মাদক গডফাদারের মৃত্যুদণ্ডের বিধান

উত্তরণ প্রতিবেদনঃ মাদক নির্মূলে কঠোর আইন পাস করেছে জাতীয় সংসদ। ইয়াবা (অ্যামফিটামিন), কোকেন, হেরোইন পরিবহন, কেনাবেচা, ব্যবসা, সংরক্ষণ, উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, হস্তান্তর, সরবরাহ ইত্যাদি অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ মৃত্যুদ- বা যাবজ্জীবনের বিধান রেখে সংসদে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ বিল-২০১৮ পাস হয়েছে।
পাসকৃত বিলে মাদক বহনের পরিমাণ অনুযায়ী সাজা কম-বেশির বিধান রাখা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এই আইনের অধীন অপরাধ সংঘটনে অর্থ বিনিয়োগ, সরবরাহ, মদদ ও পৃষ্ঠপোষকতা দিলেও একই ধরনের শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে গত ২৭ অক্টোবর জাতীয় সংসদ অধিবেশনে বিলটি পাসের প্রস্তাব করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আছাদুজ্জামান খান কামাল এমপি। পরে বিলটি কণ্ঠভোটে পাস হয়। পাসকৃত বিলে কোকেন, কোকো মাদক চাষাবাদ, উৎপাদন বা প্রক্রিয়াজাতকরণের ক্ষেত্রে ২৫ গ্রামের বেশি হলে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদ- বা যাবজ্জীবন দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। আর ২৫ গ্রামের নিচে হলে কমপক্ষে দুই বছর ও সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদ-ের বিধান আছে। এছাড়া ইয়াবা বহনের ক্ষেত্রে অ্যামফিটামিনের পরিমাণ ২০০ গ্রামের বেশি হলে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদ- অথবা যাবজ্জীবন কারাদ- এবং অর্থদ-ের বিধান রাখা হয়েছে। তবে ১০০ গ্রাম বা মিলিলিটার হলে সর্বনিম্ন পাঁচ বছর এবং সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদ-ের বিধান রাখা হয়েছে।
বিলে কেউ যদি সজ্ঞানে কোনো মাদকদ্রব্য অপরাধ সংঘটনের জন্য তার মালিকানাধীন অথবা দখলি কোনো বাড়িঘর, জায়গাজমি, যানবাহন, যন্ত্রপাতি অথবা সাজসরঞ্জাম কিংবা অর্থ-সম্পদ ব্যবহারের অনুমতি দেন তাহলে সেটা অপরাধ বলে গণ্য হবে। এই অপরাধের শাস্তি সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদ-। লাইসেন্সপ্রাপ্ত না এমন কোনো ব্যক্তির কাছে অথবা তার জায়গায় যদি মাদকদ্রব্য উৎপাদনে ব্যবহারযোগ্য কোনো যন্ত্রপাতি, ওয়াশ অথবা অন্যান্য উপকরণ পাওয়া যায় সেটাও অপরাধ বলে গণ্য হবে। এর শাস্তি ন্যূনতম দুই বছরের কারাদ-, সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদ-।

শ্রেণী:

আবারও নৌকায় ভোট দিন

11-6-2018 5-59-02 PM
11-6-2018 5-59-02 PM

সংসদে সমাপনী ভাষণে দেশবাসীর প্রতি প্রধানমন্ত্রীর উদাত্ত আহ্বান

উত্তরণ প্রতিবেদন: প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা দেশবাসীর কাছে নৌকা মার্কায় ভোট দেয়ার উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, দেশের অদম্য অগ্রযাত্রা শুরু হয়েছে। সারাদেশে যে উন্নয়নের ছোঁয়া বাংলাদেশ পেয়েছে, তাতে আমি বিশ্বাস করিÑ বাংলাদেশের মানুষ নিশ্চয় আবারও নৌকায় ভোট দিয়ে দেশের উন্নয়ন-অগ্রযাত্রার ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখবে। জনগণের কাছে আমার আবেদন, আমরা যে মেগা প্রজেক্ট (প্রকল্প) গ্রহণ করেছি, তা সমাপ্ত করার জন্য আমাদের আরও কিছু সময় প্রয়োজন। আর সেই সুযোগটি দিতে পারে একমাত্র দেশের জনগণ। আমি বিশ্বাস করি, দেশের মানুষ নিশ্চয়ই সেই সুযোগ আমাদের করে দেবেন। বাংলাদেশের মানুষ সেই সুযোগটি যদি দেয়, ২০২১ সালের মধ্যে দেশকে ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত করার যে কাজে আমরা হাত দিয়েছি, সেটা অবশ্যই বাস্তবায়ন করতে পারব।
দেশবাসীর প্রতি আবেদন জানিয়ে তিনি বলেন, আপনারা আরেকবার নৌকায় ভোট দিন, আরেক দেশ সেবার সুযোগ দিনÑ ইনশাল্লাহ এই বাংলাদেশ আর পিছিয়ে থাকবে না। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে অদম্য গতিতে, এই অগ্রগতি অব্যাহত থাকবে। বাংলাদেশের মানুষকে আর কেউ দাবায়ে রাখতে পারবে না। দেশের জনগণ আমাদের ভোট দিয়েছে, আমরা তাদের মর্যাদা রক্ষা করেছি। দেশের জনগণ আমাদের আবারও দেশ সেবার সুযোগ দিলে অবশ্যই দেশকে আমরা ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ গড়ে তুলব। যতক্ষণ দেহে প্রাণ আছে, ততক্ষণ দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনের জন্য কাজ করে যাব।
স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে গত ২৯ অক্টোবর সংসদের সমাপনী বক্তব্যে অংশ নিয়ে তিনি এ আহ্বান জানান। সমাপনী অধিবেশনে সরকার ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের উপস্থিতিতে কানায় কানায় পরিপূর্ণ ছিল। সমাপনী অধিবেশনে বিরোধী দলের নেতাও সমাপনী বক্তব্য রাখেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, যে কাজ আমরা হাতে নিয়েছি, ২০২১ সালের মধ্যে ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত উন্নত দেশে পরিণত করা। সেই কাজ আমরা করে যাচ্ছি। বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের স্বীকৃতি পেয়েছে। এই উন্নয়ন-অগ্রগতি ও বিশ্ব স্বীকৃতি ধরে রাখতে দরকার সরকারের ধারাবাহিকতা।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমার জীবনে কোনো চাওয়া-পাওয়া নেই। আমার বেঁচে থাকাটাই একটা দুর্ঘটনা। আমার ওপর বারবার আঘাত এসেছে। গুলি, বোমা, গ্রেনেড হামলা হয়েছে। আমি জানি যে কোনো সময় আমি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়তে পারি। এটা জেনেই আমি মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন ও কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছি। যতক্ষণ দেহে প্রাণ আছে, ততক্ষণ দেশের জন্য, মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনে কাজ করে যাব। মানুষকে সুন্দর জীবন দেব, সেজন্য দিনরাত কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছি। দিনরাত এত পরিশ্রম কার স্বার্থে, কার জন্য? আমার নিজের কোনো স্বার্থ নেই, জনগণের স্বার্থে-কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছি। তাই দেশবাসীর প্রতি আমার আবেদন, আবার নৌকায় ভোট দিয়ে দেশ সেবার সুযোগ দিন, বাংলাদেশ অদম্য গতিতে এগিয়ে যাবে। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবেই। বাংলাদেশকে কেউ দাবায়ে রাখতে পারবে না। বিশ্বে বাংলাদেশ যে সম্মান বইয়ে এনেছে, তা ধরে রাখতে হবে। লাখো শহিদের রক্ত আমরা বৃথা যেতে দেব না।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, যদি কোনো যুদ্ধ-বিগ্রহ না হয়, এটাই হচ্ছে সংসদের শেষ অধিবেশন। বঙ্গবন্ধু দেশকে স্বাধীন করেছিলেন একটি লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে। তা হচ্ছে দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন, উন্নত জীবন দেয়া। বাবা-মা, ভাইসহ পরিবারের ১৮ জনকে হারিয়ে আমাকে ছয় বছর রিফিউজি জীবন কাটাতে হয়েছে। শত বাধা সত্ত্বেও দেশের মানুষ ও দলের সাহায্যে ১৯৮১ সালে দেশে ফিরে আসি। দেশের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং বাবার স্বপ্ন ক্ষুধা দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি।
শত বাধার মুখেও ২০১৪ সালে নির্বাচনে ভোট দেয়ার জন্য জনগণের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, আমরা মানুষের দিনবদলের সনদ বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছি, মানুষের জীবন-মানের উন্নয়ন হয়েছে। বাজেট ৭ গুণ বৃদ্ধি করেছি। নিজস্ব অর্থায়নেই আমরা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি। উন্নয়ন প্রকল্পও ৯০ ভাগই নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়ন করছি, কারও কাছে হাত পাততে হয় না। সেই আত্মমর্যাদা আমাদের গড়ে উঠেছে। নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মাসেতু নির্মাণ করছি। সেটি এখন দৃশ্যমান।
বঙ্গবন্ধুর উদ্ধৃতি দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতা পাওয়া যেমন কষ্টকর, তা রক্ষা করা আরও কষ্টকর। পাওয়া যত কষ্টকর, তা ধরে রাখা আরও কষ্টকর। দেশকে আমরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছি। স্বাধীনতার মূলমন্ত্রে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। বঙ্গবন্ধুর পদাঙ্ক অনুসরণ করে, কঠোর পরিশ্রম ও সৎ পথে দেশকে উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছি। সেই পরিশ্রমের ফসল দেশের জনগণ এখন ভোগ করছে। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন পূরণ করাই আমরা একমাত্র কর্তব্য।
বিরোধী দলের দাবির জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সারাদেশে প্রাণচাঞ্চল্য ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয় সেজন্য ব্যাংক, বীমা, বেসরকারি টেলিভিশনসহ সবকিছু বেসরকারি খাতে ছেড়ে দিয়েছি। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তুলেছি। আমাদের তরুণ প্রজন্ম তাদের ভবিষ্যৎ কী হবে, জীবনমান কেমন হবে? কেমন বাংলাদেশ রেখে যেতে চাই, সেটাই একমাত্র চিন্তা। টানা ১০ বছরে আমাদের শাসনমালে তরুণ প্রজন্মের সুন্দর জীবন দিতে প্রতিটি পদক্ষেপ নিয়েছি। আজকে আমরা নিজস্ব বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করেছি। ১৬ কোটি মানুষের মধ্যে ১৫ কোটি সিম ব্যবহার হচ্ছে। এত সিম ব্যবহার পৃথিবীর কোনো দেশে নেই।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের জনগণ আমাদের ভোট দিয়েছে, আমরা তাদের মর্যাদা রক্ষা করেছি। ২০২১ সালের মধ্যে সুনির্দিষ্ট টার্গেট করেছি শুধু আইসিটি খাত থেকেই ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করব। ইন্টারনেট ব্যবহারে বিশ্বব্যাংকের মধ্যে বাংলাদেশ হচ্ছে এখন দ্বিতীয়। ৬ লাখেরও বেশি দেশের তরুণ-তরুণী দেশে ঘরে বসেই আউটসোর্সিয়ের মাধ্যমে বিদেশ থেকে অর্থ উপার্জন করছে। মোবাইল ব্যাংকিংও যথেষ্ট জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। মোবাইল ব্যাংকে প্রতিদিন ১ হাজার কোটি টাকা লেনদেন হচ্ছে, এটাই হচ্ছে ডিজিটাল বাংলাদেশ। কোরবানির গরুও এখন অনলাইনে বিক্রি হয়। সাড়ে ৭ হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ডিজিটাল ল্যাব গড়ে তুলেছি। কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে আইটি খাতে বিরাট সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে আমাদের তরুণ প্রজন্মের জন্য। ২০২১ সাল নাগাদ ১ হাজার ১৮৭টি ই-সেবা চালু করা হবে। সাইবার ঝুঁকি থেকে দেশকে রক্ষায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন পাস করেছি। যারা শুধু ক্রাইম করবে তাদের ক্ষেত্রে ব্যবহার হবে, অন্যদের চিন্তা করার কোনো কারণ নেই।
সংসদ নেতা বলেন, স্বল্পোন্নত দেশ থেকে বাংলাদেশ আজ উন্নয়নশীল দেশ। এই অর্জন আমাদের ধরে রাখতে হবে। ২০২৪ সালের মধ্যে উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা ধরে রাখতে পারি, তবে বিশ্ব স্বীকৃতি পাবে। সেজন্য প্রয়োজনীয় সরকারের ধারাবাহিকতা একান্তভাবে প্রয়োজন। যুক্তরাষ্ট্রে দারিদ্র্যের সংখ্যা ১৮ ভাগ। আমরা তার থেকেই কমে নিয়ে আসব। জনগণ ভোট দিলে আমরা দেশকে দারিদ্র্যমুক্ত করে গড়ে তুলব। ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলছি, কর্মসংস্থানের কোনো অভাব হবে না। রেলপথ, সড়কপথ ও নৌপথ সচল করব যাতে বাণিজ্য বৃদ্ধি পায়। দেশের মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ৮ ভাগে উন্নীত করতে পেরেছি। অর্থনৈতিক সুফল গ্রামের তৃণমূলের মানুষের কাছে পৌঁছে দিচ্ছি। গ্রামীণ জীবন এখন পাল্টে গেছে। প্রত্যেকটা গ্রামকে শহরে পরিণত করব, গ্রামে বসেই যেন নাগরিক সুবিধা পায়।
তিনি বলেন, কওমি মাদ্রাসার কোনো স্বীকৃতি ছিল না। আমরা স্বীকৃতি দিয়েছি। ১৪-১৫ লাখ শিক্ষার্থীর উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ হবে, চাকরি পাবে দেশে-বিদেশে। সেই সুযোগ আমরা করে দিয়েছি। প্রতিটি উপজেলায় সরকারি স্কুল করে দিচ্ছি। সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ-মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে এর হাত থেকে দেশকে মুক্ত করেছি। মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। দুর্নীতির বিরুদ্ধেও অভিযান চালাচ্ছে। আগামীতে ক্ষমতায় আসতে পারলে দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব। উন্নয়নের ছোঁয়া বাংলাদেশের মানুষের মনে লেগেছে, নিশ্চয় তারা নৌকা মার্কায় ভোট দেবে।
দেশবাসীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, জনগণের কাছে আহ্বান, মেগা প্রকল্প নিয়েছি, তরুণ প্রজন্মের জন্য সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়তে যেসব পদক্ষেপ নিয়েছি, তা বাস্তবায়ন করতে আরও কিছু সময় আমাদের প্রয়োজন। আর এ সময় দিতে পারে দেশের জনগণ। জনগণ ভোট দিলে আমরা লক্ষ্য স্থির করেছি, বাংলাদেশ হবে ক্ষুধামুক্ত-দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ, সেটি আমরা অবশ্যই গড়ে তুলব। ২০২০-২১ বর্ষকে মুজিব বর্ষ হিসেবে ঘোষণা করেছি। ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে উন্নত-সমৃদ্ধ দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে শান্তিপূর্ণ দেশ গড়ে তুলব। আগামী ১০০ বছরে বাংলাদেশ কেমন হবে, সেজন্যও ডেল্টা প্লান-২১০০ ঘোষণা করেছি। লাখো শহিদের রক্তের বিনিময়ে দেশকে স্বাধীন করেছি। তাই দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করাই আমাদের একমাত্র লক্ষ্য। বিশ্বের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে চলতে পারবে, সেটা আমরা করতে পারব সেই দৃঢ় বিশ্বাস আমার আছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ আজ প্রতিটি দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে চলছে। সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারোর সঙ্গে বৈরিতা নয়Ñ বঙ্গবন্ধুর সেই পথ আমরা রক্ষা করতে পেরেছি। ব্লু-ইকোনমি আমরা ঘোষণা করেছি। আগামী নির্বাচনে ক্ষমতায় আসতে পারলে বুø-ইকোনমি বাস্তবায়ন করব। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, উন্নয়নের সুফল দেশের সকল মানুষ ভোগ করছে। সকলের সহযোগিতায় আমরা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারছি। বিরোধী দলকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, আগে সংসদের যে পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়েছে, কত নোংরা কথা শুনতে হয়েছে। টিভি ক্যামেরা, ফাইল, চেয়ার, ফোল্ডার কোনো কিছুই রেহাই পায়নি। দশম জাতীয় সংসদে বর্বরতা, অসভ্যতা কাউকে শুনতে হয়নি। সংসদ যে জাতি, দেশ ও মানুষের জন্য কাজ করে, দশম জাতীয় সংসদ তা প্রমাণ করেছে। গণতন্ত্রের প্রতি জনগণের আস্থা-বিশ্বাস বেড়েছে। গণতন্ত্র থাকলে দেশের উন্নয়ন হয়, তাও প্রমাণিত হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমার জীবনে কোনো চাওয়া-পাওয়া নেই। আমার ওপর বারবার আঘাত এসেছে। গুলি, বোমা, গ্রেনেড হামলা এসেছে। যতক্ষণ দেহে প্রাণ আছে, ততক্ষণ দেশের জন্য, মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনে কাজ করে যাব। মানুষকে সুন্দর জীবন দেব, সেজন্য কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছি। ভোট দিয়ে আবার সেবা করার সুযোগ দেন, বাংলাদেশ অদ্যম গতিতে এগিয়ে যাবে। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে। বাংলাদেশকে কেউ দাবায়ে রাখতে পারবে না। বিশ্বে বাংলাদেশে যে সম্মান বইয়ে এনেছে, তা ধরে রাখতে হবে। লাখো শহিদের রক্ত আমরা বৃথা যেতে দেব না।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী কবি সুকান্তের কবিতাটি উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, সুকান্তের ভাষায় বলবÑ চলে যাবÑ তবু আজ যতক্ষণ দেহে আছে প্রাণ, প্রাণপণে পৃথিবীর সরাবো জঞ্জাল, এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাব আমিÑ নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার। তাই আবার দেশ সেবার সুযোগ পেলে অবশ্যই দেশকে আমরা দারিদ্র্যমুক্ত করে গড়ে তুলব। ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ ক্ষুধা দারিদ্র্যমুক্ত দেশ হবে। ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ বিশ্বে উন্নত সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। ২০৪১ সালে হয়তো বেঁচে থাকব না। কিন্তু যে কাজ আমরা শুরু করেছি, যারাই ক্ষমতায় আসবে, তারা ওই সময়ের মধ্যে উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারবে। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মানুষ যদি উন্নত-সমৃদ্ধ জীবনযাপন করতে পারে তাহলে বাংলাদেশের মানুষ কী অপরাধ করেছে? তারা কেন পারবে না। আমি বিশ্বাস করি, বাংলাদেশের মানুষও উন্নত সমৃদ্ধ জীবন পাবে।

শ্রেণী:

তারেক জিয়ার ফাঁসি চায় আইভি পরিবার

11-6-2018 5-51-01 PM

11-6-2018 5-51-01 PMআরিফ সোহেল: ঘটনাপ্রবাহের পূর্বাপর
২০০৪ সালের ২১ আগস্ট। বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগের সমাবেশ চলছে। মাইক হাতে সভাপতির ভাষণ দিচ্ছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি বঙ্গবন্ধু-কন্যা শেখ হাসিনা। সারাদেশে জঙ্গিদের বোমা হামলা এবং গোপালগঞ্জে পুলিশি নির্যাতনের প্রতিবাদে দলীয় কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত সমাবেশের ২০ মিনিটের বক্তৃতা শেষে বিক্ষোভ মিছিলের ঘোষণা দিয়ে বঙ্গবন্ধু-কন্যা মঞ্চ থেকে নিচে নেমে আসতে থাকেন। ঠিক সেই সময়ই শুরু হয় মঞ্চ লক্ষ্য করে গ্রেনেড হামলা। মাত্র দেড় মিনিটের মধ্যে বিস্ফোরিত হয় ১১টি শক্তিশালী গ্রেনেড। গ্রেনেডের বিকট শব্দ আর ধোঁয়ায় অন্ধাকারে নিমজ্জিত পুরো এলাকা। চারদিকে গগনবিদারী চিৎকার। থরে থরে পড়ে থাকা লাশের মিছিল। হাত-পা বিচ্ছিন্ন নেতা-কর্মীদের আহাজারি। আর ট্রাকের ওপর মঞ্চে মানববর্মের কল্যাণে প্রাণে বেঁচে গিয়েছেন শেখ হাসিনা। ওই হামলায় মূলত টার্গেট ছিল আওয়ামী লীগ সভাপতি বঙ্গবন্ধু-কন্যা শেখ হাসিনাসহ মূল নেতৃবৃন্দকে হত্যা করা। আওয়ামী লীগের নাম-নিশানা মুছে ফেলার এই হীন চক্রান্তে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রাণে বেঁচে গেলেও, গুরুতর আহত হন প্রয়াত রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমানের সহধর্মিণী আইভি রহমানসহ অনেকেই। ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান ১২ জন। পরবর্তীতে এই হামলার শিকার মহিলাবিষয়ক সভানেত্রী আইভি রহমানসহ আওয়ামী লীগের আরও ১২ জন নেতাকর্মী প্রাণ হারান। এই নারকীয় হত্যাকা-ে আহত হন শত শত নেতাকর্মী, অনেকে পঙ্গুত্ববরণ করেন। সেদিনের সেই দুঃসহ স্মৃতি আর শরীরে গ্রেনেডের স্পিøন্টারের যন্ত্রণা নিয়ে বেঁচে আছেন অনেকেই।

১৪ বছর পর রায়…
গত ১০ অক্টোবর ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার বিচারের রায় ঘোষণা করেন বিজ্ঞ আদালত। বিচারের অপেক্ষায় নিহত-আহতদের পরিবারের সদস্যদের কেটেছে ১৪ বছর। গ্রেনেড হামলা মামলায় বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ ১৯ জনকে যাবজ্জীবন কারাদ- দিয়েছেন আদালত। মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর ও আবদুস সালাম পিন্টুসহ ১৯ জনকে মৃত্যুদ-াদেশ দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট আরও ১১ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়। অথচ এই নারকীয় ঘটনা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে তৎকালীন বিএনপি-জামাত জোট সরকার ‘জজ মিয়া’ নাটকের অবতারণা করেছিল।
রায়ের আগে এবং পরে প্রতিক্রিয়া
এই রায়ে শতভাগ খুশি হতে পারেনি আইভি রহমানের পরিবার। তারেক রহমানের ফাঁসি চেয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে রিভিউ করার প্রক্রিয়া চলছে। পরিবার থেকে বলা হয়েছে, ‘এ বর্বরোচিত গ্রেনেড হামলার মহানায়ক তারেক রহমানের ফাঁসির আদেশ হয়নি। তাই আমরা অসন্তোষ প্রকাশ করছি। উচ্চ আদালতের মাধ্যমে খুনি তারেক রহমানের ফাঁসি কার্যকরের জন্য আমরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে দাবি জানাই।’
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি এবং কিশোরগঞ্জ-৬ আসনের সংসদ সদস্য নাজমুল হাসান পাপন এমপি বলেছেন, ‘বিচারের অপেক্ষায় কেটেছে অনেক বছর। মায়ের মর্মান্তিক মৃত্যুর বিচার দেখতে ১৪টি বছর ধরে অপেক্ষা করছি আমরা। এই ব্যথা আর যন্ত্রণা নিয়ে আমাদের বাবা মারা গেছেন। আসামিদের বিচার হয়েছে, তবে পুরোপুরি বিচার পাইনি। আমরা বিষয়টি আদালতের ওপরই ছেড়ে দিয়েছি। সত্যিকারের অপরাধীদের প্রকৃত বিচার হলেই আমার মা-বাবা কবরে শান্তি পাবেন এবং আমরাও খুশি হব।’
নাজমুল হাসান পাপন এমপি আরও বলেন, এই মামলার প্রধান আসামি তারেক জিয়ার ফাঁসির রায় হওয়া উচিত ছিল। যেহেতু মুফতি হান্নান নিজেই স্বীকারোক্তি দিয়েছে, অপারেশন চালানোর আগে তারেক রহমানের অনুমতি চেয়েছিল। এই হামলার প্রথম টার্গেট ছিলেন শেখ হাসিনা। এই ভয়াবহ হত্যাকা-ের নেতৃত্ব দিয়েছেন তারেক জিয়া। এক প্রশ্নের উত্তরে নাজমুল হাসান পাপন বলেছেন, ‘এই মামলার অনেকেই পলাতক রয়েছে। তারা কেউ কেউ বিদেশে অবস্থান করছে। আইনের মাধ্যমে তাদের বিদেশ থেকে দেশে এনে বিচারিক কার্য সম্পাদন করার জন্য সরকারের প্রতি অনুরোধ জানান।’ উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন এই মামলা পরিচালিত হয়েছে। এই ন্যক্কারজনক মামলায় দোষীদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের ২২৫ জন ও আসামিপক্ষের ১২ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন। এতে সময় লাগে ১১৯ কার্যদিবস।

শ্রেণী:

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায়: খালেদার ৭ বছর জেল

উত্তরণ প্রতিবেদন: জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে সাত বছরের সশ্রম কারাদ- দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অন্য তিন আসামিকেও সাত বছরের সশ্রম কারাদ- প্রদান করেছেন আদালত। খালেদা জিয়াসহ প্রত্যেককে ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদ-ের আদেশ দিয়েছেন আদালত। এছাড়া ট্রাস্টের নামে কেনা কাকরাইলে ৪২ কাঠা জমি বাজেয়াফত করে তা রাষ্ট্রের অনুকূলে নেওয়ার আদেশ দেওয়া হয়েছে। মামলার অন্য আসামিরা হলেনÑ খালেদা জিয়ার তৎকালীন রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, বিআইডব্লিউটিএ’র নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক জিয়াউল ইসলাম মুন্না এবং ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খান। ঢাকার নাজিমুদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারের ভেতরে বসানো পঞ্চম বিশেষ জজ আদালতের অস্থায়ী এজলাসে পিনপতন নীরবতার মধ্যে বিচারক ড. মো. আখতারুজ্জামান গত ২৯ অক্টোবর এই রায় ঘোষণা করেন। ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারা এটিই সর্বোচ্চ শাস্তি। একই সঙ্গে দ-বিধির ১০৯ ধারায় আসামিদের শাস্তি দেওয়া হয়। বিচারক রায়ে ১৫টি বিবেচ্য বিষয় ছাড়াও পর্যবেক্ষণে বলেছেন, রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ ক্ষমতায় থেকে অপরাধমূলকভাবে ব্যক্তিগত ট্রাস্টের অনুকূলে অবৈধভাবে অর্থ সংগ্রহ করে তিনি (খালেদা জিয়া) যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, তা কখনও কাম্য হতে পারে না। ভবিষ্যতে যাতে ওই পদে (প্রধানমন্ত্রী) দায়িত্বে থেকে কেউ যাতে আর অপরাধ না করে তাই এই মামলায় অপরাধীদের সর্বোচ্চ সাজা দেওয়া উচিত বলে আদালত মনে করছেন।
খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে সংক্ষিপ্ত এই রায় দেওয়া হয়। তবে কারাগারে থাকা দুই আসামি জিয়াউল ইসলাম মুন্না এবং মনিরুল ইসলাম খান রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন। গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদ- দিয়েছেন একই আদালত। বেলা ১১টা ২৫ মিনিটে বিচারক এজলাসে উপস্থিত হয়ে বিচারকার্য শুরু করেন। শুরুতে দুদকের আইনজীবী মোশারফ হোসেন কাজল বলেন, এই আদালতে দীর্ঘদিন ধরে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়েছে। উচ্চ আদালতের পর আপিল বিভাগে আজ (২৯ অক্টোবর) বিচারকার্য স্থগিতের আবেদন খারিজ করে দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, এই আদালতে আপনার রায় বিচারের আদেশ হিসেবে বহাল থাকবে। আমি রায় পাঠ করে শোনানোর আবেদন জানাচ্ছি। এরপর বিচারক ড. মো. আখতারুজ্জামান সংক্ষিপ্ত রায় পাঠ করা শুরু করেন। এ সময় তিনি আড়াই বছর ধরে চলমান এই বিচারকার্যের সংক্ষিপ্ত বিবরণী পাঠ করেন। অরাজনৈতিক এক ব্যক্তিকে ট্রাস্টি হিসেবে যোগ করা হয়েছে। তাছাড়া সাক্ষী হিসেবে রাখা হয়েছিল আরেকজন অরাজনৈতিক ব্যক্তিকে। তখন খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেশের দায়িত্ব পালন করছিলেন। আর এই ট্রাস্টের সঙ্গে তার দুই ছেলে ছাড়া যারা কাগজ-কলমে জড়িত ছিল তারা সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক ব্যক্তি। খালেদা জিয়া সম্পূর্ণরূপে ক্ষমতার অপব্যবহার করে তার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরীকে দিয়ে টাকা আত্মসাৎ করিয়েছেন। এক্ষেত্রে হারিছ চৌধুরীর পক্ষে কাজ করেছেন তার ব্যক্তিগত সচিব জিয়াউল ইসলাম মুন্না। তাছাড়া সোনালী ব্যাংকের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে যে টাকাগুলো জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের অ্যাকাউন্টে যোগ করা হয়েছে, তাও অবৈধ ছিল। তাছাড়া এই টাকার কোনো প্রমাণ বা দলিল নেই। ব্যাংক হিসাবে খালেদা জিয়ার ট্রাস্টি হিসেবে একক স্বাক্ষর ছিল। এসব কাজে ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার এপিএস মনিরুল ইসলামও ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিলেন। জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের ঠিকানা খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত আবাসস্থলের ঠিকানা ব্যবহার করা হয়েছে। কোনো ট্রাস্টের ঠিকানা এ-রকম হতে পারে না। উনি উনার ব্যক্তিগত বাসাতে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সব সুযোগ-সুবিধা ভোগ করতেন।
আদালত আরও বলেন, প্রসিকিউশনে দাখিলকৃত তথ্য প্রমাণে আসামিদের অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। ট্রাস্ট গঠনের একটি উদ্দেশ্যও তারা বাস্তবায়ন করতে পারেন নি। ট্রাস্টের নামে ক্ষমতার অপব্যবহার করে খালেদা জিয়া বিভিন্ন ফান্ড থেকে টাকা জমা করেছেন। আদালত ১৫টি বিষয় বিবেচনায় নিয়ে এই রায় দেন। এর আগে সকালে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে কারা আদালতে বিচার চলবে সংক্রান্ত আদেশের বিরুদ্ধে করা আবেদন খারিজ করেছেন আপিল বিভাগ। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে সাত সদস্যের আপিল বিভাগের বেঞ্চ ২৯ অক্টোবর এই আদেশ দেন। এই আদেশের ফলে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা করতে আর কোনো বাধা নেই বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা। আপিলের আদেশের পর বিচারিক আদালত জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায় ঘোষণা করা হয়।

শ্রেণী:

আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা কোর কমিটি গঠন

PM

PMউত্তরণ প্রতিবেদন: একাদশ সংসদ নির্বাচনে দলের কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের একটি জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কোর কমিটি গঠিত হয়েছে। ৩৩ সদস্যের এই কমিটি ১৫টি উপ-কমিটির মাধ্যমে মাঠ পর্যায়ে নির্বাচন কার্যক্রম পরিচালনা, বাস্তবায়ন ও পর্যবেক্ষণ করবে আওয়ামী লীগ।
গত ২৬ অক্টোবর রাতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদ, উপদেষ্টা পরিষদ ও সংসদীয় দলের যৌথসভায় এসব কমিটির অনুমোদন দেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ৩৩ সদস্য বিশিষ্ট কোর-কমিটির চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কো-চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচটি ইমাম। আর সদস্য সচিব দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এমপি।
সদস্য হিসেবে এ কমিটিতে রয়েছেনÑ সভাপতিম-লীর সদস্য সাজেদা চৌধুরী এমপি, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু এমপি, তোফায়েল আহমেদ এমপি, সভাপতিম-লীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী এমপি, সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এমপি, শেখ ফজলুল করিম সেলিম এমপি, কাজী জাফর উল্ল্যাহ, মোহাম্মদ নাসিম এমপি, ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এমপি, ড. আবদুর রাজ্জাক এমপি, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ড. মশিউর রহমান, শেখ হেলাল উদ্দিন এমপি, সজীব ওয়াজেদ জয়, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য রাশিদুল আলম, সভাপতিম-লীর সদস্য কর্নেল (অব.) ফারুক খান এমপি, কোষাধ্যক্ষ এইচএন আশিকুর রহমান এমপি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ এমপি, ডা. দীপু মনি এমপি, জাতীয় সংসদের হুইপ ও আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের সাধারণ সম্পাদক নূর-ই-আলম চৌধুরী লিটন এমপি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক এমপি, আবদুর রহমান এমপি, সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাসিম এমপি, ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, প্রচার সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ এমপি, শেখ সালাহ উদ্দিন জুয়েল, দফতর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য আখতারুজ্জামান, দীপংকর তালুকদার, অ্যাডভোকেট এবিএম রিয়াজুল কবীর কাওছার এবং উপ-দফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়–য়া।
যৌথ সভায় অনুমোদিত ১৫টি উপ-কমিটির মধ্যে ইশতেহার প্রণয়ন উপ-কমিটির আহ্বায়ক ড. আবদুর রাজ্জাক এমপি ও সদস্য সচিব ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়–য়া। নির্বাচনী আইন ও বিধিমালা উপ-কমিটির আহ্বায়ক আবদুল মোবারক ও সদস্য সচিব আজমতউল্লাহ খান। লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট উপ-কমিটির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব হচ্ছেন যথাক্রমে ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন ও শ ম রেজাউল করিম, দপ্তর ব্যবস্থাপনা উপ-কমিটির আহ্বায়ক প্রফেসর খন্দকার বজলুল হক ও সদস্য সচিব ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, লিঁয়াজো উপ-কমিটির রাশিদুল আলম ও অ্যাড. আফজাল হোসেন, নির্বাচন কমিশন সমন্বয় উপ-কমিটির লে. কর্নেল (অব.) মুহম্মদ ফারুক খান এমপি ও ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী (নওফেল), নির্বাচন পর্যবেক্ষক উপ-কমিটির ড. গওহর রিজভী ও ডা. দীপু মনি এমপি, পোলিং এজেন্ট প্রশিক্ষণ কমিটির সাবের হোসেন চৌধুরী এমপি ও দেলোয়ার হোসেন, প্রচার উপ-কমিটির ড. হাছান মাহমুদ এমপি ও আমিনুল ইসলাম আমিন, মিডিয়া উপ-কমিটির আসাদুজ্জামান নূর এমপি ও কাসেম হুমায়ুন, পেশাজীবী সমন্বয় উপ-কমিটির মসিউর রহমান ও ডা. রোকেয়া সুলতানা, আইটি উপ-কমিটির মোস্তাফা জব্বার ও ইঞ্জিনিয়ার আবদুস সবুর, বিদেশি মিশন ও সংস্থা সমন্বয় উপ-কমিটির অ্যাম্বাসাডর মোহাম্মদ জমির ও ড. শাম্মী আহমেদ, সাংস্কৃতিক, সামাজিক ও ক্রীড়া উপ-কমিটির মির্জা জলিল ও অসীম কুমার উকিল ও অর্থ উপ-কমিটির কাজী আকরাম উদ্দীন ও টিপু মুন্সী।

শ্রেণী:

রাজনীতির নামে কেউ যেন আর মানুষ পুড়িয়ে না মারতে পারে

PM
PM

শেখ হাসিনা বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের উদ্বোধন

উত্তরণ প্রতিবেদন: ভবিষ্যতে কেউ যেন আর রাজনীতির নামে মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করতে না পারে সেজন্য দেশবাসীকে সজাগ থাকার আহ্বান জানানোর পাশাপাশি সরকারও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিএনপি-জামাতের আগুন সন্ত্রাসের নৃশংস ভয়াবহতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলাদেশে এ ধরনের ঘটনা আর ঘটুক, আমি চাই না। ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজ যারা করবে, সঙ্গে সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে এবং আমরা এ ব্যাপারে যা যা করণীয়, আমরা তা করব।
গত ২৪ অক্টোবর রাজধানীর চানখাঁরপুল এলাকায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পাশে ‘শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ২০১৩ ও ২০১৪ সালে বিএনপি-জামাতের আগুন সন্ত্রাসের সহিংসতার সমালোচনা করে বলেন, আমরা একদিকে গড়ে তুলি আর ওরা ধ্বংস করে। বিএনপি-জামাতের কাজ হচ্ছে ধ্বংস করা। সেই সময় এই পোড়া মানুষগুলোর চিকিৎসা দিতে হয়েছে। অনেককে আমরা বিদেশে পাঠিয়েও চিকিৎসা করিয়ে নিয়ে এসেছি।
উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর নামে দেশের প্রথম বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের যাত্রা শুরু হলো, যেখানে একসঙ্গে পাঁচ শতাধিক পোড়া রোগীকে চিকিৎসা দেয়ার সুবিধা থাকছে। ১২ তলার শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট-এ ৫০০ শয্যা, ৫০টি নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) এবং ১২টি অপরাশেন থিয়েটার রয়েছে। ইনস্টিটিউটের ৩টি ব্লকে থাকবে বার্ন ইউনিট, প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিট এবং একাডেমিক ভবন। সারাদেশের কয়েক লাখ পোড়া রোগীকে সেবা দিতে দেড় হাজার বিশেষজ্ঞ সার্জন তৈরির লক্ষ্য নিয়েই এই ইনস্টিটিউটটি চালু করা হলো।
উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু একবার নয়, এরপর আবার ২০১৫ সালে। সরকার উৎখাত করবে। খালেদা জিয়ার বাসা গুলশানে, তার অফিসও গুলশানে। অফিসে এসে বসে পড়ে বলল, আমাদের সরকার উৎখাত না করা পর্যন্ত না-কি ঘরে ফিরবেন না। এই প্রতিজ্ঞা নিয়ে বসে পড়ল। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, খালেদা জিয়ার আন্দোলন কি? তার আন্দোলন মানেই মানুষ পুড়িয়ে মারা। এভাবে আগুন দিয়ে হাজার হাজার মানুষকে তারা পুড়িয়েছে। প্রায় ৪ হাজারের কাছাকাছি মানুষকে তারা পুড়িয়েছে। অগ্নিদগ্ধ হয়ে প্রায় ৫০০ মানুষ মৃত্যুবরণ করেছে। প্রায় ৩ হাজার ৮ গাড়ি পুড়িয়েছে। আমি আমার সাধ্যমতো সবাইকে সাহায্য করেছি এবং যারা আহত তাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছি।
ওই সময় আগুনে পোড়া রোগীদের চিকিৎসায় এগিয়ে এসে দিনরাত অক্লান্ত পরিশ্রম করে সেবা দেয়ার জন্য বার্ন ইউনিটের সবাইকে ধন্যবাদও জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, মানুষের জন্য আমরা রাজনীতি করি। কিন্তু মানুষকে পুড়িয়ে মারা এটা কোন ধরনের আন্দোলন? কোন ধরনের রাজনীতি। সেটি আমার কাছে বোধগম্য না। কিন্তু বাংলাদেশে এ ধরনের ঘটনা আর ঘটুক, আমি চাই না। তবে বাংলার জনগণ এটা প্রতিরোধ করেছে, আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা গোয়েন্দা সংস্থা সকলের মিলিত প্রচেষ্টায় এই সন্ত্রাসী ও জঙ্গি কর্মকা- আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হয়েছি।
প্রধানমন্ত্রী কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, এ ধরনের কাজ যারা করবে সঙ্গে সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে এবং আমরা এ ব্যাপারে যা যা করণীয়, আমরা করব। আমরা দেশের মানুষের শান্তি চাই। কারণ শান্তিপূর্ণ অবস্থা থাকলেই দেশের উন্নয়নটা করা সম্ভব। এত প্রতিকূল অবস্থার মধ্যেও আজকে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। আজকে আমরা উন্নয়নশীল দেশ। আজকে বিশ্বে বাংলাদেশকে উন্নয়নের রোল মডেল বলা হয়।
এই ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার প্রেক্ষাপট তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, মারাত্মক দগ্ধ রোগীর আধুনিক চিকিৎসার ব্যবস্থা বাংলাদেশে ছিল না। অনেক সময় শ্বাসনালীও পুড়ে যায়, তেমন রোগীর চিকিৎসার ভালো ব্যবস্থাও আগে করা হয়নি। আর যারা অগ্নিদগ্ধ হয়, তাদের চিকিৎসা করার ভিন্ন পদ্ধতি থাকে। অনেক ধরনের যন্ত্রপাতি, বেড সবকিছুই আলাদা লাগে। কোন ব্যবস্থা করা হয়নি। যেখানে রেখে গিয়েছিলাম (২০০১ সালে), সে অবস্থাই ছিল। আর উন্নতি হয়নি। এই ইনস্টিটিউটের প্রধান সমন্বয়কারী সামন্ত লাল সেনই যে এ ধরনের একটি চিকিৎসা ও শিক্ষাকেন্দ্র প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি সামনে এনেছিলেন, সে-কথাও প্রধানমন্ত্রী বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই বার্ন ইনস্টিটিউট তৈরি করার জন্য স্বাভাবিকভাবেই আমরা আমাদের সেনাবাহিনীর ওপর দায়িত্ব দিয়েছিলাম। এই সেনাবাহিনী তো আমাদের জনগণের সেনাবাহিনী। আমরা দেখেছি, বাংলাদেশের যে কোনো দুর্যোগের সময়, যে কোনো দুঃসময়ে তারা পাশে দাঁড়ান এবং মানুষের সেবা দেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ইঞ্জিনিয়ারিং চিফ যিনি, তাকেও ধন্যবাদ জানাচ্ছি। কারণ অতি দ্রুত এই কাজগুলো তারা করেছেন। যারা এই কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন, সবাইকে আমি ধন্যবাদ জানাই।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, অল্প সময়ের মধ্যে একটি দেশ এত দ্রুত উঠে যেতে পারে অনেক দেশের কাছে এটা দৃষ্টান্তস্বরূপ। আমি যখনি যেখানে যাই, অনেকে প্রশ্ন করেÑ স্বল্প সময়ে কীভাবে এত উন্নয়ন করতে পারলাম। জবাবে আমার একটাই কথা, আমার তো কিছু করতে হয়নি। প্রতিটি ক্ষেত্রে আমি পেয়েছি আমার বাবা (বঙ্গবন্ধু) দেখিয়ে যাওয়া পথ, যার ভিত্তিটাও তিনি তৈরি করে দিয়ে গেছেন। আমি শুধু সেই কাজগুলো সম্পন্ন করে যাচ্ছি এবং দিনরাত এদেশের মানুষের জন্যই পরিশ্রম করি। আমার আর কোনো কাজ নাই। একটাই কাজ দেশের উন্নয়ন করে মানুষকে একটা সুন্দর জীবন দেব, উন্নত জীবন দেব।
বঙ্গবন্ধু চেয়েছিলেন এদেশের তৃণমূল পর্যায়ের মানুষও যেন দুবেলা পেট ভরে খেতে পারে, তাদের বাসস্থান হয়, চিকিৎসা হয়, সুন্দরভাবে জীবন পেতে পারে। ঠিক সেই লক্ষ্যটা পূরণ করাই আমার একমাত্র কাজ এবং সেটাই আমি করে যাচ্ছি। আর এটা করতে পেরেছি, বাংলাদেশের জনগণ নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে তাদের সেবা করার সুযোগ দিয়েছে। সেজন্য এটা করা সম্ভব হয়েছে।
আগামী প্রজন্মের জন্য ভবিষ্যতে কীভাবে বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে চাই সে লক্ষ্যে ইতোমধ্যেই ডেল্টা প্লান-২০১১ দেয়া হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে। অনেক বাধা ও প্রতিকূলতার মধ্য দিয়েই আমাদের এগুতে হচ্ছে। তবে জাতির পিতা যে কথাটি ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণে বলে গিয়েছেন, সেটাই সবসময় মনে করি। বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, বাঙালি জাতিকে কেউ দাবায়ে রাখতে পারবা না। কেউ দাবায়ে রাখতে পারে নাই, দাবায়ে রাখতে পারবে না। এটাই হলো বাস্তবতা।
বাংলাদেশের মানুষের চিকিৎসাসেবা দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়ার জন্য সরকারের বিভিন্ন গৃহীত পদক্ষেপ ও কর্মসূচির কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন হবে এবং তাদের সুন্দর স্বাস্থ্য ও উন্নত জীবন হবে, এটাই আমাদের লক্ষ্য। বার্ন ইনস্টিটিউটের সাফল্য কামনা করে এটা মানুষের সেবায় নিবেদিত প্রাণ হয়ে বিশ্বে একটা শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে উঠুক সেই প্রত্যাশা করেন। পাশাপাশি জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলব সেই অঙ্গীকার করে ‘শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট’-এর শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম এমপি। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ, ইনস্টিটিউটের প্রধান সমন্বয়ক অধ্যাপক ডা. সামন্ত লাল সেন ও সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং কোরের প্রধান মেজর জেনারেল সিদ্দিকুর রহমান। স্বাগত বক্তব্য রাখেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব সিরাজুল হক খান। উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৬ সালের ৬ এপ্রিল এই ইনস্টিটিউটটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন এবং মূল ভবনের নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০১৬ সালের ২৭ এপ্রিল।
জোড়া লাগা রাবেয়া-রোকাইয়াকে দেখলেন প্রধানমন্ত্রী : ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন জোড়া মাথার শিশু রাবেয়া ও রোকাইয়াকে দেখেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ২৪ অক্টোবর শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের উদ্বোধন করতে এসে বহির্বিভাগে জোড়া মাথার শিশু দুটিকে দেখেন এবং তাদের চিকিৎসার দায়িত্ব নেন প্রধানমন্ত্রী।
শিশু দুটিকে দেখার সময় প্রধানমন্ত্রী তাদের হাত ধরে আদর করেন এবং স্নেহের পরশ বুলিয়ে দেন। একইসঙ্গে শিশু দুটির চিকিৎসার খোঁজখবর নেন। জোড়া মাথার প্লাস্টিক মডেলের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকরা শিশু দুটির চিকিৎসার পরিকল্পনা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রীর কাছে। চিকিৎসরা জানান, শিশু দুটিকে ধাপে ধাপে আলাদা করতে হবে। আলাদা করার অগ্রগতি হিসেবে ১৮ মাস বয়সে রাবেয়া ও রোকাইয়ার মাথায় যুক্ত রক্তনালী অপারেশন করে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, যাতে দুজনের জন্য আলাদা রক্তনালী চালু হয়। এ সময় শিশু দুটির বাবা-মা উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী তাদের বাবা-মায়ের সঙ্গেও কথা বলেন। তাদের সান্ত¦না ও সাহস দেন বঙ্গবন্ধুর কন্যা।

শ্রেণী:

যুদ্ধাপরাধী ও সন্ত্রাসীদের বাঁচাতে ড. কামাল

PM

PMস্বদেশ রায়: যুদ্ধাপরাধী বিচারের পক্ষে কোনো কথা বলেন নি
২০০৯ সালে জাতীয় সংসদ যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করার সিদ্ধান্ত নেয়। সে-সময়ে বিএনপির সংসদ সদস্যরা সংসদ বয়কট করেন। তারপরেও সারাদেশ এ সিদ্ধান্ত সাদরে গ্রহণ করে। দেশের প্রগতিশীল সকল বুদ্ধিজীবী, ছাত্রসমাজ ও সংগঠন এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানায়। ওই সময়ের পত্র-পত্রিকা খুঁজে দেখলে সবাই দেখতে পাবেন ড. কামাল হোসেন এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে কোনো বিবৃতি বা বক্তব্য দেননি। এমনকি গোটা দেশ, গোটা তরুণ সমাজ যে-সময়ে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের পক্ষে সে-সময়ে ড. কামাল হোসেন এই বিচারের পক্ষে কোনো অবস্থান নেননি। তিনি যে যুদ্ধাপরাধী বিচারের বিপক্ষে কোনো কথা বলেছেন তা নয়। তবে তিনি যেভাবে নিজেকে সবসময় মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক হিসেবে দাবি করেন, এক সপ্তাহ আগেও যিনি কথায় কথায় বঙ্গবন্ধু বঙ্গবন্ধু বলতেন, অথচ যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের পক্ষে তার কোনো অবস্থান কেউ দেখতে পাননি। অথচ বঙ্গবন্ধু আমলের আইনমন্ত্রী হিসেবে তিনি খুব সহজে জাতির কাছে ব্যাখ্যা করতে পারতেন (যা বিভিন্ন সময়ে টেলিভিশনে, পত্র-পত্রিকায় ব্যারিস্টার আমির উল ইসলাম করেছেন) বঙ্গবন্ধু কীভাবে আইন প্রণয়ন করে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। বলতে পারতেন, জিয়াউর রহমান কীভাবে ৩০ হাজারের বেশি যুদ্ধাপরাধীকে জেল থেকে মুক্তি দিয়েছিলেন। কীভাবে শহীদুল্লাহ কায়সারের হত্যাকারীর সাজা মাফ করে জিয়াউর রহমান জেল থেকে ছেড়ে দিয়েছিলেন। এদেশের মানুষ কেউ বলতে পারবেন না যে ড. কামাল ২০০৯ থেকে আজ অবধি যুদ্ধাপরাধীর বিচারের স্বপক্ষে বা জামায়াতে ইসলামীর বিপক্ষে কোনো কথা বলেছেন।
শাহবাগে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের ও ফাঁসির দাবিতে গণজাগরণ মঞ্চ হয়েছিল। গোটা দেশ এক হয়েছিল ওই গণজাগরণ মঞ্চে। সারাদেশে যেমন এই গণজাগরণ মঞ্চ হয়েছিল তেমনি সারাদেশ থেকে প্রগতিশীল মানুষ ছুটে এসেছিল এই মঞ্চে। সরকারের জোটে নেই এমন প্রগতিশীল বাম দলগুলোর নেতাদের দেখেছি সে-সময়ে সারাদিন শাহবাগের রোড ডিভাইডারের ওপর বসে থাকতে। বাংলাদেশের প্রগতিশীল ও স্বাধীনতা সংগ্রামের যারা নেতা ছিলেন, ওইসব নেতা তাই তারা বর্তমান সরকারের জোটে হোক আর বাম জোটে হোক, সকলেই বক্তব্য রেখেছেন শাহবাগ গণজাগরণ মঞ্চে। যারা বাংলাদেশকে ভালোবাসে, দেশের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে গর্ববোধ করে, এমন মানুষ তাই যিনি যে পেশার হোক না কেন, সকলে সেদিন একাত্মতা প্রকাশ করেছিলেন গণজাগরণ মঞ্চের সঙ্গে। গ্রাম থেকে মায়েরা সেদিন পিঠে তৈরি করে সন্তানের মাধ্যমে পাঠিয়ে দিয়েছিল গণজাগরণ মঞ্চে। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পরে স্বাধীনতার চেতনার স্বপক্ষে তারুণ্যের এত বড় জাগরণ আর ঘটেনি। এই গণজাগরণ মঞ্চে কিন্তু কোনোদিন আসেন নি ড. কামাল হোসেন। এমনকি এই গণজাগরণ মঞ্চের স্বপক্ষে কোনো বিবৃতি বা বক্তব্য তিনি দেননি। অথচ সেই শাহবাগে ২০১৮-তে যখনই স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াতে ইসলামের ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবিরের ছেলেরা শরীরে ‘আমি রাজাকার’, ‘আমি রাজাকারের সন্তান’ লিখে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের কোটা বাতিলের আন্দোলনে দাঁড়াল, অমনি সেই আমি রাজকারের সন্তানকে সমর্থন করলেন ড. কামাল। জাফর ইকবাল যখনই এই রাজাকারের সন্তানদের বিপক্ষে লিখলেন, তিনি অমনি প্রেসক্লাবে একটি মিটিংয়ে বললেন, যারা কোটা আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কথা বলবে, এদের রাজাকার বলবেÑ তিনি তাদের গালে চড় মারবেন। এখানেই শেষ নয়, কোটা আন্দোলনের নেতৃত্বে থাকা শিবিরের ছেলেরা ওই আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে যখন বিভিন্ন ধরনের অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করে সে-সময়ে সরকার তাদের গ্রেফতার করলে তিনি তাদের পক্ষে দাঁড়ালেন। তার মেয়ে তাদের জন্যে গিয়ে দাঁড়ালেন। অন্যদিকে তিনি মুখে বারবার বঙ্গবন্ধু বললেও বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারের সময় যখন একের পর এক বিচারপতি বিব্রতবোধ করেন, তিনি তা নিয়ে কোনো কথা বলেন নি। এমনকি ব্যক্তিগত আলোচনায় তিনি সবসময়ই এমন একটা ভাব করেন যে তিনি তাজউদ্দীন আহমদ অন্তপ্রাণ। অথচ ২০০১ সালে যখন তাজউদ্দীন আহমদসহ জাতীয় চার নেতা হত্যার বিচার নিয়ে তৎকালীন জামাত-বিএনপি সরকার প্রহসন শুরু করে, ওই সময়ে কামাল হোসেন কোনো কথা বলেন নি। অথচ একজন বড় আইনজীবী হিসেবে তিনি তো স্বপ্রণোদিত হিসেবে ওই মামলায় জাতীয় চার নেতা হত্যার বিচারের পক্ষে দাঁড়াতে পারতেন। সে কাজ তিনি করেন নি। এখন তিনি রাজাকারের সন্তানদের পক্ষে দাঁড়াচ্ছেন অথচ গণজাগরণ মঞ্চের সংগঠক তরুণ বুদ্ধিজীবী রাজীব হায়দারকে হত্যা করা হলে তিনি রাজীবের মামলার পক্ষে দাঁড়ান নি। বাস্তবে ড. কামাল হোসেন মুখে আইনের শাসন, সংবিধানের কথা বললেও তিনি কখনই এদেশে আইনের শাসন হত্যাকারী ১৯৭১ ও ১৯৭৫-এর রাজাকারদের বিপক্ষে দাঁড়ান নি।

ড. কামাল সারাজীবনই সন্ত্রাসীদের পক্ষে
বাস্তবে গণতান্ত্রিক রাজনীতিক হিসেবে নিজেকে প্রচার করার যাবতীয় সুযোগ পেয়েছেন ড. কামাল। কিন্তু তার সারাজীবনের রাজনীতির দিকে তাকালে দেখা যায় সারাজীবনই তিনি সন্ত্রাসী, হত্যাকারীদের পৃষ্ঠপোষকতা করেছেন। তাদের রক্ষা করেছেন।
জামাত-বিএনপির নেতারা লাদেন স্টাইলে ভিডিও বার্তার মাধ্যমে এদেশে পেট্রলবোমা মেরে মানুষ হত্যা করেছে। খালেদা জিয়া মাসের পর মাস অফিসে বসে যেভাবে সারাদেশে পেট্রলবোমার মাধ্যমে মানুষ পুড়িয়েছেন, তা পৃথিবীর ইতিহাসে জঘন্যতম সন্ত্রাস। খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে যেভাবে পেট্রলবোমা মেরে মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছিলÑ এমন সন্ত্রাসের উদাহরণ পৃথিবীতে কম আছে। আগুনে পোড়া মানুষ ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটসহ সারাদেশের হাসপাতালে যেভাবে যন্ত্রণা নিয়ে মারা গেছেন, এর সঙ্গে একমাত্র তুলনা চলে হিটলারের গ্যাস চেম্বারে ঢুকিয়ে মানুষ হত্যার। এছাড়া খালেদা ও জামাতের নেতৃত্বে ২০১২, ২০১৩, ও ২০১৫-তে সারাদেশে যেভাবে এই নরহত্যার পাশাপাশি সরকারি সম্পত্তি, হিন্দু মন্দির ভাঙা হয় তার তুলনা চলে একমাত্র ১৯৭১ সালের ধ্বংসযজ্ঞের সঙ্গে। কেবলমাত্র ২০১২ সালেই জামাত ও বিএনপি সারাদেশে ৯৬০টি মন্দিরে হামলা করে। আর শুধু চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও বগুড়াতে ১ হাজার কোটি টাকার বেশি সরকারি সম্পত্তি আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করে। এছাড়া দেশের গোয়েন্দা বিভাগের খাতায় এ মুহূর্তে যতগুলো জঙ্গি সংগঠনের নাম পাওয়া যায়Ñ সবগুলোরই পৃষ্ঠপোষক বিএনপি ও জামাত।
এই বিএনপি ও জামাতকে রক্ষায় এখন নেমেছেন ড. কামাল হোসেন। তাদের সঙ্গে ঐক্য করে তিনি দেশে তার কথিত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করবেন! যারা পেট্রলবোমা মেরে শত শত মানুষ হত্যা করল, যারা সারাদেশে জঙ্গি লালন করে, তাদের সঙ্গে ঐক্য গড়ে গণতন্ত্র! এটা কি ড. কামাল হোসেন যেমন মুুক্তিযুদ্ধ করেছিলেন তেমনি ‘গণতন্ত্র’র সংগ্রাম নয়? বঙ্গবন্ধু তার পার্সোনাল স্টাফ হিসেবে ড. কামালকে বিশ্বাসের স্থানে নিলেও, তিনি ১৯৭১-এ বঙ্গবন্ধুর ডাকে মুক্তিযুদ্ধে যাননি। বরং নিজেকে নিরাপদ মনে করেছিলেন লাখো লাখো মানুষ হত্যাকারী পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর কাছে। এখানে অবশ্য খালেদা জিয়ার সঙ্গে ড. কামালের একটা মিল আছে। বঙ্গবন্ধু ২৫ মার্চ তাজউদ্দীন আহমদ, ব্যারিস্টার আমিরুল ইসলাম ও ড. কামালকে মুক্তিযুদ্ধে যাওয়ার কিছু নির্দেশ দিয়ে দ্রুত তার বাড়ি ত্যাগ করতে বললে তাজউদ্দীন আহমদ ও ব্যারিস্টার আমিরুল ইসলাম মুক্তিযুদ্ধে গেলেও ড. কামাল মুক্তিযুদ্ধে যাননি। খালেদা জিয়াকে মুজিবনগরে নিয়ে যাওয়ার জন্যে বারবার জিয়াউর রহমান লোক পাঠালেও তিনি যাননি। তিনি গিয়েছিলেন পাকিস্তানি জেনারেল জানজুয়ার নিরাপদ আশ্রয়ে। সেটাকেই তিনি যুদ্ধক্ষেত্রে জিয়ার পাশে থাকার চেয়ে বেশি নিরাপদ জায়গা মনে করেছিলেন। ব্যারিস্টার আমিরুল ইসলামের স্মৃতি কথায় আছে, তিনি, তাজউদ্দীন আহমদ ও ড. কামাল একসঙ্গে একই গাড়িতে বঙ্গবন্ধুর বাড়ি থেকে রওনা দেবার পরে রায়েরবাজার এসে কোনো কিছু না বলে ড্রাইভারের পাশে বসা ড. কামাল ড্রাইভারকে গাড়ি থামাতে বলে নেমে যান। ব্যারিস্টার আমিরুল ইসলাম তার স্মৃতি কথায় এও লিখেছেন, ড. কামাল হোসেনের এই নেমে যাওয়া তার ভালো লাগেনি। এর পরে পাকিস্তানি জেনারেলদের বই থেকে জানা যায়, এপ্রিল মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে পাকিস্তানি জেনারেলকে ফোন করে ড. কামাল তাদের সপরিবারে নিয়ে যাবার জন্যে বলেন। তারা তাকে পশ্চিম পাকিস্তানে নিয়ে যায়। পশ্চিম পাকিস্তানে ৯ মাস ড. কামাল কোথায় ছিলেন, কী করেনÑ সে রহস্য আজও উন্মোচিত হয়নি।
বঙ্গবন্ধু অনেককে ক্ষমা করেছেন। তাদের বড় বড় পদে বসিয়েছেন। ড. কামাল হোসেনও সেই ক্ষমা পাওয়াদের একজন। আর বঙ্গবন্ধু যে তাকে ক্ষমা করেছিলেন তার প্রমাণ বঙ্গবন্ধু দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়ে যখন সরকারের পদ্ধতি বদল করেন, ওই সময়ে ড. কামালকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে ঘোষণা করেন বঙ্গবন্ধু। কিন্তু ততদিনে ড. কামাল হয়তো অন্য কোনো গন্ধ পেয়ে গেছেন। যে কারণে তিনি মন্ত্রী হিসেবে শপথ না নিয়ে দিনের পর দিন অক্সফোর্ডে কাটাতে থাকেন। এ সময়ে বঙ্গবন্ধু মো. হানিফকে একদিন রাগত স্বরে বলেন, কামালকে ফোন করে জানিয়ে দাও, সে যদি দুই দিনের ভেতর দেশে না ফেরে তাহলে এবার আর আমি তাকে ক্ষমা করব না। বঙ্গবন্ধুর এই ‘এবার আর আমি তাকে ক্ষমা করব না’Ñ এ-কথা থেকে বোঝা যায় বঙ্গবন্ধু আগে একবার তাকে ক্ষমা করেছেন। আর সে ক্ষমা যে ১৯৭১-এ ৯ মাসে পাকিস্তানে বসে ড. কামাল যা করেছেন, সেই অপকর্মের জন্যে তাতে কোনো সন্দেহ থাকে না। বঙ্গবন্ধু যে শুধু মো. হানিফকে (সাবেক মেয়র, ঢাকা) এ-কথা বলেন নি, তার অন্য সহকারীদেরও বলেছিলেন তার প্রমাণ মেলে বঙ্গবন্ধুর প্রেস সচিব তোয়াব খানের কথায়। তোয়াব ভাইও বিভিন্ন সময়ে বঙ্গবন্ধু ও কামাল হোসেন প্রসঙ্গ এলে এ-কথা বলেন। এবং বঙ্গবন্ধু কতটা রাগত স্বরে বলেছিলেন তাও তোয়াব ভাইয়ের কথা থেকে বোঝা যায়।
যা হোক, ড. কামাল যে ১৯৭৫ সালের জানুয়ারি মাসেই ১৯৭৫-এর ১৫ আগস্টের গন্ধ পেয়েছিলেন তা বোঝা যায়, শেখ হাসিনার স্মৃতিচারণে। ১৯৭৫-এর ১৫ আগস্টের সংবাদ পাবার পরপরই শেখ হাসিনা ড. কামালকে বলেছিলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে তিনি যেন বহির্বিশ্বের কাছে আবেদন জানান, ’৭৫-এর খুনি সরকারকে স্বীকৃতি না দেবার জন্যে। ড. কামাল সেদিন শেখ হাসিনার এই অনুরোধ রাখেন নি। কেন রাখেন নি তার প্রমাণ এই ২০১৮ সালে এসে আরও বেশি পরিষ্কার হয়ে গেল। ড. কামালের মঞ্চে এখন মইনুল হোসেন। যিনি, ১৯৭৫-এর খুনি মোশতাকের পার্টিতে ছিলেন। আরেকজনও তার মঞ্চে যিনি ১৯৭৫-এর ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু নিহত হবার মিষ্টি বিতরণ করেছিলেন। যিনি তেল গ্যাস আন্দোলনের নেতা ইঞ্জিনিয়ার শহীদুল্লাহ। তার এই মিষ্টি বিতরণের ঘটনা জেনেছি, তাজউদ্দীন আহমদ-কন্যা সিমিন হোসেন রিমি এমপির কাছ থেকে। তিনি এ ঘটনার আদ্যোপান্ত জানেন। এছাড়া তার সঙ্গে জামাত, বিএনপি ও ইউনিভার্সিটিতে লাশ ফেলার কারিগর মান্না তো আছেই। তাই আজ ১৯৭১-এর পাকিস্তানপন্থিরা ও ১৯৭৫-এর বঙ্গবন্ধু হত্যার পক্ষের ব্যক্তিরা সকলে একই মঞ্চে এসেছেন। আর এটাই স্বাভাবিক। কারণ, শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে এমন এক জায়গায় নিয়ে এসেছেন যে, এখন ’৭১ ও ’৭৫-এর খুনিদের মুখোশ খুলে দাঁড়িয়ে শেষ চেষ্টা করতে হচ্ছে তাদের অস্তিত্ব রক্ষার জন্যে।
ড. কামাল শুধু ’৭১-এর পাকিস্তানি হানাদারদের, ’৭৫-এর বঙ্গবন্ধু খুনিদের এবং আজ জামাত ও বিএনপির মতো পেট্রল সন্ত্রাসীদেরও পুলিশ জবাইকারীদের পক্ষে এটাই শেষ নয়। তিনি যখন শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগে ছিলেন তখনও ছিলেন সন্ত্রাসীদের পক্ষে। নব্বইয়ের দশকে ছাত্রলীগের প্রতিশ্রুতিশীল নেতা ছিলেন বাগেরহাটের মনিরুজ্জামান বাদল। সৎ, তাগী ও পরিশ্রমী ছাত্রনেতা বলতে যা বোঝায় বাদল ছিলেন তাই। এই বাদলকে ’৯১ সালে টিএসসিতে শেখ হাসিনার মিটিং চলাকালে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে গুলি করে হত্যা করা হয়। বাদল হত্যার মূল উদ্দেশ্য ছিল ছাত্রলীগে প্রকৃত রাজনৈতিক কর্মীদের বদলে সন্ত্রাসীদের আধিপত্য বাড়ানোর জন্যে। তাছাড়া তৎকালীন বিএনপি সরকারি মদদ ছিল ওইসব হত্যাকারীর পেছনে। সেদিন আওয়ামী লীগের দলীয় তদন্তে তৎকালীন যুবলীগ নেতা মোস্তফা মহসিন মন্টু চিহ্নিত হন বাদল হত্যার মূল হোতা হিসেবে। শেখ হাসিনা সঙ্গে সঙ্গে সিদ্ধান্ত নেন, বাদল হত্যাকারীকে তিনি তার দলে রাখবেন না। আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্র এতই গণতান্ত্রিক যে এখানে এককভাবে কেউ কাউকে দল থেকে বহিষ্কার করতে পারেন না। দলের সর্বোচ্চ বডি অর্থাৎ ওয়ার্কিং কমিটির মিটিং ডাকতে হয়। সেদিন শেখ হাসিনার বিরোধীদলীয় নেতার বাসভবনে অর্থাৎ ২৯ মিন্টো রোডে এই ওয়ার্কিং কমিটির মিটিং ডাকা হয়। নিয়মানুযায়ী ওয়ার্কিং কমিটির মিটিংয়ে বাইরের কেউ থাকতে পারে না। তবে সেদিন ২৯ মিন্টো রোডের বাগানে এই মিটিং হওয়ায়, তৎকালীন ইত্তেফাকের ডাকসাইটে রিপোর্টার, বর্তমান প্রেসক্লাবের সভাপতি শফিকুর রহমান ভাই ও আমি সাংবাদিক হয়েও দলের অনেকের সঙ্গে ভালো সম্পর্কের কারণে পিছন দিকে দাঁড়িয়ে থাকার সুযোগ পাই। (সাংবাদিকদের তথ্য জানার জন্যে এমন অন্যায় অনেক সময় করতে হয়) তাই আমরা সেদিন নিজ চোখে দেখি ও নিজ কানে শুনি, কীভাবে বাদল হত্যাকারীর পক্ষে দাঁড়িয়েছিলেন তৎকালীন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়ামের মেম্বার ড. কামাল হোসেন। ড. কামালের সেই বক্তব্য খ-ন করে মতিয়া চৌধুরী সন্ত্রাসের বিপক্ষে এবং শেখ হাসিনার অবস্থানের পক্ষে জোরাল বক্তব্য দেন। মিসেস চৌধুরীর বক্তব্যের উত্তর দিতে ব্যর্থ হয়ে ড. কামাল শুধু উত্তেজিত হননি, ইংরেজি সøাংও ব্যবহার করেন। (ড. কামাল কি পরিমাণে সøাং বলতে অভ্যস্ত তার উদাহরণ সম্প্রতি তিনি সুপ্রিমকোর্টে অ্যার্টনি জেনারেলকে বাস্টার্ড বলেন) তার সøাং ব্যবহার শুনে অতিমাত্রায় ভদ্রলোক প্রয়াত আবদুল জলিল, তৎকালীন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক (পরবর্তীতে সাধারণ সম্পাদক) যে বক্তব্য রাখেন তা ভদ্রতার একটি ইতিহাস। তিনি কামাল হোসেনকে ইংরেজি সøাং বলতে নিষেধ করেন। তাকে স্মরণ করিয়ে দেন, তিনি আওয়ামী লীগের মতো দলের ওয়ার্কিং কমিটিতে বক্তব্য রাখছেন। সেদিন ড. কামাল হোসেন ছাড়া বাদবাকি সকলের সম্মিলিত সিদ্ধান্তে বাদল হত্যাকারী হিসেবে অভিযুক্ত মোস্তফা মহসিন মন্টুকে আওয়ামী লীগে থেকে বহিষ্কার করা হয়। সেই মোস্তফা মহসিন মন্টু এখনও ড. কামালের দলের মহাসচিব।

রাজাকার ও সন্ত্রাসীদের মৃত্যুর মুখ থেকে বাঁচাতে ড. কামাল
ড. কামাল হোসেনের অতীত ও বর্তমান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সবসময়ই তিনি রাজাকার ও সন্ত্রাসীদের পক্ষে। আর আজ যখন রাজকার ও সন্ত্রাসীরা অর্থাৎ জামাত ও বিএনপি চরম সংকটে। দেশ গণতন্ত্র ও মুক্তিযুদ্ধের ধারায় ফিরে আসছে। বাংলাদেশকে মুক্তিযুদ্ধ ও গণতন্ত্রের ধারায় ফিরিয়ে আনতে হলে এদেশে অবশ্যই বিএনপি ও জামাতকে নিশ্চিহ্ন করার প্রয়োজন আছে। কারণ এ দুটি শক্তি যতদিন রাজনীতিতে থাকবে ততদিন সন্ত্রাস ও রাজাকাররা থাকবে। কারণ, বাংলাদেশের জন্যে সব থেকে বড় দুর্ভাগ্য এখানে অনেক রাজাকারের সন্তান রাজাকার হচ্ছে। অথচ ইউরোপে যুদ্ধাপরাধীর সন্তান যুদ্ধাপরাধী হয়নি। এর বড় কারণ হচ্ছে বাংলাদেশে ১৯৭৫-এর ১৫ আগস্টের প্রতিবিপ্লব। এই প্রতিবিপ্লবের মাধ্যমে মূলত রাজাকার আলবদরাই ক্ষমতায় ফেরে। আর তারা দেশে রাজকারী ও আলবদরী মতবাদ এমনভাবে লালন করতে থাকে যে তাদের পরবর্তী রাজাকার পরিবারের সবগুলো প্রজন্ম রাজাকারী ভাবধারায় গড়ে ওঠে। অথচ আমরা লক্ষ করলে দেখতে পাই, ইউরোপ ও আমেরিকায় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের যুদ্ধাপরাধীদের আজও বিচার চলছে। তাদের স্বপক্ষে কোনো কথা বলার সুযোগ সেখানে নেই। তাই সেখানে যুদ্ধাপরাধীর ছেলেমেয়েরা যুদ্ধাপরাধী হয়নি। তারা আধুনিক ও উদারনৈতিক হয়েছে। এ কারণে বাংলাদেশেও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার স্বপক্ষের শাসনের দীর্ঘ ধারাবাহিকতা প্রয়োজন। যাতে ইউরোপ বা আমেরিকার মতো এখানেও যুদ্ধাপরাধীরা কোনোদিন মাথা তুলতে না পারে। শেখ হাসিনার ১০ বছরের শাসনে রাজাকার, যুদ্ধাপরাধীসহ সকল সন্ত্রাসীর কোমর ভেঙে গেছে। আগামী নির্বাচনে তাদের পরাজয় হলে তারা আরও নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে। এটাই এখন এদেশের বাস্তবতা। বর্তমানের এই বাস্তবতায় রাজকার ও সন্ত্রাসীদের এই মৃত্যুমুখ থেকে বাঁচানোর জন্যেই মূলত অশীতিপর বৃদ্ধ হলেও রাজাকার ও সন্ত্রাসীদের কাঁধে ভর দিয়ে রাস্তায় নেমেছেন ড. কামাল। উদ্দেশ্য একটাই, বাংলাদেশ যেন স্থিতিশীল না হয়Ñ দেশ স্বাধীন হবার পর থেকে পাকিস্তান এটাই চাচ্ছে। আর তারা তাদের এজেন্টদের মাধ্যমে সবসময়ই এ কাজ করাচ্ছে। কামাল হোসেনেরও বর্তমান দায়িত্ব দেশকে অস্থিতিশীল করা। যাতে গণতন্ত্র ও দেশ বিপাকে পড়ে। ষড়যন্ত্রের রাজনীতি আবার ফিরে আসার পথ পায়।

শ্রেণী:

১৯ জনের মৃত্যুদ- : ১৯ জনের যাবজ্জীবন

PM

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার রায়

PMআনিস আহামেদ: ১৪ বছর পর ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার রায় হলেও নিহত স্বজনদের চোখের পানি মুছেনি। কান্নায় ক্ষোভে ফুঁসেছেন তারা। মামলার রায় পেয়েও তারা পাননি স্বজন হারানোর সান্ত¦না। আহতরা পাননি শরীরে বয়ে বেড়ানো গ্রেনেডের স্পিøন্টারের যন্ত্রণা ভোলার সান্ত¦না; বরং বাড়িয়ে দিয়েছে তাদের যন্ত্রণা। তারা পায়নি তাদের কাক্সিক্ষত রায়। মৃত্যুদ- হয়নি এ হামলার মাস্টারমাইন্ড তারেক রহমানের। বহুল আলোচিত বর্বরোচিত ভয়াবহ একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলার মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর ও সাবেক উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুসহ ১৯ জনের মৃত্যুদ-ের আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরীসহ ১৯ জনকে যাবজ্জীবন কারাদ-ের আদেশ দেওয়া হয়েছে। অবশিষ্ট ১১ আসামির বিরুদ্ধে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদ- হয়েছে। গত ১০ অক্টোবর ঢাকার এক নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক শাহেদ নূর উদ্দিন বেলা ১২টায় পিনপতন নীরবতার মধ্যে হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে করা আলোচিত দুই মামলার রায় ঘোষণা করেন। কারাদ-ের আসামিদের হাজতবাসকালীন সময় সাজা থেকে বাদ যাবে। এবং ৩০ দিনের মধ্যে এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে। ফাঁসির দ-ের মধ্যে গোয়েন্দা সংস্থার সাবেক দুই প্রধানও রয়েছেন। এছাড়া সাবেক তিন আইজিপিসহ আট পুলিশ কর্মকর্তাকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে।
রায় ঘোষণার পর আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, গ্রেনেড হামলা মামলার ঘটনার মূল হোতা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমানেরও সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদ- হওয়া উচিত ছিল। কারণ তিনি ষড়যন্ত্রের মূল হোতা। রায়ের কাগজপত্র পাওয়ার পর আমরা চিন্তা-ভাবনা করব। আপিল করব কি না? রায়ে রাষ্ট্রপক্ষের চিফ প্রসিকিউটর সৈয়দ রেজাউর রহমান বলেন, এ রায়ের মধ্য দিয়ে জাতি কলঙ্কমুক্ত হয়েছে। এ রায় পর্যালোচনা করে পরে প্রতিক্রিয়া জানানো হবে। আমরা রায় ও আদেশ পর্যালোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেব। প্রসিকিউশন টিম আছে সেখানে পর্যালোচনা করে আসামিদের সাজা বাড়াতে আপিল করব কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
বিএনপি-জামাতের জোট সরকারের আমলে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের এক সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশে ভয়াবহ গ্রেনেড হামলার ঘটনা ঘটে। ওই নৃশংস হামলায় ২৪ জন নিহত ও নেতাকর্মী-আইনজীবী-সাংবাদিকসহ পাঁচ শতাধিক লোক আহত হন। নিহতদের মধ্যে ছিলেন তৎকালীন মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের পতœী আইভি রহমান। তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগের প্রথম সারির অন্যান্য নেতা এই গ্রেনেড হামলা থেকে বেঁচে যান। দীর্ঘ ১৪ বছর ২ মাস ১৯ দিনের মাথায় গ্রেনেড হামলা মামলার রায় ঘোষণা করা হলো।

’৭৫-এর ধারাবাহিকতায় রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস : গ্রেনেড হামলা মামলার বিচারক রায়ের পর্যবেক্ষণে বলেছেন, ২১ আগস্টের ভয়াবহ গ্রেনেড হামলার যে ষড়যন্ত্র, তার মূল পরিকল্পনা হয়েছিল হাওয়া ভবনে। ইনডেমনিটি বিলের মাধ্যমে বিভিন্ন ষড়যন্ত্র দেশে শুরু হয়। বঙ্গবন্ধু হত্যার দীর্ঘ ২৩ বছর ২ মাস পর জাতি, জাতির পিতা হত্যার দায় থেকে কলঙ্কমুক্ত হয় বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। ১৫ আগস্ট ১৯৭৫ জাতির পিতাকে হত্যা করার পর চার জাতীয় চার নেতাকে হত্যা করা হয়। কিন্তু ষড়যন্ত্র থেমে না গিয়ে বহমান থাকে। পরবর্তীতে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট শনিবার আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বশূন্য করার হীন প্রচেষ্টা চালানো হয়। শেখ হাসিনাকে ‘হালকা নাশ্তা’ করানো হবে : এই উদ্ধৃতি দিয়ে দেশীয় জঙ্গি সংগঠনের কতিপয় সদস্য আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠনের সহায়তায় হামলা করে। তৎকালীন রাষ্ট্রযন্ত্রীয় সহায়তায় প্রকাশ্য দিবালোকে ঘটনাস্থল আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয় ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ের সম্মুখেযুদ্ধে ব্যবহৃত স্পেশালাইজড মারণাস্ত্র, আর্জেস গ্রেনেড বিস্ফোরণের মাধ্যমে ঘটনা ঘটানো হয়। প্রশ্ন ওঠে কেন এই মারণাস্ত্রের ব্যবহার? রাজনীতি মানেই কি বিরোধী দলের ওপর পৈশাচিক আক্রমণ? শুধু আক্রমণই নয় দলকে নেতৃত্বশূন্য করার ঘৃণ্য অপচেষ্টা। রাজনীতিতে অবশ্যম্ভাবীভাবে ক্ষমতাসীন দল ও বিরোধী দলের মধ্যে শত বিরোধ থাকবে। তাই বলে বিরোধী দলকে নেতৃত্বশূন্য করার প্রয়াস চালানো হবে। এটা কাম্য নয়। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের ক্ষমতায় যে দলই থাকবে, বিরোধী দলের প্রতি তাদের উদার নীতি প্রয়োগের মাধ্যমে গণতন্ত্র সুপ্রতিষ্ঠিত করার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা থাকতে হবে। বিরোধীদলীয় নেতাদের হত্যা করে ক্ষমতাসীনদের রাজনৈতিক ফায়দা অর্জন করা মোটে গণতান্ত্রিক চিন্তার বহিঃপ্রকাশ নয়।
গত ১৮ সেপ্টেম্বর উভয়পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হলে রায় ঘোষণার জন্য গত ১০ অক্টোবর তারিখ ধার্য করে দেন আদালত। সে অনুযায়ী ১০ অক্টোবর জনাকীর্ণ রায় ঘোষণা করেন আদালত। কার্যক্রম শুরুর আগেই কারাগারে থাকা ৩১ আসামিকে এজলাসে হাজির করা হয়। ১৮ আসামি পলাতক।
যাদের মৃত্যুদ- দেওয়া হয়েছে : আদালত ১৯ আসামিকে মৃত্যুদ- দিয়েছেন। তারা হলেনÑ সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর (উপস্থিত), বিএনপি-জামাত জোটের সাবেক উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টু (উপস্থিত), তার ভাই মাওলানা তাইজউদ্দীন (পলাতক), হুজির সাবেক আমির মাওলানা শেখ আবদুস সালাম (উপস্থিত), কাশ্মীরী জঙ্গি আবদুল মাজেদ ভাট (উপস্থিত), আবদুল মালেক ওরফে গোলাম মোহাম্মদ ওরফে জিএম (উপস্থিত), মাওলানা শওকত ওসমান (উপস্থিত), মহিবুল্লাহ ওরফে অভি (উপস্থিত), মাওলানা আবু সাঈদ ওরফে ডা. জাফর (উপস্থিত), আবুল কালাম আজাদ ওরফে বুলবুল (উপস্থিত), জাহাঙ্গীর আলম (উপস্থিত), হাফেজ মাওলানা আবু তাহের (উপস্থিত), হোসাইন আহম্মেদ তামিম (্উপস্থিত), মঈন উদ্দিন শেখ ওরফে মুফতি মঈন ওরফে আবু জান্দাল (উপস্থিত), মো. রফিকুল ইসলাম ওরফে সবুজ ওরফে খালিদ সাইফুল্লাহ ওরফে শামিম ওরফে রাশেদ (উপস্থিত), মো. উজ্জ্বল (উপস্থিত), এনএসআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরী (উপস্থিত), ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবদুর রহিম (উপস্থিত) ও হানিফ পরিবহনের মালিক হানিফ (উপস্থিত)। এই আসামিদের দ-বিধি ৩০২, ১২০ খ, ৩৪ ধারায় হত্যার দায়ে মৃত্যুদ-ের পাশাপাশি ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। দ-বিধির ৩০৭ ধারায় অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে গুরুতর জখম করার দায়ে যাবজ্জীবন কারাদ- ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদ- দেওয়া হয়েছে। বিস্ফোরক আইনের ৩ ও ৬ ধারায় হত্যার দায়ে মৃত্যুদ-ের পাশাপাশি ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। বিস্ফোরক আইনের ৪ ও ৬ ধারায় অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে গুরুতর জখম করার দায়ে ২০ বছরের কারাদ- ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদ- দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে এই ১৯ আসামির ক্ষেত্রে কেবল মৃত্যুদ-ের শাস্তিই কার্যকর হবে। মৃত্যু পর্যন্ত ফাঁসিতে ঝুলিয়ে তাদের দ- কার্যকর করতে বলা হয়েছে রায়ে।

যাদের যাবজ্জীবন কারাদ- হয়েছে : এ মামলায় ১৯ জনকে যাবজ্জীবন সাজা দেওয়া হয়েছে। যাদের যাবজ্জীবন কারাদ- দেওয়া হয়েছে তারা হলেনÑ বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান (পলাতক), খালেদা জিয়ার সাবেক রাজনৈতিক উপদেষ্টা হারিছ চৌধুরী (পলাতক), বিএনপি নেতা ও সাবেক এমপি কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ (পলাতক), হুজি সদস্য হাফেজ মাওলানা ইয়াহিয়া, শাহাদাৎ উল্লাহ ওরফে জুয়েল (উপস্থিত), মাওলানা আবদুর রউফ ওরফে আবু হোমাইরা ওরফে পীর সাহেব (উপস্থিত), মাওলানা সাব্বির আহমেদ আহম্মেদ ওরফে আবদুল হান্নান সাব্বির (উপস্থিত), আরিফ হাসান ওরফে সুমন ওরফে আবদুর রাজ্জাক (উপস্থিত), আবুবকর ওরফে হাফেজ সেলিম মাওলাদার (উপস্থিত), আরিফুল ইসলাম আরিফ (উপস্থিত), হাফেজ মাওলানা ইয়াহিয়া (উপস্থিত) মহিবুল মুত্তাকিন ওরফে মুত্তাকিন (পলাতক), আনিসুল মুরছালিন ওরফে মুরছালিন (পলাতক), মো. খলিল (পলাতক), জাহাঙ্গীর আলম বদর (পলাতক), মো. ইকবাল, লিটন ওরফে মাওলানা লিটন (পলাতক), মুফতি শফিকুর রহমান, মুফতি আবদুল হাই (পলাতক), রাতুল আহমেদ ওরফে রাতুল বাবু (পলাতক)। তাদের দ-বিধি ৩০২, ১২০ খ, ৩৪ ধারায় যাবজ্জীবন কারাদ-, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদ- দেওয়া হয়েছে। দ-বিধি ৩০৭, ১২০ খ, ৩৪ ধারায় যাবজ্জীবন কারাদ-, ৫০ হাজার টাকা জনিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদ- দেওয়া হয়েছে। বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের ৩ ও ৬ ধারায় যাবজ্জীবন, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদ- দেওয়া হয়েছে।
বিস্ফোরক আইনের ৪ ও ৬ ধারায় ২০ বছরের কারাদ- ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদ- দেওয়া হয়েছে। সব সাজা একযোগে কার্যকর হবে বলে এই ১৯ আসামির ক্ষেত্রে কেবল যাবজ্জীবন কারাদ- কার্যকর হবে।

১১ জনকে ভিন্ন মেয়াদে কারাদ- : এছাড়া পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আশরাফুল হুদা (উপস্থিত) ও শহুদুল হক (উপস্থিত), খালেদা জিয়ার ভাগ্নে লেফটেন্যান্ট কমান্ডার (অব.) সাইফুল ইসলাম ডিউক (উপস্থিত), লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) সাইফুল ইসলাম জোয়ার্দ্দার (পলাতক), মেজর জেনারেল (অব.) এটিএম আমিন (পলাতক), ডিএমপির সাবেক উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) খান সাঈদ হাসান (পলাতক), আরেক সাবেক উপ-কমিশনার (পূর্ব) ওবায়দুর রহমান খান (পলাতক), সাবেক আইজিপি খোদাবক্স চৌধুরী (উপস্থিত), সিআইডির সাবেক বিশেষ সুপার রুহুল আমিন (উপস্থিত), সাবেক এএসপি আবদুর রশিদ (উপস্থিত), সাবেক এএসপি মুন্সি আতিকুর রহমান (উপস্থিত) দুই বছর করে কারাদ- ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাস করে সশ্রম কারাদ- দেওয়া হয়েছে। আরেক ধারায় খোদা বক্স চৌধুরী, রুহুল আমিন, আবদুর রশিদ ও মুন্সি আতিকুর রহমানকে তিন বছর করে কারাদ- ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাস করে কারাদ- দিয়েছেন আদালত। চৌদ্দ বিবেচ্য বিষয় নির্ধারণ করে তা পর্যালোচনা, সাক্ষ্য-তথ্য প্রমাণের আলোকে এ মামলার রায় ও আদেশ দেওয়া হয়েছে বলে আদালতের রায়ে বলা হয়।

১৪ বিবেচ্য বিষয় : ১৪ বিবেচ্য বিষয় নির্ধারণ করে তা পর্যালোচনা, সাক্ষ্য-তথ্য প্রমাণের আলোকে এ মামলার রায় ও আদেশ দেওয়া হয়েছে বলে আদালতের রায়ে বলা হয়। এ বিবেচ্য বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে : ১) অভিন্ন অভিপ্রায়ে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রমূলক সভা করে পূর্বপরিকল্পিতভাবে আসামি আহসান উল্লাহ কাজলের ভাড়া করা ফ্লাটে বাড়ি নং ম-৩০ পশ্চিম মেরুল বাড্ডায় মৃত জয়নাল আবেদিনের তিনতলা বাড়ির গ্যারেজ সংলগ্ন পূর্ব পার্শে¦র তিন কক্ষবিশিষ্ট ফ্ল্যাটে থেকে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট ঘটনাস্থল ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে হামলার জন্য আসামিরা একত্রিত হয়ে পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি গ্রহণ করে কি না ও গ্রেনেড নিক্ষেপকারীরা এই ঘটনাস্থল থেকে গ্রেনেড সংগ্রহ করে কি না; ২) অবসরপ্রাপ্ত খাদ্য পরিদর্শক রুহুল আমিনের বাড়ি হোল্ডিং নম্বর ২/৫ আনন্দনগর বাড্ডা, আসামি মুফতি আবদুল হান্নান মুন্সি উক্ত বািড় ভাড়া নিয়ে অভিন্ন অভিপ্রায়ে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র করে জঙ্গি কর্মে নিযুক্ত ছিল কি না; ৩) মেরুল বাড্ডার রাউজক প্লট নং-৫৩ লে. কর্নেল গোলাম রাব্বানী (অব.)-এর চারতলা বাড়ির তৃতীয় তলার উত্তর অংশের ফ্ল্যাট আসামিগণ ভাড়া নিয়ে গ্রেনেড সংরক্ষণ করত কি না। এবং বিভিন্ন গ্রেনেড হামলায় উক্ত বাড়ি থেকে গ্রেনেড সরবরাহ হয়েছে কি না; ৪) রোড নং-৫/এ, বাড়ি নং-৬১, ধানমন্ডির আবাসিক এলাকার, বাড়িটি বিএনপি-জামাত চারদলীয় জোট সরকারের উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুর দ্বিতল সরকারি বাসভবন, উক্ত বাসভবনে ১৮.০৮.০৪ইং তারিখে আবদুস সালাম পিন্টু, লুৎফুজ্জামান বাবর, আসামি মুফতি হান্নান মুন্সি, আসামি আহসান উল্লা কাজল, মাওলানা আবু তাহের, মাওলানা তাইজ উদ্দিনগণ ২১.০৮.০৪ইং তারিখে আওয়ামী লীগের জনসভায় গ্রেনেড হামলার মাধ্যমে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দকে গ্রেনেড নিক্ষেপ করে হত্যার ষড়যন্ত্র করে কি না। ১৮.০৮.০৪ তারিখে পরিকল্পনা গ্রহণ করে গ্রেনেড প্রাপ্তি, অর্থবল, প্রশাসনিক সহায়তা বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণপূর্বক ২০.০৮.০৪ তারিখে আসামি আহসান উল্লাহ কাজল ও মুফতি মঈন ওরফে আবু জান্দাল তৎকালীন উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুর ধানমন্ডির বাসা থেকে আসামি মাওলানা তাইজ উদ্দিনের সরবরাহকৃত ১৫টি আর্জেস গ্রেনেড এবং নগদ ২০ হাজার টাকা সংগ্রহ করেন কি না; ৫) প্লট নং-৩, সেকশন-১, ব্লক-সি, মিরপুর মসজিদ-ই-আকবর আসামি আবু তাহের শিক্ষকতা করতেন কি না। ১৯.০৮.০৪ তারিখে আসামি আহসান উল্লা কাজল, মাওলানা আবু তাহের, আবদুস সালাম পিন্টু, মুফতি মঈন পরিকল্পনা ও অপরাধ সংঘটনের জন্য প্রয়োজনীয় শলাপরামর্শ ও ষড়যন্ত্র করেন কি না; ৬) ৩/১১ আলী অ্যান্ড নুর রিয়াল এস্টেট সাত মসজিদ রোড মোহাম্মদপুর বাড়ির নিচতলায় হরকত-উল-জিহাদ আল ইসলামী সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালিত হতো কি না; ৭) গুলশান থানাধীন লালাসরাই মৌজাস্থিত রোড নং-১৩, ব্লক নং-ডি, বাড়ি নং-৫৩, বনানী মডেল টাউনস্থ জনৈক আশেক আহম্মেদ পিতা আবদুল খালেকের বাসা, যে বাসাটি হাওয়া ভবন নামে পরিচিত, উক্ত হাওয়া ভবন বিএনপি-জামাত ঐক্য জোট সরকারের কার্যক্রমের কেন্দ্রবিন্দু ছিল কি না। উক্ত ঘটনাস্থলে পলাতক তারেক রহমান অপরাধ সংঘটনের জন্য ষড়যন্ত্রমূলক সভা করে কি না। ও জঙ্গি নেতারা তারেক রহমানের সঙ্গে বিভিন্ন সময় মিটিং করে কি না; ৮) মোহাম্মদপুর থানাধীন আলী অ্যান্ড নুর রিয়েল এস্টেট এলাকাধীন সাত গম্বুজ মসজিদে ঘটনার পূর্বে আসামি মুফতি আবদুল হান্নান মুন্সি, মাওলানা আবদুস সালাম, মাওলানা তাইজ উদ্দিন, মাওলানা আবদুর রউফ, আবদুল মাজেট ভাট, অভিন্ন অভিপ্রায়ে ও ষড়যন্ত্রমূলক সভা করে তৎকালীন বিরোধীদলীয় ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ নেতাদের হত্যার পরিকল্পনা করে কি না; ৯) মোহাম্মদপুর সুপার মার্কেটের কাছে জেহাদ আল ইসলামীর অফিসে ও খিলগাঁও থানা এলাকায় হরকত-উল-জিহাদ আল ইসলামী বাংলাদেশের প্রধান কার্যালয়ে বিভিন্ন সময় আসামিগণ অভিন্ন অভিপ্রায়ে অপরাধ অপরাধমূলক সভা ও ষড়যন্ত্র করে কি না; ১০) অভিন্ন অভিপ্রায়ে ও পূর্ব পরিকল্পনার আলোকে পরস্পর যোগসাজশে উদ্দেশ্যমূলকভাবে ঘটনায় জাড়িত আসামিদের গ্রেনেড আক্রমণ পরিচালনার সুবিধার্থে ও অপরাধীদের রক্ষার্থে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করার অপরাধ সংঘটিত হয়েছে কি না; ১১) অভিন্ন অভিপ্রায়ে ও পূর্ব পরিকল্পনার আলোকে প্রশাসনিক সহায়তা প্রদান করে মামলার ঘটনার ব্যবহৃত অবিস্ফোরিত সংরক্ষণযোগ্য তাজা গ্রেনেড আলামত হিসেবে জব্দ করার পর ও তা সংরক্ষণের ব্যবস্থা না করে এবং আদালতের অনুমতি গ্রহণ না করে অপরাধীদের বাঁচানোর উদ্দেশ্যে সেনাবাহিনী কর্তৃক ধ্বংস করার ও আলামত নষ্ট করার অপরাধ সংঘটিত হয়েছে কি না; ১২) অভিন্ন অভিপ্রায়ে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র সংক্রান্ত সভা ও পূর্ব পরিকল্পনার আলোকে পরস্পর যোগসাজশে উদ্দেশ্যমূলকভাবে আসামিদের সহায়তা করার লক্ষ্যে আসামিদের নির্বিঘেœ ঘটনাস্থল ত্যাগ করতে ও পরবর্তীতে আসামিদের অপরাধের দায় থেকে বাঁচানোর সুযোগ করে দেওয়ার অপরাধ সংঘটিত হয়েছে কি না; ১৩) প্রকৃত আসামিগণের বিরুদ্ধে কোনো প্রকার আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ না করে বরং তাদের রক্ষা করার জন্য প্রলোভন ও ভয়ভীতি দেখিয়ে অন্য লোকের ওপর দায় বা দোষ চাপিয়ে প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করার লক্ষ্যে মিথ্যা ও বানোয়াট স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করার অপরাধ সংঘটিত হয়েছে কি না; ১৪) উল্লেখিত ঘটনাস্থলসমূহে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র ও পূর্ব পরিকল্পনা করে পরবর্তীতে মূল ঘটনাস্থল আওয়ামী লীগ কার্যালয় ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ের সম্মুখে ঘটনার তারিখ ও সময় আর্জেস গ্রেনেড হামলার প্রেক্ষিতে আওয়ামী লীগের নেতৃস্থানীয় নেতাকর্মীসহ                ২৪ জনকে হত্যা এবং তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী ও                  বর্তমান প্রধানমন্ত্রীসহ অসংখ্য নেতাকর্মীকে গুরুতর আহত               করার অপরাধে আসামিগণকে দ-বিধির ১২০বি/৩২৪/৩২৬/৩০৭/৩০২/১০৯/২০১/২১২/২১৭/২১৮/২৩০ ও ৩৪ ধারায় শাস্তি প্রদান করা যায় কি না।

আদালতের পর্যবেক্ষণ : রায়ের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, ২১ আগস্টের ভয়াবহ গ্রেনেড হামলার যে ষড়যন্ত্র, তার মূল পরিকল্পনা হয়েছিল হাওয়া ভবনে। ইনডেমনিটি বিলের মাধ্যমে বিভিন্ন ষড়যন্ত্র দেশে শুরু হয়। বঙ্গবন্ধু হত্যার দীর্ঘ ২৩ বছর ২ মাস পর জাতি, জাতির পিতা হত্যার দায় থেকে কলঙ্কমুক্ত হয় বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। ১৫ আগস্ট ১৯৭৫ জাতির পিতাকে হত্যা করার পর চার জাতীয় চার নেতাকে হত্যা করা হয়। কিন্তু ষড়যন্ত্র থেমে না গিয়ে বহমান থাকে। পরবর্তীতে ২০০৩ সালের ২১ আগস্ট শনিবার আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বশূন্য করার হীন প্রচেষ্টা চালানো হয়। শেখ হাসিনাকে হালকা নাশতা করানো হবে : এই উদ্ধৃতি দিয়ে দেশীয় জঙ্গি সংগঠনের কতিপয় সদস্য আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠনের সহায়তায় হামলা করে। তৎকালীন রাষ্ট্রযন্ত্রীয় সহায়তায় প্রকাশ্য দিবালোকে ঘটনাস্থল আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয় ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ের সম্মুখে যুদ্ধে ব্যবহৃত স্পেশালাইজড মারণাস্ত্র, আর্জেস গ্রেনেড বিস্ফোরণের মাধ্যমে ঘটনা ঘটানো হয়। প্রশ্ন ওঠে কেন এই মারণাস্ত্রের ব্যবহার? রাজনীতি মানেই কি বিরোধী দলের ওপর পৈশাচিক আক্রমণ? শুধু আক্রমণই নয় দলকে নেতৃত্বশূন্য করার ঘৃণ্য অপচেষ্টা। রাজনীতিতে অবশ্যম্ভাবীভাবে ক্ষমতাসীন দল ও বিরোধী দলের মধ্যে শত বিরোধ থাকবে। তাই বলে বিরোধী দলকে নেতৃত্বশূন্য করার প্রয়াস চালানো হবে। এটা কাম্য নয়। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের ক্ষমতায় যে দলই থাকবে, বিরোধী দলের প্রতি তাদের উদার নীতি প্রয়োগের মাধ্যমে গণতন্ত্র সুপ্রতিষ্ঠিত করার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা থাকতে হবে। বিরোধীদলীয় নেতৃবৃন্দকে হত্যা করে ক্ষমতাসীদের রাজনৈতিক ফায়দা অর্জন করা মোটেই গণতান্ত্রিক চিন্তার বহিঃপ্রকাশ নয়। সাধারণ জনগণ রাজনীতি চায় না। সাধারণ জনগণ চায় যে কোনো রাজনৈতিক দলের সভা, সমাবেশে যোগ দিয়ে সেই দলের নীতি, আদর্শ ও পরিকল্পনা সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান ধারণ করা। আর সেই সভা সমাবেশে আর্জেস গ্রেনেড বিস্ফোরণ করে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ জনগণকে হত্যার এ ধারা চালু থাকলে পরবর্তীতে দেশের সাধারণ জনগণ রাজনীতিবিমুখ হয়ে পড়বে। অত্রাদালত চায় না সিলেটে হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর দরগা শরিফের ঘটনার সাবেক অর্থমন্ত্রী এসএম কিবরিয়ার ওপর নৃশংস হামলার, রমনা বটমূলে সংঘটিত বোমা হামলার এবং অত্র মোকদ্দমার ঘটনার তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ওপর নৃশংস বর্বরোচিত গ্রেনেড হামলার পুনরাবৃত্তি।
অত্রাদালত সাক্ষীর কাঠগড়ায় গ্রেনেড হামলায় গুরুতর আহত মাকে দুর্বিষহ কষ্ট পেয়ে মৃত্যুবরণ প্রত্যক্ষ করা পিডাব্লিউ ১৯৭ নাজমুল হাসান পাপনের ও তৎ স্ত্রী পিডাব্লিউ ১৯৮ রোকসানা হাসানের কষ্ট প্রত্যক্ষ করেছেন, আরও প্রত্যক্ষ করেছেন পিডাব্লিউ ১৭৫ মোসাম্মাৎ উম্মে কুলসুম রেনুকা, নুজহাত এ্যানী, রাশেদা আক্তার রুমা, নীলা চৌধুরী ঘটনার সময় ঘটনাস্থল থেকে যারা গ্রেনেড হামলার মারাত্মকভাবে জখম হয়ে দেশে-বিদেশে চিকিৎসার পরও এখনও দুর্বিষহ জীবনযাপন করছেন তাদের চোখে ঘুম নেই গ্রীষ্ম বা শীত সব সময়ই শরীরের বিভিন্ন অংশে স্পিøন্টারের তীব্র যন্ত্রণার কুঁকড়ে যাচ্ছেন। যাদের পরিবারের সুস্থ সদস্যগণ প্রাণহীনভাবে বেঁচে রয়েছেন তাদের আদালত গভীরভাবে পর্যালোচনা করেছেন। পিডাব্লিউ অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন এমপি, কাজী জাফরুল্লাহ, সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাসিম এমপির আদালতে সাক্ষ্য, ঘটনার তারিখে সময়ে ঘটনাস্থলেই যে মারাত্মক ও ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছিল সে মর্মে বক্তব্য। আদালত গভীরভাবে পিডাব্লিউ ১২৭ অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত, নাক কান, গলা, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে যিনি তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রীর কানের চিকিৎসা করেন। তার জবানবন্দি পর্যালোচনা করা হয়। ঘটনার সময় ভয়াবহ গ্রেনেড হামলার ফলে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রীর ডান কানে গুরুতর জখম হয়। আসামিগণকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানের মাধ্যমে উল্লেখিত নৃশংস ও ন্যক্কারজনক ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ সম্ভব বলে আদালত মনে করেন।
সার্বিক পর্যালোচনায় দেখা যায়, মূল ঘটনার পূর্বে বিভিন্ন ঘটনাস্থলে অত্র মোকদ্দমার আসামিগণ অভিন্ন অভিপ্রায়ে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র সভা করে পরিকল্পিতভাবে অত্র মোকদ্দমার ঘটনাস্থল ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউর সামনে ঘটনার তারিখ ও সময় মারাত্মক সমরাস্ত্র আর্জেস গ্রেনেডের বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীসহ ২৪ জনকে হত্যা করে ও শতাধিক নেতাকর্মীকে মারাত্মকভাবে জখম করে মর্মে আসামিগণের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রসিকিউশন পক্ষ প্রমাণে সক্ষম হয়েছে। সে প্রেক্ষিতে আসামিগণকে শাস্তি প্রদান করা যুক্তিসংগত বলে অত্রাদালত মনে করেন।

শ্রেণী:

সাংবাদিকদের ‘নৈতিকতার নীতিমালা বাস্তবায়ন করতে হবে’

Posted on by 0 comment
PM
PM

ফসেবুক স্ট্যাটাসে সজীব ওয়াজদে জয়

উত্তরণ প্রতিবেদন: ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বিরোধীদের সমালোচনা করে এই সম্পর্কে নিজের মতামত তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। তার ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসে নিজের মতামত তুলে ধরেন তিনি।
কিছু মহল থেকে নতুন ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের সমালোচনা করা হচ্ছে। তাদের মূল আপত্তির জায়গা আইনটির বিশেষ কিছু ধারা। আইসিটি ডিভিশন যখন আইনটির খসড়াগুলো তৈরি করে তখন সেগুলো দেখার সুযোগ আমার হয়েছিল। সকলের সুবিধার্থে এ বিষয়ে আমার মতামত তুলে ধরছিÑ
সরকারি অফিসের কম্পিউটারে হ্যাকিং এবং গোপনে নজরদারির ক্ষেত্রে আইনের দরকার জনগণের তথ্য ও গোপনীয়তা রক্ষার স্বার্থেই। এই আইনের আগে হ্যাকিং ও তথ্য চুরির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কোনো আইনি ভিত্তি দেশে ছিল না। তাহলে এই আইনের সাহায্য ছাড়া কীভাবে হ্যাকিং ও তথ্য চুরির বিচার হবে? সরকারি কম্পিউটারে জনগণের জাতীয় পরিচয়পত্রসহ নাগরিকদের অনেক রকম তথ্য সংগৃহীত থাকে। ব্যাংক হিসাব, স্বাস্থ্যবিষয়ক তথ্য, জমির রেকর্ড সবকিছুই আজকাল ডিজিটাইজ করে সংগ্রহ করা হচ্ছে। এগুলো যদি হ্যাক করা হয়, তার দায়ভার কে নেবেন? দায় কিন্তু তখন সরকারের উপরই আসবে। তাই, তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা হিসেবে আমি এই আইন প্রণয়নের সুপারিশ করি হ্যাকিং ঠেকানোর জন্য।
শুধু তাই নয়, সরকারি অফিসে ডিজিটাল নজরদারির মাধ্যমে জনগণের তথ্য সম্বলিত বিভিন্ন দলিল বা নথির ছবি বা ভিডিও তোলাও সম্ভব। গোপনে অডিও রেকর্ডিংয়ের মাধ্যমেও নাগরিকদের অনেক সংবেদনশীল তথ্যের আলোচনা শুনে ফেলা সম্ভব, এমনকি ওয়াই-ফাই পাসওয়ার্ডও। এর মাধ্যমে হয়তো একজন সাংবাদিকের কাজ কঠিন হয়ে যেতে পারে। কিন্তু কারও দুর্নীতি ফাঁস করার জন্য একজন সাংবাদিকের কি সরকারি অফিসের কম্পিউটার হ্যাক করে নাগরিকদের সংবেদনশীল তথ্য চুরির অধিকার থাকা উচিত? পৃথিবীর কোনো দেশই কিন্তু বে-আইনিভাবে সাংবাদিকদের তথ্য সংগ্রহ করার সুযোগ দেয় না, এমনকি যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপিয়ান ইউনিয়নও না। সরকারি অফিসে গোপনে নজরদারি করা সবদেশেই আইনবহির্ভূত, সাংবাদিকদের জন্যও। সাংবাদিকদের তাদের তথ্য অন্যান্য সূত্র থেকে জোগাড় করতে হয়। যেইসব কূটনৈতিক মিশন এই আইনটি নিয়ে আপত্তি তুলেছেন তাদেরকে আমি একটি প্রশ্ন করতে চাই : সাংবাদিকরা কি আপনাদের দূতাবাসের ভেতরে গোপনে নজরদারি করার যন্ত্রপাতি নিয়ে আসতে পারবেন? আরেকটি আপত্তির জায়গা আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতিকরণ নিয়ে যে ধারাটি, সেটি নিয়ে। আমরা দেখেছি কীভাবে ১৫ই আগস্ট ১৯৭৫-এর পর বিএনপি-জামাত আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনের ঘটনাবলিকে বিকৃত করার অপপ্রয়াস চালিয়েছে। এই বিকৃতিকরণের পেছনে কারণ ছিল যুদ্ধাপরাধীদের মন্ত্রী বানানো ও বঙ্গবন্ধুর খুনিদের প্রতিষ্ঠিত করা। এইসবের বিরুদ্ধে কি কোনো আইন থাকা উচিত নয়? আমরা কি ভবিষ্যতে আবারও এই অপরাজনীতির পুনরাবৃত্তি দেখতে চাই? আইনটির এই ধারার বিরুদ্ধে যারা বলছেন তারা আসলে বাঙালি নন। তারা গোপনে জামাত সমর্থক রাজাকার। ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের হলোকাস্ট ডিনায়াল আইনের উপর ভিত্তি করেই এই ধারাটি প্রণয়ন করা হয়েছে। ১৬টি ইউরোপিয়ান দেশে হলোকাস্টে “স্বীকৃত সংখ্যা” থেকে কম মানুষ মারা গেছে এই কথা বললেও কারাদ- দেয়া হয়। এর মধ্যে অনেক দেশ আছে যাদের দূতাবাসগুলো বাংলাদেশে আমাদের এই আইন নিয়ে আপত্তি তুলেছে। যেইসব ইউরোপিয়ান দূতাবাসগুলো আমাদের এই আইন নিয়ে আপত্তি তুলেছেন, তাদের প্রতি আমার প্রশ্ন : আপনাদের হলোকাস্ট ডিনায়াল আইন থাকতে পারলে আমাদের কেন একইরকম আইন থাকতে পারবে না? আমাদের আইন যদি জাতিসংঘসহ অন্যান্য মানবাধিকারের মানদ-ের সাথে সামাঞ্জস্যপূর্ণ না হয়, তাহলে আপনাদেরগুলো কীভাবে হয়? এই ধারাটিতে কোনো ধরনের সংশোধন সম্ভব না। এই আইনের কিছু অংশ অনলাইনে মিথ্যা বা গুজবের মাধ্যমে সহিংসতা বা ধর্মীয় উন্মাদনা উসকে দেয়ার বিরুদ্ধে। আপনাদের মনে আছে, রামুতে, ফেসবুকে পবিত্র কোরআন পুড়িয়ে দেয়ার মিথ্যা পোস্টের মাধ্যমে পুরো একটি বৌদ্ধ অধ্যুষিত গ্রামে আক্রমণ চালিয়ে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়েছিল। এই ধরনের ঘটনা আমাদের দেশে একাধিকবার ঘটেছে। অতি সম্প্রতি ছাত্রদের আন্দোলনের সময়ও আমরা দেখেছি কীভাবে অনলাইনে গুজব রটানোর মাধ্যমে সহিংসতা উসকে দেয়া হচ্ছিল। এই আইন ছাড়া আমরা এই ধরনের সহিংসতা উসকে দেয়ার ঘটনাগুলো কীভাবে প্রতিহত করব? আমাদের প্রচলিত ফৌজদারি আইনে এই বিষয়ে কিছুটা বিধান আছে। সেই আইনের আওতায় আপনি যদি এমন কিছু বলেন বা লিখেন, যার কারণে কেউ অন্য কাউকে শারীরিকভাবে ক্ষতি করে, তখন আপনার বিরুদ্ধে সেই আইনে ব্যবস্থা নেয়া যায়। এই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন না থাকলে আপনাকে আসলেই কেউ হতাহত হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। আমাদের কি হতাহতের ঘটনা হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করা উচিত? না-কি এই ধরনের ঘটনা যাতে ঘটতেই না পারে সেই দিকে মনোযোগ দেয়া উচিত? এই ধরনের আইন পৃথিবীর সব দেশেই বিদ্যমান, যুক্তরাষ্ট্রেও আছে। অনেক ইউরোপিয়ান দেশে, বিদ্বেষ ছড়ানো ও সহিংসতা উসকে দেয়ার বিরুদ্ধে আইন আছে, আমাদের এই আইনও সেই রকমই। আরেকটি আপত্তির বিষয় যা শোনা যাচ্ছে তাহলে এই আইনের আওতায় অপরাধমূলক কর্মকা-ের জন্য যে কাউকে ওয়ারেন্ট ছাড়া গ্রেফতার করা যাবে ও তল্লাশি চালানো যাবে। ওয়ারেন্ট-এর প্রয়োজন তখনই পরে যখন অপরাধ ইতিমধ্যে ঘটে গেছে। কোনো অপরাধ সংগঠিত হওয়ার সময় ঘটনাস্থল থেকে ওয়ারেন্ট ছাড়াই গ্রেফতার ও তল্লাশি চালানো যায়। এটা ফৌজদারি আইনের মৌলিক বিষয় আমাদের দেশসহ সব দেশেই। আপনি যদি কোনো চুরির বিষয়ে অভিযোগ করতে পুলিশকে ফোন করেন, পুলিশ কি তখন ওয়ারেন্টের জন্য বসে থাকে না-কি তাৎক্ষণিকভাবে চোরকে গ্রেফতার করে চুরির মালামালের খোঁজে তল্লাশি চালাবে? ঠিক সেভাবেই পুলিশ যদি অনলাইন হ্যাকিং সম্পর্কে তথ্য পায় ও হ্যাকারের অবস্থান খুঁজে পায়, তাহলে ওয়ারেন্টের জন্য অপেক্ষা করা উচিত না-কি তাৎক্ষণিক তাকে থামানো উচিত? যুক্তরাষ্ট্রসহ বেশিরভাগ দেশেই পুলিশ যদি কাউকে অপরাধমূলক কর্মকা-ের সময় অনলাইনে ট্র্যাক করতে পারে, তাহলে তাকে ওয়ারেন্ট ছাড়াই গ্রেফতার করতে ও তল্লাশি চালাতে পারে। শুধুমাত্র অপরাধ সংঘটিত হয়ে যাওয়ার পর যদি গ্রেফতার বা তল্লাশি চালাতে হয়, তখন ওয়ারেন্টের প্রয়োজন পড়ে। অপরাধ সংগঠিত হওয়ার সময় ধরা পড়লে কখনোই ওয়ারেন্টের প্রয়োজন পরে না। সর্বশেষ, রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ করা নিয়ে যে ধারা সেটা নিয়ে আপত্তি তোলা হয়েছে। আমি একমত, এখানে আসলে আদালতকে ক্ষমতা দেয়া হয়েছে সত্য আর মিথ্যা নির্ণয় করার। কিন্তু এক্ষেত্রে আমাদের মনে রাখতে হবে দেশের সাম্প্রতিক ইতিহাস। প্রেসক্লাব, সম্পাদক পরিষদসহ সাংবাদিকদের কোনো সংগঠনই কিন্তু তাদের নিজেদের নৈতিকতার সনদ বা আচরণবিধি প্রয়োগ করতে পারেন নি। সম্পাদক পরিষদের বর্তমান প্রধান মাহফুজ আনাম, যিনি টেলিভিশনের পর্দায় স্বীকার করেছেন ১/১১-এর সময় আমাদের প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে মিথ্যা ও উদ্দেশ্যমূলক সংবাদ প্রচারের কথা।
যুক্তরাষ্ট্র বা ইউরোপিয়ান ইউনিয়নে হলে তাকে বাধ্য করা হতো সাংবাদিকতা পেশা থেকে পদত্যাগ করতে। শুধু তাই নয়, তাকে আর কোনোদিন সম্পাদক বা সাংবাদিক হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হতো না। বাংলাদেশে কিন্তু সম্পাদক পরিষদ উল্টো তার পক্ষ নিয়েই তাকে তাদের জেনারেল সেক্রেটারি নির্বাচিত করেছে। বিষয়টি আমাকে অবাক করে। যেহেতু, ইইউ ও যুক্তরাষ্ট্র মিশন এই আইন নিয়ে তাদের মতামত তুলে ধরেছে, আমি আশা করব তারা মাহফুজ আনামের স্বীকারোক্তির পরেও একটি প্রথমসারির পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বরত থাকা নিয়েও তাদের মতামত জানাবেন। তা না হলে, তাদের কার্যকলাপ হবে একপেশে ও আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার শামিল। এ বিষয়টি থেকে আমরা সম্পাদক পরিষদের নৈতিকতা সম্পর্কে কি ধারণা পাই? পরিষ্কারভাবেই, তাদের নৈতিকতা বলে কিছু নেই। বস্তুত সম্পাদক পরিষদ বলতে চায়, তাদেরকে সরকারের বিরুদ্ধে নোংরা, মিথ্যা প্রচারণা চালাতে দিতে হবে এবং সত্য অবলম্বন না করেই তাদের অপছন্দের রাজনীতিকদের সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করতে দিতে হবে। তারা যদি শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে এমন পরিকল্পনা করেন, তাহলে দেশের ভবিষ্যৎ কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়? যেহেতু গণমাধ্যমের সম্পাদকেরা তাদের নিজেদের তৈরি নৈতিক নির্দেশনাই মানতে রাজি নন, তাহলে আমরা সত্য-মিথ্যা নির্ধারনের ভার আদালতের হাতেই তুলে দেই। গ্রেফতার মানেই জেল নয়। সরকারের প্রমাণ করতে হবে যে আসামি জেনেশুনে মিথ্যা তথ্য প্রকাশ করেছেন। প্রমাণের দায়ভার সরকারের। যে সকল সাংবাদিকের মিথ্যা সংবাদ ছাপানোর উদ্দেশ্য নেই, তাদের ভয়েরও কিছু নেই। সম্পাদক পরিষদ যদি এ সকল ধারার সংশোধন চান, তাহলে তাদের নিজেদের নৈতিকতার নীতিমালা বাস্তবায়ন করতে হবে। যে সম্পাদক বা সংবাদকর্মী মিথ্যা সংবাদ ছেপেছেন, তাকে অবশ্যই দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিতে হবে এবং ভবিষ্যতে যাতে আর কোনোদিন সংবাদ তৈরি বা প্রচারের কাজ করতে না পারেন সেই ব্যবস্থা করতে হবে।

শ্রেণী:

দেশের ৬৬ শতাংশ মানুষের পছন্দ শেখ হাসিনা

Posted on by 0 comment
PM

উত্তরণ প্রতিবেদন: আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠা বিএমআই রিসার্চের পর এবার ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিক ইনস্টিটিউটের (আইআরআই) গবেষণা প্রতিষ্ঠানের জরিপে উঠে এসেছে বাংলাদেশের রাজনীতি ও আসন্ন নির্বাচনের সম্ভাব্য নানা দিক। আন্তর্জাতিক এ গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর ইনসাইড অ্যান্ড সার্ভের জরিপ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ বিশ্বাস করেন দেশ সঠিক পথেই আছে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশের অর্থনীতি এগিয়ে যাচ্ছে। অধিকাংশ মানুষ দেশের অর্থনৈতিক অবস্থার ওপর সন্তুষ্ট। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারে আস্থাশীল অধিকাংশ মানুষ। তারা সন্তুষ্ট দেশের গণতন্ত্র, নিরাপত্তা, বিদ্যুৎ, যোগাযোগ ব্যবস্থায়।
শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের অর্থনীতি এগিয়ে যাচ্ছে বলে সম্প্রতি পরিচালিত এক জরিপের পর এ প্রতিবেদন দিয়েছে আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর ইনসাইড অ্যান্ড সার্ভে। প্রতিবেদন অনুসারে বাংলাদেশের অর্থনীতি আশানুরূপভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। সংস্থাটির গবেষণা প্রতিবেদন অনুসারে বাংলাদেশের ৬২ শতাংশ নাগরিক মনে করেন অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় দেশ সঠিক পথে এগিয়ে যাচ্ছে এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন ৬৯ শতাংশ নাগরিক। জরিপের ফলের চিত্রের দিকে তাকালে দেখা যায়, ৬২ শতাংশ মানুষ বিশ্বাস করেন দেশ সঠিক পথেই আছে। ৬৯ শতাংশ মানুষ দেশের অর্থনৈতিক অবস্থার ওপর সন্তুষ্ট। ৬৮ শতাংশ মানুষ দেশের বর্তমান নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর সন্তুষ্ট। ৫৭ শতাংশ মানুষ বিশ্বাস করেন আগামী দিনগুলোতে দেশ আরও নিরাপদ হবে। ৪৭ শতাংশ মানুষ মনে করেন তাদের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে।
এছাড়া অধিকাংশ মানুষ আস্থার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সরকারের নেওয়া নানা পদক্ষেপের ওপর। ৬৬ শতাংশ মানুষ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ওপর আস্থাশীল, ৬৪ শতাংশ মানুষ আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকারের ওপর আস্থাশীল, ৪৯ মানুষ তাদের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী। ৫১ শতাংশ মানুষ দেশের গণতন্ত্র নিয়ে সন্তুষ্ট। বর্তমান সংসদের ওপর আস্থাশীল ৫১ শতাংশ মানুষ। ৪৯ শতাংশ মানুষ বর্তমান নির্বাচন কমিশনের ওপর আস্থাশীল। ৬৭ শতাংশ মানুষ স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে সন্তুষ্ট। ৬৪ শতাংশ মানুষ বিদ্যুতের বর্তমান অবস্থায় সন্তুষ্ট। সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে সন্তুষ্ট ৬১ শতাংশ মানুষ। আর ৮১ শতাংশ মানুষ জানিয়েছেন তারা আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট দেবেন।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বর্তমানে দেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জনপ্রিয়তা বেড়েছে। ৬৬ শতাংশ নাগরিকের কাছে জনপ্রিয় শেখ হাসিনা। আওয়ামী লীগের প্রতি ৬৪ শতাংশ নাগরিকের সমর্থন রয়েছে। জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বর্তমান সরকার। আর সে কারণেই ৬৮ শতাংশ নাগরিক জননিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে সন্তুষ্ট। এর মধ্যে ৫৭ শতাংশ মনে করছেন, সামনে জননিরাপত্তা ব্যবস্থার আরও উন্নতি হবে। সরকারি বিভিন্ন সেবা প্রদানের ক্ষেত্রেও জনসন্তুষ্টির পরিমাণ বেড়েছে।
দেশের বর্তমান গণতান্ত্রিক আবহ নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন নাগরিকরা। পার্লামেন্টের কার্যক্রমের ওপর তাদের আস্থা রয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়। নাগরিকদের কাছে ভোটাধিকার প্রয়োগের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে ৮১ শতাংশ জানান, আগামী নির্বাচনে তারা ভোট প্রদান করবেন।
জানা গেছে, চলতি বছরের এপ্রিল ও মে মাসে এ জরিপ চালানো হয়। সেখানে দেশের মোট জনসংখ্যাকে কিছু স্তরে ভাগ করে কয়েকটি পর্বে বাছাই করা হয় (মাল্টি স্টেজ স্ট্রেটিফাইড প্রব্যাবিলিটি স্যাম্পল) এবং তাদের সঙ্গে সরাসরি অথবা বাসায় (ইন পারসন/ইন হোম) ফোন করে তথ্য সংগ্রহ করা হয়।
গবেষণার জন্য স্তরগুলো দেশের বিভাগ ও জেলা এবং গ্রাম ও শহর হিসেবে ভাগ করে নেওয়া হয়। এই গবেষণার জন্য ৫ হাজার মানুষের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়; যাদের বয়স ১৮ বা তার বেশি এবং আগামী নির্বাচনে ভোট দেওয়ার অধিকার রাখেন।
আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিক ইনস্টিটিউট (আইআরআই)-এর গবেষণা প্রতিবেদনেও কাছাকাছি ফল পাওয়া গিয়েছিল। তাদের প্রকাশিত গবেষণা সংস্থাটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ৬৪ শতাংশ নাগরিক মনে করে দেশ সঠিক পথে এগিয়ে যাচ্ছে। ২০১৫ সালে ব্রিটিশ কাউন্সিল, অ্যাকশন এইড বাংলাদেশ এবং ইউনিভার্সিটি অব লিবারাল আর্টস বাংলাদেশের (ইউল্যাব) যৌথ আয়োজনে হওয়া পরিসংখ্যানেও তেমনটাই বলা হয়। ওসব প্রতিবেদনে জানানো হয়, ৭৫ শতাংশ তরুণের মতে বাংলাদেশ আগামী ১৫ বছরে আরও উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হবে এবং তাদের মধ্যে ৬০ শতাংশ তরুণ মনে করেন দেশ সঠিক পথে এগিয়ে যাচ্ছে।
এই গবেষণা প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও বিশ্বস্ত নেতা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেখানে প্রায় ৭৩ শতাংশ নাগরিক দেশ পরিচালনায় শেখ হাসিনার পক্ষে ‘ভালো মত’ প্রকাশ করেন। এই প্রতিবেদনে ২৬ দশমিক ৬ শতাংশ নাগরিক দেশ পরিচালনায় খালেদা জিয়ার পক্ষে ‘ভালো মত’ প্রকাশ করেন। ২০১৫ সালে আইআরআই প্রকাশিত অন্য এক জরিপ অনুসারে, ৬৭ শতাংশ নাগরিক দেশ পরিচালনায় শেখ হাসিনার নেতৃত্বের ওপর আস্থা রাখেন।
আইআরআইয়ের জরিপ রিপোর্ট শেখ হাসিনার জনপ্রিয়তার কারণেই দল জনপ্রিয় বলে মত দেওয়া হয়। এছাড়া বলা হয়, ক্ষমতায় থাকাকালে স্বৈরশাসন এবং ধর্মীয় চরমপন্থার জন্য আসন্ন সংসদ নির্বাচনে পিছিয়ে থাকবে বিএনপি ও জামাতের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের মধ্যে সবচেয়ে বেশি খারাপ অবস্থানে তারেক রহমান।
অন্যদিকে সম্প্রতি আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান বিজনেস মনিটর ইন্টারন্যাশনাল রিসার্চের (বিএমআই) প্রতিবেদনেও উঠে আসে বাংলাদেশের রাজনীতির নানা দিক। আইআরআইয়ের মতো বিএমআইয়ের প্রতিবেদনেও বলা হয়, জনসমর্থনে বিএনপির তুলনায় এগিয়ে আওয়ামী লীগ। বলা হয়, বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আওয়ামী লীগ আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনসমর্থনে এগিয়ে থাকবে। ‘দুর্বল নেতৃত্বের’ বিএনপি আওয়ামী লীগের সামনে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়তে পারবে না।
ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া গত ফেব্রুয়ারিতে দুর্নীতি মামলায় পাঁচ বছরের সাজায় কারাগারে যাওয়ার পর দলটির শক্তি অনেকাংশে হ্রাস পেয়েছে। বিএনপি নেতাকর্মীরা কয়েক মাস ধরে অনশন, মানববন্ধনের মতো যেসব রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করে আসছেন, তাতে চলতি বছরের শেষদিকে অনুষ্ঠেয় একাদশ সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ওপর তেমন কোনো প্রভাব পড়বে বলে মনে হয় না।
বিএনপিকে বর্তমান প্রেক্ষাপটের কারণে ‘দুর্বল নেতৃত্বের বিএনপি’ হিসেবে মন্তব্য করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একদিকে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার পর দলটির শক্তি অনেকাংশে হ্রাস পেয়েছে, পাশাপাশি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বিদেশে এবং দেশে বহু নেতা গ্রেফতার থাকায় বিএনপির নেতৃত্বে শক্তিশালী নেতার সংকট তৈরি হয়েছে।

শ্রেণী: