মহান শিক্ষা দিবসের আলোকেই আজকের শিক্ষানীতি

uttaran

uttaranরায়হান কবির: ১৭ সেপ্টেম্বর মহান শিক্ষা দিবস। বাঙালি জাতির রাজনৈতিক সংগ্রামের গৌরবোজ্জ্বল ঐতিহ্যে শিক্ষা আন্দোলন এক অনন্য মাইলফলক। পৃথিবীর আর কোনো জাতিকে ভাষা, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক অধিকার আদায়ের জন্য বাঙালি জাতির ন্যায় এত সংগ্রাম ও আত্মত্যাগ করতে হয়নি। বাঙালি জাতির প্রায় সকল অধিকারই রক্তঝরা আন্দোলন-সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের মধ্যদিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
১৯৪৭ সালের অবৈজ্ঞানিক দ্বি-জাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে দেশভাগের পর পূর্ববাংলার জনগণ শিক্ষা, অর্থনীতি, সামরিক-বেসামরিক চাকরি, ব্যবসা-বাণিজ্য সর্বক্ষেত্রে চরম বিমাতাসুলভ ও বৈষম্যমূলক আচরণের শিকার হয়। বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির ওপর আগ্রাসন, রবীন্দ্রসংগীত চর্চায় নিষেধাজ্ঞা, নজরুলের কবিতার বিকৃতি যেমনÑ ‘মহাশ্মশান’-এর পরিবর্তে ‘গোরস্তান’, ‘সকালে উঠিয়া আমি মনে মনে বলি, সারাদিন আমি যেন ভাল হয়ে চলি’Ñ এর পরিবর্তে ‘ফজরে উঠিয়া আমি দিলে দিলে বলি, সারাদিন যেন আমি নেক হয়ে চলি’ ইত্যাদি অপতৎপরতা শিক্ষাবিদ ও সংস্কৃতিসেবীদের ক্ষুব্ধ করে তোলে।
১৯৫৯ সালের ৩০ ডিসেম্বর সামরিক শাসক আইয়ুব খান তৎকালীন শিক্ষা সচিব এসএম শরিফকে চেয়ারম্যান করে ১১ সদস্যবিশিষ্ট ‘জাতীয় শিক্ষা কমিশন’ গঠন করেন। গঠিত ওই কমিশন ১৯৫৯ সালের ২৬ আগস্ট তাদের প্রতিবেদন পেশ করে। এতে শিক্ষা বিষয়ে যেসব প্রস্তাবনা ছিল তা প্রকারান্তরে শিক্ষা সংকোচনের পক্ষে গিয়েছিল। প্রস্তাবিত প্রতিবেদনে বলা হয়, সস্তায় শিক্ষা ক্রয় করা যায় বলে যে ভুল ধারণা রয়েছে তা ত্যাগ করতে হবে। এতে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষার ক্ষেত্রেও শিক্ষার্থীদের বেতন বর্ধিত করার প্রস্তাব ছিল। এই তথাকথিত ‘জাতীয় শিক্ষানীতি’তে যেসব বিষয় সুপারিশ করা হয়েছিল তা ছিলÑ শিক্ষাকে ব্যয়বহুল পণ্যের মতো শুধু উচ্চবিত্তের সন্তানদের স্বার্থে উচ্চ শিক্ষাকে সীমিত করা এবং সাধারণের জন্য উচ্চ শিক্ষার সুযোগ একেবারেই সংকুচিত করে ফেলার ষড়যন্ত্র। শিক্ষা ব্যয় পুঁজিবিনিয়োগ হিসেবে দেখে শিক্ষার্থীরা তা বহন করা, যে অভিভাবক বেশি বিনিয়োগ করবেন তিনি বেশি লাভবান হবেন; অবৈতনিক শিক্ষার ধারণাকে ‘অবাস্তব কল্পনা’ বলে উল্লেখ; ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে ডিগ্রি পর্যন্ত ইংরেজি পাঠ বাধ্যতামূলক; উর্দুকে জনগণের ভাষায় পরিণত করা; সাম্প্রদায়িকতাকে কৌশলে জিইয়ে রাখার চেষ্টা ইত্যাদি।
ওই কমিশন বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বায়ত্তশাসনের পরিবর্তে পূর্ণ সরকারি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা, বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে রাজনীতি নিষিদ্ধ করা, ছাত্র-শিক্ষকদের কার্যকলাপের ওপর তীক্ষè নজর রাখার প্রস্তাব করে। শিক্ষকদের কঠোর পরিশ্রম করাতে ১৫ ঘণ্টা কাজের বিধান রাখা হয়। রিপোর্টের শেষ পর্যায়ে বর্ণমালা সংস্কারেরও প্রস্তাব ছিল। ছাত্রলীগ ও ছাত্র ইউনিয়নসহ বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন আইয়ুবের এই শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়।
১৯৬০ ও ১৯৬১ সালে এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকে। ঢাকা কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বহু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্ব-স্ব দাবির ভিত্তিতে জুলাই-আগস্ট মাসজুড়ে আন্দোলন চলতে থাকে। এ আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ১০ সেপ্টেম্বর সচিবালয় ঘেরাও কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। পরবর্তী সময়ে আন্দোলনকে বেগবান করার জন্য ১০ সেপ্টেম্বর সচিবালয় ঘেরাও কর্মসূচি বাতিল করে ১৭ সেপ্টেম্বর দেশব্যাপী হরতাল কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়। ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের নেতৃত্বে ১৭ সেপ্টেম্বর দেশব্যাপী হরতাল পালিত হয়। ছাত্রদের সাথে সাধারণ মানুষও হরতালে অংশ নেয়। ওই দিন সকাল ১০টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে হাজার হাজার মানুষ সমাবেশে উপস্থিত হন। সমাবেশ শেষে মিছিল বের হয়। মিছিল নবাবপুরের দিকে যাত্রা শুরু করে। কিন্তু হাইকোর্টের সামনে পুলিশ এতে বাধা দেয়। তখন মিছিলকারীরা সংঘাতে না গিয়ে আবদুল গনি রোডে অগ্রসর হয়। এ সময় পুলিশ মিছিলের পেছন থেকে লাঠিচার্জ, কাঁদানে গ্যাস ও গুলিবর্ষণ করে। ওই দিন পুলিশের গুলিতে বাবুল, মোস্তফা, ওয়াজিউল্লাহ শহিদ হন। ওই দিন শুধু ঢাকা নয়, সারাদেশে মিছিলের ওপর পুলিশ হামলা চালায়। এদিন টঙ্গীতে ছাত্র-শ্রমিক মিছিলে পুলিশের গুলিতে সুন্দর আলী নামে এক শ্রমিকেরও হত্যার খবর রয়েছে। বহু ছাত্র-জনতা পুলিশ ও ইপিআরের নির্যাতন ও গুলিতে সারাদেশে আহত হন।
১৭ সেপ্টেম্বরের ঘটনা ছাত্র আন্দোলনকে আরও বেগবান করে তোলে। ছাত্রসমাজ বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। সাধারণ জনগণ ছাত্রসমাজের প্রতি আরও দৃঢ় সমর্থন ব্যক্ত করেন। সারাদেশে তিন দিনব্যাপী শোকের কর্মসূচি ঘোষণা করে আন্দোলনের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখা হয়। ২৪ সেপ্টেম্বর পল্টন ময়দানে এক ছাত্র জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। জনগণের সমর্থিত ছাত্রসমাজের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন দমন করতে ব্যর্থ হয়ে আইয়ুবের সামরিক সরকার তথাকথিত ‘জাতীয় শিক্ষানীতি’ স্থগিত ঘোষণা করতে বাধ্য হয়।
গণবিরোধী শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে এবং একটি গণমুখী সার্বজনীন আধুনিক শিক্ষানীতির দাবিতে ছাত্র আন্দোলন ও শহিদদের আত্মদান তথা শিক্ষার ন্যায্য অধিকার ও সুযোগ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের প্রতীক ১৭ সেপ্টেম্বরকে সেদিন ‘শিক্ষা দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এরপর থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর ‘শিক্ষা দিবস’ হিসেবে পালিত হচ্ছে। বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলন ও পাকিস্তানি শাসন-শোষণ-নিপীড়নের বিরুদ্ধে সংগ্রামে শিক্ষা আন্দোলনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্বাধীনতার সংগ্রামে শিক্ষা আন্দোলনের চেতনা ছিল জাগরণের মন্ত্র।
গৌরবময় সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্যদিয়ে ৩০ লাখ শহিদের জীবনের বিনিময়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পর শিক্ষা আন্দোলনের চেতনা বাস্তবায়নে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। ১৯৭২ সালে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বভার গ্রহণের মাত্র ছয় মাসের মধ্যেই বঙ্গবন্ধু ১৯৭২ সালের ২৬ জুলাই বিশিষ্ট বিজ্ঞানী ড. কুদরত-ই-খুদার নেতৃত্বে বাংলাদেশ শিক্ষা কমিশন নিয়োগ করেন। কুদরত-ই-খুদা কমিশন দেড় বছর কঠোর পরিশ্রম করে ব্যাপক জরিপ ও পর্যালোচনাভিত্তিক বাংলাদেশের শিক্ষা সংস্কারের একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রণয়ন করে একটি রিপোর্ট ১৯৭৪ সালের ৩০ মে সরকারের নিকট দাখিল করেন। কমিশন রিপোর্টের অপেক্ষা না করে তিনি কতিপয় জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন। তিনি মার্চ ’৭১ থেকে ডিসেম্বর ’৭১ পর্যন্ত সময়কালের ছাত্রদের সকল বকেয়া টিউশন ফি মওকুফ করেন; শিক্ষকদের ৯ মাসের বকেয়া বেতন পরিশোধ করেন; আর্থিক সংকট থাকা সত্ত্বেও বঙ্গবন্ধু পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত সকল শিক্ষার্থীকে বিনামূল্যে পুস্তক বিতরণ করেন এবং অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষা অবৈতনিক ঘোষণা করেন।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার সংবিধানে শিক্ষা মৌলিক অধিকার এবং প্রত্যেক নাগরিকের জন্য শিক্ষা প্রাপ্তির নিশ্চয়তা প্রদান করে। বঙ্গবন্ধুর যুগান্তকারী পদক্ষেপ হচ্ছে তিনি দেশের সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়কে সরকারিকরণ করেন। বঙ্গবন্ধুর আরেকটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হচ্ছে জাতীয় সংসদে ১৯৭৩ সালের বিশ্ববিদ্যালয় আইন পাস করার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের স্বায়ত্তশাসন প্রদান। বঙ্গবন্ধু অফিস-আদালতে বাংলা প্রচলনের কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিলেন। সেনাবাহিনীসহ সকল অফিসে বাংলা চালু করা ছিল তাৎপর্যপূর্ণ। বাংলা একাডেমিতে সাঁটলিপি, মুদ্রাক্ষর ও নথি লেখার প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু করা হয়। জাতিসংঘে বাংলায় ভাষণ দিয়ে তিনি বাংলা ভাষার মর্যাদা বৃদ্ধি করেছিলেন। কিন্তু ড. কুদরত-ই-খুদা কমিশন স্বাধীন দেশের উপযোগী একটি আধুনিক গণমুখী শিক্ষানীতি প্রণয়ন করলেও ১৫ আগস্টের হত্যাকা-ের পর পরিস্থিতির পরিবর্তনের ফলে তা বাস্তবায়িত হয়নি। এরপর ১৫ আগস্টের সুবিধাভোগী গোষ্ঠী প্রায় অর্ধডজন শিক্ষানীতি প্রণয়ন করলেও তার অনেক কিছুই ছিল বাষট্টির শিক্ষা আন্দোলনের চেতনা-পরিপন্থী। রাজনীতির নামে ছাত্রদের হাতে অস্ত্র তুলে দেওয়া, সেশন জট সৃষ্টি, ছাত্রসমাজকে টেন্ডারবাজি ও চাঁদাবাজিতে যুক্ত করা, শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস সৃষ্টিসহ বিভিন্ন অপতৎপরতা চালায় ’৭৫-পরবর্তী সামরিক শাসকগোষ্ঠী ও তাদের উত্তরসূরিরা।
১৯৯৬ সালে দীর্ঘ ২১ বছর পর বঙ্গবন্ধু-কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ আবারও রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বভার গ্রহণ করলে শিক্ষা আন্দোলনের চেতনা বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। বঙ্গবন্ধুর শিক্ষা-দর্শন বাস্তবায়নের মধ্যদিয়ে শিক্ষার মান্নোনয়ন ঘটে। এ সময় একটি গণমুখী শিক্ষানীতি প্রণীত হয়। শিক্ষা খাতে দেওয়া হয় সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ। সাক্ষরতার হার বিএনপি আমলের ৪৪ শতাংশ থেকে বেড়ে ৬৫ শতাংশে দাঁড়ায়। কিন্তু ২০০১-এ বিএনপি-জামাত জোট ক্ষমতায় গিয়ে শিক্ষার হার ৬৫ থেকে ৪৪ শতাংশে নামিয়ে আনে। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ আবারও রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করায় শিক্ষার হার বৃদ্ধি পায়। বর্তমান শিক্ষার হার বৃদ্ধি পেয়ে ৭২ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।
বাষট্টির শিক্ষা আন্দোলনের মৌল চেতনা এবং একটি কল্যাণমুখী শিক্ষাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার কার্যক্রম যতটুকুই বাস্তবায়িত হয়েছে তা আওয়ামী লীগ আমলেই হয়েছে। আওয়ামী লীগ আমলেই প্রাথমিক বিদ্যালয়কে সরকারিকরণ, প্রাথমিক শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করা, সার্বজনীন শিক্ষার অধিকার, একটি যুগোপযোগী শিক্ষানীতি প্রণয়ন, মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত বিনামূল্যে বই বিতরণের মধ্যদিয়ে ধনী-গরিব সকলের জন্য শিক্ষাগ্রহণের অবাধ সুযোগ সৃষ্টি, বিশ্ববিদ্যালয়কে স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা প্রদান, দেশের বিভিন্ন স্থানে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট ও চিকিৎসা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, সেশনজটমুক্ত শিক্ষাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা, অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন, ভর্তি পরীক্ষা, পরীক্ষার ফল প্রকাশ প্রভৃতি কার্যক্রমের মধ্যদিয়ে শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও সহজলভ্য করা, দেশের প্রায় সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পর্যায়ক্রমে মাল্টিমিডিয়া ও ইন্টারনেট সংযোগ প্রদান, প্রধান শিক্ষকসহ শিক্ষকদের পদমর্যাদা, বেতন-ভাতা, ট্রেনিং ও দক্ষতা বাড়ানোর ব্যবস্থা করা, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়ক ট্রাস্ট ফান্ড গঠন করা, ছাত্রী উপবৃত্তির পাশাপাশি উপজেলা পর্যায়ে দরিদ্র ছাত্রদের জন্য উপবৃত্তি চালু, যুবশক্তিকে অধিক হারে বৃত্তিমূলক ও কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলতে বিভিন্ন বৃত্তিমূলক কোর্স চালুসহ শিক্ষাক্ষেত্রে যতটুকু অগ্রগতি সবই অর্জিত হয়েছে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে।

শ্রেণী:

ঢাকা কলেজ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ

Posted on by 0 comment
29

29রাজীব পারভেজ: দেশের ৩টি প্রধান ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠের প্রতিষ্ঠাকালীন সময় হলো ইংরেজি জুলাই মাসে। ১৮৪১ খ্রিস্টাব্দের ১৮ জুলাই ঢাকা কলেজ, ১ জুলাই ১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং ১০ জুলাই ১৯৪৬ সালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা লাভ করে। উত্তরণের জুলাই সংখ্যায় এই ৩টি বিদ্যাপীঠের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস নিয়ে পেছন ফিরে দেখা।

১. ঢাকা কলেজের ১৭৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী
ঐতিহ্যবাহী ঢাকা কলেজের ১৭৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করলেন শিক্ষার্থীরা। ১৮৪১ খ্রিস্টাব্দের ১৮ জুলাই রোববার উপমহাদেশের প্রথম আধুনিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে ঢাকা কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়।
১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দের পলাশীর যুদ্ধে বিজয়ী হয়ে ১৭৬৫ খ্রিস্টাব্দের বাংলা, বিহার এবং উড়িষ্যার দেওয়ানী লাভ করে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি এবং প্রকৃতপক্ষেই তারা এ অঞ্চলের শাসকে পরিণত হয়। ইংরেজরা এ সময় নিজেদের শাসক হিসেবে পরিচয় না দিলেও ১৭৭২ খ্রিস্টাব্দে গভর্নর ওয়ারেন হেস্টিংস-এ মুখোশ খুলে দিয়ে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির হয়ে সরাসরি এ দেশের শাসনভার গ্রহণ করে। এরপর পরবর্তী ৬২ বছর পর্যন্ত ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসকরা তাদের রাজত্বের অধিবাসীদের জন্য কোনো শিক্ষানীতি প্রণয়ন করেনি। ইতোমধ্যে ১৮২০ খ্রিস্টাব্দে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ এবং পরে হিন্দু কলেজ প্রতিষ্ঠার ভেতর দিয়ে এদেশে আধুনিক ইউরোপীয় ধারার
শিক্ষা চালু হয়। অবশেষে ১৮৩০-এর দশকে সরকার এক শিক্ষানীতি গ্রহণ করে এবং সেই নীতিমালায় যে শিক্ষানীতির প্রচলন হয়েছিল, তা মূলত পাশ্চাত্য বা ইংরেজি শিক্ষা নামে পরিচিতি পায়।
এই আধুনিক ধারার শিক্ষাব্যবস্থা প্রচলনের জন্য সেই সময়ে ঢাকাতে কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠলেও শিক্ষা প্রসারের চেয়ে ধর্ম প্রচার সেখানে মুখ্য হয়ে ওঠে। ফলে উল্লেখ করার মতো কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সেখানে গড়ে ওঠেনি। পরবর্তীকালে, ১৮৩৫ খ্রিস্টাব্দের ২০ এপ্রিল দেশের শিক্ষাব্যবস্থা সম্পর্কিত দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষ জেনারেল কমিটি অব পাবলিক ইনস্ট্রাকশন লর্ড বেন্টিকের কাছে একটি প্রতিবেদন পেশ করেছিল, যেখানে বলা হয়েছিল : সরকারের তত্ত্বাবধানে বাংলা প্রেসিডেন্সির প্রধান প্রধান জনবহুল শহরে ইংরেজি সাহিত্য এবং বিজ্ঞানশিক্ষার জন্য যতগুলো সম্ভব বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হোক। পরবর্তীকালে এই প্রতিবেদনের গ্রহণযোগ্যতা যাচাইয়ের জন্য ঢাকার কর্মকর্তাদের কাছে এ সংক্রান্ত চিঠি প্রদান করা হলে ঢাকার সেই সময়ের সিভিল সার্জন ডা. জেমস টেইলার জানান, এখানে বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা যে কেবল উচিতই নয়; বরং এজন্য প্রয়োজনীয় সকল প্রকারের সুবিধা (আর্থিক এবং সামাজিক) পাওয়া যাবে। মূলত, তখন থেকেই শুরু হওয়া বিভিন্ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ১৮৩৫ সালের ১৫ জুলাই থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়েছিল ঢাকা ইংলিশ সেমিনারি, যা বর্তমানে ঢাকা কলেজিয়েট স্কুল নামে পরিচিত।
এই বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাতে একদিকে যেমন বদলে যেতে থাকে সমাজের সামগ্রিক চিত্র, তেমনি বিদ্যার্থীদের মানসসম্মুখে পাশ্চাত্যের কলাবিদ্যা, বিজ্ঞান এবং দর্শনকে উন্মোচিত করে। শিক্ষা এবং সমাজব্যবস্থার এই ইতিবাচক পরিবর্তনে সেই সময়ের গভর্নর জেনারেল লর্ড অকল্যান্ড এবং জেনারেল কমিটি অব পাবলিক ইনস্ট্রাকশন কতগুলো কেন্দ্রীয় কলেজ প্রতিষ্ঠার সুপারিশ করেন। এর প্রেক্ষিতে প্রস্তাবিত ব্যয়ের কথা উল্লেখ এবং কর্তৃপক্ষ দ্বারা তার যথাযথ অনুমোদনসাপেক্ষে ১৮৪১ খ্রিস্টাব্দে ঢাকা ইংলিশ সেমিনারি স্কুলকে একটি কলেজে বা একটি আঞ্চলিক উচ্চতর ইংরেজি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত করা হয়, যার নাম দেওয়া হয় ঢাকা সেন্ট্রাল কলেজ বা সংক্ষেপে ঢাকা কলেজ এবং ঢাকা ইংলিশ সেমিনারি স্কুলের নাম দেওয়া হয় ঢাকা কলেজিয়েট স্কুল। বলাবাহুল্য, এই কলেজ প্রতিষ্ঠার পরপরই বদলে যায় সমগ্র ঢাকার চিত্র। ঢাকা হয়ে ওঠে সমগ্র পূর্ববাংলার ইংরেজি শিক্ষার কেন্দ্রবিন্দু।
ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র এবং হিন্দু কলেজের শিক্ষক জে. আয়ারল্যান্ডকে ঢাকা কলেজের প্রথম প্রিন্সিপাল নিযুক্ত করা হয়। তার আগমনের সাথে সাথে বদলে যেতে থাকে ঢাকা কলেজের প্রাতিষ্ঠানিক এবং শিক্ষাগত ব্যবস্থাপনার ভিত্তি। সেই অর্থে আয়ারল্যান্ডই ঢাকা কলেজের সত্যিকারের গুরুত্বপূর্ণ সংগঠক। তিনি কলেজের শিক্ষাদান ব্যবস্থাপনায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনেন।

২. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী
বর্ণাঢ্য আয়োজনে উদযাপন করা হলো প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। শিক্ষার্থীদের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার আহ্বান জানিয়েছেন উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক।
উপমহাদেশের অন্যতম প্রাচীন ও স্বনামধন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আয়োজনে ক্যাম্পাসে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। কেক কেটে ও পায়রা উড়িয়ে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক। জাতীয় সংগীত পরিবেশনের সাথে উত্তোলন করা হয় জাতীয় পতাকা। পাশাপাশি উত্তোলন করা হয় বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভিন্ন হলের পতাকা। পরে একটি আনন্দ র‌্যালি ক্যাম্পাসের প্রশাসনিক ভবন থেকে টিএসসি চত্বর ঘুরে অপরাজেয় বাংলায় এসে শেষ হয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের তথা পূর্ব বাংলার প্রথম বিশ্ববিদ্যালয়। ১৯২১ সালের ১ জুলাই এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়। পূর্ববঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান হলো একটি মুসলমান মধ্যবিত্ত সমাজ সৃষ্টি করা। এই মুসলিম মধ্যবিত্ত সমাজই পরবর্তীকালে পূর্ববঙ্গের সমাজব্যবস্থা পরিবর্তনে নেতৃত্ব দান করে। বঙ্গভঙ্গের সময় থেকে পূর্ববঙ্গে মুসলিম সমাজে যে নবজাগরণ শুরু হয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তারই ফল।
১৯০৫ সালের ১৬ অক্টোবর বঙ্গভঙ্গে ঢাকাকে রাজধানী করে নতুন ‘পূর্ব বাংলা’ ও ‘আসাম’ প্রদেশ সৃষ্টি হয়। বঙ্গভঙ্গের ফলে পূর্ব বাংলায় শিক্ষার সবচেয়ে উন্নতি ঘটে। কিন্তু ১৯১১ সালের ১ নভেম্বর দিল্লির দরবারে ঘোষণার মাধ্যমে ১২ ডিসেম্বর বঙ্গভঙ্গ রদ করা হয়। বঙ্গভঙ্গের ফলে পূর্ববঙ্গে শিক্ষার যে জোয়ার এসেছিল, তাতে অচিরেই ঢাকাতে একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা অবধারিত ছিল। বঙ্গভঙ্গ রদের ফলে সে সম্ভাবনা শেষ হয়ে যায়। ১৯১২ সালের ২১ জানুয়ারি ভারতের ভাইসরয় লর্ড হার্ডিঞ্জ ঢাকা সফরে আসেন এবং ঘোষণা করেন, তিনি সরকারের কাছে ঢাকায় একটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের সুপারিশ করবেন। ১৯১২ সালের মে মাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ব্যারিস্টার রবার্ট নাথানের নেতৃত্বে নাথান কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটির ২৫টি সাব-কমিটির রিপোর্টের ভিত্তিতে ভারত সরকার প্রস্তাবিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য রূপরেখা স্থির করে। ভারত সচিব ১৯১৩ সালে নাথান কমিটির রিপোর্ট অনুমোদন দেন। কিন্তু, প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়ে গেলে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা পথে প্রতিবন্ধকতা দেখা দেয়। ১৯১৭ সালের মার্চ মাসে ইমপেরিয়াল লেজিসলেটিভ কাউন্সিলে টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীর নবাব সৈয়দ নওয়াব আলী চৌধুরী সরকারের কাছে অবিলম্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বিল পেশের আহ্বান জানান। ১৯১৭ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর লর্ড চেমস্ফোর্ড কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্যাসমূহ তদন্তের জন্য একটি কমিটি গঠন করেন। সেই কমিশনের ওপরই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে পরামর্শ দেওয়ার দায়িত্ব প্রদান করা হয়। এই কমিশনের প্রধান ছিলেন মাইকেল স্যাডলার। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কমিশন (স্যাডলার কমিশন) ঢাকায় একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সুপারিশ করে। কিন্তু, এই কমিশন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে সরকারি বা স্টেট বিশ্ববিদ্যালয় করার নাথান কমিটির প্রস্তাব সমর্থন করেনি। কিন্তু, ঢাকা কলেজের আইন বিভাগের সহ-অধ্যক্ষ ড. নরেশচন্দ্র সেনগুপ্ত পূর্ণ স্বায়ত্তশাসনকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল শক্তিরূপে অভিহিত করেন। একই কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও অর্থনীতির অধ্যাপক টি. সি. উইলিয়ামস অর্থনৈতিক বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পূর্ণ স্বাধীনতা দাবি করেন। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কমিশন ঢাকা শহরের কলেজগুলোর পরিবর্তে বিভিন্ন আবাসিক হলকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউনিট রূপে গণ্য করার সুপারিশ করে। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় কাউন্সিল হাউসের পাঁচ মাইল ব্যাসার্ধ এলাকাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আওতাভুক্ত এলাকায় গণ্য করার কথাও বলা হয়। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কমিশন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে ১৩টি সুপারিশ করেছিল এবং কিছু রদবদলসহ তা ১৯২০ সালের ভারতীয় আইন সভায় গৃহীত হয়। ভারতের তদানীন্তন গভর্নর জেনারেল ১৯২০ সালের ২৩ মার্চ তাতে সম্মতি প্রদান করেন। স্যাডলার কমিশনের অন্যতম সদস্য ছিলেন লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক রেজিস্ট্রার পি. জে. হার্টগ। তিনি ১৯২০ সালের ১ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হন। ১৯২১ সালের ১ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আনুষ্ঠানিকভাবে এর কার্যক্রম শুরু করে।

৩. ঢাকা মেডিকেল কলেজ : গৌরবের ৭২ বছর
১০ জুলাই। দেশের প্রাচীনতম মেডিকেল কলেজ ঢাকা মেডিকেল কলেজের ৭২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। চলুন জেনে আসি এই চিকিৎসা বিদ্যাপীঠের ইতিহাস। সময়টা ১৯৩৯। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের দামামা বাজতে শুরু হয়েছে। সেই বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কাউন্সিল তদানীন্তন ব্রিটিশ সরকারের কাছে ঢাকায় একটি মেডিকেল কলেজ স্থাপনের প্রস্তাব পেশ করে। কিন্তু যুদ্ধের ডামাডোলে প্রস্তাবটি হারিয়ে যায়। পরে আবার আলোর মুখ দেখে ছয় বছর পর ১৯৪৫ সালে যে বছর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হয়।
ব্রিটিশ সরকার উপমহাদেশের ঢাকা, করাচি ও মাদ্রাজে (বর্তমানে চেন্নাই) ৩টি মেডিকেল কলেজ স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেয়। এ উপলক্ষে ঢাকার তৎকালীন সিভিল সার্জন ডা. মেজর ডব্লিউ জে ভারজিন এবং অত্র অঞ্চলের প্রথিতযশা নাগরিকদের নিয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়। তাদের প্রস্তাবনার ওপর ভিত্তি করেই ১০ জুলাই ১৯৪৬ তারিখে ঢাকা মেডিকেল কলেজ চালু হয়। তাই প্রতিবছর ১০ জুলাই ঢাকা মেডিকেল কলেজের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী বা ডিএমসি ডে উদযাপিত হয়।
এফআরসিএস ডিগ্রিধারী কুশলী অর্থোপেডিক সার্জন ডা. মেজর উইলিয়াম জন ভারজিন ছিলেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের প্রথম অধ্যক্ষ। এই মহৎপ্রাণ শল্যবিদ ১ জুলাই ১৯৪৬ থেকে ১৯ জুলাই ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত এই পদে অধিস্থিত থাকেন। ডা. ভারজিন ১৯৮৬ সালে ঢাকা মেডিকেল কলেজের ৪০ বছর পূর্তি অনুষ্ঠানে স্মৃতিচারণের একপর্যায়ে বলেন, ঢাকা মেডিকেল কলেজ স্থাপনের আলোচনা সেরে তৎকালীন ভারতবর্ষের রাজধানী দিল্লি থেকে ফেরার পথে ট্রেনে ডা. ভারজিন এবং সেই সময়ের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য রমেশ চন্দ্র মজুমদারের মধ্যে আলাপচারিতায় রমেশ চন্দ্র বলেন, মেডিকেল কলেজের জন্য যদি আমার নিজের বাড়ি ছেড়ে দিতে হয়, তাও ঢাকায় মেডিকেল কলেজ হবে। ডা. ভারজিনের স্মৃতি রক্ষার্থে কলেজ ভবন থেকে হাসপাতাল যাওয়ার মধ্যবর্তী ছাউনিঘেরা করিডোরটির নামকরণ করা হয়েছে “ভারজিন’স করিডোর”।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেরই একটা অংশে ছিল তখনকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্টস বিল্ডিং। আর ঐতিহাসিক সেই আমগাছ ছিল এরই চত্বরে। ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি ১৪৪ ধারা ভঙ্গের সিদ্ধান্ত হয় এই প্রাঙ্গণেই। ছাত্রদের নিরস্ত্র শান্তিপূর্ণ মিছিলে খাজা নাজিমুদ্দিনের পুলিশ গুলি করে। অনেকের সাথে সেদিন ঢাকা মেডিকেল কলেজের ছাত্র এমআই চৌধুরী, আবু সিদ্দিক, আলী আসগর, জসিমুল হক ও ফরিদুল হক কারাবরণ করেন। ২০নং ব্যারাকের পাশেই এক অনামি শহীদের লাশ পড়েছিল সেদিন। ভাষা আন্দোলনের এই গৌরবময় স্মৃতিকে অমর করে রাখতেই ১২নং ব্যারাকের পাশে রাতারাতি শহীদ মিনার নির্মিত হয়। এর মূল উদ্যোক্তারা ছিলেন ঢাকা মেডিকেল কলেজেরই ছাত্র। ভাষা আন্দোলনে ঢাকা মেডিকেল কলেজ ছাত্র সংসদের বীরত্বগাথা অবিস্মরণীয়।
ভাষা আন্দোলন-পরবর্তী সময়ে নানা আন্দোলনে ঢাকা মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীদের অনেক অবদান রয়েছে।  ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের ৩৪ ব্যাচের ছাত্র, ফিজিওলজি বিভাগের প্রভাষক ডা. শামসুল আলম খান মিলন শহীদ হন।
২০১৩ সালের নভেম্বরে মুক্তিযুদ্ধে এই প্রতিষ্ঠানে যারা আত্মাহুতি দিয়েছেন তাদের স্মৃতি সংরক্ষণে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-২-এ নির্মিত হয়েছে খোদাইকৃত ছবি সংবলিত ফলক। এ ফলকে স্থান পেয়েছে ৮১ চিকিৎসক এবং ১৭ শিক্ষার্থীর নাম। এর আগে ঢাকা মেডিকেল কলেজ চত্বরে সত্তরের দশকে শুধু নাম সংবলিত একটি ফলক স্থাপন করা হয়।

শ্রেণী:

এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ পাসের হার ৮৭ দশমিক ০৪ শতাংশ

Posted on by 0 comment
44

44উত্তরণ প্রতিবেদন:  এবার এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় ১০ বোর্ডে গড় পাসের হার ৮৭ দশমিক ০৪ শতাংশ। গত বছর এ হার ছিল ৯১ দশমিক ৩৪ শতাংশ। এবার পাসের হার ৪ দশমিক ৩০ শতাংশ কমেছে। মোট জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ১১ হাজার ৯০১ জন। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৪২ হাজার ২৭৬। এবার জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ৩০ হাজার ৩৭৫। এবারের এসএসসি পরীক্ষায় ৩ হাজার ১১৬টি কেন্দ্রে ২৭ হাজার ৮০৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ১৪ লাখ ৭৩ হাজার ৫৯৬ পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে মোট পাস করে ১২ লাখ ৮২ হাজার ৬১৮ জন। এবার মোট ৩ হাজার ১১৬টি কেন্দ্রে ২৭ হাজার ৮০৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দেয়।
এদিকে, এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার সময় বিএনপি-জামাত জোটের হরতাল-অবরোধের কারণে নানা প্রতিবন্ধকতার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, পরীক্ষার সময় হরতাল-অবরোধ না থাকলে পাসের হার আরও বাড়ত। গণভবনে গত ৩০ মে সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রীর কাছে এসএসসির ফল হস্তান্তর করেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। ফল হস্তান্তরের পরপরই এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, পরীক্ষা চলাকালীন নিজেদের স্বার্থে বিএনপি-জামাত জোট লাগাতার হরতাল-অবরোধ দিয়ে মানুষ পুড়িয়ে মারার মতো ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে। তাদের হরতাল-অবরোধ জনসমর্থন না থাকলেও আমরা ঝুঁকি না নিয়ে হরতালের ফাঁকেই পরীক্ষা চালিয়ে নিয়েছি। এসব কর্মসূচির কারণে পরীক্ষার্থীদের অনেক কষ্ট হয়েছে, তাদের মনোযোগ বিঘিœত হয়েছে। তারপরও এবার পাসের হার ৮৭.০৪ শতাংশ। তিনি বলেন, এর আগে এসএসসিতে ৯৩ শতাংশ পাস থাকলেও এবার আমাদের প্রত্যাশা ছিল আরেকটু বেশি। হরতাল-অবরোধ না থাকলে আমরা পাসের হার আরও বাড়াতে পারতাম। এত প্রতিবন্ধকতার মধ্যে এই ফলকেই একটা বিরাট অর্জন হিসেবে আখ্যায়িত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এত প্রতিকূলতার মধ্যেও এই ফলের জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে অভিনন্দন ও আন্তরিক ধন্যবাদ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে ফলাফলের সার-সংক্ষেপ হস্তান্তরের পর শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, এবার এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় ১০ বোর্ডে গড় পাসের হার ৮৭ দশমিক ০৪ শতাংশ। মোট জিপিএ পেয়েছে ১ লাখ ১১ হাজার ৯০১ জন। ১৪ লাখ ৭৩ হাজার ৫৯৬ জন পরীক্ষা দিয়ে মোট পাস করেছে ১২ লাখ ৮২ হাজার ৬১৮ শিক্ষার্থী। তিনি বলেন, মাদ্রাসা বোর্ডে পাসের হার ৯০ দশমিক ২০, কারিগরি বোর্ডে পাসের হার ৮৩ দশমিক ০১। বিদেশের ৮টি কেন্দ্রে পাসের হার ৯৭ দশমিক ৬৬। এবার শতভাগ পাস প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৫ হাজার ৯৭টি। গত ২ ফেব্রুয়ারি এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা থাকলেও বিএনপি-জামাতের হরতালের কারণে তা শুরু হয় ৬ ফেব্রুয়ারি। হরতালের কারণে শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনে পরীক্ষাগুলো নেওয়া হয়। পরীক্ষা শেষ হয় ৩ এপ্রিল।

শ্রেণী:

মাধ্যমিকের সাড়ে ৪২ লাখ শিক্ষার্থী পাবে উপবৃত্তি

Posted on by 0 comment

উত্তরণ ডেস্ক : মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৪২ লাখ ৪৪ হাজার দরিদ্র শিক্ষার্থীকে উপবৃত্তির আওতায় আনল সরকার। ৫৩ জেলার ২১৭ উপজেলার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দরিদ্র ছাত্রছাত্রীরা এ সুবিধা পাবে।
গত ১৭ ফেব্রুয়ারি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের অর্থনৈতিক কমিটির (একনেক) সভায় এমন একটি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। রাজধানীর ১২টি এলাকায় গ্যাসের প্রি-পেইড মিটার স্থাপন প্রকল্পও অনুমোদন দেওয়া হয়। উপবৃত্তি দেওয়ার প্রকল্পটির নাম সেকেন্ডারি অ্যাডুকেশন স্টাইপেন্ড প্রজেক্ট দ্বিতীয় পর্যায় (এসইএসপি)। সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে ৭৯১ কোটি টাকা ব্যয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদফতর ২০১৪ সালের জুলাই থেকে ২০১৭ সালের জুন মাসের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে।
পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, এই উপবৃত্তি হিসেবে ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা মাসে ১০০ টাকা, অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা ১২০ টাকা এবং নবম ও দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা পাবে ১৫০ টাকা। এ ছাড়া ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীকে মাসে ১৫ টাকা টিউশন ফি দেওয়া হবে। নবম ও দশম শ্রেণির ক্ষেত্রে তা ২০ টাকা। এসএসসি পরীক্ষার্থীকে ফি বাবদ বার্ষিক এককালীন ৭৫০ টাকা দেওয়া হবে। প্রতি শ্রেণিতে মোট ছাত্রীর ৩০ শতাংশ এবং মোট ছাত্রের ১০ শতাংশ এ উপবৃত্তি পাবে। এ উপবৃত্তি পেতে শর্তগুলো হলো অভিভাবকের জমির পরিমাণ ৭ ডেসিমেলের কম এবং বার্ষিক আয় ৫০ হাজার টাকার কম হতে হবে। শিক্ষার্থীকে ক্লাসে কমপক্ষে ৭৫ শতাংশ উপস্থিত থাকতে হবে। ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীকে বার্ষিক পরীক্ষায় ন্যূনতম ৩৩ শতাংশ নম্বর পেতে হবে। অষ্টম ও নবম শ্রেণির ক্ষেত্রে তা ৪০ শতাংশ।
সভা শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সাংবাদিকদের বলেন, মোবাইল ব্যাংকিং বা বিকাশ বা অন্য কোনো সহজ পদ্ধতিতে সরাসরি শিক্ষার্থীদের মাঝে এই উপবৃত্তির অর্থ দেওয়া হবে। যত দিন আমরা শতভাগ শিক্ষিত হতে না পারব, তত দিন পর্যন্ত প্রকল্পটি চলবে। প্রকল্পটি চলমান থাকলে মাধ্যমিক পর্যায়ে ঝরেপড়া শিক্ষার্থীর হার কমে যাবে।

শ্রেণী: