গ্রুপের মধ্যে রয়েছে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর গ্রুপ, শিল্পোন্নত দেশগুলোর গ্রুপ, দ্বীপরাষ্ট্রের গ্রুপ ইত্যাদি। বাংলাদেশ জি-৭৭ গ্রুপের মাধ্যমে মতামত তুলে ধরেছে। কোপেনহেগেনে আমাদের প্রধানমন্ত্রী বিশ্বের তাপমাত্রা যেন দেড় ডিগ্রির বেশি বৃদ্ধি না পায় সেই প্রস্তাব দিয়েছিলেন। প্যারিস চুক্তিতে বিষয়টি বিভিন্নভাবে এসেছে। এটা আমাদের একটা সফলতা বলা যেতে পারে। ১৯৯২ সালে জাতিসংঘের আওতায় জলবায়ু সনদ তৈরি হয়। বাংলাদেশসহ ১৯৫টি দেশ এতে স্বাক্ষর করে। এই সনদের কার্যক্রমকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য ১৯৯৭ সালে আরেকটা সনদ তৈরি হয়, একে কিয়োটো প্রটোকল বলে। এখানেও বাংলাদেশ অংশগ্রহণ করে। কিয়োটো প্রটোকলে পৃথিবীর জন্য কিছু কল্যাণকর বিষয় ছিল।
জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে ন্যায়বিচারের দাবিতে যে আন্দোলন, তাতে এই পরিবর্তনের জন্য বিশ্বের ধনী দেশগুলোকেই দায়ী করা হয়েছে। এই পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব বেশি পড়ছে দরিদ্র দেশগুলোয়। ১৯৯২ সালে জাতিসংঘের ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন অন ক্লাইমেট চেঞ্জ (ইউএনএফসিসিসি) এই বৈষম্যের বিষয়টি স্বীকার করে নেয়।
বিশ্বের ১৮৮টি দেশের ঐকমত্যে ২০১৫ সালে প্যারিস জলবায়ু চুক্তির দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে গত ১২ ডিসেম্বর ২০১৭ প্যারিসের এলিসি প্রাসাদে এই সম্মেলনে মিলিত হন বিশ্ব নেতারা। সম্মেলনে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ, বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ং কিম ও জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস অংশ নিয়েছেন। প্যারিস জলবায়ু চুক্তিতে বিশ্ব নেতারা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধি এমন পর্যায়ে বেঁধে রাখার উদ্যোগে নেওয়া হবে, যাতে তা প্রাক-শিল্পায়ন যুগের চেয়ে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি না হয়।
ফ্রান্সের প্যারিসে ওয়ান প্লানেট সামিটে নিরাপদ পৃথিবী গড়ে তুলতে বিশ্ব নেতৃবৃন্দের সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রত্যাশা করেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জলবায়ুর বিরূপ প্রভাব মোকাবেলায় উন্নত দেশগুলোর দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণের তাগিদ দিয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বলেন, উন্নত দেশগুলোর প্রতি আমি আহ্বান জানাতে চাই, জলবায়ু সংকটে সুবিচার প্রতিষ্ঠা এবং ইতিহাসের দায় মেটাতে তারা যেন তাদের প্রতিশ্রুতি পূরণ করেন। কেবল যৌথ প্রচেষ্টার মাধ্যমেই আমরা এই পৃথিবীকে নিরাপদ করতে পারি।
আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, জলবায়ু প্রশ্নে আমাদের যৌথ অঙ্গীকার ও উদ্যোগ শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং সমৃদ্ধির লক্ষ্য অর্জনে ভূমিকা রাখবে, সাম্য প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হবে। প্যারিস চুক্তি বাস্তবায়নে বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।
জলবায়ুর প্রভাব মোকাবেলায় উদ্যোগ গ্রহণে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর নেতৃত্বশীল ভূমিকার প্রশংসা করেন শেখ হাসিনা। গত সেপ্টেম্বরে ফ্রান্সের উদ্যোগে জাতিসংঘে ‘গ্লোবাল প্যাক্ট ফর দ্য এনভায়রনমেন্ট’ চালুর কথা উল্লেখ করেন তিনি।
শেখ হাসিনা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনে সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। অথচ এ ভয়াবহ আপদের জন্য বাংলাদেশ দায়ী নয়। আমাদের সম্পদের সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও আমরা প্রতিরোধ ও অভিযোজনের মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলা করে যাচ্ছি। ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হতে আমাদের টেকসই উন্নয়ন কৌশলে এটিকে মূল ধারায় রাখা হয়েছে।
এই সম্মেলন থেকে শেখ হাসিনা বনায়ন কর্মসূচির মাধ্যমে আগামী পাঁচ বছরে ২ শতাংশ বনাঞ্চল বৃদ্ধি করে বিদ্যমান ২২ থেকে ২৪ শতাংশে উন্নীতে ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, দেশের মোট আয়তনের ২২ শতাংশ বনভূমিকে আগামী পাঁচ বছরে ২৪ শতাংশে নিয়ে যেতে সরকার প্রয়োজনীয় বনায়ন কর্মসূচি নেবে। ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্ব ঐতিহ্য ও বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল সুন্দরবন সংরক্ষণে ৫ কোটি সাড়ে ৭ লাখ ডলারের প্রকল্প হাতে নেওয়ার কথা উল্লেখ করেন তিনি। জলবায়ুর বিরূপ প্রভাব মোকাবেলায় বাংলাদেশের জিডিপির ১ শতাংশ ব্যয় হওয়ার কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের কৃষিকে আমরা জলবায়ু সহিষ্ণু করছি। আমরা শহরে পানি সরবরাহে ভূ-গর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা কমাতে কাজ করছি।
সহিংসতার মুখে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে চলে আসতে বাধ্য হওয়া রোহিঙ্গাদের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিপুল সংখ্যক জনগণকে আশ্রয় দিতে গিয়ে দেশের উপকূল অঞ্চলের জলবায়ু অভিযোজনের বিষয়টি ‘বিরাট’ চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের ১০ লাখের বেশি নাগরিক আশ্রয় নেওয়ায় বাংলাদেশ বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করছে। মানবিক দিক বিবেচনা করে কক্সবাজারে ১ হাজার ৭৮৩ একর বনভূমিতে এসব বাস্তুচ্যুত মানুষকে আমরা আশ্রয় দিয়েছি। প্রলম্বিত এই উদ্বাস্তু সমস্যা ওই অঞ্চলে আমাদের বন ও পরিবেশের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। এ পরিস্থিতিতে সেখানে পরিবেশ সুরক্ষা বড় ধরনের চ্যালেঞ্জে পড়েছে।
এ শীর্ষ সম্মেলনে ১০০ বিশ্ব নেতাসহ বেসরকারি সংগঠন, ফাউন্ডেশন এবং সরকারি ও বেসরকারি খাতের প্রায় ২ হাজার প্রতিনিধি অংশ নিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্যারিস চুক্তি বাস্তবায়নে তার অঙ্গীকারের কথা পুনরায় উল্লেখ করেন এবং জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যুতে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রনের নেতৃত্বের প্রশংসা করেন।

শ্রেণী:

সৌদি আরব হবে মডারেট ইসলামি রাষ্ট্র

29

29সাইদ আহমেদ বাবু: পশ্চিম এশিয়ার সবচেয়ে বড় আরব দেশ সৌদি আরব। ইসলাম ধর্মের সূতিকাগার। মক্কা ও মদিনা বিশ্বের কোটি কোটি ধর্মপ্রাণ মুসলিমদের কাছে অত্যন্ত পবিত্র নগরী। এ দুটি শহরই সৌদি আরবে অবস্থিত। ইসলামের প্রাচীন ইতিহাস ও ঐতিহ্যের নিদর্শন হিসেবে সৌদি আরব বিশ্বে অদ্বিতীয়। আধুনিক সৌদি আরব প্রতিষ্ঠায় বর্তমান সৌদি রাজবংশ মুখ্য ভূমিকা পালন করে।
১৮৮০ সালের পূর্বে সে সময়ের আরবীয়দের মধ্যে ছিল সত্যের উজ্জীবিত আদর্শ, নিয়মনীতি, সাম্য, মৈত্রীর এক অভিনব কানুন-শৃঙ্খলার বিস্ময়কর পরিবেশ। আরবীয়দের আদর্শের জাগরণের সৌরভে সুশোভিত হয় সারাবিশ্ব। তারাই ছিল সারা মুসলিম বিশ্বের পরিচালক ও সংস্কারক। কেননা, তাদের রাষ্ট্র পরিচালনার সংবিধান রচনা হয়েছিল হযরত মোহাম্মদ (সা.)-এর আলোকিত সত্যের আদর্শ থেকে এবং তিনি কোরআন-সুন্নাহর আলোকে তার উম্মতগণকে ইসলামি শরীয়ত শিক্ষা দিয়েছেন সারা আরব ভূ-খ-ে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে সাম্রাজ্যবাদের তল্পিবহনের পুরস্কার স্বরূপ ক্ষমতাসীন সৌদি বংশ ‘জাজিরাতুল আরব’ আরব উপদ্বীপের অধিকাংশ অঞ্চলে তাদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করে। ১৮ শতকে রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ বিন সৌদের নাম থেকে এ নামটি এসেছে। আল সৌদ ৩টি পর্যায়ের মধ্য দিয়ে গেছে। এগুলো যথাক্রমে প্রথম সৌদি রাষ্ট্র, দ্বিতীয় সৌদি রাষ্ট্র ও আধুনিক সৌদি আরব। প্রথমত; সৌদি রাষ্ট্রকে ওয়াহাবিবাদের বিস্তার হিসেবে ধরা হয়। দ্বিতীয়ত; সৌদি রাষ্ট্র অভ্যন্তরীণ লড়াইয়ের কারণে চিহ্নিত হয়। আধুনিক সৌদি আরব মধ্যপ্রাচ্যে প্রভাবশালী।
মুহাম্মদ বিন সৌদ তার পুত্র আবদুল আজিজের সাথে মুহাম্মদ বিন ওয়াহাবের মেয়ের বিয়ে দেন। এভাবেই সৌদ পরিবার ও ওয়াহাবী মতবাদের মিলনযাত্রা শুরু হয়। ১৭৬৫ সালে মুহাম্মদ বিন সৌদের মৃত্যু হলে তার ছেলে আবদুল আজিজ দিরিয়ায় ক্ষমতাসীন হন। ১৯৩০ সালের পর সৌদিতে ক্ষমতায় আসেন আবদুল আজিজ। পরবর্তীকালে তারই ছয় ছেলে একে একে সৌদির রাজ্যপাট সামলান। এ প্রজম্মের শেষ রাজা হলেন সালমান বিন আবদুল আজিজ। তিনি এবার সৌদির শাসনভার ৩২ বয়সী মোহাম্মদ বিন সালমানের হাতে তুলে দিতে চলেছেন। সেদিক থেকে এ ঘটনা তাৎপর্যপূর্ণ বটে। কেননা ৬৪ বছর পর এই প্রথম এক প্রজম্ম থেকে আরেক প্রজম্ম ক্ষমতা হস্তান্তরিত হতে চলেছে।
সৌদি আরবের বর্তমান প্রজম্ম শিক্ষার্থীদের অধিকাংশই উচ্চ শিক্ষার্থে বিদেশ গমণকারী। ১ লাখ ৮৯ হাজার ২৭১ সৌদি নাগরিক দেশের বাইরে অবস্থান করছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী, তাদের পরিবারের সদস্য (সন্তান, স্ত্রী বা গৃহস্থালি সদস্য)। সৌদিতে শিক্ষার হার ৯৫ শতাংশ, তন্মধ্যে পুরুষ ৮৪ শতাংশ, মহিলা ৭০.৮০ শতাংশ। সৌদি আরবের রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম। সৌদি পরিচয় বহনকারী প্রায় সবাই মুসলমান। ভাষা আরবি, তবে আরবির পাশাপাশি বর্তমানে ব্যাপক হারে ইংরেজির ব্যবহার লক্ষণীয়।
সৌদি কাউন্সিল অব ইকোনমিক অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অ্যাফেয়ার্সের প্রধান মোহাম্মদ বিন সালমান ২০১৬ সালের এপ্রিল মাসে দেশটির অর্থনৈতিক সংস্কারের পরিকল্পনা প্রকাশ করেন।

কে এই মোহাম্মদ বিন সালমান
১৯৮৫ সালের ৩১ আগস্ট যুবরাজ বিন সালমানের জন্ম। মা ফাহদাহ বিনতে ফালাহ বিন সুলতান তৎকালীন প্রিন্স সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদের তৃতীয় স্ত্রী। রাজধানী রিয়াদের কিং সৌদ ইউনিভার্সিটি থেকে আইন বিষয়ে স্নাতক হওয়ার পর বিন সালমান সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন। ২০১৫ সালের আগে সৌদি আরবের বাইরে খুব কম লোকই প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের নাম শুনেছিল। ওই বছর তার বাবা সালমান বিন আবদুল আজিজ বাদশাহর সিংহাসনে আরোহণ করেন। সেই থেকে নানা তৎপরতার মধ্য দিয়ে ৩১ বছর বয়সী প্রিন্স বিন সালমান বিশ্বের শীর্ষ তেল রপ্তানিকারক দেশটির সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তিতে পরিণত হয়েছেন।
সৌদি আরবে সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিবর্তনের জন্য প্রকাশিত তার সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা, যা ভিশন ২০৩০ নামে পরিচিত। ২০৩০ সালকে লক্ষ্য করে তেল-নির্ভরতা কাটিয়ে, পদ্ধতিগত দুর্নীতি থেকে মুক্তি এবং ধর্মীয় কট্টরপন্থা থেকে একটি মডারেট সমাজে দেশকে উত্তরণের প্রতিজ্ঞা করেন। তিনি অতি দ্রততার সাথে সৌদি সমাজে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে চান। নতুন এই যুবরাজ সৌদিদের কাছে অন্যতম একটি রোল মডেল হয়ে উঠছেন। ‘মিশন-২০৩০’ সালের মৌলিক উদ্দেশ্য হলো দেশের ভিতরে বাইরের বিনিয়োগ নিয়ে আসা। বাইরে থেকে বিনিয়োগ আনতে গেলেই দেশটিকে কট্টর রূপ থেকে উদার রূপের দিকে যেতে হবে। সৌদি আরবের যুব সম্প্রদায়ের তারুণ্যকে অর্থনীতির প্রগতিতে সংযুক্ত করা, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষিত করে তোলা সৌদির প্রিন্সের স্বপ্ন। যুবরাজ সালমান দেশের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ অনুধাবন করে ২০১৬ সালে বড় ধরনের অর্থনৈতিক সংস্কার পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। দেশটির খরচের বড় একটি খাত হলো সৌদি নাগরিকের বিদেশ ভ্রমণ, বিশেষ করে পাশ্চাত্যের নানান আধুনিক সুবিধা উপভোগ করার জন্য দেশটির যুবসমাজের বড় একটি অংশ প্রতিবছর ঝাঁকে ঝাঁকে ইউরোপ ও আমেরিকায় পাড়ি দেয়। এতে রাষ্ট্রটির বিশাল অঙ্কের টাকা খরচ হয়। ক্রাউন প্রিন্স দেশের ভিতরেই বিনোদন ব্যবস্থার আয়োজন করতে পদক্ষেপ নিচ্ছেন। সিনেমা হলসহ নানা বিনোদন কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প খুব দ্রুতই এগিয়ে যাচ্ছে।
সালমান বলেন, তিনি স্বপ্ন দেখেন ‘সংবিধান ও ইসলামের সাথে সহনশীল অবস্থান রেখে আধুনিক পদ্ধতির জীবন তৈরি করা।’ ২০৩০-এর অধীনে ২০২০ সালের মধ্যে সৌদি আরবে সাংস্কৃতিক কর্মকা-ের জন্য ৪৫০টির বেশি নিবন্ধিত অপেশাদার ক্লাব প্রতিষ্ঠিত হবে। এদিকে দেশটির বিনোদন ক্ষেত্র গড়ে তোলার জন্য বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ তহবিল রয়েছে এবং রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কোম্পানি গড়তে এই তহবিল ব্যবহার করা হবে। যে এন্টারপ্রাইজ গড়ে তোলা হচ্ছে তাতে আড়াই বিলিয়ন ডলারেরও বেশি অর্থ বিনিয়োগ করা হচ্ছে, এতে হাজার হাজার মানুষের চাকরির সুযোগও সৃষ্টি হবে। সৌদি আরবের মতো রক্ষণশীল দেশের নাগরিকরা যেন কিছুটা হলেও আনন্দ বিনোদনের সুযোগ পায় তা নিয়েও এর আগে ভেবেছে কর্তৃপক্ষ। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটিতে কনসার্টের আয়োজন করা হয়েছে এবং চলচ্চিত্র প্রদর্শনের সুযোগও দেওয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক সৌদি আরবের রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন লক্ষ করা যাচ্ছে। যার প্রভাব শুধু দেশটির জন্য নয়, বিশ্ব রাজনীতিতেও ব্যাপক সাড়া পড়বে। ৩২ বছর বয়সী যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান নতুন সামাজিক চুক্তির কথা বলছেন, যেখানে আগের মতো স্থবির আমলাতন্ত্র থাকবে না। তেলের বাজারে যাই হোক না কেন, যেখানে থাকবে নতুন নতুন কর্মসংস্থানের সম্ভাবনাময় বেগবান অর্থনীতি। তিনি ৫০০ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে একটি প্রযুক্তিনির্ভর শহর স্থাপনের পরিকল্পনা কথা বলছেন, তেলভিত্তিক অর্থনীতির একটি দেশ থেকে সৌদি আরবকে একটি বহুমুখী অর্থনীতির দেশে রূপান্তরের পরিকল্পনাও তিনি তুলে ধরেছেন।
বৈচিত্র্যপূর্ণ সাংস্কৃতিক সংস্কারের মধ্য দিয়ে সমানুপাতিক হারে ইউটিউবে সৌদি নারীদের এগিয়ে আসা হোক সৌদি আরবের প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান দেশটির আমূল এই পরিবর্তনের অন্যতম কারিগর এবং সামনের দিক নেতৃত্ব দিচ্ছেন। টুইটারের মতো সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে দেশটিতে দীর্ঘ সময়ের জন্য পরিবর্তন আসা শুরু হয়েছে। সৌদি নারীরা রাজধানী রিয়াদ, জেদ্দা ও দাম্মামের ৩টি স্টেডিয়ামে খেলা দেখার সুযোগ পাবেন। সৌদি নারীদের আগামী বছর থেকে গাড়ি চালানোর অনুমতি দেওয়ার পর স্টেডিয়ামে বসে খেলা দেখার অনুমতি মেলে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রীদের মোবাইল ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। সৌদি আরবকে উদারপন্থি দেশে পরিণত করার জন্য যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের চলমান সংস্কার কর্মসূচির অংশ হিসেবে এসব পরিবর্তন। ইসলামে সর্বপ্রধান দেশ সৌদি আরবে ধর্মীয় নিয়ম ও রক্ষণশীল নীতি এভাবেই ক্রমশ বদলে যাচ্ছে। দেশটিতে সম্প্রতি দেশের মহিলাদের জন্য আইন শিথিল করা হয়েছে। সৌদি আরবে এখন থেকে মহিলারাও ফতোয়া জারি করতে পারবে বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির শুরা কাউন্সিল। পূর্ববর্তী নারীনীতি পরিবর্তন করে নারীদের শিক্ষা, স্ব^াস্থ্যসেবা, বিয়ে, বিদেশ ভ্রমণ, সরকারি চাকরি এবং ব্যবসায়ে অংশগ্রহণে উদারতার পক্ষে নীতিমালা প্রণীত হয়েছে। সরকারি চাকরিজীবী নারীদের অংশগ্রহণ ২২ থেকে ৩০ শতাংশে উত্তীর্ণ করা সৌদি আরবের ২০৩০ সালের লক্ষ্যের মধ্যে একটি। এ বছরের ১২ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে সৌদি আরবের পৌরসভা নির্বাচন। এই নির্বাচনে প্রথমবারের মতো ভোট দেবেন এবং প্রার্থী হবেন সৌদি নারীরা।
সম্প্রতি দেশটির যুবরাজ সালমান জানান, উত্তর-পশ্চিমের উপকূলে বিলাসবহুল রিসোর্ট বানাবেন। আর সেই উপকূলে চলাফেরা ও পোশাকে নারীরা থাকবেন স্বাধীন। মি. সালমান বলেন, সৌদি আরব একটি মধ্যপন্থি ইসলামিক দেশ হবে যেখানে সব ধর্মের প্রতি সহিষ্ণুতা থাকবে। ৫০টি দ্বীপকে বিশেষভাবে পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সেখানকার আল-মদিনা প্রদেশের মাদাইন সালেহ নামের প্রতœতাত্ত্বিক অঞ্চলটিও পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়া হবে। সবচেয়ে উচ্চাকাক্সক্ষী কিছু প্রকল্পের মধ্যে লোহিত সাগরও আছে। একটি মেগাসিটি তৈরি হতে চলেছে সৌদি আরব। ২৬ হাজার ৫০০ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে মিসর আর জর্ডান অবধি বিস্তৃত। সেখানে থাকবে না শরিয়া আইন, কর্তৃত্ব থাকবে সৌদি আরবের এখতিয়ারে। থাকবে আধুনিক পরিকাঠামো, খোলামেলা পরিবেশ, বিনোদনের সম্ভার। এক কথায় পৃথিবীর উন্নত দেশের যে কোনো একটি উন্নত চকচকে শহরের মতোই একটা শহর, উপকূলীয় এলাকাকে পর্যটনের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, সারাবিশ্বের পর্যটকরাই এদিকে আকৃষ্ট হবেন। যেখানে বিনিয়োগ আসতে পারে অবাধে। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করার জন্য প্রয়োজন উদার অভ্যন্তরীণ নীতিমালা, সেখানে ইসলামি শরিয়া আইন অনুপযোগী, তবে মূল নীতিমালা থাকবে অটুট। ব্যবসায় অংশীদারিত্বে নারীদেরও মূল্যায়ন করা হবে এবং হচ্ছে। দুর্নীতিমুক্ত প্রসারিত, মুক্ত অর্থনৈতিক পরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন সৌদি প্রশাসন।
সৌদি যুবরাজের উদ্যোগে বিদেশি বিনিয়োগকারী এবং উদ্যোগকারীদের নিয়ে যে বাণিজ্য সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়, তাতে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে, সালমান দুর্নীতি দমন করে বৈদেশিক কালাকানুন অনুযায়ী বাণিজ্যনীতি প্রণয়ন এবং প্রয়োগ করার সাহসী পদক্ষেপ গ্রহণ করার কথা ব্যক্ত করেন এবং দুর্নীতির বিরোধিতাকারীদের বিরুদ্ধেও সাহসী পদক্ষেপ গ্রহণ করেন, দেশকে দুর্নীতিমুক্ত করার জন্য একটি কমিশনও তৈরি করেন। কমিশনের মূল লক্ষ্য ছিল জনতার অর্থ যাতে অপচয় না হয়, তা দেখা। দুর্নীতিগ্রস্তদের শাস্তি দেওয়া এবং যারা ক্ষমতার অপব্যবহার করছেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া। সৌদি আরবে দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে আটক করা হয়েছে দেশটির বেশ কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিকে। আটকদের মধ্যে রয়েছেন রাজ পরিবারের সদস্য, মন্ত্রীরাও। তাদের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ ও বিভিন্ন ব্যবসা প্রকল্পের ব্যয় বাড়িয়ে দেখানোর মতো বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগ আনা হয়েছে। এ বিষয়ে সৌদি আরবের দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রধান খালিদ বিন আবদুল মোহসেন আল-মেহাইসেন জানান, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির ব্যাপক অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আইনি শক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়। এই ধরপাকড়ের প্রতি সৌদি আরবের ধর্মীয় নেতারা সমর্থন জানিয়েছেন। দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতাদের কাউন্সিল এক টুইট বার্তায় বলেছে, দুর্নীতি দমন অভিযান সৌদি আরবের সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধের মতোই গুরুত্বপূর্ণ। যে ডিক্রিবলে কমিশন গঠন করা হয়েছে, সেখানে বলা হয়েছে, ‘দুর্নীতির মূলোৎপাটন এবং দুর্নীতিবাজদের জবাবদিহির আওতায় আনা না গেলে আমাদের দেশ টিকে থাকতে পারবে না।’ সৌদি আরবে সম্প্রতি দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে আটক হওয়া ব্যক্তিদের শর্তসাপেক্ষে মুক্তি দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন দেশটির কর্মকর্তারা। কথিত দুর্নীতির অভিযোগে আটক রাজপরিবারের সদস্য ও ধনাঢ্য ব্যবসায়ীদের তারা বলেছেন, সরকারকে নগদ অর্থ দিয়ে তারা মুক্তি পেতে পারেন।
বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল উৎপাদনকারী দেশটির রাজনীতি বর্তমানে সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই শুদ্ধি অভিযানের সাফল্যের ওপরই নির্ভর করছে যুবরাজ মোহাম্মদের দেশ শাসনের সক্ষমতার বিষয়টি। তিনি মনে করেন, গুণগত পরিবর্তন আনা না গেলে সৌদি অর্থনীতি সমস্যার চোরাবালিতে নিমজ্জিত হবে, যা উসকে দিতে পারে অস্থিরতাকে। নতুন ক্রাউন প্রিন্স ‘ভিশন-২০৩০’ সালের মধ্যে যেসব পরিবর্তন আনতে চাইছেন, সেটি দেশটির ধর্মীয় গোষ্ঠীসহ রাজপরিবারের ভিতরের সদস্যদেরও প্রতিক্রিয়াশীল করে তুলতে পারে। এমতাবস্থায় এটি সহজেই বলা যায়, দেশীয় কিংবা আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট যা-ই হোক, নতুন ক্রাউন প্রিন্সকে সাবধানে পা ফেলতে হবে। পুরো প্রেক্ষাপট মাথায় রেখে প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানকে সামনে এগোতে হবে। যুবরাজের এসব কার্যাবলি লৌহ প্রাচীরের সীমানা অতিক্রম করে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিকমহলে প্রবল প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। সৌদি আরবের সাধারণ মানুষ এমনিতেই রাজনৈতিক অধিকারবঞ্চিত। তারা আরও বেশি নিপীড়ন, হয়রানি ও মিথ্যাচারের কবলে নিপতিত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সৌদি আরব গোটা মুসলিম বিশ্বের কাছে একটি সম্মানীয় অবস্থানে রয়েছে। একজন যুবরাজের সিদ্ধান্ত এবং অন্যায্য পদক্ষেপের কারণে সাধারণ মানুষ যেন জিম্মি না হয় সেদিকে নজর দিতে হবে। অবিলম্বে ইসলামের পবিত্র ভূমিতে শান্তির বারতা প্রতিষ্ঠিত হোকÑ এই আমাদের প্রার্থনা।

শ্রেণী:

‘বিশ্বের অর্থনৈতিক সামরিক কেন্দ্রবিন্দু হবে চীন’

44

44উত্তরণ ডেস্ক: চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বলেছেন, বিশ্বের অর্থনৈতিক ও সামরিক ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু হবে চীন। তিনি বলেছেন, চীন এখন নতুন যুগে প্রবেশ করেছে। তিনি চীনকে আধুনিক সমাজতান্ত্রিক দেশ হিসেবে গড়ারও অঙ্গীকার করেন। গত ১৮ অক্টোবর চীনা কমিউনিস্ট পার্টির ১৯তম কংগ্রেসে দেওয়া ভাষণে শি জিনপিং এসব কথা বলেন।
বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপল-এ তিন ঘণ্টার বেশি সময় ধরে দেওয়া বক্তব্যে শি জিনপিং বলেন, চীন নতুন যুগে প্রবেশ করেছে, কারণ দেশটি এখন বিশ্বমঞ্চের কেন্দ্রে অবস্থান করছে। নিজস্ব সমাজতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে চীন যেভাবে দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নতি লাভ করেছে তাতে অন্য দেশও এই পদ্ধতি অনুসরণ করতে পারে বলে মনে করেন শি। কিন্তু চীন অন্য কোনো দেশের আদর্শকে গ্রহণ করবে না বলেও উল্লেখ করেন চীনা প্রেসিডেন্ট। এই কংগ্রেসের মাধ্যমে শি জিনপিং আরও পাঁচ বছর ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হচ্ছেন বলেই মনে করা হচ্ছে। তিনি অনেক ক্ষমতাও পাবেন। পার্টির সাধারণ সম্পাদক শি পার্টির প্রধান হতে পারেন। প্রতি পাঁচ বছরে একবার এই কংগ্রেস বসে। এবারের কংগ্রেসে ৩ হাজারের বেশি প্রতিনিধি অংশ নিচ্ছে। কংগ্রেস শেষ হওয়ার পরই কমিউনিস্ট পার্টির পলিট ব্যুরো স্ট্যান্ডিং কমিটি গঠিত হবে। এই কমিটিই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে থাকে।
২০৫০ সালের মধ্যে চীন বিশ্বের সেরা শক্তিধর দেশ হয়ে উঠবে জানিয়ে প্রেসিডেন্ট বলেন, পশ্চিমা ধাঁচে গণতন্ত্র ফেরানোর কোনো আগ্রহ চীনের নেই। স্বাধীনতার দাবিতে বেশ কয়েকটি প্রদেশে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, কঠোর হাতে তা দমন করা হবে।
শি বলেন, বিশ্বের নতুন সামরিক বিপ্লব উন্নয়নের প্রবণতা ও জাতীয় নিরাপত্তার চাহিদা মেটাতে চীনা বাহিনীর ২০২০ সাল নাগাদ মোটামুটি অস্ত্রের আধুনিকায়ন বাস্তবায়ন নিশ্চিত হবে, তথ্যায়ন নির্মাণ কাজের গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি অর্জিত হবে, কৌশলগত সামর্থ্য উন্নতি হবে। সামরিক তত্ত্ব বাহিনীর সাংগঠনিক আকার, সামরিক ব্যক্তি আর অস্ত্র ও সরঞ্জাম এই ৪টি ক্ষেত্রে আধুনিকায়ন এগিয়ে যাবে যাতে ২০৩৫ সালে মোটামুটি প্রতিরক্ষা বাহিনীর আধুনিকায়ন সম্ভব হবে। এ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময় বিশ্বের প্রথম শ্রেণির বাহিনী প্রতিষ্ঠিত হবে। শি জিনপিং দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের অঙ্গীকার করে বলেন, দুর্নীতি করে কেউ রেহাই পাবে না। চীন মানব ইতিহাসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে উল্লেখ করে শি বলেন, চীনা নেতৃত্বকে খাটো করে এমন কোনো বৈদেশিক রাজনৈতিক নীতি গ্রহণ করা হবে না।

শ্রেণী:

পূর্ব এশিয়া ভূ-রাজনীতির চলমান উত্তেজনা

Posted on by 0 comment
59

59সাইদ আহমেদ বাবু: পূর্ব এশিয়া হলো এশিয়া মহাদেশের একটি অংশ। পূর্ব এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল বিশ্বের ভূ-রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্লাটফর্ম হিসেবে কাজ করে থাকে। এটি এশিয়া মহাদেশ ও আমেরিকা মহাদেশের সংযোগস্থল বিধায় বিশ্ব রাজনীতির কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত হয়ে থাকে।
চীন পৃথিবীর সবচেয়ে জনবহুল দেশ। আয়তনের দিক থেকে এটি পৃথিবীর তৃতীয় বৃহত্তম রাষ্ট্র। এর জনসংখ্যা প্রায় ১.৩ বিলিয়ন। এটি পূর্ব এশিয়ার একটি রাষ্ট্র। এর উত্তরে রয়েছে মঙ্গোলিয়া, রাশিয়া। উত্তর-পশ্চিমে কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান। পশ্চিমে তাজিকিস্তান, পাকিস্তান। দক্ষিণ-পশ্চিমে ভারত। দক্ষিণে নেপাল, ভুটান, মিয়ানমার, লাওস ও ভিয়েতনাম। পূর্বে উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়া এবং তাইওয়ান অবস্থিত। চীনের সাথে মোট ১৪টি রাষ্ট্রের সীমান্ত রয়েছে।
বহু বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্র এশিয়ার জলসীমায় রাজত্ব করেছে, তার বিশাল নৌবহর এমনভাবে এখানকার জলসীমা দাপিয়ে বেড়িয়েছে যে মনে হতো, তার রাশ টানার মতো কেউ নেই।
বৈশ্বিক বাণিজ্যের ৯০ শতাংশই হয় সমুদ্রপথে। ফলে সব দেশই চায়, আন্তর্জাতিক জলসীমায় তাদের চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত হোক। হ্যাঁ, বহুদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা কার্যত সমুদ্রপথে বৈশ্বিক যোগাযোগের পাহারাদারের কাজ করছে। একসময় সোভিয়েত ইউনিয়ন মার্কিন নৌ-শ্রেষ্ঠত্বকে চ্যালেঞ্জ করার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু তাতে তারা সফল হয়নি।
নতুন এক নৌ-শক্তি যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন এই আন্তর্জাতিক সমুদ্রব্যবস্থাকে ধীরে ধীরে উল্টে দিচ্ছে। চীন তার মহাদেশীয় প্রতিবেশীদের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী, তার নৌ-শক্তিও ক্রমেই বাড়ছে, আবার তার হাতে বিপুল পরিমাণে বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র রয়েছে। এই বলে বলীয়ান হয়ে চীন পূর্ব এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ জলপথে যুক্তরাষ্ট্রের উপস্থিতি সংকুচিত করেছে। হলুদ সমুদ্র (Yellow Sea) থেকে পূর্ব ও দক্ষিণ চীন সাগরে চীনা সামরিক ও আধা সামরিক বাহিনী তার আশপাশের সমুদ্রসীমায় যুক্তরাষ্ট্রের নৌশক্তির উপস্থিতিকে ক্রমাগত চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।
দক্ষিণ চীন সাগরে চীন কৃত্রিম দ্বীপ বানিয়ে সামরিক স্থাপনার এক ছড়ানো-ছিটানো নেটওয়ার্ক ও বিমানঘাঁটি গড়ে তুলেছে। চীন পরবর্তীকালে এই ঘাঁটিকে সামরিক আক্রমণ শুরু করার ক্ষেত্র হিসেবে ব্যবহার করতে পারে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরের একটি অংশ সামরিক শক্তি প্রয়োগের পক্ষপাতী, বেইজিংয়ের নৌ-শক্তি প্রদর্শনের পরিপ্রেক্ষিতে তারা আরও আগ্রাসী অবস্থান নেবে। কিন্তু তারা যে চীনের সৃষ্ট কৃত্রিম দ্বীপের কাছাকাছি নজরদারি করার জন্য জাহাজ পাঠিয়েছে, তাতে দ্বন্দ্ব-সংঘাত আরও বাড়তে পারে।
ব্যবসা-বাণিজ্যের লক্ষ্যে দক্ষিণ চীন সাগর ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলসহ ভারত মহাসাগরের ওপর দিয়ে অবাধ ও নিরাপদ সংযোগ পথ স্থাপনের জন্য এই অঞ্চলের রাষ্ট্রগুলোর সাথে রাজনৈতিক সম্পর্ক বিস্তারের উদ্যোগ নিয়েছে এবং নিজের সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করছে।
চীনের জন্য প্রশান্ত মহাসাগরে প্রবেশের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে, উত্তর-পূর্বে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও তাইওয়ানের সমন্বিত একটা বেষ্টনী এবং দক্ষিণে মালাক্কা প্রণালি, যেখানে চীনের কোনো প্রভাব নেই ও আসিয়ান (অ্যাসোসিয়েশন অব সাউথ ইস্ট এশিয়াা নেশন্স) দেশসমূহের অবস্থান, যে দেশগুলো চীনের সাথে সম্পর্ক বজায় রাখলেও আমেরিকার বন্ধুত্বকে প্রাধান্য দেয়। এই বাধা উপেক্ষা করে প্রশান্ত মহাসাগরে প্রবেশের জন্য চীন উত্তর কোরিয়ার ‘রাজীন’ সমুদ্রবন্দর, যা পুরো বছর বরফমুক্ত থাকে, তার আধুনিকায়ন করছে। ভারত মহাসাগরে প্রবেশের বিকল্প হিসেবে পাকিস্তানের বেলুচিস্থানে ‘গোয়াদার’ সমুদ্রবন্দর নির্মাণ করছে। যাতে প্রয়োজন হলে সড়কপথে পাকিস্তান হয়ে ‘গোয়াদার’ বন্দরের মাধ্যমে চীনের বাণিজ্য উপকরণ পার্সিয়ান গালফ, লোহিত সাগর হয়ে সুয়েজ খাল এবং দক্ষিণে আফ্রিকা মহাদেশের দেশসমূহে পৌঁছতে পারে।
দক্ষিণ চীন সাগরে অবস্থিত চীনের দ্বীপ ‘হাইনানে’ তারা বড় সামরিক স্থাপনা গড়ে তুলছে। চীনের এই পরিকল্পনার বিরুদ্ধে আমেরিকা ২০২০ সালের মধ্যে তার সামরিক শক্তি বিশেষ করে নেভাল ফোর্সের ৬০ শতাংশ মোতায়েন করার ঘোষণা দিয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার উত্তর মাথায় অবস্থিত ডারউইন বন্দরে আমেরিকা ২ হাজার ৫০০ মেরিন সেনা নতুনভাবে মোতায়েন করছে। এই অঞ্চলে চায়না রুখো নীতির আওতায় আমেরিকার কাছে ভারত ও ইন্দোনেশিয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভারত মহাসাগর ও প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্যবর্তী জায়গায় বিশাল দেশ ইন্দোনেশিয়া। দক্ষিণ চীন সাগরের দ্বীপপুঞ্জের মালিকানা নিয়ে ভিয়েতনাম ও ফিলিপাইনের সাথে চীনের দ্বন্দ্ব বহু দিনের পুরনো। এই অঞ্চলে আমেরিকার প্রভাব-প্রতিপত্তি বিস্তারের যে চাবিকাঠি তার মূল ভিত্তি হচ্ছে জাপান। জাপানের ওকিনাওয়া দ্বীপে আমেরিকার বড় সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। কোরিয়ান পেনিনসোলা এবং তাইওয়ান প্রণালিতে যে কোনো সংকটে ওকিনাওয়া সামরিক ঘাঁটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। দক্ষিণ চীন সাগরের সেনকাকু দ্বীপের মালিকানা নিয়ে সম্প্রতি চীন-জাপান সম্পর্কে নতুন করে চিড় ধরছে। তবে চীনের সামরিক বাহিনীর ক্রমবর্ধমান ব্যাপক প্রসার, বিস্তার ও আধুনিকায়নের উদ্দেশ্য প্রসঙ্গে এ অঞ্চলের সব রাষ্ট্রেরই সন্দেহ এবং ভয় আছে। আঞ্চলিক রাজনৈতিক ও সামরিক সমীকরণে এ অঞ্চলের বেশিরভাগ দেশের অবস্থান যে অন্যদিকে তা চীনের উপলব্ধিতে আছে।
কোরিয়া দ্বীপ রাষ্ট্রটি উত্তর ও দক্ষিণ এই দুটি ভাগে বিভক্ত। এই দুটি রাষ্ট্র পূর্ব এশিয়ায় অবস্থিত। কোরিয়া দ্বীপটি উত্তর-পশ্চিমে চীন দ্বারা আবদ্ধ। আর উত্তর-পূর্বে রাশিয়া দ্বারা আবদ্ধ এবং কোরিয়া প্রণালি দ্বারা জাপান থেকে পৃথক। দক্ষিণে-পূর্ব চীন সাগর দ্বারা তাইওয়ান থেকে বিভক্ত। এই দুটি রাষ্ট্রের মধ্যে উত্তর কোরিয়া পারমাণবিক ক্ষমতাধর দেশ এবং এই দেশটির ওপর চীনের প্রভাব বেশি।
উত্তাল বিশ্ব রাজনীতির পরিম-লে সমাজতান্ত্রিক ও মার্কসবাদী ভাবধারায় উদ্বুদ্ধ কমিউনিস্ট শাসিত উত্তর কোরিয়া এখন আলোচনার খোরাকে পরিণত হয়েছে। উত্তর কোরিয়ার প্রতিপক্ষ অর্থাৎ মহাশক্তিধর রাষ্ট্রবর্গ দেশটির কর্মকা-ে উৎকণ্ঠিত।
একের পর এক পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়ে উত্তর কোরিয়া বিশ্ব দরবারে জানান দিচ্ছে যে, বৃহৎ শক্তিবর্গ যদি মারণাস্ত্র নির্মাণ করতে পারেÑ তাহলে আমরা কেন তা পারব না। তারা জানিয়ে দিচ্ছে শত্রুর কাছে মাথানত করার ন্যূনতম সুযোগ উত্তর কোরিয়ার নেই। বিশ্বব্যাপী নতুন করে যুদ্ধের দামামা শোনা যাচ্ছে। চলছে রণ-হুঙ্কার। একদিকে পরাশক্তি ও বিশ্ব মোড়ল আমেরিকা, অন্যদিকে নব্য পারমাণবিক শক্তিধর উত্তর কোরিয়া। বাকযুদ্ধ শেষ পর্যন্ত বাকযুদ্ধের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে কি না, এ ব্যাপারে বিশ্বব্যাপী আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। এখনও বিষয়টি বাকযুদ্ধ মনে হলেও পরিস্থিতি খারাপের দিকে মোড় নিচ্ছে বলে অনেকের ধারণা।
উত্তর কোরিয়ায় জ্বালানি ও খাদ্য সংকট রয়েছে। তারপরও দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় উত্তর কোরিয়া একাট্টা। দেশটির এক পাশে শক্তিধর প্রতিপক্ষ দক্ষিণ কোরিয়া এবং অন্যদিকে রয়েছে শক্তিশালী জাপান। এ দুই শক্তিকে মোকাবেলা করার জন্য উত্তর কোরিয়া পারমাণবিক ও হাইড্রোজেন বোমাসহ আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র নির্মাণ সম্পন্ন করেছে। এরই মধ্যে আমেরিকা তার মিত্র জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়াকে নিয়ে সামরিক মহড়া অনুষ্ঠানের মাধ্যমে উত্তর কোরিয়াকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করতে গিয়ে উল্টো বিপাকে পড়েছে। অর্থাৎ, পীত সাগরে মিত্র দেশের সমন্বয়ে সামরিক মহড়ার আগে পরে উত্তর কোরিয়া তার উদ্ভাবিত মারণাস্ত্রের পরীক্ষা অব্যাহত রেখে শত্রুপক্ষকে হুঁশিয়ারি প্রদান করছে।
চীন ও রাশিয়া মনে করে যে, উত্তর কোরিয়ার মাধ্যমে আমেরিকা, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়াকে যুদ্ধ আতঙ্কে ব্যস্ত রাখতে চায়। আমেরিকাসহ তার মিত্ররা ভালো করে জানে উত্তর কোরিয়াকে চটালে এর পরিণতি হবে খুবই ভয়াবহ। তাই উত্তর কোরিয়ার হাঁকডাক নীরবে হজম করে যাচ্ছে মার্কিন মিত্ররা।
কারণ উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক অস্ত্রভা-ার রয়েছে। ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তিতেও উত্তর কোরিয়া অনেকদূর এগিয়েছে। এখন আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার প্রহর গুনছে। ১২৫টি সাবমেরিন বহর, সেনা ও গোলন্দাজ ডিভিশনের পাশাপাশি বিমান বাহিনীর দক্ষতাও চোখে পড়ার মতো।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে কঠোর সামরিক ব্যবস্থা নিতে তার দেশ ‘সম্পূর্ণ প্রস্তুত’ রয়েছে। দুদেশের মধ্যে যখন বাকবিত-া চরম আকার ধারণ করেছে তখন ট্রাম্প যুদ্ধ-প্রস্তুতির কথা বললেন।
ট্রাম্প সামরিক শক্তি প্রয়োগের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, আমরা দ্বিতীয় অপশনের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত এবং আমরা যদি তা বেছে নিই তাহলে তা হবে ভয়াবহ ধ্বংসাত্মক। যদি আমাদের সামরিক ব্যবস্থা নিতে হয় তাহলে উত্তর কোরিয়াকে ধ্বংস করে ছাড়ব।
২০০৬-এর পর এ নিয়ে দেশটির ওপর অষ্টমবারের মতো অবরোধের প্রস্তাব আনা হলো।
যদিও পরমাণু অস্ত্র কর্মসূচি থেকে পিয়ং ইয়ং-কে বিরত রাখা সম্ভব হয়নি। কয়লা, সীসা, তৈরি পোশাকের মতো গুরুত্বপূর্ণ সামগ্রী এবারের অবরোধের তালিকায় রয়েছে।
নিরাপত্তা পরিষদে উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে আনা অবরোধের প্রস্তাবের পক্ষে পড়েছে ১৫ ভোট, আর বিপক্ষে একটিও না।
যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে অবরোধ জারির জন্যে এই বৈঠকের আহ্বান জানায় আর তাতে রাশিয়া এবং উত্তর কোরিয়ার মিত্র দেশ চীনও সম্মতি জানালো।
পিয়ং ইয়ং সম্প্রতি যে পরমাণু অস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে তা ছিল অত্যন্ত শক্তিশালী হাইড্রোজেন বোমার পরীক্ষা। আর ক্রমাগতই তারা যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত হানার বিষয়ে হুমকি দিয়ে আসছিল।
কোরীয় উপদ্বীপে আপাতত যুদ্ধের কোনো সম্ভাবনা দেখা না গেলেও উভয় পক্ষের হুমকি-পাল্টা হুমকি প্রত্যক্ষ করবে বিশ্ববাসী।
জাপান হলো পূর্ব এশিয়ার একটি দ্বীপরাষ্ট্র। এটি প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত। এটি জাপান সাগর, চীন, উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়া এবং রাশিয়ার পূর্বে অবস্থিত। জাপানের উত্তর-পূর্বে চীন সাগর এবং দক্ষিণে তাইওয়ান অবস্থিত। জাপানের বৃহৎ ৪টি দ্বীপ হলোÑ হনসু, হোক্কাইডো, কিনসু এবং শিকোকো। জাপানের জনসংখ্যা প্রায় ১৩০ মিলিয়ন এবং জাপান বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ।
মার্কিন জয়েন্ট চিফ অব স্টাফ কমিটির চেয়ারম্যান জেনারেল জোসেফ ডানফোর্ড মনে করেন, রাশিয়াকে হটিয়ে ২০২৫ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য চীন সবচেয়ে বড় হুমকি হয়ে দেখা দেবে। এ সময় তিনি বলেন, ২০২৫ সালের মধ্যে সম্ভবত চীন হবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী। এ মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ৩টি বড় সামরিক হুমকি হলোÑ রাশিয়া, চীন ও উত্তর কোরিয়া।
এ মুহূর্তে চীন প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতা প্রদর্শনের সামর্থ্য খর্ব করা এবং মিত্র দেশগুলোকে দুর্বল করার চেষ্টা করছে।
চীনের সাথে চলতি বছর এই দুটি দেশের যথাক্রমে দক্ষিণ চীন সাগর ও ডোকলাম উপত্যকায় ভূখ- নিয়ে বিরোধ দেখা দেয়। গত বছর আফ্রিকার জিবুতিতে চীন প্রথমবারের মতো তার বৈদেশিক সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করে। দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং পূর্ব আফ্রিকায় আরও এক ডজন এমন ঘাঁটি স্থাপনের চিন্তা-ভাবনা চলছে বলে জানা গেছে।

শ্রেণী:

ব্রিটিশ পার্লামেন্টে আগাম নির্বাচন অনুষ্ঠিত

Posted on by 0 comment
37

37সাইদ আহমেদ বাবু: একসময় ব্রিটিশ সা¤্রাজ্যে সূর্যাস্ত হতো না। পৃথিবীর উভয় প্রান্তেই ছিল তার সা¤্রাজ্য। তার শাসিত দেশগুলো নিয়ে রয়েছে কমনওয়েলথ ইউনিয়ন। এখনও বেশ কটি স্বাধীন দেশের রানিও ব্রিটেনের রানি। ব্রিটিশ উপনিবেশ শাসন হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছে বাঙালিসহ ভারতীয় উপমহাদেশ প্রায় ২০০ বছর ধরে। ব্রিটিশ সা¤্রাজ্যের সূর্য ক্রমে অস্তমিত হতে হতে মাত্র ৪টি রাজ্য নিয়ে গ্রেট ব্রিটেনে পরিণত হয়েছে।
ব্রিটেন আজ গভীর সংকটের সম্মুখীন। ক্ষত-বিক্ষত আর তছনছ হতে চলেছে তার দেশ ও মানুষ। ব্রিটেনের বর্তমান আর্থ-সামাজিক পরিস্থিতি খুবই নাজুক। মুক্ত বাণিজ্য তাদের কাছে সন্দেহের বস্তু। অভিবাসন আপত্তিকর। শুল্ক এবং নানাবিধ বিধিনিষেধের বেড়া তুলে পণ্য, পুঁজি এবং শ্রমের অবাধ গতি নিয়ন্ত্রণই তাদের লক্ষ্য। বাংলাদেশসহ এশিয়ার দেশগুলোর জন্য ব্রিটেন ছিল ইউরোপের প্রবেশদ্বার। ব্রেক্সিট শিবিরের জয় এসেছে মূলত অভিবাসন বিরোধিতার ওপর ভর করে। আর্থিক মন্দা, সামাজিক সুরক্ষা বাবদ বরাদ্দে কাটছাঁট থেকে চাকরির অভাব, সব কিছুতেই দায় চাপানো হয়েছে অভিবাসীদের ওপর, যদিও ইতিহাস বলে অন্য কথা। দক্ষ অভিবাসীদের সামর্থ্য শুধু ব্রিটেনই নয়, বিশ্ব অর্থনীতির পালেও হাওয়া জুগিয়েছে। ব্রিটেন উন্নত হয়েছে এদের শ্রমের ওপরই।
বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত বহু মানুষের বাসস্থান যুক্তরাজ্যে। এসব কারণে যুক্তরাজ্যের বর্তমান নির্বাচন বাংলাদেশেও ব্যাপক আগ্রহের সৃষ্টি হয়েছিল। ব্রিটিশ পার্লামেন্ট নির্বাচনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাতনি শেখ রেহানার মেয়ে টিউলিপ রেজওয়ানা সিদ্দিক, রূপা হক, রুশনারা আলী পুনরায় বিজয়ে বাংলাদেশের মানুষ গৌরবান্বিত বোধ করছে। রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাদের তাৎক্ষণিকভাবে অভিনন্দন জানিয়েছেন। আমরা আশা করি, যুক্তরাজ্যের ক্ষমতায় যে দলই থাকুক, বাংলাদেশের সাথে বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক অক্ষুণœ থাকবে এবং অদূর ভবিষ্যতে তা আরও জোরদার হবে।
39বিলাতে নির্বাচনের সময় বিগত সরকার ক্ষমতায় থাকে; কিন্তু তারা ভোটের ব্যাপারে কোনো হস্তক্ষেপের কথা আদৌ ভাবেন না। কেউ হেরে যাওয়ায় কারচুপির অভিযোগও তোলেন না। ভোট হতে পারে অবাধ ও নিরপেক্ষ। আবার ভিন্ন দল ক্ষমতায় গেলেও রাষ্ট্রীয় নীতি, পরিকল্পনা বদলে ফেলার মতো কোনো ঘটনা সেখানে ঘটবে না। গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে আমাদেরও সেই দৃষ্টান্তগুলো অনুসরণ করতে হবে। অবশ্য বিলাতে গণতন্ত্র আজকের অবস্থায় আসতে বেশ কিছুটা সময় নিয়েছে, ব্রিটেনে নির্বাচনে একসময় যথেষ্ট দুর্নীতি হতো। এখন আর তা হয় না। ব্রিটেনে গণতন্ত্র পূর্ণতা পেতে পেরেছে চর্চার মাধ্যমে।
ব্রিটেনে ২০১৬ সালের ২৩ জুন গণভোট হয় ইউরোপীয় ইউনিয়নে ব্রিটেন থাকবে কি থাকবে না সেটি নিয়ে। গণভোটে ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে আসার পক্ষে ৫২ শতাংশ ভোটার ভোট প্রদান করে। ফলে ব্রিটিশ সরকারকে সিদ্ধান্ত নিতে হয় ইউরোপীয় ইউনিয়ন পরিত্যাগের। ব্রিটেনে এবারের পার্লামেন্ট নির্বাচনে একটি বড় বিষয় ছিল ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে আসা।
ব্রেক্সিট ইস্যুতেই গণভোটের পর সাবেক প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন পদত্যাগ করলে কপাল খুলে যায় তেরেসা মে’র। তিনি ২০১৬ সালের জুলাই মাসে ব্রিটেনের ইতিহাসে দ্বিতীয় নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর সরকারের পূর্ণ মেয়াদ শেষ করার ঘোষণা দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে জোট ছাড়ার প্রস্তাব দেওয়ার পর আগের অবস্থান থেকে সরে এসে গত এপ্রিলে আগাম নির্বাচনের ঘোষণা দেন তেরেসা মে।
তেরেসা মে দেশবাসীর কাছে এই বিশ্বাস নিয়ে হাজির হয়েছিলেন যে, জনমত জরিপে জেরেমি করবিনের (লেবার নেতা) করুণদশার সুযোগ নিয়ে তিনি নিজ দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতা বাড়িয়ে নিতে সক্ষম হবেন এবং আগামী পাঁচ বছরের জন্য নিজের প্রধানমন্ত্রিত্বও সুরক্ষিত রাখতে পারবেন। পার্লামেন্টে এখনও সর্ববৃহৎ দল হলো টোরিরা। কিন্তু নির্বাচনে ১৭টি আসন দলটি হারিয়েছে। ২০১৫ সালের সাধারণ নির্বাচনে ডেভিড ক্যামেরন এই আসনগুলো জিতেছিলেন।
একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানোর কারণে প্রধানমন্ত্রীর বিরোধিতা করছেন অনেক কনজারভেটিভ। পার্লামেন্টে কনজারভেটিভ দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছিল, যা দিয়ে তিনি অনায়াসে আরও তিন বছর প্রধানমন্ত্রীর পদে বহাল থাকতে পারতেন; কিন্তু তার স্বপ্ন ছিল কনজারভেটিভ পার্টিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করিয়ে শাসন-প্রশাসনে আরও সুদৃঢ় করবেন। কিন্তু বাস্তবে তা সম্ভব হয়নি।
নিজের নির্বাচনী এলাকা মেইডেনহেডে পুনর্নির্বাচিত হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী নিজেও ইঙ্গিত দেন, প্রয়োজনে মাইনরিটি সরকার গঠন করতে পারেন তিনি। যখন দেখা গেল তার দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারাচ্ছে, তখন তিনি বলেন, এ মুহূর্তে যে কোনো কিছুর চেয়ে দেশের দরকার স্থিতিশীলতা। কনজারভেটিভরাই বেশি আসন জিতেছে। বেশি ভোটও। তাই আমাদের ওপরই এই স্থিতিশীলতা রক্ষার দায়িত্ব বর্তায়। আর এটিই আমরা করব।
যুক্তরাজ্যের এই নির্বাচন ঘিরে যা হলো তা দেখে নিন এক নজরেÑ
স্থানীয় সময় ৮ জুন, বৃহস্পতিবার, যুক্তরাজ্যে আগাম জাতীয় সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ৯ জুন ফল প্রকাশে দেখা যায়, মোট ভোটার ৪ কোটি ৬৮ লাখ ৪৩ হাজার ৮৯৬। ভোট পড়েছে ৬৮ দশমিক ৭ শতাংশ। মোট আসন ৬৫০টি। সংখ্যাগরিষ্ঠভাবে সরকার গঠনের জন্য এককভাবে প্রয়োজন ৩২৬টি আসন। কেনসিংটন আসন ছাড়া সব আসনের ফল প্রকাশ। সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি কোনো দলই। কনজারভেটিভ পার্টি পেয়েছে ৩১৮ আসন। মোট ভোট ১ কোটি ৩৬ লাখ ৫০ হাজার ৯১৮ (৪২.৪৫ শতাংশ)। লেবার পার্টি পেয়েছে ২৬২টি আসন। মোট ভোট ১ কোটি ২৮ লাখ ৫৮ হাজার ৬৪৪ (৩৯.৯৯ শতাংশ)। ডেমোক্র্যাটিক ইউনিয়নিস্ট পার্টি (ডিইউপি) পেয়েছে ১০টি আসন। মোট ভোট ২ লাখ ৯২ হাজার ৩১৬ (০.৩১ শতাংশ)। লিবারেল ডেমোক্র্যাট পেয়েছে ১২টি আসন। মোট ভোট ২৩ লাখ ৬৭ হাজার ৩৮টি (০.৫১ শতাংশ)। স্কটিশ ন্যাশনাল পার্টি পেয়েছে ৩৫টি আসন। মোট ভোট পেয়েছে ৯ লাখ ৭৭ হাজার ৫৬৮ (৩.০৪ শতাংশ)। তেরেসার সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ৩২৬টি আসন, যা প্রাপ্ত আসন থেকে ৮টি কম।
উত্তর লন্ডনের ইসলিংটন নর্থ আসন থেকে পুনর্নির্বাচিত হওয়ার পর লেবার নেতা জেরেমি করবিন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এখন চলে যাওয়া উচিত। এই নির্বাচন ডাকা হয়েছিল সরকারকে নতুন ম্যান্ডেট দেওয়ার জন্য। ম্যান্ডেট তিনি পেয়েছেন, হারানো আসন, হারানো ভোট, হারানো কর্তৃত্বে। এবার তার চলে যাওয়া উচিত। আসতে দেওয়া উচিত এমন এক সরকার, যা সব মানুষের প্রতিনিধিত্ব করে।
ব্রিটেনের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণ যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইউরোপীয় অংশ হয়ে আর না থাকার, তাতে পুনর্মিলনের সম্ভাবনা ক্ষীণ প্রায়। ইইউবিরোধী ব্রিটিশ রাজনীতিকরা ঘনীভূত সংকটের ভেতরের সত্যটি যদি আড়াল করতে চান, তবে বিপর্যয় অত্যাসন্ন। ব্রিটেনসহ ইউরোপের অধিবাসীরাও উদ্বিগ্ন আগামী দিনে কী আছে তাদের ললাটে, জানে না তারা।
ব্রিটেনের মধ্যবর্তী এই নির্বাচনে সবচেয়ে সুবিধাজনক অবস্থানে উঠে এসেছে বিরোধী দল লেবার পার্টি। গত নির্বাচনে ২৩২টি আসন পাওয়া দলটি এবার জয় পেয়েছে ২৬২টি আসনে। যা পার্লামেন্টে তাদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নে সদস্য সংখ্যা ছিল ২৮। ব্রিটেন ইউরোপীয় ইউনিয়ন ছাড়লে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ভেঙে যাবে, এমন নয়। ব্রিটেন ইউরোপীয় ইউনিয়ন ছাড়ছে। এর একটা কারণ হলো ব্রিটেন চাচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড সমবেত হয়ে একটি ইংরেজি ভাষাভাষী ইউনিয়নের মতো কিছু গড়তে। কেননা তাতে তার অর্থনীতি ও রাজনৈতিক স্বার্থ পূরণ হতে পারবে বেশি। কনজারভেটিভ নেতা চার্চিল তার হিস্ট্রি অব ইংলিশ স্পিকিং পিপুল বইতে এ রকম ইউনিয়ন গড়ার সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়েছেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য সংখ্যা ছিল ২৮। ব্রিটেন বেরিয়ে গেল ২৭টি রাষ্ট্র আপাতত ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে যাবে বলে মনে হচ্ছে না।

আবারও বাঙালি তিন কন্যার জয়
যুক্তরাজ্যের সাধারণ নির্বাচনে আবারও অভাবনীয় জয় পেয়েছে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তিন কন্যা রুশনারা আলী, টিউলিপ রেজওয়ানা সিদ্দিক ও ড. রূপা হক। নির্বাচিত তিনজনই ব্রিটিশ পার্লামেন্টের নি¤œকক্ষ হাউস অব কমন্সে লেবার পার্টি থেকে নিজ নিজ আসনে বড় ব্যবধানে জয়লাভ করেছেন। তাদের বিজয়ে আনন্দ-উচ্ছ্বাসে আত্মহারা লন্ডনস্থ বাঙালি কমিউনিটি। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ‘তিন কন্যা’দের অভিনন্দন জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
লন্ডনে বাঙালির গর্ব রুশনারা আলী : পূর্ব লন্ডনে বাংলাদেশি অধ্যুষিত বেথনাল গ্রিন অ্যান্ড বো আসন থেকে তৃতীয়বার তিনি নির্বাচিত হলেন। এবারে তিনি ৩৫ হাজার ৫৯৩ ভোটের ব্যবধানে সরকারি দল কনজারভেটিভ পার্টির শার্লট চেরিকোকে হারিয়েছেন। তার মোট প্রাপ্ত ভোট হচ্ছে ৪২ হাজার ৯৬৯ এবং নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী পেয়েছেন ৭ হাজার ৫৭৬ ভোট।
রুশনারা আলী ২০১০ সালে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে প্রথম কোনো বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত হিসেবে এমপি নির্বাচিত হন। এ সময়ে তিনি ১২ হাজার ভোটে বিজয়ী হয়েছিলেন। এরপর ২০১৫ সালের সাধারণ নির্বাচনে ২৪ হাজারের বেশি ভোটের ব্যবধানে দ্বিতীয় মেয়াদে একই আসন থেকে নির্বাচিত হন এবং বিরোধী দল থেকে হাউস অব কমন্সে সাফল্যের সাথে ছায়ামন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ব্রিটিশ রাজনীতিতে বেশ আলোচিত রুশনারা ব্রিটিশ পার্লামেন্টে বরাবরই ফিলিস্তিন ও মিয়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর নির্যাতনের কঠোর প্রতিবাদ করে আসছেন। পরে ডেভিড ক্যামেরন তাকে বাংলাদেশ বিষয়ক বিশেষ দূত নিয়োগ করেন।
অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সর্বোচ্চ ডিগ্রিধারী রুশনারা লেবার পার্টির ডেপুটি লিডার পদের জন্যও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তিনি ১৯৭৪ সালে সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন এবং সাত বছর বয়সে মা-বাবার সাথে যুক্তরাজ্যে স্থায়ীভাবে বসবাস করে আসছেন।
টিউলিপ রেজওয়ানা সিদ্দিক : বাংলাদেশের স্থপতি শেখ মুজিবুর রহমানের নাতনি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাগ্নি সেন্ট্রাল লন্ডনের গুরুত্বপূর্ণ ও অভিজাত এলাকা হিসেবে পরিচিত হ্যাম্পস্টেড অ্যান্ড কিলবার্ন থেকে লেবার পার্টি থেকে মনোনয়ন লাভ করে টিউলিপ ২০১৫ সালে প্রথমবার হাউস অব কমন্সে এমপি নির্বাচিত হন। তখন তিনি ১ হাজার ১৩৮ ভোটে বিজয়ী হয়েছিলেন। এবারে তিনি পেয়েছেন ৩৪ হাজার ৪৬৪ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী কনজারভেটিভ দলের প্রার্থী ক্লেয়ার লুইচ লিল্যান্ড পেয়েছেন ১৮ হাজার ৯০৪ ভোট। এবারে তার জয়ের ব্যবধান সবাই অভাবনীয় হিসেবে দেখছেন। মূলত টিউলিপের আগে দীর্ঘদিন এই আসনে খ্যাতিমান ব্রিটিশ গ্ল্যামার জগতের তারকা গ্লেন্ডা জ্যাকসন এমপি ছিলেন। ফলে সংগত কারণে এই আসনের দিকে শুরু থেকেই সবার নজর ছিল। টিউলিপ ২০১৫ সালে এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর একাধিক বিষয়ে বিরোধী দল থেকে লেবার পার্টির ছায়ামন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ব্রেক্সিট বিরোধী অবস্থানের কারণে ব্রিটিশ রাজনীতিতে বেশ আলোচিত মুখ। এমনকি আমেরিকান বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে যুক্তরাজ্যে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে মার্কিন গণমাধ্যমের নজরে আসেন। তিনি কিংস কলেজ থেকে সর্বোচ্চ ডিগ্রি অর্জনের পর কর্মজীবনে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন। এ ছাড়া ওই এলাকা থেকে স্থানীয় কাউন্সিল নির্বাচনে লেবার পার্টি থেকে কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়ে রাজনৈতিক কর্মজীবন শুরু করেছিলেন।
ড. রূপা হক : সেন্ট্রাল লন্ডনের ইলিং সেন্ট্রাল অ্যান্ড অ্যাকটন আসন থেকে লেবার পার্টির দ্বিতীয় মেয়াদে হাউস অব কমন্সে এমপি নির্বাচিত হলেন ড. রূপা হক। তিনি এবারে পেয়েছেন ৩৩ হাজার ৩৭ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী কনজারভেটিভ দলের প্রার্থী মোরিসি পেয়েছেন ১৯ হাজার ২৩০ ভোট।
২০১৫ সালের নির্বাচনে ২৭৪ ভোটে বিজয়ী হয়েছিলেন। ফলে বাঙালি কমিউনিটির পর্যবেক্ষকরা তার বিজয় নিয়ে সংশয় প্রকাশ করছিলেন। কিন্তু মেধাবী এই বাঙালি কন্যা বরাবরই ওই আশঙ্কার কথা হেসে উড়িয়ে দিয়েছেন। এবারে তিনি গতবারের তুলনায় জয়লাভ করেছেন ১৩ হাজার ৮০৭ ভোটের ব্যবধানে। তিনি পেশায় একজন ইউনিভার্সিটির শিক্ষক এবং ২০১৫ সালে প্রথমবারের মতো এমপি নির্বাচিত হন। তার আসনটিও ছিল বেশ আলোচিত এবং হাডাহাড্ডি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। কিংসটন ইউনিভার্সিটির সমাজবিজ্ঞানের জ্যেষ্ঠ শিক্ষক রূপা লন্ডনে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার জন্মস্থান বাংলাদেশে পাবনায়।
উল্লেখ্য, এবারে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ১৫ প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নেন। এর মধ্যে ৮ জন ছিল লেবার পার্টির, ২ জন লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক থেকে এবং অন্যরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে।

রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন
ব্রিটিশ পার্লামেন্ট নির্বাচনে পুনর্নির্বাচিত হওয়ায় বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ‘তিন কন্যা’ টিউলিপ রেজওয়ানা সিদ্দিক, রুশনারা আলী এবং রূপা হককে পৃথক বার্তায় অভিনন্দন জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গত ৯ জুন রাষ্ট্রপতি তার বার্তায় বাংলাদেশি তিন নারীকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, এ বিজয়ের মাধ্যমে তারা বিশ্বে বাংলাদেশের মুখ উজ্জ্বল করেছেন। আবদুল হামিদ জীবনের সর্বক্ষেত্রে তাদের উজ্জ্বল সাফল্য কামনা করেন। রাষ্ট্রপতির উদ্ধৃতি দিয়ে প্রেস সচিব জয়নাল আবেদিন এ কথা জানান।
যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্ট নির্বাচনে বঙ্গবন্ধুর নাতনি টিউলিপ রেজওয়ানা সিদ্দিক, রুশনারা আলী এবং ড. রূপা হক পুনর্নির্বাচিত হওয়ায় তাদের আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, তাদের এই বিজয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশের জনগণের মুখ উজ্জ্বল হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের উদ্ধৃত দিয়ে প্রেস সচিব ইহসানুল করিম বলেন, এই তিন কন্যার বিজয় আমাদের জন্য গর্বের বিষয়। আমি আশা করি, তারা যে বিজয়ের মুকুট অর্জন করেছে তার আলোর বর্ণালী সর্বত্র ছড়িয়ে পড়বে।

শ্রেণী:

সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের অঙ্গীকার

Posted on by 0 comment
38

38সাইদ আহমেদ বাবু: সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে অনুষ্ঠিত হলো প্রথম আরব ইসলামিক আমেরিকান সম্মেলন। গত ২০ মে থেকে দুদিনব্যাপী এই সম্মেলনে ৫৫টি মুসলিম দেশসহ যুক্তরাষ্ট্র অংশগ্রহণ করে। মুসলিম দেশগুলোর প্রাধান্য থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অংশগ্রহণ করায় মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্ববাসীর আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল এই সম্মেলন। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ৫৬ জন আরব ও মুসলিম নেতা ইতিহাসের প্রথম এ ধরনের সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন।
শীর্ষ সম্মেলনে যোগদানকারীদের মধ্যে ছিলেন কুয়েত, কাতার ও সংযুক্ত আরব-আমিরাতের আমির, বাহরাইনের বাদশাহ, ব্রুনাইয়ের সুলতান, মিসর, উজবেকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া, বেনিন, লেবানন, মৌরিতানিয়া, তিউনেশিয়া, ফিলিস্তিন, ইরাক ও নাইজারের প্রেসিডেন্ট, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী, আলজেরিয়া পার্লামেন্টের চেয়ারম্যান ও উগান্ডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
সৌদি আরব বিশ্বের অন্যান্য মুসলিম দেশ ও যুক্তরাষ্ট্রকে নিয়ে আরব ইসলামিক আমেরিকান সম্মেলন করার উদ্যোগ নেয়।
শীর্ষ সম্মেলনের মূল উদ্দেশ্য বলা  হচ্ছেÑ বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় নতুন অংশীদারিত্ব প্রতিষ্ঠা, সহিষ্ণুতা ও সৌহার্দ্যরে সম্প্রসারণ এবং বিশ্বজুড়ে শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিতকরণের প্রচেষ্টা জোরদার করা। বৈশ্বিক সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে মুসলিম বিশ্বের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্ব দিয়ে সম্মেলনকে সন্ত্রাসবাদবিরোধী উদ্যোগের গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে প্রচার করা হয়েছে।
এ সম্মেলনের শেষের দিকে বিশ্ব নেতারা একত্রিত হয়ে রিয়াদে সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধে গ্লোবাল সেন্টারের উদ্বোধন করেন।
মুসলিম দেশগুলোর জন্য এ শীর্ষ সম্মেলন তখনই ফলদায়ক হবে যখন মুসলিম নেতৃত্ব তাদের গুরুত্ব অনুধাবন করে এই অঞ্চলের সমস্যাগুলো একতাবদ্ধভাবে সমাধান করে সম্ভাবনাসমূহকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করবেন। কিন্তু ঐক্য সৃষ্টির বদলে যদি এ সম্মেলন মুসলিম বিশ্বের মধ্যে  বিভাজন সৃষ্টি করে, তা হলে পুরো চেষ্টাটি ব্যর্থ হবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করে।
প্রসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রথম বিদেশ সফরের জন্য সৌদি আরবকে বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামরিক উদ্দেশ্য কাজ করেছে তার প্রমাণ ট্রাম্পের সফরের প্রথম দিনই মিলেছে। এদিন সৌদি আরবের সাথে যুক্তরাষ্ট্র তার এ যাবতকালের সবচেয়ে বড় অস্ত্র চুক্তি সই করেছে। ৩৫ হাজার কোটি ডলারের চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে ১১ হাজার কোটি ডলারের অস্ত্র চুক্তি।
প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম এবং অন্যান্য সহযোগিতা সৌদি আরব এবং পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলকে নিরাপত্তা দেবে, বিশেষ করে ইরানের ক্ষতিকর প্রভাবের মুখে এবং ইরান সম্পর্কিত যে হুমকি সৌদি আরবের সীমান্তের চারদিকে অবস্থান করছে সেই বিষয়ে।
সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আদেল আল জুবায়ের মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই সফরকে যুক্তরাষ্ট্র এবং আরব ইসলামি দেশগুলোর সম্পর্কের একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে বর্ণনা করেন। সৌদি শীর্ষ কর্মকর্তাদের সাথে রেওয়াজ অনুযায়ী ঐতিহ্যবাহী নাচে অংশ নেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সৌদি আরবের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা দিয়েছেন সৌদি রাজা সালমান বিন আবদুল আজিজ। মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য ট্রাম্পকে এই সম্মাননা দেওয়া হয়।
আধুনিক সৌদি আরবের প্রতিষ্ঠাতা আবদুল আজিজ আল সৌদের নামে চালু করা পদকটি সৌদি আরবের বন্ধুত্বের স্বীকৃতি হিসেবে বিদেশি নাগরিকদের দেওয়া হয়। এর আগে যেসব বিদেশি ব্যক্তিত্ব এই পদক পেয়েছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও জর্জ ডব্লিউ বুশ, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন এবং ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে।
নানান জটিলতা পেরিয়ে বিশ্বের সব থেকে শক্তিধর রাষ্ট্রের শীর্ষপদে আসীন হয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের মুখে বহুবার শোনা গেছে মুসলিমবিরোধী মন্তব্য। মুসলিমদের আমেরিকায় প্রবেশ নিষেধাজ্ঞা জারির হুমকিও দিয়েছিলেন তিনি। প্রেসিডেন্ট হিসেবে তিনিই প্রথম বিদেশ সফর করলেন মুসলিম অধ্যুষিত মধ্যপ্রাচ্যের সৌদি আরব থেকে। সৌদি বাদশাহ সালমানের আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে সৌদি আরবে যাওয়ার ঘোষণা দেওয়ার সময়ই ট্রাম্পপক্ষীয় ব্যক্তিরা বলেছিলেন, ট্রাম্পের এই সফরের উদ্দেশ্য তার বর্তমান ইসলামবিরোধী ভাবমূর্তি পাল্টে মুসলিম প্রধান দেশগুলোর সাথে সম্পর্ক ঠিকঠাক করা।
সফরের দ্বিতীয় দিনে ৪০টি মুসলিম দেশের নেতাদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখেন ট্রাম্প।
এদিন সৌদি আরবের রাজধানী শহর রিয়াদে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে বিশ্বের সমস্ত মুসলিম নেতাদের উদ্দেশে বন্ধুত্ব এবং ভালোবাসার বার্তা পৌঁছে দিয়েছেন। এর পাশাপাশিই তিনি বলেছেন, মৌলবাদের বিরুদ্ধে মুসলিম অধ্যুষিত দেশগুলোকেও একসাথে কাজ করতে হবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আরও বলেছেন, জঙ্গিদের আক্রমণে বিধ্বস্ত বিশ্বের প্রতিটি দেশ। কিন্তু সন্ত্রাসবাদের জন্য কেন একটি ধর্মের মানুষ বিশ্বের নজরে খারাপ হবে? এটি কোনো ধর্মের বিরুদ্ধে কিংবা কোনো সংস্কৃতির বিরুদ্ধে লড়াই নয়। এটি শুধু সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই।
এই লড়াইয়ে সমস্ত ধর্মের মানুষকে একজোট হওয়ার কথা বলেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। মুসলিমদের ও এই জোটে শামিল হওয়ার কথা বলেছেন তিনি। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সন্ত্রাস দমনের জন্য সব সময়ই সব দেশকেই সাহায্য করবে। সব দেশ জোটবদ্ধ হয়ে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করলে সন্ত্রাসবাদীদের নির্মূল করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদী।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, কোনো দেশের উচিত নয় জঙ্গিদের আশ্রয় দেওয়া। সন্ত্রাসবাদীরা যাতে তাদের দেশে জায়গা না পায়, তা নিশ্চিত করতে বলেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ভারত, রাশিয়া, চীন ও অস্ট্রেলিয়া সন্ত্রাসবাদের শিকার, যেমন শিকার আমেরিকা ও ইউরোপও। এসব দেশে বারবার বর্বর হামলা ঘটনা ঘটেছে। অবর্ণনীয় যন্ত্রণা সয়েছেন এসব দেশের মানুষরা।
তবে মধ্যপ্রাচ্য ও মুসলিম দেশগুলোকে সন্ত্রাসবাদ ঠেকাতে নিজ নিজ ভূমিকা পালন করতে বলেছেন তিনি। তার কথায়, সন্ত্রাসবাদ গোটা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে। কিন্তু এখান থেকেই শান্তি শুরু হতে পারে। আর সে জন্য মুসলিম রাষ্ট্রগুলোকে অবশ্যই দায়িত্ব নিতে হবে, যাতে আমরা সন্ত্রাসকে পরাস্ত করে তার জঘন্য আদর্শকে নিশ্চিহ্ন করতে পারি।
মুসলিম দেশগুলোর প্রতি তার আহ্বান, সন্ত্রাস দমনে প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে সন্ত্রাসের পতাকা বহনকারীদের নিজের দেশে জায়গা দেবেন না। জঙ্গিরা যাতে তাদের মাটিতে ঘাঁটি না গাড়তে পারে, তা নিশ্চিত করা এ অঞ্চলের প্রতিটি দেশের দায়িত্ব।

বিশ্বে শান্তি স্থাপনে শেখ হাসিনার ৪ প্রস্তাব
আরব ইসলামিক আমেরিকান সামিটে অংশ নিয়ে বিশ্বে শান্তি স্থাপনে তার ৪টি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব তুলে ধরেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও মুসলিম প্রধান অর্ধশতাধিক দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধান। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান। পরে ডোনাল্ড ট্রাম্প সাদরে গ্রহণ করে বাংলাদেশে আসার আগ্রহ প্রকাশ করেন।
শেখ হাসিনার প্রস্তাব প্রথমত; আমাদের অবশ্যই সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর কাছে অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ করতে হবে। দ্বিতীয়ত; সন্ত্রাসী ও তাদের অঙ্গসংগঠনগুলোর প্রতি অর্থের জোগান বন্ধ করতে হবে। তৃতীয়ত; ইসলামি উম্মাহর মধ্যে বিভক্তি দূর করতে হবে। আর চতুর্থত; সংলাপের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সংকটগুলোর শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথ বের করতে হবে, যাতে সকল পক্ষই তাদের নিজ নিজ সাফল্যের দিকটি নিশ্চিত করতে পারে।
আরব ইসলামিক-আমেরিকান সম্মেলন আয়োজন করেছে সৌদি আরব। আর সে অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার জন্য সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদ বিশেষ আমন্ত্রণ জানিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে। সে আহ্বানে সাড়া দিয়ে বিশ্ব ফোরামে এসব প্রস্তাব তুলে ধরলেন শেখ হাসিনা।

শ্রেণী:

কোরিয়া উপদ্বীপে উত্তেজনা : শঙ্কিত বিশ্ববাসী

Posted on by 0 comment
54

54সাইদ আহমেদ বাবু: হাইড্রোজনে বোমার পরীক্ষার মধ্য দয়িে উত্তর কোরয়িার নতো কমি জং উন বশ্বিকে এটাই স্মরণ করয়িে দলিনে যে আর্ন্তজাতকি সম্প্রদায়রে হুমক,ি চাপ, ভাবনা নয়িে তার তমেন মাথাব্যথা নইে। তাই বশ্বিনতোদরে বুড়ো আঙুল দখোতে র্কাপণ্য করনে নি তনি।ি অন্যদকিে যুক্তরাষ্ট্ররে একদম পটেরে মধ্যে আঘাত হানা যায় এমন সব অস্ত্র আবষ্কিার করছে উত্তর কোরয়িা। রাজধানী পয়িংইয়ংয়ে দলরে এক সমাবশেে তনিি এ কথা বলছেনে। উত্তর কোরয়িাকে তনিি দায়ত্বিশীল পরমাণু শক্তধির দশে বলওে উল্লখে করনে। উত্তর কোরয়িার প্রতষ্ঠিাতা কমি ইল সাংয়রে ১০৫তম জন্মর্বাষকিী উপলক্ষে আয়োজতি অনুষ্ঠানে সামরকি প্রর্দশনীতে সাবমরেনি থকেে উৎক্ষপেণযোগ্য ব্যালাস্টকি মসিাইল প্রথমবাররে মতো জনসমক্ষে তুলে ধরা হয় বশ্বিরে যে কোনো জায়গায় লক্ষ্যবস্তুকে র্টাগটে করার উদ্দশেে এই ক্ষপেণাস্ত্র ব্যবহার সম্ভব। এ ছাড়া, দুই কোরয়িার অভ্যন্তরীণ বষিয়ে হস্তক্ষপে করার বরিুদ্ধে তনিি আমরেকিাকে হুঁশয়িার করে দনে।
উত্তর কোরয়িা এ মুর্হূতে পৃথবিীর একটি রহস্যময় দশেরে নাম। কন্ডোলসিা রাইস দশেটকিে ‘স্বরৈতন্ত্ররে আবাসভূম’ি বলে মন্তব্য করছেলিনে। ২০০২ সালে যুক্তরাষ্ট্ররে তৎকালীন প্রসেডিন্টে র্জজ ডব্লউি বুশ দশেটকিে শয়তান চক্ররে অংশ বলছেলিনে। আর ফ্রাঙ্কো ও সথি রোজনে কছিুটা কৌতুক করে বলছেলিনে, দশেটি পয়িংইয়ংয়রে অসর্মথনরে ফল।
যুক্তরাষ্ট্ররে প্রসেডিন্টে বারাক ওবামা উত্তর কোরয়িাকে বশ্বিে ‘কবররে হুমক’ি বলে অভহিতি করছেনে। তনিি বশ্বিকে উত্তর কোরয়িার ব্যাপারে কোনো ছাড় না দওেয়ার পক্ষে মত দয়িে প্রয়োজনে আক্রমণাত্মক হতে পরার্মশ দয়িছেনে। এ ছাড়া বারাক ওবামা উত্তর কোরয়িাকে যুক্তরাষ্ট্ররে র্সাবভৌমত্বরে জন্য হুমকি বলে মনে করনে। উত্তাল বশ্বি রাজনীতরি পরমি-লে সমাজতান্ত্রকি ও র্মাকসবাদী ভাবধারায় বশ্বিাসী কমউিনস্টি শাসতি এই দশেটি পারমাণবকি সক্ষমতা র্অজন করে আমরেকিার মাথাব্যথা বাড়য়িে দয়িছেে অনকে আগইে। ২০০৬ সালে পয়িংইয়ং প্রথম নউিক্লয়িার পরীক্ষা চালায়। কন্তিু তখন থকেইে কোনো ব্যবস্থা না নওেয়ার কারণে উত্তর কোরয়িার মলিটিাররি আকার আর আগ্রাসন কবেল বড়েইে চলছে।ে পারমাণবকি অস্ত্র ও ক্ষপেণাস্ত্র পরীক্ষার জরেে ২০০৬ সাল থকেইে উত্তর কোরয়িার ওপর বভিন্নি নষিধোজ্ঞা আরোপ করে জাতসিংঘ।
র্মাকনি যুক্তরাষ্ট্র এবং উত্তর কোরয়িার দুই ভয়ঙ্কর ‘পাগলাট’ে শাসক ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং কমি জং উনরে মধ্যে বাড়তে থাকা উত্তজেনা এবং যুদ্ধংদহেী মরণাস্ত্র প্রর্দশনীতে অস্বস্ততিে পুরো বশ্বি। উত্তর কোরয়িা এবং যুক্তরাষ্ট্ররে নজিস্ব সামরকি শক্তি নজরিবহিীনভাবে বাড়ানোর ক্ষত্রেে অনমনীয় ও হঠকারী মনোভাবরে ফলে ক্রমশ বাড়তে থাকা উত্তজেনায় এ দুদশেরে মধ্যে যে কোনো মুর্হূতে প্রবল যুদ্ধ বধেে যাওয়ার শঙ্কা প্রবল।
কমি জং উনরে আণবকি কারখানায় হামলা করার জন্য ট্রাম সকল প্রস্তুতি গ্রহণ করছে।ে কনে উত্তর কোরয়িার ওপর হামলা করার জন্য প্রসেডিন্টে ট্রাম প্রস্তুত। উত্তর কোরয়িার অপরাধ প্রসেডিন্টে কমি জং-আন রাজধানীতে বশিাল সামরকি মহড়া ও পরমাণু বোমা বানানোর পর তা পরীক্ষা চালয়িে যাচ্ছনে।
যুক্তরাষ্ট্র উত্তর কোরয়িার বরিুদ্ধে আগ বাড়য়িে সামরকি হামলা চালানোর বকিল্পটি হাতে রাখলওে এখন র্পযন্ত দশেটকিে র্অথনতৈকিভাবে এবং নষিধোজ্ঞা দয়িে চাপে রাখার বশে কছিুদনি ধরইে যুক্তরাষ্ট্র-উত্তর কোরয়িা সর্ম্পক ক্রমশ উত্তপ্ত হচ্ছ।ে এর জন্য কোরয়িার একরে পর এক ক্ষপেণাস্ত্র পরীক্ষাকইে দায়ী করে আসছে যুক্তরাষ্ট্র।
গত ৮ এপ্রলি পশ্চমি প্রশান্ত মহাসাগরে কোরীয় উপদ্বীপরে দকিে পাঠানো হয়ছেে যুক্তরাষ্ট্ররে বমিানবাহী রণতরী ইউএসএস র্কাল ভনিসন। উত্তর কোরয়িায় উসকানমিূলক ক্ষপেণাস্ত্র পরীক্ষার জবাব দতিইে ওই যুদ্ধজাহাজ সখোনে যাচ্ছে বলে জানয়িছেলি যুক্তরাষ্ট্র।
বশিষেজ্ঞরা মনে করনে, ওই এলাকায় কোনো ধরনরে সামরকি ব্যবস্থা কখনও যুক্তরাষ্ট্র নলিে উত্তর কোরয়িা এর যে জবাব দবেে তাতে দক্ষণি কোরয়িা এবং জাপানসহ ওই অঞ্চলে উপস্থতি র্মাকনি সনোবহরে ব্যাপক হতাহতরে ঘটনা ঘটব।ে
যুক্তরাষ্ট্র আর উত্তর কোরয়িার মধ্যে পাল্টাপাল্টি আক্রমণরে হুমকতিে অনকেইে আশঙ্কা করছনে আরকেটি যুদ্ধরে। প্রশ্ন উঠছেে : এবাররে যুদ্ধওে কি উত্তর কোরয়িাকে সর্মথন দবেে বশ্বিরে দ্বতিীয় পরাক্রমশালী রাষ্ট্র চীন? নাকি চীন র্দুবল থাকবে যুক্তরাষ্ট্ররে প্রত?ি এমন প্রশ্নও রয়ছেে অনকেরে মন।ে
অতীত ব্যাখ্যা করতে গলেে দখো যায় উত্তর কোরয়িার একমাত্র কূটনতৈকি মত্রিরে নাম চীন। আর এই চীন অনকে অনকে বছর যাবত উত্তর কোরয়িাকে সাহায্য-সহযোগতিার হাত বাড়য়িে দয়িে এসছে।ে বভিন্নি যুদ্ধরে ময়দানে চীনকইে সবার আগে পাশে পয়েছেে উত্তর কোরয়িা।
তবে এবার উত্তর কোরয়িার মাথার ওপর থকেে যনে সহযোগতিার হাত সরছে চীনরে।
উত্তর কোরয়িাকে আবারও বশ্বিরে দকিে ফরিয়িে আনতে এখন সবাই চীনরে দকিইে তাকয়িে আছ।ে এসব ঘটনা দখেইে চীন ও এই দুই দশেরে সর্ম্পক নয়িে নতুন করে ভাবছে বলে মনে করছনে অনকে।ে চীন কোন দকিে যায় চীনরে ওপর নর্ভির করবে আগামী দনিরে যুদ্ধ।
উত্তর কোরয়িার ক্ষপেণাস্ত্র ও পারমাণবকি পরীক্ষার হুমকরি জবাবে যুক্তরাষ্ট্ররে একটি সাবমরেনি দক্ষণি কোরয়িায় পৗেঁছছে।ে এতে কোরয়িা উপদ্বীপে নতুন করে উত্তজেনা সৃষ্টি হয়ছে।ে
জাতসিংঘ নরিাপত্তা পরষিদরে প্রস্তাবরে পরপিন্থী যে কোনো পদক্ষপেরে সব সময় বরিোধতিা করে চীন। এ অবস্থায় উত্তর কোরয়িাকে আর্ন্তজাতকি আইন মনেে চলার আহ্বান জানয়িছেে চীন। সইে সাথে সব পক্ষকে শান্ত থাকার পাশাপাশি যে কোনো সংঘাত এড়য়িে চলার পরার্মশ দয়িছেে বইেজংি। প্রসেডিন্টে ট্রাম্প যে কোনো মূল্যে কোরয়িায় পরমাণু নরিস্ত্রীকরণরে ওপর গুরুত্বারোপ করনে। উত্তর কোরয়িার পরমাণু অস্ত্ররে পরীক্ষা ঠকোতে নতুন করে অবরোধ দওেয়ার প্রস্তুতি নচ্ছিে যুক্তরাষ্ট্র। এ বষিয়ে জাতসিংঘ নরিাপত্তা পরষিদরে প্রতি আহ্বান জানয়িছেনে র্মাকনি প্রসেডিন্টে ডোনাল্ড ট্রাম্প।
উত্তর কোরয়িার বরিুদ্ধে একক পদক্ষপে নওেয়ার বরিুদ্ধে আমরেকিাকে হুঁশয়িার করছেে রাশয়িা। পয়িংইয়ং-এর পরমাণু তৎপরতার জবাবে আর্ন্তজাতকি আইনরে লঙ্ঘন ঘটে এমন কোনো ব্যবস্থা নওেয়া উচতি হবে না বলওে আমরেকিাকে হুঁশয়িার করে দয়িছেে রাশয়িা।
সংকত নরিসনরে জন্য দ্বমিুখী প্রস্তাব দয়িছেে চীন। প্রথমত, উত্তর কোরয়িাকে পারমাণবকি ও ক্ষপেণাস্ত্র পরীক্ষা বন্ধ করতে হব।ে অন্যদকিে দক্ষণি কোরয়িা ও যুক্তরাষ্ট্ররে যৌথ সামরকি মহড়া বন্ধ করতে হব।ে দ্বতিীয়ত, সব পক্ষকে আলোচনার টবেলিে আসতে হব।ে এর লক্ষ্য হব,ে কোরীয় উপদ্বীপকে পারমাণবকি অস্ত্র মুক্তকরে শান্তচিুক্তি সই, যা ৬০ বছররে পুরনো কোরয়িার ওয়ার র্আমস্টিাইস অ্যাগ্রমিন্টেকে প্রতস্থিাপন করব।ে
যদি ট্রাম সরিয়িা ও কোরয়িা দুটি ইস্যুতইে বড় ধরনরে অঘটন ঘটয়িে ফলেতে পারনে। যদি তনিি যুদ্ধ আরম্ভ করনে বশ্বিরে যত ক্ষতি হবে তার চয়েে বশেি ক্ষতি হবে আমরেকিার এ যুদ্ধে চীন ও রাশয়িা একসাথে মোকাবলো করলে তা সামলানোর ক্ষমতা ও মনোবল এখন আমরেকিার নইে। এ যুদ্ধে আমরেকিার পরাজয় হবে বলে মনে হয়। তাতে আমরেকিার একক সুপার পাওয়ার র্মযাদা রক্ষাও কঠনি হতে পারে।

শ্রেণী:

‘আমরা অনেক যুদ্ধ দেখেছি, এখন শান্তি চাই’

Posted on by 0 comment
59

59সাইদ আহমেদ বাবু: বিশ্বের শীর্ষ ক্ষমতাধর দেশ আমেরিকা স্বাধীনতা লাভ করে ১৭৭৬ সালে। ২ জুলাই ব্রিটেনের শাসন থেকে আলাদা হওয়ার জন্য ভোট দেয় দেশটির দ্বিতীয় কন্টিনেন্টাল কংগ্রেস। দুদিন পর স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে চূড়ান্ত অনুমোদন দেয় কংগ্রেস। কিন্তু আলাদা হতে ব্রিটেনের সাথে চূড়ান্ত সই ২ আগস্টে অনুষ্ঠিত হলেও প্রত্যেক বছর ৪ জুলাই স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করে দেশটি। এরপর গেল ২৪০ বছরের ইতিহাসে জর্জ ওয়াশিংটন থেকে বারাক ওবামা পর্যন্ত ৪৪ জন প্রেসিডেন্টের নেতৃত্ব পেয়েছে দেশটি।
আমেরিকায় যুক্তরাষ্ট্রীয় প্রজাতান্ত্রিক সরকার বিদ্যমান। দেশটির আইনসভা দু’কক্ষের। নিম্নকক্ষের নাম হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস এবং এর সদস্য সংখ্যা ৪৩৫। উচ্চকক্ষের নাম সিনেট এবং এর সদস্য সংখ্যা ১০০। ভোট দেওয়ার যোগ্যতা অর্জনের বয়স ১৮। ১৭৮৭ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর দেশটির সংবিধান প্রণয়ন করা হয় এবং ১৭৮৯ সালের ৪ মার্চ থেকে এটি কার্যকর করা হয়। সুপ্রিমকোর্ট দেশের সর্বোচ্চ বিচারালয়।
প্রায় ২৩০ শতাব্দী আগে প্রণীত আমেরিকার সরকার ব্যবস্থা সারাবিশ্বের প্রশংসা লাভ করেছে। মার্কিনীদের জীবনের সাথে এটি অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। মার্কিন সরকারব্যবস্থা শুরু থেকেই গণতন্ত্রকে শাসনব্যবস্থা হিসেবে গ্রহণ করেছে। মার্কিন সরকার ব্যবস্থা যুক্তরাষ্ট্রীয়, প্রাদেশিক ও স্থানীয় আইন এবং এগুলোকে নির্বাহকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সমন্বয় গঠিত। ফেডারেল যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকারের কেন্দ্র ওয়াশিংটন ডিসি।
আমেরিকা সরকারের একটি মূলনীতি হলো প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্র। এ ব্যবস্থায় লোকরা তাদের নিজেদের নেতা নির্বাচনের মাধ্যমে নিজেদের শাসন করে। মার্কিন গণতন্ত্র বেশ কিছু আদর্শের ওপর প্রতিষ্ঠিত। শীর্ষ ক্ষমতাধর দেশ হওয়ায় এখানে গণতন্ত্র ও নির্বাচন নিয়ে সারাবিশ্বের মানুষেরই আগ্রহ রয়েছে। তা ছাড়া ৪৪ জনের প্রত্যেকেই বিশ্বের সামগ্রিক রাজনীতি ও অর্থনীতির পালাবদলের ভূমিকায় আলোচিত এবং সমালোচিত। এদের অনেকেই দেশের সীমানা পেরিয়ে, পৃথিবীর ইতিহাসে স্বমহিমায় উজ্জ্বল-আলোচিত-সমালোচিত। বিশ্বজুড়ে বিতর্কিতও হয়েছেন অনেক প্রেসিডেন্ট। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ঘিরে রয়েছে নানারকম ঘটনা।
জনগণকে সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামত মেনে নিতে হবে। সংখ্যালঘুদের অধিকার সংরক্ষণ করতে হবে। নাগরিকদের আইনি শাসনব্যবস্থায় বাস করার জন্য সম্মত হতে হবে। মতামত ও ধারণার মুক্ত আদান-প্রদানে কোনো বাধার সৃষ্টি করা যাবে না। আইনের চোখে সবাই সমান। সরকার জনগণের সেবায় নিয়োজিত হবে এবং এর ক্ষমতা জনগণের কাছ থেকেই আসবে।
এই আদর্শগুলো বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আমেরিকার সরকারব্যবস্থা ৪টি উপাদান দিয়ে গঠন করা হয়েছে। ১. জনগণের সার্বভৌমত্ব ২. প্রতিনিধিত্বমূলক সরকার ৩. ক্ষমতার পরীক্ষা ও ভারসাম্য (ঈযবপশং ধহফ ইধষধহপবং) এবং ৪. ফেডারেলবাদ, যেখানে সরকারের বিভিন্ন স্তরে বিভিন্ন ধরনের ক্ষমতার অংশীদারিত্ব হয়।
ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শক্তির হাত থেকে স্বাধীনতা ছিনিয়ে আনার পর ১৭৮৯ সালে আমেরিকার প্রথম প্রেসিডেন্ট হন জর্জ ওয়াশিংটন। যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রবাদপুরুষ জর্জ ওয়াশিংটন দুই দফায় ছিলেন দেশের প্রেসিডেন্ট।
ক্রীতদাস প্রথা উচ্ছেদের কারণে আব্রাহাম লিঙ্কন এখনও জগদ্বিখ্যাত, তেমনি টমাস জেফারসন বর্ণবাদের বিরুদ্ধে কথা বলা প্রথম প্রেসিডেন্ট। তিন দফায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট থাকাদের তালিকায় সবার আগে ফ্রাঙ্কলিন ডি রুজভেল্টের নাম; এ ছাড়া জন এফ কেনেডি, রোনাল্ড রিগ্যান এখনও অনুসরণীয় আদর্শ।
কুখ্যাত হয়ে আছেন এমন প্রেসিডেন্টের সংখ্যাও কম নয়। রিচার্ড নিক্সন, যিনি কি-না কেলেঙ্কারির জন্য পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। গৃহযুদ্ধের জন্য দায়ী ফ্রাঙ্কলিন পিয়ের্স, আর আব্রাহাম লিঙ্কনের অমর কীর্তি ধ্বংস করার কুখ্যাতি রয়েছে অ্যান্ড্রু জনসনের। এ ছাড়া বিতর্কিত নীতিসহ বিভিন্ন কারণে সবচেয়ে আগ্রাসী ও যুদ্ধবাজ হিসেবে নাম জর্জ ডব্লিউ বুশের।
পাশ্চাত্যের ভোট ব্যবস্থা বিশ্বজুড়ে রোল মডেল হলেও প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে বেশ কয়েকবার। ১৮০০, ১৮২৪, ১৮৭৬, ১৮৮৮ সালের নির্বাচনসহ ২০০০ সালেও অভিযোগ উঠে কারচুপির।
এবারের নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও হিলারি ক্লিনটনের মধ্যে জনমত জরিপের ব্যবধান বেশ আলোচিত শেষ বেলায়। এ ধরনের ঘটনা অবশ্য এবারই প্রথম নয়। এর আগেÑ ১৮৭৬, ১৯১৬, ১৯৪৮, ১৯৭৬ সালের মূল নির্বাচনে মাত্র কিছু ভোটের ব্যবধানে হেরে যেতে হয়েছে একজনকে। এমনকি ২০০০ সালের নির্বাচনে বুশের সাথে তার প্রতিদ্বন্দ্বীর মধ্যে ব্যবধান ছিল মাত্র ৫টি ইলেক্টোরাল কলেজ।
কংগ্রেসের যৌথ সেশনে ট্রাম্পের প্রথম ভাষণ
মার্কিন প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেওয়ার পর, প্রথমবারের মতো কংগ্রেসের যৌথ সেশনে ভাষণ দিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, বিশ্বকে প্রতিনিধিত্ব করা আমার কাজ নয়। আমার কাজ হলো যুক্তরাষ্ট্রকে প্রতিনিধিত্ব করা। যুক্তরাষ্ট্রকে মহান করে তুলতে আগের প্রতিশ্রুতিরই পুনরাবৃত্তি করেন তিনি। আর যুক্তরাষ্ট্র সকল দেশের অধিকারকে সম্মান করে। যুক্তরাষ্ট্রকে এগিয়ে নিতে প্রয়োজনে আরও বেশি কঠোর হওয়ার হুঁশিয়ারি দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
বক্তব্যের শুরুতেই ইহুদি জনগোষ্ঠীর ওপর বিদ্যমান হুমকি ও এক ভারতীয় নাগরিকের বর্ণবাদী হামলায় নিহতের ঘটনার সমালোচনা করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, সেই শুরু থেকে আজ পর্যন্ত সত্য, স্বাধীনতা ও ন্যায়ের আলো ছিল প্রতিটি মার্কিন প্রজন্মের হাতে। এ আলো এখন আমাদের হাতে। আর এটি আমরা সারাবিশ্বকে আলোকিত করার কাজে ব্যবহার করব। আমি আজ এখানে ঐক্যশক্তির বার্তা নিয়ে হাজির হয়েছি। আর এটি আমার হৃদয় থেকে উৎসারিত।
তিনি বলেন, নীতির কারণে আমরা বিভক্ত জাতি হতে পারি কিন্তু বিদ্বেষ ও খারাপের বিরুদ্ধে আমরা সবাই একতাবদ্ধ। যুক্তরাষ্ট্রের মহত্বের এক নতুন অধ্যায় এখন থেকে শুরু হছে। একটি নতুন জাতীয় অহঙ্কার আমাদের দেশজুড়ে বয়ে যাছে। অসম্ভব স্বপ্নগুলো আমাদের হাতের মুঠোয় আসতে যাছে। আমরা নব আমেরিকান উদ্দীপনা দেখতে পাছি।
তিনি বলেন, আমাদের দেশের ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণে কয়েক দশক ধরে চলে আসা ভুল আমি আর বরদাশত করব না। একের পর এক আমরা বৈশ্বিক বিভিন্ন প্রকল্পে অর্থায়ন করেছি। এর বিপরীতে উপেক্ষা করেছি আমাদের শিশুদের ভবিষ্যৎকে।
যুক্তরাষ্ট্রকে, সন্ত্রাসবাদ থেকে বাঁচাতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন ট্রাম্প। এজন্য মুসলিম মিত্র দেশগুলোকে সাথে নিয়ে কাজ করার ঘোষণা দেন।
এ ছাড়া অভিবাসন আইন সংস্কার ও মেক্সিকো সীমান্তে প্রাচীর সুরক্ষায় তার নেওয়া পদক্ষেপের ব্যাখ্যা দেন ট্রাম্প। মার্কিনীদের নতুন কর্মসংস্থান তৈরি, মজুরি বৃদ্ধি আর জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অভিবাসন আইনের ইতিবাচকভাবে সংস্কার জরুরি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ট্রাম্প বলেন, কর্মসংস্থান সংকোচনের জন্য দায়ী ট্রান্স-প্যাসিফিক পার্টনারশিপ (টিপিপি) থেকে আমরা এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করেছি। বিনিয়োগে নারীদের আকৃষ্ট করতে কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর সহায়তায় একটি কাউন্সিল গঠন করা হয়েছে। ট্রাম্প এদিন ন্যাটো সম্পর্কে তুলনামূলক নমনীয় মনোভাব তুলে ধরেন। একই সাথে মুসলিম বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের সাথে একযোগে কাজ করার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন তিনি।
ট্রাম্প বলেন, আমাদের পররাষ্ট্রনীতি হবে বিশ্বের সাথে আরও সরাসরি, মজবুত ও অর্থবহ সম্পৃক্ততা। বিশ্বে আমাদের মিত্রদের নিরাপত্তার স্বার্থের ভিত্তিতে এই সম্পর্ক গড়ে উঠবে। ন্যাটোর প্রতি আমাদের দৃঢ় সমর্থন রয়েছে। তবে অংশীদারদের অবশ্যই অর্থনৈতিক বাধ্যবাধকতা মেনে চলতে হবে। সামরিক ব্যয়ের ন্যায্য অংশ তাদের দিতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র আজ সাবেক শত্রুর বন্ধু। আমরা শান্তি চাই। এটাই আমাদের লক্ষ্য, গন্তব্য।
তিনি বলেন, ৯ বছর পর যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছর পালিত হবে। সে দিনটিতে দাঁড়িয়ে আমরা আজকের দিনটাকে ঘুরে দাঁড়ানোর দিন হিসেবে দেখব। আমরা অনেক যুদ্ধ দেখেছি, এখন শান্তি চাই। ২৫০তম স্বাধীনতা দিবসে যুক্তরাষ্ট্রকে শান্তিময় ও ন্যায়ভিত্তিক হিসেবে দেখা যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

শ্রেণী: