চট্টগ্রাম হবে ওয়ান সিটি টু টাউন

Posted on by 0 comment
কর্ণফুলী টানেল বোরিং কার্যক্রম উদ্বোধন
কর্ণফুলী টানেল বোরিং কার্যক্রম উদ্বোধন

কর্ণফুলী টানেল বোরিং কার্যক্রম উদ্বোধন

উত্তরণ প্রতিবেদন: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি শুরু হলো কর্ণফুলীর তলদেশে দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম সুড়ঙ্গপথ ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল’-এর বোরিং কার্যক্রম। এই টানেলের মাধ্যমে নদীর দক্ষিণপাড় যুক্ত হবে মহানগরীর সঙ্গে। চট্টগ্রাম পরিণত হবে চীনের সাংহাইয়ের আদলে ওয়ান সিটি টু টাউনে। সকালে তিনি পতেঙ্গা প্রান্তের কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ডে সুইচ টিপে এই কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। সেখানেই স্থাপিত আরেকটি মঞ্চে ফলক উন্মোচন করেন চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (চউক) আরেক মেগা প্রকল্পের নির্মাণকাজ। যার নাম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে। যেটি চট্টগ্রামের প্রথম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। এই দুই প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৩ হাজার ১৩০ কোটি টাকা।
এ দুই মেগা প্রকল্পের উদ্বোধনের পর পতেঙ্গা রিং রোডে আয়োজিত এক সুধী সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকা-ের নানা চিত্র তুলে ধরে বলেন, বাংলাদেশ ধাপে ধাপে উন্নয়নের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। সারাবিশ্ব বিস্ময়ে তাকিয়ে দেখবে বাংলাদেশকে। প্রধানমন্ত্রী পদে পদে নানা বাধা-বিপত্তি ও প্রতিকূলতা অতিক্রম করে পদ্মাসেতুসহ সরকারের বড় বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের সেই ঐতিহাসিক ভাষণের একটি লাইন উদ্ধৃত করে এর অনুকরণে বলেন, ‘আমাদের কেউ দাবায়ে রাখতে পারবে না।’ রক্তের বিনিময়ে পেয়েছি আমাদের স্বাধীনতা।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের রোড মডেল। দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম টানেল হতে যাচ্ছে বাংলাদেশে। ২০১০ সালে টানেল নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছিলাম। ২০১৪ সালে চীন সফরে যাই। চীনের প্রধানমন্ত্রী আমাদের সম্মানে রাতের খাবারের আয়োজন করেন। সেখানেই কর্ণফুলীর তলদেশে একটি টানেল নির্মাণের ইচ্ছার কথা বলতেই তিনি রাজি হয়ে যান। ওই রাতেই দুদেশের মধ্যে এমওইউ (সমঝোতা স্মারক) সই হয়। সাধারণত চীন কোনো প্রকল্প ব্যয়ের ৮৫ শতাংশের বেশি ঋণ দেয় না। কিন্তু আমাদের আগ্রহ দেখে চীন কর্ণফুলী টানেলের ব্যাপারে শতভাগ ঋণ সহায়তা দিয়েছে। ২০১৬ সালের ১৪ অক্টোবর চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং নিজে টানেলের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন। আগামী ২০২২ সালের মধ্যে এই টানেল নির্মাণের কাজ শেষ হবে। বক্তব্যে তিনি চীনের প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর প্রতি বিশেষভাবে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
কর্ণফুলী তলদেশে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল নির্মাণের ফলে চট্টগ্রামে যোগাযোগ-ব্যবস্থার আমূল উন্নতির কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, চার-লেনের এই টানেলের মাধ্যমে নগরীর সঙ্গে যুক্ত হবে আনোয়ারা উপজেলা। আনোয়ারা থেকে ১০ কিলোমিটার একটি সড়ক কক্সবাজার ফোর-লেন সড়কের সঙ্গে যুক্ত করলে এই টানেল দিয়ে যানবাহন কক্সবাজার পর্যন্ত চলাচল করতে পারবে। তিনি বলেন, চট্টগ্রামের লালখান বাজার হতে বিমানবন্দর পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মিত হচ্ছে। এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে নগরীতে যানজট হবে না।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রাম শুধু বাণিজ্যিক নগরী নয়, প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি। এই টানেল হলে চট্টগ্রামসহ উপকূল ঘিরে হবে মহাপরিকল্পনা। টানেলের ক্ষেত্রে দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম দেশ হবে বাংলাদেশ। তিনি ঢাকার বাইরে গ্রামীণ জনপদের উন্নয়নে সরকারের পদক্ষেপ উল্লেখ করে বলেন, গ্রামের মানুষ যেন শহরের সুবিধা পায় সে-লক্ষ্যে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। কাজ করতে চাই দেশের জন্য, উন্নয়নের জন্য।
উদ্বোধনের পর রিং রোডের এই সুধী সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি, ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ঝাং জুও এবং সেতু বিভাগের সিনিয়র সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম। উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক এমপি, তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এমপি, গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী স. ম. রেজাউল করিম এমপি, ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ এমপি, নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এমপি, শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল এমপি, চট্টগ্রাম সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন, সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এমপি, স্থানীয় সংসদ সদস্য এমএ লতিফ, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম এবং চট্টগ্রামের সংসদ সদস্য এবং প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের দায়িত্বশীল ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ।

টানেল প্রকল্প
চট্টগ্রামের পতেঙ্গা থেকে আনোয়ারায় কর্ণফুলীর তলদেশ দিয়ে এই টানেল হবে দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম। ২০২২ সালে নির্মাণকাজ শেষ হলে কর্ণফুলী নদীর উত্তর ও দক্ষিণ পাড়ের মধ্যে সংযোগ স্থাপিত হয়ে চট্টগ্রাম হবে চীনের সাংহাই নগরীর মতো। উত্তরের মতো দক্ষিণ পাড়ও হবে শহর এবং শিল্পাঞ্চল। টানেলের সঙ্গে সিটি আউটার রিং রোড যুক্ত হয়ে সৃষ্টি হবে দীর্ঘ এক মেরিন ড্রাইভ, যা মীরসরাই থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত অঞ্চলকে নিয়ে আসবে এক মেলবন্ধনে। টানেল ব্যয় ধরা হয়েছে ৯ হাজার ১৮০ কোটি টাকা। এই প্রকল্পের ৩২ শতাংশ কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে টানেল বোরিং কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে। টানেলে ১১ মিটার দূরত্বে নির্মিত হবে দুটি টিউব। চার-লেন বিশিষ্ট এই টানেলের দৈর্ঘ্য হবে ৩ দশমিক ৪ কিলোমিটার। টানেলের টিউব স্থাপিত হবে নদীর তলদেশ হতে ১৮ থেকে ৩১ কিমি গভীরে। টানেল দিয়ে চলাচল করতে পারে ভারী যানবাহনও। এছাড়া এই টানেলের পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তের থাকবে ৫ দশমিক ৩৫ কিমি এপ্রোচ রোড। একই প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে ৭২৭ মিটারের একটি ওভারব্রিজ। এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে চীনা প্রতিষ্ঠান চায়না কমিউনিকেশন অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন লি.। জি টু জি ভিত্তিতে এই টানেলের সমুদয় অর্থ জোগান দিচ্ছে চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত এক্সিম ব্যাংক।

এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে
চট্টগ্রামের লালখান বাজার থেকে পতেঙ্গা শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পর্যন্ত হচ্ছে ১৬ দশমিক ৫ কিলোমিটারের দীর্ঘ এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে। চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (চউক) এই প্রকল্পে ব্যয় ধরেছে ৩ হাজার ২৫০ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। আগামী ২০২০ সালের মধ্যে এই প্রকল্পের কাজ শেষ করার কথা থাকলেও এতে আরও কিছু সময় লেগে যেতে পারে বলে জানিয়েছেন চউক চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম। তিনি বলেন, চট্টগ্রামকে ঘিরে বর্তমান সরকার উন্নয়নের মহাযজ্ঞ শুরু করেছে। ইতোমধ্যেই বহু প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। সেতু বিভাগের উদ্যোগে টানেল প্রকল্প আর চউকে উদ্যোগে হচ্ছে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে। দুই প্রকল্পের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি উপস্থিত থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের বিবরণ দেন। এছাড়া বর্তমান সরকারের উদ্যোগে চট্টগ্রামে যেসব উন্নয়ন কর্মকা- সম্পন্ন করা হয়েছে তাও সংক্ষিপ্ত আকারে তুলে ধরেন।

শ্রেণী:

বঙ্গবন্ধু উপাধি প্রাপ্তি ছিল জাতির পক্ষে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ

Posted on by 0 comment
Mfd

Mfdউত্তরণ প্রতিবেদন: আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য তোফায়েল আহমেদ এমপি বলেছেন, বঙ্গবন্ধু উপাধি ছিল সমগ্র বাঙালি জাতির পক্ষ থেকে জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ। পৃথিবীতে অনেক বিশেষ দিন রয়েছে, তবে ২৩ ফেব্রুয়ারি বাঙালি জাতির জন্য একটি বিশেষ এবং অনন্য দিন।
গত ২৫ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমিতে আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা উপ-কমিটির উদ্যোগে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধি প্রাপ্তির ৫০ বছর উদযাপন উপলক্ষে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃৃতাকালে তোফায়েল আহমেদ আরও বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বাঙালির স্বাধীনতার বীজ বপন করেছিলেন। তৎকালীন স্বৈরাচার আইয়ুব খান জানতেন একজন লোক কখনও আপস করে না, আর তিনি হলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
আওয়ামী লীগের এই প্রবীণ নেতা যিনি ১০ লক্ষাধিক মানুষের উপস্থিতিতে জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমানকে বঙ্গবন্ধু উপাধি হিসেবে দিয়েছিলেন। সেই ঘটনার স্মৃতিচারণ করে তোফায়েল আহমেদ বলেন, এটা আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ দিন। সেই সময় আমি ছিলাম একজন সৌভাগ্যবান যুবক, জাতির জনককে বঙ্গবন্ধু উপাধিতে ভূষিত করতে পেরেছিলাম। স্বাধীনতা বঙ্গবন্ধুর মনে সব সময়ই ছিল। এটা তিনি কোনোদিন ভুলেন নি। বঙ্গবন্ধুর মনে ও কর্মে সর্বদা স্বাধীনতার আকাক্সক্ষা ধ্বনিত হতো। কারণ বাঙালি জাতির জন্য বঙ্গবন্ধুর ভালোবাসা ছিল সীমাহীন। সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, যারা নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্র করেছিল, তাদের ষড়যন্ত্র থেমে নেই। তাই সবাইকে সর্বদা সজাগ ও সতর্ক থাকতে হবে।
আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য এবং আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা উপ-কমিটির চেয়ারম্যান এইচ টি ইমামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন তথ্যমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ এমপি, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব সৈয়দ হাসান ইমাম, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ ও শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী। আওয়ামী লীগের উপ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন।
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম বলেন, বাঙালির স্বপ্নদ্রষ্টা ছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তিনি আমাদের জাতিসত্তা আমাদের মধ্যে গেঁথে দিয়েছেন। বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ তৈরিতে জাতিকে উদ্বুদ্ধ করেছেন। তিনি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রাষ্ট্রকে গড়ে তুলেছিলেন। একই সঙ্গে বিশ্বদরবারে বিশ্বনেতার কাতারে নাম লেখান।
তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু না হলে বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করতে পারত না। বঙ্গবন্ধু জানতেন কোন সময় কোনটি করতে এবং কোন সময় কোনটি বলতে হবে। স্বাধীনতার জন্য বঙ্গবন্ধু জাতিকে প্রস্তুত করেছিলেন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু মাত্র সাড়ে তিন বছরেই দেশকে উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করার ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন। বাংলাদেশ আজ সামাজিক, অর্থনৈতিক, মানবসম্পদসহ সকল সূচকে পাকিস্তানের চেয়ে এগিয়ে।
বঙ্গবন্ধু উপাধির ৫০ বছর উপলক্ষে দুদিনব্যাপী বর্ণাঢ্য শিল্পকর্ম প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে এই প্রদর্শনীর আয়োজন করে আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা উপ-কমিটি।

শ্রেণী:

চকবাজার অগ্নিকা- : প্রধানমন্ত্রীর সহমর্মিতা

Posted on by 0 comment
M

উত্তরণ প্রতিবেদন: সরকারের উদ্যোগ নেয়ার পরও ব্যবসায়ীদের পুরান ঢাকা থেকে রাসায়নিক কারখানা সরিয়ে নিতে রাজি না হওয়ার বিষয়টি দুর্ভাগ্যজনক বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, চকবাজার ট্র্যাজেডি পুরান ঢাকার রাসায়নিকের গুদাম মালিকদের জন্য একটি শিক্ষণীয় ঘটনা। এবার নিশ্চয়ই এসব গুদাম অন্যত্র সরিয়ে নিতে তারা (মালিকরা) আর আপত্তি করবেন না। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি বেলা সাড়ে ১০টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চকবাজারে অগ্নিকা-ে দগ্ধদের দেখতে যান প্রধানমন্ত্রী। পরে বিষয়টি নিয়ে সাংবাদিকদের কাছে এ মন্তব্য করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। নিহতদের পরিবারের প্রতি আমি সহমর্মিতা জানাই। এজন্য জাতীয় শোক পালন করা হবে। নিমতলীর ঘটনার পর গৃহীত উদ্যোগের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আগুন লাগার আগে সিদ্ধান্ত হয়েছিল সব রাসায়নিক কারখানা ও গোডাউন সরানো হবে। কেউ তখন রাজি হননি। আমরা আধুনিক গোডাউন করে দিতে চাইলেও মালিকরা রাজি হননি। এটা আমাদের দুর্ভাগ্য। চকবাজারে কেন আগুন লেগেছে, তা তদন্ত করে দেখার পাশাপাশি সব স্থাপনায় অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর জোর দেন শেখ হাসিনা।
পুরান ঢাকার সংকীর্ণ রাস্তা নতুনভাবে গড়তে হবে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গে ফায়ার সার্ভিস যে গাড়ি নিয়ে আসবে এত ছোট রাস্তা তার ওপর উৎসুক জনতা ভিড় করে। এরাই এক বালতি করে পানি আর বালি আনলেও ভালো হতো। কিন্তু কেউ সেটা আনেন নি।
অগ্নিকা-ের সংবাদ সংগ্রহের দায়িত্বে কিছু সংবাদকর্মীর আচরণ নিয়েও আপত্তি জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, যারা আগুন নেভানোর কাজে ব্যস্ত তাদের কিছু কিছু টিভি প্রশ্ন করছে। এটা কি প্রশ্ন করার সময়? এ জাতীয় ঘটনায় সবাই যেন সুষ্ঠুভাবে কাজ করতে পারে সেটা আগে নিশ্চিত করতে হবে। শেখ হাসিনা বলেন, ৭২ ঘণ্টা পার হওয়ার আগে আহতদের ছবি তুলতে হাসপাতালে ক্যামেরা যাওয়া, লোকজন যাওয়া বন্ধ রাখতে হবে।
শেখ হাসিনা এ সময় দমকল কর্মী, পুলিশ ও র‌্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষকারী বাহিনী এবং চিকিৎসকদের সচেতনতার এবং রাত-দিন অক্লান্ত পরিশ্রমের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, তাদের পাশাপাশি সেদিন তিনি নিজেও নির্ঘুম রাত কাটিয়ে আগুন নেভানোর বিষয়টি তদারকি করেছেন এবং যেসব রোগী মেডিকেলে এসেছে তাৎক্ষণিক তাদের চিকিৎসার সব রকম ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
হতভাগ্যদের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে অনেকের লাশ শনাক্ত হয়েছে এবং তাদের স্বজনরা নিয়ে গেছেন। কয়েকজন এখনও যে শনাক্ত হতে পারেনি তাদের ডিএনএ টেস্ট করে স্বজনের কাছে ফেরত দেয়া হবে, সেই প্রক্রিয়াও আমরা শুরু করেছি।
দুর্ঘটনা থেকে পুরান ঢাকাকে রক্ষার জন্য রাসায়নিকের গুদামগুলো অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে বহুতল গোডাউন গড়ে তোলার জন্য তার সরকারের পদক্ষেপ নেয়ার কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, এই অলিগলি রাস্তাকে আমাদের নতুন করে গড়ে তুলতে হবে। যাতে দমকল বাহিনী সহজেই ঘটনাস্থলে পৌঁছতে পারে। প্রধানমন্ত্রী এ সময় ঢাকার ধোলাইখাল, শান্তিনগর খাল, সেগুনবাগিচা খাল থেকে শুরু করে ঢাকার অনেক খাল ও জলাধার ভরাট হয়ে যাওয়ার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, পুকুর-খাল এগুলো যেন আর বন্ধ করা না হয় এগুলো যেন রক্ষা পায়। কারণ এ ধরনের আগুন লাগলে পানির অভাবটা যেন আর না থাকে বিষয়টি খেয়াল করেই সংশ্লিষ্ট সবাই কাজ করবেন।
কয়েকদিন আগেই সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে আগুন লাগার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সে-সময় চিকিৎসক, নার্স, হাসপাতালের কর্মচারী এবং সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত রোগীদের সরিয়ে নেয়ার ব্যবস্থা করায় সেখানে আল্লাহর রহমতে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। তবে সেখানে আগুন লাগার কারণ সম্পর্কে এখনও তদন্ত চলছে। এ সময় নতুন রাস্তাঘাট, স্থাপনাসহ বিভিন্ন ভবন নির্মাণের সময় সেসব জায়গায় যেন পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা থাকে সেদিকে দৃষ্টি দেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।
অন্যদের মধ্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক স্বপন এমপি, উপমন্ত্রী এনামুল হক শামিম এমপিসহ ঢাকা মেডিকেলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। ২০ ফেব্রুয়ারি রাতে চকবাজারের চুড়িহাট্টা মোড়ে ভয়াবহ এক অগ্নিকা-ে ৬৭ জন জীবন্ত দগ্ধ হন। আহতদের মধ্যে ৯ জনকে চিকিৎসা দেওয়া হয় ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে, তাদের অবস্থাও আশঙ্কাজনক নয়।

শ্রেণী:

স্মৃতির মিনারে বিনম্র শ্রদ্ধা

Posted on by 0 comment
3-16-2019 7-44-33 PM

3-16-2019 7-44-33 PMউত্তরণ প্রতিবেদন: ভোর হতেই দেশের সব রাজপথ মিশেছিল শহিদ মিনারে। মায়ের ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে জয়ী বীর বাঙালি জাতি আবারও বিনম্র শ্রদ্ধায় স্মরণ করল তার গর্বিত পূর্বসূরিদের। রাজধানী থেকে শুরু করে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের শহিদ মিনারের বেদিগুলোও ভরে উঠেছিল ফুলেল শ্রদ্ধায়। ফাল্গুনের ভোরের হিম হাওয়ায় নগ্ন পদে সবাই ছুটেছেন শহিদ মিনারে। দুপুর অবধি রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে ছিল লাখো মানুষের ঢল। মা, মাটি, দেশ আর মাতৃভাষার প্রতি বাঙালির অপরিসীম মমত্ববোধের চিরায়ত প্রকাশ ঘটে গত ২১শে ফেব্রুয়ারি। ভাষার জন্য আত্মোৎসর্গকারী শহিদদের প্রতি শিশু-কিশোর, বৃদ্ধ, যুবা, তরুণ-তরুণী, পাহাড়ি, বাঙালি, ভিনদেশি, ধর্ম-বর্ণ-গোত্র নির্বিশেষে সবাই সারিবদ্ধভাবে শহিদ বেদিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। এ সময় সবার কণ্ঠে ছিল অমর একুশের কালজয়ী সেই গান ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি…।’
দেশের উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখা, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা আর সমাজে শান্তির সুবাতাস বইয়ে দেওয়ার অঙ্গীকারে সারাদেশে পালিত হয়েছে মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। ২০ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাতে ঘড়ির কাঁটা ১২টা ছোঁয়ার আগেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতা-কর্মীদের সারি দেখা যায় শহিদ মিনারে। রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের শ্রদ্ধা নিবেদনের পর্ব শেষ হলে শহিদ মিনার সবার জন্য খুলে দেওয়া হয়। শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণের জন্য সকালে নামে মানুষের ঢল। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শহিদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাতে আসা সর্বস্তরের মানুষের সারি আরও দীর্ঘ হয়। নীলক্ষেত মোড় হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের পাশ দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছিল একটি দীর্ঘ সারি। ফুল হাতে লাইন ধরে শোক ও শ্রদ্ধায় অবনত চোখে খালি পায়ে হাঁটছিলেন সবাই। শিশু, কিশোর, যুবক, তরুণ থেকে প্রৌঢ় কে নেই এই মিছিলে। ভাষা শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারমুখী প্রভাতফেরির সঙ্গী হয়েছেন তারা। এই দিনে বাঙালির শোককে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে ২০ ফেব্রুয়ারি রাতের চকবাজারের ভয়াবহ অগ্নিকা-। আগুনে পোড়া শতাধিক হতাহতের স্বজনের দুঃখ-বেদনা যেন সালাম-বরকতদের শোকে লীন হয়ে তৈরি করে মর্মন্তুদ মেলবন্ধন। চকবাজারের আগুনে স্বজনহারাদের হাহাকার ঢাকা মেডিকেল কলেজের করিডোর আর মর্গ পেরিয়ে এসে মিশেছে শহিদ মিনারের অর্ধনমিত জাতীয় পতাকায়, প্রভাতফেরির কালো পোশাকে।
একুশের প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে ভাষা শহিদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রাত ১২টা ১ মিনিটে প্রথমে রাষ্ট্রপতি পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপরই শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী। এরপর স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। পরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দলীয় প্রধান হিসেবে আওয়ামী লীগের মন্ত্রিপরিষদের সদস্য ও দলের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে শহিদ বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর একে একে শ্রদ্ধা জানান ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়া, বিরোধীদলীয় উপনেতা জিএম কাদের, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন প্যানেল মেয়র মোস্তফা কামাল। সহকর্মীদের নিয়ে ভাষা শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আখতারুজ্জামান। শ্রদ্ধা জানান ঢাকার বিভিন্ন মিশনের কূটনীতিক, একাত্তরের সেক্টর কমান্ডার এবং মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের নেতারা। শহিদ বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন সৈনিক, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি, সেনা, নৌ, বিমান বাহিনী, পুলিশ, র‌্যাবসহ বিভিন্ন সংগঠন। বিশিষ্টজনের শ্রদ্ধা জানানোর পর সবার জন্য উন্মুক্ত হয় শহিদ মিনার।

শ্রেণী:

প্রবৃদ্ধির প্রথম সারিতে থাকবে বাংলাদেশ

2-6-2019 8-48-48 PM

2-6-2019 8-48-48 PMউত্তরণ প্রতিবেদন: চলতি বছর বিশ্বের যেসব দেশে ৭ শতাংশ বা এর বেশি প্রবৃদ্ধি হবে, তার মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। আবার চীন, ভিয়েতনাম কিংবা কম্বোডিয়ার মতো রপ্তানি বাজারে বাংলাদেশের প্রধান প্রতিযোগীদের সবার চেয়ে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি হবে বেশি। বিশ্ব অর্থনীতির অবস্থা ও সম্ভাবনা-২০১৯ নামে জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে এ পূর্বাভাস রয়েছে।
প্রতিবেদনটি গত ২১ জানুয়ারি বাংলাদেশ সময় রাত ১০টায় নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তর থেকে প্রকাশিত হয়।
জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিভাগ (ইউএন-ডেসা), বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সংস্থা আঙ্কটাড এবং এসকাপ-সহ ৫টি আঞ্চলিক কমিশন যৌথভাবে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে। রিপোর্টে ২০৩০ সাল নাগাদ বাস্তবায়নের জন্য নতুন বৈশ্বিক এজেন্ডা টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি) বাস্তবায়নের নিরিখে প্রণীত হয়েছে। প্রতিবেদনে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, মিয়ানমারসহ কিছু দেশের ক্ষেত্রে ২০১৯ সালের পূর্বাভাস বলতে অর্থবছর ২০১৮-১৯ অর্থবছর বোঝানো হয়েছে। বেশিরভাগ দেশের ক্ষেত্রে ২০১৯ সালের প্রবৃদ্ধি বলতে পঞ্জিকাবর্ষ অর্থাৎ জানুয়ারি-ডিসেম্বর ধরা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বাংলাদেশের অর্থনীতির সম্ভাবনার পাশাপাশি স্বল্পোন্নত দেশ থেকে বেরোনোর পর কিছু চ্যালেঞ্জের কথা বলা হয়েছে। বলা হয়েছে, শক্তিশালী বিনিয়োগ, বেসরকারি ভোগ ব্যয় এবং সংকুলানমুখী মুদ্রানীতির কারণে কয়েক বছর ধরে মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) ৭ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি হচ্ছে। চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৭ দশমিক ৪ শতাংশ। অবশ্য সরকারের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে ৭ দশমিক ৮ শতাংশ। বিশ্বব্যাংক সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশ হবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে।
জাতিসংঘের পূর্বাভাস অনুযায়ী ২০১৯ সালে অন্তত ১০টি দেশে ৭ শতাংশ বা তার বেশি প্রবৃদ্ধি হবে। বাংলাদেশ ছাড়া অন্য দেশের মধ্যে রয়েছেÑ ভারত, কম্বোডিয়া, মিয়ানমার, ঘানা, ইথিওপিয়া এমনকি সিরিয়াও। রয়েছে দক্ষিণ সুদান। তবে সিরিয়া ও দক্ষিণ সুদানে বড় ধরনের সামাজিক ও রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে আগের কয়েকটি বছরে অর্থনীতি মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এখন পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় তাদের দুর্বল ভিত্তির কারণে উচ্চ প্রবৃদ্ধি হবে।
প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা যায়, ধারাবাহিকভাবে ভালো প্রবৃদ্ধি হচ্ছে এমন দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান শীর্ষ পর্যায়ে। যেমনÑ চীনের প্রবৃদ্ধি এ বছর কমে দাঁড়াবে ৬ দশমিক ৩ শতাংশ। কম্বোডিয়ায় ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস রয়েছে। ভিয়েতনামসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সব দেশেরই প্রবৃদ্ধি হবে বাংলাদেশের চেয়ে কম।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশ, ভারত ও ভুটানের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বহুলাংশে ইতিবাচক। এসব দেশে নিকট মেয়াদে জিডিপি প্রবৃদ্ধি তেজি থাকবে। বাংলাদেশের চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, আগামী কয়েক বছর বাংলাদেশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কেননা স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের পর ২০২৭ সালে বাংলাদেশ ইউরোপীয় ইউনিয়নে রপ্তানিতে ‘এভরিথিং বাট আর্মস’-এর আওতায় শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে না। বাংলাদেশ চীন, শ্রীলংকাসহ কয়েকটি দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (এফটিএ) আলোচনা করছে। তবে এলডিসির আওতায় বহুপক্ষীয় ব্যবস্থায় বাংলাদেশ যেভাবে অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য সুবিধা পাচ্ছে, দ্বিপক্ষীয় ক্ষেত্রে তার চেয়ে বেশি সুবিধা পাওয়া বাংলাদেশের জন্য চ্যালেঞ্জিং।
মতামত জানতে চাইলে গবেষণা সংস্থা সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো এবং জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসির সদস্য ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ভালো হচ্ছে। তবে প্রবৃদ্ধির গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। কেননা ভোগের ক্ষেত্রে, সম্পদের ক্ষেত্রে ও আয়ের ক্ষেত্রে বৈষম্য হচ্ছে। বৈষম্য বাড়লে উচ্চ প্রবৃদ্ধি টেকসই হয় না।
এলডিসি থেকে উত্তরণের চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, এর আগে যারা এলডিসি থেকে বের হয়েছে, তাদের অনেকের ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি টেকসই রাখতে বিশেষ যতœ নিতে হয়েছে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে প্রধান মনোযোগের বিষয় হলো, রপ্তানি টেকসই রাখা। বাজার সুবিধা কমে গেলে দ্বিপক্ষীয় চুক্তির তুলনায় ইউরোপীয় ইউনিয়নে জিএসপি প্লাস পাওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের যোগ্যতা অর্জন গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া বৈদেশিক সহায়তা এবং রেমিট্যান্স কমে যাওয়ার একটা পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। সেক্ষেত্রে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে বাংলাদেশকে বিশেষ মনোযোগ দিতে হবে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৮ সালে বিশ্ব অর্থনীতিতে ৩ দশমিক ১ শতাংশ প্রবৃদ্ধির প্রাক্কলন করা হয়েছে। ২০১৯ সালে তা কমে ৩ শতাংশ হতে পারে। বিশ্ব অর্থনীতিতে ঝুঁকি কমাতে এবং টেকসই প্রবৃদ্ধির ভিত্তি তৈরি করতে জরুরি ও দৃঢ় পদক্ষেপ নিতে হবে।

শ্রেণী:

তারেকের আশ্বাসে ও সহযোগিতায় ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা

2-6-2019 8-37-45 PM

2-6-2019 8-37-45 PMউত্তরণ প্রতিবেদন: বিএনপির বর্তমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও তৎকালীন সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব তারেক রহমানের আশ্বাসেই ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগের সমাবেশে ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা চালানো হয়েছিল। এ ব্যাপারে তৎকালীন প্রশাসনের প্রশাসনিক সহায়তাও পেয়েছিল জঙ্গিরা। হরকাতুল জিহাদ (হুজি) নেতা মুফতি আবদুল হান্নান ও তার সহযোগীরা গ্রেনেড হামলার কিছুদিন আগে বনানীর হাওয়া ভবনে গিয়ে তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তখন সেখানে উপস্থিত তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, তৎকালীন মন্ত্রী ও জামায়াত নেতা আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, সেনা গোয়েন্দা সংস্থার তৎকালীন পরিচালক সিআইবি মেজর জেনারেল (অব.) রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরী, এনএসআইয়ের তৎকালীন ডিজি ব্রিগেডিয়ার (অব.) আবদুর রহিমের সঙ্গে ষড়যন্ত্রমূলক বৈঠক করেন। বৈঠকে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ নেতাদের হত্যা করার সহযোগিতা চায় জঙ্গিরা। তারেক রহমান উপস্থিত সবার সামনে জঙ্গিদের সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন। আর ওই হামলার মুখ্য উদ্দেশ্য ছিল শেখ হাসিনাকে হত্যা করে তার দলকে নেতৃত্বশূন্য করা। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার ঘটনায় করা দুটি মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়ে এসব বিষয় তুলে ধরেছেন ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক জেলা ও দায়রা জজ শাহেদ নূর উদ্দিন।
মামলার ঘটনাস্থল পরিদর্শন, জব্দকৃত আলামত, রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী, আসামিদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি ও পারিপার্শ্বিক সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে রায়ে বলা হয়, গ্রেনেড হামলা চালানোর হীনউদ্দেশ্য হচ্ছে জঙ্গি সংগঠন হুজি, হিজবুল মুজাহিদীন, লস্কর-ই-তৈয়বা, তেহরেকি জেহাদী ইসলাম, রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশনের জঙ্গি কর্মকা- এদেশে নির্বিঘেœ চালিয়ে যাওয়া; স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বশূন্য করে দেশের উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা ধ্বংস করে বাংলাদেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করা। এছাড়া অবস্থানগত ও ক্ষমতাগত লাভের উদ্দেশেও এখানে কাজ করেছে বলে আদালতের কাছে প্রতীয়মান হয়।
রায়ে বলা হয়, এ উদ্দেশ্যসমূহ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ২০০২ সালের জুলাই মাসে মোহাম্মদপুর সুপার মার্কেটের কাছে ও ২০০৩ সালে একই এলাকার সাত গম্বুজ মসজিদে, ২০০৪ সালের প্রথম ও আগস্ট মাসের মাঝামাঝি সময়ে হাওয়া ভবনে, সাবেক উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুর সরকারি বাসভবন ছাড়াও ঢাকার বিভিন্ন স্থানে সভা করে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল আসামিরা। এসব সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আসামি বাবর, রেজ্জাকুল, রহিম, পিন্টু, তারেক, হারিছ, কায়কোবাদের কাছ থেকে জঙ্গিরা প্রশাসনিক সুবিধা নেয়। বিএনপি ক্ষমতায় থাকায় হামলার কাজটি করা তাদের জন্য সহজ হবে ভেবে ২০০৪ সালের প্রথম দিকে এমপি কায়কোবাদের সহযোগিতায় হাওয়া ভবনে গিয়ে তারেক রহমান ও হারিছ চৌধুরীর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে পরিচিত হন জঙ্গিরা।
রায়ে বলা হয়, রেজ্জাকুল ও রহিম ঘটনার দিন গ্রেনেড হামলার বিষয় অবগত থেকেও গোয়েন্দা তথ্য প্রকাশ করা থেকে বিরত থাকেন। এভাবে নীরব থেকে প্রশাসনিক সহায়তায় হামলা চালায় জঙ্গিরা। এ হামলায় মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী আইভি রহমানসহ ২৪ জন প্রাণ হারান। শতাধিক নেতাকর্মী, সমর্থক, আইনজীবী ও সাংবাদিক আহত হন। অনেকে পঙ্গুত্ববরণ করেন।
রায়ে বলা হয়, স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে মুফতি হান্নান বলেছেন নির্বিঘেœ গ্রেনেড হামলা চালানোর জন্য তারা প্রশাসনিক সহায়তা পেয়েছেন। আর ওই গ্রেনেড সরবরাহকারী হিসেবে আবদুস সালাম পিন্টুর ভাই মাওলানা তাজউদ্দিনের নাম তৎকালীন আইজিপি খোদাবক্স চৌধুরীর সময় করা তদন্তে প্রকাশ পায়। কিন্তু উনি তাজউদ্দিনকে এই মামলায় গ্রেফতারে কোনো পদক্ষেপ নেননি। ফলে এটা স্পষ্টত যে জঙ্গিরা প্রশাসনিক সহযোগিতায় এ হামলা পরিচালনা করেন। হামলাকারীদের বিষয়ে জানা থাকলেও তাদের বিরুদ্ধে কোনো আইনানুগ ব্যবস্থা না নিয়ে বরং তাদের রক্ষা করতে প্রলোভন, ভয়ভীতি দেখিয়ে অন্য লোকের ওপর দায় চাপিয়ে প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করার লক্ষ্যে জজ মিয়া, আবুল হাশেম রানা ও শরিফুল ইসলামদের দ্বারা মিথ্যা ও বানোয়াট স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি ও ভুল রেকর্ড লিপিবদ্ধ করান। একইসঙ্গে অপরাধীদের রক্ষায় ঘটনার অন্যতম পরিকল্পনাকারী ও গ্রেনেড সরবরাহকারী ও ষড়যন্ত্রকারীদের বিদেশে পাঠিয়ে দেন।
প্রসঙ্গত, এ দুটি মামলায় গত ১০ অক্টোবর আসামি বাবর ও পিন্টুসহ ১৯ জনকে ‘ডাবল’ মৃত্যুদ- দেয় ট্রাইব্যুনাল। দ-িতদের মধ্যে অধিকাংশই দেশীয় ও আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠনের শীর্ষ নেতা। একই অপরাধে তারেক, হারিছসহ ১৯ জনকে ‘ডাবল’ যাবজ্জীবন সাজা দেওয়া হয়। দুটি মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় গত মাসে প্রকাশ করেন ট্রাইব্যুনাল।

শ্রেণী:

প্রথমবার দলীয় প্রতীকে উপজেলা নির্বাচন

2-6-2019 8-29-26 PM

2-6-2019 8-29-26 PMরায়হান কবির: জাতীয় নির্বাচনের উদ্দীপনা না কাটতেই দেশজুড়ে স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন স্তরের নির্বাচনী হাওয়ায় সরগরম হয়ে উঠেছে রাজনীতির মাঠ। ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসজুড়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে একাধিক নির্বাচন। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে মেয়র পদে উপনির্বাচন এবং উত্তর ও দক্ষিণ উভয় সিটি কর্পোরেশনে সংযুক্ত ৩৬টি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। একই সাথে কিশোরগঞ্জ-১ (সদর-হোসেনপুর) সংসদীয় আসনে অনুষ্ঠিত হচ্ছে পুনর্নির্বাচন।
প্রথমবারের মতো দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠিত হচ্ছে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন। ইতোমধ্যে নির্বাচনের তফসিল ঘোষিত হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী পাঁচ ধাপে অনুষ্ঠিত হবে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন। পঞ্চমবারের অনুষ্ঠিতব্য উপজেলা নির্বাচনে প্রথমবারের মতো ব্যবহৃত হচ্ছে ইভিএম। জেলা সদরের উপজেলায় ভোটগ্রহণ করা হবে ইভিএমের মাধ্যমে। উপজেলা চেয়ারম্যান এবং উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ৩টি পদেই থাকছে দলীয় প্রতীক।
উত্তর সিটিতে আওয়ামী লীগের মনোনীত মেয়র প্রার্থী আতিক : আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র পদের উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন বিজিএমইএ’র সাবেক সভাপতি, ব্যবসায়ী নেতা আতিকুল ইসলাম। গত ২৬ জানুয়ারি সন্ধ্যায় গণভবনে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের পার্লামেন্টারি বোর্ড এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচন মনোনয়ন বোর্ডের যৌথসভায় সর্বসম্মতিক্রমে তাদের এই মনোনয়ন দেওয়া হয়।
কিশোরগঞ্জ-১ আসনের নির্বাচন ২৮ ফেব্রুয়ারি : কিশোরগঞ্জ-১ (সদর-হোসেনপুর) সংসদীয় আসনের পুনর্নির্বাচনে দলের মনোনয়ন পেয়েছেন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সদ্য প্রয়াত সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের বোন ডা. সৈয়দা জাকিয়া নূর লিপি। গত ২৬ জানুয়ারি সন্ধ্যায় গণভবনে আওয়ামী লীগের পার্লামেন্টারি বোর্ড এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচন মনোনয়ন বোর্ডের যৌথসভায় সর্বসম্মতিক্রমে তাদের এই মনোনয়ন দেওয়া হয়।

পাঁচ ধাপে অনুষ্ঠিত হবে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন
পাঁচ ধাপে সারাদেশে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। পঞ্চমবারের মতো স্থানীয় সরকারের গুরুত্বপূর্ণ এই উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে দলীয় প্রতীকে অংশগ্রহণ করবে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। গত ৩ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আগামী ১০ মার্চ প্রথম দফায় ৮৭টি উপজেলায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দ্বিতীয় দফায় ভোট হবে ১৮ মার্চ, তৃতীয় দফায় ভোট হবে ২৪ মার্চ এবং তৃতীয় দফায় ৩১ মার্চে ভোট নেওয়া হবে। বাকি উপজেলায় রমজানের পরে ভোটগ্রহণ করা হবে বলে কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
প্রথম ধাপের তফসিল ঘোষণা করা হলেও বাকি চার ধাপের খসড়া তফসিল প্রস্তুত করেছে কমিশন সচিবালয়। প্রথম দফায় অনুষ্ঠিত নির্বাচনের তফসিল অনুযায়ী আগামী প্রার্থীদের ১১ ফেব্রুয়ারির মধ্যে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে মনোনয়নপত্র দাখিল করতে হবে। বাছাই হবে ১২ ফেব্রুয়ারি। ১৯ ফেব্রুয়ারি প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ধার্য করা করা হয়েছে। দ্বিতীয় ধাপে তফসিল ১০ ফেব্রুয়ারি ঘোষণা, মনোয়নপত্র দাখিল ১৯ ফেব্রুয়ারি, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ২৮ ফেব্রুয়ারি এবং ভোটগ্রহণ ১৮ মার্চ নির্ধারণ করা হয়েছে। তৃতীয় ধাপে তফসিল ১৬ ফেব্রুয়ারি ঘোষণা, মনোনয়নপত্র দাখিল ২৬ ফেব্রুয়ারি, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ৫ মার্চ ও ভোটগ্রহণ ২৪ মার্চ। চতুর্থ ধাপে তফসিল ২০ ফেব্রুয়ারি ঘোষণা, মনোনয়নপত্র দাখিল ৪ মার্চ, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ১২ মার্চ ও ভোটগ্রহণ ৩১ মার্চ। সর্বশেষ পঞ্চম ধাপের তফসিল ১২ মে ঘোষণা, মনোনয়নপত্র দাখিল ২১ মে, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ২৯ মে ও ভোটগ্রহণ ১৮ জুন নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রথম ধাপে যেসব উপজেলায় ভোট : প্রথম ধাপে আগামী ১০ মার্চ যেসব উপজেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে সেগুলোর মধ্যে রয়েছেÑ পঞ্চগড় জেলার সদর, আটোয়ারী, বোদা, দেবীগঞ্জ ও তেঁতুলিয়া। কুড়িগ্রাম জেলার সদর, ভুরুঙ্গামারী, ফুলবাড়ী, উলিপুর, নাগেশ্বরী, রাজারহাট, রাজিবপুর, চিলমারী ও রৌমারী।
নীলফামারী জেলার সদর, ডোমার, ডিমলা, জলঢাকা, সৈয়দপুর ও কিশোরগঞ্জ। লালমনিরহাট জেলার সদর, পাটগ্রাম, হাতীবান্ধা, কালীগঞ্জ ও আদিতমারী।
জামালপুর সদর, সরিষাবাড়ী, মেলান্দহ, ইসলামপুর, বকশীগঞ্জ, দেওয়ানগঞ্জ ও মাদারগঞ্জ।
নেত্রকোনা সদর বারহাট্টা, দুর্গাপুর, খালিয়াজুরী, কলমাকান্দা, কেন্দুয়া, মদন, মোহনগঞ্জ, পূর্বধলা।
সুনামগঞ্জ সদর, ছাতক, দোয়ারাবাজার, জামালগঞ্জ, শাল্লা, ধর্মপাশা, বিশ্বম্ভবপুর ও তাহিরপুর।
হবিগঞ্জ সদর, বাহুবল, মাধবপুর, চুনারুঘাট, নবীগঞ্জ, আজমিরীগঞ্জ, বানিয়াচং ও লাখাই।
সিরাজগঞ্জ সদর, বেলকুচি, চৌহালী কাজিপুর, রায়গঞ্জ, শাহজাদপুর, তাড়াশ ও উল্লাপাড়া।
জয়পুরহাট জেলার সদর, পাঁচবিবি, আক্কেলপুর, কালাই ও ক্ষেতলাল।
নাটোর সদর, বাগাতিপাড়া, গুরুদাসপুর, বড়াইগ্রাম, লালপুর ও সিংড়া।
রাজশাহীর তানোর, গোদাগাড়ী, পবা, মোহনপুর, বাগমারা, পুঠিয়া, দুর্গাপুর, চারঘাট ও বাঘা।
দ্বিতীয় পর্যায়ে ১৮ মার্চ ভোটগ্রহণ ও উপজেলার তালিকা (সম্ভাব্য) : ঠাকুরগাঁও সদর, বালিয়াডাঙ্গী, রানীশংকৈল, পীরগঞ্জ, হরিপুর, গঙ্গাচড়া, তারাগঞ্জ, বদরগঞ্জ, কাউনিয়া, পীরগাছা, পীরগঞ্জ, গোবিন্দগঞ্জ, সাঘাটা, পলাশবাড়ী।
গাইবান্ধা সদর, সাদুল্লাপুর, ফুলছড়ি, বীরগঞ্জ, কাহারোল, বিরল, বোচাগঞ্জ।
দিনাজপুর সদর, খানসামা, চিরিরবন্দর, পার্বতীপুর, ফুলবাড়ী, নবাবগঞ্জ, বিরামপুর, হাকিমপুর, ঘোড়াঘাট, সদর, আদমদীঘি, দুপচাঁচিয়া, ধুনট, কাহালু, গাবতলী, নন্দীগ্রাম, সারিয়াকান্দি, শাজাহানপুর, শেরপুর, শিবগঞ্জ, সোনাতলা, রানীনগর, মহাদেবপুর, নিয়ামতপুর, সাপাহার, পতœীতলা, বদলগাছী।
নওগাঁ সদর, আত্রাই, পোরশা, ধামইরহাট, মান্দা, সদর, বাগাতিপাড়া, গুরুদাসপুর, বড়াইগ্রাম, লালপুর, সিংড়া।
কুষ্টিয়া সদর, ভেড়ামারা, কুমারখালী, মিরপুর, খোকসা, দৌলতপুর, শার্শা, ঝিকরগাছা, চৌগাছা।
যশোর সদর, বাঘারপাড়া, অভয়নগর, মনিরামপুর, কেশবপুর, দীঘলিয়া, কয়রা, ডুমুরিয়া, পাইকগাছা, রূপসা, তেরখাদা, ফুলতলা, বটিয়াঘাটা, দাকোপ, মেহেরপুর সদর, মুজিবনগর, গাংনী, রাজবাড়ী সদর, গোয়ালন্দ, পাংশা, বালিয়াকান্দি, আলফাডাঙ্গা, বোয়ালমারী, মধুখালী, নগরকান্দা, সালথা, সদর, চরভদ্রাসন, সদরপুর, ভাঙ্গা, হাতিয়া, মীরসরাই, সীতাকু-, সন্দ্বীপ, ফটিকছড়ি, রাঙ্গুনিয়া, রাউজান, হাটহাজারী।
তৃতীয় পর্যায়ে ২৪ মার্চ ভোটগ্রহণ ও উপজেলার তালিকা (সম্ভাব্য) : চুয়াডাঙ্গা সদর, আলমডাঙ্গা, দামুড়হুদা, জীবননগর, মাগুরা সদর, শ্রীপুর, শালিখা, মহম্মদপুর, নড়াইল সদর, কালিয়া লোহাগড়া, ঝিনাইদহ সদর, শৈলকুপা, হরিণাকু-ু, কালীগঞ্জ, ফকিরহাট, মোল্লাহাট, চিতলমারী, বাগেরহাট সদর, কচুয়া, রামপাল, মোংলা, মোড়েলগঞ্জ, শরণখোলা, আশাশুনি, শ্যামনগর, কালীগঞ্জ, কলারোয়া, সাতক্ষীরা সদর, তালা দেবহাটা, ভোলাহাট, গোমস্তাপুর, নাচোল, শিবগঞ্জ, পুঠিয়া, দুর্গাপুর, চারঘাট, বাগা, সদর, আটঘরিয়া, বেড়া, ভাংগুড়া, চাটমোহর, ফরিদপুর, ঈশ্বরদী, সাঁথিয়া, সুজানগর, সদর, টুঙ্গিপাড়া, কোটালীপাড়া, কাশিয়ানী, মুকসুদপুর, শিবচর, কালকিনি, রাজৈর, সদর, জাজিরা, নড়িয়া, ভেদরগঞ্জ, ডামুড্যা, গোসাইরহাট, নালিতাবাড়ী, শ্রীবরদী, ঝিনাইগাতী, হালুয়াঘাট, ধোবাউড়া, ফুলপুর, গৌরীপুর, সদর, মুক্তাগাছা, ফুলবাড়ীয়া, ত্রিশাল, ঈশ্বরগঞ্জ, নান্দাইল, গফরগাঁও, ভালুকা, সিলেট সদর, বিশ্বনাথ, দক্ষিণ সুরমা, ফেঞ্চুগঞ্জ, বালাগঞ্জ, কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর, কানাইঘাট, জকিগঞ্জ, গোলাপগঞ্জ, বিয়ানীবাজার, বড়লেখা, জুড়ী, কুলাউড়া, রাজনগর, সদর, কমলগঞ্জ, শ্রীমঙ্গল, বোয়ালখালী, পটিয়া, আনোয়ারা, চন্দনাইশ, লোহাগাড়া, বাঁশখালী।
চতুর্থ পর্যায়ে ৩১ মার্চ ভোটগ্রহণ ও উপজেলার তালিকা (সম্ভাব্য) : বরিশাল সদর, বাকেরগঞ্জ, বাবুগঞ্জ, বানারীপাড়া, উজিরপুর, গৌরনদী, আগৈলঝাড়া, মুলাদী, হিজলা, পটুয়াখালী সদর, মির্জাগঞ্জ, দুমকী, বাউফল, দশমিনা, গলাচিপা, কলাপাড়া, ভোলা সদর, দৌলতখান, বোরহানউদ্দিন, লালমোহন, তজুমদ্দিন, চরফ্যাশন, মনপুরা, বরগুনা সদর, আমতলী, বেতাগী, বামনা, পাথরঘাটা, পিরোজপুর সদর, ইন্দুরকানী, মঠবাড়ীয়া, ভা-ারিয়া, কাউখালী, নেছারাবাদ, নাজিরপুর, ঝালকাঠি সদর, নলছিটি, রাজাপুর, কাঁঠালিয়া, ধনবাড়ী, মধুপুর, গোপালপুর, ভূঞাপুর, ঘাটাইল, কালিহাতী, টাঙ্গাইল সদর, দেলদুয়ার, নাগরপুর, মির্জাপুর, বাসাইল, সখীপুর, কিশোরগঞ্জ সদর, হোসেনপুর, কটিয়াদী, পাকুন্দিয়া, তাড়াইল, করিমগঞ্জ, ইটনা, মিঠামইন, অষ্টগ্রাম, নিকলী, বাজিতপুর, কুলিয়ারচর, ভৈরব, দোহার, নবাবগঞ্জ, কেরানীগঞ্জ, সাভার, ধামরাই, কাপাসিয়া, কালিয়াকৈর, শ্রীপুর, কালীগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ সদর, টঙ্গীবাড়ী, লৌহজং, শ্রীনগর, সিরাজদিখান, গজারিয়া, সোনারগাঁ, আড়াইহাজার, রূপগঞ্জ, নরসিংদী সদর, পলাশ, শিবপুর, মনোহরদী, বেলাব, রায়পুরা, দৌলতপুর, ঘিওর, শিবালয়, সিঙ্গাইর, হরিরামপুর, মানিকগঞ্জ সদর, সাঁটুরিয়া, তিতাস, মুরাদনগর, দেবিদ্বার, বুড়িচং, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চান্দিনা, বরুড়া, লাকসাম, নাঙ্গলকোট, মনোহরগঞ্জ, চৌদ্দগ্রাম, মেঘনা, হোমনা, কচুয়া, মতলব উত্তর, মতলব দক্ষিণ, চাঁদপুর সদর, ফরিদগঞ্জ, হাজীগঞ্জ শাহরাস্তি, চাটখিল, সেনবাগ, কোম্পানীগঞ্জ, কবিরহাট, সুবর্ণচর, বেগমগঞ্জ, সোনাইমুড়ী, নাসিরনগর, আশুগঞ্জ, সরাইল, সদর, আখাউড়া, কসবা, নবীনগর, ফেনী সদর, দাগনভূঞা, সোনাগাজী, ফুলগাজী, ছাগলনাইয়া, পরশুরাম, লক্ষ্মীপুর সদর, রামগঞ্জ, রায়পুর, কমলনগর, রামগতি, পেকুয়া, কুতুবদিয়া, মহেশখালী, কক্সবাজার সদর, রামু, উখিয়া, টেকনাফ।
পঞ্চম পর্যায়ে ১৮ জুন ভোটগ্রহণ ও উপজেলার তালিকা (সম্ভাব্য) : আটপাড়া, শেরপুর সদর, নকলা, নলডাঙ্গা, সদর, কামারখন্দ, রংপুর সদর, সুন্দরগঞ্জ, মেহেন্দিগঞ্জ, রাঙ্গাবালী, তালতলী, কোটচাঁদপুর, মহেশপুর, গাজীপুর সদর, বন্দর, মাদারীপুর সদর, কালুখালী, শায়েস্তাগঞ্জ, বাঞ্ছারামপুর, বিজয়নগর, হাইমচর, আদর্শ সদর, সদর দক্ষিণ, সাতকানিয়া।
উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে জেলা সদরে উপজেলা পরিষদে ইভিএমের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ করা হবে। সদর উপজেলার প্রত্যেকটা কেন্দ্রে ইভিএম ব্যবহার করা হবে। উপজেলায় ইভিএম বিধিমালা ইতোমধ্যে কমিশন অনুমোদন করেছে।
তিন পৌরসভায় মেয়র পদে মনোনয়ন পেলেন যারা : আসন্ন তিন পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীরা হলেনÑ বরগুনার আমতলী পৌরসভায় মতিয়ার রহমান, পটুয়াখালী সদর পৌরসভায় কাজী আলমগীর ও ঝিনাইদহের কালিগঞ্জ উপজেলায় মো. আশরাফুল আলম আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন।
এদিকে আসন্ন ২৯টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের একক প্রার্থীরা হলেনÑ দিনাজপুর জেলার বিরল উপজেলার আজিমপুর ইউনিয়নে মো. আবদুল আউয়াল, ফরক্কাবাদে মো. হুসেন আলী, বিরলে মো. মারুফ হোসেন, নীলফামারী উপজেলার ডোমার উপজেলার পাঙ্গা মটুকপুরে মো. এমদাদুল ইসলাম, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার নাচোল উপজেলার নাচোলে মো. আবদুস ছালাম, খুলনা জেলার পাইকগাছা উপজেলার লতায় দেবী রানী বিশ্বাস, সাতক্ষীরা জেলার কালিগঞ্জ উপজেলার কৃঞ্চনগরে মোস্তফা কবিরুজ্জামান, যশোর জেলার মনিরামপুর উপজেলার খেদাপাড়ায় মো. আবদুল আলীম, বরিশাল জেলার উজিরপুর উপজেলার জল্লায় বেবী রানী দাস, ভোলা জেলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার হাসান নগরে মো. মানিক হাওলাদার, পিরোজপুর জেলার ভা-ারিয়া উপজেলার তেলিখালীতে মো. শামসুদ্দীন, গাজীপুর জেলার কাপাসিয়া উপজেলার রায়েদে মো. শফিকুল হাকিম মোল্যা হিরণ, ফরিদুপুর জেলার নগরকান্দা উপজেলায় তালমায় দেলোয়ারা বেগম, ফরিদপুর সদরের চাঁদপুরে মোসা. শামসুন্নাহার, মধুখালী উপজেলার নওপাড়ায় মো. হাবিবুর রহমান মোল্লা, শরীয়তপুর জেলার ভেদরগঞ্জের কাচিকাটায় আবুল হাশেম, মাদারীপুর জেলার শিবচরের চরজানাজাতে জাহাঙ্গীর আলম রায়হান সরকার, নেত্রকোনা জেলার খালিয়াজুরী উপজেলার কৃঞ্চপুরে সৈয়দ মনিরুল ইসলাম, ময়মনসিংহ জেলার নান্দাইলের বীর বেতা গৈরে আবদুল মতিন, চর বেতা গৈরে মো. আবুল হোসেন, সুনামগঞ্জ জেলার ছাতকের সিংচাপইড়ে মো. আশিকুল ইসলাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুরের রূপসদীতে (পশ্চিম) মহসিন মিঞা, নারিনগরের গোকর্ণে ছোয়াব আহমেদ হূতুল, কুমিল্লা জেলার বরুড়ার গালিমপুরে মো. রবিউল আলম, নোয়াখালী জেলার সুবর্ণচরের মোহাম্মদপুরে মোহাম্মদ আবুল কালাম, চট্টগ্রাম জেলার ফটিকছড়ির নানুপুরে সৈয়দ ওসমান গণি বাবু, খিরামে মুহাম্মদ শহীদুল আলম এবং খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার মানিকছড়ি উপজেলার তিনটহরীতে মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ।
গত ২৬ জানুয়ারি সন্ধ্যায় গণভবনে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের পার্লামেন্টারি বোর্ড এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচন মনোনয়ন বোর্ডের যৌথসভায় সর্বসম্মতিক্রমে তাদের এই মনোনয়ন দেওয়া হয়।

শ্রেণী:

দক্ষ লিডারশিপের ম্যাজিকে দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ

2-6-2019 8-25-55 PM
2-6-2019 8-25-55 PM

এসডিজি কর্মশালায় কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক

উত্তরণ প্রতিবেদন: আমরা একটা দক্ষ লিডারশিপ পেয়েছি, যার ম্যাজিকে দেশ আজ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক এমপি। গত ২২ জানুয়ারি রাজধানীর বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল মিলনায়তনে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট এসডিজি রোড ম্যাপ প্রণয়ন শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ড. আবদুর রাজ্জাক বলেন, বাংলাদেশ খাদ্য স্বয়ংসম্পূর্ণ বলেই নেপালে ভূমিকম্পের সময় আমরা ২০ হাজার টন চাল সাহায্য করেছি।
তিনি আরও বলেন, মানুষ এখন না খেয়ে আর মারা যায় না। দরিদ্র মানুষগুলোও পেট ভরে দুবেলা খেতে পারে। উত্তরবঙ্গে আর মঙ্গা নেই। সেখানকার মানুষ অনাহারে আর দিনযাপন করে না। আমরা ২০৩০ সালের ভেতর খাদ্য উৎপাদন দ্বিগুণ করার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছি। কৃষিমন্ত্রী বলেন, আমরা ২০১৩ সালেই দানাদার খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েছি। এখন আমরা পুষ্টি জাতীয় খাদ্য উৎপাদনের দিকে বেশি মনোযোগ দিতে চাই। দেশের মানুষের পুষ্টি খাদ্যের সমস্যা রয়েছে। সবাইকে পুষ্টি খাদ্যর আওতায় নিয়ে আসতে সরকার কাজ করছে।
তিনি আরও বলেন, এসডিজির রোডম্যাপ লক্ষ পূরণ করতে সবচেয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। কারণ কৃষির মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি মানুষের কর্মসংস্থান হচ্ছে। পেটে যদি খাবার থাকে তাহলেও মানুষ তাদের সঠিক শ্রম দিয়ে দেশকে এগিয়ে নিতে পারবে। তাই খাদ্য উৎপাদন আরও বৃদ্ধি করতে হবে।
কৃষিমন্ত্রী বলেন, আমরা প্রচুর পুষ্টি জাতীয় খাদ্য উৎপাদন করি; কিন্তু তা বিদেশে রপ্তানি করতে পারি না এটা আমাদের একটা ব্যর্থতা। তাই আমাদের নিজেদের পুষ্টি জাতীয় খাদ্যর চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানি করতে হবে। এতে করে দেশের অর্থনীতি আরও এগিয়ে যাবে।
কৃষকরা খাদ্য উৎপাদনের প্রকৃত মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তাই কৃষকদের সাহায্য করতে সরকার প্রতিনিয়ত কাজ করছে।
তিনি আরও বলেন, আমরা ৪ কোটি ১৩ টন খাদ্য উৎপাদন করেছি, যা ২০৩০ সালে লক্ষ্যমাত্রা ৮ কোটি টন খাদ্য উৎপাদন করা। আমরা কৃষি, প্রাণিজ ও মৎস্যÑ এই তিন খাতেই ২০৩০ সালের ভেতর দ্বিগুণ উৎপাদন করতে দিন দিন নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করতে হবে। গবেষণার মাধ্যমে উৎপাদনের নতুন ফর্মুলা বের করতে হবে। কৃষিমন্ত্রী বলেন, বিদেশ থেকে আগে আমরা ১৪-১৫ ভাগ সাহায্য পেতাম; কিন্তু এখন ২-৪ ভাগ সাহায্য পাই। তাই নিজেদের স্বয়ংসম্পূর্ণতা আরও বাড়াতে হবে।
তিনি আরও বলেন, দারিদ্র্যতার সঙ্গে কৃষির একটা সম্পর্ক আছে। কৃষি যদি উন্নত হয় তাহলে দারিদ্র্যতাও হ্রাস পাবে। বর্তমানে দারিদ্র্যতার নিচে ২১ ভাগ মানুষ বাস করে। ২০৪১ সালে অতি দারিদ্র্যের হার শূন্যের কোটায় নামিয়ে নিয়ে আসা হবে। মূলত সরকারের সবার জন্য পুষ্টিকর খাদ্য নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
এসডিজি রোডম্যাপ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেনÑ কৃষিবিদ আবদুল মান্নান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক আবুল কালাম আজাদ, সদস্য (সিনিয়র সচিব) সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ, পরিকল্পনা কমিশনের ড. সামসুল আলম, কৃষি মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব নাসিরুজ্জাম এবং সম্মানীয় অতিথি ছিলেন ড. কাজী এম বদরুদ্দোজা, এমেরিটাস সায়েন্টিস।
কৃষিবিদ আবদুল রাজ্জাক বলেন, প্রধানমন্ত্রীর দক্ষতায় আজ সকল শাখাতে উন্নতের ছোঁয়া লেগেছে। কৃষি খাতও পিছিয়ে নেই। দেশ আজ খাদ্য পরিপূর্ণ। ২০৩০ সালের ভেতর খাদ্য উৎপাদন দ্বিগুণ হবে।
তিনি আরও বলেন, সবার সহযোগিতায় ২০৩০ সালের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে কাজ করতে হবে এবং কৃষি খাতে প্রচুর গবেষণার প্রয়োজন, তাই এই খাতে অতি জরুরিভাবে দক্ষ গবেষক নিয়োগ দেওয়া উচিত। মূল বাজেটের মাত্র পয়েন্ট ৬ শতাংশ গবেষণা খাতে ব্যয় করা হয়। গবেষণার বাজেট আরও বৃদ্ধি করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক আবুল কালাম আজাদ পাওয়ার পয়েন্টের মাধ্যমে সরকার এসডিজির রোডম্যাপ প্রদর্শন করেন।
সারাবিশ্বের মানুষের শান্তি, সমৃদ্ধি ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিতকরণে বাংলাদেশে ২০৩০ সালের ভেতর ১৭টি লক্ষ্য বাস্তবায়নে কাজ করছে সরকার।

শ্রেণী:

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও প্রাসঙ্গিক কথা

2-6-2019 8-24-44 PM

2-6-2019 8-24-44 PMঅ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর এক মাস পার হলো। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু-কন্যা দেশরতœ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে নতুন সরকার পূর্ণ উদ্যমে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা অক্ষুণœ রাখতে কাজ করে যাচ্ছে। নির্বাচনোত্তর দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে ভালো। মানুষ শান্তিতে আছে, স্বস্তিতে আছে, ভালো আছে।
চতুর্থবারের মতো সরকার পরিচালনার দায়িত্ব প্রাপ্তিতে শেখ হাসিনার রাষ্ট্রনায়কোচিত প্রজ্ঞা ও নেতৃত্বকে অভিনন্দিত করছে বিশ্ববাসী। অতীতের সন্ত্রাস নৈরাজ্যকে প্রত্যাখ্যান করে শান্তি ও গণতন্ত্রের অভিযাত্রায় দেশের মানুষ আজ ঐক্যবদ্ধ। মানুষের প্রত্যাশাÑ অযুত রক্তের বিনিময়ে পাওয়া এই ভূখ- শান্তি, উন্নয়ন ও গণতন্ত্রের ধারায় এগিয়ে যাক। সাম্প্রদায়িকতা, জঙ্গিবাদ যেন আমাদের পথ আগলে না দাঁড়ায়। একটা কল্যাণকামী রাষ্ট্র বিনির্মাণের স্বপ্নযাত্রা থেকে আমরা যেন আর পিছিয়ে না যাই। ষড়যন্ত্র, বিভাজনের অপরাজনীতির কারণে আমাদের অনেক মূল্য দিতে হয়েছে। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মতো মহান নেতাকে আমরা হারিয়েছি। হত্যা, খুন, সন্ত্রাসের ধারাবাহিকতায়Ñ স্বাধীন দেশে জীবন দিতে হয়েছে অনেক মুক্তিযোদ্ধাদের। ক্ষমতাকে সম্পদ অর্জনের হাতিয়ার করে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় তৈরি করা হয়েছে এক লুটেরা গোষ্ঠীর। একরকম এক অন্ধকার সময় পার করে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাঙালি জাতি আলোকোজ্জ্বল এক ভবিষ্যতের দিকে পা বাড়িয়েছে। শেখ হাসিনা সরকারের দৃশ্যমান ভালো কাজের প্রশংসা আজ মানুষের মুখে মুখে। দেশের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আস্থাশীল। কিন্তু একটি গোষ্ঠীর মুখে কুলুপ আঁটা। সরকারের উন্নয়নের সকল সুফল ভোগ করার পরও ভাবটা এমন যেন কিছুই হয়নি। এই নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টাতে হবে। দেশ-জাতির মঙ্গলে মৌলিক বিষয়ে ঐকমত্য থাকতে হবে। যে মূল আদর্শের ওপর দাঁড়িয়ে আমরা স্বাধীন জাতিরাষ্ট্র গঠনের স্বপ্ন দেখেছিলাম সে-পথেই আমাদের ফিরে আসতে হবে। দীর্ঘ চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে বাংলাদেশ এখন শেখ হাসিনার হাত ধরে সেই পথেই হাঁটছে। স্বাধীনতার পর প্রায় পাঁচ দশক অতিক্রান্ত হয়েছে। এ-সময়ে পৃথিবীর অনেক দেশ অনেক দূর এগিয়েছে, উন্নত হয়েছে। আমরা পারিনি। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর জাতি নেতৃত্বশূন্য হয়ে পড়ে। সেনাশাসনে বাংলাদেশ নিপতিত হয়। তারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধ্বংস করে, বঙ্গবন্ধুর সৃষ্টিশীল উন্নয়ন-অগ্রযাত্রাকে স্তব্ধ করে দেয়। দীর্ঘ ২১ বছর হত্যা, ক্যু, পাল্টা ক্যু, খুন, ধর্ষণ, সন্ত্রাস, লুটপাটের এক দুষ্টচক্রে ঘুরপাক খাচ্ছিল বাংলাদেশ। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ১৯৯৬ সালে দীর্ঘ ২১ বছর পর দেশ পরিচালনার সুযোগ পায় আওয়ামী লীগ। সাম্প্রদায়িক স্বৈরতান্ত্রিক ধারার অবসান ঘটে। রাষ্ট্র ও সমাজ-জীবনে প্রতিষ্ঠিত হয় মুক্তিযুদ্ধের চেতনা। বিশ্বসভায় বাংলাদেশ মাথা উঁচু করে দাঁড়ায়। এই সময়কাল বাংলাদেশের ইতিহাসে স্বর্ণযুগ হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। ২০০১ সালে ষড়যন্ত্রমূলক ভোট ডাকাতির নির্বাচনে বিএনপি-জামাত ক্ষমতা দখল করে। জেনারেল জিয়া সৃষ্ট স্বৈরতান্ত্রিক ধারায় ফিরে যায় বিএনপি-জামাত জোট। ক্ষমতার প্যারালাল কেন্দ্র হাওয়া ভবনের নির্দেশে চলতে থাকে দমন-নিপীড়ন, সন্ত্রাস ও লুটপাট। জঙ্গিবাদ ও সাম্প্রদায়িক রাজনীতিকে উসকে দেওয়া হয়। একযোগে ৬৩ জেলার ৫০০ স্থানে বোমা হামলা চালানো হয়। জননেত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা হয়। রাষ্ট্রীয় মদদে প্রতিহিংসার রাজনীতির নিষ্ঠুরতার সাক্ষী এই বাংলাদেশ। এই অপকর্মের হোতা বিএনপি-জামাত। এই জোটের অপরাজনীতির কারণে ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি পটপরিবর্তন হয়। বিএনপি-জামাতের পাঁচ বছরে স্বৈরশাসন ও সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিরাজনীতিকরণের হীন প্রচেষ্টাকে প্রতিহত করে ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে। এ-সময় দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করে, ক্ষুধা-দারিদ্র্যের অবসান, মাথাপিছু আয়, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে দেশের অভাবনীয় সাফল্যে অর্জিত হয়। ২০১৪ সালের নির্বাচন পূর্ব ও পরবর্তী সময়ে জনসম্পৃক্ততাহীন বিএনপি-জামাতের আগুন সন্ত্রাস প্রতিহত করে গণতান্ত্রিক ধারায় দেশ এগিয়ে যায়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ধৈর্য, সাহস, প্রজ্ঞায় উন্নয়নের ধারায় দেশ পরিচালিত হয়। বিশ্বসমাজে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে ঘুরে দাঁড়ায় বাংলাদেশ।
বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ আর্থিক প্রতিষ্ঠান এইচএসবিসি’র (হংকং সাংহাই ব্যাংকিং কর্পোরেশন) বার্ষিক রিপোর্টে বলা হয়েছেÑ বাংলাদেশ বিশ্বের ২৬তম বৃহৎ অর্থনীতির দেশে পরিণত হতে যাচ্ছে। একইসঙ্গে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক উন্নয়নের দিক থেকে ফিলিপাইন, পাকিস্তান, ভিয়েতনাম ও মালয়েশিয়াকে পেছনে ফেলে দেবে।
এছাড়া ‘বিশ্ব অর্থনীতির অবস্থা ও সম্ভাবনা-২০১৯’ নামে জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনের পূর্বাভাস রয়েছে যে, চলতি বছর বিশ্বের যেসব দেশে ৭ শতাংশ বা এর বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জিত হবে তার মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে লেখা শুরু করেছিলাম। গত তিন মেয়াদের আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়নের ফিরিস্তি স্বল্প পরিসরে দেওয়া সম্ভব নয়। এবার মূল প্রসঙ্গে আসি। আওয়ামী লীগ সরকারের কোনো ভালো কাজই বিএনপি-জামাতের সহ্য হয় না। বক্তৃতা-বিবৃতি-টকশো’তে তারা নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করছে। বিএনপি-জামাত ঐক্যফ্রন্টের যতই মন কষ্ট হোক না কেন, এবারের নির্বাচনে যুদ্ধাপরাধী সাম্প্রদায়িক শক্তির বিদায় ঘণ্টা বেজেছে। উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রয়েছে। অসাংবিধানিক পন্থায় ক্ষমতায় যাওয়ার পথ রুদ্ধ হয়েছে।
তবে সুখের বিষয় অতীতের মতো বিএনপি-জামাতের সাথে কোরাস তোলার লোকের সংখ্যা দেশে কমে যাচ্ছে। অসাংবিধানিক পন্থায় ক্ষমতায় যাওয়ার ছিদ্রপথ বন্ধ হওয়াতে অনেকেই হতোদ্যম হয়েছে। সামরিক শাসন ও অগণতান্ত্রিক শক্তির উচ্ছিষ্ট ভোগকারীরা এখন বিএনপি-জামাতের কাঁধে সওয়ার হয়েছে। যদি কিছু পাওয়া যায় এই আশায়। দেশের স্বার্থ তাদের কাছে বড় না।
শেখ হাসিনার সরকার পরিচালনার নীতি-কৌশল নিয়ে কঠিন নিন্দুকরাও খুব একটা খুঁত ধরতে পারছে না। তাদের একটাই কথা ‘নির্বাচনটা ভালো হয়নি’। তাহলে তাদের কাছে নিশ্চয়ই ভালো নির্বাচনের একটা সংজ্ঞা আছে, উদাহরণ আছে। দেশবাসী কি ১৯৭৭ সালের হ্যাঁ-না ভোটকে ভালো নির্বাচন বলবে। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি বিনা ভোটের নির্বাচনকে কোন সংজ্ঞায় সংজ্ঞায়িত করবেন। এছাড়া হোন্ডা-গু-ার মহড়ায় ‘মাগুরা মার্কা’ নির্বাচন তো আছেই। এখন যারা ভালো নির্বাচনের কথা বলতে বলতে মুখে ফেনা তুলে ফেলছেন, তারা তো ভুলেও ২০০১-এর ভোট ডাকাতির নির্বাচনের কথা মুখে আনেন না।
১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছর মেয়াদ শেষ করে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করেছিল আওয়ামী লীগ। দেশবাসী নিশ্চয়ই ভুলে যায়নি কীভাবে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের প্রথম দিনেই ১৩ জন সচিবকে চাকরি থেকে বের করে দিয়ে নির্বাচনকে প্রভাবিত করার জন্য মাঠ প্রস্তুত করা হয়েছিল। কোনো রকম সৌজন্যবোধের তোয়াক্কা না করে সদ্য বিদায়ী প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনের ফোনের লাইন ও বিদ্যুতের লাইন কেটে দেওয়া হয়েছিল। ভোটের দিন আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা ভোটকেন্দ্রের কাছে যেতে পারেনি। পূর্বনির্ধারিত পরিকল্পনামাফিক বিএনপি-জামাত ক্ষমতায় আসে। এরপর শুরু হয় তা-ব, গ্যাং রেপ। হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করা হয়। এখন যারা বিবেকের তাড়নায় ঘুমোতে পারছেন না। তাদের বিবেক তখন কোথায় ছিল? বিবেকবানদের দৃষ্টিতে ২০০১ সালের নির্বাচন যদি ভালো নির্বাচন হয়। তাহলে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে তাদের বক্তব্যকে দেশবাসী কীভাবে নেবে? এই নির্বাচনের আগে-পরে প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিদের চাকরিচ্যুতি ঘটেনি। রাজপথ রক্তাক্ত হয়নি। অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে নির্বাচনের পূর্ব ও পরে সংঘাতমুক্ত শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিরাজ করছে। চাকরিজীবীরা সন্তুষ্টমনে চাকরি করছেন। ব্যবসায়ীরা হাওয়া ভবনের উৎপাতমুক্ত পরিবেশে ব্যবসা করছে। ২০১১ সালে কানাডা সফরের সময় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ‘ভালোর পসরা’ নামে একটা প্রবন্ধ লিখেছিলেন। লেখাটা এ-সময়ের জন্যও খুব প্রাসঙ্গিক। শেখ হাসিনা যত ভালো কাজই করুক না কেন, তাতে তাদের মন ভরে না। নির্বাচন ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার জন্য ছবিযুক্ত ভোটার তালিকা, স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সসহ যত বিধিবিধান করা হয়েছে, সবই করেছে আওয়ামী লীগ সরকার। অথচ সামরিক সরকার বা তার উচ্ছিষ্ট ভোগকারীরা যখন ক্ষমতায় ছিল তখন নির্বাচন ব্যবস্থাকে সমূলে ধ্বংস করেছিল, এখন আবার তারাই নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য ‘ভালোর পসরা’ নিয়ে হাজির হয়েছে। এই ভালোর দল নিয়ে জননেত্রী শেখ হাসিনার কয়েকটা লাইন দিয়েই লেখার ইতি টানছি।Ñ

“…অগণতান্ত্রিক বা অসাংবিধানিক সরকার থাকলে এদের দাম থাকে। এই শ্রেণিটা জীবনে জনগণের মুখোমুখি হতে পারে না। ভোটে জিততে পারে না। কিন্তু ক্ষমতার লোভ ছাড়তে পারে না। তাই মুখে গণতন্ত্রের কথা বলে কিন্তু অগণতান্ত্রিক বা অসাংবিধানিক সরকারের যে খোশামোদি, তোষামোদি ও চাটুকারের দলের যে প্রয়োজন হয়Ñ এরা সেই দল।”

লেখক : তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ

শ্রেণী:

বাঙালির জয় কবিতার জয়

2-6-2019 8-13-23 PM
2-6-2019 8-13-23 PM

জাতীয় কবিতা উৎসব ২০১৯

উত্তরণ প্রতিবেদন :
কবিতা মানেই জীবনের ধারাভাষ্য। কবির বাণীতেই উদ্ভাসিত হয় সুদূর অতীত থেকে সমকাল। কবিতার আশ্রয়েই কবিরা লড়ে যান অমানবিকতার বিরুদ্ধে। চারপাশে যখন ছায়া নামে শঙ্কার তখন কাব্যবীজের স্ফুরণে জেগে ওঠেন আলোর পথযাত্রীরা। এভাবেই সত্য ও সত্তাকে একসঙ্গে প্রকাশ করেন কবি, সৃষ্টি হয় কবিতা। শব্দের পিঠে শব্দের সংযোজনে উচ্চারিত হয় অন্তর্নিহিত বিষয়। সেই শব্দমালায় থাকে দ্রোহ, প্রেম ও সময়ের দিনলিপি। সময়ের ওই দিনপঞ্জিকেই বেছে নিল জাতীয় কবিতা উৎসব। অশুভ শক্তিকে পরাজিত করার বারতায় উচ্চকিত হলো বাঙালির বিজয়গাথা। শিল্পিত উচ্চারণে ব্যক্ত হলো কাক্সিক্ষত স্বদেশের স্বপ্নগাথা, আগামীর সমৃদ্ধ বাংলাদেশের কথা। দিনভর দেশ-বিদেশের কবিদের কবিতা পাঠে মুখরিত হলো উৎসব। ‘বাঙালির জয় কবিতার জয়’ সেøাগানে গত ১ ও ২ ফেব্রুয়ারি থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হাকিম চত্বরে অনুষ্ঠিত হয় ৩৩তম এই উৎসব।
হাকিম চত্বর নামে পরিচিত ঢাবির কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার প্রাঙ্গণে ১ ফেব্রুয়ারি শীতের রোদেলা সকালে বাঙালির বিজয়ের প্রতিধ্বনিত জাতীয় কবিতা পরিষদ আয়োজিত দুদিনব্যাপী উৎসব। এবার এই উৎসব উৎসর্গ করা হয়েছে ঊনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ আসাদ, ডা. শামসুজ্জোহা, সার্জেন্ট জহুরুল হক ও মতিউর রহমানকে। সারাদেশের কবিদের সঙ্গে ৩৩তম এই উৎসবে অংশ নিচ্ছেন ভিন দেশের ২০ কবি। ৩৩তম উৎসব উদ্বোধন করেন প্রখ্যাত কবি আসাদ চৌধুরী। উদ্বোধনী দিনেই হয়েছে কবিতা পাঠ, আবৃত্তি পরিবেশনা ও মুক্ত আলোচনায় সাজানো ৬টি অধিবেশন। পারস্পরিক ভাববিনিময়ের পাশাপাশি দিনব্যাপী বিভিন্ন পর্বে কবিরা পাঠ করেছেন কবিতা। আমন্ত্রিত কবিদের সঙ্গে নিবন্ধনের মাধ্যমে স্বরচিত কবিতা পাঠে অংশ নিয়েছেন দেশের নানা প্রান্তের কবিরা। ছিল অন্য ভাষার কবিতা পাঠ ও খ্যাতিমান বাকশিল্পীদের অংশগ্রহণে আবৃত্তি পর্ব। সকাল থেকে রাত অবধি খ্যাতিমান কবিসহ নানা বয়সী কবিতাপ্রেমীদের বিপুল উপস্থিতিতে সরব ছিল উৎসব আঙিনা। ৩০০ নিবন্ধিত কবির মধ্যে প্রথম দিনেই কবিতা পড়েছেন দু-শতাধিক।
জাতীয় কবিতা উৎসব উদ্বোধন করেন গীতিময় কবিতার কবি আসাদ চৌধুরী। পরিষদ সভাপতি মুহাম্মদ সামাদের সভাপতিত্বে উৎসবের ঘোষণাপত্র পাঠ করেন রুবী রহমান। সাধারণ সম্পাদকের বক্তব্য দেন তারিক সুজাত। বিগত বছরের প্রয়াত শিল্পী-সাহিত্যিকদের স্মরণে শোক প্রস্তাব পাঠ করেন আমিনুর রহমান সুলতান। শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করা হয় কবি বেলাল চৌধুরী, চলচ্চিত্রকার আমজাদ হোসেন, মুস্তাফা নূর-উল ইসলাম, ভাস্কর ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণী, আলোকচিত্রী ও চিত্রগ্রাহক আনোয়ার হোসেন, ব্যান্ডসংগীত শিল্পী আইয়ুব বাচ্চুসহ প্রয়াত গুণীজনদের। এর আগে বেলা ১০টা থেকে শুরু হয় কার্যক্রম। শীতের রোদমাখা সকালে কবিরা পদব্রজে এগিয়ে যান জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম, শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন, পটুয়া কামরুল হাসানের সমাধি প্রাঙ্গণে। সেখানে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বায়ান্নর ভাষা শহিদদের প্রতি নিবেদন করেন সশ্রদ্ধ ভালোবাসা। এরপর হাকিম চত্বরে এসে সবাই মিলে পরিবেশন করেন ‘আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি’। সেই সুরে তাল মিলিয়ে উত্তোলিত হয় জাতীয় পতাকা ও পরিষদের পতাকা। মঞ্চ থেকে বিভিন্ন সংগঠনের শিল্পীরা গেয়ে শোনান একুশের গান ও উৎসব সংগীত ‘হাজার বছরের চর্যার পরি/বাঙালির জয় কবিতার জয়’।
সভাপতির বক্তব্যে মুহাম্মদ সামাদ আগামী বছর থেকে ১ ফেব্রুয়ারিকে সরকারি পর্যায়ে জাতীয় কবিতা দিবস হিসেবে ঘোষণার আহ্বান জানান। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে বাঙালির বিজয়ের বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, বাঙালির মাটিতে বঙ্গবন্ধু হত্যার, জেলহত্যার এবং একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করে জাতি কলঙ্কমুক্ত হয়েছে। বাংলাদেশ অনুন্নত দেশ থেকে উঠে এসেছে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে। ২০১৮-এর ডিসেম্বরে আসে আরেক যুদ্ধÑ নির্বাচনের যুদ্ধ। এ যুদ্ধে অবতীর্ণ হতে ভয় পেয়ে স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তি ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয় দেশ-বিদেশের মাটিতে। বিজয়ের মাস ডিসেম্বরে বঙ্গবন্ধু-কন্যার আহ্বানে দেশের কবি-শিল্পী-কৃষক-শ্রমিক-ছাত্র-শিক্ষক-নারীকর্মী-অভিনয়শিল্পী, সংস্কৃতিকর্মীসহ সর্বস্তরের মানুষ লাখো শহিদের রক্তে রঞ্জিত স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ঐক্যবদ্ধ হয়। তারা ছিনিয়ে আনে বিজয়। জাতির দীর্ঘ পথপরিক্রমায় এ এক নতুন বিজয় বাঙালির, নতুন বিজয় কবি ও কবিতার। বাংলাদেশে আর কোনোদিন যেন মুজিববিরোধী, মুক্তিযুদ্ধবিরোধী অন্ধকারের শক্তি মাথা তুলতে না পারেÑ এখন আমাদের সেই প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হওয়ার সময় এসেছে। এ কারণেই ৩৩তম জাতীয় কবিতা উৎসবের বারতা ‘বাঙালির জয়, কবিতার জয়’।
সাধারণ সম্পাদকের বক্তব্যে তারিক সুজাত বলেন, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট, জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক্সটারনাল পাবলিসিটি উইংয়ের কার্যক্রম আরও গতিশীল করা দরকার। একজন কবি-লেখকের প্রধান দায়িত্ব তার সৃজনশীল ক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা। আর সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব সেই সৃষ্টিকর্ম নিজ দেশ ও বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দেওয়া। আজ পর্যন্ত আমাদের দেশের লেখকদের সেরা সাহিত্যকর্ম নিয়ে কোনো রাইট ক্যাটালগ তৈরি করে কোনো আন্তর্জাতিক বইমেলায় নিয়ে যাওয়া হয়নি। প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, তাহলে মাতৃভাষার জন্য প্রাণ বিসর্জন দেওয়া জাতির সাহিত্যকর্মের বিশ্বের সংযোগ ঘটানোর দায়িত্ব কে নেবে? প্রগতির পক্ষে কবিদের চিরকালীন অবস্থানটি তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলাদেশের কবিরা চিরকালই অবস্থান নিয়েছে প্রগতিশীলতার পক্ষে। আপসের চোরাবালিতে হারিয়ে যাওয়ার কোনো নজির আমাদের নেই। তাই তিন দশকের বেশি সময় কবিরা এই উৎসবে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে মানুষের মুক্তির কথা বলেছেন। উৎসবে অংশ নেওয়া বিদেশি কবিরা স্ব-স্ব ভাষায় অনুবাদ করেছেন বাংলাদেশের কবিদের কবিতা। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের কবিতার পরিধি বিস্তৃত হয়েছে বিশ্বময়।
উদ্বোধনী দিনের মুক্ত আলোচনা ও কবিতা পাঠ পর্বে অংশ নেন ভারতের বিভিন্ন রাজ্য থেকে আসা কবি জ্যোতির্ময় দত্ত, মিনাক্ষী দত্ত, সেমন্তী ঘোষ, সুমন গুণ, দিলীপ দাস, মৃণাল দেবনাথ, বিমলেন্দ্র চক্রবর্তী, শোভা দেববর্মণ, দীপক হালদার ও বিধানান্দ পুরকায়স্ত। কবিতা পাঠে অংশ নেন তুরস্কের কবি তারিক গুনারসেল, যুক্তরাজ্যের কবি ক্লারি বুকার, চীনের তানজিয়ান কাই, শ্রীলংকার জয়শঙ্কর সুব্রমনিয়াম, ইরাকের আলী আল সালাহ, মালয়েশিয়ার মালিম ঘোজালি, স্পেনের জুলিও পাভানেত্তি, উরুগুয়ের অ্যানাবেল ভিলার, কঙ্গোর কামা কামান্দা ও নেপালের পুষ্প কাহনাল।
উৎসবে স্প্যানিশ কবিতা পড়েন কামা কামান্দা। একই ভাষায় নারীদের উৎসর্গ করে কবিতা পড়েন কবি অ্যানাবেল ভিলার।
১ ফেব্রুয়ারি প্রথম দিন রাত ৯টা পর্যন্ত চলে মুক্ত আলোচনা ও কবিতা পাঠে সজ্জিত উৎসব। বেলা ১টায় শুরু হয় নিবন্ধনের মাধ্যমে কবিতা পাঠের প্রথম পর্ব। দেশের নানা প্রান্ত থেকে সমাগত নবীন-প্রবীণ কবিরা মেলে ধরেন স্বরচিত কবিতাসম্ভার। এ পর্বের সভাপতিত্ব করেন বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারজয়ী কবি কাজী রোজী। এ পর্বের অন্য ভাষার কবিতা নিয়ে মঞ্চে আসেন কবিরা। পাঠ করেন চাকমা, মনিপুরী, পাংখোয়া কিংবা রাখাইন ভাষার কবিতা। এ অধিবেশনের সভাপতিত্ব করেন দিলারা হাফিজ। শুধু আমন্ত্রিত কবিদের নিয়ে অনুষ্ঠিত কবিতা পাঠের তৃতীয় পর্বের সভাপতিত্ব করেন জাতিসত্তার কবিখ্যাত মুহম্মদ নুরুল হুদা। প্রথম দিনের কবিতা পাঠের চতুর্থ অধিবেশনের সভাপতিত্ব করেন মহাদেব সাহা। রাত ৮টায় শুরু হওয়া আবৃত্তি পর্বের মাধ্যমে শেষ হয় প্রথম দিনের আয়োজন। কবিতাপ্রেমীদের কাছে অন্যতম আকর্ষণীয় হয়ে ধরা দেয় আমন্ত্রিত আবৃত্তি শিল্পীদের অংশগ্রহণের এই পর্ব। দেশের খ্যাতনামা বাচিকশিল্পীদের কণ্ঠস্বরে উঠে আসে দেশ-বিদেশের বরেণ্য কবিদের কবিতা। সাবেক সংস্কৃতিমন্ত্রী, নন্দিত অভিনেতা ও আবৃত্তিশিল্পী আসাদুজ্জামান নূরের সভাপতিত্বে হয় প্রথম দিনের সমাপনী অধিবেশনটি।
উৎসবের দ্বিতীয় দিনের সকাল শুরু হয় সেমিনারের মাধ্যমে। কাব্যনাটক বিষয়ে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সাজেদুল আউয়াল। এ অধিবেশনের সভাপতিত্ব করেন বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর। বেলা সাড়ে ১২টায় অনুষ্ঠিত হয় উৎসবের দ্বিতীয় সেমিনার। বাঙালির জয় বাংলা কবিতার জয় বিষয়ক প্রবন্ধ পাঠ করবেন কাজল বন্দ্যোপাধ্যায়। সভাপতিত্ব করেন ড. নূহ-উল-আলম লেনিন। বেলা আড়াইটায় নিবন্ধিত কবিদের অংশগ্রহণে কবিতা পাঠের পঞ্চম পর্বে সভাপতিত্ব করেন কবি কাজী রোজী। নিবন্ধিত কবিদের কবিতা পাঠের ষষ্ঠ পর্বে সভাপতিত্ব করেন আনোয়ারা সৈয়দ হক। ছড়াকার আসলাম সানীর সভাপতিত্বে আমন্ত্রিত ছড়াকারদের নিয়ে ছড়া পাঠের সপ্তম পর্ব অনুষ্ঠিত হয় বিকাল সাড়ে ৪টায়। বিকাল সাড়ে ৫টায় ২০১৮ সালের জাতীয় কবিতা পুরস্কারটি তুলে দেওয়া হয় কবি হাবীবুল্লাহ সিরাজীর হাতে। সন্ধ্যায় শিহাব সরকারের সভাপতিত্বে কবিতা পাঠের অষ্টম পর্বে অংশ নেন অতিথি কবিরা। আমন্ত্রিত কবিদের অংশগ্রহণে কবিতা পাঠের নবম পর্বে সভাপতিত্ব করেন কবি নির্মলেন্দু গুণ। সমাপনী দিনের শেষ আকর্ষণ হিসেবে থাকবে কবিতার গান। সুরের পথ ধরে কবিতা থেকে নির্মিত হয়েছে অনেক গান। সেসব গান শোনাবেন দেশের প্রখ্যাত কণ্ঠশিল্পীরা। এ পর্বে সভাপতিত্ব করবেন নাট্যজন রামেন্দু মজুমদার।

শ্রেণী: