২ লাখ কোটি টাকার রেকর্ড এডিপি অনুমোদন

Posted on by 0 comment
PddM

PddMউত্তরণ প্রতিবেদন: আগামী অর্থবছরের (২০১৯-২০) জন্য উন্নয়ন বাজেটে প্রথমবারের মতো রেকর্ড ২ লাখ ২ হাজার ৭২১ কোটি টাকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) অনুমোদন করা হয়েছে। এর আগে এত বেশি এডিপির অনুমোদন দেওয়া হয়নি। সেই হিসাবে এটি রেকর্ড। স্থানীয় সরকার বিভাগকে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দিয়ে আগামী অর্থবছরের এডিপির আকার চলতি অর্থবছরের চেয়ে ১৭ দশমিক ১৮ শতাংশ বেড়েছে। এছাড়া স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা বা কর্পোরেশনের প্রায় ১২ হাজার ৩৯৩ কোটি টাকার এডিপিও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেটে ১ লাখ ৭৩ হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন বাজেট বা এডিপি অনুমোদন করেছিল সরকার। সংস্থার নিজস্ব অর্থায়নসহ এ বরাদ্দের পরিমাণ ছিল ১৮০ হাজার কোটি টাকা। গত ২১ মে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ অনুমোদন দেন এনইসি চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতির কারণ খুঁজতে নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান এমপি। এ সময় উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা সচিব নুরুল আমিন এবং তথ্য ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব সৌরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী।
পরিকল্পনামন্ত্রী জানান, এটি রেকর্ড এডিপি অনুমোদন। এবারই প্রথম ২ লাখ কোটি টাকার ওপরে এডিপি অনুমোদন হলো। অনুমোদিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির ২ লাখ ২ হাজার ৭২১ কোটি টাকার মধ্যে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ৩০ হাজার ৯২১ কোটি টাকা এবং বৈদেশিক উৎস থেকে ৭১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা রয়েছে। আর স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান বা কর্পোরেশনের ১২ হাজার ৩৯৩ কোটি টাকার মধ্যে অভ্যন্তরীণ উৎস ৭ হাজার ৮২ কোটি টাকা এবং বৈদেশিক উৎস ৫ হাজার ৩১০ কোটি টাকা রয়েছে। সুতরাং মোট ১ হাজার ৫৬৪ প্রকল্পের উন্নয়ন সহায়তাসহ এডিপির সর্বমোট আকার দাঁড়িয়েছে প্রায় ২ লাখ ১৫ হাজার ১১৪ কোটি টাকা।
জানা গেছে, বাংলাদেশের উন্নয়ন রূপকল্প-২০২১, সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা, জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যসমূহ (এসডিজি) বিদ্যমান বিভিন্ন নীতিমালার আলোকে অগ্রাধিকার খাতসমূহে পর্যাপ্ত সম্পদ বরাদ্দ প্রদানের মাধ্যমে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি প্রণয়ন করা হয়েছে। এছাড়াও উচ্চতর প্রবৃদ্ধি অর্জন, দারিদ্র্য হ্রাস তথা জনগণের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন ইত্যাদিসহ ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একুশ শতকের উপযোগী একটি উন্নত দেশ করার লক্ষ্য সামনে রেখে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি প্রণয়ন করা হয়। মন্ত্রণালয় জানিয়েছেন, এডিপিতে দারিদ্র্য বিমোচনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পসমূহকে অগ্রাধিকার বিবেচনায় রেখে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির সফল বাস্তবায়ন দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, দারিদ্র্য বিমোচন তথা দেশের সামগ্রিক আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়নে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
এদিকে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে প্রকাশিত দুর্নীতি বিষয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, বিষয়টি নজরে রাখা হয়েছে। বিষয়টি দেখে আমি এক্সসাইটেড। প্রকল্পে তিন টাকার বালিশ তুলতে পাঁচ টাকা হলো কেন? বিষয়টি তদন্ত করতে রূপপুরে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন, পরীবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) টিম পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান।
পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের কেনাকাটায় নিয়ে দুটো তদন্ত চলছে। একটা পাবলিক ওয়ার্কস ডিপার্টমেন্ট (পিডাব্লিউডি) অন্যটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়। আমরাও আইএমইডিকে দিয়ে তদন্ত করাব। রূপপুরে টিম যাবে। এই টিম কি তথ্য দেওয়া তা প্রধানমন্ত্রীকে অবগত করা হবে। এর পরেই আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারব। পরিকল্পনামন্ত্রী আরও বলেন, উন্নয়ন থেমে থাকবে না। দেশের উন্নয়ন চলবে। আমাদের দেশের সকল উন্নয়ন ধরে রাখব।
এডিপি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা প্রসঙ্গে পরিকল্পনামন্ত্রী জানান, চলতি অর্থবছরের মূল এডিপিতে বরাদ্দ রয়েছে ১ লাখ ৭৩ হাজার কোটি টাকা। সে তুলনায় নতুন অর্থবছরের এডিপির আকার বাড়ছে ১৭ দশমিক ১৮ শতাংশ। এছাড়া মাঝপথে এ অর্থবছরের বরাদ্দ কমিয়ে সংশোধিত এডিপিতে ধরা হয় ১ লাখ ৬৭ হাজার কোটি টাকা। সংশোধিত এডিপির তুলনায় নতুন এডিপিতে বরাদ্দ বাড়ছে ২১ দশমিক ৩৯ শতাংশ। নতুন এডিপিতে পদ্মাসেতু ও পদ্মাসেতুতে রেলসংযোগসহ গুরুত্ব বিবেচনায় সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে পরিবহন খাতে। এছাড়া মন্ত্রণালয়ের হিসাবে সর্বোচ্চ ২৯ হাজার ৭৭৬ কোটি টাকা বরাদ্দ পেয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগে।
পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান জানান, চলতি অর্থবছরের ১০ মাসে এডিপি বাস্তবায়ন (জুলাই-থেকে) ৫৪ দশমিক ৯৪ শতাংশ। এ-সময়ে ব্যয় হয়েছিল ৯৭ হাজার ৩০ কোটি টাকা। গত বছরের একই সময়ে বাস্তবায়ন হয়েছে ৫২ দশমিক ৪২ শতাংশ, ওই সময়ে ব্যয় হয়েছিল ৮২ হাজার ৬০৩ কোটি টাকা।
অন্যান্য মন্ত্রণালয় বাড়তি বরাদ্দ চেয়েছে কি এমন প্রশ্নের জবাবে এমএ মান্নান বলেন, অন্য কোনো মন্ত্রণালয় বাড়তি বরাদ্দ চাইলে টাকার কোনো সমস্যা নেই। কোনো মন্ত্রণালয় বাড়তি চাহিদার কথা আমাদের বোঝাতে পারলে বাড়তি বরাদ্দ দেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী আমাদের গবেষণা ও পাটে বিশেষ নজর দিতে বলেছেন। আমরা এই দুটো বিষয়ের উন্নয়নে কাজ করব। কিছু কিছু প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতি দেখা দিয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতির কারণ খুঁজতে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। আগামী অর্থবছরের জন্য খাতভিত্তিক বরাদ্দের সর্বোচ্চ বরাদ্দ ধরা হয়েছে পরিবহন খাতে। এক্ষেত্রে বলা হয়েছে, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, পদ্মাসেতু ও পদ্মাসেতুতে রেল সংযোগ প্রকল্পের গুরুত্ব বিবেচনায় পরিবহন খাতে বরাদ্দ প্রস্তাব করা হয়েছে ৫২ হাজার ৮০৬ কোটি টাকা, যা মোট এডিপির ২৬ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ। এছাড়া, অগ্রাধিকার খাত বিবেচনায় বিদ্যুৎ খাতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বরাদ্দ ধরা হয়েছে ২৬ হাজার ১৭ কোটি ১৩ লাখ টাকা, যা মোট এডিপির ১২ দশমিক ৮৩ শতাংশ। ভৌত পরিকল্পনা, পানি সরবরাহ ও গৃহায়ন খাতে তৃতীয় সর্বোচ্চ বরাদ্দ ধরা হয়েছে ২৪ হাজার ৩২৪ কোটি টাকা, যা মোট এডিপির ১২ শতাংশ।
এছাড়া, পর্যায়ক্রমে অন্যান্য খাতের বরাদ্দ হচ্ছে শিক্ষার প্রসার ও গুণগত মান বৃদ্ধির লক্ষ্যে শিক্ষা ও ধর্ম খাতে চতুর্থ সর্বোচ্চ বরাদ্দ ধরা হয়েছে ২১ হাজার ৩৭৯ কোটি ১২ লাখ টাকা, যা মোট এডিপির ১০ দশমিক ৫৫ শতাংশ। এছাড়া রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণসহ তথ্য ও প্রযুক্তি প্রসারের লক্ষ্যে বিজ্ঞান, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতে পঞ্চম সর্বোচ্চ বরাদ্দ ১৭ হাজার ৫৪১ কোটি ২৬ লাখ টাকা, যা মোট এডিপির ৮ দশমিক ৬৫ শতাংশ। গ্রামীণ অর্থনীতিতে গতিশীলতা আনা ও অধিক কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য পল্লী উন্নয়ন ও পল্লী প্রতিষ্ঠান খাতে ১৫ হাজার ১৫৭ কোটি ৪০ লাখ টাকা বা ৭ দশমিক ৪৮ শতাংশ বরাদ্দ ধরা হয়েছে।
এছাড়াও স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে স্বাস্থ্য, পুষ্টি, জনসংখ্যা ও পরিবার কল্যাণ খাতে ১৩ হাজার ৫৫ কোটি ৪৭ লাখ টাকা বা ৬ দশমিক ৪৪ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনে কৃষি খাতে ৭ হাজার ৬১৬ কোটি টাকা বা ৩ দশমিক ৭৬ শতাংশ বরাদ্দ ধরা হয়েছে। নদী ভাঙন রোধ ও নদীর ব্যবস্থাপনার জন্য পানি সম্পদ খাতে ৫ হাজার ৬৫২ কোটি ৯০ লাখ টাকা বা ২ দশমিক ৭৯ শতাংশ বরাদ্দ ধরা হচ্ছে এবং মানব সম্পদ উন্নয়নসহ দক্ষতা বৃদ্ধিতে গতিশীলতা আনতে জন প্রশাসন খাতে ৫ হাজার ২৪ কোটি টাকা বা ২ দশমিক ৪৮ শতাংশ বরাদ্দ প্রস্তাব করা হয়েছে।
মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মধ্যে সর্বোচ্চ বরাদ্দ পেয়েছে, স্থানীয় সরকার বিভাগ ২৯ হাজার ৭৭৬ কোটি টাকা। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ ২৬ হাজার ১৪ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ ২৫ হাজার ১৬৩ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। এছাড়া, পর্যায়ক্রমে বরাদ্দের ক্ষেত্রে প্রথম ১০ নম্বরে থাকা মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো হচ্ছে, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় ১৫ হাজার ৯০৮ কোটি ৪৭ লাখ টাকা, রেলপথ মন্ত্রণালয় ১২ হাজার ৫৯৮ কোটি ৬৪ লাখ টাকা, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ ৯ হাজার ৯৩৬ কোটি ৮০ লাখ টাকা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ৯ হাজার ২৭০ কোটি টাকা, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বিভাগ ৮ হাজার ৯২৬ কোটি টাকা, সেতু বিভাগ ৮ হাজার ৫৬১ কোটি টাকা এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় ৬ হাজার ২৫৬ কোটি ৬৩ লাখ টাকা খসড়া বরাদ্দ ধরা হয়েছে। নতুন এডিপিতে মোট প্রকল্প সংখ্যা রয়েছে ১ হাজার ৫৬৪টি। এর মধ্যে বিনিয়োগ প্রকল্প রয়েছে ১ হাজার ৩৫৮, কারিগরি সহায়তা প্রকল্প ১১৬, জেডিসিএফ প্রকল্প একটি এবং স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার নিজস্ব প্রকল্প রয়েছে ৮৯টি। অন্যদিকে সমাপ্তর জন্য নির্ধারিত প্রকল্প ধরা হয়েছে ৩৫৫টি। পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপের (পিপিপি) প্রকল্প ৬২। বৈদেশিক সাহায্য প্রাপ্তির সুবিধার্থে বরাদ্দহীন অননুমোদিত নতুন প্রকল্প ২৪২ এবং বরাদ্দহীন অননুমোদিত নতুন প্রকল্প রয়েছে ১ হাজার ৪৫টি। এছাড়া, বরাদ্দসহ অনুমোদিত নতুন প্রকল্প রয়েছে ৪১টি।
এডিপি’র বিভিন্ন প্রকল্প প্রসঙ্গে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, প্রকল্পের নামে অহেতুক ও অতিরিক্ত জমি নেওয়া যাবে না। ফসলি জমিতে হাত দেওয়া যাবে না। যেসব প্রকল্প সমাপ্ত হচ্ছে না, সেগুলো কেন হচ্ছে না প্রধানমন্ত্রী তা খতিয়ে দেখতে বলেছেন। প্রয়োজনে সহায়তা দিয়ে হলেও শেষ করার ব্যবস্থা নিতে বলেছেন।

শ্রেণী:

দেশের জন্য কাজ করায় আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠানে রূপ নিয়েছে

Posted on by 0 comment
PddM

PddMউত্তরণ প্রতিবেদন: আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, পঁচাত্তরের পর এত বড় দায়িত্ব আমাকে নিতে হবে এটা কখনও আমি ভাবিনি, চাইওনি। এটা চিন্তাতেও ছিল না। দেশের জন্য কাজ করতে এবং গণতান্ত্রিক ধারা ফিরিয়ে আনতে দেশে ফিরেছিলাম। এজন্যই দিনের পর দিন সংগ্রাম করেছি। কেননা, গণতান্ত্রিক ধারা ছাড়া দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নতি সম্ভব নয়। বাংলাদেশের মানুষের মর্যাদা ক্ষুণœ হোক, বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ হোক, গত ৩৮ বছরে এমন কোনো কাজ আমি করিনি বা আমার পরিবারের কোনো সদস্য কখনও করেনি। নিজেদের চাওয়া-পাওয়ার জন্য কাজ করিনি, কাজ করেছি দেশের মানুষের জন্য।
গত ১৭ মে ছিল বঙ্গবন্ধু-কন্যা শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস। দিনটিতে সকালে গণভবনে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগ-আপ্লুত কণ্ঠে এসব কথা বলেন। এ-সময় তিনি আরও বলেন, দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে। বাংলাদেশ এখন বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল। উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে হবে। এই দেশটা যেন আবারও স্বাধীনতাবিরোধী ও যুদ্ধাপরাধীদের হাতে না যায়। কেউ যেন দেশের মানুষের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে না পারে। সেদিকে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। তিনি বলেন, স্কুল-জীবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলাম। তারপর কলেজ এবং ইউনিভার্সিটিতে তখনও ছাত্রলীগেরই সদস্য ছিলাম। আমার রাজনীতি ছাত্র-রাজনীতি থেকেই শুরু। তবে কখনও কোনো বড় পোস্টে ছিলাম না, পোস্ট চাইওনি কখনও। আমরা পদ সৃষ্টি করে এবং সবাইকে পদে বসানো এই দায়িত্বটাই পালন করতাম। যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ি তখন বিশ্ববিদ্যালয় কমিটির একজন সদস্য ছিলাম।
তিনি বলেন, ক্ষমতায় থেকে দেশের জন্য কাজ করার কারণেই মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করেছে আওয়ামী লীগ। আর এ-কারণেই শুধু দেশে নয় গোটা উপমহাদেশে আওয়ামী লীগ শুধু একটি রাজনৈতিক দল নয়; বরং একটি প্রতিষ্ঠানে রূপ নিয়েছে। দেশবিরোধীরা পঁচাত্তরের পর স্বাধীনতার চেতনা ব্যাহত করেছে। যারা স্বাধীনতা ও দেশের চেতনায় বিশ্বাস করে না পঁচাত্তর-পরবর্তী সময়ে তারা ক্ষমতায় থাকার কারণে যে আদর্শ নিয়ে এদেশ স্বাধীন হয়েছিল, তা বাস্তবায়ন হয়নি।
বঙ্গবন্ধু-কন্যা বলেন, যারা বারবার চেয়েছে আওয়ামী লীগকে নিশ্চিহ্ন করে দিতে, তারা সফল হয়নি। আওয়ামী লীগ কিন্তু আওয়ামী লীগের মতোই ধীরে ধীরে গড়ে উঠেছে। আজকে বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ এক নম্বর রাজনৈতিক দল। যে দল মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করেছে। সেই আস্থা ও বিশ্বাস আমরা দেখতে পেয়েছি এবারের নির্বাচনে। নারী-পুরুষ থেকে শুরু করে প্রথমবার ভোটার হওয়া তরুণরা সবাই আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়ে তাদের আস্থা, বিশ্বাস ও সমর্থন ব্যক্ত করেছে। এর কারণ হলোÑ আমরা যে ক্ষমতায় থেকে মানুষের জন্য কাজ করেছি, মানুষের জন্য স্নান করেছি, মানুষের ভাগ্য গড়ার জন্য যে কাজগুলো করেছি, সেটা মানুষ উপলব্ধি করতে পেরেছে। এটা ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। যে কোনো রাজনৈতিক নেতার জন্য এটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যে, মানুষের আস্থা-বিশ্বাস অর্জন করা। নইলে ক্ষমতায় থাকলে সাধারণত মানুষের জনপ্রিয়তা হ্রাস পায়।
কিন্তু আমরা ক্ষমতায় এসে মানুষের আস্থা-বিশ্বাস অর্জন করতে পেরেছি বলেই মানুষের ভোট আমরা পেয়েছি। জনপ্রিয়তা ও সমর্থন দুটোই বেড়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের মানুষের মর্যাদা ক্ষুণœ হোক, বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ হোক, গত ৩৮ বছরে এমন কোনো কাজ আমি বা আমার পরিবারের কোনো সদস্য কখনও করিনি। আমরা যতবার ক্ষমতায় এসেছি, মানুষের জন্য কাজ করেছি, তত মানুষের আস্থা-বিশ্বাস অর্জন করতে পেরেছি।
তিনি আরও বলেন, ব্যক্তিগত জীবনে কী পেলাম, না পেলাম সেই চিন্তা করি না। দেশের মানুষের জন্য কতটুকু করতে পারলাম, কতটুকু দিতে পারলাম সেটাই হচ্ছে সবচেয়ে বড় কথা।
টানা ৩৮ বছর দলের সভাপতি থাকা বোধহয় একটু বেশি হয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন বঙ্গবন্ধু-কন্যা শেখ হাসিনা। তখন উপস্থিত নেতাকর্মীরা সমস্বরে ‘না’ বলে ওঠেন। তারা শেখ হাসিনার উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আপনিই সঠিক নেতা, আপনার হাতেই দেশ ও দল নিরাপদ। আপনাকেই এ দায়িত্ব চালিয়ে যেতে হবে।’ জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, আমার মনে হয় আপনাদেরও সময় এসেছে, তাছাড়া বয়সও হয়েছে, এ বিষয়গুলো তো দেখতে হবে।
শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশে যখন ফিরেছিলাম (১৯৮১ সালের ১৭ মে), সেদিন আকাশ মেঘে ঢাকা ছিল। প্রচ- ঝড়-বৃষ্টি হচ্ছিল। ফ্লাইটটি বাংলার মাটি ছুঁয়েছে, ট্রাকে করে আমাদের নিয়ে আসা হচ্ছে। ওই সময় ঝড়-বৃষ্টি উপেক্ষা করে হাজার হাজার মানুষ এসেছিল। এয়ারপোর্ট থেকে সংসদ ভবন পর্যন্ত এত মানুষের ঢল যে এইটুকু পথ আসতে প্রায় ৪ ঘণ্টা সময় লেগে গিয়েছিল।
বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার সেই নির্মম ঘটনার কথা স্মরণ করে শেখ হাসিনা বলেন, মাত্র ১৫ দিন আগে, জুলাই মাসের ৩০ তারিখে ছোট বোন রেহানাকে নিয়ে আমি জার্মানিতে গিয়েছিলাম। রেহানা পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। কলেজে গেলাম। সবাইকে রেখে গিয়েছিলাম, কামাল, জামাল, রাসেল। মাত্র ১৫ দিনের মাথায় শুনলাম, আমাদের কেউ নেই, আমরা নিঃস্ব। আমাদের দেশেও আসতে দেওয়া হলো না। দেশের জন্য কিছু করার তাগিদ থেকেই ফিরে এসেছিলেন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি সিদ্ধান্ত নিলাম দেশে আসব। আমি জানি না কী করব, কোথায় থাকব, কই যাব। অনেক বাধা, অনেক বিপত্তি। তবু সিদ্ধান্ত নিলাম, আমাকে আসতেই হবে।
বঙ্গবন্ধুই রাজনৈতিক আদর্শ ছিলেন উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, রাজনীতির কাজ করে যেতাম আব্বার আদর্শ নিয়ে। তিনি দেশের জন্য কাজ করেছেন। বছরের পর বছর জেল খেটেছেন। আমরা কখনও টানা দুই বছরও আব্বাকে জেলের বাইরে পাইনি। এ নিয়ে আমাদের কোনো হা-হুতাশ ছিল না। আমার মা খুব চিন্তাশীল ছিলেন, তিনি বাসাও দেখতেন, বাইরেও দেখতেন। সাংসারিক কোনো ঝামেলা তিনি আব্বাকে দিতে চাইতেন না। আমাদের দাদা-দাদি, চাচারা পারস্পরিক সহযোগিতা করতেন। কাজেই এমন একটি পরিবেশ থেকে আমরা উঠে এসেছি, যে মাথাতেই ছিল দেশের জন্য কিছু একটা করে যেতে হবে।
দেশে ফেরার পরের প্রতিকূল পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে ফেরার পর থেকেই পদে পদে বাধা। যারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাস করে না, তারাই তখন ক্ষমতায়। ১৯৭৫ থেকে ১৯৮২ সাল পর্যন্ত ১৯টি ক্যু হয়েছিল। এক সামরিক শাসকের মৃত্যুর পর আরেক সামরিক শাসক এলো। আমরা আওয়ামী লীগ কিন্তু গণতন্ত্রের জন্য একটার পর একটা সংগ্রাম করেই গেছি। কারণ আমরা বিশ্বাস করি, গণতান্ত্রিক ধারা আর ব্যবস্থা ছাড়া দেশের উন্নয়ন করা সম্ভব না। পঁচাত্তর-পরবর্তী সময় ছাড়াও ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত হাজার হাজার নেতাকর্মীকে নির্যাতন করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন শেখ হাসিনা। তা সত্ত্বেও দলকে টিকিয়ে রাখতে যারা অবদান রেখেছেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।
শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ ঠিক যেভাবে গড়ে উঠেছিল, ঠিক সেভাবেই আজ বাংলাদেশের এক নম্বর পলিটিক্যাল পার্টি। যেভাবে মানুষের আস্থা, বিশ্বাস আমরা অর্জন করেছি তা আমরা দেখতে পাই এবারের নির্বাচনে। আজ বাংলাদেশ সারাবিশ্বে সম্মানের সঙ্গে দাঁড়িয়ে আছে। মানুষ বলে, বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের রোল মডেল। আমি জানি না, যখনই একটা কাজ সফলভাবে করি, তখন শুধু আমার এটাই মনে হয় যে, নিশ্চয় আমার আব্বা-আম্মা বেহেশত থেকে দেখছেন।
সকালে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ দলটির শীর্ষ নেতারা প্রধানমন্ত্রীকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ নেতারাও প্রধানমন্ত্রীকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা সপরিবারে নিহত হওয়ার পর বেশ কয়েক বছর বিদেশে নির্বাসিত থেকে ১৯৮১ সালের ১৭ মে দেশে ফিরে আসেন বঙ্গবন্ধু-কন্যা শেখ হাসিনা। দেশে ফিরে আসার আগে বিদেশে থাকা অবস্থায় তিনি আওয়ামী লীগের সভানেত্রী হিসেবে নির্বাচিত হন।
এরপর থেকে তিনি টানা ৩৮ বছর বাংলাদেশের প্রাচীনতম রাজনৈতিক সংগঠনের আওয়ামী লীগের সভানেত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। ১৯৯৬ সালের আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর এক টার্ম ও ২০০৯ সালে সরকার গঠনের পর থেকে টানা তিনবার মিলিয়ে বাংলাদেশে ইতিহাসে চার টার্ম প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন শেখ হাসিনা।

শ্রেণী:

উন্নত দেশ হওয়ার স্বপ্ন পূরণে জাপান পাশে থাকবে

Posted on by 0 comment
PddM
PddM

দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

উত্তরণ প্রতিবেদন: বাংলাদেশের উন্নত দেশ হওয়ার স্বপ্ন পূরণে জাপানের সহায়তা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে। গত ২৯ মে রাজধানী টোকিওতে জাপান ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর যৌথ বিবৃতিতে এ বিষয়টি উঠে এসেছে।
বৈঠকের পর শিনজো আবে ও শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে কয়েকটি উন্নয়ন প্রকল্পে অর্থায়নের জন্য জাপানের সঙ্গে আড়াইশ’ কোটি ডলারের উন্নয়ন সহায়তা চুক্তি করেছে বাংলাদেশ সরকার। চুক্তির পর যৌথ বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ’৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে উন্নত দেশের কাতারে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছি আমরা। এ লক্ষ্য পূরণে জাপান আমাদের পাশে থাকবে ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেবে বলে প্রধানমন্ত্রী আবে আমাকে নিশ্চিত করেছেন।
জাপান এককভাবে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় দ্বিপক্ষীয় উন্নয়ন সহযোগী। ’৭২ সাল থেকে জাপানের কাছ থেকে বাংলাদেশ ১ হাজার ১৩০ কোটি ডলারের সহায়তা পেয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় দুটি প্রকল্পের ৩৬ হাজার কোটি টাকার মাতারবাড়ি বিদ্যুৎকেন্দ্র ও বন্দর এবং ২২ হাজার কোটি টাকার মেট্রোরেল প্রকল্পের বেশিরভাগ অর্থই দিচ্ছে জাপান। বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ে জাপানের জন্য ‘বিশেষ জায়গা’ রয়েছে মন্তব্য করে শেখ হাসিনা স্বাধীনতার পর থেকেই জাপানের সহায়তার কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশকে উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন। জাপানের ঐতিহাসিক উন্নয়ন থেকে তিনি প্রভাবিত হয়েছিলেন। ‘স্বাধীনতার ৪৮ বছর পর আমরা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গেই বলতে পারি, সেই কাক্সিক্ষত স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে এখন আমরা সঠিক পথ ধরেই এগিয়ে চলেছি।’
জাপানের সঙ্গে করা আড়াইশ’ কোটি ডলারের উন্নয়ন সহায়তা চুক্তির অর্থে মাতারবাড়ি সমুদ্রবন্দর উন্নয়ন প্রকল্প, ঢাকা ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট (লাইন-১), বিদেশি বিনিয়োগ সহায়ক প্রকল্প (২), জ্বালানি দক্ষতা ও সুরক্ষা সহায়ক প্রকল্প (পর্যায়-২) ও মাতারবাড়ি আল্ট্রাসুপার ক্রিটিক্যাল কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পে (৫) অর্থায়ন করা হবে। শেখ হাসিনা বলেন, এটা নিশ্চিত করে বলতে পারি যে, জাপান সব সময় আমাদের পাশে আছে।
শিনজো আবের সঙ্গে বৈঠকের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদের দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতাকে আরও শক্তিশালী ও সম্প্রসারণ করার বিষয়ে কিছু নতুন ধারণা (আইডিয়া) নিয়ে আলোচনা করেছি। সম্ভাব্য যেসব ক্ষেত্র থেকে দুই দেশই লাভবান হতে পারে, সেগুলো নিয়ে কাজ করার বিষয়ে দুই প্রধানমন্ত্রীই একমত হয়েছেন বলে জানান তিনি। আঞ্চলিক কানেক্টিভিটি বিষয়ে শিনজো আবের সঙ্গে আলোচনার কথা জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আঞ্চলিক সহযোগিতা বাড়াতে ভৌত অবকাঠামো উন্নয়নেও জাপান সহায়তা দেবে বলে শিনজো আবে নিশ্চয়তা দিয়েছেন।
আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার বিষয়টিও দুজনের আলোচনায় স্থান পেয়েছে বলে জানান শেখ হাসিনা।
সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলা এবং পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের মতো বিষয়গুলোতে আন্তর্জাতিক পরিম-লে বাংলাদেশ’ জাপান একে অপরের প্রতি সহযোগিতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আড়াই বিলিয়ন ডলারের উন্নয়ন সহায়তা চুক্তি করায় শিনজো আবেকে ধন্যবাদ জানান তিনি।
বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়টিও উঠে আসার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে আসা ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গাদের মানবিক ও রাজনৈতিক সংকটের বিষয়ে টেকসই ও দ্রুত সমাধানের উপায় খোঁজার বিষয়ে তারা ঐকমত্যে পৌঁছেছেন।

শ্রেণী:

চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরেছেন ওবায়দুল কাদের

Posted on by 0 comment
PddM

PddMউত্তরণ প্রতিবেদন: সিঙ্গাপুরে দুই মাস ১০ দিন চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি। গত ১৫ মে বিকেল ৫টা ৫০ মিনিটে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে তিনি শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। দেশে ফিরে নিজের শারীরিক সুস্থতা ফিরে পাওয়ায় চিকিৎসার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা জানালেন তিনি। জনগণের ভালোবাসায় নতুন জীবন পেয়েছি উল্লেখ করে নতুন উদ্যমে আওয়ামী লীগের পাশে থেকে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন ওবায়দুল কাদের।
এদিকে বিমানবন্দরে প্রিয় নেতাকে স্বাগত জানাতে বিমানবন্দরে জড়ো হয়েছিলেন বিপুলসংখ্যক আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী। বিমানবন্দরে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে ওবায়দুল কাদের বেরিয়ে এলে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে এবং পরে দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরা তাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। এ-সময় বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি আবেগ ভরা কণ্ঠে তার চিকিৎসার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, তাকে (প্রধানমন্ত্রী) বলা হয় মাদার অব হিউম্যানিটি। আমার ওই সময়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পরম মমতা নিয়ে এগিয়ে এসেছেন। তিনি একজন মমতাময়ী মা। তিনি সত্যিই মাদার অব হিউম্যানিটি। তার কাছে আমার ঋণের বোঝা আরও বেড়ে গেল। তার সুস্থতা কামনার জন্য বঙ্গবন্ধুর অপর কন্যা শেখ রেহানার কাছেও অশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ওবায়দুল কাদের। এছাড়াও দলের সব নেতাকর্মীসহ যারা তার খোঁজখবর রেখেছেন, সুস্থতা কামনা করে দোয়া করেছেন, সবার প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা জানান সেতুমন্ত্রী। তিনি বলেন, একজন রাজনীতিবিদের সবচেয়ে বড় অর্জন জনগণের ভালোবাসা। জনগণের ভালোবাসায় আমি নতুন জীবন পেয়েছি।
ওবায়দুল কাদের বলেন, আমার দলের সব নেতাকর্মীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। যারা হাসপাতালে আমার ওই সময়ে ছুটে এসেছিলেন। ওই সময় আমার মধ্যে আমি ছিলাম না, আমি জানতাম না আমার কী হয়েছে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আরও বলেন, সকলের কাছে কৃতজ্ঞতা। জীবনটা আসলেই স্রোতের প্রতিকূলে চলার মতো। এই শিক্ষা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু ও তার কন্যা শেখ হাসিনার কাছ থেকে পেয়েছি। মৃত্যুপথযাত্রী অবস্থায় শুধু শেখ হাসিনা নাম ধরে ডেকেছিলেন এবং সে-সময় আমি তার ডাকেও সাড়া দিয়েছিলাম।
গত ৩ মার্চ সকালে বুকে প্রচ- ব্যথা নিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) ভর্তি হন ওবায়দুল কাদের। উন্নত চিকিৎসার জন্য ৪ মার্চ তাকে সিঙ্গাপুর নেওয়া হয়। ওই রাতেই মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে ডা. ফিলিপ কোহ’র নেতৃত্বে ওবায়দুল কাদেরের চিকিৎসায় একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়। ২০ মার্চ ওই হাসপাতালে তার বাইপাস সার্জারি করেন মেডিকেল বোর্ডের সিনিয়র সদস্য কার্ডিওথোরাসিক সার্জন ডা. সিবাস্টিন কুমার সামি। শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলে গত ২৬ মার্চ ওবায়দুল কাদেরকে হাসপাতালের আইসিইউ থেকে কেবিনে নেওয়া হয়। এক মাস পর হাসপাতাল ছাড়লেও চিকিৎসকরা ‘চেকআপের জন্য’ আরও কিছুদিন তাকে সিঙ্গাপুরে থাকার পরামর্শ দেন। এরপর একটি বাসা ভাড়া করে সিঙ্গাপুরে অবস্থান করেন ওবায়দুল কাদের।

শ্রেণী:

টানা দ্বিতীয় মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি

Posted on by 0 comment
PddM

PddMউত্তরণ প্রতিবেদন: দ্বিতীয় মেয়াদে ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন নরেন্দ্র মোদি। আমন্ত্রিত রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদসহ ৮ হাজার দেশি-বিদেশি অতিথির উপস্থিতিতে গত ৩০ মে সন্ধ্যা ৭টায় নয়াদিল্লিতে রাষ্ট্রপতি ভবনের উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে মোদি ও তার মন্ত্রিসভার সদস্যরা শপথ নেন। বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান ছাড়াও ৮ হাজার অতিথি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দ্বিতীয় মেয়াদের মন্ত্রিসভায় বেশ কিছু নতুন মুখ ঠাঁই পেয়েছেন। নির্বাচনে বিজেপির বিশাল জয়ের পর এ দিন প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যরা শপথ নেন। এর কিছুক্ষণ আগেই নতুন মন্ত্রিসভায় কারা থাকছেন, তার একটি তালিকা অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ে। রাষ্ট্রপতি ভবনে উপস্থিত হওয়ার আগে বিকাল ৫টায় নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরা নরেন্দ্র মোদির বাসভবনে হাজির হন। বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ তাদের মোদির বাসভবনে আমন্ত্রণ জানান। ২৩ মে ভারতের ১৭তম লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোটের বিজয় নিশ্চিত হওয়ার পর দ্বিতীয় মেয়াদে এনডিএ জোট সরকারের মন্ত্রিসভা চূড়ান্ত করতে ২৮ মে দীর্ঘ বৈঠক করেন বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ ও নরেন্দ্র মোদি। শপথ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ, ভারত, মিয়ানমার, শ্রীলংকা, থাইল্যান্ড, নেপাল ও ভুটান সরকারের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।
ভারতের গণমাধ্যম ও বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, আগের সরকারের বেশিরভাগ মন্ত্রী নতুন মেয়াদে নিজ নিজ পদে বহাল থাকবেন। তবে পশ্চিমবঙ্গ থেকে মন্ত্রিসভায় নতুন একজন যোগ দিয়েছেন। এবারের নির্বাচনে বিজেপির অন্যতম সেরা চমক এ রাজ্যেই। একই সঙ্গে বিজেপির নতুন জায়গা করে নেওয়া উড়িষ্যা ও উত্তর-পূর্বের মতো অঞ্চলগুলো থেকে প্রতিনিধি সংযোজন হবে। এছাড়া স্বরাষ্ট্র, প্রতিরক্ষা, পররাষ্ট্র এবং জেটলি সত্যিই না থাকলে অর্থ মন্ত্রণালয়ে রদবদল আসতে যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মন্ত্রিসভার কিছু পরিবর্তন মূলত আনা হবে জোটের কয়েকজনকে জায়গা করে দেওয়ার জন্য; যেমনÑ নিতিশ কুমারের জনতা দল ইউনাইটেড এবং আকেলি দল রয়েছে এ তালিকায়। বিহারে বিজেপির শক্তিশালী মিত্র নিতিশ কুমার ওই রাজ্যে দলটিকে বিরাট বিজয় অর্জন করতে ভূমিকা রাখেন। সেই অধিকারে তিনি মন্ত্রিসভায় দুটো পদ চেয়েছেন।
শপথ গ্রহণকে সামনে রেখে নরেন্দ্র মোদি ৩০ মে সকালে মহাত্মা গান্ধী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারি বাজপেয়ির প্রতি শ্রদ্ধা জানান। নয়াদিল্লি ন্যাশনাল ওয়ার মেমোরিয়ালেও শ্রদ্ধা জানান তিনি।
এবারের শপথ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ আবদুল হামিদসহ প্রতিবেশী দেশের সরকারপ্রধান ও দেশ-বিদেশের বিশিষ্টজনসহ রেকর্ড ৮ হাজার অতিথির যোগ দেন। কংগ্রেসপ্রধান রাহুল গান্ধী, ইউপিএ’র চেয়ারপারসন সোনিয়া গান্ধী এবং নয়াদিল্লির মুখ্যমন্ত্রী আম আদমি পার্টির অরবিন্দ কেজরিওয়ালও শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দেন। প্রথমে থাকার কথা বললেও নির্বাচনী সহিংসতার অভিযোগ এনে শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দেননি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি।

মোদির নতুন মন্ত্রিসভা
নরেন্দ্র মোদি Ñ প্রধানমন্ত্রী, সংস্থাপন, জনস্বার্থ ও অবসর, আণবিক শক্তি দফতর ও মহাকাশ দফতর; প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং; স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ; নীতিন গড়করি সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক মন্ত্রী; ডিভি সদানন্দ গৌড়া সার ও রাসায়নিক; নির্মলা সীতারমন অর্থমন্ত্রী ও কর্পোরেট বিষয়ক মন্ত্রী; রামবিলাস পাসোয়ান ক্রেতা সুরক্ষা, খাদ্য ও গণবণ্টন; নরেন্দ্র সিং তোমর কৃষি ও কৃষক কল্যাণ, গ্রাম উন্নয়ন ও পঞ্চায়েতি রাজ; রবি শঙ্কর প্রসাদ আইন ও বিচার বিষয়ক, যোগাযোগ, ইলেক্ট্রনিক্স ও তথ্য প্রযুক্তি; হারসিমরাত কাউর বাদল খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প; থাওয়ার চাঁদ গেহলত সামাজিক ন্যায়বিচার ও ক্ষমতায়ন; ড. এস জয়শঙ্কর পররাষ্ট্রমন্ত্রী; রমেশ পোখরিয়াল নিশঙ্ক মানবসম্পদ উন্নয়ন বিষয়ক; অর্জুন মুন্ডু আদিবাসী; স্মৃতি ইরানি নারী ও শিশু কল্যাণ ও বস্ত্র, ডা. হর্ষবর্ধন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং ভূ-বিজ্ঞান বিষয়ক; প্রকাশ জাভাদেকর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং তথ্য ও সম্প্রচার; পিযুষ গয়াল শিল্প ও বাণিজ্য এবং রেলমন্ত্রী; ধর্মেন্দ্র প্রধান পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস এবং ইস্পাত; মুখতার আব্বাস নাকভি সংখ্যালঘু; প্রহ্লাদ জোশি পার্লামেন্ট, কয়লা ও খনি; ড. মহেন্দ্র নাথ পান্ডে দক্ষতা উন্নয়ন ও উদ্যোক্তা; অরবিন্দ গুপত সাওয়ান্ত ভারি শিল্প ও সরকারি উদ্যোগ; গিরিরাজ সিং প্রাণিসম্পদ, দুগ্ধ ও মৎস্য; গজেন্দ্র সিং শেখাওয়াত জলবিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন।
প্রতিমন্ত্রীর (স্বতন্ত্র দায়িত্ব) দায়িত্ব পেয়েছেন ৯ জন। শ্রম ও কর্মসংস্থান বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী সন্তোষ কুমার গাংওয়ার; পরিসংখ্যান ও প্রকল্প বাস্তবায়ন ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী রাও ইন্দ্রজিৎ; আয়ুর্বেদ, যোগ ব্যায়াম ও প্রাকৃতিক চিকিৎসা, ইউনানী, সিদ্ধ ও হোমিওপ্যাথি (এওয়াইইউএসএইচ) বিষয়ক এবং প্রতিরক্ষা প্রতিমন্ত্রী শ্রীপদ নায়েক; উত্তর-পূর্ব অঞ্চল উন্নয়ন বিষয়ক, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, সংস্থাপন, জনস্বার্থ ও অবসর, আণবিক শক্তি ও মহাকাশ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ডা. জিতেন্দ্র সিং; যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক এবং সংখ্যালঘু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী কিরণ রিজিজু; সংস্কৃতি ও পর্যটন বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী প্রহ্লাদ সিং প্যাটেল; বিদ্যুৎ, নতুন ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং দক্ষতা উন্নয়ন ও উদ্যোক্তা বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী রাজ কুমার সিং; গৃহায়ন ও শহর বিষয়ক, বেসামরিক বিমান চলাচল, শিল্প ও বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী হারদ্বীপ সিং পুরি এবং জাহাজ চলাচল এবং রাসায়নিক সার বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মনসুখ এল মান্দাভিয়া।
এছাড়া আরও ২৪ জনকে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। দায়িত্বপ্রাপ্তরা হলেনÑ ইস্পাত বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফাগনসিং কুলাস্তে; স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী অশ্বিনী কুমার কুবে; পার্লামেন্ট বিষয়ক ও ভারী শিল্প ও সরকারি প্রকল্প বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী অর্জুন রাম মেঘওয়াল; সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী জেনারেল (অব.) ভি কে সিং; সামাজিক ন্যায়বিচার ও নারীর ক্ষমতায়ন বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী কৃষাণ পাল; ক্রেতা সুরক্ষা, খাদ্য ও গণবণ্টন বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী দানভি রাওসাহেব দাদারাও; স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জি কিষাণ রেড্ডি; কৃষি ও কৃষক কল্যাণ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী পার্শ্বোত্তম রুপালা; সামাজিক ন্যায়বিচার ও নারীর ক্ষমতায়ন বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী রামদাস আদাওয়ালে; গ্রাম উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী নিরঞ্জন জ্যোতি; পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়; প্রাণিসম্পদ, দুগ্ধ ও মৎস্য বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী সঞ্জীব কুমার বালিয়ান; মানবসম্পদ উন্নয়ন, যোগাযোগ, ইলেক্ট্রনিক্স ও তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী ধত্রে সঞ্জয় শ্যামরাও; অর্থ ও কর্পোরেট বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী অনুরাগ সিং ঠাকুর; রেলওয়ে প্রতিমন্ত্রী অঙ্গাদি সুরেশ চান্নাবাসাপ্পা; স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিত্যানন্দ রায়; জলবিদ্যুৎ, সামাজিক ন্যায়বিচার ও ক্ষমতায়ন বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী রত্তন লাল কাটারিয়া; পররাষ্ট্র ও পার্লামেন্ট্রারি অ্যাফেয়ার্স প্রতিমন্ত্রী ভি মুরালিধরন; আদিবাসী বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী রেণুকা সিং সারুতা; বাণিজ্য ও শিল্প প্রতিমন্ত্রী সোম প্রকাশ; খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী রামেশ্বও তেলি; ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প, প্রাণিসম্পদ, দুগ্ধ ও মৎস্য বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী প্রতাপ চন্দ্র সারাঙ্গি; কৃষি ও কৃষক কল্যাণ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী কৈলাশ চৌধুরী এবং মহিলা ও শিশু কল্যাণ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী দেবশ্রী চৌধুরী।

আবদুল হামিদ-নরেন্দ্র মোদি বৈঠক
দুই উদযাপনে অংশীদার হতে চায় ভারত
বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ উদযাপনে অংশীদার হতে চায় ভারত। গত ৩১ মে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সঙ্গে এক বৈঠকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যৌথভাবে ওই আয়োজনে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এ-সময় তিস্তার পানি বণ্টন ও রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও তারা আলোচনা করেন। মোদি বলেছেন, রোহিঙ্গা সমস্যা নিরসনে দিল্লির সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
দিল্লির হায়দরাবাদ হাউসে এই সাক্ষাতে টানা দ্বিতীয় মেয়াদে ভারতের প্রধানমন্ত্রী হওয়ায় মোদিকে অভিনন্দন জানান রাষ্ট্রপতি। বৈঠক শেষে রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব জয়নাল আবেদিন এসব তথ্য জানান। মোদির শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ২৯ মে ভারতে যান রাষ্ট্রপতি হামিদ।
জয়নাল আবেদিন জানান, বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ উদযাপনে দুই দেশ যৌথ উদ্যোগ নিলে তা আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্ব পাবে বলে মত প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় সম্পর্কের উন্নতির ক্ষেত্রেও তা ভূমিকা রাখবে বলে তিনি মনে করেন। ২০২০ সালে বঙ্গবন্ধুর জন্মের শত বছর পূর্ণ হবে। ঠিক পরের বছর ২৬ মার্চ বাংলাদেশ উদযাপন করবে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী।
রাষ্ট্রপতি হামিদ আশা প্রকাশ করেন, ভারতের জনগণ মোদির প্রতি যে আস্থা রেখেছে, সেই প্রত্যাশা তিনি পূরণ করতে পারবেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তরফ থেকেও মোদিকে শুভেচ্ছা জানান রাষ্ট্রপতি। ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে বাংলাদেশ সফরেরও আমন্ত্রণ জানান তিনি। রাষ্ট্রপতি বলেন, পূর্বনির্ধারিত সফরসূচি থাকায় প্রধানমন্ত্রী নিজে আসতে পারেননি। তবে তিনি এবং বাংলাদেশের জনগণ ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানানোর জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন।
শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ায় রাষ্ট্রপতিকে ধন্যবাদ জানিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি তাকে স্পর্শ করেছে। দুই দেশের মধ্যে অমীমাংসিত বিষয়গুলোর দ্রুত সমাধান হয়ে যাবে এবং সেজন্য দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন। দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তির বিষয়টিও এদিন আলোচনায় আসে। বাংলাদেশের জনগণ যে তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তির বিষয়ে গভীরভাবে আগ্রহী, সে-কথা রাষ্ট্রপতি বৈঠকে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, তিস্তা বাংলাদেশের জনগণের লাইফলাইন। রাষ্ট্রপতি আশা প্রকাশ করেন, মোদির নতুন সরকারের অধীনে আগামী পাঁচ বছরে দুই দেশের অমীমাংসিত বিষয়গুলোর সমাধান হবে।
বৈঠকে মোদি বলেন, তিস্তাসহ দুই দেশের অভিন্ন নদীগুলোর পানি বণ্টনের বিষয়টির সমাধান হওয়া উচিত বলে ভারত মনে করে। সেজন্য যৌথ নদী কমিশনকে আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন তিনি। রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, এ সমস্যা শুধু বাংলাদেশের একার নয়, পুরো দক্ষিণ এশিয়ার জন্য নিরাপত্তা হুমকি। এ সমস্যা সমাধানে ভারতের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ ও বিশ্বস্ত বন্ধু হিসেবে ভারত এ সমস্যা সমাধানে মিয়ানমারের ওপর চাপ অব্যাহত রাখবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন। প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, ভারতও মনে করে এটা বাংলাদেশের একার সমস্যা নয়। এর সুষ্ঠু সমাধানের জন্য ভারত সব সময় আন্তর্জাতিক ফোরামে সোচ্চার থাকবে বলে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশ ভারতের সঙ্গে সম্পর্ককে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়। বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের এই সম্পর্ক পারস্পরিক আস্থা, বিশ্বাস ও সহযোগিতার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে গত পাঁচ বছরে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে, বিশেষ করে নিরাপত্তা, জ্বালানি, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, যোগাযোগ ও অবকাঠামো উন্নয়ন, সংস্কৃতি, জনগণের মধ্যে আন্তঃযোগাযোগ, ব্লু ইকোনমিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ‘তাৎপর্যপূর্ণ’ অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন আবদুল হামিদ।

শ্রেণী:

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের বাণিজ্যিক কার্যক্রম উদ্বোধন

Posted on by 0 comment
PM

PMউত্তরণ প্রতিবেদন: গত ১৯ মে দেশের টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে পরীক্ষামূলক সম্প্রচারের মধ্য দিয়ে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের বাণিজ্যিক কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। দেশের বেশির ভাগ টিভি চ্যানেল সম্প্রচারের জন্য বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ এর সঙ্গে চুক্তি করেছে। টিভি চ্যানেলগুলো ঐদিন থেকেই ফ্রিকোয়েন্সি পাবে। চুক্তিতে সরকারি-বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলগুলো তিন মাস ‘ফ্রি ফ্রিকোয়েন্সি’ পাবে। এরপর ফ্রিকোয়েন্সির ভাড়া নির্ধারণ করা হবে। তবে এই ভাড়া কত হবে তা এখন পর্যন্ত নির্ধারণ করেনি স্যাটেলাইট কোম্পানি। ১৯ মে রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে।
অনুষ্ঠানে তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ এমপি প্রধান অতিথি, ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তফা জব্বার, আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক এমপি বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশ কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেডের (বিসিএসসিএল) চেয়ারম্যান ড. শাহজাহান মাহমুদ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।
তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ এমপি বলেন, দেশের প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণের বর্ষপূর্তি ও সেবা বিপণন কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে। ডিজিটাল বাংলাদেশের অপূর্ণতা ছিল, আমাদের একটি স্যাটেলাইট ছিল না, সেটি আমরা পেরেছি। এখন সাশ্রয়ী মূল্যে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের মাধ্যমে টিভি চ্যানেলগুলো সম্প্রচার এবং ব্যাংকগুলো ব্যাংকিং সেবা দিতে পারবে।
মোস্তাফা জব্বার বলেন, স্যাটেলাইটের এখন পর্যন্ত কোনো সমস্যা পাওয়া যায়নি, যেটা আলোচনার বিষয় হতে পারে। আমাদের ছেলেরাই এটি পরিচালনা করছে। বিদেশিদের খুব বেশি দিন প্রয়োজন হবে না। বাংলাদেশের ইঞ্জিনিয়াররাই স্যাটেলাইট পরিচালনা করতে পারবেন। গাজীপুরে প্রায় ১৩ একর জায়গার ওপর ৫ একরজুড়ে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। সেখানে বিদেশি প্রকৌশলীরা কাজ করছেন। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটে ৪০ ট্রান্সপন্ডার রয়েছে, যার ২০টি বাংলাদেশ ব্যবহার করবে। বাকি ২০টি বিদেশি বা প্রতিবেশী দেশের কাছে ভাড়া দেওয়া হবে। উৎক্ষেপণের পরবর্তী এক বছর পর্যন্ত এর তদারক করবে নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান। তবে এখনই বাংলাদেশের ইঞ্জিনিয়ারই এটি পরিচালনায় সক্ষম হচ্ছেন।
১৯ মে বাংলাদেশ কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেডের (বিসিএসসিএল) সঙ্গে যমুনা টিভি, সময় টিভি, দীপ্ত টিভি, বিজয় টিভি, বাংলা টিভি ও মাই টিভি এবং সোনালী ব্যাংক স্যাটেলাইটের সেবা নেওয়ার জন্য সমঝোতা স্মারক সই করেছে। এর আগে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেÑ সময় টিভি, ডিবিসি নিউজ, ইন্ডিপেনডেন্ট টিভি, এনটিভি, একাত্তর টিভি, বিজয় বাংলা ও বৈশাখী টিভি। বাকি টেলিভিশনগুলোও অল্পদিনের মধ্যে চুক্তিবদ্ধ হবে বলে অনুষ্ঠানে বলা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক এমপি বলেন, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের মাধ্যমে টেলিভিশনগুলোর খরচ কমে যাবে তেমনি দুর্গম এলাকাতে ইন্টারনেট সেবা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট বাংলাদেশকে অন্য এক উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

শ্রেণী:

নৌবাহিনীতে যুক্ত হলো নতুন দুটি যুদ্ধজাহাজ

Posted on by 0 comment
PM

PMউত্তরণ প্রতিবেদন: গণচীনে তৈরিকৃত নৌবাহিনীর নতুন দুটি যুদ্ধজাহাজ ‘সংগ্রাম’ ও ‘প্রত্যাশা’ গত ২৭ এপ্রিল চট্টগ্রাম নেভাল জেটিতে এসে পৌঁছেছে। এ-সময় কমান্ডার চট্টগ্রাম নৌ অঞ্চল রিয়ার এডমিরাল আবু আশরাফ প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে জাহাজ দুটিকে স্বাগত জানান। জাহাজ দুটি আগমন উপলক্ষে নেভাল জেটিতে নৌবাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও বিপুলসংখ্যক নাবিক উপস্থিত ছিলেন।
নৌবাহিনীর জন্য নবনির্মিত জাহাজ বানৌজা সংগ্রাম ও বানৌজা প্রত্যাশা-এর প্রতিটির দৈর্ঘ্য ৯০ মিটার এবং প্রস্থ ১১ মিটার। জাহাজ দুটি ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ২৫ নটিক্যাল মাইল বেগে চলতে সক্ষম। শত্রু বিমান, জাহাজ এবং স্থাপনায় আঘাত হানতে সক্ষম জাহাজ দুটি আধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন কামান, ভূমি থেকে আকাশে এবং ভূমি থেকে ভূমিতে ক্ষেপণযোগ্য মিসাইল, অত্যাধুনিক থ্রিডি র‌্যাডার, ফায়ার কন্ট্রোল সিস্টেম, র‌্যাডার জ্যামিং সিস্টেমসহ বিভিন্ন ধরনের যুদ্ধ সরঞ্জামাদিতে সুসজ্জিত। জাহাজ দুটিতে হেলিকপ্টার অবতরণ ও উড্ডয়নের জন্য ডেক ল্যান্ডিংসহ অন্যান্য সুবিধাদি রয়েছে। গভীর সমুদ্রে দীর্ঘ সময়ব্যাপী মোতায়েনযোগ্য এ জাহাজ দুটির মাধ্যমে বিশাল সমুদ্র এলাকায় অবৈধ অনুপ্রবেশ, চোরাচালান ও জলদস্যুতা রোধ, সমুদ্রে উদ্ধার তৎপরতা, সুনীল অর্থনীতির বিভিন্ন কর্মকা- পরিচালনাসহ মৎস্য ও প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষার পাশাপাশি তেল, গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য বরাদ্দকৃত ব্লকসমূহের অধিকতর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
উল্লেখ্য, ফোর্সেস গোল ২০৩০ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বর্তমান সরকার সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়নে বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। তারই অংশ হিসেবে নৌবহরে যুক্ত হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তি ও যুদ্ধ সরঞ্জামে সজ্জিত আধুনিক যুদ্ধজাহাজ, সাবমেরিন, হেলিকপ্টার ও মেরিটাইম পেট্রোল এয়ারক্রাফট। নৌবহরের সক্ষমতা বৃদ্ধির অংশ হিসেবে নৌবাহিনীর জাহাজ ‘সংগ্রাম’ ও ‘প্রত্যাশা’ বাংলাদেশ নৌবাহিনীর বহরে যুক্ত হলো।

পদ্মাসেতুর চেয়েও বড় স্প্যান বসছে পায়রা সেতুতে
পটুয়াখালীর দুমকির লেবুখালীতে নির্মাণাধীন পায়রা সেতুতে বসতে যাচ্ছে পদ্মাসেতুর থেকেও বড় স্প্যান। নান্দনিক এক্সটাডোজ ক্যাবল বক্স গার্ডার সেতুটিতে নদীর মাঝে মূল সেতু হবে ৬৩০ মিটার। এজন্য ২০০ মিটারের দুটি স্প্যান ও দু-পাশে দুটি স্প্যান ১১৫ মিটার করে হবে, যা দেশের সবচেয়ে বড় পদ্মাসেতুর স্প্যানের থেকেও বড়। পটুয়াখালী-বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়কের পায়রা নদীর উপর ‘পায়রা সেতু’ নির্মাণের মধ্য দিয়ে দ্বার উন্মুক্ত হবে সর্বদক্ষিণের অর্থ-বাণিজ্যসহ সার্বিক উন্নয়ন।
জানা যায়, চার-লেন বিশিষ্ট ১ হাজার ৪৭০ মিটার (৪ হাজার ৮২০ ফুট) দৈর্ঘ্যরে ১৯.৭৬ মিটার (৬৪.৮ ফুট) এক্সট্রা বক্স গার্ডার সেতুটির উভয়দিকে ৭ কিলোমিটার জুড়ে নির্মাণ করা হবে অ্যাপ্রোচ সড়ক। ব্রিজটির প্রাক্কলিত নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ১,৪৪৬ কোটি টাকা। এছাড়াও সেতুটি নদীর তলদেশ থেকে ১৮ থেকে ৩০ মিটার উঁচু হবে। ফলে নদীতে নৌযান চলাচলে কোনো অসুবিধা হবে না। সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে আলোকিত হবে সেতুটি। সেতুটি নির্মিত হলে খুলে যাবে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটার সম্ভাবনার দ্বার। যোগাযোগ ব্যবস্থায় সৃষ্টি হবে অভূতপূর্ব উন্নয়ন। ব্যবসা-বাণিজ্যে ঘটবে বৈপ্লবিক পরিবর্তন। গড়ে উঠবে কল-কারখানা ও শিল্পপ্রতিষ্ঠান।

শ্রেণী:

শুল্ক ও কোটামুক্ত প্রবেশাধিকারে ঐকমত্য

Posted on by 0 comment
ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশ সফর
ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশ সফর

ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশ সফর

উত্তরণ প্রতিবেদন: গত ১২ এপ্রিল ভুটানের প্রধানমন্ত্রী তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে বাংলাদেশে আসেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিমানবন্দরে তাকে লাল গালিচা সম্বর্ধনা জানান। ১৩ এপ্রিল দুই প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে অনুষ্ঠিত আনুষ্ঠানিক বৈঠকে বাংলাদেশ ও ভুটান পারস্পরিক স্বার্থে তাদের দেশীয় বাজারে উভয় দেশের বেশ কিছু পণ্যের শুল্ক ও কোটামুক্ত প্রবেশাধিকার নিয়ে কাজ করার বিষয়ে ঐকমত্য প্রকাশ করেছে। ‘বাংলাদেশ এবং ভুটানের মধ্যে গত ১৩ এপ্রিল আনুষ্ঠানিক আলোচনায় ভুটান বাংলাদেশের বাজারে দেশটির ১৬ পণ্যের শুল্ক এবং কোটামুক্ত প্রবেশাধিকার চেয়েছে আর বাংলাদেশ চেয়েছে তাদের বাজারে ১০ বাংলাদেশি পণ্যের শুল্ক ও কোটামুক্ত প্রবেশাধিকার’, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকের পরে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক এ-কথা বলেন। প্রেস সচিব ইহসানুল করিম ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন।
পররাষ্ট্র সচিব বলেন, বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভুটানের ১৬টি পণ্যের বাংলাদেশের বাজারে শুল্ক ও কোটামুক্ত প্রবেশাধিকারের বিষয়টি বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছেন। শহীদুল হক বলেন, আজকের দ্বিপাক্ষিক আলোচনাটি খুবই ইতিবাচক হয়েছে এবং আলোচ্য বিষয়ে দীর্ঘ আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ায় এগুলো কার্যকর হবে বলেও আশা করা যায়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভুটান সফরের সময়ও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছিল বলে পররাষ্ট্র সচিব উল্লেখ করেন। পররাষ্ট্র সচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রী বৈঠকে বলেছেন, বাংলাদেশের ১০টি পণ্যের কোটা ও শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকারের বিষয়টি নিয়ে শিগগিরই আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা মনে করি, দুদেশই এটি কার্যকরের বিষয়ে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে, এখন এটি বাস্তবায়ন পর্যায়ে কাজ করতে হবে।’ পররাষ্ট্র সচিব বলেন, ব্যবসা-বাণিজ্য, যোগাযোগ এবং স্বাস্থ্য খাতের বিষয়ে আলোচনায় প্রাধান্য দেওয়া হয়। ট্রানজিটের বিষয়ে তিনি বলেন, এই অঞ্চলে বাংলাদেশ-ভুটান-ভারত-নেপাল (বিবিআইএন) সড়ক এবং রেল যোগাযোগের বিষয়টি একটি বড় উদ্যোগ। পররাষ্ট্র সচিব বলেন, ‘যদিও সকল দেশই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে তথাপি ভুটানের সংসদে এটি অনুসমর্থিত হয়নি। তবে, ভুটানের নতুন সরকার বলেছে এই উদ্যোগ সংক্রান্ত বিলটি তাদের সিনেটের উচ্চকক্ষে আলোচনার জন্য পুনরুত্থাপিত হবে এবং তারা এটি পাসের বিষয়ে আশাবাদী।’ ভুটানের সংসদে বিলটি অনুমোদিত হলে আলোচ্য ৪টি দেশের মধ্যে যোগাযোগ আরও শক্তিশালী হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। পররাষ্ট্র সচিব বলেন, ঢাকা এবং থিম্পুর মধ্যে বৈঠকের পর স্বাস্থ্য, কৃষি, জাহাজ শিল্প, পর্যটন এবং জনপ্রশাসন প্রশিক্ষণ বিষয়ে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে ৫টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। তিনি বলেন, ঢাকা-থিম্পুর সম্পর্ক ‘গভীর এবং ঐতিহাসিক’ কেননা ১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর ভুটানই সর্বপ্রথম বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি প্রদান করে। ‘যে কোনো সম্পর্কের থেকেই এই সম্পর্ক অনেক বেশি গভীর এবং বছর বছর আমাদের বন্ধন আরও সুদৃঢ় হয়েছে। এই সম্পর্ক ক্রমেই গভীর এবং সম্প্রসারিত হয়েছে’ যোগ করেন তিনি।
শহীদুল হক বলেন, ২০১৭ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভুটান সফরের পর দুদেশের ব্যবসার পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং তখন থেকেই পর্যটন খাতে দুদেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ আরও বেড়েছে। তিনি বলেন, দুদেশের মধ্যকার সম্পর্ক কেবল গভীরই হয়নি বিভিন্ন ক্ষেত্রে যেমন ব্যবসা, বাণিজ্য এবং পর্যটন খাতে এই সম্পর্ক আরও সম্প্রসারিত হয়েছে।
পররাষ্ট্র সচিব বলেন, দুদেশের মধ্যে বৈঠকে আঞ্চলিক বিদ্যুৎ ব্যবসা সংক্রান্ত বিষয়েও আলোচনা হয়েছে, যেহেতু এই বিষয়ে আগে থেকেই আলোচনা চলছে ভুটানে জলবিদ্যুৎ উৎপাদন এবং এটি এই অঞ্চলে বাজারজাতকরণের বিষয়ে। আর বাংলাদেশ এই জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে বিনিয়োগেও আগ্রহী। এই বিষয়ে আলোচনা অনেকদূর এগিয়েছে এবং আমরা আশা করছি, এই বিষয়ে শিগগিরই একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে, বলেন তিনি। পররাষ্ট্র সচিব বলেন, ভুটানে জলবিদ্যুৎ উৎপাদন এবং এই উৎপাদিত বিদ্যুৎ ভারত ও বাংলাদেশে বাজারজাতকরণ শুরু হলে এই তিন দেশের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় সহযোগিতার সৃষ্টি হবে। তিনি বলেন, ভুটান তাদের স্বাস্থ্য খাতে চিকিৎসকের চাহিদা পূরণে বাংলাদেশ থেকে চিকিৎসক নেওয়ার বিষয়েও আগ্রহ দেখিয়েছে। এ-প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবেও এই বিষয়ে খেয়াল রাখবেন, কেননা স্বাস্থ্য খাতে দুদেশের সহযোগিতা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং বাংলাদেশের মেডিকেল কলেজ এবং নার্সিং কলেজে ভুটানের শিক্ষার্থী কোটা ১০ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়েছে। শহীদুল হক বলেন, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের ফার্মাসিউটিক্যালস শিল্পের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। ভুটানের প্রধানমন্ত্রী এ-সময় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বেরও ভূয়সী প্রশংসা করেন বলে তিনি জানান। লোটে শেরিং, যিনি নিজেই একজন চিকিৎসক, তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর কন্যা সায়মা ওয়াজেদ হোসেনের অটিজম খাতে ব্যাপক অবদানেরও প্রশংসা করেন।
ঢাকা-থিম্পু ৫ চুক্তি সই : স্বাস্থ্য, কৃষি, জাহাজ চলাচল, পর্যটন ও জনপ্রশাসন প্রশিক্ষণ বিষয়ে সহযোগিতা জোরদারে ঢাকা ও থিম্পু ৫টি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে। গত ১৩ এপ্রিল সকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে (পিএমও) দুদেশের মধ্যে আনুষ্ঠানিক আলোচনার পরে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সফররত ভুটানের প্রধানমন্ত্রী ডা. লোটে শেরিং চুক্তি স্বাক্ষরের সময় উপস্থিত ছিলেন। দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে পরিবহন এবং ট্রানজিট কার্গো চলাচলে অভ্যন্তরীণ জলপথ ব্যবহারের বিষয়ে দি স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। নৌ পরিবহন সচিব আবদুস সামাদ এবং ভুটানের অর্থ মন্ত্রণালয়ের সচিব দাশো ইয়েসি ভাংদি এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং রাজকীয় ভুটান সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সমঝোতা চুক্তিতে (এমওইউ) স্বাক্ষর করেন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব আসাদুল ইসলাম এবং ভুটানের স্বাস্থ্য সচিব উগানদা দফু। কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বিএআরসি) এবং ভুটানের কৃষি ও বন মন্ত্রণালয়ের অধীন কৃষি বিভাগের মধ্যে সমজোতা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন বিএআরসি’র নির্বাহী পরিচালক কবির ইকরামুল হক ও ঢাকায় ভুটানের রাষ্ট্রদূত সোনম তোপদেন রাবগি। বাংলাদেশ জনপ্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (বিপিএটিসি) এবং ভুটানের রয়্যাল ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্টের (আরআইএম) মধ্যে একটি সমঝোতা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন বিপিএটিসির রেক্টর ড. এম আসলাম আলম এবং ভুটানের রাষ্ট্রদূত সোনম তোপদেন রাবগি। পাশাপাশি, দুদেশের মধ্যে পর্যটন খাতে সহযোগিতা বিষয়ে ভুটানের পর্যটন কাউন্সিল এবং বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন একটি সমঝোতা চুক্তিতে স্বাক্ষর করে। বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান আখতারুজ্জামান খান কবির এবং ভুটানের রাষ্ট্রদূত সোনম তোপদেন রাবগি নিজ নিজ পক্ষে সমঝোতা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

চিকিৎসকদের আগে ভালো মানুষ হতে হবে : ভুটানের প্রধানমন্ত্রী
চিকিৎসকরা মানুষের জীবন নিয়ে কাজ করেন, আর তাই রোগীদের প্রতি মানবিক হতে হবে চিকিৎসকদের। প্রতিটি রোগীর প্রতি মনোযোগী হতে হবে। একজন ভালো চিকিৎসক হতে চাইলে সবার আগে একজন ভালো মানুষ হতে হবে।
ভুটানের প্রধানমন্ত্রী ডা. লোটে শেরিং গত ১৪ এপ্রিল ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবর্ধনা ও চিকিৎসকদের সঙ্গে মতবিনিময় করার সময় এসব কথা বলেন। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের এই সাবেক ছাত্র এবং চিকিৎসক এ-সময় তার অতীত স্মৃতির কথাও বর্ণনা করেন। ডা. লোটে শেরিংয়ের ময়মনসিংহ মেডিকেলে আগমনে সাবেক সহপাঠী, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীসহ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ছিলেন উচ্ছ্বসিত। বাংলা নববর্ষের পহেলা বৈশাখে ডা. লোটে শেরিংকে বরণ করতে মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ব্যাপক আয়োজন ও প্রস্তুতি গ্রহণ করে। নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দেওয়া হয় পুরো কলেজ ও হাসপাতাল ক্যাম্পাসকে।
১৪ এপ্রিল সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে হেলিকপ্টারে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবতরণের পর ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ মিলনায়তনে আয়োজিত সংবর্ধনা সভা ও মতবিনিময়ে যোগ দেন বেলা ১১টায়। প্রায় ১ ঘণ্টা ১৫ মিনিটের বক্তৃতার বেশির ভাগ জুড়ে ছিল ডা. লোটে শেরিংয়ের ময়মনসিংহে অবস্থানকালীন স্মৃতি রোমন্থন। নগরীর বাঘমারা মেডিকেল বিদেশি ছাত্রাবাসের ওয়েস্ট ব্লকের তিন তলা ভবনের ২০ নম্বর কক্ষে থাকতেন ডা. লোটে। হাসপাতালের ৬ নম্বর সার্জারি ওয়ার্ড ও মেডিকেল কলেজের এনাটমি বিভাগে ছিল পদচারণা। বক্তৃতায় উঠে এসেছে স্মৃতিমাখা সেসব দিনের কথা। চিকিৎসক হিসেবে নিজের অভিজ্ঞতা আর উপলব্ধির কথাও তুলে ধরেছেন এ-সময়। বলেছেন চিকিৎসক ও রোগীর মধ্যে সম্পর্ক তৈরির কথা। বাদ যায়নি চিকিৎসক হয়েও ডা. লোটে শেরিংয়ের রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার নেপথ্য কাহিনির কথা। ডা. লোটে বলেন, পেশা ছেড়ে তিনি রাজনীতিতে আসেন নি। তিনি বলেন, গত ২০১৩ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত চাকরি না করে, দেশ না ছেড়ে ভুটানের মানুষের জন্য ভেবেছি, তাদের জন্য কাজ করেছি, চিকিৎসাসেবা দিয়েছি। আজ আমি ভুটানের প্রধানমন্ত্রী। কলেজ মিলনায়তনে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. আনোয়ার হোসেন। এ-সময় ভুটানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. টান্ডি দরজি, স্বাস্থ্যমন্ত্রী লায়োনপু দিহেন ওয়াংমু, ডা. লোটের স্ত্রী ডা. উগেন ডেমা, বাংলাদেশের ত্রাণ ও দুর্যোগ প্রতিমন্তী ডা. এনামুল রহমান, স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিভাগের সচিব জিএম সালেহ উদ্দিন, জেলা প্রশাসক ড. সুভাস চন্দ্র বিশ্বাস, পুলিশ সুপার শাহ আবিদ হোসেন, ময়মনসিংহ মেডিকেলের উপ-পরিচালক ডা. লক্ষ্মী নারায়ণ মজুমদার ও বিএমএ সভাপতি ডা. মতিউর রহমান ভূইয়াসহ মেডিকেল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ, শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ হাসপাতাল ও স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে ডা. লোটে শেরিংকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের ক্রেস্ট তুলে দেওয়া হয়। সংবর্ধনা ও মতবিনিময় সভা শেষে ডা. লোটে শেরিং যোগ দেন মেডিকেল কলেজের ২৮তম ব্যাচের সাবেক সহপাঠীদের সঙ্গে ২ নম্বর গ্যালারিতে। এখানে তিনি সহপাঠীদের সঙ্গে ছবি তোলেন এবং পহেলা বৈশাখে বর্ষবরণের আনন্দ ভাগাভাগিসহ গল্প আর আড্ডায় মেতে ওঠেন। স্মৃতিমাখা ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে মর্ধাহ্নভোজ শেষে ডা. লোটে স্মৃতিবিজড়িত ময়মনসিংহ ছেড়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন।

শ্রেণী:

সুদানের প্রেসিডেন্ট গদিচ্যুত, ক্ষমতায় সেনাবাহিনী

Posted on by 0 comment
PM

PMউত্তরণ প্রতিবেদন: ব্যাপক গণবিক্ষোভের মুখে সুদানের প্রেসিডেন্ট ওমর আল বশিরকে ক্ষমতা থেকে উৎখাত করে তাকে গ্রেফতার করেছে দেশটির সেনাবাহিনী। ইতোমধ্যে অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করেছে সেনাবাহিনী। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতিরক্ষামন্ত্রী গত ১১ এপ্রিল টিভিতে এক ঘোষণায় বলেন, একটি সামরিক কাউন্সিল দুই বছর মেয়াদের এক অন্তর্বর্তী প্রশাসন পরিচালনা করবে এবং তারপর নতুন সংবিধানের আওতায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সেনাবাহিনীর এই পদক্ষেপের মাধ্যমে বশিরের ৩০ বছরের শাসনের অবসান হলো। তাকে গদিচ্যুত করার খবর প্রচারিত হতে-না-হতেই রাজধানী খার্তুমসহ গোটা দেশের রাস্তাঘাটে বাঁধভাঙা উল্লাসে জনতার ঢল নামে। তারা নেচে-গেয়ে নানারকম বাদ্য বাজিয়ে আনন্দ প্রকাশ করে।
গত ডিসেম্বর থেকেই বশিরের বিরুদ্ধে জনতার বিক্ষোভ চলছিল এবং এ-সময় সহিংসতায় বেশ কিছু লোক নিহত হয়েছে। ১৯৮৯ সালে ব্রিগেডিয়ার ওমর আল বশির আরও কিছু ইসলামপন্থি সেনাকর্মকর্তাকে সাথে নিয়ে সুদানের সর্বময় ক্ষমতা দখল করেন। তিনিই হচ্ছেন দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘকাল ক্ষমতায় থাকা প্রেসিডেন্ট। ক্ষমতাসীন হওয়ার পর তাকে উৎখাতের চেষ্টা এর আগেও হয়েছে। তবে তা সফল হয়নি।
এবারের গণবিক্ষোভের অন্যতম কারণ ছিল দেশটির অর্থনৈতিক দুরবস্থা ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি। তবে ধীরে ধীরে তা বশিরের বিরুদ্ধে দুর্বার আন্দোলনে পরিণত হয়। তাকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেনারেল আওয়াদ ইবনে আউফ টিভিতে বলেন, দেশে এক বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল এবং জনগণ গরিব থেকে আরও গরিব হয়ে পড়ছিল। এই বিক্ষোভে যারা প্রাণ হারিয়েছেন তাদের জন্য তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন। এছাড়া এক মাসব্যাপী কারফিউ এবং সব সীমান্ত বন্ধ রাখার কথাও ঘোষণা করা হয়। ৭৫ বছর-বয়স্ক বশিরকে গ্রেফতার করে গোপন স্থানে রাখা হয়েছে। ইতোমধ্যে গোটা রাজধানী খার্তুমে সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সামনে জড়ো হওয়া প্রতিবাদকারীরা ‘সরকারের পতন হয়েছে, আমরা জিতেছি’ বলে সেøাগান দিচ্ছে।
এদিকে, একাধিক মার্কিন গণমাধ্যমের খবরে বলা হচ্ছে, খার্তুমের বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ সামরিক অভ্যুত্থানে খুশি হয়নি। তাদের আশঙ্কা, অভ্যুত্থানের কারণে এই আন্দোলনের সুফল সাধারণ জনগণ পাবে না। গ্রুপটি অন্তর্বর্তী সামরিক সরকার প্রতিষ্ঠার এই ঘোষণা প্রত্যাখ্যান করছে। কারণ তারা বেসামরিক লোকদের দিয়ে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার চায়, সামরিক বাহিনীর লোকদের দিয়ে নয়। দাবি না আদায় হওয়া পর্যন্ত তারা রাজপথে থাকার ঘোষণা দিয়েছে।

শ্রেণী:

বিনিয়োগের জন্য প্রস্তুত ১০ অর্থনৈতিক অঞ্চল

Posted on by 0 comment
PM

PMউত্তরণ প্রতিবেদন: ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধির মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে দেশের অর্থনীতি। অর্থনৈতিক এ উন্নয়নকে ত্বরান্বিত ও টেকসই করতে ২০৩০ সালের মধ্যে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করে পণ্য রপ্তানি বাবদ অতিরিক্ত ৪ হাজার কোটি ডলার আয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। এ লক্ষ্য অর্জনে কাজ করে যাচ্ছে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বেজা)। এরই মধ্যে বিনিয়োগের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে ১০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল।
বেজার হালনাগাদ প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, এখন পর্যন্ত ১০টি অর্থনৈতিক অঞ্চলের উন্নয়নকাজ সমাপ্ত হয়েছে। বিনিয়োগের জন্য প্রস্তুত এসব অর্থনৈতিক অঞ্চলের মধ্যে রয়েছেÑ বাগেরহাটে মোংলা অর্থনৈতিক অঞ্চল, মৌলভীবাজারে শ্রীহট্ট অর্থনৈতিক অঞ্চল, নারায়ণগঞ্জে মেঘনা অর্থনৈতিক অঞ্চল, মেঘনা ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইকোনমিক জোন, আমান অর্থনৈতিক অঞ্চল ও সিটি অর্থনৈতিক অঞ্চল, মুন্সিগঞ্জে আব্দুল মোনেম অর্থনৈতিক অঞ্চল, গাজীপুরে বে অর্থনৈতিক অঞ্চল, চট্টগ্রামে কর্ণফুলী ড্রাই ডক ইকোনমিক জোন এবং কিশোরগঞ্জে কিশোরগঞ্জ অর্থনৈতিক অঞ্চল।
বেজার প্রতিবেদনে ১০টির কথা বলা হলেও বেজা নির্বাহী চেয়ারম্যান পবন চৌধুরীর দাবি, ১০টি নয়; বরং মোট ১৪টি অর্থনৈতিক অঞ্চল এখন বিনিয়োগের জন্য প্রস্তুত। তিনি বলেন, হালনাগাদ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা ১০টি অর্থনৈতিক অঞ্চলের বেশির ভাগই বেসরকারি খাতের। এগুলো বাদে মোংলায় শিল্প হচ্ছে, মিরসরাইতে শিল্প হচ্ছে। বিনিয়োগের জন্য প্রস্তুত আছে মৌলভীবাজার এবং ফেনীও। সব মিলিয়ে ১৪টি অঞ্চল বিনিয়োগের জন্য প্রস্তুত। বেজা এ-মুহূর্তে ২৮টি অর্থনৈতিক অঞ্চল নিয়ে কাজ করছে বলেও জানান তিনি।
বাগেরহাটের মোংলা উপজেলায় মোংলা সমুদ্রবন্দর ও মোংলা ইপিজেডের পাশে ২০৫ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে মোংলা অর্থনৈতিক অঞ্চল। অর্থনৈতিক অঞ্চলটির উন্নয়ন ও পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে সিকদার গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান পাওয়ার প্যাক ইকোনমিক জোন প্রাইভেট লিমিটেড। এ অর্থনৈতিক অঞ্চলে এরই মধ্যে প্রায় ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে সংযোগ সড়ক, ব্রিজ, সুপেয় পানি সরবরাহ লাইন, বিদ্যুৎ সাব-স্টেশন ও প্রশাসনিক ভবন নির্মাণকাজ সম্পন্ন করেছে বেজা। এর অভ্যন্তরে সীমিত আকারে সংযোগ সড়ক নির্মাণের কাজ শুরু করেছে দায়িত্বপ্রাপ্ত ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান। তবে শিল্প-কারখানা স্থাপন শুরু হয়নি এখনও।
বিনিয়োগের জন্য প্রস্তুত আরেকটি অর্থনৈতিক অঞ্চল হচ্ছে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার শেরপুরে ৩৫২ একর জমির ওপর অবস্থিত শ্রীহট্ট অর্থনৈতিক অঞ্চল, যার পূর্বে সিলেট, পশ্চিমে হবিগঞ্জ, উত্তরে সুনামগঞ্জ ও দক্ষিণে মৌলভীবাজার জেলা। এ অর্থনৈতিক অঞ্চলে ৬টি শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে ২৩১ একর জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলো সেখানে প্রায় ১ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করার পরিকল্পনা নিয়েছে।
মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ায় ১৪২ একর জমিতে গড়ে তোলা হয়েছে বেসরকারি খাতের আরেক অর্থনৈতিক অঞ্চল আব্দুল মোনেম ইকোনমিক জোন। ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে চূড়ান্ত লাইসেন্স পাওয়া এ অর্থনৈতিক অঞ্চলে ১০ কোটি ২০ লাখ ৩০ হাজার মার্কিন ডলার বিনিয়োগ হচ্ছে।
আব্দুল মোনেম ইকোনমিক জোনে বিনিয়োগের মাধ্যমে এরই মধ্যে উৎপাদন শুরু করেছে হোন্ডা মোটরস। প্রতিষ্ঠানটির হেড অব ফিন্যান্স কমার্শিয়াল শাহ মোহাম্মদ আশেকুর রহমান বলেন, আমাদের বিনিয়োগ প্রকল্প বেজার সহযোগিতায় সুন্দর পরিবেশে এগিয়ে যাচ্ছে। বিদ্যুৎ আছে, গ্যাসের জন্যও আবেদন করা আছে। দ্রুতই সংযোগ পাব বলে আশা করছি। গ্যাস-বিদ্যুৎসেবা দ্রুত নিশ্চিত করতে পারলে এ অঞ্চলে বিনিয়োগ আরও বাড়বে।
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার মেঘনাঘাটে ৬৮ একর জমিতে গড়ে উঠেছে মেঘনা ইকোনমিক জোন। যদিও এর জন্য ২৪৫ একর জমি প্রস্তাব করা হয়েছিল। এই অর্থনৈতিক অঞ্চলে এ পর্যন্ত বিনিয়োগ হয়েছে ৯৩ কোটি ৭৬ লাখ ১০ হাজার মার্কিন ডলার। অনুমোদিত শিল্প ইউনিট রয়েছে ১০টি। এরই মধ্যে পেপার অ্যান্ড পাল্প ইন্ডাস্ট্রিজ, কেমিক্যাল প্লান্ট, ডাল ও আটা মিল স্থাপন করা হয়েছে সেখানে।
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয় মেঘনা গ্রুপের প্রতিষ্ঠা করা আরেকটি অর্থনৈতিক অঞ্চল হচ্ছে মেঘনা ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইকোনমিক জোন। প্রায় ৭৬ একর জমিতে গড়ে ওঠা এই অঞ্চলে এ পর্যন্ত ২৯ কোটি ৯০ লাখ ডলার বিনিয়োগ হয়েছে। এখানে প্রায় ৭ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে। এরই মধ্যে বেভারেজ, ইস্পাত কারখানা, সিমেন্ট পেপার ব্যাগ উৎপাদন শুরু হয়েছে এই অর্থনৈতিক অঞ্চলে।
‘বে গ্রুপ’-এর সহযোগী প্রতিষ্ঠান ‘বে ইকোনমিক জোন লিমিটেড’। মোট ৬৫ একর জমিতে গড়ে ওঠা অর্থনৈতিক অঞ্চলটি গাজীপুর-চন্দ্রা মহাসড়কের পাশে গাজীপুর সদর উপজেলায় অবস্থিত। ২০১৭ সালের এপ্রিলে চূড়ান্ত লাইসেন্স পায় এটি। উন্নয়ন ব্যয়সহ এই অঞ্চলে বিনিয়োগের পরিমাণ ৮ কোটি ৮৮ লাখ ৬০ হাজার ডলার। এই অর্থনৈতিক অঞ্চলে চীনের সরাসরি বিনিয়োগে স্থাপিত হয়েছে খেলনাপণ্য তৈরির কারখানা ‘মেইগো বাংলাদেশ লিমিটেড’। এই কারখানার উৎপাদিত পণ্য এখন রপ্তানি হচ্ছে বিদেশে।
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার বৈদ্যেরবাজার এলাকায় ৮৩ একর জমির ওপর গড়ে উঠেছে আমান ইকোনমিক জোন। উন্নয়ন ব্যয়সহ এই অঞ্চলে এ পর্যন্ত ৩২ কোটি ৬৪ লাখ ২০ হাজার ডলার বিনিয়োগ হয়েছে। সেখানে স্থাপিত শিল্প-কারখানার মধ্যে আছে সিমেন্ট কারখানা, প্যাকেজিং এবং শিপ বিল্ডিং।
আমান গ্রুপের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বলেন, এরই মধ্যে শিল্প স্থাপন শুরু হয়েছে আমাদের অর্থনৈতিক অঞ্চলে। এখন সিমেন্ট, প্যাকেজিং ও শিপ বিল্ডিংয়ের পাশাপাশি খাদ্য প্রক্রিয়াজাতের প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ চলমান রয়েছে। গ্যাসের আবেদন করেছি, আশা করছি দ্রুত সংযোগ স্থাপন হবে। গ্যাস পাওয়া গেলে আরও অনেক বিনিয়োগ প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ শুরু করা যাবে। অনেক প্রকল্প নিয়ে আলোচনা চলছে।
সিটি গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান সিটি ইকোনমিক জোন লিমিটেড। ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক থেকে মাত্র ২ কিলোমিটার দূরে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলায় শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে ৮১ দশমিক ৮৮ একর জমির ওপর এটি অবস্থিত। এই অর্থনৈতিক অঞ্চলে এ পর্যন্ত বিনিয়োগ হয়েছে ৬৭ কোটি ৫০ হাজার ডলার।
জাহাজ নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণ খাতে দেশের সর্বপ্রথম বিশেষায়িত অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্ণফুলী ড্রাই ডক স্পেশাল ইকোনমিক জোন (এসইজেড) লিমিটেড। গত ফেব্রুয়ারিতে চূড়ান্ত লাইসেন্স পেয়েছে এটি। চট্টগ্রামের আনোয়ারায় গড়ে তোলা হচ্ছে প্রায় ১ লাখ ডেডওয়েট টনেজ (ডিডব্লিউটি) ক্ষমতাসম্পন্ন এই ড্রাই ডক ইকোনমিক জোন। প্রকল্পটিতে সমুদ্রগামী জাহাজ মেরামত ও নির্মাণ শিল্পের বিকাশসহ বৈদেশিক বিনিয়োগের বিশাল ক্ষেত্র তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এটি বাস্তবায়িত হলে বছরে প্রায় ১২ কোটি ডলার সমমূল্যের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব হবে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিনিয়োগের জন্য প্রস্তুত বলা হলেও বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু হওয়া অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোয় ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন দুর্বলতা এখনও কাটেনি। ক্ষেত্রবিশেষে বিদ্যুৎ সংযোগ পাওয়া গেলেও তা নিরবচ্ছিন্ন হয়নি। গ্যাস প্রাপ্যতা এখনও নিশ্চিত হয়নি অনেক অঞ্চলে। বেসরকারি খাতের যে অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলো গড়ে উঠেছে, তার মধ্যে আছে পুরনো শিল্প এলাকা থেকে রূপান্তর হওয়া অর্থনৈতিক অঞ্চল। সরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে এখনও শিল্প স্থাপন হয়নি।
এ বিষয়ে পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর বলেন, বিনিয়োগের জন্য প্রকৃত অর্থেই প্রস্তুত অর্থাৎ যেখানে গ্যাস, বিদ্যুৎসহ সব ধরনের সুবিধা সবচেয়ে দ্রুত নিশ্চিত করা যাবে, এমন অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করতে হবে। এ-রকম ৩টি অর্থনৈতিক অঞ্চলও যদি পুরোপুরি সক্রিয় করা যায়, তাহলে আরও বিনিয়োগ আকর্ষণ করা সম্ভব হবে। এ ধারাবাহিকতায় দ্রুতই ১০০টি অঞ্চল স্থাপনের লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে।

শ্রেণী: