Blog Archives

‘নিসর্গসখা’ দ্বিজেন শর্মা আর নেই

Posted on by 0 comment

7প্রকৃতি-প্রেমিক লেখক দ্বিজেন শর্মা আর নেই। তিনি গত ১৫ সেপ্টেম্বর শুক্রবার ভোর ৩টা ৫০ মিনিটে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন।

দ্বিজেন শর্মার ধ্যান-জ্ঞান ছিল প্রকৃতিকে ঘিরে। প্রকৃতির সৌন্দর্য বাঁচিয়ে রাখাই ছিল তার সারাজীবনের সাধনা। প্রকৃতি নিয়ে তিনি প্রচুর লেখালেখি করেছেন। বিজ্ঞান, শিশুসাহিত্যসহ অন্য বিষয়েও লিখেছেন তিনি। বিশিষ্ট বিজ্ঞান লেখক, শিক্ষক দ্বিজেন শর্মা তার কাজের স্বীকৃতি হিসেবে বাংলা একাডেমি, একুশে পদকসহ বিভিন্ন পুরস্কার পেয়েছেন। বিশিষ্ট এই ‘নিসর্গসখা’র বয়স হয়েছিল ৮৮ বছর। দ্বিজেন শর্মা রাজধানীর অসংখ্য জায়গায় গাছ লাগিয়েছেন নিজ হাতে। তৈরি করেছেন উদ্যান ও বাগান। গাছের পরিচর্যা ও সংরক্ষণ এবং প্রকৃতিবান্ধব শহর গড়ার জন্য লড়াইও করেছেন তিনি। তিনি বলতেন, ‘আমি একদিন থাকব না, কিন্তু গাছগুলো থাকবে। মানুষকে অক্সিজেন বিলাবে। জীবনে এর চেয়ে আনন্দ আর কিছুতে নেই।’ দ্বিজেন শর্মা ১৯২৯ সালের ২৯ মে তৎকালীন সিলেট বিভাগের বড়লেখা থানার শিমুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। কলকাতা সিটি কলেজ থেকে ¯œাতক ডিগ্রি অর্জন করেন দ্বিজেন শর্মা। পরে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উদ্ভিদবিজ্ঞানে মাস্টার্স সম্পন্ন করেন।

Category:

যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় শোক দিবস পালিত

15উত্তরণ প্রতিবেদন: সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদসহ দেশবিরোধী সকল ষড়যন্ত্র রুখে দিয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মহান আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ একটি অসাম্প্রদায়িক প্রগতিশীল কল্যাণকর বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার প্রত্যয়ের মধ্য দিয়ে গত ১৫ আগস্ট রাষ্ট্রীয়ভাবে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে স্বাধীন বাংলাদেশের মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪২তম শাহাদাতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস। শোক দিবসে রাজধানীর সব পথ যেন মিশে গিয়েছিল ৩২ নম্বর বঙ্গবন্ধু ভবন অভিমুখে। সকাল সাড়ে ৬টায় ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পুষ্পস্তবক অর্পণের পর সশস্ত্র বাহিনীর একটি চৌকস দল গার্ড অব অনার প্রদান করে। এ সময় বিউগলে বেজে ওঠে করুণ সুর। পরে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। বঙ্গবন্ধুসহ ১৫ আগস্টের শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে তারা মোনাজাত করেন। এ সময়  বঙ্গবন্ধুর কনিষ্ঠ কন্যা শেখ রেহানা উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রপতি বঙ্গভবনের উদ্দেশ্যে রওনার হওয়ার পর স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী এবং প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহা বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। এরপর জননেত্রী শেখ হাসিনা দলের প্রেসিডিয়াম, উপদেষ্টা পরিষদ ও কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্যদের নিয়ে জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন।
শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বোন শেখ রেহানাকে সাথে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের ঐতিহাসিক স্মৃতিবিজড়িত বাড়ির ভেতরে যান। পঁচাত্তরের ১৫ আগস্টের কালরাতে যে সিঁড়িতে বঙ্গবন্ধুর মরদেহ পড়েছিল, সেখানে গোলাপের পাপড়ি ছিটিয়ে দেন তিনি। পরে একটি কক্ষে বসে কিছু সময় পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন প্রধানমন্ত্রী। প্রায় আধাঘণ্টা পর বঙ্গবন্ধু জাদুঘর থেকে বোন শেখ রেহানাকে সাথে নিয়ে বনানী কবরস্থানে যান শেখ হাসিনা। সেখানে মা-ভাইসহ পরিবারের অন্য সদস্যদের কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।
এ সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম এমপির নেতৃত্বে ১৪ দল, ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, যুবলীগ মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, যুব মহিলা লীগ, জাতীয় শ্রমিক লীগ, কৃষক লীগ, ছাত্রলীগ বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করে। এছাড়াও সারাদিন ধরেই বিভিন্ন সংগঠন বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানান।
পরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানাসহ আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ যান গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায়। সেখানে জাতির পিতার সমাধিতে প্রধানমন্ত্রী পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ শেষে মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে অংশ নেন তারা। পরে বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। মোনাজাতে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। মোনাজাতে দেশ-জাতি এবং সমগ্র মুসলিম উম্মাহর শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করা হয়। এ দুটি স্থানেও তিন বাহিনীর একটি সুসজ্জিত দল বঙ্গবন্ধুর প্রতি গার্ড অব অনার প্রদান করে।
বাদ আছর বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে মহিলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে আয়োজিত মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা।
গত ১৬ আগস্ট বিকেলে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪২তম শাহাদাতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ আলোচনা সভার আয়োজন করেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন জননেত্রী শেখ হাসিনা।

Category:

প্রয়াতজন : শ্রদ্ধাঞ্জলি

Posted on by 0 comment

উত্তরণ প্রতিবেদন

PMগাজী শাহাবুদ্দিন
নতুন যুগের সূচনা করা ‘সচিত্র সন্ধানী’র সম্পাদক গাজী শাহাবুদ্দিন ছেড়ে গেছেন শিল্প সাহিত্য সংস্কৃতি ও সাংবাদিকতার প্রিয় অঙ্গন। দীর্ঘদিন বার্ধক্যজনিত রোগভোগের পর গত ৯ জুন বিকেল সাড়ে ৩টায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি (ইন্নালিল্লাহি … রাজিউন)। তার বয়স হয়েছিল ৭৮ বছর। তিনি স্ত্রী, এক পুত্র, এক কন্যাসহ আত্মীয়-স্বজন ও অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
গাজী শাহাবুদ্দিন ১৯৩৯ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন। ছোটবেলা থেকেই পত্র-পত্রিকা পড়ার নেশা ছিল। সেই নেশা থেকেই ‘সচিত্র সন্ধানী’র আত্মপ্রকাশ।
১৯৫৬ সালের ২৩ জুন প্রকাশিত হয় সচিত্র সন্ধানীর প্রথম সংখ্যা। ডিমাই ওয়ান সিক্সটিন সাইজ পত্রিকা। পৃষ্ঠা সংখ্যা আনুমানিক ৩২ থেকে ৪৮। ১ হাজার কপি ছাপা হয়। এবং সকাল ১০টার মধ্যে নিঃশেষ হয়ে যায় সব কপি। এই সাফল্যের ওপর ভর করে পত্রিকাটি নিয়মিত করার চিন্তা করেন সম্পাদক গাজী শাহাবুদ্দিন। কিন্তু কাজ যত বাড়ছিল লেখাপড়ার সময় তত কমে আসছিল। এমনকি পরীক্ষার কথা বলে বাসা থেকে বের হয়ে সোজা প্রেসে চলে যেতেন। পরদিন বাসায় ফিরে বলতেন, বন্ধুর বাসায় পড়তে গিয়েছিলাম। নটর ডেম কলেজে খুব কড়াকড়ি। সময় বের করা যায় না। এ জন্য সেখান থেকে বের হয়ে জগন্নাথ কলেজে ভর্তি হন তিনি। এভাবে পত্রিকার কাজ এগিয়ে নিয়ে যান। পঞ্চাশের দশকে প্রকাশনার শুরু। শুরুতে সচিত্র সন্ধানী ছিল কিছুটা রম্য ও কিছুটা কার্টুননির্ভর পত্রিকা। তারপর ধীরে ধীরে এই পত্রিকা বাংলা ও বাঙালি সংস্কৃতির দর্পণ হয়ে ওঠে।

সংগীতজ্ঞ করুণাময় গোস্বামী
PM3একুশে পদকে ভূষিত সংগীতবিষয়ক লেখক ও নজরুল বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. করুণাময় গোস্বামী গত ৩০ জুন রাতে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরলোকগমন করেন। তার বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর। তিনি এক পুত্র ও এক কন্যাসন্তানসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী ও আত্মীয়-স্বজন রেখে গেছেন।
ড. করুণাময় গোস্বামী একজন সফল শিক্ষক, লেখক এবং সৃজনশীল প্রতিভার মানুষ ছিলেন। তিনি নজরুল বিশেষজ্ঞ হিসেবে এবং সংগীতবিষয়ক লেখক হিসেবে বিশেষভাবে পরিচিত। গবেষণা ও সাহিত্যকর্মের জন্য তিনি বাংলাদেশের মননশীল সাহিত্য চর্চার জগতে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।
অধ্যাপক ড. করুণাময় গোস্বামী ১৯৪৩ সালের ১১ মার্চ ময়মনসিংহের গোসাইন চান্দুরা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে ১৯৬৪ সালে এমএ এবং ১৯৮৮ সালে ‘বাংলা কাব্যগীতির ধারায় কাজী নজরুল ইসলামের স্থান’ শীর্ষক গবেষণাকর্মের জন্য পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।
১৯৬৪ সালে তিনি সরকারি কলেজে প্রভাষক হিসেবে শিক্ষকতায় যোগদান করেন এবং ২০০১ সালে অধ্যক্ষ হিসেবে অবসর গ্রহণ করেন। তিনি ২০০৮ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার এবং ২০১২ সালে একুশে পদক লাভ করেন।

বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদুল হক মামা
PM2দেশে ও প্রবাসে জনপ্রিয় সুইডেন প্রবাসী অকুতোভয় বীর মুক্তিযোদ্ধা ২ নম্বর সেক্টরের মেলাঘর ইউনিটের প্রধান সৈয়দ শহীদুল হক মামা দীর্ঘ তিন মাস জীবনের সাথে লড়াই করার পর গত ৩০ জুন দুপুরে কাতারের রাজধানী দোহার আল ওয়াকার হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন (ইন্নালিল্লাহি … রাজিউন)। তার বয়স হয়েছিল ৬৫ বছর। তিনি স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন।
দীর্ঘদিন ধরে শ্বাসকষ্ট, উচ্চমাত্রার ডায়াবেটিস ও কিডনির জটিল সমস্যায় ভুগতে থাকা শহীদুল হক মামা ২৮ এপ্রিল কাতার এয়ারওয়েজে ঢাকা থেকে স্টকহোম আসার পথে বিমানে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে দ্রুত কাতারের আল ওয়াকার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দুদিন পর তার অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়। তার শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে দুসপ্তাহ আগে তাকে করোনারি কেয়ার ইউনিটে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
’৭১-এর কুখ্যাত কসাই যুদ্ধাপরাধী কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে দেওয়া দ্বিতীয় রাজসাক্ষী, মিরপুর-মোহাম্মদপুর এলাকায় বীরত্বপূর্ণ সফল অপারেশন পরিচালনাকারী দুর্ধর্ষ গেরিলা কমান্ডার ও মামা বাহিনীর প্রধান।
তার জন্ম পুরনো ঢাকার নাজিরাবাজারে। বাবা ছিলেন একজন খ্যাতিমান আইনজীবী। তিনি ছিলেন প্রত্যক্ষ ছাত্র রাজনীতির সাথে জড়িত এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের ছাত্র এবং বঙ্গবন্ধুর ছেলে শেখ কামালের ঘনিষ্ঠ সহচর।

সংগীতজ্ঞ সুধীন দাস
PM4উপমহাদেশের বিশিষ্ট সংগীতজ্ঞ ও নজরুল গবেষক সুধীন দাস গত ২৭ জুন রাতে রাজধানীর একটি হাসপাতালে ৮৭ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। একুশে পদকপ্রাপ্ত এই শিল্পী রাত ৮টা ২০ মিনিটে অ্যাপোলো হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন।
তিনি দীর্ঘদিন বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় ভুগছিলেন। সুধীন দাস ১৯৩০ সালে কুমিল্লা শহরের তাল পুকুরায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন সংগীত জগতের অন্যতম অভিভাবক। তিনি ১৯৪৮ সালে পাকিস্তান রেডিওতে নজরুল সংগীতশিল্পী হিসেবে যোগ দেন।
সুধীন দাস জাতীয় কবি নজরুল ইসলামের মৃত্যুর পর গ্রামোফোন রেকর্ড থেকে নজরুলের গানের মূল স্বরলিপি যোজনা শুরু করেন। এই প্রয়াসে তাকে সহায়তা করেন তার স্ত্রী ও নজরুল সংগীতশিল্পী নীলিমা দাস।

Category:

প্রয়াতজন : শ্রদ্ধাঞ্জলি

Posted on by 0 comment

59a উত্তরণ প্রতিবেদন: শহীদ কামারুজ্জামানের স্ত্রী জাহানারা জামান
মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও জাতীয় চার নেতার অন্যতম শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামান হেনার সহধর্মিণী ও রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের মা জাহানারা জামান আর নেই। গত ৫ ফেব্রুয়ারি রোববার রাত সাড়ে ১২টায় রাজধানী ঢাকার গুলশানের নিজ বাসভবনে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্নালিল্লাহি … রাজিউন)। তার বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর। তিনি দুই ছেলে ও চার মেয়ে রেখে গেছেন।
তার মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। শোক বার্তায় প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতি তার রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং মরহুমার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। এদিকে জাহানারা জামানের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে শোক প্রস্তাব গৃহীত হয়।
হাজার হাজার মানুষের শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে স্বামী মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, জাতীয় চার নেতার অন্যতম শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামানের কবরের পাশে সমাহিত হলেন তার সহধর্মিণী সমাজসেবী জাহানারা জামান। নগরীর শাহ মখদুম কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে গত ৭ ফেব্রুয়ারি দুপুর ২টায় তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় সর্বস্তরের হাজারো মানুষের ঢল নামে। এরপর কাদিরগঞ্জ পারিবারিক গোরস্তানে স্বামীর কববের পাশে তাকে দাফন করা হয়।

মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক শাহ হাদিউজ্জামান
59bযশোর জেলা পরিষদের প্রশাসক ও যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি পীরজাদা আলহাজ শাহ হাদিউজ্জামান পরলোকগমন করেছেন। গত ১৯ ফেব্রুয়ারি গভীর রাতে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্নালিল্লাহি … রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৬ বছর। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহচর ও মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। ২০ ফেব্রুয়ারি বিকেলে নওয়াপাড়া পীরবাড়ি মাদ্রাসা মাঠে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় তাকে রাষ্ট্রীয় সম্মান প্রদর্শন করা হয়। জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তার দাফনকার্য সম্পন্ন করা হয়।
’৭১-এর গণপরিষদ সদস্য, পাঁচবার নির্বাচিত সাবেক সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের জাতীয় পরিষদের সদস্য পীরজাদা আলহাজ শাহ হাদিউজ্জামানের মৃত্যুতে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এমপি গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। শাহ হাদিউজ্জামান ছিলেন রাজনীতিপ্রাণ পুরুষ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের একজন আদর্শবান রাজনীতিক। কিশোর বয়সে হাদী থেকে আজকের সত্তরোর্ধ্ব আদর্শিক রাজনীতিবিদ শাহ হাদিউজ্জামান ছিলেন একজন নির্লোভ নিরঙ্কারী সর্বজন শ্রদ্ধেয় ব্যক্তি। পশ্চিম পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বাঙালি জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করার আন্দোলন-সংগ্রামে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ব্যক্তিত্ব, আদর্শ ও বলিষ্ঠ তেজদীপ্ত নেতৃত্বে মুগ্ধ হয়ে ১৯৬৬ সালে টগবগে যুবক শাহ হাদিউজ্জামান বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন। ১৯৬৬ সালে ৬-দফা আন্দোলনে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে দক্ষিণাঞ্চলে ব্যাপক প্রচারণা চালান শাহ হাদিউজ্জামান। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে প্রদেশিক পরিষদের এমপি হিসেবে মনোনয়ন লাভ করেন। ওই প্রদেশিক পরিষদের সর্বকনিষ্ঠ শাহ হাদিউজ্জামান বিপুল ভোটে জয়লাভ করেন। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতা ঘোষণা করলে বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে শাহ হাদিউজ্জামান মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। তিনি বিএলএফ (বাংলাদেশ লেবারেশন ফোর্সে) যোগ দিয়ে ভারতের কালছি নদীর পাড়ে দেরাদুন পর্বতে গেরিলা ট্রেনিং নেন। ট্রেনিং শেষে তিনি দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে  মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক হিসেবে কাজ করেন। এরপর তিনি যশোর-৪ আসন থেকে আরও চারবার বিপুল ভোটের ব্যবধানে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর বঙ্গবন্ধু-কন্যা শেখ হাসিনা পাঁচবারের সংসদ সদস্য, বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর শাহ হাদিউজ্জামানকে যশোর জেলা পরিষদের প্রশাসকের দায়িত্ব অর্পণ করেন। ২০১৬ সালের ডিসেম্বর মাসে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় যশোর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন শাহ হাদিউজ্জামান।

Category:

প্রয়াতজন : শ্রদ্ধাঞ্জলি

63-aউত্তরণ প্রতিবেদন:  সাবেক প্রধান বিচারপতি রুহুল আমিন
সাবেক প্রধান বিচারপতি এমএম রুহুল আমিন ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি … রাজিউন)। গত ১৭ জানুয়ারি ভোরে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর। ১৯ জানুয়ারি মরহুমের লাশ দেশে পৌঁছায়। ওই দিন সুপ্রিমকোর্ট প্রাঙ্গণে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
বিচারপতি এমএম রুহুল আমিন ২০০৮ সালের ১ জুন থেকে ২০০৯ সালের ২২ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বিচারপতি রুহুল আমিন ১৯৪২ সালের ২৩ ডিসেম্বর লক্ষ্মীপুর জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৬৩ সালে এমএ এবং ১৯৬৬ সালে এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৬৭ সালে জুডিসিয়াল সার্ভিসে যোগ দেন তিনি। ১৯৮৪ সালে জেলা ও দায়রা জজ হন। ১৯৯৪ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি হন রুহুল আমিন। ২০০৩ সালের ১৩ জুলাই আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান।
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার আসামি মাহফুজুল
63-bঐতিহাসিক আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার ২২তম আসামি ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী মাহফুজুল বারী আর নেই। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মিরপুর হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ২৩ জানুয়ারি সকালে ইন্তেকাল করেন (ইন্নালিল্লাহে … রাজেউন)। আওয়ামী লীগের কেন্দ্র্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সাবেক সদস্য ছিলেন মাহফুজুল বারী। আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগেরও সাবেক সাধারণ সম্পাদক তিনি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মাহফুজুল বারীর মৃত্যুতে গভীর শোক করেছেন। প্রধানমন্ত্রী এক শোক বার্তায় গভীর শ্রদ্ধার সাথে ’৭৫-পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্র্রীয় কমিটির সাবেক এই সদস্যের অবদানের কথা স্মরণ করেন। শেখ হাসিনা মরহুমের রুহের মাগফেরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। মাহফুজুল বারী পাকিস্তান বিমানবাহিনী সদস্য ছিলেন। তিনি ১৯৬৭ সালের নভেম্বরে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় গ্রেফতার হন এবং ১৯৬৯ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি বঙ্গবন্ধুর সাথে মুক্তি পান। মুক্তিযুদ্ধে মাহফুজুল বারী ২ নম্বর সেক্টরে বীরত্বের সাথে যুদ্ধ করেন। তিনি ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুর হত্যাকা-ের প্রতিবাদে কলকাতা চলে যান। এরপর তিনি কানাডায় গিয়ে সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাস করতে থাকেন। এক মাস আগে তিনি দেশে আসেন। মাহফুজুল বারীর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন রামগতি থানা কেন্দ্রীয় সমবায়ের ও ডর্প’র প্রতিষ্ঠাতা এবং গুসি আন্তর্জাতিক শান্তি পুরস্কার বিজয়ী এএইচএম নোমান। একই সাথে তিনি মরহুমের রুহের মাগফেরাত ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন।
অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান
63-cনরসিংদী জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান (৭২) গত ১ ফেব্রুয়ারি ভোরে ইন্তেকাল করেন (ইন্নালিল্লাহে … রাজেউন)। তিনি স্ত্রী, দুই মেয়ে রেখে যান। তিনি দীর্ঘদিন শ্বাসকষ্টজনিত রোগে ভুগছিলেন। তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে নরসিংদীতে শোকের ছায়া নেমে আসে। তার মৃত্যুতে নরসিংদীর আইনজীবী সমিতির সদস্যরা তার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে কর্মবিরতি পালন করেন। আইনজীবীসহ দলীয় নেতাকর্মীরা কালোব্যাজ ধারণ করেন। বিকেলে বাদ আছর তার লাশ নিয়ে যাওয়া হয় নরসিংদী স্টেডিয়ামে। সেখানে সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে তার লাশ নরসিংদী শহরের রাঙ্গামাটিস্থ ঈদগাহ গোরস্তানে দাফন করা হয়। তার মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা গভীর শোক প্রকাশ করেন। এক শোক বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রী তার রুহের মাগফিরাত কামনা ও তার শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজনের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন। এ ছাড়া আসাদুজ্জামানের মৃত্যুতে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এমপি গভীর শোক প্রকাশ করেন।
ইস্পাহানির চেয়ারম্যান মির্জা আলী বেহরুজ
63-dদেশের অন্যতম পুরনো ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান ইস্পাহানি গ্রুপের চেয়ারম্যান মির্জা আলী বেহরুজ ইস্পাহানি আর নেই। গত ২৩ জানুয়ারি ভোর সাড়ে ৫টায় ঢাকার অ্যাপোলো হাসপাতালে তিনি মারা যান। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। এক শোক বার্তায় তিনি শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেন। চা, টেক্সটাইল, খাদ্য, পাট, শিপিংসহ বিভিন্ন খাতে প্রায় ২০০ বছর ধরে ব্যবসা চালিয়ে আসছে এমএম ইস্পাহানি গ্রুপ। যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা করা আলী বেহরুজ ইস্পাহানি ইসলামিয়া চক্ষু ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, ইস্পাহানি পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের চেয়ারম্যান এবং বাংলাদেশ ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটির (আইইউবি) ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।

Category:

প্রয়াতজন : শ্রদ্ধাঞ্জলি

Posted on by 0 comment

উত্তরণ প্রতিবেদন:
55মাহবুবুল হক শাকিল। কবি। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী। রাজনীতিক। সাবেক তুখোড় মেধাবী এই ছাত্রনেতার জন্ম ১৯৬৮ সালের ২০ ডিসেম্বর। বড় হয়েছেন ময়মনসিংহে। পড়েছেন ময়মনসিংহের মৃত্যুঞ্জয় স্কুল, ময়মনসিংহ জিলা স্কুল ও আনন্দমোহন কলেজে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগ থেকে ¯œাতক ও ¯œাতকোত্তর করেছেন কবি শাকিল। স্কুলজীবনেই ছাত্র রাজনীতিতে যোগ দিয়েছিলেন। শাকিল ছাত্রজীবনে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি সদস্য, সাংগঠনিক সম্পাদক ও পরে সহ-সভাপতি ছিলেন। নব্বইয়ের ছাত্র গণ-অভ্যুত্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা শাকিল আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সহ-সম্পাদকও ছিলেন।
তিনি নিবিড়ভাবে কাজ করেছেন বঙ্গবন্ধু-কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে। ২০০১-এর নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগের গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিআরআই’তে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে কাজ শুরু করেন শাকিল, এরপর তিনি বিরোধীদলীয় নেত্রী শেখ হাসিনার উপ-প্রেস সচিবের দায়িত্ব পান। ২০০৮-এর জাতীয় নির্বাচনের পর তিনি প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব ও পরে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (মিডিয়া) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সিআরআই’র সাথে সবসময় গভীরভাবে সংশ্লিষ্ট থেকেছেন তিনি। ২০১৪ সাল থেকে অতিরিক্ত সচিব মর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারীর পদে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন মাহবুবুল হক শাকিল, মৃত্যু অবধি তিনি এই পদেই দায়িত্বরত ছিলেন। নিজ দলের বাইরে অন্য দলের নেতা-কর্মীদের কাছেও তিনি সজ্জন হিসেবে পরিচিত ছিলেন। দেশের শিল্প-সংস্কৃতির অঙ্গনেও পরিচিত নাম মাহবুবুল হক শাকিল।
২০১৫ একুশে বইমেলায় তার প্রথম কবিতার বই ‘খেরোখাতার পাতা থেকে’ প্রকাশিত হয়। ২০১৬ বইমেলায় প্রকাশ হয় দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ ‘মন খারাপের গাড়ি’। ২০১৭-এর একুশে বইমেলায় কবির আরেকটি বই প্রকাশের কথা রয়েছে এবং একটি গল্পগ্রন্থও প্রকাশিত হতে পারে।
২০১৬-এর ৬ ডিসেম্বর শাকিল মাত্র ৪৮ বছর বয়সে অকস্মাৎ মৃত্যুবরণ করেন। প্রধানমন্ত্রী তার বিশেষ সহকারীর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেন। জাতীয় সংসদের স্পিকার, মন্ত্রীবর্গসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ ও সুহৃদ স্বজন শোক প্রকাশ করেছেন।
শাকিলের বাবা ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট জহিরুল হক এবং মা স্কুলশিক্ষক নুরুন্নাহার।

Category:

প্রয়াতজন : শ্রদ্ধাঞ্জলি

31

জাতীয় অধ্যাপক ডা. এমআর খান

উত্তরণ প্রতিবেদন : বাংলাদেশে শিশু চিকিৎসার পথিকৃৎ ও জাতীয় অধ্যাপক ডা. এমআর খান আর নেই। গত ৫ নভেম্বর বিকেল ৪টা ২৫ মিনিটে নিজের প্রতিষ্ঠিত রাজধানীর সেন্ট্রাল হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি … রাজিউন)। তার বয়স হয়েছিল ৮৮ বছর। তিনি বার্ধক্যজনিত নানা জটিল রোগে কয়েক মাস ধরে ভুগছিলেন। তিনি স্ত্রী আনোয়ারা বেগম ও একমাত্র মেয়ে দৌলতুন্নেসা ম্যান্ডিসহ অসংখ্য ছাত্র, বন্ধু ও শুভানুধ্যায়ী রেখে গেছেন। গত ২৭ নভেম্বর সাতক্ষীরার রসুলপুরের পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। ডা. এমআর খানের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার, স্বাস্থ্যমন্ত্রীসহ বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং অসংখ্য শুভানুধ্যায়ী।
ডা. এমআর খান বাংলাদেশে শিশু চিকিৎসার পথিকৃৎ। তার জন্ম ১৯২৮ সালের ১ আগস্ট সাতক্ষীরার রসুলপুরে। এমআর খান নামে তিনি পরিচিত হলেও তার পুরো নাম মো. রফি খান।
১৯৫৩ সালে এমবিবিএস পাস করেন কলকাতা মেডিকেল কলেজ থেকে। তিনি এডিনবরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিটিএমঅ্যান্ডএইচ, এমআরসিপি, লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিসিএইচ, ঢাকার পিজি থেকে এফসিপিএস, ইংল্যান্ড থেকে এফআরসিপি ডিগ্রি লাভ করেন।
এমআর খান পেনশনের টাকা দিয়ে গড়েন ডা. এমআর খান-আনোয়ারা ট্রাস্ট। দুস্থ মা ও শিশুর স্বাস্থ্যসেবা, তাদের আর্থিক-সামাজিক অবস্থার উন্নয়নে এই ট্রাস্টের মাধ্যমে তিনি নিরন্তর কাজ করেছেন। তার উদ্যোগে গড়ে উঠেছে জাতীয় পর্যায়ের শিশু স্বাস্থ্য ফাউন্ডেশন। প্রতিষ্ঠা করেছেন শিশুস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল। গড়ে তুলেছেন সাতক্ষীরা শিশু হাসপাতাল, যশোর শিশু হাসপাতাল, সাতক্ষীরা ভোকেশনাল ট্রেনিং সেন্টার, রসুলপুর উচ্চ বিদ্যালয়, উত্তরা উইমেন্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ঢাকা সেন্ট্রাল হাসপাতাল, নিবেদিতা নার্সিং হোমসহ আরও বহু প্রতিষ্ঠান। এ ছাড়া তিনি দেশ থেকে পোলিও দূর করতে উদ্যোগী ভূমিকা রেখেছেন, কাজ করেছেন ধূমপানবিরোধী আন্দোলনের প্রতিষ্ঠান ‘আধূনিক’-এর প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে।
সাতক্ষীরা সদরের প্রাণনাথ উচ্চ ইংরেজি বিদ্যালয় (পিএন স্কুল) থেকে ১৯৪৩ সালে প্রথম বিভাগে ম্যাট্রিক পাস করে কলকাতা প্রেসিডেন্সি কলেজে ভর্তি হন তিনি। সেখান থেকে ১৯৪৫ সালে প্রথম বিভাগে আইএসসি পাস করেন। এরপর কলকাতা মেডিকেল কলেজ থেকে ১৯৫২ সালে এমবিবিএস পাস করে সাতক্ষীরায় ফিরে আসেন তিনি।
১৯৫৪ সালের ১ জানুয়ারি দূরসম্পর্কের আত্মীয় আনোয়ারা বেগম আনুর সাথে এমআর খানের বিয়ে হয়। পরের বছর উচ্চশিক্ষার জন্য সস্ত্রীক বিদেশে পাড়ি জমান তিনি। বিদেশে পড়াশোনা শেষ করে ১৯৫৭ থেকে ১৯৬২ সাল পর্যন্ত ইংল্যান্ডের ম্যানচেস্টার কেন্ট ও এডিনবরা গ্রুপ হাসপাতালে সহকারী রেজিস্ট্রার ও রেজিস্ট্রার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৬২ সালে আবার দেশে ফিরে পরের বছর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগে সহযোগী অধ্যাপক পদে যোগ দেন। ১৯৬৪ সালে রাজশাহী মেডিকেল কলেজে মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক (শিশুস্বাস্থ্য) পদে যোগদান করেন। এমআর খান ১৯৬৯ সালে আবার সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে ঢাকা মেডিকেল কলেজের শিশু বিভাগে যোগ দিয়ে পরের বছর অধ্যাপক হিসেবে পদোন্নতি পান। ১৯৭১ সালে তিনি ইনস্টিটিউট অব পোস্ট গ্রাজুয়েট মেডিসিন অ্যান্ড রিসার্চ-আইপিজিএমআরের (বর্তমানে বিএসএমএমইউ) অধ্যাপক ও ১৯৭৩ সালে এই ইনস্টিটিউটের যুগ্ম পরিচালকের দায়িত্ব পান।
অধ্যাপক ডা. এমআর খান ১৯৭৮ সালের নভেম্বরে ঢাকা শিশু হাসপাতালে অধ্যাপক ও পরিচালকের পদে যোগ দেন। এই হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও তার ছিল অনন্য ভূমিকা। ওই বছরই আবার আইপিজিএমআরের শিশু বিভাগের অধ্যাপক হন। ১৯৮৮ সালে অধ্যাপক ডা. এমআর খান তার সুদীর্ঘ চাকরিজীবন থেকে অবসর নেন। এমআর খান শিশুরোগ চিকিৎসা ও সমাজসেবার ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের জন্য বিভিন্ন পুরস্কার ও সম্মানে ভূষিত হয়েছেন। ১৯৮৭ সালে যুক্তরাজ্যের ক্যামব্রিজ বায়োগ্রাফিক্যাল সেন্টার থেকে প্রকাশিত প্রকাশনায় তার জীবনপঞ্জি অন্তর্ভুক্ত হয়। ১৯৯১ সালে ম্যানিলাভিত্তিক দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের অ্যাসোসিয়েশন অব পেডিয়াট্রিকস থেকে পদক পান তিনি। ১৯৯২ সালে তিনি শেরে বাংলা জাতীয় স্মৃতি সংসদ স্বর্ণপদক গ্রহণ করেন। তিনি দেশ-বিদেশে উল্লেখযোগ্য মেডিকেল কলেজের উচ্চতর ডিগ্রি/সম্মান দেওয়ার ক্ষেত্রে পরীক্ষক হিসেবেও কাজ করেছেন। বাংলাদেশে শিশু স্বাস্থ্যের ওপর এফসিপিএস, ডিসিএইচ ও এমসিপিএস পরীক্ষার পরীক্ষক হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করেন। ধানমন্ডির ৩ নম্বর সড়কের বাসভবনে নিজ চেম্বারে প্রতিষ্ঠা করেন নিবেদিতা মেডিকেল ইনস্টিটিউট অ্যান্ড রিসার্চ লিমিটেড। পৈতৃক সূত্রে পাওয়া প্রায় সব সম্পত্তিই দান করেছেন সাতক্ষীরা জেলার মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য।
জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সাময়িকীতে তার ৩৭টি গবেষণাধর্মী রচনা প্রকাশিত হয়েছে। শিশুরোগ চিকিৎসা সংক্রান্ত ৭টি বই লিখেছেন, যেগুলো দেশে-বিদেশে প্রশংসিত হয়েছে। প্রতিষ্ঠানতুল্য এই মানুষটির জীবনী স্থান পেয়েছে ক্যামব্রিজ থেকে প্রকাশিত ইন্টারন্যাশনাল হু ইজ হু অব ইন্টেলেকচুয়ালে। পেয়েছেন স্বাধীনতা পদক, একুশে পদক, আন্তর্জাতিক ম্যানিলা অ্যাওয়ার্ডসহ আরও অনেক পুরস্কার।

Category:

‘বিপ্লব গোলাপের শয্যা নয়’

22

চির বিদায় ফিদেল কাস্ত্রো

রাজীব পারভেজ : কিউবার সাবেক প্রেসিডেন্ট এবং বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টির নেতা ফিদেল কাস্ত্রো গত ২৫ নভেম্বর মৃত্যুবরণ করেন। তিনি ছিলেন একজন কিউবান রাজনৈতিক নেতা ও সমাজতন্ত্রী বিপ্লবী। কিউবা বিপ্লবের প্রধান নেতা ফিদেল ফেব্রুয়ারি ১৯৫৯ থেকে ডিসেম্বর ১৯৭৬ পর্যন্ত কিউবার প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। এরপর ফেব্রুয়ারি ২০০৮-এ তার স্বেচ্ছায় সরে যাওয়ার আগ পর্যন্ত কিউবার মন্ত্রী পরিষদের প্রেসিডেন্ট ছিলেন। তিনি ১৯৬১ সালে দলের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ছিলেন কিউবা কমিউনিস্ট দলের প্রধান হিসেবে। এর আগে শারীরিক অসুস্থতার কারণে ২০০৮ সালে তিনি তার দায়িত্ব ভাই রাউল কাস্ত্রোর কাছে অর্পণ করেছিলেন। রাউল বর্তমানে কমিউনিস্ট পার্টির সহকারী প্রধান এবং মন্ত্রী পরিষদের প্রধান হিসেবে আছেন। এর আগে তিনি ১৯৫৯-২০০৮ পর্যন্ত ফিদেলের মন্ত্রিসভায় প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে কাজ করেছেন।
হাভানা বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিষয়ে পড়ার সময় ফিদেল কাস্ত্রো তার রাজনৈতিক জীবন শুরু করেন। এরপর কিউবার রাজনীতিতে একজন বিখ্যাত ব্যক্তিতে পরিণত হন। তার রাজনৈতিক জীবন শুরু হয় প্রেসিডেন্ট ফালজেন্সিও বাতিস্তা এবং কিউবার ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক প্রভাবের বিরুদ্ধে জাতীয়তাবাদী সমালোচনা নিবন্ধ লিখে। তিনি এ ব্যাপারে আগ্রহী হয়ে ওঠেন এবং কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সমর্থ হন। অবশেষে তিনি ১৯৫৩ সালে মনকাডা ব্যারাকে একটি ব্যর্থ আক্রমণ করেন এবং তারপর কারারুদ্ধ হন ও পরে ছাড়া পান। এরপর তিনি বাতিস্তার সরকার উৎখাতের জন্য সংগঠিত হওয়ার জন্য মেক্সিকো যান। ফিরে এসে ১৯৫৬-এর ডিসেম্বরে সরকার উৎখাতে নামেন।
পরবর্তীকালে কাস্ত্রো কিউবান বিপ্লবের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসেন, যা যুক্তরাষ্ট্রের মদদে চলা বাতিস্তার স্বৈরশাসনকে ক্ষমতাচ্যুত করে। এর কিছুদিন পরই কাস্ত্রো কিউবার প্রধানমন্ত্রী হন। ১৯৬৫ সালে তিনি কিউবা কমিউনিস্ট পার্টির প্রধান হন এবং কিউবাকে একদলীয় সমাজতান্ত্রিক দেশ হিসেবে রূপ দেন। ১৯৭৬ সালে তিনি রাষ্ট্র ও মন্ত্রী পরিষদের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেন। তিনি কিউবার সর্বোচ্চ সামরিক পদেও ঈড়সধহফধহঃব বহ ঔবভব (ঈড়সসধহফবৎ রহ ঈযরবভ) আসীন হন।
সারাবিশ্বে যখন কমিউনিস্ট সরকারগুলো ধসে পড়ছে ঠিক তখন কমিউনিস্ট ব্যবস্থার বৃহত্তম শত্রু বলে পরিচিত আমেরিকার দোরগোড়াতেই সমাজতন্ত্রের ধ্বজা তুলে ধরে রেখেছিলেন কাস্ত্রো। তার সমর্থকরা তাকে সমাজতন্ত্রের চ্যাম্পিয়ন হিসেবে দেখতেন, যিনি জনগণের কাছে কিউবাকে ফেরত দিয়েছিলেন। তবে বিরোধীদের প্রতি চরম দমন-পীড়নের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
মার্কসবাদ
১৯৪৮ সালে কিউবার ধনী এক রাজনীতিবিদের কন্যা মার্টা ডিয়াজ বালার্টকে বিয়ে করেন কাস্ত্রো। এই বিয়ের মাধ্যমে দেশটির এলিট শ্রেণিতে যুক্ত হয়ে যাওয়ার সুযোগ ছিল তার; কিন্তু তার বদলে তিনি আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে গেলেন মার্কসবাদে। তিনি বিশ্বাস করতেন কিউবার লাগামহীন পুঁজিবাদের কারণে দেশটির যাবতীয় অর্থনৈতিক সমস্যার উদ্ভব এবং একমাত্র জনগণের বিপ্লবের মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান হতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পাট চুকানোর পর আইন পেশা শুরু করেন; কিন্তু এই পেশায় তিনি সফল হতে ব্যর্থ হন। ফলশ্রুতিতে দেনায় ডুবে যান তিনি। এই পরিস্থিতিতেও রাজনীতি অব্যাহত রাখেন। প্রায়ই সহিংস বিক্ষোভে জড়িয়ে পড়তেন তিনি।
দ্য মুভমেন্ট
১৯৫২ সালে ফুলগেন্সিও বাতিস্তা একটি সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট কার্লোস প্রিয়র সরকারকে উচ্ছেদ করেন। বাতিস্তার সরকারের নীতি ছিল যুক্তরাষ্ট্রের মতোই, যা ছিল কাস্ত্রোর বিশ্বাসের পরিপন্থী। ফলে বাতিস্তা সরকারকে উৎখাতের জন্য তিনি একটি গোপন সংগঠন গড়ে তোলেন, যার নাম ‘দ্য মুভমেন্ট’। এ সময় কিউবা পরিণত হয়েছিল উচ্ছৃঙ্খল ধনীদের স্বর্গরাজ্যে। যৌন ব্যবসা, জুয়া এবং মাদক চোরাচালান চরম আকার ধারণ করেছিল। সশস্ত্র বিপ্লবের জন্য অস্ত্র সংগ্রহের উদ্দেশে ১৯৫৩ সালের জুলাই মাসে সান্টিয়াগোর কাছে মোনাকাডা সেনা ছাউনিতে একটি আক্রমণের পরিকল্পনা করেন কাস্ত্রো। আক্রমণটি ব্যর্থ হয় এবং বহু বিপ্লবী নিহত হয়, নয় তো ধরা পড়ে। বন্দীদের মধ্যে কাস্ত্রোও ছিলেন। ১৯৫৩ সালে তার বিচার শুরু হয়। বিচারের শুনানিগুলো কাস্ত্রো ব্যবহার করতেন সেনাবাহিনীর দমন-পীড়নের ঘটনাবলী ফাঁস করে দেওয়ার মঞ্চ হিসেবে। এ সময় শুনানিগুলোতে বিদেশি সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার ছিল। ফলে কাস্ত্রোর জনপ্রিয়তা এ সময় বেড়ে যায়। কাস্ত্রোকে অবশ্য ১৫ বছরের কারাদ- দেন আদালত।
গেরিলা যুদ্ধ
সাধারণ ক্ষমার মাধ্যমে ১৯৫৫ সালের মে মাসে জেল থেকে ছাড়া পান কাস্ত্রো। জেলে থাকার সময়েই স্ত্রীকে তালাক দেন তিনি এবং মার্কসবাদে আরও ভালোভাবে জড়িয়ে পড়েন। ছাড়া পাওয়ার পর ফের গ্রেফতার এড়াতে মেক্সিকো পালিয়ে যান তিনি। সেখানে তার পরিচয় হয় আরেক তরুণ বিপ্লবী আরনেস্তো চে গুয়েভারার সাথে। ১৯৫৬ সালের নভেম্বরে ১২ জন ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন একটি ইঞ্জিন নৌকায় ৮১ সশস্ত্র সঙ্গীকে নিয়ে কিউবায় ফিরে আসেন ফিদেল কাস্ত্রো। তারা সিয়েরা মায়েস্ত্রা পাহাড়ে আশ্রয় নেন এবং এখান থেকে হাভানার সরকারের বিরুদ্ধে দুবছর ধরে গেরিলা আক্রমণ চালান। ১৯৫৯ সালের ২ জানুয়ারি বিদ্রোহীরা হাভানায় প্রবেশ করে। বাতিস্তা পালিয়ে যান। এ সময় বাতিস্তার বহু সমর্থককে বিচারের মাধ্যমে মৃত্যুদ- দেওয়া হয়। এসব বিচার কার্যক্রমকে অনেক বিদেশি পর্যবেক্ষকই ‘অনিরপেক্ষ’ বলে মনে করেন।
আদর্শভিত্তিক কর্মসূচি
কিউবার নতুন সরকার জনগণকে সব জমি বুঝিয়ে দেওয়ার এবং গরিবের অধিকার সুরক্ষার প্রতিশ্রুতি দেয়। কিন্তু একই সাথে দেশে একটি একদলীয় শাসন ব্যবস্থা কায়েম করা হয়। রাজবন্দি হিসেবে বহু মানুষকে কারাগারে এবং শ্রমশিবিরে প্রেরণ করা হয়। হাজার হাজার মধ্যবিত্ত কিউবান বিদেশে পালিয়ে নির্বাসন নেন। ১৯৬০ সালের কিউবাতে থাকা সব মার্কিন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রাষ্ট্রায়ত্ত খাতে নিয়ে নেওয়া হয়। জবাবে যুক্তরাষ্ট্র কিউবার ওপর একটি বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে, যা একবিংশ শতক পর্যন্ত অব্যাহত ছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের শত্রু
বিপ্লবের সময় তৎকালীন সোভিয়েত রাশিয়া এবং এর নেতা নিকিতা ক্রুশ্চেভের সাথে মিত্রতা তৈরি হয় কাস্ত্রোর। ফলে কিউবা পরিণত হয় ঠা-া যুদ্ধের যুদ্ধক্ষেত্রে। ১৯৬১ সালের এপ্রিল মাসে যুক্তরাষ্ট্র কাস্ত্রো সরকারকে উৎখাতের চেষ্টা চালায় একদল নির্বাসিত কিউবানকে দিয়ে দ্বীপটি দখল করিয়ে নেওয়ার মাধ্যমে। ওই চেষ্টা ব্যর্থ হয়, বহু মানুষ এ সময় নিহত হন, হাজার খানেক মানুষ ধরা পড়ে। এ ঘটনা পরবর্তীতে কিউবা নিয়ে সোভিয়েত ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রকে মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেয়। ফিদেল কাস্ত্রো আমেরিকার এক নম্বর শত্রুতে পরিণত হন। সিআইএ তাকে হত্যার চেষ্টাও করে।
অবসর
কাস্ত্রোর শাসনামলে কিউবায় অবশ্য বহু অভ্যন্তরীণ উন্নয়নও হয়েছে। দেশটির প্রতিটি নাগরিকই বিনামূল্যে উন্নত চিকিৎসাসেবা পায়। বিশ্বের বহু উন্নত দেশের তুলনায় কিউবায় শিশুমৃত্যুর হার কম। শাসনামলের শেষ ১০ বছরে নিজের বিপ্লবকে বাঁচাতে মুক্ত বাণিজ্যের কিছু কিছু দিক গ্রহণ করতে বাধ্য হন কাস্ত্রো। ২০০৬ সালের ৩১ জুলাই ৮০তম জন্মদিনের কয়েকদিন আগে ভাই রাউলের হাতে সাময়িক শাসনভার দিয়ে একটি জরুরি অস্ত্রোপচারে যান তিনি। ২০০৮ সালের গোড়ার দিকে তিনি অবসরে যাওয়ার ঘোষণা দেন।
বঙ্গবন্ধুকে হিমালয়ের সাথে তুলনা
বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের নায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিল কমিউনিস্ট নেতা ফিদেল কাস্ত্রোর। বঙ্গবন্ধু সারাবিশ্বের কাছে নিঃশর্ত সাহায্য চেয়েই বুঝিয়ে দিয়েছিলেন মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সাথে কোনো আপস তিনি করবেন না। ১৯৭৪ সালের জোট নিরপেক্ষ আন্দোলনের সভায় আলজেরিয়ায় কিউবার মহান নেতা ফিদেল কাস্ত্রোর সাথে বৈঠক হয় বঙ্গবন্ধুর।
বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্ব, তার সিদ্ধান্ত, অবিচলতা নিয়ে বলতে গিয়ে কাস্ত্রো বলেন, ‘আমি হিমালয় দেখিনি, কিন্তু শেখ মুজিবকে দেখেছি। ব্যক্তিত্ব ও সাহসিকতায় তিনি হিমালয়ের মতো।’ বঙ্গবন্ধুকে প্রথমবার দেখে কাস্ত্রো এই উক্তি করেছিলেন।
কিউবার অবিসংবাদিত নেতা ফিদেল কাস্ত্রোর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ। রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শোকবার্তা পাঠিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতায় তার অবদান শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। একাত্তরে মুক্তিকামী বাঙালিদের পক্ষে দাঁড়ানো ফিদেল কাস্ত্রোকে বাংলাদেশ সরকার ২০১৩ সালে ‘মুক্তিযুদ্ধ মৈত্রী সম্মাননায়’ ভূষিত করা হয়।

Category:

প্রয়াতজন : শ্রদ্ধাঞ্জলি

উত্তরণ ডেস্ক

64-a বিদায় প্রিয় কবি শহীদ কাদরী
গত ১৪ আগস্ট ছিল তার ৭৪তম জন্মদিন; আগস্টেই মৃত্যুর নামে লেখা হয়ে গেলেন কবি শহীদ কাদরী। আধুনিক বাংলা কবিতার অন্যতম প্রাণপুরুষ কবি শহীদ কাদরী আর নেই। তিনি ছিলেন পঞ্চাশের দশকের বাংলা ভাষার অন্যতম প্রধান কবি। দীর্ঘ কয়েক যুগ যুক্তরাষ্ট্রে স্বেচ্ছানির্বাসনে থাকা কবি নিউইয়র্কের নর্থ শোর বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে স্থানীয় সময় ১৪ আগস্ট সকাল ৭টায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্নালিল্লাহি … রাজিউন)। কবির মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে এক শোক বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, কবি শহীদ কাদরীর মৃত্যুতে বাংলা সাহিত্য এক উজ্জ্বল নক্ষত্রকে হারাল। তিনি তার বিবৃতিতে কবির পাঠক ও শুভার্থীদের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেছেন।
কিডনি-সংক্রান্ত নানা জটিলতায় অনেক দিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন প্রিয় কবি শহীদ কাদরী। কিছুদিন আগেই পুরো দুই সপ্তাহ হাসপাতালে কাটিয়ে বাসায় ফিরেছিলেন তিনি। পরের দিনই আবার ডায়ালাইসিস। হুইল চেয়ারে বসে টেলিফোনে নিজের অসুস্থতা, ক্লান্তি, নিউইয়র্কের জীবন, দেশ ও আড্ডাময় জীবন আর তার আজন্ম সঙ্গী কবিতার মানুষের কথা বলেছিলেন কবি। কিন্তু সাত দিন আগে আবার তাকে উচ্চ রক্তচাপ ও জ্বর নিয়ে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। অবশেষে মৃত্যুর কাছে হার মানলেন প্রেম ও দ্রোহের এই কবি।
শহীদ কাদরীর জন্ম কলকাতায় ১৯৪২ সালের ১৪ আগস্ট। ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর হিন্দু-মুসলমান দাঙ্গার পর তার পরিবার স্থায়ীভাবে ঢাকায় চলে আসে। শৈশবেই বাবাকে হারিয়েছিলেন কলকাতায় আর মাকে ঢাকায়। আধুনিক নাগরিক জীবনের প্রাত্যহিক যন্ত্রণা ও ক্লান্তির অভিজ্ঞতাকে কবিতায় রূপ দিয়েছেন তিনি। ভাষা, ভঙ্গি ও বক্তব্যের তীক্ষè শানিত রূপ তার কবিতাকে বৈশিষ্ট্য দান করেছে। শহর ও সভ্যতার বিকারকে শহীদ কাদরী ব্যবহার করেছেন তার কাব্যে। ‘উত্তরাধিকার’, ‘তোমাকে অভিবাদন প্রিয়তমা’, ‘কোথাও কোনো ক্রন্দন নেই’, ‘আমার চুম্বনগুলো পৌঁছে দাও’Ñ মাত্র এই ৪টি কাব্যগ্রন্থে অধিকার করে নিয়েছেন আধুনিক বাংলা কবিতার অন্যতম আসন।
শহীদ কাদরীর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছে বাংলা একাডেমি, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, উদীচী, জাতীয় কবিতা পরিষদসহ বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান।
১৪ বছর বয়সে শহীদ কাদরীর প্রথম কবিতা ‘এই শীতে’ বুদ্ধদেব বসুর ‘কবিতা’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। ওই দিনটি ছিল কবির কাছে একই সাথে আনন্দ আর বেদনার। কারণ, কাকতালীয়ভাবে সেদিনই তার মা মারা যান।
১৯৭১ সালে শহীদ কাদরী বিয়ে করেন পিয়ারীকে। তার সাথে ১৯৭৮ সালে পাড়ি দেন জার্মানিতে। পিয়ারীর সাথে বিচ্ছেদের পর তিনি চলে যান যুক্তরাষ্ট্রে। সেখানে তিনি নতুন সঙ্গী হিসেবে বেছে নেন তার ভক্ত নীরাকে। তার একমাত্র সন্তান আদনান কাদরী।
কবি শহীদ কাদরী বাংলা সাহিত্যে তার গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য ১৯৭৩ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ও ২০১১ সালে একুশে পদক লাভ করেন। এ ছাড়া মযহারুল ইসলাম কবিতা পুরস্কারসহ বিভিন্ন পুরস্কারে ভূষিত হন খ্যাতিমান এই কবি। তার স্মৃতির প্রতি পরিবারের গভীর শ্রদ্ধা।
অভিনেতা ফরিদ আলী আর নেই
64-b‘টাকা দেন দুবাই যাব, বাংলাদেশে থাকবো না’Ñ এই সংলাপটির সাথে যারা পরিচিত তারা এক বাক্যেই উচ্চারণ করবেন অভিনেতা ফরিদ আলীর নাম। সেই জনপ্রিয় কৌতুক অভিনেতা ও মুক্তিযোদ্ধা ফরিদ আলী (৭২) আর নেই। তিনি শেরেবাংলা নগরের হৃদরোগ ইনস্টিটিউট হাসপাতালে চিকিৎসাধী অবস্থায় গত ২২ আগস্ট বিকেলে ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহি … রাজিউন)।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ আগস্ট তাকে হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। কয়েক মাস আগেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সহায়তায় ফরিদ আলীর চিকিৎসা করানো হয়েছিল। তিনি ফুসফুস ও হার্টসহ শারীরিক নানা জটিলতায় ভুগছিলেন। ২২ আগস্ট তার বাসায় বাদ এশা প্রথম জানাজা শেষে হৃদরোগ হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হয় মরদেহ। ২৩ আগস্ট বাদ জোহর চ্যানেল আই’তে তার দ্বিতীয় জানাজা শেষে মরদেহ নেওয়া হয় দীর্ঘদিনের কর্মস্থল বাংলাদেশ ফিল্ম ডেভেলপমেন্ট করপোরেশনে (বিএফডিসি)। সেখানে তৃতীয় জানাজা শেষে বনানী কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে। কৌতুক অভিনয়ে ছিলেন অদ্বিতীয়। নাটক লেখা ও নির্দেশনায়ও সিদ্ধহস্ত ছিলেন এই শিল্পী।
64-cস্বর্ণকন্যা ‘বাংলার বাঘিনী’ মার্গারিটার পিতৃবিয়োগ
অলিম্পিকের পর মেয়ে মার্গারিটাকে নিয়ে বাংলাদেশে আসবেনÑ পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম এমপিকে এই কথা দিয়েছিলেন আবদুল্লাহ আল মামুন। তবে রিও অলিম্পিকে স্বর্ণ জয় করা ‘বাংলার বাঘিনী’ মার্গারিটাকে নিয়ে আর দেশে আসা হলো না রাশিয়া প্রবাসী এই বাংলাদেশির। গত ২৬ আগস্ট বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ৮টায় মস্কোর নিজ বাসায় তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্নালিল্লাহি … রাজিউন)।

Category:

প্রয়াতজন : শ্রদ্ধাঞ্জলি

Posted on by 0 comment

উত্তরণ প্রতিবেদন:

60(A)   মুক্তিযুদ্ধের বন্ধু সিডনি শনবার্গ
একাত্তরে বাংলাদেশে সংঘটিত গণহত্যার খবর বিশ্বের সামনে তুলে ধরায় যিনি বড় ভূমিকা রেখেছেন, সেই সিডনি শনবার্গ আর নেই। গত ৯ জুলাই নিউইয়র্কের পোকিপসি শহরে মারা যান পুলিৎজার পুরস্কারজয়ী এই সাংবাদিক। তার বয়স হয়েছিল ৮২ বছর। ৬ জুলাই তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হন বলে তার এক বন্ধুর বরাত দিয়ে জানিয়েছে নিউইয়র্ক টাইমস।
মার্কিন সাংবাদিক ও বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বন্ধু সিডনি শনবার্গের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম-মুক্তিযুদ্ধ ’৭১-এর নেতারা। তারা তার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, নিউইয়র্ক টাইমস-এর দক্ষিণ এশীয় সংবাদদাতা হিসেবে শনবার্গ ১৯৭১-এর ২৫ মার্চ কালরাতে ঢাকায় পাকিস্তানি গণহত্যার খবর প্রথম সারাবিশ্বে প্রচার করেন। পরে অন্য বিদেশি সাংবাদিকদের সাথে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী তাকে দেশ থেকে বহিষ্কার করে। এরপরও সিডনি শনবার্গ ভারত হয়ে মুক্তিযুদ্ধের পুরোটা সময় বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রবেশ করেন এবং মুক্তিযুদ্ধের পরিস্থিতি নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদন লেখেন।
গত ১০ জুলাই রোববার পাঠানো এক শোকবার্তায় সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম-মুক্তিযুদ্ধ ’৭১-এর নেতারা বলেন, বাংলাদেশের মাটিতে হানাদার বাহিনীর গণহত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞের ওপর শনবার্গের প্রত্যক্ষদর্শী প্রতিবেদনগুলো সারাবিশ্বে আলোড়ন তোলে। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর ঢাকার তৎকালীন রমনা রেসকোর্সে পাকিস্তান বাহিনীর ঐতিহাসিক আত্মসমর্পণেরও একজন প্রত্যক্ষদর্শী তিনি। সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের নেতারা এই আদর্শবাদী ও ত্যাগী সাংবাদিকের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করেন।
১৯৭৫ সালে কম্বোডিয়ায় গণহত্যার সংবাদ সংগ্রহের জন্য সিডনি শনবার্গ পুলিৎজার পুরস্কার পান।
সাবেক সংসদ সদস্য
60(B)ডা. মান্নান
সাবেক সংসদ সদস্য, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য অধ্যাপক ডা. এমএ মান্নান গত ১৬ জুলাই দুপুরে রাজধানীর একটি হাসপাতালে ৮৪ বছর বয়সে বার্ধক্যজনিত কারণে মৃত্যুবরণ করেন। ১৯৬৯ সালে তৎকালীন আইপিজিএমআর-এ যোগদান করে দেশে প্রথম ¯œায়ুরোগ চিকিৎসার সূচনা করেন। তিনি ছিলেন নিউরোলজি ফাউন্ডেশন, ঢাকা; ইপিলেপসি অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-এর প্রতিষ্ঠাতা। নিজ এলাকায় স্ব-অর্থায়নে গড়ে তোলেন ডা. আবদুল মান্নান মহিলা কলেজ, বশিরা মান্নান এতিমখানা, বেগম আম্বর আলী প্রাথমিক বিদ্যালয়, আলহাজ আম্বর আলী বহুমুখী সেবাকেন্দ্রসহ অর্ধ শতাধিক শিক্ষা ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ থেকে তিনি ২০০১ সাথে অষ্টম এবং ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক। তিনি চিকিৎসা ও সমাজসেবায় গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য ২০১৫ সালে একুশে পদক লাভ করেন।
সাবেক সংসদ সদস্য, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য অধ্যাপক ডা. এমএ মান্নানের চতুর্থ জানাজা ১৯ জুলাই জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত হয়। পঞ্চম জানাজা অনুষ্ঠিত হয় তার কর্মস্থল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে বাদ জোহর। পরে বনানী কবরস্থানে তাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়।
মরহুমের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে ১৭ জুলাই বাদ এশা লেক সার্কাস কলাবাগানের মসজিদ বাক্কাতিল মোবারাকাতে। ১৮ জুলাই দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে তার নির্বাচনী এলাকা পাকুন্দিয়া উপজেলা সদরে বাদ জোহর, তৃতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে বাদ আসর কটিয়াদি উপজেলা সদরে কটিয়াদি ডিগ্রি কলেজ মাঠে।
সাবেক সংসদ সদস্য
60(C)আলী রেজা রাজু
বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ, যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি এবং সাবেক সংসদ সদস্য আলী রেজা রাজু দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর গত ১৫ জুলাই দুপুরে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন (ইন্নালিল্লাহি … রাজিউন)। তার বয়স হয়েছিল ৭১ বছর। তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে, দুই মেয়ে, আত্মীয়-স্বজনসহ অসংখ্য অনুসারী ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাবেক সংসদ সদস্য আলী রেজা রাজুর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
আলী রেজা রাজু দীর্ঘদিন ধরে কিডনিসহ নানা রোগে ভুগছিলেন।
রাজুর প্রথম নামাজে জানাজা ১৭ জুলাই বেলা ১১টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হয়। ১৬ জুলাই তার মরদেহ যশোরে নেওয়ার পর সেখানে ঈদগাহ প্রাঙ্গণে দ্বিতীয় জানাজা শেষে শহরের পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
মুক্তিযোদ্ধা সংসদের জেলা শাখার কমান্ডার রাজেক আহমেদ জানান, আলী রেজা রাজুর জন্ম ১৯৪৫ সালে যশোর সদর উপজেলার কাশিমপুরে।
সংসদ সদস্য ছাড়াও আলী রেজা রাজু বিভিন্ন সময় যশোর সদর উপজেলার কাশিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, যশোর সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এবং যশোর পৌরসভার চেয়ারম্যান (মেয়র), যশোর পৌরসভার কমিশনার (কাউন্সিলর) নির্বাচিত হন।
তিনি ২০০৪ সালের কাউন্সিলে যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন এবং ২০১৫ সাল পর্যন্ত টানা প্রায় এক যুগ তিনি যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।
বীরকন্যা মুক্তিযোদ্ধা
61(B)শিরিন বানু মিতিল
অকুতোভয় মুক্তিযোদ্ধা, নারী নেত্রী শিরিন বানু মিতিল আর নেই। গত ২০ জুলাই মধ্যরাতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি ইন্তেকাল করেন। তার বয়স হয়েছিল ৬৫ বছর। মুক্তিযুদ্ধের শুরুতেই সম্মুখ সমরে নেমেছিলেন তিনি। বীরকন্যা প্রীতিলতাকে অনুসরণ করে তিনি পুরুষবেশে যুদ্ধে অংশ নেন। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে তিনি এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন। ২০ জুলাই রাত সাড়ে ১১টায় তিনি অসুস্থবোধ করলে তাকে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে রাত দেড়টায় কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
মহীয়সী মুক্তিযোদ্ধার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে তার মরদেহ ২২ জুলাই সকাল ১০টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে রাখা হয়। সেখানে তার সহযোদ্ধারাসহ সর্বস্তরের জনগণ এই বীরকন্যার মরদেহে পুষ্পার্ঘ অর্পণ করেন। রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রদর্শন করা হয় অন্তিম সম্মান।
মুক্তিযুদ্ধ যখন শুরু হয় তখন তিনি পাবনা এডওয়ার্ড কলেজের বাংলা বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্রী। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাতে পাকহানাদারদের আক্রমণ শুরু হলে ২৭ মার্চ পাবনা পুলিশ লাইনে প্রতিরোধ যুদ্ধে সর্বস্তরের মানুষ অংশ নেয়। পরদিন পাবনা টেলিফোন এক্সচেঞ্জে ৩৬ পাকসেনার সাথে জনতার তুমুল যুদ্ধ সংঘটিত হয়, যাতে তিনিই ছিলেন একমাত্র নারী যোদ্ধা। এই যুদ্ধে ৩৬ পাকসেনা নিহত এবং দুই মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হয়। ৯ এপ্রিল নগরবাড়িতে যুদ্ধের সময় পাবনার পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে স্থাপিত মুক্তিযুদ্ধের কন্ট্রোল রুমের পুরো দায়িত্বে ছিলেন তিনি। ভারতের স্টেটসম্যান পত্রিকায় তার ছবিসহ পুরুষ সেজে যুদ্ধ করার খবর প্রকাশিত হয়। পরে পাবনা শহর পাকিস্তানি সেনারা দখলে নিলে তিনি ভারতে বাংলাদেশ সরকার পরিচালিত নারীদের একমাত্র প্রশিক্ষণ শিবির ‘গোবরা ক্যাম্পে’ যোগ দেন। পরে মেজর জলিলের নেতৃত্বে পরিচালিত ৯ নম্বর সেক্টরে যোগ দেন।
কর্মসূত্রে শিরিন বানু বেসরকারি সংস্থা পিআরআইপি ট্রাস্টে ‘জেন্ডার অ্যান্ড গভর্নেন্স’ বিষয়ে পরামর্শক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি চাইল্ড অ্যান্ড মাদার কেয়ার (সিএমসি) নামে একটি সেবাকেন্দ্রের সাথেও বিশেষজ্ঞ হিসেবে যুক্ত ছিলেন।
মহাশ্বেতা দেবী
61(A)পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় কলকাতার কেওড়াতলা মহাশ্মশানে গত ২৯ জুলাই শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক মহাশ্বেতা দেবীর। চোখের জলে বিদায় জানানো হলো লেখিকা-সমাজকর্মীকে। প্রয়াত সাহিত্যিকের অসংখ্য অনুরাগীর সাথে শেষ যাত্রায় ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিসহ বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি।
২৯ জুলাই সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে কলকাতার পিস হেভেন থেকে মহাশ্বেতার মরদেহ রবীন্দ্রসদনে আনা হয়। সকাল ১০টা থেকে বেলা সাড়ে ১২টা পর্যন্ত সেখানে প্রয়াত সাহিত্যিককে শেষ শ্রদ্ধা জানান সাধারণ মানুষ, পাঠক-অনুরাগী থেকে রাজনৈতিক নেতারা। সেখানে অগণিত মানুষের সাথে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি ও তার মন্ত্রিসভার সদস্য এবং কলকাতার মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায় শেষ শ্রদ্ধা জানান তাকে।
প্রসঙ্গত দীর্ঘদিন রোগভোগের পর ২৮ জুলাই কলকাতার বেলভিউ হাসপাতালে মৃত্যু হয় ৯০ বছর বয়সী এই কথাসাহিত্যিকের। বার্ধক্যজনিত অসুস্থতার সাথে কিডনিতে সমস্যা দেখা দিয়েছিল তার।
মহাশ্বেতা দেবী উপমহাদেশের অন্যতম বাঙালি সাহিত্যিক। তিনি সাংস্কৃতিক কর্মী, মানবাধিকার কর্মী। তার ব্যাপ্তি বিশাল কিন্তু এতটাই মাটির কাছাকাছি তিনি যে তার ঘনিষ্ঠ পাঠক ছাড়া তাকে জানা যায় না। ঝাঁসির রানি লক্ষ্মীবাইকে নিয়ে বই লিখে প্রথম সবার নজরে আসেন মহাশ্বেতা দেবী। এরপর তিনি অসংখ্য গল্প-উপন্যাস লিখেছেন। তার লেখা অসংখ্য ভাষায় অনূদিত হয়েছে। ম্যাগসেসে পুরস্কার থেকে শুরু করে জ্ঞানপীঠ, সাহিত্য একাডেমি প্রবর্তিত বহু পুরস্কার পেয়েছেন তিনি। পেয়েছেন পদ্মশ্রী ও পদ্ম বিভূষণের মতো জাতীয় সম্মানও। এ ছাড়া ২০০৭ সালে পেয়েছিলেন সার্ক সাহিত্য পুরস্কার। বামপন্থি লেখক হিসেবে পরিচিত মহাশ্বেতা দেবী লেখালেখির পাশাপাশি আদিবাসীদের সমাজের জীবন মান উন্নয়নে নিরলস কাজ করেছেন। বিশেষ করে লোধা ও শবরদের জীবনমান উন্নয়নে তিনি দীর্ঘদিন ধরে লড়াই করে গিয়েছেন।

Category: