রাজধানীতে গণসংযোগ : নৌকায় ভোট দিন

PM

PMসরদার মাহামুদ হাসান রুবেল: অক্টোবরের শুরুতে রাজধানীতে আনুষ্ঠানিকভাবে নৌকা প্রতীকে ভোট চেয়ে সপ্তাহব্যাপী নির্বাচনী প্রচার ও গণসংযোগে ঢাকা মহানগরীর একাধিক স্থানে নৌকা মার্কায় ভোট চেয়ে লিফলেট বিতরণসহ নৌকা মার্কার পক্ষে জোয়ার তুলেছেন দলের কেন্দ্রীয় নেতারা। জনসংযোগকালে নেতারা ‘বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকুন, উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে জননেত্রী শেখ হাসিনাকে সহযোগিতা করুন’ শিরোনামে লিফলেট ঘুরে ঘুরে সাধারণ মানুষ ও ভোটারদের মধ্যে বিতরণ করেন। নির্বাচনী প্রচার ও গণসংযোগ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে বিএনপির দেওয়া সাত-দফা দাবিকে অবাস্তব, অযৌক্তিক ও সংবিধানবিরোধী আখ্যা দিয়ে তা প্রত্যাখ্যান করেছেন আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতারা। দলের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে গণসংযোগে অংশ নিয়েছেন।
গত ১ অক্টোবর রাজধানীর গুলশান-২ নম্বরে গণসংযোগের উদ্বোধন এবং শান্তিনগর কাঁচাবাজারে গণসংযোগকালে ‘খালেদা জিয়ার মুক্তি ও নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে যারা আন্দোলনে রাজপথে নামবে তাদের সঙ্গে আমাদের ঐক্য হবে। সেখানে যদি শয়তানও থাকে তাদের সঙ্গেও ঐক্য হবে’ বিএনপির জনসভায় গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের এমন বক্তব্যের জবাবে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি বলেন, শয়তানের সঙ্গে জোট করে তারাই যারা নিজেরাই শয়তান আর বিএনপির সাত-দফা দাবির কোনো কোনোটি সংবিধানবিরোধী। কাজেই এসব অবাস্তব দাবি এই সময়ে, নির্বাচনের সিডিউল ঘোষণার আর মাত্র এক মাস বাকি, এর মধ্যে মেনে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তারা নিজেরাই ক্ষমতায় থাকলে এই সময়ের মধ্যে দাবিগুলো মেনে নিতে পারত না। অসংবিধানিক দাবি কেউ মেনে নিতে পারে না।
বিএনপি-জামাতের সহিংসতা ও নাশকতার বিরুদ্ধে সচেতন থাকার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, তারা দেশে আবারও নাশকতা ও সহিংসতা করতে চাইলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যেমন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে, তেমনি জনগণকে সঙ্গে নিয়েও আমরা তাদের প্রতিহত করব।
একই দিনে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ এমপির নেতৃত্বে গঠিত টিম বিকেল সাড়ে ৪টায় রাজধানীর ওয়ারী থানার ৩টি ওয়ার্ডে গণসংযোগ করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগ সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক এমপি, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম এমপি, এনামুল হক শামীম, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস এমপি, এসএম কামাল হোসেন, ওয়ারী থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি চৌধুরী আশিকুর রহমান লাভলু, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ মহিলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিনু চৌধুরী প্রমুখ। এই দিনে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক এমপির নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের অন্য নির্বাচনী প্রচার টিম রাজধানীর মোহাম্মদপুর টাউন হল এলাকায় নৌকা প্রতীকে ভোট চেয়ে গণসংযোগ করেন। এ সময় কেন্দ্রীয় নেতা আহম্মদ হোসেন, খালেদ মাহমুদ চৌধুরী এমপি, ফরিদুন্নাহার লাইলী এমপি, সুজিত রায় নন্দী, আবদুস সাত্তার, ড. রোকেয়া সুলতানা, ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাদেক খানসহ স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
আওয়ামী লীগের গণসংযোগ কর্মসূচি ২ অক্টোবর রাজধানীর রাসেল স্কোয়ার, পল্টনের জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমসহ কয়েকটি এলাকায় নৌকা মার্কায় ভোট চেয়ে গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ করেছেন কেন্দ্রীয় নেতারা। রাসেল স্কোয়ারে গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি যদি আবার নাশকতা করে, ২০১৪ সালের মতো বোমা-সন্ত্রাস করে অথবা সহিংসতার আগুন ছড়ায়, এর জন্য আমরা জনগণকে সতর্ক করে দেব যে দেশে এখন শান্তি আছে। বিএনপি এই শান্তিকে নষ্ট করতে চায়, পরিবেশ নষ্ট করতে চায়। তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের জন্য এর চেয়ে ভালো পরিবেশ নেই। বিএনপি এখন আন্দোলনে ব্যর্থ হয়ে সন্ত্রাসের পুনরাবৃত্তি ঘটাতে পারে সেজন্য আমরা জনগণকে স্মরণ করিয়ে দেব, সতর্ক করিয়ে দেব। গণসংযোগের সময় সঙ্গে ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ এমপি, সাংগঠনিক সম্পাদক একেএম এনামুল হক শামীম, কেন্দ্রীয় সদস্য গোলাম কবির রাব্বানী চিনু, স্থানীয় সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস এমপি প্রমুখ।
সন্ধ্যায় রাজধানীর নিউমার্কেটে ওবায়দুল কাদের এমপি বলেন, হেরে যাওয়ার ভয় থাকলে বিএনপি নির্বাচনে আসবে না। আগামী ডিসেম্বরের নির্বাচনের জন্য সবাই প্রস্তুত। বিএনপিও প্রস্তুত। কিন্তু এবার ঝুঁকি নিতে চায় না তারা। এবার সারাদেশে নৌকার জোয়ার। সেই জোয়ার থামানোর জন্য নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করবে বিএনপি। সেখানেও যদি ব্যর্থ হয়, নির্বাচনে আসবে না। নির্বাচনে হেরে যাওয়ার ভয় থাকলে বিএনপি নির্বাচনে আসবে না। হেরে যাওয়ার ভয় থেকেই প্রতিদিন বিএনপি নেতারা আবল-তাবল বকছেন।  স্থানীয় সংসদ সদস্য শেখ ফজলে নূর তাপস এমপির সভাপতিত্বে গণসংযোগে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ এমপি, শ্রমবিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান সিরাজ, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেনসহ স্থানীয় মহানগর নেতারা।
৫ অক্টোবর গণসংযোগ কর্মসূচির গাবতলীতে ওবায়দুল কাদের এমপি বলেছেন, আওয়ামী লীগের সময় দেশের ব্যাপক উন্নয়নে মানুষ সন্তুষ্ট। আওয়ামী লীগ সরকার দেশে যে পরিমাণ উন্নয়ন করছে তা গত ১০০ বছরেও কেউ দেখেনি। বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এলে দেশে উন্নয়ন হবে না। এ কারণে দেশের মানুষ বিএনপিকে চায় না। ধানের শীষ এখন সাপের বিষ।
ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাদেক খানের সঞ্চালনায় গণসংযোগে আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম এমপি, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস এমপি, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য আসলামুল হক আসলাম, দারুস সালাম থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাজী ফরিদুল হক হ্যাপি প্রমুখ। এদিকে রাজধানীর খিলগাঁওতে দলের পক্ষে গণসংযোগ করেন ওবায়দুল কাদের এমপি। এ সময় স্থানীয় এমপি সাবের হোসেন চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
৬ অক্টোবর গণসংযোগ কর্মসূচিতে ওবায়দুল কাদের এমপি বলেছেন, জনবিচ্ছিন্ন হয়ে বিএনপি নির্বাচন ঠেকাতে গোপনে নাশকতা চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। বিএনপি আন্দোলন নয়, বোমা-সন্ত্রাস ও সহিংসতার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে এসব করে নির্বাচন ঠেকানো যাবে না। নাশকতা করলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিরোধ করা হবে। তিনি আরও বলেন, রাজনীতির মানবিক মূল্যবোধ নষ্ট করেছে বিএনপি। এর আগে মানবিক মূল্যবোধ ছিল, খালেদা জিয়া কোনো বিপদে পড়লে চলে যেতেন শেখ হাসিনার কাছে। কুমিল্লার হাসপাতালে ভর্তি হলেন খালেদা জিয়া, শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ কর্মীরা তাকে দেখতে গিয়েছেন। খালেদার সন্তান মারা যাওয়ায় দেখতে গেলেন প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কী আচরণ করেছেন দেশবাসী তা জানে।
এছাড়াও কেন্দ্রীয় নেতাদের একাধিক টিম ৬ অক্টোবর রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে গণসংযোগ চালিয়ে নৌকায় ভোট চেয়ে নগরবাসীর মধ্যে লিফলেট বিতরণ করেছেন। বিকেলে ইস্কাটন রোডে রমনা থানা আওয়ামী লীগ আয়োজিত প্রচারপত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, কেন্দ্রীয় নেত্রী মারুফা আক্তার পপিসহ স্থানীয় নেতারা বক্তব্য রাখেন এবং দোকানে দোকানে গিয়ে নৌকার পক্ষে ভোট প্রার্থনা করেন।
৯ অক্টোবর একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলার রায় ঘিরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর অবস্থানে রয়েছে জানিয়ে ওবায়দুল কাদের এমপি বলেছেন, রায় নিয়ে বিএনপি সহিংসতা, নাশকতার চেষ্টা করলে ছাড় দেওয়া হবে না। সন্ধ্যায় রাজধানীর শ্যামপুরে দলের নির্বাচনী গণসংযোগ ও প্রচারপত্র বিলি কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে ওবায়দুল কাদের এসব নির্দেশনা দেন। সংক্ষিপ্ত সমাবেশ শেষে উপস্থিত জনগণের মাঝে নৌকা প্রতীকে ভোট চেয়ে প্রচারপত্র বিলি করেন তিনি। এ সময় বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান সিরাজ, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ দক্ষিণের সভাপতি হাজী আবুল হাসনাত, সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ প্রমুখ।

শ্রেণী:

ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে সুষ্ঠু নির্বাচন করতে আমরা সক্ষম

PM

PMউত্তরণ প্রতিবেদন: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠনকে সাধুবাদ জানালেও অতীতের মতো নির্বাচন বানচালের নামে অগ্নিসন্ত্রাসের চেষ্টা হলে তা মোকাবেলায় চরম ব্যবস্থা গ্রহণের কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন।
তিনি বলেন, এখানে খুনি, স্বাধীনতাবিরোধী, জঙ্গিবাদ, জাতির পিতার খুনি, ২১ আগস্টে গ্রেনেড হামলাকারী, দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়নরা মিলে ঐক্য করেছে। এখানে স্বার্থ ছাড়া তো রাজনীতি নেই। সবাই মিলে এক জায়গায় হয়েছে। এটাকে বাংলাদেশের মানুষ কীভাবে দেখেন সেটাই বিষয়। তবে ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী বাংলাদেশে অবশ্যই নির্বাচন হবে। নির্বাচন সঠিক সময় এবং সুষ্ঠু হবে। তবে নির্বাচন নিয়ে যে কোনো ধরনের ষড়যন্ত্র মোকাবেলার ক্ষমতা সরকার ও আওয়ামী লীগের রয়েছে। খুনি, দুর্নীতিবাজ, মানি লন্ডারিংকারী, মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী, অগ্নিসন্ত্রাসীরা এক হয়েছে। এখানে রাজনীতি কোথায়? আমি তো রাজনীতিটা খুঁজে পাচ্ছি না। আমি দেখছি, কয়েকটা স্বার্থান্বেষী গ্রুপ এক হয়েছে। ঐক্যফ্রন্টে এ গাছের ছাল ও গাছের বাকল যোগ দিয়েছে।
২০১৪ সালের মতো নির্বাচন বানচালের নামে অগ্নিসন্ত্রাস, জ্বালাও-পোড়াও, জীবন্ত মানুষকে পুড়িয়ে পুড়িয়ে হত্যার পুনর্বার চেষ্টা করা হলে তা কঠোর হস্তে দমনে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যতক্ষণ বেঁচে আছি বাংলাদেশের মানুষকে আর আন্দোলনের নামে জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ছারখার হতে দেব না। এ ধরনের ঘটনা যদি কেউ করার চেষ্টা করে তা মোকাবেলায় যা যা করার প্রয়োজন হবে তার সবই করা হবে। অতীতের মতো দেশের জনগণই যে কোনো ধরনের অগ্নিসন্ত্রাস, নাশকতাকারীদের ঐক্যবদ্ধভাবে মোকাবেলা করবে, রুখে দাঁড়াবে।
গত ২২ অক্টোবর বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে আয়োজিত জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের একাধিক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এমন কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। আগামী নির্বাচনের অঙ্গীকার কী? এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। যেটা প্রমাণ করার দরকার ছিল যে আমরা উন্নয়ন করতে পারি, সেটা আমরা করেছি। আমরা দিনবদল করতে পেরেছি। বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হয়েছে। এই ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে হবে। বাংলাদেশকে আমরা দেখতে চাই দারিদ্র্যমুক্ত। আমার লক্ষ্য, উন্নয়নের গতিধারা অব্যাহত থাকবে। ২০৪১ সালের মধ্যে বিশ্বের রোল মডেল হিসেবে দেশকে আমরা গড়ে তুলতে চাই। যেটুকু বাকি আছে আরেকবার ক্ষমতায় এলে সেটুকু আমরা করতে পারব এ বিশ্বাস আমার আছে। অন্তত মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বাংলাদেশ গড়ে উঠবে। এতে কোনো সন্দেহ নেই। এটুকু করতে পারব, এ বিশ্বাস আমার আছে।
সম্প্রতি সৌদি আরব সফরে অর্জিত সাফল্যগুলো তুলে ধরতেই এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। তবে প্রশ্নোত্তর পর্বে ঘুরেফিরে আগামী নির্বাচন, বিরোধী জোটের ঐক্য, নির্বাচনকালীন সরকারসহ রাজনৈতিক ইস্যুগুলো নিয়ে সাংবাদিকদের একাধিক প্রশ্নের জবাব স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে হাস্যোজ্জ্বলভাবেই সব উত্তর দেন প্রধানমন্ত্রী। দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে দেশের জনগণ আগামী নির্বাচনেও তার ওপর আস্থা রাখবে বলেও দৃঢ় আস্থা ব্যক্ত করেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর পাশে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচএম মাহমুদ আলী এমপি উপস্থিত ছিলেন। মন্ত্রিসভার সদস্যবৃন্দ, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টারা, দলের কেন্দ্রীয় নেতা, এমপিসহ সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।
সব ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করতে প্রস্তুত সরকার ও আওয়ামী লীগ : নির্বাচনের প্রাক্কালে নানামুখী ষড়যন্ত্র প্রসঙ্গে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ষড়যন্ত্র বাংলাদেশের চিরাচরিত বিষয়। আমাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র কম হয়নি। কিন্তু সবকিছু মোকাবেলা করেই আমরা এগিয়ে যেতে পারছি। তার কারণ জনগণই আমাদের কাছে মূল শক্তি। জনগণের ওপর আস্থা ও বিশ্বাস আমার আছে। তাই আমার বিশ্বাস, সব ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে সুষ্ঠু নির্বাচন করতে আমরা সক্ষম হব। তিনি বলেন, নির্বাচনের প্রস্তুতি নির্বাচন কমিশন। এখানে সরকারের কোনো ভূমিকা নেই। নির্বাচন কমিশন স্বাধীন। তারা প্রস্তুতি নিচ্ছে স্বাধীনভাবে। তবে নির্বাচন নিয়ে যারা সংশয় সৃষ্টি করতে চাচ্ছে তাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা যেন না থাকে। আর ধারাবাহিকতা না থাকলে তো কিছু লোকের সুবিধা হবে। তাই তারা নির্বাচন নিয়ে সংশয় সৃষ্টি করতে চায়। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন নির্বাচনের যে প্রস্তুতি নিচ্ছে, যে সময় তারা নির্বাচনের সিডিউল ঘোষণা দেবে, ঠিক সে-সময়েই নির্বাচন হবে। আমি বিশ্বাস করি নির্বাচন সঠিক সময় এবং সুষ্ঠু হবে। তবে অতীতের মতো নির্বাচন বানচালের কেউ চেষ্টা করলে তা মোকাবেলায় সরকার ও আওয়ামী লীগ প্রস্তুত রয়েছে। কেউ ফের অগ্নিসন্ত্রাস, পুড়িয়ে পুড়িয়ে মানুষ হত্যার চেষ্টা করলে দেশের জনগণ আবারও তাদের রুখে দেবে। দেশের জনগণকে আমি আহ্বান জানাব, এসব ষড়যন্ত্রকারীর বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দাঁড়ান।
স্বাধীনভাবে রাজনীতি করার অধিকার সকলের : জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠনের বিষয়ে অপর এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এক হয়েছে। রাজনীতিতে সকলেরই স্বাধীনভাবে রাজনীতি করার অধিকার আছে। এটাকে আমরা স্বাগত জানাই। বাংলাদেশে রাজনৈতিক স্বাধীনতা আছে, কথা বলারও স্বাধীনতা আছে। সাংবাদিকতার স্বাধীনতা আছে। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা আছে। দেশে গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত আছে বলেই এটা সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এক হয়েছে, সেটাকে আমরা স্বাগত জানাই। তারা (জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা) সেখানে যুক্ত হয়েছেন, তারা কেমন? দেশের মেয়েদের প্রতি কেমন মনোভাব সেটাও সবাই দেখেছেন। এখানে স্বাধীনতাবিরোধী, খুনি, সন্ত্রাসী, জঙ্গিবাদ, দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন, এতিমের টাকা আত্মসাৎ করে কারাদ-িত, একুশে আগস্টের গ্রেনেড হামলাকারী, বঙ্গবন্ধুর খুনিদের লালন-পালন ও পুরস্কৃতকারীরা এক হয়েছেন। ড. কামাল হোসেনরা তাদের সঙ্গে ঐক্য করেছেন। অনেকেই (জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের) আওয়ামী লীগে ছিলেন, এখন আওয়ামী লীগ থেকে চলে গিয়ে জোট করেছে আওয়ামী লীগেরই বিরুদ্ধে। এখন তো ইমার্জেন্সি নেই, মার্শাল ল’ নেই। গণতান্ত্রিক ধারায় তারা ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। রাজনীতিকে সকলেরই স্বাধীনভাবে রাজনীতি করার অধিকার রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, কারা ঐক্য করেছে তা খেয়াল রাখতে হবে। দেখতে হবে কার কী অঙ্গভঙ্গি, কার কী বাচনভঙ্গিÑ সেটাও দেখতে হবে। এদের একজন মেয়েদের প্রতি কী ধরনের কটূক্তি করেছে সেটাও দেখেছেন। ঐক্যফ্রন্টে এ গাছের ছাল, ও গাছের বাকল যোগ দিয়েছে। আওয়ামী লীগ এটা নিয়ে দুশ্চিন্তা করছে না। বরং ভালোই হয়েছে সব ধরনের লোক মিলেই একটা জোট হয়েছে। বাংলাদেশ মানুষ এটাকে কীভাবে দেখছে সেটাই দেখার বিষয়। তারা রাজনৈতিকভাবে জনগণের কাছে বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করতে পারলে করুন। এখানে অসুবিধার তো কিছু নেই।
ঐক্যফ্রন্টের মোট দাবি কত দফায় দাঁড়ায় দেখি : ঐক্যফ্রন্টের সাত-দফা দাবি প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রথমে তারা পাঁচ-দফা দাবি দিল। পরে আবার হলো সাত-দফা। আগামী নির্বাচনের আগে তাদের দাবি মোট কত দফায় দাঁড়ায় তা আগে দেখি। আর সরকারের সঙ্গে সংলাপের জন্য আমরা কোনো চিঠি পাইনি। ড. কামাল হোসেনের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ড. কামাল হোসেন কার সঙ্গে ঐক্য করেছেন? দশ ট্রাক অস্ত্র চোরাচালানের দ-প্রাপ্ত আসামি, একুশ আগস্ট গ্রেনেড হামলা ও মানিলন্ডারিং মামলার দ-িত আসামি যে দলটির নেতৃত্ব দেয় (বিএনপি), সেই দলের নেতৃত্ব মেনে তিনি ঐক্য করেছেন। যিনি ওয়ান ইলেভেনের সময় খালেদা জিয়ার নামে এতিমের টাকা আত্মসাতের মামলা দিয়েছিলেন, তিনিও (ব্যারিস্টার মইনুল) এই ঐক্যে রয়েছে। ড. কামাল হোসেন যুদ্ধাপরাধী, রাজাকার-আলবদর-আলশামস, যারা (বিএনপি-জামাত) পুড়িয়ে পুড়িয়ে শত শত মানুষকে হত্যা করেছে, তাদের সঙ্গে এক হয়েছেন। খুনি, দুর্নীতিবাজ, অর্থপাচারকারী, জঙ্গিগোষ্ঠীদের সঙ্গে তিনি ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন। এখানে রাজনীতি কোথায়? এখানে তো রাজনীতি নেই, এটা স্বার্থান্বেষীদের নিয়ে এই ঐক্য। তিনি আরও বলেন, ড. কামাল হোসেন যে সংবিধান প্রণয়ন করেছিলেন, সেই কামাল হোসেনই ’৭২-এর সংবিধান নিয়ে আপত্তি আছে বলে জানিয়েছেন। ড. কামাল হোসেন নিজেকে সংবিধানের প্রণেতা বলেন। তাকে জিজ্ঞেস করেন তো, ’৭২-এর সংবিধান নিয়ে তিনি আপত্তি করেন কি না? তিনি বলেন, মানুষ আমাকে চাইলে ভোট দেবে, না চাইলে দেবে না। আমরা যেটুকু করার ছিল করেছি। দেশের উন্নয়ন করতে চেয়েছিলাম তা করেছি। তবে দেশের জনগণের প্রতি আমার আস্থা-বিশ্বাস রয়েছে। আমার শক্তিও দেশের জনগণ।
মইনুল ইংরেজি খাবার খেতে শিখলেও ব্যবহার শেখেনি : জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতা ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনের একজন নারী সাংবাদিক সম্পর্কে শিষ্টাচারবহির্ভূত মন্তব্যের বিষয়ে একাধিক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মইনুল হোসেন যুক্তরাজ্যে বার-এট-ল পড়তে গিয়ে ইংরেজদের খাবার খাওয়া শিখলেও ইংরেজদের ভদ্রতা ও ভাষা শিখতে পারেন নি। সেই আমলে ব্যারিস্টারি পড়তে যাওয়া কম কথা না। কিন্তু তিনি গিয়ে শিখলেন ইংরেজদের খাবার খাওয়ার কায়দা। ইংরেজ খাবার ছাড়া তিনি খেতে পারতেন না। তার অবস্থাটা কাকের ময়ূরপুচ্ছ পরে ময়ূর হওয়ার মতো। তিনি ইংরেজ খাওয়াটা শিখলেন; কিন্তু তাদের ভদ্রতাটা শিখেন নি, কথা বলা শিখেন নি। এটাই হলো বাস্তবতা, এই হলো সেই লোক।
ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনের অতীত ভূমিকার কঠোর সমালোচনা করে সরকারপ্রধান বলেন, একজন নারী সাংবাদিককে তিনি যে ভাষায় আক্রমণ করেছেন তা অত্যন্ত জঘন্য, বাজে। তার বাচনিক ভঙ্গি, অ্যাটিচিউড সবই খারাপ। তার কাছে মানুষ কী আশা করবে? ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় তো তিনি পাকিস্তানের দালালি করেছেন। ইত্তেফাকের সাংবাদিক সিরাজউদ্দিন হোসেনকে তুলে নিয়ে গিয়েছিল রাজাকাররা। এর জন্যও তিনি কম দায়ী নন।
তিনি আরও বলেন, ১৯৭৫ সালে জাতির পিতাকে হত্যার পর খুনি মোশতাক যে দল করেছিল, সেই দলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল ব্যারিস্টার মইনুলের। উনি কিন্তু পরে একটা দলও করেছিলেন। জাতির পিতার আত্মস্বীকৃত খুনি যারা, তাদের নিয়ে তিনি দল করেছিলেন। ইত্তেফাকেও তো মার্ডার করে ভাইকে (বর্তমান পানিসম্পদমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু) ফাঁসানোর চেষ্টা করেছেন। তাদের যে জমি, সেটা নিয়েও ঝামেলা রয়েছে। তাদের জমি নিয়ে রাষ্ট্রপক্ষের সঙ্গে মামলা আছে। আপনারা সাংবাদিকরা খুঁজে বের করে দেখেন। তার (ব্যারিস্টার মইনুল) আসলে গুণের শেষ নেই।
ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনের বাবা তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়ার পরিবারের সঙ্গে বঙ্গবন্ধু পরিবারের সুসম্পর্কের সুবাদে মইনুল হোসেনের জীবনের অনেক তথ্যই জানেন বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, উনি সেই আমলে ইংল্যান্ড গিয়েছিলেন ব্যারিস্টারি পড়তে। এইটা তো কম কথা না। তিনি ব্যারিস্টারি পাস করে সাহেব হয়ে ফিরলেন। তিনি আর বাংলাদেশি খাবার খেতে পারেন না, তার সাহেবি খাবার দরকার। মানিক কাকা (তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া) আমার মায়ের কাছে এসে আফসোস করে বলেন, ছেলে তো ইংরেজ খাবার ছাড়া কিছু খায় না। সেই যুগে মানিক কাকা ছেলের জন্য ১০০ টাকা দিয়ে বাবুর্চি রাখলেন। ব্যারিস্টারি পড়তে গিয়ে মইনুল হোসেন ইংরেজ খাওয়াটা শিখলেন; কিন্তু তাদের ভদ্রতাটা শিখেন নি, অ্যাটিকেট শিখেন নি, কথা বলা শিখেন নি। এসব কথা সবার জানার কথা না। আরও জানি, এখন বলব না, পরে বলব।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্বেগের কারণ নেই
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী নির্বাচন নিয়ে বিশ্বনেতাদের কোনো পরামর্শ বা আন্তর্জাতিক চাপ নেই উল্লেখ করে বলেছেন, কে সমর্থন করল কী করল না কিংবা বাইরের দিকে মুখাপেক্ষী হয়ে আমি রাজনীতি করি না। আমার রাজনীতি দেশের জন্য, জনগণের জন্য। দেশের জনগণের ভোটের শক্তির ওপর আমার বিশ্বাস আছে। আমার জোর হচ্ছে, আমার দেশের জনগণ। আর সঠিক সময়েই আগামী নির্বাচন হবে। আমার প্রত্যাশা সব দলই নির্বাচনে আসবে। তবে অসংখ্য রাজনৈতিক দলের মধ্যে কোনো দল যদি নির্বাচনে না আসে, সেটি তাদের দলীয় সিদ্ধান্তের ব্যাপার। এক্ষেত্রে আমাদের কিছু করণীয় নেই।
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই আইন নিয়ে ভয় তাদেরই আছে যাদের অপরাধী মন। কারও যদি অপরাধী মন না থাকে বা ভবিষ্যতে কিছু অপরাধ করবে এ-রকম পরিকল্পনা না থাকে; তার উদ্বেগ হওয়ার কোনো কারণ নেই। আগামী নির্বাচন সামনে রেখে বর্তমান সরকার এবং দলের নেতা-মন্ত্রীদের নামে মিথ্যা সংবাদের ফাইল প্রস্তুত করে রেখেছে, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরই সরকারকে হেয় করার চেষ্টা করবেনÑ তারাই এই আইন নিয়ে উদ্বিগ্ন। যারা ন্যায় ও সত্যের পথে রয়েছেন তাদের উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। ভবিষ্যতে অপরাধ করার মানসিকতাও যাদের নেই তাদেরও উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। অন্তত আমি যতদিন ক্ষমতায় আছি সাংবাদিকদের কোনো ভয় বা উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। আর শয়তানের সঙ্গেও যারা (বিএনপি) জোট করতে চায়, তারা নিজেরা কি তা সবাই জানে। এদেশের মানুষ শয়তানদের কখনও ভোট দেবে না, ক্ষমতায় দেখতে চায় না। দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির ধারাবাহিকতা রক্ষায় আগামী নির্বাচনেও দেশের জনগণ নৌকা মার্কাকে বিজয়ী করবে বলেও দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
গত ৩ অক্টোবর বিকেলে গণভবনে জনাকীর্ণ সাংবাদিক সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনের ৭৩তম অধিবেশনে যোগদান শেষে দেশে ফিরে এই সম্মেলনের বিভিন্ন দিক ও সাফল্যগুলো তুলতে ধরতেই এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মঞ্চে দলের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচএম মাহমুদ আলী এমপি উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী প্রায় সোয়া ঘণ্টাব্যাপী দেশের সর্বশেষ রাজনীতি, আগামী নির্বাচন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, দেশকে নিয়ে নানা মহলের ষড়যন্ত্র, আন্তর্জাতিক নানামুখী তৎপরতা এবং দেশকে নিয়ে তার আগামী দিনের পরিকল্পনা ইত্যাদি নানা বিষয়ে সাংবাদিকদের অসংখ্য প্রশ্নের স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে হাসিমুখে সবগুলোর বিস্তারিত উত্তর দেন।
আবার যেন ক্ষমতায় আসি বিশ্বনেতাদের প্রত্যাশা : জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগদানের পর আগামী নির্বাচন নিয়ে বিশ্ব নেতাদের কোনো পরামর্শ কিংবা আন্তর্জাতিক চাপ আছে কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের রাজনীতি কিংবা নির্বাচন নিয়ে বিশ্বনেতারা তাকে কোনো পরামর্শ দেননি। তবে বিশ্বের বড় বড় দেশের রাষ্ট্র কিংবা সরকারপ্রধান যার সঙ্গেই কথা বলেছি, তারা বলেছেন, তারা চান আগামীতেও যেন আমাদের সঙ্গে দেখা হয়। যাদের সঙ্গে কথা বলেছি, তারা আমাকে উৎসাহ দিয়েছেন, আমি যেন পুনরায় ক্ষমতায় আসি। তখন আমি তাদের বলে আসিনি, আপনারা একটু আসেন আমাকে ক্ষমতায় বসিয়ে দিয়ে যান। আমি তাদের জবাব একটাই দিয়েছি, দেশের মানুষ যদি ভোট দেয় তবে আছি, না দিলে নাই। ক্ষমতা থাকলে লক্ষ্মী, যায় বালাই। এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, বিশ্বনেতাদের সঙ্গে আলোচনাকালে আমাদের দেশের নির্বাচন নিয়ে কী হবে না হবে, তা নিয়েও কোনো কথা হয়নি। বরং আমিই তাদের বলেছি যে, আমাদের দেশে আগে নির্বাচন নিয়ে কী হতো, মিলিটারি ডিক্টেটর থাকতে নির্বাচন বলতে কী হতো। তিনি বলেন, বিশ্বনেতাদের জানিয়েছি আমাদের দেশে স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স, ছবিসহ ভোটার তালিকা, নির্বাচনী পরিবেশের যতটুকু উন্নয়ন হয়েছে, সেটা আমরাই করেছি। আমাদের সরকারের আমলে ৬ হাজারের ওপরে নির্বাচন হয়েছে, কয়টা নির্বাচনে আমরা হস্তক্ষেপ করেছি? বরিশাল সিটি নির্বাচন নিয়ে নির্বাচন কমিশন তদন্ত শুরু করেছে। তারা তদন্ত করে রিপোর্ট দিয়েছে। আমরা তো সেখানে হস্তক্ষেপ করিনি। তিনি বলেন, সিলেটে আমরা হেরে গেছি সামান্য ভোটে। বিএনপি থাকলে তো সিল মেরেই নিয়ে নিত। আমরা তো সে পথে যাইনি। কাজেই, আমাদের ওপর মানুষের আস্থা-বিশ্বাস সৃষ্টি হয়েছে। আমরা দেশের উন্নয়ন করি মনের টানে, নিজেদের স্বার্থে রাজনীতি করি না। জনগণের স্বার্থে, তাদের ভাগ্যের পরিবর্তনের জন্য আমরা রাজনীতি করি। তিনি বলেন, উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে মানুষ নৌকায় ভোট দেবে। কারণ একমাত্র নৌকা ক্ষমতায় থাকলেই দেশের উন্নয়ন হয়, দেশ সবদিক থেকে এগিয়ে যায়। পুড়িয়ে মানুষ হত্যাকারীদের নিয়ে এত মায়াকান্না কেন? আগামী নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত প্রসঙ্গে অপর এক প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সঠিক সময়ে নির্বাচন হবে এবং দেশের মানুষও ভোট দেবে। দেশে অনেক রাজনৈতিক দল। নির্বাচনে কোন দল আসবে, আর কোন দল আসবে না। নির্বাচনে আসা বা না আসা সেই দলটির সিদ্ধান্তের ব্যাপার। সেই সিদ্ধান্ত তো আমরা নিতে পারি না। তবে আমাদের আশা, সব দলই নির্বাচনে আসবে।
এ সময় বিএনপিকে ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০১৪ সালের নির্বাচনে আমার চেষ্টা ছিল, সবাই অংশ নিক। কিন্তু সেই নির্বাচন ঠেকানোর নামে পুড়িয়ে মানুষ মারা হলো। আপনারা যাদের নির্বাচনে চাইছেন, তারা শত শত মানুষকে নিষ্ঠুর কায়দায় পুড়িয়ে মেরেছে। আর যারা মানুষ পুড়িয়ে মারে, এতিমের টাকা পর্যন্ত মেরে খায়, তাদের জন্য এত কান্নাকাটি কেন? তিনি বলেন, নির্বাচন ঠেকানোর নামে যাদের পুড়িয়ে মারা হয়েছে, তাদের পরিবার কেমন আছে, আহত দগ্ধ মানুষগুলো কেমন আছে কেউ কি খোঁজ নিয়েছেন?
এ সময় সাংবাদিকদের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, ওই সময় যাদের পুড়িয়ে মারা হয়েছিল, তাদের পরিবার কেমন আছে একটু খোঁজ নিন। অনেক মানুষ কর্মক্ষমতা হারিয়ে পঙ্গুত্ব নিয়ে জীবনযাপন করছেন। যাদের কারণে মানুষের এই অবস্থা, তাদের জন্য মায়াকান্নার দরকার আছে বলে আমি মনে করি না। খালেদা জিয়া ও তার পরিবারের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, তাদের বিরুদ্ধে আরও নানা অভিযোগ আছে, মামলা আছে। ওই সব অভিযোগ-মামলার সাক্ষী দিতে এফবিআই পর্যন্ত প্রস্তুত রয়েছে। খালেদা জিয়া, তার ছেলে, তার দলের অনেকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আছে। সাংবাদিকরা উদ্বিগ্ন, আমাদের উদ্বেগ দেখবে কে? ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে দুজন সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী পাল্টা প্রশ্ন রেখে বলেন, সাংবাদিকরা খুব উদ্বিগ্ন, আমি বুঝলাম। কিন্তু আমাদের উদ্বেগটা দেখবে কে বা যারা ভিকটিমাইজ হচ্ছে, তাদের উদ্বেগটা কে দেখবে? আর তাদের কীভাবে কম্পোনসেট করবেন। ওই জায়গায় একটু কমতি আছে। যেটা ইংল্যান্ডের আইনে আছে। তিনি বলেন, আমরা এটা করার আগে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের আইনগুলো দেখেছি। আইনগুলো দেখা হয়নি, তা নয়। তারপর এটা অনলাইনে ছিল। এটা সকলের সঙ্গে আলোচনাও হয়ে গেছে। এরপর এসে হঠাৎ এত উদ্বিগ্ন হয়ে গেলেন কিসের জন্য? আমার সেটাই প্রশ্ন?
তিনি বলেন, কারও যদি অপরাধী মন না থাকে বা ভবিষ্যতে কিছু অপরাধ করবে এ-রকম পরিকল্পনা না থাকে; তার উদ্বেগ হওয়ার কোনো কারণ নেই। আগে তো সমন জারি করা হতো, সরাসরি গ্রেফতার করা হতো। আমি সেটা পরিবর্তন করে দিয়েছি। আপনারা সাংবাদিকরা যাদের কাছে নির্যাতিত হয়েছেন, তাদের জন্য কি করতে পেরেছেন? আর আপনারা এখন উদ্বিগ্ন। এটা নিয়ে বৈঠকের পর বৈঠককে আমি এমন এমন মানুষ দেখেছি, তারা লেখা তৈরি করে বসে আছে। একটার পর একটা লেখা আমার বিরুদ্ধে চালাবে। উদ্বিগ্ন হবে তারা। আপনাদের তো উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। অন্তত আমি যত দিন আছি। আপনাদের উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই।
এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা এখানে স্পষ্ট বলব, যে সাংবাদিকরা মনে করে তারা কোনো অন্যায় কাজ করে না, কারও বিরুদ্ধে অপবাদ বা মিথ্যা তথ্য দেবে না বা বিভ্রান্ত করবে না; তাদের উদ্বেগ হওয়ার তো কিছু নাই। সেখানে আইনের যেটা দেয়া আছে, সিআরপিসিতে যা আছেÑ তাই দেয়া আছে। সেখানে ডিজিটাল ডিভাইসগুলো ব্যবহার সম্পর্কে উল্লেখ করা আছে। তিনি বলেন, জঙ্গিবাদ দমনে আমাদের কিছু কিছু ডিভাইস ব্যবহার করা হয়েছে, তাদের ট্র্যাক করার জন্য। এখন ট্র্যাক করার পর তো বসে থাকা যাবে না। তাকে তো ধরতে হবে। কারণ সে তো আমাদের জন্য বসে থাকবে না। সারাবিশ্ব এটাই করে। তাই উদ্বিগ্ন তারা বেশি হবে, যারা এতদিন ধরে খুব তৈরি-টৈরি হয়ে আছে। নির্বাচনের সিডিউল এলে যারা আমাদের ভালো করে ঘায়েল করার জন্য মিথ্যা ডকুমেন্ট তৈরি করে বসে আছে তারা উদ্বিগ্ন হতে পারে। তারা ভাবছে যে এ-রকম একটা মিথ্যা নিউজ করব, এই আইন থাকলে তো তা মাঠে মারা যাবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওখানে (ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন) একটা জিনিসের ল্যাপস (ঘাটতি) আছে। একটা জিনিস ওখানে ঢোকানো উচিত বলে আমি মনে করি। সেটা হলোÑ যদি কেউ কারও বিরুদ্ধে কোনো মিথ্যা তথ্য দেয়, তাহলে সেই মিথ্যা তথ্যটা তাকে প্রমাণ করতে হবে যে, এটা সত্য। যদি সে প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়, যে সাংবাদিক লিখবে বা যে পত্রিকা বা মিডিয়ায় তা প্রকাশ করবে তাদের সবাইকে শাস্তি পেতে হবে। যার বিরুদ্ধে লিখবে, তার যে ক্ষতিপূরণ হবে সেটার ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। এটা ইংল্যান্ডে আছে।
সম্প্রতি বিবিসিতে ঘটে যাওয়া ঘটনারও উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আপনারা স্মরণ করে দেখুন, বিবিসি একজন সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে নিউজ করেছিল। পরে সেটি মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছিল। আর বিবিসির টপ টু বটম সবাইকে পদত্যাগ করতে হয়েছিল। ২০০৭ সালে আমি যখন বন্দী। আমার বিরুদ্ধে যত নিউজ করা হলো, পরে সেটা তদন্তে মিথ্যা প্রমাণিত হলো। ওই পত্রিকার কোনো সাজা হলো না। কিন্তু তার সম্মান তো নষ্ট হলো। তাদের তো এই লজ্জা হয় না যে একটা মিথ্যা তথ্য দিল, তাতে সমাজে তার সম্মান নষ্ট হলো। যার বিরুদ্ধে মিথ্যা কথা লেখা হলো তার তো সব গেল। পদ্মাসেতু নিয়ে যারা বড় বড় হেডলাইন লিখেছে, তারা তো এখনও সমাজে বুক উঁচু করে চলছে। কিন্তু পরিবারের কাছে, সমাজের কাছে যে হেয়প্রতিপন্ন হলো; অসম্মান হলো তাদের কে দেখবে?

শ্রেণী:

শেখ হাসিনার নেতৃত্বে জোট আবার জয়লাভ করবে

Posted on by 0 comment
10-4-2018 6-27-14 PM
10-4-2018 6-27-14 PM

১৪ দলের কর্মী সমাবেশে প্রত্যয় ঘোষণা

উত্তরণ প্রতিবেদন: জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার কঠোর সমালোচনা করে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪-দলীয় জোট নেতারা বলেছেন, জনগণের কাছে প্রত্যাখ্যাত ও জনবিচ্ছিন্ন বিএনপি জাতীয় ঐক্য ও যুক্তফ্রন্টের কাঁধে ভর করেছে। ‘পলায়নপর’ দুই নেতা ড. কামাল ও বি. চৌধুরী এবং পলাতক তারেক রহমান এক হয়ে আগামী নির্বাচন বানচাল ও দেশের স্বাধীনতা নস্যাতের নতুন চক্রান্তে মেতেছেন। কোনো জোটে কাজ হবে না। সংবিধান অনুযায়ী যথাসময়ে আগামী নির্বাচন হবে। সেই নির্বাচনে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে জনগণের জোটই আবার বিজয়ী হবে।
গত ২৯ সেপ্টেম্বর রাজধানীর গুলিস্তানের মহানগর নাট্যমঞ্চে ১৪ দলের কর্মী সমাবেশে নেতারা এসব কথা বলেন। কর্মী সমাবেশ থেকে আগামী অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের নির্বাচন পর্যন্ত সারাদেশের মাঠ দখলে রাখার ঘোষণা দিয়ে বলা হয়, অক্টোবরের যে কোনোদিন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে ঢাকায় মহাসমাবেশ করবে ১৪ দল। এর আগে ৯ অক্টোবর রাজশাহী ও ১৩ অক্টোবর খুলনায় বিভাগীয় সমাবেশ এবং ১০ অক্টোবর নাটোরে জনসভা করবে ক্ষমতাসীন জোট। ১৪ দলের মুখপাত্র ও আওয়ামী লীগ সভাপতিম-লীর সদস্য স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম এমপি এসব কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
বিএনপি-জামাতের ‘অব্যাহত ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে’ আয়োজিত এই কর্মী সমাবেশকে ঘিরে আওয়ামী লীগসহ ১৪ দলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা গেছে। দুপুরেই ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন স্থান থেকে ১৪ দল ও সহযোগী-ভ্রাতৃপ্রতিম এবং মুক্তিযুদ্ধের পক্ষশক্তির বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরা মিছিল ও সেøাগান সহকারে সমাবেশে যোগ দিয়েছেন। তাদের সঙ্গে সর্বস্তরের মানুষের উপস্থিতিতে সমাবেশস্থল ছাড়াও আশপাশের এলাকা জনারণ্যে পরিণত হয়।
১৪ দলের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিম এমপির সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু এমপি, সভাপতিম-লীর সদস্য কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী এমপি, ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি সমাজকল্যাণমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন এমপি, জাতীয় পার্টির (জেপি) চেয়ারম্যান পানিসম্পদমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এমপি, সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়–য়া, তরীকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভা-ারী এমপি, বাংলাদেশ জাসদের সভাপতি শরীফ নুরুল আম্বিয়া, কমিউনিস্ট কেন্দ্রের আহ্বায়ক ডা. ওয়াজেদুল ইসলাম খান, বাসদের আহ্বায়ক রেজাউর রশীদ খান, গণআজাদী লীগের সভাপতি এসকে সিকদার, জাসদের সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার এমপি, গণতন্ত্রী পার্টির সাধারণ সম্পাদক ডা. শাহাদাৎ হোসেন, ন্যাপের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক এমপি, আবদুর রহমান এমপি, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট মোল্লা মো. আবু কাওছার প্রমুখ।
১৪ দলের বাইরে কৃষক শ্রমিক পার্টির (কেএসপি) চেয়ারম্যান ফারহা নাজহা হক রিপা ও হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. নিমচন্দ্র ভৌমিক শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন। সমাবেশ পরিচালনা করেন ঢাকা মহানগর ১৪-দলের সমন্বয়ক ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ।

শ্রেণী:

সংবিধান অনুযায়ীই দেশে নির্বাচন হবে

uttaran

‘আমরা বলি বিএনপি নামক সাম্প্রদায়িক দানব পার্টি বাংলাদেশে যতদিন থাকবে এখানে অশান্তি দূর হবে না। দানব পার্টি যতদিন আছে দেশে অশান্তির আগুন জ্বালাবে।’

uttaran

সিরিজ বোমা হামলার প্রতিবাদ দিবসের সমাবেশে ওবায়দুল কাদের

উত্তরণ ডেস্ক: আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি নিরাপদ বাংলাদেশের জন্য আবার দেশকে স্বাধীন করতে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের আহ্বানকে রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেছেন, ‘আমি প্রশ্ন রাখতে চাই এটা কি রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল নয়? এর যদি বিচার করতে হয়, ফখরুলকে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে বিচার করলে কি ভুল হবে? এ ধরনের কথা বলেও ফখরুল ইসলাম এখনও “স্টিল নাও” আছেন। এখনও আপনি অ্যারেস্টেড হননি, প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন রাষ্ট্রদ্রোহী কথা বলে।’ গত ১৭ আগস্ট সন্ধ্যায় গুলিস্তানের বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ের আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে মহানগর আওয়ামী লীগের উদ্যোগে ১৭ আগস্ট সারাদেশে সিরিজ বোমা হামলার প্রতিবাদ সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন। ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘কোন স্বাধীনতা? পাকিস্তানে ইমরান সরকার এসেছে, মহাখুশি, না? মহাখুশি আপনারা। ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাহেব, অচিরেই টের পাবেন কত ধানে কত চাল।’
ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘গোপন বৈঠক চলছে, দেশে-বিদেশে ব্যাংকককে বসে বৈঠক চলছে। গত সাত দিনে কারা ঘনঘন যাতায়াত করছে, সেই খবর আমরা জানি। ব্যাংকককে এখন ঘাঁটি করেছে। কারা কারা আসছেন, কারা যাচ্ছেন, কী কী কথা হচ্ছে মনে করেছেন আমরা জানি না। আমি পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, ঢাকা অচল হবে না। বাংলাদেশ অচল করা যাবে না, বিএনপি অচল হয়ে যাবে। বিএনপি অচল হওয়ার সব উপাদান তারা যুক্ত করে ফেলেছে। ১/১১ নিয়ে বিএনপি মহাসচিবের বক্তব্যের সমালোচনা করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘১/১১-এর কথা বলেন, আমরা না-কি সেই ওয়ান-ইলেভেনের কথা বলছি। আলমগীর সাহেব, ১/১১-এর পরিস্থিতি সৃষ্টি করার সব ধরনের ষড়যন্ত্র করছেন। খোঁজখবর আমরা নিচ্ছি, তবে এই কথা বলে রাখি বাংলাদেশে আর ১/১১-এর পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে না। জনগণ আপনাদের সব ধরনের চেষ্টা ব্যর্থ করে দিবে। এই ষড়যন্ত্র সফল হবে না।’
বিএনপির মুখের বিষ উগ্র হয়েছে দাবি করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিদেশিদের কাছে কাছে ধর্ণা দিচ্ছেন, বড় বড় কথা বলছেন। আসলে ব্যাপারটা হচ্ছে, শরৎ বাবুর উপন্যাসে পড়েছিলাম মানুষের শক্তি যখন কমে আসে তখন মানুষের মুখের বিষ উগ্র হয়। মানুষের শক্তি যখন কমে আসে তখন তার মনের জোর কমে যায়, গলার জোর বেড়ে যায়। বিএনপির অবস্থা কি তাই নয়? শক্তি যখন কমে আসছে তাই বিএনপির গলার জোর বেড়ে গেছে। কথা বলতে বলতে লাগাম ছাড়া হয়ে গেছে, প্রধানমন্ত্রীকেও আক্রমণ করে কথা বলছে।’ বিএনপি যতদিন আছে দেশে অশান্তির আগুন জ্বালাবে বলে মন্তব্য করেছেন ওবায়দুল কাদের।
সড়ক পরিবহনমন্ত্রী বলেন, ‘আবার বলে বুকের ওপর দানব সরকার, আমরা বলি বিএনপি নামক সাম্প্রদায়িক দানব পার্টি বাংলাদেশে যতদিন থাকবে এখানে অশান্তি দূর হবে না। দানব পার্টি যতদিন আছে দেশে অশান্তির আগুন জ্বালাবে।’ তিনি বলেন, আগামী নির্বাচনে এই দানবীয় পার্টির হাত থেকে বাংলাদেশের জনগণ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে উদ্ধার করতে হবে। অশুভ শক্তিকে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অপসারণ করতে হবে। বিএনপি ও তার সাম্প্রদায়িক অপশক্তির সব ধরনের ষড়যন্ত্রকে দাঁত ভাঙা জবাব দিতে আপনারা প্রস্তুত? প্রস্তুত হন।’ কয়েকটি মিডিয়াতে সরকারবিরোধী আন্দোলন চলছে বলেও দাবি করেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক। তিনি বলেন, ‘কারা কারা পেছন থেকে ষড়যন্ত্রে বাতাস দিচ্ছে আমরা জানি। এই বাতাস দেয়া বন্ধ করুন। বিএনপি মাঠে না থাকলেও দু-একটা মিডিয়ার মধ্যে এই আন্দোলন আছে। টার্গেট হাসিনা সরকারকে উৎখাত করা। শেষ পর্যন্ত ইনশাল্লাহ বাংলার জনগণ রুখে দাঁড়াবে।’
মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাসনাতের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক এমপি, সাংগঠনিক সম্পাদক একেএম এনামুল হক শামীম, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এমপি, দফতর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ, মহানগর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ, উত্তরের সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান।
বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সরকার যেভাবে নির্বাচনে যেতে যাচ্ছে শেষ পর্যন্ত যদি সেই ফরমেট থাকে তবে তারা নির্বাচনে যাবে না। তাহলে নির্বাচনে কি হতে যাচ্ছে? এমন প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘এখানে সরকারের কোনো পদ্ধতি নেই। পদ্ধতিটা আমাদের সংবিধানে। সংবিধানেই নির্ধারণ করে দিয়েছে কীভাবে নির্বাচন হবে। সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন পরিচালনার জন্য অর্পিত দায়িত্ব থাকবে নির্বাচন কমিশনের ওপর। সাংবিধানিকভাবে নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত করতে নির্বাচন কমিশন যাবতীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশন নির্বাচনের জন্য ৯০ শতাংশ প্রস্তুতি শেষ করেছেন বলে ঘোষণা করেছেন। আর লেভেল প্লেয়িংটা কীভাবে হবে তাও কিন্তু নির্বাচন কমিশনেরও দায়িত্ব। সরকার কিছু করবে না।’
আগামী নির্বাচনকালীন সরকারে বিএনপির কোনো অংশগ্রহণ থাকবে কি না জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘যখন সুযোগ ছিল তখন তারা আসেনি। তখন (গত নির্বাচনে) তাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদটি পর্যন্ত আমরা দিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু ব্যর্থ হয়েছে। এখন তো তাদের সংসদে প্রতিনিধিত্বই নেই। সেখানে তাদের নেয়ার সুযোগই নেই।’ নির্বাচনকালীন সরকারে টেকনোক্রেট কোটায় বিএনপির অংশগ্রহণ নিয়ে চিন্তা-ভাবনা আছে কি না জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বুদ্ধিজীবী আছেন, পেশাজীবী আছেন। আরও অনেকেই আছেন। সেখানে একটি দল থেকে কেন নিতে হবে? আর সেই চিন্তা সরকারের নেই।’ তিনি নির্বাচনকালীন সরকারের দল নিরপেক্ষ সদস্যদের রাখার ইঙ্গিত দিয়ে আরও বলেন, নির্বাচনকালীন সরকারে রাজনীতি করেন না এমন প্রতিনিধিরা থাকতে পারেন।

শ্রেণী:

শোভন সভাপতি রাব্বানী সাধারণ সম্পাদক : বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নতুন নেতৃত্ব

Posted on by 0 comment
8-6-2018 7-01-36 PM

8-6-2018 7-01-36 PMসরদার মাহামুদ হাসান রুবেল: সম্মেলনের আড়াই মাসের বেশি সময় পর গত ৩১ জুলাই আগামী দুই বছরের বছরের জন্য ছাত্রলীগের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। নতুন কেন্দ্রীয় কমিটিতে রেজানুল হক চৌধুরী শোভনকে সভাপতি ও গোলাম রাব্বানীকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে। আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ওপর অর্পিত ক্ষমতাবলে ছাত্রলীগের কমিটি অনুমোদন করেছেন। একই সঙ্গে সংগঠনের অন্য তিন গুরুত্বপূর্ণ ইউনিট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা মহানগর উত্তর এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখার কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে।
ঘোষিত কমিটিতে ছাত্রলীগের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি হয়েছেন সঞ্জিত চন্দ্র দাস এবং সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন সাদ্দাম হোসাইন। অন্যদিকে ঢাকা মহানগর উত্তর শাখায় মো. ইব্রাহিমকে সভাপতি ও সাইদুর রহমান হৃদয়কে সাধারণ সম্পাদক এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখায় মেহেদী হাসানকে সভাপতি ও জোবায়ের আহমেদকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে।
ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ৩৬তম ব্যাচের শিক্ষার্থী। তার বাড়ি কুড়িগ্রাম জেলায়। অন্যদিকে কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী একই বিভাগের ৩৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থী। তার বাড়ি মাদারীপুরে। এদিকে ছাত্রলীগের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকও আইন বিভাগের শিক্ষার্থী। এদের মধ্যে সভাপতি সঞ্জিত চন্দ্র দাস ৩৭তম ব্যাচের। তার বাড়ি ময়মনসিংহে। আর সাধারণ সম্পাদক হোসাইন সাদ্দাম ৩৯ ব্যাচের। তার পঞ্চগড়ে।
ছাত্রলীগের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি রেজানুল হক চৌধুরী শোভন বিদায়ী কেন্দ্রীয় কমিটির কার্যনির্বাহী সংসদ সদস্য ছিলেন। সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী ছিলেন বিদায়ী কেন্দ্রীয় কমিটির শিক্ষা ও পাঠচক্র বিষয়ক সম্পাদক। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নতুন সভাপতি সঞ্জিত চন্দ্র দাস ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হল কমিটির সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসাইন বিদায়ী কেন্দ্রীয় কমিটির আইন বিষয়ক উপ-সম্পাদক ছিলেন।  গত ১১ ও ১২ মে ছাত্রলীগের ২৯তম জাতীয় সম্মেলন হয়। সম্মেলনের কাউন্সিল অধিবেশনে নতুন কমিটি ঘোষণার দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দেন সারাদেশ থেকে আসা কাউন্সিলররা। এর আগে সংগঠনের শীর্ষ দুই পদে আসতে ইচ্ছুক ৩২৩ জন নেতা মনোয়ন ফরম ক্রয় ও জমা দেন। নেতৃত্ব প্রত্যাশীদের ওই তালিকা থেকে যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে কমিটি ঘোষণার কথা জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর ৪ জুলাই সব পদপ্রত্যাশীকে গণভবনে ডেকে কথাও বলেন শেখ হাসিনা। পদপ্রত্যাশীদের তালিকা পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাই-বাছাই করে আগামী জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে পরিশ্রমী, ত্যাগী, মেধাবী, নিয়মিত ছাত্র, সাহসী, শিক্ষার্থীদের মাঝে জনপ্রিয়, পরিচ্ছন্ন ইমেজ ও সাংগঠনিক দক্ষতাসম্পন্ন এবং যারা অতীতে আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেনÑ তাদের মধ্য থেকে শীর্ষ নেতৃত্ব বেছে নেওয়া হয়েছে।

শ্রেণী:

সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ ও মাদকাসক্তি থেকে ছাত্রসমাজকে দূরে থাকতে হবে

Posted on by 0 comment
6-5-2018 5-26-05 PM
6-5-2018 5-26-05 PM

বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কাউন্সিলে প্রধানমন্ত্রী

উত্তরণ প্রতিবেদন: প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ ও মাদকাসক্তি থেকে দূরে থাকার জন্য দেশের ছাত্রসমাজের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোনো ধরনের ধ্বংসাত্মক কর্মকা- বা ভাঙচুরের ঘটনা বরদাশত করা হবে না। কোনো বিষয়েই বেশি বাড়াবাড়ি করা ভালো না। এসব কর্মকা-ের সঙ্গে যারা জড়িত, সে যত বড় দলের বড় নেতা হোক না কেন তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
গত ১১ মে বিকেলে ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে দেশের সর্ববৃহৎ ও ঐতিহ্যবাহী ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ২৯তম জাতীয় কাউন্সিল উদ্বোধন করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী দেশের চলমান উন্নয়ন-অগ্রগতির ধারা অব্যাহত রাখতে সরকারের ধারাবাহিকতার প্রয়োজনের কথা পুনরুল্লেখ করে আরও বলেন, একমাত্র আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলেই দেশের উন্নয়ন হয় আমরা তা প্রমাণ করেছি। ওরা (বিএনপি-জামাত) ক্ষমতায় এলে দেশে আবারও সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ সৃষ্টি হবে, স্বাধীনতা-বিরোধী, যুদ্ধাপরাধী ও বঙ্গবন্ধুর খুনিদের মদদদাতারা ক্ষমতায় এসে দেশকে আবার ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাবে। এরা দেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধ্বংস করতে চায়। আগেও তারা সে চেষ্টা করেছিল, কিন্তু জনগণ তা হতে দেয়নি। দেশ আজ সবদিক থেকে এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে। কেউই তা রুখতে পারবে না। তবে এক্ষেত্রে সরকারের ধারাবাহিকতা রক্ষার দিকে দেশের জনগণকে এগিয়ে আসতে হবে।
জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন এবং শান্তির প্রতীক পায়রা উড়িয়ে সম্মেলনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। ছাত্রলীগ সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক এসএম জাকির হোসাইনের পরিচালনায় সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ওবায়দুল কাদের এমপি, সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক কাজী এনায়েত, নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান কমিশনার আরিফুর রহমান লিমন ও অভ্যর্থনা উপ-কমিটির আহ্বায়ক ইমতিয়াজ বাপ্পি।
সম্মেলনের শুরুতেই সংগঠনের সংগীত ‘ছাত্রলীগ, জয় জয় ছাত্রলীগ’ পরিবেশন করা হয়। প্রধানমন্ত্রী এ সময় তালি দিয়ে গানের সঙ্গে কণ্ঠ মেলান। এরপর ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক প্রধানমন্ত্রীকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন। ছাত্রলীগ সম্মাদিত বইয়ের উন্মোচন করেন প্রধানমন্ত্রী এবং তাকে সম্মেলনের ব্যাজ পরিয়ে দেয়া হয়। এরপর ছাত্রলীগের সাংস্কৃতিক উপ-কমিটির সদস্যদের মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং শিল্পকলা একাডেমির শিল্পীদের পরিবেশনায় ‘ধন্য বাংলাদেশ ধন্য… শেখ মুজিবের জন্য’, ‘এ মাটি নয় জঙ্গিবাদের, এ মাটি মানবতার’ শীর্ষক গীতিনৃত্য প্রত্যক্ষ করেন প্রধানমন্ত্রী। ছাত্রলীগের সাংগঠনিক রিপোর্ট তুলে ধরেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসাইন। শোক প্রস্তাব পাঠ করেন দফতর সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন শাহজাদা।
উদ্বোধনী ভাষণে প্রধানমন্ত্রী দেশের ছাত্রসমাজের উদ্দেশ্যে বলেন, সততার সঙ্গে রাজনীতি করেছি বলেই আজকে পদ্মাসেতু আমরা নিজেদের অর্থায়নে করতে সক্ষম হয়েছি। তাই আমি আমাদের ছাত্রদের বলতে চাই, কোনো ধ্বংসাত্মক কার্যক্রম (ভ্যান্ডালিজম) চলবে না। ছাত্ররা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ভাঙচুর করবেÑ এটা আমি বরদাশত করব না। কারণ পাবলিক বিশ^বিদ্যালয়গুলো যদিও স্বায়ত্তশাসিত। কিন্তু প্রত্যেকটি খরচ দেয়া হয় সরকারের পক্ষ থেকে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে নির্দেশ দেয়া আছে, ভাঙচুরকারীরা যে দলের হোক, কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।
সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ ও মাদকাসক্তি থেকে দূরে থাকার জন্য ছাত্রসমাজের প্রতি আহ্বান জানিয়ে সাবেক এই ছাত্রলীগ নেতা শেখ হাসিনা বলেন, জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাস ও মাদকাসক্তি থেকে দূর থাকতে হবে। এ ধরনের কাজে কেউ যদি জড়িত থাকে তাকে সঙ্গে সঙ্গে বহিষ্কার করতে হবে। ইতোমধ্যে আমি র‌্যাবসহ সকলকে বলে রেখেছি, মাদক ব্যবসায়ী এবং জঙ্গিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে। আমি ছাত্রলীগের ছেলেদের বলব, রাস্তা কীভাবে পার হতে হয়, কীভাবে রাস্তায় চলতে হয় সেটাও জানতে হবে। নিয়মটা মানতে হবে সবাইকে।
পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ওপর জোর দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আরেকটি জিনিস হচ্ছে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা। নিজের ক্যাম্পাস এবং নিজের জায়গায় একটা ফুলের গাছ লাগাবে, একটু বৃক্ষরোপণ করবে। পাশাপাশি ছুটিতে নিজের এলাকায় গেলে ছেলে-মেয়েদের অক্ষরজ্ঞান দেয়া নিজেদের দায়িত্ব। নিজ নিজ এলাকায় গেলে এটা করতে হবে। কমিউনিটি ক্লিনিকে মানুষ কী সেবা পাচ্ছে। দরকার হলে সেখানে ভলান্টিয়ার সার্ভিস দিতে হবে।
সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পে কোথাও দুর্নীতি হচ্ছে কি নাÑ সেটাও দেখতে হবে। নেতা কেউ বানিয়ে দিলেই হবে নাÑ নিজের কাজের মধ্য দিয়ে জনগণের আস্থা-বিশ^াস অর্জন করেই নেতৃত্ব অর্জন করতে হয়। আর দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে। বাংলাদেশ আর পিছিয়ে যাবে না।
বিএনপি-জামাতের কঠোর সমালোচনা করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মাত্র ৯ বছরেই বাংলাদেশ এখন সারাবিশ্বের কাছে উন্নয়নের রোল মডেল। বাংলাদেশের এত স্বল্পতম সময়ে এত অগ্রগতি দেখে বিশ্ব নেতারাও হতবাক হয়ে প্রশ্ন করছেন। মাত্র ৯ বছরে আমরা এত উন্নয়ন করেছি; কিন্তু বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর জিয়া-এরশাদ-খালেদা জিয়ারা পারলেন না কেন? আসলে এরা ক্ষমতায় থেকে নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তন, বিদেশে অর্থপাচার, লুট-দুর্নীতিতে ব্যস্ত ছিল। জনগণের দিকে তাকায় নি। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলাসহ আমাকে বারবার হত্যাচেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু সততার পথে যে পথ চলবে, আর মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন যাকে যেটুকু কাজ দিয়েছে তা শেষ না করা পর্যন্ত কেউ তার ক্ষতি করতে পারবে না। আর আমি নিজের ভাগ্য নয়, জনগণের ভাগ্য পরিবর্তন, মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছি। মৃত্যুকে আমি ভয় পাই না। যতদিন বেঁচে আছি বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়ন এবং দেশের মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে কাজ করে যাব।
প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে ছাত্রলীগের যারা বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা রেখেছে তাদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, তবে দুর্ভাগ্য কিছু আছে, কিছু কিছু নেতারা বিপথে চলে গেছে। এখনও বিএনপিতে দু-চারজন খুঁজে পাবেন। এরা বেইমান, মোনাফেক, এরা আদর্শে বিশ^াস করে না। আদর্শহীন রাজনীতি কোনো রাজনীতি নয়। আদর্শ নিয়ে রাজনীতি করলে জনগণকে কিছু দেয়া যায়। আমি কথা দিয়েছিলাম, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করব, সেই বিচার আমরা করেছি। এই যুদ্ধাপরাধীদের গাড়িতে খালেদা জিয়া আমার লাখো শহিদের রক্তে রঞ্জিত জাতীয় পতাকা তুলে দিয়েছিল। আপনারা জানেন, অনেক উচ্চ পর্যায় থেকে ফোন এসেছিল, কিন্তু সেই বিচার আমরা করেছি। যুদ্ধাপরাধী ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু হত্যাকা-ের বিচার করে আমরা দেশকে কলঙ্কমুক্ত করেছি।

শ্রেণী:

বাংলাদেশ ছাত্রলীগ : ৭০ বছরের অপ্রতিরোধ্য অভিযাত্রা

Posted on by 0 comment
5-7-2018 7-06-57 PM

5-7-2018 7-06-57 PMমুহম্মদ শফিকুর রহমান: তারুণ্যই পারে মানুষের লড়াইর নেতৃত্ব দিয়ে বিশ্বজয় করতে। বাংলাদেশ ছাত্রলীগ সেই তারুণ্যেরই প্রতীক। সত্য সুন্দরের অভিযাত্রী। অপ্রতিরোধ্য। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বলতেন “ছাত্রলীগের ইতিহাস বাংলাদেশের ইতিহাস, বাংলাদেশের ইতিহাস ছাত্রলীগের ইতিহাস।” এ ইতিহাস রচিত হয়েছে বঙ্গবন্ধুর নির্দেশিত পথে, ৭০ বছর লড়াই করে। অকুতোভয় আত্মবলিদানের মাধ্যমে।
বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া ছাত্রলীগ আজ এক বিশাল সংগঠন। বাংলার এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্ত পর্যন্ত এর বিস্তার। বিরাট কর্মযজ্ঞ। ১৯৪৭ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্র্যাজুয়েশন ডিগ্রি লাভ করার পর বঙ্গবন্ধু কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি না হয়ে ঢাকায় ফিরে আসেন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এলএলবি প্রথম পর্বে ভর্তি হন। ঢাকায় ফিরে আসার প্রধান কারণ ছিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব বিশ্বাস করতেন নেতাজীÑ শেরে বাংলাদের সাইডলাইনে পাঠিয়ে মুহম্মদ আলী জিন্নাহ, জওহরলাল নেহেরু, মহাত্মা গান্ধী, লর্ড মাউন্ট ব্যাটনরা যেভাবে ভারতবর্ষ ভাগ করে পাকিস্তান নামে যে অবাস্তব রাষ্ট্র বানিয়ে দিল তা বাঙালির জন্যে নয়। ১২০০ মাইলের ব্যবধানে দুই ভিন্ন ভাষা, সংস্কৃতি, অর্থনীতির দুই দেশ, এক অবাস্তব রাষ্ট্র। এটি টিকে থাকতে পারে না। তিনি তার বন্ধুদেরও বলেছিলেন, যে পাকিস্তানের জন্ম হলো তা আমাদের জন্য নয়, আমাদের আবার লড়াই করে আপন জাতি-রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে। তাই ঢাকায় ফিরে যাচ্ছি।
তারুণ্যের শক্তি অজেয় অপ্রতিরোধ্য। তাদের পিছুটান নেই। বঙ্গবন্ধু নিজেও তখন তরুণ, কাজেই তরুণদের সংগঠন দরকার। তিনি তরুণদের সংগঠিত করতে থাকলেন এবং ঢাকায় ফিরে আসার ছয় মাসের মাথায় ১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি ছাত্রলীগ প্রতিষ্ঠা করেন। প্রথম দিকে অবশ্য মুসলিম শব্দটি ছিল। পরে তা বাদ দেওয়া হয়। সকল জাতি-ধর্ম তথা সর্ব বর্ণবাদবিহীন তরুণদের সংগঠন হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে স্যাকুলার সংগঠনে রূপ দেন।
এর আগে প্রতিষ্ঠার মাত্র কয়েক মাস পরই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আজীবনের জন্যে বহিষ্কার করা হয়। কারণ তিনি বিশ্ববিদ্যালয় চতুর্থ শ্রেণি কর্মচারী আন্দোলনে নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন, যে জন্য তাকে গ্রেফতারও করা হয়েছিল। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে বলা হয়েছিল, বঙ্গবন্ধু মুচলেকা এবং ১৫ টাকা জরিমানা দিলে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যহৃত করা হবে এবং ছাত্রত্ব বজায় থাকবে। কিন্তু বঙ্গবন্ধু ভিন্ন রকম মাটি দিয়ে গড়া ছিলেন। মুচলেকা-জরিমানা দূরের কথা, নিজের রাজনীতি, লক্ষ্য, আদর্শ থেকে এক চুলও বিচ্যুত হননি জীবনে। ফলে তাকে জেলে নেওয়া হলো এবং বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করার হলো। তারপরও ফিরে তাকান নি কারও দিকে, এগিয়ে গেছেন আপন শক্তিতে সংগঠনের নেতৃত্বে, বস্তুত এই ছাত্রলীগের সবকিছুই ছিলেন হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বঙ্গবন্ধুর শাহাদাতের পর ছাত্রলীগের হাল ধরেন কন্যা স্টার অব দ্য ইস্ট, মাদার অব হিউম্যানিটি শেখ হাসিনা। সামনে ছাত্রলীগের দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন। ২০১৮-এর ডিসেম্বরের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে এই দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন সমধিক গুরুত্ব বহন করে। নতুন নেতৃত্ব আসবে এবং তারা ছাত্রলীগকে তার অতীত ঐতিহ্য অনুযায়ী সাজাবে।
আগেও বলেছি ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠা হয়েছিল ১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি। সময়টা দেশ বিভাগের মাত্র ছয় মাস পর। বঙ্গবন্ধুর বয়স ছিল তখন ২৮ বছর এবং তিনিই হতে পারতেন এর সভাপতি। কিন্তু না, তিনি হন নি। তিনি প্রথম আহ্বায়ক নির্বাচিত করেন নাঈমুদ্দিন আহমদ, এরপর যখন ছাত্রলীগ রাজপথে কার্যক্রম শুরু করে তখন সভাপতি মনোনীত করা হয় দবিরুল ইসলামকে। সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয় খালেক নেওয়াজ খানকে।
১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক হলের অ্যাসেম্বলিতে তখনকার একঝাঁক সাহসী তরুণ নিয়ে প্রথমে পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম লীগ গঠন করা হয়। অল্পদিনেই তারা উপলব্ধি করেন যে পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠা হলো এর কাঠামোর মধ্যে বাঙালি জাতির অবস্থান অসম্ভব। আর তখন ‘মুসলিম’ শব্দটি বাদ দিয়ে পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগ নামকরণ করা হলো। এর আরেকটি লক্ষ্য ছিল ছাত্রলীগ প্রথম দিন থেকেই একটি অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক প্রগতিশীল সংগঠন হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে, যার মধ্যে কোনো বিশেষ ধর্মের পরিচয় থাকতে পারে না। তাছাড়া এটি মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, পাহাড়ি, আদিবাসীসহ সকল ধর্মীয় জনগোষ্ঠীর অসাম্প্রদায়িক মিলনমেলা হবে ছাত্রলীগ। হলোও তাই। প্রতিষ্ঠার পরই নামতে হলো বাঙালির প্রাণের ভাষা রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনে। এই পুরো প্রক্রিয়ার পেছনে ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ছাত্রলীগ গঠন করে তিনি এবার গঠন করলেন আওয়ামী লীগ ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন। গঠন প্রক্রিয়ায় প্রথম বৈঠক হয় খান সাহেব ওসমান আলীর নারায়ণগঞ্জের বাসভবনে। সেখানে ব্রিটিশবিরোধী বাঙালি জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের নেতারা একত্রিত হন এবং তারা উপলব্ধি করেন যে যেহেতু দ্বি-জাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে ভারত ভাগ হলো সেহেতু বাঙালি জাতি হিসেবে স্বাতন্ত্র্য বজায় থাকবে এমনিটি আশা করা যায় না। অতএব দেশপ্রেমিক অসাম্প্রদায়িক প্রগতিশীল সংগঠন দরকার। এরই কিছুকাল পরে ঢাকার রোজ গার্ডেনে এবং আরও বেশি জাতীয়তাবাদী নেতার সমাবেশ ঘটে এবং এখানেই ব্যাপক আলোচনার মাধ্যমে পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগের আত্মপ্রকাশ ঘটে এবং এর প্রথম সভাপতি হন মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী এবং সাধারণ সম্পাদক হন টাঙ্গাইলের শামসুল হক। বঙ্গবন্ধু হন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। এভাবে বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া দুটি সংগঠন বড় ভাই (আওয়ামী লীগ) ছোট ভাই (ছাত্রলীগ) হিসেবে বাঙালি জাতির আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকারের আন্দোলন শুরু করে। অবশ্য ১৯৫৭ সালে কাগমারি সম্মেলনের মাধ্যমে মওলানা ভাসানী আওয়ামী লীগ ত্যাগ করেন।
এই গেল প্রথম অধ্যায়। দ্বিতীয় অধ্যায় হলো ছাত্রলীগ মুসলিম শব্দ ঝেড়ে ফেলে স্বতন্ত্র সংগঠন হিসেবে প্রথমে রাষ্ট্রভাষা বাংলা আন্দোলন ও পরে বাঙালি জাতীয়তাবাদী আন্দোলন শুরু করে। এই ৭০ বছরের পথ পরিক্রমায় ছাত্রলীগ অনেক নেতার জন্ম দিয়েছে। আবার অনেক নেতা বিভ্রান্ত হয়ে অথবা লোভে পড়ে ছাত্রলীগ ত্যাগ করেছে। যারা সোনার হরিণ ধরার জন্য ছাত্রলীগ ত্যাগ করেছে তারা কালো বিড়ালও ধরতে পারেনি। নাম বলতে চাই না। তাদের কেউ কেউ অন্য দলে গিয়ে আজও পেছন পেছন তল্পিবাহকের দায়িত্ব পালন করছে।
ছাত্রলীগের সবচে গৌরবের দিন ’৫২-র রাষ্ট্রভাষা বাংলার আন্দোলন, ঊনসত্তরের ছাত্র গণ-অভ্যুত্থান এবং একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের বিজয়। এ ছাড়াও রয়েছে ’৫৪-র যুক্তফ্রন্ট আন্দোলন; ’৬২-র আইয়ুবের মার্শাল ল’-বিরোধী আন্দোলন; ’৬৪-র শিক্ষা আন্দোলন; ’৬৬-র ৬-দফা আন্দোলন; ঊনসত্তরের ১১-দফা আন্দোলন ও গণ-অভ্যুত্থান এবং একাত্তরের মার্চ মাসের দুনিয়া কাঁপানো অসহযোগ আন্দোলন।
একটি সংগঠন বড় হয় শক্তিশালী হয় আন্দোলনের মাধ্যমে। বাংলাদেশ তো বটেই, এই উপমহাদেশেও পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগ বা বাংলাদেশ ছাত্রলীগই একমাত্র সংগঠন যে আন্দোলন করে দেশের জন্য জীবন উৎসর্গ করে আজ এ অঞ্চলের সর্ববৃহৎ সংগঠনে পরিণত হয়েছে। বঙ্গবন্ধু তার প্রকাশ্য রাজনীতির সাথে গোপন সংগঠন ‘স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী পরিষদ’ গঠন করেছিলেন। বঙ্গবন্ধু জানতেন দেশ স্বাধীন করতে এ ধরনের সংগঠনও লাগবে। তখন দায়িত্ব দিয়েছিলেন সিরাজুল আলম খান, আবদুর রাজ্জাক, কাজী আরেফ আহমেদকে। পরে আরও অনেকে যোগ দেন। এই সংগঠনই ’৭১-এর যুদ্ধে বিএলএফ বা মুজিব বাহিনী গঠন করে দেশাভ্যন্তরে যুদ্ধ করে। দেশ স্বাধীন করে।
আজকের দিকেই যদি তাকাই তাহলে দেখব ছাত্রলীগ নেতা শেখ হাসিনা আজ কেবল বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীই নন, এই অঞ্চল তথা বিশ্বের অন্যতম সাহসী, সফল, ক্ষমতাধর রাষ্ট্রনেতা, যিনি একাধারে চ্যাম্পিয়ন অব দ্য আর্থ, মাদার অব হিউম্যানিটি, স্টার অব দ্য ইস্ট, বিশ্বের ১০০ জন শক্তিশালী রাজনৈতিক নেতার মধ্যে ২৩তম, পাঁচজন সৎ রাষ্ট্রনেতার মধ্যে তৃতীয়, এমনি অসংখ্য পুরস্কার এনে আমাদের জাতিকে সম্মানিত করেছেন। এছাড়া যার নাম করতে হয় তিনি ওবায়দুল কাদেরÑ একাধারে সড়ক যোগাযোগ ও সেতুমন্ত্রী এবং সর্বোপরি দলের শক্তিধর সাধারণ সম্পাদক, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনাবলী তিনি যেমন অক্ষরে অক্ষলে পালন করেন, তেমনি রাজপথে হেঁটে লঞ্চে করে নদীতে ঘুরে ঘুরে কাজ দেখছেন।
সবচে’ বড় কথা হলো এ পর্যন্ত যত স্বৈরাচার স্বাধীনতার পূর্বাপর এসেছে সব ক’টির পতন হয়েছে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগসহ দলের সহযোগী সংগঠনের আন্দোলনে। এক্ষেত্রেও সবচে’ মুখ্য ভূমিকা পালন করেছে ছাত্রলীগ। সেই স্বৈরাচার আইয়ুব, ইয়াহিয়া, জিয়া (যদিও সেনা অভ্যুত্থানে নিহত তবুও ততদিনে জনপ্রিয়তা শূন্যের কোঠায় পৌঁছেছিল); এরশাদ, খালেদা সবার পতন হয়েছিল প্রধানত ছাত্রলীগের আন্দোলনে। একাত্তর সালে তো অগণিত ছাত্রলীগ নেতাকর্মী পাকিস্তানি হায়েনাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে করতে অকাতরে প্রাণ বিসর্জন দিয়েছে। শহীদ হয়েছে। তবু হার মানেনি, বিজয় ছিনিয়ে এনেছে। বাঙালি হাজার বছরের স্বপ্নসাধ আপন জাতি-রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেছে। জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম আজ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এগিয়ে চলেছে।
জানতে পেরেছি আগামী ১১ মে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের দ্বি-বার্ষিক সাধারণ সভা। সভাটি যে জাঁকজমক হবে। প্রত্যেকবারই আগের রেকর্ড ভেঙে ছাত্র সমাবেশ ঘটে। এবারও ঘটবে সন্দেহ নেই। ছাত্রলীগের বিদায়ী প্রেসিডেন্ট-সেক্রেটারি কি বলবেন জানি না। তবে দলের সাধারণ সম্পাদক ছাত্রলীগের এককালের সভাপতি এবং Ok Commission-এর চেয়ারম্যান (Commission-এ আমি সদস্য ছিলাম) এবং দুই মন্ত্রণালয়ের পরিশ্রমী ও সফল মন্ত্রী যা বলার এরই মধ্যে বলে দিয়েছেন : কোনো সিন্ডিকেট দ্বারা ছাত্রলীগ চলবে না। কারও পকেটের কমিটি দিয়ে ছাত্রলীগের নেতৃত্ব হবে না। ছাত্রলীগ চলবে বঙ্গবন্ধুর আদর্শে, শেখ হাসিনার নির্দেশনায়। এর বাইরে কোনো ভাবনাচিন্তা করার অবকাশ নেই। ছাত্রলীগকে রাজনৈতিক আদর্শের মহাসড়কে আসতে হবে। সুনামের ধারায় ফিরে আসতে হবে। ছাত্রলীগকে অতীতের ধারায় ফিরে আসতে হবে। ছাত্রলীগে যেন আর কোনো অনুপ্রবেশকারী ঢুকতে না পারে, সেদিকে সজাগ থাকার পরামর্শ দেন তিনি। ছাত্রনেতাদের উদ্দেশ্যে ওবায়দুল কাদের বলেন, টাকা-পয়সার কর্মীরা থাকবে না, আদর্শের কর্মীরা থাকবে। জবরদস্তি করে অযোগ্যকে নেতা বানাবেন, দুৎসময় এলে হাজার পাওয়ারের বাতি দিয়ে খুঁজে পাওয়া যাবে না। সাহসী, মেধাবী ও চরিত্রবান নেতা বানান সর্বস্তরে। তিনি বলেন, অনুপ্রবেশকারী পরগাছা যেন পার্টির নেতৃত্বে আর না আসতে পারে। পরগাছাদের জন্য ছাত্রলীগ কোনো সুযোগ দেবে না। মাননীয় মন্ত্রী বাজারে জোর গুজব, গত এক দশকে ছাত্রলীগে শিবিরের ব্যাপক অনুপ্রবেশ ঘটেছে। কেউ অর্থে বা কেউ শক্তি বৃদ্ধিতে। অস্বীকার করব না বিগত কোটাবিরোধী আন্দোলনে তার আলামত লক্ষণীয়। যে ছেলেটি আমি রাজাকার লিখে দাঁড়িয়েছে বা যারা বুকে বঙ্গবন্ধুর ছবি নিয়ে ভিসির বাড়ি অ্যাটাক করেছে তাদের কি চিহ্নিত করা যায় না? ওবায়দুল কাদের বলেছেন : ছাত্রলীগে কোনো পকেট কমিটি হবে নাÑ  I want devoted and qualified leadership. It will run as per Bangabandhus idealogy and Sheikh Hasina’s instruction.
মাননীয় মন্ত্রী মহোদয় আপনার ঐ কথাগুলো আমরা সর্বান্তকরণে সমর্থন করি। কিন্তু বেশ কিছুকাল ধরে আমরা এর ব্যতিক্রম লক্ষ্য করছি। আপনি কি জানেন, চাঁদপুর জেলায় ফরিদগঞ্জ বলে একটা থানা আছে এবং এক থানা এক কনস্টিটুয়েন্সি। সেখানে ২০০৫ সাল থেকে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ সবই পকেট কমিটি। কোনো নির্বাচিত কমিটি নেই। ২০১০ সালে একটি স্বাভাবকি দ্বি-বার্ষিক সাধারণ সভা ও গোপন ব্যালটের মাধ্যমে ছাত্রলীগের একটি নির্বাচিত কমিটি হয়। অল্প ক’দিনেই জেলা আওয়ামী লীগের বিতর্কিত সভাপতির কোপানলে পড়ে, কারণ কোনো অসৎ দুর্নীতি পরায়ণ লোককে তারা সমর্থন করেনি। ২০১২ সালে তাদের কমিটি অকার্যকর করে দেয় এবং ২০১৪ সালে পুরোপুরি ভেঙে অছাত্র, মাদকাসক্তদের দিয়ে কমিটি করা হয়। আমি তখনকার ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে প্রেসক্লাবে ডেকে অনুরোধ করেছিলাম একটা সাধারণ সভা ও নির্বাচন দিয়ে ওদের সম্মানজনক বিদায় দিতে। নেতৃদ্বয় আমাকে কথাও দিয়েছিলেন। কিন্তু দেখা গেল কয়েকদিন পর না কাউন্সিল না নির্বাচন বরং অশিক্ষিত অছাত্র দিয়ে কমিটি ঘোষণা করে দিলেন কেন্দ্রীয় সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকÑ এটা কোন পকেট?
লেখক : সিনিয়র সাংবাদিক ও সভাপতি, জাতীয় প্রেসক্লাব
balisshafiq@gmail.com

শ্রেণী:

‘পেয়ারে পাকিস্তান যাদের হৃদয়ে তারা দেশের উন্নয়ন চায়নি’

43

জাতির পিতার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসের আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী

43উত্তরণ প্রতিবেদন: প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা দেশের চলমান উন্নয়ন-অগ্রগতির ধারা ত্বরান্বিত করতে দেশবাসীর ঐক্যবদ্ধ সমর্থন কামনা করে বলেছেন, মাত্র ৯ বছর ক্ষমতায় থেকে বর্তমান সরকার বাংলাদেশকে সবদিক থেকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে, সারাবিশ্বের সামনে বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের রোলমডেল। কিন্তু আমার প্রশ্ন, স্বাধীনতার ৪৭ বছরের মধ্যে দীর্ঘ ২৮ বছর যারা ক্ষমতায় ছিল তারা কেন দেশের উন্নয়ন করতে পারেনি? সারাবিশ্বে দেশের ভাবমূর্তি কেন উন্নত করতে পারেনি? তার প্রধান কারণ হচ্ছেÑ এরা দেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী না। তারা দেশে থাকলেও তাদের হৃদয়ে পেয়ারে পাকিস্তান। পাকিস্তানের গোলামি করাই তাদের পছন্দ ছিল বলেই বাংলাদেশ উন্নত ও স্বাবলম্বী হোক তা কোনোদিনই তারা চায়নি। একমাত্র আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলেই দেশ উন্নত হয়, এগিয়ে যায় আমরা তা প্রমাণ করেছি।
গত ১০ জানুয়ারি রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ঐতিহাসিক ১০ জানুয়ারি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু হত্যাকা-ের সঙ্গে খন্দকার মোশতাক ও জেনারেল জিয়ার জড়িত থাকার কথা পুনরুল্লেখ করে বলেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর অনেকেই জেনারেল জিয়াকে বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা বলার চেষ্টা করেছিলেন। জেনারেল জিয়ার বহুদলীয় গণতন্ত্র মানে যুদ্ধাপরাধী ও স্বাধীনতাবিরোধীদের পুনর্বাসন, ক্ষমতায়ন, ভোটের ও রাজনীতির অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া। কারাগারে বন্দী যুদ্ধাপরাধীদের মার্শাল ল’ অর্ডিন্যান্সের মাধ্যমে মুক্তি দিয়ে রাজনীতি করার অধিকারই ছিল জিয়ার বহুদলীয় গণতন্ত্রের নমুনা। তিনি বলেন, জনগণের গণতন্ত্র নয়, প্রতি রাতে কার্ফ্যু গণতন্ত্রের নামে স্বাধীনতাবিরোধীদের পুনর্বাসন জেনারেল জিয়া করেছিলেন বলেই দেশ এগিয়ে যেতে পারেনি, বরং অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়েছিল।
ঐতিহাসিক ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসে প্রধানমন্ত্রী জাতির পিতার কাছে ওয়াদা দিয়ে বলেনÑ “বঙ্গবন্ধু তোমায় কথা দিলামÑ বাংলাদেশকে তাঁর স্বপ্নের ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত সমৃদ্ধ সোনার বাংলা গড়ে তুলব। ’২১ সালের মধ্যে মধ্য আয়ের দেশ হিসেবে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালন করব। আর ’৪১ সালের মধ্যে বিশ্বে বাংলাদেশকে উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তুলব।” এজন্য প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীর ঐকান্তিক সমর্থন ও সহযোগিতাও কামনা করেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে আলোচনায় অংশ নেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু এমপি, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ এমপি, সভাপতিম-লীর সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী এমপি, শেখ ফজলুল করিম সেলিম এমপি, গৃহায়নমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এমপি, ইতিহাসবিদ-কলামিস্ট অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন, কেন্দ্রীয় নেতা মারুফা আকতার পপি, উপাধ্যক্ষ রেমন্ড আরেং, ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান ও দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ। সভা পরিচালনা করেন কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ এমপি ও উপ-প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন।
সভাপতির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু হত্যাকা-ের প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করে স্বাধীনতাবিরোধী, বঙ্গবন্ধুর খুনি ও যুদ্ধাপরাধীদের নিয়ে ক্ষমতা দখল করে খুনি মোশতাক ও জেনারেল জিয়ারা। অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে বঙ্গবন্ধুর নাম ও ইতিহাস মুছে ফেলার চেষ্টা করা হয়। বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ বাজানোও নিষিদ্ধ করা হয়। বাংলাদেশের মানুষকে পরিকল্পিতভাবে মিথ্যাচারের মাধ্যমে বিভ্রান্তির বেড়াজালে ফেলে দেওয়া হয়। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুই বলেছিলেনÑ বাংলাদেশের মাটি খুব উর্বর। উর্বর মাটিতে গাছপালার সঙ্গে কিছু আগাছাও জন্ম নেয়। তেমনি খুনি মোশতাকের মতো গাদ্দারের জন্ম হয়েছিল এ দেশের মাটিতে। পাকিস্তানি হানাদাররা এ দেশে গণহত্যা চালিয়েছিল, সারাদেশের গ্রামগঞ্জ জ্বালিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছিল। আর তাদের সাহায্য করেছিল আমাদের দেশেরই কিছু কুলাঙ্গার আলবদর-রাজাকার-আলশামসরা।
বিএনপি-জামাত জোটের অগ্নিসন্ত্রাস ও মানুষকে পুড়িয়ে হত্যার ভয়াল চিত্র তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জেনারেল জিয়ার পদাঙ্ক অনুসরণ করে খালেদা জিয়াও একাত্তরের স্বীকৃত গণহত্যাকারী-যুদ্ধাপরাধীদের মন্ত্রী বানিয়ে তাদের হাতে তুলে দেন লাখো শহীদের রক্ত¯œাত জাতীয় পতাকা। স্বাধীনতাবিরোধী-যুদ্ধাপরাধীরাই যেন হয়ে যায় এ দেশের হর্তা-কর্তা-বিধাতা। ২১ আগস্ট ভয়াল গ্রেনেড হামলা, একসঙ্গে ৫০০ স্থানে বোমা হামলা, জঙ্গি-সন্ত্রাস, সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন, নারী নির্যাতন এমন কোনো শ্রেণি-পেশার মানুষ নেই যে বিএনপি-জামাত জোটের হাতে নির্যাতনের শিকার হয়নি।
তিনি বলেন, একাত্তরে পাকিস্তানি হানাদাররা যেভাবে গণহত্যা ও জ্বালাও-পোড়াও চালিয়েছিল, বিএনপি-জামাত জোট ঠিক একই কায়দায় আন্দোলনের নামে নির্বিচারে জীবন্ত মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করে। সরকার উৎখাত না করে ঘরে ফিরব না এ কথা বলে খালেদা জিয়া নির্বিচারে শ’ শ’ মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করে, সারাদেশে নাশকতা চালান। কিন্তু দেশের জনগণ ঐক্যবদ্ধভাবে তাদের সব ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে দিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ যখন ক্ষমতায় আসে তখনই দেশের মানুষ প্রথম উপলব্ধি করে যে, সরকার শাসক নয়, জনগণের সেবক। ’৯৬-২০০১ এই পাঁচ বছর ছিল বাংলাদেশের জন্য উন্নয়নের স্বর্ণযুগ। এরপর বিএনপি-জামাত জোট ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসে দেশকে আবারও পিছিয়ে দিয়ে যায়। তিনি বলেন, ২০০৯ সালে জনগণের ভোটে পুনরায় ক্ষমতায় এসে আমরা ধ্বংসপ্রাপ্ত অর্থনীতিকে আবারও মজবুত করি। বাংলাদেশ আজ সবদিক থেকে এগিয়ে যাচ্ছে। সারাবিশ্বে বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের রোল মডেল। আমরা বঙ্গবন্ধুর খুনি ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করে দেশকে কলঙ্কমুক্ত করেছি।
আবেগজড়িত কণ্ঠে প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের ঐতিহাসিক সেই মুহূর্তের স্মৃতি স্মরণ করে বলেন, বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করে পাকিস্তানে বন্দী করার পর দীর্ঘ ৯ মাস আমরা জানতাম না তিনি বেঁচে আছেন কি না। কারণ বঙ্গবন্ধুর পাশাপাশি ধানমন্ডির ১৮ নম্বর বাড়িতে আমাদের পরিবারের সবাইকে বন্দী করে রাখা হয়। পাকিস্তান থেকে মুক্তি পেয়ে বঙ্গবন্ধু যখন প্রথম লন্ডনে যান, তখন জানতে পারি তিনি বেঁচে আছেন। বঙ্গবন্ধু লন্ডন থেকে যখন আমাদের কাছে ফোন করেছিলেন তখন আমাদের কথা বলার মতো কোনো অবস্থা ছিল না। শুধু আমাদের অপেক্ষা ছিল কখন ফিরে আসবেন আমাদের জাতির পিতা।
তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু ১০ জানুয়ারি দেশে প্রত্যাবর্তন করে আমাদের কাছে নয়, বিমানবন্দর থেকে সোজা চলে গিয়েছিলেন তার প্রিয় এ দেশের মানুষের কাছে। তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধুর ভাষণে কীভাবে স্বাধীন দেশ গড়ে তোলা হবে, কোন নীতিতে এ দেশ চলবে ও গড়ে উঠবে সেই দিক-নির্দেশনা দিয়েছিলেন। তিনি বলেন, মাত্র সাড়ে তিন বছরে বঙ্গবন্ধু যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশকে গড়ে তুলেছিলেন। মাত্র ১০ মাসের মধ্যে বাঙালি জাতিকে শাসনতন্ত্র উপহার দিয়েছিলেন। যখন যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ গড়ে তুলতে দেশকে অর্থনৈতিক স্বাবলম্বীর দিকে নিয়ে যাচ্ছিলেন, ঠিক তখনই স্বাধীনতাবিরোধী দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রকারীরা চরম আঘাত হেনে বাঙালি জাতিকে অগ্রগতির মিছিল থেকে ফেলে দেয়। দেশকে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত, উন্নত-সমৃদ্ধ সোনার বাংলা গড়ে তোলার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।

বিরল প্রাণীর মতো বিলুপ্ত হয়ে যাবে বিএনপি : ওবায়দুল কাদের
দশম সংসদ নির্বাচনের চতুর্থ বর্ষপূর্তির দিন গত ৫ জানুয়ারি ব্যাপক শোডাউনের মাধ্যমে রাজপথসহ সারাদেশের মাঠ ছিল আওয়ামী লীগের দখলে। গণতন্ত্রের বিজয় দিবসের এ দিনটিতে দেশজুড়ে বিজয় শোভাযাত্রা ও সমাবেশ করেছে আওয়ামী লীগ।
45গত ৫ জানুয়ারি বিকেল ৩টায় একযোগে সারাদেশে অনুষ্ঠিত বর্ণাঢ্য এই শোভাযাত্রায় মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী অসংখ্য মানুষের ঢল নামে। শোভাযাত্রায় সন্ত্রাস-নাশকতা-জঙ্গিবাদ ও দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র রুখে দিয়ে অসাম্প্রদায়িক চেতনার বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়। এ ছাড়া রাজধানীর অলিগলিসহ দুশতাধিক স্থানে দিনভর সতর্ক অবস্থানে থেকে বিজয়োৎসব পালন করেছে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরাসহ মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী অসংখ্য মানুষ।
রাজধানীর বনানী পূজা মাঠে এবং ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউ প্রাঙ্গণে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ও উত্তর শাখা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে আয়োজিত শোভাযাত্রা পরবর্তী সমাবেশে আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতারা বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে এতিমের টাকা মেরে খাওয়া দুর্নীতিবাজ, জঙ্গির পৃষ্ঠপোষক ও পেট্রলবোমা নেত্রী হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, অতীত কৃতকর্মের কারণে বিএনপি জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। দেশের জনগণ বিএনপিকে আর কখনও ক্ষমতায় আসতে দেবে না। দেশ ও জাতির উন্নয়নের স্বার্থে শেখ হাসিনাকে আবারও ভোট দিয়ে ক্ষমতায় আনবে দেশবাসী। নেতৃবৃন্দ বলেন, ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে দেশে শুধু গণতন্ত্রই রক্ষা পায়নি, সাংবিধানিক শাসনও সুরক্ষিত হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শত ষড়যন্ত্র, আগুন সন্ত্রাস ও নাশকতা মোকাবিলা করেই রাষ্ট্রকে সুরক্ষিত করেছিলেন। সিনিয়র নেতারা আরও বলেন, বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া মামলায় শাস্তি থেকে বাঁচার জন্য দেশে বিশৃঙ্খলা তৈরি করে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের ষড়যন্ত্র করছেন। জনগণের প্রতি তার কোনো আস্থা নেই, ষড়যন্ত্রে তার আস্থা আছে।
বনানী পূজা মাঠে শোভাযাত্রা পরবর্তী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি বলেন, দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটগ্রহণের দিন ৫ জানুয়ারি বিএনপি ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ হিসেবে পালন করলেও এটি মূলত দলটির জন্য ‘রাজনৈতিক আত্মহত্যা দিবস’।

নির্বাচন ঠেকানোর চেষ্টা হলে জনগণ প্রতিহত করবে
এদিকে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের সামনে ‘গণতন্ত্রের বিজয় দিবস’ উপলক্ষে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের উদ্যোগে আয়োজিত শোভাযাত্রা পরবর্তী সমাবেশে ওবায়দুল কাদের এমপি বলেন, নির্বাচনী ট্রেন বিএনপির স্টেশনে থামবে না। সময় ও স্রোতের মতো আগামী (একাদশ) সংসদ নির্বাচনও কারও জন্য অপেক্ষা করবে না। বিএনপি নির্বাচনে অংশ না নিলে তাদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ অন্ধকার হয়ে যাবে। বিরল প্রাণীর মতো বিলুপ্ত হয়ে যাবে বিএনপি। পৃথিবীতে অনেক রাজনৈতিক দল বিলুপ্ত হয়ে গেছে। তাদের অবস্থা মুসলিম লীগের চেয়েও খারাপ হয়ে যাবে। তিনি বলেন, নির্বাচন ঠেকানোর চেষ্টা করা হলে জনগণই তা প্রতিহত করবে।
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনের সমালোচনা করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ড. কামাল হোসেন ও খালেদা জিয়া সরকার ও সংসদকে অবৈধ হিসেবে অভিহিত করেছেন। কিন্তু বিশ্বের দুটি বড় আন্তর্জাতিক সংস্থা ইন্টার পার্লামেন্টারি ইউনিয়ন (আইপিইউ) ও কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারি অ্যাসোসিয়েশন (সিপিএ) বাংলাদেশের পার্লামেন্টকে স্বীকৃতি দিয়েছে। শুধু তাই নয়, এ দুটি সংস্থার প্রধানও করা হয়েছে সংসদ সদস্য সাবের হোসেন চৌধুরী এমপি ও বাংলাদেশের সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীকে। তাহলে কীভাবে গণতন্ত্রের সংকট আছে? আপনারা নির্বাচনে অংশ নেন নি। গণতন্ত্র যদি না থাকত তাহলে কী তারা বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিত?

শ্রেণী:

‘দেশের উন্নয়নে নিয়োজিত তরুণেরাই আগামীর নেতা’

25

25উত্তরণ প্রতিবেদন: প্রত্যন্ত অঞ্চলে বসে নিজেদের উদ্যোগে দেশের উন্নয়নে এগিয়ে আসা তরুণ-তরুণীদের বাংলাদেশের আগামী দিনের নেতা অভিহিত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়।
গত ২১ অক্টোবর ঢাকার সাভারে শেখ হাসিনা যুব কেন্দ্রে এক অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে উন্নয়নে ভূমিকা রাখা তারুণ্যনির্ভর ৩০টি সংগঠনের হাতে ‘জয় বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড’ তুলে দেওয়ার সময় তাদের এই অভিধা দেন তিনি।
অনুষ্ঠানে তরুণ উদ্যোক্তাদের দেখিয়ে সজীব ওয়াজেদ বলেন, ‘অনেকে আমাকে জিজ্ঞেস করে, কে আমাদের ভবিষ্যতে নেতৃত্ব দেবে। আমি তাদেরকে আমার সামনে দেখতে পাচ্ছি।’
সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফর্মেশন (সিআরআই) এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা জয় বলেন, সারাদেশের তরুণ-তরুণীরা বিভিন্নভাবে কাজ করছে। আমরা চেষ্ট করছিলাম, কীভাবে এই স্বপ্নকে ছড়িয়ে দেওয়া যায়। এরপর আমরা ইয়াং বাংলা প্রতিষ্ঠা করি। আমরা খুঁজে বের করি সেই সব তরুণ-তরুণীদের, যারা দেশের জন্য কাজ করছে। আমরা তাদের খুঁজে পেয়েছি। তারা যেভাবে দেশের জন্য কাজ করছে, আমি সজীব ওয়াজেদ জয়, তাতে অনুপ্রাণিত। এই তরুণদের দেখে, তাদের গল্প শুনে আনন্দ ও গর্ব লাগছে। আমি তাদের থেকে অনুপ্রাণিত। এই ছেলেমেয়েরা নিজের চিন্তায় বা চেষ্টায় কাজ করছে। প্রতিবন্ধী, মাদক ও মেয়েদের খেলাধুলার সুযোগ দিতে তারা কাজ করছে।
লড়াই করে স্বাধীনতা অর্জনের পরও বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা ব্যাহত হওয়ার জন্য জাতির জনককে হত্যার পর মুক্তিযুদ্ধে চেতনার বিপরীত দিকে হাঁটাকে দায়ী করেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা। আমরা লড়াই করে স্বাধীনতা অর্জন করেছি। চার বছরেই নিজেদের পায়ে দাঁড়াচ্ছিলাম। সেই সময়ে আসে ’৭৫ সালের ১৫ আগস্ট। এরপর স্বাধীনতার বিরুদ্ধ শক্তি ক্ষমতায় আসে।
আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ফেরার পর চিত্র বদলাতে শুরু করেছে বলে জয়ের মন্তব্য। আমাদের দেশের তরুণরা এখন দেশের জন্য কাজ করতে যেভাবে এগিয়ে আসছে, আগে সেটা দেখা যেত না। দেশের সমস্যা আমরা সমাধান করতে পারব কি না, দেশকে এগিয়ে নিতে পারব কি না, সেই বিশ্বাস আমরা হারিয়ে ফেলছিলাম। কারণ স্বাধীনতার চেতনা আমরা হারিয়ে ফেলছিলাম।
এ প্রসঙ্গে বিএনপির অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমানের সমালোচনা করে জয় বলেন, তিনি বলেছিলেন, আত্মনির্ভরশীল হলে বিদেশি সাহায্য পাওয়া যায় না। বাংলাদেশ আত্মনির্ভরশীল হোক, তারা সেটা চায়নি। কারণ তারা বাংলাদেশও চায়নি। আগে আমাদের সামাজিক সমস্যা নিয়ে সুশীলরা কাজ করত। তারা বিদেশে ঘুরতে যেত। এটা তাদের একটা ব্যবসা ছিল। তারা কী করেছে? তারা টাকা পাচার করেছে।
বাংলাদেশের এখনকার অবস্থা তুলে ধরে জয় বলেন, এখন আমাদের শাইনিং স্টার বলা হচ্ছে। ‘নেক্সট ইলেভেন’ অর্থনীতির দেশের একটি আমরা।
উদ্বাস্তু প্রসঙ্গে ধনী দেশগুলোর সমালোচনা করে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী জয় বলেন, সিরিয়ায় যুদ্ধ বাধিয়ে তারা সেই দেশ থেকে উদ্বাস্তু নিতে চায় না। পাশের দেশের মানুষের সাহায্য করতে চায় না।
অন্যদিকে ছোট দেশ হওয়া সত্ত্বেও আমরা রোহিঙ্গাদের জন্য দরজা খুলে দিয়েছি। কারও কাছে এ জন্য হাত পাতি নাই। ১৭ কোটি মানুষকে খাওয়াতে পারলে এদেরকেও খাওয়াতে পারব।
এ প্রসঙ্গে পদ্মাসেতুতে বিশ্বব্যাংকের অর্থ আটকানোর কথাও বলেন জয়। বিশ্বব্যাংক ভেবেছিল, তারা পদ্মাসেতুতে অর্থ বন্ধ করলে বাংলাদেশ তাদের পা ধরবে, মাফ চাইবে। আজ দেখেন, বাংলাদেশ কোথায় চলে গেছে, কেউ কল্পনাও করতে পারেনি। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় বলেই তা সম্ভবপর হয়েছে বলে মনে করেন তিনি।

বিশ্বব্যাংককে প্রভাবিত করেছিলেন ইউনূস
পদ্মাসেতুতে অর্থায়ন না করতে সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট দলীয় প্রার্থী হিলারি ক্লিনটনের মাধ্যমে ড. ইউনূস বিশ্বব্যাংককে প্রভাবিত করেছিলেন। পদ্মাসেতু নিয়ে যে ষড়যন্ত্রের ফাঁদ পাতা হয় এখন সেই ফাঁদেই তাদের পা আটকে গেছে। তখন বিশ্বব্যাংক যাকে তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করেছিল এখন তার বিরুদ্ধেই দুর্নীতির তদন্ত হচ্ছে। তাই ষড়যন্ত্র যতই করেন না কেন কোনো কিছুতেই পদ্মাসেতু আটকে থাকেনি। নিজেদের টাকায় নির্মিত হচ্ছে স্বপ্নের পদ্মাসেতু।
গত ২৩ অক্টোবর রাজধানীর লেকশোর হোটেলে ‘সুচিন্তা ফাউন্ডেশন’ আয়োজিত ‘রাজনীতিতে সত্য-মিথ্যা : পদ্মাসেতুর অভিজ্ঞতা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় এ কথা বলেন।
বিএনপির নাম উল্লেখ না করে সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, মানুষের ভালোবাসা ছাড়া কোনোদিন ক্ষমতায় যাওয়া যায় না। তাই শত শত মিলিয়ন ডলার কামিয়ে তারা (বিএনপি) ক্ষমতা কিনতে পারেনি। তারা বরাবর ষড়যন্ত্র করেই যাচ্ছে। এখনও তারা সেই ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। বারবার অপপ্রচার চালিয়ে সরকারকে জনগণের কাছে বিতর্কিত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকার দেশের উন্নয়ন করেছে। দেশ ও দেশের জনগণকে ভালোবাসে। তাই কোনো ষড়যন্ত্রই কাজে লাগছে না। আমরা দেশকে অনেক এগিয়ে নিতে পেরেছি। এখন আর আমাদের বিদেশিদের ওপর ভরসা করতে হবে না। আমাদের আত্মবিশ্বাস আছে।
সেমিনারে বক্তব্য রাখেন ইমিরেটাস অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. ফরাসউদ্দিন, কথাসাহিত্যিক ও দৈনিক কালের কণ্ঠের সম্পাদক ইমদাদুল হক মিলন, সুচিন্তা ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন অধ্যাপক এ আরাফাত।
সেমিনারে জয় বলেন, নিজের দেশকে যারা ছোট করে দেখে তারা কখনও দেশের ভালো চায় না। আমাদের দেশে সুশীল সমাজ রয়েছে, তাদের মুখে কোনোদিন শুনেছেন বাংলাদেশের প্রশংসা। শোনেন নি। কারণ তারা নিজের দেশকে নিচে নামাতে পারলেই যেন বড় হয়ে যান। সব সময় তাদের মুখে সমালোচনা শুনবেন। নিজের দেশের প্রতি ভালোবাসা না থাকলে দেশের মানুষের প্রতিও ভালোবাসা থাকে না। আওয়ামী লীগ সরকার দেশকে এমন একটি জায়গায় নিয়ে গেছে যে, আমরা এখন কারও চেয়ে কম নয়। আমরা এখন আত্মনির্ভরশীল জাতি। বিদেশিদের প্রভু মানার দিন শেষ হয়ে গেছে। সরকার দেশে যে পরিমাণ উন্নয়ন কর্মকা- ও জীবনমানের উন্নয়ন করেছে তা আমাদের বারবার বলতে হবে। তারা অপপ্রচার করে সরকারের সব অর্জন ম্লান করার যে চেষ্টা করছে তাতে আমাদের উন্নয়নের কথা বারবার বলতে হবে। এতে তাদের মিথ্যা অপপ্রচার ঢাকা পড়ে যাবে। মিথ্যার মোকাবেলা করতে হলে উন্নয়ন কর্মকা- জোরগলায় তুলে ধরতে হবে। জনগণই সিদ্ধান্ত নেবে কে ভালো আর কে খারাপ। আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়ন কর্মকা- প্রচার শুরু হলে তাদের মিথ্যা কথা কেউ বিশ্বাস করবে না। পদ্মাসেতু নিয়ে ইউনূসকে দিয়ে যে ষড়যন্ত্র করানো হয় তা এখন মিথ্যা প্রমাণ হয়েছে। এ ষড়যন্ত্রের সাথে আমাকেও জড়ানো হয়েছিল। আমেরিকার অ্যাম্বাসি আমাকে দুই বার হুমকি দিয়েছে, তোমার বিরুদ্ধে আমরা অডিট করব। আমি তখন জোরগলায় বলেছি, করো। তবে কিছু পাবে না। সৎ থাকলে জোরগলায় বলা যায় আর অসৎ হলে মাথা নিচু করে থাকতে হয়। পার্থক্যটা এখানেই। এখন সেই আমেরিকা প্রমাণ পেয়েছে পদ্মাসেতু নিয়ে ষড়যন্ত্র হয়েছিল। বিশ্বব্যাংক যাকে তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ দিয়েছিল সেই কর্মকর্তাই এখন দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত। তিনি দুদকের চেয়ারম্যানকে হুকুম দিয়েছিলেন, তৎকালীন যোগাযোগমন্ত্রী আবুল হোসেনকে গ্রেফতার করার। দুদুকের চেয়ারম্যান যেন তার গোলাম। সেই সময় দুদকের চেয়ারম্যান তাকে বলে দিয়েছিলেন, তাদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই। অতএব তাদের গ্রেফতার করা যাবে না।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জয় বলেন, আমরা বিদেশিদের ওপর কখন থেকে নির্ভরশীল হলাম। যখন ’৭৫ সালে সপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়। তখন থেকে আমরা বিদেশিদের গোলাম হয়ে যাই। তারা যা বলে তাই করি। কিন্তু এখন দিন বদল হয়েছে, এখন কিছু বলার আগে সাতবার চিন্তা করতে হয়। আমরা অঙ্ক করে দেখিয়ে দিয়েছি নিজেদের টাকায় কী করে পদ্মাসেতু করতে হয়। তারা নিজেরাই এখন আমাদের দিকে তাকিয়ে থাকে। আওয়ামী লীগ সরকার দেশের মানুষকে ভালোবাসতে জানে। ভালোবাসা দিয়ে আমরা মানুষের মন জয় করতে পেরেছি। কোনো ষড়যন্ত্র করে নয়। তারা (বিএনপি) যখনই কোনো অস্বাভাবিক সরকার আসত তাদের সঙ্গেই ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। এখনও দেশে-বিদেশে তাদের ষড়যন্ত্র থেমে নেই। কিন্তু কোনো লাভ হবে না। ১/১১-র সময়ও তারা ষড়যন্ত্র করেছিল। সেই ষড়যন্ত্রে তারা কিছু করতে পারেনি। আমাদের আত্মবিশ্বাস আছে। দেশের প্রতি ভালোবাসা আছে। তথাকথিত সুশীল সমাজের মতো ভালোবাসা নিয়ে আওয়ামী লীগ সরকার চলে না। দেশ এগিয়ে যাচ্ছেÑ ভবিষ্যতে দেশ আরও এগিয়ে যাবে। আজ যারা উন্নত দেশ একদিন বিশ্ববাসী আমাদেরও সেই সব দেশের সঙ্গে নাম বলবে। দেশ যে এগিয়ে যাচ্ছে তা আওয়ামী লীগ সরকারের প্রতি বছরের বাজেট দেখলেই বোঝা যায়। প্রতিবছর বাজেটের আকার বেড়েই যাচ্ছে। এই বাজেট জনগণের কল্যাণে দেশের উন্নয়নে ব্যয় হচ্ছে।

বাংলাদেশে চালু হলো পেপ্যালের কার্যক্রম
বিশ্বব্যাপী অনলাইন পেমেন্ট সিস্টেম পেপ্যাল বাংলাদেশে চালু হয়েছে। এর ফলে এখন থেকে ফ্রিল্যান্স রেমিট্যান্স উপার্জনকারীরা বিদেশ থেকে ৪০ মিনিটের মধ্যে তাদের পেমেন্ট গ্রহণ করতে পারবেন।
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় গত ১৯ অক্টোবর বাংলাদেশে পেপ্যালের কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। এই সেবার মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিরাও বৈধ চ্যানেলে দেশে রেমিট্যান্স পাঠানোর সুবিধা পাবে।
অনুষ্ঠানে জয় বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানকারী প্রায় ১ কোটি ১৮ লাখ প্রবাসী বাংলাদেশি গত বছরে ১৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স বাংলাদেশে পাঠিয়েছে। বৈধ চ্যানেলের মাধ্যমে দেশে রেমিট্যান্স পাঠানোর সুযোগ সৃষ্টি হওয়ায় এখন দেশে রেমিট্যান্স প্রবাহ আরও বৃদ্ধি পাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। জয় জুম সার্ভিসের প্রশংসা করেন। এতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রত্যেকেই খুব অল্প সময়ের মধ্যে দেশে রেমিট্যান্স পাঠাতে সক্ষম হবে।
জুম কর্মকর্তারা বলেন, রেমিট্যান্সের পরিমাণ ১ হাজার মার্কিন ডলারের বেশি হলে ফ্রিল্যান্সাররা বিনা মূল্যে এই সেবাটি ব্যবহার করতে পারবে। তবে ১ হাজার মার্কিন ডলারের কম হলে সার্ভিস চার্জ হিসাবে ৫ ডলার পরিশোধ করতে হবে।
জুম সার্ভিসের আওতায় যে কেউ এক সময়ে ১০ হাজার ডলার পাঠাতে পারবেন এবং গ্রাহকরা সোনালী ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক এবং সোস্যাল ইসলামী ব্যাংকসহ ৯টি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে এই সেবা নিতে পারবেন।
জয় বলেন, আইসিটি ডিভিশন বিদেশের আউট সোর্সিং সুবিধা লুফে নিতে ১৩ হাজার তরুণকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে। তাদের অনেকেই এখন উপার্জন করছে। তিনি বলেন, সরকার দু-এক বছরের মধ্যে ইন্টারনেট খরচ কমিয়ে দেওয়ার এবং ফ্রিল্যান্সারের দাবি অনুযায়ী উচ্চ গতিসম্পন্ন ও নির্ভরযোগ্য ইন্টারনেট সংযোগ প্রদানের পরিকল্পনা করেছে।
জয় বলেন, ২০০৮ সালে ১ এমবিপিএস ইন্টারনেটের মূল্য ছিল ৮০ হাজার টাকা। আমি বলেছিলাম এটি কমিয়ে ৮০০ টাকা করা হবে এবং আমি সেটি করেছি। বর্তমানে এর রেট হচ্ছে ৬০০ টাকা। তিনি বলেন, সরকার ইন্টারনেট ও সেল ফোন অপারেটরদের অধিকাংশ সমস্যার সমাধান করে দিয়েছে। এ বছরের মধ্যে ফোরজি সার্ভিস চালু করা হবে। এক বছরের মধ্যে অন্তত নগর এলাকায় ফোরজি সার্ভিস চালু করার দাবি ছিল মোবাইল অপারেটরদের। তাদের সমস্যা ছিল ২৪টি। আমি ইতোমধ্যেই ২২টির সমাধান করে দিয়েছি।
অনুষ্ঠানে আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, ডাক টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান ইমরান আহমেদ, বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর ফজলে কবির এবং আইসিটি ডিভিশনের সচিব সুবির কিশোর চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।
তন্ময় আহমেদ

শ্রেণী:

নির্বাচন কমিশনে আওয়ামী লীগের প্রস্তাব

19
19

‘বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন’ পূর্বের যে কোনো সময়ের তুলনায় বর্তমানে সর্বাধিক সক্ষমতা ও দক্ষতার সাথে তাদের দায়িত্ব পালনে সক্ষম হচ্ছে। নির্বাচনে জনমানুষের ভোটাধিকার নিশ্চিতকল্পে দেশরতœ জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার জনগণের কাছে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

গণতন্ত্র ও নির্বাচন : বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ; হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবিসংবাদিত নেতৃত্বে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর মহান মুক্তিযুদ্ধে বিজয় অর্জনের পরপরই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান একটি স্বাধীন দেশের উপযোগী প্রয়োজনীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান সৃজন করতে শুরু করেন। মাত্র ৯ মাসের মধ্যে ‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান’ প্রণয়ন করে দেশ পরিচালনা ও মানুষের অধিকার সংরক্ষণের সকল বিষয়ের সুস্পষ্ট ও বাস্তবসম্মত বিধান নিশ্চিত করেন। এই সংবিধানে Executive, Legislative I Judiciary এমন কী বর্তমান সময়ের Media I Civil Society–সহ প্রতিটি বিভাগের জন্য সুস্পষ্ট দিক-নির্দেশনা সন্নিবেশিত হয়, যার আলোকে পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের সকল সংস্থা গঠিত ও পরিচালিত হতে থাকে।
ক্স বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সময়ই ১৯৭২ সালে প্রণীত The Representation of the People Order-সহ নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনে বিভিন্ন পরিকল্পনা প্রণয়ন ও তা বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়, যার অধীনে ১৯৭৩ সালে সর্বপ্রথম স্বাধীন বাংলাদেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
এই সময়ের মধ্যেই ধারাবাহিকভাবে দেশের প্রায় সকল প্রতিষ্ঠান সুসংগঠিত হয়ে উঠতে শুরু করে। গণতন্ত্র, সুশাসন ও উন্নয়নের প্রতিটি পর্যায়ে কাক্সিক্ষত পরিবর্তন ঘটতে থাকে। কিন্তু হঠাৎ করেই ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট স্বাধীনতাযুদ্ধে পরাজিত অপশক্তি ও তাদের এ দেশীয় দোসররা গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে তার পরিবারের অধিকাংশ সদস্যসহ রাতের আঁধারে নির্মমভাবে হত্যা করে। স্তব্ধ হয়ে যায় বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রা। খুনিচক্রের এই ভয়াবহতম নৃশংসতায় বাংলাদেশের স্বাধীনতাকামী সকল মানুষ বাকরুদ্ধ ও হতভম্ব হয়ে পড়েন।
ক্স এই হত্যাকা-ের অল্প কিছুদিনের মধ্যেই, হত্যা, ক্যু ও ষড়যন্ত্রের হোতা মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান ও সেনা আইন লঙ্ঘন করে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে অবৈধভাবে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল করে নিজেকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে ঘোষণা করেন। বাংলাদেশের সংবিধান ও সকল প্রতিষ্ঠানের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা ধ্বংস করে দেন। শুরু হয় স্বৈরশাসনের।
এই স্বৈরশাসক তার অবৈধ ক্ষমতা দখলকে বৈধতা দেয়ার অভিপ্রায়ে ১৯৭৭ সালের ৩০ মে হ্যাঁ/না ভোটের আয়োজন করেন এবং তার পক্ষে হ্যাঁ ভোট প্রদানের সকল আয়োজন সম্পন্ন করেন। জনগণের ভোটাধিকার হরণ করে তার নিয়োজিত সন্ত্রাসী বাহিনী নির্বিচারে ব্যালট পেপারে সিল মেরে ব্যালট বাক্স ভরে তোলে। প্রহসনের এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে সাধারণ মানুষ যেমন তাদের ভোটাধিকার হারিয়ে ফেলেন অপরদিকে সকল গণতান্ত্রিক পরিবেশ বিনষ্ট হয়ে যায়। এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকে ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত যখন জিয়াউর রহমানের পদাঙ্ক অনুসরণ করে ক্ষমতা দখলকারী অপর স্বৈরশাসক হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদের শাসনকালের অবসান ঘটে।
১৯৮১-৯১ সাল পর্যন্ত জননেত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের আপামর জনসাধারণকে সঙ্গে নিয়ে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে ও প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার যে সংগ্রাম করে আসছিলেন স্বৈরশাসনের অবসানের মধ্য দিয়ে তার প্রাথমিক বিজয় অর্জিত হয়। জাতীয় সংসদে আইন প্রণয়নের মাধ্যমে সরকার পরিচালনায় রাষ্ট্রপতি শাসিত শাসন ব্যবস্থা থেকে সংসদীয় গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে প্রত্যাবর্তন ঘটে। ভোটার তালিকা হালনাগাদসহ নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনে বিভিন্ন প্রক্রিয়া শুরু হলেও এর কার্যকর প্রতিফলন ঘটতে শুরু করে ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় হতে।
এখানে বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে, ১৯৯১ সালে গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার পুনঃপ্রবর্তনের পর সাবেক স্বৈরাচারের রাজনৈতিক দল বিএনপি, বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বাংলাদেশ ও মুক্তিযুদ্ধবিরোধী রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলামীর সমর্থনে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা কুক্ষিগত করতে সক্ষম হয়। জনমানুষের নির্বিঘœ ও নিরাপদে ভোটাধিকার প্রয়োগের পথে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে তারা নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে ক্ষমতাসীন হয়। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়েই বেগম খালেদা জিয়া তার স্বামী স্বৈরশাসক জিয়াউর রহমান এবং এরশাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে নির্বাচন প্রক্রিয়াকে আবারও কলুষিত করে তোলেন। মানুষের মত প্রকাশের স্বাধীনতা হরণ করা হয়।
ক্স ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য ঢাকা (মিরপুর ও তেজগাঁও) ও মাগুরার উপনির্বাচনে এবং ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত সকল রাজনৈতিক দল কর্তৃক বর্জিত ও ভোটারবিহীন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যে নজিরবিহীন কারচুপি ও অন্যায় সংঘটিত হয় তা বাংলাদেশের নির্বাচনের ইতিহাসে এক কলঙ্কিত অধ্যায়ের সূচনা করে।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগসহ প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দল কর্তৃক বর্জিত ও ভোটারবিহীন এই অবৈধ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বিএনপি-জামায়াত জোট সম্পূর্ণ অগণতান্ত্রিক উপায়ে ক্ষমতা দখল করে এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আত্মস্বীকৃত খুনিদের রাজনৈতিক দল (যা বিএনপির পৃষ্ঠপোষকতায় গঠিত) ‘ফ্রিডম পার্টি’কে জাতীয় সংসদের বিরোধী দলের আসনে বসায়। এই অবস্থার মধ্য দিয়ে বিএনপি নির্বাচন ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থার সকল কিছুই ধ্বংস করে দেয়। ফুঁসে ওঠে বাংলাদেশের মুক্তিকামী জনগণ। জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের সম্মিলিত আন্দোলনের ফলে বেগম খালেদা জিয়া ৩০ মার্চ ১৯৯৬ ক্ষমতা থেকে বিদায় নিয়ে পুনরায় জাতীয় সংসদ নির্বাচন দিতে বাধ্য হন।
১৯৯৬ সালের ১২ জুন অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে দীর্ঘ ২১ বছর পর বঙ্গবন্ধু-কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বভার গ্রহণ করে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পর এই প্রথম দেশ পরিচালনায় বঙ্গবন্ধু এবং মুক্তিযুদ্ধের আদর্শকে প্রাধান্য দিয়ে রাষ্ট্রযন্ত্রের সকল স্তরের কার্যকর পুনর্গঠন শুরু হয়।
একটি স্থায়ী ও স্বাধীন নির্বাচন কমিশন গঠনের মাধ্যমে নির্বাচন ব্যবস্থাপনার গুণগত পরিবর্তন আনয়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। কিন্তু দীর্ঘদিনের অপশাসনের প্রতিবন্ধকতা অপসারণ করে সম্মুখ পথে অগ্রসর হওয়া ছিল খুবই কষ্টকর। স্বাধীনতা-বিরোধী পরাজিত শক্তির যড়যন্ত্রের ফলে ২০০১-এর জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি পুনরায় ক্ষমতায় এসে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কর্তৃক গৃহীত সকল উদ্যোগ বন্ধ করে দিয়ে দেশকে আবারও পিছন দিকে ঠেলে দেয়।
২০০১ সালের ১ অক্টোবরে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে পরাজিত করার জন্য পরিকল্পিত উপায়ে রাষ্ট্রের বিভিন্ন সংস্থাকে ব্যবহার করে একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের পক্ষে অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়। এ সময় নির্বিচারে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে সমর্থন করে এমন সকল ভোটার বিশেষত ধর্মীয় সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর এক নারকীয় তা-ব চালানো হয়। বাংলাদেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে অসংখ্য মামলা দিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতায় তাদের নির্বাচনী এলাকা থেকে বিতাড়িত করা হয়। অনেক নেতাকর্মীকে পঙ্গু এবং মারাত্মকভাবে জখম ও হত্যা করা হয়। অন্যায়ভাবে গ্রেফতার ও নির্যাতনের মধ্য দিয়ে একদিকে যেমন জনমনে ব্যাপক ভীতির সঞ্চার করা হয়, অপরদিকে প্রত্যক্ষ/পরোক্ষভাবে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে সমর্থন করে এমন ব্যক্তিদের ভোটকেন্দ্রে যেতে নিষেধ করা হয়।
নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে কেবলমাত্র ‘নৌকা’ প্রতীকে ভোট দেয়ার অপরাধে, ক্ষেত্রবিশেষে শুধুমাত্র সন্দেহের বশবর্তী হয়ে বিএনপি-জামাত জোট ক্ষমতায় গিয়ে সিরাজগঞ্জ, পাবনা, রাজশাহী, বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী এবং সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, যশোর, খুলনাসহ দেশের প্রায় সকল জেলায় ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্যসহ আওয়ামী নেতা-কর্মীদের ওপর এক বিভীষিকাময় সন্ত্রাসী কর্মকা- পরিচালনা করে।
ক্স  এ সময় শিশু পূর্ণিমা, রাজুফা, ফাতেমা, মাহিমাসহ অগণিত নারী ও শিশুকে ধর্ষণ করা হয়। ‘অপারেশন ক্লিনহার্ট’-এর নামে সেনাবাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ব্যবহার করে আওয়ামী লীগকে সমর্থন করে এমন জনমানুষের ওপর নির্বিচারে অত্যাচার ও অনেককে বিনাবিচারে হত্যা করা হয়।
২০১০ সালে মহামান্য আদালতের নির্দেশনায় বিএনপি-জামাত কর্তৃক পরিচালিত নারকীয় তা-বের বিষয়ে তদন্ত করে দেখার জন্য একটি বিশেষ বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন গঠন করা হয়। তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা যায়Ñ
ক্স ২০০১ সালের ১ অক্টোবরে অনুষ্ঠিত নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে বিএনপি-জামাতের চারদলীয় জোটের সন্ত্রাসী দ্বারা ৪৩ জেলায় ৬২টি স্থানে ৩৪২ জন শিশুকে ধর্ষণ, নির্বিচারে গণধর্ষণ, লুণ্ঠন, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, হামলার মতো ভয়াবহ ঘটনা ঘটে। অধিকাংশ জায়গায় নারী ও শিশু কন্যাদের টার্গেট করে হামলা চালানো হয় এবং জমি, বসতবাড়ি ও দোকানসহ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দখল করে নেয়া হয়।
ক্স বাগেরহাটের ফকিরহাটে বাবা-মা’র সামনে ১৩ বছরের একটি মেয়েকে ২২ জন ধর্ষণ করে হত্যা করে। কত বীভৎস ও পাশবিক হতে পারে তাদের নির্মমতা, তা এই একটি ঘটনার মধ্য দিয়েই ফুটে ওঠে।
তদন্ত কমিশন অনুসন্ধানকালে ৩ হাজার ৬২৫টি ঘটনার সত্যতা পায়, যার মধ্যে ৩৫৫টি খুন এবং ৩ হাজারের ওপর ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ ও লুটের ঘটনা রয়েছে। বিএনপি-জামাতের এই বর্বরতা তাদের অবশিষ্ট শাসনকালেও অব্যাহত থাকে। ২০০৩-০৬ পর্যন্ত প্রায় ১৪ হাজার সহিংসতার ঘটনা ঘটে। ২০০১ সালের ১ অক্টোবরের নির্বাচনে সীমাহীন কারচুপি ও নির্বাচন-পরবর্তী পৈশাচিকতার বিষয়ে “A Rigged Election and an Illegitimate Government (Bangladesh Election 2001)Ó Ges ” এবং “Valley of Death”-সহ অনেক গ্রন্থে এর মর্মস্পর্শী বিবরণ রয়েছে, যা ঐ সময়কার বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ব্যাপক প্রচারিত হয়।
ক্স কার্যত প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা না থাকায় তৎকালীন নির্বাচন কমিশন নির্বাচনের পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সময়ে জনমানুষকে এই নির্যাতন থেকে রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়।
ক্স ২০০১-০৬ মেয়াদে বিএনপি-জামাত জোটের শাসনকালে একদিকে যেমন সারাদেশে ‘বাংলাভাই’-এর নেতৃত্বে জঙ্গিবাদ ও উগ্র সাম্প্রদায়িকতা তার স্বরূপে আবির্ভূত হয়, অপরদিকে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক জিয়ার নেতৃত্বাধীন হাওয়া ভবনকেন্দ্রিক দুর্নীতি ও দুঃশাসনের কালো ছায়ায় বাংলাদেশ প্রায় একটি অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত হয়। ২০০১ সালের ন্যায় কারচুপির মাধ্যমে পরবর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে ক্ষমতায় আসার জন্য প্রায় ১ কোটি ২৩ লাখ ভুয়া ভোটার দিয়ে বিএনপি-জামাত জোট যে ভোটার তালিকা তৈরি করে তা ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসে এক নিকৃষ্ট প্রহসন।
ক্স এমনকি মিয়ানমারের নাগরিক রোহিঙ্গাদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে এবং ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের চিহ্নিত ব্যক্তিদের বিশেষ উদ্দেশে জেলা ও উপজেলা নির্বাচন অফিসার হিসেবে নিয়োগ প্রদানসহ রাষ্ট্রযন্ত্রের চরম অপব্যবহার করে বাংলাদেশের সামগ্রিক নির্বাচন ব্যবস্থাকেই বিনষ্ট করে দেয়া হয়।
কিন্তু, আবারও ব্যাপক গণ-আন্দোলনের মুখে ২০০৬ সালে বিএনপি-জামাত জোটের পতন ঘটে এবং সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসীন হয়।
এখানে বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে, বিএনপি-জামাত জোটের শাসনকালে (২০০১-০৬) নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কারের আন্দোলন যখন তুঙ্গে তখন আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ১৪ দল এবং মহাজোটের অন্যান্য শরিক দল নির্বাচন কমিশন ও নির্বাচনী ব্যবস্থা সংস্কারের লক্ষ্যে একটি অভিন্ন রূপরেখা ঘোষণা করেন। এই রূপরেখায় নির্বাচন কমিশনকে স্বাধীন ও কার্যকর প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা এবং নির্বাচনী আইন ও বিধানের প্রয়োজনীয় সংস্কারের লক্ষ্যে মোট ৩০ দফা সুপারিশ করা হয়।
এই সব প্রস্তাব সকল প্রচার মাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রকাশিত ও আলোচিত হয়। প্রস্তাবসমূহের প্রতি দেশপ্রেমিক সকল নাগরিক ও সুশীল সমাজ অকুণ্ঠ সমর্থন জ্ঞাপন করেন। জনগণের দাবির মুখে তৎকালীন বিএনপি-জামাত জোট সরকার, জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বিরোধী দলকে জাতীয় সংসদে প্রস্তাব পেশ করতে আহ্বান জানান। সেই আহ্বানে সাড়া দিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনা জাতীয় সংসদে প্রস্তাবগুলি উত্থাপন করেন। তারপর সুদীর্ঘ সময় সরকার নানা কূটকৌশলের মাধ্যমে কালক্ষেপণ করতে থাকে এবং তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া, বিএনপির মহাসচিব এবং তাদের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ বিভিন্ন সময়ে পরস্পর বিরোধী বক্তব্য দিয়ে জনমতকে বিভ্রান্ত করার সব রকম প্রচেষ্টা চালান। কিন্তু দেশি-বিদেশি সকল চাপ উপেক্ষা করতে না পেরে একপর্যায়ে তারা আলোচনায় বসতে সম্মত হলেও আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ১৪ দল কর্তৃক উপস্থাপিত দাবিসমূহের প্রতি কোনোরূপ ভ্রুক্ষেপই করেন নি। কারণ তারা জানতেন, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে তাদের পরাজয় অবশ্যম্ভাবী।
ক্স ১৪ দল কর্তৃক উপস্থাপিত প্রস্তাবগুলো ছিল অত্যন্ত বাস্তবসম্মত ও যুক্তিযুক্ত, যাকে প্রধান ৩টি ভাগে ভাগ করা যায়Ñ
(১) নির্বাচনকালীন সরকারের কাঠামোগত বিষয়
(২) নির্বাচনের পদ্ধতিগত ও বিধিবিধানের বিষয় এবং
(৩) নির্বাচনকালীন অন্যান্য বিষয়াবলী। কিন্তু, জনরোষের মুখে ২০০৬ সালে ক্ষমতা থেকে বিদায় নেয়ার পূর্ব পর্যন্ত নির্বাচন ব্যবস্থার সংস্কারে বিএনপি-জামাত জোটের এই অনীহা অব্যাহত থাকে।
অবশেষে, সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে প্রবল জনমতের চাপে একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের স্বার্থে ১৪ দল উপস্থাপিত দাবিসমূহকে সক্রিয় বিবেচনায় নেয়া হয়। এ সময় আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দল কর্তৃক পূর্বে প্রদত্ত ৩০ দফাকে আরও পরিশীলিত করে সর্বমোট ২৩ দফা দাবি উপস্থাপন করা হয়।
ক্স বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ২৩ দফার ওপর ভিত্তি করেই ছবিযুক্ত ভোটার তালিকা, স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সের প্রচলন নির্বাচনে পেশিশক্তি ও অর্থের ব্যবহার বন্ধ; নির্বাচনে অংশগ্রহণেচ্ছুক প্রার্থীর সম্পদের বিবরণী প্রকাশ, চাকরি থেকে অবসর গ্রহণের পরপরই প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের পথ বন্ধ করা, তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের মাধ্যমে সম্ভাব্য জনপ্রতিনিধির তালিকা প্রণয়ন এবং সেখান থেকে মনোনয়ন প্রদান, প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের মধ্য থেকে নির্বাচন পরিচালনার জন্য প্রিজাইডিং ও পোলিং অফিসার নিয়োগসহ যে যে প্রক্রিয়ায় একটি নির্বাচন কলুষিত হতে পারে তার বিভিন্ন সংস্কার সাধন করা হয়। বিএনপি-জামাত জোটের নির্দেশনায় প্রণীত ভৌতিক ভোটার তালিকা হতে ১ কোটি ২৩ লাখ ভুয়া ভোটার বাদ দেয়া হয়।
২০০৮ সালের ডিসেম্বরে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে জয়যুক্ত হয়ে পুনরায় রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বভার গ্রহণ করে। শুরু হয় নতুন দিনের পথ চলা। ১৯৭১-৭৫ এবং ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদে বাংলাদেশের সামগ্রিক উন্নয়নে যে সকল জনমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছিল তা পুনরায় প্রাণ ফিরে পায়। ‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানকে’ স্বরূপে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়। নির্বাচন কমিশন, বিচার বিভাগ, আইন সভা ও নির্বাহী বিভাগসহ সকল স্তরে প্রাতিষ্ঠানিক উন্নতি সাধনে ব্যাপক কর্মপরিকল্পনা গৃহীত ও বাস্তবায়িত হতে শুরু করে।
ক্স ইতোমধ্যে একটি স্বাধীন নির্বাচন কমিশন, নির্বাচন কমিশনের জন্য স্থায়ী সচিবালয় এবং নির্বাচন কমিশনের জন্য আর্থিক স্বাধীনতা সুনিশ্চিত করা হয়েছে। নির্বাচন প্রক্রিয়ায় সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও আধুনিকায়ন নিশ্চিত করা হয়েছে এবং সময়ে সময়ে প্রয়োজনমতো সকল ধরনের সংস্কার সাধন করা হচ্ছে। অর্থাৎ, এক কথায় একটি স্বাধীন নির্বাচন কমিশন প্রতিষ্ঠার জন্য যা যা করা দরকার তার প্রায় সকল কিছুই পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
এমন কী সার্চ কমিটির মাধ্যমে সর্বজন গ্রাহ্য ব্যক্তিদের মহামান্য রাষ্ট্রপতি কর্তৃক সংবিধান অনুযায়ী প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনার পদে নিয়োগদানের প্রক্রিয়া গৃহীত হয়েছে। একটি বিষয় উল্লেখ না করলেই নয়, আজ পর্যন্ত বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশনের সংস্কার এবং নির্বাচন প্রক্রিয়ার উন্নয়নে যে সকল গুণগত পরিবর্তন এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গৃহীত হয়েছে, তার প্রায় সবগুলোই সম্পন্ন হয়েছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কর্তৃক দেশ পরিচালনার সময়ে।
১৯৭২ সালের ঞযব জবঢ়ৎবংবহঃধঃরড়হ ড়ভ ঃযব চবড়ঢ়ষব ঙৎফবৎ (নির্বাচন কমিশন এবং নির্বাচন প্রক্রিয়া ও ব্যবস্থাপনার মূল ভিত্তি হিসেবে পরিগণিত) প্রণীত হওয়ার পর দীর্ঘ সময়ে নির্বাচন সংক্রান্ত ২-৩টি অধ্যাদেশ/আইন প্রণয়ন করা হলেও প্রয়োজনীয় সকল আইন বা অধ্যাদেশই আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০০৯-১৬ এই সময়ের মাঝে সম্পাদিত হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে জাতীয় ও স্থানীয় সরকার নির্বাচন সংক্রান্ত প্রায় ৩২টি অধ্যাদেশ/আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। আর এ সকল কিছুরই একমাত্র লক্ষ্য হচ্ছে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠান করা; অর্থাৎ সংবিধান অনুযায়ী মানুষের ভোটাধিকার সুনিশ্চিত করা।
২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে নির্বাচনে আগ্রহী বাংলাদেশের সকল রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে যাতে একটি অবাধ, নিরপেক্ষ ও সকলের নিকট গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, সে লক্ষ্যে একদিকে যেমন পৃথিবীর অন্যান্য গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের ন্যায় নির্বাচন কমিশনের প্রয়োজনীয় সকল ক্ষমতা ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হয় অপরদিকে নির্বাচনকালীন সময়ের জন্য (তফসিল ঘোষণার সময় হতে) ব্যতিক্রমীভাবে বাংলাদেশে জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী সকল দলের অংশগ্রহণে একটি ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকার’ গঠন করার উদ্যোগ নেয়া হয়। কিন্তু জননেত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক বারবার আহ্বান জানানো সত্ত্বেও তৎকালীন বিরোধী দল বিএনপি-জামাত জোট উক্ত সরকারে বা নির্বাচনে অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকে।
ক্স নির্বাচনে সকল দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার জন্য তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা স্বয়ং ঐ সময়ের বিরোধী দলের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে নির্বাচন ও নির্বাচনকালীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ জানান, এমনকি তাদের পছন্দনীয় নির্বাহী বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব অর্পণেরও প্রস্তাব করা হয়। কিন্তু বিএনপি-জামাত জোট নেত্রী গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান ও দেশের বিরাজমান সকল আইন-কানুনের প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শন করে জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের পদত্যাগ দাবি করেন।
বিএনপি-জামাতের এই অশুভ জোট নির্বাচন বা নির্বাচনকালীন সরকারে অংশগ্রহণের পরিবর্তে নির্বাচন প্রতিহত করার নামে সারাদেশে এক নজিরবিহীন সন্ত্রাসী কর্মকা-ে মেতে ওঠে। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে ভূলুণ্ঠিত করার অভিপ্রায়ে তারা একদিকে যেমন নির্বাচনী কেন্দ্রে অগ্নিসংযোগ করে অপরদিকে গণপরিবহন, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ মানুষের যানবাহন ঘরবাড়িসহ বিভিন্ন স্থাপনায় পেট্রল বোমা মেরে অগ্নিসংযোগের মাধ্যমে সারাদেশে এক বিভীষিকাময় পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। এমনকি সরাসরি গণমানুষকে লক্ষ করে পেট্রল বোমা নিক্ষেপ করে; যার ফলে বহু মানুষ নির্মমভাবে মৃত্যুবরণ করে ও অসংখ্য মানুষ মারাত্মকভাবে অগ্নিদগ্ধ হয়ে পঙ্গুত্ববরণ করেছে। দেশি-বিদেশি নানা ধরনের অস্ত্র ও লাঠিসোটা নিয়ে তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যসহ সাধারণ মানুষের ওপর নির্বিচারে আক্রমণ চালায়।
বিএনপি-জামাত জোট এবং তাদের পূর্বসূরি স্বৈরশাসকদের শাসনকাল পর্যালোচনা করলে একটি বিষয় সহজেই পরিস্ফুট হয়ে ওঠে, এই অপশক্তি কখনোই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় বিশ্বাসী নয়।
ক্স বিএনপি ও জামাতের সমর্থন ও প্ররোচনায় ২০১৩ সালে হেফাজতিদের তা-ব, নির্বাচিত সরকার পতনের নীল নকশা; ২০১৪ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ভ-ুল করে গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রা রুদ্ধ করার অপচেষ্টা এবং ২০১৫ সালের পেট্রল বোমা মেরে মানুষ পুড়িয়ে ও অর্থ-সম্পদ ধ্বংস করে বাংলাদেশের সামগ্রিক উন্নয়নকে থামিয়ে দেয়া, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কাজকে ভ-ুল করা, গণতন্ত্র ধ্বংস এবং জনগণের ম্যান্ডেটের পরিবর্তে অন্য কোনো অবৈধ প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল করে জনগণের সহায় সম্পদ লুণ্ঠন করাই এই জোটের প্রধান লক্ষ্য।
জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের আলোকে গণতন্ত্র ও জনমানুষের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে অঙ্গীকারাবদ্ধ। পূর্বেই উল্লেখ করা হয়েছে, প্রতিবেশী বিভিন্ন গণতান্ত্রিক দেশসহ পৃথিবীর অন্যান্য গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের ন্যায় বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশনকে প্রয়োজনীয় ক্ষমতা ও আইনের মাধ্যমে একটি কার্যকর নির্বাচন কমিশনে পরিণত করা হয়েছে। সার্চ কমিটির মাধ্যমে নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠনের বিধান করা হয়েছে। এতদ্সত্ত্বেও যদি কোনো গোষ্ঠী বা সংস্থা দেশের সংবিধান বা বিরাজমান আইন-কানুনের বাইরে গিয়ে অন্য কোনো পন্থায় রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখলের ষড়যন্ত্রে মেতে ওঠে তা দেশের শান্তিকামী জনগণ কখনই মেনে নিবে না।

সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন
স্বাধীনতার পর হতে বিভিন্ন সময়ে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশের নির্বাচনের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, বেগম খালেদা জিয়া ও তার পূর্বসূরি স্বৈরশাসক এরশাদ ও জিয়াউর রহমানের শাসনকালে নানাভাবে সমগ্র নির্বাচন প্রক্রিয়াকে বারবার কলুষিত করা হয়েছে। এমনকি অবৈধভাবে ক্যান্টনমেন্টে জন্ম নেয়া বিএনপি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বঘোষিত খুনিদের দিয়ে রাজনৈতিক দল সৃষ্টি করে সেই রাজনৈতিক দলকে নিয়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচন করে তাকে জাতীয় সংসদের বিরোধী দলের আসনে বসায়। বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী জামায়াত-ই-ইসলামী এবং বঙ্গবন্ধুর স্বঘোষিত খুনিদের রাজনৈতিক দল ফ্রিডম পার্টির হাতে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা তুলে দিয়ে, শুধু যে নির্বাচন ব্যবস্থারই ধ্বংস সাধন করা হয়েছিল তাই নয়, এই অপশক্তি বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকেই নস্যাৎ করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছিল।
একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য যে সকল বিষয়গুলি অতীব গুরুত্বপূর্ণ তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছেÑ
১. একটি স্বাধীন ও কার্যকর নির্বাচন কমিশন গঠন।
২. নির্বাচনকালীন সময়ে নির্বাহী বিভাগের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়/সংস্থার দায়িত্বশীলতা।
৩. নির্বাচন কমিশন সচিবালয় ও এর মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা/কর্মচারীদের দায়িত্বশীল ও নিরপেক্ষ আচরণ।
৪. ছবিযুক্ত একটি নির্ভুল ভোটার তালিকা এবং ভোট গ্রহণের দিন নির্বাচন কেন্দ্রের সার্বিক নিরাপত্তা।
৫. নির্বাচন পরিচালনায় বেসরকারি সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা/কর্মচারীদের পরিবর্তে কেবলমাত্র প্রজাতন্ত্রের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা/কর্মচারীদের প্রিজাইডিং অফিসার/সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার/পোলিং অফিসার পদে নিয়োগ করা।
৬. আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত সদস্যদের নিরপেক্ষ ও দায়িত্বশীল আচরণ।
৭. দেশি/বিদেশি পর্যবেক্ষক থেকে শুরু করে মিডিয়া ও সিভিল সোসাইটির সদস্যদের নির্মোহ তৎপরতা।
৮. নির্বাচনে পেশিশক্তি ও অর্থের প্রয়োগ বন্ধ এবং ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়সহ সকল পর্যায়ের ভোটারের অবাধ ভোটদানের সুযোগ নিশ্চিত করা।
৯. নির্বাচনের পূর্বে ও পরে এবং নির্বাচনের দিন ভোটারসহ সর্বসাধারণের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
১০. নির্বাচনকালীন সময়ে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ নির্বাচন পরিচালনার জন্য আবশ্যকীয় সকল সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানকে নির্বাচন কমিশনের তত্ত্বাবধানে ন্যস্ত করা। এবং
১১. নির্বাচনকালীন সরকারের কর্মপরিধি কেবলমাত্র আবশ্যকীয় দৈনন্দিন (রুটিন) কার্যাবলীর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা।
ওপরে বর্ণিত বিষয়সমূহ তখনই সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্পাদিত হতে পারে যখন প্রতিটি সংস্থা তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথ পালন করবে।
সুষ্ঠু নির্বাচন প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রযন্ত্রের কার্যকর ভূমিকার পাশাপাশি নির্বাচন প্রত্যাশী সম্ভাব্য জনপ্রতিনিধি নির্বাচন (ঝবষবপঃরড়হ) করার ক্ষেত্রেও নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলসমূহের গণতান্ত্রিক ও দায়িত্বশীল আচরণও খুবই জরুরি। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দৃষ্টান্ত অনুসরণযোগ্য।
ক্স বাংলাদেশ আওয়ামী লীগই সর্বপ্রথম ২০০৮-এর নির্বাচনে তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের ভোটের মাধ্যমে জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণে আগ্রহী প্রার্থীদের বাছাই করে পরবর্তীতে নির্বাচন পরিচালনার জন্য সংগঠনের দায়িত্বপ্রাপ্ত জাতীয় নির্বাচনী বোর্ডের মাধ্যমে প্রার্থী চূড়ান্ত করে। প্রায় ১০ (দশ) লক্ষ নেতাকর্মী এই প্রক্রিয়ায় শামিল হয়ে তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করেন।
২০০৯ থেকে ২০১৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এবং বিভিন্ন সময়ে অনুষ্ঠিত স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও প্রার্থী বাছাইয়ের এই ধারা অব্যাহত থাকে। ২০১৯ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও প্রার্থী বাছাইয়ের এই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ বদ্ধ পরিকর।
নির্বাচন প্রক্রিয়ার আর একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল কর্তৃক নিয়োজিত পোলিং এজেন্টদের ভূমিকা। নির্বাচন সংক্রান্ত বিষয়ে পোলিং এজেন্টদের উপযুক্ত প্রশিক্ষণ থাকলে এবং সংশ্লিষ্ট নির্বাচন কেন্দ্রের ভোটারদের মধ্য থেকে পোলিং এজেন্ট নিয়োগ করা হলে নির্বাচনে জাল ভোট প্রয়োগের প্রবণতা প্রায় বন্ধ করা সম্ভব। বিভিন্ন সময়ে লক্ষ্য করা গেছে প্রধান দুই/একটি রাজনৈতিক দল ব্যতীত অন্যান্য রাজনৈতিক দলের পোলিং এজেন্টগণ হয় নির্বাচন কেন্দ্রে যান না অথবা নির্বাচন শুরু হওয়ার ২/১ ঘণ্টার মধ্যেই নির্বাচন কেন্দ্রের বাইরে এসে মনগড়া বিভিন্ন গুজব ছড়াতে থাকে। এ লক্ষ্যে যদিও নির্বাচন আচরণ বিধিমালা প্রণীত হয়েছে, তথাপি সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য রাজনৈতিক দল কর্তৃক নিয়োজিত পোলিং এজেন্ট নিয়োগের ক্ষেত্রে সর্বাধিক সর্তক হওয়া আবশ্যক।
সুষ্ঠু, অবাধ ও সর্বজনগ্রাহ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে নির্বাচনী ব্যবস্থার প্রয়োজনীয় সংস্কার এবং নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা ও সক্ষমতা। এই দুটি বিষয়কে পরিপূর্ণতা দেওয়ার জন্যই বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার ২০০৯ সালে দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই নানাবিধ পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করে চলেছেন, যার সুফল আজকের নির্বাচন কমিশন।
ছবিযুক্ত ভোটার তালিকা প্রণয়ন, স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স ও ই-ভোটিং এর প্রবর্তন, নির্বাচনে অর্থ ও পেশিশক্তির ব্যবহার রোধে নানাবিধ আইন ও বিধি প্রণয়ন, নির্বাচনী আচরণ বিধিমালা তৈরি, তৃণমূলের ভোটের মাধ্যমে প্রার্থী বাছাই, দেয়াল লিখন ও রঙিন পোস্টারের পরিবর্তে সাদা-কালো পোস্টারের প্রবর্তন, নির্বাচন কমিশন সচিবালয় স্থাপন এবং নির্বাচন কমিশনকেই তাদের নিজস্ব জনবল নিয়োগের ক্ষমতা অর্পণ, প্রয়োজনীয় আর্থিক তহবিল প্রদান, সাধারণ প্রশাসনের ওপর নির্বাচনকালীন সময়ে নির্বাচন কমিশনের তত্ত্বাবধান, নির্বাচনী অপরাধ প্রতিরোধে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ও জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে পর্যাপ্ত সংখ্যক ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, এবং যানবাহনের নিয়ন্ত্রণসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সামগ্রিক নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় যে দৃশ্যমান উন্নতি সাধিত হয়েছে তার সকল কিছুর মূলে রয়েছে আওয়ামী লীগ কর্তৃক উপস্থাপিত ২৩ দফা। এমনকি বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সাংবিধানিক পদের অধিকারীদের সমন্বয়ে সার্চ কমিটির মাধ্যমে ইলেকশন কমিশনের প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগ দেয়া হয়েছে।
‘বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন’ পূর্বের যে কোনো সময়ের তুলনায় বর্তমানে সর্বাধিক সক্ষমতা ও দক্ষতার সাথে তাদের দায়িত্ব পালনে সক্ষম হচ্ছে। নির্বাচনে জনমানুষের ভোটাধিকার নিশ্চিতকল্পে দেশরতœ জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার জনগণের কাছে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

তারিখ : ১৮ অক্টোবর ২০১৭, বুধবার, সকাল ১১টা

শ্রেণী: