শেখ হাসিনা সরকারের ধারাবাহিকতা চান সৌদি বাদশাহ সালমান

11-6-2018 6-10-04 PM

11-6-2018 6-10-04 PMউত্তরণ প্রতিবেদন:  সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের অসামান্য উন্নয়নের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। গত ১৭ অক্টোবর বিকেলে সৌদি আরবের রিয়াদে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌদি বাদশার বৈঠকের পর পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক সৌদি বাদশার উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, যদি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের ধারাবাহিকতা বজায় থাকে তাহলে সৌদি আরব ও বাংলাদেশের মধ্যকার সম্পর্ক আরও উন্নত হবে এবং সকল ক্ষেত্রে উন্নতি সাধিত হবে। পররাষ্ট্র সচিব বলেন, সৌদি বাদশাহ তিনবার প্রধানমন্ত্রীর সরকারের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার কথা উচ্চারণ করেন। এদিকে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী। তারা দ্বিপক্ষীয় স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোচনা করেন। এদিন দুই দেশের মধ্যে শিল্প ও বিদ্যুৎ খাতে সহযোগিতা সংক্রান্ত ৫টি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রিয়াদস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের নিজস্ব জায়গায় এবং নিজস্ব অর্থে নবনির্মিত চ্যান্সেরি ভবন উদ্বোধন করেছেন। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রা কেউ থামাতে পারবে না।

সৌদি বাদশার সঙ্গে বৈঠক
পররাষ্ট্র সচিব জানান, সৌদি বাদশাহ নিজে রাজপ্রসাদের প্রবেশ দ্বারে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান। বাদশাহ প্রধানমন্ত্রীকে বলেন, এটি আপনার ঘর এবং আপনাকে সবসময় এখানে স্বাগতম। বাদশাহ বলেন, সৌদি আরব ও বাংলাদেশ দুটি ভ্রাতৃপ্রতিম দেশ এবং ধর্মের পাশাপাশি আমরা বিভিন্ন বিষয়ে একই বন্ধনে বাঁধা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাদশার আথিয়েতার জন্য ধন্যবাদ জানালে সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদ বলেন, এটা তার দায়িত্ব। তিনি বলেন, দুদেশের মধ্যকার সম্পর্ক অনেক উন্নত হয়েছে এবং উল্লেখ করেন যে অর্থনীতি, সংস্কৃতি, প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও জোরদারের সুযোগ রয়েছে। বাদশাহ বলেন, আমরা যৌথভাবে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়ছি। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এটা অব্যাহত থাকবে এবং এটি দুই ভ্রাতৃপ্রতিম দেশের জনগণের অভিন্ন আশা-আকাক্সক্ষার প্রতিফলন। প্রধানমন্ত্রী প্রতিরক্ষাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদারের প্রস্তাব করলে বাদশাহ প্রস্তাবগুলো যথাযথ বলে অভিহিত করেন। বাদশাহ বলেন, আনুষ্ঠানিক পর্যায়ে আলোচনার পর এক্ষেত্রে পদক্ষেপ নেব। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সৌদি আরবে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি কাজ করছে উল্লেখ করে এক্ষেত্রে তাদের দেখাশোনা করার জন্য সৌদি সরকারকে ধন্যবাদ জানান। সৌদি বাদশাহ সেদেশে বসবাসরত বাংলাদেশিরা সৌদি অর্থনীতিতে বিরাট অবদান রাখছে উল্লেখ করে বলেন, তাদের দেখভাল করা আমার দায়িত্ব। প্রধানমন্ত্রী সৌদি বাদশাকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান। পররাষ্ট্র সচিব বলেন, বাদশাহ আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন এবং ‘আমরা এটি কূটনৈতিক পর্যায়ে সম্পন্ন করব বলে জানিয়েছেন।’ তিনি বলেন, বাদশাহ ফিলিস্তিনিদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করে বলেছেন, ‘বাংলাদেশ সবসময় মুসলিম উম্মার প্রশ্নে লড়াই করে। বিশেষ করে ফিলিস্তিন ইস্যুতে।’ বাদশাহ বলেন, ‘এ ইস্যুতে বাংলাদেশের অবস্থান সবসময় সম্মানজনক এবং এজন্য আমরা অত্যন্ত কৃতজ্ঞ।’ শেখ হাসিনা সৌদি বাদশাহ’র আমন্ত্রণে চার দিনের সরকারি সফরে ১৬ অক্টোবর সন্ধ্যায় রিয়াদ পৌঁছেন।

বাংলাদেশের উন্নয়নের গতি কেউ থামাতে পারবে না : প্রধানমন্ত্রী
বাংলাদেশ উন্নয়নের মহাসড়কে যাত্রা শুরু করেছে এবং এই উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রা কেউ থামাতে পারবে না বলে প্রধানমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৭ অক্টোবর রিয়াদস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের নিজস্ব জায়গায় এবং নিজস্ব অর্থে নবনির্মিত চ্যান্সেরি ভবন উদ্বোধন উপলক্ষে প্রদত্ত ভাষণে এ-কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশকে উন্নয়নের যে কাজটা করার দরকার ছিল আমরা তা করেছি। বাংলাদেশ উন্নয়নের মহাসড়কে যাত্রা শুরু করেছে এবং এই অগ্রযাত্রা কেউ থামাতে পারবে না বলে আমি বিশ্বাস করি। প্রধানমন্ত্রী এ সময় সামনে নির্বাচন এবং জনগণ ভোট দিলে তিনি আবার সরকারে আসবেন, নচেৎ নাই এবং বাংলাদেশের কাক্সিক্ষত উন্নয়ন করতে পারায় সেজন্য তার কোনো আফসোস থাকবে না বলেও উল্লেখ করেন। প্রধানমন্ত্রী তার বক্তৃতার শুরুতেই জাতির পিতার কথা স্মরণ করে বলেন, তিনি যে আমাদের স্বাধীন করে দিয়ে গেছেন তাই নয়, বিশ্বে একটি মর্যাদাপূর্ণ জাতি হিসেবে গড়ে ওঠার জন্য বিভিন্ন দেশে আমাদের নিজেদের জায়গায় নিজস্ব দূতাবাস হবে সে প্রক্রিয়াটিও শুরু করে যান। প্রধানমন্ত্রী এ সময় বলেন, আমাদের নিজস্ব দূতাবাস ভবনটি আজকে উদ্বোধনের সময় আমার বারবারই মনে পড়ছিল আজ যদি জাতির পিতা বেঁচে থাকতেন তাহলে বহু আগেই বাংলাদেশ বিশ্বে একটি মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত হতো।
প্রধানমন্ত্রী এ সময় হজযাত্রীদের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে হাজিদের সুবিধার্থে তার সরকার গৃহীত পদক্ষেপসমূহের উল্লেখ করে বলেন, তার সরকার হজ অফিস মক্কাতে নিয়ে গিয়েছে এবং হজ মৌসুমে হাজিদের সুবিধার্থে মক্কা এবং মদিনাতেও নিজস্ব জায়গায় অফিস তৈরির উদ্যোগ নেবে। তিনি সৌদিস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসকে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সমস্যা সমাধানে মনযোগী হওয়ার আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী এমপি এবং সৌদি আরবে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত কেএসএ গোলাম মসীহ বক্তৃতা করেন। প্রায় ৬০ কোটি টাকা ব্যয়ে এই ভবনে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থাসহ সেবা প্রত্যাশীদের জন্য ৫১০ বর্গমিটারের একটি শেডও নির্মাণ করা হয়েছে।

‘বাংলাদেশে বিনিয়োগ করুন’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উভয় দেশের পারস্পরিক স্বার্থে সৌদি উদ্যোক্তাদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, এ ব্যাপারে তার সরকার সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করবে। গত ১৭ অক্টোবর বাদশাহ সৌদ রাজপ্রাসাদে সৌদি আরবের ব্যবসায়ীদের সংগঠন সৌদি চেম্বার এবং রিয়াদ চেম্বার অব কমার্স নেতৃবৃন্দের সঙ্গে এক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি পারস্পরিক স্বার্থেই আপনাদের বাংলাদেশে ব্যবসা, প্রযুক্তি এবং উদ্ভাবনী চিন্তা নিয়ে আসার আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। আমরা যাতে আমাদের উন্নয়ন অভিযাত্রায় একে অপরের হাতে হাত রেখে চলতে পারি।
শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ সৌদি উদ্যোক্তাদের দেশের বিভিন্ন উদীয়মান খাত যেমন পুঁজিবাজার, বিদ্যুৎ, জ্বালানি, টেলিকমিউনিকেশন এবং তথ্য প্রযুক্তি, পেট্রোকেমিক্যাল, ওষুধ শিল্প, জাহাজ নির্মাণ এবং কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতে বিনিয়োগের আমন্ত্রণ জানাচ্ছে। তিনি বলেন, আমি আপনাদের হাল্কা প্রকৌশল শিল্প, ব্লু ইকোনমি, গবেষণা এবং উন্নয়ন ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন, পানি এবং সমুদ্রসম্পদ এবং অন্যান্য ভৌত অবকাঠামোগত প্রকল্পে এবং সেবামূলত খাত যেমন ব্যাংকিং এবং অর্থনীতি, লজিস্টিক এবং মানবসম্পদ খাতেও বিনিয়োগের আমন্ত্রণ জানাই।
প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থানের কথা উল্লেখ করে বলেন, এদেশের ভৌগোলিক অবস্থান দেশটিকে আঞ্চলিক যোগাযোগ, বিদেশি বিনিয়োগ এবং গ্লোবাল আউট সোর্সিংয়ের একটি কেন্দ্রে পরিণত করেছে। ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকাগুলো (ইপিজেড) শতভাগ রপ্তানিনির্ভর। সরকারি ও বেসরকারি খাতে বিনিয়োগকে টেকসই করার জন্যই সরকার এই শিল্পাঞ্চলগুলো গড়ে তুলেছে। তিনি বলেন, আমরা সৌদি আরবের বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে ২ হাজার একর জমি বরাদ্দ করেছি, যেগুলো বিনিয়োগকারীদের নিজস্ব চাহিদা মোতাবেক তারা ব্যবহার করতে পারবেন।

ঢাকা ও রিয়াদের মধ্যে ৫টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর
বাংলাদেশ ও সৌদি আরব গত ১৭ অক্টোবর শিল্প ও বিদ্যুৎ খাতে সহযোগিতা সংক্রান্ত ৫টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে। রিয়াদে বাদশাহ সৌদ প্রসাদে সমঝোতা স্মারকগুলো স্বাক্ষরিত হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কাউন্সিল অব সৌদি চেম্বার ও রিয়াদ চেম্বার অব কমার্স নেতৃবৃন্দের সঙ্গে তার বৈঠকের পর স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠান প্রত্যক্ষ করেন। সমঝোতা স্মারকগুলো হলো : বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ ও সৌদি আরবের ইঞ্জিনিয়ারিং ডাইমেনশনের মধ্যে সহযোগিতার নীতিমালা সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক, বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশন ও সৌদি আরবের হানওয়াহ্ ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মধ্যে নির্মাণ সহযোগিতা সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক, বাংলাদেশ স্টিল অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং কর্পোরেশন (বিএসইসি) ও সৌদি আরবের ইঞ্জিনিয়ারিং ডাইমেনশনের মধ্যে সমঝোতা স্মারক, বাংলাদেশে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প উন্নয়ন বিষয়ে বাংলাদেশের শিল্পমন্ত্রী ও সৌদি আরবের আলফানার কোম্পানির মধ্যে সমঝোতা স্মারক এবং বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেপজা) ও সৌদি আরবের আল বাওয়ানী কো. লি.-এর মধ্যে সমঝোতা স্মারক। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব সাজ্জাদুল হাসান বাংলাদেশের পক্ষে সকল সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন।

বাংলাদেশের উন্নয়নে অংশীদার হতে চান সৌদি যুবরাজ
সৌদি যুবরাজ, উপ-প্রধানমন্ত্রী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান বিন আবদুল আজিজ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে বাংলাদেশের ব্যাপক উন্নয়নের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করে বলেন, তিনিও এ উন্নয়নের অংশীদার হতে চান। গত ১৭ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সালমানের বৈঠক সম্পর্কে জেদ্দা থেকে মক্কা যাওয়ার পথে বিমানে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে সৌদি যুবরাজকে উদ্ধৃতি করে পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক বলেন, তিনি (যুবরাজ) বলেছেন, বাংলাদেশে সাম্প্রতিক যে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে, সে-সম্পর্কে আমি অবগত আছি এবং এই উন্নয়নের বিকাশে আমিও তার অংশীদার হতে চাই।
শহীদুল হককে উদ্ধৃত করে বাসস জানায়, মোহাম্মদ বিন সালমান তার কর্মকর্তাদের বাংলাদেশ দেখে আসা এবং বাংলাদেশে উন্নয়নের কী ঘটছে তা পর্যবেক্ষণে বিশেষজ্ঞ পাঠানোর কথা বলেছেন। তিনি বলেন, তখন আমরা সিদ্ধান্ত নেব কোন কোন ক্ষেত্রে বাংলাদেশে বিনিয়োগ প্রয়োজন।
পররাষ্ট্র সচিব বলেন, গত ১৭ অক্টোবর রাতে রিয়াদের রয়্যাল প্যালেসে অত্যন্ত উষ্ণ ও আন্তরিক পরিবেশে এই বৈঠক হয়। শহীদুল হক বলেন, প্রায় আধা ঘণ্টা স্থায়ী এই বৈঠকে তিনি (মোহাম্মদ বিন সালমান) খুবই উৎফুল্ল ছিলেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন যুবরাজকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান, তখন তিনি (যুবরাজ) অত্যন্ত উষ্ণতার সঙ্গে এই আমন্ত্রণ গ্রহণ করেন এবং বলেন, আমি শীঘ্রই বাংলাদেশ সফর করব। শেখ হাসিনা মুসলিম উম্মাহর ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, আমরা আমাদের নিজেদের মধ্যে কোনো ঝগড়া-বিবাদ করব না; বরং আমরা আমাদের যে কোনো সমস্যা নিজেরাই সমাধান করব। প্রধানমন্ত্রী যখন জানান, ২০০৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত তিনি ছয়বার সৌদি আরব সফর করেছেন, তখন সৌদি যুবরাজ তাকে (শেখ হাসিনা) ‘হাফ সৌদি’ বলে বর্ণনা করেন।
‘এটিও আপনার বাড়ি’ এ-কথা উল্লেখ করে সৌদি যুবরাজ বলেন, আপনি অনেকবার সৌদি আরব সফর করেছেন, তাই আপনি ‘হাফ সৌদি’ হয়ে গেছেন। মুসলিম উম্মাহর মধ্যে শান্তি বজায় রাখা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে একমত পোষণ করে যুবরাজ বলেন, আমরাও এটা চাই এবং আমরা সবাই একত্রে শান্তিতে বসবাস ও উন্নয়ন করতে চাই।
যুবরাজ বলেন, প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সঙ্গে সৌদি আরবের চমৎকার সহযোগিতার সম্পর্ক রয়েছে। তিনি বলেন, বিভিন্ন ক্ষেত্রে এই সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে এবং ভবিষ্যতে আরও তা বৃদ্ধি পাবে। পররাষ্ট্র সচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মোহাম্মদ বিন সালমানের বৈঠকে মূলত দুটি বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা করা হয়। এর একটি হচ্ছে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ এবং অন্যটি হচ্ছে প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত।
শহীদুল হক বলেন, আমরা আশা করছি বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধিতে সৌদির একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দল খুব শীঘ্র বাংলাদেশ সফর করবে এবং দেশটি বাংলাদেশে বড় ধরনের বিনিয়োগ করবে। পররাষ্ট্র সচিব বলেন, সৌদি আরব বাংলাদেশে আরও বিনিয়োগ করার জন্য খুবই উৎসাহী।

শ্রেণী:

নতুন প্রত্যয় নিয়ে চতুর্থ বিমসটেক সম্মেলন

uttaran

uttaranউত্তরণ ডেস্ক: ১৮-দফা কাঠমান্ডু ঘোষণার মধ্যদিয়ে ৩১ আগস্ট নেপালে শেষ হয়েছে বিমসটেকের চতুর্থ শীর্ষ সম্মেলন। সমাপনী অধিবেশনে শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতিতে সদস্য সাত রাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ১৮-দফা কাঠমান্ডু ঘোষণায় সই করেন। বিমসটেক সম্মেলনে যোগ দিতে ৩০ আগস্ট কাঠমান্ডু যান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিকেলে সম্মেলনের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন তিনি। সেখানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাড়াও ভুটানের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান দাশো শেরিং ওয়াংচুক, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট উইন মিন্ট, শ্রীলংকার প্রেসিডেন্ট মাইত্রিপালা সিরিসেনা এবং থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী প্রায়ুত চান-ও-চা এই সম্মেলনে যোগ দেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা অলি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বক্তৃতায় বলেন, আমাদের সামনে বহু কাজ বাকি। এই যৌথ চেষ্টাকে অর্থবহ সম্পর্কের রূপ দিতে চাইলে, সহযোগিতার দৃশ্যমান ফলাফল চাইলে আমাদের মৌলিক আইনি কাঠামোগুলোকে আরও সংহত করার কথা ভাবতে হবে। সম্মেলনে বক্তৃতা করা ছাড়াও নেপালের কে পি শর্মা অলি এবং ভুটানের দাশো শেরিং ওয়াংচুকের সঙ্গে বৈঠক করেন শেখ হাসিনা। বৈঠক হয় নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে।

বিমসটেকের মাধ্যমে সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান
বিমসটেকের মাধ্যমে জোটের অন্তর্ভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে মুক্তবাণিজ্য এলাকা সৃষ্টি, বিনিয়োগ ও জ্বালানি সহযোগিতা, মানুষের সঙ্গে মানুষের যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং অর্থায়ন প্রক্রিয়ার উন্নয়নে সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। চতুর্থ বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে বক্তৃতকালে তিনি এ আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাড়াও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, ভুটানের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা দাসো শেরিং ওয়াংচুক, শ্রীলংকান প্রেসিডেন্ট মাইথ্রিপালা সিরিসেনা, থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী প্রিয়ুথ চ্যান-ও-চার, মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট উইন মিন্ট বিমসটেক সম্মেলনের উদ্বোধনী সেশনে উপস্থিত ছিলেন।
চতুর্থ বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনের সভাপতি নেপালের প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা অলির সভাপতিত্বে উদ্বোধনী সেশন অনুষ্ঠিত হয়। স্বাগত বক্তব্য রাখেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা অলি।
বঙ্গোপসাগর উপকূলবর্তী দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সাত দেশের জোট বিমসটেক (বে অব বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ ফর মাল্টি সেক্টরাল টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশন)। প্রযুক্তিগত ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতার উদ্দেশ্যে এই জোট গঠিত হয়। ১৯৯৭ সালে ব্যাংকক ঘোষণার মধ্যদিয়ে বাংলাদেশ, ভারত, শ্রীলংকা ও থাইল্যান্ড বিমসটেকের সূচনা হয়। পরে মিয়ানমার, নেপাল ও ভুটান বিমসটেকে যোগ দেয়। এবারের সম্মেলনের প্রতিপাদ্য ‘শান্তিপূর্ণ, সমৃদ্ধ ও টেকসই বে অব বেঙ্গল অঞ্চল গড়ার পথে’। সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, প্রতিটি ক্ষেত্রে নতুন গতিশীলতার ফলে বিশ্ব পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তন হয়েছে। এক্ষেত্রে পশ্চাৎপদ দেশগুলোকে নতুন গতিশীলতার সঙ্গে তাল মেলাতে হবে এবং বর্তমান বাস্তবতা হলো দ্বিপাক্ষিক, আঞ্চলিক ও বহুপক্ষীয়Ñ এই ত্রিমুখী সহযোগিতার মাধ্যমে এটা করতে হবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ বিমসটেকের মাধ্যমে আঞ্চলিক সহযোগিতার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেয় এবং ঢাকায় বিমসটেক সচিবালয়Ñ আঞ্চলিক ফোরামের প্রতি পূর্ণ অঙ্গীকারের বহিঃপ্রকাশ। বিমসটেককে বিশ্বের প্রগতিশীল অঞ্চলের জোট হিসেবে উল্লেখ করে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ অঞ্চলে আন্তঃবাণিজ্য সম্প্রসারণের বিশাল সুযোগ রয়েছে এবং দেশগুলোর উচিত এই সম্ভাবনাকে যথাযথভাবে ব্যবহার করা। শেখ হাসিনা বলেন, নেতাদের খুব উৎসাহী সম্মিলিত প্রতিশ্রুতি থাকা সত্ত্বেও প্রতিষ্ঠার ২১ বছরে বিমসটেকের সফলতা হাতেগোনা কয়েকটি। এ প্রেক্ষিতে তিনি বর্তমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে বিমসটেকের সুযোগ ও কাঠামো পুনঃপর্যালোচনা করতে উপস্থিত নেতাদের আহ্বান জানান। দৃশ্যমান ফলাফল পেতে সহযোগিতার ক্ষেত্রে বাস্তব উদ্যোগের জন্য মৌলিক আইনি কাঠামো মজবুত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী। ২০১৬ সালে ভারতের গোয়ায় বিশেষ বিমসটেক সভার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেখানে নেওয়া ১৬টি এজেন্ডার মধ্যে কয়েকটি বাস্তবায়ন হয়েছে, যার অনেকগুলো এখনও বাকি। বিমসটেককে সুসংহত, কার্যকর ও মনোযোগের কেন্দ্রে এনে এটি থেকে ভালো কিছু পেতে ৩টি প্রধান বিভাগ ধরে ১৪টি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী।
তিন বিভাগের মধ্যে ‘টেকসই উন্নয়ন’ বিভাগে রয়েছে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, যোগাযোগ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, জ্বালানি, দারিদ্র্য বিমোচন এবং কৃষিবিষয়ক সহযোগিতা বাড়ানোর পরামর্শ। ‘নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা’ বিভাগে নিরাপত্তা, সন্ত্রাস দমন, জলবায়ু পরিবর্তন এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার পরামর্শ এবং ‘জনগণের সঙ্গে জনগণের যোগাযোগ’ বিভাগে রয়েছে সংস্কৃতিবিনিময় ও জনস্বাস্থ্যবিষয়ক পরামর্শ।
কয়েকটি বিমসটেক দেশ দ্বিপাক্ষিক আয়োজনে ইলেকট্রিসিটি গ্রিড কানেকশন করেছে। অন্য সবার অংশগ্রহণে এটি বিমসটেক ইলেকট্রিক গ্রিডে পরিণত হতে পারে। সবাইকে এক হয়ে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দারিদ্র্য, জলবায়ু পরিবর্তন, সন্ত্রাস এই অঞ্চলের দেশগুলোর সবারই শত্রু। বাংলাদেশের জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাবের শিকার হওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবেলা এবং অভিযোজনে উদ্যোগ নিয়েছে এবং নিজস্ব অর্থায়নে ৪০০ মিলিয়ন ডলারের জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ড গঠন করেছে। সন্ত্রাস দমন বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতির মাধ্যমে বাংলাদেশ সফলভাবে সন্ত্রাস মোকাবেলা করতে সক্ষম হয়েছে। বাণিজ্য, বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি-অর্জনের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। শান্তি ও স্থিতিশীলতার ওপর উন্নয়ন নির্ভর করে। ক্ষুধা-দারিদ্র্য, নিরক্ষরতা দূরীকরণসহ বৈষম্যহীন সুষম উন্নয়ন নীতি নিয়ে কাজ করছে বাংলাদেশ।
‘একটি বাড়ি, একটি খামার’, ‘আশ্রয়ণ প্রকল্প’, ‘সবার জন্য শিক্ষা’, উপবৃত্তি, বিনামূল্যে বই বিতরণ, সামাজিক নিরাপত্তা সহযোগিতা, সবার জন্য বিদ্যুৎ, ডিজিটাল বাংলাদেশ, নারীর ক্ষমতায়ন, ক্ষুদ্র সঞ্চয় উদ্যোগসহ তার সরকারের সময়ে বাংলাদেশে নেওয়া কিছু অনন্য (ইউনিক) পদক্ষেপের কথাও তুলে ধরেন শেখ হাসিনা। সরকারের বিভিন্ন জনবান্ধব পদক্ষেপের কারণে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
বাংলাদেশের এগিয়ে যাওয়ার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সরকার গত ১০ বছরে অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি লাভ করেছে। যার কারণে মাথাপিছু আয় ১ হাজার ৭৫২ ডলারে উন্নীত হয়েছে, দারিদ্র্যের হার ২১ শতাংশে নেমে এসেছে। বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশকে বিশ্বে ৪৩তম বড় অর্থনৈতিক দেশ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। ওয়াটার হাউস কপার বলছে, ২০৫০ সালে বাংলাদেশ হবে বিশ্বের ২৩ নম্বর বড় অর্থনীতির দেশ। জাতিসংঘ মহাসচিব তার সাম্প্রতিক সফরে বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রশংসা করে এটিকে ‘মিরাকল’ বলেছেন। ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত সমৃদ্ধ শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন শেখ হাসিনা।

শ্রেণী:

জাতিসংঘ মহাসচিব ও বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্টের বাংলাদেশ সফর

Posted on by 0 comment
PM6

জিম ইয়ং কিম বলেন, আমি সংকটের ভয়াবহতা প্রত্যক্ষ করেছি। আমি নারী ও পুরুষদের সঙ্গে কথা বলেছি, যাদের কঠিন পরিস্থিতির ভেতর দিয়ে যেতে হয়েছে এবং নিজেদের গ্রামে ফিরে যাওয়ার সুযোগের অপেক্ষায় এখনও দৃঢ় রয়েছে।

PM6মো. রাজীব পারভেজ: দুদিনের সফরে জুলাই মাসের শুরুতে বাংলাদেশে এসেছিলেন জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস ও বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ং কিম। জাতিসংঘের মহাসচিব ও বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এমপির সঙ্গে বৈঠকে তারা দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন নিয়ে কথা বলেন। তাদের এই সফরে সর্বাধিক গুরুত্ব পেয়েছে রোহিঙ্গা সংকট। তারা দুজনই কক্সবাজারের বিভিন্ন শরণার্থীশিবির ঘুরে দেখেন। রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে তাদের জীবন বাঁচানোর জন্য জাতিসংঘের মহাসচিব ও বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা এবং ধন্যবাদ জানান।
সেনাবাহিনীর দমন-পীড়নের মুখে পালিয়ে গত বছরের ২৫ আগস্টের পর মিয়ানমারের রাখাইন থেকে ৭ লাখ রোহিঙ্গা মুসলিম সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে ঢুকেছে। তারা শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় নিয়েছে। এর আগে আসা ৪ লাখের মতো রোহিঙ্গা গত কয়েক দশক ধরে বাংলাদেশে রয়েছে। এখন ১১ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে শরণার্থী। মিয়ানমার সেনাবাহিনীর রাখাইনে রোহিঙ্গা নিধন অভিযানকে জাতিসংঘ ‘জাতিগত নির্মূল অভিযান’ বলে আসছে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এই রোহিঙ্গা সংকটকে এশিয়ার এ অঞ্চলে সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বড় শরণার্থী সমস্যা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দুই প্রধানের বৈঠক
বাংলাদেশ সফরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ও বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ং কিম। রোহিঙ্গা সংকট প্রশ্নে বাংলাদেশকে জাতিসংঘ এবং বিশ্বব্যাংকের সমর্থন অব্যাহত রাখার প্রতি জোর দিয়েছে বৈঠকে বলেছেন গুতেরেস ও কিম। রোহিঙ্গা সংকটের সমাধানে মিয়ানমারের ওপর আরও চাপ দেওয়ার কথা বলেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। তিনি বলেন, আমরা মিয়ানমারের ওপর চাপ অব্যাহত রেখেছি। আমাদের এই চাপ আরও বাড়াতে হবে, যাতে রোহিঙ্গা সংকটের সমাধানে কী করা উচিত তা মিয়ানমার বুঝতে পারে। রোহিঙ্গা সমস্যা শুধু বাংলাদেশ নয় বিশ্ব-সমস্যা। মিয়ানমারের আরাকান থেকে ১৯৭৭ সালে প্রথম রোহিঙ্গাদের পালিয়ে বাংলাদেশে আসার কথা এবং পরে ১৯৮২ ও ১৯৯১ সালের বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশে তাদের প্রবেশের কথা বৈঠকে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমার সরকার যে চুক্তি করেছে, তা বাস্তবায়নে কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে মনে হচ্ছে না।
জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো কয়েক মাস থেকে বলে আসছেÑ বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়ে থাকা শরণার্থীরা যাতে স্বেচ্ছায়, নিরাপদে এবং সম্মানের সঙ্গে নিজেদের দেশে ফিরে যেতে পারে এবং এই প্রত্যাবাসন যাতে আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুসরণ করে হয়, তা নিশ্চিত করার পরিবেশ তৈরি করতে হবে মিয়ানমারকে। এরই মধ্যে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে সহযোগিতা দিতে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের সঙ্গে আলাদা চুক্তি করেছে ইউএনএইচসিআর। কক্সবাজারে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের জন্য স্বাস্থ্যসহ সকল সেবা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে যেসব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে; সেগুলো বৈঠকে তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, টেকনাফে এই বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়ায় স্থানীয় জনগণের অসুবিধা হচ্ছে। উন্নত বাসস্থান সুবিধা দিতে প্রায় ১ লাখ রোহিঙ্গাকে ভাসানচরে স্থানান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশে আশ্রয় দেওয়ায় শেখ হাসিনা সরকারের প্রশংসা করেন গুতেরেস। বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গারা যেন উগ্রপন্থায় জড়িয়ে না পড়ে; এটাই তাদের মূল উদ্বেগের বিষয়। রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে জাতিসংঘের সহায়তা অব্যাহত রাখায় আন্তোনিও গুতেরেসের প্রশংসা করেন শেখ হাসিনা।
আন্তোনিও গুতেরেস জাতিসংঘ মহাসচিব পদে দায়িত্ব নেওয়ার বেশ আগে থেকেই রোহিঙ্গা সংকট সম্পর্কে জানতেন। তিনি ২০০৫ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার (ইউএনএইচসিআর) হিসেবে রোহিঙ্গাসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে শরণার্থী সংকট নিয়ে কাজ করেছেন। গত বছরের ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে নতুন করে নিধনযজ্ঞ শুরুর পর পরিস্থিতি তুলে ধরে ২ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ মহাসচিব জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদকে নজিরবিহীন এক চিঠি লেখেন।
বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ং কিম উন্নয়ন ও মানবিক ইস্যুতে একসাথে কাজ করার কথা বলেছেন। কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সহায়তায় বিশ্বব্যাংক ইতোমধ্যে বাংলাদেশকে ৪৮ কোটি ডলার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। বাংলাদেশ এবার বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অঙ্কের ঋণ পাচ্ছে জানিয়ে জিম ইয়ং কিম বলেন, এতেই প্রমাণ হয় যে শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রতি তাদের আস্থা রয়েছে।
বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট সাক্ষাৎকালে বলেছেন, এলডিসি থেকে উত্তরণের পরও বিশ্বব্যাংকের বোর্ডে তিনি বাংলাদেশকে কনসেশন রেটে ঋণ দেওয়ার কথা বলবেন। বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ং কিম বাংলাদেশের বর্তমান উন্নতি দেখে খুবই অভিভূত। তিনি বলেন, বাংলাদেশ অল্প সময়ে বেশ উন্নতি করেছে। দেশ বর্তমানে অন্যান্য দেশের অনুকরণীয়। প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, দেশের উন্নয়নে সব সময়ে পাশে থাকবে বিশ্বব্যাংক। এ বছর বাংলাদেশকে ৩ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ২৪ হাজার কোটি টাকা) ঋণ দেবে বিশ্বব্যাংক। রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী এবং দেশের জনগণের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতে আস্তোনিও গুতেরেস ও জিম ইয়ং কিম দুজনই বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রশংসা করেন। জঙ্গি নির্মূলে বাংলাদেশের কার্যক্রমেরও প্রশংসা করেন জাতিসংঘের মহাসচিব।
মানবিক কারণে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিলেও বাংলাদেশের পক্ষে তাদের ভরণপোষণ ও যতদিন এখানে অবস্থান করবেন ততদিন সুস্থ জীবন নিশ্চিত করা কষ্টকর হয়ে পড়েছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে রোহিঙ্গাদের সহায়তায় তাদের পাশে এসে দাঁড়ানোর জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ্বনেতাদের আহ্বান জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে সাড়া দিয়ে এরই মধ্যে বিভিন্ন দেশ ও দাতা সংস্থা এগিয়ে এসেছে। দুই বিশিষ্ট ব্যক্তির সফরে মিয়ানমারকে যারা সমর্থন করে আসছেন তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি হবে এবং দ্রুত রোহিঙ্গা সংকট নিরসন হবে বলে আশা করা যায়।

শরণার্থী ক্যাম্পে গুতেরেস এবং কিম
বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের বাস্তবচিত্র দেখতে কক্সবাজারের উখিয়ায় শরণার্থী ক্যাম্পে আসেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এবং বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ং কিম। গত ২ জুলাই সকালে উখিয়ার বালুখালী ক্যাম্পে পৌঁছে তারা প্রথমেই ক্যাম্পের ট্রানজিট পয়েন্ট পরিদর্শন করেন। তারপর কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প এবং নারীদের আলাদা আশ্রয়স্থল পরিদর্শন করেন। জাতিসংঘের মহাসচিব ও বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট পরে রোহিঙ্গাদের কয়েকটি ক্যাম্প ঘুরে দেখেন। এর আগে জাতিসংঘের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা রোহিঙ্গা ক্যাম্প সফর করে গেলেও সংস্থাটির মহাসচিব এই প্রথম তাদের দেখতে গেলেন। পরিদর্শন শেষে কুতুপালং এক্সটেনশন ক্যাম্পে সংবাদ সম্মেলন করে তাদের দৃষ্টিতে দেখা সার্বিক চিত্র তুলে ধরেন সফররত জাতিসংঘের মহাসচিব ও বিশ্বব্যাংক-প্রধান। মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের দুঃখ-দুর্দশা নিজের চোখে দেখা ও নিজের কানে শোনার পর জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, তারা বিচার চায়। নিরাপদে ঘরে ফিরে যেতে চায়। কক্সবাজারের কুতুপালং শরণার্থীশিবির ঘুরে দেখেছেন তিনি। এ-সময় তিনি রোহিঙ্গাদের মুখ থেকে শুনেছেন তাদের পালিয়ে আসার কাহিনি।
আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, রোহিঙ্গাদের যে দুঃখ কষ্ট তিনি দেখেছেন তাতে তার হৃদয় ভেঙে গেছে। ছোট ছোট রোহিঙ্গা শিশুদের দেখে আমার নাতি-নাতনিদের কথা মনে পড়ে গেছে। তাদের অবস্থাও যদি এমন হতো তা হলে কী রকম হতো, বলেন গুতেরেস। জাতিসংঘ মহাসচিব জানান, রোহিঙ্গারা যাতে দেশে ফিরে যেতে পারেন সেজন্য তারা কাজ করছেন। তবে তিনি বলেছেন, তাদের ফিরে যাওয়া শুধু সেখানে অবকাঠামো তৈরির বিষয় নয়। তারা যাতে সম্মানের সাথে ফিরে যেতে পারে সেটা নিশ্চিত করতে হবে। মিয়ানমারে পরিকল্পিতভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘন করা হচ্ছে উল্লেখ করে বলেন, এ অবস্থা এভাবে চলতে পারে না। এর একটা সমাধান করতে হবে।
জিম ইয়ং কিম বলেন, আমি সংকটের ভয়াবহতা প্রত্যক্ষ করেছি। আমি নারী ও পুরুষদের সঙ্গে কথা বলেছি, যাদের কঠিন পরিস্থিতির ভেতর দিয়ে যেতে হয়েছে এবং নিজেদের গ্রামে ফিরে যাওয়ার সুযোগের অপেক্ষায় এখনও দৃঢ় রয়েছে। বাংলাদেশ সরকার তার সীমান্ত উন্মুক্ত রেখে এবং শরণার্থীদের সহায়তা দিয়ে মহান কাজ করেছে। তবে আরও অনেক কিছুই করা দরকার। বর্ষাকালের অব্যাহত বৃষ্টিপাত ও আসন্ন ঘূর্ণিঝড়, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও রোগব্যাধি ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়ছে। এ অবস্থায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও সহায়তা নিয়ে এগিয়ে আসা প্রয়োজন।
দেশে ফিরে এক বিবৃতিতে বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্ট রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ায় বাংলাদেশের মহানুভবতার প্রশংসা করে শরণার্থী ও তাদের আশ্রয় প্রদানকারী স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সহায়তায় বিশ্বব্যাংকের প্রতিশ্রুতির প্রতি গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি বলেন, ব্যাপক শরণার্থী আগমনের মাধ্যমে সৃষ্ট ভয়াবহ পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশকে তার চমকপ্রদ উন্নয়ন অগ্রগতি ধরে রাখতে সহায়তা করবে বিশ্বব্যাংক। আমরা ৪৮ কোটি ডলার অনুদান দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি, যা এই সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশের সক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক হবে।
রোহিঙ্গা সংকট বাংলাদেশের জন্য সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত একটি ঘটনা। জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস ও বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ং কিমের বাংলাদেশ সফর ও রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গুরুত্ব পাবে। আমরা আশা করছি, তাদের এই সফর প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে ভূমিকা রাখবে।

শ্রেণী:

কর্মক্ষেত্রে স্বাস্থ্য নিরাপত্তা

Posted on by 0 comment

ড. প্রকৌশলী মাসুদা সিদ্দিক রোজী: কল-কারখানা ও প্রতিষ্ঠানসমূহে পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা একটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কর্মজীবীদের দিনের বেশির ভাগ সময় কাটে কর্মক্ষেত্রে। কাজেই প্রতিষ্ঠান ছোট-বড় যাই হোক না কেন, কর্মীদের ইতিবাচক, নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ দিতে হবে। কর্মীদের প্রয়োজনীয় চাহিদাগুলো পূরণ না হলে যথাযথ কাজের পরিবেশ তৈরি হয় না কর্মক্ষেত্রে।
কর্মক্ষেত্রে পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলায় বিশ্বের যেসব দেশ পিছিয়ে আছে, তাদের অর্থনৈতিক অবস্থাও ঝুঁকিমুক্ত নয়। জাতিসংঘ, বিশ্বের উন্নত দেশসমূহ শ্রমিকদের কর্মক্ষেত্রের সার্বিক পরিবেশ স্বাস্থ্যসম্মত ও নিরাপদ করার বিষয়ে ব্যাপক জোর দিয়েছে। বাংলাদেশও ইতোমধ্যে ঐ মিছিলে শরিক হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে বিশেষ গুরুত্বারোপ করে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।
কর্মক্ষেত্রে নারী ও পুরুষ কর্মীদের জন্য আলাদা টয়লেট, সাবান, বিশ্রাম নেওয়ার কক্ষ ও বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা থাকতে হবে। প্রাপ্য সব সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে কর্মীদের অধিকার সচেতনতাও প্রয়োজন। এসব নিশ্চিত করতে ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের ইতিবাচক মানসিকতা যেমন দরকার, তেমনি প্রয়োজন কর্মীদের সহযোগিতা। প্রতিষ্ঠানের কাজ সঠিকভাবে করার জন্য নিয়মগুলোও সহজ হতে হবে। কর্মক্ষেত্রে বেতন বেশি, ঝকঝকে চকচকে পরিবেশ ও নানা ধরনের সুযোগ-সুবিধা ফিকে হয়ে যাবে যদি কর্মীদের জীবনের নিরাপত্তা না দেওয়া হয়। এছাড়া কর্মচারীদের সঙ্গে যে কোনো দুর্ঘটনার সময় কী করণীয়, সেসব বিষয়েও আমাদের আলোচনা এবং অনুশীলন করতে হবে।
শ্রম আইনের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য একটি নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত কর্মপরিবেশের নিশ্চয়তা বিধান করা। তাই শ্রম আইনের আলোকে বলা যায়, কর্মক্ষেত্রে স্বাস্থ্যসেবা ও নিরাপত্তা সুবিধা প্রতিটি শ্রমিকের বৈধ এবং আইনগত অধিকার। শ্রম আইন ২০০৬-এর অধীনে অন্তর্ভুক্ত পেশাগত স্বাস্থসেবা এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়গুলো হলোÑ ১. পরিচ্ছন্নতা ২. পর্যাপ্ত বায়ু চলাচল এবং তাপমাত্রা ব্যবস্থা ৩. আলোর ব্যবস্থা ৪. অগ্নি সংক্রান্ত ঘটনা ৫. কৃত্রিম আর্দ্রকরণ ৬. জনবহুলতা ৭. অতিরিক্ত ওজন ৮. বিল্ডিং ও যন্ত্রপাতির সুরক্ষা ৯. যন্ত্রপাতিকে ঘেরাওকরণ ১০. বিস্ফোরক বা দাহ্য গ্যাস, বিপজ্জনক ধোঁয়ার বিষয়ে সতর্কতা ১১. ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম ব্যবহার ১২. ঝুঁকি মূল্যায়ন ও প্রতিরোধ ব্যবস্থা।
মালিক, শ্রমিক এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট দফতর একযোগে তৎপর হলে নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা কঠিন কিছু নয়। শুধু একটু সদিচ্ছা থাকলেই আমরা নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করে সারাবিশ্বে একটি অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারব।
‘সুস্থ্য শ্রমিক, নিরাপদ জীবনÑ নিশ্চিত করে টেকসই উন্নয়ন’ এই প্রতিপাদ্য নিয়ে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীন কল-কারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদফতর দেশব্যাপী জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেইফটি দিবস-২০১৮ পালন করতে যাচ্ছে, এজন্য আমি তাদের অভিনন্দন জানাই।
বর্তমান সরকার জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যাপক সাফল্য অর্জন করতে বদ্ধপরিকর। এ লক্ষ্যমাত্রায় টেকসই শিল্পায়ন, স্বাস্থ্য, নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর আবাস এবং টেকসই উৎপাদনকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আমার জানা মতে, বাংলাদেশ ৮৩ লাখ ইকোনমিক ইউনিট রয়েছে। সবক্ষেত্রে পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেইফটি নিশ্চিত করতে গণসচেতনতা প্রয়োজন।
রিহ্যাব নির্মাণ শ্রমিকদের প্রশিক্ষণ প্রদানের জন্য রিহ্যাব ট্রেনিং ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করেছে। এ ইনস্টিটিউটে তাদের পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নের পাশাপাশি সুরক্ষা বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধিমূলক উদ্বুদ্ধকরণ ক্লাসও নেওয়া হচ্ছে।
সরকারি/বেসরকারি ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তায় অনেক কাজ করেছে বাংলাদেশ। তবে আত্মতৃপ্তির কোনো সুযোগ নেই। এখনও অনেক কাজ বাকি। কর্মক্ষেত্রে শ্রমিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে শিল্পের পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিও টেকসই হবে না।

শ্রেণী:

শান্তিনিকেতনে একখণ্ড বাংলাদেশ

Posted on by 0 comment
6-5-2018 5-33-37 PM
6-5-2018 5-33-37 PM

বাংলাদেশ ভবনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

রাজীব পারভেজ: পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে বাংলাদেশ ও ভারত নিজেদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ঘটিয়ে বিশ্বের কাছে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ‘মডেল’ হিসেবে আবির্ভূত হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
তিনি বলেছেন, প্রতিবেশী এ দুই দেশের মধ্যে এখনও যেসব সমস্যা আছে, বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশের মাধ্যমেই তার সমাধান হবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন। বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন অংশীদার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কণ্ঠেও ঝরেছে একই আশার বাণী। তিনি বলেছেন, ভারত ও বাংলাদেশ যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে, পরস্পরের বিকাশে সহযোগিতা করছে তা অন্যদের জন্যও একটি শিক্ষা, একটি উদাহরণ।
শেখ হাসিনা ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে যে জায়গায় নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য ঠিক করেছেন, তা অর্জনে ভারতের ‘পূর্ণ সমর্থন’ থাকবে বলেও আশ্বাস দিয়েছেন মোদি। গত ২৫ মে শান্তিনিকেতনের বিশ্বভারতীতে বাংলাদেশ ভবনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এভাবেই দুই দেশের সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় জানান দুই নেতা।
বাংলাদেশ ও ভারতের জাতীয় সংগীতের রচয়িতা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সার্ধশত জন্মবার্ষিকীর উদযাপন ঘিরে বাংলাদেশের অর্থায়নে এই ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী যখন ‘সম্প্রীতির প্রতীক’ এই ভবনের ফলক উন্মোচন করছিলেন, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও উপস্থিত ছিলেন সেখানে।
শেখ হাসিনা তার লিখিত বক্তব্যে বলেন, “আমাদের এ পারস্পরিক সহযোগিতার পূর্ণ সদ্ব্যবহারের মাধ্যমে আমরা আমাদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ঘটাতে সক্ষম হব এবং এর ফলে বিশ্ববাসীর সম্মুখে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের মডেল হিসেবে গণ্য হবে বলে আশা করা যায়।”
আর নরেন্দ্র মোদি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে ২০৪১ সালের মধ্যে শিক্ষিত রাষ্ট্র করে তোলার যে লক্ষ্য নিয়েছেন, এ তার দূরদৃষ্টি।… এই লক্ষ্য অর্জনে ভারতের পূর্ণ সমর্থন থাকবে।”
শেখ হাসিনার পরিকল্পনাকে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ার ধারাবাহিকতার প্রতীক হিসেবে বর্ণনা করে ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমাদের লক্ষ্য এক এবং সে লক্ষ্যে পৌঁছানোর পদ্ধতিও এক। আমাদের দুই দেশের সামনেই জলবায়ু পরিবর্তনের সংকট। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একুশ সালের মধ্যে বাংলাদেশে ‘সবার জন্য বিদ্যুৎ’ কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন। এদিকে আমরাও আগামী বছরের মধ্যে ভারতের সবার ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্য ঠিক করেছি।”
নির্বাচনের কয়েক মাস আগে কলকাতায় প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের মূল উদ্দেশ্য ছিল শান্তিনিকেতনে ‘বাংলাদেশ ভবন’-এর উদ্বোধন এবং বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে যোগ দেয়া।
বাংলাদেশ ভবনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা বলেন, “একটা প্রতিবেশী দেশ থাকলে সমস্যাও থাকতে পারে, আমরা কিন্তু সমস্যাগুলো একে একে সমাধান করে ফেলেছি। হয়তো কিছুটা বাকি, আমি সে কথা বলে আমাদের এ চমৎকার অনুষ্ঠান নষ্ট করতে চাই না। কিন্তু আমি আশা করি, যে কোনো সমস্যা আমরা বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশের মাধ্যমেই সমাধান করতে পারব।”
বাংলাদেশের সৃষ্টিলগ্ন থেকে ভারতের সহযোগিতার কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে ভারতবাসী আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছে। তাদের সেই অবদান আমরা কোনোদিন ভুলতে পারি না। আমাদের এক কোটি শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়েছে। মুক্তিযোদ্ধাদের ট্রেনিং দিয়েছে, অস্ত্র দিয়েছে।”
বাংলাদেশ-ভারত ছিটমহল বিনিময়ের বিষয়টি মনে করিয়ে দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, “ভারতের পার্লামেন্টে একটি অভূতপূর্ব ঘটনা ঘটে গেল, ভারতের প্রত্যেকটা দলের সংসদ সদস্যরা সকলে মিলে, দল-মত নির্বিশেষে এক হয়ে স্থল সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়নের বিলটি পাস করে দিল।”
“অনেক দেশে ছিটমহল বিনিময় নিয়ে যুদ্ধ বেধে আছে। কিন্তু ভারত-বাংলাদেশে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে, ভ্রাতৃত্ববোধ নিয়ে, আনন্দঘন পরিবেশে আমরা ছিটমহল বিনিময় করেছি।”
এটা সম্ভব হওয়ায় ভারতের সব পক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে হাসিনা বলেন, “সত্যি কথা বলতে কি, আমি এত আবেগ আপ্লুত হয়েছিলাম, চোখের পানি ধরে রাখতে পারিনি। মনে হলো একাত্তর সালে যেভাবে আমরা ভারতের কাছ থেকে সহযোগিতা পেয়েছিলাম, আবার একবার দেখলাম, ঠিকই আমাদের প্রতিবেশী আমাদের বড় বন্ধু, সে বন্ধু তারা পাশে দাঁড়াল।”
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এ অঞ্চলের সবচেয়ে বড় শত্রু হলো দারিদ্র্য। এ অঞ্চলকে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত করার লক্ষ্য নিয়েই ভারত ও বাংলাদেশ কাজ করে যাচ্ছে। বাংলাদেশের উন্নয়নে ভারত যথেষ্ট সহযোগিতা করে যাচ্ছে।”
“বাংলাদেশকে একটি মর্যাদাশীল দেশ হিসেবে বিশ্ব দরবারে প্রতিষ্ঠা করাই আমার দায়িত্ব। আমাদের দুই বাংলার মধ্যে যে সম্পর্ক তা আরও সুন্দর হোক, সেটাই আমরা চাই।”
গত মার্চে দিল্লিতে ভারতের উদ্যোগে আয়োজিত আন্তর্জাতিক সৌর জোটের সম্মেলনে অংশ নেয়ায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদকে ধন্যবাদ জানান ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদি।
তিনি বলেন, “আমি খুবই খুশি হয়েছি, বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি সে সম্মেলনে অংশ নিয়েছেন। চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সহযোগিতার ইচ্ছা কত প্রবল তা আমি দেখেছি।”
সামাজিক খাতে বাংলাদেশ যে উন্নতি দেখিয়েছে, তা অনুকরণীয় বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ উন্নয়নের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশে উন্নীত হওয়ার শর্ত পূরণ করেছে। এটা বাংলাদেশের জন্য যেমন গর্বের, ভারতের জন্যও গর্বের।”
“বাংলাদেশ তাদের সামাজিক খাতে যতটা অগ্রগতি করেছে, গরিব মানুষের জীবনযাত্রার সহজ করতে যে কাজ করেছে, আমি স্বীকার করি এটা আমাদের প্রেরণা দিতে পারে।”
মোদি বলেন, “বাংলাদেশ এবং ভারতের অগ্রযাত্রার সূত্র একটি ‘সুন্দর মালার মতো’। কিছুদিন ধরে আমাদের সামনে এক ধ্রুব সত্য এসেছে, তা হলো প্রগতি, সমৃদ্ধি, শান্তি ও ঐক্যের জন্য দরকার ভারত এবং বাংলাদেশের বন্ধুত্ব। পারস্পরিক সহযোগিতা। এই সহযোগিতার বিকাশ কেবল দুই পক্ষের কারণেই হয়েছে তা নয়, বিমসটেকের মতো একটি প্ল্যাটফর্মও আমাদের সহযোগিতা, প্রগতি ও সংযোগকে এগিয়ে নিয়ে গেছে।”
দুই বাংলার এই মেলবন্ধনের কথা বলতে গিয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর আর কাজী নজরুল ইসলামের কথাও শেখ হাসিনা বলেন।
“রবীন্দ্রনাথ ও নজরুল ইসলাম দুজনেই দুই বাংলার। রবীন্দ্রনাথ আমাদের হৃদয়ে আছেন, হৃদয়েই থাকবেন। এটা বোধহয় ভারতের অনেকে জানেন না, এক সময় বাংলাদেশ রবীন্দ্রসংগীত নিষিদ্ধ হয়ে গিয়েছিল, এমনকি রবীন্দ্রসাহিত্য পড়া যাবে নাÑ সে রকম একটা নির্দেশনা দেয়া হয়েছিল, যার বিরুদ্ধে আমাদের শিক্ষক, ছাত্রসমাজ সকলে মিলে সংগ্রাম করেছিলেন। আজকে মুক্তভাবে সবকিছুর চর্চা করতে পারে সে রকম একটা পরিবেশ বাংলাদেশে বিরাজমান।”
শেখ হাসিনা বলেন, কবি, শিল্পী, সাহিত্যিকÑ এরা সবকিছুর ঊর্ধ্বে, তাদের স্থান অনেক ওপরে।
“আমরা চাই দুই দেশের শিল্প, সাহিত্য, কলা সবকিছুর আদান-প্রদান হোক। সকলে মিলে মানব জাতির জন্য এক হয়ে কাজ করব।”
সাম্প্রতিক রোহিঙ্গা সংকটের প্রসঙ্গও আসে প্রধানমন্ত্রীর বক্তৃতায়। রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরাতে মিয়ানমারের ওপর চাপ অব্যাহত রাখতে বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
“আপনারা জানেন, ১১ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশের মাটিতে আশ্রয় নিয়েছে, মানবিক কারণে আমরা আশ্রয় দিয়েছি। তারা দ্রুত তাদের স্বদেশে ফিরে যাকÑ আমরা সেটাই চাই। আমরা কিন্তু নির্যাতিত মানুষকে আশ্রয় না দিয়ে পারি না।”
শেখ হাসিনা ও নরেন্দ্র মোদি যৌথভাবে বাংলাদেশ ভবনের ফলক উন্মোচন করে ওই ভবনের মিলনায়তনেই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে বাংলাদেশ ও ভারতের জাতীয় সংগীত শোনানো হয়।
শেখ হাসিনা জানান, ২০১০ সালে তার ভারত সফরের সময় এ ভবন নির্মাণের বিষয়ে আলোচনা শুরু হয়। ওই এলাকার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই ভবনের নকশা করা হয়।
বাংলাদেশ ভবন নিয়ে উচ্ছ্বসিত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আমার খুব ভালো লেগেছে, এটা দারুণ হয়েছে। আজ বঙ্গবন্ধুর কথা মনে পড়ছে বারবার। কারণ ভারতবর্ষ ও বাংলাদেশের সম্পর্ক সেই ১৯৭১ সাল থেকে।”
মমতা বলেন, “অবিরল-অবিচল, একেবারে পদ্মা-মেঘনা-যমুনার মতো, অনেক জল গড়িয়ে গেছে, অনেক জল গড়াবে। কিন্তু দুদেশের সম্পর্ক আরও অনেক অনেক ভালো হবে, এটা আমি বিশ্বাস করি।”
ভারতে কবি নজরুল ইসলামের নামে বিমানবন্দর, একাডেমি, তীর্থ প্রতিষ্ঠার প্রসঙ্গ তুলে ধরে মমতা বলেন, “আমরা বঙ্গবন্ধুর নামেও একটি বঙ্গবন্ধু ভবন করতে চাই, যখনই আমাদের সুযোগ দেবেন, আমরা করব।”
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে লিখিত বক্তব্যে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে প্রচলিত ও অপ্রচলিত বিভিন্ন ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।
“বাংলাদেশ-ভারতের বহুমুখী ও বহুমাত্রিক এ সম্পর্ক বিগত সাড়ে ৯ বছরে এক অনন্য উচ্চতায় আসীন হয়েছে। আমরা আজ দৃঢ়তার সঙ্গে বলতে পারি, উভয় দেশ ভবিষ্যতেও এ সকল সহযোগিতা বিদ্যমান রাখবে।”
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে নিহত হওয়ার পর ছোট বোন শেখ রেহানাসহ ভারতে আশ্রয় নেয়ার কথাও শেখ হাসিনা এ অনুষ্ঠানে বলেন।
তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে হাজার বছরের অভিন্ন ঐতিহাসিক, সামাজিক, ভাষিক, সাংস্কৃতিক ও আত্মিক বন্ধন বিদ্যমান।
বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে পুরনো সম্পর্কের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, “আমার ইচ্ছে ছিল এখানে বাংলাদেশ বিষয়ে চর্চার জন্য একটি আলাদা জায়গা থাকুক। ২০১০ সালে আমার ভারত সফরের সময় এই ভবনটি স্থাপনের ব্যাপারে প্রাথমিক আলোচনা হয়। শেষ পর্যন্ত এটি আজ বাস্তবে রূপ নিয়েছে।”
বাংলাদেশ ভবন স্থাপনের সুযোগ দেয়ায় বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ, পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার, ভারত সরকার ও ভারতের বন্ধুপ্রতিম জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।
পশ্চিমবঙ্গের গভর্নর কেশরীনাথ ত্রিপাঠি, বিশ্বভারতীর উপাচার্য অধ্যাপক সবুজ কলি সেনসহ দুই দেশের গুরুত্বপূর্ণ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন এ অনুষ্ঠানে।
বাঙালীর জীবনে রবীন্দ্রনাথের প্রভাব নিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, “রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে বেশি কিছু বলার ধৃষ্টতা আমার নেই। আমি শুধু এটুকুই বলব, প্রতিটি বাঙালির জীবনে তিনি উজ্জ্বল বাতিঘর। আমাদের হাসি-কান্না, আনন্দ-বেদনা, প্রেম-বিরহ, দ্রোহ ও শান্তিতে রবীন্দ্রনাথ থাকেন হৃদয়ের কাছের মানুষ হয়ে। তার সৃষ্টির ঝরনা ধারায় আমরা অবগাহন করি প্রতিনিয়ত।”
বঙ্গবন্ধু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে মনে-প্রাণে ধারণ করতেন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, “তিনি রবীন্দ্রনাথের দ্বারা এতটাই প্রভাবিত হয়েছিলেন যে ‘আমার সোনার বাংলা’ গানটি তিনি স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত হিসেবে নির্বাচিত করে রেখেছিলেন।”
তিনি বলেন, ১৯৬১ সালে রবীন্দ্রনাথের জন্মশতবার্ষিকীতে তার সাহিত্য ও গানকে নিষিদ্ধ করার অপচেষ্টা নিয়েছিল পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী। সেই ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিল এই ভূখ-ের মানুষ। সংগ্রামের মাধ্যমে মানুষ রবীন্দ্রনাথকে ধারণ করেছে হৃদয়ে, চেতনায় ও বিশ্বাসে।
“আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে রবীন্দ্রসংগীত আমাদের দিয়েছে প্রেরণা, জুগিয়েছে উৎসাহ ও সাহস।”
বাংলাদেশের অর্থায়নে ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত বাংলাদেশ ভবনে গবেষকদের সহায়তার জন্য পাঠাগার, অডিটোরিয়াম, ক্যাফেটেরিয়া, ডিজিটাল জাদুঘর ও আর্কাইভ ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা রাখা হয়েছে।
এই ভবনের রক্ষণাবেক্ষণ এবং এর কার্যক্রম পরিচালনার জন্য শেখ হাসিনা বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে ১০ কোটি রুপির একটি স্থায়ী তহবিল গঠন করার ঘোষণা দেন অনুষ্ঠানে।
তিনি বলেন, “আমি মনে করি, কবিগুরুর শান্তিনিকেতনে এটি (বাংলাদেশ ভবন) একখ- বাংলাদেশ, যাকে কেন্দ্র করে শান্তিনিকেতনের বুকে জেগে উঠবে বাংলাদেশের আলো, যে আলো রবীন্দ্রময় নিশ্চয়ই, তবু তার মধ্যে আছে স্বকীয়তা।

শান্তিনিকেতনের সমাবর্তনে শেখ হাসিনা
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ২৫ মে রবীন্দ্র ভবনে রবীন্দ্র চেয়ারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে দুদিনের সরকারি সফরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সকালে কলকাতা পৌঁছান।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শান্তিনিকেতনের রবীন্দ্র ভবনে পৌঁছালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাকে অভ্যর্থনা জানান।
প্রকৃতি, আধ্যাত্মিকতা এবং মানবিক মূল্যবোধ সমন্বিত শিক্ষা প্রদানের জন্য একটি অনন্য প্রতিষ্ঠান হিসেবে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এই প্রতিষ্ঠানটি ১৯২১ সালে প্রতিষ্ঠা করেন।
পরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শান্তিনিকেতনের সমাবর্তনে সম্মানিত অতিথি হিসেবে যোগদান করেন, যা প্রতি পাঁচ বছর অন্তর অন্তর অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবর্তনে সভাপতিত্ব করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী ও চ্যান্সেলর নরেন্দ্র মোদি। সমাবর্তনে বক্তৃতা করেনÑ রামকৃষ্ণ মিশন বিবেকানন্দ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর স্বামী আত্মপরিয়ানানন্দ ও বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক সবুজ কলী সেন। পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল কেশরী নাথ ত্রিপাঠি এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উপস্থিত ছিলেন।
সমাবর্তন মঞ্চ ‘আম্রকুঞ্জ’-এ পৌঁছানোর পর সমবেত অতিথিরা সমাবর্তনের বিশেষ পোশাক পরেন এবং শিক্ষার্থীরা উলুধ্বনি ও শঙ্খের আওয়াজ তুলে স্বাগত জানান।

এক নজরে বাংলাদেশ ভবন
পশ্চিমবঙ্গের শান্তিনিকেতনে রবীন্দ্রনাথ প্রতিষ্ঠিত বিশ্বভারতীতে অত্যাধুনিক দোতলা যে বাংলাদেশ ভবন তৈরি হয়েছে সেখানে আছে একটি মিলনায়তন, জাদুঘর এবং গ্রন্থাগার। প্রায় ৪৬ হাজার বর্গফুট জায়গায় এই ভবনে জাদুঘরটি চালু হয়েছে প্রায় ৪ হাজার বর্গফুট এলাকা নিয়ে। পরে এটিকে আরও বড় করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। আর গ্রন্থাগারের জন্য বাংলাদেশ থেকে নিয়ে আসা হয়েছে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ বই। এর মধ্যে অনেক বই-ই রবীন্দ্রচর্চা এবং রবীন্দ্র গবেষণাভিত্তিক। গ্রন্থাগার আর জাদুঘরটিতে রয়েছে অনেকগুলো ইন্টার অ্যাকটিভ, টাচ স্ক্রিন কিয়স্ক। রয়েছে রবীন্দ্রনাথের গান, কবিতা শোনার জন্য অডিও কিয়স্ক। ছাপানো বই ছাড়াও ডিজিটাল বইও পড়তে পারবেন পাঠকরা। জাদুঘরকে মূলত ৪টি জোনে ভাগ করা হয়েছে। শুরু হয়েছে উয়ারি বটেশ্বরে প্রাপ্ত ২ হাজার ৫০০ বছর পুরনো সভ্যতার নিদর্শন দিয়ে। শেষ হয়েছে ’৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ দিয়ে। মাঝের অনেকটা সময় জুড়ে এসেছে রবীন্দ্রনাথ প্রসঙ্গ। প্রতœতাত্ত্বিক নিদর্শন যেমন রয়েছে, তেমনই আছে অতি দুর্লভ কিছু ছবি, বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরে সংরক্ষিত নানা প্রতœ নিদর্শনের অনুকৃতি। প্রতœতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলোর মধ্যে উয়ারি বটেশ্বরে প্রাপ্ত প্রতœ নিদর্শন যেমন আছে, তেমনই আছে ষষ্ঠ-সপ্তম শতকের পোড়ামাটির কাজ, ১৬০০ শতকের নকশা খচিত ইট প্রভৃতি। রয়েছে পাহাড়পুর, মহাস্থানগড়ের নানা নিদর্শন, দেব-দেবীদের মূর্তি। কোনোটা পোড়ামাটির, কোনোটি ধাতব। মাঝখানে সুলতানি এবং ব্রিটিশ শাসনামলও এসেছে জাদুঘরটিতে রাখা নানা প্যানেলে। রয়েছে ঢাকার জাতীয় জাদুঘর থেকে আনা বেশ কিছু মুদ্রা। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে রয়েছে একটি আলাদা গ্যালারি। তাতে দেখা যাচ্ছে যুদ্ধের সময়কার নানা দুর্লভ ছবি, শরণার্থী শিবির এগুলো। রবীন্দ্রনাথ নিয়ে রয়েছে সম্পূরক পৃথক একটি বিভাগ। পূর্ববঙ্গে সাজাদপুর, শিলাইদহ, পতিসরের কাছারীবাড়ির ছবি, সেখানে কবির ব্যবহৃত নানা জিনিসের অনুকৃতি দিয়ে সাজানো রয়েছে জাদুঘরের এই অংশটি।

শ্রেণী:

সিঙ্গাপুরে শেখ হাসিনা অর্কিড ও থাইল্যান্ডে বঙ্গবন্ধু চেয়ার উদ্বোধন

Posted on by 0 comment
4-5-2018 c-25-46 PM

4-5-2018 c-25-46 PMরাজীব পারভেজ: ১৩ মার্চ ২০১৮, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইউনেস্কো বিশ্ব হেরিটেজ হিসেবে স্বীকৃত সিঙ্গাপুর বোটানিক গার্ডেনের ন্যাশনাল অর্কিড গার্ডেনে তার নামের একটি অর্কিড উন্মোচন করেছেন। সিঙ্গাপুরে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রথম সফরটি স্মরণীয় করে রাখতে অর্কিডটির নাম ‘ডেনড্রোবিয়াম শেখ হাসিনা’ রাখা হয়েছে। সিঙ্গাপুরের জাতীয় ফুল অর্কিডের যে প্রজাতির নাম ‘ডেনড্রোবিয়াম শেখ হাসিনা’ রাখা হয়েছে, বোটানিক বাগানের কর্মকর্তারা ‘সানপ্লাজা পার্ক’ ও ‘সেলেটার চকোলেট’ প্রজাতির শঙ্করায়নের মাধ্যমে সেটি উদ্ভাবন করেন।
সিঙ্গাপুর জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যানের পরিচালক ড. নাইজেল টেইলর সি হর্ট সকালে এখানে একটি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ডেনড্রোবিয়াম শেখ হাসিনা অর্কিডটি প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দেন। নতুন অর্কিডটির শঙ্করায়নের সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং বাগানের ব্যবস্থাপক ডেভিড লিম বলেন, ডেনড্রোবিয়াম শেখ হাসিনা অর্কিডটির শঙ্করায়ন এবং পত্র-পল্লবে বিকশিত হতে সাড়ে চার বছর সময় লেগেছে। এই হাইব্রিড অর্কিড ২৫ সেন্টিমিটার পর্যন্ত লম্বা হয়। প্রতিটি গাছেরই ১৫টি ফুলের থোকা ধরে। প্রতিটি প্রস্থে ৫ সেমি হয়। প্যাঁচানো প্রতিটি ফুলের গোড়া গাঢ় পিঙ্গল রঙের এবং ফুলের মাঝখানে হালকা বাদামি ও ধবধবে সাদা প্রান্ত থাকে।
সিঙ্গাপুরের রীতি অনুসারে ১৯৫৭ সাল থেকে দেশটিতে সফরকারী বিভিন্ন দেশের প্রায় আড়াইশ’ রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানের নামে স্থানীয় অর্কিডের নামকরণ করা হয়েছে। তাদের সফরকে স্মরণীয় করে রাখতেই এটা করা হয়। ‘ডেনড্রোবিয়াম শেখ হাসিনা’ অর্কিডটি এখন থেকে গার্ডেনের ভিআইপি গ্যালারির শোকেসে শোভা পাবে। প্রধানমন্ত্রী পুরো অর্কিড বাগানের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন এবং বাগানের সৌন্দর্য উপভোগ করেন। বাগানটিতে ১ হাজার প্রজাতি ও ২ হাজার শঙ্করায়নকৃত উদ্ভিদ রয়েছে।
সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী লি সিয়েন লোংয়ের আমন্ত্রণে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী এই সফর করেন। এ সময় দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পাশাপাশি সিঙ্গাপুরের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং সে দেশের ব্যবসায়ীদের সঙ্গেও আলোচনায় বসেন। উল্লেখ্য, কাঠমান্ডুতে বাংলাদেশের ব্যক্তিমালিকানাধীন বিমান সংস্থা ‘ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স’র মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী সফররত অবস্থায় তার শোক প্রকাশ করেন, নেপালের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেন, দুর্ঘটনার জন্য সব ধরনের সহযোগিতা করার প্রতিশ্রুতির কথা বলেন এবং সিঙ্গাপুর সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফিরে আসেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সিঙ্গাপুর সফর একটি বার্তা বহন করে, সেটি হলোÑ লি কুয়ান ইউয়ের নেতৃত্বে সিঙ্গাপুরের উন্নয়ন কৌশলগুলো নজরে এনে আমাদের দেশে প্রয়োগ করা। দারিদ্র্যপীড়িত তৃতীয় বিশ্বের দেশ থেকে উন্নত দেশে পরিণত হওয়ার গৌরবোজ্জ্বল কাহিনি লি কুয়ান ইউয়ের নেতৃত্বে সিঙ্গাপুরের আছে। লি কুয়ান ইউয়ের ছেলে লি সিয়েন লোং সিঙ্গাপুরের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী। লি কুয়ান ইউ যাকে সাধারণভাবে এলকেওয়াই হিসেবেই চিহ্নিত করা হয়। তিনি অর্থাৎ লিকুয়ান ইউ হচ্ছেন সিঙ্গাপুরের মহান স্থপতি। তিনি ছিলেন সিঙ্গাপুরের প্রথম প্রধানমন্ত্রী। এক নাগাড়ে তিন দশক তিনি শাসন করে সিঙ্গাপুরকে তৃতীয় বিশ্বের একটি দেশ থেকে প্রথম বিশ্বের পর্যায়ে পৌঁছে দিয়েছেন।

থাইল্যান্ডে ‘বঙ্গবন্ধু চেয়ার’ স্থাপন
থাইল্যান্ডের এশিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিতে (এআইটি) বাংলাদেশের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে একটি চেয়ার উদ্বোধন হয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী এমপি ও থাই পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডন প্রামুদউইনাই ১৪ মার্চ ২০১৮ তারিখে ব্যাংককে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটিতে এই চেয়ারের উদ্বোধন করেন। ভারতের যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক ড. জয়াশ্রী রায় বঙ্গবন্ধু চেয়ারের প্রফেসর নির্বাচিত হয়েছেন। তার অধীনে প্রথম ডক্টরেট করবেন বাংলাদেশের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা মাহমুদ হাসান।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সরাসরি পৃষ্ঠপোষকতায় চেয়ার প্রফেসরশিপ ও ডক্টরাল রিসার্চ ফেলোশিপের জন্য ৮ লাখ ডলারের চার বছর মেয়াদি তহবিল গঠন করা হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বঙ্গবন্ধু চেয়ার বিষয়ক জাতীয় কমিটির নির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশ দূতাবাস ও এআইটি এই তহবিলের অর্থ ব্যয় করা হবে। দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী একটি মার্বল স্মারক উন্মোচনের মাধ্যমে ‘বঙ্গবন্ধু চেয়ার’-এর উদ্বোধন করেন বলে ব্যাংককে বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছে। অনুষ্ঠানে থাই ভাষায় অনূদিত বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণও উদ্বোধন হয়। বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে বক্তব্য দেন অধ্যাপক জয়াশ্রী রায়। বাংলাদেশ ও থাইল্যান্ডের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর চেয়ারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হয়। বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের নানা দিক নিয়ে আলোচনা হয়। ভিসা ছাড়াই কূটনীতিকদের সফরের অনুমোদন দিয়ে একটি চুক্তিতে সই করেন দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
‘বঙ্গবন্ধু চেয়ার’কে বাংলাদেশ সরকার ও এশিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির মধ্যকার বন্ধুত্বের প্রতীক হিসেবে অভিহিত করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাহমুদ আলী এমপি। অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ এমপি বলেন, বঙ্গবন্ধু চেয়ার জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভিশন ও সংগ্রামী জীবন সম্পর্কে মানুষের আগ্রহ বাড়াবে। এ চেয়ার থেকে পিএইচডি ফেলোশিপ প্রদান করা হবে। বাংলাদেশের জন্য টেকসই এবং সমন্বিত স্মার্ট জ্বালানি মডেলিংয়ের ওপর গবেষণা করতে এই চেয়ার প্রণোদনা প্রদান দেবে।

শ্রেণী:

কম্বোডিয়ার সঙ্গে ১০ সমঝোতা স্মারক ও এক চুক্তি

Posted on by 0 comment
31

31উত্তরণ প্রতিবেদন: বাংলাদেশ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আসিয়ান জোটভুক্ত দেশ কম্বোডিয়ার সঙ্গে ১০টি সমঝোতা স্মারক এবং একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। বাণিজ্য-বিনিয়োগ, পর্যটন ও তথ্য-প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা এগিয়ে নিতে এই স্মারক ও চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। গত ৪ ডিসেম্বর সকালে নমপেনে কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হুন সেনের কার্যালয় পিস প্যালেসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও প্রধানমন্ত্রী হুন সেনের উপস্থিতিতে দুই দেশের প্রতিনিধিরা এসব সমঝোতা স্মারক ও চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের এবং হুন সেন কম্বোডিয়ার প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন। খবর বাসস’র।
চুক্তি স্বাক্ষরের আনুষ্ঠানিকতার আগে দুই প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে একান্তে এবং দুই দেশের প্রতিনিধি দলের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হয়। চুক্তি স্বাক্ষরের পর শেখ হাসিনা ও হুন সেন যৌথ বিবৃতিতে দুই দেশের সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
পর্যটন ক্ষেত্রে সহযোগিতা, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা, জয়েন্ট ট্রেড কাউন্সিলের অধীনে প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে সহযোগিতা, ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য বাস্তবায়নে সহযোগিতা ও অংশীদারিত্ব, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ এবং রয়্যাল একাডেমি অব কম্বোডিয়ার মধ্যে একাডেমিক পর্যায়ে সহযোগিতা এগিয়ে নিতে সমঝোতা স্মারকে সই করেছে বাংলাদেশ ও কম্বোডিয়া।
বাকি সমঝোতা স্মারকগুলো হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, স্মৃতিস্তম্ভ এবং স্মৃতিচিহ্ন সংরক্ষণে সহযোগিতা, মৎস্য ও অ্যাকুয়াকালচার খাতে সহযোগিতা, শ্রম ও কারিগরি প্রশিক্ষণ খাতে সরকারি পর্যায়ে সহযোগিতা এবং বিনিয়োগ প্রসারে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও কাউন্সিল ফর দি ডেভেলপমেন্ট অব কম্বোডিয়ার মধ্যে সহযোগিতার বিষয়ে। আর চুক্তি হয়েছে দুই দেশে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি এবং কম্বোডিয়া চেম্বার অব কমার্সের মধ্যে সহযোগিতা বিষয়ে।
এক যৌথ বিবৃতিতে শেখ হাসিনা বলেন, বিনিয়োগ বাড়াতে জয়েন্ট ট্রেড কাউন্সিল গঠনের বিষয়ে যে সমঝোতা স্মারক ৪ ডিসেম্বর স্বাক্ষরিত হয়েছে এবং দুই দেশের শীর্ষ বাণিজ্য সংগঠনের মধ্যে যে চুক্তি সই হয়েছে, তা আমাদের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে। দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে আঞ্চলিক সহযোগিতার বিষয়টিও বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে বলে জানান তিনি।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন এমপি, আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক এমপি, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক প্রধান সম্বয়ক মো. আবুল কালাম আজাদ, পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মাকসুদুল হাসান খান, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব অপরূপ চৌধুরী, এফবিসিসিআই সভাপতি শফিউল ইসলাম এবং বিআইডিএ’র নির্বাহী চেয়ারম্যান কাজী আমিনুল ইসলাম বাংলাদেশের পক্ষে স্মারক ও চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
অন্যদিকে সংশি¬ষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, সরকারের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন সংস্থার প্রধানগণ কম্বোডিয়ার পক্ষে স্মারক ও চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

শেখ হাসিনাকে বোন ডাকলেন হুন সেন
কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হুন সেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বোন ডেকেছেন। পররাষ্ট্র সচিব এম শহিদুল হক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের বলেন, গত ৪ ডিসেম্বর দুদেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা শেষে কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হুন সেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘বোন’ বলে সম্বোধন করেন। এখানে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় পিস প্যালেসে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
পররাষ্ট্র সচিব কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রীর উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, আপনি শুধু বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী নন, আপনি আমার বোনও। এ কারণে আপনাকে আমি আমার বোন হিসেবে সম্বোধন করলাম।
পররাষ্ট্র সচিব হক বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রীকে ‘ভাই’ বলে সম্বোধন করেন। তিনি বলেন, এশিয়ার এ দুটি দেশের মধ্যে এ যেন একটি বিশেষ সম্পর্ক এবং এ সম্পর্ক আগামীতে বিভিন্নভাবে আরও এগিয়ে যাবে।

শ্রেণী:

সবার আগে বাংলাদেশ

17
17

ঢাকায় সুধী সমাবেশে সুষমা স্বরাজ

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ বলেছেন, বাংলাদেশ সবার আগে। ভারত সব প্রতিবেশী দেশের মধ্যে বাংলাদেশকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে। গত ২৩ অক্টোবর সকালে বারিধারায় ভারতীয় হাইকমিশনে নতুন চ্যান্সারি ভবন ও ১৫টি উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এ বক্তব্য দেন।
সুষমা স্বরাজ প্রতিবেশীদের ভারত সরকারের পররাষ্ট্রনীতিতে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা উল্লেখ করেন। ইংরেজি ও হিন্দিতে দেওয়া ২০ মিনিটের বক্তৃতা দর্শক শ্রোতারা তুমুল করতালি আর হর্ষধ্বনির মধ্য দিয়ে উপভোগ করেন। বাংলাদেশের প্রতি ভারত সরকারের অগ্রাধিকার নীতি বুঝাতে সুষমা হিন্দিতে বলেন, ‘পড়শি পেহেলে লেকিন বাংলাদেশ সবচে পেহেলে।’
ভারতীয় হাইকমিশনের চ্যান্সারি কমপ্লেক্সে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী এমপি, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম এমপি, পরিবেশ ও বনমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এমপি, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম, ভারতের পররাষ্ট্র সচিব ড. এস জয় শংকর, পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক, ভারতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলী প্রমুখ। ভারতের হাইকমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রিংলা অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন।
সুষমা স্বরাজ দুদিনের ঝটিকা সফরে ২২ অক্টোবর দুপুরে ঢাকা আসেন এবং ২৩ অক্টোবর দুপুরে নয়াদিল্লি ফিরে যান। পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাহমুদ আলীর সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কথা জানিয়ে বলেন, ‘আমরা দুজন দাদা আর দিদির সম্পর্ক পাতিয়ে ফেলেছি।’ বাংলাদেশ ও ভারতের বর্তমান সম্পর্ক অসাধারণ। দুই দেশের মধ্যে অমীমাংসিত যে বিষয়গুলো আছে সেগুলো সমাধান হবে। দুই পক্ষই বন্ধুত্বের মেজাজে সঠিক পথে কাজ করছে। আমি নিশ্চয়তা দিচ্ছি দুই দেশ মিলে সব বিষয় ইমানদারির সাথে মিটিয়ে ফেলব। ইতোমধ্যে আমরা সমুদ্রসীমা আর স্থল সীমান্ত নিয়ে বিরোধী শান্তিপূর্ণ উপায়ে নিষ্পত্তি করেছি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও শেখ হাসিনা আমাদের দুই দেশের সম্পর্কের শক্ত ভিত্তি দিয়েছেন, যা দিনে দিনে সহযোগিতার হাত ধরে সম্প্রসারিত হচ্ছে। আগামীতে এই সম্পর্ক বৃহত্তর উচ্চতায় গিয়ে পৌঁছবে, আমি নিশ্চিত।
দুই দেশের জনগণের মধ্যে নিবিড় সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কয়েক বছরে জনগণের মধ্যকার সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হচ্ছে। প্রতিবছর সর্বোচ্চ সংখ্যক বাংলাদেশি ভারত সফরে যাচ্ছেন। এ বছর ১৪ লাখ বাংলাদেশিকে ভিসা দেওয়া হতে পারে। ২০১৬ সালে ছিল সাড়ে ৯ লাখ আর ২০১৫ সালে সাড়ে ৭ লাখ।
তিনি আরও বলেন, দুই দেশের তরুণ সমাজই বড় শক্তি ও সম্পদ। তরুণদের ওপর বেশি বেশি বিনিয়োগ করতে হবে। তরুণরাই হলো ভবিষ্যৎ। ভারতের হাইকমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রিংলা তার স্বাগত বক্তব্যে বলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ বাংলাদেশ সম্পর্কে বেশ সজাগ ও সচেতন। তিনি সব সময় বাংলাদেশ বিষয়ে বিশেষ নজর দিয়ে থাকেন।
ভিসা প্রক্রিয়া সহজ ও দ্রুত করার জন্য তিনি দায়িত্ব গ্রহণের পরই নির্দেশ দেন। যার ফলশ্রুতিতে আজ সর্বোচ্চ সংখ্যক বাংলাদেশি ভারত যেতে পারছে। নরেন্দ্র মোদি সরকারের সময়ে দুদেশের সম্পর্কের সোনালি অধ্যায় চলছে। বাংলাদেশকে সর্বোচ্চ আর্থিক ৮ মিলিয়ন ডলারের ঋণ দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে ১১০ কোটি টাকার অনুদানে ২৪টি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়েছে। আগামী দুই বছরে ১১০ কোটি টাকার অনুদানে ৬০টি প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে। ৭১ কোটি টাকার অনুদানে ১৫টি প্রকল্প ২০১৮ সালের মধ্যে শেষ হবে।
অনুষ্ঠানে বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ কলেজের ছাত্রীরা মনোজ্ঞ সংগীত ও নৃত্য পরিবেশন করে। ঢাকা, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষা ইনস্টিটিউট ও সংস্কৃত বিভাগকে কম্পিউটার, বই ও শিক্ষা সরঞ্জাম উপহার দেন সুষমা স্বরাজ।

ঝুলে থাকা ইস্যুর নিষ্পত্তিতে কাজ করে যাচ্ছি
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের ফেরাতে মিয়ানমারের সাথে কাজ করবে ভারত। ভারত চায় রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে কফি আনান কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন। বাস্তুচ্যুত নাগরিকরা ফিরে গেলে রাখাইনে স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরে আসবে। সেখানে দ্রুত আর্থ-সামাজিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন ঘটালে সব সম্প্রদায়ের মধ্যে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। সফররত ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ গত ২২ অক্টোবর বিকেলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী এমপির সাথে যৌথ পরামর্শক কমিশনের (জেসিসি) বৈঠক শেষে এ কথা বলেন।
দুদিনের সফরে গত ২২ অক্টোবর দুপুর পৌনে ২টায় ঢাকায় এসে বিকেলে স্থানীয় একটি হোটেলে জেসিসি’র বৈঠকে যোগ দেন সুষমা স্বরাজ। বৈঠক শেষে দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের কাছে পৃথক বিবৃতি দেন।
মাহমুদ আলী তার বিবৃতিতে বলেন, আমরা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সকল বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছি। দুই দেশের সম্পর্ক আজ এক ঐতিহাসিক নতুন উচ্চতায় উপনীত। বাণিজ্য, যোগাযোগ, নিরাপত্তা, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, পানি, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, উন্নয়ন সহযোগিতা, জনগণের মধ্যে সংযোগ এক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য। ভারত রোহিঙ্গাদের জন্য মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখবে। এ জন্য ভারতকে ধন্যবাদ জানাই। রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফিরে যাওয়া ও এই সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধান খুঁজে পেতে মিয়ানমারের ওপর অব্যাহত চাপ রাখতে হবে ভারতকে।
মাহমুদ আলী তার বক্তৃতায় নিরাপত্তা, সহযোগিতা, বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা, বিদ্যুৎ, রেল, যোগাযোগসহ সকল ক্ষেত্রে সহযোগিতার কথা উল্লেখ করেন।
তিস্তাসহ অভিন্ন নদীর পানি বণ্টন ইস্যুতে মাহমুদ আলী বলেন, গত ৮ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তার ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেয়াদকালেই তিস্তা চুক্তি সই হবে বলে জানান।
সুষমা স্বরাজ তার বক্তব্যে ঝুলে থাকা অনিষ্পন্ন ইস্যুর নিষ্পত্তির কথা জানিয়ে বলেন, আমরা সেগুলো জানি। সেগুলোর সমাধানে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। আজ আমরা সন্ত্রাসবাদ, উগ্রবাদের মতো অভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে যাচ্ছি। আমরা যৌথ উদ্যোগ নিয়ে জিরো টলারেন্স নীতিতে ঘৃণা, সহিংসতা ও সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা করে সমাজকে রক্ষার পদক্ষেপ নিয়েছি। নিরাপত্তা ছাড়াও যোগাযোগ, বিদ্যুৎ, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ ক্ষেত্রে সন্তোষজনক অগ্রগতি সাধন করেছি।
বিদ্যুৎ ক্ষেত্রে ব্যাপক সহযোগিতা চলছে। ভারত এখন ৬৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বাংলাদেশকে সরবরাহ করছে। সিলিগুঁড়ি থেকে পার্বতীপুর পর্যন্ত পাইপ লাইনের মাধ্যমে পেট্রোলিয়াম পণ্য নেওয়া হবে। একটি এলএনজি টার্মিনালও স্থাপিত হবে।
রোহিঙ্গা ইস্যুতে সুষমা স্বরাজ বলেন, রাখাইন থেকে আসা লাখ লাখ মিয়ানমারের নাগরিককে মানবিক সহায়তার জন্য ভারত সরকার অপারেশন ইনসানিয়াত চালু করেছে। সিদ্ধ চাল, ডাল, লবণ, চিনি, তেল, চা, দুধ, সাবানসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস প্রায় ৩ লাখ রোহিঙ্গাকে দেওয়া হয়েছে। রাখাইন রাজ্যে সহিংসতা ব্যাপকতায় ভারত গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। জনগণের কল্যাণ আর সংযম বিবেচনা করে পরিস্থিতি মোকাবিলার আহ্বান জানিয়েছি। এটা পরিষ্কার যে, বাস্তুচ্যুত নাগরিকরা ফিরে গেলেই রাখাইনে স্বাভাবিকতা ফিরে আসবে। সেখানে দ্রুত আর্থ-সামাজিক ও অবকাঠামো উন্নয়ন করতে হবে। ভারত আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা দেবে। যাতে রাখাইনে উন্নয়ন প্রকল্প নেওয়া যায়। আমরা কফি আনান কমিশনের সুপারিশ সমর্থন করি।
জেসিসির বৈঠকে বাংলাদেশ পক্ষে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে ভারতের হাইকমিশনার সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলী ছাড়াও পররাষ্ট্র, নৌ পরিবহন, পানি সম্পদ, বিদ্যুৎ, জ্বালানি, ইআরডি সচিবসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা যোগ দেন। অন্যদিকে সুষমা স্বরাজের সাথে ছিলেন পররাষ্ট্র সচিব এস জয়শংকর, ভারতের হাইকমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রিংলাসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
বৈঠকের পর দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর উপস্থিতিতে দুটি সমঝোতা স্মারক সই হয়। সেগুলো হলো ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন ও নুমালিগড় রিফাইনারির মধ্যে ক্রয়-বিক্রয় চুক্তি।
২২ অক্টোবর দুপুরে কুর্মিটোলায় বঙ্গবন্ধু বিমান ঘাঁটিতে বিশেষ বিমানযোগে এসে পৌঁছলে সুষমা স্বরাজকে স্বাগত জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাহমুদ আলী। সেখানে কিছুক্ষণ কুশল বিনিময় করেন তারা।
২৩ অক্টোবর সকালে সুষমা স্বরাজ বারিধারায় ভারতীয় হাইকমিশনের নতুন চ্যান্সারি ভবন উদ্বোধন করেন। ভারত সরকারের সহায়তায় বাস্তবায়নাধীন ১৫টি উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধন করেন তিনি। দুপুরে বিশেষ বিমানযোগে নয়াদিল্লি ফিরে যান।

শ্রেণী:

রোহিঙ্গাদের নির্মূল করছে মিয়ানমার : জাতিসংঘ

6

6উত্তরণ ডেস্ক: মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের জাতিগতভাবে নির্মূল করছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। বিশ্ব সংস্থাটির মানবাধিকার বিষয়ক প্রধান এই মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেছেন, মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর নির্মূলের এই অভিযান পাঠ্যবইয়ে ইতিহাসের উদাহরণ হয়ে থাকবে। সুইজারল্যান্ডের রাজধানী জেনেভায় গত ১১ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলে দেওয়া বক্তব্যে রোহিঙ্গা মুসলিমদের বিরুদ্ধে নৃশংস সেনা অভিযানের তীব্র নিন্দা জানান তিনি।
জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক কমিশনের প্রধান জেইদ রাদ আল-হুসেইন বলেছেন, মিয়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর যেভাবে পদ্ধতিগতভাবে হামলা চালানো হচ্ছে, সেটি ‘জাতিগতভাবে নির্মূল’ করার শামিল। জেইদ রাদ আল-হুসেইন অবিলম্বে মিয়ানমার সরকারকে সামরিক অভিযান বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, জাতিসংঘের তদন্তকারীদের রাখাইন রাজ্যে ঢুকতে না দেওয়ায় সেখানকার পরিস্থিতি পুরোপুরি নির্ণয় করা যাচ্ছে না। তিনি বলেন, রোহিঙ্গারা নিজেরা ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দিচ্ছে বলে মিয়ানমারের ভণিতা বন্ধ করা উচিত। তারা বাস্তবতাকে সম্পূর্ণ অস্বীকারের মাধ্যমে বিশ্বমহলে ভাবমূর্তি ক্ষুণœ করছে।
গত মাসে মিয়ানমারের রাখাইন এলাকায় সামরিক অভিযান শুরুর পর ৩ লাখের বেশি রোহিঙ্গা মুসলমান সেখান থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। মিয়ানমারের সরকার বলছে, সন্ত্রাসীদের হামলার জবাবে এ সামরিক অভিযান চালানো হচ্ছে। এর আগে গত বছরের নভেম্বর মাসে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআরের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা অভিযোগ করেছিলেন যে, মিয়ানমারের সরকার সে দেশের সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলমানদের বিরুদ্ধে জাতিগত নিধন অভিযান চালাচ্ছে। তখন কক্সবাজারে ইউএনএইচসিআর অফিসের প্রধান কর্মকর্তা জন ম্যাককিসিক বলেছিলেন, মিয়ানমারের সেনাবাহিনী রোহিঙ্গা পুরুষদের হত্যা করছে, শিশুদের জবাই করছে, নারীদের ধর্ষণ করছে, বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ এবং লুটপাট চালাচ্ছে। মিয়ানমারে রোহিঙ্গা নিয়ে ভয় যে কারণে : রোহিঙ্গা নিপীড়ন নিয়ে বিশ্বজুড়ে যখন নিন্দার ঝড় বইছে তখন মিয়ানমারের সরকার এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের চিন্তাধারা ঠিক বিপরীত। তাদের কাছে ‘রোহিঙ্গা’ শব্দটি অনাকাক্সিক্ষত এবং অগ্রহণযোগ্য। মিয়ানমারে যে কোনো মানুষের সাথে কথা বললে ‘রোহিঙ্গা’ শব্দটি তারা উচ্চারণই করবে না। অধিকাংশ মানুষ মনে করে রোহিঙ্গারা ‘বাঙালি’। এর মাধ্যমে বোঝা যায়, তারা রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে সে দেশের নাগরিক মনে করে না। মনে করা হয়, রোহিঙ্গারা বাংলাদেশ থেকে এসেছে। তাদের ভাষা এবং সংস্কৃতি ভিন্ন। বিশ্বজুড়ে রোহিঙ্গা সংকটকে মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং মানবিক পরিস্থিতি হিসেবে দেখা হলেও মিয়ানমারের ভেতরে বিষয়টিকে দেখা হচ্ছে সার্বভৌমত্বের প্রশ্ন হিসেবে। রাখাইন রাজ্যে সামরিক অভিযানের প্রতি ব্যাপক জনসমর্থন আছে মিয়ানমারের ভেতরে। মিয়ানমারের সংবাদমাধ্যমও সরকারি ভাষ্য অনুযায়ী কথা বলছে। মিয়ানমারের অধিকাংশ মানুষ মনে করে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম একপেশে সংবাদ পরিবেশন করছে। মিয়ানমারের তথ্য মন্ত্রণালয় সংবাদমাধ্যমকে জানিয়ে দিয়েছে যে ‘সন্ত্রাসী’ শব্দটি ব্যবহার করতে হবে। অন্যথায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মিয়ানমারের ১৩৫টি জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে রোহিঙ্গাদের বিবেচনা করা হয় না। রোহিঙ্গারা যে ভাষায় কথা বলে সেটি রাখাইন অঞ্চলে অন্য জাতিগোষ্ঠীর ভাষার চেয়ে আলাদা।
মিয়ানমারের জাতীয়তাবাদীরা রোহিঙ্গাদের হুমকি মনে করে। তারা যে বিষয়টি প্রচারণা চালিয়েছে সেটি হচ্ছেÑ মুসলমান পুরুষরা চারজন স্ত্রী রাখতে পারে। ফলে তাদের অনেক সন্তান থাকে। অনেক রাখাইন মনে করে, যেভাবে মুসলমানদের জনসংখ্যা বাড়ছে, এর ফলে তারা একসময় রাখাইন অঞ্চল দখল করে নেবে। একজন ট্যাক্সি ড্রাইভার বলেন, ‘আমার মনে হয় বহু বাঙালি মুসলমান মারা গেছে। আমার মনে হয়, সরকারি সৈন্যরা তাদের অনেককে হত্যা করেছে। আমার মনে হয়, জাতিসংঘের এখানে জড়িত হওয়া উচিত’।

শ্রেণী:

পশ্চিমবঙ্গে আবারও মমতা

Posted on by 0 comment
61

61উত্তরণ ডেস্ক: দ্বিতীয়বারের মতো পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গত ২৭ মে কলকাতার প্রশস্ত রেড রোডের মুক্তমঞ্চে দেশ-বিদেশের কয়েক হাজার অতিথির সামনে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল কেশরীনাথ ত্রিপাঠি মমতাকে শপথবাক্য পাঠ করান। মমতা ঈশ্বর ও আল্লাহর নামে শপথ নেন।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে দূত হিসেবে উপস্থিত থেকে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানান শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু এমপি। আমুর সাথে সৌজন্য সাক্ষাতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বাংলাদেশের জনগণকে ধন্যবাদ জানান। তিনি প্রধানমন্ত্রীকে পশ্চিমবঙ্গ সফরের আমন্ত্রণ জানান। মমতা আরও বলেন, পশ্চিমবঙ্গ সফরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে লাল গালিচা সংবর্ধনা দেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতাকে বাঙালির ঐতিহ্যবাহী ২০ কেজি ইলিশ মাছ উপহার দিয়ে অভিনন্দন জানান। দুই বাংলার এই দুই নেত্রীর রয়েছে বর্ণাঢ্য এবং ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক ক্যারিয়ার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তো বিশ্বনেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। আর ভারতের পশ্চিমবঙ্গে মমতা প্রমাণ করলেন তার বিকল্প নেই। প্রধানমন্ত্রী ও বিজেপি নেতা নরেন্দ্র মোদি টেলিফোন করে মমতাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। অভিনন্দন জানিয়েছেন, দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল, অমিতাভ বচ্চন, সুরেশ প্রভ প্রমুখ।
প্রথা ভেঙে রাজভবনের চৌহদ্দির বাইরে বেরিয়ে এসে এবারই প্রথম রাজপথে শপথ নিয়ে নতুন নজির তৈরি করেছেন মমতা। সেদিনেই মুখ্যমন্ত্রীর সাথে শপথ নেন ৪২ মন্ত্রী। তাদের মধ্যে ২৯ পূর্ণ মন্ত্রী, পাঁচ স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী এবং আট প্রতিমন্ত্রী। বিপুল এই জয়ের পর রাজ্যজুড়ে বিজয় উৎসব চলেছে ৩০ মে পর্যন্ত। তবে উৎসবের ধরন ছিল একটু আলাদা। ১০ দিন ধরে রাজ্যজুড়ে চলেছে নানা ধরনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
ভারতীয় নির্বাচন কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যের মোট ২৯৪ বিধানসভা আসনের মধ্যে ২১১ আসন পেয়ে মমতার নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস সরকার করেছে। এই রাজ্যে বাম-কংগ্রেস জোট পেয়েছে ৭৬, বিজেপি ৩ ও অন্যরা পেয়েছে ৪ আসন। বুথফেরত জরিপ থেকেই এ বিষয়ে স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছিল, এবারও তৃণমূলই ক্ষমতায় থাকছে। বাস্তবেও তাই ঘটেছে। বামের সাথে জোট করেও রক্ষা পায়নি কংগ্রেস। ভালো করেনি বিজেপিও। তবে আসামে ভালো করেছে বিজেপি।
বিশ্লেষকরা বলছেন, সরকারে ফিরে আসার তৃণমূলের এমন সাফল্য পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যের রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন কোনো ঘটনা নয়। এর আগে বামফ্রন্ট সরকার ১৯৭৭ সালে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসার পরে ১৯৮২ ও ১৯৮৭ সালে পরবর্তী দুটি নির্বাচনে তারা আসন আরও বাড়িয়ে নিয়ে ক্ষমতায় ফিরেছিল। কিন্তু তৃণমূলের জমানার পাঁচ বছরে সারদাকা- বা ভোটের মুখে নারদ পর্ব, উড়ালপুল বিপর্যয়ের মতো ঘটনা বিবেচনায় নিলে নতুন কোনো সরকারকে এত বিপর্যয় মোকাবিলা করতে হয়নি। সামলাতে হয়নি দুর্নীতির এত অভিযোগ। তারপরও মমতার এমন বিপুল সাফল্য উল্লেখযোগ্য অবশ্যই। কারণ জ্যোতি বসুরা লড়তেন বামফ্রন্ট হিসেবে। একসাথে কিছু বাম দলকে নিয়ে। তৃণমূল এবার লড়েছে একাই। একক ক্ষমতায় তাই এমন সাফল্য বাড়তি স্বস্তির কারণ।
১৯ মে পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশিত হয়। ফলাফল বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এতে সবচেয়ে ভরাডুবি হয়েছে কংগ্রেসের। একমাত্র পুদুচেরি ছাড়া সব রাজ্যেই তারা হেরেছে। প্রত্যাশামতো অসমে ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। তামিলনাড়–তে দ্বিতীয়বারের জন্য সরকার গঠন করেছে জয়ললিতার নেতৃত্বাধীন এআইডিএমকে। কেরলে সিপিএমের নেতৃত্বাধীন এলডিএফ ভালো ফল করেছে। এই নির্বাচনে উল্লেযোগ্য সাফল্য পেয়েছে বিজেপি। পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের ফল বুঝিয়ে দিল, কংগ্রেসের অবস্থা আরও শোচনীয় হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে সিপিএমের সাথে জোট বেঁধে ভরাডুবি ছাড়াও কেরলে ক্ষমতাচ্যুত হতে চলেছে কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন ইউডিএফ। তামিলনাড়–তে জোটসঙ্গী ডিএমকের সাথেই ভরাডুবি হয়েছে কংগ্রেসের। তামিলনাড়–র মোট ২২৪ আসনের মধ্যে জয়ললিতার দল এআইডিএমকে পেয়েছে ১৩৪ আসন। অন্যদিকে ডিএমকে পেয়েছে ৯৮ আসন। কেরালায় এলডিএফ পেয়েছে ৮৫ আর ইউডিএফ পেয়েছে ৪৭ আসন। অসমে মোট ১২৬ আসনের মধ্যে বিজেপি ৮৬ ও কংগ্রেস ২৬ আসন পেয়েছে। পুদুচেরির ৩০ আসনের মধ্যে ১৭ আসন পায় কংগ্রেস।
হিসাবে দেখা যায়, পশ্চিমবঙ্গে  প্রায় সাড়ে ১০ শতাংশ ভোট ব্যাংক ধরে রেখেছে বিজেপি। মমতার নিজ কেন্দ্র ভবানীপুরসহ বেশ কিছু আসনে তারা দ্বিতীয় স্থানে ছিল। প্রাথমিক হিসাবেই দেখা যাচ্ছে, রাজ্যের নানা প্রান্তেই ভালো ভোট পেয়েছে বিজেপি। শেষ জাতীয় কংগ্রেস জিতেছিল ১৯৭২ সালে। তারপর ১৯৭৭ সাল থেকে প্রথমে ৩৪ বছর সিপিএম পরিচালিত বামফ্রন্ট এবং পরে পাঁচ বছর তৃণমূল জোট করে পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় এসেছিল।
Ñ অনিল সেন

শ্রেণী: