বিএনপির ‘ভীষণ’ এবং খালেদার মিশন

Posted on by 0 comment
26

26নূহ-উল-আলম লেনিন: গত ১০ মে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ভিশন-২০৩০ শীর্ষক একটি মূষিক প্রসব করেছেন। পর্বত যেমন মূষিক প্রসব করে, এটিও তেমনি। আমাদের মুক্ত গণমাধ্যম, বিশেষ করে বহু সংখ্যক টেলিভিশন চ্যানেল খালেদার ভাষণে সেই  ভিশনটি সরাসরি সম্প্রচার করেছে। দেশের পাবলিক খালেদা জিয়ার ‘ভীষণ’ শুনে উদ্বাহু নৃত্য করবে বলে চ্যানেলগুলো যে রকম ধারণা দিয়েছিল, কার্যত কয়েক দিনের মধ্যেই ফুটো বেলুনের মতো তা সে ধারণা শূন্যে মিলিয়ে গেছে। কী আছে ঐ ভিশনে? আওয়ামী লীগের নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া কেন? আসলে নতুন কোন্ মিশন নিয়ে নেমেছেন খালেদা জিয়া? প্রায়শ আমাদের এসব প্রশ্ন শুনতে হচ্ছে।
কোনো বিদ্বিষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি না নিয়েই বলা যায়, বিএনপির ভিশন-২০৩০ হচ্ছে জনতুষ্টিবাদী (চড়ঢ়ঁষরংঃ) কিছু বাগ্ধারা এবং স্ব-বিরোধী কথামালা। নিঃসন্দেহে পরিবেশনার কায়দায় অর্থাৎ, ভাষা ও বাক্যবিন্যাসে নতুনত্ব আছে, চমৎকারিত্ব আছে। যেমনটি আমরা বলে থাকি নতুন বোতলে পুরনো মদ। যেমনÑ ‘ওয়ান ডে ডেমোক্রেসি’ (৩নং দফা), ‘ঈধপংঁং গঠন’ (৯নং দফা), ‘জধরহ-ইড়ি ঘধঃরড়হ’ (১০নং দফা) এবং ‘সুনীতি, সুশাসন এবং সু-সরকারের (৩এ) সমন্বয়’ (১১নং দফা), ‘ইনক্লুসিভ সোসাইটি’ (১৪নং দফা), ‘নতুন এক সামাজিক চুক্তিতে (ঝড়পরধষ ঈড়হঃধপঃ) পৌঁছাতে’ (১৬নং দফা) ইত্যাদি। ৪৮ পৃষ্ঠার (এর মধ্যে আবার ৭ পৃষ্ঠা ব্ল্যাংক) এই ভিশন দলিলটি যে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো ঝানু (এক বা একাধিক) রাষ্ট্রবিজ্ঞানী/ অর্থনীতিবিদ/ সমাজবিজ্ঞানীর এবং পতিত বামচারীদের লেখা, তা এর ভাষা এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞানে ব্যবহৃত ‘কোনোটেশন’-এর বহুল ব্যবহার দেখলেই বোঝা যায়। ভিশনের পাঠিকা বা ঘোষিকা, যিনি মাধ্যমিকের সিঁড়ি ভাঙতে গিয়েই মুখ থুবড়ে পড়েন তার পক্ষে উচ্চতর রাষ্ট্র বা সমাজবিজ্ঞানের এতসব তাত্ত্বিক বিশেষণ ও পরিভাষা বোঝার প্রশ্নই ওঠে না। খালেদা জিয়া যদি ইনক্লুসিভ সোসাইটি বা জন লক, হবস ও রুশো প্রমুখ মনীষী রাষ্ট্র ও সমাজবিজ্ঞানীর ঝড়পরধষ ঈড়হঃধপঃ-এর তত্ত্বই বুঝতেন বা জানতেন, তা হলে বাঙালি জাতিকে সাংঘর্ষিক রাজনীতির জন্য যে বিপুল মূল্য দিতে হয়েছে, তা হতো না।
বিএনপির থিংক ট্যাংক এবং স্বয়ং খালেদা জিয়া বাঙালি জাতিকে এতটা বোকা ভাবলেন কী করে? যারা ‘সকল মত ও পথকে নিয়ে’ ‘জধরহ-ইড়ি ঘধঃরড়হ’ গড়তে চান, যারা ‘জনগণের বৃহত্তর সম্মিলনের মাধ্যমে ‘ইনক্লুসিভ সোসাইটি’ এবং ‘প্রতিহিংসা ও প্রতিশোধের রাজনীতি’ অবসানের লক্ষ্যে ‘নতুন এক সামাজিক চুক্তিতে’ (ঝড়পরধষ ঈড়হঃধপঃ) পৌঁছতে চান, তারা যখন বলেন, ‘বিএনপি বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিভাজনের অবসান ঘটাতে চায়।’ (১২নং দফা, পৃষ্ঠা ৭) তখনই তো পরিষ্কার হয়ে যায়, ঘোষিত ভিশন-২০৩০ আসলেই একটা চরম ধাপ্পাবাজি। এটা যে ভিশন নয়, প্রকৃতই ‘ভীষণ’ তা ‘বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে সামাজিক বিভাজন’ দূর করার উদ্ভট এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী অভিলাষ থেকেই স্পষ্ট হয়ে যায়। সামরিক শাসক জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে বেনামে বাংলাদেশকে পাকিস্তান বানানোর গোপন অভিসন্ধি থেকে ’৭২-এর সংবিধান থেকে সামরিক ফরমানবলে চার রাষ্ট্রীয় মূলনীতির অন্যতম বাঙালি জাতীয়তাবাদ এবং ধর্মনিরপেক্ষতা কেটে দেয়।
যে বাঙালি জাতীয়তাবাদ সাড়ে ৭ কোটি বাঙালিকে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ করেছিল, যে ভাষাভিত্তিক অসাম্প্রদায়িক বাঙালি জাতীয়তাবাদ হচ্ছে ধর্মভিত্তিক পাকিস্তানি ভাবাদর্শের বিপরীতে স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার ভিত্তি, যার জন্য ত্রিশ লক্ষ মানুষ আত্মদান করেছেনÑ শহীদ হয়েছেন, খুনি ও নব্য পাকিস্তানি মতানুসারী জিয়া এক কলমের খোঁচায় সংবিধান থেকে তা কেটে দিয়ে কেবল মুক্তিযুদ্ধের সাথে বেইমানি করে নি, তথাকথিত বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের নামে দেশবাসীকে নতুন করে বিভক্ত করেছে। দেশের সর্বোচ্চ আদালত জিয়ার সামরিক শাসন ও সংবিধান সংশোধনকে বে-আইনি ঘোষণা করেছে এবং নবম জাতীয় সংসদে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে আবার ’৭২-এর জাতীয় চার নীতি পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এখন বিএনপি ও খালেদা জিয়া এরপরও যদি ‘বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের’ কথা বলেন, তা হলে তা কেবল সংবিধান ও রাষ্ট্রবিরোধীই নয়, এ থেকে বিএনপির জাতিকে বিভক্ত করার পুরনো অভ্যাস এবং বেনামে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার গোপন অভিলাষই প্রকাশ হয়ে পড়েছে। চমৎকার সব কথার আড়ালে ‘থলের বিড়ালটি’ বেরিয়ে পড়েছে।
বাংলাদেশে প্রতিহিংসা ও প্রতিশোধের রাজনীতির আসল হোতা যে বিএনপি তা কি নতুন করে প্রমাণের অপেক্ষা রাখে? ‘প্রতিহিংসা ও প্রতিশোধের’ রাজনীতির শুরু তো বঙ্গবন্ধুকে হত্যার ভেতর দিয়ে। বিএনপি যদি বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার করত তা হলে হয়তো দেশের ইতিহাস ভিন্নভাবে লেখা হতো। তারা বিচার তো করেই নি, ১৯৯৬-২০০১ সালে শেখ হাসিনার সরকার বঙ্গবন্ধু হত্যার যে বিচার কার্যক্রম শেষ করে এনেছিল, যুদ্ধাপরাধী জামাতকে সাথে নিয়ে ক্ষমতায় গিয়ে খালেদা জিয়া সেই বিচার কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়। কী ঘটেছিল ২০০১-এ ক্ষমতাসীন হওয়ার পর বিএনপি-জামাত শাসনামলে, দেশবাসী কি তা ভুলে গেছে? ২০০১-এর নির্বাচনের পর হাজার হাজার আওয়ামী লীগ কর্মী-সমর্থককে হত্যা-নির্যাতন, সংখ্যালঘু নির্যাতন তথা এথনিক ক্লিনজিং, গণধর্ষণ (পূর্ণিমা, মাহিমা, ফাহিমা-এর কথা কি আমরা ভুলে যাব?) এবং পরবর্তীতে সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়া, সংসদ সদস্য ও শ্রমিক নেতা আহসানউল্লাহ মাস্টারসহ অসংখ্য আওয়ামী লীগ নেতাকে হত্যা, শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে তার সভাস্থলে গ্রেনেড বৃষ্টি ও নারী নেত্রী বেগম আইভি রহমানসহ ২৪ জন নেতাকর্মীর হত্যাকা-, এসব কি রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও প্রতিশোধের জাজ্বল্যমান প্রমাণ নয়? জঙ্গিবাদের উত্থান, বাংলাভাইকে প্রশ্রয় দান বাংলাদেশকে যেভাবে রক্তাক্ত করেছিল তা জাতি কোনোদিন বিস্মৃত হবে না। হাজার হাজার আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীকে কারাগারে নিক্ষেপ এবং প্রায় লক্ষাধিক মিথ্যা মামলা দায়ের করেছিল বিএনপি-জামাত জোট। এতসব অপরাধ ও সহিংস কার্যাবলীর জন্য দায়ী বিএনপি যদি এই ভিশন ঘোষণাকালে অতীতের এসব ঘটনার দায় শিকার করে জাতির কাছে ক্ষমা ভিক্ষা করত, ভুল স্বীকার করত, তা হলে হয়তো দেশবাসী খালেদার ঝড়পরধষ ঈড়হঃধপঃ তত্ত্ব, ইনক্লুসিভ সোসাইটি গড়ার বাগাড়ম্বর এবং রঙিলা (জধরহ-ইড়ি ঘধঃরড়হ) জাতিত্ব সৃষ্টির ঘোষণাকে ধাপ্পাবাজি মনে করত না। দেশবাসী আশ্বস্ত হতো দেশের একটি বড় দল হিসেবে বিএনপি বুঝি সত্যি সত্যি নিজেকে পরিবর্তন করেছে এবং দায়িত্বশীল দল হিসেবে নতুন ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। কিন্তু না, স্বভাব যায় না ম’লে। আসলে বিএনপির, খালেদার মূলগত কোনো পরিবর্তন হয় নি। হবেও না।
আওয়ামী লীগ কেন এই স্ব-বিরোধী বাগাড়ম্বরপূর্ণ এবং প্রতারণামূলক ভিশনে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে, আশা করি উল্লিখিত আলোচনায় তা স্পষ্ট হয়েছে।
আমরা বলেছি, ভিশন ২০৩০-এ নতুন কোনো চমৎকারিত্ব নেই। এখানে অনেকগুলো ইস্যু আছে যা গতানুগতিক এবং অতীতের ধারাবাহিকতা। আমরা তাই অন্তঃসারশূন্য এবং কথার ফুলঝুরিতে বোঝাই বিএনপির এই ভিশন-২০৩০ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার প্রয়োজন আছে বলে মনে করি না।
তবে বিএনপি যে বলেছে প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা কমিয়ে ভারসাম্য আনবে, সে ব্যাপারে আমাদের জিজ্ঞাসা, তিন দফায় ক্ষমতায় ছিলেন (তার মধ্যে দু’দফা সংসদীয় সরকার) তখন কেন ‘ক্ষমতার ভারসাম্য’ আনলেন না? সংবিধানের যে দ্বাদশ সংশোধনীর মাধ্যমে ‘প্রধানমন্ত্রীর হাতে সর্বময় ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল’ বলে বিএনপি নসিহত করছে, সেই সংশোধনী বিল তো বিএনপি-ই উত্থাপন করেছিল? মনে পড়ে এরশাদ স্বৈরাচার-বিরোধী আন্দোলনের সময় তিন জোটের রূপরেখার অঙ্গীকার ভুলে খালেদা জিয়া রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থা পরিবর্তন না করার পাঁয়তারা করছিল, তখন আওয়ামী লীগ সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রস্তাব সংবলিত একটি বেসরকারি বিল উত্থাপন করেছিল। ১৯৯১ সালে দ্বাদশ সংবিধান সংশোধনী প্রসঙ্গে তৎকালীন বিরোধী দলের নেতা শেখ হাসিনা সংসদে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন, আওয়ামী লীগ উত্থাপিত বিলটিও আলোচনার জন্য উত্থাপন করা হোক। শেখ হাসিনার প্রস্তাব শুনলে দুটি বিল আলোচনা করে গ্রহণ-বর্জনের ভেতর দিয়ে সর্বোত্তম সংশোধনী গ্রহণ করা যেত। খালেদা-বিএনপি তাতে রাজি হননি। প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা কেন্দ্রিভবন নিয়ে যিনি ভাষণ দেন, তাকে যদি প্রশ্ন করা যায়, এই কেন্দ্রিভবন তো আপনারই সৃষ্টি, আগে কেন পরিবর্তন করলেন না। দ্বিতীয়ত; আপনি যদি গণতন্ত্রের চ্যাম্পিয়ন হয়ে থাকেন, তা হলে আপনার দল বিএনপির সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী কীভাবে থাকেন? আপনার হাতে দলের একচ্ছত্র ক্ষমতা রেখেছেন কেন? চার শতাধিক সদস্যের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সভা কস্মিনকালেও হয় না কেন? দলীয় কর্মকর্তা নির্বাচিত না করে ‘নিয়োগ’ করেন কোন্ গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ অনুসরণ করে? দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের বা দিয়ে পরিবারতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নিজের দুর্বৃত্ত ও দ-প্রাপ্ত আসামি অর্বাচীন পুত্রকে ‘জ্যেষ্ঠ ভাইস চেয়ারম্যান’ করেন কোন মহৎ ‘গণতান্ত্রিক’ নজির স্থাপনের জন্য? এখানেও একই চালাকি ও ধাপ্পাবাজি।
ভিশন-২০৩০-এ বিএনপি ‘বিশেষ ক্ষমতা আইন ১৯৭৪’ বাতিল (২৪নং দফা) ‘ন্যায়পাল’-এর পদ সৃষ্টি (২১নং দফা) প্রভৃতি প্রতিশ্রুতি ঘোষণা করেছে। বিএনপির ২০০১ সালের নির্বাচনী ইশতেহারেও এই অঙ্গীকার ছিল। কিন্তু পাঁচ বছর ক্ষমতায় থাকাকালে তারা এর কোনোটিই বাস্তবায়িত করেনি। ওই নির্বাচনী ইশতেহারেও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠন, মানবাধিকার ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা, বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি, দারিদ্র্য নিরসন, কৃষি ও শিল্পের বিকাশ, আইনের শাসন কায়েম, উচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জন এবং জনগণের জীবনমানের উন্নয়ন প্রভৃতি নানা প্রতিশ্রুতি ছিল। সেসব গালভরা প্রতিশ্রুতির কী পরিণতি হয়েছিল, দেশবাসী তার অর্জিত অভিজ্ঞতায় তা বুঝতে পেরেছে। খালেদার গুণধর দুই পুত্রের দুর্নীতি, হাওয়া ভবনে ক্ষমতার এবং লুটপাটের বিকল্প কেন্দ্র গড়ে তোলা, পাঁচ বছরের শাসনামলের চার বছরই দুর্নীতিতে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়া, ১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি না করে খালেদা পুত্রের বিদ্যুতের খুঁটির ব্যবসা অর্থাৎ, লক্ষ লক্ষ খাম্বা স্থাপনের নামে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট, কৃষি উৎপাদনে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি, ব্যাংকের টাকা লুটপাট এবং মানি লন্ডারিং (যার জন্য খালেদার পুত্রদ্বয় ইতোমধ্যে সিঙ্গাপুর সরকার কর্তৃক অপরাধী সাব্যস্ত হয়েছে) প্রভৃতির মাধ্যমে দেশকে এক অতল অন্ধকারে টেনে নামিয়েছিল। দেশ পরিণত হয়েছিল মৃত্যু উপত্যকায়। খালেদা জিয়া তার হারানো রাজত্ব ফিরে পাওয়া, ক্রাউন প্রিন্স দ-প্রাপ্ত দুর্বৃত্ত পুত্র তারেক রহমানকে রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত করা এবং যুদ্ধাপরাধী জামাতকে পুনর্বাসিত করার মিশন থেকেই যে ভিশন-২০৩০ ঘোষণা করেছেন, এতে কোনো সন্দেহ নেই। বাংলাদেশ এই ভীষণ ও মিশনকে বাংলার মাটিতে কার্যকর হতে দেবে না।

শ্রেণী:

রাজধানীতে নবান্ন উৎসব

49

49বাংলা পঞ্জিকার হিসাবে গত ১৫ নভেম্বর ছিল পহেলা অগ্রহায়ণ। কৃষকের বোনা মাঠের ফসল ঘরে তোলার দিন নবান্ন। পাকা ধানের ম-ম গন্ধে গোলা ভরে ওঠার দিন। আবহমান গ্রাম বাংলার উৎসব-আনন্দের দিন। যদিও শহুরে নাগরিক জীবনে সেই দৃশ্যের দেখা মেলে না। পাওয়া যায় না শেকড়ের সেই অনুভব। তবে এদিন যান্ত্রিক শহর ঢাকায় বিরাজ করেছে নবান্নের আবহ। মৃত্তিকাসংলগ্ন উৎসবের টানে সাত-সকালে ঘর থেকে বেরিয়েছিল সংস্কৃতিপ্রেমী নগরবাসী। সেই সুবাদে শাহবাগের বিশ্ববিদ্যালয় এলাকাসহ চারুকলার বকুলতলা যেন হয়ে উঠেছিল একখ- গ্রাম-বাংলা। উৎসবে আগত শুভানুধ্যায়ীদের জন্য নৃত্য-গীত ও কথনের নবান্ন আবাহনের পাশাপাশি ছিল মুড়ি-মুড়কি, বাতাসা কিংবা পিঠা-পুলি পিঠা দিয়ে আপ্যায়ন। নানা পরিবেশনা ও বিশিষ্টজনদের আলোচনায় উচ্চারিত হয়েছে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির বারতা। হেমন্তের হালকা শীতে চারুকলার বকুলতলায় বেজেছে ঢাকঢোলের বোল। একতারা-দোতারা ও বাঁশির সুরে নাগরিক মন ফিরে গেছে শেকড়ের পানে। ‘এসো মিলি সবে নবান্নের উৎসবে’ স্লোগানে গ্রামীণ ঐতিহ্যের অনুসারী এই উৎসবের আয়োজন করে জাতীয় নবান্ন উৎসব উদযাপন পর্ষদ। বিকেলে পর্ষদের পক্ষ থেকে ধানমন্ডির রবীন্দ্র সরোবরেও অনুষ্ঠিত হয়েছে এই উৎসব।
উদ্বোধনী বক্তব্যে নবান্ন উৎসবের প্রাচীন ঐতিহ্যটি বিস্তৃত পরিসরে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান আবুল মাল আবদুল মুুহিত এমপি। বলেন, সার্বজনীন উৎসব চর্চা বাড়াতে হবে। নবান্ন উৎসব আমাদের সার্বজনীন উৎসব। এই উৎসবে সব ধর্ম, শ্রেণি-পেশার মানুষ একত্রিত হতে পারে। নবান্ন উৎসবে গ্রাম-বাংলার কৃষককে স্মরণ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, আজ আমরা এক দেহে লীন হয়ে গেছি। আজ আমাদের সবার একটাই পরিচয়, আমরা বাঙালি। এই তো উৎসবের মাহাত্ম্য।
উৎসব সাজানো হয় নবান্ন-বিষয়ক গান ও নাচ দিয়ে। প্রায় আড়াই ঘণ্টা ব্যাপ্তির সকালের আয়োজনে ছিলÑ মাটির গান, কৃষকের গান, ফসল তোলার আনন্দের গান। সংগীত পরিবেশন করেনÑ ফরিদা পারভীন, আবু বকর সিদ্দিক, সত্যেন সেন শিল্পী গোষ্ঠীর শিল্পীরা, উদীচী শিল্পী গোষ্ঠী। সমবেত নৃত্য পরিবেশন করে এমআর ওয়াসেকের পরিচালনায় নন্দন কলাকেন্দ্র গারোদের সাংস্কৃতিক সংগঠন আচিক। ঘরে ফসল তোলা ও বণ্টনের রকমফের নিয়ে বিভিন্নধর্মী নৃত্য পরিবেশন করে সাংস্কৃতিক সংগঠন কাদামাটি।
প্রথম পর্বের পরিবেশনা শেষে সকাল ৯টা ৫ মিনিটে চারুকলার বকুলতলা থেকে বের হয় নবান্ন শোভাযাত্রা। এটি টিএসসি চত্বর ঘুরে পুনরায় চারুকলার বকুলতলায় এসে শেষ হয়। পরে বিকেল ৩টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত একযোগে চারুকলার বকুলতলা ও ধানমন্ডির রবীন্দ্র সরোবরে উৎসবের দ্বিতীয় পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।

শ্রেণী:

আওয়ামী লীগ প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভী

38(b)
38(b)

নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন

গত ১৮ নভেম্বর সন্ধ্যায় গণভবনে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের সভায় নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে সেলিনা হায়াৎ আইভীকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রদানের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি ও স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের সভাপতি দেশরতœ জননেত্রী শেখ হাসিনা এমপি। আগামী ২২ ডিসেম্বর প্রথমবারের মতো দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠিত হবে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন। নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের ভোটার সংখ্যা প্রায় ৪ লাখ ৭৯ হাজার।

শ্রেণী: