দশকের সেরা চিন্তাবিদের তালিকায় শেখ হাসিনা

2-6-2019 8-35-14 PM
2-6-2019 8-35-14 PM

“এর আগে ২০১৫ সালেও ফরেন পলিসির তৈরি করা বছরের ‘শত চিন্তাবিদের’ তালিকায় ছিলেন শেখ হাসিনা। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব নিয়ে সচেতনতা তৈরিতে ভূমিকার জন্য তালিকায় ‘ডিসিশন মেকার্স’ ক্যাটাগরিতে বিশ্বের শীর্ষ ১৩ বুদ্ধিজীবীর মধ্যে রাখা হয়েছিল বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে।”

উত্তরণ ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের সাময়িকী ফরেন পলিসি দশকের ‘সেরা ১০০ চিন্তাবিদের’ তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মিয়ানমারে রাষ্ট্রীয় বাহিনীর নিপীড়নের মুখে পালিয়ে আসা ৭ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে প্রশংসিত শেখ হাসিনাকে ‘প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা’ বিভাগে সেরা ১০ চিন্তাবিদের তালিকায় রেখেছে ফরেন পলিসি।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী সম্পর্কে ফরেন পলিসি বলেছে, নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি মোকাবেলা করেছেন শেখ হাসিনা। এক্ষেত্রে যে উদারতা তিনি দেখিয়েছেন, তা সব সময় তিনি নিজের দেশের বিরোধীদের প্রতি দেখান না।
ফরেন পলিসি প্রতি বছর ‘১০০ লিডিং গ্লোবাল থিংকার্স’ শিরোনামে তালিকা প্রকাশ করে। ওই তালিকা প্রণয়নের দশক পূর্তি উপলক্ষে এবার ১০টি বিভাগে ১০ জন করে দশকের ‘সেরা শত চিন্তাবিদদের’ তালিকা করেছে তারা। ‘স্ট্রংম্যান’ ক্যাটাগরিতে জার্মান চ্যান্সেলর এঙ্গেলা মার্কেল, যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা, চীনের ব্যবসায়ী গ্রুপ আলিবাবার চেয়ারম্যান জ্যাক মা, বিশ্বব্যাপী সাড়া জাগানো মি টু আন্দোলনের নারীরা, আইএমএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টিনে লগার্দ, ইউরোপিয়ান কমিশনার ফর কম্পিটিশন মার্গারেটে ভেস্টারজার, পররাষ্ট্রনীতি বিশ্লেষক ও টিভি উপস্থাপক ফরিদ জাকারিয়া, বিল ও মেলিন্ডা গেটস ও অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোসকে রেখেছে ফরেন পলিসি।
‘ডিফেন্স অ্যান্ড সিকিউরিটি’ ক্যাটাগরিতে শেখ হাসিনার সঙ্গে আছেন ইরানের কুদস ফোর্সের কমান্ডার কাশেম সুলেইমানি, জার্মানির প্রতিরক্ষামন্ত্রী উরসুলা ফন ডার লেয়েন, মেক্সিকোর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ওলগা সানচেজ করডেরো, ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ, স্পেসএক্স-এর প্রেসিডেন্ট ও প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা গিনে শটওয়েল, প্যালানটিয়ারের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অ্যালেক্স কার্প, বেলিংক্যাট-এর প্রতিষ্ঠাতা সাংবাদিক এলিয়ট হিগিনস, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনের সহযোগী ভøাদিসøাভ সুরকভ এবং ইন্দোনেশিয়ার সমুদ্র ও মৎস্যবিষয়ক মন্ত্রী সুশি পুদজিয়াৎসু। প্রয়াত সেরা ১০ চিন্তাবিদের তালিকায় জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনান, নোবেলজয়ী লেখক ভি এস নাইপল, বিশ্বখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং, মার্কিন সিনেটর জন ম্যাককেইনকে রেখেছে ফরেন পলিসি।
এর আগে ২০১৫ সালেও ফরেন পলিসির তৈরি করা বছরের ‘শত চিন্তাবিদের’ তালিকায় ছিলেন শেখ হাসিনা। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব নিয়ে সচেতনতা তৈরিতে ভূমিকার জন্য তালিকায় ‘ডিসিশন মেকার্স’ ক্যাটাগরিতে বিশ্বের শীর্ষ ১৩ বুদ্ধিজীবীর মধ্যে রাখা হয়েছিল বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে।

শ্রেণী:

‘দেশকে আমরা আরও উন্নত করতে চাই’

2-6-2019 8-06-07 PM
2-6-2019 8-06-07 PM

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ

উত্তরণ প্রতিবেদন:

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
প্রিয় দেশবাসী।
আসসালামু আলাইকুম।
আপনাদের সবাইকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।

গত ৩০-এ ডিসেম্বর ২০১৮ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এই নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটকে বিপুলভাবে বিজয়ী করার জন্য আমি আপনাদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি। একইসঙ্গে আমি মহান রাব্বুল আলামিনের দরবারে শোকরিয়া আদায় করছি।
যারা নৌকায় ভোট দিয়ে আমাদের বিজয়ী করেছেন আমি তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ। যারা আমাদের ভোট দেননি, আমি তাদেরও ধন্যবাদ জানাচ্ছি নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য। নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী সকল দল ও জোট এবং প্রার্থীকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সকল নেতা-কর্মী, সমর্থক ও শুভানুধ্যায়ীকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। সকলের অক্লান্ত পরিশ্রম এবং সহযোগিতায় আমরা এ বিশাল বিজয় অর্জন করতে সক্ষম হয়েছি।
সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন সম্পন্ন করার জন্য আমি দেশবাসী, নির্বাচন কমিশন, নির্বাচনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সশস্ত্র বাহিনীর সকল সদস্যের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।
আমি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। স্মরণ করছি জাতীয় চার-নেতা এবং মুক্তিযুদ্ধের ৩০ লাখ শহিদ এবং ২ লাখ নির্যাতিত মা-বোনকে। মুক্তিযোদ্ধাদের আমি সালাম জানাচ্ছি।
আমি গভীর বেদনার সঙ্গে স্মরণ করছি ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্টের ঘৃণ্য হত্যাকা-ের শিকার আমার মা বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিব, আমার তিন ভাইÑ মুক্তিযোদ্ধা ক্যাপ্টেন শেখ কামাল, মুক্তিযোদ্ধা লেফটেন্যান্ট শেখ জামাল ও দশ বছরের শেখ রাসেলÑ কামাল ও জামালের নবপরিণীতা স্ত্রী সুলতানা কামাল ও রোজী জামাল, আমার চাচা মুক্তিযোদ্ধা শেখ নাসের, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সামরিক সচিব ব্রিগেডিয়ার জামিল এবং পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের এএসআই সিদ্দিকুর রহমান-সহ সেই রাতের সকল শহিদকে।
এ উপমহাদেশের অন্যতম প্রাচীন রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী, প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক শামসুল হক ও গণতন্ত্রের মানসপুত্র হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাচ্ছি।
বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষার জন্য যারা অকাতরে জীবন দিয়েছেন সেই ভাষা শহিদদের প্রতি আমি গভীর শ্রদ্ধা জানাচ্ছি।
স্মরণ করছি, ২০০৪ সালের ২১-এ আগস্টের গ্রেনেড হামলায় নিহত আওয়ামী লীগ নেত্রী আইভি রহমানসহ ২২ নেতা-কর্মীকে। স্মরণ করছি ২০০১ সালের পর নির্মম হত্যাকা-ের শিকার সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়া, আওয়ামী লীগ নেতা আহসানউল্লাহ মাস্টার, মঞ্জুরুল ইমাম, মমতাজউদ্দিন-সহ ২১ হাজার নেতাকর্মীকে।
২০১৩ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত বিএনপি-জামাত জোটের অগ্নিসন্ত্রাস এবং পেট্রল বোমা হামলায় যারা নিহত হয়েছেন আমি তাদের স্মরণ করছি। আহত ও স্বজনহারা পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে বিএনপি-জামাতের সন্ত্রাসীদের হামলায় ২৪ জন নেতাকর্মী নিহত হয়েছেন। তাদের রুহের মাগফিরাত কামনা করছি। শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দুবারের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং জনপ্রশাসনমন্ত্রী, সদ্য সমাপ্ত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে বিজয়ী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম-সহ দশম সংসদের যেসব সদস্য ইন্তেকাল করেছেন, আমি তাদের রুহের মাগফিরাত কামনা করছি।

প্রিয় দেশবাসী,
এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিপুল বিজয় ছিল খুবই প্রত্যাশিত। নির্বাচনের আগে দেশি-বিদেশি জরিপগুলোও এ-রকমই ফলাফলের ইঙ্গিত দিয়েছিল। লন্ডনভিত্তিক ইকোনমিক ইনটেলিজেন্স ইউনিট এবং রিসার্স অ্যান্ড ডেভলপমেন্ট সেন্টারের জরিপের ফল আপনারা লক্ষ্য করেছেন। আমাদের এই ল্যান্ড-সøাইড বিজয়ের কয়েকটি কারণ আমি আপনাদের সামনে তুলে ধরতে চাই।
হ    বিগত ১০ বছরে দেশে যে উন্নয়ন হয়েছে, সাধারণ মানুষ তার সুফল পেয়েছেন।
হ    ১০ বছর আগে যে বালক/বালিকাটি হারিকেন বা কুপির আলোয় পড়ালেখা করত, গ্রামে পাকা রাস্তা দেখেনি, তরুণ বয়সে সে এখন বৈদ্যুতিক বাতির আলোয় পড়াশোনা করছে, মোটরযানে যাতায়াত করছে।
হ    যে বয়স্ক পুরুষ-নারী পরিবারে ছিল অবহেলিত-অপাঙ্ক্তেয়, বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা তাকে সংসারে সম্মানের জায়গায় নিয়ে গেছে।
হ    গ্রাম বাংলার খুব কম পরিবারই আছে, যে পরিবার সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর উপকারভোগী নয়। কোনো-না-কোনোভাবে প্রতিটি পরিবার উপকৃত হচ্ছেন।
হ    কৃষি শ্রমিক, নির্মাণ শ্রমিক, ভ্যান বা রিকশাচালকসহ নিম্নবিত্তের মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন ঘটেছে। ১০ বছর পূর্বে একজন কৃষি শ্রমিক তার দৈনিক মজুরি দিয়ে বড় জোর ৩ কেজি চাল কিনতে পারতেন। এখন তিনি ১০ কেজি চাল কিনতে পারেন।
হ    সরকারি চাকরিজীবীগণের বেতন ভাতা বিগত ১০ বছরে আড়াই থেকে ৩ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
হ    সরকারি ও বেসরকারি খাতের শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন ভাতাও সমহারে বেড়েছে। যেমনÑ পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম বেতন ১ হাজার ৬০০ টাকা থেকে ৫ গুণ বৃদ্ধি পেয়ে ৮ হাজার টাকা হয়েছে।
হ    কৃষিজীবীদের সার, বীজসহ বিভিন্ন উপকরণে ভর্তুকি প্রদানের মাধ্যমে প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে।
হ    ব্যবসায় এবং শিল্পবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টির মাধ্যমে একদিকে কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে রপ্তানি বাণিজ্য প্রসারিত হয়েছে। যার সুবিধা সাধারণ জনগণ পাচ্ছেন।
হ    পদ্মাসেতু, ঢাকা মেট্রোরেল, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, মহাসড়কগুলোকে চার-লেনে উন্নীতকরণসহ মেগা প্রকল্পগুলো দৃশ্যমান হওয়ায় সাধারণ মানুষের বর্তমান সরকারের ওপর আস্থা জন্মেছে।
হ    মানুষ নিজের এবং দেশের মর্যাদা চায়। আমরা বাংলাদেশকে সেই মর্যাদা এনে দিতে পেরেছি। স্বাধীনতার ৪৪ বছর পর নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশ এবং ৪৬ বছর পর উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা প্রাপ্তি জনগণকেও গর্বিত করেছে। ভিক্ষুকের দেশের দুর্নাম ঘুচেছে। যারা মানুষকে মর্যাদার আসনে বসিয়েছেন, তাদের মানুষ মর্যাদা দিবেনÑ এটাই স্বাভাবিক।
হ    বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ২০১৪ সালের পর থেকেই নির্বাচনী প্রস্তুতি নিতে শুরু করে। প্রতিটি সম্ভাব্য প্রার্থী নিজ নিজ এলাকায় জনসংযোগ বাড়িয়েছেন এবং এলাকার উন্নয়নে অবদান রেখেছেন। এবারের নির্বাচনে দলের প্রতিটি নেতা-কর্মী মনোনীত প্রার্থীর জন্য কাজ করেছেন।
হ    আমাদের নির্বাচনী প্রস্তুতি ছিল ব্যাপক। সরাসরি সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগের পাশাপাশি আমরা ইলেকট্রনিক, প্রিন্ট এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রচারণা চালিয়েছি।
হ    নির্বাচনী প্রচারকালে সমাজের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। ব্যবসায়ী, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, কৃষিবিদ, শিক্ষাবিদ, সাবেক আমলা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য, শিল্পী-সাহিত্যিক, সাংবাদিক, ধর্মীয় নেতাÑ সকলেই বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রতি প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়েছেন। একটি সমাজের প্রায় সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ যখন কোনো দলের প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করেন, তখন তাকে কোনোভাবেই আটকে রাখা যায় না।
পক্ষান্তরে আমাদের প্রতিপক্ষ জোটের নির্বাচনী কৌশল সম্পর্কে আপনারা ভালোভাবেই জানেন। আমি এ নিয়ে কথা বলতে চাইনে। তাদের পরাজয়ের বহুবিধ কারণ রয়েছে :

হ    এক আসনে তিন-চার জন বা তারও বেশি প্রার্থী মনোনয়ন;
হ    মনোনয়ন নিয়ে ব্যাপক বাণিজ্যের অভিযোগ এবং দুর্বল প্রার্থী মনোনয়ন;
হ    নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠাতা পেলে কে প্রধানমন্ত্রী হবেনÑ সে বিষয়ে অনিশ্চয়তা;
হ    নিজেরা জনগণের জন্য কী করবে, সে-কথা তুলে ধরতে ব্যর্থ হয়েছে। অপরদিকে ক্ষমতায় গেলে আমাদের বিরুদ্ধে কী ধরনের প্রতিহিংসামূলক ব্যবস্থা নিবেÑ তাদের প্রচারণায় প্রাধান্য পেয়েছে।
হ    সোশ্যাল মিডিয়ায় আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে বিষোদগার করা ছাড়া নিজেদের সাফল্যগাঁথা তুলে ধরতে পারেনি।
হ    তাছাড়া, ২০১৩ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত বিএনপি-জামাতের দেশব্যাপী অগ্নিসন্ত্রাস ও ধ্বংসাত্মক কর্মকা- সাধারণ মানুষের মন থেকে মুছে যায়নি।
হ    সর্বোপরি, বিএনপির ধানের শীষ মার্কায় যুদ্ধাপরাধী জামাত নেতাদের মনোনয়ন তরুণ ভোটাররা মেনে নিতে পারেনি। তরুণেরা আর যাই হোক, স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির পক্ষ নিতে পারে না।
এ-রকম আরও বহু উদাহরণ দেওয়া সম্ভব, যার মাধ্যমে প্রমাণ করা যাবে যে সাধারণ ভোটারগণ বিএনপির দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিলেন এবং নৌকার অনুকূলে এবার গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছিল।

প্রিয় দেশবাসী,
আপনারা টানা তৃতীয়বার এবং ১৯৯৬ সাল থেকে চতুর্থবারের মতো বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে সরকার পরিচালনার ম্যান্ডেট দিয়েছেন। আপনাদের এবারের এই নিরঙ্কুশ সমর্থন আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
আমি ব্যক্তিগতভাবে আপনাদের এই রায়কে দেশবাসীর সেবা এবং জাতির পিতার অসমাপ্ত কাজ শেষ করার ও সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠার পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ বলে মনে করি।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কথামালার রাজনীতিতে বিশ্বাসী নয়। আমরা যে প্রতিশ্রুতি দেই, তা বাস্তবায়ন করি। ২০০৮ এবং ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে যেসব প্রতিশ্রুতি আমরা দিয়েছিলাম তার অধিকাংশই ইতোমধ্যে বাস্তবায়ন করেছি।
একাদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আমরা ‘সমৃদ্ধির অগ্রযাত্রায় অপ্রতিরোধ্য বাংলাদেশ’ সেøাগান সংবলিত নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছি। ইশতেহার ঘোষণাকালে আমি এর সারাংশ আপনাদের সামনে তুলে ধরেছিলাম। আপনারা অনেকেই এই দলিলটি ইতোমধ্যে পড়েছেন।
আমি আপনাদের আশ্বস্ত করতে চাই যে, আমাদের যে কোনো নীতিমালা প্রণয়নে এবং উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে এই ইশতেহারটি পথ-নির্দেশক হিসেবে কাজ করবে।
মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, দারিদ্র্য হ্রাস, শিক্ষা ও চিকিৎসার সুযোগ বিস্তার, শিশু ও মাতৃমৃত্যুর হার হ্রাস, নারীর ক্ষমতায়নসহ আর্থ-সামাজিক নানা সূচকে বাংলাদেশ বিগত ১০ বছরে ঈর্ষণীয় সাফল্য অর্জন করেছে। শুধু এশিয়ার দেশগুলোরই শীর্ষে নয়, কোনো কোনো ক্ষেত্রে আমাদের অর্জন অনেক উন্নত দেশকেও ছাড়িয়ে গেছে। বিশ্ব নেতৃবৃন্দ তাই বাংলাদেশকে চেনেন ‘উন্নয়নের রোল মডেল’ হিসেবে।
আমাদের এই পথচলা মসৃণ ছিল না। শত প্রতিকূল অবস্থা মোকাবিলা করে আমরা আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করেছি। যার সুফল আজ জনগণ পাচ্ছেন। এ অর্জন শুধু সরকারের নয়, এ অর্জন দেশের প্রতিটি পরিশ্রমী মানুষের।
আজকে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে মর্যাদা পেয়েছে। বর্তমানে দারিদ্র্যের হার ২১.৮ শতাংশে হ্রাস পেয়েছে, যা ২০০৫-০৬ সালে বিএনপি সরকারের আমলে ছিল ৪১.৫ শতাংশ। মাথাপিছু আয় ৫৪৩ মার্কিন ডলার থেকে ১ হাজার ৭৫১ ডলারে উন্নীত হয়েছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩ বিলিয়ন থেকে বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ৩৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
বিএনপি সরকারের ২০০৫-০৬ অর্থবছরে বাজেটের আকার ছিল মাত্র ৬১ হাজার কোটি টাকা। যা ৭.৬ গুণ বৃদ্ধি করে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে আমরা ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকার বাজেট দিয়েছি। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির পরিমাণ ১ লাখ ৭৩ হাজার কোটি টাকা। যার ৯০ ভাগ বাস্তবায়ন হয় নিজস্ব অর্থায়নে। কারও কাছে আমাদের হাত পেতে চলতে হয় না।
গত অর্থবছরে আমাদের জিডিপির প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৭.৮৬ শতাংশ। মূল্যস্ফীতি ৫.৪ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে। ফলে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার আওতায় রয়েছে।
অর্থনৈতিক অগ্রগতির সূচকে বিশ্বের শীর্ষ ৫টি দেশের একটি এখন বাংলাদেশ। প্রাইস ওয়াটার হাউস কুপারস-এর প্রক্ষেপণ অনুযায়ী ২০৪০ সাল নাগাদ বাংলাদেশের অর্থনীতি বিশ্বে ২৩তম স্থান দখল করবে।
এইচবিএসসির প্রক্ষেপণ অনুযায়ী ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ বিশ্বের ২৬তম বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ হবে। আমরা মহাকাশে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণ করেছি। ভারতের সঙ্গে স্থল সীমানা চুক্তি বাস্তবায়নের মাধ্যমে ছিটমহল সমস্যার সমাধান করা হয়েছে।
১০ বছর আগের বাংলাদেশ আর আজকের বাংলাদেশের মধ্যে বিরাট ব্যবধান। মানুষের জীবনমান এখন অনেক উন্নত। এখন মানুষ সুন্দর করে বাঁচার স্বপ্ন দেখে। দেশকে আমরা আরও উন্নত করতে চাই। তাই সামনে অনেক কাজ আমাদের। আরও কঠিন পথ পাড়ি দিতে হবে। আপনাদের সঙ্গে নিয়ে সেই বন্ধুর পথ অতিক্রম করতে পারব, ইনশাআল্লাহ।

প্রিয় দেশবাসী,
আমাদের সামনে সবচেয়ে বড় দায়িত্ব শিক্ষিত তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা। তরুণদের কর্মসংস্থানের জন্য আমরা বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি।
এগুলোর মধ্যে রয়েছে তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ শর্তে আর্থিক সহায়তা প্রদানসহ বিভিন্ন সুবিধা নিশ্চিত করা, তরুণ নারী উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ সুবিধা ও প্রণোদনা প্রদান, সরকারি উদ্যোগে কর্মসংস্থান পরিকল্পনা, তরুণ উদ্ভাবকদের উদ্ভাবনসমূহ আন্তর্জাতিকভাবে পেটেন্ট করার উদ্যোগ গ্রহণ, দেশ-বিদেশে কর্মে নিয়োগের জন্য কারিগরি বিষয়ে দক্ষ কর্মী তৈরি এবং কারিগরি জ্ঞানসম্পন্ন দক্ষ জনবল গড়ে তোলার জন্য প্রতিটি উপজেলায় একটি করে কারিগরি কলেজ স্থাপন করা। ইতোমধ্যে কারিগরি কলেজ স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে।
আগামী পাঁচ বছরে আমরা দেড় কোটি কর্মসংস্থানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছি। সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার কাজ এগিয়ে চলেছে। এসব অর্থনৈতিক অঞ্চলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীগণ বিনিয়োগের জন্য আসছেন।
সারাদেশে দুই ডজনের বেশি হাইটেক পার্ক এবং আইটি ভিলেজ নির্মাণের কাজ এগিয়ে চলছে। কৃষি, মৎস্য, পশু পালন, পর্যটন, সেবা খাতসহ অন্যান্য খাতে প্রাতিষ্ঠানিক এবং আত্মকর্মসংস্থানের ব্যাপক সুযোগ সৃষ্টি করা হবে।
আমরা চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলো যথাসময়ে শেষ করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। বিশেষ করে পদ্মাসেতু, মেট্রোরেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প, মহেষখালি-মাতারবাড়ি সমন্বিত উন্নয়ন প্রকল্পসহ ফাস্ট ট্রাক মেগা প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন কাজে গতি আনা হবে।
দেশের প্রতিটি গ্রামে শহরের সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। দেশের প্রতিটি ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে যাবে। ছেলে-মেয়েদের উন্নত পরিবেশে লেখাপড়ার সুযোগ তৈরি করা হবে। সুপেয় পানি এবং উন্নতমানের পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে। সুস্থ বিনোদন এবং খেলাধুলার জন্য অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে। ইন্টারনেট/তথ্যপ্রযুক্তি সর্বত্র পৌঁছে যাবে।

প্রিয় দেশবাসী,
২০২০ সালে জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে আমরা ২০২০-২১ সালে মুজিব বর্ষ এবং ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উৎসব উদযাপন করব। বাঙালি জাতির এই দুই মাহেন্দ্রক্ষণে আমরা দেশকে আর্থ-সামাজিক খাতে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে চাই। আর এর কৌশল হিসেবে আমরা ভিশন ২০২১ এবং ভিশন ২০৪১ বাস্তবায়ন করছি।
পাশাপাশি, জলবায়ুর ঘাত-প্রতিঘাত মোকাবিলা করে কাক্সিক্ষত উন্নয়ন অর্জনের জন্য আমরা ‘বাংলাদেশ ব-দ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০’ নামে শতবর্ষের একটি পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছি।
আমরা ইতোমধ্যে সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার সঙ্গে এসডিজির লক্ষ্যমাত্রাগুলো সম্পৃক্ত করে তা বাস্তবায়ন শুরু করেছি। অষ্টম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা প্রণয়নের কাজও শুরু হয়েছে।
সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়Ñ আমাদের এই পররাষ্ট্রনীতিই বহির্বিশ্বের সঙ্গে বাংলাদেশের সুসম্পর্কের মূল হাতিয়ার। এই নীতির সফল বাস্তবায়ন বাংলাদেশকে উন্নতি ও অগ্রগতির পথে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। বাইরের দুনিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক যে কোনো সময়ের চাইতে সুদৃঢ় এবং গভীর।

প্রিয় দেশবাসী,
এখন আমাদের প্রয়োজন জাতীয় ঐক্য। বিভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। আমাদের ঐক্যের যোগসূত্র হবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, অসাম্প্রদায়িকতা, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, সাম্য ও ন্যায়বিচার এবং উন্নয়ন ও অগ্রগতি। বিজয়ের পর আমরা সরকার গঠন করেছি। সরকারের দৃষ্টিতে দলমত নির্বিশেষে দেশের সকল নাগরিক সমান। আমরা সবার জন্য কাজ করব।
সরকারি সেবা খাতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং জাতীয় জীবনের সর্বত্র আইনের শাসন সমুন্নত রাখার উদ্যোগ গ্রহণ করব। জাতীয় সংসদ হবে সকল সিদ্ধান্ত গ্রহণের কেন্দ্রবিন্দু।
একাদশ সংসদে বিরোধী দলের সদস্য সংখ্যা নিতান্তই কম। তবে, সংখ্যা দিয়ে আমরা তাদের বিবেচনা করব না। সংখ্যা যত কমই হোক, সংসদে যে কোনো সদস্যের ন্যায্য ও যৌক্তিক প্রস্তাব/আলোচনা/সমালোচনার যথাযথ মূল্যায়ন করা হবে। আমি বিরোধী দলের নির্বাচিত সদস্যদের শপথ নিয়ে সংসদে যোগদানের আহ্বান জানাচ্ছি।
আমি জানি, দুর্নীতি নিয়ে সমাজের সর্বস্তরে অস্বস্তি রয়েছে। দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের নিজেদের শোধরানোর আহ্বান জানাচ্ছি। আইনের কঠোর প্রয়োগের মাধ্যমে দুর্নীতি উচ্ছেদ করা হবে। আমরা তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যবহার সম্প্রসারণের মাধ্যমে বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুর্নীতির নির্মূল করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। দুর্নীতি বন্ধে জনগণের অংশগ্রহণ জরুরি। তাই, গণমাধ্যমের সহায়তায় দুর্নীতির বিরুদ্ধে জনসচেতনতা তৈরির কাজ অব্যাহত থাকবে।
আপনারা দেখেছেন আমরা জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করে ইতোমধ্যেই মাদক, জঙ্গি তৎপরতা এবং সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে সফলতা অর্জন করেছি। এ অভিযান অব্যাহত থাকবে। আমরা একটি শান্তিপূর্ণ সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে চাই। যেখানে হিংসা-বিদ্বেষ-হানাহানি থাকবে না। সকল ধর্ম-বর্ণ এবং সম্প্রদায়ের মানুষ শান্তিতে বসবাস করতে পারবেন। সকলে নিজ নিজ ধর্ম যথাযথ মর্যাদার সঙ্গে পালন করতে পারবেন।
বৈশ্বিক প্রভাবে কিংবা স্থানীয় প্ররোচনায় আমরা কিছু কিছু তরুণকে বিভ্রান্তির শিকার হয়ে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদে সম্পৃক্ত হতে দেখেছি। ইসলাম শান্তির ধর্ম। ইসলামে সন্ত্রাসের কোনো স্থান নেই। আমি সমাজের সকলকে মাদকাসক্তি ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান গ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছি।
ধর্মীয় শিক্ষার প্রসারে আমরা কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছি। মাদ্রাসা শিক্ষাকে আধুনিকায়নের মাধ্যমে উৎপাদনমুখী করা হচ্ছে। কওমী মাদ্রাসার দাওয়ারে হাদিস ডিগ্রিকে মাস্টার্স ডিগ্রির সমমানের করা হয়েছে। সারাদেশে ৫৬০টি মসজিদ-কাম-ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে।
প্রিয় দেশবাসী,
তরুণেরাই দেশের ভবিষ্যৎ কর্ণধার। তারুণ্যের সৃষ্টিশীলতা, উদ্যম এবং শক্তির ওপর আমাদের পূর্ণ শ্রদ্ধা ও আস্থা রয়েছে। তারুণ্য মানেই বাংলা ভাষার জন্য আত্মদান, ঊনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থান, ’৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ, আসাদ-মতিউর, নূর হোসেনদের রক্তদান। তারুণ্য মানেই লাল-সবুজের পতাকাÑ আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি, তারুণ্য মানেই বাঙালি এবং বাংলাদেশ।
১৯৭১ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে সাড়া দিয়ে বাঙালি জাতি মহান মুক্তিযুদ্ধে বিজয় অর্জন করেছিল। আর ২০১৮ সালে আরেক বিজয়ের মাসে এদেশের ভোটারগণ মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে বিজয়ী করেছে, আমাদের দেশ সেবার সুযোগ করে দিয়েছে।
আমি আগেও বলেছি, আবারও বলছিÑ আমার ব্যক্তিগত কোনো চাওয়া-পাওয়া নেই। বাবা-মা-ভাই, আত্মীয়-পরিজনকে হারিয়ে আমি রাজনীতি করছি শুধু জাতির পিতার স্বপ্ন বাস্তাবায়নের জন্য; এদেশের মানুষের কল্যাণের জন্য। এদেশের সাধারণ মানুষেরা যাতে ভালোভাবে বাঁচতে পারেন, উন্নত-সমৃদ্ধ জীবনের অধিকারী হতে পারেনÑ তা বাস্তবায়ন করাই আমার জীবনের একমাত্র লক্ষ্য।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব বলেছিলেন : ‘মহৎ অর্জনের জন্য মহৎ ত্যাগের প্রয়োজন।’ আমরা ত্যাগের পথ অনুসরণ করেই এগিয়ে যাচ্ছি। আমার বর্তমানকে উৎসর্গ করেছি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য। আমরা তরুণদের শক্তি, মেধা ও মননকে সোনার বাংলা গড়ার কাজে সম্পৃক্ত করব। আজকের তরুণেরাই পারবে দেশকে উন্নতি ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়ে মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি আনতে।
প্রিয় দেশবাসী,
নবীন-প্রবীণের সংমিশ্রণে আমি আমার মন্ত্রিসভা গঠন করেছি। প্রবীণদের অভিজ্ঞতা আর নবীনদের উদ্যমÑ এই দুইয়ের সমন্বয়ে আমরা আমাদের লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছার প্রত্যয় ব্যক্ত করছি।
আপনারা আমার ওপর আস্থা রেখে যে রায় দিয়েছেন, কথা দিচ্ছি আমি প্রাণপণ চেষ্টা করব সে-আস্থার প্রতিদান দিতে। এজন্য দলমত নির্বিশেষে দেশের সকল নাগরিকের সমর্থন এবং সহযোগিতা চাই। আপনাদের সহযোগিতায় আমরা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের ক্ষুধা, দারিদ্র্য, নিরক্ষরতামুক্ত অসাম্প্রদায়িক সোনার বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করব, ইনশাআল্লাহ।

কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের ভাষায় বলতে চাই :
‘যতক্ষণ দেহে আছে প্রাণ
প্রাণপণে পৃথিবীর সরাব জঞ্জাল,
এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাব আমিÑ
নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।’

সবাই ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন। মহান রাব্বুল আলামিন আমাদের সহায় হোন।

খোদা হাফেজ।
জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু
বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।

শ্রেণী:

শেখ হাসিনার নেতৃত্বে তারুণ্যনির্ভর মন্ত্রিসভার শপথ

1-15-2019 5-51-37 PM

1-15-2019 5-51-37 PMআনিস আহামেদঃ ‘সমৃদ্ধ অগ্রযাত্রার বাংলাদেশ’ গড়ার অঙ্গীকারে অবিস্মরণীয় বিজয়ের মহাযোদ্ধা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ৪৭ সদস্যের তারুণ্যনির্ভর চমকের মন্ত্রিসভা শপথ নিয়েছে। গত ৭ জানুয়ারি বিকেল সাড়ে ৩টায় বঙ্গভবনের দরবার হলে আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানে প্রথমে দেশের ইতিহাসে নজির ও রেকর্ড সৃষ্টি করে চতুর্থবারের মতো এবং টানা তৃতীয়বার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথগ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রী ও বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনা। পরে তিন দফায় ২৪ মন্ত্রী, ১৯ প্রতিমন্ত্রী এবং ৩ উপমন্ত্রী শপথগ্রহণ করেন। শপথবাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।
দেশের মানুষের চোখে এখন দিনবদল ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণের স্বপ্ন। তারা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে কীভাবে স্বপ্ন পূরণের পথে দৃপ্ত পায়ে এগিয়ে চলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনা। ক্ষুধা-দারিদ্র্য, দুর্নীতি, জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস, মাদকমুক্ত উন্নত-সমৃদ্ধ বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের অসাম্প্রদায়িক সোনার বাংলা গড়ার এক অন্যরকম চ্যালেঞ্জ নিয়েই টানা তৃতীয়বার সরকার পরিচালনার দায়িত্ব পেলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
নতুন সরকারের মন্ত্রিসভার শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের জন্য বঙ্গভবন বর্ণাঢ্য সাজে সাজানো হয়। দরবার হলে সহস্রাধিক আমন্ত্রিত অতিথির বসার ব্যবস্থা করা হয়। কোরআন তেলাওয়াতের পর সংবিধান অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ করান রাষ্ট্রপতি। পরে অতিথিদের চা-চক্রে আমন্ত্রণ জানানো হয়। শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম।
মন্ত্রিসভায় যারা শপথ নিলেন : আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার সরকারে পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে যারা রাষ্ট্রপতির কাছে শপথবাক্য পাঠ করেন তারা হলেনÑ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে আ ক ম মোজাম্মেল হক, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ে ওবায়দুল কাদের, কৃষি মন্ত্রণালয়ে ড. মো. আবদুর রাজ্জাক, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আসাদুজ্জামান খান, তথ্য মন্ত্রণালয় ড. হাছান মাহমুদ, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে আনিসুল হক, অর্থ মন্ত্রণালয়ে আ হ ম মুস্তফা কামাল, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ে মো. তাজুল ইসলাম, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে ডা. দীপু মনি, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একে আবদুল মোমেন, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে এমএ মান্নান, শিল্প মন্ত্রণালয়ে নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ে গোলাম দস্তগীর গাজী, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে জাহিদ মালেক, খাদ্য মন্ত্রণালয়ে সাধন চন্দ্র মজুমদার, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে টিপু মুনশি, সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে নুরুজ্জামান আহমেদ, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে শ ম রেজাউল করিম, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ে মো. শাহাব উদ্দিন, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে বীর বাহাদুর উ শৈ সিং, ভূমি মন্ত্রণালয়ে সাইফুজ্জামান চৌধুরী, রেলপথ মন্ত্রণালয়ে মো. নুরুল ইসলাম সুজন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ে স্থপতি ইয়াফেস ওসমান এবং ডাক টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ে মোস্তাফা জব্বার।
আর ১৯ জন প্রতিমন্ত্রীর মধ্যে শিল্প মন্ত্রণালয়ে কামাল আহমেদ মজুমদার, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে ইমরান আহমেদ, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে জাহিদ আহসান রাসেল, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ে নসরুল হামিদ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে মো. আশরাফ আলী খান খসরু, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে বেগম মুন্নুজান সুফিয়ান, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে মো. জাকির হোসেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মো. শাহরিয়ার আলম, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগে জুনাইদ আহমেদ পলক, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ফরহাদ হোসেন, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ে স্বপন ভট্টাচার্য, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে জাহিদ ফারুক, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে মো. মুরাদ হাসান, সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে শরীফ আহমেদ, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে কেএম খালিদ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে ডা. মো. এনামুর রহমান, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে মো. মাহবুব আলী এবং ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহকে শপথ পড়িয়েছেন রাষ্ট্রপতি।
এছাড়া পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ে বেগম হাবিবুন নাহার, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে একেএম এনামুল হক শামীম এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরীকে উপমন্ত্রী হিসেবে শপথ বাক্য পড়ানো হয়।

নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথগ্রহণ
আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়। ক্ষমতাকে কেউ নিজেদের সম্পদ মনে করবেন না এবং ব্যক্তি স্বার্থের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করবেন না। সম্পদ অর্জনের হাতিয়ার বানাবেন না। জনগণের কাছে আমাদের যে ঋণ তা পরিশোধ করতে হবে। কে নৌকায় ভোট দিল কে দিল না সেটা বিবেচ্য নয়। আমরা সবার উন্নয়ন করব।
গত ৩ জানুয়ারি নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথগ্রহণ শেষে আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন। জাতীয় সংসদ ভবনের নবম তলায় সরকারি দলের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকের শুরুতে বঙ্গবন্ধু-কন্যা শেখ হাসিনাকে সর্বসম্মতিক্রমে চতুর্থবারের মতো সংসদ নেতা ও আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। এরপর তিনি আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্যদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখেন।
শেখ হাসিনা দলীয় সংসদ সদস্যদের উদ্দেশ্যে আরও বলেন, আপনাদের সুখে-দুঃখে জনগণের পাশে থাকতে হবে। কারণ জনগণ যদি সঙ্গে থাকে তাহলে কেউ আমাদের রুখতে পারবে না। জনগণের জন্য কাজ করুন। নিজেদের ভবিষ্যৎ জনপ্রিয়তা ধরে রাখতে হবে। জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ততা বজায় রাখতে হবে। নির্বাচনের আগে যেভাবে জনগণের কাছে গেছেন, শপথ গ্রহণের পর একইভাবে জনগণের কাছে যাবেন। জনগণের সবাইকে সমানভাবে দেখতে হবে। জনগণের কাছে আমাদের যে ঋণ রয়েছে উন্নয়নের মাধ্যমেই তা পরিশোধ করা হবে। সংসদ সদস্য হওয়ার ক্ষমতাকে জনগণের উন্নয়নের কাজে ব্যবহার করবেন।
দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও মাদকের বিরুদ্ধে যে অভিযান চলছে সেটা অব্যাহত থাকবে। সদ্য অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ঐক্যফ্রন্টের ভরাডুবি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি-ঐক্যফ্রন্ট জামাতের সঙ্গে ঐক্য করে যুদ্ধাপরাধীদের মনোনয়ন দেয়। তারা মনোনয়ন বাণিজ্য করেছে, নির্বাচন নয় যেন তাদের লক্ষ্যই ছিল মনোনয়ন বাণিজ্য করা। শেখ হাসিনা নির্বাচনে বিএনপির বিপর্যয়ের জন্য ‘মনোনয়ন বাণিজ্য’কে প্রধান কারণ উল্লেখ করে আরও বলেন, দুর্ভাগ্যজনকভাবে বিরোধী দলের আচরণ ছিল খুবই অদ্ভুত। তারা বিজয় হবে এমন প্রার্থীদের মনোনয়ন দেয়নি। তারা প্রতিটি আসনে টাকা নিয়ে তিন থেকে চারজন প্রার্থী মনোনয়ন দিয়েছে। তারা নির্বাচনকে বাণিজ্য হিসেবে নিয়েছে, প্রতিযোগিতায় জিততে চায়নি। এ কারণেই তারা ডুবেছে, জনগণ ভোটের মাধ্যমে তাদের সমুচিত জবাব দিয়েছে। শেখ হাসিনা বলেন, গত ১০ বছরে আমরা উন্নয়নের মাধ্যমে জনগণের আস্থা অর্জন করেছি। নির্বাচনের ফলাফলে তারই প্রতিফলন ঘটেছে। এই অর্জন ধরে রাখতে হবে। এদেশের মানুষ অতীতে বিএনপির দুর্নীতি ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে এবারের নির্বাচনে রায় দিয়েছে। উন্নয়নের গতি আরও বেগবান করা হবে জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, উন্নয়নের যে অগ্রযাত্রা সূচিত হয়েছে সেটা অব্যাহত থাকবে। ২১০০ সালকে টার্গেট করে আমরা এ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পর আওয়ামী লীগকে ধ্বংস করার সব ধরনের চেষ্টা হয়েছিল। কিন্তু এ নির্বাচনে জয়ের মাধ্যমে আবারও প্রমাণ হয়েছেÑ আওয়ামী লীগ ধ্বংস হয়নি। বরং যারা যুদ্ধাপরাধী, স্বাধীনতাবিরোধী, জামাতের সঙ্গে ঐক্য করেছে, জনগণ তাদের সমুচিত জবাব দিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০২০ সালে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ও ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে মধ্যম আয়ের দেশ, ২০৪১ সালে উন্নত সমৃদ্ধ দেশ গড়ে তুলব। ২০৭১ সালে স্বাধীনতার শতবার্ষিকী পালিত হবে। তখন যারা থাকবেন তারা স্বাধীনতার শতবার্ষিকী পালন করবেন একটা উন্নত সমৃদ্ধ দেশে।

শ্রেণী:

মানুষের উন্নত জীবন নিশ্চিত করাই আমার কাম্য

11-6-2018 6-03-34 PM

11-6-2018 6-03-34 PMউত্তরণ প্রতিবেদনঃ আমার জীবন উৎসর্গ করে দিয়েছি বাংলার মানুষের জন্য। বাংলার মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করা, বাংলার মানুষের উন্নত জীবন দেয়া এটাই আমার কাম্য। বারবার মৃত্যুর মুখোমুখি হয়েছি। ২১ আগস্ট খুনি খালেদা জিয়া ও তার ছেলে তারেক জিয়া গ্রেনেড হামলা করে আমাকে হত্যা করতে চেয়েছিল। আইভি রহমানসহ ২৪ জনকে হত্যা করেছে। আল্লাহর রহমত আমি বেঁচে গেছি। ওরা কি করেছে : বাংলাদেশকে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসী দেশ করেছে। বারবার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন করেছে। মানি লন্ডারিং করেছে। বিএনপি বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস সৃষ্টি করে দেশে অরাজক পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। ওরা বাংলাদেশের ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়ার পথ বন্ধ করে দিয়েছিল। দেশকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে গেছে। তার একটাই কারণ, তারা স্বাধীনতায় বিশ^াস করে না। তারা মানুষের উন্নতিতে বিশ^াস করে না। খালেদা জিয়া এতিমের টাকা চুরি করে, এতিমদের না দিয়ে নিজে আত্মসাৎ করে। যে কারণে আজ সাজা ভোগ করছে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস মাথা চাড়া দিয়ে উঠতে পারে না। আবারও নৌকায় ভোট চেয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, নৌকা জয়লাভ করলে মানুষ সুখী-সমৃদ্ধশালী হয়ে বিশে^র বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে। আমরা দেশের উন্নয়ন করেছি। আমার তো জীবনের চাওয়া-পাওয়া নেই। বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি আমার পিতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান, আমার মা বেগম ফজিলাতুন্নেছা, আমার ভাই শেখ জামাল, শেখ কামাল ও ছোট্ট শিশু রাসেলকেসহ আমার পরিবারের সকলকে হত্যা করেছে। আমার আত্মীয়-স্বজনকে হত্যা করেছে। আমি বিদেশে ছিলাম বিধায় বেঁচে গেছি। সব হারিয়েছি। স্বজন হারিয়ে ছয় বছর দেশের বাইরে ছিলাম। দেশে এসে সারাদেশে ঘুরেছি, দেখেছি মানুষের দুঃখ-দুর্দশা। বাংলার মানুষের পেটে খাবার ছিল না। পরনে ছিল ছেঁড়া কাপড়। মাথা গোঁজার ঠাঁই ছিল না। ঘরের চালা দিয়ে পানি পড়ত। রাস্তার পাশে পড়ে থাকত। আপনাদের মাঝেই খুঁজে পাই আমার হারানো স্বজনদের। প্রধানমন্ত্রী বলেন, যখনই আপনারা নৌকায় ভোট দিয়েছেন তখনই দেশ উন্নত হয়েছে। যখনই ক্ষমতায় এসেছি। তখনই বাংলার মানুষের দুঃখ-দুর্দশা লাঘবে কাজ করেছি। আমার বাবা এদেশ স্বাধীন করেছেন। তিনি মানুষের দুঃখ-দুর্দশা লাঘবে কাজ করেছেন। আমার বাবা চেয়েছেন এদেশের মানুষ সুখে-শান্তিতে থাকুক। আমিও বাবার সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে কাজ করছি। মানুষ সুন্দর থাকবে যেটা ছিল আমার বাবার আকাক্সক্ষা। সেই আকাক্সক্ষা বাস্তবায়নে কাজ করছি। জঙ্গি, সন্ত্রাস ও মাদকের স্থান বাংলাদেশে হবে না। ইতোমধ্যে আমরা জঙ্গি দমনে সক্ষম হয়েছি। প্রতিটি উপজেলায় মিনি স্টেডিয়াম করা হবে, যাতে যুবক ও শিক্ষার্থীরা মাদক ও সন্ত্রাসে জড়িয়ে না পড়ে। খেলাধুলা করে শিক্ষার্থীরা ও যুবসমাজ ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা পাবে। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সকলকে লেখাপড়া শিখতে হবে। লেখাপড়ার বিকল্প নেই। লেখাপড়া করে মানুষের মতো মানুষ হয়ে বিশে^র দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পার।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দক্ষিণাঞ্চল ছিল অবহেলিত। ক্ষমতায় আসার পর দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়ন করেছি। দেশের দ্বিতীয় পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে এ অঞ্চলেই। আমরা আরেকটি দ্বীপ খুঁজছি। সেখানে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র গড়ে তুলব। সমুদ্রসম্পদ কাজে লাগানো হবে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পটুয়াখালী পায়রা তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ২৭ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৩টায় আকাশপথে বরগুনার তালতলীর জনসভা মঞ্চে আসেন এবং বরগুনার বিভিন্ন উপজেলার ২১টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন করেন। প্রধানমন্ত্রী জনসভা মঞ্চে উপস্থিত হলে লাখো জনতা করতালির মাধ্যমে তাকে অভিবাদন জানান। এ সময় জনসভা মাঠে এক আনন্দঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। মানুষ প্রধানমন্ত্রীকে সানন্দচিত্রে স্বাগত জানান। উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন শেষে তালতলী উপজেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে আয়োজিত তালতলী সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠের বিশাল জনসভায় ভাষণ দেন। দুপুর গড়াতেই জনসভা মাঠ জনসমুদ্রে পরিণত হয়। জনসভা মাঠসহ উপজেলা শহরের সর্বত্র মানুষে পরিপূর্ণ হয়ে যায়। আজকের জনসভা তালতলীর ইতিহাসে ঐতিহাসিক জনসভা। এত লোক তালতলীর ইতিহাসে কোনো জনসভায় হয়নি।
প্রধানমন্ত্রী জনসভায় ভাষণের পূর্বে বরগুনা সদর হাসপাতাল ৫০ শয্যা            থেকে ২৫০ শয্যায় উন্নীতকরণ, বরগুনা জেলা গ্রন্থাগার, বরগুনা পুলিশ লাইনের মহিলা ব্যারাক, দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিশুদের হোস্টেল নির্মাণ,                 ঘূর্ণিঝড়, বরগুনা সদর ইউনিয়ন ভূমি অফিস, ডৌয়াতলা ইউনিয়ন                   ভূমি অফিস, বুড়িরচর ইউনিয়ন ভূমি অফিস, হোসনাবাদ ইউনিয়ন ভূমি অফিস, সিডর ও আইলায় উপকূলীয় এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত বন্যা নিয়ন্ত্রণ                 বাঁধ পুনর্বাসন, বরগুনা-বাকেরগঞ্জ-কাঠালতলী-পাদ্রীশিবপুর-সুবিদখালী সড়ক, হাজারবিঘা-কামরাবাদ-পুরাকাটা ফেরিঘাট সড়কের চেইনেজ ও আরসিসি গার্ডার ব্রিজ নির্মাণ, বরগুনা সদরের গৌড়িচন্না ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স ভবন, বামনা উপজেলা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন, বেতাগী উপজেলা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন, বেতাগী উপজেলার বদনাখালী খালের ওপর গার্ডার ব্রিজ নির্মাণ, তালতলী উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্স ভবন, বামনা উপজেলা পরিষদ ভবন, আমতলী থানা ভবন, আমতলী ইউনুস আলী খান কলেজের চতুর্থ তলা একাডেমি ভবন কাম সাইক্লোন শেল্টার, এম বালিয়াতলী ডিএন কলেজের চতুর্থ তলা একাডেমিক ভবন কাম সাইক্লোন শেল্টার, সৈয়দ ফজলুল হক ডিগ্রি কলেজের চতুর্থ তলা একাডেমিক ভবন কাম সাইক্লোন শেল্টার, তালতলী প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন কেন্দ্র, তালতলী ও বামনা উপজেলায় একটি বাড়ি একটি খামার ও পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক ভবনের উদ্বোধন করেছেন।
বরগুনা জেলা আওয়ামী লীগ সাংগঠনিক সম্পাদক মো. গোলাম সরোয়ার টুকুর উপস্থাপনায় সভায় বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি, শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু এমপি, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ এমপি, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী এমপি, সাবেক চিফ হুইপ আলহাজ আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ এমপি, নৌ পরিবহনমন্ত্রী মো. শাজাহান খান এমপি, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ সাংগঠনিক সম্পাদক কৃষিবিদ আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাসিম এমপি, তালুকদার মো. ইউনুস এমপি, অ্যাডভোকেট ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু এমপি, অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন, অধ্যক্ষ শাহ আলম, ইসহাক আলী খান পান্না, বরগুনা জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. দেলোয়ার হোসেন, বরগুনা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক আলহাজ জাহাঙ্গীর কবির, তালতলী উপজেলার আওয়ামী লীগ সাবেক সভাপতি মো. ফজলুল হক জোমাদ্দার, তালতলী উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক মো. তৌফিকুজ্জামান তনু।

শ্রেণী:

মিলিটারি দিয়ে পাহাড়ের সমস্যার সমাধান হবে না : প্রধানমন্ত্রী

উত্তরণ প্রতিবেদন: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যাটি রাজনৈতিক সমস্যা। রাজনৈতিক সমস্যাটিকে রাজনৈতিকভাবে মীমাংসা করতে হবে। মিলিটারি দিয়ে এর সমাধান হবে না। রাজধানীর বেইলি রোডে পার্বত্য চট্টগ্রাম কমপ্লেক্সের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে গত ২৮ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী এ-কথা বলেন।
শেখ হাসিনা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে আঞ্চলিক সম্প্রীতি অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই অঞ্চলে আর কোনো সংঘাত নয়, যেন শান্তি বজায় থাকে। এই শান্তির পথ ধরে আসবে প্রগতি। প্রগতির পথ ধরে আসবে সমৃদ্ধি এবং সমৃদ্ধির মাধ্যমে জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে উঠবে। তিনি বলেন, দেশ স্বাধীনের পর মাত্র সাড়ে তিন বছর জাতির পিতা দেশ শাসনের সময় পেয়েছেন। এই সময়কালে তিনি তিনবার পার্বত্য চট্টগ্রামে এসেছেন। পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়নে তিনি আলাদা বোর্ড গঠন করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু জাতির পিতাকে হত্যার পর আর তা অগ্রগতির মুখ দেখেনি। শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতা হত্যাকা-ের পরপরই ১৯৭৬ সালে এই এলাকা সংঘাতময় হয়ে ওঠে। ২০ বছর ধরে এই এলাকা ছিল অবহেলিত।
আমি ভাবলাম এরা আমার দেশের নাগরিক। সুতরাং এদের অবহেলিত রাখা ঠিক হবে না। তিনি বলেন, আমার সৌভাগ্য হয়েছিল ১৯৭০ সালে চট্টগ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চল ঘোরার। সব জায়গায় আমি ঘুরেছি। বাছালং যাওয়ার চেষ্টা করি, ছোট হরিণ্যা, বড় হরিণ্যা ঘুরেছি। আমি দেখেছি পার্বত্য চট্টগ্রামের নৈসর্গিক সৌন্দর্য। এখানকার মানুষগুলো সহজ-সরল। সে জায়গায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ চলতে পারে না। শেখ হাসিনা বলেন, আমরা এসে কমিটি করি। তৃতীয় পক্ষের সমঝোতা ছাড়া শান্তিচুক্তি করি। শুধু শান্তিচুক্তি নয়, শান্তিচুক্তির পাশাপাশি ১৮ অস্ত্রসহ আত্মসমর্পণ করে। আমরা তাদের চাকরি ও পুনর্বাসন করি। তারা যে দাবি করেছে সে দাবি অনুযায়ী ভারত থেকে আসা শরণার্থীদের পুনর্বাসন করি। তিনি বলেন, আমরা অধিকাংশ শান্তিচুক্তি বাস্তবায়ন করেছি। কিছু চুক্তি চলমান আছে। রাস্তাঘাটের উন্নয়ন হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজ, আবাসিক স্কুল, হাসপাতাল মোবাইল ফোনের ব্যবস্থা করেছি। যেসব জায়গায় বিদ্যুৎ পৌঁছানো যায়নি আমরা সেসব জায়গায় সৌরবিদ্যুতের ব্যবস্থা করেছি। কোটা বাতিল করা হলেও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর প্রার্থীরা সরকারি চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে সবসময় অগ্রাধিকার পাবেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যদিও আমরা কোটা প্রত্যাহার করেছি। তারপরও আমার নির্দেশ আছে পাবলিক সার্ভিস কমিশনকে বলে দিয়েছি, পার্বত্য অঞ্চল বা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী, পাহাড়ি হোক, সমতল ভূমি হোক, সেখানে যে প্রার্থী থাকবে; তারা সবসময় অগ্রাধিকার পাবে। ‘এটা আমরা ব্যবস্থা করে দিচ্ছি এবং করে দেব; সেটা আপনাদের আমরা কথা দিতে পারি।’ প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে পার্বত্য এলাকার উন্নয়নে তার সরকারের নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন।
পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের কার্যপরিধি ও সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য ১৯৭৬ সালে জারি করা ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড অধ্যাদেশ’ বাতিল করে ২০১৪ সালে পার্বত্য চট্টগ্রাম বোর্ড আইন প্রণয়ন করা হয়। এতে পার্বত্য অঞ্চলের উন্নয়ন কার্যক্রমে আরও গতি সঞ্চারিত হয়েছে বলে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন। শেখ হাসিনা বলেন, ‘আর কোনো সংঘাত নয়। আমরা পাহাড়ে শান্তিচুক্তি করেছি। সে শান্তি যেন বজায় থাকে। শান্তির পথ ধরেই সমৃদ্ধি অর্জন করতে পারেন।’ জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমাকে উদ্দেশ্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান যে জায়গা চেয়েছেন; রাঙ্গামাটিতে আমরা সেই বিশাল জায়গা, যেটা ছিল গণপূর্ত বিভাগের, সেটাও তাদের আমরা দিয়ে দিয়েছি। আমরা আশা করি, আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যানের ওপর একটা প্রকল্প তৈরি করবেন। সেখানে আঞ্চলিক পরিষদের অফিস থেকে শুরু করে, আবাসিক থেকে শুরু করে যা যা দরকার; সবকিছু নিয়ে একটা প্রকল্প তৈরি করে দেবেন, যেটা আমরা বাস্তবায়ন করব।’ বীর বাহাদুর উশৈসিং বলেন, ‘হতাশ হওয়ার কারণ নেই। শেখ হাসিনা থাকলে সমস্যার সমাধান হবে।’
অনুষ্ঠানে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী মোশাররফ হোসেন এমপি, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক আবুল হাসনাত আবদুল্লাহ এমপি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী এমপি বক্তব্য রাখেন। স্বাগত বক্তব্য দেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব নুরুল আমিন।

শ্রেণী:

‘একজন ছিলেন সাহিত্যের কবি, অন্যজন রাজনীতির’

Posted on by 0 comment
6-5-2018 6-02-48 PM
6-5-2018 6-02-48 PM

শোষণমুক্ত, বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে এবং গণতন্ত্র, নারীর ক্ষমতায়ন, দারিদ্র্য দূরীকরণ ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের উন্নয়নে অসাধারণ ভূমিকা রাখার জন্য সম্মান জানানো হলো শেখ হাসিনাকে। –কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে ডি-লিট ডিগ্রি গ্রহণকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

উত্তরণ ডেস্ক: গত ২৬ মে পশ্চিমবঙ্গের আসানসোলে বিশ্ববিদ্যালয়টির বিশেষ সমাবর্তনে শেখ হাসিনাকে সম্মানসূচক এই ডিগ্রি দেওয়া হয়। এই ডিগ্রি দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক সাধন চক্রবর্তী বলেন, শোষণমুক্ত, বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে এবং গণতন্ত্র, নারীর ক্ষমতায়ন, দারিদ্র্য দূরীকরণ ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের উন্নয়নে অসাধারণ ভূমিকা রাখার জন্য সম্মান জানানো হলো শেখ হাসিনাকে। ভারতে বাংলাদেশের জাতীয় কবির জন্মবার্ষিকীর দিনে তার নামে প্রতিষ্ঠিত নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে দেওয়া হলো ডি-লিট ডিগ্রি।
অনুষ্ঠানে বক্তব্যে শেখ হাসিনা নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানিয়ে তাকে দেওয়া এ সম্মান ‘সমগ্র বাঙালি জাতিকে উৎসর্গ’ করার ঘোষণা দেন। ‘এই সম্মান শুধু আমার নয়, এ সম্মান বাংলাদেশের জনগণের।’
জাতীয় কবির ১১৯তম জন্মবার্ষিকীর দিনে ভারতে তার নামে প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেওয়া হলো সম্মানসূচক ডি-লিট ডিগ্রি।
শেখ হাসিনা বলেন, আমার জন্য আজকের দিনটি আরও তাৎপর্যপূর্ণ এ কারণে যে, কবির জন্মদিন উপলক্ষে আমি তার জন্মভূমিতে আসতে পেরেছি এবং তারই নামে প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আমাকে সম্মানসূচক ‘ডক্টর অব লিটারেচার (ডি-লিট)’ ডিগ্রি প্রদান করা হলো।
বিশেষ সমাবর্তন ও ডি-লিট প্রদান অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের শিক্ষামন্ত্রী নূরুল ইসলাম নাহিদ এমপি, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী এমপি, সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর এমপি, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম, গওহর রিজভী, তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ও উপস্থিত ছিলেন এ অনুষ্ঠানে।
অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা বলেন, কবি নজরুল, যিনি সব সময় আমাদের চেতনায় জাগ্রত থাকেন, কারণ আমাদের বাংলা সাহিত্যের আকাশে নতুনের কেতন উড়িয়ে ধূমকেতুর মতো ছিল বিদ্রোহী কবির আগমন এবং বাংলা সাহিত্যে তিনি সোনার ফসলে ভরিয়ে গেছেন।
তিনি শুধু যে কবি ছিলেন তা নয়, তিনি ঔপন্যাসিক, গীতিকার, সুরকার, কণ্ঠশিল্পী, সংগীত পরিচালক, নাট্যকার, নাট্যাভিনেতা, সাংবাদিক, সম্পাদক এবং সৈনিকÑ কোথায় না তার বিচরণ ছিল। কবি নজরুল ছিলেন এক বিস্ময়কর প্রতিভার অধিকারী।
হামদ-নাতের মাধ্যমে ইসলাম ধর্ম এবং শ্যামা সংগীত, কীর্তন বৈষ্ণব গীতি রচনা করে হিন্দুধর্মের মানুষের কাছে যাওয়ার বিরল প্রতিভা কবি নজরুলের ছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলা ভাগ হতে পারে; কিন্তু নজরুল-রবীন্দ্রনাথ ভাগ হয় নাই। সকলেই দুই বাংলার।
এ সময় অন্নদাশঙ্কর রায়ের কবিতার উদ্ধৃতি করে তিনি বলেন, ‘ভুল হয়ে গেছে বিলকুল/সবকিছু ভাগ হয়ে গেছে/ভাগ হয়নি কো নজরুল।’
‘সত্যিই নজরুল ভাগ হয়নি’ বলেন শেখ হাসিনা।
মুক্তিযুদ্ধ ও আওয়ামী লীগের ‘জয় বাংলা’ সেøাগান নজরুলের কবিতা থেকে নেওয়ার কথাও বলেন তিনি।
বঙ্গবন্ধুর তরুণ বয়সে নজরুলের সঙ্গে পরিচয় এবং নজরুল সাহিত্য দ্বারা বঙ্গবন্ধুর উদ্বুদ্ধ হওয়ার কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘একজন ছিলেন সাহিত্যের কবি, আর অন্যজন ছিলেন রাজনীতির কবি।’
দুজনই অসাম্প্রদায়িক ও শোষণ-বঞ্চনাহীন সমাজ বিনির্মাণের স্বপ্ন দেখার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
কবি নজরুল অসাম্প্রদায়িক চেতনার অধিকারী ছিলেন। সেই চেতনায় আমরা বাংলাদেশকে গড়ে তুলছি।
শেখ হাসিনা সমাবর্তনে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের অসাম্প্রদায়িক চেতনা ধারণ করার আহ্বান জানান।
সকালে কলকাতা থেকে বিমানে দুর্গাপুরের কাজী নজরুল বিমানবন্দরে পৌঁছান শেখ হাসিনা। সেখান থেকে সড়কপথে দুপুরে আসানসোলের কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছলে তাকে স্বাগত জানান উপাচার্য সাধন চক্রবর্তী। এরপর শুরু হয় বিশেষ সমাবর্তন ও ডি-লিট প্রদান অনুষ্ঠান।
ডি-লিট ডিগ্রি লাভ করায় প্রধানমন্ত্রীকে আওয়ামী লীগের অভিনন্দন
পশ্চিমবঙ্গের আসানসোলের কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মানসূচক ‘ডক্টর অব লিটারেচার (ডি-লিট)’ ডিগ্রি লাভ করায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানিয়েছে আওয়ামী লীগ।
গণতন্ত্র, নারীর ক্ষমতায়ন, দারিদ্র্য বিমোচন এবং আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন থেকে জনগণের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে অসামান্য অবদান রাখার জন্য ডি-লিট ডিগ্রি লাভ করায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দলের পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানিয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কল্যাণকর নেতৃত্বে উন্নয়ন সমৃদ্ধি ও শান্তির স্নিগ্ধ কলরবে দুর্বার গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ।
গত ২৭ মে এক বিবৃতিতে শেখ হাসিনাকে বাঙালির স্বপ্ন জয়ের কা-ারি হিসেবে আখ্যায়িত করে ওবায়দুল কাদের বলেন, জাতীয় কবির ১১৯তম জন্মজয়ন্তীতে তারই নামে প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মানসূচক ডিগ্রি লাভ বাংলাদেশের জন্য গৌরব ও মর্যাদার অনন্য মাইলফলক।
তিনি বলেন, নবজাগরণের অগ্নি-গিরি-গর্ভের মতো জননেত্রী শেখ হাসিনার দৃঢ় নেতৃত্বে এ দেশের মানুষের প্রাণপ্রদীপ মুক্তির অগ্নিস্পর্শে প্রজ্বলিত হওয়ায় স্বৈরশাসনের অবসান ঘটেছে। তারই ধারাবাহিকতায় বঙ্গবন্ধু-কন্যা দেশরতœ শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বে গণতন্ত্র ও বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে অর্জিত হয়েছে অভাবনীয় সাফল্য। সকল ক্ষেত্রেই বাংলাদেশের অর্জন আজ বিশ্বসভায় রোল মডেল হিসেবে বিবেচিত। বিবৃতিতে ওবায়দুল কাদের পশ্চিমবঙ্গের ‘কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়’-এর আচার্য, উপাচার্য, শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।

শ্রেণী:

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রদত্ত বক্তব্য

Posted on by 0 comment
1

1আমি গত ১৫ থেকে ১৬ই এপ্রিল সৌদি আরবে একটি সামরিক মহড়া ও ১৭ থেকে ২২-এ এপ্রিল লন্ডনে কমনওয়েলথ সরকার প্রধানদের শীর্ষ সম্মেলনে যোগদান করি এবং ২৬ থেকে ২৯-এ এপ্রিল অস্ট্রেলিয়া সফর করি। এই তিন সফর পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে আপনাদের সবাইকে স্বাগত জানাচ্ছি।

সৌদি আরব সফর
সৌদি বাদশার আমন্ত্রণে ২৩-দেশের সামরিক বাহিনীর সদস্যদের অংশগ্রহণে Gulf Shield-One শীর্ষক যৌথ সামরিক মহড়ার সমাপনী অনুষ্ঠান ও কুচকাওয়াজে অংশ নেওয়ার জন্য আমি গত ১৫ই এপ্রিল দাম্মামে যাই।
সৌদি আরবের Eastern Province-এর আল জুবাইল-এ ১৬ই এপ্রিল এ কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর ১৮ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল এ মহড়ায় অংশ নেয়।
আমিসহ অনুষ্ঠানে যোগদানকারী অন্যান্য রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানদের সৌদি বাদশাহ স্বাগত জানান। এ সময় আমি সৌদি বাদশাহ এবং অনুষ্ঠানে যোগদানকারী অন্যান্য রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করি।
লন্ডনে কমনওয়েলথ সম্মেলনে যোগদান
১৬ই এপ্রিল সন্ধ্যায় সৌদি সরকারের বিশেষ বিমানে আমি দাম্মাম থেকে লন্ডনের উদ্দেশ্যে রওনা হই।
লন্ডনে আমি ১৭ থেকে ২১-এ এপ্রিল ২৫তম কমনওয়েলথ সরকার প্রধানগণের শীর্ষ সম্মেলনে যোগদান করি। বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলে মাননীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী, মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রীসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
৫৩টি সদস্য রাষ্ট্রের অংশগ্রহণসহ ৪৬টি রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানগণ এবারের কমনওয়েলথ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেন।
পরিবর্তিত বিশ্ব ব্যবস্থায় কমনওয়েলথ কর্তৃক গৃহীত উদ্যোগের সুফল সকল মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে এবারের সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য ছিলÒTowards A Common Future। এতে ৪টি বিষয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। এগুলো হলো
1. A Fairer Future;
2. A More Sustainable Future;
3. A More Prosperous Future Ges
4. A More Secure Future.
এ ৪টি বিষয়ের আওতায় শীর্ষ সম্মেলনে গণতন্ত্রের বিকাশ, মানবাধিকার, আইনের শাসন সুসংহতকরণসহ বিভিন্ন বিষয় প্রাধান্য পেয়েছে।
সম্মেলন শেষে আমরা সদস্য দেশসমূহের সরকার প্রধানগণ একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি তথা Leader’s Statement প্রদান করি।
BREXIT এবং এর ফলশ্রুতিতে কমনওয়েলথ-এর মধ্যে সদস্য রাষ্ট্রসমূহ বিশেষ করে যুক্তরাজ্যের নতুন করে ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা সন্ধানের প্রয়াসের প্রেক্ষাপটে এবারের শীর্ষ সম্মেলন ছিল আন্তর্জাতিকভাবে বিশেষ গুরুত্ববহ।
সম্মেলনের বিভিন্ন সেশনে আমি জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত প্রশমন ও অভিযোজনের প্রযুক্তি আদান-প্রদান, জলবায়ু অর্থায়ন, সহনশীলতা এবং দক্ষতা উন্নয়ন ইত্যাদি ক্ষেত্রকে বাংলাদেশের অগ্রাধিকার খাত হিসেবে উল্লেখ করি।
জলবায়ু পরিবর্তনে দায়বদ্ধতা এবং ক্ষতিগ্রস্ত দেশসমূহের ন্যায্য ক্ষতিপূরণ এবং এ কারণে উদ্ভূত অভিবাসন সমস্যার প্রতি নেতৃবৃন্দের দৃষ্টি আকর্ষণ করি।
এ প্রসঙ্গে আমি মহামান্য রানির সম্মানে রয়েল সোসাইটি কর্তৃক উৎসর্গীকৃত Queen’s Commonwealth Canopy (QCC) প্রজেক্টে ঠাকুরগাঁয়ের পীরগঞ্জে অবস্থিত আমার সরকার কর্তৃক বরাদ্দকৃত সংরক্ষিত ক্ষুদ্র এক শালবনকে সংযুক্ত করার মাধ্যমে বাংলাদেশের যোগদানের ঘোষণা দেই।
নারীর ক্ষমতায়নে গৃহীত বাংলাদেশ সরকারের নানাবিধ পদক্ষেপ ও সাফল্যের চিত্রও আমার বক্তব্যে তুলে ধরি। আমি কমনওয়েলথকে আরও কার্যকর এবং উন্নয়নমুখী একটি প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের লক্ষ্যে এর প্রয়োজনীয় পুনর্গঠন ও সংস্কারের ব্যাপারে নেতৃবৃন্দের দৃষ্টি আকর্ষণ করি।
সম্মেলনে গৃহীত ব্লু ইকোনমি সংক্রান্ত Commonwealth Blue Charter বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশকে Blue Champion-এ পরিণত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করি।
Commonwealth Women’s Forum-এর একটি বিশেষ সেশনে ১৭ই এপ্রিল আমি ‘Educate To Empower’ শীর্ষক প্রতিপাদ্য বিষয়ে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করি।
এতে বাংলাদেশে নারীর উন্নয়ন, সর্বক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ এবং ক্ষমতায়ন, উন্নয়নে নারীর ভূমিকা ইত্যাদি বিষয়ে বাংলাদেশের অর্জন ও দৃষ্টান্ত তুলে ধরি।
মূল সম্মেলনের পাশাপাশি একাধিক পার্শ্ব ইভেন্টে আমি অংশগ্রহণ করি। যুক্তরাজ্যের মর্যাদাপূর্ণ থিংকট্যাঙ্ক  Overseas Development Institute (ODI) আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে “BangladeshÕs development story : policy, progress and prospects” বিষয়ের ওপর মূল বক্তব্য প্রদান করি।
আমি আমার বক্তব্যে আমাদের সরকারের নেতৃত্বে বাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়ন অগ্রযাত্রার বিশদ চিত্র তুলে ধরি। এ ছাড়াও Commonwealth Business Forum (CBF) আয়োজিত Asian Leaders Roundtable : Can Asia keep growing? শীর্ষক একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য প্রদান করি।
এতে আমি বিদ্যমান সম্ভাবনাময় তরুণ ও কর্মক্ষম শ্রমশক্তি, প্রাকৃতিক সম্পদের প্রাচুর্য এবং সুবিশাল অভ্যন্তরীণ বাজারের সুযোগকে যথাযথভাবে কাজে লাগিয়ে সমৃদ্ধশালী ভবিষ্যৎ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করি।
একই ফোরাম আয়োজিত Heads of Government Roundtable with Senior Business Leaders শীর্ষক আরেকটি গোলটেবিল বৈঠকেও আমি অংশ নিই।
ফোরামটির উভয় সভায় আমি বাংলাদেশে বিনিয়োগ করার জন্য বিদেশি উদ্যোক্তাদের আমন্ত্রণ জানাই।
এছাড়াও ২১-এ এপ্রিল রয়েল কমনওয়েলথ সোসাইটির আমন্ত্রণে ব্রিটেনের রানির জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত শীর্ষ পর্যায়ের একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেই।
এবারের কমনওয়েলথ ইশতেহারে দুটি অনুচ্ছেদ অন্তর্ভুক্ত হয়েছে যেখানে রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের অবস্থান নিয়ে প্রশংসার পাশাপাশি রোহিঙ্গা সংকটের মূল কারণ এবং তা নিরসনে কফি আনান কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।
সেই সঙ্গে রোহিঙ্গাদের নিজ ভূমিতে টেকসই প্রত্যাবর্তনের ওপর গুরুত্ব আরোপসহ মানবাধিকার লঙ্ঘনকারীদের জবাবদিহিতা ও স্বাধীন অনুসন্ধানের ওপরও তাগিদ দেওয়া হয়েছে। এবারের শীর্ষ সম্মেলনে এটি বাংলাদেশের একটি কূটনৈতিক সাফল্য।
সম্মেলনের সাইডলাইনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী জনাব নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে এক বৈঠকে মিলিত হই। বৈঠকে কমনওয়েলথ সংশ্লিষ্ট ও রোহিঙ্গা সমস্যা ছাড়াও দ্বিপাক্ষিক বিষয়ে আলোচনা হয়।
এছাড়াও সরকার প্রধানগণের একান্ত বৈঠককালে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী টেরেসা মে, কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোসহ বেশ কয়েকজন সরকারপ্রধানের সঙ্গে আমার সংক্ষিপ্ত মতবিনিময় হয়।
তারা বাংলাদেশের অব্যাহত অগ্রযাত্রার প্রশংসা করেন। তারা রোহিঙ্গাদের আশ্রয়দানের জন্য আমার সরকারের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং এ বিষয়ে জোরালো সমর্থনদানের প্রতিশ্রুতি প্রদান করেন।
২১-এ এপ্রিল আমি লন্ডনস্থ বাংলাদেশ কমিউনিটি’র একটি অনুষ্ঠানে যোগদান করি।
কমনওয়েলথ সরকার প্রধানদের শীর্ষ সম্মেলন উপলক্ষে আয়োজিত বিভিন্ন ফোরামে বাংলাদেশের বিপুল সংখ্যক যুব নেতা, উদ্যোক্তা এবং সমাজকর্মী অংশ নেন।

অস্ট্রেলিয়া সফর
অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী জনাব ম্যালকম টার্নবুলের আমন্ত্রণে আমি ২৬ থেকে ২৮-এ এপ্রিল অস্ট্রেলিয়া সফর করি। অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে অনুষ্ঠিত Global Summit of Women-2018 সম্মেলনে অংশগ্রহণের জন্য তিনি আমাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন।
মাননীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ এবং কয়েকজন নারী রাজনীতিবিদ ও নারী ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ আমার সফরসঙ্গী ছিলেন।
২৭-এ এপ্রিল অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী Julie Bishop এবং ভিয়েতনামের ভাইস প্রেসিডেন্টDang Thi Ngoc Thinh আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
২৭ তারিখ সন্ধ্যায় সিডনির ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে এক জমকালো অনুষ্ঠানে আমাকে “Global WomenÕs Leadership Award-2018″ প্রদান করা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এনজিও ‘Global Summit of Women’ বাংলাদেশ এবং সমগ্র এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে নারী শিক্ষার প্রসার এবং নারী উদ্যোক্তা সৃষ্টিতে অগ্রণী ভূমিকা পালনের স্বীকৃতি-স্বরূপ আমাকে এই আন্তর্জাতিক পুরস্কার প্রদান করে।
‘Global Summit of Women’ এর প্রেসিডেন্ট মিজ আইরিন নাতিভিদাদ আমার হাতে পুরস্কার তুলে দেন। তিনি তার বক্তব্যে নারীর ক্ষমতায়ন, ডিজিটাল টেকনোলজি এবং নিপীড়িত রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তা প্রদানের জন্য ভূয়সী প্রশংসা করেন।
বাংলাদেশ প্রায় ১১ লাখ বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিককে আশ্রয় প্রদানের মাধ্যমে মানবিক নেতৃত্বের যে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে তা বিশ্ব নেতৃবৃন্দের জন্য অনুকরণীয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।
পুরস্কার প্রদানের সময় সম্মেলন কেন্দ্রে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের প্রায় ১ হাজার নারী প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। তারা দাঁড়িয়ে এবং করতালির মাধ্যমে আমার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেন।
পুরস্কার প্রদানের আগে একটি ভিডিওচিত্র প্রদর্শন করা হয়, যাতে আমার রাজনৈতিক জীবন, নারী উন্নয়নে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ এবং বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন তুলে ধরা হয়।
আমি আমার বক্তব্যে বিশ্বের সমগ্র নারী জাতির প্রতি Global WomenÕs Leadership Award-2018 উৎসর্গ করি। নারীর ক্ষমতা কাজে লাগাতে ও তাদের সহযোগিতা ও অধিকার তুলে ধরতে একটি নতুন বৈশ্বিক জোট গঠনের আহ্বান জানাই।
নারীর উন্নয়ন ও ক্ষমতায়নে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অসামান্য অবদান ও গৃহীত উদ্যোগসমূহের কথা উল্লেখ করি।
আমি বিশ্বে নারীর অধিকার আদায়ে চার দফা প্রস্তাব তুলে ধরি। এগুলো হচ্ছেÑ
১. নারীর সক্ষমতা নিয়ে প্রচলিত যে ধারণা সমাজে রয়েছে, তা ভাঙতে হবে।
২. যারা আজও অভুক্ত থাকছেন, যারা স্কুলে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছে না, যারা কম মজুরিতে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন এবং সহিংসতার শিকার হচ্ছেনÑ এ ধরনের প্রান্তিক অবস্থানে থাকা নারীদের কাছে পৌঁছতে হবে।
৩. নারীদের উৎপাদন ক্ষমতা বাড়াতে তাদের সুনির্দিষ্ট স্বাস্থ্য ঝুঁকি হ্রাস করতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এবং
৪. জীবন ও জীবিকার সমস্ত ক্ষেত্রে নারীদের জন্য সমান সুযোগ তৈরি করতে হবে।
সফরের দ্বিতীয় দিন ২৮-এ এপ্রিল সকালে আমি ওয়েস্টার্ন সিডনি ইউনিভার্সিটি পরিদর্শন করি। সেখানে স্থাপিত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্যে পুষ্পস্তবক অর্পণ করি।
সেখানে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে আমি অস্ট্রেলিয়ার সেরা জ্ঞান আহরণের সুযোগ গ্রহণের জন্য বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের আহ্বান জানাই।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও সভাপতি প্রফেসর বার্নি গ্লোভার আমাকে ১৯৭৫ সালে অস্ট্রেলিয়ার সাবেক প্রানমন্ত্রী অ্যাডওয়ার্ড গফ হুইটলামের বাংলাদেশ সফরকালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে তোলা কিছু দুর্লভ আলোকচিত্র প্রদান করেন।
অ্যাডওয়ার্ড হুইটলাম ১৯৭১ সালে সংসদে বিরোধী দলে থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অস্ট্রেলিয়া সরকারের সমর্থন আদায়ে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।
ঐদিন বিকেলে আমি অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী ম্যালকম টার্নবুলের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হই। বৈঠকে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রার ভূয়সী প্রশংসা করেন।
তিনি বলেন বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে চলমান সংকট ধৈর্যের সঙ্গে মোকাবিলা করায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়েছে। রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানে তার সরকারের বাংলাদেশের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।
আমি রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে অস্থায়ীভাবে আশ্রয় দেওয়া এবং গৃহীত পদক্ষেপসমূহ টার্নবুলকে অবহিত করি।
বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয় এবং এক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধির উপায় খুঁজে বের করতে আমরা উভয়ে সম্মত হই। বাংলাদেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনে অস্ট্রেলিয়া থেকে জ্বালানি আমদানি বিষয়ে আলোচনা হয়।
আমি তাকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানালে তিনি তা গ্রহণ করেন। পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে সুবিধাজনক সময়ে এ সফর অনুষ্ঠিত হবে।
এছাড়া অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নের Royal Melbourne Institute of Technology (RMIT) বিশ্ববিদ্যালয়ের Deputy Pro-Vice Chancellor Professor Geoffrey Stokes আমার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
একই দিন সন্ধ্যায় আমি অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসকারী বাংলাদেশিদের আয়োজনে এক নাগরিক সম্বর্ধনায় যোগ দেই।
অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশের অন্যতম বন্ধুপ্রতীম রাষ্ট্র। উন্নত বিশ্ব থেকে অস্ট্রেলিয়া সর্বপ্রথম ১৯৭২ সালের ৩১-এ জানুয়ারি স্বাধীন বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে। জাতীয় ও আঞ্চলিক ইস্যুতে দুদেশের অভিন্ন অবস্থান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে গভীরতর করেছে। আমার এ সফর দুদেশের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
স্বল্প সময়ের ব্যবধানে এই ৩টি সফর অনুষ্ঠিত হয়। সবগুলোই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এই সফরগুলোর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ফোরামে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল হয়েছে বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস।

সবাইকে ধন্যবাদ।
খোদা হাফেজ।
জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু
বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।
২ মে ২০১৮।

শ্রেণী:

বিএনপি ‘নাকে খত’ দিয়েই নির্বাচনে আসবে

Posted on by 0 comment
55

55উত্তরণ প্রতিবেদন: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে আগাম নির্বাচন এবং বিএনপির সঙ্গে নির্বাচন নিয়ে সংলাপের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়ে বলেছেন, তার সরকার এমন কোনো দৈন্যদশায় পড়েনি যে আগাম নির্বাচন দিতে হবে আর আগামী নির্বাচন নিয়ে বিএনপির সঙ্গে আলোচনার কোনো প্রয়োজন নেই। কোন দল নির্বাচনে এলো কি এলো না সেটি সম্পূর্ণই সেই দলটির রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। নির্বাচন করতে চাইলে আসবে, নইলে আসবে না। এ ব্যাপারে সরকারের কিছু করণীয় নেই। তবে গতবার বিএনপি যে ভুল করেছে আমার মনে হয় এবার তা করবে না। বিএনপি নাকে খত দিয়েই এবার নির্বাচনে আসবে।
গত ৭ ডিসেম্বর বিকেলে তার সরকারি বাসভবন গণভবনে জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে একাধিক প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। আগামী নির্বাচনেও তার দলের বিজয়ের ব্যাপারে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা স্বাধীনতার সপক্ষের রাজনীতি করে, জনগণের কল্যাণে কাজ করে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চায়, আমরা চাই তারাই ক্ষমতায় আসুক। কোনো যুদ্ধাপরাধী, স্বাধীনতাবিরোধী, দুর্নীতিবাজ, বিদেশে অর্থ পাচারকারী, জঙ্গিবাদ সৃষ্টিকারী খুনিদের দল ক্ষমতায় এলে দেশ আবারও ধ্বংস হয়ে যাবে। যারা বর্তমান উন্নয়নের গতিধারা অব্যাহত রাখতে পারবে, দেশকে আর পেছনের দিকে টানবে না, আমরা চাই তারাই নির্বাচিত হবে। দেশের জনগণও এটাই চায়। তাই আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস, বর্তমান উন্নয়ন ও সফলতার গতিধারা অব্যাহত রাখতে দেশের জনগণ আগামী নির্বাচনেও আওয়ামী লীগকেই ভোট দেবে। আগামীতে আমরা আরও নতুন নতুন আসনে বিজয়ী হব বলেই আমরা দৃঢ় বিশ্বাস।
প্রধানমন্ত্রী কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, এবার কেউ নির্বাচনে না এসে আগুনসন্ত্রাস করলে জনগণই তার জবাব দেবে। জনগণই ব্যবস্থা নেবে। সৌদি আরবে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিপুল অঙ্কের অর্থ পাচার সংক্রান্ত বিশ্বের গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, দেশের মানুষই এর বিচার করবে আর দেশের প্রচলিত আইনানুযায়ীও তার বিচার হওয়া উচিত। অবশ্যই তার বিচার হবে আর সাজাপ্রাপ্ত আসামি তারেক রহমানকে দেশে ফেরত আনতেও ব্রিটিশ সরকারের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। একদিন না একদিন তারেক রহমানকেও আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে।
সম্প্রতি তার কম্বোডিয়া সফর সম্পর্কে বিভিন্ন দিক তুলে ধরতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হলেও প্রায় এক ঘণ্টার প্রশ্নোত্তর পর্বে দেশের সর্বশেষ রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আগামী নির্বাচন, জিয়া পরিবারে বিদেশে অর্থ পাচার, বিএনপির সঙ্গে সংলাপ, রোহিঙ্গা ইস্যু, ফিলিস্তিন নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্তসহ নানা বিষয়ে দেশের শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যমের সম্পাদক প্রধানদের নানা প্রশ্নের সাবলীলভাবেই উত্তর দেন প্রধানমন্ত্রী। সংবাদ সম্মেলন মঞ্চে ছিলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী এমপি। এছাড়া সেখানে দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা, সরকারের মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাগণ ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এ প্রসঙ্গে গত নির্বাচনের আগে নির্বাচনে নিয়ে আসতে বিএনপি প্রধান খালেদা জিয়াকে টেলিফোন করে গণভবনে দাওয়াত প্রদানের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, একবার তার (খালেদা জিয়া) সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলে আমন্ত্রণ জানিয়ে যে ঝাড়ি খেয়েছি, যে অপমানিত হয়েছি। আর তেমন ঝাড়ি খাওয়ার বা অপমানিত হওয়ার ইচ্ছে নেই। যাদের মধ্যে সামান্যতম ভদ্রতাজ্ঞানটুকু নেই, তাদের সঙ্গে আলোচনা করার কথা বলেন কোন মুখে। আমার ওপর আপনারা এত জুলুম করেন কেন? ছেলের মৃত্যুর পর প্রধানমন্ত্রী হয়েও তার (খালেদা জিয়া) সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলাম। কিন্তু দরজায় তালা বন্ধ করে দিয়ে আমাকে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। পকেট গেট দিয়েও ঢুকতে দেয়নি। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা করে আমাকে হত্যার চেষ্টা করেছে। তারপরও দেশের স্বার্থে আর বঙ্গবন্ধুর কন্যা বলেই তাদের সঙ্গে কথা বলার উদ্যোগ নিয়েছিলাম।
এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, জিয়াউর রহমানকে মেজর থেকে মেজর জেনারেল বানিয়েছেন আমার বাবা (বঙ্গবন্ধু)। বউ (খালেদা জিয়া) উনি প্রায়শই আমাদের বাড়িতে আসতেন। আমাদের বাসার নিচে মোড়া পেতে বসে থাকতেন। তাকে (জিয়াউর রহমান) অনেকে বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক বলেন! অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে উনি যুদ্ধাপরাধীদের রাজনীতি করার সুযোগ দিয়েছেন, নিষিদ্ধ জামায়াতে ইসলামীসহ স্বাধীনতাবিরোধীদের রাজনীতি করার সুযোগ করে দিয়েছেন, বঙ্গবন্ধুর হত্যার বিচারের পথ বন্ধ করে দিয়ে খুনিদের বিভিন্ন দূতাবাসে চাকরি দিয়ে পুরস্কৃত করেছেন। এটাই কী তার (জিয়াউর রহমান) বহুদলীয় রাজনীতি? প্রতিদিন রাতে কার্ফু দিয়ে দেশ চালানোকে বহুদলীয় গণতন্ত্র বলে?
খালেদা জিয়ারই ক্ষমা চাওয়া উচিত : ‘শেখ হাসিনাকে ক্ষমা করে দিয়েছি’Ñ সম্প্রতি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার এমন মন্তব্য সম্পর্কে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাকে কেন ক্ষমা করবে? আমি কী করেছি? বরং উনার (খালেদা জিয়া) উল্টো মাফ চাওয়া উচিত। আসলে উনি কি ক্ষমা করেছেন, না ক্ষমা চেয়েছেনÑ এ ক্ষমার বিষয়টি স্পষ্ট নয়। তার উচিত দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চাওয়া। আমি কোনো অপরাধ করেছি না-কি যে আমাকে ক্ষমা করতে হবে?
এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ক্ষমতায় থাকতে সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়া, সংসদ সদস্য আহসানউল্লাহ মাস্টারসহ অসংখ্য মানুষকে হত্যা করিয়েছেন। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় আমি বেঁচে গিয়েছিলাম, এর জন্য কী আমাকে ক্ষমা করেছেন? ওই হামলায় আমি প্রাণে রক্ষা পেলেও আইভি রহমানসহ ২২ নেতাকর্মী নিহত হয়েছে। এ জন্য বরং খালেদা জিয়ারই জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত।
খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, খালেদার বিরুদ্ধে যে মামলা তা আমাদের সরকার দেয়নি; বরং আমার বিরুদ্ধে তো বিএনপি এক ডজন মামলা দিয়েছে। খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে যারা মামলা দিয়েছে সেই মঈনুদ্দিন-ফখরুদ্দীনরা তো তাদেরই নিজেদের লোক। খালেদা জিয়াই ৯ জনকে ডিঙ্গিয়ে মঈন-উ আহমদকে সেনাপ্রধান করেছিলেন, জাতিসংঘ থেকে এনে ফখরুদ্দীন আহমদকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গর্ভনর করেছিলেন। তারাই তো এই মামলা করেছেন।
তিনি বলেন, এই মামলা থেকে তার (খালেদা জিয়া) পলায়নপর নীতি আপনারা তা দেখেছেন। ১৫০ বার মামলার স্ট্রে নিয়েছেন, ২২-২৩ বার মামলা বন্ধ করতে রিট করেছেন আর কোর্টে যাওয়া নিয়েও তা-ব হয়েছে। এর আগে উনি হাজিরা দেওয়ার সময় আওয়ামী লীগের এমপি ছবি বিশ্বাসের গাড়ি ভাঙচুর করেছে, আগুন দিয়েছেন। এবার পুলিশের গাড়িতে আগুন দিয়েছেন। যখনই উনি বেরুচ্ছেন তখনই একটা না একটা ঘটনা ঘটাচ্ছেন। এর আগে নির্বাচন ঠেকানোর নামে শত শত মানুষকে পুড়িয়ে পুড়িয়ে হত্যা করেছেন। এ জন্য খালেদা জিয়ারই উচিত দেশবাসীর সামনে ক্ষমা চাওয়া।
অবৈধ ক্ষমতা দখলকারীরা দেশকে ৩০ বছর পিছিয়ে দিয়েছে : অপর এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার ৪৬ বছরের মধ্যে ৩০ বছরই দেশের মানুষ ছিল অবহেলিত, বঞ্চিত আর এই ৩০ বছরই ছিল হত্যা-ক্যু-ষড়যন্ত্রের রাজনীতি, দুর্নীতি-দুঃশাসন, বিদেশে অর্থ পাচার, জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাস-খুন আর ভোট কারচুপির ইতিহাস। ত্রিশটা বছর দেশের মানুষের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হয়েছে। কিন্তু বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার মাত্র আট বছরে দেশের যে উন্নয়ন করেছে তা কেউ করতে পারেনি। একমাত্র আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলেই দেশের মানুষের জন্য কাজ করে এটা আমরা প্রমাণ করেছি।
শত ফুল ফুটতে দিন : আসন্ন নির্বাচনে সারাদেশে আওয়ামী লীগের একাধিক প্রার্থিতা সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শত ফুল ফুটতে দিন, এটা রাজনৈতিক তাদের অধিকার। তবে সব থেকে যেটা ভালো ফুল সেটাই আমরা বেছে নেব। সময় হলেই সবাই তা দেখতে পারবেন আর আওয়ামী লীগ একটা বড় রাজনৈতিক দল। মনোনয়ন চাওয়া তাদের রাজনৈতিক অধিকার। নির্বাচনী হাওয়া বইয়ে যাওয়া ভালো। দেশের মানুষ গণতন্ত্রের সুবাতাস গ্রহণ করেছে, নির্বাচনী হাওয়া বয়ে যাওয়া মানেই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থারই একটি বড় প্রমাণ।

শ্রেণী:

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে ৫ দফা

Posted on by 0 comment
25
25

আমার হৃদয় আজ দুঃখে ভারাক্রান্ত। কেননা আমার চোখে বারবার ভেসে উঠছে ক্ষুধার্ত, ভীত-সন্ত্রস্ত এবং নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের মুখচ্ছবি। আমি মাত্র কয়েকদিন আগেই আমার দেশে আশ্রয় নেওয়া কয়েক লাখ রোহিঙ্গার সঙ্গে দেখা করে এসেছি, যারা ‘জাতিগত নিধনে’র শিকার হয়ে আজ নিজ দেশ থেকে জোরপূর্বক বিতাড়িত।

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
জনাব সভাপতি,
আসসালামু আলাইকুম এবং এড়ড়ফ অভঃবৎহড়ড়হ / ঊাবহরহম.
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭২তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় আমি আপনাকে আন্তরিক ও উষ্ণ অভিনন্দন জানাচ্ছি। আপনার দায়িত্ব পালনে আমার প্রতিনিধি দলের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিচ্ছি। মানবকল্যাণ, শান্তি ও টেকসই ধরিত্রী আপনার এই তিন প্রাধিকারের প্রতি আমার অকুণ্ঠ সমর্থন জ্ঞাপন করছি।
জনাব সভাপতি, সাধারণ পরিষদের এই মহান অধিবেশনে বক্তব্য দিতে আমি চতুর্দশবারের মতো উপস্থিত হয়েছি। তবে আমার হৃদয় আজ দুঃখে ভারাক্রান্ত। কেননা আমার চোখে বারবার ভেসে উঠছে ক্ষুধার্ত, ভীত-সন্ত্রস্ত এবং নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের মুখচ্ছবি। আমি মাত্র কয়েকদিন আগেই আমার দেশে আশ্রয় নেওয়া কয়েক লাখ রোহিঙ্গার সঙ্গে দেখা করে এসেছি, যারা ‘জাতিগত নিধনে’র শিকার হয়ে আজ নিজ দেশ থেকে জোরপূর্বক বিতাড়িত। অথচ তারা হাজার বছরেরও অধিক সময় যাবত মিয়ানমারে বসবাস করে আসছেন।
এদের দুঃখ-দুর্দশা আমি গভীরভাবে অনুধাবন করতে পারি। ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট আমার বাবা, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করার পর আমি আমার ছোট বোনকে নিয়ে ছয় বছর উদ্বাস্তু জীবন কাটিয়েছি।
১৯৭৪ সালে বাংলাদেশের হয়ে প্রথমবারের মতো এখানে ভাষণ দেয়ার সময় এই মঞ্চে দাঁড়িয়ে আমার বাবা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শান্তি ও ন্যায়বিচারের পক্ষে তার অঙ্গীকারের কথা বলে গেছেন।
সেই ভাষণে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব বলেছিলেন, ‘এমন এক বিশ্বব্যবস্থা গঠনে বাঙালি জাতি উৎসর্গীকৃত, যে ব্যবস্থায় সকল মানুষের শান্তি ও ন্যায়বিচার লাভের আকাক্সক্ষা প্রতিফলিত হবে। এবং আমি জানি আমাদের এ প্রতিজ্ঞা গ্রহণের মধ্যে আমাদের লাখ লাখ শহীদের বিদেহী আত্মার স্মৃতি নিহিত রয়েছে।’
জনাব সভাপতি, আমরা এই মুহূর্তে নিজ ভূখ- হতে জোরপূর্বক বিতাড়িত ৮ লাখেরও অধিক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় ও সুরক্ষা দিয়ে যাচ্ছি। আপনারা সকলেই জানেন যে, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চলমান নৃশংসতা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের ফলে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে অবস্থার ভয়াবহ অবনতি ঘটেছে। এই নৃশংসতার হাত থেকে বাঁচার জন্য প্রতিদিন হাজার হাজার রোহিঙ্গা সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। আন্তর্জাতিক আভিবাসন সংস্থার তথ্যমতে গত তিন সপ্তাহে ৪ লাখ ৩০ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করেছে। রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত যাওয়া ঠেকানোর জন্য মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ মিয়ানমারের অভ্যন্তরে সীমানা বরাবর স্থলমাইন পুঁতে রাখছে। এতে আমরা ভীষণভাবে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত। এসব মানুষ যাতে নিরাপদে এবং মর্যাদার সঙ্গে নিজ দেশে ফিরে যেতে পারেন এখনই তার ব্যবস্থা করতে হবে।
একই সঙ্গে আমি সব ধরনের সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের প্রতি নিন্দা জ্ঞাপন করছি। এ বিষয়ে আমাদের সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি মেনে চলে।
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চলমান সহিংসতা বন্ধে এবং ঐ অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় সক্রিয় উদ্যোগ গ্রহণ করায় আমি নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য রাষ্ট্রসমূহ ও জাতিসংঘের মহাসচিবকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
রোহিঙ্গা সমস্যার স্থায়ী সমাধানে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের জন্য আমি জাতিসংঘ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আহ্বান জানাচ্ছি। এ প্রসঙ্গে আমি কিছু সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব পেশ করছিÑ
প্রথমত, অনতিবিলম্বে এবং চিরতরে মিয়ানমারে সহিংসতা ও ‘জাতিগত নিধন’ নিঃশর্তে বন্ধ করা;
দ্বিতীয়ত, অনতিবিলম্বে মিয়ানমারে জাতিসংঘের মহাসচিবের নিজস্ব একটি অনুসন্ধানী দল (ঋধপঃ ঋরহফরহম গরংংরড়হ) প্রেরণ করা;
তৃতীয়ত, জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সকল সাধারণ নাগরিকের নিরাপত্তা বিধান করা এবং এ লক্ষ্যে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে সুরক্ষা বলয় (ংধভব ুড়হবং) গড়ে তোলা;
চতুর্থত, রাখাইন রাজ্য হতে জোরপূর্বক বিতাড়িত সকল রোহিঙ্গাকে মিয়ানমারে তাদের নিজ ঘরবাড়িতে প্রত্যাবর্তন ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করা;
পঞ্চমত, কফি আনান কমিশনের সুপারিশমালার নিঃশর্ত, পূর্ণ এবং দ্রুত বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা।
জনাব সভাপতি, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশ ভয়াবহতম গণহত্যার শিকার হয়। ৯ মাসব্যাপী চলা মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি দখলদার বাহিনী ৩০ লাখ নিরীহ মানুষকে হত্যা করেছে এবং ২ লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমহানি করেছে। জাতি, ধর্ম, বর্ণ এবং রাজনৈতিক বিশ্বাসের ভিত্তিতে চিহ্নিত ব্যক্তি এবং গোষ্ঠীকে নির্মূল করার উদ্দেশ্যে তারা এই হত্যাযজ্ঞ চালায়। বাঙালি জাতিকে মেধাশূন্য করতে তারা দেশের বরেণ্য বুদ্ধিজীবীদের নৃশংসভাবে হত্যা করে।
গণহত্যার শিকার শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ সম্প্রতি ২৫শে মার্চকে ‘গণহত্যা দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করেছে। মূলত ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতেই ‘অপারেশন সার্চলাইট’-এর মাধ্যমে তারা এই গণহত্যার সূচনা করেছিল।
এই গণহত্যার সঙ্গে জড়িত মূল অভিযুক্তদের আমরা ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে বিচারের মুখোমুখি করেছি।
বিশ্বের কোথাও যাতে কখনই আর এ ধরনের জঘন্য অপরাধ সংঘটিত না হয় সেজন্য আমি বিশ্ব সম্প্রদায়কে সম্মিলিত পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছি। আমি বিশ্বাস করি, ’৭১-এর গণহত্যাসহ সকল ঐতিহাসিক ট্র্যাজেডির আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আমাদের এ লক্ষ্য অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
জনাব সভাপতি, স্বাধীন জাতি হিসেবে আত্মপ্রকাশের পর থেকেই আমরা শান্তিকেন্দ্রিক অভ্যন্তরীণ এবং পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করে চলেছি। এ উপলব্ধি থেকেই সাধারণ পরিষদে ২০০০ সাল থেকে প্রতিবছর ‘শান্তির সংস্কৃতি’ (পঁষঃঁৎব ড়ভ ঢ়বধপব) শীর্ষক প্রস্তাব পেশ করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সর্বদা অগ্রণী ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্য শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরু করা এবং ভ্রাতৃপ্রতীম ফিলিস্তিনি জনগণের বিরুদ্ধে সব ধরনের বৈষম্য এবং শত্রুতা নিরসনের জন্য আমি সকলের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।
আমরা আশা করি, শান্তিবিনির্মাণে জাতিসংঘের কার্যকর ভূমিকা অব্যাহত থাকবে। এ লক্ষ্যে ‘অব্যাহত শান্তি’র জন্য অর্থায়ন বিষয়ে জাতিসংঘ মহাসচিবের কাছ থেকে আমরা সাহসী এবং উদ্ভাবনমূলক প্রস্তাব প্রত্যাশা করছি। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ‘জাতিসংঘ শান্তিবিনির্মাণ তহবিলে’ আমি ১ লাখ মার্কিন ডলার প্রতীকী অনুদান প্রদানের ঘোষণা দিচ্ছি।
জনাব সভাপতি, জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অন্যতম সেনা ও পুলিশ সদস্য প্রদানকারী দেশ হিসেবে বাংলাদেশ জাতিসংঘ শান্তি মিশনসমূহের কার্যকারিতা এবং বিশ্বাসযোগ্যতা সমুন্নত রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করে।
এক্ষেত্রে আমরা আমাদের নিজস্ব প্রস্তুতি এবং সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রক্রিয়া বজায় রেখে চলছি। যে কোনো জরুরি পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিক অঙ্গীকার প্রদান, শান্তিরক্ষীদের প্রশিক্ষণের সুযোগ বৃদ্ধি এবং অধিক সংখ্যায় নারী শান্তিরক্ষী মোতায়েনে আমরা সদাপ্রস্তুত রয়েছি।
এ প্রেক্ষাপটে ‘যৌন নিপীড়ন’ সংক্রান্ত যে কোনো অভিযোগের বিষয়ে আমরা ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি মেনে চলি। আমাদের এই নীতির প্রতিফলন হিসেবে আমরা জাতিসংঘ মহাসচিব কর্তৃক প্রস্তাবিত ‘যৌন নিপীড়ন’ সংক্রান্ত ঠড়ষঁহঃধৎু ঈড়সঢ়ধপঃ-এ সমর্থন প্রদান করেছি। ‘যৌন নিপীড়ন’ সংক্রান্ত সমস্যা মোকাবিলায় আমি মহাসচিবের ‘সার্কেল অব লিডারশিপ’-এর প্রতি অঙ্গীকারাবদ্ধ।
এছাড়া, এ বিষয়ে গঠিত ‘ভিকটিম সাপোর্ট তহবিলে’ প্রতীকী অনুদান হিসেবে আমি ১ লাখ মার্কিন ডলার অনুদানের ঘোষণা দিচ্ছি।
জনাব সভাপতি, সন্ত্রাসবাদ এবং সহিংস জঙ্গিবাদ শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং উন্নয়নের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি। একজন সন্ত্রাসীর কোনো ধর্ম, বর্ণ বা গোত্র নেই। আমি নিজে বেশ কয়েকবার সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়েছি। সে হিসেবে আমি সন্ত্রাসের শিকার মানুষের প্রতি আমার সহানুভূতি প্রকাশ করছি। আমি মনে করি তাদের সুরক্ষা দেওয়া প্রয়োজন।
আমরা ধর্মের নামে যে কোনো সহিংস জঙ্গিবাদের নিন্দা জানাই। সহিংস জঙ্গিবাদ বিস্তার রোধে তৃণমূল পর্যায়ে আমরা পরিবার, নারী, যুবসমাজ, গণমাধ্যম এবং ধর্মীয় নেতাদের সম্পৃক্ত করেছি। বৈশ্বিক এ সমস্যা মোকাবেলায় আমার প্রস্তাব হচ্ছেÑ
এক. সন্ত্রাসীদের অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ করতে হবে;
দুই. সন্ত্রাসবাদে অর্থায়ন বন্ধ করতে হবে এবং
তিন. শান্তিপূর্ণ উপায়ে আন্তর্জাতিক বিবাদ মীমাংসা করতে হবে।
অর্থ পাচার, সন্ত্রাসবাদে অর্থায়ন এবং অন্যান্য আন্তঃরাষ্ট্রীয় সংঘবদ্ধ অপরাধের ক্ষেত্রে সাইবার জগৎ থেকে উদ্ভূত হুমকি মোকাবিলা এখন জরুরি হয়ে পড়েছে। এক্ষেত্রে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে আমি জাতিসংঘের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।
জনাব সভাপতি, বাংলাদেশ নিরাপদ, সুশৃঙ্খল এবং নিয়মিত অভিবাসনকে উৎসাহিত করে। এষড়নধষ ঈড়সঢ়ধপঃ ড়হ ংধভব ড়ৎফবৎষু ধহফ ৎবমঁষধৎ সরমৎধঃরড়হ-এর মাধ্যমে একটি সুস্থ ধারার অভিবাসন-কাঠামো তৈরির জন্য গত বছর আমরা একটি প্রস্তাব পেশ করেছি।
আমি অত্যন্ত আনন্দিত যে, এ প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে আজ অভিবাসন এবং উদ্বাস্তু সংক্রান্ত ঈড়সঢ়ধপঃ গঠনের বিষয়ে জাতিসংঘে আলোচনা চলছে।
জনাব সভাপতি, জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে প্যারিস চুক্তির বাস্তবায়নে আমরা আশাবাদী। জাতীয় পর্যায়ে জলবায়ু সংবেদনশীলতার দিকে লক্ষ্য রেখে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলায় আমরা কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। সামুদ্রিক সম্পদের টেকসই ব্যবহার এবং সামুদ্রিক পরিবেশ রক্ষার ক্ষেত্রে ‘ব্লু ইকনোমি’র সম্ভাবনার প্রতি আমরা আস্থাশীল।
বাংলাদেশ বন্যা এবং অন্যান্য দুর্যোগ মোকাবিলায় দৃষ্টান্তমূলক সাফল্য দেখিয়েছে।  খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের লক্ষ্যে আমরা শস্য-নিবিড়করণ প্রযুক্তি এবং বন্যা-প্রতিরোধী ফসলের জাত উদ্ভাবন করেছি। এ বছর বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশে যে ব্যাপক বন্যা আঘাত হেনেছে আমরা তা সফলভাবে মোকাবিলা করেছি।
পানি বিষয়ক উচ্চ পর্যায়ের প্যানেলের সদস্য হিসেবে আমি এ সংক্রান্ত ‘সমন্বিত কর্ম-পরিকল্পনা’ বাস্তবায়নে অগ্রাধিকার প্রদান করছি। ২০১৫ সালের মধ্যে আমরা আমাদের ৮৭ শতাংশ নাগরিকের জন্য নিরাপদ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করেছি। ২০৩০ সালের মধ্যে শতভাগ জনগণকে নিরাপদ পানি সরবরাহের আওতায় আনা হবে।
জনাব সভাপতি, আমরা মনে করি শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং উন্নয়নের মধ্যে নিবিড় সম্পর্ক বিদ্যমান। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে, শান্তিপূর্ণ, ন্যায়ভিত্তিক এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনের জন্য দারিদ্র্য, ক্ষুধা, নিরক্ষরতা এবং বেকারত্ব দূর করা অত্যন্ত জরুরি।
টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে আমরা অঙ্গীকারাবদ্ধ। এক্ষেত্রে আমাদের সরকার সমাজের সকলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার নীতি গ্রহণ করেছে। ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে মধ্যম-আয়ের এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশ হিসেবে রূপান্তরের যে রূপকল্প আমরা হাতে নিয়েছি, এসডিজি তারই পরিপূরক হিসেবে কাজ করছে।
মূলত এসডিজি গ্রহণের অনেক আগে থেকেই আমরা বেশকিছু কর্মসূচি এবং সামাজিক নীতি বাস্তবায়ন শুরু করেছি যা পরবর্তীকালে এসডিজি’তেও প্রতিফলিত হয়েছে। এসব কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে : একটি বাড়ি একটি খামার, কমিউনিটি ক্লিনিক, আশ্রয়ণ প্রকল্প, ডিজিটাল বাংলাদেশ, শিক্ষা সহায়তা কর্মসূচি, নারীর ক্ষমতায়ন, সবার জন্য শিক্ষা, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং বিনিয়োগ ও উন্নয়ন।
এসডিজি অর্জনের ক্ষেত্রে আমাদের অগ্রগতি এবং অঙ্গীকারের বিষয়গুলো আমরা এ বছর জাতিসংঘে ‘ভলান্টারি ন্যাশনাল রিভিউ’-এর মাধ্যমে তুলে ধরেছি।
জনাব সভাপতি, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৭ দশমিক ২৪ শতাংশ। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বর্তমানে ৩২.১ বিলিয়ন ডলার। দারিদ্র্যের হার ১৯৯১ সালের ৫৬.৭ শতাংশ হতে কমে বর্তমানে ২৩.২ শতাংশ হয়েছে।
মাথাপিছু আয় ২০০৫-০৬ অর্থবছরের ৫৪৩ মার্কিন ডলার থেকে বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে ১ হাজার ৬০২ মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে। মানুষের গড় আয়ু ৭২ বছরে উন্নীত হয়েছে। এ সকল সূচক মূলত আমাদের অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন পরিকল্পনার বাস্তবায়নকেই নির্দেশ করে।
অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি, বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা এবং সকলের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ নিশ্চিত করতে আমরা সারাদেশে ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছি।
ব্যাপকভিত্তিক সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কর্মসূচির আওতায় আমরা সমাজের সবচেয়ে অসহায় ব্যক্তি যেমন বয়স্ক ব্যক্তি, প্রতিবন্ধী, পারিবারিক সহিংসতার শিকার নারী এবং আর্থিকভাবে দুর্দশাগ্রস্তদের সহায়তা করছি। শারীরিক এবং মানসিক প্রতিবন্ধীদের সুপ্ত প্রতিভাকে বিকশিত করতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। অটিজমসহ অন্যান্য প্রতিবন্ধকতায় আক্রান্তদের প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের জন্য ১০৩টি সেবাকেন্দ্র এবং ৩২টি মোবাইল থেরাপি ভ্যান কাজ করছে।
তৃণমূল পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে সারাদেশে সাড়ে ১৮ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিক এবং ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। জেলা ও উপজেলা হাসপাতাল হতে মোবাইল ফোন ও ওয়েব ক্যামেরার মাধ্যমে স্বাস্থ্যবিষয়ক পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
প্রতিটি গ্রামে একটি করে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন করা হয়েছে। দেশের ৩৮ হাজার ৩৩১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ডিজিটাল এবং মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন করা হয়েছে। যুবসমাজকে কারিগরি এবং বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ প্রদানে গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।
জনাব সভাপতি, ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ বিনির্মাণের মাধ্যমে জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনে আমাদের যুবসমাজ মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে। আমরা এমন একটি পরিবেশ তৈরির জন্য কাজ করছি যেখানে তারা যুগোপযোগী শিক্ষা গ্রহণ করে কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবে এবং প্রকৃত অর্থেই বিশ্ব নাগরিকে পরিণত হবে।
আমি অত্যন্ত আনন্দের সাথে ঘোষণা করতে চাই যে, এ বছরের মধ্যেই আমরা প্রথমবারের মতো বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ মহাকাশে উৎক্ষেপণ করার পরিকল্পনা নিয়েছি।
জনাব সভাপতি, সবশেষে আমি বলতে চাই, আমরা যুদ্ধ চাই না, শান্তি চাই। আমরা অর্থনৈতিক উন্নতি চাই, মানব ধ্বংস নয় মানবকল্যাণ চাই। এটাই হোক আমাদের সকলের লক্ষ্য।

খোদা হাফেজ
জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু
বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।
২১ সেপ্টেম্বর ২০১৭

শ্রেণী:

‘রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান করব’

Posted on by 0 comment
9

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা বলেন, মানুষ মানুষের জন্য। বিপন্ন মানুষকে আশ্রয় দেওয়া যে কোনো মানুষের দায়িত্ব। রোহিঙ্গারা মানবেতর জীবনযাপন করছিল। মিয়ানমার যেভাবে অত্যাচার চালাচ্ছিল, তাতে স্বাভাবিকভাবেই তাদের আশ্রয় দিতে হয়েছিল।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশের ভূমিকার কারণেই মিয়ানমারের রোহিঙ্গা সংকট বিশ্ববাসীর মনোযোগ পেয়েছে। এ সংকট নিরসনে এখন বিশ্বব্যাপী নানা আলোচনা চলছে। আশ্রয় যখন দিয়েছি, তখন তাদের ভালোভাবে রেখে সম্মানের সঙ্গে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা নেব। জাতিসংঘ সফর শেষে দেশে ফেরার পর গত ৭ অক্টোবর সকালে ঢাকার শাহজালাল বিমানবন্দরে এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি। রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে মানবিকতা প্রদর্শনের পাশাপাশি জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে বক্তৃতায় এই সংকটের প্রতি বিশ্ববাসীর মনোযোগ আকর্ষণ করায় শেখ হাসিনাকে এই সংবর্ধনা দেওয়া হয়। রোহিঙ্গা সংকটে সাহসী সিদ্ধান্ত ও উদার মনের পরিচয় দেওয়ায় দেশে ফিরে সংবর্ধনায় সিক্ত হন শেখ হাসিনা। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা বলেন, মানুষ মানুষের জন্য। বিপন্ন মানুষকে আশ্রয় দেওয়া যে কোনো মানুষের দায়িত্ব। রোহিঙ্গারা মানবেতর জীবনযাপন করছিল। মিয়ানমার যেভাবে অত্যাচার চালাচ্ছিল, তাতে স্বাভাবিকভাবেই তাদের আশ্রয় দিতে হয়েছিল। বাংলাদেশের মানুষ মানবতা দেখিয়েছে। আমরা কারও সাহায্যের জন্য অপেক্ষা করিনি। তবে যারা সহযোগিতা করেছেন, তাদের ধন্যবাদ। শেখ হাসিনা বলেন, অসহায় এই মানুষগুলোর জন্য তখনই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলামÑ যদি প্রয়োজন হয়, একবেলা খাব এবং আরেক বেলার খাবার তাদেরকে ভাগ করে দেব। বাংলাদেশ যদি এই উদ্যোগ না নিত, তবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়েরও এতটা দৃষ্টি কাড়ত না। তার বোন শেখ রেহানার উদ্ধৃতি দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, সে বলেছিল, ১৬ কোটি লোককে ভাত খাওয়াচ্ছ, আর ৭-৮ লাখ মানুষকে খাওয়াতে পারবা না! এই কথাটা আত্মবিশ্বাস দিয়েছিল। এছাড়া নেতাকর্মীরাও মানবিক দিক বিবেচনায় পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছেন। সব মিলিয়ে আমরা পেরেছি। তিনি বলেন, জাতির পিতা আমাদেরকে শিখিয়েছেন, মানুষকে সহায়তা করতে। যখন কোনো সিদ্ধান্ত নেই, তার চেয়েও বড় বিষয় দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া। আর সেই সিদ্ধান্ত যখন সঠিক হয়, সে সময়ই সফলতা পায়। সবার সমর্থন পাই। রোহিঙ্গা ইস্যুটিও ঠিক তেমনি। প্রশাসনের সর্বস্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারী এবং বাংলাদেশের মানুষের রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়ানোর বিষয়টি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের আত্মবিশ্বাস আছে বলেই আমরা এই চ্যালেঞ্জটা নিয়েছি। সমস্যা সমাধান না হওয়া পর্যন্ত ভাসানচরে পুনর্বাসন করার ঘোষণা পুনর্ব্যক্ত করে শেখ হাসিনা বলেন, এখন তারা যেভাবে আছে, সেভাবে থাকতে পারে না। আমি যাওয়ার আগেই নেভিকে টাকা দিয়ে গিয়েছিলাম। ভাসানচরে দুটি সাইক্লোন সেন্টার ও আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করা হবে। নোয়াখালীর লোকজন বলে ঠেঙ্গারচর, আর চিটাগাংয়ে বলে ভাসানচর। যেহেতু, এরা ভাসমান, তাই আমি বললাম, ভাসানচর নামটাই থাকুক। রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাতে আন্তর্জাতিকভাবে মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টির সফলতার কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন,  10-bআন্তর্জাতিকভাবে সচেতনতা সৃষ্টি হয়েছে। তারা (রোহিঙ্গা) যেন স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করতে পারে, সে ব্যবস্থা নিতে হবে। রোহিঙ্গা সংকটের মধ্যে মিয়ানমারের প্ররোচনায় বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য নিরাপত্তা বাহিনীকে ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মূল পরিস্থিতি অন্যদিকে ঘুরিয়ে দিতে ওই সময় মিয়ানমার নানাভাবে উসকানি দিয়েছে। মিয়ানমারের উসকানিতে যাতে পা দেওয়া না হয়, এ জন্য সেনাবাহিনীকে সতর্ক করেছি। মিয়ানমারকে ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারা এমন একটা ভাব দেখাল, যেন যুদ্ধই বেধে যাবে। উসকানি দেওয়া এবং এমন একটা পরিবেশ সৃষ্টি করতে চাইল, যেন বিশ্ব অন্যদিকে দৃষ্টি ফেরাবে। তখন আমি ধৈর্যের সঙ্গে মোকাবেলার কথা বলি। আমার নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত যেন কোনো কিছুতে না জড়াই, সে কথাও বলি। অন্যদিকে রোহিঙ্গারা যারা আসছেন, তাদের সহযোগিতায় যা যা দরকার তাই করতে থাকি। অনুষ্ঠানে পদ্মাসেতু প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নিজেদের টাকায় পদ্মাসেতু করতে পেরে দুর্নীতির কথা বলে যে অপমান করা হয়েছে, তার জবাব দিতে পেরেছি। বিশ্বব্যাংক আগে অপপ্রচার করেছে; কিন্তু তারা কোনো প্রমাণ দিতে পারেনি। এখন তাদের দুর্নীতি অনুসন্ধানের তদন্ত দলের প্রধান ব্যক্তির বিরুদ্ধে হাজার হাজার পৃষ্ঠার নথি বেরোচ্ছে। সত্যের জয় তাৎক্ষণিক হয় না। মিথ্যার জয় তাৎক্ষণিক। একপর্যায়ে গিয়ে সত্যের জয় হয়। আমাদের জয় হয়েছে। বাংলাদেশকে হেয় করতে চেয়েছিল। পারেনি। দুর্নীতির কথা বলে ওই সময় বিশ্বব্যাংকের তদন্তের নামে মানসিক অত্যাচার করেছে। আমাদের বিশ্বাস ছিল দুর্নীতি হয়নি। বিমানবন্দর থেকে গণভবন পর্যন্ত সর্বস্তরের মানুষের ঢল জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগদান শেষে দেশে ফেরা উপলক্ষে বিমানবন্দরে আওয়ামী লীগ ও ১৪ দলের শীর্ষ নেতা এবং বিশিষ্টজনদের পাশাপাশি রাজপথে হাজারো নেতাকর্মী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানায়। ৭ অক্টোবর ৯টা ২৫ মিনিটে বিজি-০০২ ভিভিআইপি ফ্লাইটে করে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন প্রধানমন্ত্রী। বিমান থেকে নামার পর আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান। এরপর প্রধানমন্ত্রী ভিভিআইপি টার্মিনাল লাউঞ্জে আসেন। সেখানে প্রথমে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা শেখ হাসিনাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। এরপর ১৪ দল ও বিশিষ্ট নাগরিকদের পক্ষ থেকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। একে একে 10-aপ্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানান শিক্ষক সমাজ, ক্রীড়াবিদ, গণমাধ্যম, শিল্পী-কবি সাহিত্যিক ও ব্যবসায়ীরা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সরকারের মন্ত্রী, উপদেষ্টা, আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরা ছাড়াও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, শিক্ষক, সাহিত্যিক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, বুদ্ধিজীবীসহ বিভিন্ন সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক ও যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি বক্তব্য দেন। সকাল সাড়ে ১০টায় প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর বিমানবন্দর ছেড়ে গণভবনের উদ্দেশে রওনা হয়। গণভবনে যাওয়ার পথে রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা হাজার হাজার নেতাকর্মী ফুল ছিটিয়ে, হাত নেড়ে ও স্লোগান দিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানান। প্রধানমন্ত্রীও হাত নেড়ে শুভেচ্ছা গ্রহণ করেন। সকাল থেকে ঢাকঢোল বাজিয়ে বর্ণিল ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে রাস্তার দুই পাশে অবস্থান নেন আওয়ামী লীগ, এর সহযোগী সংগঠনসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। প্রধানমন্ত্রীকে গণসংবর্ধনা জানানো উপলক্ষে বিমানবন্দর থেকে গণভবন পর্যন্ত সড়কসহ রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ অংশ বর্ণিল সাজে সাজানো হয়েছিল।

শ্রেণী: