আগমনী বার্তাহীন বিপিএল

2-6-2019 8-36-53 PM

2-6-2019 8-36-53 PMঅনিন্দ্য আরিফ: বিপিএল কতটা জমেছে তার চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ তামিম-সাকিব-রিয়াদ-মাশরাফিরা কেমন করলেন! আসরের নতুন প্রতিভা কাকে খুঁজে পাওয়া গেল। সাদামাটাভাবে এটাই এখন জাতীয় ক্রিকেট দলের জন্য মৌলিক বিষয়। কারণ দু-তিনজন বাদ দিলে জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা খুব একটা আলো ছড়াতে পারেন নি এবারের আসরে। বরং বিদেশিতেই মশগুল থাকতে হয়েছে ভক্ত-সমর্থকদের। ওয়ানডে দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা এমপি অবশ্য মনে করেনÑ বিপিএলে ভালো না করেও জাতীয় দলে অনেকেই ভালো করবেন। তবে নতুন তারকাদের খোঁজ পাওয়া যায়নি; যা মাশরাফির মতো অনেককেই হতাশ করেছে।
তরুণদের পারফরম্যান্স ভালো নয়Ñ বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফির ব্যাখ্যা, ‘বিপিএল কিন্তু এখন আর ছোট কোনো টুর্নামেন্ট নয়। আগের পর্যায়ে নেই এটি। আমি নিজেও এটি খেলতে চাপ অনুভব করি। সিনিয়র যারা আছে, তারা সবাই চাপ অনুভব করে। আমি নিশ্চিত সাকিবও চাপ অনুভব করে। এখানে তরুণদের জন্য চাপটা আরও অনেক বেশি। তবে বিপিএলে যারা ভালো করেনি তারা জাতীয় দলে পারফরম করবে না, এটা আমি বিশ্বাস করি না। তাদের নিয়ে আমার আত্মবিশ্বাস আছে। আমার বিশ্বাস, নিউজিল্যান্ড সফরের প্রথম ম্যাচ থেকেই তারা ঘুরে দাঁড়াবে।’
বিপিএলের ষষ্ঠ আসর ইতোমধ্যে লীগ পর্ব শেষ করেছে। সাত দলের মধ্যে থেকে চার দলের শিরোপা লড়াই শেষে অনুষ্ঠিত হবে ফাইনাল। চ্যাম্পিয়নশিপ লড়াইয়ের পর ক্রিকেটপ্রেমীরা খুঁজে পাবে আনন্দ-বেদনার ঠিকানা। জয়ী দলের সমর্থকরা যখন ঢোল-বাদ্যে নেচে গেয়ে উঠবেন; আর তখন হার নিয়ে আরেক পক্ষকে কষ্ট-কান্নায় ভাসতে হবে। সেই অপেক্ষা ৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।
রংপুর রাইডার্সকে নিয়ে দারুণ ফর্মে রয়েছেন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মাশরাফি বিন মর্তুজা। বিপিএল তার দল চূড়ান্ত পর্বের শীর্ষ দল। স্বাভাবিক কারণেই দল নিয়ে ব্যস্ত থাকায় অধিবেশনের শুরুতে সংসদে যোগ দিতে পারেন নি নড়াইল-২ আসন থেকে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মাশরাফি বিন মর্তুজা। চূড়ান্ত পর্ব শুরুর গ্যাপে বিপিএল চলাকালেই তিনি সংসদ অধিবেশে যোগ দিয়েছেন। নির্বাচনের মাত্র পাঁচ দিন পরই শুরু হয়েছিল বিপিএলের জমজমাট লড়াই। মাশরাফি বিপিএলে নেতৃত্ব দিচ্ছেন রংপুর রাইডার্সকে। তার নেতৃত্বে গত আসরে রংপুর বিপিএল চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। এবারও বিপিএলে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন মাশরাফির সমর্থকরা। ৩ জানুয়ারি বিকাল সাড়ে ৪টা থেকে শুরু হওয়া সংসদের মুলতবি বৈঠকে যোগ দিয়েছেন মাশরাফি বিন মর্তুজা এমপি। ৩০ জানুয়ারি অধিবেশন শুরুর দিনে স্পিকার এবং ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করা হয়। সংসদের যাত্রার শুরুর দিন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ভাষণ দেন। এরপর সংসদের বৈঠক মুলতবি করা হয়।
সংসদ অধিবেশনে যোগ দেওয়ার আগে মাশরাফি বিন মর্তুজা বিপিএল নিয়ে বলেন, তরুণ ক্রিকেটারদের মানসিক শক্তি বাড়াতে হবে। তাদের প্রতিভা আছে কিন্তু মানসিক শক্তি কম। মানসিকভাবে শক্ত হলে মাশরাফির মতে এরাই পরিণত হবে বিশ্বমানের ক্রিকেটারে।
নিজের ১৮ বছরের ক্যারিয়ারসিদ্ধ ক্রিকেটঋদ্ধ মাশরাফি বলেন, বিদেশি ক্রিকেটারদের সঙ্গে আমাদের তরুণ ক্রিকেটারদের মূল পার্থক্য মানসিক শক্তিতে। বিদেশিরা যেটা করে, যা প্রয়োগ করে, সেটা পরিষ্কার চিন্তা থেকে করে। আমরা করি দ্বিধাদ্বন্দ্ব নিয়ে। এবি ডি ভিলিয়ার্সের সঙ্গে এ বিষয়টা নিয়ে আমার কথা হয়েছে। সেও বলেছে। মানসিক দিকটাতে উন্নতি ঘটাতে পারলে এই তরুণরাই বিশ্বমানের ক্রিকেটারে পরিণত হবে।
নিজের বোলিং সম্পর্কে মাশরাফি বলেন, বেশির ভাগ সময়ই আল্লাহর ওপর ছেড়ে দিই। যা হওয়ার হবে। তবে টার্গেট থাকে জায়গামতো বল ফেলার। একজন বোলারের জন্য এটিই গুরুত্বপূর্ণ। ধারাবাহিকভাবে এক জায়গায় বল ফেলে যাওয়া। বাকিটা কিন্তু আপনার হাতে নেই। অনুশীলনে ওভাবেই করি বলগুলো এক জায়গায় পড়ছে কি না সেটা অনুশীলন করি।
প্রতিবছরের মতো এবারও বিপিএলের জমজমাট মঞ্চ মাতিয়ে রাখছেন বিদেশি ক্রিকেটাররা, আর দেশের তারকা ক্রিকেটারদের অনেকেও থেকে যাচ্ছেন আড়ালে। গত ৫টি বিপিএল ও চলমান ষষ্ঠ বিপিএলের লিগ পর্ব শেষে সেই দৃশ্যই দেখা গেছে। তবে মাশরাফি মনে করেন, এক বছর পরপর বিপিএল আসে, এই টুর্নামেন্টটা সহজও না।
কথা উঠেছে বরাবরের মতো ঢাকার মন্থর উইকেটে বিপিএল কতটা কার্যকর, তা নিয়েও। সেখানে মাশরাফির ভাষ্যÑ বিশেষ করে ঢাকায় যেহেতু সবচেয়ে বেশি খেলা হয় সেহেতু ঢাকার উইকেটে অনেক চ্যালেঞ্জ থাকে ব্যাটসম্যানদের। আমি কখনই দেখি না কাজটা সহজ। শুধু তা-ই নয়, আছে বিদেশি ক্রিকেটার-প্রীতির অভিযোগও। জয়ের খোঁজে থাকা ফ্র্যাঞ্চাইজিরা স্বভাবতই বিদেশি ক্রিকেটারদের বেশি গুরুত্ব দেয়। এতে স্থানীয় তারকারাও অনেক সময় থেকে যান সাজঘরে, একাদশের বাইরের খেলোয়াড় হিসেবে। মাশরাফি বলেন, স্থানীয় ক্রিকেটাররা যদি বেশি সুযোগ পায়, যদি আরও একটা টি-২০ ফরম্যাটে টুর্নামেন্ট হয়, তাহলে তরুণরা সুযোগ পাবে। তখন ওরা আরও বেশি আত্মবিশ্বাসী হবে।
চলতি আসরের হিসাব-নিকাশটা একটু এলেবেলেই ছিল। দারুণ দল হওয়ার পরও এবার খুলনা টাইটান্স ছিল লিগ টেবিলের একেবারে তলানীতে। আর ঢাকা ডায়নামাইটসের সমান পয়েন্ট থাকার পরও ৫ নম্বর দল হিসেবে হিসেবে ছিটকে পড়েছে রাজশাহী কিংস। ১২ ম্যাচে ১২ পয়েন্ট ছিল দুই দলেরই। কিন্তু রান রেটে এগিয়ে থাকায় ঢাকা উঠেছে শেষ চারের লড়াইয়ে। এখানে ঢাকাকে এলিমিনেটর ম্যাচে পয়েন্ট টেবিলের তিনে থাকা চিটাগং ভাইকিংসের মুখোমুখি হবে। এই ম্যাচের বিজয়ী দল খেলবে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারের বিপক্ষে। যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ প্রথম কোয়ালিফায়ারের পরাজিত দল। প্রাথমিক পর্বের শীর্ষ দুই দল রংপুর রাইডার্স ও কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স ফাইনালে ওঠার জন্য পাচ্ছে দুটি সুযোগ।
পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষ দুইয়ে থেকে বিপিএলের প্রথম কোয়ালিফায়ারে খেলা আগেই নিশ্চিত করেছিল রংপুর ও কুমিল্লা। নিজেদের শেষ ম্যাটচা ছিল তাই দু-দলের জন্যই কোয়ালিফায়ারের পোশাকি মহড়া।
এবারের আসরে রংপুর রাইডার্স ১২ ম্যাচে সর্বোচ্চ ৮টি জয় পেয়ে চূড়ান্ত পর্ব নিশ্চিত করে শীর্ষে থেকে। রবিন লিগে সমান পয়েন্ট নিয়ে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়াও জায়গা করে নিয়েছে পয়েন্ট টেবিলের দ্বিতীয় আসনে। চট্টগ্রাম ভাইকিংস ১৪ পয়েন্ট নিয়ে হয়েছে তৃতীয়। ঢাকা ডায়নামাইট এবং রাজশাহী কিংসের পয়েন্ট সমান হলেও নিট রান রেটে ভাগ্য খুলেছে সাকিবদের ঢাকার। খুলনার পয়েন্ট মাত্র ১২ ম্যাচে ৪।
গতবারের মতোই আসরের ফরম্যাট। সেরা চার দলের মধ্যে প্লে-অফ লড়াই, ম্যাচ ৩টি। একটি এলিমিনেটর, একটি প্রথম কোয়ালিফায়ার এবং একটি দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার। তারপর সেরা দুই দলকে নিয়ে ফাইনাল। দর্শক-সমর্থকদের অনেকেই এই ম্যাচগুলো মাঠে গিয়ে দেখেছেন। অপেক্ষায় রয়েছে আরও ম্যাচ দেখার। এলিমিনেটর এবং প্রথম কোয়ালিফায়ারের দুটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে ৪ ফেব্রুয়ারি। প্রথম ম্যাচে ঢাকা ডায়নামাইট উড়িয়ে দিয়েছে চট্টগ্রাম ভাইকিংসকে। আর প্রথম দল হিসেবে ফাইনাল নিশ্চিত করেছে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া। ওই দিন মাশরাফির রংপুর তাদের বিপক্ষে দাঁড়াতে পারেনি।  অবশ্য মাশরাফিদের এখনও সুযোগ থাকছে ফাইনালে খেলা।
বিপিএলের ম্যাচগুলো এবার ঢাকা, সিলেট ও চট্টগ্রামে  অনুষ্ঠিত হয়েছে। আর বিপিএলের শেষ চারের লাইনআপের জন্য পরতে পরতে রোমাঞ্চ ছড়ানো ষষ্ঠ অপেক্ষা করতে হয়েছে শেষ ম্যাচটি পর্যন্ত। যা আসরটিকে মাতিয়ে রেখেছে শেষ পর্যন্ত।

শ্রেণী:

নির্বাচনে আওয়ামী লীগের জয় ও বিএনপির পরাজয় প্রসঙ্গে সজীব ওয়াজেদ জয়

38 2PM

38 2PMউত্তরণ প্রতিবেদন: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের কেন নিরঙ্কুশ জয় হয়েছে এবং বিএনপির কেন পরাজয় ঘটেছে, সে বিষয়ে একটি ব্যাখ্যা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা ও তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়।
গত ১২ জানুয়ারি দুপুরে সজীব ওয়াজেদ জয় তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি স্ট্যাটাসের মাধ্যমে নির্বাচনের ফল নিয়ে ব্যাখ্যা দেন।
ঊঢ়ৎড়ঃযড়স অষড় ফেসবুক স্ট্যাটাসে জয় লিখেছেন, ‘সাম্প্রতিক নির্বাচনে ব্যালটের মাধ্যমে বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্টকে বাংলাদেশের মানুষ পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেছে। তাই তারা এখন তাদের বিদেশি প্রভুদের কাছে নালিশ করছে ও সাহায্য চাইছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যোগাযোগ ও লবিংয়ের মাধ্যমে তারা প্রমাণ করতে চাইছে যে নির্বাচনে কারচুপি হয়েছে, যা পরিসংখ্যান মোতাবেক একেবারেই অসম্ভব।’
সজীব ওয়াজেদ জয় বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগ বিএনপি থেকে প্রায় ৪ কোটি ৯০ লাখ বেশি ভোট পেয়েছে। এত বড় ব্যবধানের জয় কখনোই কারচুপির মাধ্যমে আদায় করা সম্ভব না। বিএনপি-ঐক্যফ্রন্ট বলছে ভয়ভীতির কথা। কিন্তু যদি আমরা ধরেও নিই, আওয়ামী লীগের বাইরের সব ভোট বিএনপি-জামায়াতের পক্ষেই যেত, তাহলেও ২ কোটি ২০ লাখ ভোটের ব্যবধান থাকত বিএনপি আর আওয়ামী লীগের মধ্যে।’ তিনি আরও বলেন, ‘তারপরও আমাদের সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা কেউ কেউ বিএনপির এই আন্তর্জাতিক লবিংয়ের সঙ্গে সমানতালে গলা মিলিয়ে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চাইছে। তাদের অভিযোগগুলোর উত্তর দেওয়ার পাশাপাশি আমি নিজেও কিছু কথা বলতে চাই।’
বিএনপি-ঐক্যফ্রন্টের অভিযোগের ব্যাখ্যা দিয়ে জয় লিখেছেন, ‘তাদের প্রথম অভিযোগ, ভোটার সংখ্যা ছিল অত্যধিক। তার মানে ভুয়া ভোট দেওয়া হয়েছে। এবার ভোট দেওয়ার হার ছিল ৮০ শতাংশ, যা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে সর্বোচ্চ নয়। ২০০৮ সালের “তত্ত্বাবধায়ক সরকারের” অধীনে নির্বাচনে ভোট দেওয়ার হার ছিল ৮৭ শতাংশ, যা এখন পর্যন্ত রেকর্ড। সেই নির্বাচনটিতেও আওয়ামী লীগ ৪৭ শতাংশ ভোট পেয়ে ব্যাপক ব্যবধানে জয় পেয়েছিল। ২০০১ সালে ভোট দেওয়ার হার ছিল ৭৫ দশমিক ৬ শতাংশ আর ১৯৯৬ সালে ছিল ৭৫ শতাংশ। ওই দুটি নির্বাচনের তুলনায় এবার ভোট দেওয়ার হার সামান্য বেশি ছিল, কারণ এক দশকে এটাই ছিল প্রথম অংশগ্রহণমূলক জাতীয় নির্বাচন।’
বিএনপির উদ্দেশে জয় বলেন, ‘আওয়ামী লীগ না-কি এবার ৯০ শতাংশ ভোট পেয়েছে। এই কথাটি পুরোপুরি মিথ্যা। আওয়ামী লীগ ভোট পেয়েছে ৭২ শতাংশ। মহাজোটের অন্য শরিকেরা পেয়েছে ৫ শতাংশের কম ভোট। এই ৭২ শতাংশও আওয়ামী লীগের জন্য সর্বোচ্চ না। কারণ, ১৯৭৩ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ পেয়েছিল ৭৩ দশমিক ২ শতাংশ ভোট। তখন যেমন স্বাধীনতা ও মুক্তিসংগ্রামে নেতৃত্ব দেওয়ার কারণে আওয়ামী লীগ বিশাল বিজয় পেয়েছিল, এবারের নির্বাচনেও আওয়ামী লীগের ভোট বাড়ার পেছনে আছে দুটি সুনির্দিষ্ট কারণ।’
আওয়ামী লীগ জয় পাওয়ার পেছনের কারণ ব্যাখ্যা করে জয় বলেন, ‘প্রথম কারণটি খুবই পরিষ্কার। আওয়ামী লীগ আমলে মানুষের জীবনমানের উন্নতি হয়েছে যে কোনো সময়ের থেকে বেশি। আমরা নিম্নমধ্যম আয়ের দেশ হয়েছি, মাথাপিছু আয় প্রায় ৩ গুণ বেড়েছে। দারিদ্র্যের হার অর্ধেক করা হয়েছে। মোটামুটি সবাই এখন শিক্ষার সুযোগ, স্বাস্থ্যসেবা ও বিদ্যুতের সুবিধা পাচ্ছে। বাংলাদেশের মানুষের জন্য যে উন্নয়ন আওয়ামী লীগ সরকার করেছে, তা এখন দৃশ্যমান।’
জয় বলেন, ‘আমাদের সুশীল সমাজ সব সময়ই বলার চেষ্টা করে বাংলাদেশের ভোটাররা না-কি পরিবর্তন চায়। এসব ঢালাও কথাবার্তা, যার কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। এ থেকেই বোঝা যায়Ñ আসলে তারা কতটা জনসম্পৃক্ততাহীন। আপনি যদি একজন সাধারণ মানুষ হন, এমনকি ধনী ব্যবসায়ীও হন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বাংলাদেশের অর্থনীতি যে হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে, তার সুফল আপনিও পাচ্ছেন। কেউ কেন এমন একটি সরকারের বিরুদ্ধে ভোট দিতে চাইবে, যাদের আমলে তার জীবন বা ব্যবসার উন্নতি ঘটেছে?’
দ্বিতীয় কারণ ব্যাখ্যা করে জয় বলেন, ‘আমাদের নির্বাচনী প্রচার কিন্তু গত বছর শুরু হয়নি। আমরা ২০১৪ সালের নির্বাচনের পর থেকে আমাদের প্রচারণা শুরু করে দিয়েছিলাম। জনগণের কাছে আমাদের উন্নয়নের বার্তা পৌঁছে দেওয়ার কোনো সুযোগই হাতছাড়া করিনি। আমরা তাদের বুঝিয়েছি, যা উন্নয়ন ও অগ্রগতি হচ্ছে, তা আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকার কারণেই হচ্ছে। অর্থনৈতিক ও সামাজিক যত উন্নয়ন দেখা যাচ্ছে, তার পেছনে আছে আমাদের দলের ভিশন, পরিকল্পনা, বাস্তবায়ন ও পরিশ্রম। যার কৃতিত্ব আমাদের দলীয় মন্ত্রী, সাংসদ, কাউন্সিলরসহ সবার। যখন আমাদের বিরোধী পক্ষ ও সুশীল সমাজ ব্যস্ত ছিল সমস্যা ও নালিশ নিয়ে, আমরা ব্যস্ত ছিলাম জনগণকে সমস্যার সমাধান দিতে।’ তিনি আরও বলেন, ‘সুশীল সমাজের একটি বড় অপপ্রচার হচ্ছে, নতুন ভোটাররা রাজনৈতিক দল নিয়ে মাথা ঘামায় না ও তাদের বেশির ভাগই না-কি পরিবর্তন চায়। তারা বুঝতে পারেনি যে এই নতুন ভোটাররা আমাদের আমলের উন্নয়নের মধ্যে বড় হয়েছে, যা তাদের জীবনকে করেছে আরও সহজ ও উন্নত। তারা কেন আমাদের ভোট দেবে না?’
আওয়ামী লীগের জনমত জরিপের কথা তুলে ধরে সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, ‘২০১৩ সাল থেকেই আওয়ামী লীগের জন্য আমি জনমত জরিপ করাই। আপনারা হয়তো খেয়াল করেছেন যে এবার কিন্তু সুশীল সমাজের পক্ষ থেকে কোনো জরিপ আসেনি। ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে কিন্তু তারা ঠিকই একের পর এক জরিপ প্রকাশ করছিল, দেখানোর জন্য আওয়ামী লীগের অবস্থা কত খারাপ। আসলে বাংলাদেশে খুব কম ব্যক্তি বা সংগঠনই সঠিকভাবে জনমত জরিপ করতে পারে। হার্ভার্ডে থাকতে আমি জনমত জরিপের ওপর পড়াশোনা করি। জরিপ করতে আমরা যাদের ব্যবহার করি, তাদের বাছাই করার আগে আমি নিজে একাধিক গবেষণা সংগঠনের সঙ্গে বসে আলাপ করি। ভুয়া জরিপ করে নিজেদের জনপ্রিয়তা দেখানোর কাজ আমরা করি না, কারণ আমাদের জন্যই সঠিক তথ্যটি পাওয়া খুবই জরুরি। আমরা জানতে চেষ্টা করি, নির্বাচনী লড়াইয়ে আমাদের অবস্থান ও সক্ষমতা, তাই জরিপের ব্যাপারে আমরা খুবই সতর্ক থাকি।’
জরিপ বিষয়ে জয় বলেন, ‘নির্বাচনের দুই সপ্তাহ আগে আমাদের জরিপ থেকে আমরা জানতে পারি, আওয়ামী লীগ পাবে ৫৭ থেকে ৬৩ শতাংশ ভোট আর বিএনপি পাবে ১৯ থেকে ২৫ শতাংশ ভোট। তাহলে আমরা ৭২ শতাংশ ভোট কীভাবে পেলাম? আমাদের জরিপের জন্য স্যাম্পল নেওয়া হয় ৩০০ আসন থেকে। অর্থাৎ ১০ কোটি ৪০ লাখ নিবন্ধিত ভোটারের মধ্যে থেকে। কিন্তু ভোট দেওয়ার হার কখনোই ১০০ শতাংশ হয় না, আর ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচন হয়েছিল ২৯৮টি আসনে। ২৯৮টি আসনে ১০ কোটি ৩৫ লাখ নিবন্ধিত ভোটারের মধ্যে ৮০ শতাংশ ভোট দিয়েছেন, অর্থাৎ ৮ কোটি ২৮ লাখ। আওয়ামী লীগ পেয়েছে প্রায় ৬ কোটি ভোট। ১০ কোটি ৩৫ লাখ ভোটারের মধ্যে ৬ কোটি মানে ৫৮ শতাংশ। অর্থাৎ আমাদের জরিপের সঙ্গে এই বিষয়টি মিলে যায়।’ তিনি বলেন, ‘কিন্তু বিএনপি-ঐক্যফ্রন্ট কেন এত কম ভোট পেল? কিছু যৌক্তিক কারণে। বিএনপির চেয়ারপারসন দুর্নীতির দায়ে দ-িত হয়ে জেলে আছেন। তাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসনও দ-িত আসামি, আছেন দেশের বাইরে পালিয়ে। তাদের সংগঠনের অবস্থা করুন। তার থেকেও বড় আরেকটি কারণ আছে, যা আমাদের সুশীল সমাজ সহজে বলতে চায় না। যেই কারণটি বিএনপির জনপ্রিয়তায় ধসের পেছনে সবচেয়ে বড় ফ্যাক্টর বলে আমি মনে করি।’
বিএনপির জনপ্রিয়তা হ্রাসের কারণ ব্যাখ্যা করে জয় বলেন, ‘জনমত জরিপগুলো থেকে খেয়াল করেছি যে, বিএনপি ২০১৩ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত যে অগ্নিসন্ত্রাস চালায়, তারপর থেকেই তাদের জনপ্রিয়তায় ব্যাপক ধস নামে। পেট্রলবোমা সন্ত্রাসের আগে জরিপগুলোয় বিএনপি আওয়ামী লীগ থেকে জনপ্রিয়তায় ১০ শতাংশ পিছিয়ে থাকত। কিন্তু রাজনীতির নামে সন্ত্রাসবাদের কারণে তাদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের ব্যবধান ৩০ শতাংশ হয়ে যায়, আর তারপর থেকেই বাড়তেই থাকে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এছাড়া তাদের আত্মঘাতী নির্বাচনী প্রচারণার বিষয়টিও আমাদের আমলে নিতে হবে। নির্বাচনী প্রচারণায় কমতি ছিল পরিষ্কারভাবেই। তার ওপর তারা তারেক রহমানের মাধ্যমে নিজেদের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার নেয়। আর মানুষের মনে ভেসে ওঠে হাওয়া ভবন আমলের দুর্নীতি ও সহিংসতার দুঃসহ সব স্মৃতি। তারেক রহমান আবার মনোনয়ন দেন একাধিক চিহ্নিত অপরাধী ও যুদ্ধাপরাধীকে। এর মাধ্যমে কি তাদের জনপ্রিয়তা বাড়বে, না কমবে?’ বিএনপির ব্যর্থতার কারণ ব্যাখ্যা করে জয় বলেন, ‘নির্বাচনের আগ মুহূর্ত পর্যন্ত তাদের সমর্থকদের তারা ইঙ্গিত দেয় যে তারা নির্বাচন থেকে সরে আসবে। আপনি যদি মনে করেন আপনার দল নির্বাচনেই আসবে না, তাহলে কি আপনি ভোট দেওয়ার জন্য প্রস্তুত হবেন? এই কারণে তাদের নিজেদের সমর্থকদেরও ভোট দেওয়ার হার কম ছিল, যার ফলশ্রুতিতে তারা ভোট পায়ও কম।’ তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপি-ঐক্যফ্রন্টের বার্তাই ছিল আওয়ামী লীগ খারাপ। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ সেই বার্তা গ্রহণ করেনি। কারণ, তারা নিজেরাই দেখেছে কীভাবে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তাদের জীবনমানের উন্নয়ন হয়েছে।’
ড. কামাল হোসেন প্রসঙ্গে জয় বলেন, ‘ঐক্যফ্রন্টের নেতা কামাল হোসেন নিজে নির্বাচনই করেন নি। কারণ, তিনি জানতেন, তিনি কোনো আসন থেকে জিততে পারবেন না। কিন্তু তারা আমাদের কিছুটা অবাকও করেছেন। ভোটের লড়াইয়ে প্রথমবারের মতো কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন গণফোরাম একটি নয়, দুটি আসন থেকে জয়লাভ করে। কারচুপি যদি হতোই, তাহলে যে দল আগে কোনো নির্বাচনেই কোনো আসন পায়নি, তারা কীভাবে দুটি আসনে জেতে?’
স্ট্যাটাসের শেষে জয় বলেন, ‘সত্য আসলে বেশি জটিল না। বাংলাদেশের জনগণ, বিশেষ করে তরুণেরা, দেখছে কীভাবে শেখ হাসিনার মতো একজন ডাইনামিক নেত্রী দেশকে উন্নতি ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। তাই বিরোধী পক্ষের শত অপবাদ, অপপ্রচার ও কাদা ছোড়াছুড়ি কোনো কাজে আসেনি। কারণ, দিন শেষে মানুষ তাকেই বেছে নেয়, যে তাকে উন্নত জীবন দিতে পারবে।’
ব্যালটের মাধ্যমে বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্টকে দেশের মানুষ প্রত্যাখ্যান করেছে বলে ফেসবুক স্টেটাসে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে ও তার তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। বাংলাদেশ সময় ১২ জানুয়ারি দুপুর ১২টা ২৩ মিনিটে তিনি এই স্টেটাস দেন।

শ্রেণী:

২০১৮ : ক্রিকেটময় একটি বছর

38 2PM

38 2PMআরিফ সোহেল: বাংলাদেশ নতুন স্বপ্ন-সম্ভাবনার রথে চড়ে যাত্রা শুরু করেছে নতুন বছরের। এগিয়ে যাচ্ছে সমৃদ্ধ বাংলাদেশÑ সমানতালে এগিয়ে যাবে এদেশের ক্রীড়াঙ্গনও। ক্রীড়াঙ্গনে ২০১৮ সালে সাফল্য রয়েছে, রয়েছে তেমনি ব্যর্থতাও। সর্বোচ্চ প্রাপ্তি ক্রিকেটে। প্রাপ্তি মেহেদি মিরাজ। তার তিন ফরম্যাটেই প্রাণবন্ত উপস্থিতি ক্রিকেটে নতুন আলোর বার্তা এনে দিয়েছে। তরুণ টেস্টে স্পিনার নাঈম হাসান সর্বকনিষ্ঠ বোলার হিসেবে ৫ উইকেট নিয়ে বিশ্ব রেকর্ড গড়েছেন। ক্রিকেট পাগল বাঙালিরা ২০১৮ বছরটিকে গভীরভাবেই মনে রাখবে অনেক দিন। সঙ্গে মেয়েদের ফুটবল, আর শুটিংয়ের অর্জন ছিল উল্লেখ করার মতো ক্রীড়াঙ্গনের ঘটনা।
পেছন ফিরে তাকালেই ভিড় করে একঝাঁক স্মৃতির মরীচিকা। পাওয়া না পাওয়ার যোগ-বিয়োগ। আর স্মৃতির অ্যালবামে শুধু বেদনাই থাকে না, থাকে আনন্দেরও উপলক্ষ। তাই যুগপৎভাবে ফিরে ফিরে আসে আনন্দ-বেদনার কাব্যকথা। আর এই আনন্দ-বেদনার হলাহল পান করেই এগিয়ে যেতে হয় অনিশ্চিত আগামীর পথে। ক্রিকেট এবং ফুটবলে নতুন প্রজন্ম আলোর মশাল হাতে তুলে নেওয়ার নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি হয়েছে।
সব মিলিয়ে ২০১৮ সালে বাংলাদেশ ৪৪টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ম্যাচ খেলেছে। তিন ফরম্যাটে জিতেছে ২১টি ম্যাচ। বড় প্রাপ্তি খেলেছে এশিয়া কাপের ফাইনালে। ওয়ানডেতে ২০টি ম্যাচে খেলে ১৩টিতেই জয় পেয়েছে মাশরাফি বাহিনী। ব্যর্থতা ছিল টি-২০ ও টেস্ট ম্যাচে। ৮টি টেস্টের জয় এসেছে মাত্র ৩টিতে, ড্র একটি। ১৬টি টি-২০তে বাংলাদেশ জিতেছে মাত্র ৪টিতে। সর্বাধিক ওয়ানডে খেলেছে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৫টি। জিতেছে সবকটিই। এবারও সিরিজ জিতেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে গিয়ে।
শ্রীলংকার বিপক্ষেও চার ম্যাচের দুটিতে জয় পেয়েছে লাল-সবুজের বাংলাদেশ। আফগানিস্তান আর ভারতের বিপক্ষে দুটি করে ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ। আফগানদের একটি ম্যাচে জিতলেও এশিয়া কাপের ফাইনাল এবং গ্রুপ পর্বে ভারতের কাছে দুটি ম্যাচই হেরেছে। পাকিস্তানের বিপক্ষে একটি ম্যাচ খেলে জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ।
২০১৮ সালে বাংলাদেশ সর্বোচ্চ ৪টি টেস্ট ম্যাচ খেলেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে। শ্রীলংকা ও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে খেলেছে দুটি করে। ক্যারিবীয়ানদের বিপক্ষে দুটিতে জিতলেও দুটি হেরেছে বাংলাদেশ। শ্রীলংকার বিপক্ষে একটিতে পরাজয় আর অপরটিতে ড্র করে সাকিবরা। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দুটি ম্যাচ টেস্ট সিরিজের একটি ম্যাচে হারলেও অন্যটি জিতেছে বাংলাদেশ।
২০১৮ সালে টাইগাররা মোট ১৬টি টি-২০ খেলেছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ৬টি ম্যাচ খেলেছে সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে। এর মধ্যে ৩টিতে জয়, ৩টিতে হার ছিল বাংলাদেশের। শ্রীলংকার বিপক্ষে চার ম্যাচের দুটিতে জিতেছিল বাংলাদেশ। আফগানদের বিপক্ষে তিন ম্যাচের সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হয়েছিল বাংলাদেশ। যা ছিল খুবই দুঃখজনক। আর ভারতের বিপক্ষেও এশিয়ার কাপ ক্রিকেটের ফাইনালসহ ৩টি ম্যাচের সবকটিই হেরেছে বাংলাদেশ।
টেস্ট, ওয়ানডে ও টি-২০ মিলিয়ে ২০১৮ সালে বাংলাদেশের হয়ে অভিষেক হয়েছে মোট ১৪ ক্রিকেটারের। তারা হলেনÑ সানজামুল ইসলাম, আবু জায়েদ রাহী, আরিফুল হক, নাজমুল ইসলাম অপু, মোহাম্মদ মিঠুন, খালেদ আহমেদ, নাঈম হাসান, সাদমান ইসলাম অনিক, আবু হায়দার রনি, নাজমুল হোসেন শান্ত, ফজলে মাহমুদ রাব্বি, আফিফ হোসেন, জাকির হাসান ও মেহেদি হাসান মিরাজ।
ক্রিকেটে নাঈমের বিশ্বরেকর্ডটি ছিল বছরের শেষ বড় প্রাপ্তি। ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে অভিষেকেই ৫ উইকেট নিয়েছেন বাংলাদেশের তরুণ স্পিনার নাঈম হাসান। ১৭ বছর বয়সে এই মাইলফলক অর্জন করে সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে এই কীর্তি গড়ার রেকর্ড গড়েছেন তিনি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বছরের শেষ টি-২০ সিরিজে বাংলাদেশ খুঁজে পেয়েছে ‘জয়’ পাওয়ার ক্লু। যা স্বপ্নের পাথেয় হয়ে স্পট লাইটে চলে আসতে পারে।
অন্যদিকে নারী ক্রিকেট দলের এই বছর সাফল্য মাত্র একটি। জুনে মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত ছয় জাতির এশিয়া কাপে ছয়বারের চ্যাম্পিয়ন ভারতকে ফাইনালে ৩ উইকেটে হারিয়ে নতুন রেকর্ড গড়েছিল রুমানা-জাহানারারা। তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজে অনুষ্ঠিত আইসিসি টি-২০ নারী বিশ্বকাপের ক্যাম্পেইনটা ভালো কাটেনি বাংলাদেশের। এ বছর ২৪টি টি-২০ খেলে ১২টিতে জয় পেয়েছে নারী ক্রিকেট দল।
২০১৮ সালে পুরুষ ফুটবল দল আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছে ৮টি। জিতেছে ৩টি, হেরেছে ৪টি, ড্র করেছে একটি। বছরের শুরুতে ফিফা র‌্যাংকিং ছিল ১৯৭, আর শেষ করে ১৯২-এ অবস্থান করে। বছরের শেষ দিকে বাংলাদেশ জাতীয় দল অংশ দেয় সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ ও বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ। প্রমীলা ফুটবল দল বয়সভিত্তিক প্রতিযোগিতায় স্থান পোক্ত করে নিয়েছে। তবে সাফ অনূর্ধ্ব-১৫ চ্যাম্পিয়নশিপে ফাইনালে ভারতের কাছে ১-০ গোলে হেরে শিরোপা হাতছাড়া হয়েছে বাংলাদেশের। সেপ্টেম্বরে ঢাকায় অনুষ্ঠিত এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ চ্যাম্পিয়নশিপের বাছাইয়ে বাংলাদেশ অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়। অক্টোবরে ভুটানেও সাফল্য আসে, সাফ অনূর্ধ্ব-১৮ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের মেয়েরা ফাইনালে ১-০ গোলে হারায় নেপালকে। বছরের শেষ দিকে মেয়েরা অংশ নেয় মিয়ানমারে অনুষ্ঠিত টোকিও অলিম্পিক গেমস বাছাইপর্বে। তবে প্রত্যাশিত সাফল্য পায়নি। চার দলের গ্রুপে তাদের সংগ্রহ মাত্র ১ পয়েন্ট।
এশিয়ান গেমস ফুটবলে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল প্রথম ম্যাচে হেরে বসেছিল উজবেকিস্তানের বিপক্ষে। পরের ম্যাচে শক্তিশালী থাইল্যান্ডকে রুখে দেয় ১-১ গোলে। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে বিশ্বকাপের আয়োজক কাতারকে হারিয়ে দেয় ১-০ গোলে। যা বাংলাদেশের ফুটবলে এ বছরের অন্যতম এক প্রাপ্তি। শেষ ষোলোয় বিশ্বকাপ খেলা শক্তিশালী উত্তর কোরিয়ার জালে ম্যাচ হারলেও দিয়েছিল ১ গোল।
গত বছর হকিতে সব থেকে বড় সাফল্য পায় বাংলাদেশ। এশিয়ান গেমসের গেল আসরে ষষ্ঠ স্থান অধিকার করে জিমি-চয়নরা। আগামী এশিয়ান গেমস হকিতে সরাসরি অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছে বাংলাদেশ। তবে নারী হকিতে নতুন দিগন্তের সূচনা হয়েছে ২০১৮ সালে। নতুন করে যাত্রা শুরু হয় বাংলাদেশ নারী হকি দলের। ফেলে আসা বছরে আন্তর্জাতিক সিরিজে অংশগ্রহণ করে কলকাতা অ্যাথলেটিক ওয়ারিওর্সের বিপক্ষে তিন ম্যাচের দুটিতে জয় পায় বাংলাদেশের প্রমীলা হকি দল।
এ বছর সব থেকে বড় ব্যর্থতা এশিয়ান গেমসে। ১৪ ডিসিপ্লিনে ১১৭ ক্রীড়াবিদ অংশ নিলেও পদকশূন্য থেকেই ইন্দোনেশিয়া থেকে দেশের ফিরে বাংলাদেশ। দেশে ও বিদেশে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েও গত বছর খুব একটা সাফল্যের ছাপ রাখতে পারেনি বাংলাদেশ। পুরুষ ক্রিকেট দল, বাংলাদেশের বয়সভিত্তিক নারী ফুটবল দলের সাফল্য ছাড়া উল্লেখযোগ অর্জন শুধু শুটিংয়েই।
এছাড়াও বাংলাদেশে সরকার অনুমোদিত যেসব খেলা হয়, তার মধ্যেÑ ভারোত্তোলন, হ্যান্ডবল, কারাতে, তায়কোয়ান্দো, ভলিবল, কুস্তি, ব্যাডমিন্টন, টেনিস, টেবিল টেনিস, বাস্কেটবল, জিমন্যাস্টিকস, খো খো, শরীর গঠন, ক্যারম, স্কোয়াশ, বিলিয়ার্ড অ্যান্ড স্নুকার, মার্শাল আর্ট, সাইক্লিং, ব্রিজ, রোলার স্কেটিং। এসব খেলার মধ্যে কোনো কোনো খেলা দীর্ঘদিন চর্চা হলেও আন্তর্জাতিক সাফল্য নেই। আবার কোনো খেলা থেকে সাফ গেমসে ছিটেফোঁটা পদক পাওয়া গেছে।
শুটিংয়ে এশিয়ান গেমসে কিছু দিতে পারেনি। তবে গোল্ড কোস্ট কমনওয়েলথ গেমসে দুটি রুপা এনে দিয়েছে শুটিং। দুটিতেই অবদান ছিল আবদুল্লাহ হেল বাকির। ১০ মিটার এয়ার রাইফেলে ব্যক্তিগত ইভেন্টে অল্পের জন্য স্বর্ণ হাতছাড়া হয়েছে দেশসেরা এই শুটারের। দলগত ইভেন্টেও শাকিল আহমেদের সঙ্গে রৌপ্য জিতেছেন বাকি।
ক্রীড়াবান্ধব আওয়ামী লীগ সরকার যখনই ক্ষমতায়, তখনই এ দেশের ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়ন-অগ্রগতি-সমৃদ্ধি রচিত হয়েছে। অর্জিত হয়েছে সাড়া জাগানিয়া সাফল্য। ক্রিকেট-ফুটবল-হকি-শুটিং-ভারোত্তোলন-আরচারি-সাঁতার-ভলিবলের আন্তর্জাতিক আসর থেকে লেগেছে বাঙালি জাতির মাথায় গৌরবের পালক। জাতির পিতার মতো মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও খেলা-পাগল। সময়-সুযোগ পেলেই ছুটে যান স্টেডিয়ামে। অনুপ্রাণিত করেন খেলোয়াড়দের। শেখ হাসিনা দেশ গঠনের রূপকল্প-২০২১ ও রূপকল্প-২০৪১-এ ক্রীড়াঙ্গনকে আলাদা মর্যাদার জায়গায় রেখেছেন।
সাফল্য ব্যর্থতার মধ্য দিয়ে ক্রীড়াঙ্গনের একটি বছর শেষ হয়েছে বাংলাদেশের। যেখানে সহজ-সরল প্রাপ্তি আর অপ্রাপ্তির হিসাব মেলাতে গেলেও অঙ্কের হিসাব মিলতে চায় না। থাকে একটা আশা-নিরাশার দোলাচল। শুরু হওয়া নতুন বছর তার ব্যতিক্রম হবে তা ভাবার অবকাশ নেই। তবে ২০১৯ সাল সাফল্যের আলোয় উদ্ভাসিত হয়ে উঠুক ক্রীড়াঙ্গনÑ আসুন সেই স্বপ্নে বুক বাঁধি।

শ্রেণী:

বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ ফুটবলে ফিলিস্তিন চ্যাম্পিয়ন

11-6-2018 6-20-46 PM

11-6-2018 6-20-46 PMঅনিন্দ্য আরিফ : ইতিহাসের রেকর্ড বুকে স্বর্ণখোদাই অক্ষরে ছাপা বাংলাদেশে অন্যতম জনপ্রিয় খেলা ফুটবল। গ্রামে-বিলে-ঝিলের কোণায়, স্টেডিয়াম-মাঠে-ঘাটে-উঠানে ফুটবল জড়িয়ে আপন মহিমায়। সেই মহিমাকে সমুজ্জ্বল রাখতেই অতিথি দেশ নিয়ে ফুটবল আসরের আয়োজন নতুন নয়। ফিফা-এএফসির পাশাপাশি নিজস্ব আঙিনায় আন্তর্জাতিক আসর আয়োজনের বিষয়টি একটি দেশের জন্য গৌরবের। সেই কারণে বাংলাদেশে ১৯৯৬ সাল থেকে শুরু করা হয়েছে জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমানের নামে ‘বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট’। তবে নানা কারণে এই ফুটবল টুর্নামেন্টের নিয়মিতভাবে আয়োজিত হয়নি।
সর্বশেষ ২০১৮ সালে স্বাগতিক হয়েও সেমিফাইনালেই আটকে গিয়েছে বাংলাদেশ। তারপরও বঙ্গবন্ধু জাতীয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টকে ঘিরে নতুন করে ফুটবল উৎসব-গল্প সৃষ্টি হয়েছে। সৃষ্টি হয়েছে নবজাগরণ। ছয় জাতির আসরে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে যুদ্ধবিধ্বস্ত ফিলিস্তিন। বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ফাইনালে তারা টাইব্রেকারে ৪-৩ গোলে হারিয়েছে প্রতিপক্ষ তাজিকিস্তানকে। টুর্নামেন্টের ছয় দলের মধ্যে র‌্যাংকিংয়ের শীর্ষে থাকা ফিলিস্তিন টপ ফেভারিট হিসেবে আসর শুরু করেছিল।
ক্রীড়াবান্ধব প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত থেকে ট্রফি ও ৫০ হাজার ডলারের চেক গ্রহণ করেছেন বিজয়ী ফিলিস্তিন। আর রানার্স-আপ তাজিকিস্তানকে প্রাইজমানি হিসেবে ২৫ হাজার মার্কিন ডলার তুলে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তবে সবাইকে ছাপিয়ে এই আসরে সেমিফাইনাল থেকে সিটকেপড়া বাংলাদেশের বিপুল আহমেদ হয়েছেন টুর্নামেন্টের উদীয়মান খেলোয়াড়। পাশাপাশি ফেয়ার প্লে ট্রফিও ঘরে তুলছে স্বাগতিক বাংলাদেশ। পুরস্কার মঞ্চে এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি কাজী মো. সালাউদ্দিনসহ অন্য কর্মকর্তারা।
গত ১২ অক্টোবর সন্ধ্যায় বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ আন্তর্জাতিক আসরের ফাইনাল সরাসরি উপভোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে বলেন, শত ব্যস্ততার মাঝে আমি যখনই সুযোগ পাই, খেলা দেখার জন্য স্টেডিয়ামে ছুটে যাই। আসলে খেলাধুলার প্রতি ভালোবাসা আমার রক্তের মধ্যেই রয়েছে। তিনি বলেন, জাতির পিতা খেলাধুলা করতেন। স্কুলজীবনে তিনি ছিলেন একজন সেরা ফুটবল খেলোয়াড়। আমার দাদাও ফুটবল খেলতেন। শেখ কামাল ও শেখ জামাল ভালো খেলোয়াড় ছিলেন। সাংগঠনিক ক্ষেত্রেও তারা অনেক দক্ষতা দেখিয়েছেন। আমাদের পরিবারের আরেক সদস্য সুলতানা কামাল খুকুও ছিলেন বিশিষ্ট ক্রীড়াবিদ।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, খেলাধুলা যুবসমাজকে বিপথে গমন থেকে রক্ষা করে। মাদক, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ থেকে দূরে রাখে। আমার বিশ্বাস, যুবসমাজকে যদি আমরা ক্রীড়া কর্মকা-ের মাধ্যমে সক্রিয় রাখতে পারি, তাহলে সহজেই এদেশ থেকে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ নির্মূল করতে পারব। যুবসমাজ এদেশের সম্পদ। উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে এই যুবশক্তিকে কাজে লাগাতে হবে।

শ্রেণী:

হেরেও এশিয়া কাপে উজ্জ্বল বাংলাদেশ

Posted on by 0 comment
PM

PMক্রীড়া ডেস্ক: বাংলাদেশ এশিয়া কাপ ক্রিকেটের ফাইনাল খেলবে, খেলবে নাÑ এমন কল্পনা-আশা দুটিই ছিল। তবে তামিম-সাকিবের দলের বাইরে চলে যাওয়ার পরও তা ছিল এক অভাবিত স্বপ্ন। কিন্তু সুপার ফোরে পাকিস্তানকে উড়িয়ে দিয়ে স্বপ্নরথ রচিত হয়েছিল।
টস শেষে ব্যাটিং ইনিংসের সূচনার পর শতভাগ সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছিল ফাইনাল ম্যাচ শুরুর পর থেকে। বিশেষ করে উদ্বোধনী জুটিতে ভারতের বিপক্ষে রেকর্ড রান; লিটন-মিরাজের অসাধারণ পার্টনারশিপ। যেনÑ সব সম্ভাবনাই ঝুঁকে পড়েছিল আবেগপ্রবল ক্রিকেটপ্রেমী বাঙালিদের ওপর। কিন্তু সেই বাংলাদেশ মধ্য ইনিংসে ভারতীয়দের কালো থাবায় রঙিন স্বপ্ন ফানুস হতে লাগল। বাংলাদেশ এক ব্যাটিং-নায়ক লিটন দাশ সৌম-মিরাজে ২২২ রানে থিতু হয়েছিল। যা নিয়ে ভারতের প্রলম্বিত ব্যাটিং লাইনআপের বিপক্ষে জয়ের স্বপ্ন দেখা ছিল অবিশ্বাস্য। রোহিত-ধনি-ধাওয়ানরা এই রানের পর হয়তো ঘুমের জয়ের স্বপ্ন বিভোরই ছিলেন। অথচ ওই রান নিয়েই বাংলাদেশ ভারতকে শাসন করেছে শেষ বল পর্যন্ত। ভাগ্যদেবী বাংলাদেশের আসনে নেমে এলে নাম লেখা হতো দুঃস্বপ্ন জয়ের আখ্যানে। এশিয়া কাপটা ধরা নেমে এসেও যেন আসছে না। এ নিয়ে তিনবার ফাইনালে বাংলাদেশের স্বপ্ন-প্রত্যাশা ভেঙেচুরে খানখান হয়ে গেল। এর আগে ২০১৪ এবং ২০১৬ সালে বাংলাদেশ ফাইনালে গিয়েও শিরোপার দেখা পায়নি।
বাংলাদেশের দুই ওপেনার লিটন এবং মিরাজ অসামান্য শুরু করেছিলেন। যেভাবে তারা খেলছিলেন, একসময় মনে হচ্ছিল ৩০০ রান সহজেই উঠবে। কিন্তু, তখনই নামে ধ্বংসের প্রবলতা। তবে রূপকথার ইনিংস খেলেছেন লিটন দাশ। দলকে দারুণ একটা শুরুই শুধুই দেয় নি, করেছেন ক্যারিয়ারের প্রথম শতরানও (১২১)। মুস্তাফিজ-রুবেল-মাশরাফিতে ভারতের ইনিংসে নেমে এসেছিল আশঙ্কার মেঘ।
বাংলাদেশ হেরে গেলেও এমন হারে লজ্জার ছিটোফোঁটাও নেই। এই হার গৌরবের। এই হার বাংলাদেশের ওপর আইসিসির চাপিয়ে দেওয়া হার। লিটন দাশের আউটটি কতটা অন্যায়Ñ তা নিয়ে বিশ্ব মিডিয়ায় এখনও তোলপাড় চলছে। এশিয়া কাপে ভারতকে কাঁপিয়ে-নাচিয়ে শেষ হাসি হাসতে না পারলেও এমন ম্যাচ বাংলাদেশের প্রতি আসরে, প্রতি ম্যাচে অনুপ্রাণিত করবে।
ক্রিকেট নিয়ে স্বপ্ন দেখা নতুন নয়। বাঙালিদের চিরায়ত আনন্দ-বিনোদনের সঙ্গে ক্রিকেট কতটা মিশে আছে; তা এবারও প্রমাণিত হয়েছে এশিয়া কাপে। গ্রুপ পর্বে এক ম্যাচ খেলে আউট তামিম, ফাইনালের আগেই নেই সাকিব। তারপরও বাংলাদেশ পাকিস্তান-শ্রীলংকা-আফগানদের হটিয়ে ফাইনালে উঠেছিল। আর ফাইনালে ভাগ্যের কাছেই হেরে গেছে বাংলাদেশ।
এশিয়া কাপের প্রাপ্তি সহজভাবে রানার্সআপ। কিন্তু আসলে কী তাই! যখনই এশিয়ার আসর ফিরে আসবে; ফিরে আসবে দুর্দান্ত বাংলাদেশের নাম। তবে তার চেয়েও বেশিÑ বাংলাদেশের মিডল অর্ডার সুপার ফ্লপ, লোয়ার মিডল অর্ডারেও ধস, লিটন দাশ তৃতীয় বিচারকের অন্যায় আউটের শিকার, ৪৮তম ওভারে রুবেল দুর্দান্ত বলে ‘আনারি’ ভুবনেশ্বরের ছক্কা, শেষ ওভারে লেগ বাইÑ এসব রাজ্যের ‘যদি-কিন্তু’র যোগফলের সমীকরণ ঠঁাঁই করে নেবে ক্রিকেট উৎসাহী বাংলাদেশের সমর্থকদের স্মৃতির মণিকোঠায়।

শ্রেণী:

মেয়েদের নৈপুণ্যে আবারও আলোকিত ফুটবল

Posted on by 0 comment
PM

PMআরিফ সোহেল: বাংলাদেশের কিশোরী ফুটবলাররাÑ বুদ্ধিমত্তা, ক্ষিপ্রতা, অসীম ধৈর্য, অদম্য ইচ্ছেশক্তি, দুর্দান্ত টেকনিক-ট্যাকটিস, আর দুরন্ত গতি দিয়ে উড়িয়ে দিয়েছে একে একে চার প্রতিপক্ষকেই। যদিও শেষ ম্যাচে প্রতিপক্ষ ভিয়েতনাম নিয়ে ভয় ছিল। কিন্তু বাংলাদেশের কিশোরীরা সেই ভয়কে অবলীলায় জয় করেছে। করেছেন স্বপ্ন পূরণ। এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ নারী ফুটবলের ‘এফ’ গ্রুপে শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট অর্জন করেছে বাংলাদেশ।
২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮ কমলাপুরের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে ভিয়েতনামকে হারিয়েছে টানা চার জয়ে ১২ পয়েন্ট তুলে নিয়েছেন আঁখি-তহুরারা। এই জয়ে এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ নারী ফুটবলের বাছাই পর্বের দ্বিতীয় রাউন্ডে খেলবে বাংলাদেশ।
গ্রুপপর্বে প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশের মেয়েরা বাহরাইনকে ১০-০ গোলে, এরপর লেবাননকে ৮-০ গোলে এবং সবশেষে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে ৭-০ গোলে হারিয়ে স্বপ্ন-প্রত্যাশার ঘুড়ি উড়িয়েছিল। আর অলিখিত ফাইনালে ভিয়েতনামকে ২-০ গোলের ব্যবধানে হারিয়ে ‘এফ’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন হয়ে লাল সবুজের প্রতিনিধিরা রাঙিয়েছে ঘুড়ির আকাশ।
বাংলাদেশ-ভিয়েতনামÑ আগের তিন ম্যাচে সব সমীকরণেই ছিল সমপর্যায়ে। দু-দলেরই ২৫টি গোল ছিল ঝুড়িতে। তাই জয় ভিন্ন পথ খোলা ছিল না। চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সেই ম্যাচে দারুণ জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে দলের হয়ে গোলের সূচনা করেছেন তহুরা খাতুন। আর দ্বিতীয়ার্ধে ব্যবধান দ্বিগুণ করেছেন আঁখি খাতুন।
২০১৬ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত বাছাইপর্বে চ্যাম্পিয়ন হয়েই চূড়ান্তপর্বে নাম লিখিয়েছিল বাংলাদেশ। গতবারের চেয়ে এবার দলসংখ্যা বেড়েছে বাছাইপর্বে। তাই গত আসরের মতো গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হলেই চূড়ান্ত পর্বে যাওয়ার সুযোগ থাকছে না। ছয় গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন এবং সেরা দুই রানার্সআপ দলকে খেলতে হবে দ্বিতীয় রাউন্ডে। আগামী বছর ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হবে চূড়ান্ত পর্বে যাওয়ার লড়াই।
এই প্রতিযোগিতায় গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হলেই এশিয়ার বড় বড় দলের সঙ্গে খেলবে বাংলাদেশ। চূড়ান্ত পর্বে খেলবে ৮টি দল, ৪টি গতবারের চার সেমিফাইনালিস্ট দক্ষিণ কোরিয়া, উত্তর কোরিয়া, জাপান ও চীন। আর থাইল্যান্ড খেলবে সরাসরি স্বাগতিক দল হিসেবে। পাশাপাশি বাছাই থেকে আসবে অস্ট্রেলিয়ার মতো দল। তাই ওই সেরা দলগুলোর সঙ্গে চূড়ান্ত পর্বে খেলতে পারা হবে বাংলাদেশের কিশোরীদের বড় অর্জন।
মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে দুটি আন্তর্জাতিক ফুটবল টুর্নামেন্ট চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশের কিশোরী ফুটবলাররা। দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণই মেয়েদের ফুটবলে প্রতিভাবান প্রজন্ম তৈরি করছে। স্বপ্নের ডালাপালা খুঁজে ফিরছে আকাশ উচ্চতা। উল্লেখ্য, মেয়েরা প্রায় দুই বছরের বেশি সময় ধরে একই ছাতার নীচে অনুশীলন করে যাচ্ছে। মেয়েদের হাত ধরেই নতুন করে আলোকিত হচ্ছে ফুটবল। বিপুল জনপ্রিয় ফুটবলে আবারও সৃষ্টি হয়েছে সম্ভাবনার ইতিবাচক বাতাবরণ।

শ্রেণী:

সাফ-গৌরব ফিরে পাওয়ার স্বপ্ন

uttaran

uttaran আরিফ সোহেল: ৩১ আগস্ট ২০১৮। সাফজয়ী ফুটবলারদের মিলনমেলা। তাদের শুভ কামনায় অনুপ্রাণিত হচ্ছেন তাদের উত্তরসূরিরা। তারা পণ করেছেনÑ এবার ঘরের মাঠে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ের। তাতে অভ্যাগতরা আবারও সাফ-গৌরব ফিরে পাওয়ার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন।
ঘরের মাঠে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ ২০১৮। এই আসরের উন্মাদনা-আবেদন-নিবেদন ছড়িয়ে দিতেই দীর্ঘ ১৫ বছর পর এমন আয়োজন। আয়োজক বাংলাদেশ ক্রীড়ালেখক সমিতি [বিএসপিএ]। সেখানে সম্বর্ধিত হয়েছেন ২০০৩ সালে সাফজয়ী ফুটবলাররা। দেশের ফুটবল ইতিহাসে ওই শিরোপা জয়ই সবচেয়ে বড় মর্যাদার অর্জন বাংলাদেশের। পুরনো-নতুনের বেগ-আবেগের আবীর ছড়ানো পরিবেশে শিরোপাজয়ী জয়-রজনী-মামুন-মনি-কাঞ্চন-আমিনুলরা ফুটবলের সোনালি অতীতের কথা রোমন্থন করেছেন। তা মুগ্ধতার সঙ্গে শুনেছেন বর্তমান সাফ শিরোপা প্রত্যাশী বাংলাদেশ দলের ফুটবলাররা। ফলে আবেশের রং ছড়ানো সুর-মূর্ছনায় সেখানে বেজে উঠছে ফুটবলের নতুন সম্ভাবনার আলো। ভিন্নমাত্রার পরিবেশে পুরনোদের স্মৃতিকথা, দৃঢ়তা, দেশের প্রতি কমিটমেন্টÑ সবমিলিয়ে সাফে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্নটা আরও একবার উসকে দিয়েছে এশিয়ান গেমসে দুর্দান্ত ‘টিম বাংলাদেশকে’।
বাংলাদেশ ফুটবলের হতাশার সময়ে এবারের এশিয়ান গেমস স্বস্তি এনে দিয়েছে। নতুন ইংলিশ কোচ জেমি ডের হাত ধরে অনূর্ধ্ব-২৩ দল এশিয়ান গেমসের প্রথম ম্যাচে উজবেকিস্তানের কাছে ৩-০ গোলে হারলেও পরের ম্যাচেই ঘুরে দাঁড়িয়েছিল। ড্র করে শক্তিশালী থাইল্যান্ডের সঙ্গে। আর ২০২২ সালের বিশ্বকাপ ফুটবলের আয়োজক কাতারের মতো ‘বিগ জায়ান্ট’কে হারিয়ে শেষ ষোলোতে উঠে আরেকটি ইতিহাসের পাতা খুলেছে বাংলাদেশ। পরের লড়াইয়ে এশিয়ার পরাশক্তি উত্তর কোরিয়ার কাছে ৩-১ গোলে হারলেও বাংলাদেশের তরুণদের সাহসী পারফরমেন্স নজর কেড়েছে সবার। ফলে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত সাফ ফুটবলের আসরকে ঘিরে নতুন আলোর দ্রুতি সঞ্চারিত হচ্ছে। নিরাশার ফুটবলে হঠাৎ করেই আশার বাতি জ্বলে উঠছে। সেই বাতি জ্বালিয়েছে এশিয়ান গেমসে অনবদ্য সাফল্য।
uttaran2বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গন এখন আবর্তিত-বিবর্তিত ঢাকায় অনুষ্ঠেয় ওই সাফ চ্যাম্পিয়নশিপকে ঘিরেই। বড় আসরে কাতারকে হারানো যায়, সেক্ষেত্রে পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর বিপক্ষে জয় পাওয়া কঠিন নয়। ইংল্যান্ডের উয়েফা লাইসেন্সধারী এই কোচ প্রথম আসরেই কিছু একটা দিতে পারেন; অনেকেই ভেবে ফেলেছেন। তবে বাংলাদেশের ইংলিশ কোচ জেমি ডে বারবারই সেই আশায় রাশ টেনে ধরেছেন। তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন, গত তিন আসরে বাংলাদেশ বিদায় নিয়েছে গ্রুপ পর্ব থেকেÑ সেই পুরনো কথা। স্বাগতিক হয়ে সেই লজ্জার আবরণ সরিয়ে ব্রিটিশ কোচ কি পারবেন বাংলাদেশ ফুটবলের ভাগ্য বদলাতে! এমন আলোচনার পারদ ছুঁয়ে দেখছে আকাশ সীমানা। স্বপ্ন জয়Ñ এক কঠিন লড়াই। তাই জেমি ডেÑ দল নির্বাচনে তারুণ্যের জয়গান গাইলেও অভিজ্ঞদের রেখেছেন ‘ভারে কাটার জন্য’। একটি হিসাব তাকে বেশ পোড়াচ্ছে। কারণ দীর্ঘদিন জাতীয় ফুটবল দলের কোনো আন্তর্জাতিক ম্যাচ ছিল না। ২০১৭ সালে জাতীয় দলের জার্সি গায়ে জড়িয়ে একটি ম্যাচও খেলেন নি সিনিয়ররা। তারা সময় পার করেছেন ক্লাবের হয়ে খেলেই। ম্যাচ না খেলায় র‌্যাংকিংয়েও অবনমন হয়েছে বাংলাদেশের। তবে ব্যস্ত ছিল বয়সভিত্তিক দল। বড় কোনো ট্রফি না জিতলেও বয়সভিত্তিক বাংলাদেশের হয়ে তারুণ্যের পতাকাবাহীরা মাঠে সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন। যার শেষ প্লট এশিয়ান গেমসে রূপায়িত করেছেন জুনিয়ররা।
প্রস্তুতি শেষ। চলছে আসর আয়োজনের ব্যাপক তোড়জোড়। ৪ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে সেই কাক্সিক্ষত সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ। ৪-১৫ সেপ্টেম্বর এই আসর অনুষ্ঠিত হবে জাতির পিতার নামাঙ্কিত বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে। সাত জাতির এই আসরে বাংলাদেশ খেলছে ‘এ’ গ্রুপে। প্রতিপক্ষ ভুটান, নেপাল ও পাকিস্তান। ‘বি’ গ্রুপে ভারত, মালদ্বীপ ও শ্রীলংকা। উদ্বোধনী দিনের দ্বিতীয় ম্যাচেই স্বাগতিক বাংলাদেশ মাঠে নামছে। প্রতিপক্ষ ভুটান। এর আগে ১২তম এই আসরের পর্দা উঠছে নেপাল-পাকিস্তানের ম্যাচ দিয়ে। এই আসরের আগে বাংলাদেশ আরও দুবার সাফ আয়োজন করেছে। এর মধ্যে ২০০৩ চ্যাম্পিয়ন, ২০০৯ সালে বাংলাদেশ সেমিফাইলে হেরেছে ভারতের কাছে। এবার তৃতীয়বারের মতো সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ আয়োজন করছে বাংলাদেশ। পরিসংখ্যান থাকছে বাংলাদেশের পক্ষেই। দেশের মাটিতে বাংলাদেশ এগিয়েই থাকে।
সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ ফুটবল আসরকে বলা হয় দক্ষিণ এশিয়ার বিশ্বকাপ। সার্ক গোল্ডকাপ নামে দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবল টুর্নামেন্ট যাত্রা শুরু করেছিল ১৯৯৩ সালে পাকিস্তানের লাহোর থেকে। চার দল নিয়ে হয়েছিল ওই টুর্নামেন্ট। বাংলাদেশ প্রথম আসরে অংশ নেয়নি। দুই বছর পর শ্রীলংকায় এই টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় আসরে সেমিফাইনালে ভারতের কাছে হেরে বিদায় নিয়েছিল বাংলাদেশ। পরের দুই আসরে বেহাল বাংলাদেশ। তবে ১৯৯৯ সালে ভারতের গোয়ায় অনুষ্ঠিত পঞ্চম আসরে বাংলাদেশ রানার্স আপ হয়েছে। ফাইনালে হেরে যায় সেই ভারতের কাছেই। আর ২০০৩ সালে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত আসরে স্বপ্নপূরণ হয় বাংলাদেশের। ঢাকায় অনুষ্ঠিত এই আসরে বাংলাদেশ অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়। ফাইনালে টাইব্রেকারে মালদ্বীপকে হারিয়ে রজনী-মামুন-কাঞ্চনরা উড়িয়েছেন লাল-সবুজের পতাকা। এরপর থেকেই সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশ পরিণত হয় আন্ডারডগে। ২০০৫ সালে পাকিস্তানের করাচিতে বাংলাদেশ ফাইনালে উঠলেও পরের আসরগুলোতে বাংলাদেশ চরমভাবে ব্যর্থ। এর মধ্যে ২০০৯ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত আসরে সেমিফাইনালে ওঠাটাই ছিল বাংলাদেশের জন্য বড় কিছু।
এ মুহূর্তে ফুটবলের র‌্যাংকিংয়ের চরম তলানীতে বাংলাদেশ। কিন্তু সবুজ-শ্যামলা বাংলাদেশে এখনও তা মরে যায়নি। ২৮ আগস্ট নীলফামারীতে বাংলাদেশ-শ্রীলংকা সাফের প্রস্তুতি ম্যাচে তা আবারও প্রমাণিত হয়েছে। ক্রীড়া অন্তঃপ্রাণ ‘শেখ কামালের’ নামাঙ্কিত স্টেডিয়ামে রোদ মাথায় উপচেপড়া ভিড়, সত্যিই ধাঁধিয়ে দিয়েছে ফুটবল যাত্রাপথকে। নতুন করে উজ্জীবিত হয়েছে ফুটবলের উৎসব-গল্প। বাঙালি হৃদয়ে এখনও ফুটবল প্রেম-ভালোবাসা জাগরূক মহীরুহের মতোই। এখনও উচ্ছ্বাস-আনন্দ-উদযাপনে ফুটবলের জয়-জয়কার। নীলফামারীতে ৪টা ম্যাচ; অথচ দুটায়ই তিল ধারণের ঠাঁই ছিল নাÑ তাতে সেই সত্যই ভেসে উঠেছে মাঠের ক্যানভাসে।
এশিয়াডে খেলা নিয়মিত একাদশের ১০ জনকে বাইরে রেখে অভিজ্ঞদের নিয়ে নবীন শ্রীলংকার বিপক্ষে বাংলাদেশকে এই ম্যাচে একটু হসপচ মনে হয়েছে। দল নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে গিয়ে র‌্যাংকিংয়ের নিচের দল শ্রীলংকার কাছে হেরেও গেছে। তারপরও এখানে বিপুল দর্শকের উপস্থিতি প্রমাণ করেÑ এখানে হার বড় কথা নয়, জয় হয়েছে ফুটবলেরই।
বাংলাদেশের ফুটবলে হঠাৎ করেই বর্ণিল রং লেগেছে। এশিয়ান গেমসে দুর্দান্ত পারফরমেন্সের পর ফুটবল নিয়ে নতুন আশা জেগেছে। ঘরের মাঠে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশ শুধু ফেভারিটই নয়, হট ফেভারিট হয়েই শুরু করবেÑ এমন স্বপ্ন-প্রত্যাশায় বুক বেঁধেছেন বাঙালিরা।

শ্রেণী:

উইন্ডিজে বাংলাদেশ সিরিজ জয়

Posted on by 0 comment
8-6-2018 6-55-08 PM

8-6-2018 6-55-08 PMউত্তরণ ডেস্ক: ওয়ানডে সিরিজে হোয়াইটওয়াশই করতে পারত বাংলাদেশ। কিন্তু হেরে গেছে ভাগ্যের কাছে। তবে বাংলাদেশের সিরিজ জয়ে বাধা সৃষ্টি করতে পারেনি ওয়েস্ট ইন্ডিজ। প্রথম ম্যাচে ৪৮ রানের জয়ের পর দ্বিতীয় ম্যাচে ৩ রানে হারা বাংলাদেশÑ সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে ১৮ রানের ব্যবধানে হারিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে।
ওয়ানডে সিরিজে সব ম্যাচেই ব্যাটের রানের খরা কাটিয়েছে বাংলাদেশ। শেষ ম্যাচে ৩০২ রানের টার্গেট ছুড়ে দিয়েছে বাংলাদেশ। সেখানে উইন্ডিজের রানের ব্যাট থেমেছে ২৮৩ রানে। সিরিজে তামিম দুটি সেঞ্চুরি করেছেন। তিন ম্যাচে দুই সেঞ্চুরি ও এক হাফসেঞ্চুরিতে ২৮৭ রান তুলে তামিম ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড গড়েছেন। টপকিয়েছেন ২০১৪ সালে বাংলাদেশের বিপক্ষে দিনেশ রামদিনের ২৭৭ রানের রেকর্ড। সিরিজে মুশফিক-মাহমুদ উল্লা-সাকিব-সাব্বিররা রানের মুডে ছিলেন। আর সবাইকে ছাপিয়ে এগিয়েছিলেন অধিনায়ক মাশরাফি। যার ছোঁয়া পেয়েই টেস্টের নাকাল বাংলাদেশ বদলে গেছে।
তামিমের সেঞ্চুরি (১৩০*) এবং সাকিবের সেঞ্চুরি ছোঁয়া ৯৭ রানের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশ তুলেছিল ২৭৯। জবাবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ থেমেছিল ২৩১ রানে। ওয়ানডে সিরিজে বাংলাদেশের ৪৮ রানের সূচনা জয়ে নেতৃত্ব দিয়েছেন মাশরাফি (৪/৩৭)। দ্বিতীয় ম্যাচও ছিল সুনিশ্চিত জয়-প্রবাহে। কিন্তু ব্যাটসম্যানদের অনাহূত ব্যাটিংয়ের কারণে বাংলাদেশ হেরেছে ৩ রানের ব্যবধানে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ২৭২ রানের টার্গেট স্পর্শ করতে শেষ ১৪ বলে ১৪ রান প্রয়োজন ছিল বাংলাদেশের। হাতে ৫ উইকেট। তখনও মাশরাফি-মাহমুদ উল্লা-মাশরাফিরা উইকেটে ছিলেন। কিন্তু ব্যাটসম্যানদের অনাহূত ব্যাটিংয়ের কারণে বাংলাদেশ হেরেছে ৩ রানের ব্যবধানে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ২৭২ রানের টার্গেট স্পর্শ করতে শেষ ১৪ বলে ১৪ রান প্রয়োজন ছিল বাংলাদেশের। হাতে ৫ উইকেট। তখনও মুশফিক-মোসাদ্দেক-মাশরাফিরা উইকেটে ছিলেন। কিন্তু তারা পারেন নি। শেষ ওভারের প্রয়োজন ছিল ৮ রান। কিন্তু প্রথম বলেই মুশফিক ফিরে গেলেন। বাংলাদেশও হেরে গেল। অথচ দ্বিতীয় ম্যাচে দুর্দান্ত ব্যাটিং করেছেন মুশফিক (৬৮)।

শ্রেণী:

বিশ্বকাপ ফুটবলে ফরাসি সৌরভ

Posted on by 0 comment
8-6-2018 6-52-09 PM

8-6-2018 6-52-09 PMআরিফ সোহেল : ১৯৯৮ সালের পর ২০১৮। পাক্কা ২০ বছর। ক্রোয়েশিয়াকে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স। রাশিয়ার মস্কো শহরের লুঝনিকি স্টেডিয়ামে ১৫ জুলাই বিশ্বকাপ ফাইনালে তারা জিতেছে ৪-২ গোলের ব্যবধানে। বিশ্বকাপে উড়েছে ফ্রান্সের সৌরভ। ওইদিনই শেষ হয়েছে ২১তম ফিফা বিশ্বকাপ আসর। শেষ হয়েছে এক মাসের মহাযজ্ঞে অংশ নেওয়া ৩২ দলের চূড়ান্ত হিসাব-নিকাশ।
ফাইনাল শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই গ্রিজম্যান-এমবাপেরা যখন মাঠের মধ্যে আনন্দসমুদ্রে ভাসছেন, কোমর দুলিয়ে নাচছেন। তখন ক্রোয়েশিয়া শিবিরে শশ্মানের নীরবতা। মাঠের সবুজ ঘাসে মুখ লুকিয়ে হতাশার সমুদ্রে ডুবে বুদ মদ্রিচদের। দারুণ এক ফাইনালে ক্রোয়েশিয়াকে ৪-২ গোলের ব্যবধানে হারিয়ে দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ শিরোপা জিতে নিয়েছেন দিদিয়ে দেশমের ফ্রান্স। যেভাবে ২০ বছর আগে ফ্রান্সের প্রথম জয়ের বিশ্বকাপটা হাতে তুলে ধরেছিলেন ফুটবলার দেশম, গুরু হিসেবে এবারের ভঙ্গিটা সে-রকমই। শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই মুষ্টিবদ্ধ হাত নিয়েই দৌড়ে ছুটলেন তার স্বপ্ন পূরণ করা শিষ্যদের দিকে। তখন গ্যালারি সাদা-লাল-নীল পতাকা সগর্বে উড়ছে পতপত করে। কালবিলম্ব না করে দেশম চলে গেলেন ক্রোয়েশিয়া ফুটবলারদের কাছে। লুকা মদ্রিচ, রাকিতিচদের আদর করলেন প্রকৃত শিক্ষকের মতো।  ফাইনালে ৪ গোল খেলেও লড়াকু ফুটবলে নজর কেড়েছে ক্রোয়েশিয়া। আর বাজিমাত করেছেন ফ্রান্সের তিন তারকা গ্রিজম্যান, পোগবা, এমবাপে। ফাইনালে তিন তারকাই করেছেন গোল। যা মদ্রিচরা করতে পারেন নি।
গোলের হিসাব বাদ দিলে ফাইনালটি ছিল উপভোগ্য। গোল, পাল্টা গোলে উত্তাল একটা ম্যাচ। ১৯৬৬ সালের পর বিশ্বকাপের ফাইনালে কখনও তো ৬ গোল হয়নি। ৫২ বছর পর সেটাই দেখেছে লুঝনিকি। গোলের সুগন্ধী ছড়িয়েছে ফ্রান্স।
যদিও ম্যাচের শুরুতে কোণঠাসা হতে হতে যখন এমবাপে, গ্রিজম্যানদের তুলি আটকে যাচ্ছে, উমতিতিরা দম নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন না, তখনই তো লুকা মদ্রিচরা আত্মঘাতী হলেন। গ্রিজম্যান এদিন সব সেটপিস নেওয়ার দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছেন। পেনাল্টি পেলে সবার আগে তিনি। ৩০ গজ দূর থেকে গ্রিজম্যানের ফ্রি-কিক থেকে উড়ে আসা বলটি ক্রোয়েশিয়ার মারিয়ো মাঞ্জুকিচের মাথায় লেগেÑ গোল। আত্মঘাতী গোলটা এত অপ্রত্যাশিতভাবে হলো যে, গ্রিজম্যান আঙুল তুলে দৌড়ানোর পর ফরাসি সমর্থকরা বুঝলেন গোলটা হয়েছে। প্রতিপক্ষকে চাপিয়ে রাখা ক্রোয়েশিয়াকে ফেরালেনও পেরিসিচ। এরপরেও ফের আত্মঘাতী। সমতায় ফেরানোর গোলদাতাই খলনায়ক হয়ে গেলেন ক্রোয়েশিয়ার। গ্রিজম্যানের কর্নার নিজেদের বক্সে হাত লাগালেন পেরিসিচ। রেফারি ‘ভার’-এর দ্বারস্থ হলেন। পেনাল্টি হলো। গ্রিজম্যান ২-১ করতেই ম্যাচ শেষ। সমতায় ফিরতে মরিয়া ছিল ক্রোয়েশিয়া। রক্ষণে আর নজর দেওয়ার সময় ছিল না তাদের। আর সেখান থেকেই পরপর ২ গোল ফ্রান্সের। স্বপ্নভঙ্গ ক্রোয়েশিয়ার।
বিশ্বকাপ ফাইনালে গোলের বন্যা। ফাইনালে বেশি গোল করার ধারা বজায় রাখল ফ্রান্স। ১৯৯৮ সালেও ফাইনালে ৩ গোল দিয়ে বিশ্বকাপ নিয়েছিল ফ্রান্স। এবারও ৪ গোল করে বিশ্বকাপ মাতাল ফ্রান্স।
প্রথমার্ধে হলো ৩ গোল। দ্বিতীয়ার্ধেও তাই। মোট ৬ গোলের ম্যাচ হয়ে উঠল রুদ্ধশ্বাস থ্রিলারের মতোই। ফ্রান্সের দুই গোলের মাঝখানে পেরিসিচ অবশ্য সমতা ফিরিয়েছিলেন। খেলার গতির বিরুদ্ধেই ২ গোল করেছে ফ্রান্স। দ্বিতীয়ার্ধেও বারবার বিপক্ষ বক্সে হানা দিতে থাকেন মদরিচ-রাকিতিচরা। এবার ধারার বিপরীতে এমবাপে ও পোগবা গোল করেছেন। আর দুষ্টামি মার্কা এক গোল করে ব্যবধান কমিয়েছেন মাঞ্জুকিচ।
এর আগে বিশ্বকাপ ফাইনালে ব্রাজিলই একমাত্র দল হিসেবে ১৯৭০ সালে ৪ গোল করেছিল। যাতে গোল ছিল টিনএজার পেলেরও। এবারের বিশ্বকাপ ফাইনালেও পেলের সঙ্গী হয়েছেন ১৯ বছর বয়সি এমবাপে।
আসলে স্ট্র্যাটেজিতেই টেক্কা দিয়ে গেলেন ফ্রান্সের কোচ দিদিয়ের দেশম। দুই দশক আগে অধিনায়ক হিসেবে জিতেছিলেন বিশ্বকাপ। এবার জিতলেন কোচ হিসেবে। মারিও জাগালো, বেকেনবাওয়ারের পর তিনি তৃতীয় জন, তিনি ফুটবলার-কোচ হিসেবে জিতলেন বিশ্বকাপ।
ক্রোয়েশিয়ার সাথে এর আগে পাঁচবারের মোকাবেলায় কখনোই হারেনি ফ্রান্স, জিতেছে তিনবার; আর ড্র দুবার। এর আগে ১৯৯৮ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে প্রথমে পিছিয়ে পড়েও লিলিয়ান থুরামের জোড়া গোলে ক্রোয়েতদের ২-১ গোলে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ ফাইনালের টিকিট কেটেছিল ফ্রান্স। তিন কিংবা তার বেশিবারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠা মাত্র ষষ্ঠ দেশ ফ্রান্স। সর্বোচ্চ আটবার ফাইনালে উঠেছে জার্মানি। ব্রাজিল ও ইতালি উঠেছে ছয়বার করে, আর আর্জেন্টিনা উঠেছে পাঁচবার। ফ্রান্সের সমান তিনবার ফাইনালে উঠেছে নেদারল্যান্ডসও; কিন্তু শিরোপা জিততে পারেনি কখনোই।

শ্রেণী:

নারী ক্রিকেটারদের এশিয়া জয়

Posted on by 0 comment
aa

aaঅনিন্দ্য আরিফ: ডেটলাইন ২০ জুন। স্থান গণভবন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ফটোসেশনে বেজায় ব্যস্ত সালমা-জাহানারা। যেন তাদের এক মিনিটও ফুসরত নেই। একের পর এক ক্লিক। কখনও সেলফি। হাসিমুখে প্রধানমন্ত্রী তাদের সঙ্গ দিচ্ছেন, নিবিড় মমতায় কাঁধে হাত রাখছেন। এমন অভূতপূর্ব ক্যানভাস ভেসে উঠল। উৎসব-আয়োজন-সম্বর্ধনায় আমন্ত্রিত জাতীয় দলের একঝাঁক নারী উচ্ছ্বাস-আনন্দে মাতোয়ারা হলেন।
ওই দিন সন্ধ্যায় গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রাণোচ্ছ্বল পরিবেশে সম্বর্ধিত করেছেন এশিয়া কাপ জয়ী নারী ক্রিকেট দলকে। এ সময় সালমা-জাহানারাদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘নারী ক্রিকেটারদের যে জয়যাত্রা শুরু হয়েছে, এ ধারা অব্যাহত রাখতে হবে।’
প্রথমবারের মতো এশিয়া কাপ জয় করায় নারী ক্রিকেট দলের প্রত্যেক সদস্যকে ১০ লাখ টাকার চেক, বিশেষ নৈপুণ্যের জন্য ২৭ লাখ টাকাসহ মোট ২ কোটি টাকার চেক তুলে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একইসঙ্গে নারী ক্রিকেটের জয়যাত্রা অব্যাহত রাখতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশও দিয়েছেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার পরিবারের সদস্যদের খেলাধুলার প্রতি আগ্রহের কথা তুলে ধরে সারাদেশে খেলাধুলা ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিবের নামে গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট চালু করেছে।’ নারীদের এ কীর্তিতে মেয়েদের মধ্যে ক্রিকেট আরও জনপ্রিয় হয়ে ওঠার পাশাপাশি দেশে খেলাধুলার প্রতি মেয়েদের অনুরাগ বাড়বে বলেও মনে করেন প্রধানমন্ত্রী। ক্রীড়াবান্ধব প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ক্রিকেট খেলায় মেয়েদের পাওয়া কঠিন ছিল। খেলোয়াড় পাওয়া যেত না, রক্ষণশীল সমাজ, নানা দিক থেকে বাধা ছিল। আশার কথা, মেয়েদের ক্রিকেট দল তৈরি হয়েছে। তারা সাফল্য পাচ্ছে।’ ভবিষ্যতেও বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটাররা তাদের সাফল্য অব্যাহত রাখবেÑ এমন আশাবাদ ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা এশিয়া কাপে যে নৈপুণ্য দেখিয়েছেন সেখান থেকে পিছু হটবেন না বলে আমি আশাবাদী। আগামী দিনগুলোতে যে কোনো প্রতিযোগিতায় বিজয় অর্জনে দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ থাকবেন বলে আমি আশা করি।’ দলের এই সাফল্যে উল্লাসিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘বিজয়ে খেলোয়াড়রা উল্লাসিত হবে, তবে পরাজয়ে হতাশ হওয়া উচিত নয়। সরকার চায় দেশের তরুণ প্রজন্ম ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনসহ সর্বক্ষেত্রে সাফল্যজনকভাবে এগিয়ে যাক।’ অনুষ্ঠানে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ড. শ্রী বীরেন শিকদার এমপি, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন এবং ক্রিকেট দলের অধিনায়ক সালমা খাতুন বক্তব্য রাখেন।

শ্রেণী: