প্রবৃদ্ধির প্রথম সারিতে থাকবে বাংলাদেশ

2-6-2019 8-48-48 PM

2-6-2019 8-48-48 PMউত্তরণ প্রতিবেদন: চলতি বছর বিশ্বের যেসব দেশে ৭ শতাংশ বা এর বেশি প্রবৃদ্ধি হবে, তার মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। আবার চীন, ভিয়েতনাম কিংবা কম্বোডিয়ার মতো রপ্তানি বাজারে বাংলাদেশের প্রধান প্রতিযোগীদের সবার চেয়ে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি হবে বেশি। বিশ্ব অর্থনীতির অবস্থা ও সম্ভাবনা-২০১৯ নামে জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে এ পূর্বাভাস রয়েছে।
প্রতিবেদনটি গত ২১ জানুয়ারি বাংলাদেশ সময় রাত ১০টায় নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তর থেকে প্রকাশিত হয়।
জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিভাগ (ইউএন-ডেসা), বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সংস্থা আঙ্কটাড এবং এসকাপ-সহ ৫টি আঞ্চলিক কমিশন যৌথভাবে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে। রিপোর্টে ২০৩০ সাল নাগাদ বাস্তবায়নের জন্য নতুন বৈশ্বিক এজেন্ডা টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি) বাস্তবায়নের নিরিখে প্রণীত হয়েছে। প্রতিবেদনে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, মিয়ানমারসহ কিছু দেশের ক্ষেত্রে ২০১৯ সালের পূর্বাভাস বলতে অর্থবছর ২০১৮-১৯ অর্থবছর বোঝানো হয়েছে। বেশিরভাগ দেশের ক্ষেত্রে ২০১৯ সালের প্রবৃদ্ধি বলতে পঞ্জিকাবর্ষ অর্থাৎ জানুয়ারি-ডিসেম্বর ধরা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বাংলাদেশের অর্থনীতির সম্ভাবনার পাশাপাশি স্বল্পোন্নত দেশ থেকে বেরোনোর পর কিছু চ্যালেঞ্জের কথা বলা হয়েছে। বলা হয়েছে, শক্তিশালী বিনিয়োগ, বেসরকারি ভোগ ব্যয় এবং সংকুলানমুখী মুদ্রানীতির কারণে কয়েক বছর ধরে মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) ৭ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি হচ্ছে। চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৭ দশমিক ৪ শতাংশ। অবশ্য সরকারের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে ৭ দশমিক ৮ শতাংশ। বিশ্বব্যাংক সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশ হবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে।
জাতিসংঘের পূর্বাভাস অনুযায়ী ২০১৯ সালে অন্তত ১০টি দেশে ৭ শতাংশ বা তার বেশি প্রবৃদ্ধি হবে। বাংলাদেশ ছাড়া অন্য দেশের মধ্যে রয়েছেÑ ভারত, কম্বোডিয়া, মিয়ানমার, ঘানা, ইথিওপিয়া এমনকি সিরিয়াও। রয়েছে দক্ষিণ সুদান। তবে সিরিয়া ও দক্ষিণ সুদানে বড় ধরনের সামাজিক ও রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে আগের কয়েকটি বছরে অর্থনীতি মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এখন পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় তাদের দুর্বল ভিত্তির কারণে উচ্চ প্রবৃদ্ধি হবে।
প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা যায়, ধারাবাহিকভাবে ভালো প্রবৃদ্ধি হচ্ছে এমন দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান শীর্ষ পর্যায়ে। যেমনÑ চীনের প্রবৃদ্ধি এ বছর কমে দাঁড়াবে ৬ দশমিক ৩ শতাংশ। কম্বোডিয়ায় ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস রয়েছে। ভিয়েতনামসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সব দেশেরই প্রবৃদ্ধি হবে বাংলাদেশের চেয়ে কম।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশ, ভারত ও ভুটানের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বহুলাংশে ইতিবাচক। এসব দেশে নিকট মেয়াদে জিডিপি প্রবৃদ্ধি তেজি থাকবে। বাংলাদেশের চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, আগামী কয়েক বছর বাংলাদেশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কেননা স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের পর ২০২৭ সালে বাংলাদেশ ইউরোপীয় ইউনিয়নে রপ্তানিতে ‘এভরিথিং বাট আর্মস’-এর আওতায় শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে না। বাংলাদেশ চীন, শ্রীলংকাসহ কয়েকটি দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (এফটিএ) আলোচনা করছে। তবে এলডিসির আওতায় বহুপক্ষীয় ব্যবস্থায় বাংলাদেশ যেভাবে অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য সুবিধা পাচ্ছে, দ্বিপক্ষীয় ক্ষেত্রে তার চেয়ে বেশি সুবিধা পাওয়া বাংলাদেশের জন্য চ্যালেঞ্জিং।
মতামত জানতে চাইলে গবেষণা সংস্থা সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো এবং জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসির সদস্য ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ভালো হচ্ছে। তবে প্রবৃদ্ধির গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। কেননা ভোগের ক্ষেত্রে, সম্পদের ক্ষেত্রে ও আয়ের ক্ষেত্রে বৈষম্য হচ্ছে। বৈষম্য বাড়লে উচ্চ প্রবৃদ্ধি টেকসই হয় না।
এলডিসি থেকে উত্তরণের চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, এর আগে যারা এলডিসি থেকে বের হয়েছে, তাদের অনেকের ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি টেকসই রাখতে বিশেষ যতœ নিতে হয়েছে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে প্রধান মনোযোগের বিষয় হলো, রপ্তানি টেকসই রাখা। বাজার সুবিধা কমে গেলে দ্বিপক্ষীয় চুক্তির তুলনায় ইউরোপীয় ইউনিয়নে জিএসপি প্লাস পাওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের যোগ্যতা অর্জন গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া বৈদেশিক সহায়তা এবং রেমিট্যান্স কমে যাওয়ার একটা পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। সেক্ষেত্রে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে বাংলাদেশকে বিশেষ মনোযোগ দিতে হবে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৮ সালে বিশ্ব অর্থনীতিতে ৩ দশমিক ১ শতাংশ প্রবৃদ্ধির প্রাক্কলন করা হয়েছে। ২০১৯ সালে তা কমে ৩ শতাংশ হতে পারে। বিশ্ব অর্থনীতিতে ঝুঁকি কমাতে এবং টেকসই প্রবৃদ্ধির ভিত্তি তৈরি করতে জরুরি ও দৃঢ় পদক্ষেপ নিতে হবে।

শ্রেণী:

তারেকের আশ্বাসে ও সহযোগিতায় ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা

2-6-2019 8-37-45 PM

2-6-2019 8-37-45 PMউত্তরণ প্রতিবেদন: বিএনপির বর্তমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও তৎকালীন সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব তারেক রহমানের আশ্বাসেই ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগের সমাবেশে ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা চালানো হয়েছিল। এ ব্যাপারে তৎকালীন প্রশাসনের প্রশাসনিক সহায়তাও পেয়েছিল জঙ্গিরা। হরকাতুল জিহাদ (হুজি) নেতা মুফতি আবদুল হান্নান ও তার সহযোগীরা গ্রেনেড হামলার কিছুদিন আগে বনানীর হাওয়া ভবনে গিয়ে তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তখন সেখানে উপস্থিত তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, তৎকালীন মন্ত্রী ও জামায়াত নেতা আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, সেনা গোয়েন্দা সংস্থার তৎকালীন পরিচালক সিআইবি মেজর জেনারেল (অব.) রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরী, এনএসআইয়ের তৎকালীন ডিজি ব্রিগেডিয়ার (অব.) আবদুর রহিমের সঙ্গে ষড়যন্ত্রমূলক বৈঠক করেন। বৈঠকে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ নেতাদের হত্যা করার সহযোগিতা চায় জঙ্গিরা। তারেক রহমান উপস্থিত সবার সামনে জঙ্গিদের সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন। আর ওই হামলার মুখ্য উদ্দেশ্য ছিল শেখ হাসিনাকে হত্যা করে তার দলকে নেতৃত্বশূন্য করা। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার ঘটনায় করা দুটি মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়ে এসব বিষয় তুলে ধরেছেন ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক জেলা ও দায়রা জজ শাহেদ নূর উদ্দিন।
মামলার ঘটনাস্থল পরিদর্শন, জব্দকৃত আলামত, রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী, আসামিদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি ও পারিপার্শ্বিক সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে রায়ে বলা হয়, গ্রেনেড হামলা চালানোর হীনউদ্দেশ্য হচ্ছে জঙ্গি সংগঠন হুজি, হিজবুল মুজাহিদীন, লস্কর-ই-তৈয়বা, তেহরেকি জেহাদী ইসলাম, রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশনের জঙ্গি কর্মকা- এদেশে নির্বিঘেœ চালিয়ে যাওয়া; স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বশূন্য করে দেশের উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা ধ্বংস করে বাংলাদেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করা। এছাড়া অবস্থানগত ও ক্ষমতাগত লাভের উদ্দেশেও এখানে কাজ করেছে বলে আদালতের কাছে প্রতীয়মান হয়।
রায়ে বলা হয়, এ উদ্দেশ্যসমূহ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ২০০২ সালের জুলাই মাসে মোহাম্মদপুর সুপার মার্কেটের কাছে ও ২০০৩ সালে একই এলাকার সাত গম্বুজ মসজিদে, ২০০৪ সালের প্রথম ও আগস্ট মাসের মাঝামাঝি সময়ে হাওয়া ভবনে, সাবেক উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুর সরকারি বাসভবন ছাড়াও ঢাকার বিভিন্ন স্থানে সভা করে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল আসামিরা। এসব সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আসামি বাবর, রেজ্জাকুল, রহিম, পিন্টু, তারেক, হারিছ, কায়কোবাদের কাছ থেকে জঙ্গিরা প্রশাসনিক সুবিধা নেয়। বিএনপি ক্ষমতায় থাকায় হামলার কাজটি করা তাদের জন্য সহজ হবে ভেবে ২০০৪ সালের প্রথম দিকে এমপি কায়কোবাদের সহযোগিতায় হাওয়া ভবনে গিয়ে তারেক রহমান ও হারিছ চৌধুরীর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে পরিচিত হন জঙ্গিরা।
রায়ে বলা হয়, রেজ্জাকুল ও রহিম ঘটনার দিন গ্রেনেড হামলার বিষয় অবগত থেকেও গোয়েন্দা তথ্য প্রকাশ করা থেকে বিরত থাকেন। এভাবে নীরব থেকে প্রশাসনিক সহায়তায় হামলা চালায় জঙ্গিরা। এ হামলায় মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী আইভি রহমানসহ ২৪ জন প্রাণ হারান। শতাধিক নেতাকর্মী, সমর্থক, আইনজীবী ও সাংবাদিক আহত হন। অনেকে পঙ্গুত্ববরণ করেন।
রায়ে বলা হয়, স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে মুফতি হান্নান বলেছেন নির্বিঘেœ গ্রেনেড হামলা চালানোর জন্য তারা প্রশাসনিক সহায়তা পেয়েছেন। আর ওই গ্রেনেড সরবরাহকারী হিসেবে আবদুস সালাম পিন্টুর ভাই মাওলানা তাজউদ্দিনের নাম তৎকালীন আইজিপি খোদাবক্স চৌধুরীর সময় করা তদন্তে প্রকাশ পায়। কিন্তু উনি তাজউদ্দিনকে এই মামলায় গ্রেফতারে কোনো পদক্ষেপ নেননি। ফলে এটা স্পষ্টত যে জঙ্গিরা প্রশাসনিক সহযোগিতায় এ হামলা পরিচালনা করেন। হামলাকারীদের বিষয়ে জানা থাকলেও তাদের বিরুদ্ধে কোনো আইনানুগ ব্যবস্থা না নিয়ে বরং তাদের রক্ষা করতে প্রলোভন, ভয়ভীতি দেখিয়ে অন্য লোকের ওপর দায় চাপিয়ে প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করার লক্ষ্যে জজ মিয়া, আবুল হাশেম রানা ও শরিফুল ইসলামদের দ্বারা মিথ্যা ও বানোয়াট স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি ও ভুল রেকর্ড লিপিবদ্ধ করান। একইসঙ্গে অপরাধীদের রক্ষায় ঘটনার অন্যতম পরিকল্পনাকারী ও গ্রেনেড সরবরাহকারী ও ষড়যন্ত্রকারীদের বিদেশে পাঠিয়ে দেন।
প্রসঙ্গত, এ দুটি মামলায় গত ১০ অক্টোবর আসামি বাবর ও পিন্টুসহ ১৯ জনকে ‘ডাবল’ মৃত্যুদ- দেয় ট্রাইব্যুনাল। দ-িতদের মধ্যে অধিকাংশই দেশীয় ও আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠনের শীর্ষ নেতা। একই অপরাধে তারেক, হারিছসহ ১৯ জনকে ‘ডাবল’ যাবজ্জীবন সাজা দেওয়া হয়। দুটি মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় গত মাসে প্রকাশ করেন ট্রাইব্যুনাল।

শ্রেণী:

প্রথমবার দলীয় প্রতীকে উপজেলা নির্বাচন

2-6-2019 8-29-26 PM

2-6-2019 8-29-26 PMরায়হান কবির: জাতীয় নির্বাচনের উদ্দীপনা না কাটতেই দেশজুড়ে স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন স্তরের নির্বাচনী হাওয়ায় সরগরম হয়ে উঠেছে রাজনীতির মাঠ। ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসজুড়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে একাধিক নির্বাচন। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে মেয়র পদে উপনির্বাচন এবং উত্তর ও দক্ষিণ উভয় সিটি কর্পোরেশনে সংযুক্ত ৩৬টি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। একই সাথে কিশোরগঞ্জ-১ (সদর-হোসেনপুর) সংসদীয় আসনে অনুষ্ঠিত হচ্ছে পুনর্নির্বাচন।
প্রথমবারের মতো দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠিত হচ্ছে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন। ইতোমধ্যে নির্বাচনের তফসিল ঘোষিত হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী পাঁচ ধাপে অনুষ্ঠিত হবে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন। পঞ্চমবারের অনুষ্ঠিতব্য উপজেলা নির্বাচনে প্রথমবারের মতো ব্যবহৃত হচ্ছে ইভিএম। জেলা সদরের উপজেলায় ভোটগ্রহণ করা হবে ইভিএমের মাধ্যমে। উপজেলা চেয়ারম্যান এবং উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ৩টি পদেই থাকছে দলীয় প্রতীক।
উত্তর সিটিতে আওয়ামী লীগের মনোনীত মেয়র প্রার্থী আতিক : আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র পদের উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন বিজিএমইএ’র সাবেক সভাপতি, ব্যবসায়ী নেতা আতিকুল ইসলাম। গত ২৬ জানুয়ারি সন্ধ্যায় গণভবনে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের পার্লামেন্টারি বোর্ড এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচন মনোনয়ন বোর্ডের যৌথসভায় সর্বসম্মতিক্রমে তাদের এই মনোনয়ন দেওয়া হয়।
কিশোরগঞ্জ-১ আসনের নির্বাচন ২৮ ফেব্রুয়ারি : কিশোরগঞ্জ-১ (সদর-হোসেনপুর) সংসদীয় আসনের পুনর্নির্বাচনে দলের মনোনয়ন পেয়েছেন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সদ্য প্রয়াত সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের বোন ডা. সৈয়দা জাকিয়া নূর লিপি। গত ২৬ জানুয়ারি সন্ধ্যায় গণভবনে আওয়ামী লীগের পার্লামেন্টারি বোর্ড এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচন মনোনয়ন বোর্ডের যৌথসভায় সর্বসম্মতিক্রমে তাদের এই মনোনয়ন দেওয়া হয়।

পাঁচ ধাপে অনুষ্ঠিত হবে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন
পাঁচ ধাপে সারাদেশে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। পঞ্চমবারের মতো স্থানীয় সরকারের গুরুত্বপূর্ণ এই উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে দলীয় প্রতীকে অংশগ্রহণ করবে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। গত ৩ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আগামী ১০ মার্চ প্রথম দফায় ৮৭টি উপজেলায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দ্বিতীয় দফায় ভোট হবে ১৮ মার্চ, তৃতীয় দফায় ভোট হবে ২৪ মার্চ এবং তৃতীয় দফায় ৩১ মার্চে ভোট নেওয়া হবে। বাকি উপজেলায় রমজানের পরে ভোটগ্রহণ করা হবে বলে কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
প্রথম ধাপের তফসিল ঘোষণা করা হলেও বাকি চার ধাপের খসড়া তফসিল প্রস্তুত করেছে কমিশন সচিবালয়। প্রথম দফায় অনুষ্ঠিত নির্বাচনের তফসিল অনুযায়ী আগামী প্রার্থীদের ১১ ফেব্রুয়ারির মধ্যে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে মনোনয়নপত্র দাখিল করতে হবে। বাছাই হবে ১২ ফেব্রুয়ারি। ১৯ ফেব্রুয়ারি প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ধার্য করা করা হয়েছে। দ্বিতীয় ধাপে তফসিল ১০ ফেব্রুয়ারি ঘোষণা, মনোয়নপত্র দাখিল ১৯ ফেব্রুয়ারি, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ২৮ ফেব্রুয়ারি এবং ভোটগ্রহণ ১৮ মার্চ নির্ধারণ করা হয়েছে। তৃতীয় ধাপে তফসিল ১৬ ফেব্রুয়ারি ঘোষণা, মনোনয়নপত্র দাখিল ২৬ ফেব্রুয়ারি, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ৫ মার্চ ও ভোটগ্রহণ ২৪ মার্চ। চতুর্থ ধাপে তফসিল ২০ ফেব্রুয়ারি ঘোষণা, মনোনয়নপত্র দাখিল ৪ মার্চ, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ১২ মার্চ ও ভোটগ্রহণ ৩১ মার্চ। সর্বশেষ পঞ্চম ধাপের তফসিল ১২ মে ঘোষণা, মনোনয়নপত্র দাখিল ২১ মে, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ২৯ মে ও ভোটগ্রহণ ১৮ জুন নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রথম ধাপে যেসব উপজেলায় ভোট : প্রথম ধাপে আগামী ১০ মার্চ যেসব উপজেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে সেগুলোর মধ্যে রয়েছেÑ পঞ্চগড় জেলার সদর, আটোয়ারী, বোদা, দেবীগঞ্জ ও তেঁতুলিয়া। কুড়িগ্রাম জেলার সদর, ভুরুঙ্গামারী, ফুলবাড়ী, উলিপুর, নাগেশ্বরী, রাজারহাট, রাজিবপুর, চিলমারী ও রৌমারী।
নীলফামারী জেলার সদর, ডোমার, ডিমলা, জলঢাকা, সৈয়দপুর ও কিশোরগঞ্জ। লালমনিরহাট জেলার সদর, পাটগ্রাম, হাতীবান্ধা, কালীগঞ্জ ও আদিতমারী।
জামালপুর সদর, সরিষাবাড়ী, মেলান্দহ, ইসলামপুর, বকশীগঞ্জ, দেওয়ানগঞ্জ ও মাদারগঞ্জ।
নেত্রকোনা সদর বারহাট্টা, দুর্গাপুর, খালিয়াজুরী, কলমাকান্দা, কেন্দুয়া, মদন, মোহনগঞ্জ, পূর্বধলা।
সুনামগঞ্জ সদর, ছাতক, দোয়ারাবাজার, জামালগঞ্জ, শাল্লা, ধর্মপাশা, বিশ্বম্ভবপুর ও তাহিরপুর।
হবিগঞ্জ সদর, বাহুবল, মাধবপুর, চুনারুঘাট, নবীগঞ্জ, আজমিরীগঞ্জ, বানিয়াচং ও লাখাই।
সিরাজগঞ্জ সদর, বেলকুচি, চৌহালী কাজিপুর, রায়গঞ্জ, শাহজাদপুর, তাড়াশ ও উল্লাপাড়া।
জয়পুরহাট জেলার সদর, পাঁচবিবি, আক্কেলপুর, কালাই ও ক্ষেতলাল।
নাটোর সদর, বাগাতিপাড়া, গুরুদাসপুর, বড়াইগ্রাম, লালপুর ও সিংড়া।
রাজশাহীর তানোর, গোদাগাড়ী, পবা, মোহনপুর, বাগমারা, পুঠিয়া, দুর্গাপুর, চারঘাট ও বাঘা।
দ্বিতীয় পর্যায়ে ১৮ মার্চ ভোটগ্রহণ ও উপজেলার তালিকা (সম্ভাব্য) : ঠাকুরগাঁও সদর, বালিয়াডাঙ্গী, রানীশংকৈল, পীরগঞ্জ, হরিপুর, গঙ্গাচড়া, তারাগঞ্জ, বদরগঞ্জ, কাউনিয়া, পীরগাছা, পীরগঞ্জ, গোবিন্দগঞ্জ, সাঘাটা, পলাশবাড়ী।
গাইবান্ধা সদর, সাদুল্লাপুর, ফুলছড়ি, বীরগঞ্জ, কাহারোল, বিরল, বোচাগঞ্জ।
দিনাজপুর সদর, খানসামা, চিরিরবন্দর, পার্বতীপুর, ফুলবাড়ী, নবাবগঞ্জ, বিরামপুর, হাকিমপুর, ঘোড়াঘাট, সদর, আদমদীঘি, দুপচাঁচিয়া, ধুনট, কাহালু, গাবতলী, নন্দীগ্রাম, সারিয়াকান্দি, শাজাহানপুর, শেরপুর, শিবগঞ্জ, সোনাতলা, রানীনগর, মহাদেবপুর, নিয়ামতপুর, সাপাহার, পতœীতলা, বদলগাছী।
নওগাঁ সদর, আত্রাই, পোরশা, ধামইরহাট, মান্দা, সদর, বাগাতিপাড়া, গুরুদাসপুর, বড়াইগ্রাম, লালপুর, সিংড়া।
কুষ্টিয়া সদর, ভেড়ামারা, কুমারখালী, মিরপুর, খোকসা, দৌলতপুর, শার্শা, ঝিকরগাছা, চৌগাছা।
যশোর সদর, বাঘারপাড়া, অভয়নগর, মনিরামপুর, কেশবপুর, দীঘলিয়া, কয়রা, ডুমুরিয়া, পাইকগাছা, রূপসা, তেরখাদা, ফুলতলা, বটিয়াঘাটা, দাকোপ, মেহেরপুর সদর, মুজিবনগর, গাংনী, রাজবাড়ী সদর, গোয়ালন্দ, পাংশা, বালিয়াকান্দি, আলফাডাঙ্গা, বোয়ালমারী, মধুখালী, নগরকান্দা, সালথা, সদর, চরভদ্রাসন, সদরপুর, ভাঙ্গা, হাতিয়া, মীরসরাই, সীতাকু-, সন্দ্বীপ, ফটিকছড়ি, রাঙ্গুনিয়া, রাউজান, হাটহাজারী।
তৃতীয় পর্যায়ে ২৪ মার্চ ভোটগ্রহণ ও উপজেলার তালিকা (সম্ভাব্য) : চুয়াডাঙ্গা সদর, আলমডাঙ্গা, দামুড়হুদা, জীবননগর, মাগুরা সদর, শ্রীপুর, শালিখা, মহম্মদপুর, নড়াইল সদর, কালিয়া লোহাগড়া, ঝিনাইদহ সদর, শৈলকুপা, হরিণাকু-ু, কালীগঞ্জ, ফকিরহাট, মোল্লাহাট, চিতলমারী, বাগেরহাট সদর, কচুয়া, রামপাল, মোংলা, মোড়েলগঞ্জ, শরণখোলা, আশাশুনি, শ্যামনগর, কালীগঞ্জ, কলারোয়া, সাতক্ষীরা সদর, তালা দেবহাটা, ভোলাহাট, গোমস্তাপুর, নাচোল, শিবগঞ্জ, পুঠিয়া, দুর্গাপুর, চারঘাট, বাগা, সদর, আটঘরিয়া, বেড়া, ভাংগুড়া, চাটমোহর, ফরিদপুর, ঈশ্বরদী, সাঁথিয়া, সুজানগর, সদর, টুঙ্গিপাড়া, কোটালীপাড়া, কাশিয়ানী, মুকসুদপুর, শিবচর, কালকিনি, রাজৈর, সদর, জাজিরা, নড়িয়া, ভেদরগঞ্জ, ডামুড্যা, গোসাইরহাট, নালিতাবাড়ী, শ্রীবরদী, ঝিনাইগাতী, হালুয়াঘাট, ধোবাউড়া, ফুলপুর, গৌরীপুর, সদর, মুক্তাগাছা, ফুলবাড়ীয়া, ত্রিশাল, ঈশ্বরগঞ্জ, নান্দাইল, গফরগাঁও, ভালুকা, সিলেট সদর, বিশ্বনাথ, দক্ষিণ সুরমা, ফেঞ্চুগঞ্জ, বালাগঞ্জ, কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর, কানাইঘাট, জকিগঞ্জ, গোলাপগঞ্জ, বিয়ানীবাজার, বড়লেখা, জুড়ী, কুলাউড়া, রাজনগর, সদর, কমলগঞ্জ, শ্রীমঙ্গল, বোয়ালখালী, পটিয়া, আনোয়ারা, চন্দনাইশ, লোহাগাড়া, বাঁশখালী।
চতুর্থ পর্যায়ে ৩১ মার্চ ভোটগ্রহণ ও উপজেলার তালিকা (সম্ভাব্য) : বরিশাল সদর, বাকেরগঞ্জ, বাবুগঞ্জ, বানারীপাড়া, উজিরপুর, গৌরনদী, আগৈলঝাড়া, মুলাদী, হিজলা, পটুয়াখালী সদর, মির্জাগঞ্জ, দুমকী, বাউফল, দশমিনা, গলাচিপা, কলাপাড়া, ভোলা সদর, দৌলতখান, বোরহানউদ্দিন, লালমোহন, তজুমদ্দিন, চরফ্যাশন, মনপুরা, বরগুনা সদর, আমতলী, বেতাগী, বামনা, পাথরঘাটা, পিরোজপুর সদর, ইন্দুরকানী, মঠবাড়ীয়া, ভা-ারিয়া, কাউখালী, নেছারাবাদ, নাজিরপুর, ঝালকাঠি সদর, নলছিটি, রাজাপুর, কাঁঠালিয়া, ধনবাড়ী, মধুপুর, গোপালপুর, ভূঞাপুর, ঘাটাইল, কালিহাতী, টাঙ্গাইল সদর, দেলদুয়ার, নাগরপুর, মির্জাপুর, বাসাইল, সখীপুর, কিশোরগঞ্জ সদর, হোসেনপুর, কটিয়াদী, পাকুন্দিয়া, তাড়াইল, করিমগঞ্জ, ইটনা, মিঠামইন, অষ্টগ্রাম, নিকলী, বাজিতপুর, কুলিয়ারচর, ভৈরব, দোহার, নবাবগঞ্জ, কেরানীগঞ্জ, সাভার, ধামরাই, কাপাসিয়া, কালিয়াকৈর, শ্রীপুর, কালীগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ সদর, টঙ্গীবাড়ী, লৌহজং, শ্রীনগর, সিরাজদিখান, গজারিয়া, সোনারগাঁ, আড়াইহাজার, রূপগঞ্জ, নরসিংদী সদর, পলাশ, শিবপুর, মনোহরদী, বেলাব, রায়পুরা, দৌলতপুর, ঘিওর, শিবালয়, সিঙ্গাইর, হরিরামপুর, মানিকগঞ্জ সদর, সাঁটুরিয়া, তিতাস, মুরাদনগর, দেবিদ্বার, বুড়িচং, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চান্দিনা, বরুড়া, লাকসাম, নাঙ্গলকোট, মনোহরগঞ্জ, চৌদ্দগ্রাম, মেঘনা, হোমনা, কচুয়া, মতলব উত্তর, মতলব দক্ষিণ, চাঁদপুর সদর, ফরিদগঞ্জ, হাজীগঞ্জ শাহরাস্তি, চাটখিল, সেনবাগ, কোম্পানীগঞ্জ, কবিরহাট, সুবর্ণচর, বেগমগঞ্জ, সোনাইমুড়ী, নাসিরনগর, আশুগঞ্জ, সরাইল, সদর, আখাউড়া, কসবা, নবীনগর, ফেনী সদর, দাগনভূঞা, সোনাগাজী, ফুলগাজী, ছাগলনাইয়া, পরশুরাম, লক্ষ্মীপুর সদর, রামগঞ্জ, রায়পুর, কমলনগর, রামগতি, পেকুয়া, কুতুবদিয়া, মহেশখালী, কক্সবাজার সদর, রামু, উখিয়া, টেকনাফ।
পঞ্চম পর্যায়ে ১৮ জুন ভোটগ্রহণ ও উপজেলার তালিকা (সম্ভাব্য) : আটপাড়া, শেরপুর সদর, নকলা, নলডাঙ্গা, সদর, কামারখন্দ, রংপুর সদর, সুন্দরগঞ্জ, মেহেন্দিগঞ্জ, রাঙ্গাবালী, তালতলী, কোটচাঁদপুর, মহেশপুর, গাজীপুর সদর, বন্দর, মাদারীপুর সদর, কালুখালী, শায়েস্তাগঞ্জ, বাঞ্ছারামপুর, বিজয়নগর, হাইমচর, আদর্শ সদর, সদর দক্ষিণ, সাতকানিয়া।
উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে জেলা সদরে উপজেলা পরিষদে ইভিএমের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ করা হবে। সদর উপজেলার প্রত্যেকটা কেন্দ্রে ইভিএম ব্যবহার করা হবে। উপজেলায় ইভিএম বিধিমালা ইতোমধ্যে কমিশন অনুমোদন করেছে।
তিন পৌরসভায় মেয়র পদে মনোনয়ন পেলেন যারা : আসন্ন তিন পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীরা হলেনÑ বরগুনার আমতলী পৌরসভায় মতিয়ার রহমান, পটুয়াখালী সদর পৌরসভায় কাজী আলমগীর ও ঝিনাইদহের কালিগঞ্জ উপজেলায় মো. আশরাফুল আলম আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন।
এদিকে আসন্ন ২৯টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের একক প্রার্থীরা হলেনÑ দিনাজপুর জেলার বিরল উপজেলার আজিমপুর ইউনিয়নে মো. আবদুল আউয়াল, ফরক্কাবাদে মো. হুসেন আলী, বিরলে মো. মারুফ হোসেন, নীলফামারী উপজেলার ডোমার উপজেলার পাঙ্গা মটুকপুরে মো. এমদাদুল ইসলাম, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার নাচোল উপজেলার নাচোলে মো. আবদুস ছালাম, খুলনা জেলার পাইকগাছা উপজেলার লতায় দেবী রানী বিশ্বাস, সাতক্ষীরা জেলার কালিগঞ্জ উপজেলার কৃঞ্চনগরে মোস্তফা কবিরুজ্জামান, যশোর জেলার মনিরামপুর উপজেলার খেদাপাড়ায় মো. আবদুল আলীম, বরিশাল জেলার উজিরপুর উপজেলার জল্লায় বেবী রানী দাস, ভোলা জেলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার হাসান নগরে মো. মানিক হাওলাদার, পিরোজপুর জেলার ভা-ারিয়া উপজেলার তেলিখালীতে মো. শামসুদ্দীন, গাজীপুর জেলার কাপাসিয়া উপজেলার রায়েদে মো. শফিকুল হাকিম মোল্যা হিরণ, ফরিদুপুর জেলার নগরকান্দা উপজেলায় তালমায় দেলোয়ারা বেগম, ফরিদপুর সদরের চাঁদপুরে মোসা. শামসুন্নাহার, মধুখালী উপজেলার নওপাড়ায় মো. হাবিবুর রহমান মোল্লা, শরীয়তপুর জেলার ভেদরগঞ্জের কাচিকাটায় আবুল হাশেম, মাদারীপুর জেলার শিবচরের চরজানাজাতে জাহাঙ্গীর আলম রায়হান সরকার, নেত্রকোনা জেলার খালিয়াজুরী উপজেলার কৃঞ্চপুরে সৈয়দ মনিরুল ইসলাম, ময়মনসিংহ জেলার নান্দাইলের বীর বেতা গৈরে আবদুল মতিন, চর বেতা গৈরে মো. আবুল হোসেন, সুনামগঞ্জ জেলার ছাতকের সিংচাপইড়ে মো. আশিকুল ইসলাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুরের রূপসদীতে (পশ্চিম) মহসিন মিঞা, নারিনগরের গোকর্ণে ছোয়াব আহমেদ হূতুল, কুমিল্লা জেলার বরুড়ার গালিমপুরে মো. রবিউল আলম, নোয়াখালী জেলার সুবর্ণচরের মোহাম্মদপুরে মোহাম্মদ আবুল কালাম, চট্টগ্রাম জেলার ফটিকছড়ির নানুপুরে সৈয়দ ওসমান গণি বাবু, খিরামে মুহাম্মদ শহীদুল আলম এবং খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার মানিকছড়ি উপজেলার তিনটহরীতে মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ।
গত ২৬ জানুয়ারি সন্ধ্যায় গণভবনে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের পার্লামেন্টারি বোর্ড এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচন মনোনয়ন বোর্ডের যৌথসভায় সর্বসম্মতিক্রমে তাদের এই মনোনয়ন দেওয়া হয়।

শ্রেণী:

দক্ষ লিডারশিপের ম্যাজিকে দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ

2-6-2019 8-25-55 PM
2-6-2019 8-25-55 PM

এসডিজি কর্মশালায় কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক

উত্তরণ প্রতিবেদন: আমরা একটা দক্ষ লিডারশিপ পেয়েছি, যার ম্যাজিকে দেশ আজ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক এমপি। গত ২২ জানুয়ারি রাজধানীর বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল মিলনায়তনে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট এসডিজি রোড ম্যাপ প্রণয়ন শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ড. আবদুর রাজ্জাক বলেন, বাংলাদেশ খাদ্য স্বয়ংসম্পূর্ণ বলেই নেপালে ভূমিকম্পের সময় আমরা ২০ হাজার টন চাল সাহায্য করেছি।
তিনি আরও বলেন, মানুষ এখন না খেয়ে আর মারা যায় না। দরিদ্র মানুষগুলোও পেট ভরে দুবেলা খেতে পারে। উত্তরবঙ্গে আর মঙ্গা নেই। সেখানকার মানুষ অনাহারে আর দিনযাপন করে না। আমরা ২০৩০ সালের ভেতর খাদ্য উৎপাদন দ্বিগুণ করার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছি। কৃষিমন্ত্রী বলেন, আমরা ২০১৩ সালেই দানাদার খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েছি। এখন আমরা পুষ্টি জাতীয় খাদ্য উৎপাদনের দিকে বেশি মনোযোগ দিতে চাই। দেশের মানুষের পুষ্টি খাদ্যের সমস্যা রয়েছে। সবাইকে পুষ্টি খাদ্যর আওতায় নিয়ে আসতে সরকার কাজ করছে।
তিনি আরও বলেন, এসডিজির রোডম্যাপ লক্ষ পূরণ করতে সবচেয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। কারণ কৃষির মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি মানুষের কর্মসংস্থান হচ্ছে। পেটে যদি খাবার থাকে তাহলেও মানুষ তাদের সঠিক শ্রম দিয়ে দেশকে এগিয়ে নিতে পারবে। তাই খাদ্য উৎপাদন আরও বৃদ্ধি করতে হবে।
কৃষিমন্ত্রী বলেন, আমরা প্রচুর পুষ্টি জাতীয় খাদ্য উৎপাদন করি; কিন্তু তা বিদেশে রপ্তানি করতে পারি না এটা আমাদের একটা ব্যর্থতা। তাই আমাদের নিজেদের পুষ্টি জাতীয় খাদ্যর চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানি করতে হবে। এতে করে দেশের অর্থনীতি আরও এগিয়ে যাবে।
কৃষকরা খাদ্য উৎপাদনের প্রকৃত মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তাই কৃষকদের সাহায্য করতে সরকার প্রতিনিয়ত কাজ করছে।
তিনি আরও বলেন, আমরা ৪ কোটি ১৩ টন খাদ্য উৎপাদন করেছি, যা ২০৩০ সালে লক্ষ্যমাত্রা ৮ কোটি টন খাদ্য উৎপাদন করা। আমরা কৃষি, প্রাণিজ ও মৎস্যÑ এই তিন খাতেই ২০৩০ সালের ভেতর দ্বিগুণ উৎপাদন করতে দিন দিন নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করতে হবে। গবেষণার মাধ্যমে উৎপাদনের নতুন ফর্মুলা বের করতে হবে। কৃষিমন্ত্রী বলেন, বিদেশ থেকে আগে আমরা ১৪-১৫ ভাগ সাহায্য পেতাম; কিন্তু এখন ২-৪ ভাগ সাহায্য পাই। তাই নিজেদের স্বয়ংসম্পূর্ণতা আরও বাড়াতে হবে।
তিনি আরও বলেন, দারিদ্র্যতার সঙ্গে কৃষির একটা সম্পর্ক আছে। কৃষি যদি উন্নত হয় তাহলে দারিদ্র্যতাও হ্রাস পাবে। বর্তমানে দারিদ্র্যতার নিচে ২১ ভাগ মানুষ বাস করে। ২০৪১ সালে অতি দারিদ্র্যের হার শূন্যের কোটায় নামিয়ে নিয়ে আসা হবে। মূলত সরকারের সবার জন্য পুষ্টিকর খাদ্য নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
এসডিজি রোডম্যাপ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেনÑ কৃষিবিদ আবদুল মান্নান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক আবুল কালাম আজাদ, সদস্য (সিনিয়র সচিব) সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ, পরিকল্পনা কমিশনের ড. সামসুল আলম, কৃষি মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব নাসিরুজ্জাম এবং সম্মানীয় অতিথি ছিলেন ড. কাজী এম বদরুদ্দোজা, এমেরিটাস সায়েন্টিস।
কৃষিবিদ আবদুল রাজ্জাক বলেন, প্রধানমন্ত্রীর দক্ষতায় আজ সকল শাখাতে উন্নতের ছোঁয়া লেগেছে। কৃষি খাতও পিছিয়ে নেই। দেশ আজ খাদ্য পরিপূর্ণ। ২০৩০ সালের ভেতর খাদ্য উৎপাদন দ্বিগুণ হবে।
তিনি আরও বলেন, সবার সহযোগিতায় ২০৩০ সালের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে কাজ করতে হবে এবং কৃষি খাতে প্রচুর গবেষণার প্রয়োজন, তাই এই খাতে অতি জরুরিভাবে দক্ষ গবেষক নিয়োগ দেওয়া উচিত। মূল বাজেটের মাত্র পয়েন্ট ৬ শতাংশ গবেষণা খাতে ব্যয় করা হয়। গবেষণার বাজেট আরও বৃদ্ধি করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক আবুল কালাম আজাদ পাওয়ার পয়েন্টের মাধ্যমে সরকার এসডিজির রোডম্যাপ প্রদর্শন করেন।
সারাবিশ্বের মানুষের শান্তি, সমৃদ্ধি ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিতকরণে বাংলাদেশে ২০৩০ সালের ভেতর ১৭টি লক্ষ্য বাস্তবায়নে কাজ করছে সরকার।

শ্রেণী:

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও প্রাসঙ্গিক কথা

2-6-2019 8-24-44 PM

2-6-2019 8-24-44 PMঅ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর এক মাস পার হলো। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু-কন্যা দেশরতœ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে নতুন সরকার পূর্ণ উদ্যমে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা অক্ষুণœ রাখতে কাজ করে যাচ্ছে। নির্বাচনোত্তর দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে ভালো। মানুষ শান্তিতে আছে, স্বস্তিতে আছে, ভালো আছে।
চতুর্থবারের মতো সরকার পরিচালনার দায়িত্ব প্রাপ্তিতে শেখ হাসিনার রাষ্ট্রনায়কোচিত প্রজ্ঞা ও নেতৃত্বকে অভিনন্দিত করছে বিশ্ববাসী। অতীতের সন্ত্রাস নৈরাজ্যকে প্রত্যাখ্যান করে শান্তি ও গণতন্ত্রের অভিযাত্রায় দেশের মানুষ আজ ঐক্যবদ্ধ। মানুষের প্রত্যাশাÑ অযুত রক্তের বিনিময়ে পাওয়া এই ভূখ- শান্তি, উন্নয়ন ও গণতন্ত্রের ধারায় এগিয়ে যাক। সাম্প্রদায়িকতা, জঙ্গিবাদ যেন আমাদের পথ আগলে না দাঁড়ায়। একটা কল্যাণকামী রাষ্ট্র বিনির্মাণের স্বপ্নযাত্রা থেকে আমরা যেন আর পিছিয়ে না যাই। ষড়যন্ত্র, বিভাজনের অপরাজনীতির কারণে আমাদের অনেক মূল্য দিতে হয়েছে। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মতো মহান নেতাকে আমরা হারিয়েছি। হত্যা, খুন, সন্ত্রাসের ধারাবাহিকতায়Ñ স্বাধীন দেশে জীবন দিতে হয়েছে অনেক মুক্তিযোদ্ধাদের। ক্ষমতাকে সম্পদ অর্জনের হাতিয়ার করে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় তৈরি করা হয়েছে এক লুটেরা গোষ্ঠীর। একরকম এক অন্ধকার সময় পার করে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাঙালি জাতি আলোকোজ্জ্বল এক ভবিষ্যতের দিকে পা বাড়িয়েছে। শেখ হাসিনা সরকারের দৃশ্যমান ভালো কাজের প্রশংসা আজ মানুষের মুখে মুখে। দেশের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আস্থাশীল। কিন্তু একটি গোষ্ঠীর মুখে কুলুপ আঁটা। সরকারের উন্নয়নের সকল সুফল ভোগ করার পরও ভাবটা এমন যেন কিছুই হয়নি। এই নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টাতে হবে। দেশ-জাতির মঙ্গলে মৌলিক বিষয়ে ঐকমত্য থাকতে হবে। যে মূল আদর্শের ওপর দাঁড়িয়ে আমরা স্বাধীন জাতিরাষ্ট্র গঠনের স্বপ্ন দেখেছিলাম সে-পথেই আমাদের ফিরে আসতে হবে। দীর্ঘ চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে বাংলাদেশ এখন শেখ হাসিনার হাত ধরে সেই পথেই হাঁটছে। স্বাধীনতার পর প্রায় পাঁচ দশক অতিক্রান্ত হয়েছে। এ-সময়ে পৃথিবীর অনেক দেশ অনেক দূর এগিয়েছে, উন্নত হয়েছে। আমরা পারিনি। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর জাতি নেতৃত্বশূন্য হয়ে পড়ে। সেনাশাসনে বাংলাদেশ নিপতিত হয়। তারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধ্বংস করে, বঙ্গবন্ধুর সৃষ্টিশীল উন্নয়ন-অগ্রযাত্রাকে স্তব্ধ করে দেয়। দীর্ঘ ২১ বছর হত্যা, ক্যু, পাল্টা ক্যু, খুন, ধর্ষণ, সন্ত্রাস, লুটপাটের এক দুষ্টচক্রে ঘুরপাক খাচ্ছিল বাংলাদেশ। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ১৯৯৬ সালে দীর্ঘ ২১ বছর পর দেশ পরিচালনার সুযোগ পায় আওয়ামী লীগ। সাম্প্রদায়িক স্বৈরতান্ত্রিক ধারার অবসান ঘটে। রাষ্ট্র ও সমাজ-জীবনে প্রতিষ্ঠিত হয় মুক্তিযুদ্ধের চেতনা। বিশ্বসভায় বাংলাদেশ মাথা উঁচু করে দাঁড়ায়। এই সময়কাল বাংলাদেশের ইতিহাসে স্বর্ণযুগ হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। ২০০১ সালে ষড়যন্ত্রমূলক ভোট ডাকাতির নির্বাচনে বিএনপি-জামাত ক্ষমতা দখল করে। জেনারেল জিয়া সৃষ্ট স্বৈরতান্ত্রিক ধারায় ফিরে যায় বিএনপি-জামাত জোট। ক্ষমতার প্যারালাল কেন্দ্র হাওয়া ভবনের নির্দেশে চলতে থাকে দমন-নিপীড়ন, সন্ত্রাস ও লুটপাট। জঙ্গিবাদ ও সাম্প্রদায়িক রাজনীতিকে উসকে দেওয়া হয়। একযোগে ৬৩ জেলার ৫০০ স্থানে বোমা হামলা চালানো হয়। জননেত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা হয়। রাষ্ট্রীয় মদদে প্রতিহিংসার রাজনীতির নিষ্ঠুরতার সাক্ষী এই বাংলাদেশ। এই অপকর্মের হোতা বিএনপি-জামাত। এই জোটের অপরাজনীতির কারণে ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি পটপরিবর্তন হয়। বিএনপি-জামাতের পাঁচ বছরে স্বৈরশাসন ও সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিরাজনীতিকরণের হীন প্রচেষ্টাকে প্রতিহত করে ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে। এ-সময় দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করে, ক্ষুধা-দারিদ্র্যের অবসান, মাথাপিছু আয়, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে দেশের অভাবনীয় সাফল্যে অর্জিত হয়। ২০১৪ সালের নির্বাচন পূর্ব ও পরবর্তী সময়ে জনসম্পৃক্ততাহীন বিএনপি-জামাতের আগুন সন্ত্রাস প্রতিহত করে গণতান্ত্রিক ধারায় দেশ এগিয়ে যায়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ধৈর্য, সাহস, প্রজ্ঞায় উন্নয়নের ধারায় দেশ পরিচালিত হয়। বিশ্বসমাজে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে ঘুরে দাঁড়ায় বাংলাদেশ।
বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ আর্থিক প্রতিষ্ঠান এইচএসবিসি’র (হংকং সাংহাই ব্যাংকিং কর্পোরেশন) বার্ষিক রিপোর্টে বলা হয়েছেÑ বাংলাদেশ বিশ্বের ২৬তম বৃহৎ অর্থনীতির দেশে পরিণত হতে যাচ্ছে। একইসঙ্গে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক উন্নয়নের দিক থেকে ফিলিপাইন, পাকিস্তান, ভিয়েতনাম ও মালয়েশিয়াকে পেছনে ফেলে দেবে।
এছাড়া ‘বিশ্ব অর্থনীতির অবস্থা ও সম্ভাবনা-২০১৯’ নামে জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনের পূর্বাভাস রয়েছে যে, চলতি বছর বিশ্বের যেসব দেশে ৭ শতাংশ বা এর বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জিত হবে তার মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে লেখা শুরু করেছিলাম। গত তিন মেয়াদের আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়নের ফিরিস্তি স্বল্প পরিসরে দেওয়া সম্ভব নয়। এবার মূল প্রসঙ্গে আসি। আওয়ামী লীগ সরকারের কোনো ভালো কাজই বিএনপি-জামাতের সহ্য হয় না। বক্তৃতা-বিবৃতি-টকশো’তে তারা নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করছে। বিএনপি-জামাত ঐক্যফ্রন্টের যতই মন কষ্ট হোক না কেন, এবারের নির্বাচনে যুদ্ধাপরাধী সাম্প্রদায়িক শক্তির বিদায় ঘণ্টা বেজেছে। উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রয়েছে। অসাংবিধানিক পন্থায় ক্ষমতায় যাওয়ার পথ রুদ্ধ হয়েছে।
তবে সুখের বিষয় অতীতের মতো বিএনপি-জামাতের সাথে কোরাস তোলার লোকের সংখ্যা দেশে কমে যাচ্ছে। অসাংবিধানিক পন্থায় ক্ষমতায় যাওয়ার ছিদ্রপথ বন্ধ হওয়াতে অনেকেই হতোদ্যম হয়েছে। সামরিক শাসন ও অগণতান্ত্রিক শক্তির উচ্ছিষ্ট ভোগকারীরা এখন বিএনপি-জামাতের কাঁধে সওয়ার হয়েছে। যদি কিছু পাওয়া যায় এই আশায়। দেশের স্বার্থ তাদের কাছে বড় না।
শেখ হাসিনার সরকার পরিচালনার নীতি-কৌশল নিয়ে কঠিন নিন্দুকরাও খুব একটা খুঁত ধরতে পারছে না। তাদের একটাই কথা ‘নির্বাচনটা ভালো হয়নি’। তাহলে তাদের কাছে নিশ্চয়ই ভালো নির্বাচনের একটা সংজ্ঞা আছে, উদাহরণ আছে। দেশবাসী কি ১৯৭৭ সালের হ্যাঁ-না ভোটকে ভালো নির্বাচন বলবে। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি বিনা ভোটের নির্বাচনকে কোন সংজ্ঞায় সংজ্ঞায়িত করবেন। এছাড়া হোন্ডা-গু-ার মহড়ায় ‘মাগুরা মার্কা’ নির্বাচন তো আছেই। এখন যারা ভালো নির্বাচনের কথা বলতে বলতে মুখে ফেনা তুলে ফেলছেন, তারা তো ভুলেও ২০০১-এর ভোট ডাকাতির নির্বাচনের কথা মুখে আনেন না।
১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছর মেয়াদ শেষ করে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করেছিল আওয়ামী লীগ। দেশবাসী নিশ্চয়ই ভুলে যায়নি কীভাবে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের প্রথম দিনেই ১৩ জন সচিবকে চাকরি থেকে বের করে দিয়ে নির্বাচনকে প্রভাবিত করার জন্য মাঠ প্রস্তুত করা হয়েছিল। কোনো রকম সৌজন্যবোধের তোয়াক্কা না করে সদ্য বিদায়ী প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনের ফোনের লাইন ও বিদ্যুতের লাইন কেটে দেওয়া হয়েছিল। ভোটের দিন আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা ভোটকেন্দ্রের কাছে যেতে পারেনি। পূর্বনির্ধারিত পরিকল্পনামাফিক বিএনপি-জামাত ক্ষমতায় আসে। এরপর শুরু হয় তা-ব, গ্যাং রেপ। হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করা হয়। এখন যারা বিবেকের তাড়নায় ঘুমোতে পারছেন না। তাদের বিবেক তখন কোথায় ছিল? বিবেকবানদের দৃষ্টিতে ২০০১ সালের নির্বাচন যদি ভালো নির্বাচন হয়। তাহলে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে তাদের বক্তব্যকে দেশবাসী কীভাবে নেবে? এই নির্বাচনের আগে-পরে প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিদের চাকরিচ্যুতি ঘটেনি। রাজপথ রক্তাক্ত হয়নি। অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে নির্বাচনের পূর্ব ও পরে সংঘাতমুক্ত শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিরাজ করছে। চাকরিজীবীরা সন্তুষ্টমনে চাকরি করছেন। ব্যবসায়ীরা হাওয়া ভবনের উৎপাতমুক্ত পরিবেশে ব্যবসা করছে। ২০১১ সালে কানাডা সফরের সময় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ‘ভালোর পসরা’ নামে একটা প্রবন্ধ লিখেছিলেন। লেখাটা এ-সময়ের জন্যও খুব প্রাসঙ্গিক। শেখ হাসিনা যত ভালো কাজই করুক না কেন, তাতে তাদের মন ভরে না। নির্বাচন ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার জন্য ছবিযুক্ত ভোটার তালিকা, স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সসহ যত বিধিবিধান করা হয়েছে, সবই করেছে আওয়ামী লীগ সরকার। অথচ সামরিক সরকার বা তার উচ্ছিষ্ট ভোগকারীরা যখন ক্ষমতায় ছিল তখন নির্বাচন ব্যবস্থাকে সমূলে ধ্বংস করেছিল, এখন আবার তারাই নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য ‘ভালোর পসরা’ নিয়ে হাজির হয়েছে। এই ভালোর দল নিয়ে জননেত্রী শেখ হাসিনার কয়েকটা লাইন দিয়েই লেখার ইতি টানছি।Ñ

“…অগণতান্ত্রিক বা অসাংবিধানিক সরকার থাকলে এদের দাম থাকে। এই শ্রেণিটা জীবনে জনগণের মুখোমুখি হতে পারে না। ভোটে জিততে পারে না। কিন্তু ক্ষমতার লোভ ছাড়তে পারে না। তাই মুখে গণতন্ত্রের কথা বলে কিন্তু অগণতান্ত্রিক বা অসাংবিধানিক সরকারের যে খোশামোদি, তোষামোদি ও চাটুকারের দলের যে প্রয়োজন হয়Ñ এরা সেই দল।”

লেখক : তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ

শ্রেণী:

বাঙালির জয় কবিতার জয়

2-6-2019 8-13-23 PM
2-6-2019 8-13-23 PM

জাতীয় কবিতা উৎসব ২০১৯

উত্তরণ প্রতিবেদন :
কবিতা মানেই জীবনের ধারাভাষ্য। কবির বাণীতেই উদ্ভাসিত হয় সুদূর অতীত থেকে সমকাল। কবিতার আশ্রয়েই কবিরা লড়ে যান অমানবিকতার বিরুদ্ধে। চারপাশে যখন ছায়া নামে শঙ্কার তখন কাব্যবীজের স্ফুরণে জেগে ওঠেন আলোর পথযাত্রীরা। এভাবেই সত্য ও সত্তাকে একসঙ্গে প্রকাশ করেন কবি, সৃষ্টি হয় কবিতা। শব্দের পিঠে শব্দের সংযোজনে উচ্চারিত হয় অন্তর্নিহিত বিষয়। সেই শব্দমালায় থাকে দ্রোহ, প্রেম ও সময়ের দিনলিপি। সময়ের ওই দিনপঞ্জিকেই বেছে নিল জাতীয় কবিতা উৎসব। অশুভ শক্তিকে পরাজিত করার বারতায় উচ্চকিত হলো বাঙালির বিজয়গাথা। শিল্পিত উচ্চারণে ব্যক্ত হলো কাক্সিক্ষত স্বদেশের স্বপ্নগাথা, আগামীর সমৃদ্ধ বাংলাদেশের কথা। দিনভর দেশ-বিদেশের কবিদের কবিতা পাঠে মুখরিত হলো উৎসব। ‘বাঙালির জয় কবিতার জয়’ সেøাগানে গত ১ ও ২ ফেব্রুয়ারি থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হাকিম চত্বরে অনুষ্ঠিত হয় ৩৩তম এই উৎসব।
হাকিম চত্বর নামে পরিচিত ঢাবির কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার প্রাঙ্গণে ১ ফেব্রুয়ারি শীতের রোদেলা সকালে বাঙালির বিজয়ের প্রতিধ্বনিত জাতীয় কবিতা পরিষদ আয়োজিত দুদিনব্যাপী উৎসব। এবার এই উৎসব উৎসর্গ করা হয়েছে ঊনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ আসাদ, ডা. শামসুজ্জোহা, সার্জেন্ট জহুরুল হক ও মতিউর রহমানকে। সারাদেশের কবিদের সঙ্গে ৩৩তম এই উৎসবে অংশ নিচ্ছেন ভিন দেশের ২০ কবি। ৩৩তম উৎসব উদ্বোধন করেন প্রখ্যাত কবি আসাদ চৌধুরী। উদ্বোধনী দিনেই হয়েছে কবিতা পাঠ, আবৃত্তি পরিবেশনা ও মুক্ত আলোচনায় সাজানো ৬টি অধিবেশন। পারস্পরিক ভাববিনিময়ের পাশাপাশি দিনব্যাপী বিভিন্ন পর্বে কবিরা পাঠ করেছেন কবিতা। আমন্ত্রিত কবিদের সঙ্গে নিবন্ধনের মাধ্যমে স্বরচিত কবিতা পাঠে অংশ নিয়েছেন দেশের নানা প্রান্তের কবিরা। ছিল অন্য ভাষার কবিতা পাঠ ও খ্যাতিমান বাকশিল্পীদের অংশগ্রহণে আবৃত্তি পর্ব। সকাল থেকে রাত অবধি খ্যাতিমান কবিসহ নানা বয়সী কবিতাপ্রেমীদের বিপুল উপস্থিতিতে সরব ছিল উৎসব আঙিনা। ৩০০ নিবন্ধিত কবির মধ্যে প্রথম দিনেই কবিতা পড়েছেন দু-শতাধিক।
জাতীয় কবিতা উৎসব উদ্বোধন করেন গীতিময় কবিতার কবি আসাদ চৌধুরী। পরিষদ সভাপতি মুহাম্মদ সামাদের সভাপতিত্বে উৎসবের ঘোষণাপত্র পাঠ করেন রুবী রহমান। সাধারণ সম্পাদকের বক্তব্য দেন তারিক সুজাত। বিগত বছরের প্রয়াত শিল্পী-সাহিত্যিকদের স্মরণে শোক প্রস্তাব পাঠ করেন আমিনুর রহমান সুলতান। শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করা হয় কবি বেলাল চৌধুরী, চলচ্চিত্রকার আমজাদ হোসেন, মুস্তাফা নূর-উল ইসলাম, ভাস্কর ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণী, আলোকচিত্রী ও চিত্রগ্রাহক আনোয়ার হোসেন, ব্যান্ডসংগীত শিল্পী আইয়ুব বাচ্চুসহ প্রয়াত গুণীজনদের। এর আগে বেলা ১০টা থেকে শুরু হয় কার্যক্রম। শীতের রোদমাখা সকালে কবিরা পদব্রজে এগিয়ে যান জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম, শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন, পটুয়া কামরুল হাসানের সমাধি প্রাঙ্গণে। সেখানে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বায়ান্নর ভাষা শহিদদের প্রতি নিবেদন করেন সশ্রদ্ধ ভালোবাসা। এরপর হাকিম চত্বরে এসে সবাই মিলে পরিবেশন করেন ‘আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি’। সেই সুরে তাল মিলিয়ে উত্তোলিত হয় জাতীয় পতাকা ও পরিষদের পতাকা। মঞ্চ থেকে বিভিন্ন সংগঠনের শিল্পীরা গেয়ে শোনান একুশের গান ও উৎসব সংগীত ‘হাজার বছরের চর্যার পরি/বাঙালির জয় কবিতার জয়’।
সভাপতির বক্তব্যে মুহাম্মদ সামাদ আগামী বছর থেকে ১ ফেব্রুয়ারিকে সরকারি পর্যায়ে জাতীয় কবিতা দিবস হিসেবে ঘোষণার আহ্বান জানান। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে বাঙালির বিজয়ের বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, বাঙালির মাটিতে বঙ্গবন্ধু হত্যার, জেলহত্যার এবং একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করে জাতি কলঙ্কমুক্ত হয়েছে। বাংলাদেশ অনুন্নত দেশ থেকে উঠে এসেছে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে। ২০১৮-এর ডিসেম্বরে আসে আরেক যুদ্ধÑ নির্বাচনের যুদ্ধ। এ যুদ্ধে অবতীর্ণ হতে ভয় পেয়ে স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তি ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয় দেশ-বিদেশের মাটিতে। বিজয়ের মাস ডিসেম্বরে বঙ্গবন্ধু-কন্যার আহ্বানে দেশের কবি-শিল্পী-কৃষক-শ্রমিক-ছাত্র-শিক্ষক-নারীকর্মী-অভিনয়শিল্পী, সংস্কৃতিকর্মীসহ সর্বস্তরের মানুষ লাখো শহিদের রক্তে রঞ্জিত স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ঐক্যবদ্ধ হয়। তারা ছিনিয়ে আনে বিজয়। জাতির দীর্ঘ পথপরিক্রমায় এ এক নতুন বিজয় বাঙালির, নতুন বিজয় কবি ও কবিতার। বাংলাদেশে আর কোনোদিন যেন মুজিববিরোধী, মুক্তিযুদ্ধবিরোধী অন্ধকারের শক্তি মাথা তুলতে না পারেÑ এখন আমাদের সেই প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হওয়ার সময় এসেছে। এ কারণেই ৩৩তম জাতীয় কবিতা উৎসবের বারতা ‘বাঙালির জয়, কবিতার জয়’।
সাধারণ সম্পাদকের বক্তব্যে তারিক সুজাত বলেন, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট, জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক্সটারনাল পাবলিসিটি উইংয়ের কার্যক্রম আরও গতিশীল করা দরকার। একজন কবি-লেখকের প্রধান দায়িত্ব তার সৃজনশীল ক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা। আর সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব সেই সৃষ্টিকর্ম নিজ দেশ ও বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দেওয়া। আজ পর্যন্ত আমাদের দেশের লেখকদের সেরা সাহিত্যকর্ম নিয়ে কোনো রাইট ক্যাটালগ তৈরি করে কোনো আন্তর্জাতিক বইমেলায় নিয়ে যাওয়া হয়নি। প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, তাহলে মাতৃভাষার জন্য প্রাণ বিসর্জন দেওয়া জাতির সাহিত্যকর্মের বিশ্বের সংযোগ ঘটানোর দায়িত্ব কে নেবে? প্রগতির পক্ষে কবিদের চিরকালীন অবস্থানটি তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলাদেশের কবিরা চিরকালই অবস্থান নিয়েছে প্রগতিশীলতার পক্ষে। আপসের চোরাবালিতে হারিয়ে যাওয়ার কোনো নজির আমাদের নেই। তাই তিন দশকের বেশি সময় কবিরা এই উৎসবে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে মানুষের মুক্তির কথা বলেছেন। উৎসবে অংশ নেওয়া বিদেশি কবিরা স্ব-স্ব ভাষায় অনুবাদ করেছেন বাংলাদেশের কবিদের কবিতা। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের কবিতার পরিধি বিস্তৃত হয়েছে বিশ্বময়।
উদ্বোধনী দিনের মুক্ত আলোচনা ও কবিতা পাঠ পর্বে অংশ নেন ভারতের বিভিন্ন রাজ্য থেকে আসা কবি জ্যোতির্ময় দত্ত, মিনাক্ষী দত্ত, সেমন্তী ঘোষ, সুমন গুণ, দিলীপ দাস, মৃণাল দেবনাথ, বিমলেন্দ্র চক্রবর্তী, শোভা দেববর্মণ, দীপক হালদার ও বিধানান্দ পুরকায়স্ত। কবিতা পাঠে অংশ নেন তুরস্কের কবি তারিক গুনারসেল, যুক্তরাজ্যের কবি ক্লারি বুকার, চীনের তানজিয়ান কাই, শ্রীলংকার জয়শঙ্কর সুব্রমনিয়াম, ইরাকের আলী আল সালাহ, মালয়েশিয়ার মালিম ঘোজালি, স্পেনের জুলিও পাভানেত্তি, উরুগুয়ের অ্যানাবেল ভিলার, কঙ্গোর কামা কামান্দা ও নেপালের পুষ্প কাহনাল।
উৎসবে স্প্যানিশ কবিতা পড়েন কামা কামান্দা। একই ভাষায় নারীদের উৎসর্গ করে কবিতা পড়েন কবি অ্যানাবেল ভিলার।
১ ফেব্রুয়ারি প্রথম দিন রাত ৯টা পর্যন্ত চলে মুক্ত আলোচনা ও কবিতা পাঠে সজ্জিত উৎসব। বেলা ১টায় শুরু হয় নিবন্ধনের মাধ্যমে কবিতা পাঠের প্রথম পর্ব। দেশের নানা প্রান্ত থেকে সমাগত নবীন-প্রবীণ কবিরা মেলে ধরেন স্বরচিত কবিতাসম্ভার। এ পর্বের সভাপতিত্ব করেন বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারজয়ী কবি কাজী রোজী। এ পর্বের অন্য ভাষার কবিতা নিয়ে মঞ্চে আসেন কবিরা। পাঠ করেন চাকমা, মনিপুরী, পাংখোয়া কিংবা রাখাইন ভাষার কবিতা। এ অধিবেশনের সভাপতিত্ব করেন দিলারা হাফিজ। শুধু আমন্ত্রিত কবিদের নিয়ে অনুষ্ঠিত কবিতা পাঠের তৃতীয় পর্বের সভাপতিত্ব করেন জাতিসত্তার কবিখ্যাত মুহম্মদ নুরুল হুদা। প্রথম দিনের কবিতা পাঠের চতুর্থ অধিবেশনের সভাপতিত্ব করেন মহাদেব সাহা। রাত ৮টায় শুরু হওয়া আবৃত্তি পর্বের মাধ্যমে শেষ হয় প্রথম দিনের আয়োজন। কবিতাপ্রেমীদের কাছে অন্যতম আকর্ষণীয় হয়ে ধরা দেয় আমন্ত্রিত আবৃত্তি শিল্পীদের অংশগ্রহণের এই পর্ব। দেশের খ্যাতনামা বাচিকশিল্পীদের কণ্ঠস্বরে উঠে আসে দেশ-বিদেশের বরেণ্য কবিদের কবিতা। সাবেক সংস্কৃতিমন্ত্রী, নন্দিত অভিনেতা ও আবৃত্তিশিল্পী আসাদুজ্জামান নূরের সভাপতিত্বে হয় প্রথম দিনের সমাপনী অধিবেশনটি।
উৎসবের দ্বিতীয় দিনের সকাল শুরু হয় সেমিনারের মাধ্যমে। কাব্যনাটক বিষয়ে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সাজেদুল আউয়াল। এ অধিবেশনের সভাপতিত্ব করেন বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর। বেলা সাড়ে ১২টায় অনুষ্ঠিত হয় উৎসবের দ্বিতীয় সেমিনার। বাঙালির জয় বাংলা কবিতার জয় বিষয়ক প্রবন্ধ পাঠ করবেন কাজল বন্দ্যোপাধ্যায়। সভাপতিত্ব করেন ড. নূহ-উল-আলম লেনিন। বেলা আড়াইটায় নিবন্ধিত কবিদের অংশগ্রহণে কবিতা পাঠের পঞ্চম পর্বে সভাপতিত্ব করেন কবি কাজী রোজী। নিবন্ধিত কবিদের কবিতা পাঠের ষষ্ঠ পর্বে সভাপতিত্ব করেন আনোয়ারা সৈয়দ হক। ছড়াকার আসলাম সানীর সভাপতিত্বে আমন্ত্রিত ছড়াকারদের নিয়ে ছড়া পাঠের সপ্তম পর্ব অনুষ্ঠিত হয় বিকাল সাড়ে ৪টায়। বিকাল সাড়ে ৫টায় ২০১৮ সালের জাতীয় কবিতা পুরস্কারটি তুলে দেওয়া হয় কবি হাবীবুল্লাহ সিরাজীর হাতে। সন্ধ্যায় শিহাব সরকারের সভাপতিত্বে কবিতা পাঠের অষ্টম পর্বে অংশ নেন অতিথি কবিরা। আমন্ত্রিত কবিদের অংশগ্রহণে কবিতা পাঠের নবম পর্বে সভাপতিত্ব করেন কবি নির্মলেন্দু গুণ। সমাপনী দিনের শেষ আকর্ষণ হিসেবে থাকবে কবিতার গান। সুরের পথ ধরে কবিতা থেকে নির্মিত হয়েছে অনেক গান। সেসব গান শোনাবেন দেশের প্রখ্যাত কণ্ঠশিল্পীরা। এ পর্বে সভাপতিত্ব করবেন নাট্যজন রামেন্দু মজুমদার।

শ্রেণী:

‘দেশকে আমরা আরও উন্নত করতে চাই’

2-6-2019 8-06-07 PM
2-6-2019 8-06-07 PM

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ

উত্তরণ প্রতিবেদন:

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
প্রিয় দেশবাসী।
আসসালামু আলাইকুম।
আপনাদের সবাইকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।

গত ৩০-এ ডিসেম্বর ২০১৮ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এই নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটকে বিপুলভাবে বিজয়ী করার জন্য আমি আপনাদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি। একইসঙ্গে আমি মহান রাব্বুল আলামিনের দরবারে শোকরিয়া আদায় করছি।
যারা নৌকায় ভোট দিয়ে আমাদের বিজয়ী করেছেন আমি তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ। যারা আমাদের ভোট দেননি, আমি তাদেরও ধন্যবাদ জানাচ্ছি নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য। নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী সকল দল ও জোট এবং প্রার্থীকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সকল নেতা-কর্মী, সমর্থক ও শুভানুধ্যায়ীকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। সকলের অক্লান্ত পরিশ্রম এবং সহযোগিতায় আমরা এ বিশাল বিজয় অর্জন করতে সক্ষম হয়েছি।
সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন সম্পন্ন করার জন্য আমি দেশবাসী, নির্বাচন কমিশন, নির্বাচনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সশস্ত্র বাহিনীর সকল সদস্যের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।
আমি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। স্মরণ করছি জাতীয় চার-নেতা এবং মুক্তিযুদ্ধের ৩০ লাখ শহিদ এবং ২ লাখ নির্যাতিত মা-বোনকে। মুক্তিযোদ্ধাদের আমি সালাম জানাচ্ছি।
আমি গভীর বেদনার সঙ্গে স্মরণ করছি ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্টের ঘৃণ্য হত্যাকা-ের শিকার আমার মা বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিব, আমার তিন ভাইÑ মুক্তিযোদ্ধা ক্যাপ্টেন শেখ কামাল, মুক্তিযোদ্ধা লেফটেন্যান্ট শেখ জামাল ও দশ বছরের শেখ রাসেলÑ কামাল ও জামালের নবপরিণীতা স্ত্রী সুলতানা কামাল ও রোজী জামাল, আমার চাচা মুক্তিযোদ্ধা শেখ নাসের, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সামরিক সচিব ব্রিগেডিয়ার জামিল এবং পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের এএসআই সিদ্দিকুর রহমান-সহ সেই রাতের সকল শহিদকে।
এ উপমহাদেশের অন্যতম প্রাচীন রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী, প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক শামসুল হক ও গণতন্ত্রের মানসপুত্র হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাচ্ছি।
বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষার জন্য যারা অকাতরে জীবন দিয়েছেন সেই ভাষা শহিদদের প্রতি আমি গভীর শ্রদ্ধা জানাচ্ছি।
স্মরণ করছি, ২০০৪ সালের ২১-এ আগস্টের গ্রেনেড হামলায় নিহত আওয়ামী লীগ নেত্রী আইভি রহমানসহ ২২ নেতা-কর্মীকে। স্মরণ করছি ২০০১ সালের পর নির্মম হত্যাকা-ের শিকার সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়া, আওয়ামী লীগ নেতা আহসানউল্লাহ মাস্টার, মঞ্জুরুল ইমাম, মমতাজউদ্দিন-সহ ২১ হাজার নেতাকর্মীকে।
২০১৩ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত বিএনপি-জামাত জোটের অগ্নিসন্ত্রাস এবং পেট্রল বোমা হামলায় যারা নিহত হয়েছেন আমি তাদের স্মরণ করছি। আহত ও স্বজনহারা পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে বিএনপি-জামাতের সন্ত্রাসীদের হামলায় ২৪ জন নেতাকর্মী নিহত হয়েছেন। তাদের রুহের মাগফিরাত কামনা করছি। শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দুবারের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং জনপ্রশাসনমন্ত্রী, সদ্য সমাপ্ত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে বিজয়ী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম-সহ দশম সংসদের যেসব সদস্য ইন্তেকাল করেছেন, আমি তাদের রুহের মাগফিরাত কামনা করছি।

প্রিয় দেশবাসী,
এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিপুল বিজয় ছিল খুবই প্রত্যাশিত। নির্বাচনের আগে দেশি-বিদেশি জরিপগুলোও এ-রকমই ফলাফলের ইঙ্গিত দিয়েছিল। লন্ডনভিত্তিক ইকোনমিক ইনটেলিজেন্স ইউনিট এবং রিসার্স অ্যান্ড ডেভলপমেন্ট সেন্টারের জরিপের ফল আপনারা লক্ষ্য করেছেন। আমাদের এই ল্যান্ড-সøাইড বিজয়ের কয়েকটি কারণ আমি আপনাদের সামনে তুলে ধরতে চাই।
হ    বিগত ১০ বছরে দেশে যে উন্নয়ন হয়েছে, সাধারণ মানুষ তার সুফল পেয়েছেন।
হ    ১০ বছর আগে যে বালক/বালিকাটি হারিকেন বা কুপির আলোয় পড়ালেখা করত, গ্রামে পাকা রাস্তা দেখেনি, তরুণ বয়সে সে এখন বৈদ্যুতিক বাতির আলোয় পড়াশোনা করছে, মোটরযানে যাতায়াত করছে।
হ    যে বয়স্ক পুরুষ-নারী পরিবারে ছিল অবহেলিত-অপাঙ্ক্তেয়, বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা তাকে সংসারে সম্মানের জায়গায় নিয়ে গেছে।
হ    গ্রাম বাংলার খুব কম পরিবারই আছে, যে পরিবার সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর উপকারভোগী নয়। কোনো-না-কোনোভাবে প্রতিটি পরিবার উপকৃত হচ্ছেন।
হ    কৃষি শ্রমিক, নির্মাণ শ্রমিক, ভ্যান বা রিকশাচালকসহ নিম্নবিত্তের মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন ঘটেছে। ১০ বছর পূর্বে একজন কৃষি শ্রমিক তার দৈনিক মজুরি দিয়ে বড় জোর ৩ কেজি চাল কিনতে পারতেন। এখন তিনি ১০ কেজি চাল কিনতে পারেন।
হ    সরকারি চাকরিজীবীগণের বেতন ভাতা বিগত ১০ বছরে আড়াই থেকে ৩ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
হ    সরকারি ও বেসরকারি খাতের শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন ভাতাও সমহারে বেড়েছে। যেমনÑ পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম বেতন ১ হাজার ৬০০ টাকা থেকে ৫ গুণ বৃদ্ধি পেয়ে ৮ হাজার টাকা হয়েছে।
হ    কৃষিজীবীদের সার, বীজসহ বিভিন্ন উপকরণে ভর্তুকি প্রদানের মাধ্যমে প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে।
হ    ব্যবসায় এবং শিল্পবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টির মাধ্যমে একদিকে কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে রপ্তানি বাণিজ্য প্রসারিত হয়েছে। যার সুবিধা সাধারণ জনগণ পাচ্ছেন।
হ    পদ্মাসেতু, ঢাকা মেট্রোরেল, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, মহাসড়কগুলোকে চার-লেনে উন্নীতকরণসহ মেগা প্রকল্পগুলো দৃশ্যমান হওয়ায় সাধারণ মানুষের বর্তমান সরকারের ওপর আস্থা জন্মেছে।
হ    মানুষ নিজের এবং দেশের মর্যাদা চায়। আমরা বাংলাদেশকে সেই মর্যাদা এনে দিতে পেরেছি। স্বাধীনতার ৪৪ বছর পর নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশ এবং ৪৬ বছর পর উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা প্রাপ্তি জনগণকেও গর্বিত করেছে। ভিক্ষুকের দেশের দুর্নাম ঘুচেছে। যারা মানুষকে মর্যাদার আসনে বসিয়েছেন, তাদের মানুষ মর্যাদা দিবেনÑ এটাই স্বাভাবিক।
হ    বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ২০১৪ সালের পর থেকেই নির্বাচনী প্রস্তুতি নিতে শুরু করে। প্রতিটি সম্ভাব্য প্রার্থী নিজ নিজ এলাকায় জনসংযোগ বাড়িয়েছেন এবং এলাকার উন্নয়নে অবদান রেখেছেন। এবারের নির্বাচনে দলের প্রতিটি নেতা-কর্মী মনোনীত প্রার্থীর জন্য কাজ করেছেন।
হ    আমাদের নির্বাচনী প্রস্তুতি ছিল ব্যাপক। সরাসরি সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগের পাশাপাশি আমরা ইলেকট্রনিক, প্রিন্ট এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রচারণা চালিয়েছি।
হ    নির্বাচনী প্রচারকালে সমাজের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। ব্যবসায়ী, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, কৃষিবিদ, শিক্ষাবিদ, সাবেক আমলা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য, শিল্পী-সাহিত্যিক, সাংবাদিক, ধর্মীয় নেতাÑ সকলেই বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রতি প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়েছেন। একটি সমাজের প্রায় সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ যখন কোনো দলের প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করেন, তখন তাকে কোনোভাবেই আটকে রাখা যায় না।
পক্ষান্তরে আমাদের প্রতিপক্ষ জোটের নির্বাচনী কৌশল সম্পর্কে আপনারা ভালোভাবেই জানেন। আমি এ নিয়ে কথা বলতে চাইনে। তাদের পরাজয়ের বহুবিধ কারণ রয়েছে :

হ    এক আসনে তিন-চার জন বা তারও বেশি প্রার্থী মনোনয়ন;
হ    মনোনয়ন নিয়ে ব্যাপক বাণিজ্যের অভিযোগ এবং দুর্বল প্রার্থী মনোনয়ন;
হ    নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠাতা পেলে কে প্রধানমন্ত্রী হবেনÑ সে বিষয়ে অনিশ্চয়তা;
হ    নিজেরা জনগণের জন্য কী করবে, সে-কথা তুলে ধরতে ব্যর্থ হয়েছে। অপরদিকে ক্ষমতায় গেলে আমাদের বিরুদ্ধে কী ধরনের প্রতিহিংসামূলক ব্যবস্থা নিবেÑ তাদের প্রচারণায় প্রাধান্য পেয়েছে।
হ    সোশ্যাল মিডিয়ায় আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে বিষোদগার করা ছাড়া নিজেদের সাফল্যগাঁথা তুলে ধরতে পারেনি।
হ    তাছাড়া, ২০১৩ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত বিএনপি-জামাতের দেশব্যাপী অগ্নিসন্ত্রাস ও ধ্বংসাত্মক কর্মকা- সাধারণ মানুষের মন থেকে মুছে যায়নি।
হ    সর্বোপরি, বিএনপির ধানের শীষ মার্কায় যুদ্ধাপরাধী জামাত নেতাদের মনোনয়ন তরুণ ভোটাররা মেনে নিতে পারেনি। তরুণেরা আর যাই হোক, স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির পক্ষ নিতে পারে না।
এ-রকম আরও বহু উদাহরণ দেওয়া সম্ভব, যার মাধ্যমে প্রমাণ করা যাবে যে সাধারণ ভোটারগণ বিএনপির দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিলেন এবং নৌকার অনুকূলে এবার গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছিল।

প্রিয় দেশবাসী,
আপনারা টানা তৃতীয়বার এবং ১৯৯৬ সাল থেকে চতুর্থবারের মতো বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে সরকার পরিচালনার ম্যান্ডেট দিয়েছেন। আপনাদের এবারের এই নিরঙ্কুশ সমর্থন আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
আমি ব্যক্তিগতভাবে আপনাদের এই রায়কে দেশবাসীর সেবা এবং জাতির পিতার অসমাপ্ত কাজ শেষ করার ও সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠার পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ বলে মনে করি।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কথামালার রাজনীতিতে বিশ্বাসী নয়। আমরা যে প্রতিশ্রুতি দেই, তা বাস্তবায়ন করি। ২০০৮ এবং ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে যেসব প্রতিশ্রুতি আমরা দিয়েছিলাম তার অধিকাংশই ইতোমধ্যে বাস্তবায়ন করেছি।
একাদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আমরা ‘সমৃদ্ধির অগ্রযাত্রায় অপ্রতিরোধ্য বাংলাদেশ’ সেøাগান সংবলিত নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছি। ইশতেহার ঘোষণাকালে আমি এর সারাংশ আপনাদের সামনে তুলে ধরেছিলাম। আপনারা অনেকেই এই দলিলটি ইতোমধ্যে পড়েছেন।
আমি আপনাদের আশ্বস্ত করতে চাই যে, আমাদের যে কোনো নীতিমালা প্রণয়নে এবং উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে এই ইশতেহারটি পথ-নির্দেশক হিসেবে কাজ করবে।
মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, দারিদ্র্য হ্রাস, শিক্ষা ও চিকিৎসার সুযোগ বিস্তার, শিশু ও মাতৃমৃত্যুর হার হ্রাস, নারীর ক্ষমতায়নসহ আর্থ-সামাজিক নানা সূচকে বাংলাদেশ বিগত ১০ বছরে ঈর্ষণীয় সাফল্য অর্জন করেছে। শুধু এশিয়ার দেশগুলোরই শীর্ষে নয়, কোনো কোনো ক্ষেত্রে আমাদের অর্জন অনেক উন্নত দেশকেও ছাড়িয়ে গেছে। বিশ্ব নেতৃবৃন্দ তাই বাংলাদেশকে চেনেন ‘উন্নয়নের রোল মডেল’ হিসেবে।
আমাদের এই পথচলা মসৃণ ছিল না। শত প্রতিকূল অবস্থা মোকাবিলা করে আমরা আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করেছি। যার সুফল আজ জনগণ পাচ্ছেন। এ অর্জন শুধু সরকারের নয়, এ অর্জন দেশের প্রতিটি পরিশ্রমী মানুষের।
আজকে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে মর্যাদা পেয়েছে। বর্তমানে দারিদ্র্যের হার ২১.৮ শতাংশে হ্রাস পেয়েছে, যা ২০০৫-০৬ সালে বিএনপি সরকারের আমলে ছিল ৪১.৫ শতাংশ। মাথাপিছু আয় ৫৪৩ মার্কিন ডলার থেকে ১ হাজার ৭৫১ ডলারে উন্নীত হয়েছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩ বিলিয়ন থেকে বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ৩৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
বিএনপি সরকারের ২০০৫-০৬ অর্থবছরে বাজেটের আকার ছিল মাত্র ৬১ হাজার কোটি টাকা। যা ৭.৬ গুণ বৃদ্ধি করে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে আমরা ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকার বাজেট দিয়েছি। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির পরিমাণ ১ লাখ ৭৩ হাজার কোটি টাকা। যার ৯০ ভাগ বাস্তবায়ন হয় নিজস্ব অর্থায়নে। কারও কাছে আমাদের হাত পেতে চলতে হয় না।
গত অর্থবছরে আমাদের জিডিপির প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৭.৮৬ শতাংশ। মূল্যস্ফীতি ৫.৪ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে। ফলে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার আওতায় রয়েছে।
অর্থনৈতিক অগ্রগতির সূচকে বিশ্বের শীর্ষ ৫টি দেশের একটি এখন বাংলাদেশ। প্রাইস ওয়াটার হাউস কুপারস-এর প্রক্ষেপণ অনুযায়ী ২০৪০ সাল নাগাদ বাংলাদেশের অর্থনীতি বিশ্বে ২৩তম স্থান দখল করবে।
এইচবিএসসির প্রক্ষেপণ অনুযায়ী ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ বিশ্বের ২৬তম বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ হবে। আমরা মহাকাশে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণ করেছি। ভারতের সঙ্গে স্থল সীমানা চুক্তি বাস্তবায়নের মাধ্যমে ছিটমহল সমস্যার সমাধান করা হয়েছে।
১০ বছর আগের বাংলাদেশ আর আজকের বাংলাদেশের মধ্যে বিরাট ব্যবধান। মানুষের জীবনমান এখন অনেক উন্নত। এখন মানুষ সুন্দর করে বাঁচার স্বপ্ন দেখে। দেশকে আমরা আরও উন্নত করতে চাই। তাই সামনে অনেক কাজ আমাদের। আরও কঠিন পথ পাড়ি দিতে হবে। আপনাদের সঙ্গে নিয়ে সেই বন্ধুর পথ অতিক্রম করতে পারব, ইনশাআল্লাহ।

প্রিয় দেশবাসী,
আমাদের সামনে সবচেয়ে বড় দায়িত্ব শিক্ষিত তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা। তরুণদের কর্মসংস্থানের জন্য আমরা বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি।
এগুলোর মধ্যে রয়েছে তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ শর্তে আর্থিক সহায়তা প্রদানসহ বিভিন্ন সুবিধা নিশ্চিত করা, তরুণ নারী উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ সুবিধা ও প্রণোদনা প্রদান, সরকারি উদ্যোগে কর্মসংস্থান পরিকল্পনা, তরুণ উদ্ভাবকদের উদ্ভাবনসমূহ আন্তর্জাতিকভাবে পেটেন্ট করার উদ্যোগ গ্রহণ, দেশ-বিদেশে কর্মে নিয়োগের জন্য কারিগরি বিষয়ে দক্ষ কর্মী তৈরি এবং কারিগরি জ্ঞানসম্পন্ন দক্ষ জনবল গড়ে তোলার জন্য প্রতিটি উপজেলায় একটি করে কারিগরি কলেজ স্থাপন করা। ইতোমধ্যে কারিগরি কলেজ স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে।
আগামী পাঁচ বছরে আমরা দেড় কোটি কর্মসংস্থানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছি। সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার কাজ এগিয়ে চলেছে। এসব অর্থনৈতিক অঞ্চলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীগণ বিনিয়োগের জন্য আসছেন।
সারাদেশে দুই ডজনের বেশি হাইটেক পার্ক এবং আইটি ভিলেজ নির্মাণের কাজ এগিয়ে চলছে। কৃষি, মৎস্য, পশু পালন, পর্যটন, সেবা খাতসহ অন্যান্য খাতে প্রাতিষ্ঠানিক এবং আত্মকর্মসংস্থানের ব্যাপক সুযোগ সৃষ্টি করা হবে।
আমরা চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলো যথাসময়ে শেষ করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। বিশেষ করে পদ্মাসেতু, মেট্রোরেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প, মহেষখালি-মাতারবাড়ি সমন্বিত উন্নয়ন প্রকল্পসহ ফাস্ট ট্রাক মেগা প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন কাজে গতি আনা হবে।
দেশের প্রতিটি গ্রামে শহরের সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। দেশের প্রতিটি ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে যাবে। ছেলে-মেয়েদের উন্নত পরিবেশে লেখাপড়ার সুযোগ তৈরি করা হবে। সুপেয় পানি এবং উন্নতমানের পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে। সুস্থ বিনোদন এবং খেলাধুলার জন্য অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে। ইন্টারনেট/তথ্যপ্রযুক্তি সর্বত্র পৌঁছে যাবে।

প্রিয় দেশবাসী,
২০২০ সালে জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে আমরা ২০২০-২১ সালে মুজিব বর্ষ এবং ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উৎসব উদযাপন করব। বাঙালি জাতির এই দুই মাহেন্দ্রক্ষণে আমরা দেশকে আর্থ-সামাজিক খাতে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে চাই। আর এর কৌশল হিসেবে আমরা ভিশন ২০২১ এবং ভিশন ২০৪১ বাস্তবায়ন করছি।
পাশাপাশি, জলবায়ুর ঘাত-প্রতিঘাত মোকাবিলা করে কাক্সিক্ষত উন্নয়ন অর্জনের জন্য আমরা ‘বাংলাদেশ ব-দ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০’ নামে শতবর্ষের একটি পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছি।
আমরা ইতোমধ্যে সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার সঙ্গে এসডিজির লক্ষ্যমাত্রাগুলো সম্পৃক্ত করে তা বাস্তবায়ন শুরু করেছি। অষ্টম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা প্রণয়নের কাজও শুরু হয়েছে।
সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়Ñ আমাদের এই পররাষ্ট্রনীতিই বহির্বিশ্বের সঙ্গে বাংলাদেশের সুসম্পর্কের মূল হাতিয়ার। এই নীতির সফল বাস্তবায়ন বাংলাদেশকে উন্নতি ও অগ্রগতির পথে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। বাইরের দুনিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক যে কোনো সময়ের চাইতে সুদৃঢ় এবং গভীর।

প্রিয় দেশবাসী,
এখন আমাদের প্রয়োজন জাতীয় ঐক্য। বিভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। আমাদের ঐক্যের যোগসূত্র হবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, অসাম্প্রদায়িকতা, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, সাম্য ও ন্যায়বিচার এবং উন্নয়ন ও অগ্রগতি। বিজয়ের পর আমরা সরকার গঠন করেছি। সরকারের দৃষ্টিতে দলমত নির্বিশেষে দেশের সকল নাগরিক সমান। আমরা সবার জন্য কাজ করব।
সরকারি সেবা খাতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং জাতীয় জীবনের সর্বত্র আইনের শাসন সমুন্নত রাখার উদ্যোগ গ্রহণ করব। জাতীয় সংসদ হবে সকল সিদ্ধান্ত গ্রহণের কেন্দ্রবিন্দু।
একাদশ সংসদে বিরোধী দলের সদস্য সংখ্যা নিতান্তই কম। তবে, সংখ্যা দিয়ে আমরা তাদের বিবেচনা করব না। সংখ্যা যত কমই হোক, সংসদে যে কোনো সদস্যের ন্যায্য ও যৌক্তিক প্রস্তাব/আলোচনা/সমালোচনার যথাযথ মূল্যায়ন করা হবে। আমি বিরোধী দলের নির্বাচিত সদস্যদের শপথ নিয়ে সংসদে যোগদানের আহ্বান জানাচ্ছি।
আমি জানি, দুর্নীতি নিয়ে সমাজের সর্বস্তরে অস্বস্তি রয়েছে। দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের নিজেদের শোধরানোর আহ্বান জানাচ্ছি। আইনের কঠোর প্রয়োগের মাধ্যমে দুর্নীতি উচ্ছেদ করা হবে। আমরা তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যবহার সম্প্রসারণের মাধ্যমে বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুর্নীতির নির্মূল করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। দুর্নীতি বন্ধে জনগণের অংশগ্রহণ জরুরি। তাই, গণমাধ্যমের সহায়তায় দুর্নীতির বিরুদ্ধে জনসচেতনতা তৈরির কাজ অব্যাহত থাকবে।
আপনারা দেখেছেন আমরা জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করে ইতোমধ্যেই মাদক, জঙ্গি তৎপরতা এবং সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে সফলতা অর্জন করেছি। এ অভিযান অব্যাহত থাকবে। আমরা একটি শান্তিপূর্ণ সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে চাই। যেখানে হিংসা-বিদ্বেষ-হানাহানি থাকবে না। সকল ধর্ম-বর্ণ এবং সম্প্রদায়ের মানুষ শান্তিতে বসবাস করতে পারবেন। সকলে নিজ নিজ ধর্ম যথাযথ মর্যাদার সঙ্গে পালন করতে পারবেন।
বৈশ্বিক প্রভাবে কিংবা স্থানীয় প্ররোচনায় আমরা কিছু কিছু তরুণকে বিভ্রান্তির শিকার হয়ে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদে সম্পৃক্ত হতে দেখেছি। ইসলাম শান্তির ধর্ম। ইসলামে সন্ত্রাসের কোনো স্থান নেই। আমি সমাজের সকলকে মাদকাসক্তি ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান গ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছি।
ধর্মীয় শিক্ষার প্রসারে আমরা কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছি। মাদ্রাসা শিক্ষাকে আধুনিকায়নের মাধ্যমে উৎপাদনমুখী করা হচ্ছে। কওমী মাদ্রাসার দাওয়ারে হাদিস ডিগ্রিকে মাস্টার্স ডিগ্রির সমমানের করা হয়েছে। সারাদেশে ৫৬০টি মসজিদ-কাম-ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে।
প্রিয় দেশবাসী,
তরুণেরাই দেশের ভবিষ্যৎ কর্ণধার। তারুণ্যের সৃষ্টিশীলতা, উদ্যম এবং শক্তির ওপর আমাদের পূর্ণ শ্রদ্ধা ও আস্থা রয়েছে। তারুণ্য মানেই বাংলা ভাষার জন্য আত্মদান, ঊনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থান, ’৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ, আসাদ-মতিউর, নূর হোসেনদের রক্তদান। তারুণ্য মানেই লাল-সবুজের পতাকাÑ আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি, তারুণ্য মানেই বাঙালি এবং বাংলাদেশ।
১৯৭১ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে সাড়া দিয়ে বাঙালি জাতি মহান মুক্তিযুদ্ধে বিজয় অর্জন করেছিল। আর ২০১৮ সালে আরেক বিজয়ের মাসে এদেশের ভোটারগণ মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে বিজয়ী করেছে, আমাদের দেশ সেবার সুযোগ করে দিয়েছে।
আমি আগেও বলেছি, আবারও বলছিÑ আমার ব্যক্তিগত কোনো চাওয়া-পাওয়া নেই। বাবা-মা-ভাই, আত্মীয়-পরিজনকে হারিয়ে আমি রাজনীতি করছি শুধু জাতির পিতার স্বপ্ন বাস্তাবায়নের জন্য; এদেশের মানুষের কল্যাণের জন্য। এদেশের সাধারণ মানুষেরা যাতে ভালোভাবে বাঁচতে পারেন, উন্নত-সমৃদ্ধ জীবনের অধিকারী হতে পারেনÑ তা বাস্তবায়ন করাই আমার জীবনের একমাত্র লক্ষ্য।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব বলেছিলেন : ‘মহৎ অর্জনের জন্য মহৎ ত্যাগের প্রয়োজন।’ আমরা ত্যাগের পথ অনুসরণ করেই এগিয়ে যাচ্ছি। আমার বর্তমানকে উৎসর্গ করেছি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য। আমরা তরুণদের শক্তি, মেধা ও মননকে সোনার বাংলা গড়ার কাজে সম্পৃক্ত করব। আজকের তরুণেরাই পারবে দেশকে উন্নতি ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়ে মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি আনতে।
প্রিয় দেশবাসী,
নবীন-প্রবীণের সংমিশ্রণে আমি আমার মন্ত্রিসভা গঠন করেছি। প্রবীণদের অভিজ্ঞতা আর নবীনদের উদ্যমÑ এই দুইয়ের সমন্বয়ে আমরা আমাদের লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছার প্রত্যয় ব্যক্ত করছি।
আপনারা আমার ওপর আস্থা রেখে যে রায় দিয়েছেন, কথা দিচ্ছি আমি প্রাণপণ চেষ্টা করব সে-আস্থার প্রতিদান দিতে। এজন্য দলমত নির্বিশেষে দেশের সকল নাগরিকের সমর্থন এবং সহযোগিতা চাই। আপনাদের সহযোগিতায় আমরা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের ক্ষুধা, দারিদ্র্য, নিরক্ষরতামুক্ত অসাম্প্রদায়িক সোনার বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করব, ইনশাআল্লাহ।

কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের ভাষায় বলতে চাই :
‘যতক্ষণ দেহে আছে প্রাণ
প্রাণপণে পৃথিবীর সরাব জঞ্জাল,
এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাব আমিÑ
নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।’

সবাই ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন। মহান রাব্বুল আলামিন আমাদের সহায় হোন।

খোদা হাফেজ।
জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু
বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।

শ্রেণী:

শেখ হাসিনার অনন্য রেকর্ড

38 2PM

38 2PMউত্তরণ প্রতিবেদন: বাংলাদেশের ইতিহাসে একসঙ্গে ৩টি রেকর্ড গড়লেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। টানা তৃতীয় মেয়াদে সরকারপ্রধান, চতুর্থবার প্রধানমন্ত্রী ও দীর্ঘমেয়াদি দলীয়প্রধান। একই সঙ্গে নারী নেতৃত্বের বিচারে দক্ষিণ এশিয়া, এশিয়া ও বিশ্ব প্রেক্ষাপটেও তিনি আসীন হলেন অনন্য উচ্চতায়। বিশ্বে সরাসরি সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী দলের নারী নেতা হিসেবে টানা তিন মেয়াদে সরকার গঠনের ইতিহাস এখন শুধু তারই হাতের মুঠোয়। গত ৭ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথগ্রহণের মধ্য দিয়ে একটানা ক্ষমতার দিক থেকে তিনি ছুঁয়ে ফেললেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতী ইন্দিরা গান্ধীর রেকর্ড। এই মেয়াদের এক বছর পূর্ণ হলেই আধুনিক সংসদীয় পদ্ধতির সরকার ব্যবস্থার বিশ্ব-ইতিহাসে একটানা ক্ষমতায় থাকার দিক থেকে তিনি সবাইকে ছাড়িয়ে যাবেন। তাছাড়া দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে নেতৃত্ব দেওয়া দেশের প্রাচীনতম ও বৃহত্তম রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে টানা ৩৮ বছর নেতৃত্ব দিচ্ছেন শেখ হাসিনা। বিশ্ব রাজনীতিতে এটিও বিরল ঘটনা। এবার নিয়ে চারবার প্রধানমন্ত্রীর পদ অলঙ্কৃত করলেন তিনি, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় সংসদীয় সরকারের প্রধান হিসেবে সংখ্যায় অল্প হলেও দেখা গেছে প্রভাবশালী নারী মুখ। তাদের হাত ধরে এগিয়েছে নারীমুক্তির আন্দোলনও। বিশ্বের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ইতিহাস হয়ে আছেন শ্রীলংকার শ্রীমাভো বন্দরনায়েক। তিনি মোট তিনবার প্রধানমন্ত্রী হন। তবে পৃথক তিন মেয়াদে। নারী রাজনীতিক হিসেবে বিশ্বে গুরুত্বসহকারে উচ্চারিত নাম ইন্দিরা গান্ধী। তিনি ভারতের প্রথম ও একমাত্র নারী প্রধানমন্ত্রী। ১৯৬৬ সালে প্রধানমন্ত্রী লাল বাহাদুর শাস্ত্রীর মৃত্যু হলে তার অপূর্ণ মেয়াদে এক বছরের জন্য প্রধানমন্ত্রী হন তিনি। তবে সরাসরি সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী দলের নেতা হিসেবে পরের বছর প্রধানমন্ত্রী হন তিনি। ১৯৭১ সালে আবার প্রধানমন্ত্রী হন। অর্থাৎ ১৯৬৬ সালে প্রথম বছরের প্রধানমন্ত্রিত্ব বাদ দিলে তিনি বিজয়ী দলের নেতা হিসেবে টানা দুবার সরকার গঠন করেছিলেন। আরেকবার প্রধামন্ত্রী হন ১৯৮০ সালে। এই হিসাবে নারী নেতৃত্বের ইতিহাসে ইন্দিরা গান্ধীর সব রেকর্ড ছাপিয়ে যাওয়ার দোরগোড়ায় রয়েছেন শেখ হাসিনা। একই সঙ্গে এক্ষেত্রে তিনি হতে চলেছেন বিশ্বে অদ্বিতীয়।
যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়ার মতো রাষ্ট্রপতি পদ্ধতির সরকার ও সুদান, সোয়াজিল্যান্ডের মতো সাম্রাজ্যিক শাসন বাদ দিলে আধুনিক গণতান্ত্রিক বিশ্বে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সবচেয়ে বেশি দিন প্রায় ৩১ বছর টানা ক্ষমতায় ছিলেন সিঙ্গাপুরের লি কুয়ান ইউ। তার কাছাকাছি আছেন মালয়েশিয়ার প্রবাদপ্রতিম নেতা মাহাথির মোহাম্মদ। দীর্ঘ ২২ বছরের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকার পর গত বছর মে মাসে শতবর্ষী এই নেতা আবার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন। তবে দক্ষিণ এশিয়ার কোনো দেশে তাদের মতো একহাতে এত লম্বা শাসনের ইতিহাস নেই। এদিক থেকে ভারত-পাকিস্তানসহ সার্কভুক্ত দেশের সব নেতার মধ্যে এগিয়ে থাকছেন শেখ হাসিনা।
38 PM১৯৯৬ সালের ১২ জুন সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে বিজয়ী হলে প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। ওই বছরের ২৩ জুন তার নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভা শপথ নেয়। এরপর ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের ঐতিহাসিক নবম সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতাসীন হয় আওয়ামী লীগসহ মহাজোট। ৬ জানুয়ারি শপথগ্রহণের মধ্য দিয়ে দ্বিতীয় মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী হন শেখ হাসিনা। পূর্ণ পাঁচ বছর মেয়াদ শেষ করেন। তৃতীয়বার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন ২০১৪ সালের ১২ জানুয়ারি।
সর্বশেষ গত ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আরেক দফা নিরঙ্কুশ বিজয় হয় আওয়ামী লীগের। এর ভিত্তিতে গত ৭ জানুয়ারি টানা তৃতীয় মেয়াদে ও মোট চতুর্থবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়ছেন শেখ হাসিনা। এই হিসাবে সব মিলিয়ে ১৫ বছরের বেশি সময় ধরে সরকারপ্রধানের দায়িত্ব পালন করে আসছেন তিনি। এ রেকর্ড আর কারও নেই। এর আগে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া সর্বমোট তিন মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন। তবে এ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন সব মিলিয়ে ১০ বছরের কিছু বেশি সময়।
বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে শেখ হাসিনার রেকর্ড : বাংলাদেশের ৩টি জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ছিলেন শেখ হাসিনা। ১৯৮৬ সালে এরশাদ সরকারের আমলে অনুষ্ঠিত তৃতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দ্বিতীয় সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হয় আওয়ামী লীগ। প্রথমবারের মতো বিরোধীদলীয় নেতা হন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। এরপর গণ-অভ্যুত্থানের মুখে এরশাদ সরকারের পতনের পর ১৯৯১ সালে অনুষ্ঠিত পঞ্চম সংসদ নির্বাচনেও দ্বিতীয় সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের প্রধান হিসেবে বিরোধীদলীয় নেতা হন তিনি। ২০০১ সালে অষ্টম জাতীয় সংসদেও বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। এ হিসাবে শেখ হাসিনা তিন মেয়াদে ১২ বছরের ওপরে বিরোধীদলীয় নেতা ছিলেন, যেটিও মেয়াদ ও সময়কালের দিক থেকে রেকর্ড। অন্যদিকে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া দুই মেয়াদে এবং ১০ বছরের মতো বিরোধীদলীয় নেতার দায়িত্ব পালন করেছেন।
আওয়ামী লীগ সভাপতি হিসেবে রেকর্ড : জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বড় মেয়ে শেখ হাসিনা ছয় বছর নির্বাসিত জীবন শেষে ১৯৮১ সালের ১৭ মে আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবেই দেশে ফেরেন। এর আগে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু সপরিবারে নিহত হন। সে-সময় শেখ হাসিনা ও তার বোন বিদেশে থাকায় বেঁচে গেলেও তাদের দেশে ফিরতে দেয়নি তৎকালীন জিয়াউর রহমানের সামরিক সরকার। ওই সময় থেকে আজ পর্যন্ত টানা প্রায় ৩৮ বছর ধরে এবং টানা অষ্টমবারের মতো আওয়ামী লীগ সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন শেখ হাসিনা। এই সময়ে অনুষ্ঠিত সব কাউন্সিলেই সর্বসম্মতিক্রমে দলীয় প্রধান নির্বাচিত হয়েছেন তিনি।

শ্রেণী:

নতুন বছরের প্রথম দিনে ৪ কোটি শিক্ষার্থী পেল ৩৫ কোটি বই

38 2PM

38 2PMউত্তরণ প্রতিবেদন: নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক জটিলতার মধ্যেও সফল এক উৎসবের মধ্য দিয়ে প্রাক-প্রাথমিক, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের সকল শিক্ষার্থীর হাতে বিনামূল্যের পাঠ্যবই দিয়ে নতুন বছর শুরু করল সরকার। বছরের প্রথম দিন টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া, রূপসা থেকে পাথুরিয়া দেশজুড়ে স্কুলে স্কুলে উৎসবের মধ্য দিয়ে ৪ কোটিরও বেশি শিক্ষার্থী হাতে পেল ৩৫ কোটি ২১ লাখ ৯৭ হাজার ৮৮২ কপি নতুন ঝকঝকে পাঠ্যবই। শিক্ষার্থীরা উল্লাসে মেতে শামিল হয় উৎসবে। যুগান্তকারী এ কর্মযজ্ঞের হিসাব বলছে, ১০ বছরে শিক্ষার্থীদের মাঝে ২৯৬ কোটি ৮ লাখ বিনামূল্যের পাঠ্যবই বিতরণ করেছে সরকার। যে দৃষ্টান্ত পৃথিবীতে বিরল। এ এক অন্যরকমের উৎসব। প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য এ এক অন্যরকম দিন। বছরের প্রথম দিন খালি হাতে স্কুলে যাওয়া, আর সহপাঠীদের সঙ্গে পাঠ্যপুস্তক উৎসবে শামিল হয়ে হাতে পাওয়া পুরো এক সেট ঝকঝকে নতুন বই।
জানা গেছে, নির্বাচনের কারণে এবার বইয়ের কাজ আগে শেষ করার টার্গেট নির্ধারণ করেছিল সরকার। ভালোভাবে কাজ হয়েছে। তাই নির্বাচনী কর্মযজ্ঞের মধ্যেও বছরের প্রথম দিনই শিক্ষার্থীর হাতে বিনামূল্যের নতুন ঝকঝকে পাঠ্যবই পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছে এনসিটিবি। উৎসবে শামিল হয়ে শিক্ষার্থীরা তাই হাতে পেল সকল পাঠ্যবই। রাজধানী থেকে শুরু করে উৎসব চলছে জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন ও গ্রামের স্কুলে স্কুলে।
এদিকে সরকারের এ বিশাল কর্মযজ্ঞের তথ্য দেখলেই স্পষ্ট হয় প্রায় প্রতিবছরই বেড়েছে বিনামূল্যের বইয়ের সংখ্যা। বেড়েছে শিক্ষার্থী, বিশেষ করে বিদ্যালয়ে আসা শিক্ষার্থীর সংখ্যা। শিক্ষাবিদসহ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিনামূল্যের পাঠ্যবই বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ফিরিয়ে এনেছে। যা দেশের পুরো শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রভাব ফেলেছে। তথ্য বলছে, গত ১০ বছর আগে দেশে বিদ্যালয়ে আসা শিশুদের হার ছিল ৮০ শতাংশের একটু বেশি। কিন্তু ১০ বছরের মাথায় আজ প্রায় শতভাগ শিশু আসছে বিদ্যালয়ে। বিষয়টি ইতোমধ্যেই নজর কেড়েছে আন্তর্জাতিক মহলের। বিদ্যালয়ে শতভাগ শিশুর উপস্থিতিকে বাংলাদেশের একটি বড় অর্জন বলেও উল্লেখ করা হচ্ছে।
শতভাগ বিনামূল্যের পাঠ্যবইয়ের প্রথম বছর বইয়ের সংখ্যা ছিল ২০১০ সালে ১৯ কোটি ৯০ লাখ ৯৬ হাজার ৫৬১ কপি, ২০১১ সালে ২৩ কোটি ২২ লাখ ২১ হাজার ২৩৪ কপি, ২০১২ সালে ২২ কোটি ১৩ লাখ ৬৬ হাজার ৩৮৩ কপি, ২০১৩ সালে ২৬ কোটি ১৮ লাখ ৯ হাজার ১০৬ কপি, ২০১৪ সালে ৩১ কোটি ৭৭ লাখ ২৫ হাজার ৫২৬ কপি, ২০১৫ সালে ৩২ কোটি ৬৩ লাখ ৪৭ হাজার ৯২৩ কপি, ২০১৬ সালে ৩৩ কোটি ৩৭ লাখ ৬২ হাজার ৭৭২ কপি, ২০১৭ সালে বই ছিল ৩৬ কোটি ২১ লাখ ৮২ হাজার ২৪৫ কপি। গত বছর বইয়ের সংখ্যা ছিল ৩৫ কোটি ৪২ লাখ ৯০ হাজার ১৬২ কপি। আর এবার ৩৫ কোটি ২১ লাখ ৯৭ হাজার ৮৮২ কপি। এনসিটিবির সদস্য অধ্যাপক ড. মিয়া ইনামুল হক রতন সিদ্দিকী বলছিলেন, গত ১০ বছরে সরকারের দেওয়া বিনামূল্যের বইয়ের পরিমাণ ২৯৬ কোটি ৭ লাখ ৮৯ হাজার ১৭২ কপি। যাতে সরকারের ব্যয় হয়েছে ৮ হাজার কোটি টাকারও বেশি। তবে এ কাজ যুগান্তকারী। পৃথিবীতে এটা একটি নজির। তিনি আরও বলছিলেন, ২০১০ সালের আগে বাংলাদেশের ইতিহাসে কখনই ছাত্রছাত্রীরা যেমন পায়নি শতভাগ বিনামূল্যের বই তেমনি বছরের প্রথম দিনও পাঠ্যবই হাতে পায়নি।

শ্রেণী:

চতুর্থবার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ায় শেখ হাসিনাকে বিশ্ব নেতৃবৃন্দের অভিনন্দন

38 2PM

উত্তরণ প্রতিবেদন: শেখ হাসিনাকে নরেন্দ্র মোদির অভিনন্দন : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের জন্য বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদি গত ৩১ ডিসেম্বর সকালে প্রধানমন্ত্রীকে টেলিফোন করে নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভের জন্য তাকে (শেখ হাসিনা) এবং তার দল ও বাংলাদেশের জনগণকে অভিনন্দন জানান। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম এ কথা জানান। টেলিফোনে নরেন্দ্র মোদি বলেন, আওয়ামী লীগের এ বিজয় হচ্ছে আপনার দক্ষ নেতৃত্বে বাংলাদেশের অর্জিত অসামান্য উন্নয়নের প্রতিফলন। প্রেস সচিব জানান, ভারতের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের উন্নয়ন প্রচেষ্টায় অতীতের মতো তার দেশের অব্যাহত সমর্থনের আশ্বাস দিয়েছেন। নরেন্দ্র মোদি ৩১ ডিসেম্বর দুটি পৃথক টুইট বার্তায় শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানান ও বাংলাদেশের উন্নয়নে একসঙ্গে কাজ করার কথা উল্লেখ করেন।
টেলিফোন আলাপে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নরেন্দ্র মোদি ও তার দেশের জনগণকে শুভেচ্ছা জানান। শেখ হাসিনা টেলিফোন করার জন্য ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তার দলের বিশাল বিজয়ের পর তিনিই প্রথম রাষ্ট্র কিংবা সরকারপ্রধান যিনি তাকে টেলিফোন করেছেন।
ভারতের সাবেক প্রেসিডেন্ট প্রণব মুখার্জির অভিনন্দন : চতুর্থবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হওয়ায় শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন ভারতের সাবেক প্রেসিডেন্ট প্রণব মুখার্জি। প্রণব মুখার্জি টেলিফোনে শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন বলে গত ১০ জানুয়ারি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন প্রণব মুখার্জির ছেলে ও কংগ্রেস নেতা অভিজিৎ মুখার্জি। অভিনন্দনের পাশাপাশি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে পারিবারিক সম্পর্কের কথাও স্মরণ করেন তিনি। অন্যদিকে শেখ হাসিনার জয়কে বাংলাদেশের উন্নয়নের জয় হিসেবে উল্লেখ করেছেন প্রণবপুত্র অভিজিৎ মুখার্জি।
শেখ হাসিনাকে সোনিয়া গান্ধীর অভিনন্দন : ভারতীয় কংগ্রেসের সংসদীয় দলের চেয়ারপারসন সোনিয়া গান্ধী গত ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম বলেন, গত ৩০ ডিসেম্বর জাতীয় নির্বাচনে শেখ হাসিনার দলের নিরঙ্কুশ বিজয়ে ভারতীয় কংগ্রেস দলের নেতা প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রেরিত এক বার্তায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও বাংলাদেশের জনগণকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, সোনিয়া গান্ধী প্রধানমন্ত্রীর সাফল্যের পাশাপাশি বাংলাদেশের অব্যাহত শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।
এছাড়াও ভারতের ক্ষমতাসীন দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)-র পক্ষ থেকে বিজেপি সাধারণ সম্পাদক রাম মাধব বঙ্গবন্ধু-কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।
চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের অভিনন্দন : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের জন্য বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও চীনা প্রধানমন্ত্রী লি কেকিয়াং।
ঢাকায় চীনের রাষ্ট্রদূত ঝাং ঝুও প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে তাদের অভিনন্দন বার্তা হস্তান্তর করেন। রাষ্ট্রদূত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের উন্নয়নের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি আশা করেন, শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে সরকারের ভিশন ২০২১ বাস্তবায়িত হবে এবং এ সময়ের মধ্যে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী কর্মসূচির কারণে শিগগিরই বাংলাদেশে দারিদ্র্যের হার শূন্যে নেমে আসবে। ঝাং ঝুও আশা করেন, দুই দেশের কৌশলগত ও পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। চীনা দূত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে তাকে বিশ্বের মহান নেতা হিসেবে উল্লেখ করেন।
ভুটানের রাজা ও প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন : ভুটানের রাজা জিগমে খেসার নাগমায়েল ওয়াংচুক একাদশ সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের জন্যে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন। ভুটানের রাজা ৩১ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়ে বার্তা পাঠান। জিগমে খেসার আশা করেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আগামী পাঁচ বছরের শাসনকালে দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদার হবে।
ভুটানের প্রধানমন্ত্রী লোটে শেরিং প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে টেলিফোন করে একাদশ সংসদ নির্বাচনে তার দলের নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জনের জন্য তাকে (শেখ হাসিনাকে) আন্তরিক অভিনন্দন জানান।
নেপালের প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন : নেপালের প্রধানমন্ত্রী খড়গ প্রসাদ শর্মা ওলি প্রধানমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে ফোন করে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তার দলের নিরঙ্কুশ বিজয়ে তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।
শেখ হাসিনাকে সৌদি বাদশাহ ও যুবরাজের অভিনন্দন : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ বিজয় লাভ করায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ। সৌদি গেজেট জানায়, গত ৩১ ডিসেম্বর এক বার্তায় তিনি অভিনন্দন জানান।
অভিনন্দন বার্তায় সৌদি বাদশাহ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সফলতা এবং উন্নয়ন ও অগ্রগতি ধরে রাখতে শুভ কামনা জানান। দেশটির উপ-প্রধানমন্ত্রী এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে একই বার্তা পাঠিয়েছেন।
কাতারের আমীরের অভিনন্দন : গত ১ জানুয়ারি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ব্যাপক বিজয় অর্জনের জন্য দেশের প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন কাতারের আমীর শেখ তামীম বিন হামাদ আল থানি। বার্তায় কাতারের আমীর বাংলাদেশের অব্যাহত শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাফল্য কামনা করেন।
বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়নে সহযোগিতার আশ্বাস যুক্তরাষ্ট্রের : একাদশ জাতীয় নির্বাচন সফল করার জন্য বাংলাদেশের জনগণের প্রশংসা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। গত ১ জানুয়ারি এক বিবৃতিতে নির্বাচন নিয়ে সব ধরনের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে নির্বাচন কমিশনকে আহ্বান জানিয়েছে দেশটি। পররাষ্ট্র দফতরের উপ-মুখপাত্র রবার্ট পালাদিনো বলেন, গত ৩০ ডিসেম্বর সংসদীয় নির্বাচনে ভোট দেওয়া বাংলাদেশের কোটি কোটি ভোটারের প্রশংসা করে যুক্তরাষ্ট্র। একইসঙ্গে নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় সব দলকেও ধন্যবাদ জানায়। ২০১৪ সালে নির্বাচন বয়কট পরিস্থিতির পর এই ঘটনাকে যুক্তরাষ্ট্র ইতিবাচকভাবে দেখছে।
সফলভাবে নির্বাচন আয়োজনের মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনা পুনর্নির্বাচিত হওয়ায় তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প প্রশাসন জানায়, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ ও গণতান্ত্রিক উন্নয়নে গভীরভাবে বিনিয়োগ করতে চায়। পালাদিনো বলেন, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বিদেশি বিনিয়োগকারী যুক্তরাষ্ট্র। এছাড়া, অনেক বাংলাদেশিও মার্কিন নাগরিকত্ব পেয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন।
বাংলাদেশের পাশে থাকবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন : গত ১ জানুয়ারি ইউরোপীয় ইউনিয়নের ব্রাসেলস অফিস থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বরে বাংলাদেশে জাতীয় সংসদীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ নির্বাচনে বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশন প্রাথমিকভাবে ফল প্রকাশের জন্য যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে। নির্বাচনে ভোটারদের সমাবেশ এবং ১০ বছরে প্রথমবারের মতো বিরোধী দলের নির্বাচনে অংশগ্রহণ গণতন্ত্রের জন্য বাংলাদেশের মানুষের আকাক্সক্ষাকে প্রতিফলিত করে।
তবে যাই হোক না কেন, নির্বাচনের দিন সহিংসতার জন্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এখন এসব অনিয়মের অভিযোগগুলোর যথাযথ তদন্ত ও যাচাইয়ের মাধ্যমে পূর্ণ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের আশা হচ্ছে গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও মৌলিক স্বাধীনতার প্রতি শ্রদ্ধাশীল বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে। জনগণের স্বার্থে আমরা (ইউরোপীয় ইউনিয়ন) এই পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশকে সমর্থন দিয়ে যাব।
নিরঙ্কুশ বিজয়ে শেখ হাসিনাকে রাশিয়া ও ইরানের অভিনন্দন : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ বিজয়ে দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট ডক্টর হাসান রুহানি। গত ২ জানুয়ারি পুতিন শুভেচ্ছা বার্তা পাঠান বলে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং থেকে জানানো হয়েছে। অন্যদিকে একই দিন ইরানের প্রেসিডেন্ট প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা বার্তা পাঠান বলে ঢাকায় ইরানি দূতাবাসের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়। শুভেচ্ছা বার্তায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানিয়ে প্রেসিডেন্ট রুহানি বলেন, ভোটে সর্বস্তরের জনগণের অংশগ্রহণ এই সাফল্যকে সম্ভবপর করেছে। এতে আপনার নেতৃত্বের প্রতি জনগণের আস্থার প্রকাশ ঘটেছে। ইরান ও বাংলাদেশের মধ্যকার ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক বন্ধনের কথা উল্লেখ করে ড. রুহানি আশা প্রকাশ করেন, মুসলিম বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ ও প্রভাবশালী এ দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আগামী দিনগুলোতে আরও বিস্তৃত হবে। শুভেচ্ছা বার্তায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও জনগণের কল্যাণ সফলতা কামনা করেন ইরানের প্রেসিডেন্ট।
শেখ হাসিনাকে জাপানের অভিনন্দন : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ বিজয়ে শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানিয়েছে জাপান। গত ৫ জানুয়ারি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানান দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রেস সচিব তাকাশি ওসুগা।
ইংরেজি ও জাপানি ভাষায় দেওয়া এ বিবৃতিতে তিনি বলেন, ৩০ ডিসেম্বর বাংলাদেশের একাদশ সংসদ নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল ৩১ ডিসেম্বর ঘোষণা করা হয়েছে। আমরা স্বাগত জানাই যে, বাংলাদেশের সব প্রধান দলের অংশগ্রহণে নির্বাচনে জনগণ তাদের প্রকৃত রায় দিতে পেরেছেন।
স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে জাপান বাংলাদেশের পরীক্ষিত বন্ধু উল্লেখ করে বিবৃতিতে আরও বলা হয়, জাপান আশা করে যে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক চর্চা অব্যাহত রাখবে। আর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নে জাপান তাদের সহযোগিতা চালিয়ে যাবে।
ভোটের দিনে রাজনৈতিক সহিংসতার বিষয়ে জাপান সরকার অবহিত রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয় বিবৃতিতে।
চীনের কমিউনিস্ট পার্টির শুভেচ্ছা : গত ৫ জানুয়ারি কমিউনিস্ট পার্টি অব চায়না (সিপিসি) একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পাওয়ায় আওয়ামী লীগকে অভিনন্দন জানিয়ে চিঠি পাঠিয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়েছে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ বিজয়ে সিপিসি আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাচ্ছে। সিপিসির সঙ্গে আওয়ামী লীগের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক দিক-নির্দেশনা সম্পর্ক চীন-বাংলাদেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। চীন-বাংলাদেশের সম্পর্ক উন্নয়নে সিপিসি সহযোগিতার হাত বাড়াতে সর্বদা প্রস্তুত আছে। যাতে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও আদান-প্রদানের সম্পর্ক প্রসারিত হয়ে চীন-বাংলাদেশের সম্পর্ক আরও অনেক উচ্চতায় যেতে পারে।
স্বাগত জানাল পাকিস্তান : বাংলাদেশের আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারকে স্বাগত জানিয়েছে পাকিস্তান। গত ৩ জানুয়ারি ইসলামাবাদে এক সংবাদ সম্মেলনে বিজয়ী জোটকে স্বাগত জানান দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ড. মুহাম্মদ ফয়সাল। পাশাপাশি বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের বিষয়েও আগ্রহ প্রকাশ করেছে পাকিস্তান।
গত ৩ জানুয়ারি নিয়মিত ব্রিফিংকালে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে পাকিস্তান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ড. মুহম্মদ ফয়সাল বলেন, বাংলাদেশের নতুন নির্বাচিত সরকারকে আমরা স্বাগত জানাই। আমরা আশা করি, নতুন সরকারের সঙ্গে দুদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে। ১৯৭৪ সালের ত্রিপক্ষীয় চুক্তি অনুসারে বাংলাদেশ-পাকিস্তানের সম্পর্ক আমরা সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই।
ডি-৮ মহাসচিবের অভিনন্দন : উন্নয়নশীল-৮ (ডি-৮)-এর মহাসচিব দাতো কু জাফর কু শারি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন।
গত ৪ জানুয়ারি এক অভিনন্দন বার্তায় তিনি বলেন, আমি নিশ্চিত যে, এই ঐতিহাসিক ও বিপুল বিজয় শক্তিশালী, ঐক্যবদ্ধ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশের পথ সুগম করবে। ডি-৮ হলো বাংলাদেশ, মিসর, নাইজেরিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, মালয়েশিয়া, পাকিস্তান ও তুরস্ক এই ৮টি দেশের মধ্যে উন্নয়ন সহযোগিতার জন্য গঠিত সংস্থা।
শারি বলেন, ডি-৮ সচিবালয়ে আমরা একই চেতনা লালন করি এবং এই নির্বাচনের ফল উদযাপনে বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে শামিল হচ্ছি। এই সুনিশ্চিত বিজয় একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে শক্তিশালী অবস্থান ও অধিকতর দৃঢ় ভূমিকা পালনের জন্য বাংলাদেশের জনগণের আকাক্সক্ষার প্রতিফলন। তিনি দৃঢ় আস্থা প্রকাশ করেন যে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ ও দূরদর্শী নেতৃত্বে উন্নয়নের সকল স্তরে বাংলাদেশকে উৎকর্ষতার নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।
সুদানের প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন : সুদানের প্রধানমন্ত্রী মুতাজ মুসা আবদাল্লা একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন। গত ৪ জানুয়ারি এক অভিনন্দন বার্তায় তিনি বলেন, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী পুনর্নির্বাচিত হওয়ায় আপনাকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানাতে আমি অতীব সম্মানিত বোধ করছি।
সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী লী সিয়েন লুং : চতুর্থ মেয়াদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করায় শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানিয়ে একটি বার্তা পাঠিয়েছেন সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী লী সিয়েন লুং। বার্তায় সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, আগামী দিনগুলোতে দুদেশের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও সহযোগিতা আরও জোরদার হবে। লী লুং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাফল্য এবং বাংলাদেশের অব্যাহত শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।
নিকারাগুয়ার প্রেসিডেন্ট দানিয়েল ওর্তেগার অভিনন্দন : নিকারাগুয়ার প্রেসিডেন্ট দানিয়েল ওর্তেগা চতুর্থ মেয়াদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করায় আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানিয়ে একটি বার্তা পাঠিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে পাঠানো অভিনন্দন বার্তায় নিকারাগুয়ার প্রেসিডেন্ট আশা প্রকাশ করেন, আগামী দিনগুলোতে দুদেশের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও সহযোগিতা আরও জোরদার হবে।
মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম মোহামেদ সলিহও-র অভিনন্দন : মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম মোহামেদ সলিহও চতুর্থ মেয়াদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করায় আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানিয়ে একটি বার্তা পাঠিয়েছেন। বার্তায় মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট শেখ হাসিনার সাফল্য এবং বাংলাদেশের অব্যাহত শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।
শেখ হাসিনাকে মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট ও ভিয়েতনামের প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার নেতৃত্বাধীন দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে অভিনন্দন জানিয়েছেন মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট উইন মিন্ট এবং ভিয়েতনামের প্রধানমন্ত্রী নুয়েন জুয়ান ফুক। গত ৯ জানুয়ারি এক অভিনন্দন বার্তায় মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট বলেন, আমি শেখ হাসিনার টানা তৃতীয় মেয়াদে প্রধানমন্ত্রিত্বকালে বাংলাদেশের অব্যাহত অর্থনৈতিক উন্নয়ন, শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য তাকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। এক অভিনন্দন বার্তায় ভিয়েতনামের প্রধানমন্ত্রী নুয়েন জুয়ান ফুক বলেন, আমার দৃঢ় বিশ্বাস আপনার সুযোগ্য নেতৃত্বে দেশ গঠন ও উন্নয়নে বাংলাদেশের জনগণ আরও অনেক কিছু অর্জন করতে পারবে। তিনি বলেন, এ অঞ্চলের উন্নয়ন সহযোগিতা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে দুই দেশের এবং এর জনগণের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ও বহুমুখী সহযোগিতার বিষয়গুলো আরও এগিয়ে নিতে তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে আগ্রহী। তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুস্বাস্থ্য ও সাফল্য কামনা করেন।
ওমানের সুলতান কাবুস বিন সাইদ আল সাইদের অভিনন্দন : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ বিজয়ে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে গত ৭ জানুয়ারি আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন ওমানের সুলতান কাবুস বিন সাইদ আল সাইদ। নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিশাল বিজয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগ এবং দেশের জনগণকে অভিনন্দন জানিয়ে বার্তা পাঠিয়েছেন ওমানের সুলতান।
সুলতান কাবুস তার বার্তায় প্রধানমন্ত্রীর সাফল্য এবং বাংলাদেশের অব্যাহত শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।
শেখ হাসিনাকে ফিজির প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন : জাতীয় নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জয় পাওয়ায় আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন ফিজির প্রধানমন্ত্রী ফ্রাঙ্ক বাইনিমারামা।
শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানালেন শ্রীলংকার প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ বিজয়ের জন্য বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও দলটির সভাপতি শেখ হাসিনাকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন শ্রীলংকার প্রেসিডেন্ট থ্রিমাইসিলা সিরিসেনার ও প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দ্র রাজাপাকসে। গত ১ জানুয়ারি বেলা ১২টা ৪৫ মিনিটে প্রেসিডেন্ট এবং ১টায় শ্রীলংকার প্রধানমন্ত্রী টেলিফোনে জাতীয় নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ জয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফিলিস্তিন প্রেসিডেন্টের অভিনন্দন : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ায় আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন ফিলিস্তিন প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস। গত ৩১ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

শ্রেণী: