শ্রদ্ধায় ভালোবাসায় রবীন্দ্র-নজরুল জন্মজয়ন্তী

Posted on by 0 comment
60

60ইকবাল জাফর: ‘আবার ফিরে এল উৎসবের দিন’
২৫ বৈশাখ ছিল এশিয়ার প্রথম নোবেল বিজয়ী ও বাংলা ভাষার অন্যতম প্রধান কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৫৫তম জন্মজয়ন্তী। ১২৬৮ বঙ্গাব্দের এই দিনে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন একাধারে কবি, সংগীত¯্রষ্টা, বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ছোট গল্পকার, ঔপন্যাসিক, নাট্যকর, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক। দেশে ও দেশের বাইরে বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে আলোচনা সভা, কবিতা পাঠ, সংগীত পরিবেশন, নাটক, চিত্র প্রদর্শনীসহ নানা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই নন্দিত কবির জন্মজয়ন্তীকে পালিত হয়েছে।
কবির ১৫৫তম জন্মবার্ষিকীতে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ২৫ বৈশাখ (৮ মে) সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর এমপির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি বলেন, রবীন্দ্রনাথের চেতনা ধারণ করে সব ধরনের শোষণ-অবিচার-সংঘাত-জঙ্গিবাদ-সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় সকল নাগরিককে আত্মনিয়োগের আহ্বান জানাচ্ছি। রাজধানী ঢাকা ছাড়াও কুষ্টিয়ার শিলাইদহ, সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর, নওগাঁর পতিসর এবং খুলনার দক্ষিণডিহি ও পিঠাভোগসহ দেশব্যাপী উদযাপিত হয় কবির জন্মবার্ষিকী।
‘তবু আমারে দেব না ভুলিতে…’
১১ জ্যৈষ্ঠ জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১১৭তম জন্মজয়ন্তী। জন্ম বঙ্গাব্দ ১৩০৬। তিনি ছিলেন একাধারে কবি, সংগীতজ্ঞ, সাংবাদিক, ঔপন্যাসিক, নাট্যকর, প্রাবন্ধিক, গায়ক, অভিনেতা, সৈনিক ও দেশপ্রাণ রাজনীতিবিদ। দেশে ও দেশের বাইরে বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে আলোচনা সভা, কবিতা পাঠ, সংগীত পরিবেশন, নাটক, বইমেলাসহ নানা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই জননন্দিত কবির জন্মজয়ন্তীকে পালিত হয়েছে।
সাম্যে ও মানবতার বাণী উচ্চারণের মধ্য দিয়ে ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৫ মে) জাতীয় পর্যায়ে নজরুলজয়ন্তীর মূল অনুষ্ঠান উদ্যাপিত হয়েছে চট্টগ্রাম নগরীর এমএ আজিজ আউটার স্টেডিয়ামে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। বিশেষ অতিথি ছিলেন গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এমপি, নজরুল ইনস্টিটিউট ট্রাস্টি বোর্ডের সভাপতি ইমেরিটাস প্রফেসর রফিকুল ইসলাম ও জাতীয় কবির পৌত্রী খিলখিল কাজী। স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংস্কৃতি সচিব আকতারী মমতাজ।
সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর বলেন, চট্টগ্রামের নদী, পাহাড় ও প্রাকৃতিক পরিবেশ কবির লেখনীতে ফুটে উঠেছে। অনুষ্ঠানে সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর এমপি ‘নজরুল স্মৃতিকেন্দ্র’ নির্মাণের ঘোষণা দেন। ২৫ মে সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মসজিদ কমপ্লেক্সের পাশে নজরুলের সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, ঢাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, কবির নাতনি মিষ্টি কাজী ও কবি পরিবারের সদস্যরা। এরপর একে একে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং সর্বস্তরের মানুষ। এ সময় ফুলে ফুলে ভরে ওঠে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধিস্থল।

শ্রেণী:

একসাথেই চলার অঙ্গীকার ঘোষণা করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও নরেন্দ্র মোদি

Posted on by 0 comment
21

বাংলাদেশ-ভারত বিদ্যুৎ ও ব্যান্ডউইথ বিনিময় কার্যক্রমের উদ্বোধন

21উত্তরণ প্রতিবেদন: ভারতের ত্রিপুরা থেকে বহুল প্রত্যাশিত ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি এবং বাংলাদেশ থেকে ত্রিপুরায় ১০ জিবিপিএস ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথ রপ্তানি কার্যক্রম উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। গত ২৩ মার্চ দুই প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এই কার্যক্রম উদ্বোধন করে একে ‘ঐতিহাসিক’ ও ‘মাইলফলক’ বলে অভিহিত করেন। তারা উন্নয়নের স্বার্থে একসাথে সামনে চলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
এ সময় শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের সহযোগিতার পরবর্তী ক্ষেত্র হবে আন্তঃসংযোগের সম্প্রসারণ। দুদেশের জনগণের জন্য এ ধরনের আরও অনেক আনন্দঘন মুহূর্ত অপেক্ষা করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
নরেন্দ্র মোদি বলেন, আমরা দুদেশ মিলে বিশ্বের সামনে উদাহরণ তৈরি করেছি। বাংলাদেশ আর ভারত যুক্ত হয়েই চলেছে, কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সামনে বাড়ছে। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটে বাংলাদেশের সাথে ভারতও যুক্ত হতে চায় বলে জানান তিনি।
২৩ মার্চ সকাল ১০টায় গণভবন থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও দিল্লি থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বিদ্যুৎ ও ব্যান্ডউইথ বিনিময় কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে যোগ দেন। শেখ হাসিনা বাটন ক্লিক করে ১০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ রপ্তানি এবং নরেন্দ্র মোদি ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রপ্তানি কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। এ সময় আগরতলা থেকে তাদের সাথে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত ছিলেন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার। এ ছাড়া দুই প্রধানমন্ত্রীর সাথে ছিলেন তাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারা।
বিদ্যুৎ-ব্যান্ডউইথ বিনিময় সম্পর্ক উন্নয়নের ক্ষেত্রে আরেকটি মাইলফলক উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমরা চাই শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান। এই অঞ্চলে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এক নতুন উচ্চতায় উন্নীত হয়েছে। আন্তঃযোগাযোগ হচ্ছে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার ‘নতুন দিগন্ত’। আমাদের সহযোগিতার পরবর্তী ক্ষেত্র হবে আন্তঃসংযোগের সম্প্রসারণ। আজ বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের জন্য অন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ও সুখের দিন।
শেখ হাসিনা বলেন, তিনি নিশ্চিত জনগণের বৃহৎ কল্যাণ সাধনের মাধ্যমে এ ধরনের আরও অনেক আনন্দঘন মুহূর্ত অপেক্ষা করছে। ত্রিপুরা থেকে বিদ্যুৎ পাওয়ার মধ্য দিয়ে আরেকটি রাজনৈতিক অঙ্গীকার পূরণ হলো।
শেখ হাসিনার পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তার বক্তব্য শুরু করেন। তিনি এই বিনিময়কে ‘ঐতিহাসিক’ অভিহিত করে বলেন, এ ঘটনায় আজ তাদের মধ্যে এমন এক গেটওয়ে খুলছে, যা আরও সামনে অগ্রসর হতে সহায়তা করবে। বাংলাদেশের সাথে ডিজিটাল বিশ্বের এই গেটওয়ে খুলছে। তিনি বলেন, প্রতিবেশীর সাথে সম্পর্ক কেমন হবে, তার দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করে তারা সমগ্র বিশ্বের সামনে অনন্য নজির স্থাপন করতে সমর্থ হয়েছেন। প্রযুক্তির উৎকর্ষে দুটি দেশের প্রধানমন্ত্রী ও একজন মুখ্যমন্ত্রী মিলে কোনো কিছুর উদ্বোধন করার এমন মুহূর্ত কমই আসে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, এই ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথ ত্রিপুরার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে অবদান রাখবে। বাংলাদেশকে প্রয়োজনে আরও বিদ্যুৎ দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। জবাবে আরও বেশি ব্যান্ডউইথ নিতে চাইলে বাংলাদেশ থেকে তা দেওয়া হবে বলে জানান শেখ হাসিনা।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, শুধু বস্তুগত সংযোগই নয়, তারা দুদেশের মধ্যে ভার্চুয়াল সংযোগ, মানুষে মানুষে যোগাযোগ, চিন্তা-চেতনার সংযোগসহ সব ধরনের সম্পর্ক স্থাপন করতে চান। তিনি বলেন, বিদ্যুৎ আমদানি আমাদের জ্বালানি চাহিদা পূরণে সাহায্য করবে। আর বাংলাদেশ থেকে ব্যান্ডউইথ পেয়ে ত্রিপুরা ও ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলোর মধ্যে ডিজিটাল সংযোগ বৃদ্ধি পাবে এবং সেখানকার জনগণের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও বন্ধন সুদৃঢ় করবে। তিনি বলেন, আঞ্চলিক সংযোগ এই অঞ্চলে ব্যাপক সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দেবে। সড়ক-রেল নেটওয়ার্ক, বিদ্যুৎ গ্রিড উপ-আঞ্চলিক সহযোগিতার জন্য বাংলাদেশ-ভুটান-ইন্ডিয়া-নেপাল (বিবিআইএন) ফ্রেমওয়ার্কে তিনি সম্মত হয়েছেন। এর আওতায় যৌথ উন্নয়ন ও বিনিয়োগের জন্য তারা নেপাল ও ভুটানে জলবিদ্যুৎ প্রকল্প চিহ্নিত করার প্রক্রিয়া শুরু করেছেন।
বাংলাদেশকে বিদ্যুৎ দেওয়ার জন্য নরেন্দ্র মোদিকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা এরই মধ্যে ভারত থেকে ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করছি। আরও ৫০০ মেগাওয়াট আমদানির জন্য সাবস্টেশন স্থাপনের কাজ চলছে। ভারত ও বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে রামপালে ১৩২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের কাজও দ্রুত এগিয়ে চলেছে। তিনি বলেন, ব্যান্ডউইথ ভাগাভাগি, উপকূলীয় জাহাজ চলাচল, পাইপলাইনের মাধ্যমে ডিজেল সরবরাহের মতো নতুন নতুন যোগাযোগ স্থাপন দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভারত থেকে ডিজেলের প্রথম চালান ট্রেনে করে পার্বতীপুর পৌঁছেছে। আমাদের একটি উপকূলীয় জাহাজ প্রথমবারের মতো ভারতীয় বন্দরের উদ্দেশে যাত্রা করেছে। কয়েক দিনেই এগুলো সম্পন্ন হয়েছে।
শেখ হাসিনা তার বক্তৃতার শুরুতেই স্বাধীনতাযুদ্ধে ভারতের অবদানের কথা স্মরণ করে গভীর কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় দুই দেশের মধ্যে স্থাপিত বন্ধুত্ব সময়ের পরিক্রমায় আরও জোরদার হয়েছে। এ অঞ্চলে ‘দারিদ্র্যমুক্ত সমাজ’ প্রতিষ্ঠায় দুই দেশের যৌথ উদ্যোগের প্রতি গুরুত্ব আরোপ করে শেখ হাসিনা বলেন, যৌথ প্রচেষ্টার মাধ্যমে দুই দেশের দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাসকারী মানুষের জীবনযাত্রার মানের উন্নয়ন ঘটাতে পারব। তিনি ভারতের জনগণকে হোলি উৎসবের শুভেচ্ছা জানান।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ আর ভারত যুক্ত হয়েই চলেছে, কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে একসাথে সামনে বাড়ছে। এবার মহাশূন্যেও আমরা একসাথে সামনে বাড়ব। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটে আমরা সহযোগিতা দেব। তিনি বলেন, দুই দেশের অভ্যন্তরীণ উন্নয়নে পার্শ্ববর্তী দুটি দেশ কী করে বোঝাপড়ার মাধ্যমে একই পথে এগিয়ে যেতে পারে, তার দৃষ্টান্ত হলো আজ। তিনি শেখ হাসিনার উদ্দেশে বলেন, বঙ্গবন্ধু সব সময়ই ভারতের সাথে সম্পর্ক অটুট রেখেছেন। আপনিও সেই সংকটকালে অকুণ্ঠ সমর্থন দিয়েছেন। একটা সময়ে বাংলাদেশ দুঃখ-দুর্দশাগ্রস্ত দেশ ছিল। আজ বাংলাদেশ সামনে এগিয়ে যাচ্ছে। ক্রান্তিকালে আমরা যেমন পাশাপাশি ছিলাম, এখনও আছি। নরেন্দ্র মোদি বলেন, বাংলাদেশ ত্রিপুরায় ব্যান্ডউইথ দেওয়ায় আমাদের পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলো নতুনভাবে ডিজিটাল বিশ্বে সংযুক্ত হওয়ার সুযোগ পেয়েছে। ভারতের দুটি ইন্টারনেট গেটওয়ের একটি পশ্চিমাঞ্চলে এবং অন্যটি দক্ষিণাঞ্চলে থাকায় পূর্বাঞ্চলের তরুণ সমাজ ডিজিটাল বিশ্বে প্রবেশের সুযোগ লাভে বঞ্চিত হচ্ছিল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেই সুযোগ করে দিয়েছেন বলে তিনি ধন্যবাদ জানান। পাশাপাশি বাংলাদেশের প্রয়োজনে আরও বিদ্যুৎ সরবরাহে ভারত প্রস্তুত রয়েছে বলেও অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, আসাম, ত্রিপুরাসহ এই অঞ্চলের জন্য যে ট্রান্সমিশন লাইন স্থাপন করা হয়েছে, তার সঞ্চালন ক্ষমতা তারা প্রথম থেকেই বেশি রেখেছেন। আসছে দিনগুলোয় প্রয়োজন হলে তারা আরও বেশি বিদ্যুৎ রপ্তানি করতে পারবেন।
বক্তব্যের শুরুতেই নরেন্দ্র মোদি ভাঙা ভাঙা বাংলায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন ও ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশের জনগণকে শুভেচ্ছা জানান। বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রামের আগুনঝরা দিনগুলোর কথা স্মরণ করে মোদি বলেন, বাংলাদেশের সেই দুঃখের দিনগুলোতে যেমন ভারতের জনগণ বাংলাদেশের পাশে থেকেছে, এখন বাংলাদেশ উন্নতির শিখরে আরোহণ করছে, তখনও ভারত তাদের পাশে রয়েছে।
নয়াদিল্লি প্রতিনিধি গৌতম লাহিড়ী জানান, ভারত সম্পৃক্ত হওয়ার মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট হবে দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম যৌথ উপগ্রহ। মোদি বলেন, বঙ্গবন্ধু উপগ্রহে যোগ দেওয়ার মাধ্যমে মহাকাশেও সংযোগ স্থাপন হবে প্রতিবেশী দুদেশের। মোদি বলেন, বাংলাদেশ ও ভারত পরস্পর বন্ধুপ্রতিম দুটি দেশ যেভাবে জলে, স্থলে এবং ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডে পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত রেখেছে, সেভাবে মহাশূন্যেও সেই সহযোগিতার ক্ষেত্র ভারত সম্প্রসারিত করতে চায়। মোদি বলেন, ভারতের দৃঢ় ইচ্ছে জল, সড়ক ও আকাশপথে ভারত যেমন বাংলাদেশের পাশে ছিল, তেমনি মহাকাশে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটেও বাংলাদেশের পাশে থাকবে।
বাংলাদেশ, ভারত, ভুটান ও নেপালের মধ্যে যাত্রী ও পণ্যবাহী যানবাহন চলাচলের জন্য বিবিআইএন চুক্তির কথা উল্লেখ করে মোদি বলেন, কিছুদিন আগে আমরা একযোগে রোড কানেক্টিভিটির কাজ শুরু করেছি। আজ আমরা বিদ্যুতের মাধ্যমে নতুন শক্তি তৈরি করছি। একবিংশ শতাব্দীর যে প্রয়োজন, সেই ডিজিটাল কানেক্টিভিটিতেও একযোগে কাজ করছি। অর্থাৎ জল-স্থল-নভো সব জায়গায় বাংলাদেশ-ভারত একসাথে চলছে আর কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। মোদি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারত-বাংলাদেশ ম্যাচের প্রসঙ্গ তুলে উভয় দলকে অভিনন্দন জানান।
অনুষ্ঠানের সূচনা হয় দিল্লি থেকে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজের স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে। ভারত থেকে বিদ্যুৎ এবং বাংলাদেশ থেকে ইন্টারনেট যাওয়ায় দুই দেশের নাগরিকদের দৈনন্দিন জীবন আরেকটু সহজ হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
পরে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী বলেন, আজ আমরা বিশ্বকে দেখাতে পারছি যে, প্রতিবেশীরা একসাথে কাজ করে নাগরিকদের চাহিদা পূরণ করতে পারে।
গত বছর নরেন্দ্র মোদির ঢাকা সফরের সময় দুদেশের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বিদ্যুৎ ও ব্যান্ডউইথ বিষয়ে চুক্তি হয়। ২৩ মার্চ বিনিময় শুরু হলো। এ দিনের ভিডিও কনফারেন্সে দুই প্রধানমন্ত্রীর সাথে মন্ত্রী ও শীর্ষ কর্মকর্তারা যোগ দেন। দুদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রীও বক্তব্য দেন।
উদ্বোধন অনুষ্ঠানে গণভবনে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম, অর্থনীতিবিষয়ক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান, জ্বালানি উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-এলাহী চৌধুরী, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ এমপি, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম এমপি, ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম এমপি, তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক এমপি ও পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক। ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রিংলা এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

শ্রেণী:

নতুন সংবিধানে নেপাল ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র ঘোষিত

Posted on by 0 comment
23

23অনিল সেন: নেপালে ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধান কার্যকর করে জাতীয় ঐকমত্যের সরকার গঠনের জন্য সব রাজনৈতিক দলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট রাম বরণ যাদব। প্রধানমন্ত্রী সুশীল কৈরালা গত ২ অক্টোবর প্রেসিডেন্টের সাথে সাক্ষাৎ করে অনুরোধ জানানোর পর এ আহ্বান জানান। সেদিন সুশীল কৈরালা পদত্যাগপত্র রাষ্ট্রপতি রাম বরণ যাদবের কাছে জমা দেন। ২০ সেপ্টেম্বর গৃহীত সংবিধান অনুযায়ী নতুন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন করে নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করতে প্রেসিডেন্টকে অনুরোধ জানান কৈরালা। এর আগে সকালে পার্লামেন্টে ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং তিনি সে পথ করে দিয়েছেন। নেপালে নতুন সংবিধান গৃহীত হওয়ার পর ২ অক্টোবর  প্রথম পার্লামেন্ট অধিবেশন বসে। এই সংবিধানে পার্লামেন্টের প্রথম অধিবেশন শুরু হওয়ার সাত দিনের মধ্যে নতুন প্রধানমন্ত্রী, ২০ দিনের মধ্যে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার এবং এক মাসের মধ্যে প্রেসিডেন্ট ও ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের কথা বলা হয়েছে। খবর বাসস, রয়টার্স, আইএএনএস। প্রধানমন্ত্রী কৈরালা এর আগে মন্ত্রিসভার বৈঠকেও প্রেসিডেন্টের সাথে দেখা করে তাকে সংবিধান অনুযায়ী নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করতে অনুরোধ করবেন বলে জানিয়েছিলেন নেপালের মন্ত্রী লাল বাবু প-িত। প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো মতৈক্যে পৌঁছালে নেপালে এক সপ্তাহের মধ্যে নতুন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হবেন বলে আশা করা হচ্ছে। আর রাজনৈতিক দলগুলো মতৈক্যে পৌঁছাতে ব্যর্থ হলে পার্লামেন্টে ভোটে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হবেন। নেপালের সংবিধান পরিবর্তনের ফলে প্রায় মাসখানেক ধরে দেশটিতে ভারত-বিরোধী বিক্ষোভ হয়। একপর্যায়ে এই সহিংসতা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। বিক্ষোভে প্রায় ১০ জনের মতো লোক নিহত হন। দক্ষিণাঞ্চলে ভারত সীমান্তের প্রধান বন্দর এলাকায় বিক্ষোভের কারণে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।  ভারত সীমান্তবর্তী সমতল ভূমিতে বসবাসকারী বাসিন্দারা দেশটির নতুন সংবিধানের বিরোধিতা করছে, কারণ তাদের মতে এটি ন্যায়সংগত হয়নি। তারা মনে করেন, সংবিধানে যেভাবে নতুন প্রাদেশিক ভাগ করা হয়েছে, তা তাদের সংসদে ন্যায্য অধিকার দেবে না। ৫০ শতাংশের বেশি জনসংখ্যা হিসাবে সংসদে তাদের সেরকমই প্রতিনিধি থাকা উচিত। কিন্তু যেভাবে নতুন সংবিধান লেখা হয়েছে, তাতে তাদের ৩০ শতাংশেরও কম প্রতিনিধি থাকবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ২৪০ বছর পুরনো রাজতন্ত্র উচ্ছেদের প্রায় সাত বছর পর নেপাল তার নতুন সংবিধান গ্রহণ করেছে, যা দেশটির একটি মাইলফলক হিসেবেই বিবেচনা করা হচ্ছে। ফেডারেল সরকারের আদলে, আর হিন্দু রাষ্ট্র থেকে বেরিয়ে সেই সংবিধানটি গত সপ্তাহে পাস হয়েছে। কিন্তু সেটি যেন দেশটিতে নতুন করে সংকট তৈরি করেছে। নেপালের এই বিক্ষোভের জন্য অনেকে প্রতিবেশী ভারতকেও দায়ী করেছে। অনেকেই বলছেন, ভারত নেপালে তাদের প্রভাব বিস্তার করতেই প্রকাশ্যেই নতুন সংবিধানের সমালোচনা করেছে। ভারত সীমান্তবর্তী এই উত্তেজনার প্রভাব পড়েছে নেপালজুড়ে। কারণ এই এলাকাটি নেপালের অর্থনীতির জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এখানকার সমতলেই নেপালের সবচেয়ে বেশি চাল আর চিনির মতো ফসল ফলে। আর এই সড়ক দিয়েই ভারত থেকে নেপালের দরকারি সব পণ্য দেশের অন্যান্য অংশে যায়। গত ১ অক্টোবর নেপালে ভারতীয় ৪২টি টেলিভিশন চ্যানেল বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে দেশটির কেবল টিভি অপারেটররা। দেশটির নতুন সংবিধান প্রণয়ন নিয়ে ভারতের অনানুষ্ঠানিক অবরোধ আরোপের পর তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানিয়েছে। নতুন সংবিধান নিয়ে প্রতিবেশী ভারত নেপালেরও ওপর অনানুষ্ঠানিক অবরোধ আরোপ করেছে বলে অভিযোগ করেছে দেশটি। নেপালের নাগরিকরা বলছেন, ভারত দেশটিতে বিভিন্ন ধরনের পণ্যসামগ্রী পরিবহনে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। তবে ভারত এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলছে, তারা নিরাপত্তার কারণে পণ্যের পরিবহন স্থগিত রেখেছে। এদিন নেপালে নতুন সংবিধানের খসড়ার বিরুদ্ধে এক সহিংস বিক্ষোভে পুলিশসহ ১০ জন নিহত হন।

শ্রেণী:

বাংলাদেশের সুহৃদ রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জির স্ত্রী শ্রীমতি শুভ্রা মুখার্জির জীবনাবসান

49

49উত্তরণ ডেস্ক: ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জির স্ত্রী শুভ্রা মুখার্জি পরলোকগমন করেছেন। তিনি গত ১৮ আগস্ট ভারতের স্থানীয় সময় সকাল ১০টা ৫১ মিনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। তার বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর। শুভ্রা মুখার্জি শ্বাসকষ্টজনিত অসুখে ভুগছিলেন। প্রায় দুই সপ্তাহ আগে গুরুতর অসুস্থ হলে তাকে নয়াদিল্লির আর্মি রিসার্চ অ্যান্ড রেফারেল হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়। তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ, জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, ডেপুটি স্পিকার মো. ফজলে রাব্বী মিয়া ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিগণ। শুভ্রা মুখার্জির জন্ম ১৯৪০ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের নড়াইলে। ১৯৫৭ সালের ১৩ জুলাই প্রণব মুখার্জির সাথে তার বিয়ে হয়। তাদের দুই ছেলে ও এক মেয়ে অভিজিৎ মুখার্জি, ইন্দ্রজিৎ মুখার্জি ও শর্মিষ্ঠা মুখার্জি। অভিজিৎ মুখার্জি পশ্চিমবঙ্গ থেকে কংগ্রেসের নির্বাচিত এমপি। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একনিষ্ঠ ভক্ত ছিলেন ¯œাতক ডিগ্রিধারী শুভ্রা মুখার্জি। রবীন্দ্রসংগীত ও কবিতা আবৃত্তিতেও পারদর্শী ছিলেন তিনি। চিত্রশিল্পী ও লেখক হিসেবেও পরিচিতি ছিল তার। ‘চোখের আলোয়’ এবং ‘চেনা অচেনায় চিন’ নামে তিনি দুটি বইও লিখেছেন। তিনি গীতাঞ্জলী সংগীতের দল প্রতিষ্ঠা করেন। নড়াইলে এখনো শুভ্রা মুখার্জির আত্মীয়-স্বজন আছেন। ২০১৩ সালে প্রণব মুখার্জির বাংলাদেশ সফরকালে শুভ্রা মুখার্জি স্বামীর সাথে নড়াইলে তার পৈতৃক বাড়িতে গিয়েছিলেন।
শুভ্রা মুখার্জির অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় প্রধানমন্ত্রী
শেখ হাসিনার শ্রদ্ধাঞ্জলি
49bবংলাদেশ ও ভারত যদি অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্র প্রসারে হাতে হাত মেলায়, তা হলে বিশ্বের অন্য কোনো দেশের দিকে তাকানোর প্রয়োজন হবে না। গত ১৯ আগস্ট নয়াদিল্লিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে এ কথা বলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জির স্ত্রী শুভ্রা মুখার্জির শেষকৃত্যে অংশ নেওয়ার পর নরেন্দ্র মোদির সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ হয় শেখ হাসিনার।
শুভ্রা মুখার্জির শেষকৃত্যে যোগ দিতে শেখ হাসিনা ১৯ আগস্ট সকালে দিল্লি আসেন। বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ। সেখান থেকে শেখ হাসিনা প্রথমে রাষ্ট্রপতি ভবন ও সেখান থেকে প্রণব মুখার্জির আগের বাসভবন ১৩, তালকাটোরা রোডের বাংলোয় যান শুভ্রা মুখার্জিকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে। এরপর লোদি রোডের শ্মশানে শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে শেখ হাসিনা সাক্ষাৎ করেন নরেন্দ্র মোদির সাথে। বেলা পৌনে ১২টায় মোদির ৭ রেসকোর্স রোডের সরকারি বাসভবনে তার সাথে হাসিনার সাক্ষাৎ হয়।
বৈঠকে শেখ হাসিনার সাথে ছিলেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী এমপি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব মো. আবুল কালাম আজাদ, ভারতে নিযুক্ত হাইকমিশনার সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলী, হাসিনার বোন শেখ রেহানা ও কন্যা সায়মা ওয়াজেদ। মোদির সাথে ছিলেন পররাষ্ট্র সচিব এস জয়শঙ্কর ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল।
স্থলসীমান্ত চুক্তি ভারতীয় সংসদে বিনা আপত্তিতে পাস হওয়ার পর দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কে যে নতুন গতি এসেছে, দুই প্রধানমন্ত্রীর সেদিনের সাক্ষাতে সে প্রসঙ্গ উঠে আসে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সংবাদমাধ্যমকে জানান, শোকের আবহে এ বৈঠক ছিল সৌজন্যমূলক। তিনি জানান, সীমান্ত চুক্তির বাস্তবায়ন নির্বিঘেœ হওয়ায় মোদি সন্তোষ প্রকাশ করার পাশাপাশি হাসিনাকে ধন্যবাদ জানান। শেখ হাসিনা বলেন, ভারতের সব দল একবাক্যে এই চুক্তিকে সমর্থন জানিয়েছে, যা বিস্ময়ের। মোদি বলেন, এই সহযোগিতা সারাবিশ্বের কাছে একটা নজির হয়ে থাকবে। মোদি এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ-ভুটান-ভারত-নেপালের (বিবিআইএন) মধ্যে যান চলাচল চুক্তির প্রসঙ্গ তুলে বলেন, এ অঞ্চলের বাণিজ্যিক বিকাশে এই চুক্তি অত্যন্ত সহায়ক হবে। এ কথার পরিপ্রেক্ষিতেই হাসিনা বলেন, দুই দেশের বাজার এত বিশাল যে পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্র বিস্তৃত হলে অর্থনৈতিক দিক থেকে উভয় দেশ প্রভূত লাভবান হবে। অন্য কারও দিকে তাকাতে হবে না।

শ্রেণী:

বাংলাদেশের সন্ত্রাসবাদবিরোধী প্রচেষ্টার প্রশংসা

Posted on by 0 comment
28

মার্কিন সরকারের বৈশ্বিক প্রতিবেদন

28উত্তরণ ডেস্কঃ সন্ত্রাসবাদ-বিষয়ক মার্কিন বৈশ্বিক প্রতিবেদনে বাংলাদেশের সন্ত্রাসবাদবিরোধী ভূমিকার ব্যাপক প্রশংসা করা হয়েছে। ২০১৪ সালের পরিস্থিতি-বিষয়ক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সন্ত্রাসী সংগঠনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সরকারের রাজনৈতিক ইচ্ছা ও দৃঢ় প্রতিশ্রুতি এবং সন্ত্রাসবাদবিরোধী প্রচেষ্টার কারণে দেশটির আন্তঃদেশীয় সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হওয়া কঠিন হয়ে উঠেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৪ সালে বাংলাদেশ সন্ত্রাসবাদবিরোধী কর্মকা-ে ব্যাপক অগ্রগতি লাভ করে। এই বছরে বড় ধরনের কোনো সন্ত্রাসী ঘটনা ঘটেনি। এ ছাড়া বাংলাদেশের বর্তমান সরকার সন্ত্রাসবাদবিরোধী প্রচেষ্টায় প্রতিবেশী ভারতের সাথে সহযোগিতার বিষয়েও জোর আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
মার্কিন প্রতিবেদন বলছে, সন্ত্রাসী সংগঠনগুলো তাদের মৌলবাদী আদর্শ সম্প্রসারণে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে বাংলাদেশ থেকেও বিদেশি যোদ্ধা নেওয়ার চেষ্টা করেছে। মধ্যপ্রাচ্যের ইরাক ও সিরিয়াভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট ইন ইরাক অ্যান্ড লেভান্টে (আইএসআইএল বা আইএস) বাংলাদেশিদের নিয়োগ করার ব্যাপারে প্রচেষ্টা চালানোয় প্রবাসী বাংলাদেশিদের গ্রেফতার করা হয়েছে। বাংলাদেশ আইএসআইএল-বিরোধী বৈশ্বিক জোটের অংশ না হলেও দেশটি ওই হুমকির ব্যাপারে পদক্ষেপ নিচ্ছে। গত ২৯ সেপ্টেম্বর আইএসআইএল ও আল-নুসরাহ ফ্রন্টে জঙ্গি নিয়োগ করার অভিযোগে বাংলাদেশের পুলিশ সামিউন রহমান নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্থানীয় সন্ত্রাসী সংগঠন জামা’আতুল মুজাহিদীন, হরকাতুল জিহাদ এবং আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের বেশ কয়েকজন সদস্যকে গ্রেফতার করেছে বাংলাদেশের বাহিনীগুলো। এতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশ মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের সন্ত্রাসবাদবিরোধী সহযোগিতা কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছে। দেশটির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সন্ত্রাসবাদবিরোধী প্রশিক্ষণ গ্রহণ করছে। বাংলাদেশের কোস্টগার্ড, নৌবাহিনীর স্পেশাল ওয়ারফেয়ার অ্যান্ড ডাইভিং স্যালভেজ ইউনিট ও সেনাবাহিনীর ফার্স্ট প্যারা কমান্ডো ব্যাটালিয়নসহ দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীকে সন্ত্রাসবাদবিরোধী প্রশিক্ষণ দেওয়া অব্যাহত রেখেছে মার্কিন স্পেশাল অপারেশনস কমান্ড প্যাসিফিক।
এ ছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংক ও এর ফাইনানশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট/অ্যান্টি মানি লন্ডারিং সেকশন সন্ত্রাসীদের তহবিল জোগানের বিরুদ্ধে কাজ করছে। সন্ত্রাসবিরোধী কর্মকা-ে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও পুরোপুরিভাবে সক্রিয়। দেশটি বিভিন্ন সন্ত্রাসবাদবিরোধী প্রটোকলে অংশ নিচ্ছে। বর্তমান সরকার সন্ত্রাসবাদবিরোধী কর্মকা-ে ভারতের সাথে সহযোগিতার জোরালো আকাক্সক্ষার কথাও প্রকাশ করেছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বাংলাদেশ সহিংস মৌলবাদ মোকাবিলায় কৌশলগত যোগাযোগকে ব্যবহার করছে।
সূত্র : মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের ওয়েবসাইট

শ্রেণী:

বঙ্গবন্ধুর নামেই জনগণ যুদ্ধ করেছে : ইন্দিরা গান্ধী

Posted on by 0 comment
06

06উত্তরণ ডেস্কঃ ভারতের প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর আত্মজীবনী গ্রন্থ ‘মাই ট্রুথ’ বইতে তিনি লিখেছেন, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশের মানুষ বঙ্গবন্ধুর নামেই যুদ্ধ করেছিলÑ ‘তারা (বাংলাদেশের মানুষ) তখন যা কিছু করেছে, তা তার নামে এবং তার জন্যই করেছে।’ গান্ধীর এই বইতে বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে তার ব্যক্তিগত অনুভূতির স্বতঃস্ফূর্ত অভিব্যক্তির প্রকাশ ঘটেছে। জাতির পিতা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘তিনি অত্যন্ত সংবেদনশীল, হৃদয়বান ব্যক্তি ছিলেন : যতটা না তিনি শাসক ছিলেন, তারও চেয়ে বেশি ছিলেন জাতির পিতা।’
সাক্ষাৎকার ও অন্যান্য উৎস থেকে গ্রন্থিত ‘মাই ট্রুথ’ একটি বিরল এবং সত্যিকার অর্থেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ। এই বইতে ইন্দিরা গান্ধীর নিজের ভাষায় তার জীবন চিত্রায়িত হয়েছে। ১৯৮০ সালে যখন তিনি ক্ষমতার বাইরে ছিলেন তখন এই বইটির প্রথম সংস্করণ একই সময়ে ভারত ও ফ্রান্স থেকে প্রকাশিত হয়। ১৯৭১ সালের ভয়াল ২৫ মার্চের কালরাত্রির মাত্র এক সপ্তাহ আগে ১৮ মার্চ গান্ধী কংগ্রেস পার্লামেন্টারি পার্টির নেতা এবং তৃতীয়বারের মতো ভারতের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন।
গান্ধীর বর্ণনা অনুযায়ী সে সময় ভারতে একটি অন্যরকম পরিস্থিতি বিরাজ করছিলÑ ‘কংগ্রেসে সংকট, তার ধারাবাহিকতায় প্রতিযোগিতাপূর্ণ অসহিষ্ণু মনোভাব, নির্বাচনী প্রচারণা এবং এর ফলাফল সবকিছু মিলিয়ে দেশে একটি উত্তপ্ত অবস্থা বিরাজ করছিল এবং তাদের উচ্চাশাকে প্রশমিত করা কঠিন হয়ে পড়েছিল। তা সত্ত্বেও পূর্ব পাকিস্তানে কি ঘটছে সে বিষয়ে তিনি ভালোভাবেই অবগত ছিলেন। ‘প্রথমেই আমরা জানতে পেরেছিলাম যে পাকিস্তানিরা মুজিবকে (জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান) প্রধানমন্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করার বদলে যুদ্ধ শুরু করে দিয়েছে।’
গান্ধী অনতিবিলম্বেই বুঝতে পেরেছিলেন যে, তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে অভাবনীয় কিছু ঘটতে যাচ্ছে। তিনি লিখেছেন, ‘একাত্তরের যুদ্ধ কোনো সাধারণ যুদ্ধ ছিল না। এটা যতটা ধর্মীয় বিষয় তার চেয়ে বেশি রাজনৈতিক বিষয় ছিল।’
তিনি লিখেছেন, ‘আমাদের পক্ষে যতটা সম্ভব ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা এর থেকে দূরে ছিলাম’ যদিও ‘কিছু করার জন্য আমাদের ওপর চাপ ছিল এবং কিছু মানুষ মনে করছিলেন যে আমাদের সৈন্য পাঠানো উচিত।’ ১৯৭১ সালের সেপ্টেম্বরে তিনি মস্কো সফরে যান। সেখান থেকে পরে অক্টোবরে তিন সপ্তাহের রাষ্ট্রীয় সফরে ইউরোপিয়ান দেশগুলো সফর করেন। ‘তাদের দেশের জনগণকে এ কথা বলতে যে যদি পাকিস্তানিদের ওপর তাদের কোনো প্রভাব থাকে তা হলে সেই প্রভাব খাটিয়ে তাদের আরও দায়িত্বশীল হতে হবে।’ যুদ্ধের একেবারে শুরু থেকেই গান্ধী বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিষয়ে নিশ্চিত ছিলেন। ‘আমার মনে এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ ছিল না যে বাংলাদেশিরা তাদের স্বাধীনতা অর্জন করবে। একবিন্দুও সন্দেহ ছিল না। কিন্তু একটাই প্রশ্ন যদি তারা জয়ী হয়, তবে সেটি কখন ঘটতে যাচ্ছে এবং তখন আমাদের অবস্থানটা কোনদিকে হবে? যদি শুধু ভৌগোলিক অবস্থানের বিবেচনায় আমরা কোনো ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলি তার মূল্য আমরা দিতে পারব না। রিফিউজিদের মুখ থেকে শুনে এবং দেশ ও বিদেশের গণমাধ্যমে বর্ণিত নৃশংসতা ও ভয়াবহ রক্তপাতের ঘটনা সম্পর্কে জেনে এ প্রশ্নও মনে জেগেছিল যে, জয় যখন দোরগোড়ায় তখন বড় ধরনের রক্তপাতেরই বা যৌক্তিকতা কি? গান্ধী আরও লিখেছেন যে, ভারত কখনোই এশিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করতে আগ্রহী ছিল না। তিনি বলেন, আমরা আন্তর্জাতিক ফোরামগুলোতে ছোট দেশগুলোকে উৎসাহিত করতাম। আমরা শ্রীলংকা, নেপাল, আফগানিস্তান, বাংলাদেশ এবং এরকম অনেক দেশকেই একই পরামর্শ দিতাম। যেন কেউই মনে না করে যে আমরা বড় আকৃতির কারণে অন্যদের জন্য চাপ সৃষ্টি করছি। কিন্তু আমরা মনে করেছি প্রত্যেক দেশকে সত্যিকার অর্থেই মুক্ত হওয়া উচিত, স্বাবলম্বী এবং তাদের লক্ষ্য অর্জনে স্বাধীন হওয়া উচিত। তিনি এও বিশ্বাস করতেন যে, এই বিশ্ব পরস্পরনির্ভরতার বিশ্ব। তবে পরস্পর নির্ভরতার বিষয়টি কোনো দেশের সার্বভৌমত্ব বাদ দিয়ে নয়। অন্যের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করলেই সম্পর্কের অবনতি হয়।

শ্রেণী:

৯০টি পণ্য রপ্তানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে বাংলাদেশ ও ভুটান

Posted on by 0 comment
33

ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশ সফর

33উত্তরণ ডেস্ক : বাংলাদেশ ও ভুটানের মধ্যে বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং ঢাকায় ভুটানের দূতাবাস নির্মাণে প্লট বরাদ্দে দেশটির সঙ্গে দুটি প্রটোকল স্বাক্ষরিত হয়েছে। প্রটোকল অনুযায়ী আন্তঃবাণিজ্যে ৯০টি পণ্য রপ্তানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে দুই দেশ। আর ঢাকায় দূতাবাস নির্মাণে রাজধানীর কূটনৈতিক এলাকায় ভুটানকে প্লট দেওয়া হবে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগের উপস্থিতিতে গত ৬ ডিসেম্বর এ দুটি প্রটোকল স্বাক্ষরিত হয়।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমন্ত্রণে গত ৬ ডিসেম্বর তিন দিনের বাংলাদেশ সফরে আসেন ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন দেশটির পররাষ্ট্র ও অর্থমন্ত্রীসহ ১০ সদস্যের একটি সরকারি প্রতিনিধি দলসহ ভুটানের শীর্ষ ব্যবসায়ীদের একটি প্রতিনিধি দল। সফরের প্রথম দিনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দুই দেশের সরকারপ্রধানের মধ্যে একান্ত বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকের পরে বাংলাদেশ ও ভুটানের মধ্যে প্রতিনিধি পর্যায়ের বৈঠক হয়। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও শেরিং তোবগে নিজ নিজ দেশের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন। বৈঠকে ভুটানের সঙ্গে দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রটোকল স্বাক্ষরিত হয়। বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমদ এবং ভুটানের অর্থমন্ত্রী নরবু ওয়াংচুক এ বাণিজ্য চুক্তিতে সই করেন। ওই চুক্তির পরে বাণিজ্য চুক্তি সইয়ের পর বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমদ আরও বলেন, দুই দেশের মধ্যে আগের চুক্তিতে ৭৪টি পণ্যের শুল্কমুক্ত সুবিধা দেওয়া ছিল। এখন এ সংখ্যাটি বাড়িয়ে ৯০টি পণ্যের শুল্কমুক্ত সুবিধা দেয়া হয়েছে। আমরা পদ্মা সেতুর জন্য ভুটান থেকে বোল্ডার আনতে শুল্কমুক্ত সুবিধা দেব। ব্যবসা-বাণিজ্যে আমরা উভয় উভয়কে সহায়তা করব। এ ছাড়াও বৈঠকে বিদ্যুৎ জলসম্পদ ব্যবস্থাপনা, কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য, আন্তঃযোগাযোগ, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সংস্কৃতি ইত্যাদি ক্ষেত্রসহ স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয় বলে তোফায়েল আহমদ জানান। ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং টোবগেকে গত ৬ ডিসেম্বর সকাল ৯টা ২ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করলে তাকে লাল গালিচা সংবর্ধনা দেওয়া হয়। এর আগে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীদের বহনকারী রয়্যাল ভুটানিজ এয়ারলাইন্সের ‘ড্রুক এয়ার’-এর বিমান থেকে নামার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিমানবন্দরের ভিভিআইপি ট্যারম্যাকে শেরিং তোবগেকে অভ্যর্থনা জানান। তোবগে সেখান সকাল ১০টায় সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে যান এবং সেখানে ফুল দিয়ে ১৯৭১ সালে দেশের মহান শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। ফুল দেওয়ার পর তিনি সেখানে কিছু সময় নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। সেখান থেকে হোটেল সোনারগাঁওয়ে ওঠেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী সফররত ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং টোবগের সঙ্গে সোনারগাঁও হোটেলের হোটেল স্যুটে সাক্ষাৎ করেন।
সফরের দ্বিতীয় দিন ৭ ডিসেম্বর সকাল ৯টায় তিনি শাহবাগস্থ জাতীয় জাদুঘর পরিদর্শন করেন। জাদুঘর পরিদর্শনের পর তিনি তেজগাঁও পুরাতন বিমানবন্দর থেকে হেলিকপ্টারযোগে কালিয়াকৈরের স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের কারখানা পরিদর্শন করেন। এরপর দুপুর আড়াইটায় বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ভুটানের প্রধানমন্ত্রী। বিকেল ৫টায় হোটেলে তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। এরপর বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ পৃথকভাবে ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
সফরের শেষদিন ৮ ডিসেম্বর সকাল সাড়ে ৯টায় ভুটানের প্রধানমন্ত্রী ধানমন্ডিস্থ বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন করেন। সকাল সাড়ে ১০টায় হোটেলে তোবগের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী। সকাল ১১টায় এফবিসিসিআইর একটি প্রতিনিধি দল তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এরপর ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত। দুপুর আড়াইটায় তিনি ঢাকাস্থ ভুটান দূতাবাস পরিদর্শনে করেন।

শ্রেণী:

তিস্তা ও স্থলসীমান্ত চুক্তি সমাধানের আশ্বাস

Posted on by 0 comment
31

দিল্লিতে রাষ্ট্রপতির উষ্ণ অভ্যর্থনা

31উত্তরণ ডেস্ক : ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তিস্তা ও স্থলসীমান্ত চুক্তি সমস্যা সমাধানে তার সরকারের প্রতিশ্রুতির কথা পুনর্ব্যক্ত করে বলেছেন, এ দুটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নিয়ে তার সরকার অব্যাহতভাবে কাজ করে যাচ্ছে। গত ১৯ ডিসেম্বর দিল্লিতে বাংলাদেশের সফররত রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব ইহসানুল করিম বৈঠকের উদ্ধৃতি দিয়ে এ কথা জানান। আবদুল হামিদকে মোদি আরও বলেছেন, তিনি যত দ্রুত সম্ভব ঢাকা সফরের পরিকল্পনা নিয়েছেন। আধা ঘণ্টার এ বৈঠককালে আবদুল হামিদ ভারতের প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্ব ও তার ‘গুজরাট মডেল’-এর প্রশংসা করে বলেন, তার নেতৃত্বে সারা ভারতের তরুণ প্রজন্ম একটি সমৃদ্ধ দেশ গড়ে তুলবে।
১৮ ডিসেম্বর স্থানীয় সময় বেলা পৌনে ১টায় বাংলাদেশ বিমানের একটি বিশেষ ফ্লাইটে নয়াদিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান রাষ্ট্রপতি। সেখানে  ভারতের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বিকে সিংহ ও ভারতে বাংলাদেশের হাই কমিশনার সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলী তাকে স্বাগত জানান। সেখান থেকে রাষ্ট্রপতিকে ভারতীয় রাষ্ট্রপতির সরকারি বাসভবন ‘রাষ্ট্রপতি ভবনে’ নিয়ে যাওয়া হয়। সফরকালে তিনি সেখানে অবস্থান করেন। এর আগে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ সকাল পৌনে ১১টায় ঢাকাস্থ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করেন।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির সাথে সাক্ষাৎকালে মোদি আরো বলেন, বিদ্যুৎ খাতে সহযোগিতা জোরদারে ভারত প্রস্তুত রয়েছে। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ভারতের নজিরবিহীন সমর্থন ও সহায়তার কথা গভীর কৃতজ্ঞতার সঙ্গে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ বলেন, আঞ্চলিক যোগাযোগ বৃদ্ধি এতদঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়নে সহায়ক হবে। এ প্রসঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন, অবকাঠামো ও পর্যটনের উন্নয়নসহ যোগাযোগ প্রচেষ্টা হতে হবে উপ-আঞ্চলিক যোগাযোগ উন্নয়ন। নিউইয়র্কে এবং কাঠমান্ডুতে সার্ক শীর্ষ সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠকের কথা উল্লেখ করে মোদি বলেন, তারা সফল আলোচনা করেছেন। সফরের প্রথম দিনে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ রাজঘাটে মহাত্মা গান্ধীর সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে তার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। রাষ্ট্রপতি সেখানে পৌঁছালে রাজঘাট সমাধি কমিটির সম্পাদক রজনীশ কুমার তাকে অভ্যর্থনা জানান। সেদিন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় রাষ্ট্রপতি ভবনে ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জীর সঙ্গে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এরপর তিনি ভারতের রাষ্ট্রপতির দেওয়া নৈশভোজে অংশ নেন। ভারত সফরকালে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের সঙ্গে ভারতের উপ-রাষ্ট্রপতি হামিদ আনসারী, লোকসভা স্পিকার সুমিত্রা মহাজন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ ও রাজ্যসভার বিরোধীদলীয় নেতা গোলাম নবী আজাদ সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
প্রায় তিন দশকের মধ্যে প্রথম বাংলাদেশি রাষ্ট্রপতি হিসেবে ভারত সফরে গিয়ে বিমানবন্দরে উষ্ণ অভ্যর্থনা পেলেন মো. আবদুল হামিদ। সর্বশেষ ১৯৮৬ সালের জুলাই মাসে তখনকার রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ভারত সফর করেন। এরপর দীর্ঘ সময়ে বাংলাদেশের আর কোনো রাষ্ট্রপতি ভারত সফরে যাননি। ২৩ ডিসেম্বর সফরের শেষ দিন কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিষ্ঠিত বিশ্বভারতী পরিদর্শন করেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। দুপুরে রাষ্ট্রপতি ভারতীয় বিমান বাহিনীর একটি হেলিকপ্টারে বীরভূম জেলার বোলপুর যান। রাষ্ট্রপতি ‘রবীনমষু ভবনে’ পৌঁছলে তাকে স্বাগত জানান বিশ্বভারতীয় কালচার অ্যান্ড কালচারাল রিলেশন ডিরেক্টর ও রবীন্দ্র ভবনের অধ্যক্ষ তপতী মুখোপাধ্যায়। পরে রাষ্ট্রপতিকে জাদুঘরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে রাষ্ট্রপতিকে বিশ্বকবির ব্যবহার করা জিনিস এবং ছবি দেখানো হয়। এ ছাড়াও তিনি আগ্রা, জয়পুর ও কলকাতার ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক গুরুত্বপূর্ণ স্থান পরিদর্শন করেন। ছয় দিনের ভারত সফর শেষে গত ২৩ ডিসেম্বর বাংলাদেশ বিমানের একটি বিশেষ ফ্লাইটে দেশে ফেরেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।

শ্রেণী:

শ্রমিক নেওয়ার প্রক্রিয়া সহজতর হচ্ছে

36

প্রধানমন্ত্রীর সংযুক্ত আরব আমিরাত সফর

36উত্তরণ ডেস্ক : বাংলাদেশ থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) শ্রমিক নেওয়ার প্রক্রিয়া সহজতর করতে আগামী বছরের শুরুতে ঢাকায় ইউএই দূতাবাসে একজন শ্রম কর্মকর্তা নিয়োগ করা হচ্ছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ আবদুল্লাহ বিন জায়েদ আল-নাহিয়ান গত ২৬ অক্টোবর আবুধাবিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের সময় এ তথ্য জানান।
কূটনৈতিক সূত্র জানায়, এ সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে দেশটিতে বাংলাদেশের জনশক্তি রফতানির বাজার পুনরায় উল্লেখযোগ্য হারে শুরুর আভাস মিলেছে। বাংলাদেশের নাগরিকদের অপরাধমূলক কর্মকা- বেড়ে যাওয়ায় নিরাপত্তাজনিত কারণে ২০১২ সালের আগস্ট থেকে দেশটিতে জনশক্তি রফতানি প্রায় বন্ধ হয়ে যায়।
এদিকে বাংলাদেশ থেকে ইউএইতে নারী কর্মী নিয়োগের ব্যাপারে গত ২৬ অক্টোবর শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। নিরাপত্তা ও অধিকার সুনিশ্চিত করে দেশটির ১৪টি পেশায় প্রথম পর্যায়ে এক হাজার বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ করা হবে। পরে এ সংখ্যা আরও বাড়বে।
তিন দিনের ইউএই সফরের দ্বিতীয় দিনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তার হোটেল স্যুটে দেখা করেন দুবাই পোর্ট ওয়ার্ল্ডের চেয়ারম্যান সুলতান আহমেদ বিন সুলাইয়েম। এ সময় প্রধানমন্ত্রী পটুয়াখালীর পায়রায় একটি গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য পোর্ট ওয়ার্ল্ড কর্তৃপক্ষকে আমন্ত্রণ জানান।
বাংলাদেশের শ্রমিক নিয়োগে বাধা দূর করতে ইউএইর প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তেলসমৃদ্ধ উপসাগরীয় দেশ সংযুক্ত আরব-আমিরাতে (ইউএই) বাংলাদেশের শ্রমিক নিয়োগের ক্ষেত্রে সকল বাধা দূর করতে সে দেশের সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী গত ২৭ অক্টোবর দুবাইয়ে জাবেল প্যালেসে ইউএইর প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন রশীদ আল মাকতুমের সঙ্গে বৈঠকে এ অনুরোধ জানান। এদিকে, বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদারে বাংলাদেশ ও ইউএইর মধ্যে ৩টি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। গতকাল দুই প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে বৈঠক শেষে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
বাংলাদেশের শ্রমিক নিয়োগের আহ্বান
ইউএইর প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন রশীদ আল মাকতুমের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বৈঠক শেষে পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক সাংবাদিকদের বলেন, অত্যন্ত উষ্ণ ও আন্তরিক পরিবেশে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে শ্রমিক নিয়োগসহ দ্বিপক্ষীয় সামগ্রিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। পররাষ্ট্র সচিব আরও বলেন, বৈঠকে দুই প্রধানমন্ত্রী বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি, শিক্ষা ক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং পটুয়াখালীর পায়রায় গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ ও চট্টগ্রামে টেকনাফ থেকে মিরেরসরাই পর্যন্ত ১৫০ কিলোমিটার ম্যারিন ড্রাইভওয়ে নির্মাণসহ বিভিন্ন বিষয় আলোচনায় স্থান পায়।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ইউএইর উন্নয়নে বাংলাদেশের শ্রমিকরা শুরু থেকেই কাজ করে আসছে। জবাবে মাকতুম প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আর্থ-সামাজিক খাতে বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য উন্নয়নেরও প্রশংসা করেন।
বাংলাদেশি শ্রমিকরা খুবই আন্তরিক ও কর্মঠ উল্লেখ করে ইউএইর প্রধানমন্ত্রী বলেন, কিছু জটিলতা রয়েছে। সরকারি পর্যায়ে আলোচনার মাধ্যমে এসব জটিলতা নিরসন করা হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সমুদ্রসীমায় বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব বিষয়ে ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে বিরোধ নিষ্পত্তি হওয়ার পর সম্পদে ভরপুর সামুদ্রিক এলাকাগুলোতে বাংলাদেশের বিপুল সম্ভাবনার বিষয়গুলো তুলে ধরেন।
৩ চুক্তি স্বাক্ষর
২৭ অক্টোবর সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকার ও বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতা, দ-িত বন্দিবিনিময় এবং ঢাকায় ইউএই দূতাবাস নির্মাণে জমি হস্তান্তর সংক্রান্ত ৩টি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। প্রথম দুই চুক্তি বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও ইউএইর অভ্যন্তরীণ মন্ত্রী সাইফ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান এবং অন্য চুক্তিটি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী ও ইউএইর পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ আবদুল্লাহ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের মধ্যে স্বাক্ষরিত হয়।
চুক্তির বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. কামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, সাজাপ্রাপ্ত আসামি স্থানান্তর চুক্তির আওতায় উভয় দেশ আলোচনার মাধ্যমে আসামি হস্তান্তর করতে পারবে। অন্যান্য দেশের সঙ্গে যে ধরনের চুক্তি আছে, এক্ষেত্রেও সেভাবেই হয়েছে। এটি একটি মানবিক চুক্তি, উভয় দেশের স্বার্থই রক্ষিত হবে। মন্ত্রিসভার অনুসমর্থনের মাধ্যমে ৩০ দিনের মধ্যে এ চুক্তি বাস্তবায়ন করা যাবে বলেও জানান তিনি। অতিরিক্ত সচিব আরও বলেন, নিরাপত্তা বিষয়ক চুক্তিটি করা হয়েছে সন্ত্রাসবাদ, অস্ত্র, মাদক ও মানবপাচার রোধে সহযোগিতা বাড়ানোর জন্য। উভয় দেশের আস্থার পরিবেশ উন্নতিতে এ দুটি চুক্তি হয়েছে।
সমুদ্রসীমা বিরোধ নিরসনে হাসিনার প্রশংসায় ম্যার্কেল
ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে সমুদ্রসীমা নিয়ে বিরোধ নিষ্পত্তিতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্যোগ অন্যান্য দেশের জন্য অনুসরণীয় হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন জার্মানির চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা ম্যার্কেল।
গত ১৬ অক্টোবর ইতালির মিলানে দশম আসেম সম্মেলন শুরুর আগে এক বৈঠকে শেখ হাসিনার প্রশংসা করে জার্মান চ্যান্সেলর এই মন্তব্য করেন বলে প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব বিজন লাল দেব জানিয়েছেন। তিনি বলেন, সম্মেলন শুরুর আগে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেন অ্যাঙ্গেলা ম্যার্কেল। বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রশংসাও করেন জার্মান চ্যান্সেলর।
বৈঠকে শেখ হাসিনা তৈরি পোশাক শিল্পের শ্রমিকদের কল্যাণে তার সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ ম্যার্কেলের কাছে তুলে ধরেন। ২০০৯ সালে সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এই খাতের শ্রমিকদের বেতন-ভাতা ২২৬ শতাংশ বাড়ানোর কথাও বাংলাদেশের পোশাকের অন্যতম প্রধান ক্রেতা ইউরোপের দেশটির সরকারপ্রধানের কাছে তুলে ধরেন তিনি।
জার্মান চ্যান্সেলর সরকারের এই পদক্ষেপগুলোতে সন্তোষ প্রকাশ করেন বলে বিজন লাল দেব জানান।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং স্থিতিশীলতা নিয়ে নিজের সন্তোষের কথাও তুলে ধরেন ম্যার্কেল। আসেম সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে, চীনের প্রধানমন্ত্রী লি খা ছিয়াং, কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হুন সেন এবং ব্রুনাইয়ের সুলতান হাসান আল বলখিয়াহর সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন শেখ হাসিনা।
গ্রিক প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক : আসেম সম্মেলনের ফাঁকে ১৬ অক্টোবর গ্রিক প্রধানমন্ত্রী আন্তোনিও সামারাসের সঙ্গে বৈঠক করেছেন শেখ হাসিনা।
পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক সাংবাদিকদের বলেন, টানা দুই মেয়াদে এবং মোট তিনবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ায় শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন আন্তোনিও সামারাস। তিনি শেখ হাসিনার নেতৃত্বগুণের প্রশংসাও করেন।

শ্রেণী:

গড়ে তোলা হচ্ছে দেশব্যাপী ব্যাপকভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবা নেটওয়ার্ক

Posted on by 0 comment
57

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রীদের সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী
57দেশব্যাপী একটি ব্যাপকভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবা নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, জনস্বাস্থ্যের উন্নয়নে সরকারের সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা রয়েছে। একটি সুস্থ জাতি গড়ে তোলার লক্ষ্যে সামাজিক, অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত বিষয়গুলোকে কর্মপরিকল্পনায় গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। দেশে গড়ে উঠেছে ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবার মজবুত অবকাঠামো। স্বাস্থ্য খাতে সাফল্য অর্জনের মাধ্যমে দেশের জনগণের প্রতি নিজেদের অঙ্গীকার পূরণ করছে বর্তমান সরকার। সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা করতে নিজেদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।
গত ৯ সেপ্টেম্বর রাজধানীর একটি হোটেলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের স্বাস্থ্য মন্ত্রীদের ৩২তম সভা এবং আঞ্চলিক কমিটির ৬৭তম বার্ষিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভার উদ্বোধনী অধিবেশনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক ড. মার্গারেট চ্যান, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক ড. পুনম ক্ষেত্রপাল সিং ও ভারতের স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষবর্ধন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন স্বাস্থ্য সচিব এমএম নিয়াজউদ্দিন এবং ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন বাংলাদেশের স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক।
স্বাস্থ্য খাতের বিভিন্ন উন্নয়ন দিক তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ২০০৯ সালে সরকার গঠন করার পরই স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। জনগণের চিকিৎসাসেবা পাওয়ার পথ সুগম করি। প্রণয়ন করা হয় যুগোপযোগী স্বাস্থ্যনীতি। এ পর্যন্ত ১৩ হাজারের বেশি কমিউনিটি ক্লিনিক চালু করা হয়েছে। এসব ক্লিনিকে প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাদের দেওয়া হয়েছে ল্যাপটপ ও ইন্টারনেট সংযোগ, রোগীদের বিনামূল্যে ওষুধ দেওয়া হচ্ছে। আর চালু করা হয়েছে ই-হেলথ ও টেলিমেডিসিন সেবা কার্যক্রম।
স্বাস্থ্যসেবা নেটওয়ার্কের স্তরগুলো উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্যকর্মী, প্রাইমারি, সেকেন্ডারি, টারসিয়ারি ও বিশেষায়িত হাসপাতাল এবং উভয়মুখী রেফারেন্স পদ্ধতি প্রবর্তন করেছি, যা বিশ্বে অনন্য। এজন্য বাংলাদেশ ২০০১ সালে সাউথ সাউথ অ্যাওয়ার্ডে ভূষিত হয়েছে।
স্বাস্থ্যসেবার মজবুত অবকাঠামো গড়ে তোলার দাবি করে শেখ হাসিনা বলেন, দেশের সকল পর্যায়ের হাসপাতালে বেডের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। স্থাপন করা হয়েছে আধুনিক যন্ত্রপাতি। নির্মাণ করেছি নতুন নতুন জেনারেল হাসপাতাল ও বিশেষায়িত হাসপাতাল। সরকার নতুন নতুন মেডিকেল কলেজ, ডেন্টাল কলেজ, হেলথ টেকনোলজি ইনস্টিটিউট, নার্সিং কলেজ এবং নার্সিং ট্রেনিং ইনস্টিটিউট স্থাপন করেছে। আর ডাক্তার, নার্সসহ স্বাস্থ্য খাতের প্রতিটি বিভাগেই জনবল বাড়ানো হয়েছে। দারিদ্র্য বিমোচন, শিক্ষা, জেন্ডার সমতা, নারীর ক্ষমতায়ন এবং পরিকল্পিত পরিবার নিশ্চিত করতে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছি। একটি সুস্থ জাতি গড়ে তোলার লক্ষ্যে সরকার সার্বিক কাজ করছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মা সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হলে সন্তানও স্বাস্থ্যবান হয়। এভাবেই সুস্থ জাতি গঠনের পথ প্রশস্ত হয়। তাই নারী ও শিশু স্বাস্থ্য উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে নারী ও শিশুর স্বাস্থ্য এবং জীবনমান সহায়ক নানামুখী সেবা ও সহায়তা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে সরকার। জাতিসংঘের মা ও শিশু স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশ্ব কৌশলপত্র বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আমরা দেশব্যাপী মা ও শিশুর নিবিড় পর্যবেক্ষণ পদ্ধতি প্রবর্তন করেছি। এক্ষেত্রে জাতিসংঘের ‘কমিশন অন ইনফরমেশন অ্যান্ড অ্যাকাউন্টেবিলিটি অন উইমেনস অ্যান্ড চিলড্রেনস হেলথ’-এর ১১টি সূচক ব্যবহার করা হচ্ছে। কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে এই ইলেকট্রনিক নিবন্ধন পদ্ধতি নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে।
প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার বিষয়ে সরকারের অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, আমরা নি¤œআয়ের জনগণের খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছি। ফলে দারিদ্র্যের হার ২০০৫ সালের ৪০ থেকে ২৫ শতাংশে নেমে এসেছে। বাংলাদেশে পোলিও ও কুষ্ঠরোগ নির্মূল হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ম্যালেরিয়া, যক্ষ্মা, এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা, অ্যানথ্রাক্স, নিপাহ, ডেঙ্গু ইত্যাদি সংক্রামক ব্যাধি নিয়ন্ত্রণে কাজ চলছে। জলবায়ু পরিবর্তন এবং এর ঝুঁকি মোকাবিলায় কার্যকর স্বাস্থ্য ও সামাজিক সচেতনতামূলক কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। আর সংক্রামক ব্যাধি নিয়ন্ত্রণ, পুষ্টি, অটিজম ও মানসিক স্বাস্থ্য কার্যক্রমকে মূলধারায় সম্পৃক্ত করেছি। আর প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ও কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোকে এর সঙ্গে সম্পৃক্ত করা হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে একটি গতিশীল ওষুধশিল্প গড়ে উঠেছে। দেশে ওষুধের মোট চাহিদার ৯৭ শতাংশই দেশীয় উৎপাদন থেকে মেটানো হচ্ছে। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যসহ বিশ্বের ৮৭টি দেশে ওষুধ রপ্তানি করা হচ্ছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, জাতিসংঘের সদস্যভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে স্বাস্থ্য খাতে সবচেয়ে সাফল্য দেখিয়েছে বাংলাদেশ। এ জন্য জাতিসংঘের বিশেষ সম্মাননা পেতে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে স্বাস্থ্য খাতে সাফল্যের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রেখেছে সরকার। দেশের স্বাস্থ্যসেবার অবকাঠামো ও সেবা প্রদানের মাত্রার ব্যাপক বিস্তার ঘটেছে। জনবল বৃদ্ধি, অবকাঠামোর উন্নয়ন, মাতৃ ও শিশুমৃত্যু হ্রাস, ওষুধের সরবরাহ বৃদ্ধি, কমিউনিটি ক্লিনিক চালু, স্বাস্থ্য খাতে ডিজিটাল বাংলাদেশ কার্যক্রম ইত্যাদি উন্নয়নমূলক উদ্যোগ গ্রহণ করে সরকার। দেশের ৯৯ শতাংশ উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে রয়েছে প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরিষেবার ব্যবস্থা। কমিউনিটি ক্লিনিক থেকে সেবাগ্রহীতার সংখ্যা বেড়েই চলেছে। বর্তমানে প্রতিমাসে ৮০ থেকে ৯০ লাখ মানুষ কমিউনিটি ক্লিনিক থেকে সেবা নেন। দেশে অনূর্ধ্ব ১২ মাস বয়সের শিশুদের সকল টিকা প্রাপ্তির হার ৮১ শতাংশ। অনূর্ধ্ব ৫ শিশুর কম ওজন হার ১৯৯০ সালের ৬৬ শতাংশের তুলনায় হ্রাস পেয়ে ২০১১ সালে ৩৬.৪ শতাংশে নেমে এসেছে। অনূর্ধ্ব ৫ শিশু মৃত্যুর হার ১৯৯০ সালের তুলনায় ৭১ শতাংশ কমে এমডিজি ৪ অর্জিত হয়েছে। মাতৃমৃত্যুর হার ১৯৯০ সালের প্রতিলাখে জীবিত জন্মে ৫৭৪ থেকে কমে ১৯৪ হয়েছে। ৪৫ শতাংশ এইচআইভি আক্রান্ত মানুষ এআরভি পাচ্ছে। ম্যালেরিয়া ও যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণে লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে। দেশের ৯৮ শতাংশ মানুষ নিরাপদ পানীয় জল পাচ্ছে এবং ৮০ শতাংশ মানুষ স্বাস্থ্যসম্মত পায়খানা ব্যবহার করছে। স্বাস্থ্য সেক্টরের উন্নয়নে সরকারের সাহসী ও দৃষ্টান্তমূলক বিভিন্ন উদ্যোগ বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত হয়েছে বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবার ভূয়সী প্রশংসা করে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক ড. পুনম ক্ষেত্রপাল সিং বলেন, অনেক প্রতিবন্ধকতা থাকা সত্ত্বেও স্বাস্থ্যসেবায় অনেক দূর এগিয়েছে বাংলাদেশ। নারী ও শিশু স্বাস্থ্য রক্ষায় বাংলাদেশের সাফল্য বিশ্বে অনুকরণীয় হয়ে থাকবে। একত্রিত হয়ে কাজ করলে স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্ট সমস্যা মোকাবিলায় আমরা জয়ী হতে পারব। সুস্বাস্থ্য বিলাসিতা নয়, এটি একটি বিনিয়োগ।

শ্রেণী: