একাত্তরের গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায়ে সবাইকে কাজ করতে হবে

Posted on by 0 comment
4-9-2019 7-16-43 PM
4-9-2019 7-16-43 PM

স্বাধীনতা পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একাত্তরের গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায়ে সকলকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, ‘আজ ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস। ইতিমধ্যে আমরা কিছু উদ্যোগ নিয়েছিÑ যেন এই দিনটি গণহত্যা দিবস হিসেবে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পায় সেজন্য আমাদের প্রচেষ্টা চালাতে হবে।’ গত ২৫ মার্চ সকালে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে স্বাধীনতা পুরস্কার ২০১৯ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ-কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের উন্নয়ন বৃদ্ধি এবং দেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করার চিন্তা থেকেই বাকশাল করেছিলেন বঙ্গবন্ধু। জাতির পিতা যে পদ্ধতিটা নিয়েছিলেন, এটা যদি কার্যকর করা যেত তাহলে বাংলাদেশে আর কখনও জনগণের ভোটের অধিকার নিয়ে কেউ খেলতে পারত না। জনগণ তার পছন্দমতো প্রার্থীকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করতে পারত।’
স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে জাতির পিতার কর্মসূচি ও দেশি-বিদেশি বিভিন্ন চক্রান্ত-ষড়যন্ত্রের কথা তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এমনই একটি অবস্থার মাঝে জাতির পিতা সিদ্ধান্ত নেন, যে করেই হোক আমাদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে হবে। দেশের উন্নয়ন বাড়াতে হবে এবং দেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে। সেই চিন্তা থেকেই তিনি বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ। যেটাকে সংক্ষিপ্ত রূপে বাকশাল নামে পরিচিত করানো হয়েছিল। বাকশাল গঠনের পর এর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হয়েছিল।’
প্রধানমন্ত্রী দেশের ১৩ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও একটি প্রতিষ্ঠানকে স্ব-স্ব ক্ষেত্রে গৌরবময় ও অসামান্য অবদান রাখার স্বীকৃতি স্বরূপ অনুষ্ঠানে স্বাধীনতা পুরস্কার-২০১৯ প্রদান করেন। গত ১০ মার্চ এ বছরের স্বাধীনতা পুরস্কারের জন্য ১৩ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও একটি প্রতিষ্ঠানের নাম ঘোষণা করে সরকার। পুরস্কারের জন্য মনোনীত ব্যক্তিগণ হচ্ছেনÑ স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধে শহিদ বুদ্ধিজীবী মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী (মরণোত্তর), শহিদ এটিএম জাফর আলম (মরণোত্তর), একেএম মোজাম্মেল হক, ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, ড. কাজী মিসবাহুন নাহার, আব্দুল খালেক (মরণোত্তর) ও অধ্যাপক মোহাম্মাদ খালেদ (মরণোত্তর), শওকত আলী খান (মরণোত্তর), চিকিৎসাবিজ্ঞানে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নুরুন্নাহার ফাতেমা বেগম, সমাজসেবায় ড. কাজী খলীকুজ্জামান আহমেদ, সংস্কৃতিতে মুর্তজা বশীর, সাহিত্যে হাসান আজিজুল হক, গবেষণা ও প্রশিক্ষণে অধ্যাপক ড. হাসিনা খাঁন। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব এগ্রিকালচারকে (বিআইএনএ) এই পুরস্কারে ভূষিত করা হয়। পুরস্কার হিসেবে ৩ লাখ টাকার চেক, ১৮ ক্যারেট স্বর্ণের ৫০ গ্রাম ওজনের একটি পদক এবং সনদপত্র প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্তদের পক্ষে ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন অনুভূতি ব্যক্ত করে বক্তৃতা করেন। মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহম্মদ শফিউল আলম অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন এবং পদক বিজয়ীদের পরিচিতি তুলে ধরেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের এক দশকের প্রচেষ্টার ফলে এই অর্থবছরের শেষ নাগাদ জাতীয় প্রবৃদ্ধি আমরা ৮ ভাগে নিয়ে যেতে সক্ষম হব। আমাদের মাথাপিছু আয় ১ হাজার ৭৫১ ডলার থেকে বেড়ে ১ হাজার ৯০৯ মার্কিন ডলার হতে যাচ্ছে। তিনি বলেন, আজকের বাংলাদেশ বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল।
পঁচাত্তরের পরে নির্বাচন ব্যবস্থা ধসে পড়া এবং শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস ও অপরাজনীতির অনুপ্রবেশের উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ তথা বাকশাল প্রতিষ্ঠার মূল উদ্দেশ্য আলোচনায় তুলে ধরেন। ’৭৩-এর নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বাইরে থাকা দলগুলো ৯টি আসনে জয়লাভ করেছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, যারা কখনও নির্বাচনে জয়ী হতে পারে না সেসব রাজনৈতিক দলের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করে জাতির পিতা বাংলাদেশ কৃষক-শ্রমিক আওয়ামী লীগ গড়েছিলেন। এটি একটি জাতীয় ঐক্যভিত্তিক প্লাটফর্ম ছিল। যেখানে ঐক্যের মধ্য দিয়ে সকলেই দেশের কাজ করবে এবং সেখানে সমাজের সর্বস্তরের জনগণকে সম্পৃক্ত করে তিনি উন্নয়নের ব্যবস্থা নিয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা যেই ব্যবস্থাটা নিয়েছিলেন সেটা কার্যকর করা গেলে বাংলাদেশে জনগণের ভোটের অধিকার নিয়ে আর কেউ খেলতে পারত না। নিজের মনের মতো প্রার্থীকে ভোট দিয়ে জনগণ নির্বাচিত করতে পারত।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা সে-সময় নির্বাচনের যে পদ্ধতি করেছিলেন সে অনুযায়ী যার যার নির্বাচন সে সে করতে পারবে। নির্বাচনের খরচ প্রতিটি প্রার্থীকে দিয়ে দেওয়া হবে রাষ্ট্রের তরফ থেকে। প্রতি আসনের জন্য পৃথক একটি করে পোস্টারে সকল প্রার্থীর নাম ছাপিয়ে দেওয়া হবে, কাজেই জনগণের সাথে যার যোগাযোগ আছে, সম্পৃক্ততা আছে তারা নির্বাচিত হবেন। অর্থাৎ ভোটের অধিকার তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের কাছে যাতে পৌঁছায়, তারা যেন স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশ করতে পারে সেই সুযোগ তিনি করে দিয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দুটি নির্বাচন হয়েছিল সে-সময়। এর একটি কিশোরগঞ্জে অপরটি পটুয়াখালীতে। সেখানে বড় কোনো দলের কেউ নয়, সাধারণ একজন স্কুলমাস্টার জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়েছিল। অর্থাৎ অর্থ-বিত্ত দিয়ে কেউ নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে পারেনি।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতার একটা কথা ছিল একটা বিপ্লবের পর সমাজে একটা বিবর্তন আসে। যেসব দেশ মুক্তিযুদ্ধ করেছে সেসব দেশেই এমনটি হয়, পরিবর্তন বা বিবর্তনের পরে কিছু লোক আর্থিকভাবে শক্তিশালী হয়ে যায়। সেটা যেন সমাজে স্থান না পায় সেদিকে লক্ষ্য রেখেই তিনি এই বাকশাল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। সেই সঙ্গে আমাদের জনসংখ্যা বেশি এবং চাষের জমি কম থাকায় সেখানে তিনি ব্যবস্থা নিয়েছিলেন সমবায়ের মাধ্যমে আমাদের দেশে উৎপাদন হবে। তিনি বলেন, জমির মালিকানা মালিকের কাছেই থাকবে। কোনো মালিকানা নেওয়া হবে না। কিন্তু জমিটি সমবায়ের মাধ্যমেই চাষাবাদ হবে। উৎপাদিত ফসলের একটা অংশ যারা শ্রম দেবে তারা পাবে, একটা অংশ মালিক পাবে আর একটা অংশ পাবে সমবায় এবং আধুনিক প্রযুক্তি কৃষিতে ব্যবহার করে উৎপাদন বাড়ানো হবে।
ড. কুদরত-ই-খুদাকে প্রধান করে শিক্ষা কমিশন রিপোর্ট বাস্তবায়নকালেই ’৭৫-এর ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করায় সেই রিপোর্ট আর বাস্তবায়িত হতে পারেনি উল্লেখ করে বঙ্গবন্ধু-কন্যা বলেন, ‘তিনি বেঁচে থাকলে আর পাঁচ-সাত বছরের মধ্যেই বাংলাদেশ উন্নত এবং সমৃদ্ধশালী হয়ে গড়ে উঠতে পারত।’
প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বি মিয়া, মন্ত্রিপরিষদ সদস্যগণ, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাগণ, বিচারপতিগণ, সংসদের সদসগণ, তিন বাহিনী প্রধানগণ, বিদেশি কূটনীতিকবৃন্দ, সরকারের পদস্থ সামরিক এবং বেসামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ, মুক্তিযোদ্ধা, রাজনীতিবিদ কবি-সাহিত্যিক-বুদ্ধিজীবী এবং দেশবরেণ্য ব্যক্তিবর্গসহ আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

শ্রেণী:

সারাদেশে উদযাপিত হবে মুজিব বর্ষ

Posted on by 0 comment
4-9-2019 6-39-28 PM

4-9-2019 6-39-28 PMআনিস আহামেদ: মহান মুক্তিযুদ্ধ ও বাঙালির আত্মপরিচয়ের সঠিক ইতিহাস সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে তৃণমূল পর্যন্ত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীর অনুষ্ঠানমালা উদযাপনের উদ্যোগের কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, এর মাধ্যমেই দেশের মানুষ সঠিক ইতিহাস জানতে পারবে। জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনের ক্ষেত্রে তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত যেন উদযাপিত হয় তারই উদ্যোগ আমরা নেব। মানুষ যেন সঠিক ইতিহাসটা জানতে পারে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত হয় এবং বাংলাদেশকে যেন আমরা সারাবিশ্বের কাছে মর্যাদাপূর্ণ রাষ্ট্র হিসেবে তুলে ধরতে পারি। আমাদের যে অগ্রযাত্রা সেটা অব্যাহত রেখেই জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তুলব। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে সেটাই হবে আমাদের প্রতিজ্ঞা।
গত ২০ মার্চ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় কমিটি ও বাস্তবায়ন কমিটির প্রথম যৌথসভায় প্রারম্ভিক বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু ঢাকা শহর বা দেশের বড় বড় শহরে যেন এটা সীমাবদ্ধ না থাকে; আমরা সারাদেশের তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত তার জন্মশতবার্ষিকীর অনুষ্ঠানমালা ছড়িয়ে দিতে চাই। আসলে সত্যকে কেউ কখনও মুছে ফেলতে পারে না। সত্য কখনও না কখনও উদ্ভাসিত হবেই, আর তার স্থানটা সে করে নেবে। আজকে আমরা সেটার প্রমাণ পাচ্ছি।
সরকার জাতির মহান এই নেতার জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে ইতোমধ্যেই ২০২০ সালের ১৭ মার্চ থেকে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ২০২১ সালের ২৬ মার্চ পর্যন্ত সময়কে ‘মুজিব বর্ষ’ হিসেবে ঘোষণা করে তা যথাযথভাবে উদযাপনে বিশিষ্টজনদের নিয়ে ১০২ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি এবং বাস্তবায়নের জন্য ৬১ সদস্যবিশিষ্ট যে কমিটি করেছে, ২০ মার্চ ছিল তারই প্রথম যৌথ বৈঠক। মুজিব বর্ষের প্রায় এক বছরের বেশি সময় ধরে সারাদেশের সকল জেলা, উপজেলা, থানা এবং ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত এই অনুষ্ঠানমালা চলবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, মার্চ মাসটা আমাদের জন্য খুবই অর্থবহ মাস। ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণ, ১৭ মার্চ জাতির পিতার জন্মদিন, আবার ২৬ মার্চ আমাদের স্বাধীনতা দিবস। কাজেই ২০২০ সালের ১৭ মার্চ থেকে ২০২১ সালের ২৬ মার্চ পর্যন্ত বছরটাই আমরা মুজিব বর্ষ হিসেবে উদযাপন করব। উদযাপনের ক্ষেত্রে আমাদের কী কী করণীয়? আমাদের সমাজের বিশিষ্টজন যারা এখানে উপস্থিত আছেন এবং আমরা একটি ১০২ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি করে দিয়েছি। হয়তো আরও গুরুত্বপূর্ণ নাম আমাদের এই কমিটিতে থাকা দরকার, সেখানে থাকলে আমরা তাদেরও অন্তর্ভুক্ত করব।
তিনি বলেন, এছাড়া ৬১ সদস্যবিশিষ্ট আলাদা একটি কমিটি করে দিয়েছি। আমরা যে সিদ্ধান্তগুলো নেব, তা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কাজ করবে। এছাড়া ভাগে ভাগে যে কমিটি করা প্রয়োজন সে-ব্যাপারেও আপনাদের পরামর্শ নেব। কারণ, এটা আমরা জাতীয়ভাবে পালন করার জন্য করেছি। এক্ষেত্রে আপনাদের মতামত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাছাড়া দল হিসেবেও আওয়ামী লীগের একটা আলাদা কমিটি করেছি। দলের পক্ষ থেকেও আমরা কী কী করব, তা ঠিক করা হবে।
জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী যথাযথভাবে উদযাপন করা আমাদের জাতীয় কর্তব্য উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, জীবনের সবকিছু ত্যাগ করে এদেশের মানুষের জন্যই কষ্ট স্বীকার করে গেছেন আমাদের জাতির পিতা। সেই কষ্টের ফসল হিসেবেই আমরা পেয়েছি স্বাধীনতা, স্বাধীন জাতির মর্যাদা। কাজেই এটা আজকে আমাদের একটা জাতীয় কর্তব্য। আমি মনে করি, তার (বঙ্গবন্ধু) জন্মশতবার্ষিকী আমরা ভালোভাবে উদযাপন করব। আমাদের হাতেও সময় খুব বেশি নেই। কারণ, নির্বাচনসহ বিভিন্ন কর্মকা-ের জন্য আমাদের বেশ কিছু সময় পেরিয়ে গেছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা তার জীবনের সব থেকে মূল্যবান সময় এদেশের মানুষের কথা চিন্তা করে ব্যয় করেছেন। মানুষের ওপর অত্যাচার, শোষণ, বঞ্চনার প্রতিবাদ করতে গিয়ে দিনের পর দিন কারাবরণ করেছেন। তারা সন্তান হিসেবে পিতৃস্নেহ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। কেননা, জীবনের মূল্যবান সময়গুলো কারাগারের অন্ধ প্রকোষ্ঠেই তিনি কাটিয়েছেন। বাংলাদেশের গ্রাম-গঞ্জে জাতির পিতা দেখেছেন দারিদ্র্যের হাহাকার। বুভুক্ষু নর-নারীর কষ্ট। মানুষ ওষুধ পায়নি, চিকিৎসা পায়নি, খাবার পায়নি, থাকার জায়গা নেই। মানুষের এই দুঃখ-কষ্ট তিনি সহ্য করতে পারেন নি। এসব তাকে ব্যথিত করেছে। জাতির পিতা আন্দোলন-সংগ্রাম করতে গিয়ে যে কষ্ট সহ্য করেছেন, এটা কাদের জন্য? এদেশের মানুষের জন্য, সাধারণ মানুষের জন্য।
যৌথসভায় সভাপতিত্ব করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় কমিটির সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু এমপি, তোফায়েল আহমেদ এমপি, সভাপতিম-লীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী এমপি, শেখ ফজলুল করিম সেলিম এমপি, ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন এমপি, জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু এমপি ও জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম।

শ্রেণী:

বিএনপি কোন পথে হাঁটছে?

Posted on by 0 comment
4-9-2019 6-34-46 PM

4-9-2019 6-34-46 PMকুদ্দুস আফ্রাদ: ভুল রাজনীতির খেসারত দিতে গিয়ে বিলীন হয়ে গেছে একদা এদেশেরই ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দল মুসলিম লীগ। প্রায় একই পথে হেঁটে মুসলিম লীগের উত্তরসূরি বিএনপির দশাও অনেকটা একই রকম। রাজনীতি হচ্ছে বিজ্ঞান। চলার পথের সঠিক দিক-দর্শন আঁকতে হয়। অভীষ্ট লক্ষ্য ঠিক করতে হয় বিজ্ঞানের মতো ছক এঁকে। তার ব্যতিক্রম হলেই পতন! শুধুই কী পতন? বিলীনও হয়ে যেতে হয়। এ উপমহাদেশে এমন উদাহরণ অনেক। প্রসঙ্গটি এলো এ কারণেই, একাদশ জাতীয় সংসদের ভোট শেষে গেজেট প্রকাশ হয়েছে প্রায় তিন মাস হলো। দলটি থেকে যারা নির্বাচিত হয়েছেন, তারা গত তিন মাসেও শপথ নেননি। শপথ নেওয়াকে ঘিরে সরকারের সামনে ‘মুলো’ ঝুলানোর খবর বেরিয়েছে। খালেদা জিয়াকে প্যারোলে মুক্তি দেওয়ার বায়না ধরা হয়েছে।
এদেশের স্বাধীনতা অর্জনের পরে যে ৩টি দল পালাক্রমে দেশের শাসনভার পরিচালনা করেছে, তার মধ্যে একটি হচ্ছে স্বাধীনতা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী দল আওয়ামী লীগ। অন্যদিকে, আর যে দুটি দল রয়েছে তারা মূলত একই ধারার ও অভিন্ন সত্তার। একটি হচ্ছে বিএনপি, অন্যটি জাতীয় পার্টি। এ দুটি দলের অবস্থাই এখন করুণ পর্যায়ে গিয়ে ঠেকেছে। মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ ও আওয়ামী লীগের বিরোধিতাকারী গোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্বকারী এ দুটি দল পালাক্রমে ২৬ বছর শাসন করলেও দেশের অগ্রগতি ও উন্নয়নের ক্ষেত্রে তাদের অর্জনের ঘর একেবারেই শূন্যের কোটায়। এই শূন্যতা পূরণ করেই জনগণের মনে স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছে আওয়ামী লীগ।
পক্ষান্তরে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, একের পর এক ভুল সিদ্ধান্তের কারণে ইতিহাসের আস্তাকুড়ে জায়গা করে নিতে চলেছে বিএনপি, জাতীয় পার্টি ও তাদের আরেক সহযোগী জামায়াতে ইসলামী। বাংলাদেশের নবম, দশম ও একাদশ জাতীয় সংসদের ভোটের ফলাফল বিশ্লেষণ করেই পর্যবেক্ষকরা এমন মতামত দিয়েছেন। তাদের কথায়, যে উদ্দেশ্য ও লক্ষ্যকে সামনে রেখে একাত্তরে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে দেশ স্বাধীন করেছিলেন মুক্তিযোদ্ধারা। সেই লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যকে অবজ্ঞা করে যখন দেশকে পরাজিত পাকিস্তানি শক্তির ভাবধারার গড়ার চেষ্টা করা হচ্ছিল, তাকে ভালোভাবে গ্রহণ করেনি জনগণ। ফলে, ’৭৫ সালের পাল্টা জবাব দেওয়া হয়েছিল ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারি-মার্চের জনতার অভ্যুত্থানে। আর জনতার এই অভ্যুত্থানের স্থায়ী রূপ নেয় ২০০৮ সালের ভোটে। মূলত, জনগণের চেতনাবোধের জায়গা অনুভব করতে ব্যর্থ হওয়ার কারণেই ব্যাপক জনসমর্থনপুষ্ট দল বিএনপি ধীরে ধীরে জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে। এর মধ্যে ২০১৪ সালের নির্বাচন বর্জনের মতো ভুল সিদ্ধান্তের পরেও এ দলটির কাছে যাদের প্রত্যাশা ছিল আকাশছোঁয়া, তারা ২০১৮ সালের ভোট নিয়ে নেতৃত্ব পর্যায়ে দ্বিধা-দ্বন্দ্ব, সর্বোপরি লন্ডনে বসে দলের প্রার্থী বাছাইয়ের পদ্ধতিকে ভালোভাবে মেনে নিতে পারেনি। একটি আসনের জন্য একাধিক প্রার্থী বাছাই করা এবং প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষেত্রে ‘নয়-ছয়’ অবলম্বনের ঘটনাও দলটিকে বিপর্যয়ে নিয়ে গেছে। জাতীয় পার্টির গায়েও একই ছাপ্পা রয়েছে।
বর্তমানে বিএনপির অবস্থা তথৈবচ। না আছে নেতৃত্ব, না আছে ভবিষ্যৎ। দলটির প্রধান নেতা বেগম খালেদা জিয়া এতিমের টাকা লোপাটের মতো নিম্নস্তরের দুর্নীতির দায়ে সাজাপ্রাপ্ত হয়ে জেলে বাস করছেন। খালেদা জিয়ার অবর্তমানে যার হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে এ দলের নেতৃত্ব। সেই তারেক রহমানের বিরুদ্ধেও রয়েছে আরও সব জঘন্যতর অভিযোগ। বেশ কয়েকটি মামলার তিনিও সাজাপ্রাপ্ত। লন্ডনে স্বেচ্ছায় ফেরার বাস করছেন। এ অবস্থায় এ-দলটি এখন চতুর্মুখী দ্বন্দ্ব-সংঘাতে কাবু। মাঠ পর্যায়ে ধীরে ধীরে দলের সাংগঠনিক ভিত্তিও দুর্বল হয়ে এসেছে। ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় হালুয়া-রুটির জন্য যারা দৌড়াদৌড়ি করতেন, লম্বা সময় ধরে ক্ষমতার বাইরে থাকায় তারাও সটকে পড়েছেন অনেক আগেই। দলের এই করুণ অবস্থা পার করতে হায়ার করা হয় গণফোরাম নেতা ড. কামাল হোসেনকে। ড. কামালের নেতৃত্বে গত নির্বাচনের মাসখানেক আগে গঠন করা হয় ‘জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট’ নামের এক মোর্চা। মূলত, জামাতকে আড়াল করতেই নেওয়া হয়েছিল এ পদক্ষেপ। কিন্তু তাতেও পার পাওয়া যায়নি। ভোটের আগে জামাতকে দলের প্রতীকসহ ২৫ আসন ছেড়ে দিয়ে নিজেদের স্বরূপ উন্মোচন করায় ভোটের মাঠে দারুণ বিপর্যয়ে পড়ে বিএনপি। এই বিপর্যয়ের মধ্যে আবার বিপত্তি দেখা দেয় দলের প্রতীক নিয়ে বিজয়ী হওয়া সংসদ সদস্যদের শপথকে ঘিরে। ‘জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট’ থেকে মনোনয়ন নিয়ে যারা বিজয়ী হয়েছেন, তাদের শপথ নিতে বাধা দেওয়ার পরেও গণফোরাম থেকে নির্বাচিত দুই সংসদ সদস্য ইতোমধ্যে শপথ গ্রহণ করায় নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে বিএনপি তথা ‘জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট’। নতুন প্রশ্ন সামনে, বিএনপির সংসদ সদস্যদের শপথ কবে?
বিএনপি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের পরবর্তী করণীয় ঠিক করতে লন্ডন টু গুলশান দফতরে দফায় দফায় চলছে বৈঠক। বিদেশিদের কাছ থেকেও নেওয়া হচ্ছে পরামর্শ। কঠিন এ দুঃসময়ে তৃণমূল ও কেন্দ্র মিলিয়ে শতাধিক নেতা দল থেকে পদত্যাগ করেছেন। ভোটের আগে গুরুত্ব না দেওয়ায় এবার বেঁকে বসেছেন ২০-দলের জোটের পুরনো মিত্ররাও। দলের অভ্যন্তরীণ এসব সংকটের মুখে পুনর্নির্বাচনের দাবিও ফিকে হয়ে এসেছে। দিন যত গড়াচ্ছে সমসাময়িক নানা ইস্যুতে বিএনপির ঘাড়ে ভর করছে চতুর্মুখী চাপ।
বিএনপির শীর্ষনেতারা বলছেন, দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে শিগগিরই কারামুক্ত করতে আন্দোলন করার কথা বলা হলেও কার্যত কোনো পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হয়নি। মূলত, নেতা-কর্মীদের একাংশ এখন আর ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে আবেগী খেলায় মাততে নারাজ। নেতাদের একাংশ এখনও মনে করেন, দলের নেতৃত্বে পরিবর্তন আনা দরকার। দরকার বিশ্বাসী নেতার। বিএনপির বড় দুর্বলতা হচ্ছে, নেতারা একে অপরকে বিশ্বাস করেন না। এমনকি দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াও তার দলের অন্য কোনো নেতাকে বিশ্বাস করেন না। যে কারণে, দুর্নীতির মামলার চূড়ান্ত রায়ের আগে জেলে যাওয়ার আশঙ্কা থেকে হঠাৎ করে দলের গঠনতন্ত্র সংশোধন করে নিজের সন্তানের হাতে দলের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জে. (অব.) মাহবুবুর রহমান মনে করেন, ‘ধ্বংসস্তূপ থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করছে বিএনপি। তার কথায়Ñ সময় তো একটু লাগবেই। দলীয় বৈঠক-পরিকল্পনা সবই চলছে। আন্দোলন ছাড়া কোনো বিকল্প নেই বিএনপির সামনে। তবে কতটুকু সম্ভব তা ভব্যিষ্যৎই বলে দেবে।’
এদিকে আপাতত বিএনপির মাথায় বড় চাপ হলোÑ দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি। যিনি বর্তমানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তার স্বাস্থ্যের পূর্ণাঙ্গ বিষয় ইতোমধ্যে কূটনীতিকদের কাছে তুলে ধরে তাদের সহায়তা চাওয়া হয়েছে বলে কূটনৈতিক সূত্রের খবর। গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর মতে, বিএনপির সংসদে না যাওয়া আপাতত সঠিক সিদ্ধান্ত। তার কথায়, ‘মাস শেষে কয়েকটা পয়সা পাওয়ার জন্য শুধুই সংসদে গিয়ে লাভ কী? আদতে দেশের জন্য তো কিছু হবে না। ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী মনে করেন, সরকার যদি খালেদা জিয়াকে প্যারোলে মুক্তি ও নেতা-কর্মীদের মামলা তুলে না নেয়, তাহলে কোন যুক্তিতে বিএনপির সংসদ সদস্যরা শপথ নেবেন?’ তবে গত ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনের পরপরই ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের সংসদে যোগ দিয়ে সোচ্চার হওয়ার কথা বলেছিলেন।

শ্রেণী:

আত্মত্যাগ ছাড়া কোনো কিছু অর্জন সম্ভব নয়

Posted on by 0 comment
4-9-2019 6-26-31 PM
4-9-2019 6-26-31 PM

৭ মার্চের সেমিনারে শেখ হাসিনা

উত্তরণ প্রতিবেদন: আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, কিছু পেতে হলে ত্যাগ করতে হয়। আত্মত্যাগ ছাড়া কোনো কিছু অর্জন সম্ভব নয়। ১৯৪৮ সাল থেকে যে আন্দোলন শুরু হয়েছে, সেই আন্দোলনের শেষ পরিণতি হিসেবে পেয়েছি একটি স্বাধীন দেশ। এর পেছনে রয়েছে লাখ লাখ মানুষের আত্মত্যাগ। গত ৮ মার্চ রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে এক সেমিনারে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্ট কর্তৃক বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চ-এর ভাষণের ওপর এই সেমিনারের আয়োজন করা হয়।
রাজনীতিকদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ব্যক্তিজীবনে আমি কী পেলাম আর কী পেলাম না এ হিসাব করলে চলবে না। রাজনীতিতে এসেছি দেশের মানুষের সেবা করতে। মানুষের জন্য কতটুকু করতে পারলাম সেটাই বড় কথা। যা বঙ্গবন্ধু আমাদের শিখিয়ে গিয়েছেন।’ তিনি বলেন, ‘পঁচাত্তরের পরে এদেশের রাজনীতি ইতিহাস ব্যর্থতায় পর্যবেশিত হতে ছিল। যুবসমাজ এক সময় অন্ধকারে নিমজ্জিত ছিল। তারা প্রকৃত ইতিহাস নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে ছিল। স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে একজন খলনায়ককে দাঁড় করানো হয়েছিল। তিনি না-কি কোন ড্রামের ওপর উঠে ঘোষণা দিয়েছিলেন। এভাবে ইতিহাসকে বিকৃত করা হয়েছে। তিনি বলেন, ’৭৫-পরবর্তী খলনায়ক হলেন জিয়াউর রহমান।’
ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ আলোচনা করে আগে নির্ধারিত হয়েছে বলে যারা দাবি করছেন তাদের কড়া সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এগুলো ডাহা মিথ্যা কথা। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকে এই ভাষণটার অনেকে অনেক ব্যাখ্যা দেন। তখনকার ছাত্র নেতারা এখন যারা জীবিত আছেনÑ আজকেও একজনের ইন্টারভিউ দেখতেছিলামÑ সেখানে কেউ কেউ নানাভাবে ব্যাখ্যা দিয়ে দিচ্ছে। আসলে এ ব্যাখ্যাগুলো শুনলে হাসিই পায়। এরা আসলে কত অর্বাচীনের মতো কথা বলে যে তিনি (বঙ্গবন্ধু) না-কি আগের দিন নিউক্লিয়াসের সঙ্গে আলোচনা করলেন। তো ভাষণে এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রামÑ এখানে মুক্তির সংগ্রাম আগে বলবেন না-কি স্বাধীনতার সংগ্রাম আগে বলবেন সেটাও না-কি নিউক্লিয়াস আলোচনা করেছিল। এগুলো সম্পূর্ণ ডাহা মিথ্যা কথা। সম্পূর্ণ ডাহা মিথ্যা কথা, এর (এসব কথার) কোনো যৌক্তিকতাই নাই।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘হ্যাঁ, ভাষণের আগে অনেকে দিনরাত পরিশ্রম করেছেন, অনেক পয়েন্ট তৈরি করেছেন, অনেকে বলেছে এটা বলতে হবে, ওটা বলতে হবে। এই ভাবে বলতে হবে, এই করতে হবে, ওই করতে হবে। এটা না করলে হতাশায় (জনগণ) ফিরে যাবে। নানা ধরনের কথায় কথায় সে-সময় আমরা জর্জরিত ছিলাম, কাগজে কাগজে, অনেক কাগজ আমাদের বাসায় জমা হয়েছিল। শেষ কথা বলেছিলেন আমার মা, যেটা আমি সব সময় বলি।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমার মা একটা কথাই বলেছিলেন, সারাটা জীবন তুমি সংগ্রাম করেছিলে, তুমি জানো বাংলাদেশের মানুষ কি চায়? এবং তার জন্য কি করতে হবে। তোমার থেকে ভালো কেউ জানে না। কাজেই মনে যে কথাটা আসবে তুমি শুধু সেই কথাটাই বলবে। আর কোনো কথা না।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই ভাষণ, এই ভাষণটা অনেক দীর্ঘ, এখানে কোনো পয়েন্ট নাই, কাগজও নাই, কিছুই ছিল না। কারণ তিনি তো সংগ্রাম করে গেছেন সেই ’৪৮ সাল থেকে। তখন থেকে বাঙালি জাতির মুক্তির জন্য তিনি সংগ্রাম করে গেছেন। স্বাভাবিকভাবে তিনি তো জানেন বাঙালির জাতির মুক্তির পথটা কোথায়? কীভাবে আসবে। তিনি যে নির্দেশনা দিয়েছিলেন সেটা বাঙালি জাতি অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছে।’
অনুষ্ঠানের শুরুতে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের ভিডিওচিত্র প্রদর্শন করা হয়। সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাস্টের সদস্য সচিব শেখ হাফিজুর রহমান। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান প্রফেসর আবদুল মান্নান। মূল প্রবন্ধের ওপর আলোচনা করেন বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরের সভাপতি শিল্পী হাসিম খান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষক ড. নিলয় রঞ্জন বিশ্বাস, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলাম। অনুষ্ঠানে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন বঙ্গবন্ধু জাদুঘরের প্রধান নির্বাহী মাসুদা হোসেন।

শ্রেণী:

মুক্তিযোদ্ধাদের বাড়ি করে দেবে সরকার

Posted on by 0 comment

উত্তরণ প্রতিবেদন: দেশের উপজেলা পর্যায়ে অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ৮ হাজার ফ্ল্যাট নির্মাণ করার উদ্যোগ নিয়েছিল সরকার। এ-লক্ষ্যে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) সভায় ২ হাজার ২৭৩ কোটি ২১ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্পের অনুমোদনও দেওয়া হয়েছিল। তবে মুক্তিযোদ্ধাদের দাবির প্রেক্ষিতে সেই প্রকল্প প্রত্যাহার করে নিয়েছে সরকার। নতুন প্রকল্পের মাধ্যমে ফ্ল্যাটের পরিবর্তে অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের বসতভিটায় বাড়ি করে দেবে সরকার। মুক্তিযোদ্ধা যাদের ভিটা নেই তাদের পার্শ¦বর্তী খাস জমিতে ঘর করে দেওয়া হবে। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর শেরেবাংলা নগর এনইসি সম্মেলন কক্ষে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই সিদ্ধান্ত দেন। একনেক সভা শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার কথা জানান।
এদিন, জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় নতুন ১০টি ও সংশোধিত ৩টি প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই ১৩ প্রকল্পের জন্য মোট ব্যয় হবে ১২ হাজার ৪৫৯ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিল (জিওবি) থেকে দেওয়া হবে ৯ হাজার ৪৮১ কোটি ৭৭ লাখ টাকা, সংস্থার নিজস্ব তহবিল থেকে দেওয়া হবে ১৫৪ কোটি ৪৫ লাখ টাকা এবং বৈদেশিক ঋণ হিসেবে পাওয়া যাবে ২ হাজার ৮২৩ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। একনেক সভা শেষে সাংবাদিকদের পরিকল্পনামন্ত্রী মুক্তিযোদ্ধাদের বিষয়টি নিয়ে বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের দাবির প্রেক্ষিতে এই প্রকল্প বাতিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান এমপি।
মন্ত্রী বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের দাবি ছিল ফ্ল্যাট না দিয়ে নিজস্ব ভিটায় একই টাকা খরচ করে ঘর নির্মাণ করে দেওয়ার। সেজন্য এখন নতুন করে ঘর নির্মাণ প্রকল্প নেওয়া হবে। জানা গেছে, ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে ২ হাজার ২৭ কোটি টাকা ব্যয়ে বহুতল ভবন নির্মাণ প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। এই প্রকল্পের আওতায় সারাদেশে ৫৩২টি ভবনে মোট ৮ হাজার ফ্ল্যাট নির্মাণের কথা ছিল। প্রতিটি ভবন পাঁচতলা হলেও এগুলোতে ওঠানামার লিফটের কোনো ব্যবস্থা ছিল না। আরও জানা গেছে, নতুন প্রকল্পের জন্য এরই মধ্যে সারাদেশ থেকে প্রাথমিকভাবে ১৬ হাজার মুক্তিযোদ্ধার তালিকা করা হয়েছে। আর নতুন প্রকল্পে একতলা একটি ঘর নির্মাণের সম্ভাব্য খরচ ধরা হয়েছে ২০ লাখ টাকা।

শ্রেণী:

সাজেদা চৌধুরী তৃতীয়বারের মতো সংসদ উপনেতা

Posted on by 0 comment
Mfd

Mfdউত্তরণ প্রতিবেদন: টানা তৃতীয়বারের মতো জাতীয় সংসদের উপনেতা হলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য ও প্রবীণ রাজনীতিক মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী।
জাতীয় সংসদ সচিবালয়ে সিনিয়র সচিব ড. জাফর আহমেদ খান স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনেও স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী কর্তৃক সংসদ উপনেতা হিসেবে সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীকে স্বীকৃতি প্রদানের তথ্য জানানো হয়। গত ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী ফরিদপুর-২ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এর আগে ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীকে সংসদ উপনেতা করা হয়। এরপর দশম সংসদেও তিনি উপনেতার দায়িত্ব পান। সংসদ উপনেতা হিসেবে মন্ত্রীর মর্যাদা পাবেন সাজেদা চৌধুরী। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর বিপর্যয়ের মুখে পড়ে আওয়ামী লীগ। সেই সংকটময় মুহূর্তে আওয়ামী লীগকে সংগঠিত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন সাজেদা চৌধুরী। ১৯৭৬ সালে সাজেদা চৌধুরী আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান। ১৯৮৬ থেকে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত তিনি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ১৯৯২ থেকে আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য নির্বাচিত হয়ে আসছেন। এর আগে ১৯৬৯ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত সাজেদা চৌধুরী মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতিদের তালিকা
কার্য উপদেষ্টা কমিটি : ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী; কার্যপ্রণালি বিধি সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি ও বিশেষ অধিকার সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি : ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী; পিটিশন কমিটি : ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী; লাইব্রেরি কমিটি : মো. ফজলে রাব্বী মিয়া; সংসদ কমিটি : নূর-ই-আলম চৌধুরী; বেসরকারি সদস্যদের বিল এবং বেসরকারি সদস্যদের সিদ্ধান্ত প্রস্তাব সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি : শেখ ফজলে নূর তাপস; সরকারি প্রতিষ্ঠান কমিটি : আ. স. ম. ফিরোজ; সরকারি হিসাব সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি : মো. রুস্তম আলী ফরাজী; আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি : আব্দুল মতিন খসরু; প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি : মোহাম্মদ সুবিদ আলী ভূঁইয়া; অনুমিত হিসাব সম্পর্কিত কমিটি : মো. আব্দুস শহীদ; বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি : মির্জা আজম; সরকারি প্রতিশ্রুতি সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি : অধ্যাপক মো. আলী আশরাফ; পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি : আলহাজ মো. দবিরুল ইসলাম; সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি : বেগম সিমিন হোসেন (রিমি); জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি : এইচএন আশিকুর রহমান; যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি : আব্দুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব; খাদ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি : মোহাম্মদ নাসিম; অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি : আবুল হাসান মাহমুদ আলী; ভূমি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি : মো. মকবুল হোসেন; স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি : খন্দকার মোশাররফ হোসেন; পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি : আবুল কালাম আজাদ; নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি : মেজর (অব.) রফিকুল ইসলাম, বীরউত্তম; সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি : রাশেদ খান মেনন; বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি : আ. ফ. ম. রুহুল হক; সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়  সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি : মো. একাব্বর হোসেন; ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি : একেএম রহমতুল্লাহ; শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি : মো. মুজিবুল হক; বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি : তোফায়েল আহমেদ; পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি : রমেশ চন্দ্র সেন; মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি : শাজাহান খান; গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি : ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন; তথ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি : হাসানুল হক ইনু; কৃষি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি : বেগম মতিয়া চৌধুরী; শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি : মো. আফছারুল আমীন; বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি : র. আ. ম. উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী; শিল্প মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি : আমির হোসেন আমু; স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি : মো. শামসুল হক টুকু; স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি : শেখ ফজলুল করিম সেলিম; পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি : সাবের হোসেন চৌধুরী; পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি : মুহাম্মদ ফারুক খান; বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি : মো. শহীদুজ্জামান সরকার; মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি : ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু; প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি : আনিসুল ইসলাম মাহমুদ; প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি : আনিসুল ইসলাম মাহমুদ; প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি : মোস্তাফিজুর রহমান; রেলপথ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি- এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী; দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি : এবি তাজুল ইসলাম।

শ্রেণী:

সংসদে প্রধানমন্ত্রী : রাজনীতি করি মানুষের জন্য

Posted on by 0 comment
Mfd

Mfdউত্তরণ প্রতিবেদন: প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে বলেছেন, রাজনীতি করি দেশের মানুষের জন্য, নিজের জন্য নয়। মানুষের সমস্যা জানার ও তা সমাধানের চেষ্টা করি। রাজনীতিবিদ হিসেবে এটাই আমার কর্তব্য বলে মনে করি। ক্ষমতা ভোগ করার বিষয় নয়, জনসেবার বিষয়। সেজন্যই কীভাবে দেশের মানুষের কল্যাণ করতে পারি, সে লক্ষ্য নিয়েই কাজ করে যাচ্ছি।
সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমে মাদকমুক্ত দেশ ও সমাজ গড়ে তোলার ওপর সবাইকে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এমপি নিজ নিজ এলাকায় কেউ যাতে মাদকাসক্ত না হয়, সে-বিষয়ে সচেষ্ট থাকতে হবে। অন্য জনপ্রতিনিধিদেরও সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমে মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে সচেষ্ট থাকতে হবে। মাদক ব্যবহার, বিক্রি বা বহন এগুলো যে অপরাধ, জনগণ এ বিষয়ে এখন যথেষ্ট সচেতন।
তিনি বলেন, সরকার যাদের আত্মসমর্পণ করাচ্ছে (মাদক কারবারি), তাদের চিকিৎসা ও কাউন্সিলিংয়ের মাধ্যমে মাদক থেকে দূরে রাখার পদক্ষেপ নিয়েছি। মাদক ব্যবসায়ীদের মধ্যে যারা আত্মসমর্পণ করছে তাদের সরকারের পক্ষ থেকে আর্থিক সাহায্য দেওয়া হচ্ছে, যাতে তারা অন্য কোনো ব্যবসায় নিয়োজিত হয়ে ভালোভাবে চলতে পারে। এভাবে তাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। কারণ বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার দেশে আইনের শাসন সমুন্নত রাখতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। দেশব্যাপী আইনশৃঙ্খলার উন্নয়ন, সন্ত্রাস দমন, চাঁদাবাজি রোধ ও জঙ্গিবাদ দমনে এবং মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে আমরা সর্বদা তৎপর। ইতোমধ্যে জঙ্গিবাদ দমনের সাফল্য বিশ্বে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে।
স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে গত ২৭ ফেব্রুয়ারি সংসদ অধিবেশনের প্রশ্নোত্তর পর্বে একাধিক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। কাজী ফিরোজ রশীদের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যেখানে যেখানে মাদক চোরাচালান হয়, বিশেষ করে সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে মাদক নিয়ন্ত্রণ ও চোরাচালান বন্ধে সরকার পর্যাপ্ত পদক্ষেপ নিয়েছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ১৮ অনুযায়ী মাদক পরিবহন ও চোরাচালানের জন্য সর্বোচ্চ শাস্তির (মৃত্যুদ-) বিধান রাখা হয়েছে। প্রতিটি জেলায় মাদক নিরাময় কেন্দ্র স্থাপনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

প্রতিটি গ্রামে শহরের সুবিধা
জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য মুজিবুল হক চুন্নুর প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে দেশের সকল গ্রামকে শহরের সুযোগ-সুবিধা দিতে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গ্রামীণ অর্থনীতিতে বৈচিত্র্য এসেছে। কৃষিজ ও অকৃষিজ উভয়ক্ষেত্রে কর্মকা- বহুগুণ সম্প্রসারিত হয়েছে। ফলে গ্রামীণ পরিবারের আয় ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে অকৃষি খাতের অবদান বেড়ে চলেছে। আমাদের মূল লক্ষ্যই হলোÑ সব গ্রামে শিক্ষা, চিকিৎসাসহ সকল ধরনের নাগরিক সুবিধা পৌঁছে দেওয়া। তিনি বলেন, প্রতিটি গ্রামে আধুনিক নগর সুবিধা সম্প্রসারণ বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের অন্যতম নির্বাচনী অঙ্গীকার। এ অঙ্গীকার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বর্তমান সরকার গ্রামকেন্দ্রিক নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। তিনি জানান, স্বাধীন দেশে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নগর ও গ্রামের বৈষম্য ক্রমাগতভাবে দূর করার উদ্দেশ্যে কৃষিবিপ্লব, গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুতায়ন, কুটির শিল্প ও অন্যান্য শিল্পের বিকাশ এবং শিক্ষা, যোগাযোগ-ব্যবস্থা ও জনস্বাস্থ্যের উন্নয়নের মাধ্যমে গ্রামাঞ্চলের আমূল রূপান্তর সাধনের জন্য রাষ্ট্র কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে অঙ্গীকার করেছিলেন। সে-লক্ষ্য বাস্তবায়নে আমরা প্রতিটি গ্রামকে শহরে উন্নীত করার কর্মসূচি গ্রহণ করেছি। শেখ হাসিনা বলেন, গত দুই মেয়াদে আওয়ামী লীগ সরকারের বহুমাত্রিক তৎপরতা, যেমনÑ শিক্ষা সম্প্রসারণ, কৃষি ও অকৃষি খাতে দক্ষ জনবল বাড়াতে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা-প্রশিক্ষণের সুযোগ বৃদ্ধি, স্বাস্থ্যসেবার সম্প্রসারণ, গ্রামাঞ্চলে আর্থিক সেবা খাতের পরিধি বিস্তার, কৃষি প্রযুক্তির সম্প্রসারণ, বিদ্যুতায়ন, গ্রামীণ অবকাঠামো ও যোগাযোগ-ব্যবস্থার উন্নয়ন ইত্যাদি গ্রামোন্নয়ন প্রয়াসকে ত্বরান্বিত করেছে। প্রবাসীদের প্রেরিত অর্থের প্রবাহ বৃদ্ধি গ্রামীণ অর্থনীতির এই বিকাশ প্রক্রিয়ায় সহায়ক হচ্ছে।
ঢাকার চতুর্দিকে বৃত্তাকার রেলপথ
সরকারি দলের সংসদ সদস্য দিদারুল আলমের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঢাকা মহানগরীর যানজট সমস্যা নিরসনের লক্ষ্যে গত ১০ বছরে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মাধ্যমে বেশকিছু প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে এবং অনেক প্রকল্প এখন বাস্তবায়নাধীন। এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হলে খুব শীঘ্রই ঢাকার যানজটমুক্ত করা হবে আশা করা যায়। আগামী দিনের পরিকল্পনার মধ্যে ঢাকা শহরের চতুর্দিকে বৃত্তাকার রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পও রয়েছে। তিনি জানান, ’৩০ সালের মধ্যে ঢাকা মহানগরী ও তৎসংলগ্ন পার্শ্ববর্তী মহানগরীর সঙ্গে দ্রুতগতির আধুনিক পরিবহন ব্যবস্থা হিসেবে কমলাপুর হতে নারায়ণগঞ্জ রুটে প্রায় ১৬ কিমি দীর্ঘ এমআরটি লাইন-৪ নির্মাণ, গাবতলী থেকে চট্টগ্রাম রোড পর্যন্ত ২৪ কিমি দীর্ঘ এমআরটি লাইন-২ নির্মাণ করা হবে।
পরিকল্পনার মধ্যে ঢাকা শহরের চারদিকে দুটি রিং রোড (ইনার ও মিডল) নির্মাণ, পিপিপি ভিত্তিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ, যান্ত্রিক কার পার্কিং সিস্টেম চালুকরণ, পথচারীবান্ধব সড়ক ও ফুটপাথ উন্নয়ন, আমিনবাজার হতে গাবতলী-রাসেল স্কয়ার-নিউমার্কেট হয়ে পলাশী/আজিমপুর পর্যন্ত মিরপুর রোডে পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপের (পিপিপি) মাধ্যমে এলিভেটেড র‌্যাপিড ট্রানজিট বাস নির্মাণ প্রকল্প রয়েছে।

রাজধানীর পাশেই চার স্যাটেলাইট সিটি
এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজধানীর জনসংখ্যার চাপ কমানোর জন্য ইতোপূর্বে পার্শ্ববর্তী এলাকায় ৪টি স্যাটেলাইট সিটি নির্মাণের লক্ষ্যে পিপিপি পদ্ধতিতে প্রকল্প গ্রহণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছিল। তিনি জানান, ওই ৪টি স্যাটেলাইট সিটি হচ্ছেÑ বংশী-ধামরাই স্যাটেলাইট টাউন উন্নয়ন, ধলেশ্বরী-সিংগাইর স্যাটেলাইট টাউন উন্নয়ন, ইছামতি-সিরাজদিখান স্যাটেলাইট টাউন উন্নয়ন ও সাভার স্যাটেলাইট টাউনে হাইরাইজ অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্প। প্রকল্পগুলো পিপিপি পদ্ধতিতে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কার্যক্রম চলছে। এ ছাড়াও গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় রাজধানীর পার্শ¦বর্তী এলাকায় ৪টি স্যাটেলাইট সিটি, ঢাকার উত্তর ও দক্ষিণে রাজউকের দুটি এবং গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের ঢাকার পশ্চিমে ও দক্ষিণে দুটি প্রকল্প গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

শ্রেণী:

‘আমরা দেশকে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলায় রূপান্তর করব’

Posted on by 0 comment
Mfd
Mfd

অমর একুশে : আওয়ামী লীগের আলোচনা সভা

উত্তরণ প্রতিবেদন: দেশের উন্নয়নের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, জনগণের যে বিশ্বাস আমরা অর্জন করেছি সেই বিশ্বাসের মর্যাদা আমাদের রাখতে হবে। উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে বাংলাদেশ এখন বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত। ২০০৮ সালে আমরা যে আলোর পথে যাত্রা শুরু করেছি, সেই যাত্রায় আমাদের কেউ দমিয়ে রাখতে পারবে না, বাধা দিয়ে রাখতে পারবে না। দেশের উন্নয়নের পথে আমরা এগিয়ে যাবই।
২১শে ফেব্রুয়ারি শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে গত ২২ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর খামারবাড়ির কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের শুরুতেই পুরান ঢাকার চকবাজারের চুড়িহাট্টার ভয়াবহ অগ্নিকা-ের ঘটনায় নিহতদের স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। ভাষা আন্দোলনের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মাতৃভাষায় কথা বলা আমাদের জন্মগত অধিকার। কেউ এই অধিকার কেড়ে নিতে পারে না। তাই তো যখনই এই অধিকারের ওপর আঘাত এসেছে তখনই বাঙালি প্রতিবাদ করেছে। কোনো জাতিকে দুর্বল করতে হলে শত্রুপক্ষ প্রথমে তাদের ভাষা এবং সংস্কৃতির ওপরে আঘাত হানে। পাকিস্তানিরাও তাই করার চেষ্টা করেছিল। আমাদের ওপর উর্দু ভাষা চাপিয়ে দেয়ার ষড়যন্ত্র হয়েছিল।
তিনি বলেন, ১৯৪৭ সালের দেশভাগের জন্য পূর্ব বাংলার মানুষের অবদান ছিল সবচেয়ে বেশি। তখন পাকিস্তানের চেয়ে পূর্ব বাংলার জনসংখ্যা ছিল বেশি। অথচ দেশভাগের পরপরই পাকিস্তানের করাচিতে যখন সম্মেলন হয় তখন সে সম্মেলনে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, উর্দু ভাষা হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা। এ সিদ্ধান্তের পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররাও গর্জে উঠেছিল। বাঙালিদের ওপর পাকিস্তানিদের দমন-পীড়নের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সেই সময়ের মতো এখনও ষড়যন্ত্র অব্যাহত আছে। বাংলাদেশের জনগণ ভালো থাকলে কিছু মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়ে। দেশে যদি কোনো মার্শাল ল’ জারি হয়, অসাংবিধানিক শক্তি ক্ষমতা দখল করে, তখন তারা খুব শান্তিতে থাকে। কারণ তারা ক্ষমতার বাতাস পায়। সে আশায় তারা জনগণের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলে।
প্রধানমন্ত্রী বক্তৃতার শুরুতেই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্মরণ করেন। উল্লেখ করেন, বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বেই ভাষা আন্দোলন শুরু হয়, যার ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশের স্বাধীনতায় তিনি নেতৃত্ব দেন। মাতৃভাষার জন্য রক্ত দেয়া জাতি বিশ্বের মধ্যে কেবল বাঙালিই জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে এই বাংলা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। আমাদের সব থেকে গৌরবের, ভাষার জন্য রক্ত দেয়া। সেই মাতৃভাষার ওপর বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ একটি ভাষাভিত্তিক রাষ্ট্র।
১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে জাতিকে নিঃশেষ করে দেয়ার চেষ্টা হয়েছিল উল্লেখ করে বঙ্গবন্ধু-কন্যা শেখ হাসিনা বলেন, ’৭৫-এর পর যারা ক্ষমতায় এসেছিল, তারা বাংলা ভাষা, সংস্কৃতি, সাহিত্য, এমনকি এ জাতির অস্তিত্বেই বিশ্বাস করত না। সেজন্য তারা যখন ক্ষমতায় ছিল, তখন কোনো উন্নতি-অগ্রযাত্রা হয়নি এদেশের। আর যখন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসতে পারল, তখনই দেশ ও জনগণের ভাগ্যোন্নয়ন হয়েছে। সেজন্য কৃতজ্ঞতা জানাই জনগণের প্রতি।
তবে ২০০১ সালের নির্বাচনের পর বিএনপি-জামাত ক্ষমতায় এসে যে অত্যাচার-হত্যাকা- চালিয়েছে, তা একাত্তর সালের হানাদারদের মতো। ২০১৪ সালের নির্বাচন ঠেকানোর নামে তাদের সে তা-ব, জঙ্গিবাদী আচরণ, আগুন দিয়ে জীবন্ত মানুষ পুড়িয়ে পুড়িয়ে হত্যাকা- সেই ভয়াবহ স্মৃতি সবার মনে আছে। তাদের জনগণ ভোট দেবে কেন? ২০১৩, ১৪-১৫, এ বছরগুলোতে প্রায় ৩ হাজার ৮০০ থেকে ৯০০ মানুষ অগ্নিদগ্ধ হয়েছে। ৫০০-র মতো মানুষ অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা গেছেন। এখনও সেই অগ্নিদগ্ধ অনেকে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। যারা মানুষ পুড়িয়েছে, তাদের জনগণ ভোট দেয়নি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দারিদ্র্য ও ক্ষুধামুক্ত স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। প্রতিটি গ্রামের মানুষ যেন উন্নত জীবন পায় সেভাবে আমরা দেশকে গড়ে তোলার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। দেশের মানুষের সহযোগিতা পেলে ২১ সালের মধ্যে দারিদ্র্য ও ক্ষুধামুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব। ’৪১ সালের মধ্যে দক্ষিণ এশিয়া মহাদেশের মধ্যে উন্নত এবং সমৃদ্ধ বাংলাদেশ আমরা উপহার দিব। এজন্য ডেল্টা প্ল্যান ২১০০ আমরা প্রণয়ন করেছি এবং এ লক্ষ্যে আমরা কাজ করেছি। মার্চ মাসে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী জাঁকজমকভাবে পালন করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি।
টানা তিনবারের মতো আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়ে সরকার গঠনের সুযোগ দেয়ায় জনগণকে ধন্যবাদ জানিয়ে বঙ্গবন্ধু-কন্যা বলেন, এখন দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। আমরা এদেশকে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলায় রূপান্তর করব।
সভায় আরও বক্তব্য রাখেন, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু এমপি, তোফায়েল আহমেদ এমপি, প্রেসিডিয়াম সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী এমপি, শেখ ফজলুল করিম সেলিম এমপি, কালের কণ্ঠের সম্পাদক এমদাদুল হক মিলন, আওয়ামী লীগ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবীর নানক, আবদুর রহমান, মহানগর নেতা একেএম রহমতুল্লাহ, সাদেক খান ও শিক্ষাবিদ অধ্যাপিকা মেরিনা জাহান কবিতা।

শ্রেণী:

একুশ আমাদের শিখিয়েছে মাথানত না করতে

Posted on by 0 comment
Mfd
Mfd

একুশে পদক প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী

উত্তরণ প্রতিবেদন: একুশের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে সবাই মিলে বাংলাদেশকে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, একুশ আমাদের শিখিয়েছে মাথানত না করা। আমি মনে করি, একুশে পদকজয়ীদের অনুসরণ করে আমাদের আগামী প্রজন্ম নিজেদের গড়ে তুলবে। একুশ আমাদের শিখিয়েছে কীভাবে নিজের অস্তিত্ব রক্ষা করা যায়, নিজের মাতৃভাষাকে রক্ষা করা যায়। সঙ্গে সঙ্গে নিজের সংস্কৃতি, শিক্ষা, ঐতিহ্য সবকিছুকেই রক্ষা করা ও তার মর্যাদা দেয়া। তাই আসুন, আমাদের মাতৃভূমিকে আমরা গড়ে তুলি। আমাদের সংস্কৃতি, আমাদের ঐতিহ্য নিয়ে বিশ্বে যেন অনন্য মর্যাদায় চলতে পারি। স্বপ্নের ক্ষুধামুক্ত দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলাদেশ গড়তে পারি।
গত ২০ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে একুশে পদক প্রদান ২০১৯ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী এই আহ্বান জানান। তিনি বলেন, আমরা বাঙালি, বাংলাদেশ আমাদের দেশ। বাংলা আমাদের ভাষা। জাতির পিতা এ কথা বারবার বলেছেন। আর সেই দেশকে আমরা গড়ে তুলতে চাই, বিশ্ব দরবারে একটা মর্যাদায় যেন বাংলাদেশ অধিষ্ঠিত হয়। বাঙালি জাতি যেন বিশ্বসভায় মাথা উঁচু করে সম্মানের সঙ্গে চলতে পারে, সেটাই আমাদের লক্ষ্য। সেই লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি। আমরা এটুকুই চাই।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী ২২ কীর্তিমান একুশে পদক প্রাপ্তদের হাতে একটি সোনার মেডেল, সম্মাননাপত্র ও ২ লাখ টাকার চেক তুলে দেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী কেএম খালিদ এমপি। স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মো. আবু হেনা মোস্তফা কামাল। একুশে পদক প্রদান অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. শফিউল আলম।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা একুশে পদক পেয়েছেন, তারা গুণীজন। তারা স্ব-স্ব ক্ষেত্রে কীর্তিমান। দেশ-জাতি-ভাষায় তাদের বিশাল অবদান রয়েছে। সেই অবদানের কথা সব সময় আমরা স্মরণ করি। একুশে ফেব্রুয়ারির প্রাক্কালে ভাষা শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি এই সংগ্রামে যারা অংশগ্রহণ করেছেন, তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাই। আজ যেসব গুণীজন পুরস্কৃত হয়েছেন, তাদের প্রতিও আন্তরিক অভিনন্দন।
মহান একুশের বিভিন্ন প্রেক্ষাপট তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের সৌভাগ্য ২০০৮ সালের নির্বাচনে বাংলাদেশের জনগণ নৌকা মার্কায় ভোট দেয়। আমরা আবার সরকারে আসি। সরকারে আসার পর সেই মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট নির্মাণ করি, সেখানে এখন গবেষণা চলছে। পৃথিবীর বিভিন্ন মাতৃভাষার নমুনা, এমনকি হারিয়ে যাওয়া মাতৃভাষার নমুনা সংগ্রহেরও কাজ চলছে। আমাদের দেশের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী তাদের ভাষা বা পৃথিবীর অন্যান্য দেশেরও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষার নমুনা সংগ্রহ করা এবং গবেষণা করার কাজ আমরা অব্যাহত রেখেছি।
বঙ্গবন্ধু-কন্যা বলেন, জাতির পিতার স্বাধীনতার পর জাতিসংঘে যে ভাষণ দিয়েছিলেন, তিনি কিন্তু বাংলা ভাষায় ভাষণ দিয়েছিলেন। আমি তার পদাঙ্ক অনুসরণ করে সরকারপ্রধান হিসেবে যতবার ভাষণ দিয়েছি, প্রতিবারই বাংলা ভাষায় ভাষণ দিয়ে যাচ্ছি। আমাদের স্বাধীনতা, আমাদের ভাষার অধিকার, আমাদের সংস্কৃতি, আমাদের কৃষ্টি এটাকে রক্ষা করা, চর্চা করা, এগিয়ে নিয়ে যাওয়া এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটা সুন্দর পরিবেশ সৃষ্টি করা, এটা আমাদেরই কর্তব্য।
তিনি বলেন, আমরা অনেক সংগ্রামের মধ্য দিয়ে যে অর্জন করেছি, তার সুফলটা যেন আমাদের আগামী প্রজন্ম ভোগ করতে পারে। তারা যেন একটা সুন্দর জীবন পায়, সেটাই আমরা চাই। আমরা এই দেশটা এমনভাবে গড়ে তুলতে চাই যেন বিশ্ব দরবারে একটি মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত হয়। আমরা এটুকুই চাইÑ বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে। বাংলাদেশের মানুষ মাথা উঁচু করে চলবে। কারণ একুশ আমাদের শিখিয়েছে মাথানত না করা। একুশ আমাদের আরও শিখিয়েছে কীভাবে নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষা করা যায়, নিজের মাতৃভাষাকে রক্ষা করা যায়। মাতৃভাষার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের সংস্কৃতি, আমাদের শিক্ষা-ঐতিহ্য সবকিছুকেই রক্ষা করা এবং তার মর্যাদা দেয়া।
একুশে ফেব্রুয়ারির প্রাক্কালে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আসুন, আমাদের মাতৃভূমিকে আমরা গড়ে তুলি, আমাদের সংস্কৃতি-ঐতিহ্য সবকিছু নিয়ে যেন আমরা বিশ্বে একটা অনন্য মর্যাদা নিয়ে চলতে পারি, জাতির পিতার স্বপ্নের ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলাদেশ গড়তে পারি।
পুরস্কার প্রাপ্তদের অবদানের কথা স্বীকার করেন এবং তাদের প্রতি অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, আমরা মনে করি, এই সম্মানটা মূলত এটা দেশের জন্য। জাতির জন্য এবং ভবিষ্যৎ বংশধরদের জন্য। তাদের জীবনটাকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্যই এই পুরস্কার। আমরা বাঙালি জাতি আমাদের জীবনের যা কিছু অর্জন, সবই কিন্তু এসেছে সংগ্রামের মধ্য দিয়ে। আন্দোলনের মধ্য দিয়ে। আমরা বাঙালি, বাংলা আমাদের ভাষা। সেই বাংলা ভাষার অধিকারটুকু পর্যন্ত আমাদের কাছ থেকে কেড়ে নেয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল।
ভাষা আন্দোলনের স্মৃতিচারণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৪৭ সালে করাচিতে এক শিক্ষা সম্মেলনে ঘোষণা করা হলো, পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হওয়া উচিত উর্দু। এই খবর আসার সঙ্গে সঙ্গে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের ছাত্ররা প্রতিবাদ করে। খাজা নাজিমুদ্দিন তখন মুখ্যমন্ত্রী। তার বাড়ির সামনে প্রতিবাদ জানানো হয়। সেই প্রতিবাদ থেকেই আমাদের যাত্রা শুরু। এরপর আমরা দেখেছি যে, বারবার আমাদের সংস্কৃতিতে আঘাত দেয়া, ভাষায় কথা বলার অধিকার কেড়ে নেয়া, বাঙালি আমরা এবং পাকিস্তান নামে যে রাষ্ট্রটি হয়েছিল সেখানে তখন লোকসংখ্যার দিক থেকে সংখ্যাগরিষ্ঠ তখন আমরা। অথচ বাঙালিদের অধিকার ছিল না।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভাষা আন্দোলনের যে যাত্রা শুরু সে বিষয়ে আপনারা নিজেরা জানতে পারবেন যদি জাতির পিতার বঙ্গবন্ধুর ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’টা একটু পড়েন। সেখানেই জানতে পারবেন, কীভাবে এই আন্দোলন শুরু হয়েছিল। পাশাপাশি সিক্রেটস অব ডকুমেন্টের কথা তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, এই ডকুমেন্টের মধ্য দিয়ে আপনারা জানতে পারবেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কি অবদান রয়েছে ভাষা আন্দোলনে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুর্ভাগ্য আমাদের, একটা সময় ছিল যখন ইতিহাস থেকে তার যে অবদান সেটা মুছে ফেলা হয়েছিল। কিন্তু এই ডকুমেন্টগুলো পাওয়ার পর থেকে এবং তার আত্মজীবনী প্রকাশ হওয়ার পর থেকেই সে-কথাগুলো আজকে আমাদের সামনে এসেছে। কীভাবে দিনের পর দিন বঙ্গবন্ধু সংগ্রাম করতেন। তিনি বলেন, ১৯৮৪ সালে প্রথম এই সংগ্রাম শুরু এবং সেখান থেকেই যাত্রা শুরু। এরপরে ১৯৫৬ সালে যখন আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে তখনই পাকিস্তানের প্রথম শাসনতন্ত্র রচনা হয়। সোহরাওয়ার্দী সাহেব তখন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা দেয়া হয়েছিল।
একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষার স্বীকৃতি আদায়ের দীর্ঘ প্রক্রিয়ার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ যখন ১৯৯৬ সালে সরকার গঠন করে তখন আমাদের কিছু বাঙালি তারা কানাডায় বসবাস করতেন। তাদের একজনের নাম সালাম, আরেক জনের নাম রফিক। ভালোবাসি মাতৃভাষা বলে একটি সংগঠন পৃথিবীর কয়েকটি ক্ষুদ্র ভাষাভাষী মিলে তারা মাতৃভাষা রক্ষার জন্য একটা সংগঠন করে। সেই প্রেক্ষাপটটি তুলে ধরে তিনি বলেন, জাতিসংঘে কোনো ব্যক্তি বা সংগঠন প্রস্তাব পাঠালে হয় না। সেখানে একটি সদস্য দেশ থেকে প্রস্তাব পাঠাতে হয়। এই কথা শোনার সঙ্গে সঙ্গে তখনই প্রস্তুতি নেই এবং আমরা সঙ্গে সঙ্গে প্রস্তাব পাঠাই। সেই প্রস্তাব মোতাবেকই আমাদের একুশে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।
ভাষা আন্দোলন থেকে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন প্রেক্ষাপট তুলে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আমি এইটুকু বলব, বাংলাদেশের মানুষের যা কিছু অর্জন সে অর্জনটা কিন্তু সব সময় আওয়ামী লীগই এনে দিয়েছে। আজকে বিশ্বজুড়ে ২১ ফেব্রুয়ারি পালন করা হয় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে। শুধু অর্জনটাই না মাতৃভাষাকে রক্ষা করা, মাতৃভাষাকে চর্চা করা, মাতৃভাষার ওপর গবেষণা করার জন্য আপনারা তখনই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট গড়ে তুলব। জাতিসংঘের সেক্রেটারি জেনারেল আমার আমন্ত্রণে ঢাকায় এসেছিলেন। আমরা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করি এবং নির্মাণকাজ শুরু করি। কারণ প্রকল্প আমরা আগেই নিয়েছিলাম।
প্রধানমন্ত্রী এ সময় বলেন, আমাদের সরকারের ২০০১ সালে পাঁচ বছর পূর্ণ হয়ে যায়। বাংলাদেশের ইতিহাসে স্বাধীনতার পরে প্রথম একটি সরকার পাঁচ বছর পূর্ণ করে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা আমরা হস্তান্তর করি। পরবর্তীতে বিতর্কিত নির্বাচনে বিএনপি-জামাত জোট সরকার ক্ষমতায় আসে। তারা ক্ষমতায় আসার পর যথারীতি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট নির্মাণকাজ বন্ধ করে দিয়েছিল। পরে আমরা আবারও নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠন করে এই ইনস্টিটিউটটি প্রতিষ্ঠা করি।
এবার একুশে পদক পেলেন যারা : অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একুশে পদকপ্রাপ্ত কীর্তিমানদের হাতে পুরস্কার, সম্মাননাপত্র ও চেক তুলে দেন। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এই অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এবার একুশে পদকপ্রাপ্তদের একটি সোনার মেডেল ও ২ লাখ টাকার চেক দেওয়া হয়। মরণোত্তর পুরস্কার প্রাপ্তদের মধ্যে কিংবদন্তি পপ সংগীতশিল্পী প্রয়াত আজম খানের পক্ষে তার কন্যা ইমা খান এবং অধ্যাপক হালিমা খাতুনের পক্ষে পদক গ্রহণ করেন তার মেয়ে প্রজ্ঞা লাবণী।
এছাড়া পদক প্রাপ্তদের মধ্যে অন্যরা সশরীরে উপস্থিত থেকে পুরস্কার গ্রহণ করেন। তাদের মধ্যে তিনজন হুইল চেয়ারে উপস্থিত হয়ে প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে পদক নেন। ভাষা আন্দোলনের কারণে একুশে পদকপ্রাপ্ত অধ্যাপক মনোয়ারা ইসলাম হুইল চেয়ারে করে পদক নিতে এলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রধান অতিথির আসন থেকে নেমে এসে সামনের কাতারে এসে মনোয়ারা ইসলামের গলায় পদক পরিয়ে দেন।
এবার একুশে পদকপ্রাপ্তরা হলেনÑ অধ্যাপক হালিমা খাতুন (ভাষা আন্দোলন, মরণোত্তর), অ্যাডভোকেট গোলাম আরিফ টিপু (ভাষা আন্দোলন), সুবীর নন্দী (শিল্পকলা, সংগীত), আজম খান (শিল্পকলা, সংগীত, মরণোত্তর), খায়রুল আনাম শাকিল (শিল্পকলা, সংগীত), লাকী ইনাম (শিল্পকলা, অভিনয়), সুবর্ণা মুস্তাফা (শিল্পকলা, অভিনয়), লিয়াকত আলী লাকী (শিল্পকলা, অভিনয়), সাইদা খানম (শিল্পকলা, আলোকচিত্র), জামাল উদ্দিন আহমেদ (শিল্পকলা, চারুকলা), ক্ষীতিন্দ্র চন্দ্র বৈশ্য (মুক্তিযুদ্ধ), ড. বিশ্বজিৎ ঘোষ (গবেষণা), ড. মাহবুবুল হক (গবেষণা), ড. প্রণব কুমার বড়–য়া (শিক্ষা), রিজিয়া রহমান (ভাষা ও সাহিত্য), ইমদাদুল হক মিলন (ভাষা ও সাহিত্য), অসীম সাহা (ভাষা ও সাহিত্য), আনোয়ারা সৈয়দ হক (ভাষা ও সাহিত্য), মইনুল আহসান সাবের (ভাষা ও সাহিত্য) ও হরিশংকর জলদাস (ভাষা ও সাহিত্য)।

শ্রেণী:

আমিরাতের সঙ্গে চার সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর

Posted on by 0 comment
Mfd

Mfdউত্তরণ প্রতিবেদন :প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আবুধাবি সফরে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও অর্থনৈতিক অঞ্চল নিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে ৪টি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে, যার মধ্য দিয়ে বড় ধরনের বিনিয়োগের আশা করছে সরকার।
গত ১৭ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় সময় বিকেলে আবুধাবির সেন্ট রেগিজ হোটেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে এসব সমঝোতা স্মারক সই হয়। পররাষ্ট্র সচিব সাংবাদিকদের বলেন, আমার মনে হচ্ছে যে, এটার ভেতর দিয়ে বাংলাদেশ ও ইউএইর মধ্যে ব্যবসার একটা নতুন দ্বার উন্মোচিত হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে, যেটা আমরা আগে কখনও দেখিনি।
জার্মানি সফর শেষে ১৭ ফেব্রুয়ারি সকালে মিউনিখ থেকে আবুধাবি পৌঁছেন শেখ হাসিনা। গত ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে জয়ী হয়ে টানা তৃতীয় মেয়াদে সরকার গঠনের পর এটাই তার প্রথম বিদেশ সফর। এরপর সকালে আবুধাবিতে আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা প্রদর্শনী ও নেভাল ডিফেন্স অ্যান্ড মেরিটাইম সিকিউরিটি প্রদর্শনীতে অংশ নেন শেখ হাসিনা। দুপুরের পর ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগ প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি।
যেসব সমঝোতা : গভর্নমেন্ট অব দুবাইয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব (পিপিপি) চুক্তি। এতে সই করেছেন নৌ পরিবহন সচিব এম আব্দুস সামাদ ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের চেয়ারম্যান সুলতান আহমেদ বিন সুলায়েম। পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক বলেন, এটার মূল ফোকাস হলো পোর্ট ও শিল্প পার্ক। কারণ ডিপি ওয়ার্ল্ড বলছে, তারা যেখানে পোর্ট তৈরি করে তারা সেখানে পোর্টের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না, শিল্প পার্কও তৈরি করে। এখানে একটা ম্যাসিভ বিনিয়োগের কথা তারা চিন্তা করছে। প্রধানমন্ত্রী তাদের বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন বলে জানান পররাষ্ট্র সচিব। আরেকটা সমঝোতা হয়েছে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে এমিরেটস ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানির। এতে সই করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু এমপি এবং এমিরেটস ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানির গ্রুপ সিইও সাইফ আল ফালাসি। শহীদুল হক বলেন, এটার মেইন ফোকাস হলোÑ বাংলাদেশে দীর্ঘমেয়াদে এলএনজি সরবরাহ। পায়রাতে ভূমিভিত্তিক এলএনজি রিসিভং সেন্টার করা। পায়রাতে তারা ৩০০ একর জমি চেয়েছেন, যেখানে এটা করবেন। সুতরাং আমরা দেখছি, এলএনজির একটা বড় বিনিয়োগ বাংলাদেশে যাবে এবং এটা পায়রাতে। তৃতীয় সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে আমিরাতের রাজপরিবারের সদস্য ও বিনিয়োগকারী শেখ আহমেদ ডালমুখ আল মাখতুম এবং পিডিবির চেয়ারম্যান খালেদ মাহমুদের মধ্যে। এর আওতায় দুই ধাপে ৮০০ থেকে ১০০০ মেগাওয়াটের এলএনজি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ এবং ১০০ মেগাওয়াটের আরেকটি সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের কথা বলা হয়েছে। চতুর্থ চুক্তি হয়েছে মাতারবাড়িতে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার বিষয়ে। এটাতেও সই করেছেন শেখ আহমেদ ডালমুখ আল মাখতুম ও প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব নজিবুর রহমান। শহীদুল হক বলেন, মাতারবাড়িতে তারা ৩০০ একর জমি চেয়েছে।
আমিরাতের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক : ১৭ ফেব্রুয়ারি বিকালে আমিরাতের মন্ত্রী, বিনিয়োগকারী ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৈঠকের বিষয়ে পররাষ্ট্র সচিব বলেন, আজকের বিকেলটাই কেটেছে বিনিয়োগ সংক্রান্ত আলোচনা নিয়ে। আমরা যেটা ফিল করেছি যে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কিন্তু অফিসিয়ালি বেশ কয়েকবার ইউএইতে এসেছেন, এখান থেকে গেছেন। কিন্তু এই ধরনের আগ্রহ এর আগে তাদের মধ্যে আমরা লক্ষ করিনি। বৈঠকে আমিরাতের অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রী সুলতান বিন সাইদ আল মনসুরি উপস্থিত ছিলেন। সচিব বলেন, একটা নতুন ধরনের অর্থনৈতিক পার্টনারশিপের ওপর ইকোনমিক মিনিস্টার গুরুত্বারোপ করছিলেন। উনারা বললেন, বাংলাদেশে উনারা নতুনভাবে ব্যবসা বাড়াতে চান। বিশেষ করে বিনিয়োগ করতে চান। সেটার মূলে দেখা যাচ্ছে বিদ্যুৎ-জ্বালানি, বন্দর ও অর্থনৈতিক অঞ্চল। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী উনাদের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। বৈঠকে বাংলাদেশ ও ইউএইর মধ্যে যৌথ ব্যবসা ফোরাম ও যৌথ অর্থনৈতিক কমিশন করার বিষয়েও আলোচনা হয়। আরব আমিরাতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ ইমরান সাংবাদিকদের বলেন, এতদিন কিন্তু আমরা চাচ্ছিলাম তাদের কাছে এগিয়ে এগিয়ে কিছু করার। তারা এখন এগিয়ে আসছে মনে হচ্ছে। যে কয়টা চুক্তি হয়েছে তার সবগুলোতেই তাদের দিক থেকে প্রচ- আগ্রহ দেখেছি। তারা এখন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে চায়। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আবদুল মোমেন এমপি, প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ইমরান আহমেদ ও প্রেস সচিব ইহসানুল করিম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
শ্রমিক নেওয়ার বিষয়ে আরব আমিরাতের ইতিবাচক সাড়া
আবুধাবির যুবরাজ শেখ মোহাম্মাদ বিন জায়াদ আল নাহিয়ান সংযুক্ত আরব আমিরাতের শ্রমবাজারে বাংলাদেশি শ্রমিকদের অন্তর্ভুক্তি এবং বাংলাদেশে তাদের বিনিয়োগের বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব প্রদর্শন করে প্রধানমন্ত্রীকে আশ্বস্ত করেছেন।
ওয়্যাল প্যালেস প্রাসাদে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে তিনি বলেন, তিনি বাংলাদেশ সফরেও আসতে পারেন এবং আরব আমিরাতের শ্রমবাজারে বাংলাদেশি শ্রমিকদের অন্তর্ভুক্তি এবং বাংলাদেশে বিনিয়োগের বিষয়টি খুব ইতিবাচক মনোভাব নিয়েই বিবেচনা করবেন।
প্রধানমন্ত্রীর নানা অনুষ্ঠান শেষে বিকেলে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক এ-কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম এ সময় উপস্থিত ছিলেন। ব্রিফিংয়ে শহীদুল হক বলেন, আমিরাতের শ্রমবাজারে বাংলাদেশিদের অন্তর্ভুক্তির বিষয় নিয়ে আরব আমিরাতের কর্মকর্তারা বাংলাদেশের সঙ্গে একটি পর্যালোচনা বৈঠকে বসবেন, যাতে করে এ-সংক্রান্ত বিভিন্ন খুটিনাটি বিষয়ে আলোচনা করা যায়। বৈঠকে আরব আমিরাত সরকারের নীতিসমূহ বাস্তবায়ন বিষয়েও আলোচনা অনুষ্ঠিত হতে পারে।
পররাষ্ট্র সচিব বলেন, বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী আরব আমিরাতের যুবরাজকে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের স্থপতি শেখ জায়েদ বিন সুলতান আল নাহিয়ানের একটি আলোকচিত্রও উপহার দেন। যুবরাজ প্রধানমন্ত্রীকে তাদের সাপ্তাহিক মজলিসে নিয়ে যান এবং সেখানকার নেতৃবৃন্দের সঙ্গেও পরিচয় করিয়ে দিয়ে তাকে বিশেষ সম্মান প্রদর্শন করেন।
প্রধানমন্ত্রী প্রায় আধাঘণ্টা সময় মজলিসে উপস্থিত থেকে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নের নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন, বলেন পররাষ্ট্র সচিব। শহীদুল হক বলেন, প্রধানমন্ত্রী এ সময় রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়েও যুবরাজের সঙ্গে আলোচনা করেন এবং বাংলাদেশের শরণার্থী শিবিরে প্রায় ৪০ হাজার রোহিঙ্গা শিশুর জন্ম হওয়ার বিষয়টিও তাকে অবহিত করেন এবং রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে সফলভাবে প্রত্যাবাসনে আরব আমিরাতের সহযোগিতা কামনা করেন।

শ্রেণী: