জঙ্গিবাদ দমনে বাংলাদেশ রোল মডেল

Posted on by 0 comment
আওয়ামী লীগের সেমিনার
আওয়ামী লীগের সেমিনার

আওয়ামী লীগের সেমিনার

উত্তরণ প্রতিবেদন: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে জঙ্গিবাদ দমনে বাংলাদেশ যে দৃষ্টান্ত দেখিয়েছে, বিশ্বের বড় বড় শক্তি ও দেশগুলোও তা দেখাতে পারেনি। তাই জঙ্গিবাদ দমনে বাংলাদেশ এখন বিশ্বের রোল মডেল। গত ৩ মে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে ‘জঙ্গিবাদ প্রতিরোধে রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার শান্তির দর্শন’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন।
আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা উপ-কমিটি আয়োজিত ওই সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী এমপি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজীবন সংগ্রাম করে এদেশে শান্তির ভিত রচনা করেছেন। দেশকে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসমুক্ত রাখার বিষয়টি অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। শেখ হাসিনা সেই চ্যালেঞ্জ নিয়ে সফলতার সঙ্গে জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদ দমন করেছেন। তার দূরদর্শী নেতৃত্বে গত ১০ বছরে দেশে যে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তা অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন স্পিকার।
তিনি আরও বলেন, জাতিসংঘে উত্থাপিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘শান্তির দর্শন’ মডেলটি যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা হলে বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। ছয় স্তম্ভের এই মডেলটি সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমনে কার্যকর ভূমিকা রাখছে বলেও মন্তব্য করেন শিরীন শারমিন চৌধুরী।
সেমিনারে আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী এমপি বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই দেশ থেকে জঙ্গিবাদ দমন হয়েছে। সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমনে সোচ্চার অবস্থান নিয়ে শেখ হাসিনা বিশ্বমানবতাকে নাড়া দিয়েছেন। সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদের মতো অরাজকতা কিংবা দুর্যোগ-দুর্বিপাকে নারীরা সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হন বলে মন্তব্য করে মতিয়া চৌধুরী এমপি বলেন, তাই শেখ হাসিনার নেতৃত্বে নারীদের সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার ভূমিকা পালন করতে হবে।
আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল-আলম হানিফ এমপি বলেন, পাকিস্তান সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের আঁতুড়ঘর। পাকিস্তানের মাধ্যমেই উপমহাদেশে সন্ত্রাসবাদের সৃষ্টি হয়েছে। বিএনপি-জামাতকে পাকিস্তানের এজেন্ট হিসেবে আখ্যায়িত করে হানিফ বলেন, এদের সময়েই বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ ও বাংলাভাইদের সৃষ্টি হয়েছে। একুশ আগস্টের গ্রেনেড হামলাও হয়েছে বিএনপি-জামাতের প্রত্যক্ষ মদদে। শেখ হাসিনা সাহসিকতার সঙ্গে সেই পরিস্থিতি মোকাবেলা করেছেন। তবে বিএনপি-জামাতের মতো অপশক্তি রাজনীতিতে থাকলে দেশে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের শঙ্কা থেকে যাবে বলেও মন্তব্য করেন হানিফ।
বিশিষ্ট ইসলামি চিন্তাবিদ মাওলানা ফরিদউদ্দীন মাসঊদ বলেন, গোটা বিশ্ব যখন জঙ্গিবাদ নিয়ে নাকানিচুবানি খাচ্ছে, বড় বড় রাষ্ট্রও যখন জঙ্গিবাদ দমনে প্রায় অক্ষমÑ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তখন শক্ত হাতে এসব দমন করেছেন। শেখ হাসিনা শুধু বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রক্তের উত্তরাধিকারী নন, তিনি জাতির পিতার চিন্তা-চেতনারও উত্তরাধিকারী।
অর্থনীতিবিদ ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ বলেন, উন্নয়ন ও অগ্রগতির বাংলাদেশকে এখন আগামী দিনের কথাই ভাবতে হবে। অতীত থেকে শিক্ষা নিতে হবে; কিন্তু অতীত নিয়ে পড়ে থাকলে চলবে না। ভবিষ্যতের পথে এগিয়ে যেতে হবে। তা হলেই এদেশ হবে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত শান্তির দেশ, সমৃদ্ধির দেশ।
নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব.) একে মোহাম্মদ আলী শিকদার বলেন, বিশ্ব পরিস্থিতির দিকে তাকালেই বোঝা যাবে শেখ হাসিনা এদেশে শান্তি প্রতিষ্ঠায় কতখানি ভূমিকা রেখে চলেছেন। সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ প্রতিরোধে বাংলাদেশ আজ বিশ্বে রোল মডেল। এটিও সম্ভব হয়েছে একমাত্র শেখ হাসিনার কারণেই। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী না হয়ে অন্য কোনো দেশের রাষ্ট্রনায়ক হলে এই একটি কারণে শেখ হাসিনা নোবেল পুরস্কার পেতে পারতেন।
আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা উপ-কমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. সাইদুর রহমান খানের সভাপতিত্বে এবং কেন্দ্রীয় কমিটির তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেনের সঞ্চালনায় সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমান কার্জন। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. দেলোয়ার হোসেন।

শ্রেণী:

আগুন দিয়ে হত্যা বরদাশত নয়

Posted on by 0 comment
PM

PMউত্তরণ প্রতিবেদন: আগুনে পুড়িয়ে ফেনীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফির হত্যার নিন্দা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা ক্ষুব্ধ কণ্ঠে বলেছেন, এই হত্যাকা-ের নিন্দা জানানোর ভাষা নেই। তবে যারা বোরকা পরে নুসরাতের শরীরে আগুন লাগিয়ে হত্যা করেছে, জড়িতদের কাউকে ছাড়ব না। তাদের কাউকে ছাড় দেয়া হবে না, তারা কেউ ছাড় পাবে না। তাদের সবাইকে বিচারের আওতায় আনা হবে। সবাইকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি পেতেই হবে। আগুন দিয়ে মানুষ হত্যা বরদাশত করা হবে না।
গত ১২ এপ্রিল গণভবনে আওয়ামী লীগ উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে সূচনা বক্তব্য রাখতে গিয়ে আবেগজড়িত কণ্ঠে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা মেয়েটিকে বাঁচাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। কিন্তু দুঃখজনক মেয়েটি আমাদের ছেড়ে চলে গেল। তাকে হত্যা করা হয়েছে বোরকা পরে হাত-মুখ ঢেকে। ওকে আগুন দেয়া হয়েছে। যারা নুসরাতকে আগুন দিয়ে হত্যা করেছে তারা জঘন্য কাজ করেছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত কয়েকজনকে ধরা হয়েছে। বাকিদেরও ধরা হবে। কেউ ছাড় পাবে না। এদের কঠোর বিচারের আওতায় আনা হবে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আগুন দিয়ে মানুষ হত্যা করা ঘৃণিত অপরাধ। মুক্তিযুদ্ধের সময় পাক-হানাদাররা এভাবে মানুষ হত্যা করেছিল। আগুন দিয়ে পুড়িয়ে মারার সংস্কৃতি পাকিস্তানি ও বিএনপি-জামাতের। মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানিরা আগুনে পুড়িয়ে মানুষ মেরেছে। আর ২০১৪-১৫ সালে বিএনপি-জামাত আন্দোলনের নামে মানুষ পুড়িয়ে মেরেছে। বিএনপির সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, মানুষকে পুড়িয়ে হত্যার পথ দেখিয়েছে বিএনপি। তারা ইতিপূর্বে গাড়িতে পেট্রলবোমা ছুড়ে জীবন্ত মানুষকে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে মেরেছে। যারা এর শিকার হয়েছে, তারাই একমাত্র বুঝতে পারেন এর কত যন্ত্রণা। অনেকে পোড়া শরীর নিয়ে এখনও বেঁচে আছেন। তাদের অনেককেই আমরা সাহায্য-সহযোগিতা করছি।
আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, আমরা মেয়েটিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে পাঠাতে চেয়েছিলাম। তবে তার শারীরিক অবস্থা সিঙ্গাপুরে যাওয়ার মতো ছিল না। সিঙ্গাপুরের চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে, তাদের সঙ্গে পরামর্শ করে এখানে চিকিৎসা চলেছে। কিন্তু দুর্ভাগ্য মেয়েটিকে বাঁচানো গেল না। মেয়েটিকে হত্যা করা হলো। জড়িতদের কাউকে ছাড়ব না। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি তাদের পেতেই হবে।
তিনি বলেন, ’৭৫-এর হত্যাকা-ের পর স্বাধীনতাবিরোধী রাজাকার, আলবদর, যুদ্ধাপরাধী এরাই মূলত ক্ষমতায় আসে। যার জন্য দেশের উন্নতি হয় না। আর এটা হবে না, এটাই স্বাভাবিক। কারণ যারা স্বাধীনতাই চায়নি, তারা কেন দেশের মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি চাইবে, বাংলাদেশ সফল হোক তারা চাইবে? আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের নেতৃত্বে আর্থ-সামাজিকভাবে দেশের এগিয়ে যাওয়ার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ২০৪১ সালে বাংলাদেশ হবে উন্নত সমৃদ্ধ দেশ। ২০২০ সালে জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন করব, ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করব।
বিএনপি-জামাত জোটের কঠোর সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় থাকতে জঙ্গিবাদ সন্ত্রাসের দেশে পরিণত করেছিল। আমরা কঠোর হস্তে তা দমন করে মানুষের ভেতরে শান্তি নিয়ে আসতে পেরেছি। তারপরও আমরা দেখি কতকগুলো দুর্ঘটনা ঘটে, সামাজিক সমস্যাও দেখতে পাই। সবচেয়ে দুর্ভাগ্য যে নিরীহ মানুষগুলো এর শিকার হন। কয়েকদিন আগে আপনারা দেখেছেন যে, একজন মাদ্রাসার ছাত্রী অধ্যক্ষ দ্বারা নিগৃহীত হয় এবং তাকে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে নির্মমভাবে আহত করা হয়। পরে মেয়েটি মারা যায়।
তিনি বলেন, এই যে মানুষকে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে মারা এর নিন্দা করার ভাষা আমার নেই। আমি চেষ্টা করেছিলাম মেয়েটিকে বাঁচানো যায় কি না? সিঙ্গাপুরে চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলা, ভিডিও কনফারেন্সিং করা, তাদের প্রয়োজনীয় মতামত নেয়া, তারা যদি একটু আশ^াস দিত, তাকে পাঠাতে প্রস্তুত ছিলাম। কিন্তু সে আমাদের ছেড়ে চলে গেছে।
শেখ হাসিনা বলেন, এই যে নির্মমভাবে হত্যা করা হলো, ইতোমধ্যে আমরা অপরাধীদের গ্রেফতার করেছি। আর বোরকা পরে, শুধু বোরকায় না, বোরকায় মুখ চোখ নাক ঢেকে হাতের মধ্যে মোজা পরে তারপরে তাকে (নুসরাত) আগুন লাগিয়ে দিয়েছে। ইতোমধ্যে কয়েকজন ধরা পড়েছে। বাকিরাও ধরা পড়বে। এরা ছাড়া পাবে না। এদের আমরা ছাড়ব না। আমি মনে করি, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি তাদের পেতে হবে। যাতে এই ধরনের ঘটনা আর কেউ ভবিষ্যতে ঘটানোর সাহস না পায়।
সরকারপ্রধান বলেন, এই অগ্নিসন্ত্রাসটা সৃষ্টি করল বিএনপি। ২০১৩ সালে নির্বাচন বন্ধ করার নামে তারা এই অগ্নিসন্ত্রাস সৃষ্টি করেছিল। ২০১৪ সালে নির্বাচন ঠেকাতে চেয়েছিল। জানুয়ারি মাসে ইলেকশন হয়ে যায়। অহেতুক তখন দুই মাস মানুষকে পুড়িয়ে পুড়িয়ে হত্যা করে। আবার ২০১৫ সালে আওয়ামী লীগ সরকার উৎখাত করার নামে তারা যে অগ্নিসন্ত্রাসের সৃষ্টি করে, এই দেশে এ-ধরনের বীভৎস ঘটনা সেই পাকিস্তান আমলে আমরা দেখেছি। একাত্তরে যখন পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী গণহত্যা শুরু করে, তখন তারা বস্তিতে আগুন দিত। বস্তিতে আগুন দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষ চিৎকার করে বের হয়ে আসত, তখন তাদের গুলি করে হত্যা করত।
প্রধানমন্ত্রী এ-প্রসঙ্গে আরও বলেন, দেখলাম বিএনপি জীবন্ত মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করা একটা রাজনৈতিক দল, রাজনৈতিক একটা জোট বানিয়েছে তারা, ২০-দলীয় জোট। তার মধ্যে স্বাধীনতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধী দল হচ্ছে জামাত। বিএনপি-জামাত মিলে জীবন্ত মানুষের গায়ে পেট্রল ঢেলে আগুন দিয়ে পোড়াল, বাস, লঞ্চ, ট্রেন সিএনজি প্রাইভেটকারে আগুন দিয়ে শত শত মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করেছে। এই পথটা তো বিএনপিই দেখিয়ে গেছে, জীবন্ত মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করা। আমি আশা করি যে, এর মধ্য দিয়ে একটা সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টি হওয়া দরকার।
সম্প্রতি কিছু অগ্নিদুর্ঘটনার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অগ্নিদুর্ঘটনা রোধে আমাদের দেশে আবহাওয়া জলবায়ু সবকিছুর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ডিজাইন করতে হবে, প্ল্যান করা উচিত। আর এক ইঞ্চি জায়গাও ছাড়ব নাÑ এটা কেমন ধরনের কথা? তিনি বলেন, কোনো কিছু হলেই লোক জড়ো হয়ে যায়। মিডিয়া যত বেশি নিউজ করে তত বেশি জড়ো হয়। অনেকে সেলফিও তোলে। সেলফি তোলার মতো এত রোমাঞ্চকর ঘটনা হচ্ছে না, সেখানে কিন্তু মানুষ মারা যাচ্ছে। এটাই হচ্ছে আমাদের দুর্ভাগ্য। যাই হোক, আস্তে আস্তে মানুষ শিখবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা যে জায়গা ব্যবহার করেন, যেখানে থাকেন, অন্তত নিজেরা একটা ব্যবস্থা সবাইকে করতে হবে। যাতে আগুন লাগলে নিজেকে রক্ষা করা যায়। সরকারের পক্ষ থেকে তো আমরা করছি। এখন ২২ তলা পর্যন্ত রেডার ও ক্রেন যেতে পারে। এগুলো আওয়ামী লীগ সরকারেই করা। আর কেউ করেনি। বিএনপি ক্ষমতায় থাকতেও করেনি। জিয়া-এরশাদ-খালেদা জিয়া কেউ করেনি। উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, আমরা এই বৈঠকে বসেছি উপদেষ্টাদের কাছ থেকে কিছু মতামত নেব। তাছাড়া আমরা বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন করব। এই বিষয়েও আমরা আলোচনা করব। ইতোমধ্যে আমরা একটা জাতীয় কমিটিও করে দিয়েছি এবং সেখানে কিছু সাব-কমিটিও হবে। আমি একটা অফিসও ঠিক করে দিয়েছি সরকারিভাবে। আমাদের ব্যাপক কর্মসূচি বছরব্যাপী হবে। আমাদের দলের পক্ষ থেকেও প্রতিটি ইউনিট, ইউনিয়ন পর্যায় থেকে শুরু করে সর্বস্তরে জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনে কর্মসূচি এবং অন্যান্য সহযোগী সংগঠনসহ আমাদের বিভিন্ন সংগঠনও যার যার কর্মসূচি নিয়ে উদযাপন করতে পারে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ বছরের মধ্যেই দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৮ দশমিক ১২ ভাগে দাঁড়াবে, মানুষের মাথাপিছু আয় ১ হাজার ৯০০ মার্কিন ডলারে উন্নীত হবে। সরকার যে প্রেক্ষিত পরিকল্পনাগুলো নিয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে। বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে উন্নত ও সমৃদ্ধ হয়ে উঠছে। ২০৪১ সালের মধ্যে এদেশ হবে উন্নত ও সমৃদ্ধ দেশ। এর আগে ২০২০ সালে জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী, ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালিত হবে একটি ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত দেশ হিসেবে। দেশজুড়ে ব্যাপক কর্মসূচির মাধ্যমে ২০২০-২১ সালকে ‘মুজিব বর্ষ’ হিসেবে পালন করা হবে। ইতোমধ্যে জাতীয় কমিটি গঠনের মাধ্যমে কর্মসূচি প্রণয়নে আলাপ-আলোচনা শুরু হয়েছে।

শ্রেণী:

ভোটারদের চাপে বিরোধীদলীয় এমপিরা শপথ নিয়েছেন

Posted on by 0 comment
PM
PM

সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

উত্তরণ প্রতিবেদন: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অন্য রাজনৈতিক দল ভাঙা কিংবা তাদের এমপিদের শপথ নিতে সরকারের চাপ সৃষ্টির বিএনপির অভিযোগ সরাসরি নাকচ করে দিয়ে বলেছেন, বিরোধী দলগুলোর (বিএনপিসহ) যেসব এমপি শপথ নিয়েছেন তারা স্বেচ্ছায় ও ভোটারদের চাপে শপথ নিয়েছেন। এক্ষেত্রে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো চাপ নেই, থাকার প্রশ্নই ওঠে না। আর অনেক প্রস্তাব এলেও আওয়ামী লীগ বিশেষ করে আমি (শেখ হাসিনা) কোনো দল ভাঙা বা অন্য কিছু করার নীতিতে বিশ্বাস করি না। অন্য দল ভাঙতে যাব কেন? যার যার দল সেই করুক। আওয়ামী লীগের অনেক লোকবল ও জনসমর্থন রয়েছে, অন্যের ভার নিতে যাব কেন? দেশের উন্নয়ন ও কল্যাণের জন্য আওয়ামী লীগ একাই যথেষ্ট। বাস্তবতা হচ্ছে, ক্ষমতা ছাড়া তারা (বিএনপি) রাজনীতিতে টিকে থাকতে পারে না। কারণ, বাংলার মাটিতে তাদের কোনো শিকড় নেই।
গত ২৬ এপ্রিল বিকেলে গণভবনে আয়োজিত জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে গত ১০ বছরে পুরো দেশকে বদলে দেওয়ার চিত্র তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জিয়া-এরশাদ-খালেদা জিয়ার মতো ক্ষমতায় থাকতে আমরা কোনো এলিট-শ্রেণি তৈরি করিনি। আমরা তৃণমূল পর্যায় থেকে সারাদেশের মানুষের উন্নয়ন করেছি, দেশকেই বদলে দিয়েছি। গোটা বিশ্বও এখন বাংলাদেশকে অত্যন্ত সম্মানের চোখে দেখে। সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদের ঝুঁকি থেকে বাংলাদেশ এখনও পুরোপুরি মুক্ত নয় উল্লেখ করে এ-ব্যাপারে দেশবাসীর মধ্যে ব্যাপক জনসচেতনতার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, এ-বিষয়ে সরকার যথেষ্ট সজাগ ও সতর্ক রয়েছে। এটি এখন বৈশ্বিক সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। হলি আর্টিজানের পর থেকে আমরা সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছি বলেই আমাদের দেশে কেউ সুযোগ নিতে পারছে না।
কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার প্যারোলে মুক্তি প্রসঙ্গে অপর এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আইন অনুযায়ী প্যারোলে মুক্তি পেতে আবেদন করতে হয়। খালেদা জিয়াকে প্যারোলে মুক্তির ব্যাপারে কোনো আবেদন করা হয়নি। তাই প্যারোলে মুক্তির ব্যাপারে আমি কোনো মন্তব্য করতে চাই না। আর রাজনৈতিক কারণে খালেদা জিয়াকে গ্রেফতার করা হয়নি, তার বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ কোনো মামলাও দেয়নি। দুর্নীতি, অর্থ আত্মসাতের কারণে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকার তার বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছে। টানা ১০ বছর মামলা চলার পর আদালতের রায়ে তার সাজা হয়েছে। বর্তমান সরকারের এ ব্যাপারে কোনো ইচ্ছে থাকলে মামলা নিষ্পত্তি হতে ১০ বছর লাগত না। আমরা আদালতের ওপর কোনো হস্তক্ষেপ কিংবা চাপ দেইনি। আর বিএনপি এমপিদের শপথ নিতে আমরা চাপ দিতে যাব কেন? শপথ নেওয়া এমপিরাই তো বলেছেন, এলাকার ভোটারদের চাপে তারা শপথ নিয়েছেন এবং সংসদে গিয়ে তারা খালেদা জিয়ার মুক্তির কথা বলবেন।
তার সাম্প্রতিক ব্রুনাই সফর নিয়ে এ সংবাদ সম্মেলন ডাকা হলেও প্রশ্নোত্তর পর্বে দেশের সর্বশেষ রাজনীতি, অর্থনীতি, রোহিঙ্গা ইস্যু, সাংগঠনিক বিষয় ছাড়াও সাংবাদিকদের বিভিন্ন ইস্যুতে করা প্রশ্নের স্বভাবসুলভ হাসিতে বিস্তারিত উত্তর দেন প্রধানমন্ত্রী। সংবাদ সম্মেলনে এ-সময় মঞ্চে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আবদুল মোমেন এমপি, কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক এমপি, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম এমপি এবং মৎস্য ও পশুসম্পদ প্রতিমন্ত্রী আশরাফ আলী খান খসরু এমপি উপস্থিত ছিলেন। দেশের গণমাধ্যমের সম্পাদক ও সিনিয়র সাংবাদিক ছাড়াও সরকারের মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাগণ, সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় সহযোগী সংগঠনের নেতারাও উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলন সঞ্চালনা করেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম।

বিএনপি এমপিদের শপথ নিতে সরকারের কোনো চাপ নেই
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিরোধী দলগুলোর যেসব এমপি শপথ নিয়েছেন, তারা স্বেচ্ছায় শপথ নিয়েছেন। বিএনপির এমপিদের শপথ নেওয়ার ব্যাপারে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো চাপ নেই। আর আমরা চাপ দিতে যাব কেন? তারা জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধি। জনগণের চাপ আছে তাদের ওপর। আর বিএনপি একটা রাজনৈতিক দল। অন্য কোনো দল থেকে তাদের ওপর সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই।
খালেদা জিয়ার প্যারোলে মুক্তি সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্যারোলের জন্য আবেদন করতে হয়। কিন্তু তারা যেহেতু এখনও আবেদন করেনি, তাই সে-ব্যাপারে কীভাবে বলি? আর আমরা খালেদা জিয়াকে কিন্তু গ্রেফতার করিনি। খালেদা জিয়া কোর্টের মাধ্যমে সাজাপ্রাপ্ত। মামলাটা আওয়ামী লীগ সরকারও করেনি। মামলাটি চলছে ১০ বছর ধরে। কিন্তু সরকার আদালতকে প্রভাবিত করেনি।
এ প্রসঙ্গে অপর এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোনো দল ভাঙা বা অন্য কিছু করার নীতিতে আমি এবং আওয়ামী লীগ বিশ্বাস করে না। অনেক প্রস্তাব পাই। কিন্তু অন্য দলকে ভাঙতে যাব কেন? আওয়ামী লীগে যথেষ্ট লোকবল রয়েছে, অন্যের ভার কেন নিতে যাব? আওয়ামী লীগ একাই একশো। আওয়ামী লীগ যখনই ক্ষমতায় আসে দেশ ও জাতির উন্নতি হয়, অন্য কোনো সরকারের আমলে দেশ ও মানুষের কোনো উন্নয়ন হয়নি। দেশের কিছু মানুষ তো রয়েছেই তারা সবসময় নিরানন্দে থাকেন। দেশের কোনো কিছুই তাদের চোখে পড়ে না। বাংলাদেশ যখনই খুব ভালো অবস্থায় থাকে তখনই আঘাত আসে। আমরা দেশের প্রবৃদ্ধি ৮ ভাগের ওপর নিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছি। দেশ যখন দ্রুত উন্নয়নের দিকে ধাবিত হবে তখন ষড়যন্ত্রও বেড়ে উঠবে। এটা আমরা জানি।

পরবর্তী নেতৃত্ব ঠিক করবে দল
আগামী কাউন্সিল এবং দলের নেতৃত্ব প্রসঙ্গে অপর এক প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বলেন, অবসর নেওয়ার পর আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে কে আসবেন, এটা দলই সিদ্ধান্ত নেবে। এখানে আমি কাউকে নির্ধারণ করে দিতে পারি না। দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী দেশের জনগণ ও দলই ঠিক করবে কে হবেন তাদের পরবর্তী নেতা। আর দেশের মধ্যে একমাত্র আওয়ামী লীগই পরিপূর্ণভাবে গঠনতন্ত্র মেনেই দলকে পরিচালনা করে। আমি ইচ্ছে করলেই সব কিছু করতে পারি না, যা অন্য দলগুলোতে হয় এবং করে।
প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে শেখ হাসিনা আরও বলেন, আওয়ামী লীগ একটি রাজনীতিক দল, জনমানুষের দল। দলের একটি গঠনতন্ত্র রয়েছে, সে অনুযায়ীই দল পরিচালিত হয়। আগে প্রতিবছরই সম্মেলন হতো। কিন্তু এখন তা সম্ভব হয় না। কারণ, খরচাপাতিসহ বিভিন্ন বিষয় রয়েছে। জাতীয় সম্মেলনের আগে দেশজুড়ে তৃণমূলে ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে সম্মেলন হবে। এরই মধ্যে ৮টি টিম করে দিয়েছি, তারা কাজ শুরু করে দিয়েছে।
ডিজিটাল বাংলাদেশের প্রসঙ্গ তুলে ধরে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশে আওয়ামী লীগকেও ডিজিটালাইজড করতে কাজ করছি। এরই মধ্যে টিমও তৈরি করে দিয়েছি। দলের সবই ডিজিটালাইজড করে দেওয়া হচ্ছে। সারাদেশের কমিটিগুলো একটি অ্যাপে নিয়ে আসা হবে। প্রয়োজনে গোপালগঞ্জে বসেই সব দেখতে পারব। এই কাজটি হলে সবই এক জায়গায় বসে এক ক্লিকেই সব জানা সম্ভব হবে।
রাজনীতি থেকে অবসর নেওয়া প্রসঙ্গে চারবারের প্রধানমন্ত্রী বলেন, অবসর তো নিতেই হবে। এরপরে দলের নেতৃত্বে কে আসবেন কিংবা নেতা কে হবেনÑ সেটা বেছে নেবে দেশের জনগণ এবং আওয়ামী লীগ। তিনি বলেন, ক্ষমতায় এলে যে দেশের উন্নয়ন করা যায় সেটি আওয়ামী লীগ করে দেখিয়েছে। বাংলাদেশকে একটি সম্মানজনক অবস্থায় নিয়ে এসেছি। এখন বিশ্বের অন্যান্য দেশ বাংলাদেশকে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে নেয়।

বিশ্বের অনেক নামি-দামি পত্রিকাও বন্ধ হয়ে গেছে
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে ছাপা পত্রিকার সামনে প্রযুক্তি যে বাস্তবতা দাঁড় করিয়েছে সেটা সংশ্লিষ্টদের মানতেই হবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কেবল বাংলাদেশে নয়, প্রযুক্তি সারাবিশ্বের মানুষের জন্য নানা সুযোগ সৃষ্টি করেছে, আধুনিকতার জায়গায় নিয়ে গেছে। সেজন্য এক ধরনের ধারাবাহিকতায় চলতে থাকলে হবে না। আধুনিকতা ও প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হবে।
তিনি বলেন, সারাবিশ্বে অনেক নামি-দামি পত্রিকা বন্ধ হয়ে গেছে। অনেক পত্রিকা কেবল অনলাইন ভার্সনে চলে এসেছে। কাগজে ছাপা বন্ধ হয়ে গেছে তাদের, সোজা কথা অনলাইনে চলে এসেছে। এখন কাগজের ব্যবহার হয় না। এটা প্রযুক্তির প্রভাব। প্রযুক্তি এবং আধুনিকাতর প্রভাবে এভাবে বিবর্তন আসতে থাকবে। তাই বিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হবে। এখনও অনেক চ্যানেল চাইছে। তথ্যমন্ত্রীর (ড. হাছান মাহমুদ এমপি) সঙ্গে কথা হচ্ছিল। বললাম যত চাইছে, দিয়ে দিতে। কিছু না হোক, কিছু লোকের তো চাকরি হবে, কর্মসংস্থান হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা সবকিছু ডিজিটালাইজড করে দিয়েছি, নিজস্ব স্যাটেলাইটও হয়েছে। স্যাটেলাইটের মাধ্যমেও টিভি চালানো যায়। তিন মাসের জন্য বিনা পয়সায় (টিভি চ্যানেল) চালানোর প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু চ্যানেলগুলো সেভাবে নিচ্ছে না। অথচ বিদেশি জায়গায় অনেক টাকা দিচ্ছে। কীভাবে আমাদের স্যাটেলাইটের মাধ্যমে অল্প খরচে টেলিভিশন চালাতে পারে সেজন্য কথা চলছে। আর ভালো অনুষ্ঠান যারা করবে, মানুষ তাদের দেখবে। আমাদের দেশে ১৬ কোটি মানুষ, সুতরাং গ্রাহক (দর্শক) কখনও কমবে না। ওয়েজবোর্ডের ব্যাপারে সরকারের যা করণীয়, তা করেছে। বাকিটা মালিক পক্ষের, সেখান থেকে সাংবাদিকরা যা আদায় করে নিতে পারেন, সেটা তাদের ব্যাপার।
ব্রুনাইয়ে প্রথম সফর নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ব্রুনাইয়ের সুলতান হাজী হাসান আল-বলকিয়ার আমন্ত্রণে গত ২১ থেকে ২৩ এপ্রিল ব্রুনাই সফর করি। ব্রুনাই ১৯৮৪ সালে স্বাধীনতা লাভ করে। এর পরপরই দুদেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপিত হয়। ১৯৯৭ সালে আমার সরকারের উদ্যোগে ব্রুনাইয়ে বাংলাদেশের কূটনৈতিক মিশন পুনঃস্থাপনের পর থেকে দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ ও পারস্পরিক সহযোগিতা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষত বিগত এক দশকে ব্রুনাইয়ের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।

শ্রেণী:

নিষ্পাপ জায়ানকে চোখের জলে বিদায়

Posted on by 0 comment
PM

PMউত্তরণ প্রতিবেদন: আট বছরের নিষ্পাপ যে শিশুর শ্রীলংকা ঘুরে এসে বিদেশ দেখার গল্প বলার কথা ছিল, সেই ছোট্ট জায়ান ফিরল কফিনে বন্দী হয়ে। শ্রীলংকায় সিরিজ বোমা হামলায় শত শত মানুষের মতো তার মৃত্যু দেশের মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে গেছে। তাই তো জায়ানের মরদেহ শাহজালাল বিমানবন্দরে আসার সঙ্গে সঙ্গে সেখানে কান্নার রোল পড়ে যায়। কষ্ট আর বেদনার সেই মাতম ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। জায়ানের মৃত্যু শোকে পাথর হয়ে গেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও। জায়ানকে নিয়ে নানি শেখ হাসিনারও রয়েছে নানা স্মৃতি। তাই তো বিমানবন্দরে নেমেই জায়ানের নানা শেখ সেলিমের গায়ে হাত বুলিয়ে নিজের কষ্ট আড়ালের চেষ্টা করছিলেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ সেলিমের বাড়িতে গেলে এক বেদনাবিধূর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। গগনবিদারী আর্তনাদে ভারী হয়ে ওঠে সেখানকার আকাশ-বাতাস। গত ২১ এপ্রিল সকাল পৌনে ৯টার দিকে শ্রীলংকার ৩টি গির্জা, ৩টি বিলাসবহুল হোটেল ও দুটি স্থাপনায় ভয়াবহ আত্মঘাতী সিরিজ বোমা হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় নিহতদের মধ্যে ৩৮ বিদেশি। পরে হামলার দায় স্বীকার করেছে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন আইএস (ইসলামিক স্টেট)।
হামলায় শেখ সেলিমের নাতি জায়ান চৌধুরী নিহত হয়। আহত হন জায়ানের বাবা মশিউল হক প্রিন্স। ছোট্ট জায়ান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফুফাত ভাই শেখ ফজলুল করিম সেলিমের একমাত্র মেয়ে শেখ আমেনা সুলতানার (শেখ সোনিয়া) ছেলে। জায়ান বাবা-মা আর একমাত্র ভাই জোহান চৌধুরীর সঙ্গে শ্রীলংকায় ঘুরতে গিয়েছিল। ওরা উঠেছিল শ্রীলংকার রাজধানী কলম্বোর একটি পাঁচ তারকা হোটেলে। যে ৩টি হোটেলে সিরিজ বোমা হামলা হয়, তার একটিতে ছিল জায়ানরা। ঘটনার সময় জায়ানের পিতা ছেলেকে নিয়ে হোটেলের নিচে নাস্তা করতে গিয়েছিলেন। বোমা হামলায় ঘটনাস্থলেই নিষ্পাপ জায়ানের দেহ নিথর হয়ে পড়ে। আর জায়ানের বাবার দুটি পা মারাত্মক আহত হয়। তিনি কলম্বোতে চিকিৎসাধীন।
২৪ এপ্রিল দুপুর পৌনে ১টার দিকে লংকান এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ছোট্ট জায়ানের মরদেহ কফিনে বন্দী হয়ে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আনা হয়। শেখ সেলিমসহ পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজনসহ উপস্থিত সবাই কান্নায় ভেঙে পড়ে। তাদের গগনবিদারী আর্তনাদে আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে যায়।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুপুর পৌনে ২টার দিকে অনেক স্মৃতির সাক্ষী সেই নিষ্পাপ আর দুরন্ত জায়ানকে দেখতে শেখ সেলিমের বাড়িতে যান। শেখ হাসিনা সেখানে যাওয়ার পর উপস্থিত মানুষের মধ্যে কান্নার রোল পড়ে যায়। শেখ হাসিনাও দুরন্ত জায়ানের পুরনো মুখ স্মৃতি মনে করে মনের অজান্তেই আবেগাপ্লুত হন। এক পর্যায়ে অঝোরে কাঁদতে থাকেন। শেখ সেলিমসহ পরিবারের সদস্যদের সান্ত¡না দিতে গিয়ে নিজেই কান্নায় ভেঙে পড়েন শেখ হাসিনা। মুখের ভাষা হারিয়ে যায়।
এদিকে ঘটনার পর থেকেই বনানীর বাড়িতে চলছে পবিত্র কোরআন খতম। বিশেষ দোয়াসহ নানা ধর্মীয় জায়ানের স্মৃতিবিজড়িত রীতিনীতি। বাড়ির কাছে বনানী চেয়ারম্যান বাড়ির মাঠেই জানাজা হয় জায়ানের। আসরের নামাজের পর জায়ানের মরদেহ দাফন করা হয় বনানী করবস্থানে।

অস্বাভাবিক কিছু পেলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানান
প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা শ্রীলংকায় ভয়াবহ বোমা হামলার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানানোর পাশাপাশি দেশবাসীকে সজাগ ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, দেশের কোথাও কোনো অস্বাভাবিক কিছু পায়, সঙ্গে সঙ্গে যেন দেশবাসী তা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানায়। আমরা জঙ্গিবাদ কঠোর হস্তে দমন করেছি। আমরা চাই না পৃথিবীতে এ-ধরনের ঘটনা কোথাও ঘটুক। এসব ঘৃণ্য হামলার সঙ্গে যারা জড়িত, সেসব সন্ত্রাসী-জঙ্গিদের কোনো ধর্ম নেই, দেশকাল পাত্র নেই। জঙ্গি জঙ্গিই, সন্ত্রাসী সন্ত্রাসীই। দেশবাসীর কাছে আহ্বান, এই সন্ত্রাসী ঘৃণ্য কাজের সঙ্গে মানুষ যেন জড়িত না হয়।
স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে ২৪ এপ্রিল জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকারদলীয় সংসদ সদস্য শহীদুজ্জামান সরকারের সম্পূরক প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বোমা হামলায় নিহত শেখ ফজলুল করিম সেলিম এমপির নাতি জায়ানের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে আরও বলেন, ওই ঘৃণ্য হামলায় শুধু জায়ান চৌধুরীই নয়, ৪০ জনের কাছাকাছি শিশুসহ প্রায় সাড়ে ৩০০ মানুষ মারা গেছে। এ-ধরনের সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ ও বোমা হামলার নিন্দা জানানোর ভাষা নেই। আমি এই হামলার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, যাদের কারণে এ-ধরনের ঘটনা ঘটছে, এর মধ্যে হামলাকারীরা কি অর্জন করছে জানি না। এই ছোট নিষ্পাপ শিশু তো কোনো অপরাধ করেনি? তারা কেন এভাবে জীবন দেবে? কিছুদিন পূর্বেই নিউজিল্যান্ডের মসজিদে সরাসরি গুলিতে অনেক মানুষকে হত্যা করা হলো। সেখানেও নারী ছিল, শিশু ছিল। আমাদের ক্রিকেট টিমও ছিল। খুব অল্পের জন্য তারা বেঁচে গেছে। সন্ত্রাস জঙ্গিবাদ মানুষের কোনো কল্যাণ আনতে পারেনি।

শ্রেণী:

মে দিবস উদযাপন : বর্ণাঢ্য র‌্যালি, আলোচনা

Posted on by 0 comment
PM

PMউত্তরণ প্রতিবেদন: নানা আয়োজনে বাংলাদেশেও গত ১ মে পালিত হয়েছে মহান মে দিবস। ‘শ্রমিক মালিক ঐক্য গড়ি, উন্নয়নের শপথ করি’ প্রতিপাদ্য নিয়ে ঢাকাসহ সারাদেশে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালিত হয়। ১৮৮৬ সালের এই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরের হে মার্কেটের অনেক শ্রমিক ৮ ঘণ্টা কাজের দাবিতে জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। ওই দিন তাদের আত্মদানের মধ্য দিয়ে শ্রমিক-শ্রেণির অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।
আলোচনা সভা, র‌্যালি ও শোভাযাত্রাসহ নানা আয়োজনে সারাদেশে পালিত হয় মহান মে দিবস। এসব আলোচনা সভায় দেশে শ্রমিকের জীবনমান উন্নয়ন পণ্য উৎপাদনে শ্রমিকের অবদান নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে শ্রমিকদের জন্য ৮ ঘণ্টা কাজ, বিশ্রাম ও ছুটি নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে। মানুষে মানুষে বৈষম্য কিংবা শোষণের বিরুদ্ধে শ্রমিক-শ্রেণির ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
এছাড়াও মে দিবস উপলক্ষে শোভাযাত্রার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। আলোচনা সভায় শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি ও অধিকার বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয়েছে। র‌্যালি সমাবেশে অংশ নিয়ে শ্রমিকরা সব ধরনের শোষণ থেকে মুক্তির আহ্বান জানান। ১ মে দিবসের এক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান এমপি বলেছেন, শ্রমিকরা হচ্ছেন উন্নয়নের চাবিকাঠি। তারা ভালো থাকলে উৎপাদন বাড়বে, আর উৎপাদন বাড়লে দেশের উন্নয়ন নিশ্চিত হবে।
শ্রম মন্ত্রণালয় আয়োজিত বর্ণাঢ্য এক র‌্যালি শেষে জাতীয় শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব উম্মুল হাছনার সভাপতিত্বে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে তিনি এ-কথা বলেন। সকালে হাজারও মেহনতি মানুষ রঙিন ব্যানার, ফেস্টুন নিয়ে হাজির হন রাজধানীর দৈনিক বাংলার মোড়ে শ্রম ভবনের সামনে। সকাল ৭টার কিছু পরে শ্রম ভবনের সামনে থেকে র‌্যালি শুরু হয়। শ্রম প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান এমপির নেতৃত্বে র‌্যালিতে অংশ নেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এবং সাবেক নৌপরিবহন মন্ত্রী শাহজাহান খান এমপি, শ্রম মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব উম্মুল হাছনা, শ্রম অধিদফতরের মহাপরিচালক একেএম মিজানুর রহমান, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান সিরাজ, জাতীয় শ্রমিক লীগের সভাপতি শুক্কুর মাহমুদ, জাতীয় শ্রমিক লীগের কার্যকরী সভাপতি ফজলুল হক মন্টু এবং মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। বাদ্যযন্ত্রের তালে তালে রঙিন ব্যানার, ফেস্টুন, হাতি, ঘোড়ার গাড়ি, গরুর গাড়ির শোভাযাত্রায় মহান মে দিবসের র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিটি দৈনিক বাংলার মোড়ে শুরু হয়ে রাজউক এভিনিউ, বঙ্গবন্ধু এভিনিউ, জিরো পয়েন্ট এবং বাংলাদেশ সচিবালয়ের সামনে দিয়ে জাতীয় প্রেসক্লাবের পূর্বপাশে এসে শেষ হয়। মে দিবসের অন্য এক অনুষ্ঠানে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তফা জব্বার বলেছেন, মহান মে দিবস হচ্ছে মানুষে মানুষে বৈষম্য কিংবা শোষণের বিরুদ্ধে শ্রমিক-শ্রেণির ঐক্যবদ্ধ একটি সংগ্রামের বিজয়। ডাক অধিদফতর প্রকাশিত স্মারক ডাকটিকিট অবমুক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব অশোক কুমার বিশ্বাস এবং ডাক বিভাগের মহাপরিচালক এসএস ভদ্র বক্তৃতা করেন। মোস্তফা জব্বার বলেন, বৈষম্য দূর করতে হলে আয়ের সমতা হওয়া উচিত, প্রত্যেকটা মানুষের অধিকারের সমতা হওয়া উচিত এবং রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে প্রত্যেক মানুষের সমান সুবিধা থাকা উচিত।
শ্রমিকের জন্য ৮ ঘণ্টা কাজ, বিশ্রাম ও ছুটি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ-বিলস। মহান মে দিবস উপলক্ষে ১ মে বিলস’র উদ্যোগে রাজধানীর পল্টন মোড়ে গৃহশ্রমিক সমাবেশে এই দাবি জানানো হয়।

শ্রেণী:

একাত্তরের গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায়ে সবাইকে কাজ করতে হবে

Posted on by 0 comment
4-9-2019 7-16-43 PM
4-9-2019 7-16-43 PM

স্বাধীনতা পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একাত্তরের গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায়ে সকলকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, ‘আজ ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস। ইতিমধ্যে আমরা কিছু উদ্যোগ নিয়েছিÑ যেন এই দিনটি গণহত্যা দিবস হিসেবে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পায় সেজন্য আমাদের প্রচেষ্টা চালাতে হবে।’ গত ২৫ মার্চ সকালে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে স্বাধীনতা পুরস্কার ২০১৯ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ-কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের উন্নয়ন বৃদ্ধি এবং দেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করার চিন্তা থেকেই বাকশাল করেছিলেন বঙ্গবন্ধু। জাতির পিতা যে পদ্ধতিটা নিয়েছিলেন, এটা যদি কার্যকর করা যেত তাহলে বাংলাদেশে আর কখনও জনগণের ভোটের অধিকার নিয়ে কেউ খেলতে পারত না। জনগণ তার পছন্দমতো প্রার্থীকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করতে পারত।’
স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে জাতির পিতার কর্মসূচি ও দেশি-বিদেশি বিভিন্ন চক্রান্ত-ষড়যন্ত্রের কথা তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এমনই একটি অবস্থার মাঝে জাতির পিতা সিদ্ধান্ত নেন, যে করেই হোক আমাদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে হবে। দেশের উন্নয়ন বাড়াতে হবে এবং দেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে। সেই চিন্তা থেকেই তিনি বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ। যেটাকে সংক্ষিপ্ত রূপে বাকশাল নামে পরিচিত করানো হয়েছিল। বাকশাল গঠনের পর এর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হয়েছিল।’
প্রধানমন্ত্রী দেশের ১৩ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও একটি প্রতিষ্ঠানকে স্ব-স্ব ক্ষেত্রে গৌরবময় ও অসামান্য অবদান রাখার স্বীকৃতি স্বরূপ অনুষ্ঠানে স্বাধীনতা পুরস্কার-২০১৯ প্রদান করেন। গত ১০ মার্চ এ বছরের স্বাধীনতা পুরস্কারের জন্য ১৩ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও একটি প্রতিষ্ঠানের নাম ঘোষণা করে সরকার। পুরস্কারের জন্য মনোনীত ব্যক্তিগণ হচ্ছেনÑ স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধে শহিদ বুদ্ধিজীবী মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী (মরণোত্তর), শহিদ এটিএম জাফর আলম (মরণোত্তর), একেএম মোজাম্মেল হক, ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, ড. কাজী মিসবাহুন নাহার, আব্দুল খালেক (মরণোত্তর) ও অধ্যাপক মোহাম্মাদ খালেদ (মরণোত্তর), শওকত আলী খান (মরণোত্তর), চিকিৎসাবিজ্ঞানে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নুরুন্নাহার ফাতেমা বেগম, সমাজসেবায় ড. কাজী খলীকুজ্জামান আহমেদ, সংস্কৃতিতে মুর্তজা বশীর, সাহিত্যে হাসান আজিজুল হক, গবেষণা ও প্রশিক্ষণে অধ্যাপক ড. হাসিনা খাঁন। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব এগ্রিকালচারকে (বিআইএনএ) এই পুরস্কারে ভূষিত করা হয়। পুরস্কার হিসেবে ৩ লাখ টাকার চেক, ১৮ ক্যারেট স্বর্ণের ৫০ গ্রাম ওজনের একটি পদক এবং সনদপত্র প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্তদের পক্ষে ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন অনুভূতি ব্যক্ত করে বক্তৃতা করেন। মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহম্মদ শফিউল আলম অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন এবং পদক বিজয়ীদের পরিচিতি তুলে ধরেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের এক দশকের প্রচেষ্টার ফলে এই অর্থবছরের শেষ নাগাদ জাতীয় প্রবৃদ্ধি আমরা ৮ ভাগে নিয়ে যেতে সক্ষম হব। আমাদের মাথাপিছু আয় ১ হাজার ৭৫১ ডলার থেকে বেড়ে ১ হাজার ৯০৯ মার্কিন ডলার হতে যাচ্ছে। তিনি বলেন, আজকের বাংলাদেশ বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল।
পঁচাত্তরের পরে নির্বাচন ব্যবস্থা ধসে পড়া এবং শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস ও অপরাজনীতির অনুপ্রবেশের উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ তথা বাকশাল প্রতিষ্ঠার মূল উদ্দেশ্য আলোচনায় তুলে ধরেন। ’৭৩-এর নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বাইরে থাকা দলগুলো ৯টি আসনে জয়লাভ করেছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, যারা কখনও নির্বাচনে জয়ী হতে পারে না সেসব রাজনৈতিক দলের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করে জাতির পিতা বাংলাদেশ কৃষক-শ্রমিক আওয়ামী লীগ গড়েছিলেন। এটি একটি জাতীয় ঐক্যভিত্তিক প্লাটফর্ম ছিল। যেখানে ঐক্যের মধ্য দিয়ে সকলেই দেশের কাজ করবে এবং সেখানে সমাজের সর্বস্তরের জনগণকে সম্পৃক্ত করে তিনি উন্নয়নের ব্যবস্থা নিয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা যেই ব্যবস্থাটা নিয়েছিলেন সেটা কার্যকর করা গেলে বাংলাদেশে জনগণের ভোটের অধিকার নিয়ে আর কেউ খেলতে পারত না। নিজের মনের মতো প্রার্থীকে ভোট দিয়ে জনগণ নির্বাচিত করতে পারত।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা সে-সময় নির্বাচনের যে পদ্ধতি করেছিলেন সে অনুযায়ী যার যার নির্বাচন সে সে করতে পারবে। নির্বাচনের খরচ প্রতিটি প্রার্থীকে দিয়ে দেওয়া হবে রাষ্ট্রের তরফ থেকে। প্রতি আসনের জন্য পৃথক একটি করে পোস্টারে সকল প্রার্থীর নাম ছাপিয়ে দেওয়া হবে, কাজেই জনগণের সাথে যার যোগাযোগ আছে, সম্পৃক্ততা আছে তারা নির্বাচিত হবেন। অর্থাৎ ভোটের অধিকার তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের কাছে যাতে পৌঁছায়, তারা যেন স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশ করতে পারে সেই সুযোগ তিনি করে দিয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দুটি নির্বাচন হয়েছিল সে-সময়। এর একটি কিশোরগঞ্জে অপরটি পটুয়াখালীতে। সেখানে বড় কোনো দলের কেউ নয়, সাধারণ একজন স্কুলমাস্টার জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়েছিল। অর্থাৎ অর্থ-বিত্ত দিয়ে কেউ নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে পারেনি।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতার একটা কথা ছিল একটা বিপ্লবের পর সমাজে একটা বিবর্তন আসে। যেসব দেশ মুক্তিযুদ্ধ করেছে সেসব দেশেই এমনটি হয়, পরিবর্তন বা বিবর্তনের পরে কিছু লোক আর্থিকভাবে শক্তিশালী হয়ে যায়। সেটা যেন সমাজে স্থান না পায় সেদিকে লক্ষ্য রেখেই তিনি এই বাকশাল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। সেই সঙ্গে আমাদের জনসংখ্যা বেশি এবং চাষের জমি কম থাকায় সেখানে তিনি ব্যবস্থা নিয়েছিলেন সমবায়ের মাধ্যমে আমাদের দেশে উৎপাদন হবে। তিনি বলেন, জমির মালিকানা মালিকের কাছেই থাকবে। কোনো মালিকানা নেওয়া হবে না। কিন্তু জমিটি সমবায়ের মাধ্যমেই চাষাবাদ হবে। উৎপাদিত ফসলের একটা অংশ যারা শ্রম দেবে তারা পাবে, একটা অংশ মালিক পাবে আর একটা অংশ পাবে সমবায় এবং আধুনিক প্রযুক্তি কৃষিতে ব্যবহার করে উৎপাদন বাড়ানো হবে।
ড. কুদরত-ই-খুদাকে প্রধান করে শিক্ষা কমিশন রিপোর্ট বাস্তবায়নকালেই ’৭৫-এর ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করায় সেই রিপোর্ট আর বাস্তবায়িত হতে পারেনি উল্লেখ করে বঙ্গবন্ধু-কন্যা বলেন, ‘তিনি বেঁচে থাকলে আর পাঁচ-সাত বছরের মধ্যেই বাংলাদেশ উন্নত এবং সমৃদ্ধশালী হয়ে গড়ে উঠতে পারত।’
প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বি মিয়া, মন্ত্রিপরিষদ সদস্যগণ, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাগণ, বিচারপতিগণ, সংসদের সদসগণ, তিন বাহিনী প্রধানগণ, বিদেশি কূটনীতিকবৃন্দ, সরকারের পদস্থ সামরিক এবং বেসামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ, মুক্তিযোদ্ধা, রাজনীতিবিদ কবি-সাহিত্যিক-বুদ্ধিজীবী এবং দেশবরেণ্য ব্যক্তিবর্গসহ আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

শ্রেণী:

সারাদেশে উদযাপিত হবে মুজিব বর্ষ

Posted on by 0 comment
4-9-2019 6-39-28 PM

4-9-2019 6-39-28 PMআনিস আহামেদ: মহান মুক্তিযুদ্ধ ও বাঙালির আত্মপরিচয়ের সঠিক ইতিহাস সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে তৃণমূল পর্যন্ত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীর অনুষ্ঠানমালা উদযাপনের উদ্যোগের কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, এর মাধ্যমেই দেশের মানুষ সঠিক ইতিহাস জানতে পারবে। জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনের ক্ষেত্রে তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত যেন উদযাপিত হয় তারই উদ্যোগ আমরা নেব। মানুষ যেন সঠিক ইতিহাসটা জানতে পারে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত হয় এবং বাংলাদেশকে যেন আমরা সারাবিশ্বের কাছে মর্যাদাপূর্ণ রাষ্ট্র হিসেবে তুলে ধরতে পারি। আমাদের যে অগ্রযাত্রা সেটা অব্যাহত রেখেই জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তুলব। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে সেটাই হবে আমাদের প্রতিজ্ঞা।
গত ২০ মার্চ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় কমিটি ও বাস্তবায়ন কমিটির প্রথম যৌথসভায় প্রারম্ভিক বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু ঢাকা শহর বা দেশের বড় বড় শহরে যেন এটা সীমাবদ্ধ না থাকে; আমরা সারাদেশের তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত তার জন্মশতবার্ষিকীর অনুষ্ঠানমালা ছড়িয়ে দিতে চাই। আসলে সত্যকে কেউ কখনও মুছে ফেলতে পারে না। সত্য কখনও না কখনও উদ্ভাসিত হবেই, আর তার স্থানটা সে করে নেবে। আজকে আমরা সেটার প্রমাণ পাচ্ছি।
সরকার জাতির মহান এই নেতার জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে ইতোমধ্যেই ২০২০ সালের ১৭ মার্চ থেকে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ২০২১ সালের ২৬ মার্চ পর্যন্ত সময়কে ‘মুজিব বর্ষ’ হিসেবে ঘোষণা করে তা যথাযথভাবে উদযাপনে বিশিষ্টজনদের নিয়ে ১০২ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি এবং বাস্তবায়নের জন্য ৬১ সদস্যবিশিষ্ট যে কমিটি করেছে, ২০ মার্চ ছিল তারই প্রথম যৌথ বৈঠক। মুজিব বর্ষের প্রায় এক বছরের বেশি সময় ধরে সারাদেশের সকল জেলা, উপজেলা, থানা এবং ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত এই অনুষ্ঠানমালা চলবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, মার্চ মাসটা আমাদের জন্য খুবই অর্থবহ মাস। ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণ, ১৭ মার্চ জাতির পিতার জন্মদিন, আবার ২৬ মার্চ আমাদের স্বাধীনতা দিবস। কাজেই ২০২০ সালের ১৭ মার্চ থেকে ২০২১ সালের ২৬ মার্চ পর্যন্ত বছরটাই আমরা মুজিব বর্ষ হিসেবে উদযাপন করব। উদযাপনের ক্ষেত্রে আমাদের কী কী করণীয়? আমাদের সমাজের বিশিষ্টজন যারা এখানে উপস্থিত আছেন এবং আমরা একটি ১০২ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি করে দিয়েছি। হয়তো আরও গুরুত্বপূর্ণ নাম আমাদের এই কমিটিতে থাকা দরকার, সেখানে থাকলে আমরা তাদেরও অন্তর্ভুক্ত করব।
তিনি বলেন, এছাড়া ৬১ সদস্যবিশিষ্ট আলাদা একটি কমিটি করে দিয়েছি। আমরা যে সিদ্ধান্তগুলো নেব, তা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কাজ করবে। এছাড়া ভাগে ভাগে যে কমিটি করা প্রয়োজন সে-ব্যাপারেও আপনাদের পরামর্শ নেব। কারণ, এটা আমরা জাতীয়ভাবে পালন করার জন্য করেছি। এক্ষেত্রে আপনাদের মতামত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাছাড়া দল হিসেবেও আওয়ামী লীগের একটা আলাদা কমিটি করেছি। দলের পক্ষ থেকেও আমরা কী কী করব, তা ঠিক করা হবে।
জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী যথাযথভাবে উদযাপন করা আমাদের জাতীয় কর্তব্য উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, জীবনের সবকিছু ত্যাগ করে এদেশের মানুষের জন্যই কষ্ট স্বীকার করে গেছেন আমাদের জাতির পিতা। সেই কষ্টের ফসল হিসেবেই আমরা পেয়েছি স্বাধীনতা, স্বাধীন জাতির মর্যাদা। কাজেই এটা আজকে আমাদের একটা জাতীয় কর্তব্য। আমি মনে করি, তার (বঙ্গবন্ধু) জন্মশতবার্ষিকী আমরা ভালোভাবে উদযাপন করব। আমাদের হাতেও সময় খুব বেশি নেই। কারণ, নির্বাচনসহ বিভিন্ন কর্মকা-ের জন্য আমাদের বেশ কিছু সময় পেরিয়ে গেছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা তার জীবনের সব থেকে মূল্যবান সময় এদেশের মানুষের কথা চিন্তা করে ব্যয় করেছেন। মানুষের ওপর অত্যাচার, শোষণ, বঞ্চনার প্রতিবাদ করতে গিয়ে দিনের পর দিন কারাবরণ করেছেন। তারা সন্তান হিসেবে পিতৃস্নেহ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। কেননা, জীবনের মূল্যবান সময়গুলো কারাগারের অন্ধ প্রকোষ্ঠেই তিনি কাটিয়েছেন। বাংলাদেশের গ্রাম-গঞ্জে জাতির পিতা দেখেছেন দারিদ্র্যের হাহাকার। বুভুক্ষু নর-নারীর কষ্ট। মানুষ ওষুধ পায়নি, চিকিৎসা পায়নি, খাবার পায়নি, থাকার জায়গা নেই। মানুষের এই দুঃখ-কষ্ট তিনি সহ্য করতে পারেন নি। এসব তাকে ব্যথিত করেছে। জাতির পিতা আন্দোলন-সংগ্রাম করতে গিয়ে যে কষ্ট সহ্য করেছেন, এটা কাদের জন্য? এদেশের মানুষের জন্য, সাধারণ মানুষের জন্য।
যৌথসভায় সভাপতিত্ব করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় কমিটির সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু এমপি, তোফায়েল আহমেদ এমপি, সভাপতিম-লীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী এমপি, শেখ ফজলুল করিম সেলিম এমপি, ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন এমপি, জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু এমপি ও জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম।

শ্রেণী:

বিএনপি কোন পথে হাঁটছে?

Posted on by 0 comment
4-9-2019 6-34-46 PM

4-9-2019 6-34-46 PMকুদ্দুস আফ্রাদ: ভুল রাজনীতির খেসারত দিতে গিয়ে বিলীন হয়ে গেছে একদা এদেশেরই ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দল মুসলিম লীগ। প্রায় একই পথে হেঁটে মুসলিম লীগের উত্তরসূরি বিএনপির দশাও অনেকটা একই রকম। রাজনীতি হচ্ছে বিজ্ঞান। চলার পথের সঠিক দিক-দর্শন আঁকতে হয়। অভীষ্ট লক্ষ্য ঠিক করতে হয় বিজ্ঞানের মতো ছক এঁকে। তার ব্যতিক্রম হলেই পতন! শুধুই কী পতন? বিলীনও হয়ে যেতে হয়। এ উপমহাদেশে এমন উদাহরণ অনেক। প্রসঙ্গটি এলো এ কারণেই, একাদশ জাতীয় সংসদের ভোট শেষে গেজেট প্রকাশ হয়েছে প্রায় তিন মাস হলো। দলটি থেকে যারা নির্বাচিত হয়েছেন, তারা গত তিন মাসেও শপথ নেননি। শপথ নেওয়াকে ঘিরে সরকারের সামনে ‘মুলো’ ঝুলানোর খবর বেরিয়েছে। খালেদা জিয়াকে প্যারোলে মুক্তি দেওয়ার বায়না ধরা হয়েছে।
এদেশের স্বাধীনতা অর্জনের পরে যে ৩টি দল পালাক্রমে দেশের শাসনভার পরিচালনা করেছে, তার মধ্যে একটি হচ্ছে স্বাধীনতা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী দল আওয়ামী লীগ। অন্যদিকে, আর যে দুটি দল রয়েছে তারা মূলত একই ধারার ও অভিন্ন সত্তার। একটি হচ্ছে বিএনপি, অন্যটি জাতীয় পার্টি। এ দুটি দলের অবস্থাই এখন করুণ পর্যায়ে গিয়ে ঠেকেছে। মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ ও আওয়ামী লীগের বিরোধিতাকারী গোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্বকারী এ দুটি দল পালাক্রমে ২৬ বছর শাসন করলেও দেশের অগ্রগতি ও উন্নয়নের ক্ষেত্রে তাদের অর্জনের ঘর একেবারেই শূন্যের কোটায়। এই শূন্যতা পূরণ করেই জনগণের মনে স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছে আওয়ামী লীগ।
পক্ষান্তরে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, একের পর এক ভুল সিদ্ধান্তের কারণে ইতিহাসের আস্তাকুড়ে জায়গা করে নিতে চলেছে বিএনপি, জাতীয় পার্টি ও তাদের আরেক সহযোগী জামায়াতে ইসলামী। বাংলাদেশের নবম, দশম ও একাদশ জাতীয় সংসদের ভোটের ফলাফল বিশ্লেষণ করেই পর্যবেক্ষকরা এমন মতামত দিয়েছেন। তাদের কথায়, যে উদ্দেশ্য ও লক্ষ্যকে সামনে রেখে একাত্তরে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে দেশ স্বাধীন করেছিলেন মুক্তিযোদ্ধারা। সেই লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যকে অবজ্ঞা করে যখন দেশকে পরাজিত পাকিস্তানি শক্তির ভাবধারার গড়ার চেষ্টা করা হচ্ছিল, তাকে ভালোভাবে গ্রহণ করেনি জনগণ। ফলে, ’৭৫ সালের পাল্টা জবাব দেওয়া হয়েছিল ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারি-মার্চের জনতার অভ্যুত্থানে। আর জনতার এই অভ্যুত্থানের স্থায়ী রূপ নেয় ২০০৮ সালের ভোটে। মূলত, জনগণের চেতনাবোধের জায়গা অনুভব করতে ব্যর্থ হওয়ার কারণেই ব্যাপক জনসমর্থনপুষ্ট দল বিএনপি ধীরে ধীরে জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে। এর মধ্যে ২০১৪ সালের নির্বাচন বর্জনের মতো ভুল সিদ্ধান্তের পরেও এ দলটির কাছে যাদের প্রত্যাশা ছিল আকাশছোঁয়া, তারা ২০১৮ সালের ভোট নিয়ে নেতৃত্ব পর্যায়ে দ্বিধা-দ্বন্দ্ব, সর্বোপরি লন্ডনে বসে দলের প্রার্থী বাছাইয়ের পদ্ধতিকে ভালোভাবে মেনে নিতে পারেনি। একটি আসনের জন্য একাধিক প্রার্থী বাছাই করা এবং প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষেত্রে ‘নয়-ছয়’ অবলম্বনের ঘটনাও দলটিকে বিপর্যয়ে নিয়ে গেছে। জাতীয় পার্টির গায়েও একই ছাপ্পা রয়েছে।
বর্তমানে বিএনপির অবস্থা তথৈবচ। না আছে নেতৃত্ব, না আছে ভবিষ্যৎ। দলটির প্রধান নেতা বেগম খালেদা জিয়া এতিমের টাকা লোপাটের মতো নিম্নস্তরের দুর্নীতির দায়ে সাজাপ্রাপ্ত হয়ে জেলে বাস করছেন। খালেদা জিয়ার অবর্তমানে যার হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে এ দলের নেতৃত্ব। সেই তারেক রহমানের বিরুদ্ধেও রয়েছে আরও সব জঘন্যতর অভিযোগ। বেশ কয়েকটি মামলার তিনিও সাজাপ্রাপ্ত। লন্ডনে স্বেচ্ছায় ফেরার বাস করছেন। এ অবস্থায় এ-দলটি এখন চতুর্মুখী দ্বন্দ্ব-সংঘাতে কাবু। মাঠ পর্যায়ে ধীরে ধীরে দলের সাংগঠনিক ভিত্তিও দুর্বল হয়ে এসেছে। ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় হালুয়া-রুটির জন্য যারা দৌড়াদৌড়ি করতেন, লম্বা সময় ধরে ক্ষমতার বাইরে থাকায় তারাও সটকে পড়েছেন অনেক আগেই। দলের এই করুণ অবস্থা পার করতে হায়ার করা হয় গণফোরাম নেতা ড. কামাল হোসেনকে। ড. কামালের নেতৃত্বে গত নির্বাচনের মাসখানেক আগে গঠন করা হয় ‘জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট’ নামের এক মোর্চা। মূলত, জামাতকে আড়াল করতেই নেওয়া হয়েছিল এ পদক্ষেপ। কিন্তু তাতেও পার পাওয়া যায়নি। ভোটের আগে জামাতকে দলের প্রতীকসহ ২৫ আসন ছেড়ে দিয়ে নিজেদের স্বরূপ উন্মোচন করায় ভোটের মাঠে দারুণ বিপর্যয়ে পড়ে বিএনপি। এই বিপর্যয়ের মধ্যে আবার বিপত্তি দেখা দেয় দলের প্রতীক নিয়ে বিজয়ী হওয়া সংসদ সদস্যদের শপথকে ঘিরে। ‘জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট’ থেকে মনোনয়ন নিয়ে যারা বিজয়ী হয়েছেন, তাদের শপথ নিতে বাধা দেওয়ার পরেও গণফোরাম থেকে নির্বাচিত দুই সংসদ সদস্য ইতোমধ্যে শপথ গ্রহণ করায় নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে বিএনপি তথা ‘জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট’। নতুন প্রশ্ন সামনে, বিএনপির সংসদ সদস্যদের শপথ কবে?
বিএনপি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের পরবর্তী করণীয় ঠিক করতে লন্ডন টু গুলশান দফতরে দফায় দফায় চলছে বৈঠক। বিদেশিদের কাছ থেকেও নেওয়া হচ্ছে পরামর্শ। কঠিন এ দুঃসময়ে তৃণমূল ও কেন্দ্র মিলিয়ে শতাধিক নেতা দল থেকে পদত্যাগ করেছেন। ভোটের আগে গুরুত্ব না দেওয়ায় এবার বেঁকে বসেছেন ২০-দলের জোটের পুরনো মিত্ররাও। দলের অভ্যন্তরীণ এসব সংকটের মুখে পুনর্নির্বাচনের দাবিও ফিকে হয়ে এসেছে। দিন যত গড়াচ্ছে সমসাময়িক নানা ইস্যুতে বিএনপির ঘাড়ে ভর করছে চতুর্মুখী চাপ।
বিএনপির শীর্ষনেতারা বলছেন, দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে শিগগিরই কারামুক্ত করতে আন্দোলন করার কথা বলা হলেও কার্যত কোনো পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হয়নি। মূলত, নেতা-কর্মীদের একাংশ এখন আর ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে আবেগী খেলায় মাততে নারাজ। নেতাদের একাংশ এখনও মনে করেন, দলের নেতৃত্বে পরিবর্তন আনা দরকার। দরকার বিশ্বাসী নেতার। বিএনপির বড় দুর্বলতা হচ্ছে, নেতারা একে অপরকে বিশ্বাস করেন না। এমনকি দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াও তার দলের অন্য কোনো নেতাকে বিশ্বাস করেন না। যে কারণে, দুর্নীতির মামলার চূড়ান্ত রায়ের আগে জেলে যাওয়ার আশঙ্কা থেকে হঠাৎ করে দলের গঠনতন্ত্র সংশোধন করে নিজের সন্তানের হাতে দলের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জে. (অব.) মাহবুবুর রহমান মনে করেন, ‘ধ্বংসস্তূপ থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করছে বিএনপি। তার কথায়Ñ সময় তো একটু লাগবেই। দলীয় বৈঠক-পরিকল্পনা সবই চলছে। আন্দোলন ছাড়া কোনো বিকল্প নেই বিএনপির সামনে। তবে কতটুকু সম্ভব তা ভব্যিষ্যৎই বলে দেবে।’
এদিকে আপাতত বিএনপির মাথায় বড় চাপ হলোÑ দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি। যিনি বর্তমানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তার স্বাস্থ্যের পূর্ণাঙ্গ বিষয় ইতোমধ্যে কূটনীতিকদের কাছে তুলে ধরে তাদের সহায়তা চাওয়া হয়েছে বলে কূটনৈতিক সূত্রের খবর। গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর মতে, বিএনপির সংসদে না যাওয়া আপাতত সঠিক সিদ্ধান্ত। তার কথায়, ‘মাস শেষে কয়েকটা পয়সা পাওয়ার জন্য শুধুই সংসদে গিয়ে লাভ কী? আদতে দেশের জন্য তো কিছু হবে না। ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী মনে করেন, সরকার যদি খালেদা জিয়াকে প্যারোলে মুক্তি ও নেতা-কর্মীদের মামলা তুলে না নেয়, তাহলে কোন যুক্তিতে বিএনপির সংসদ সদস্যরা শপথ নেবেন?’ তবে গত ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনের পরপরই ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের সংসদে যোগ দিয়ে সোচ্চার হওয়ার কথা বলেছিলেন।

শ্রেণী:

আত্মত্যাগ ছাড়া কোনো কিছু অর্জন সম্ভব নয়

Posted on by 0 comment
4-9-2019 6-26-31 PM
4-9-2019 6-26-31 PM

৭ মার্চের সেমিনারে শেখ হাসিনা

উত্তরণ প্রতিবেদন: আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, কিছু পেতে হলে ত্যাগ করতে হয়। আত্মত্যাগ ছাড়া কোনো কিছু অর্জন সম্ভব নয়। ১৯৪৮ সাল থেকে যে আন্দোলন শুরু হয়েছে, সেই আন্দোলনের শেষ পরিণতি হিসেবে পেয়েছি একটি স্বাধীন দেশ। এর পেছনে রয়েছে লাখ লাখ মানুষের আত্মত্যাগ। গত ৮ মার্চ রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে এক সেমিনারে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্ট কর্তৃক বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চ-এর ভাষণের ওপর এই সেমিনারের আয়োজন করা হয়।
রাজনীতিকদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ব্যক্তিজীবনে আমি কী পেলাম আর কী পেলাম না এ হিসাব করলে চলবে না। রাজনীতিতে এসেছি দেশের মানুষের সেবা করতে। মানুষের জন্য কতটুকু করতে পারলাম সেটাই বড় কথা। যা বঙ্গবন্ধু আমাদের শিখিয়ে গিয়েছেন।’ তিনি বলেন, ‘পঁচাত্তরের পরে এদেশের রাজনীতি ইতিহাস ব্যর্থতায় পর্যবেশিত হতে ছিল। যুবসমাজ এক সময় অন্ধকারে নিমজ্জিত ছিল। তারা প্রকৃত ইতিহাস নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে ছিল। স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে একজন খলনায়ককে দাঁড় করানো হয়েছিল। তিনি না-কি কোন ড্রামের ওপর উঠে ঘোষণা দিয়েছিলেন। এভাবে ইতিহাসকে বিকৃত করা হয়েছে। তিনি বলেন, ’৭৫-পরবর্তী খলনায়ক হলেন জিয়াউর রহমান।’
ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ আলোচনা করে আগে নির্ধারিত হয়েছে বলে যারা দাবি করছেন তাদের কড়া সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এগুলো ডাহা মিথ্যা কথা। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকে এই ভাষণটার অনেকে অনেক ব্যাখ্যা দেন। তখনকার ছাত্র নেতারা এখন যারা জীবিত আছেনÑ আজকেও একজনের ইন্টারভিউ দেখতেছিলামÑ সেখানে কেউ কেউ নানাভাবে ব্যাখ্যা দিয়ে দিচ্ছে। আসলে এ ব্যাখ্যাগুলো শুনলে হাসিই পায়। এরা আসলে কত অর্বাচীনের মতো কথা বলে যে তিনি (বঙ্গবন্ধু) না-কি আগের দিন নিউক্লিয়াসের সঙ্গে আলোচনা করলেন। তো ভাষণে এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রামÑ এখানে মুক্তির সংগ্রাম আগে বলবেন না-কি স্বাধীনতার সংগ্রাম আগে বলবেন সেটাও না-কি নিউক্লিয়াস আলোচনা করেছিল। এগুলো সম্পূর্ণ ডাহা মিথ্যা কথা। সম্পূর্ণ ডাহা মিথ্যা কথা, এর (এসব কথার) কোনো যৌক্তিকতাই নাই।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘হ্যাঁ, ভাষণের আগে অনেকে দিনরাত পরিশ্রম করেছেন, অনেক পয়েন্ট তৈরি করেছেন, অনেকে বলেছে এটা বলতে হবে, ওটা বলতে হবে। এই ভাবে বলতে হবে, এই করতে হবে, ওই করতে হবে। এটা না করলে হতাশায় (জনগণ) ফিরে যাবে। নানা ধরনের কথায় কথায় সে-সময় আমরা জর্জরিত ছিলাম, কাগজে কাগজে, অনেক কাগজ আমাদের বাসায় জমা হয়েছিল। শেষ কথা বলেছিলেন আমার মা, যেটা আমি সব সময় বলি।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমার মা একটা কথাই বলেছিলেন, সারাটা জীবন তুমি সংগ্রাম করেছিলে, তুমি জানো বাংলাদেশের মানুষ কি চায়? এবং তার জন্য কি করতে হবে। তোমার থেকে ভালো কেউ জানে না। কাজেই মনে যে কথাটা আসবে তুমি শুধু সেই কথাটাই বলবে। আর কোনো কথা না।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই ভাষণ, এই ভাষণটা অনেক দীর্ঘ, এখানে কোনো পয়েন্ট নাই, কাগজও নাই, কিছুই ছিল না। কারণ তিনি তো সংগ্রাম করে গেছেন সেই ’৪৮ সাল থেকে। তখন থেকে বাঙালি জাতির মুক্তির জন্য তিনি সংগ্রাম করে গেছেন। স্বাভাবিকভাবে তিনি তো জানেন বাঙালির জাতির মুক্তির পথটা কোথায়? কীভাবে আসবে। তিনি যে নির্দেশনা দিয়েছিলেন সেটা বাঙালি জাতি অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছে।’
অনুষ্ঠানের শুরুতে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের ভিডিওচিত্র প্রদর্শন করা হয়। সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাস্টের সদস্য সচিব শেখ হাফিজুর রহমান। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান প্রফেসর আবদুল মান্নান। মূল প্রবন্ধের ওপর আলোচনা করেন বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরের সভাপতি শিল্পী হাসিম খান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষক ড. নিলয় রঞ্জন বিশ্বাস, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলাম। অনুষ্ঠানে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন বঙ্গবন্ধু জাদুঘরের প্রধান নির্বাহী মাসুদা হোসেন।

শ্রেণী:

মুক্তিযোদ্ধাদের বাড়ি করে দেবে সরকার

Posted on by 0 comment

উত্তরণ প্রতিবেদন: দেশের উপজেলা পর্যায়ে অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ৮ হাজার ফ্ল্যাট নির্মাণ করার উদ্যোগ নিয়েছিল সরকার। এ-লক্ষ্যে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) সভায় ২ হাজার ২৭৩ কোটি ২১ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্পের অনুমোদনও দেওয়া হয়েছিল। তবে মুক্তিযোদ্ধাদের দাবির প্রেক্ষিতে সেই প্রকল্প প্রত্যাহার করে নিয়েছে সরকার। নতুন প্রকল্পের মাধ্যমে ফ্ল্যাটের পরিবর্তে অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের বসতভিটায় বাড়ি করে দেবে সরকার। মুক্তিযোদ্ধা যাদের ভিটা নেই তাদের পার্শ¦বর্তী খাস জমিতে ঘর করে দেওয়া হবে। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর শেরেবাংলা নগর এনইসি সম্মেলন কক্ষে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই সিদ্ধান্ত দেন। একনেক সভা শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার কথা জানান।
এদিন, জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় নতুন ১০টি ও সংশোধিত ৩টি প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই ১৩ প্রকল্পের জন্য মোট ব্যয় হবে ১২ হাজার ৪৫৯ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিল (জিওবি) থেকে দেওয়া হবে ৯ হাজার ৪৮১ কোটি ৭৭ লাখ টাকা, সংস্থার নিজস্ব তহবিল থেকে দেওয়া হবে ১৫৪ কোটি ৪৫ লাখ টাকা এবং বৈদেশিক ঋণ হিসেবে পাওয়া যাবে ২ হাজার ৮২৩ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। একনেক সভা শেষে সাংবাদিকদের পরিকল্পনামন্ত্রী মুক্তিযোদ্ধাদের বিষয়টি নিয়ে বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের দাবির প্রেক্ষিতে এই প্রকল্প বাতিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান এমপি।
মন্ত্রী বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের দাবি ছিল ফ্ল্যাট না দিয়ে নিজস্ব ভিটায় একই টাকা খরচ করে ঘর নির্মাণ করে দেওয়ার। সেজন্য এখন নতুন করে ঘর নির্মাণ প্রকল্প নেওয়া হবে। জানা গেছে, ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে ২ হাজার ২৭ কোটি টাকা ব্যয়ে বহুতল ভবন নির্মাণ প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। এই প্রকল্পের আওতায় সারাদেশে ৫৩২টি ভবনে মোট ৮ হাজার ফ্ল্যাট নির্মাণের কথা ছিল। প্রতিটি ভবন পাঁচতলা হলেও এগুলোতে ওঠানামার লিফটের কোনো ব্যবস্থা ছিল না। আরও জানা গেছে, নতুন প্রকল্পের জন্য এরই মধ্যে সারাদেশ থেকে প্রাথমিকভাবে ১৬ হাজার মুক্তিযোদ্ধার তালিকা করা হয়েছে। আর নতুন প্রকল্পে একতলা একটি ঘর নির্মাণের সম্ভাব্য খরচ ধরা হয়েছে ২০ লাখ টাকা।

শ্রেণী: