বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ ফুটবলে ফিলিস্তিন চ্যাম্পিয়ন

11-6-2018 6-20-46 PM

11-6-2018 6-20-46 PMঅনিন্দ্য আরিফ : ইতিহাসের রেকর্ড বুকে স্বর্ণখোদাই অক্ষরে ছাপা বাংলাদেশে অন্যতম জনপ্রিয় খেলা ফুটবল। গ্রামে-বিলে-ঝিলের কোণায়, স্টেডিয়াম-মাঠে-ঘাটে-উঠানে ফুটবল জড়িয়ে আপন মহিমায়। সেই মহিমাকে সমুজ্জ্বল রাখতেই অতিথি দেশ নিয়ে ফুটবল আসরের আয়োজন নতুন নয়। ফিফা-এএফসির পাশাপাশি নিজস্ব আঙিনায় আন্তর্জাতিক আসর আয়োজনের বিষয়টি একটি দেশের জন্য গৌরবের। সেই কারণে বাংলাদেশে ১৯৯৬ সাল থেকে শুরু করা হয়েছে জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমানের নামে ‘বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট’। তবে নানা কারণে এই ফুটবল টুর্নামেন্টের নিয়মিতভাবে আয়োজিত হয়নি।
সর্বশেষ ২০১৮ সালে স্বাগতিক হয়েও সেমিফাইনালেই আটকে গিয়েছে বাংলাদেশ। তারপরও বঙ্গবন্ধু জাতীয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টকে ঘিরে নতুন করে ফুটবল উৎসব-গল্প সৃষ্টি হয়েছে। সৃষ্টি হয়েছে নবজাগরণ। ছয় জাতির আসরে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে যুদ্ধবিধ্বস্ত ফিলিস্তিন। বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ফাইনালে তারা টাইব্রেকারে ৪-৩ গোলে হারিয়েছে প্রতিপক্ষ তাজিকিস্তানকে। টুর্নামেন্টের ছয় দলের মধ্যে র‌্যাংকিংয়ের শীর্ষে থাকা ফিলিস্তিন টপ ফেভারিট হিসেবে আসর শুরু করেছিল।
ক্রীড়াবান্ধব প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত থেকে ট্রফি ও ৫০ হাজার ডলারের চেক গ্রহণ করেছেন বিজয়ী ফিলিস্তিন। আর রানার্স-আপ তাজিকিস্তানকে প্রাইজমানি হিসেবে ২৫ হাজার মার্কিন ডলার তুলে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তবে সবাইকে ছাপিয়ে এই আসরে সেমিফাইনাল থেকে সিটকেপড়া বাংলাদেশের বিপুল আহমেদ হয়েছেন টুর্নামেন্টের উদীয়মান খেলোয়াড়। পাশাপাশি ফেয়ার প্লে ট্রফিও ঘরে তুলছে স্বাগতিক বাংলাদেশ। পুরস্কার মঞ্চে এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি কাজী মো. সালাউদ্দিনসহ অন্য কর্মকর্তারা।
গত ১২ অক্টোবর সন্ধ্যায় বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ আন্তর্জাতিক আসরের ফাইনাল সরাসরি উপভোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে বলেন, শত ব্যস্ততার মাঝে আমি যখনই সুযোগ পাই, খেলা দেখার জন্য স্টেডিয়ামে ছুটে যাই। আসলে খেলাধুলার প্রতি ভালোবাসা আমার রক্তের মধ্যেই রয়েছে। তিনি বলেন, জাতির পিতা খেলাধুলা করতেন। স্কুলজীবনে তিনি ছিলেন একজন সেরা ফুটবল খেলোয়াড়। আমার দাদাও ফুটবল খেলতেন। শেখ কামাল ও শেখ জামাল ভালো খেলোয়াড় ছিলেন। সাংগঠনিক ক্ষেত্রেও তারা অনেক দক্ষতা দেখিয়েছেন। আমাদের পরিবারের আরেক সদস্য সুলতানা কামাল খুকুও ছিলেন বিশিষ্ট ক্রীড়াবিদ।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, খেলাধুলা যুবসমাজকে বিপথে গমন থেকে রক্ষা করে। মাদক, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ থেকে দূরে রাখে। আমার বিশ্বাস, যুবসমাজকে যদি আমরা ক্রীড়া কর্মকা-ের মাধ্যমে সক্রিয় রাখতে পারি, তাহলে সহজেই এদেশ থেকে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ নির্মূল করতে পারব। যুবসমাজ এদেশের সম্পদ। উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে এই যুবশক্তিকে কাজে লাগাতে হবে।

শ্রেণী:

হেরেও এশিয়া কাপে উজ্জ্বল বাংলাদেশ

Posted on by 0 comment
PM

PMক্রীড়া ডেস্ক: বাংলাদেশ এশিয়া কাপ ক্রিকেটের ফাইনাল খেলবে, খেলবে নাÑ এমন কল্পনা-আশা দুটিই ছিল। তবে তামিম-সাকিবের দলের বাইরে চলে যাওয়ার পরও তা ছিল এক অভাবিত স্বপ্ন। কিন্তু সুপার ফোরে পাকিস্তানকে উড়িয়ে দিয়ে স্বপ্নরথ রচিত হয়েছিল।
টস শেষে ব্যাটিং ইনিংসের সূচনার পর শতভাগ সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছিল ফাইনাল ম্যাচ শুরুর পর থেকে। বিশেষ করে উদ্বোধনী জুটিতে ভারতের বিপক্ষে রেকর্ড রান; লিটন-মিরাজের অসাধারণ পার্টনারশিপ। যেনÑ সব সম্ভাবনাই ঝুঁকে পড়েছিল আবেগপ্রবল ক্রিকেটপ্রেমী বাঙালিদের ওপর। কিন্তু সেই বাংলাদেশ মধ্য ইনিংসে ভারতীয়দের কালো থাবায় রঙিন স্বপ্ন ফানুস হতে লাগল। বাংলাদেশ এক ব্যাটিং-নায়ক লিটন দাশ সৌম-মিরাজে ২২২ রানে থিতু হয়েছিল। যা নিয়ে ভারতের প্রলম্বিত ব্যাটিং লাইনআপের বিপক্ষে জয়ের স্বপ্ন দেখা ছিল অবিশ্বাস্য। রোহিত-ধনি-ধাওয়ানরা এই রানের পর হয়তো ঘুমের জয়ের স্বপ্ন বিভোরই ছিলেন। অথচ ওই রান নিয়েই বাংলাদেশ ভারতকে শাসন করেছে শেষ বল পর্যন্ত। ভাগ্যদেবী বাংলাদেশের আসনে নেমে এলে নাম লেখা হতো দুঃস্বপ্ন জয়ের আখ্যানে। এশিয়া কাপটা ধরা নেমে এসেও যেন আসছে না। এ নিয়ে তিনবার ফাইনালে বাংলাদেশের স্বপ্ন-প্রত্যাশা ভেঙেচুরে খানখান হয়ে গেল। এর আগে ২০১৪ এবং ২০১৬ সালে বাংলাদেশ ফাইনালে গিয়েও শিরোপার দেখা পায়নি।
বাংলাদেশের দুই ওপেনার লিটন এবং মিরাজ অসামান্য শুরু করেছিলেন। যেভাবে তারা খেলছিলেন, একসময় মনে হচ্ছিল ৩০০ রান সহজেই উঠবে। কিন্তু, তখনই নামে ধ্বংসের প্রবলতা। তবে রূপকথার ইনিংস খেলেছেন লিটন দাশ। দলকে দারুণ একটা শুরুই শুধুই দেয় নি, করেছেন ক্যারিয়ারের প্রথম শতরানও (১২১)। মুস্তাফিজ-রুবেল-মাশরাফিতে ভারতের ইনিংসে নেমে এসেছিল আশঙ্কার মেঘ।
বাংলাদেশ হেরে গেলেও এমন হারে লজ্জার ছিটোফোঁটাও নেই। এই হার গৌরবের। এই হার বাংলাদেশের ওপর আইসিসির চাপিয়ে দেওয়া হার। লিটন দাশের আউটটি কতটা অন্যায়Ñ তা নিয়ে বিশ্ব মিডিয়ায় এখনও তোলপাড় চলছে। এশিয়া কাপে ভারতকে কাঁপিয়ে-নাচিয়ে শেষ হাসি হাসতে না পারলেও এমন ম্যাচ বাংলাদেশের প্রতি আসরে, প্রতি ম্যাচে অনুপ্রাণিত করবে।
ক্রিকেট নিয়ে স্বপ্ন দেখা নতুন নয়। বাঙালিদের চিরায়ত আনন্দ-বিনোদনের সঙ্গে ক্রিকেট কতটা মিশে আছে; তা এবারও প্রমাণিত হয়েছে এশিয়া কাপে। গ্রুপ পর্বে এক ম্যাচ খেলে আউট তামিম, ফাইনালের আগেই নেই সাকিব। তারপরও বাংলাদেশ পাকিস্তান-শ্রীলংকা-আফগানদের হটিয়ে ফাইনালে উঠেছিল। আর ফাইনালে ভাগ্যের কাছেই হেরে গেছে বাংলাদেশ।
এশিয়া কাপের প্রাপ্তি সহজভাবে রানার্সআপ। কিন্তু আসলে কী তাই! যখনই এশিয়ার আসর ফিরে আসবে; ফিরে আসবে দুর্দান্ত বাংলাদেশের নাম। তবে তার চেয়েও বেশিÑ বাংলাদেশের মিডল অর্ডার সুপার ফ্লপ, লোয়ার মিডল অর্ডারেও ধস, লিটন দাশ তৃতীয় বিচারকের অন্যায় আউটের শিকার, ৪৮তম ওভারে রুবেল দুর্দান্ত বলে ‘আনারি’ ভুবনেশ্বরের ছক্কা, শেষ ওভারে লেগ বাইÑ এসব রাজ্যের ‘যদি-কিন্তু’র যোগফলের সমীকরণ ঠঁাঁই করে নেবে ক্রিকেট উৎসাহী বাংলাদেশের সমর্থকদের স্মৃতির মণিকোঠায়।

শ্রেণী:

মেয়েদের নৈপুণ্যে আবারও আলোকিত ফুটবল

Posted on by 0 comment
PM

PMআরিফ সোহেল: বাংলাদেশের কিশোরী ফুটবলাররাÑ বুদ্ধিমত্তা, ক্ষিপ্রতা, অসীম ধৈর্য, অদম্য ইচ্ছেশক্তি, দুর্দান্ত টেকনিক-ট্যাকটিস, আর দুরন্ত গতি দিয়ে উড়িয়ে দিয়েছে একে একে চার প্রতিপক্ষকেই। যদিও শেষ ম্যাচে প্রতিপক্ষ ভিয়েতনাম নিয়ে ভয় ছিল। কিন্তু বাংলাদেশের কিশোরীরা সেই ভয়কে অবলীলায় জয় করেছে। করেছেন স্বপ্ন পূরণ। এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ নারী ফুটবলের ‘এফ’ গ্রুপে শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট অর্জন করেছে বাংলাদেশ।
২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮ কমলাপুরের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে ভিয়েতনামকে হারিয়েছে টানা চার জয়ে ১২ পয়েন্ট তুলে নিয়েছেন আঁখি-তহুরারা। এই জয়ে এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ নারী ফুটবলের বাছাই পর্বের দ্বিতীয় রাউন্ডে খেলবে বাংলাদেশ।
গ্রুপপর্বে প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশের মেয়েরা বাহরাইনকে ১০-০ গোলে, এরপর লেবাননকে ৮-০ গোলে এবং সবশেষে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে ৭-০ গোলে হারিয়ে স্বপ্ন-প্রত্যাশার ঘুড়ি উড়িয়েছিল। আর অলিখিত ফাইনালে ভিয়েতনামকে ২-০ গোলের ব্যবধানে হারিয়ে ‘এফ’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন হয়ে লাল সবুজের প্রতিনিধিরা রাঙিয়েছে ঘুড়ির আকাশ।
বাংলাদেশ-ভিয়েতনামÑ আগের তিন ম্যাচে সব সমীকরণেই ছিল সমপর্যায়ে। দু-দলেরই ২৫টি গোল ছিল ঝুড়িতে। তাই জয় ভিন্ন পথ খোলা ছিল না। চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সেই ম্যাচে দারুণ জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে দলের হয়ে গোলের সূচনা করেছেন তহুরা খাতুন। আর দ্বিতীয়ার্ধে ব্যবধান দ্বিগুণ করেছেন আঁখি খাতুন।
২০১৬ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত বাছাইপর্বে চ্যাম্পিয়ন হয়েই চূড়ান্তপর্বে নাম লিখিয়েছিল বাংলাদেশ। গতবারের চেয়ে এবার দলসংখ্যা বেড়েছে বাছাইপর্বে। তাই গত আসরের মতো গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হলেই চূড়ান্ত পর্বে যাওয়ার সুযোগ থাকছে না। ছয় গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন এবং সেরা দুই রানার্সআপ দলকে খেলতে হবে দ্বিতীয় রাউন্ডে। আগামী বছর ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হবে চূড়ান্ত পর্বে যাওয়ার লড়াই।
এই প্রতিযোগিতায় গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হলেই এশিয়ার বড় বড় দলের সঙ্গে খেলবে বাংলাদেশ। চূড়ান্ত পর্বে খেলবে ৮টি দল, ৪টি গতবারের চার সেমিফাইনালিস্ট দক্ষিণ কোরিয়া, উত্তর কোরিয়া, জাপান ও চীন। আর থাইল্যান্ড খেলবে সরাসরি স্বাগতিক দল হিসেবে। পাশাপাশি বাছাই থেকে আসবে অস্ট্রেলিয়ার মতো দল। তাই ওই সেরা দলগুলোর সঙ্গে চূড়ান্ত পর্বে খেলতে পারা হবে বাংলাদেশের কিশোরীদের বড় অর্জন।
মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে দুটি আন্তর্জাতিক ফুটবল টুর্নামেন্ট চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশের কিশোরী ফুটবলাররা। দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণই মেয়েদের ফুটবলে প্রতিভাবান প্রজন্ম তৈরি করছে। স্বপ্নের ডালাপালা খুঁজে ফিরছে আকাশ উচ্চতা। উল্লেখ্য, মেয়েরা প্রায় দুই বছরের বেশি সময় ধরে একই ছাতার নীচে অনুশীলন করে যাচ্ছে। মেয়েদের হাত ধরেই নতুন করে আলোকিত হচ্ছে ফুটবল। বিপুল জনপ্রিয় ফুটবলে আবারও সৃষ্টি হয়েছে সম্ভাবনার ইতিবাচক বাতাবরণ।

শ্রেণী:

সাফ-গৌরব ফিরে পাওয়ার স্বপ্ন

uttaran

uttaran আরিফ সোহেল: ৩১ আগস্ট ২০১৮। সাফজয়ী ফুটবলারদের মিলনমেলা। তাদের শুভ কামনায় অনুপ্রাণিত হচ্ছেন তাদের উত্তরসূরিরা। তারা পণ করেছেনÑ এবার ঘরের মাঠে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ের। তাতে অভ্যাগতরা আবারও সাফ-গৌরব ফিরে পাওয়ার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন।
ঘরের মাঠে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ ২০১৮। এই আসরের উন্মাদনা-আবেদন-নিবেদন ছড়িয়ে দিতেই দীর্ঘ ১৫ বছর পর এমন আয়োজন। আয়োজক বাংলাদেশ ক্রীড়ালেখক সমিতি [বিএসপিএ]। সেখানে সম্বর্ধিত হয়েছেন ২০০৩ সালে সাফজয়ী ফুটবলাররা। দেশের ফুটবল ইতিহাসে ওই শিরোপা জয়ই সবচেয়ে বড় মর্যাদার অর্জন বাংলাদেশের। পুরনো-নতুনের বেগ-আবেগের আবীর ছড়ানো পরিবেশে শিরোপাজয়ী জয়-রজনী-মামুন-মনি-কাঞ্চন-আমিনুলরা ফুটবলের সোনালি অতীতের কথা রোমন্থন করেছেন। তা মুগ্ধতার সঙ্গে শুনেছেন বর্তমান সাফ শিরোপা প্রত্যাশী বাংলাদেশ দলের ফুটবলাররা। ফলে আবেশের রং ছড়ানো সুর-মূর্ছনায় সেখানে বেজে উঠছে ফুটবলের নতুন সম্ভাবনার আলো। ভিন্নমাত্রার পরিবেশে পুরনোদের স্মৃতিকথা, দৃঢ়তা, দেশের প্রতি কমিটমেন্টÑ সবমিলিয়ে সাফে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্নটা আরও একবার উসকে দিয়েছে এশিয়ান গেমসে দুর্দান্ত ‘টিম বাংলাদেশকে’।
বাংলাদেশ ফুটবলের হতাশার সময়ে এবারের এশিয়ান গেমস স্বস্তি এনে দিয়েছে। নতুন ইংলিশ কোচ জেমি ডের হাত ধরে অনূর্ধ্ব-২৩ দল এশিয়ান গেমসের প্রথম ম্যাচে উজবেকিস্তানের কাছে ৩-০ গোলে হারলেও পরের ম্যাচেই ঘুরে দাঁড়িয়েছিল। ড্র করে শক্তিশালী থাইল্যান্ডের সঙ্গে। আর ২০২২ সালের বিশ্বকাপ ফুটবলের আয়োজক কাতারের মতো ‘বিগ জায়ান্ট’কে হারিয়ে শেষ ষোলোতে উঠে আরেকটি ইতিহাসের পাতা খুলেছে বাংলাদেশ। পরের লড়াইয়ে এশিয়ার পরাশক্তি উত্তর কোরিয়ার কাছে ৩-১ গোলে হারলেও বাংলাদেশের তরুণদের সাহসী পারফরমেন্স নজর কেড়েছে সবার। ফলে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত সাফ ফুটবলের আসরকে ঘিরে নতুন আলোর দ্রুতি সঞ্চারিত হচ্ছে। নিরাশার ফুটবলে হঠাৎ করেই আশার বাতি জ্বলে উঠছে। সেই বাতি জ্বালিয়েছে এশিয়ান গেমসে অনবদ্য সাফল্য।
uttaran2বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গন এখন আবর্তিত-বিবর্তিত ঢাকায় অনুষ্ঠেয় ওই সাফ চ্যাম্পিয়নশিপকে ঘিরেই। বড় আসরে কাতারকে হারানো যায়, সেক্ষেত্রে পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর বিপক্ষে জয় পাওয়া কঠিন নয়। ইংল্যান্ডের উয়েফা লাইসেন্সধারী এই কোচ প্রথম আসরেই কিছু একটা দিতে পারেন; অনেকেই ভেবে ফেলেছেন। তবে বাংলাদেশের ইংলিশ কোচ জেমি ডে বারবারই সেই আশায় রাশ টেনে ধরেছেন। তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন, গত তিন আসরে বাংলাদেশ বিদায় নিয়েছে গ্রুপ পর্ব থেকেÑ সেই পুরনো কথা। স্বাগতিক হয়ে সেই লজ্জার আবরণ সরিয়ে ব্রিটিশ কোচ কি পারবেন বাংলাদেশ ফুটবলের ভাগ্য বদলাতে! এমন আলোচনার পারদ ছুঁয়ে দেখছে আকাশ সীমানা। স্বপ্ন জয়Ñ এক কঠিন লড়াই। তাই জেমি ডেÑ দল নির্বাচনে তারুণ্যের জয়গান গাইলেও অভিজ্ঞদের রেখেছেন ‘ভারে কাটার জন্য’। একটি হিসাব তাকে বেশ পোড়াচ্ছে। কারণ দীর্ঘদিন জাতীয় ফুটবল দলের কোনো আন্তর্জাতিক ম্যাচ ছিল না। ২০১৭ সালে জাতীয় দলের জার্সি গায়ে জড়িয়ে একটি ম্যাচও খেলেন নি সিনিয়ররা। তারা সময় পার করেছেন ক্লাবের হয়ে খেলেই। ম্যাচ না খেলায় র‌্যাংকিংয়েও অবনমন হয়েছে বাংলাদেশের। তবে ব্যস্ত ছিল বয়সভিত্তিক দল। বড় কোনো ট্রফি না জিতলেও বয়সভিত্তিক বাংলাদেশের হয়ে তারুণ্যের পতাকাবাহীরা মাঠে সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন। যার শেষ প্লট এশিয়ান গেমসে রূপায়িত করেছেন জুনিয়ররা।
প্রস্তুতি শেষ। চলছে আসর আয়োজনের ব্যাপক তোড়জোড়। ৪ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে সেই কাক্সিক্ষত সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ। ৪-১৫ সেপ্টেম্বর এই আসর অনুষ্ঠিত হবে জাতির পিতার নামাঙ্কিত বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে। সাত জাতির এই আসরে বাংলাদেশ খেলছে ‘এ’ গ্রুপে। প্রতিপক্ষ ভুটান, নেপাল ও পাকিস্তান। ‘বি’ গ্রুপে ভারত, মালদ্বীপ ও শ্রীলংকা। উদ্বোধনী দিনের দ্বিতীয় ম্যাচেই স্বাগতিক বাংলাদেশ মাঠে নামছে। প্রতিপক্ষ ভুটান। এর আগে ১২তম এই আসরের পর্দা উঠছে নেপাল-পাকিস্তানের ম্যাচ দিয়ে। এই আসরের আগে বাংলাদেশ আরও দুবার সাফ আয়োজন করেছে। এর মধ্যে ২০০৩ চ্যাম্পিয়ন, ২০০৯ সালে বাংলাদেশ সেমিফাইলে হেরেছে ভারতের কাছে। এবার তৃতীয়বারের মতো সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ আয়োজন করছে বাংলাদেশ। পরিসংখ্যান থাকছে বাংলাদেশের পক্ষেই। দেশের মাটিতে বাংলাদেশ এগিয়েই থাকে।
সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ ফুটবল আসরকে বলা হয় দক্ষিণ এশিয়ার বিশ্বকাপ। সার্ক গোল্ডকাপ নামে দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবল টুর্নামেন্ট যাত্রা শুরু করেছিল ১৯৯৩ সালে পাকিস্তানের লাহোর থেকে। চার দল নিয়ে হয়েছিল ওই টুর্নামেন্ট। বাংলাদেশ প্রথম আসরে অংশ নেয়নি। দুই বছর পর শ্রীলংকায় এই টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় আসরে সেমিফাইনালে ভারতের কাছে হেরে বিদায় নিয়েছিল বাংলাদেশ। পরের দুই আসরে বেহাল বাংলাদেশ। তবে ১৯৯৯ সালে ভারতের গোয়ায় অনুষ্ঠিত পঞ্চম আসরে বাংলাদেশ রানার্স আপ হয়েছে। ফাইনালে হেরে যায় সেই ভারতের কাছেই। আর ২০০৩ সালে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত আসরে স্বপ্নপূরণ হয় বাংলাদেশের। ঢাকায় অনুষ্ঠিত এই আসরে বাংলাদেশ অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়। ফাইনালে টাইব্রেকারে মালদ্বীপকে হারিয়ে রজনী-মামুন-কাঞ্চনরা উড়িয়েছেন লাল-সবুজের পতাকা। এরপর থেকেই সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশ পরিণত হয় আন্ডারডগে। ২০০৫ সালে পাকিস্তানের করাচিতে বাংলাদেশ ফাইনালে উঠলেও পরের আসরগুলোতে বাংলাদেশ চরমভাবে ব্যর্থ। এর মধ্যে ২০০৯ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত আসরে সেমিফাইনালে ওঠাটাই ছিল বাংলাদেশের জন্য বড় কিছু।
এ মুহূর্তে ফুটবলের র‌্যাংকিংয়ের চরম তলানীতে বাংলাদেশ। কিন্তু সবুজ-শ্যামলা বাংলাদেশে এখনও তা মরে যায়নি। ২৮ আগস্ট নীলফামারীতে বাংলাদেশ-শ্রীলংকা সাফের প্রস্তুতি ম্যাচে তা আবারও প্রমাণিত হয়েছে। ক্রীড়া অন্তঃপ্রাণ ‘শেখ কামালের’ নামাঙ্কিত স্টেডিয়ামে রোদ মাথায় উপচেপড়া ভিড়, সত্যিই ধাঁধিয়ে দিয়েছে ফুটবল যাত্রাপথকে। নতুন করে উজ্জীবিত হয়েছে ফুটবলের উৎসব-গল্প। বাঙালি হৃদয়ে এখনও ফুটবল প্রেম-ভালোবাসা জাগরূক মহীরুহের মতোই। এখনও উচ্ছ্বাস-আনন্দ-উদযাপনে ফুটবলের জয়-জয়কার। নীলফামারীতে ৪টা ম্যাচ; অথচ দুটায়ই তিল ধারণের ঠাঁই ছিল নাÑ তাতে সেই সত্যই ভেসে উঠেছে মাঠের ক্যানভাসে।
এশিয়াডে খেলা নিয়মিত একাদশের ১০ জনকে বাইরে রেখে অভিজ্ঞদের নিয়ে নবীন শ্রীলংকার বিপক্ষে বাংলাদেশকে এই ম্যাচে একটু হসপচ মনে হয়েছে। দল নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে গিয়ে র‌্যাংকিংয়ের নিচের দল শ্রীলংকার কাছে হেরেও গেছে। তারপরও এখানে বিপুল দর্শকের উপস্থিতি প্রমাণ করেÑ এখানে হার বড় কথা নয়, জয় হয়েছে ফুটবলেরই।
বাংলাদেশের ফুটবলে হঠাৎ করেই বর্ণিল রং লেগেছে। এশিয়ান গেমসে দুর্দান্ত পারফরমেন্সের পর ফুটবল নিয়ে নতুন আশা জেগেছে। ঘরের মাঠে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশ শুধু ফেভারিটই নয়, হট ফেভারিট হয়েই শুরু করবেÑ এমন স্বপ্ন-প্রত্যাশায় বুক বেঁধেছেন বাঙালিরা।

শ্রেণী:

উইন্ডিজে বাংলাদেশ সিরিজ জয়

Posted on by 0 comment
8-6-2018 6-55-08 PM

8-6-2018 6-55-08 PMউত্তরণ ডেস্ক: ওয়ানডে সিরিজে হোয়াইটওয়াশই করতে পারত বাংলাদেশ। কিন্তু হেরে গেছে ভাগ্যের কাছে। তবে বাংলাদেশের সিরিজ জয়ে বাধা সৃষ্টি করতে পারেনি ওয়েস্ট ইন্ডিজ। প্রথম ম্যাচে ৪৮ রানের জয়ের পর দ্বিতীয় ম্যাচে ৩ রানে হারা বাংলাদেশÑ সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে ১৮ রানের ব্যবধানে হারিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে।
ওয়ানডে সিরিজে সব ম্যাচেই ব্যাটের রানের খরা কাটিয়েছে বাংলাদেশ। শেষ ম্যাচে ৩০২ রানের টার্গেট ছুড়ে দিয়েছে বাংলাদেশ। সেখানে উইন্ডিজের রানের ব্যাট থেমেছে ২৮৩ রানে। সিরিজে তামিম দুটি সেঞ্চুরি করেছেন। তিন ম্যাচে দুই সেঞ্চুরি ও এক হাফসেঞ্চুরিতে ২৮৭ রান তুলে তামিম ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড গড়েছেন। টপকিয়েছেন ২০১৪ সালে বাংলাদেশের বিপক্ষে দিনেশ রামদিনের ২৭৭ রানের রেকর্ড। সিরিজে মুশফিক-মাহমুদ উল্লা-সাকিব-সাব্বিররা রানের মুডে ছিলেন। আর সবাইকে ছাপিয়ে এগিয়েছিলেন অধিনায়ক মাশরাফি। যার ছোঁয়া পেয়েই টেস্টের নাকাল বাংলাদেশ বদলে গেছে।
তামিমের সেঞ্চুরি (১৩০*) এবং সাকিবের সেঞ্চুরি ছোঁয়া ৯৭ রানের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশ তুলেছিল ২৭৯। জবাবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ থেমেছিল ২৩১ রানে। ওয়ানডে সিরিজে বাংলাদেশের ৪৮ রানের সূচনা জয়ে নেতৃত্ব দিয়েছেন মাশরাফি (৪/৩৭)। দ্বিতীয় ম্যাচও ছিল সুনিশ্চিত জয়-প্রবাহে। কিন্তু ব্যাটসম্যানদের অনাহূত ব্যাটিংয়ের কারণে বাংলাদেশ হেরেছে ৩ রানের ব্যবধানে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ২৭২ রানের টার্গেট স্পর্শ করতে শেষ ১৪ বলে ১৪ রান প্রয়োজন ছিল বাংলাদেশের। হাতে ৫ উইকেট। তখনও মাশরাফি-মাহমুদ উল্লা-মাশরাফিরা উইকেটে ছিলেন। কিন্তু ব্যাটসম্যানদের অনাহূত ব্যাটিংয়ের কারণে বাংলাদেশ হেরেছে ৩ রানের ব্যবধানে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ২৭২ রানের টার্গেট স্পর্শ করতে শেষ ১৪ বলে ১৪ রান প্রয়োজন ছিল বাংলাদেশের। হাতে ৫ উইকেট। তখনও মুশফিক-মোসাদ্দেক-মাশরাফিরা উইকেটে ছিলেন। কিন্তু তারা পারেন নি। শেষ ওভারের প্রয়োজন ছিল ৮ রান। কিন্তু প্রথম বলেই মুশফিক ফিরে গেলেন। বাংলাদেশও হেরে গেল। অথচ দ্বিতীয় ম্যাচে দুর্দান্ত ব্যাটিং করেছেন মুশফিক (৬৮)।

শ্রেণী:

বিশ্বকাপ ফুটবলে ফরাসি সৌরভ

Posted on by 0 comment
8-6-2018 6-52-09 PM

8-6-2018 6-52-09 PMআরিফ সোহেল : ১৯৯৮ সালের পর ২০১৮। পাক্কা ২০ বছর। ক্রোয়েশিয়াকে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স। রাশিয়ার মস্কো শহরের লুঝনিকি স্টেডিয়ামে ১৫ জুলাই বিশ্বকাপ ফাইনালে তারা জিতেছে ৪-২ গোলের ব্যবধানে। বিশ্বকাপে উড়েছে ফ্রান্সের সৌরভ। ওইদিনই শেষ হয়েছে ২১তম ফিফা বিশ্বকাপ আসর। শেষ হয়েছে এক মাসের মহাযজ্ঞে অংশ নেওয়া ৩২ দলের চূড়ান্ত হিসাব-নিকাশ।
ফাইনাল শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই গ্রিজম্যান-এমবাপেরা যখন মাঠের মধ্যে আনন্দসমুদ্রে ভাসছেন, কোমর দুলিয়ে নাচছেন। তখন ক্রোয়েশিয়া শিবিরে শশ্মানের নীরবতা। মাঠের সবুজ ঘাসে মুখ লুকিয়ে হতাশার সমুদ্রে ডুবে বুদ মদ্রিচদের। দারুণ এক ফাইনালে ক্রোয়েশিয়াকে ৪-২ গোলের ব্যবধানে হারিয়ে দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ শিরোপা জিতে নিয়েছেন দিদিয়ে দেশমের ফ্রান্স। যেভাবে ২০ বছর আগে ফ্রান্সের প্রথম জয়ের বিশ্বকাপটা হাতে তুলে ধরেছিলেন ফুটবলার দেশম, গুরু হিসেবে এবারের ভঙ্গিটা সে-রকমই। শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই মুষ্টিবদ্ধ হাত নিয়েই দৌড়ে ছুটলেন তার স্বপ্ন পূরণ করা শিষ্যদের দিকে। তখন গ্যালারি সাদা-লাল-নীল পতাকা সগর্বে উড়ছে পতপত করে। কালবিলম্ব না করে দেশম চলে গেলেন ক্রোয়েশিয়া ফুটবলারদের কাছে। লুকা মদ্রিচ, রাকিতিচদের আদর করলেন প্রকৃত শিক্ষকের মতো।  ফাইনালে ৪ গোল খেলেও লড়াকু ফুটবলে নজর কেড়েছে ক্রোয়েশিয়া। আর বাজিমাত করেছেন ফ্রান্সের তিন তারকা গ্রিজম্যান, পোগবা, এমবাপে। ফাইনালে তিন তারকাই করেছেন গোল। যা মদ্রিচরা করতে পারেন নি।
গোলের হিসাব বাদ দিলে ফাইনালটি ছিল উপভোগ্য। গোল, পাল্টা গোলে উত্তাল একটা ম্যাচ। ১৯৬৬ সালের পর বিশ্বকাপের ফাইনালে কখনও তো ৬ গোল হয়নি। ৫২ বছর পর সেটাই দেখেছে লুঝনিকি। গোলের সুগন্ধী ছড়িয়েছে ফ্রান্স।
যদিও ম্যাচের শুরুতে কোণঠাসা হতে হতে যখন এমবাপে, গ্রিজম্যানদের তুলি আটকে যাচ্ছে, উমতিতিরা দম নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন না, তখনই তো লুকা মদ্রিচরা আত্মঘাতী হলেন। গ্রিজম্যান এদিন সব সেটপিস নেওয়ার দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছেন। পেনাল্টি পেলে সবার আগে তিনি। ৩০ গজ দূর থেকে গ্রিজম্যানের ফ্রি-কিক থেকে উড়ে আসা বলটি ক্রোয়েশিয়ার মারিয়ো মাঞ্জুকিচের মাথায় লেগেÑ গোল। আত্মঘাতী গোলটা এত অপ্রত্যাশিতভাবে হলো যে, গ্রিজম্যান আঙুল তুলে দৌড়ানোর পর ফরাসি সমর্থকরা বুঝলেন গোলটা হয়েছে। প্রতিপক্ষকে চাপিয়ে রাখা ক্রোয়েশিয়াকে ফেরালেনও পেরিসিচ। এরপরেও ফের আত্মঘাতী। সমতায় ফেরানোর গোলদাতাই খলনায়ক হয়ে গেলেন ক্রোয়েশিয়ার। গ্রিজম্যানের কর্নার নিজেদের বক্সে হাত লাগালেন পেরিসিচ। রেফারি ‘ভার’-এর দ্বারস্থ হলেন। পেনাল্টি হলো। গ্রিজম্যান ২-১ করতেই ম্যাচ শেষ। সমতায় ফিরতে মরিয়া ছিল ক্রোয়েশিয়া। রক্ষণে আর নজর দেওয়ার সময় ছিল না তাদের। আর সেখান থেকেই পরপর ২ গোল ফ্রান্সের। স্বপ্নভঙ্গ ক্রোয়েশিয়ার।
বিশ্বকাপ ফাইনালে গোলের বন্যা। ফাইনালে বেশি গোল করার ধারা বজায় রাখল ফ্রান্স। ১৯৯৮ সালেও ফাইনালে ৩ গোল দিয়ে বিশ্বকাপ নিয়েছিল ফ্রান্স। এবারও ৪ গোল করে বিশ্বকাপ মাতাল ফ্রান্স।
প্রথমার্ধে হলো ৩ গোল। দ্বিতীয়ার্ধেও তাই। মোট ৬ গোলের ম্যাচ হয়ে উঠল রুদ্ধশ্বাস থ্রিলারের মতোই। ফ্রান্সের দুই গোলের মাঝখানে পেরিসিচ অবশ্য সমতা ফিরিয়েছিলেন। খেলার গতির বিরুদ্ধেই ২ গোল করেছে ফ্রান্স। দ্বিতীয়ার্ধেও বারবার বিপক্ষ বক্সে হানা দিতে থাকেন মদরিচ-রাকিতিচরা। এবার ধারার বিপরীতে এমবাপে ও পোগবা গোল করেছেন। আর দুষ্টামি মার্কা এক গোল করে ব্যবধান কমিয়েছেন মাঞ্জুকিচ।
এর আগে বিশ্বকাপ ফাইনালে ব্রাজিলই একমাত্র দল হিসেবে ১৯৭০ সালে ৪ গোল করেছিল। যাতে গোল ছিল টিনএজার পেলেরও। এবারের বিশ্বকাপ ফাইনালেও পেলের সঙ্গী হয়েছেন ১৯ বছর বয়সি এমবাপে।
আসলে স্ট্র্যাটেজিতেই টেক্কা দিয়ে গেলেন ফ্রান্সের কোচ দিদিয়ের দেশম। দুই দশক আগে অধিনায়ক হিসেবে জিতেছিলেন বিশ্বকাপ। এবার জিতলেন কোচ হিসেবে। মারিও জাগালো, বেকেনবাওয়ারের পর তিনি তৃতীয় জন, তিনি ফুটবলার-কোচ হিসেবে জিতলেন বিশ্বকাপ।
ক্রোয়েশিয়ার সাথে এর আগে পাঁচবারের মোকাবেলায় কখনোই হারেনি ফ্রান্স, জিতেছে তিনবার; আর ড্র দুবার। এর আগে ১৯৯৮ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে প্রথমে পিছিয়ে পড়েও লিলিয়ান থুরামের জোড়া গোলে ক্রোয়েতদের ২-১ গোলে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ ফাইনালের টিকিট কেটেছিল ফ্রান্স। তিন কিংবা তার বেশিবারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠা মাত্র ষষ্ঠ দেশ ফ্রান্স। সর্বোচ্চ আটবার ফাইনালে উঠেছে জার্মানি। ব্রাজিল ও ইতালি উঠেছে ছয়বার করে, আর আর্জেন্টিনা উঠেছে পাঁচবার। ফ্রান্সের সমান তিনবার ফাইনালে উঠেছে নেদারল্যান্ডসও; কিন্তু শিরোপা জিততে পারেনি কখনোই।

শ্রেণী:

নারী ক্রিকেটারদের এশিয়া জয়

Posted on by 0 comment
aa

aaঅনিন্দ্য আরিফ: ডেটলাইন ২০ জুন। স্থান গণভবন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ফটোসেশনে বেজায় ব্যস্ত সালমা-জাহানারা। যেন তাদের এক মিনিটও ফুসরত নেই। একের পর এক ক্লিক। কখনও সেলফি। হাসিমুখে প্রধানমন্ত্রী তাদের সঙ্গ দিচ্ছেন, নিবিড় মমতায় কাঁধে হাত রাখছেন। এমন অভূতপূর্ব ক্যানভাস ভেসে উঠল। উৎসব-আয়োজন-সম্বর্ধনায় আমন্ত্রিত জাতীয় দলের একঝাঁক নারী উচ্ছ্বাস-আনন্দে মাতোয়ারা হলেন।
ওই দিন সন্ধ্যায় গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রাণোচ্ছ্বল পরিবেশে সম্বর্ধিত করেছেন এশিয়া কাপ জয়ী নারী ক্রিকেট দলকে। এ সময় সালমা-জাহানারাদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘নারী ক্রিকেটারদের যে জয়যাত্রা শুরু হয়েছে, এ ধারা অব্যাহত রাখতে হবে।’
প্রথমবারের মতো এশিয়া কাপ জয় করায় নারী ক্রিকেট দলের প্রত্যেক সদস্যকে ১০ লাখ টাকার চেক, বিশেষ নৈপুণ্যের জন্য ২৭ লাখ টাকাসহ মোট ২ কোটি টাকার চেক তুলে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একইসঙ্গে নারী ক্রিকেটের জয়যাত্রা অব্যাহত রাখতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশও দিয়েছেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার পরিবারের সদস্যদের খেলাধুলার প্রতি আগ্রহের কথা তুলে ধরে সারাদেশে খেলাধুলা ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিবের নামে গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট চালু করেছে।’ নারীদের এ কীর্তিতে মেয়েদের মধ্যে ক্রিকেট আরও জনপ্রিয় হয়ে ওঠার পাশাপাশি দেশে খেলাধুলার প্রতি মেয়েদের অনুরাগ বাড়বে বলেও মনে করেন প্রধানমন্ত্রী। ক্রীড়াবান্ধব প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ক্রিকেট খেলায় মেয়েদের পাওয়া কঠিন ছিল। খেলোয়াড় পাওয়া যেত না, রক্ষণশীল সমাজ, নানা দিক থেকে বাধা ছিল। আশার কথা, মেয়েদের ক্রিকেট দল তৈরি হয়েছে। তারা সাফল্য পাচ্ছে।’ ভবিষ্যতেও বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটাররা তাদের সাফল্য অব্যাহত রাখবেÑ এমন আশাবাদ ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা এশিয়া কাপে যে নৈপুণ্য দেখিয়েছেন সেখান থেকে পিছু হটবেন না বলে আমি আশাবাদী। আগামী দিনগুলোতে যে কোনো প্রতিযোগিতায় বিজয় অর্জনে দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ থাকবেন বলে আমি আশা করি।’ দলের এই সাফল্যে উল্লাসিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘বিজয়ে খেলোয়াড়রা উল্লাসিত হবে, তবে পরাজয়ে হতাশ হওয়া উচিত নয়। সরকার চায় দেশের তরুণ প্রজন্ম ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনসহ সর্বক্ষেত্রে সাফল্যজনকভাবে এগিয়ে যাক।’ অনুষ্ঠানে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ড. শ্রী বীরেন শিকদার এমপি, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন এবং ক্রিকেট দলের অধিনায়ক সালমা খাতুন বক্তব্য রাখেন।

শ্রেণী:

রাশিয়া বিশ্বকাপে ইনজুরি টাইমের রোমাঞ্চ

Posted on by 0 comment
aa

aaসুদীপ্ত রিমু: কে হচ্ছে রাশিয়া বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন সেই নাম জানতে অপেক্ষার প্রহর শেষ হবে ১৫ জুলাই। ৩২ দলের শেষ হওয়া গ্রুপ পর্ব নিয়ে গল্প কম হয়নি। নিচু সারির দলের সঙ্গে বড় দলগুলোর আহামরি ‘ফারাক’ চোখে পড়েনি। তবে এবারের আলোচনায় ‘প্রযুক্তি’ অন্যতম একটি। তবে সবকিছু ছাপিয়ে এবারের বিশ্বকাপের মহারোমাঞ্চের নাম ‘ননজুরি’ টাইম। হয়তো চলমান আসরে ফাইনালেও যোগ করা সময় নায়ক হয়ে যেতে পারে।
দ্বিতীয় ম্যাচ। মুখোমুখি উরুগুয়ে-মিসর। ওই ম্যাচে উরুগুয়ে ৮৯ মিনিটে জয়সূচক গোল করে ইঙ্গিত দিয়েছিলÑ এ হবে রোমাঞ্চমুখর এক বিশ্বকাপ। দিন যত গড়িয়েছে, বিশ্ববাসী দেখেছে একের পর এক শেষ মুহূর্তেও ক্লাইমেক্স। গ্রুপ পর্ব শেষে বিশ্বকাপ এখন পৌঁছে গেছে শেষ ষোলোয়। গ্রুপ পর্বে হয়ে যাওয়া ৫৪টি ম্যাচের ১৩টিরই নিষ্পত্তি হয়েছে শেষ মুহূর্তের নাটকীয় সব গোলে। কখনও শেষ বাঁশি ছুঁইছুঁই; কখনও যোগ করা সময়ে ম্যাচের ভাগ্য গড়িয়েছে।
উরুগুয়ের জয়ের কয়েক ঘণ্টা বাদে ইরান হতাশ করেছিল মরক্কোকে যোগ করা সময়ে। স্পেন-পর্তুগালের পয়েন্ট ভাগাভাগির [৩-৩] ম্যাচটিও ছুঁয়েছিল অন্তিমলগ্নের রোমাঞ্চ। ৮৮ মিনিটে পর্তুগিজ তারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ফ্রি-কিক থেকে লক্ষভেদ করে স্পেনের জয় কেড়ে নিয়ে বিনোদিত করেছে ফুটবলপ্রেমীদের। গ্রুপ পর্বে তিউনিশিয়ার বিপক্ষে হ্যারি কেন ইনজুরি সময়ে গোল করে ইংল্যান্ডের জয় নিশ্চিত করেন। পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল তাদের দ্বিতীয় ম্যাচে কঠিন পরীক্ষায় পাস করেছে কোস্টারিকার বিপক্ষে যোগ করা সময়ে ২ গোল করে।
সার্বিয়ার বিপক্ষে জারদান শাকিরি অতিরিক্ত সময়ে গোল করে সুইজারল্যান্ডকে জেতান। শেষ বাঁশি বাজার কয়েক সেকেন্ড আগে সুইডেনের বিপক্ষে জার্মানির হয়ে টনি ক্রুসের ফ্রি-কিক করা লক্ষভেদ এই বিশ্বকাপের আলোচিত গোলের একটি। আবার গত ৮০ বছরে জার্মানির ভাগ্যে যা ঘটেছে, রাশিয়া সেই যোগ করা সময়েই। গতবারের চ্যাম্পিয়ন জার্মানির কফিনে শেষ পেরেক ঠুঁকে দিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। তারা চ্যাম্পিয়নদের এই আসরের বিদায় ঘণ্টা বাজিয়েছে ইনজুরি সময়ে ২ গোল করে।
মিসরকে পুড়তে হয়েছে সৌদি আরবের বিপক্ষেও। শেষ মুহূর্তে গোল খেয়ে শেষ ষোলোর স্বপ্ন বিসর্জনের সঙ্গে হারেরও ষোলোকলা পূর্ণ হয়েছে আলোচিত তারকা মোহাম্মদ সালাহ’র মিসরের। ইরান তাদের শেষ ম্যাচে পর্তুগালের জয় আটকিয়ে দিয়েছে শেষ মুহূর্তে গোল করে। তবে হার এড়ালেও তাদের ‘রাজা’ বাঁচেনি; পূরণ হয়নি শেষ ষোলোর স্বপ্ন। একই গ্রুপের অন্য ম্যাচে মরক্কোর বিপক্ষে অতিরিক্ত সময়ে গোল ২-২ ড্র করে পরের পর্বের টিকিট পেয়েছে স্পেন।
দুবারের চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকেও মুখিয়ে থাকতে হয়েছে শেষ মুহূর্তের সৌভাগ্যের বরের ওপর। নাইজেরিয়ার বিপক্ষে শেষ ম্যাচে জয়ের বিকল্প ছিল না মেসিবাহিনীর। ম্যাচ প্রায় শেষ ১-১ সমতায়। ঠিক তার ৪ মিনিট আগে মার্কোস রোহো দারুণ এক গোল; আকাশি-সাদাকে টিকিয়ে রাখে বিশ্বকাপে।
গ্রুপে আইসল্যান্ডকে শেষ মুহূর্তে হারিয়ে পুরো ৯ পয়েন্ট নিয়ে শেষ ষোলোয় নাম লিখিয়েছে ক্রোয়েশিয়া। সুইজারল্যান্ডের জন্য গ্রুপ পর্ব উতরানো সহজ ছিল না। কোস্টারিকার ইয়ান সোমারের যোগ করা সময়ের গোলে শেষ গ্রুপ ম্যাচটি শেষ হয় ২-২ গোলে। ভাগ্যিস অন্য ম্যাচে ব্রাজিল সার্বিয়াকে ২-০ গোলে হারিয়েছিল। নয় তো সেই ড্র-এ কাল হয়ে যেতে পারত সুইজারল্যান্ডের বিশ্বকাপও।
গ্রুপ পর্বে অনেক ম্যাচেই নায়ক ছিল ‘ইনজুরি টাইম’। এবার শুরু হয়েছে দ্বিতীয়, তৃতীয় করে চূড়ান্ত পর্বের লড়াই। হয়তোÑ রাশিয়া বিশ্বকাপের বাকি পথের বাঁকে বাঁকে অপেক্ষা করছে নতুন কোনো রোমাঞ্চ।
রোমাঞ্চকর প্রথম পর্বের চড়াই-উতরাই শেষে ৩২ দলের মধ্যে বাড়ি ফিরেছে ১৬ দল। এই ১৬টি দল মুখোমুখি হবে শেষ ষোলোর মঞ্চে। সেখান থেকে আট, তারপর চার, এরপর দুই হয়ে একের লড়াই। এই তো বিশ্বকাপ! কল্পনার ঘুড়িটা আপাতত এই ‘এক’ পর্যন্ত না ওড়ানোই ভালো। কারণ, সবে তো গ্রুপ পর্ব শেষ। শুরু হয়েছে নকআউট পর্ব; হারলেই বিদায়। ৩০ জুন থেকে ৩ জুলাই পর্যন্ত শেষ ষোলোর মঞ্চে প্রতিদিন দুটি ম্যাচ। ৩০ জুন রাত ৮টায় ফ্রান্স-আর্জেন্টিনা; ১২টায় উরুগুয়ে-পর্তুগালের ম্যাচ দিয়ে নকআউটের সূচনা হয়। পরের ম্যাচগুলোতে সুইডেন-সুইজারল্যান্ড, কলম্বিয়া-ইংল্যান্ড, ব্রাজিল-মেক্সিকো, বেলজিয়াম-জাপান, ক্রোয়েশিয়ার-ডেনমার্ক এবং স্বাগতিক রাশিয়া-স্পেন মুখোমুখি হবে। ৬ জুলাই থেকে কোয়ার্টার ফাইনাল, ১০ ও ১১ জুলাই সেমিফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে। ১৪ জুলাই মর্যাদার স্থান নির্ধারণী খেলা শেষে ১৫ জুলাই ফিফা খুঁজে নেবে রাশিয়া বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়নদের।

শ্রেণী:

ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়ন-সাফল্যে আওয়ামী লীগের অর্জন

Posted on by 0 comment
june2018

june2018আরিফ সোহেল : ক্রীড়াবান্ধব আওয়ামী লীগ সরকার যখনই ক্ষমতায়, তখনই এ দেশের ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়ন-অগ্রগতি-সমৃদ্ধি রচিত হয়েছে। অর্জিত হয়েছে সাড়া জাগানিয়া সাফল্য। ক্রিকেট-ফুটবল-হকি-শুটিং-ভারোত্তোলন-আরচারি-সাঁতার-ভলিবলের আন্তর্জাতিক আসর থেকে লেগেছে বাঙালি জাতির মাথায় গৌরবের পালক। জাতির পিতার মতো মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও খেলা-পাগল। সময়-সুযোগ পেলেই ছুটে যান স্টেডিয়ামে। অনুপ্রাণিত করেন খেলোয়াড়দের। সাকিব যখন বিশ্ব মাতিয়ে দেন, মাবিয়া-শাকিলরা যখন লাল-সবুজের পতাকা উড়িয়ে দিয়ে নিজের আবেগ ধরে রাখতে পারেন না; তখন মায়ের মমতায় তাদের ফোন করে অনুপ্রাণিত করেন প্রধানমন্ত্রী।
দেশি ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ক্রীড়াঙ্গনকে সমুন্নত রাখতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রতিশ্রুতিবব্ধ। হয়তো তাইÑ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ গঠনের রূপকল্প-২০২১ ও রূপকল্প-২০৪১-এ ক্রীড়াঙ্গনকে আলাদা মর্যাদার জায়গায় রেখেছেন। তার কারণও রয়েছেÑ ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়ন-সাফল্যে প্রশংসিত হয়েছে শেখ হাসিনা সরকার। সেই প্রশংসা এসেছে কখনও ক্রিকেট বিশ্বকাপে, কখনও কিশোর মেয়েদের ফুটবলে, কখনও এশিয়ান গেমস বা কমনওয়েলথ গেমসের আসর থেকে।
আন্তর্জাতিক আসর আয়োজনেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুনাম-সুখ্যাতি বিশ্বময় ছড়িয়ে রয়েছে। বিশ্বকাপ, এশিয়া কাপ এবং টোয়েন্টি২০ বিশ্বকাপ সার্বিকভাবে সাফল্যম-িত করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আইসিসি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। এসএ গেমস উদ্ভাসন আয়োজন ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে। দারুণ এবং সফল আয়োজনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক রোলার স্কেটিং, আরচারি, হকি, ভলিবলের নীতি-নির্ধারকরাও।

একই পথের যাত্রী
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আহ্বানে সাড়া দিয়েই সর্বস্তরের মানুষ মহান মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। ৩০ লাখ শহিদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে বাংলাদেশ মুক্ত করেছে পরাধীনতার শৃঙ্খল। পৃথিবীর মানচিত্রে বাঙালি জাতি খুঁজে পেয়েছে আপন ঠিকানা। স্বপ্নদ্রষ্টা জাতির পিতার নিজ হাতেই স্বাধীনতাত্তোর বাংলাদেশে খেলার জন্য অবকাঠামো নির্মাণ এবং ক্রীড়াঙ্গনকে সচল রাখতে নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। বঙ্গবন্ধু যেহেতু ছোটবেলা থেকে খেলাধুলায় পারদর্শী ছিলেন। ছিলেন পুরোদস্তুর ক্রীড়াবিদ। খেলতেন ফুটবল স্কুল জীবনেই। তাই দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকেই তিনি বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনকে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ গ্রহণ করেন। স্মৃতির অ্যালবাম বলছেÑ ১৯৭২ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকা স্টেডিয়ামে প্রদর্শনী ফুটবল ম্যাচের কথা। ম্যাচে অংশ নেয় রাষ্ট্রপতি একাদশ ও মুজিবনগর একাদশ। এই ম্যাচটি ছিল স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম ফুটবল ম্যাচ। মুজিবনগর একাদশে খেলেছেন স্বাধীন বাংলার ফুটবলাররা। বঙ্গবন্ধু ম্যাচের উদ্বোধন করেন তিনি। ১৯৭৫ সালের বিয়োগান্তক উপখ্যান, পরবর্তীতে নানা সরকারের আসা-যাওয়া। কিন্তু ক্রীড়াঙ্গনে সুবাতাস আর আসেনি। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ক্রীড়াঙ্গনের প্রতি আত্মনিবেদন করেন।

ক্রীড়া অবকাঠামোর ব্যাপক উন্নয়ন
একদিকে বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে সাফল্য ছুঁয়ে দেখা; অন্যদিকে আওয়ামী লীগ সরকার আমলেই স্টেডিয়াম-মাঠ-গ্যালারিসহ অবকাঠামো খাতে ব্যাপক উন্নয়ন ঘটেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুচিন্তিত পরামর্শ-নির্দেশনায় বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনও রূপায়িত হয়েছে উন্নয়ন ও অগ্রগতির রোল মডেলে। একদিকে সরকারি অর্থায়ন-উদ্যোগে পুরনো স্টেডিয়াম সংস্কার; অন্যদিকে প্রতিনিয়ত নতুন স্টেডিয়াম বিনির্মাণের প্রকল্প ও কর্মসূচি গ্রহণ ভিন্নমাত্রা যোগ করেছে। আওয়ামী সরকার আমলেই ৫টি জাতীয় স্টেডিয়াম, ৪টি বিভাগীয় স্টেডিয়াম, ৬২টি জেলা স্টেডিয়াম এবং থানা পর্যায়ে ৫টি স্টেডিয়াম নির্মাণ হয়েছে। নির্মাণ ও সংস্কার মিলিয়ে ঢাকাসহ সারাদেশে ৩২টি জিমনেসিয়াম, ২০টি সুইমিংপুল, ৭টি ইনডোর স্টেডিয়াম এবং ৪টি মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্স, ৫টি পূর্ণাঙ্গ ক্রীড়া কমপ্লেক্স, একটি করে হ্যান্ডবল, বক্সিং, ভলিবল ও কাবাডি, শেখ রাসেল রোলার স্কেটিং কমপ্লেক্সে তৈরি হচ্ছে আগামীদিনের তারকারা। উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ভেন্যু হিসেবে শের-ই-বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়াম, চট্টগ্রাম জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়াম, ফতুল্লা খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়াম, সিলেট বিভাগীয় স্টেডিয়াম, খুলনা শেখ আবু নাসের স্টেডিয়াম ক্রিকেট বিশ্বে প্রশংসিত হচ্ছে। সর্বশেষ দুরন্ত গতিতে চলছে ৪৯০টি উপজেলা পর্যায়ে মিনি স্টেডিয়াম বিনির্মাণের কাজ। ইতোমধ্যে সরকার ১৩১টি মিনি স্টেডিয়ামের অবকাঠামো নির্মাণের কাজ প্রায় শেষ হয়েছে। নতুন অর্থবছরে বাকি স্টেডিয়ামের কাজ সম্পাদনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া গত অর্থবছরে শুরু হয়েছে ৪টি নতুন গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের কাজ। এই ৪টি নতুন গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প হচ্ছেÑ
১. ঢাকার পূর্বাচলে ৩৭.৫ একর জমির ওপর ৬৫ হাজার দর্শক আসন সম্পন্ন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম;
২. কক্সবাজারে ৪৯.২ একর জায়গায় শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম এবং ক্রীড়া কমপ্লেক্স;
৩. মানিকগঞ্জে ২৫ একর জমির ওপর আন্তর্জাতিকমানের ক্রিকেট স্টেডিয়াম এবং
৪. ক্রীড়া পরিষদের নতুন ভবন নির্মাণের প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।
বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক ভলিবল টুর্নামেন্ট
বঙ্গবন্ধু সিনিয়র মেনস সেন্ট্রাল জোন আন্তর্জাতিক ভলিবল টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল স্বাগতিক বাংলাদেশ। ২৭ ডিসেম্বর ২০১৬ অনুষ্ঠিত পাঁচ জাতির এই আসরের ফাইনালে কিরগিজস্তানকে ৩-০ সেটে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়ে জাবির-রাশেদরা উড়িয়েছে লাল-সবুজের পতাকা। কিন্তু ২০১৮ সালে বাংলাদেশ হয়েছে রানার্সআপ। এবার ফাইনালে বাংলাদেশকে ৩-১ সেটে পরাজিত করে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক ভলিবল টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে তুর্কেমেনিস্তান।

এএইচএফ কাপ হকিতে চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ
হংকংয়ে এএইচএফ কাপ হকিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বাংলাদেশ। ২৭ নভেম্বর ২০১৭ ফাইনালে জিমি-আশরাফুলরা শ্রীলংকাকে    ৩-০ গোলের ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়ে টানা তৃতীয়বারের মতো শিরোপা জিতেছে। এর আগে ২০০৮ সালে সিঙ্গাপুর ও ২০১২ সালে থাইল্যান্ডে শিরোপা জিতেছিল বাংলাদেশ। পরবর্তীতে বিশ্বকাপের নির্ধারণী আসরেও বাংলাদেশ তৃতীয় হয়েছে। যার মানে বাংলাদেশের যুব দল বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পাচ্ছে।

চতুর্থ রোলবল বিশ্বকাপ টুর্নামেন্ট
ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহে বাংলাদেশে বসেছিল রোলার স্কেটিংয়ের চতুর্থ রোলবল বিশ্বকাপ টুর্নামেন্ট-২০১৭। আসরে পাঁচ মহাদেশের ৫৫টি দেশ অংশ নিয়েছে। এই আসরকে সামনে রেখে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়াম কমপ্লেক্সে জাতীয় রোলার স্কেটিং কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক এই আসরের বিজয়ী দলকে শিরোপা তুলে দিয়েছেন। বাংলাদেশ আসরে চতুর্থ হয়ে দারুণ চমক সৃষ্টি করেছে।

তৃণমূলে প্রতিভা অন্বেষণ কর্মসূচি
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের উদ্যোগে প্রথমবারের মতো দেশব্যাপী তৃণমূলে প্রতিভাবান খেলোয়াড় বাছাইয়ের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে ২০১৭ সালে। এই কর্মসূচির জন্য সরকার ১৫ কোটি ১০ লাখ টাকা অর্থ বরাদ্দ দিয়েছিল। এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচি থেকে ৩১টি ক্রীড়া ফেডারেশন খুঁজে নিয়েছে তাদের আগামী দিনের তারকা। তৃণমূলে এই কর্মসূচি ক্রীড়াঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন তুলেছে। প্রতিভা অন্বেষণে প্রশিক্ষণ কর্মসূচির জন্য ক্রীড়া ফেডারেশনগুলো দীর্ঘদিন সরকারের কাছে অর্থ বরাদ্দ চেয়ে আসছিল। চলতি বছরও তৃণমূলে প্রতিভা অন্বেষণের কর্মসূচি শুরু হতে যাচ্ছে।

বঙ্গবন্ধু এবং বঙ্গমাতা শিশু-কিশোর ফুটবল
প্রাথমিক স্কুল পর্যায়ে বঙ্গবন্ধু এবং বঙ্গমাতা গোল্ডকাপের আয়োজন সারাদেশের শিশু-কিশোর ও তরুণ-তরুণীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। বাংলাদেশের প্রমীলা ফুটবলের আজকের দীপ্ত পদচারণায় এই টুর্নামেন্টের যথেষ্ট ভূমিকা রয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিয়মিতই বঙ্গবন্ধু এবং বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিব প্রাথমিক বিদ্যালয় ফুটবল টুর্নামেন্টে উপস্থিত থাকেন এবং বিজয়ীদের পুরস্কৃত করেন। বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপে ৬৩ হাজার ৫০৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১০ লাখ ৭৯ হাজার ৬৫৩ ফুটবলার অংশ নেন। আর বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিব গোল্ডকাপে ৬৩ হাজার ৪৩১টি বিদ্যালয়ের ১০ লাখ ৭৮ হাজার ৩২৭  ফুটবলার অংশ নেন। বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেসা মুজিবের নামে দেশব্যাপী ফুটবল টুর্নামেন্ট বাংলাদেশে ক্ষুদে ফুটবলার তৈরির ক্ষেত্রে অনন্য ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। শুধু রাজধানী নয়, জেলা, উপজেলা, গ্রাম পর্যায়েও এই টুর্নামেন্ট এখন আলোচনার শীর্ষে। আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে মেয়েদের বয়সভিত্তিক ফুটবল দল। এই দলটি ওঠে এসেছে বঙ্গবন্ধু বঙ্গমাতা ফুটবল আসর থেকে।

১২তম সাউথ এশিয়া গেমস
ভারতের গোয়ায় অনুষ্ঠিত সাউথ এশিয়া গেমসে এবার ৪টি স্বর্ণ জিতে পঞ্চম স্থান অর্জন করেছে বাংলাদেশ। এই ৪টি স্বর্ণ জিতেছেন তিন অ্যাথলেট। দুই মেয়ে মাবিয়া আক্তার সীমান্ত ও মাহফুজা খাতুন শিলা এবং শুটার শাকিল আহমেদ। ভারোত্তোলন থেকে প্রথম স্বর্ণ এনেছেন মাবিয়া, এরপর সাঁতার থেকে বাকি দুটি স্বর্ণ জিতেছেন মাহফুজা খাতুন শিলা। বাংলাদেশের অ্যাথলেটরা ৪টি স্বর্ণ ছাড়াও ১৫ রৌপ্য এবং ৫৬ তাম্রপদক জিতেছেন।

গোল্ডকোস্ট কমনওয়েলথ গেমস
বাকি এবং শাকিল এবার অস্ট্রেলিয়ায় আয়োজিত গোল্ডকোস্ট কমনওয়েলথ গেমসে শুটিংয়ে দুটি পদক জিতেছে। অস্ট্রেলিয়ার গোল্ডকোস্ট কমনওয়েলথ গেমসে একক কীর্তিগাথার সুললিত সুর বাজিয়েছেন গাজীপুরের ছেলে ২৮ বছরের আবদুল্লাহ হেল বাকি। এই সাহসী শুটার কমনওয়েলথ গেমসে ১০ মিটার এয়ার রাইফেলে রৌপ্যপদক জিতেছেন। এছাড়া শাকিলের পিস্তল থেকেও বাংলাদেশ অর্জন করেছে ৫০ মিটার এয়ার রাইফেলে রৌপ্য।

ক্রিকেটের গৌরবময় অধ্যায়
ক্রিকেট এখন বাংলাদেশের অহঙ্কারের প্রতীক। বিশ্ব ক্রিকেটে নিত্যনতুন অধ্যায়ের সৃষ্টি করেছেন তামিম-সাকিব-মাশরাফি এবং মুস্তাফিজরা। ২০১৫ সালে বাংলাদেশ পাকিস্তান, ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দুবার সিরিজ জয় করে। সবচেয়ে বড় ঘটনা পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করা। সর্বশেষ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডসহ ৩টি দেশের বিপক্ষে জয় তুলে নিয়ে বাংলাদেশ কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠে। ২০১৬ সালে পাকিস্তান-শ্রীলংকাকে হারিয়ে বাংলাদেশের অনুষ্ঠিত এশিয়া কাপ ক্রিকেটে রানার্সআপ হয়েছে মাশরাফিরা। ভারতে অনুষ্ঠিত টোয়েন্টি২০ বিশ্বকাপে সুপার এইটে ওঠে বাংলাদেশ। দেশে আফগানিস্তানের বিপক্ষে জিতে টানা ৬ সিরিজ জয়ের রূপকথা সৃষ্টি করেছে বাংলাদেশ। ২০১৬ সালের অক্টোবরে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ ড্র করে বাংলাদেশ। এই ক্রিকেটের আন্তর্জাতিক অভিষেকও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে। প্রথম টেস্ট বাংলাদেশে তার উদ্বোধকও শেখ হাসিনা। বিশ্বকাপ ক্রিকেট আয়োজনও হয়েছে আওয়ামী লীগ সরকার আমলে। এ দেশে খেলে গেছে মেসির আর্জেন্টিনা-সুপার ঈগল নাইজেরিয়া; তাও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আন্তরিক সচ্ছিদার কারণে।

জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্রীড়া দিবস উদযাপন
২০১৭ সালে ‘শান্তি ও উন্নয়নের জন্য ক্রীড়া’ এই সেøাগানকে সামনে রেখে প্রথমবারের মতো উদযাপিত হয়েছিল জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্রীড়া দিবস। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জাতীয় ক্রীড়া দিবসের ঘোষণা দিয়েছিলেন। ক্রীড়াকে সবার কাছে জনপ্রিয় করার জন্য; সবাইকে ক্রীড়ায় মনোনিবেশ করার জন্য এই দিবসটি পালন করা হয়েছে। পৃথিবীর অন্যান্য দেশের সঙ্গে সমানতালে ২০১৪ সাল থেকে বাংলাদেশও ৬ এপ্রিল আন্তর্জাতিক ক্রীড়া দিবস পালন করে আসছে। এই দিবসের গুরুত্ব অন্যান্য বছরের তুলনায় বৃদ্ধি পায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৬ সালে জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে ৬ এপ্রিলকে জাতীয় ক্রীড়া দিবস ঘোষণা করার পর। চলতি বছরও ৬ এপ্রিল উৎসব রাঙানো একটি দিন পালন করেছে ক্রীড়া সংশ্লিষ্টরা। ক্রীড়া দিবস পালন করেছে উৎসবমুখর আয়োজনের মধ্য দিয়ে।

প্রথম জাতীয় যুব গেমস
বাংলাদেশে প্রথমবাবের মতো আয়োজন করা হয়েছে বাংলাদেশ যুব গেমস। প্রায় পাঁচ মাসব্যাপী এই আয়োজনকে ঘিরে ব্যাপক সাড়া পড়েছে। সারাদেশের হাজার হাজার তৃণমূলের প্রতিভাবান ক্রীড়াবিদ খুঁজে পাওয়া গেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই আয়োজনে সরাসরি সম্পৃক্ত থেকে উঠতি বয়সী তারকাদের প্রাণিত করেছেন। একেবারে উপজেলা পর্যায় থেকেই এই আসরের প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছিল। এই আসর থেকে আগামী দিনের সম্ভাবনাময় ক্রীড়াবিদ উঠে আসবে।

পিতা-আত্মজায় যেখানে মিলেমিশে একাকার
দেশপ্রধান বঙ্গবন্ধু নিজে উপস্থিত থেকে অনুপ্রাণিত করেছেন খেলোয়াড়দের। বিভিন্ন আসরে খেলোয়াড়রা দেশত্যাগের প্রাক্কালে তাদের উজ্জীবিত করতে জাতির পিতা মন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমান জাতীয় দলের বিদায়ক্ষণে গণভবনে ডেকে কুশলবিনিময় করতেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও পিতার পথ অনুসরণ করেছেন। ২০১৭ সালে বিশ্বকাপের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগের আগে গণভবনে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেছিলেন। পাকিস্তানের বিপক্ষে স্মরণীয় বিজয় উদযাপনের শুভক্ষণেই প্রধানমন্ত্রী ক্রিকেটারদের সম্বর্ধিত করেছেন। আইসিসি বিশ্বকাপ ২০১৫ আসরে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের চোখ ধাঁধানো সাফল্যের পাশাপাশি পাকিস্তান ক্রিকেট দলের বিপক্ষে ঐতিহাসিক সাফল্য অর্জনের ভূয়সী প্রশংসা করে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলকে ২ কোটি টাকা পুরস্কার দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আইসিসি চ্যাম্পিয়ন দলকে দিয়ে শুরু করে আন্তর্জাতিক এবং দেশীয় ক্রীড়াঙ্গনে সাফল্য অর্জন করা সব ক্রীড়াবিদকেই ক্ষেত্রবিশেষে জমি, ফ্ল্যাট, গাড়ি, নগদ টাকায় পুরস্কৃত করেছেন প্রধানমন্ত্রী।  তিনি ফুটবলের টানে অনেকবার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে ছুটে গেছেন। খেলোয়াড়দের সঙ্গে ছবি তুলেছেন। বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপে, ঘরোয়া ফুটবল আসরেও প্রধানমন্ত্রীকে দেখা গেছে।
ক্রিকেট ফুটবল থেকে শুরু গ্রামের হারিয়ে যাওয়া বউচি খেলার কথাও প্রধানমন্ত্রী মনে রাখছেন। তুলনামূলক বিচার করে সমানভাবেই খেয়াল রাখছেন। ক্রীড়াঙ্গনের সব অর্জনের সঙ্গে আওয়ামী লীগ সরকারের এই কাকতালীয় সম্পৃক্ততা যে কারোর কাছেই ঈর্ষণীয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কোন খেলোয়াড় কেমন খেলছে, কাকে কি দিতে, কাদের দিয়ে ক্রীড়াঙ্গনের উন্নতি হবে, ক্রীড়াঙ্গনের জন্য কত বাজেট রাখা উচিতÑ তার সব হিসাবই রাখেন। সেই কারণেÑ যখনই আওয়ামী লীগ ক্ষমতায়, তখনই ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়ন-অর্জনের জয় জয়কার।

শ্রেণী:

বাকী ও শাকিল উড়াল লাল-সবুজের পতাকা

Posted on by 0 comment
5-7-2018 7-06-57 PM

5-7-2018 7-06-57 PMআরিফ সোহেল : ১. দলীয় ইভেন্টে নয়; বাংলাদেশ এগিয়ে যেতে পারে একক ইভেন্টে। বারবার এই চিরায়ত সত্যটি উচ্চারিত হয়েছে।
২. অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ড; নিদেনপক্ষে ভারতের মতো দেশ ক্রীড়াঙ্গন নিয়ে যেভাবে চিন্তা করেÑ সেখানে ব্যক্তিগত ইভেন্টই হতে পারে বাংলাদেশের স্বীকৃতি অর্জনের উৎস্যমূল।

বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এটা প্রমাণিত হচ্ছেÑ হয়েছে বারবার। সর্বশেষে কমনওয়েলথ গেমসেও এই সত্য প্রমাণিত করেছেন শুটার বাকী ও শাকিল। কিন্তু তারপরও একক ইভেন্টে টেকসই প্রয়োগ ও কার্যকরী উদ্যোগ নিয়ে কারোর মাথাব্যথা নেই। বরং ক্রিকেট ফুটবলের মতো দলীয় ইভেন্ট নিয়েই ক্রীড়া ফেডারেশনগুলো মাতম-উন্মাদনা চলছেÑ অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে চলবে। ঘুরেফিরে মনে হয়েছে একক নৈপুণ্যের ইভেন্টেই বাংলাদেশের সম্ভাবনার দুয়ার অবারিত। কেউÑ ওই ‘দল দল’ করে মরছেও না। বরং তারা দলের ভেতরে থাকা একক কারিশমাকে যতœসহকারে গুরুত্ব দিচ্ছেন। সাঁতারু মোশাররফ হোসেন, ব্রজেন দাশ, শুটার আতিক-নিনি, স্প্রিন্টার শাহ আলমের সঙ্গে হালের জুনিয়র দাবাড়– ফাহাদ, ভারোত্তোলনের সীমান্ত এবং বাকী-শাকিলরা একক নৈপুণ্যে বিশ্বকে বিস্মিত করার সুযোগ পেয়েছেনÑ পাচ্ছেন। অস্ট্রেলিয়ার গোল্ডকোস্টে বেজে উঠেছে একক কীর্তিগাথার সুললিত সুর। কমনওয়েথল গেমসে গাজীপুরের ছেলে ২৮ বছরের আবদুল্লাহ হেল বাকী এবং খুলনার শাকিল আহমেদ আবারও প্রমাণ করেছেনÑ ক্রিকেট-ফুটবল বাদে বাংলাদেশের অর্জন একক ইভেন্ট থেকেই বেশি। এই সাহসী শুটারদ্বয়ের একজন বাকী কমনওয়েলথ গেমসে ১০ মিটার এয়ার রাইফেলে; অন্যজন শাকিল ৫০ মিটার পিস্তলে জিতেছেন রৌপ্যপদক। কমনওয়েলথে এটা বাকীর দ্বিতীয় রৌপ্যপদক অর্জনের মাইলফলক হলেও শাকিলের প্রথম। গ্লাসগোতে কমনওয়েলথ গেমসের ২০তম আসরে রৌপ্য জিতেছিলেন বাংলাদেশের সপ্রতিভ মেধাবী শুটার বাকী।
কমনওয়েলথে গল্পের শুরু বাকীকে দিয়ে। চলছে ৮ এপ্রিল ২০১৮ কমওয়েলথের ১০ মিটার রাইলের শিরোপা নির্ধারণী শেষ শটের প্রস্তুতি। উত্তেজনা পারদ তখন আকাশ ছুঁইছুঁই। টপ স্কোরার হওয়ার স্বপ্ন নয়Ñ বাস্তবতার সামনে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের আবদুল্লাহ হেল বাকী। স্বর্ণ জিততে শেষ শটে প্রয়োজন ১০.১। আগের শটে ১০.২ স্কোর করা বাকী তখন ইনডোরে বাজির ঘোড়া। স্মিথ হাসিমাখা প্রাণোচ্ছ্বল মুখের বাকী তখন ছুটছিলেন দুর্দান্ত গতিতে। ধ্যান-জ্ঞানে নিমগ্ন বাকী ছুড়লেন গুলি। কিন্তু তাতে স্কোর ৯.৭। স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার ড্যান স্যাম্পনের কাছে অল্পের জন্য স্বর্ণ হাতছাড়া হয়েছে বাকীর। সবমিলিয়ে স্যাম্পসনের ২৪৫, আর বাকীর ২৪৪.৭। ২০০২ সালে ইংল্যান্ডের ম্যানচেস্টারে কথা ফ্রেমে ভেসে উঠছিল। এই ১০ মিটার এয়ার রাইফেল ইভেন্টেই স্বর্ণ জিতেছিলেন তরুণ আসিফ। দেশ পেয়েছিল স্বর্ণখচিত গৌরবময় সম্মাননা। স্মৃতির সুবিস্তীর্ণ আকাশে তখন ভেসে উঠছিল শুটার আতিকুর রহমান ও আবদুস সাত্তার নিনির মুখও। কারণ ১৯৯০ সালে কমনওয়েলথ গেমসে দেশের হয়ে প্রথম স্বর্ণ জয় করেছিলেন ওই শুটার জুটিই।
অলিম্পিকের পর কমনওয়েলথ গেমস বিশ্বের অন্যতম ঐহিত্যবাহী আসর। এবার ৭৭টি দেশ অংশ নিচ্ছে আসরে। সেখানে শুটার বাকীর কিংবা শাকিলের দ্বিতীয় হওয়া অহম করার মতো গৌরবের। গোল্ডকোস্ট কমনওয়েলথ গেমসের ২১তম আসরে বাংলাদেশের হয়ে প্রথম পদকও এসেছে আবদুল্লাহ হেল বাকীর রাইফেলের গোলা থেকেই। আর এক পিস্তলে গুলিতে শাকিল উড়িয়েছে জাতীয় পতাকা।
১০ মিটার এয়ার রাইফেলের কোয়ালিফাইং রাউন্ডে ৬১৬.০ স্কোর করে বাকী ফাইনালে ওঠার পর থেকেই স্পট লাইটে ছিলেন। ২৪ রাউন্ডের খেলায় বেশ কয়েকবার শীর্ষে ছিলেন আবদুল্লাহ হেল বাকী। ১৬তম রাউন্ডে থেকেই শুরু হয় ত্রিমুখী লড়াই। সেখানে শামিল হয়েছেন কখনও অস্ট্রেলিয়ান স্যাম্পসন, কখনও ভারতের রাভি কুমার। শীর্ষ নিয়ে জটিল হাড্ডাাড্ডি হচ্ছিল বাকীর সঙ্গে তাদের। ২১তম রাউন্ড শেষে ২০৪.৬ পয়েন্ট নিয়ে ছিটকে পড়েছেন ভারতের রাভি কুমার। তারপর আরও লড়াই। কিন্তু শেষ লড়াইয়ে হেরে গেলেন বাকী। মিডিয়ার মুখোমুখি বাকী বলেছেনÑ ‘স্বর্ণের একদম কাছে থেকে ফিরে এসেছি, একটা দারুণ সুযোগ ছিল। কিন্তু ভাগ্য সহায় ছিল না। তারপরও আমি সন্তুষ্ট।’ তিনি আরও বলেছেনÑ ‘শুরুতে আমি কোনো চাপে ছিলাম না। শেষ শটেও আমার লিড ছিল, ১০.১ করতে পারলেও হয়তো জিতে যেতাম। তবে যা হয়নি, তা নিয়ে আর ভাবছি না।’
২০০৮ সালে ইসলামাবাদ সাফ গেমসে দলগত ইভেন্টে প্রথম অংশ নিয়েই স্বর্ণপদক জিতে বাকী দৃষ্টি কেড়েছিলেন সংগঠকদের। পরের প্রায় ৯ বছর আন্তর্জাতিক আঙিনায় অর্জনের খড়ায় পুড়ে কাঠ হয়েছিলেন বাকী। এই দীর্ঘ সময়ে সৃষ্টি হয়েছিল বেজায় হতাশা। কিন্তু ভেঙে পড়েন নি। ভেতরের প্রবল ইচ্ছে; অধ্যবসায় ২০১৭ সালে ইসলামিক সলিডারিটি গেমসে আবার জেগে ওঠেন। বাকী-দিশার সঙ্গে জুটিবদ্ধ হয়ে স্বর্ণ জিতে নিজেকে ফিরে পেয়েছেন। আজারবাইজানের বাকুতে অনুষ্ঠিত চতুর্থ ইসলামিক সলিডারিটি গেমসে ১০ মিটার এয়ার রাইফেলের মিশ্র দলগত ইভেন্টে আবদুল্লাহ হেল বাকি ও সৈয়দা আতকিয়া হাসান দিশা ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশকে স্বর্ণ এনে দিয়ে গৌরবান্বিত করেন।
কমনওয়েলথ গেমসে গোল্ডকোস্টের বেলমন্ট শুটিং সেন্টারে বাকীর পর ছেলেদের ৫০ মিটার পিস্তলে বাংলাদেশকে রুপা উপহার দিয়েছেন শুটার শাকিল আহমেদ। এর আগে ২০১৬ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি দক্ষিণ এশিয়ান গেমসে এই ইভেন্টে স্বর্ণ জিতেছিলেন তিনি। বাকীর হাত ধরে প্রথম স্বর্ণ জয়ের পর বড় মঞ্চে আরেকটি ইতিহাস গড়েছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর শুটার শাকিল।
বাংলাদেশকে দ্বিতীয় পদক তুলে দেওয়া খুলনার তরুণ শাকিল ফাইনালে ২২০.৫ স্কোর করে রুপা জিতেছেন। ২২৭.২ পয়েন্ট পেয়ে গেমস রেকর্ড গড়ে স্বর্ণ জয় করেছেন অস্ট্রেলিয়ার ড্যানিয়েল রেফাকোলি। আর এই ইভেন্টে ব্রোঞ্জ জিতেছেন ভারতের ওমপ্রকাশ মিথারওয়াল। ওমপ্রকাশের স্কোর ২০১.১। এর আগে ১০ মিটার এয়ার পিস্তলে অংশ নিয়েছিলেন শাকিল। কিন্তু সেখানে খুব বেশি ভালো করতে পারেন নি। ফাইনালে উঠলেও ষষ্ঠ হয়ে প্রতিযোগিতা শেষ করেন।
শাকিল বাছাইয়ে ৫৪৫ স্কোর গড়ে চতুর্থ হয়ে ফাইনালে ওঠেন। পঞ্চম শট পর্যন্ত ৪৫.৯ স্কোর নিয়ে পঞ্চম স্থানে ছিলেন। ১২ শট পর উঠে আসেন তৃতীয় স্থানে। ১৮ শট পরও ১৬৫.৮ স্কোর নিয়ে তৃতীয় স্থানেই ছিলেন। যদিও স্বর্ণজয়ী রেফাকোলি শাকিলের চেয়ে বরাবরই এগিয়ে ছিলেন। শেষ ২ শটে আগে রেফাকোলির স্কোর ছিল ২০৮.৭, সেখানে শাকিলের ছিল ২০২.২। শেষ শটে স্বর্ণজয়ী রেফাকোলি মেরেছেন ৯.২। আর শাকিল ৮.৭ পয়েন্ট নিয়ে জিতছেন রুপা।
শাকিলকে দিয়েই পিস্তলে নবযুগের সূচনা দেখেছে বাংলাদেশ। রাইফেলের চেয়ে পিস্তলের গুলি তুলনামূলক ব্যয়বহুল। এ জন্য অতীতে পিস্তলের অনুশীলন হতো কম। সাফল্যও সেভাবে ধরা দেয়নি। কিন্তু এবার ফেডারেশন ও সেনাবাহিনী অনুশীলনে কার্পণ্য করেনি। বাংলাদেশকে ১৯৯০ অকল্যান্ড কমনওয়েলথ গেমসে ১০ মিটার এয়ার পিস্তলে স্বর্ণ এনে দিয়েছিলেন আতিকুর রহমান ও আবদুস সাত্তার নিনি। এরপর থেকে পিস্তল ইভেন্ট কখনও আলোচনায় ছিল না। শাকিলের হাত ধরে পিস্তলে আন্তর্জাতিক সাফল্য নতুন স্বপ্নদুয়ার উন্মোচিত করছে। কারণ এসএ গেমসেও শাকিল জিতেছিলেন স্বর্ণ। এবার জিতেছেন কমনওয়েলথ গেমসে।
কমনওয়েলথ গেমসে এবারের আসরে বাংলাদেশের ৩০ জন অ্যাথলেট ১০টি ইভেন্টে অংশ নিয়েছে। তবে পদক জয়ের আশা প্রবল ছিল কেবল শুটিংয়েই। সেই শুটিং থেকেই কমনওয়েলথ গেমসের দুটি রৌপ্যপদক জিতেছেন আবদুল্লাহ হেল বাকী ও শাকিল আহমেদ। কমওনওয়েলথ গেমসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মার্চপাস্টে জাতীয় পতাকাও ছিল এই রৌপ্যজয়ী আবদুল্লাহ হেল বাকীর হাতেই। তার পাশেই ছিলেন শুটার শাকিল। তাদের রাইফেল-পিস্তলে উড়েছে লাল-সবুজের পতাকা।
কমনওয়েলথ গেমস এবং এসএ গেমসে পদকজয়ী বাকী ও শাকিলের চোখ এখনও তাক করে আছে বড় কিছুর আশায়। এবার নিশ্চয় বাকীর রাইফেল আর শাকিলের পিস্তল অলিম্পিকেও লাল-সবুজের পতাকার মেলে ধরার বড় স্বপ্নে বিভোর।

শ্রেণী: