বাংলাদেশ ছাত্রলীগ : ৭০ বছরের অপ্রতিরোধ্য অভিযাত্রা

Posted on by 0 comment
5-7-2018 7-06-57 PM

5-7-2018 7-06-57 PMমুহম্মদ শফিকুর রহমান: তারুণ্যই পারে মানুষের লড়াইর নেতৃত্ব দিয়ে বিশ্বজয় করতে। বাংলাদেশ ছাত্রলীগ সেই তারুণ্যেরই প্রতীক। সত্য সুন্দরের অভিযাত্রী। অপ্রতিরোধ্য। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বলতেন “ছাত্রলীগের ইতিহাস বাংলাদেশের ইতিহাস, বাংলাদেশের ইতিহাস ছাত্রলীগের ইতিহাস।” এ ইতিহাস রচিত হয়েছে বঙ্গবন্ধুর নির্দেশিত পথে, ৭০ বছর লড়াই করে। অকুতোভয় আত্মবলিদানের মাধ্যমে।
বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া ছাত্রলীগ আজ এক বিশাল সংগঠন। বাংলার এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্ত পর্যন্ত এর বিস্তার। বিরাট কর্মযজ্ঞ। ১৯৪৭ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্র্যাজুয়েশন ডিগ্রি লাভ করার পর বঙ্গবন্ধু কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি না হয়ে ঢাকায় ফিরে আসেন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এলএলবি প্রথম পর্বে ভর্তি হন। ঢাকায় ফিরে আসার প্রধান কারণ ছিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব বিশ্বাস করতেন নেতাজীÑ শেরে বাংলাদের সাইডলাইনে পাঠিয়ে মুহম্মদ আলী জিন্নাহ, জওহরলাল নেহেরু, মহাত্মা গান্ধী, লর্ড মাউন্ট ব্যাটনরা যেভাবে ভারতবর্ষ ভাগ করে পাকিস্তান নামে যে অবাস্তব রাষ্ট্র বানিয়ে দিল তা বাঙালির জন্যে নয়। ১২০০ মাইলের ব্যবধানে দুই ভিন্ন ভাষা, সংস্কৃতি, অর্থনীতির দুই দেশ, এক অবাস্তব রাষ্ট্র। এটি টিকে থাকতে পারে না। তিনি তার বন্ধুদেরও বলেছিলেন, যে পাকিস্তানের জন্ম হলো তা আমাদের জন্য নয়, আমাদের আবার লড়াই করে আপন জাতি-রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে। তাই ঢাকায় ফিরে যাচ্ছি।
তারুণ্যের শক্তি অজেয় অপ্রতিরোধ্য। তাদের পিছুটান নেই। বঙ্গবন্ধু নিজেও তখন তরুণ, কাজেই তরুণদের সংগঠন দরকার। তিনি তরুণদের সংগঠিত করতে থাকলেন এবং ঢাকায় ফিরে আসার ছয় মাসের মাথায় ১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি ছাত্রলীগ প্রতিষ্ঠা করেন। প্রথম দিকে অবশ্য মুসলিম শব্দটি ছিল। পরে তা বাদ দেওয়া হয়। সকল জাতি-ধর্ম তথা সর্ব বর্ণবাদবিহীন তরুণদের সংগঠন হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে স্যাকুলার সংগঠনে রূপ দেন।
এর আগে প্রতিষ্ঠার মাত্র কয়েক মাস পরই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আজীবনের জন্যে বহিষ্কার করা হয়। কারণ তিনি বিশ্ববিদ্যালয় চতুর্থ শ্রেণি কর্মচারী আন্দোলনে নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন, যে জন্য তাকে গ্রেফতারও করা হয়েছিল। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে বলা হয়েছিল, বঙ্গবন্ধু মুচলেকা এবং ১৫ টাকা জরিমানা দিলে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যহৃত করা হবে এবং ছাত্রত্ব বজায় থাকবে। কিন্তু বঙ্গবন্ধু ভিন্ন রকম মাটি দিয়ে গড়া ছিলেন। মুচলেকা-জরিমানা দূরের কথা, নিজের রাজনীতি, লক্ষ্য, আদর্শ থেকে এক চুলও বিচ্যুত হননি জীবনে। ফলে তাকে জেলে নেওয়া হলো এবং বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করার হলো। তারপরও ফিরে তাকান নি কারও দিকে, এগিয়ে গেছেন আপন শক্তিতে সংগঠনের নেতৃত্বে, বস্তুত এই ছাত্রলীগের সবকিছুই ছিলেন হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বঙ্গবন্ধুর শাহাদাতের পর ছাত্রলীগের হাল ধরেন কন্যা স্টার অব দ্য ইস্ট, মাদার অব হিউম্যানিটি শেখ হাসিনা। সামনে ছাত্রলীগের দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন। ২০১৮-এর ডিসেম্বরের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে এই দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন সমধিক গুরুত্ব বহন করে। নতুন নেতৃত্ব আসবে এবং তারা ছাত্রলীগকে তার অতীত ঐতিহ্য অনুযায়ী সাজাবে।
আগেও বলেছি ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠা হয়েছিল ১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি। সময়টা দেশ বিভাগের মাত্র ছয় মাস পর। বঙ্গবন্ধুর বয়স ছিল তখন ২৮ বছর এবং তিনিই হতে পারতেন এর সভাপতি। কিন্তু না, তিনি হন নি। তিনি প্রথম আহ্বায়ক নির্বাচিত করেন নাঈমুদ্দিন আহমদ, এরপর যখন ছাত্রলীগ রাজপথে কার্যক্রম শুরু করে তখন সভাপতি মনোনীত করা হয় দবিরুল ইসলামকে। সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয় খালেক নেওয়াজ খানকে।
১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক হলের অ্যাসেম্বলিতে তখনকার একঝাঁক সাহসী তরুণ নিয়ে প্রথমে পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম লীগ গঠন করা হয়। অল্পদিনেই তারা উপলব্ধি করেন যে পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠা হলো এর কাঠামোর মধ্যে বাঙালি জাতির অবস্থান অসম্ভব। আর তখন ‘মুসলিম’ শব্দটি বাদ দিয়ে পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগ নামকরণ করা হলো। এর আরেকটি লক্ষ্য ছিল ছাত্রলীগ প্রথম দিন থেকেই একটি অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক প্রগতিশীল সংগঠন হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে, যার মধ্যে কোনো বিশেষ ধর্মের পরিচয় থাকতে পারে না। তাছাড়া এটি মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, পাহাড়ি, আদিবাসীসহ সকল ধর্মীয় জনগোষ্ঠীর অসাম্প্রদায়িক মিলনমেলা হবে ছাত্রলীগ। হলোও তাই। প্রতিষ্ঠার পরই নামতে হলো বাঙালির প্রাণের ভাষা রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনে। এই পুরো প্রক্রিয়ার পেছনে ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ছাত্রলীগ গঠন করে তিনি এবার গঠন করলেন আওয়ামী লীগ ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন। গঠন প্রক্রিয়ায় প্রথম বৈঠক হয় খান সাহেব ওসমান আলীর নারায়ণগঞ্জের বাসভবনে। সেখানে ব্রিটিশবিরোধী বাঙালি জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের নেতারা একত্রিত হন এবং তারা উপলব্ধি করেন যে যেহেতু দ্বি-জাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে ভারত ভাগ হলো সেহেতু বাঙালি জাতি হিসেবে স্বাতন্ত্র্য বজায় থাকবে এমনিটি আশা করা যায় না। অতএব দেশপ্রেমিক অসাম্প্রদায়িক প্রগতিশীল সংগঠন দরকার। এরই কিছুকাল পরে ঢাকার রোজ গার্ডেনে এবং আরও বেশি জাতীয়তাবাদী নেতার সমাবেশ ঘটে এবং এখানেই ব্যাপক আলোচনার মাধ্যমে পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগের আত্মপ্রকাশ ঘটে এবং এর প্রথম সভাপতি হন মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী এবং সাধারণ সম্পাদক হন টাঙ্গাইলের শামসুল হক। বঙ্গবন্ধু হন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। এভাবে বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া দুটি সংগঠন বড় ভাই (আওয়ামী লীগ) ছোট ভাই (ছাত্রলীগ) হিসেবে বাঙালি জাতির আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকারের আন্দোলন শুরু করে। অবশ্য ১৯৫৭ সালে কাগমারি সম্মেলনের মাধ্যমে মওলানা ভাসানী আওয়ামী লীগ ত্যাগ করেন।
এই গেল প্রথম অধ্যায়। দ্বিতীয় অধ্যায় হলো ছাত্রলীগ মুসলিম শব্দ ঝেড়ে ফেলে স্বতন্ত্র সংগঠন হিসেবে প্রথমে রাষ্ট্রভাষা বাংলা আন্দোলন ও পরে বাঙালি জাতীয়তাবাদী আন্দোলন শুরু করে। এই ৭০ বছরের পথ পরিক্রমায় ছাত্রলীগ অনেক নেতার জন্ম দিয়েছে। আবার অনেক নেতা বিভ্রান্ত হয়ে অথবা লোভে পড়ে ছাত্রলীগ ত্যাগ করেছে। যারা সোনার হরিণ ধরার জন্য ছাত্রলীগ ত্যাগ করেছে তারা কালো বিড়ালও ধরতে পারেনি। নাম বলতে চাই না। তাদের কেউ কেউ অন্য দলে গিয়ে আজও পেছন পেছন তল্পিবাহকের দায়িত্ব পালন করছে।
ছাত্রলীগের সবচে গৌরবের দিন ’৫২-র রাষ্ট্রভাষা বাংলার আন্দোলন, ঊনসত্তরের ছাত্র গণ-অভ্যুত্থান এবং একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের বিজয়। এ ছাড়াও রয়েছে ’৫৪-র যুক্তফ্রন্ট আন্দোলন; ’৬২-র আইয়ুবের মার্শাল ল’-বিরোধী আন্দোলন; ’৬৪-র শিক্ষা আন্দোলন; ’৬৬-র ৬-দফা আন্দোলন; ঊনসত্তরের ১১-দফা আন্দোলন ও গণ-অভ্যুত্থান এবং একাত্তরের মার্চ মাসের দুনিয়া কাঁপানো অসহযোগ আন্দোলন।
একটি সংগঠন বড় হয় শক্তিশালী হয় আন্দোলনের মাধ্যমে। বাংলাদেশ তো বটেই, এই উপমহাদেশেও পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগ বা বাংলাদেশ ছাত্রলীগই একমাত্র সংগঠন যে আন্দোলন করে দেশের জন্য জীবন উৎসর্গ করে আজ এ অঞ্চলের সর্ববৃহৎ সংগঠনে পরিণত হয়েছে। বঙ্গবন্ধু তার প্রকাশ্য রাজনীতির সাথে গোপন সংগঠন ‘স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী পরিষদ’ গঠন করেছিলেন। বঙ্গবন্ধু জানতেন দেশ স্বাধীন করতে এ ধরনের সংগঠনও লাগবে। তখন দায়িত্ব দিয়েছিলেন সিরাজুল আলম খান, আবদুর রাজ্জাক, কাজী আরেফ আহমেদকে। পরে আরও অনেকে যোগ দেন। এই সংগঠনই ’৭১-এর যুদ্ধে বিএলএফ বা মুজিব বাহিনী গঠন করে দেশাভ্যন্তরে যুদ্ধ করে। দেশ স্বাধীন করে।
আজকের দিকেই যদি তাকাই তাহলে দেখব ছাত্রলীগ নেতা শেখ হাসিনা আজ কেবল বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীই নন, এই অঞ্চল তথা বিশ্বের অন্যতম সাহসী, সফল, ক্ষমতাধর রাষ্ট্রনেতা, যিনি একাধারে চ্যাম্পিয়ন অব দ্য আর্থ, মাদার অব হিউম্যানিটি, স্টার অব দ্য ইস্ট, বিশ্বের ১০০ জন শক্তিশালী রাজনৈতিক নেতার মধ্যে ২৩তম, পাঁচজন সৎ রাষ্ট্রনেতার মধ্যে তৃতীয়, এমনি অসংখ্য পুরস্কার এনে আমাদের জাতিকে সম্মানিত করেছেন। এছাড়া যার নাম করতে হয় তিনি ওবায়দুল কাদেরÑ একাধারে সড়ক যোগাযোগ ও সেতুমন্ত্রী এবং সর্বোপরি দলের শক্তিধর সাধারণ সম্পাদক, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনাবলী তিনি যেমন অক্ষরে অক্ষলে পালন করেন, তেমনি রাজপথে হেঁটে লঞ্চে করে নদীতে ঘুরে ঘুরে কাজ দেখছেন।
সবচে’ বড় কথা হলো এ পর্যন্ত যত স্বৈরাচার স্বাধীনতার পূর্বাপর এসেছে সব ক’টির পতন হয়েছে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগসহ দলের সহযোগী সংগঠনের আন্দোলনে। এক্ষেত্রেও সবচে’ মুখ্য ভূমিকা পালন করেছে ছাত্রলীগ। সেই স্বৈরাচার আইয়ুব, ইয়াহিয়া, জিয়া (যদিও সেনা অভ্যুত্থানে নিহত তবুও ততদিনে জনপ্রিয়তা শূন্যের কোঠায় পৌঁছেছিল); এরশাদ, খালেদা সবার পতন হয়েছিল প্রধানত ছাত্রলীগের আন্দোলনে। একাত্তর সালে তো অগণিত ছাত্রলীগ নেতাকর্মী পাকিস্তানি হায়েনাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে করতে অকাতরে প্রাণ বিসর্জন দিয়েছে। শহীদ হয়েছে। তবু হার মানেনি, বিজয় ছিনিয়ে এনেছে। বাঙালি হাজার বছরের স্বপ্নসাধ আপন জাতি-রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেছে। জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম আজ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এগিয়ে চলেছে।
জানতে পেরেছি আগামী ১১ মে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের দ্বি-বার্ষিক সাধারণ সভা। সভাটি যে জাঁকজমক হবে। প্রত্যেকবারই আগের রেকর্ড ভেঙে ছাত্র সমাবেশ ঘটে। এবারও ঘটবে সন্দেহ নেই। ছাত্রলীগের বিদায়ী প্রেসিডেন্ট-সেক্রেটারি কি বলবেন জানি না। তবে দলের সাধারণ সম্পাদক ছাত্রলীগের এককালের সভাপতি এবং Ok Commission-এর চেয়ারম্যান (Commission-এ আমি সদস্য ছিলাম) এবং দুই মন্ত্রণালয়ের পরিশ্রমী ও সফল মন্ত্রী যা বলার এরই মধ্যে বলে দিয়েছেন : কোনো সিন্ডিকেট দ্বারা ছাত্রলীগ চলবে না। কারও পকেটের কমিটি দিয়ে ছাত্রলীগের নেতৃত্ব হবে না। ছাত্রলীগ চলবে বঙ্গবন্ধুর আদর্শে, শেখ হাসিনার নির্দেশনায়। এর বাইরে কোনো ভাবনাচিন্তা করার অবকাশ নেই। ছাত্রলীগকে রাজনৈতিক আদর্শের মহাসড়কে আসতে হবে। সুনামের ধারায় ফিরে আসতে হবে। ছাত্রলীগকে অতীতের ধারায় ফিরে আসতে হবে। ছাত্রলীগে যেন আর কোনো অনুপ্রবেশকারী ঢুকতে না পারে, সেদিকে সজাগ থাকার পরামর্শ দেন তিনি। ছাত্রনেতাদের উদ্দেশ্যে ওবায়দুল কাদের বলেন, টাকা-পয়সার কর্মীরা থাকবে না, আদর্শের কর্মীরা থাকবে। জবরদস্তি করে অযোগ্যকে নেতা বানাবেন, দুৎসময় এলে হাজার পাওয়ারের বাতি দিয়ে খুঁজে পাওয়া যাবে না। সাহসী, মেধাবী ও চরিত্রবান নেতা বানান সর্বস্তরে। তিনি বলেন, অনুপ্রবেশকারী পরগাছা যেন পার্টির নেতৃত্বে আর না আসতে পারে। পরগাছাদের জন্য ছাত্রলীগ কোনো সুযোগ দেবে না। মাননীয় মন্ত্রী বাজারে জোর গুজব, গত এক দশকে ছাত্রলীগে শিবিরের ব্যাপক অনুপ্রবেশ ঘটেছে। কেউ অর্থে বা কেউ শক্তি বৃদ্ধিতে। অস্বীকার করব না বিগত কোটাবিরোধী আন্দোলনে তার আলামত লক্ষণীয়। যে ছেলেটি আমি রাজাকার লিখে দাঁড়িয়েছে বা যারা বুকে বঙ্গবন্ধুর ছবি নিয়ে ভিসির বাড়ি অ্যাটাক করেছে তাদের কি চিহ্নিত করা যায় না? ওবায়দুল কাদের বলেছেন : ছাত্রলীগে কোনো পকেট কমিটি হবে নাÑ  I want devoted and qualified leadership. It will run as per Bangabandhus idealogy and Sheikh Hasina’s instruction.
মাননীয় মন্ত্রী মহোদয় আপনার ঐ কথাগুলো আমরা সর্বান্তকরণে সমর্থন করি। কিন্তু বেশ কিছুকাল ধরে আমরা এর ব্যতিক্রম লক্ষ্য করছি। আপনি কি জানেন, চাঁদপুর জেলায় ফরিদগঞ্জ বলে একটা থানা আছে এবং এক থানা এক কনস্টিটুয়েন্সি। সেখানে ২০০৫ সাল থেকে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ সবই পকেট কমিটি। কোনো নির্বাচিত কমিটি নেই। ২০১০ সালে একটি স্বাভাবকি দ্বি-বার্ষিক সাধারণ সভা ও গোপন ব্যালটের মাধ্যমে ছাত্রলীগের একটি নির্বাচিত কমিটি হয়। অল্প ক’দিনেই জেলা আওয়ামী লীগের বিতর্কিত সভাপতির কোপানলে পড়ে, কারণ কোনো অসৎ দুর্নীতি পরায়ণ লোককে তারা সমর্থন করেনি। ২০১২ সালে তাদের কমিটি অকার্যকর করে দেয় এবং ২০১৪ সালে পুরোপুরি ভেঙে অছাত্র, মাদকাসক্তদের দিয়ে কমিটি করা হয়। আমি তখনকার ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে প্রেসক্লাবে ডেকে অনুরোধ করেছিলাম একটা সাধারণ সভা ও নির্বাচন দিয়ে ওদের সম্মানজনক বিদায় দিতে। নেতৃদ্বয় আমাকে কথাও দিয়েছিলেন। কিন্তু দেখা গেল কয়েকদিন পর না কাউন্সিল না নির্বাচন বরং অশিক্ষিত অছাত্র দিয়ে কমিটি ঘোষণা করে দিলেন কেন্দ্রীয় সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকÑ এটা কোন পকেট?
লেখক : সিনিয়র সাংবাদিক ও সভাপতি, জাতীয় প্রেসক্লাব
balisshafiq@gmail.com

শ্রেণী:

‘পেয়ারে পাকিস্তান যাদের হৃদয়ে তারা দেশের উন্নয়ন চায়নি’

43

জাতির পিতার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসের আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী

43উত্তরণ প্রতিবেদন: প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা দেশের চলমান উন্নয়ন-অগ্রগতির ধারা ত্বরান্বিত করতে দেশবাসীর ঐক্যবদ্ধ সমর্থন কামনা করে বলেছেন, মাত্র ৯ বছর ক্ষমতায় থেকে বর্তমান সরকার বাংলাদেশকে সবদিক থেকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে, সারাবিশ্বের সামনে বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের রোলমডেল। কিন্তু আমার প্রশ্ন, স্বাধীনতার ৪৭ বছরের মধ্যে দীর্ঘ ২৮ বছর যারা ক্ষমতায় ছিল তারা কেন দেশের উন্নয়ন করতে পারেনি? সারাবিশ্বে দেশের ভাবমূর্তি কেন উন্নত করতে পারেনি? তার প্রধান কারণ হচ্ছেÑ এরা দেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী না। তারা দেশে থাকলেও তাদের হৃদয়ে পেয়ারে পাকিস্তান। পাকিস্তানের গোলামি করাই তাদের পছন্দ ছিল বলেই বাংলাদেশ উন্নত ও স্বাবলম্বী হোক তা কোনোদিনই তারা চায়নি। একমাত্র আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলেই দেশ উন্নত হয়, এগিয়ে যায় আমরা তা প্রমাণ করেছি।
গত ১০ জানুয়ারি রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ঐতিহাসিক ১০ জানুয়ারি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু হত্যাকা-ের সঙ্গে খন্দকার মোশতাক ও জেনারেল জিয়ার জড়িত থাকার কথা পুনরুল্লেখ করে বলেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর অনেকেই জেনারেল জিয়াকে বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা বলার চেষ্টা করেছিলেন। জেনারেল জিয়ার বহুদলীয় গণতন্ত্র মানে যুদ্ধাপরাধী ও স্বাধীনতাবিরোধীদের পুনর্বাসন, ক্ষমতায়ন, ভোটের ও রাজনীতির অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া। কারাগারে বন্দী যুদ্ধাপরাধীদের মার্শাল ল’ অর্ডিন্যান্সের মাধ্যমে মুক্তি দিয়ে রাজনীতি করার অধিকারই ছিল জিয়ার বহুদলীয় গণতন্ত্রের নমুনা। তিনি বলেন, জনগণের গণতন্ত্র নয়, প্রতি রাতে কার্ফ্যু গণতন্ত্রের নামে স্বাধীনতাবিরোধীদের পুনর্বাসন জেনারেল জিয়া করেছিলেন বলেই দেশ এগিয়ে যেতে পারেনি, বরং অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়েছিল।
ঐতিহাসিক ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসে প্রধানমন্ত্রী জাতির পিতার কাছে ওয়াদা দিয়ে বলেনÑ “বঙ্গবন্ধু তোমায় কথা দিলামÑ বাংলাদেশকে তাঁর স্বপ্নের ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত সমৃদ্ধ সোনার বাংলা গড়ে তুলব। ’২১ সালের মধ্যে মধ্য আয়ের দেশ হিসেবে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালন করব। আর ’৪১ সালের মধ্যে বিশ্বে বাংলাদেশকে উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তুলব।” এজন্য প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীর ঐকান্তিক সমর্থন ও সহযোগিতাও কামনা করেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে আলোচনায় অংশ নেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু এমপি, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ এমপি, সভাপতিম-লীর সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী এমপি, শেখ ফজলুল করিম সেলিম এমপি, গৃহায়নমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এমপি, ইতিহাসবিদ-কলামিস্ট অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন, কেন্দ্রীয় নেতা মারুফা আকতার পপি, উপাধ্যক্ষ রেমন্ড আরেং, ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান ও দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ। সভা পরিচালনা করেন কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ এমপি ও উপ-প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন।
সভাপতির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু হত্যাকা-ের প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করে স্বাধীনতাবিরোধী, বঙ্গবন্ধুর খুনি ও যুদ্ধাপরাধীদের নিয়ে ক্ষমতা দখল করে খুনি মোশতাক ও জেনারেল জিয়ারা। অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে বঙ্গবন্ধুর নাম ও ইতিহাস মুছে ফেলার চেষ্টা করা হয়। বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ বাজানোও নিষিদ্ধ করা হয়। বাংলাদেশের মানুষকে পরিকল্পিতভাবে মিথ্যাচারের মাধ্যমে বিভ্রান্তির বেড়াজালে ফেলে দেওয়া হয়। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুই বলেছিলেনÑ বাংলাদেশের মাটি খুব উর্বর। উর্বর মাটিতে গাছপালার সঙ্গে কিছু আগাছাও জন্ম নেয়। তেমনি খুনি মোশতাকের মতো গাদ্দারের জন্ম হয়েছিল এ দেশের মাটিতে। পাকিস্তানি হানাদাররা এ দেশে গণহত্যা চালিয়েছিল, সারাদেশের গ্রামগঞ্জ জ্বালিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছিল। আর তাদের সাহায্য করেছিল আমাদের দেশেরই কিছু কুলাঙ্গার আলবদর-রাজাকার-আলশামসরা।
বিএনপি-জামাত জোটের অগ্নিসন্ত্রাস ও মানুষকে পুড়িয়ে হত্যার ভয়াল চিত্র তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জেনারেল জিয়ার পদাঙ্ক অনুসরণ করে খালেদা জিয়াও একাত্তরের স্বীকৃত গণহত্যাকারী-যুদ্ধাপরাধীদের মন্ত্রী বানিয়ে তাদের হাতে তুলে দেন লাখো শহীদের রক্ত¯œাত জাতীয় পতাকা। স্বাধীনতাবিরোধী-যুদ্ধাপরাধীরাই যেন হয়ে যায় এ দেশের হর্তা-কর্তা-বিধাতা। ২১ আগস্ট ভয়াল গ্রেনেড হামলা, একসঙ্গে ৫০০ স্থানে বোমা হামলা, জঙ্গি-সন্ত্রাস, সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন, নারী নির্যাতন এমন কোনো শ্রেণি-পেশার মানুষ নেই যে বিএনপি-জামাত জোটের হাতে নির্যাতনের শিকার হয়নি।
তিনি বলেন, একাত্তরে পাকিস্তানি হানাদাররা যেভাবে গণহত্যা ও জ্বালাও-পোড়াও চালিয়েছিল, বিএনপি-জামাত জোট ঠিক একই কায়দায় আন্দোলনের নামে নির্বিচারে জীবন্ত মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করে। সরকার উৎখাত না করে ঘরে ফিরব না এ কথা বলে খালেদা জিয়া নির্বিচারে শ’ শ’ মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করে, সারাদেশে নাশকতা চালান। কিন্তু দেশের জনগণ ঐক্যবদ্ধভাবে তাদের সব ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে দিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ যখন ক্ষমতায় আসে তখনই দেশের মানুষ প্রথম উপলব্ধি করে যে, সরকার শাসক নয়, জনগণের সেবক। ’৯৬-২০০১ এই পাঁচ বছর ছিল বাংলাদেশের জন্য উন্নয়নের স্বর্ণযুগ। এরপর বিএনপি-জামাত জোট ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসে দেশকে আবারও পিছিয়ে দিয়ে যায়। তিনি বলেন, ২০০৯ সালে জনগণের ভোটে পুনরায় ক্ষমতায় এসে আমরা ধ্বংসপ্রাপ্ত অর্থনীতিকে আবারও মজবুত করি। বাংলাদেশ আজ সবদিক থেকে এগিয়ে যাচ্ছে। সারাবিশ্বে বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের রোল মডেল। আমরা বঙ্গবন্ধুর খুনি ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করে দেশকে কলঙ্কমুক্ত করেছি।
আবেগজড়িত কণ্ঠে প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের ঐতিহাসিক সেই মুহূর্তের স্মৃতি স্মরণ করে বলেন, বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করে পাকিস্তানে বন্দী করার পর দীর্ঘ ৯ মাস আমরা জানতাম না তিনি বেঁচে আছেন কি না। কারণ বঙ্গবন্ধুর পাশাপাশি ধানমন্ডির ১৮ নম্বর বাড়িতে আমাদের পরিবারের সবাইকে বন্দী করে রাখা হয়। পাকিস্তান থেকে মুক্তি পেয়ে বঙ্গবন্ধু যখন প্রথম লন্ডনে যান, তখন জানতে পারি তিনি বেঁচে আছেন। বঙ্গবন্ধু লন্ডন থেকে যখন আমাদের কাছে ফোন করেছিলেন তখন আমাদের কথা বলার মতো কোনো অবস্থা ছিল না। শুধু আমাদের অপেক্ষা ছিল কখন ফিরে আসবেন আমাদের জাতির পিতা।
তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু ১০ জানুয়ারি দেশে প্রত্যাবর্তন করে আমাদের কাছে নয়, বিমানবন্দর থেকে সোজা চলে গিয়েছিলেন তার প্রিয় এ দেশের মানুষের কাছে। তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধুর ভাষণে কীভাবে স্বাধীন দেশ গড়ে তোলা হবে, কোন নীতিতে এ দেশ চলবে ও গড়ে উঠবে সেই দিক-নির্দেশনা দিয়েছিলেন। তিনি বলেন, মাত্র সাড়ে তিন বছরে বঙ্গবন্ধু যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশকে গড়ে তুলেছিলেন। মাত্র ১০ মাসের মধ্যে বাঙালি জাতিকে শাসনতন্ত্র উপহার দিয়েছিলেন। যখন যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ গড়ে তুলতে দেশকে অর্থনৈতিক স্বাবলম্বীর দিকে নিয়ে যাচ্ছিলেন, ঠিক তখনই স্বাধীনতাবিরোধী দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রকারীরা চরম আঘাত হেনে বাঙালি জাতিকে অগ্রগতির মিছিল থেকে ফেলে দেয়। দেশকে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত, উন্নত-সমৃদ্ধ সোনার বাংলা গড়ে তোলার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।

বিরল প্রাণীর মতো বিলুপ্ত হয়ে যাবে বিএনপি : ওবায়দুল কাদের
দশম সংসদ নির্বাচনের চতুর্থ বর্ষপূর্তির দিন গত ৫ জানুয়ারি ব্যাপক শোডাউনের মাধ্যমে রাজপথসহ সারাদেশের মাঠ ছিল আওয়ামী লীগের দখলে। গণতন্ত্রের বিজয় দিবসের এ দিনটিতে দেশজুড়ে বিজয় শোভাযাত্রা ও সমাবেশ করেছে আওয়ামী লীগ।
45গত ৫ জানুয়ারি বিকেল ৩টায় একযোগে সারাদেশে অনুষ্ঠিত বর্ণাঢ্য এই শোভাযাত্রায় মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী অসংখ্য মানুষের ঢল নামে। শোভাযাত্রায় সন্ত্রাস-নাশকতা-জঙ্গিবাদ ও দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র রুখে দিয়ে অসাম্প্রদায়িক চেতনার বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়। এ ছাড়া রাজধানীর অলিগলিসহ দুশতাধিক স্থানে দিনভর সতর্ক অবস্থানে থেকে বিজয়োৎসব পালন করেছে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরাসহ মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী অসংখ্য মানুষ।
রাজধানীর বনানী পূজা মাঠে এবং ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউ প্রাঙ্গণে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ও উত্তর শাখা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে আয়োজিত শোভাযাত্রা পরবর্তী সমাবেশে আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতারা বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে এতিমের টাকা মেরে খাওয়া দুর্নীতিবাজ, জঙ্গির পৃষ্ঠপোষক ও পেট্রলবোমা নেত্রী হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, অতীত কৃতকর্মের কারণে বিএনপি জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। দেশের জনগণ বিএনপিকে আর কখনও ক্ষমতায় আসতে দেবে না। দেশ ও জাতির উন্নয়নের স্বার্থে শেখ হাসিনাকে আবারও ভোট দিয়ে ক্ষমতায় আনবে দেশবাসী। নেতৃবৃন্দ বলেন, ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে দেশে শুধু গণতন্ত্রই রক্ষা পায়নি, সাংবিধানিক শাসনও সুরক্ষিত হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শত ষড়যন্ত্র, আগুন সন্ত্রাস ও নাশকতা মোকাবিলা করেই রাষ্ট্রকে সুরক্ষিত করেছিলেন। সিনিয়র নেতারা আরও বলেন, বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া মামলায় শাস্তি থেকে বাঁচার জন্য দেশে বিশৃঙ্খলা তৈরি করে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের ষড়যন্ত্র করছেন। জনগণের প্রতি তার কোনো আস্থা নেই, ষড়যন্ত্রে তার আস্থা আছে।
বনানী পূজা মাঠে শোভাযাত্রা পরবর্তী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি বলেন, দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটগ্রহণের দিন ৫ জানুয়ারি বিএনপি ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ হিসেবে পালন করলেও এটি মূলত দলটির জন্য ‘রাজনৈতিক আত্মহত্যা দিবস’।

নির্বাচন ঠেকানোর চেষ্টা হলে জনগণ প্রতিহত করবে
এদিকে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের সামনে ‘গণতন্ত্রের বিজয় দিবস’ উপলক্ষে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের উদ্যোগে আয়োজিত শোভাযাত্রা পরবর্তী সমাবেশে ওবায়দুল কাদের এমপি বলেন, নির্বাচনী ট্রেন বিএনপির স্টেশনে থামবে না। সময় ও স্রোতের মতো আগামী (একাদশ) সংসদ নির্বাচনও কারও জন্য অপেক্ষা করবে না। বিএনপি নির্বাচনে অংশ না নিলে তাদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ অন্ধকার হয়ে যাবে। বিরল প্রাণীর মতো বিলুপ্ত হয়ে যাবে বিএনপি। পৃথিবীতে অনেক রাজনৈতিক দল বিলুপ্ত হয়ে গেছে। তাদের অবস্থা মুসলিম লীগের চেয়েও খারাপ হয়ে যাবে। তিনি বলেন, নির্বাচন ঠেকানোর চেষ্টা করা হলে জনগণই তা প্রতিহত করবে।
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনের সমালোচনা করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ড. কামাল হোসেন ও খালেদা জিয়া সরকার ও সংসদকে অবৈধ হিসেবে অভিহিত করেছেন। কিন্তু বিশ্বের দুটি বড় আন্তর্জাতিক সংস্থা ইন্টার পার্লামেন্টারি ইউনিয়ন (আইপিইউ) ও কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারি অ্যাসোসিয়েশন (সিপিএ) বাংলাদেশের পার্লামেন্টকে স্বীকৃতি দিয়েছে। শুধু তাই নয়, এ দুটি সংস্থার প্রধানও করা হয়েছে সংসদ সদস্য সাবের হোসেন চৌধুরী এমপি ও বাংলাদেশের সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীকে। তাহলে কীভাবে গণতন্ত্রের সংকট আছে? আপনারা নির্বাচনে অংশ নেন নি। গণতন্ত্র যদি না থাকত তাহলে কী তারা বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিত?

শ্রেণী:

‘দেশের উন্নয়নে নিয়োজিত তরুণেরাই আগামীর নেতা’

25

25উত্তরণ প্রতিবেদন: প্রত্যন্ত অঞ্চলে বসে নিজেদের উদ্যোগে দেশের উন্নয়নে এগিয়ে আসা তরুণ-তরুণীদের বাংলাদেশের আগামী দিনের নেতা অভিহিত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়।
গত ২১ অক্টোবর ঢাকার সাভারে শেখ হাসিনা যুব কেন্দ্রে এক অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে উন্নয়নে ভূমিকা রাখা তারুণ্যনির্ভর ৩০টি সংগঠনের হাতে ‘জয় বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড’ তুলে দেওয়ার সময় তাদের এই অভিধা দেন তিনি।
অনুষ্ঠানে তরুণ উদ্যোক্তাদের দেখিয়ে সজীব ওয়াজেদ বলেন, ‘অনেকে আমাকে জিজ্ঞেস করে, কে আমাদের ভবিষ্যতে নেতৃত্ব দেবে। আমি তাদেরকে আমার সামনে দেখতে পাচ্ছি।’
সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফর্মেশন (সিআরআই) এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা জয় বলেন, সারাদেশের তরুণ-তরুণীরা বিভিন্নভাবে কাজ করছে। আমরা চেষ্ট করছিলাম, কীভাবে এই স্বপ্নকে ছড়িয়ে দেওয়া যায়। এরপর আমরা ইয়াং বাংলা প্রতিষ্ঠা করি। আমরা খুঁজে বের করি সেই সব তরুণ-তরুণীদের, যারা দেশের জন্য কাজ করছে। আমরা তাদের খুঁজে পেয়েছি। তারা যেভাবে দেশের জন্য কাজ করছে, আমি সজীব ওয়াজেদ জয়, তাতে অনুপ্রাণিত। এই তরুণদের দেখে, তাদের গল্প শুনে আনন্দ ও গর্ব লাগছে। আমি তাদের থেকে অনুপ্রাণিত। এই ছেলেমেয়েরা নিজের চিন্তায় বা চেষ্টায় কাজ করছে। প্রতিবন্ধী, মাদক ও মেয়েদের খেলাধুলার সুযোগ দিতে তারা কাজ করছে।
লড়াই করে স্বাধীনতা অর্জনের পরও বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা ব্যাহত হওয়ার জন্য জাতির জনককে হত্যার পর মুক্তিযুদ্ধে চেতনার বিপরীত দিকে হাঁটাকে দায়ী করেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা। আমরা লড়াই করে স্বাধীনতা অর্জন করেছি। চার বছরেই নিজেদের পায়ে দাঁড়াচ্ছিলাম। সেই সময়ে আসে ’৭৫ সালের ১৫ আগস্ট। এরপর স্বাধীনতার বিরুদ্ধ শক্তি ক্ষমতায় আসে।
আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ফেরার পর চিত্র বদলাতে শুরু করেছে বলে জয়ের মন্তব্য। আমাদের দেশের তরুণরা এখন দেশের জন্য কাজ করতে যেভাবে এগিয়ে আসছে, আগে সেটা দেখা যেত না। দেশের সমস্যা আমরা সমাধান করতে পারব কি না, দেশকে এগিয়ে নিতে পারব কি না, সেই বিশ্বাস আমরা হারিয়ে ফেলছিলাম। কারণ স্বাধীনতার চেতনা আমরা হারিয়ে ফেলছিলাম।
এ প্রসঙ্গে বিএনপির অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমানের সমালোচনা করে জয় বলেন, তিনি বলেছিলেন, আত্মনির্ভরশীল হলে বিদেশি সাহায্য পাওয়া যায় না। বাংলাদেশ আত্মনির্ভরশীল হোক, তারা সেটা চায়নি। কারণ তারা বাংলাদেশও চায়নি। আগে আমাদের সামাজিক সমস্যা নিয়ে সুশীলরা কাজ করত। তারা বিদেশে ঘুরতে যেত। এটা তাদের একটা ব্যবসা ছিল। তারা কী করেছে? তারা টাকা পাচার করেছে।
বাংলাদেশের এখনকার অবস্থা তুলে ধরে জয় বলেন, এখন আমাদের শাইনিং স্টার বলা হচ্ছে। ‘নেক্সট ইলেভেন’ অর্থনীতির দেশের একটি আমরা।
উদ্বাস্তু প্রসঙ্গে ধনী দেশগুলোর সমালোচনা করে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী জয় বলেন, সিরিয়ায় যুদ্ধ বাধিয়ে তারা সেই দেশ থেকে উদ্বাস্তু নিতে চায় না। পাশের দেশের মানুষের সাহায্য করতে চায় না।
অন্যদিকে ছোট দেশ হওয়া সত্ত্বেও আমরা রোহিঙ্গাদের জন্য দরজা খুলে দিয়েছি। কারও কাছে এ জন্য হাত পাতি নাই। ১৭ কোটি মানুষকে খাওয়াতে পারলে এদেরকেও খাওয়াতে পারব।
এ প্রসঙ্গে পদ্মাসেতুতে বিশ্বব্যাংকের অর্থ আটকানোর কথাও বলেন জয়। বিশ্বব্যাংক ভেবেছিল, তারা পদ্মাসেতুতে অর্থ বন্ধ করলে বাংলাদেশ তাদের পা ধরবে, মাফ চাইবে। আজ দেখেন, বাংলাদেশ কোথায় চলে গেছে, কেউ কল্পনাও করতে পারেনি। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় বলেই তা সম্ভবপর হয়েছে বলে মনে করেন তিনি।

বিশ্বব্যাংককে প্রভাবিত করেছিলেন ইউনূস
পদ্মাসেতুতে অর্থায়ন না করতে সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট দলীয় প্রার্থী হিলারি ক্লিনটনের মাধ্যমে ড. ইউনূস বিশ্বব্যাংককে প্রভাবিত করেছিলেন। পদ্মাসেতু নিয়ে যে ষড়যন্ত্রের ফাঁদ পাতা হয় এখন সেই ফাঁদেই তাদের পা আটকে গেছে। তখন বিশ্বব্যাংক যাকে তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করেছিল এখন তার বিরুদ্ধেই দুর্নীতির তদন্ত হচ্ছে। তাই ষড়যন্ত্র যতই করেন না কেন কোনো কিছুতেই পদ্মাসেতু আটকে থাকেনি। নিজেদের টাকায় নির্মিত হচ্ছে স্বপ্নের পদ্মাসেতু।
গত ২৩ অক্টোবর রাজধানীর লেকশোর হোটেলে ‘সুচিন্তা ফাউন্ডেশন’ আয়োজিত ‘রাজনীতিতে সত্য-মিথ্যা : পদ্মাসেতুর অভিজ্ঞতা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় এ কথা বলেন।
বিএনপির নাম উল্লেখ না করে সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, মানুষের ভালোবাসা ছাড়া কোনোদিন ক্ষমতায় যাওয়া যায় না। তাই শত শত মিলিয়ন ডলার কামিয়ে তারা (বিএনপি) ক্ষমতা কিনতে পারেনি। তারা বরাবর ষড়যন্ত্র করেই যাচ্ছে। এখনও তারা সেই ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। বারবার অপপ্রচার চালিয়ে সরকারকে জনগণের কাছে বিতর্কিত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকার দেশের উন্নয়ন করেছে। দেশ ও দেশের জনগণকে ভালোবাসে। তাই কোনো ষড়যন্ত্রই কাজে লাগছে না। আমরা দেশকে অনেক এগিয়ে নিতে পেরেছি। এখন আর আমাদের বিদেশিদের ওপর ভরসা করতে হবে না। আমাদের আত্মবিশ্বাস আছে।
সেমিনারে বক্তব্য রাখেন ইমিরেটাস অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. ফরাসউদ্দিন, কথাসাহিত্যিক ও দৈনিক কালের কণ্ঠের সম্পাদক ইমদাদুল হক মিলন, সুচিন্তা ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন অধ্যাপক এ আরাফাত।
সেমিনারে জয় বলেন, নিজের দেশকে যারা ছোট করে দেখে তারা কখনও দেশের ভালো চায় না। আমাদের দেশে সুশীল সমাজ রয়েছে, তাদের মুখে কোনোদিন শুনেছেন বাংলাদেশের প্রশংসা। শোনেন নি। কারণ তারা নিজের দেশকে নিচে নামাতে পারলেই যেন বড় হয়ে যান। সব সময় তাদের মুখে সমালোচনা শুনবেন। নিজের দেশের প্রতি ভালোবাসা না থাকলে দেশের মানুষের প্রতিও ভালোবাসা থাকে না। আওয়ামী লীগ সরকার দেশকে এমন একটি জায়গায় নিয়ে গেছে যে, আমরা এখন কারও চেয়ে কম নয়। আমরা এখন আত্মনির্ভরশীল জাতি। বিদেশিদের প্রভু মানার দিন শেষ হয়ে গেছে। সরকার দেশে যে পরিমাণ উন্নয়ন কর্মকা- ও জীবনমানের উন্নয়ন করেছে তা আমাদের বারবার বলতে হবে। তারা অপপ্রচার করে সরকারের সব অর্জন ম্লান করার যে চেষ্টা করছে তাতে আমাদের উন্নয়নের কথা বারবার বলতে হবে। এতে তাদের মিথ্যা অপপ্রচার ঢাকা পড়ে যাবে। মিথ্যার মোকাবেলা করতে হলে উন্নয়ন কর্মকা- জোরগলায় তুলে ধরতে হবে। জনগণই সিদ্ধান্ত নেবে কে ভালো আর কে খারাপ। আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়ন কর্মকা- প্রচার শুরু হলে তাদের মিথ্যা কথা কেউ বিশ্বাস করবে না। পদ্মাসেতু নিয়ে ইউনূসকে দিয়ে যে ষড়যন্ত্র করানো হয় তা এখন মিথ্যা প্রমাণ হয়েছে। এ ষড়যন্ত্রের সাথে আমাকেও জড়ানো হয়েছিল। আমেরিকার অ্যাম্বাসি আমাকে দুই বার হুমকি দিয়েছে, তোমার বিরুদ্ধে আমরা অডিট করব। আমি তখন জোরগলায় বলেছি, করো। তবে কিছু পাবে না। সৎ থাকলে জোরগলায় বলা যায় আর অসৎ হলে মাথা নিচু করে থাকতে হয়। পার্থক্যটা এখানেই। এখন সেই আমেরিকা প্রমাণ পেয়েছে পদ্মাসেতু নিয়ে ষড়যন্ত্র হয়েছিল। বিশ্বব্যাংক যাকে তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ দিয়েছিল সেই কর্মকর্তাই এখন দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত। তিনি দুদকের চেয়ারম্যানকে হুকুম দিয়েছিলেন, তৎকালীন যোগাযোগমন্ত্রী আবুল হোসেনকে গ্রেফতার করার। দুদুকের চেয়ারম্যান যেন তার গোলাম। সেই সময় দুদকের চেয়ারম্যান তাকে বলে দিয়েছিলেন, তাদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই। অতএব তাদের গ্রেফতার করা যাবে না।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জয় বলেন, আমরা বিদেশিদের ওপর কখন থেকে নির্ভরশীল হলাম। যখন ’৭৫ সালে সপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়। তখন থেকে আমরা বিদেশিদের গোলাম হয়ে যাই। তারা যা বলে তাই করি। কিন্তু এখন দিন বদল হয়েছে, এখন কিছু বলার আগে সাতবার চিন্তা করতে হয়। আমরা অঙ্ক করে দেখিয়ে দিয়েছি নিজেদের টাকায় কী করে পদ্মাসেতু করতে হয়। তারা নিজেরাই এখন আমাদের দিকে তাকিয়ে থাকে। আওয়ামী লীগ সরকার দেশের মানুষকে ভালোবাসতে জানে। ভালোবাসা দিয়ে আমরা মানুষের মন জয় করতে পেরেছি। কোনো ষড়যন্ত্র করে নয়। তারা (বিএনপি) যখনই কোনো অস্বাভাবিক সরকার আসত তাদের সঙ্গেই ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। এখনও দেশে-বিদেশে তাদের ষড়যন্ত্র থেমে নেই। কিন্তু কোনো লাভ হবে না। ১/১১-র সময়ও তারা ষড়যন্ত্র করেছিল। সেই ষড়যন্ত্রে তারা কিছু করতে পারেনি। আমাদের আত্মবিশ্বাস আছে। দেশের প্রতি ভালোবাসা আছে। তথাকথিত সুশীল সমাজের মতো ভালোবাসা নিয়ে আওয়ামী লীগ সরকার চলে না। দেশ এগিয়ে যাচ্ছেÑ ভবিষ্যতে দেশ আরও এগিয়ে যাবে। আজ যারা উন্নত দেশ একদিন বিশ্ববাসী আমাদেরও সেই সব দেশের সঙ্গে নাম বলবে। দেশ যে এগিয়ে যাচ্ছে তা আওয়ামী লীগ সরকারের প্রতি বছরের বাজেট দেখলেই বোঝা যায়। প্রতিবছর বাজেটের আকার বেড়েই যাচ্ছে। এই বাজেট জনগণের কল্যাণে দেশের উন্নয়নে ব্যয় হচ্ছে।

বাংলাদেশে চালু হলো পেপ্যালের কার্যক্রম
বিশ্বব্যাপী অনলাইন পেমেন্ট সিস্টেম পেপ্যাল বাংলাদেশে চালু হয়েছে। এর ফলে এখন থেকে ফ্রিল্যান্স রেমিট্যান্স উপার্জনকারীরা বিদেশ থেকে ৪০ মিনিটের মধ্যে তাদের পেমেন্ট গ্রহণ করতে পারবেন।
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় গত ১৯ অক্টোবর বাংলাদেশে পেপ্যালের কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। এই সেবার মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিরাও বৈধ চ্যানেলে দেশে রেমিট্যান্স পাঠানোর সুবিধা পাবে।
অনুষ্ঠানে জয় বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানকারী প্রায় ১ কোটি ১৮ লাখ প্রবাসী বাংলাদেশি গত বছরে ১৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স বাংলাদেশে পাঠিয়েছে। বৈধ চ্যানেলের মাধ্যমে দেশে রেমিট্যান্স পাঠানোর সুযোগ সৃষ্টি হওয়ায় এখন দেশে রেমিট্যান্স প্রবাহ আরও বৃদ্ধি পাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। জয় জুম সার্ভিসের প্রশংসা করেন। এতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রত্যেকেই খুব অল্প সময়ের মধ্যে দেশে রেমিট্যান্স পাঠাতে সক্ষম হবে।
জুম কর্মকর্তারা বলেন, রেমিট্যান্সের পরিমাণ ১ হাজার মার্কিন ডলারের বেশি হলে ফ্রিল্যান্সাররা বিনা মূল্যে এই সেবাটি ব্যবহার করতে পারবে। তবে ১ হাজার মার্কিন ডলারের কম হলে সার্ভিস চার্জ হিসাবে ৫ ডলার পরিশোধ করতে হবে।
জুম সার্ভিসের আওতায় যে কেউ এক সময়ে ১০ হাজার ডলার পাঠাতে পারবেন এবং গ্রাহকরা সোনালী ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক এবং সোস্যাল ইসলামী ব্যাংকসহ ৯টি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে এই সেবা নিতে পারবেন।
জয় বলেন, আইসিটি ডিভিশন বিদেশের আউট সোর্সিং সুবিধা লুফে নিতে ১৩ হাজার তরুণকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে। তাদের অনেকেই এখন উপার্জন করছে। তিনি বলেন, সরকার দু-এক বছরের মধ্যে ইন্টারনেট খরচ কমিয়ে দেওয়ার এবং ফ্রিল্যান্সারের দাবি অনুযায়ী উচ্চ গতিসম্পন্ন ও নির্ভরযোগ্য ইন্টারনেট সংযোগ প্রদানের পরিকল্পনা করেছে।
জয় বলেন, ২০০৮ সালে ১ এমবিপিএস ইন্টারনেটের মূল্য ছিল ৮০ হাজার টাকা। আমি বলেছিলাম এটি কমিয়ে ৮০০ টাকা করা হবে এবং আমি সেটি করেছি। বর্তমানে এর রেট হচ্ছে ৬০০ টাকা। তিনি বলেন, সরকার ইন্টারনেট ও সেল ফোন অপারেটরদের অধিকাংশ সমস্যার সমাধান করে দিয়েছে। এ বছরের মধ্যে ফোরজি সার্ভিস চালু করা হবে। এক বছরের মধ্যে অন্তত নগর এলাকায় ফোরজি সার্ভিস চালু করার দাবি ছিল মোবাইল অপারেটরদের। তাদের সমস্যা ছিল ২৪টি। আমি ইতোমধ্যেই ২২টির সমাধান করে দিয়েছি।
অনুষ্ঠানে আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, ডাক টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান ইমরান আহমেদ, বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর ফজলে কবির এবং আইসিটি ডিভিশনের সচিব সুবির কিশোর চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।
তন্ময় আহমেদ

শ্রেণী:

নির্বাচন কমিশনে আওয়ামী লীগের প্রস্তাব

19
19

‘বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন’ পূর্বের যে কোনো সময়ের তুলনায় বর্তমানে সর্বাধিক সক্ষমতা ও দক্ষতার সাথে তাদের দায়িত্ব পালনে সক্ষম হচ্ছে। নির্বাচনে জনমানুষের ভোটাধিকার নিশ্চিতকল্পে দেশরতœ জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার জনগণের কাছে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

গণতন্ত্র ও নির্বাচন : বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ; হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবিসংবাদিত নেতৃত্বে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর মহান মুক্তিযুদ্ধে বিজয় অর্জনের পরপরই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান একটি স্বাধীন দেশের উপযোগী প্রয়োজনীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান সৃজন করতে শুরু করেন। মাত্র ৯ মাসের মধ্যে ‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান’ প্রণয়ন করে দেশ পরিচালনা ও মানুষের অধিকার সংরক্ষণের সকল বিষয়ের সুস্পষ্ট ও বাস্তবসম্মত বিধান নিশ্চিত করেন। এই সংবিধানে Executive, Legislative I Judiciary এমন কী বর্তমান সময়ের Media I Civil Society–সহ প্রতিটি বিভাগের জন্য সুস্পষ্ট দিক-নির্দেশনা সন্নিবেশিত হয়, যার আলোকে পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের সকল সংস্থা গঠিত ও পরিচালিত হতে থাকে।
ক্স বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সময়ই ১৯৭২ সালে প্রণীত The Representation of the People Order-সহ নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনে বিভিন্ন পরিকল্পনা প্রণয়ন ও তা বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়, যার অধীনে ১৯৭৩ সালে সর্বপ্রথম স্বাধীন বাংলাদেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
এই সময়ের মধ্যেই ধারাবাহিকভাবে দেশের প্রায় সকল প্রতিষ্ঠান সুসংগঠিত হয়ে উঠতে শুরু করে। গণতন্ত্র, সুশাসন ও উন্নয়নের প্রতিটি পর্যায়ে কাক্সিক্ষত পরিবর্তন ঘটতে থাকে। কিন্তু হঠাৎ করেই ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট স্বাধীনতাযুদ্ধে পরাজিত অপশক্তি ও তাদের এ দেশীয় দোসররা গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে তার পরিবারের অধিকাংশ সদস্যসহ রাতের আঁধারে নির্মমভাবে হত্যা করে। স্তব্ধ হয়ে যায় বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রা। খুনিচক্রের এই ভয়াবহতম নৃশংসতায় বাংলাদেশের স্বাধীনতাকামী সকল মানুষ বাকরুদ্ধ ও হতভম্ব হয়ে পড়েন।
ক্স এই হত্যাকা-ের অল্প কিছুদিনের মধ্যেই, হত্যা, ক্যু ও ষড়যন্ত্রের হোতা মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান ও সেনা আইন লঙ্ঘন করে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে অবৈধভাবে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল করে নিজেকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে ঘোষণা করেন। বাংলাদেশের সংবিধান ও সকল প্রতিষ্ঠানের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা ধ্বংস করে দেন। শুরু হয় স্বৈরশাসনের।
এই স্বৈরশাসক তার অবৈধ ক্ষমতা দখলকে বৈধতা দেয়ার অভিপ্রায়ে ১৯৭৭ সালের ৩০ মে হ্যাঁ/না ভোটের আয়োজন করেন এবং তার পক্ষে হ্যাঁ ভোট প্রদানের সকল আয়োজন সম্পন্ন করেন। জনগণের ভোটাধিকার হরণ করে তার নিয়োজিত সন্ত্রাসী বাহিনী নির্বিচারে ব্যালট পেপারে সিল মেরে ব্যালট বাক্স ভরে তোলে। প্রহসনের এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে সাধারণ মানুষ যেমন তাদের ভোটাধিকার হারিয়ে ফেলেন অপরদিকে সকল গণতান্ত্রিক পরিবেশ বিনষ্ট হয়ে যায়। এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকে ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত যখন জিয়াউর রহমানের পদাঙ্ক অনুসরণ করে ক্ষমতা দখলকারী অপর স্বৈরশাসক হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদের শাসনকালের অবসান ঘটে।
১৯৮১-৯১ সাল পর্যন্ত জননেত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের আপামর জনসাধারণকে সঙ্গে নিয়ে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে ও প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার যে সংগ্রাম করে আসছিলেন স্বৈরশাসনের অবসানের মধ্য দিয়ে তার প্রাথমিক বিজয় অর্জিত হয়। জাতীয় সংসদে আইন প্রণয়নের মাধ্যমে সরকার পরিচালনায় রাষ্ট্রপতি শাসিত শাসন ব্যবস্থা থেকে সংসদীয় গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে প্রত্যাবর্তন ঘটে। ভোটার তালিকা হালনাগাদসহ নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনে বিভিন্ন প্রক্রিয়া শুরু হলেও এর কার্যকর প্রতিফলন ঘটতে শুরু করে ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় হতে।
এখানে বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে, ১৯৯১ সালে গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার পুনঃপ্রবর্তনের পর সাবেক স্বৈরাচারের রাজনৈতিক দল বিএনপি, বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বাংলাদেশ ও মুক্তিযুদ্ধবিরোধী রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলামীর সমর্থনে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা কুক্ষিগত করতে সক্ষম হয়। জনমানুষের নির্বিঘœ ও নিরাপদে ভোটাধিকার প্রয়োগের পথে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে তারা নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে ক্ষমতাসীন হয়। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়েই বেগম খালেদা জিয়া তার স্বামী স্বৈরশাসক জিয়াউর রহমান এবং এরশাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে নির্বাচন প্রক্রিয়াকে আবারও কলুষিত করে তোলেন। মানুষের মত প্রকাশের স্বাধীনতা হরণ করা হয়।
ক্স ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য ঢাকা (মিরপুর ও তেজগাঁও) ও মাগুরার উপনির্বাচনে এবং ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত সকল রাজনৈতিক দল কর্তৃক বর্জিত ও ভোটারবিহীন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যে নজিরবিহীন কারচুপি ও অন্যায় সংঘটিত হয় তা বাংলাদেশের নির্বাচনের ইতিহাসে এক কলঙ্কিত অধ্যায়ের সূচনা করে।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগসহ প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দল কর্তৃক বর্জিত ও ভোটারবিহীন এই অবৈধ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বিএনপি-জামায়াত জোট সম্পূর্ণ অগণতান্ত্রিক উপায়ে ক্ষমতা দখল করে এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আত্মস্বীকৃত খুনিদের রাজনৈতিক দল (যা বিএনপির পৃষ্ঠপোষকতায় গঠিত) ‘ফ্রিডম পার্টি’কে জাতীয় সংসদের বিরোধী দলের আসনে বসায়। এই অবস্থার মধ্য দিয়ে বিএনপি নির্বাচন ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থার সকল কিছুই ধ্বংস করে দেয়। ফুঁসে ওঠে বাংলাদেশের মুক্তিকামী জনগণ। জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের সম্মিলিত আন্দোলনের ফলে বেগম খালেদা জিয়া ৩০ মার্চ ১৯৯৬ ক্ষমতা থেকে বিদায় নিয়ে পুনরায় জাতীয় সংসদ নির্বাচন দিতে বাধ্য হন।
১৯৯৬ সালের ১২ জুন অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে দীর্ঘ ২১ বছর পর বঙ্গবন্ধু-কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বভার গ্রহণ করে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পর এই প্রথম দেশ পরিচালনায় বঙ্গবন্ধু এবং মুক্তিযুদ্ধের আদর্শকে প্রাধান্য দিয়ে রাষ্ট্রযন্ত্রের সকল স্তরের কার্যকর পুনর্গঠন শুরু হয়।
একটি স্থায়ী ও স্বাধীন নির্বাচন কমিশন গঠনের মাধ্যমে নির্বাচন ব্যবস্থাপনার গুণগত পরিবর্তন আনয়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। কিন্তু দীর্ঘদিনের অপশাসনের প্রতিবন্ধকতা অপসারণ করে সম্মুখ পথে অগ্রসর হওয়া ছিল খুবই কষ্টকর। স্বাধীনতা-বিরোধী পরাজিত শক্তির যড়যন্ত্রের ফলে ২০০১-এর জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি পুনরায় ক্ষমতায় এসে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কর্তৃক গৃহীত সকল উদ্যোগ বন্ধ করে দিয়ে দেশকে আবারও পিছন দিকে ঠেলে দেয়।
২০০১ সালের ১ অক্টোবরে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে পরাজিত করার জন্য পরিকল্পিত উপায়ে রাষ্ট্রের বিভিন্ন সংস্থাকে ব্যবহার করে একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের পক্ষে অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়। এ সময় নির্বিচারে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে সমর্থন করে এমন সকল ভোটার বিশেষত ধর্মীয় সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর এক নারকীয় তা-ব চালানো হয়। বাংলাদেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে অসংখ্য মামলা দিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতায় তাদের নির্বাচনী এলাকা থেকে বিতাড়িত করা হয়। অনেক নেতাকর্মীকে পঙ্গু এবং মারাত্মকভাবে জখম ও হত্যা করা হয়। অন্যায়ভাবে গ্রেফতার ও নির্যাতনের মধ্য দিয়ে একদিকে যেমন জনমনে ব্যাপক ভীতির সঞ্চার করা হয়, অপরদিকে প্রত্যক্ষ/পরোক্ষভাবে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে সমর্থন করে এমন ব্যক্তিদের ভোটকেন্দ্রে যেতে নিষেধ করা হয়।
নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে কেবলমাত্র ‘নৌকা’ প্রতীকে ভোট দেয়ার অপরাধে, ক্ষেত্রবিশেষে শুধুমাত্র সন্দেহের বশবর্তী হয়ে বিএনপি-জামাত জোট ক্ষমতায় গিয়ে সিরাজগঞ্জ, পাবনা, রাজশাহী, বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী এবং সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, যশোর, খুলনাসহ দেশের প্রায় সকল জেলায় ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্যসহ আওয়ামী নেতা-কর্মীদের ওপর এক বিভীষিকাময় সন্ত্রাসী কর্মকা- পরিচালনা করে।
ক্স  এ সময় শিশু পূর্ণিমা, রাজুফা, ফাতেমা, মাহিমাসহ অগণিত নারী ও শিশুকে ধর্ষণ করা হয়। ‘অপারেশন ক্লিনহার্ট’-এর নামে সেনাবাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ব্যবহার করে আওয়ামী লীগকে সমর্থন করে এমন জনমানুষের ওপর নির্বিচারে অত্যাচার ও অনেককে বিনাবিচারে হত্যা করা হয়।
২০১০ সালে মহামান্য আদালতের নির্দেশনায় বিএনপি-জামাত কর্তৃক পরিচালিত নারকীয় তা-বের বিষয়ে তদন্ত করে দেখার জন্য একটি বিশেষ বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন গঠন করা হয়। তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা যায়Ñ
ক্স ২০০১ সালের ১ অক্টোবরে অনুষ্ঠিত নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে বিএনপি-জামাতের চারদলীয় জোটের সন্ত্রাসী দ্বারা ৪৩ জেলায় ৬২টি স্থানে ৩৪২ জন শিশুকে ধর্ষণ, নির্বিচারে গণধর্ষণ, লুণ্ঠন, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, হামলার মতো ভয়াবহ ঘটনা ঘটে। অধিকাংশ জায়গায় নারী ও শিশু কন্যাদের টার্গেট করে হামলা চালানো হয় এবং জমি, বসতবাড়ি ও দোকানসহ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দখল করে নেয়া হয়।
ক্স বাগেরহাটের ফকিরহাটে বাবা-মা’র সামনে ১৩ বছরের একটি মেয়েকে ২২ জন ধর্ষণ করে হত্যা করে। কত বীভৎস ও পাশবিক হতে পারে তাদের নির্মমতা, তা এই একটি ঘটনার মধ্য দিয়েই ফুটে ওঠে।
তদন্ত কমিশন অনুসন্ধানকালে ৩ হাজার ৬২৫টি ঘটনার সত্যতা পায়, যার মধ্যে ৩৫৫টি খুন এবং ৩ হাজারের ওপর ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ ও লুটের ঘটনা রয়েছে। বিএনপি-জামাতের এই বর্বরতা তাদের অবশিষ্ট শাসনকালেও অব্যাহত থাকে। ২০০৩-০৬ পর্যন্ত প্রায় ১৪ হাজার সহিংসতার ঘটনা ঘটে। ২০০১ সালের ১ অক্টোবরের নির্বাচনে সীমাহীন কারচুপি ও নির্বাচন-পরবর্তী পৈশাচিকতার বিষয়ে “A Rigged Election and an Illegitimate Government (Bangladesh Election 2001)Ó Ges ” এবং “Valley of Death”-সহ অনেক গ্রন্থে এর মর্মস্পর্শী বিবরণ রয়েছে, যা ঐ সময়কার বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ব্যাপক প্রচারিত হয়।
ক্স কার্যত প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা না থাকায় তৎকালীন নির্বাচন কমিশন নির্বাচনের পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সময়ে জনমানুষকে এই নির্যাতন থেকে রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়।
ক্স ২০০১-০৬ মেয়াদে বিএনপি-জামাত জোটের শাসনকালে একদিকে যেমন সারাদেশে ‘বাংলাভাই’-এর নেতৃত্বে জঙ্গিবাদ ও উগ্র সাম্প্রদায়িকতা তার স্বরূপে আবির্ভূত হয়, অপরদিকে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক জিয়ার নেতৃত্বাধীন হাওয়া ভবনকেন্দ্রিক দুর্নীতি ও দুঃশাসনের কালো ছায়ায় বাংলাদেশ প্রায় একটি অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত হয়। ২০০১ সালের ন্যায় কারচুপির মাধ্যমে পরবর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে ক্ষমতায় আসার জন্য প্রায় ১ কোটি ২৩ লাখ ভুয়া ভোটার দিয়ে বিএনপি-জামাত জোট যে ভোটার তালিকা তৈরি করে তা ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসে এক নিকৃষ্ট প্রহসন।
ক্স এমনকি মিয়ানমারের নাগরিক রোহিঙ্গাদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে এবং ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের চিহ্নিত ব্যক্তিদের বিশেষ উদ্দেশে জেলা ও উপজেলা নির্বাচন অফিসার হিসেবে নিয়োগ প্রদানসহ রাষ্ট্রযন্ত্রের চরম অপব্যবহার করে বাংলাদেশের সামগ্রিক নির্বাচন ব্যবস্থাকেই বিনষ্ট করে দেয়া হয়।
কিন্তু, আবারও ব্যাপক গণ-আন্দোলনের মুখে ২০০৬ সালে বিএনপি-জামাত জোটের পতন ঘটে এবং সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসীন হয়।
এখানে বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে, বিএনপি-জামাত জোটের শাসনকালে (২০০১-০৬) নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কারের আন্দোলন যখন তুঙ্গে তখন আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ১৪ দল এবং মহাজোটের অন্যান্য শরিক দল নির্বাচন কমিশন ও নির্বাচনী ব্যবস্থা সংস্কারের লক্ষ্যে একটি অভিন্ন রূপরেখা ঘোষণা করেন। এই রূপরেখায় নির্বাচন কমিশনকে স্বাধীন ও কার্যকর প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা এবং নির্বাচনী আইন ও বিধানের প্রয়োজনীয় সংস্কারের লক্ষ্যে মোট ৩০ দফা সুপারিশ করা হয়।
এই সব প্রস্তাব সকল প্রচার মাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রকাশিত ও আলোচিত হয়। প্রস্তাবসমূহের প্রতি দেশপ্রেমিক সকল নাগরিক ও সুশীল সমাজ অকুণ্ঠ সমর্থন জ্ঞাপন করেন। জনগণের দাবির মুখে তৎকালীন বিএনপি-জামাত জোট সরকার, জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বিরোধী দলকে জাতীয় সংসদে প্রস্তাব পেশ করতে আহ্বান জানান। সেই আহ্বানে সাড়া দিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনা জাতীয় সংসদে প্রস্তাবগুলি উত্থাপন করেন। তারপর সুদীর্ঘ সময় সরকার নানা কূটকৌশলের মাধ্যমে কালক্ষেপণ করতে থাকে এবং তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া, বিএনপির মহাসচিব এবং তাদের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ বিভিন্ন সময়ে পরস্পর বিরোধী বক্তব্য দিয়ে জনমতকে বিভ্রান্ত করার সব রকম প্রচেষ্টা চালান। কিন্তু দেশি-বিদেশি সকল চাপ উপেক্ষা করতে না পেরে একপর্যায়ে তারা আলোচনায় বসতে সম্মত হলেও আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ১৪ দল কর্তৃক উপস্থাপিত দাবিসমূহের প্রতি কোনোরূপ ভ্রুক্ষেপই করেন নি। কারণ তারা জানতেন, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে তাদের পরাজয় অবশ্যম্ভাবী।
ক্স ১৪ দল কর্তৃক উপস্থাপিত প্রস্তাবগুলো ছিল অত্যন্ত বাস্তবসম্মত ও যুক্তিযুক্ত, যাকে প্রধান ৩টি ভাগে ভাগ করা যায়Ñ
(১) নির্বাচনকালীন সরকারের কাঠামোগত বিষয়
(২) নির্বাচনের পদ্ধতিগত ও বিধিবিধানের বিষয় এবং
(৩) নির্বাচনকালীন অন্যান্য বিষয়াবলী। কিন্তু, জনরোষের মুখে ২০০৬ সালে ক্ষমতা থেকে বিদায় নেয়ার পূর্ব পর্যন্ত নির্বাচন ব্যবস্থার সংস্কারে বিএনপি-জামাত জোটের এই অনীহা অব্যাহত থাকে।
অবশেষে, সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে প্রবল জনমতের চাপে একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের স্বার্থে ১৪ দল উপস্থাপিত দাবিসমূহকে সক্রিয় বিবেচনায় নেয়া হয়। এ সময় আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দল কর্তৃক পূর্বে প্রদত্ত ৩০ দফাকে আরও পরিশীলিত করে সর্বমোট ২৩ দফা দাবি উপস্থাপন করা হয়।
ক্স বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ২৩ দফার ওপর ভিত্তি করেই ছবিযুক্ত ভোটার তালিকা, স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সের প্রচলন নির্বাচনে পেশিশক্তি ও অর্থের ব্যবহার বন্ধ; নির্বাচনে অংশগ্রহণেচ্ছুক প্রার্থীর সম্পদের বিবরণী প্রকাশ, চাকরি থেকে অবসর গ্রহণের পরপরই প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের পথ বন্ধ করা, তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের মাধ্যমে সম্ভাব্য জনপ্রতিনিধির তালিকা প্রণয়ন এবং সেখান থেকে মনোনয়ন প্রদান, প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের মধ্য থেকে নির্বাচন পরিচালনার জন্য প্রিজাইডিং ও পোলিং অফিসার নিয়োগসহ যে যে প্রক্রিয়ায় একটি নির্বাচন কলুষিত হতে পারে তার বিভিন্ন সংস্কার সাধন করা হয়। বিএনপি-জামাত জোটের নির্দেশনায় প্রণীত ভৌতিক ভোটার তালিকা হতে ১ কোটি ২৩ লাখ ভুয়া ভোটার বাদ দেয়া হয়।
২০০৮ সালের ডিসেম্বরে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে জয়যুক্ত হয়ে পুনরায় রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বভার গ্রহণ করে। শুরু হয় নতুন দিনের পথ চলা। ১৯৭১-৭৫ এবং ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদে বাংলাদেশের সামগ্রিক উন্নয়নে যে সকল জনমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছিল তা পুনরায় প্রাণ ফিরে পায়। ‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানকে’ স্বরূপে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়। নির্বাচন কমিশন, বিচার বিভাগ, আইন সভা ও নির্বাহী বিভাগসহ সকল স্তরে প্রাতিষ্ঠানিক উন্নতি সাধনে ব্যাপক কর্মপরিকল্পনা গৃহীত ও বাস্তবায়িত হতে শুরু করে।
ক্স ইতোমধ্যে একটি স্বাধীন নির্বাচন কমিশন, নির্বাচন কমিশনের জন্য স্থায়ী সচিবালয় এবং নির্বাচন কমিশনের জন্য আর্থিক স্বাধীনতা সুনিশ্চিত করা হয়েছে। নির্বাচন প্রক্রিয়ায় সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও আধুনিকায়ন নিশ্চিত করা হয়েছে এবং সময়ে সময়ে প্রয়োজনমতো সকল ধরনের সংস্কার সাধন করা হচ্ছে। অর্থাৎ, এক কথায় একটি স্বাধীন নির্বাচন কমিশন প্রতিষ্ঠার জন্য যা যা করা দরকার তার প্রায় সকল কিছুই পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
এমন কী সার্চ কমিটির মাধ্যমে সর্বজন গ্রাহ্য ব্যক্তিদের মহামান্য রাষ্ট্রপতি কর্তৃক সংবিধান অনুযায়ী প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনার পদে নিয়োগদানের প্রক্রিয়া গৃহীত হয়েছে। একটি বিষয় উল্লেখ না করলেই নয়, আজ পর্যন্ত বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশনের সংস্কার এবং নির্বাচন প্রক্রিয়ার উন্নয়নে যে সকল গুণগত পরিবর্তন এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গৃহীত হয়েছে, তার প্রায় সবগুলোই সম্পন্ন হয়েছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কর্তৃক দেশ পরিচালনার সময়ে।
১৯৭২ সালের ঞযব জবঢ়ৎবংবহঃধঃরড়হ ড়ভ ঃযব চবড়ঢ়ষব ঙৎফবৎ (নির্বাচন কমিশন এবং নির্বাচন প্রক্রিয়া ও ব্যবস্থাপনার মূল ভিত্তি হিসেবে পরিগণিত) প্রণীত হওয়ার পর দীর্ঘ সময়ে নির্বাচন সংক্রান্ত ২-৩টি অধ্যাদেশ/আইন প্রণয়ন করা হলেও প্রয়োজনীয় সকল আইন বা অধ্যাদেশই আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০০৯-১৬ এই সময়ের মাঝে সম্পাদিত হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে জাতীয় ও স্থানীয় সরকার নির্বাচন সংক্রান্ত প্রায় ৩২টি অধ্যাদেশ/আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। আর এ সকল কিছুরই একমাত্র লক্ষ্য হচ্ছে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠান করা; অর্থাৎ সংবিধান অনুযায়ী মানুষের ভোটাধিকার সুনিশ্চিত করা।
২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে নির্বাচনে আগ্রহী বাংলাদেশের সকল রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে যাতে একটি অবাধ, নিরপেক্ষ ও সকলের নিকট গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, সে লক্ষ্যে একদিকে যেমন পৃথিবীর অন্যান্য গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের ন্যায় নির্বাচন কমিশনের প্রয়োজনীয় সকল ক্ষমতা ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হয় অপরদিকে নির্বাচনকালীন সময়ের জন্য (তফসিল ঘোষণার সময় হতে) ব্যতিক্রমীভাবে বাংলাদেশে জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী সকল দলের অংশগ্রহণে একটি ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকার’ গঠন করার উদ্যোগ নেয়া হয়। কিন্তু জননেত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক বারবার আহ্বান জানানো সত্ত্বেও তৎকালীন বিরোধী দল বিএনপি-জামাত জোট উক্ত সরকারে বা নির্বাচনে অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকে।
ক্স নির্বাচনে সকল দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার জন্য তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা স্বয়ং ঐ সময়ের বিরোধী দলের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে নির্বাচন ও নির্বাচনকালীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ জানান, এমনকি তাদের পছন্দনীয় নির্বাহী বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব অর্পণেরও প্রস্তাব করা হয়। কিন্তু বিএনপি-জামাত জোট নেত্রী গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান ও দেশের বিরাজমান সকল আইন-কানুনের প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শন করে জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের পদত্যাগ দাবি করেন।
বিএনপি-জামাতের এই অশুভ জোট নির্বাচন বা নির্বাচনকালীন সরকারে অংশগ্রহণের পরিবর্তে নির্বাচন প্রতিহত করার নামে সারাদেশে এক নজিরবিহীন সন্ত্রাসী কর্মকা-ে মেতে ওঠে। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে ভূলুণ্ঠিত করার অভিপ্রায়ে তারা একদিকে যেমন নির্বাচনী কেন্দ্রে অগ্নিসংযোগ করে অপরদিকে গণপরিবহন, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ মানুষের যানবাহন ঘরবাড়িসহ বিভিন্ন স্থাপনায় পেট্রল বোমা মেরে অগ্নিসংযোগের মাধ্যমে সারাদেশে এক বিভীষিকাময় পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। এমনকি সরাসরি গণমানুষকে লক্ষ করে পেট্রল বোমা নিক্ষেপ করে; যার ফলে বহু মানুষ নির্মমভাবে মৃত্যুবরণ করে ও অসংখ্য মানুষ মারাত্মকভাবে অগ্নিদগ্ধ হয়ে পঙ্গুত্ববরণ করেছে। দেশি-বিদেশি নানা ধরনের অস্ত্র ও লাঠিসোটা নিয়ে তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যসহ সাধারণ মানুষের ওপর নির্বিচারে আক্রমণ চালায়।
বিএনপি-জামাত জোট এবং তাদের পূর্বসূরি স্বৈরশাসকদের শাসনকাল পর্যালোচনা করলে একটি বিষয় সহজেই পরিস্ফুট হয়ে ওঠে, এই অপশক্তি কখনোই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় বিশ্বাসী নয়।
ক্স বিএনপি ও জামাতের সমর্থন ও প্ররোচনায় ২০১৩ সালে হেফাজতিদের তা-ব, নির্বাচিত সরকার পতনের নীল নকশা; ২০১৪ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ভ-ুল করে গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রা রুদ্ধ করার অপচেষ্টা এবং ২০১৫ সালের পেট্রল বোমা মেরে মানুষ পুড়িয়ে ও অর্থ-সম্পদ ধ্বংস করে বাংলাদেশের সামগ্রিক উন্নয়নকে থামিয়ে দেয়া, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কাজকে ভ-ুল করা, গণতন্ত্র ধ্বংস এবং জনগণের ম্যান্ডেটের পরিবর্তে অন্য কোনো অবৈধ প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল করে জনগণের সহায় সম্পদ লুণ্ঠন করাই এই জোটের প্রধান লক্ষ্য।
জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের আলোকে গণতন্ত্র ও জনমানুষের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে অঙ্গীকারাবদ্ধ। পূর্বেই উল্লেখ করা হয়েছে, প্রতিবেশী বিভিন্ন গণতান্ত্রিক দেশসহ পৃথিবীর অন্যান্য গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের ন্যায় বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশনকে প্রয়োজনীয় ক্ষমতা ও আইনের মাধ্যমে একটি কার্যকর নির্বাচন কমিশনে পরিণত করা হয়েছে। সার্চ কমিটির মাধ্যমে নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠনের বিধান করা হয়েছে। এতদ্সত্ত্বেও যদি কোনো গোষ্ঠী বা সংস্থা দেশের সংবিধান বা বিরাজমান আইন-কানুনের বাইরে গিয়ে অন্য কোনো পন্থায় রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখলের ষড়যন্ত্রে মেতে ওঠে তা দেশের শান্তিকামী জনগণ কখনই মেনে নিবে না।

সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন
স্বাধীনতার পর হতে বিভিন্ন সময়ে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশের নির্বাচনের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, বেগম খালেদা জিয়া ও তার পূর্বসূরি স্বৈরশাসক এরশাদ ও জিয়াউর রহমানের শাসনকালে নানাভাবে সমগ্র নির্বাচন প্রক্রিয়াকে বারবার কলুষিত করা হয়েছে। এমনকি অবৈধভাবে ক্যান্টনমেন্টে জন্ম নেয়া বিএনপি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বঘোষিত খুনিদের দিয়ে রাজনৈতিক দল সৃষ্টি করে সেই রাজনৈতিক দলকে নিয়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচন করে তাকে জাতীয় সংসদের বিরোধী দলের আসনে বসায়। বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী জামায়াত-ই-ইসলামী এবং বঙ্গবন্ধুর স্বঘোষিত খুনিদের রাজনৈতিক দল ফ্রিডম পার্টির হাতে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা তুলে দিয়ে, শুধু যে নির্বাচন ব্যবস্থারই ধ্বংস সাধন করা হয়েছিল তাই নয়, এই অপশক্তি বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকেই নস্যাৎ করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছিল।
একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য যে সকল বিষয়গুলি অতীব গুরুত্বপূর্ণ তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছেÑ
১. একটি স্বাধীন ও কার্যকর নির্বাচন কমিশন গঠন।
২. নির্বাচনকালীন সময়ে নির্বাহী বিভাগের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়/সংস্থার দায়িত্বশীলতা।
৩. নির্বাচন কমিশন সচিবালয় ও এর মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা/কর্মচারীদের দায়িত্বশীল ও নিরপেক্ষ আচরণ।
৪. ছবিযুক্ত একটি নির্ভুল ভোটার তালিকা এবং ভোট গ্রহণের দিন নির্বাচন কেন্দ্রের সার্বিক নিরাপত্তা।
৫. নির্বাচন পরিচালনায় বেসরকারি সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা/কর্মচারীদের পরিবর্তে কেবলমাত্র প্রজাতন্ত্রের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা/কর্মচারীদের প্রিজাইডিং অফিসার/সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার/পোলিং অফিসার পদে নিয়োগ করা।
৬. আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত সদস্যদের নিরপেক্ষ ও দায়িত্বশীল আচরণ।
৭. দেশি/বিদেশি পর্যবেক্ষক থেকে শুরু করে মিডিয়া ও সিভিল সোসাইটির সদস্যদের নির্মোহ তৎপরতা।
৮. নির্বাচনে পেশিশক্তি ও অর্থের প্রয়োগ বন্ধ এবং ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়সহ সকল পর্যায়ের ভোটারের অবাধ ভোটদানের সুযোগ নিশ্চিত করা।
৯. নির্বাচনের পূর্বে ও পরে এবং নির্বাচনের দিন ভোটারসহ সর্বসাধারণের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
১০. নির্বাচনকালীন সময়ে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ নির্বাচন পরিচালনার জন্য আবশ্যকীয় সকল সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানকে নির্বাচন কমিশনের তত্ত্বাবধানে ন্যস্ত করা। এবং
১১. নির্বাচনকালীন সরকারের কর্মপরিধি কেবলমাত্র আবশ্যকীয় দৈনন্দিন (রুটিন) কার্যাবলীর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা।
ওপরে বর্ণিত বিষয়সমূহ তখনই সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্পাদিত হতে পারে যখন প্রতিটি সংস্থা তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথ পালন করবে।
সুষ্ঠু নির্বাচন প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রযন্ত্রের কার্যকর ভূমিকার পাশাপাশি নির্বাচন প্রত্যাশী সম্ভাব্য জনপ্রতিনিধি নির্বাচন (ঝবষবপঃরড়হ) করার ক্ষেত্রেও নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলসমূহের গণতান্ত্রিক ও দায়িত্বশীল আচরণও খুবই জরুরি। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দৃষ্টান্ত অনুসরণযোগ্য।
ক্স বাংলাদেশ আওয়ামী লীগই সর্বপ্রথম ২০০৮-এর নির্বাচনে তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের ভোটের মাধ্যমে জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণে আগ্রহী প্রার্থীদের বাছাই করে পরবর্তীতে নির্বাচন পরিচালনার জন্য সংগঠনের দায়িত্বপ্রাপ্ত জাতীয় নির্বাচনী বোর্ডের মাধ্যমে প্রার্থী চূড়ান্ত করে। প্রায় ১০ (দশ) লক্ষ নেতাকর্মী এই প্রক্রিয়ায় শামিল হয়ে তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করেন।
২০০৯ থেকে ২০১৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এবং বিভিন্ন সময়ে অনুষ্ঠিত স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও প্রার্থী বাছাইয়ের এই ধারা অব্যাহত থাকে। ২০১৯ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও প্রার্থী বাছাইয়ের এই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ বদ্ধ পরিকর।
নির্বাচন প্রক্রিয়ার আর একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল কর্তৃক নিয়োজিত পোলিং এজেন্টদের ভূমিকা। নির্বাচন সংক্রান্ত বিষয়ে পোলিং এজেন্টদের উপযুক্ত প্রশিক্ষণ থাকলে এবং সংশ্লিষ্ট নির্বাচন কেন্দ্রের ভোটারদের মধ্য থেকে পোলিং এজেন্ট নিয়োগ করা হলে নির্বাচনে জাল ভোট প্রয়োগের প্রবণতা প্রায় বন্ধ করা সম্ভব। বিভিন্ন সময়ে লক্ষ্য করা গেছে প্রধান দুই/একটি রাজনৈতিক দল ব্যতীত অন্যান্য রাজনৈতিক দলের পোলিং এজেন্টগণ হয় নির্বাচন কেন্দ্রে যান না অথবা নির্বাচন শুরু হওয়ার ২/১ ঘণ্টার মধ্যেই নির্বাচন কেন্দ্রের বাইরে এসে মনগড়া বিভিন্ন গুজব ছড়াতে থাকে। এ লক্ষ্যে যদিও নির্বাচন আচরণ বিধিমালা প্রণীত হয়েছে, তথাপি সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য রাজনৈতিক দল কর্তৃক নিয়োজিত পোলিং এজেন্ট নিয়োগের ক্ষেত্রে সর্বাধিক সর্তক হওয়া আবশ্যক।
সুষ্ঠু, অবাধ ও সর্বজনগ্রাহ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে নির্বাচনী ব্যবস্থার প্রয়োজনীয় সংস্কার এবং নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা ও সক্ষমতা। এই দুটি বিষয়কে পরিপূর্ণতা দেওয়ার জন্যই বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার ২০০৯ সালে দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই নানাবিধ পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করে চলেছেন, যার সুফল আজকের নির্বাচন কমিশন।
ছবিযুক্ত ভোটার তালিকা প্রণয়ন, স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স ও ই-ভোটিং এর প্রবর্তন, নির্বাচনে অর্থ ও পেশিশক্তির ব্যবহার রোধে নানাবিধ আইন ও বিধি প্রণয়ন, নির্বাচনী আচরণ বিধিমালা তৈরি, তৃণমূলের ভোটের মাধ্যমে প্রার্থী বাছাই, দেয়াল লিখন ও রঙিন পোস্টারের পরিবর্তে সাদা-কালো পোস্টারের প্রবর্তন, নির্বাচন কমিশন সচিবালয় স্থাপন এবং নির্বাচন কমিশনকেই তাদের নিজস্ব জনবল নিয়োগের ক্ষমতা অর্পণ, প্রয়োজনীয় আর্থিক তহবিল প্রদান, সাধারণ প্রশাসনের ওপর নির্বাচনকালীন সময়ে নির্বাচন কমিশনের তত্ত্বাবধান, নির্বাচনী অপরাধ প্রতিরোধে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ও জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে পর্যাপ্ত সংখ্যক ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, এবং যানবাহনের নিয়ন্ত্রণসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সামগ্রিক নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় যে দৃশ্যমান উন্নতি সাধিত হয়েছে তার সকল কিছুর মূলে রয়েছে আওয়ামী লীগ কর্তৃক উপস্থাপিত ২৩ দফা। এমনকি বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সাংবিধানিক পদের অধিকারীদের সমন্বয়ে সার্চ কমিটির মাধ্যমে ইলেকশন কমিশনের প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগ দেয়া হয়েছে।
‘বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন’ পূর্বের যে কোনো সময়ের তুলনায় বর্তমানে সর্বাধিক সক্ষমতা ও দক্ষতার সাথে তাদের দায়িত্ব পালনে সক্ষম হচ্ছে। নির্বাচনে জনমানুষের ভোটাধিকার নিশ্চিতকল্পে দেশরতœ জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার জনগণের কাছে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

তারিখ : ১৮ অক্টোবর ২০১৭, বুধবার, সকাল ১১টা

শ্রেণী:

সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন হবে

03
03

জেলহত্যা দিবসে আওয়ামী লীগের আলোচনা সভা

নির্বাচন নিয়ে বিএনপির সাথে আলোচনার সম্ভাবনা এবং তাদের সহায়ক সরকারের দাবি সরাসরি নাকচ করে দিয়ে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা বলেছেন, আগামী নির্বাচন সংবিধান অনুযায়ী বর্তমান সরকারের অধীনে হবে। কোনো সহায়ক সরকার হবে না, কোনো ভাবনার সরকার হবে না। এ নিয়ে বিএনপির সাথে কোনো আলোচনা করা হবে না, সমঝোতার প্রশ্নই ওঠে না। আর বিএনপিকে নির্বাচনে আনার দায়িত্ব আওয়ামী লীগের নয়। বিএনপি বুঝতে পেরেছে তাদের মিথ্যাচার, মানুষ হত্যা, লুটপাট, ষড়যন্ত্রের রাজনীতির জন্য জনগণ আগামী নির্বাচনেও তাদের প্রত্যাখ্যান করবে। তাই তারা নানা ষড়যন্ত্র করছে।
গত ৩ নভেম্বর বিকেলে রাজধানীর খামারবাড়ির কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে জেলহত্যা দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তব্যে রাখতে গিয়ে দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, আমরা চাই বিএনপি নির্বাচনে আসুক। কিন্তু নির্বাচন নিয়ে ফের ষড়যন্ত্র করা হলে, আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠলে, সন্ত্রাসী কর্মকা-, জ্বালাও পোড়াও করলে কোনোরকম ছাড় দেওয়া হবে না। এসব যারা ফের করবে তাদের মানবতাবিরোধী অপরাধে বিচার করা হবে।
স্মরণ সভায় আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্ব করার কথা থাকলেও অসুস্থতার জন্য তিনি অংশ নেননি। তার পরিবর্তে সভায় সভাপতিত্ব করেন দলটির উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য ও শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু এমপি। আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন সভাপতিম-লীর সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী এমপি, স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম এমপি, শেখ ফজলুল করিম সেলিম এমপি, ড. আবদুর রাজ্জাক এমপি, দলের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ এমপি, ডা. দীপু মনি এমপি, জাহাঙ্গীর কবির নানক এমপি, সিমিন হোসেন রিমি এমপি, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ প্রমুখ। সভা পরিচালনা করেন প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ এমপি ও উপ-প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন।
সভাপতির বক্তব্য রাখতে গিয়ে আমির হোসেন আমু এমপি বলেন, সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন হবে। অন্য কোনো পন্থায় নির্বাচন হবে না। ১৯৯৬ সালে তৎকালীন প্রেক্ষাপটে নির্বাচনকালীন সময়ের জন্য আওয়ামী লীগের তত্ত্বাবধায়ক সরকার দাবির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ যখন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি করেছিল, খালেদা জিয়া তখন বলেছিলেন পাগল আর শিশু ছাড়া কেউ নিরপেক্ষ নয়। এখন তিনি কোন মুখে আবার তত্ত্বাবধায়ক সরকার দাবি করেন?
কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী এমপিও বিএনপির সহায়ক সরকারের দাবি নাকচ করে দিয়ে বলেন, সংবিধান অনুযায়ী আগামী নির্বাচন হবে। আগামী নির্বাচনে জনগণের রায় নিয়ে আবার আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসবে। আদালতের মাধ্যমে হেনস্থা করা হচ্ছে খালেদা জিয়া ও বিএনপির এমন অভিযোগের জবাবে মতিয়া চৌধুরী বলেন, আপনি তো (খালেদা জিয়া) কোর্টকে হেনস্থা করছেন। ১৪৩ বার সময় নিয়েছেন। আপনার ভাষায় বলতে চাই, আপনিই আদালতকে হেনস্থা করছেন। আদালত আপনাকে হেনস্থা করছে না।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম এমপি বলেন, সাংবাদিক ভাইদের বলছি লিখে রাখুন। আগামী নির্বাচন সংবিধান অনুযায়ী হবে। ২০১৯ সালে বিজয়ের মাসে এই নির্বাচন হবে। বিএনপির আন্দোলনের হুমকির জবাবে তিনি বলেন, আন্দোলনের ভয় দেখিয়ে কোনো লাভ নেই। আওয়ামী লীগ আন্দোলনে চ্যাম্পিয়ন। আমরা মার খেয়ে মাঠে থেকেছি। বিএনপির মতো আওয়ামী লীগ নয়। বিএনপিকে জনপ্রিয়তা যাচাইয়ের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে তিনি বলেন, যদি সাহস থাকে আগামী নির্বাচনে আসেন। নির্বাচনের মাঠ থেকে পালাবেন না। দেখব জনগণ কাকে চায়। মিথ্যাচার, মানুষ হত্যা, লুটপাট, ষড়যন্ত্রের রাজনীতির জন্য জনগণ বিএনপিকে প্রত্যাখ্যান করবে। খালেদা জিয়া ও বিএনপি নেতারা সিরিয়াল মিথ্যাবাদী হিসেবে মন্তব্য করে তিনি বলেন, তাদের মিথ্যার জবাব আগামী নির্বাচনে বাংলার জনগণ দেবে।
বিএনপির সহায়ক সরকারের দাবি প্রত্যাখ্যান করে আওয়ামী লীগ সভাপতিম-লীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম এমপি বলেন, কোনো সহায়ক সরকার হবে না, কোনো ভাবনার সরকার হবে না। আগামী নির্বাচন সংবিধান অনুযায়ী হবে। আপনারা (বিএনপি) আসলে আসবেন, না আসলে রাস্তায় গিয়ে চিৎকার করুন। আপনাদের সাথে কোনো কথা হবে না। এরা একাত্তরের ও পঁচাত্তরের খুনি। খুনিদের সাথে কোনো আলোচনা হবে না। আর বিএনপিকে নির্বাচনে আনার দায়িত্ব আওয়ামী লীগের নয়। বিএনপির আন্দোলনের হুমকির জবাবে আওয়ামী লীগের এ নেতা বলেন, আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠলে, সন্ত্রাসী কর্মকা-, জ্বালাও পোড়াও করলে ছাড় দেওয়া হবে না। মানবতাবিরোধী অপরাধে বিচার হবে। স্বাধীনতা বিরোধী, বিএনপিকে অপশক্তি হিসেবে উল্লেখ করে তিনি দলের নেতা-কর্মীদের সব অপশক্তির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ ও সজাগ থাকার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্যে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি বলেন, ১৫ আগস্ট ও ৩ নভেম্বরের হত্যাকা-ের নেপথ্যে যারা জড়িত তাদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। নইলে কলঙ্কিত ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি হতে পারে। অসুস্থতার কারণে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করতে পারেন নি জানিয়ে তিনি বলেন, ওনার (প্রধানমন্ত্রী) অস্ত্রোপচারের পর ওনার যতটুকু বিশ্রামে থাকার কথা ছিল উনি তা ছিলেন না। তিনি চাপ নিয়ে কাজ করেছেন। উনি এ রকম জাতীয় দিবসের কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন নি এমনটা ঘটেনি। উনি অসুস্থতার কারণে আসতে পারেনি।

জেলহত্যা দিবস পালিত
গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং শহীদ জাতীয় চার নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী ও এএইচএম কামারুজ্জামানকে স্মরণ করল কৃতজ্ঞ বাঙালি জাতি। পলাতক খুনিদের দেশে ফিরিয়ে এনে আদালতের রায় কার্যকর, বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতার আদর্শ বাস্তবায়ন করার প্রত্যয় এবং শহীদের কবরে শ্রদ্ধাঞ্জলি, আলোচনা সভা, মিলাদ ও দোয়া মাহফিলসহ নানা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে গত ৩ নভেম্বর ঢাকাসহ সারাদেশে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে শোকাবহ জেলহত্যা দিবস। দেশের ইতিহাসে অন্যতম বর্বরোচিত এই কালো অধ্যায়টিকে স্মরণ করে দেশবাসী। দিবসটির প্রতিটি অনুষ্ঠানেই একাত্তরের পরাজিত শক্তি ও তাদের দোসরদের আগামী নির্বাচনসহ সর্বক্ষেত্রে পরাজিত করে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের ক্ষুধা-দারিদ্র্য-সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদমুক্ত অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অসুস্থ থাকায় তার পক্ষে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও জাতীয় তিন নেতার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন দলের সিনিয়র মন্ত্রী-নেতারা। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু এমপি, কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী এমপি এবং জাতীয় চার নেতার অন্যতম শহীদ এম মনসুর আলীর পুত্র স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম এমপি বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তারা বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতির সামনে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন।
পরে দলীয় নেতা-কর্মীদের সাথে নিয়ে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন দলের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি। এ সময় আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী এবং ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনগুলোর কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের পর সকাল ৮টায় আওয়ামী লীগের একটি প্রতিনিধি দল বনানী কবরস্থানে জাতীয় তিন নেতা শহীদ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ ও ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলীর কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। এ সময় আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা ও শিল্পমন্ত্রী আমির হোমেন আমু এমপি, কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী এমপি, সভাপতিম-লীর সদস্য এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম এমপি, সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপিসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। বনানী কবরস্থানে পবিত্র ফাতেহা পাঠ, মিলাদ মাহফিল ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। জাতীয় চার নেতার মধ্যে এএইচএম কামারুজ্জামানকে রাজশাহীর কাদিরগঞ্জে তার পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। দিবসটি উপলক্ষে সেখানেও অনুরূপ কর্মসূচি পালিত হয়।
আওয়ামী লীগের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন এবং শাখা কমিটিসমূহ এবং বিভিন্ন দল ও সংগঠন জাতীয় চার নেতাসহ ১৫ আগস্টের নিহত শহীদদের কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করে। দিবসটি পালন উপলক্ষে সকাল সাড়ে ৬টায় বঙ্গবন্ধু ভবন ও দলীয় কার্যালয়সহ দেশের সর্বত্র সংগঠনের শাখা কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ, কালো পতাকা উত্তোলন এবং কালোব্যাজ ধারণ করা হয়।

কেন্দ্রীয় কারাগার স্মৃতি জাদুঘরে শ্রদ্ধাঞ্জলি
পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারের স্মৃতি জাদুঘরে বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতার প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। প্রথমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এমপি। পরে কারা অধিদফতরের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত আইজি প্রিজন ইকবাল হাসান পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন। এরপর আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী এমপি ও সাহারা খাতুন এমপি। পরে আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ এবং কারা কর্মকর্তারা বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতার স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন করেন।

শ্রেণী:

চীন সফরে আওয়ামী লীগ প্রতিনিধি দল

Posted on by 0 comment
31

31দেশটির রাজধানী পেইচিংয়ে গত ২৫ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত বৈঠকে লি জুন বলেন, চীন সরকার মিয়ানমারকে বাংলাদেশের সাথে আলোচনায় বসার জন্য উদ্বুদ্ধ করবে। চীন মনে করে, আঞ্চলিক শান্তির স্বার্থেও মিয়ানমার সরকারের রোহিঙ্গা সমস্যায় স্থায়ী সমাধানে পৌঁছানো উচিত। আওয়ামী লীগের উপ-দফতর সম্পাদক বিপ্লব বড়–য়া টেলিফোনে বৈঠকের এ খবর জানিয়েছেন। বৈঠকে ১৮ সদস্যের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান এমপি।
বৈঠকে ফারুক খান এমপি ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনি এমপি চলমান রোহিঙ্গা সংকটের বিষয় বিস্তারিত তুলে ধরেন এবং রোহিঙ্গাদের ওপর পরিচালিত বর্বরতা ও নিপীড়ন বন্ধ করার কাজে চীন সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন। জবাবে চীনের লি জুন বলেন, তারা রোহিঙ্গা সংকট সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবগত রয়েছেন। চীনা নেতা আরও বলেন, বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের মানবিক আচরণের প্রতি আমাদের সম্মান রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর এমন মানবিক উদ্যোগের প্রতি সম্মান জানিয়ে অনুপ্রবেশকারীদের জন্য ত্রাণ পাঠানো হবে। ত্রাণের মধ্যে থাকবে কম্বল এবং তাঁবু। চীন আরও জানিয়েছে, তাদের সহায়তা চলমান থাকবে এবং রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তার সাথে তাদের দেশে ফিরে যাওয়ার ব্যাপারে আন্তরিকভাবে আন্তর্জাতিক পরিম-লে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
বৈঠকে আওয়ামী লীগের সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক আফজাল হোসেন, আইনবিষয়ক সম্পাদক শ ম রেজাউল করিম, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. শাম্মী আহমদ, উপ-দফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়–য়া, সংসদ সদস্য হাবিবে মিল্লাত, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য নজিবুল্লাহ হিরু, রিয়াজুল কবির কাওছার, দীপঙ্কর তালুকদার ও উপাধ্যক্ষ রেমন্ড আরেং উপস্থিত ছিলেন।

দেশে ফিরেছে আওয়ামী লীগ প্রতিনিধি দল
চায়নিজ কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) আমন্ত্রণে ১৮ সদস্য বিশিষ্ট বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের এক প্রতিনিধি দল ৯ দিনব্যাপী (১৯-২৭ সেপ্টেম্বর) চীনের বিভিন্ন প্রদেশ সফর করে দেশে ফিরেছে। প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য লে. কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ ফারুক খান এমপি। প্রতিনিধি দলের অন্য সদস্যরা হলেনÑ  ডা. দীপু মনি এমপি, ড. শাম্মি আহমেদ, অ্যাডভোকেট শ ম রেজাউল করিম, অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন, দেলোয়ার হোসেন, ফজিলাতুন্নেছা ইন্দিরা এমপি, শামসুন্নাহার চাঁপা, অসীম কুমার উকিল, ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়–য়া, দীপঙ্কর তালুকদার, অ্যাডভোকেট কাজী নজিবুল্লাহ, অ্যাডভোকেট এবিএম রিয়াজুল কবির কাওছার, পারভীন জামান কল্পনা, অধ্যাপক মেরিনা জাহান, উপাধ্যক্ষ রেমন্ড আরেং, হাবিবে মিল্লাত এমপি এবং তরুণ কান্তি দাস।
ফুজিয়ান, জিয়াংজি এবং বেইজিং সফরকালে আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি দলের সাথে সিপিসির কেন্দ্রীয় ইন্টারন্যাশনাল কমিটির ভাইস মিনিস্টার লি জুন-সহ সিনিয়র নেতাদের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

শ্রেণী:

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ : বর্তমান নেতৃত্বের এক বছর

Posted on by 0 comment
28

28উত্তরণ প্রতিবেদন: বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বর্তমান কার্যনির্বাহী সংসদের মেয়াদ এক বছর পূর্ণ হতে চলেছে। গত ২০১৬ সালের ২২ ও ২৩ অক্টোবর অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অধিবেশনে কাউন্সিলরদের ভোটে টানা অষ্টমবার সভাপতি নির্বাচিত হন বঙ্গবন্ধু-কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা এমপি এবং প্রথমবার সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন ওবায়দুল কাদের এমপি। কার্যনির্বাহী সংসদেও স্থান পায় এক ঝাঁক নতুন মুখ। নতুন নেতৃত্ব গত এক বছরে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা, বিভাগীয় প্রতিনিধি সভা, জেলা কর্মীসভা, জেলা কমিটি অনুমোদন, কয়েকটি সহযোগী সংগঠনের কাউন্সিল অধিবেশন, সবগুলো উপ-নির্বাচনে জয়লাভ, জেলা পরিষদ নির্বাচনসহ স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জনসহ সাংগঠনিক কাঠামো শক্তিশালীকরণে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। গত এক বছরে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের পালনীয় দিবস ও নিয়মিত কর্মসূচির বাইরে উল্লেখযোগ্য সাংগঠনিক কর্মসূচির সংক্ষিপ্ত চিত্র উত্তরণ পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো-
• গত ৮ নভেম্বর ২০১৬, দুপুর ২টায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নবনির্বাচিত কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ ও উপদেষ্টা পরিষদের প্রথম যৌথসভা চিরনিদ্রায় শায়িত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিস্থল টুঙ্গিপাড়ায় অনুষ্ঠিত হয়। আওয়ামী লীগের নতুন নেতৃত্ব জাতির পিতার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন, মাজার জিয়ারত ও দোয়া মাহফিলে অংশগ্রহণ করেন।
• ৯ নভেম্বর ২০১৬, সন্ধ্যা ৬টায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নবনির্বাচিত কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ ও উপদেষ্টা পরিষদের যৌথ মূলতবি সভা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভাপতি ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী দেশরতœ জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবন গণভবনে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভাপতি দেশরতœ জননেত্রী শেখ হাসিনা।
• জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকগণ যাতে প্রয়োজনের সময় সংগঠনের সভাপতি জননেত্রী শেখ হাসিনার সাথে সাক্ষাৎ করতে পারেন সে ব্যবস্থা করা হয়েছে।
• দেশব্যাপী শক্তিশালী সাংগঠনিক ইউনিটি নিশ্চিত করার জন্য একটি তথ্যভা-ার তৈরি করার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে আরও গতিশীল করার লক্ষে জেলা/উপজেলার দলীয় কার্যালয়ের স্থায়ী/অস্থায়ী ঠিকানা ও ফোন নম্বর। জেলা/উপজেলার সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকের নাম, আবাসিক ঠিকানা ও ফোন নম্বর। জেলা/উপজেলার প্রচার, উপ-প্রচার, দফতর, উপ-দফতর, তথ্য ও গবেষণা এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদকের নাম ও ফোন নম্বর সংগ্রহ এবং তাদের সাথে যোগাযোগ বৃদ্ধি করার পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
• ১ জানুয়ারি ২০১৭, সকাল ১১টায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সম্পাদকম-লীর এক জরুরি সভা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমন্ডিস্থ রাজনৈতিক কার্যালয়ে (বাড়ি-৫১/এ, সড়ক-৩/এ, ধানমন্ডি আ/এ, ঢাকা) অনুষ্ঠিত হয়।
• ৪ জানুয়ারি ২০১৭, সন্ধ্যা ৬টায় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবন গণভবনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ ও উপদেষ্টা পরিষদের যৌথসভা অনুষ্ঠিত হয়।
• ১১ জানুয়ারি ২০১৭, বিকেল ৪টায় নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে রাষ্ট্রপতির সাথে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের এক মতবিনিময় সভা বঙ্গভবনে অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভাপতি দেশরতœ জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ১৯ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল বঙ্গভবনে অনুষ্ঠিতব্য মতবিনিময় সভায় অংশগ্রহণ করেন।
• ১৯ জানুয়ারি ২০১৭, সকাল ১১টায় খুলনা ইউনাইটেড ক্লাব অডিটরিয়ামে (খুলনা সিটি কর্পোরেশন ভবন সংলগ্ন) খুলনা বিভাগের অন্তর্গত সকল জেলা/মহানগরসমূহের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, দলীয় সংসদ সদস্যবৃন্দ, দল সমর্থিত জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানবৃন্দ, সকল উপজেলা কমিটি ও জেলা সদরের পৌর কমিটির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, দল সমর্থিত উপজেলা চেয়ারম্যান এবং দল মনোনীত পৌর মেয়রগণের এক যৌথসভা অনুষ্ঠিত হয়।
• ২৯ জানুয়ারি ২০১৭, সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে রংপুর জেলা স্কুল মাঠ প্রাঙ্গণে রংপুর বিভাগের অধীন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সকল জেলা, উপজেলা ও পৌরসভা শাখাসমূহের এক যৌথ কর্মীসভা অনুষ্ঠিত হয়।
• ৩০ জানুয়ারি ২০১৭, সন্ধ্যা ৮টা ৩০ মিনিটে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ ও উপদেষ্টা পরিষদের এক জরুরি যৌথসভা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভাপতি ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী দেশরতœ জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবন গণভবনে অনুষ্ঠিত হয়।
• ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, দুপুর ২টায় কক্সবাজার স্টেডিয়াম প্রাঙ্গণে কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে এক প্রতিনিধি সভা অনুষ্ঠিত হয়।
• ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, দুপুর ৩টায় জাতীয় গণগ্রন্থাগারের শওকত ওসমান মিলনায়তনে ‘ট্যানারি শিল্প স্থানান্তর-পরিবেশ সংরক্ষণ ও জাতীয় উন্নয়ন’ শীর্ষক এক সেমিনারের আয়োজন করে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।
• ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে রাজশাহী মাদ্রাসা মাঠ প্রাঙ্গণে রাজশাহী বিভাগের অধীন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সকল জেলা, উপজেলা ও পৌরসভা শাখাসমূহের এক যৌথ কর্মীসভা অনুষ্ঠিত হয়।
• ৪ মার্চ ২০১৭, রাজধানী ঢাকার কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটশন মিলনায়তনে বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভাপতি ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী দেশরতœ জননেত্রী শেখ হাসিনা। সম্মেলনে বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি সাফিয়া খাতুন এবং সাধারণ সম্পাদক মাহমুদা বেগম ক্রিক নির্বাচিত হন।
• ১১ মার্চ ২০১৭, রাজধানী ঢাকার কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটশন মিলনায়তনে বাংলাদেশ যুব মহিলা লীগের জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভাপতি ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী দেশরতœ জননেত্রী শেখ হাসিনা। সম্মেলনে বাংলাদেশ যুব মহিলা লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি নাজমা আকতার এবং সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক অপু উকিল নির্বাচিত হয়েছেন।
• ১৯ মার্চ ২০১৭, রাজধানী ঢাকার কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটশন মিলনায়তনে বাংলাদেশ তাঁতী লীগের জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভাপতি ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী দেশরতœ জননেত্রী শেখ হাসিনা। সম্মেলনে ইঞ্জিনিয়ার মো. শওকত আলী বাংলাদেশ তাঁতী লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি এবং শ্রী খগেন্দ্র চন্দ্র দেবনাথ সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।
• ১ এপ্রিল ২০১৭, বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার মিসেস এ্যলিসন ব্লেইক আওয়ামী লীগ সভাপতি জননেত্রী শেখ হাসিনার ধানমন্ডিস্থ রাজনৈতিক কার্যালয় পরিদর্শন করেন।
• ২ এপ্রিল ২০১৭, সকাল ১০টায় ঠাকুরগাঁও জেলা আওয়ামী লীগের বিশেষ বর্ধিত কর্মীসভা অনুষ্ঠিত হয়।
• ৩ এপ্রিল ২০১৭, সকাল ১০টায় পঞ্চগড় জেলা আওয়ামী লীগের বিশেষ বর্ধিত কর্মীসভা অনুষ্ঠিত হয়।
• ১২ এপ্রিল ২০১৭, সন্ধ্যা ৭টায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের এক সভা  গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবন গণভবনে অনুষ্ঠিত হয়।
• ২০ এপ্রিল ২০১৭, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফের নেতৃত্বে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দল সুনামগঞ্জের বিস্তীর্ণ হাওড় এলাকার সর্বশেষ পরিস্থিতি পরিদর্শনে যান। অতঃপর সুনামগঞ্জের বিস্তীর্ণ হাওড় অঞ্চলে বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করে আওয়ামী লীগ।
• ২২ এপ্রিল ২০১৭, সকাল ১০টায় কিং অব চিটাগাং-এ চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের এক প্রতিনিধি সভা অনুষ্ঠিত হয়।
• ২৯ এপ্রিল ২০১৭, সকাল ১০টায় কিং অব চিটাগাং চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের এক প্রতিনিধি সভা অনুষ্ঠিত হয়।
• ৫ মে ২০১৭, বিকেল ৩টায় কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের এক বর্ধিত সভা বুড়িচং উপজেলার নিমসার জুনাব আলী কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত হয়।
• ৬ মে ২০১৭, সকাল ১০টায় চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের এক প্রতিনিধি সভা অনুষ্ঠিত হয়।
• ৭ মে ২০১৭, সকাল ১০টায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমন্ডিস্থ রাজনৈতিক কার্যালয়ে ‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সংসদ সদস্যদের ভূমিকা’ শীর্ষক এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। কর্মশালায় সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। কর্মশালাটি ৭, ৮ ও ৯ মে ২০১৭ তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হয়।
• ২০ মে ২০১৭, সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী দেশরতœ শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবন গণভবনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হয়। বর্ধিত সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভাপতি জননেত্রী শেখ হাসিনা। সভায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ, উপদেষ্টা পরিষদ, জাতীয় পরিষদ সদস্যবৃন্দ, সকল জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, দফতর ও উপ-দফতর সম্পাদক, প্রচার ও প্রকাশনা, উপ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এবং তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদকগণ উপস্থিত ছিলেন।
• ২১ মে ২০১৭, আওয়ামী লীগ সভাপতির কার্যালয়ের পাশে অবস্থিত প্রিয়াংকা কমিউনিটি সেন্টারে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দফতর বিভাগ, তথ্য ও গবেষণা বিভাগ এবং প্রচার ও প্রকাশনা বিভাগের পৃথক সভা অনুষ্ঠিত হয়। এসব সভায় সকল জেলা আওয়ামী লীগের দফতর ও উপ-দফতর সম্পাদক, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক এবং প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এবং উপ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদকগণ উপস্থিত ছিলেন।
• ২২ মে ২০১৭, সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সম্পাদকম-লীর এক জরুরি সভা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমন্ডিস্থ রাজনৈতিক কার্যালয়ে (বাড়ি-৫১/এ, সড়ক-৩/এ, ধানমন্ডি আ/এ, ঢাকা) অনুষ্ঠিত হয়।
• ২১ মে ২০১৭, বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটে আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমন্ডিস্থ রাজনৈতিক কার্যালয়ে দেশের সিনিয়র আইনজীবীদের সাথে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এমপির এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় আইনজীবীদের নতুন সংগঠন ‘বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ’ গঠিত হয়।
• ২৩ মে ২০১৭, সকাল ১০টায় নীলফামারী জেলা আওয়ামী লীগের এক বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হয়।
• ২৪ মে ২০১৭, সকাল ১০টায় গাইবান্ধা জেলা আওয়ামী লীগের এক বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হয়।
• ২৫ মে ২০১৭, সকাল ১০টায় রংপুর জেলা আওয়ামী লীগের এক বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হয়।
• ৩১ মে ২০১৭, বিকেল ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত ধানমন্ডিস্থ প্রিয়াংকা কমিউনিটি সেন্টারে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাথে সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের এক মতবিনিময় সভা ও ইফতার অনুষ্ঠিত হয়।
• ২১ জুন ২০১৭, বিকেলে ঢাকা ক্লাবে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় প্রচার ও প্রকাশনা উপ-কমিটির উদ্যোগে সাংবাদিকদের সম্মানে এক ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
• ২ জুলাই ২০১৭, মৌলভীবাজার জেলার বিভিন্ন বন্যাদুর্গত এলাকায় ত্রাণ বিতরণ করে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।
• ৩ জুলাই ২০১৭, সিলেট জেলার বিভিন্ন বন্যাদুর্গত এলাকায় ত্রাণ বিতরণ করে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।
• ৮ জুলাই ২০১৭, বিকেল ৫টায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের এক সভা গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবন গণভবনে অনুষ্ঠিত হয়।
• ১৩ জুলাই ২০১৭, সকাল ১১টায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সম্পাদকম-লীর এক সভা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমন্ডিস্থ রাজনৈতিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়।
• ১৫ জুলাই ২০১৭, সকাল ১০টায় বরিশাল বিভাগের অধীনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের এক প্রতিনিধি সভা অনুষ্ঠিত হয়।
• ২০ ও ২১ জুলাই ২০১৭ যথাক্রমে বৃহস্পতি ও শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমন্ডিস্থ কার্যালয়ে যশোর জেলা শাখার বিদ্যমান সমস্যা সমাধানকল্পে জেলা ও সংশ্লিষ্ট উপজেলা নেতৃবৃন্দের সাথে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
• ২৯ জুলাই ২০১৭, বিকেল ৪টায় রংপুর টাউন হল মাঠে রংপুর মহানগর আওয়ামী লীগের উদ্যোগে এক বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হবে।
• ৩০ জুলাই ২০১৭, সকাল সাড়ে ১০টায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সম্পাদকম-লীর এক সভা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমন্ডিস্থ রাজনৈতিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়।
• ১০ আগস্ট ২০১৭, সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবন গণভবনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লী ও সম্পাদকম-লীর এক যৌথসভা অনুষ্ঠিত হয়।
• ১৮ আগস্ট ২০১৭, উত্তরাঞ্চলের বন্যাদুর্গত এলাকা পরিদর্শন ও ত্রাণ বিতরণ করেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এমপির নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল। এদিন আওয়ামী লীগের আরেকটি দল জামালপুর ও নওগাঁ জেলায় বন্যাদুর্গত এলাকা পরিদর্শন ও ত্রাণ বিতরণ করে।
• ২৯ আগস্ট ২০১৭, বিকেল ৪টায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সম্পাদকম-লীর এক সভা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমন্ডিস্থ রাজনৈতিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়।
• ৭ সেপ্টেম্বর ২০১৭, সন্ধ্যা ৭টায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের এক সভা গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবন গণভবনে অনুষ্ঠিত হয়।
• ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৭, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক ডা. রোকেয়া সুলতানার নেতৃত্বে এই মেডিকেল টিম কক্সবাজার জেলার উখিয়ায় আশ্রয়রত রোহিঙ্গা শরণার্থীদের চিকিৎসাসেবা প্রদান শুরু করে।
• ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৭, দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কুমিল্লা (দক্ষিণ) জেলা শাখার এক প্রতিনিধি সভা বুড়িচং উপজেলার নিমসার জুনাব আলী কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত হয়।
• ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৭, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ ও সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য কক্সবাজার সফরে যান। ইতোমধ্যে তিনি একাধিকবার রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির পরিদর্শন করেছেন এবং ত্রাণ বিতরণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেছেন। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের একাধিক টিম সেখানে ত্রাণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেছে।
• ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৭, সকাল ৯টায় বঙ্গবন্ধু-কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার ৭১তম শুভ জন্মদিন উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ উপ-কমিটির উদ্যোগে দুস্থ ও অসহায়দের মাঝে রিকশা-ভ্যান বিতরণ কর্মসূচির আয়োজন করে।
• ৩ অক্টোবর ২০১৭, বিকেল ৪টায় আওয়ামী লীগ সভাপতি জননেত্রী শেখ হাসিনার ধানমন্ডিস্থ রাজনৈতিক কার্যালয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাথে সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এবং ঢাকা মহানগরের সকল দলীয় সংসদ সদস্যগণের সাথে এক যৌথসভা অনুষ্ঠিত হয়।

দলের নিয়মশৃঙ্খলা মেনে চলতে হবে
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে বলেছেন, দল যদি করেন তা হলে দলের নিয়মশৃঙ্খলা মেনে চলতে হবে। যারা মানবেন না তারা দল থেকে সরে দাঁড়াবেন। পকেট ভারী করার জন্য খারাপ লোকদের দলে নেবেন না। শৃঙ্খলা যে মানে না তাকে আওয়ামী লীগে রাখার দরকার নেই। তিনি বলেন, প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ সকলের থাকতে পারে। কিন্তু অসুস্থ রাজনীতির প্রতিযোগিতা করবেন না। কর্মীর সংখ্যা এখন কমে গেছে, সবাই এখন নেতা। পোস্টার লিফলেট লাগানোর লোক নেই। ঘরের ভিতর ঘর, মশারীর ভিতর মশারীÑ সহ্য করা হবে না। গত ১৫ সেপ্টেম্বর কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার নিমসার জুনাব আলী কলেজ মাঠে দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে আয়োজিত প্রতিনিধি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি এখন বিএনপি নেই। এ দলটি এখন বাংলাদেশ নালিশ পার্টিতে পরিণত হয়েছে। তারা আন্দোলনের ডাক দেয়, আন্দোলন হয় না। তাই বিএনপিকে নিয়ে বিচলিত হওয়ার বা ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই। তবে আমি ভয় পাই, যখন দেখি আওয়ামী লীগই আওয়ামী লীগকে কাটছে, আওয়ামী লীগ অন্তর্কলহে লিপ্ত হচ্ছে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ যদি আওয়ামী লীগের পরাজয়ের কারণ না হয়, তা হলে নৌকার বিজয় কেউ ঠেকাতে পারবে না। আগামী নির্বাচনে যদি আমরা নিজেদের ক্ষতি না করি তা হলে কেউ আমাদের ক্ষতি করতে পারবে না। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে নৌকার পক্ষে কাজ করতে হবে।
প্রতিনিধি সভায় দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ এমপি বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমাদের অর্জনের কারণেই জনগণ নৌকায় ভোট দেবে।
পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এমপি বলেন, জাতির বৃহৎ স্বার্থে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। অতীত ভুলে গিয়ে জনগণের কাছে যেতে হবে এবং সরকারের উন্নয়নের চিত্র তাদের কাছে তুলে ধরতে হবে।
রেলপথমন্ত্রী মুজিবুল হক এমপি বলেন, শেখ হাসিনাকে আবারও ক্ষমতায় আনতে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সকল ভেদাভেদ ভুলে নৌকার পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আমাদের কাজ করতে হবে।
গ্রন্থনা : রায়হান কবি

শ্রেণী:

‘জনগণের আদালতই সবচেয়ে বড় আদালত’

13
13

যে সংসদ রাষ্ট্রপতি মনোনয়ন করেন, সেই সংসদকে নিয়ে নানা কথা বলা হচ্ছে, এমনকি এমপিদের ক্রিমিন্যালও বলা হচ্ছে। সংসদকে হেয় করে কথা বলা হচ্ছে, এর অর্থ কী? আমরা অনেক সংগ্রাম ও রক্তের বিনিময়ে গণতন্ত্র ফিরিয়ে এনেছি।

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের প্রতি ইঙ্গিত করে প্রধান বিচারপতির করা মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করে বলেছেন, সব কিছু সহ্য করা যায়; কিন্তু পাকিস্তানের সাথে তুলনা সহ্য করা যায় না। আর আমাকে হুমকি দিয়ে কোনো লাভ নেই। আইয়ুব-ইয়াহিয়া, জিয়া-এরশাদ-খালেদা জিয়া দেখেছি। আমি একমাত্র আল্লাহর কাছে সেজদা দেই, আর অন্য কারও কাছে মাথা নত করি না। জনগণের আদালতই সবচেয়ে বড় আদালত, জনগণের শক্তিই বড় শক্তিÑ এটা সবাই মনে রাখবেন। পাকিস্তানের কথা বলে হুমকি দেওয়ার বিচারের ভার আমি জনগণের ওপরই ছেড়ে দিলাম।
প্রধান বিচারপতি রাষ্ট্রপতির সব ক্ষমতা কেড়ে নিতে চান অভিযোগ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশকে স্বাধীন করেছিলেন বলেই তারা (বিচারপতি) ওই পদে বসতে পেরেছেন। যে রাষ্ট্রপতি প্রধান বিচারপতিকে নিয়োগ দেন, সেই রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা দেওয়া হচ্ছে না বলেই তাদের এত রাগ ও গোস্বা। দুর্নীতিবাজদের রক্ষা করা তো উচ্চ আদালতের দায়িত্ব না। সংসদ সদস্যদের সম্পর্কে অপমানজনক কথা বলাও তো আদালতের কাজ না। প্রধান বিচারপতি সংসদের সংরক্ষিত নারী আসন নিয়েও কথা বলেছেন। সংসদ সদস্যদের সাথে এসব সংরক্ষিত নারী এমপিও তো ভোট দিয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করেন। আর নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি প্রধান বিচারপতিকে নিয়োগ দেন। তাই সংরক্ষিত নারী আসন নিয়ে কথা বলার আগে প্রধান বিচারপতির তো উচিত ছিল পদ থেকে সরে যাওয়া। বলতে পারতেন, যেহেতু সংরক্ষিত নারী এমপি ভোট দিয়ে রাষ্ট্রপতি নিয়োগ দিয়েছেন, তাই আমি এই পদে থাকব না।
২১ আগস্ট ভয়াল গ্রেনেড হামলার ১৩তম বার্ষিকী উপলক্ষে খামারবাড়ির কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী ষোড়শ সংশোধনী নিয়ে প্রধান বিচারপতির দেওয়া পর্যবেক্ষণের কিছু অসংগতি তুলে ধরে বলেন, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা নিয়ে বিএনপির ফরমায়েশি রিপোর্ট দেওয়া বিচারপতি জয়নুল আবেদনের দুর্নীতির তদন্ত দুদক যাতে না করতে পারে সেজন্য প্রধান বিচারপতি চিঠি লিখলেন। কিন্তু তদন্ত করা যাবে না কেন? একজন দুর্নীতিবাজকে রক্ষা করা তো প্রধান বিচারপতির কাজ নয়। এটা তো সংবিধান পরিপন্থী, লঙ্ঘনের শামিল। গণপরিষদের সদস্যদের করা আইন প্রধান বিচারপতির পছন্দ নয়, উনার পছন্দ অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে মার্শাল ল’ অর্ডিন্যান্সের মাধ্যমে জিয়াউর রহমানের জারি করা সুপ্রিম জুডিসিয়াল কাউন্সিল! বিতর্কিত ও দুর্নীতিবাজদের রক্ষা করতেই কী তার জুডিসিয়াল কাউন্সিল পছন্দ? রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা কেড়ে নেওয়া এ কোন ধরনের দাবি? বিএনপি আমলে অনেক বিতর্কিত, দুর্নীতিবাজ, ভুয়া সনদধারীকে বিচারপতি নিয়োগ দিয়ে উচ্চ আদালতের পবিত্রতা নষ্ট করে গেছে। সুপ্রিম জুডিসিয়াল কাউন্সিল হলে তো কারোরই বিচার হবে না।
আলোচনায় অংশ নেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু এমপি, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ এমপি, দলটির সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি, সভাপতিম-লীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম এমপি, জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এমপি, ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি ও বিমানমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন এমপি, জাসদ সভাপতি ও তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু এমপি, সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়–য়া, তরিকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান নজিবুল বশর মাইজভা-ারী এমপি, জাসদের কার্যকরী সভাপতি মইন উদ্দীন খান বাদল এমপি, কথাসাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলন ও আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম এমপি। সভা পরিচালনা করেন কেন্দ্রীয় প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ এমপি ও উপ-প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন। আলোচনা সভা শেষে অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় নিহতদের পরিবার ও আহত নেতাকর্মীর সাথে কথা বলেন এবং তাদের সার্বিক খোঁজখবর নেন।
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে ষোড়শ সংশোধনী নিয়ে উচ্চ আদালতের পর্যবেক্ষণের সমালোচনা করে বলেন, হঠাৎ করেই দেখছি উচ্চ আদালত থেকে নানা কথাবার্তা বলা হচ্ছে, লেখা হচ্ছে এবং হুমকি দেওয়া হচ্ছে। যে সংসদ রাষ্ট্রপতি মনোনয়ন করেন, সেই সংসদকে নিয়ে নানা কথা বলা হচ্ছে, এমনকি এমপিদের ক্রিমিন্যালও বলা হচ্ছে। সংসদকে হেয় করে কথা বলা হচ্ছে, এর অর্থ কী? আমরা অনেক সংগ্রাম ও রক্তের বিনিময়ে গণতন্ত্র ফিরিয়ে এনেছি। তিনি বলেন, পুরো দায়িত্বই যেন নিতে চাইছেন।
তিনি বলেন, একটি আইন পাস করতে গেলে অনেক পর্যায় পার হতে হয়। সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটের মাধ্যমে সংবিধান সংশোধন পাস করা হয়। আর আদালত এক খোঁচায় তা বাতিল করে দেয়। এত সংসদ সদস্য, প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা তাদের কারোরই কোনো জ্ঞানবুদ্ধি নেই, জ্ঞানবুদ্ধি আছে শুধু এক বা দুজনের? অন্য বিচারকরা স্বাধীনভাবে মতামত তুলে ধরতে পেরেছে কি না, এটা নিয়েও কথা আছে। ড. কামাল হোসেনের কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন একজন আইনজীবী সর্বোচ্চ আদালতের সামনে দাঁড়িয়ে অ্যাটর্নি জেনারেলকে যে ভাষায় গালিগালাজ করেছেন, তা কোনো সভ্য মানুষ করতে পারে না। তারা আদালতকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছেন?
‘সংসদ কতদিন চলবে তা ক্যাবিনেট সিদ্ধান্ত নেয়’Ñ প্রধান বিচারপতির পর্যবেক্ষণে এ দাবি অসত্য উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ক্যাবিনেটে সংসদ কতদিন চলবে তা নিয়ে কখনই কোনো আলোচনা বা সিদ্ধান্ত হয় না। সংসদ সম্পর্কে এতটুকু ধারণা থাকলে এ কথা বলতে পারতেন না। ক্যাবিনেট নয়, স্পিকারের সভাপতিত্বে কার্যোপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় সংসদ কতদিন চলবে, কি কি বিষয়ে আলোচনা হবে। এমন বহু অবান্তর কথা বলা হয়েছে পর্যবেক্ষণে। আমরা পূর্ণাঙ্গ রায় ভালো করে পড়ছি এবং অসংগতিগুলো নোট নিচ্ছি। সংসদে এ বিষয়ে আলোচনা হবে। সময় এলে নিশ্চয় সব কিছু জাতির সামনে তুলে ধরা হবে। এটা নিয়ে জাতিকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংসদ সদস্যরা দায়বদ্ধ দেশের জনগণের কাছে। পাঁচ বছর পরপর আমাদের জনগণের আদালতের সামনে দাঁড়াতে হয়। একটি রাজনৈতিক দল যদি নির্বাচনে না আসে সেই দায়িত্ব কার? এটা তো ওই রাজনৈতিক দলেরই সিদ্ধান্তের ব্যাপার। বিএনপি তো সবসময় উত্তরপাড়ার দিকে তাকিয়ে থাকে। কিন্তু উত্তরপাড়া তাকে কোনো সাড়া দেয়নি। আর ড. কামাল হোসেন তো কোনোদিন সরাসরি ভোটে জিততে পারেন নি। বঙ্গবন্ধুর ছেড়ে দেওয়া একটি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় তিনি নির্বাচিত হয়েছিলেন। নিজে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে আবার বড় বড় কথা বলেন কীভাবে? নির্বাচনী আইনেই রয়েছে কোনো আসনে অন্য কোনো প্রার্থী না থাকলে মনোনয়নপত্র দাখিলকারী প্রার্থীই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হবেন। কোনো দল নির্বাচনে না এলে কিংবা প্রার্থী না দিলে সংসদের বৈধতা বা অবৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে না।
দেশবাসীর ওপর বিচারের ভার ছেড়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যে পাকিস্তানকে আমরা যুদ্ধ করে পরাজিত করেছি, লাখো শহীদের মহান আত্মত্যাগের বিনিময়ে পেয়েছি স্বাধীনতা। যে পাকিস্তান এখন ব্যর্থ রাষ্ট্র সেই দেশটিকে নিয়ে তুলনা করার বিচারের ভার দেশের জনগণের। কারণ, জনগণের আদালতই হচ্ছে সব বড় আদালত। স্বাধীনতা ভালো; কিন্তু তা বালকের জন্য নয়। বালকসুলভ আচরণ ভালো নয়। রাজাকার-আলবদর কিংবা শান্তি কমিটির সদস্যরা ক্ষমতায় এলে দেশের কোনো উন্নয়ন হয় না। একমাত্র মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি ক্ষমতায় থাকলে দেশের উন্নয়ন হয়; আমরা তা প্রমাণ করেছি।
‘কয়েকটা ফ্লাইওভার বা রাস্তা হলেই উন্নয়ন হয় না’ এমন মন্তব্যের সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, কয়েকটা ফ্লাইওভার কিংবা রাস্তা নয়, আমরা দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন করেছি। দেশের মানুষ দুবেলা খেতে পারছে, চিকিৎসা পাচ্ছে, গ্রামের মানুষের আয় বৃদ্ধি পেয়েছে, দেশের ৮০ শতাংশ মানুষ বিদ্যুৎ সুবিধা পাচ্ছে, শতভাগ শিক্ষার্থী স্কুলে যাচ্ছে। এসব উন্নয়ন কি চোখে পড়ে না আমাদের প্রধান বিচারপতির। সারাবিশ্বে আমরা দেশের সম্মান নিয়ে এসেছি। বাংলাদেশ এখন সারাবিশ্বের কাছে উন্নয়নের রোলমডেল। সংবিধান লঙ্ঘন করে কেউ ক্ষমতা দখল করলেই কি উন্নয়ন হবে? সেই অবস্থা আর নেই। সংবিধান লঙ্ঘন করে কেউ ক্ষমতায় এলে তার বিচার হবে। জনতার আদালত সবচেয়ে বড় আদালত, মনে রাখবেন।
২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার জন্য বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও তার পুত্র তারেক রহমানকে দায়ী করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, খালেদা জিয়া, তারেক রহমান, তার মন্ত্রিসভার সদস্য ও গোয়েন্দা সংস্থার লোকরা এ হামলার সাথে জড়িত। আমাকেসহ পুরো আওয়ামী লীগের নেতৃত্বকে নিশ্চিহ্ন করতেই যুদ্ধক্ষেত্রে সশস্ত্র বাহিনীরা যে গ্রেনেড ব্যবহার করে, তা আমাদের সমাবেশে ব্যবহার করা হলো। হামলার পর পিন্টুর ভাই ও কারারক্ষীকে বিমানে পালিয়ে যেতে সাহায্য করা হয়।
তিনি বলেন, ধানমন্ডির ৫ নম্বর রোডে তারেক রহমানের শ্বশুরবাড়ি। ওই বাড়িতে সে দীর্ঘদিন থেকে কি করছিল? ১ আগস্ট ওই বাড়ি ছেড়ে তারেক রহমান ক্যান্টনমেন্টের বাসায় যায়। হামলার আগের দিন ২০ আগস্ট রাতে তারেক রহমানের শ্বশুরবাড়িতে কয়েকটি বড় বাক্স-পেঁটরা নামানো হয়। কিছু সময় পর সেগুলো সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। কি ছিল তাতে? সুপরিকল্পিতভাবে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিকে নিশ্চিহ্ন করতেই এই হামলা চালানো হয়েছিল। ট্রাকের গায়ে না লেগে গ্রেনেডটি যদি ভেতরে পড়ত তবে আমরা কেউ-ই বাঁচতে পারতাম না। আল্লাহ আমাকে রক্ষা করেছেন, মোহাম্মদ হানিফসহ নেতারা মানববর্ম রচনা করে আমাকে রক্ষা করেছেন।

শ্রেণী:

বাংলাদেশের যা কিছু মহৎ অর্জন আওয়ামী লীগই তা করেছে

Posted on by 0 comment
09
09

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

উত্তরণ প্রতিবেদন: প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাঙালি জাতি যা কিছু পেয়েছে এবং বাংলাদেশের যা কিছু অর্জন তা আওয়ামী লীগের হাত ধরেই এসেছে। তাই অতীতে বার বার আওয়ামী লীগের ওপর আঘাত এসেছে, ভাঙার চেষ্টা হয়েছে। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া আওয়ামী লীগের শিকড় অনেক গভীরে বলেই বার বার আঘাত ও ভাঙার চেষ্টা করার পরও কেউ সফল হয়নি। যতবার এই দল ভাঙার চেষ্টা করা হয়েছে, ততবারই আওয়ামী লীগ আরও দৃঢ় উজ্জ্বলতর হয়ে জনগণের সামনে আপন মহিমায় উদ্ভাসিত ও শক্তিশালী হয়েছে। তাই যতই ষড়যন্ত্র হোক, আঘাত আসুক, নীতি-আদর্শ নিয়ে পথ চলা আওয়ামী লীগের বিজয়কে কেউ ঠেকাতে পারেনি, পারবেও না ইনশাআল্লাহ।
গত ২৩ জুন রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে দলের ৬৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া আওয়ামী লীগের শিকড় এতই গভীরে যে, ইস্কান্দার মির্জা থেকে শুরু করে ইয়াহিয়া-জিয়া-এরশাদ-খালেদা জিয়া বার বার আওয়ামী লীগকে ভাঙার চেষ্টা করেছেন; কিন্তু তারা পারেন নি। ওপরের নেতারা মাঝে মাঝে কিছু ভুল করেন; কিন্তু আওয়ামী লীগের তৃণমূলের নেতারা কখনও ভুল করে না। তাই আগামীতেও আওয়ামী লীগের কেউ ক্ষতি করতে পারবে না। সততা নিয়ে রাজনীতি করার জন্য দলের প্রতিটি নেতাকর্মীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবেই। দেশের এই অগ্রযাত্রা কেউ বাধাগ্রস্ত করতে পারবে না।
11বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার প্রতি ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, পবিত্র রমজান মাসে একজন নেত্রী ইফতারের সময় প্রতিদিনই অজ¯্র মিথ্যাচার করে চলেছেন। অথচ উনি ক্ষমতায় থাকতে দেশের জন্য কিছুই করেন নি। বরং নিজেদের বিলাস-ব্যসনে ব্যস্ত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, পঁচাত্তরের পর থেকে যারা ক্ষমতায় এসেছে তারা ভোগ বিলাসেই মত্ত থেকেছে। দেশের মানুষের কথা ভাবে নি। দেশকেও কিছু দিতে পারে নি।
এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শুধু দলের জন্য জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর মন্ত্রিত্ব ছেড়ে দেওয়ার উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, আমাদের দেশে অনেকেই মন্ত্রী হওয়ার লোভে দল ত্যাগ করেন। কিন্তু বঙ্গবন্ধুই একমাত্র নেতা যিনি দলকে শক্তিশালী করে গড়ে তোলার জন্য মন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেছিলেন। আমিও বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও দেখানো পথ অনুসরণ করে জনগণের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছি। তাই আমার চাওয়া-পাওয়া বা হারাবার কিছু নেই। যে দেশের জন্য আমার বাবা-মা ও ভাইরা জীবন দিয়ে গেছেন, সেই দেশের মানুষের জীবনের ভাগ্যের পরিবর্তন, কল্যাণ ও হাসি ফোটানোই আমার রাজনীতির একমাত্র লক্ষ্য। আর সেই লক্ষ্য নিয়েই আমরা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি।
আওয়ামী লীগের দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের স্মৃতিচারণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জন্মলগ্ন থেকে আওয়ামী লীগকে জনগণের অধিকার আদায়ে চার চারটি সামরিক স্বৈরশাসকের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হয়েছে। অনেক আত্মত্যাগ করতে হয়েছে। একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের যে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী আত্মোৎসর্গ করেছে, পৃথিবীর ইতিহাসে কোনো রাজনৈতিক দলের সেই ইতিহাস নেই।
শেখ হাসিনা বলেন, আগামী ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের এবং ২০৪১ সালের মধ্যে বিশ্বের মধ্যে বাংলাদেশকে উন্নত-সমৃদ্ধশালী দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবই ইনশাআল্লাহ।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর সংবিধান লংঘন করে ক্ষমতা দখল করে একাত্তরের গণহত্যাকারী, পরাজিত স্বাধীনতা-বিরোধীদের ক্ষমতায় পুনর্বাসন করেন জেনারেল জিয়া। জিয়া যেমন যুদ্ধাপরাধীদের প্রধানমন্ত্রী-উপদেষ্টা-মন্ত্রী বানিয়েছেন, তার স্ত্রীও বঙ্গবন্ধুর খুনি ফারুক-রশিদকে ১৫ ফেব্রুয়ারি ভোটারবিহীন নির্বাচনে এমপি বানিয়ে সংসদে বসিয়েছেন। যুদ্ধাপরাধীদের জন্য মৃত্যুদ-প্রাপ্ত যুদ্ধাপরাধীদের মন্ত্রী বানিয়ে তাদের হাতে রক্ত¯œাত জাতীয় পতাকা তুলে দিয়েছিলেন। আর এইচএম এরশাদও কম যাননি। বঙ্গবন্ধুর খুনিদের মদদ দেওয়া ছাড়াও এক খুনিকে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী পর্যন্ত করিয়েছিলেন। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর দেশ আবার মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ধারায় ফিরে আসে।
আলোচনা সভায় ইতিহাসবিদ অধ্যাপক ড. অনুপম সেন দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরে বলেন, বাংলাদেশ যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে তাতে আগামী ২০৫০ সালের মধ্যেই সারাবিশ্বের মধ্যে একটি অন্যতম অগ্রসর রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।
শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু এমপি বলেন, পৃথিবীর ইতিহাসে একমাত্র আওয়ামী লীগ চার চারটি সামরিক সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই-সংগ্রাম করে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছে, গণতন্ত্রকে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছে।
বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ এমপি বলেন, বাংলাদেশ এখন বিশ্বের কাছে উন্নয়নের রোল মডেল। শেখ হাসিনা যদি প্রধানমন্ত্রী না হতেন তবে কোনোদিন বঙ্গবন্ধুর খুনি, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হতো না। স্বপ্নের পদ্মা সেতু কোনোদিনই হতো না। তিনি বলেন, দেশের অভূতপূর্ব সাফল্যে বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া আজ হতাশ। তাই অগ্রযাত্রা রুখতে ষড়যন্ত্র করছেন।
কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী এমপি বলেন, বঙ্গবন্ধু যে স্বাধীন পতাকা আমাদের দিয়ে গেছেন, তার কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান সরকারের আমলে সারাদেশে তা গর্বের সাথে মাথা উঁচু করে পতপত করে উড়ছে। আল্লাহর কাছে প্রার্থনা যে ‘পতাকা তারে দিয়েছ, বহিবার শক্তি দাও তারে’।
স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম এমপি বলেন, পৃথিবীর সব শক্তিধর দেশ আন্তর্জাতিক ফোরামে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রশংসা করছেন। আর সারাদেশের মানুষের কণ্ঠে এখন একই আওয়াজÑ ‘শেখ হাসিনার সরকার, বার বার দরকার’। ২০১৯ সালে আগামী নির্বাচনেও খালেদা জিয়াকে পরাজিত করে দেশের মানুষ শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় আনবে।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ এমপি, জাহাঙ্গীর কবির নানক এমপি, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি একেএম রহমত উল্লাহ এমপি, দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ। শুরুতেই আওয়ামী লীগের ৬৭ বছরের দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের ইতিহাসে দলের জন্য আত্মত্যাগকারীদের স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। সভা পরিচালনা করেন কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ এমপি এবং উপ-প্রচার সম্পাদক অসীম কুমার উকিল। আলোচনা শেষে অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মীদের জন্য ইফতারের আয়োজন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
উল্লেখ্য, ২৩ জুন সকালে ধানমন্ডিস্থ বঙ্গবন্ধু ভবনের সামনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে দিবসের সূচনা করেন। এ সময় আকাশে শ্বেত কপোত ও বেলুন উড়ানো হয়। প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন। বিপুল সংখ্যক মানুষও এসব অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।
আগামী ২২ ও ২৩ অক্টোবর আওয়ামী লীগের    ২০তম জাতীয় সম্মেলন
আগামী ২২ ও ২৩ অক্টোবর আওয়ামী লীগের ২০তম সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। গত ১১ জুন গণভবনে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে সম্মেলনের নতুন এই তারিখ নির্ধারণ করা হয়। একই সাথে বর্তমান কমিটির মেয়াদ ছয় মাস বৃদ্ধি করা হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
দেশের প্রাচীন এই রাজনৈতিক দলের সর্বশেষ ত্রি-বার্ষিক কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয় ২০১২ সালের ২৯ ডিসেম্বর। গত ৯ জানুয়ারি দলের কার্যনির্বাহী সংসদের সভায় ২৮ মার্চ সম্মেলনের তারিখ ঘোষণা করা হয়। কিন্তু মার্চের শেষ দিক থেকে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। আর এ জন্য গত ২০ মার্চ দলের কার্যনির্বাহী সংসদের সভায় সম্মেলনের তারিখ পিছিয়ে ১০ ও ১১ জুলাই পুনর্নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু পবিত্র ঈদুল ফিতর ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে সম্মেলনের তারিখ ফের পেছানো হয়েছে।
বৈঠকে খুলনা মহানগর, কিশোরগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, পিরোজপুর, বরিশাল ও নড়াইলসহ প্রায় ১০টি জেলার পূর্ণাঙ্গ কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়।
বৈঠকে বিভিন্ন উপ-কমিটির কাজের অগ্রগতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন মোহাম্মদ নাসিম এমপি, এইচটি ইমাম, সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এমপি, শেখ ফজলুল করিম সেলিম এমপি, ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এমপি, ওবায়দুল কাদের এমপি, কাজী জাফর উল্লাহ, আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ এমপি, ডা. দীপু মনি এমপি, জাহাঙ্গীর কবির নানক এমপি, আকতারুজ্জামান, আবদুর রহমান, ড. আবদুর রাজ্জাক এমপি, ড. হাছান মাহমুদ এমপি, ক্যাপ্টেন (অব.) তাজুল ইসলাম এমপি প্রমুখ।
৬-দফা দিবস পালন
আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতারা বলেছেন, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের চ্যালেঞ্জে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগই জিতবে আর পরাজিত হবে অপশক্তি। একাত্তরের পরাজিত শত্রুরা এখনও দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে। আর এই অপশক্তিকে মদদ জোগাচ্ছেন বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া। এখনও তার মদদে দেশে বিভিন্ন স্থানে হত্যাকা- ঘটছে। কিন্তু আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ থাকলে খালেদা জিয়ার ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন কখনই পূরণ হবে না। ঐতিহাসিক ৬-দফা দিবস উপলক্ষে ৭ জুন বিকেলে গুলিস্তানের মহানগর নাট্যমঞ্চ মিলনায়তনে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ শাখা আওয়ামী লীগের যৌথভাবে আয়োজিত আলোচনা সভায় অংশ নিয়ে তারা এসব কথা বলেন। নানা কর্মসূচির মাধ্যমে যথাযোগ্য মর্যাদায় ঐতিহাসিক ৬-দফা দিবস পালন করা হয়। এদিন সকালে আওয়ামী লীগসহ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন ধানমন্ডির বঙ্গবন্ধুর বাসভবনের সামনে স্থাপিত জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানায়।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ এমপি বলেন, জাতির পিতার ৬-দফা কর্মসূচির মধ্যে দেশের স্বাধীনতার বীজ লুক্কায়িত ছিল। ভারত-পাকিস্তানের তাসখন্দ চুক্তি স্বাক্ষরের কয়েক দিন পরই বঙ্গবন্ধু মুক্তির সনদ ৬-দফা ঘোষণা করেছিলেন। তিনি বলেন, ৬-দফা ঘোষণার পর বঙ্গবন্ধু ৩৫ দিনে ৩২টি জনসভা করেছেন। এর মধ্যে তাকে আটবার গ্রেফতার করা হয়েছে। কিন্তু লক্ষ্যের প্রতি বঙ্গবন্ধু ছিলেন অবিচল। বঙ্গবন্ধুর সেই দৃঢ়চেতা মনোবল আজও তাকে বাংলার মানুষের মণিকোঠায় জায়গা করে দিয়েছে।
তিনি বলেন, পাকিস্তানের কারান্তরীণ থাকা অবস্থাতেও বঙ্গবন্ধু দেশের প্রতি, দেশের মানুষের প্রতি তার মমত্ববোধের স্বাক্ষর রাখেন। কারাগারের পাশে তার জন্য খোঁড়া কবর দেখে ভীত না হয়ে বলেছেনÑ মৃত্যুর পরে বাঙালির কাছে বাংলার মানুষের কাছে তার মৃতদেহ যেন পৌঁছে দেওয়া হয়। জীবন দিয়ে দেশকে আর দেশের মানুষকে ভালোবেসেছেন বঙ্গবন্ধু। আজ তার কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হচ্ছে। গ্রামীণ অর্থনীতির চিত্র আজ বদলে যাচ্ছে। শেখ হাসিনা আজ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। বিশ্ব নেতারা জি-৭ সম্মেলনেও তার নেতৃত্বের প্রশংসা করেছেন।
আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী এমপি বলেন, যে জঙ্গিবাদ আজ বাংলাদেশকে চ্যালেঞ্জ করছে, সেই চ্যালেঞ্জে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা জিতব আর তারা হারবে। বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে হরতাল পালন করতে গিয়ে মনু মিয়ারা যে রক্ত দিয়েছেন, ত্রিশ লাখ শহীদ যে রক্ত দিয়েছে তা আমরা বৃথা যেতে দেব না।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এমপি বলেন, বাংলাদেশ না হলে আমাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা হতো না। বাংলার মানুষের সম-অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য পাকিস্তান বিলুপ্ত করা ছিল সময়ের প্রয়োজন ও ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত। ৬-দফা ঘোষণার পর বঙ্গবন্ধু দেশের প্রতিটি জেলায় গিয়ে জনমত তৈরি করেছেন। তাকে জেল-জুলুমসহ নানা নির্যাতন সহ্য করতে হয়েছে। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর সাহস, ধৈর্য আর নেতৃত্বের দৃঢ়তার কাছে কারোর তুলনা ছিল না। তিনি ধীরে ধীরে বাংলার মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে ৬-দফা বাস্তবায়নের জন্য প্রস্তুত করেছিলেন।
আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ এমপি বলেন, ৪৫ বছর আগে দেশ স্বাধীন হলেও এখনও পাকিস্তানিদের পেতাত্মারা রয়ে গেছে। যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির পর পাকিস্তানের কর্মকা-েই তার প্রমাণ মেলে। ৪৫ বছর পরে এখনও যুদ্ধ থামেনি। এখনও একাত্তরে পরাজিত শক্তি দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে। তাই দেশবিরোধী শক্তির বিপক্ষে এখনও আমাদের যুদ্ধ চালিয়ে যেতে হবে। খালেদা জিয়ার মদদে যেসব গোষ্ঠী এখনও দেশে জঙ্গি কর্মকা- পরিচালনা করছে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।
মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি একেএম রহমতউল্লাহ এমপির সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় নেতা অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন এমপি, আহমদ হোসেন, ড. আবদুর রাজ্জাক এমপি, লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান এমপি, হাবিবুর রহমান সিরাজ, অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন, সুজিত রায় নন্দী, খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম এমপি, মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাসনাত, সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম মুরাদ, উত্তরের সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান প্রমুখ।
আইটি সেক্টরে ২০ লাখ তরুণের কর্মসংস্থান হবে
গত ৬ জুন রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের সেমিনার হলে আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা উপ-পরিষদ আয়োজিত ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ স্বপ্ন নয় বাস্তবতা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম এমপি বলেন, মোবাইল ফোনের ব্যবহারের মধ্য দিয়েই ডিজিটাল বাংলাদেশের যাত্রা শুরু। ১৯৯৬ সালে আমি যখন টেলিযোগাযোগমন্ত্রী ছিলাম, তখন আমাদের ফ্রিকোয়েন্সি অনুযায়ী ৩টি লাইসেন্স দেওয়া যেত, মোরশেদ খানের শুধু লাইসেন্স ছিল। আর কাউকে লাইসেন্স দেওয়া যেন না যায়, তাই মোরশেদ খান মামলা করে রেখেছিলেন। তখন ড. মুহাম্মদ ইউনূস গ্রামীণফোনের চেয়ারম্যান ছিলেন। অনেকবার আমার কাছে এসেছিলেন। উনি (ইউনূস) ছিলেন ৪ নম্বর আবেদনকারী। উনার একটা অভ্যাস ছিল, উনি মার্কিন কংগ্রেসম্যানদের দিয়ে চিঠি পাঠাতেন। আমাকে একদিন প্রধানমন্ত্রী বললেন, নাসিম ভাই আপনি ইউনূস সাহেবকে লাইসেন্স দিয়ে দেন, তদ্বিরে অতিষ্ঠ করে তুলছে। আমি উনাকে গ্রামীণফোনের লাইসেন্স দিলাম। সেই লাইসেন্সের বদলে উনি নোবেল প্রাইজ পেয়ে গেলেন।
সভাপতির বক্তব্যে আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা উপ-পরিষদ চেয়ারম্যান এবং প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম বলেন, অনেকে উচ্চাভিলাষী বাজেট বলে ঠাট্টা করেন। কিন্তু আমাদের মনে রাখা উচিত, উচ্চাকাক্সক্ষা না থাকলে, বড় হওয়ার ইচ্ছে না থাকলে কেউ বড় হতে পারে না। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। এই অগ্রযাত্রা কেউই রুখতে পারবে না। আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেন, বিএনপি-জামাতের ছত্রছায়ায় দেশে টার্গেট কিলিং হচ্ছে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ যখন এগিয়ে যাচ্ছে তখন বাংলাদেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্রে রূপান্তর করতে এই হত্যাকা-। আর খালেদা জিয়ার আঁচলতলে রয়েছেন হত্যাকারীরা। তিনি বলেন, খালেদা জিয়া ‘এমনিতেও ম্যাট্রিক পাস করেন নি, বায়োমেট্রিক পাসও তিনি করেন নি।’
ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম এমপি বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া দাবি করেছেন, তার মোবাইল নেই। শুনেছি, তিনি ল্যান্ডফোনে কথা বলেন। তা হলে তিনি তো এনালগ সিস্টেমেই রয়ে গেছেন। এখন তিনি যদি নতুন করে সিম কেনেন, তা হলে তাকে ভ্যাট-ট্যাক্স ও বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে রেজিস্ট্রেশন করে কিনতে হবে। বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে সিম নিবন্ধনের কারণে অপরাধ কমে যাবে বলে মনে করেন তিনি।
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক এমপি বলেন, ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট করা হচ্ছে। ২ লাখ ৫০ হাজার নারীকে আমরা আইসিটি প্রশিক্ষণ দিয়েছি। আইসিটি ডিভিশন থেকে ৪৫ লাখ মানুষ ২০০ ধরনের সেবা গ্রহণ করছে। ২ লাখ তরুণকে আইসিটি প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। প্রায় ২০ লাখ তরুণের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।
এইচ টি ইমামের সভাপতিত্বে এবং কেন্দ্রীয় উপ-প্রচার সম্পাদক অসীম কুমার উকিলের সঞ্চালনায় সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ মোস্তাফা জব্বার। সেমিনারে আরও বক্তব্য রাখেন বেসিস সভাপতি শামীম আহসানসহ দলের অন্যান্য নেতা।

শ্রেণী:

খালেদা জিয়া ষড়যন্ত্র করছেন

Posted on by 0 comment
26

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সম্মেলন ১০ ও ১১ জুলাই

26উত্তরণ প্রতিবেদন: ‘হাসিনাবিহীন নির্বাচন’-এর নামে বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া আরেকটি ২১ আগস্টের মতো তাকে হত্যার ষড়যন্ত্র করছেন কি-না, সেই প্রশ্ন তুলেছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, হাসিনাবিহীন নির্বাচনের কথা বলে উনি (খালেদা জিয়া) আরও ষড়যন্ত্রের ঘোট পাকাচ্ছেন কি-না? এ ছাড়া তার সামনে আর কোনো পথ নেই। উনি তো ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত ছাড়া আর কিছুই বোঝেন না। আরেকটি ২১ আগস্টের মতো আবারও গ্রেনেড হামলা আমাকে হত্যার ষড়যন্ত্র করছেন কি-না কে জানে। তবে রাখে আল্লাহ মারে কে। শকুনের দোয়ায় কখনও গরু মরে না। আল্লাহ যতদিন জীবন রেখেছেন, ততদিন দেশের মানুষের মঙ্গলের জন্য কাজ করে যাব। কোনো ষড়যন্ত্রই আমাকে এ ব্যাপারে রুখতে পারবে না। গত ২০ মার্চ রাতে তার সরকারি বাসভবন গণভবনে আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে সভাপতির সূচনা বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী ১৯ মার্চ বিএনপির সম্মেলনে দলটির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বক্তব্যেরও জবাব দেন। ‘ঢাকার বাইরে আন্দোলন সফল হয়েছে’Ñ খালেদা জিয়ার এমন দাবির জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঢাকার বাইরে আন্দোলনের নামে অনেক মানুষকে হত্যা করতে পেরেছেন, এটাই কী তার বড় তৃপ্তি? ওই সময় ১৫-১৬টি জেলায় বিএনপি-জামাত জোট তা-ব চালিয়েছে। শত শত মানুষকে পুড়িয়ে মেরে এখন উনি তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলছেন! আসলে এরা মানুষ নয়, মানুষ নামের অমানুষ।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠকের শুরুতেই প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুুর রহমানের তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে তার স্মরণে এক মিনিট দাঁড়িয়ে নীরবতা পালন করা হয়। সভায় গত ২৮ মার্চ নির্ধারিত আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন পিছিয়ে আগামী ১০ ও ১১ জুলাই নির্ধারণ করা হয়। এ ছাড়া আগামী ২০২০ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানে জন্মশতবার্ষিকী যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনে দলের পক্ষ একটি শক্তিশালী কমিটি গঠন করা হয়। সিদ্ধান্ত হয়, এখন থেকেই বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে রাষ্ট্র ও দলগতভাবে বঙ্গবন্ধুর স্মরণে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হবে। এ ছাড়া জাতীয় সম্মেলন করতে বিভিন্ন উপ-কমিটিও গঠন করা হয়।
সূচনা বক্তব্যে বিএনপির সম্মেলনে খালেদা জিয়ার ২০৩০ সাল নাগাদ ভিশন ঘোষণা এবং মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করার অঙ্গীকারের প্রতি ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখন অনেকেই আমাদের নীতি ও ভিশন অনুসরণ করছে। তিনি বলেন, নির্বাচনে না এসে নির্বাচন বানচালের নামে বিএনপি-জামাত জোট নির্বিচারে দেশের মানুষকে হত্যা করেছে, দেশের সম্পদ বিনষ্ট করেছে। পরে আন্দোলনের নামে আবারও শত শত মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করেছে। ওই সময়ের বীভৎস দৃশ্য কল্পনাও করা যায় না। একজন জীবন্ত মানুষকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনা অতীতে কখনও দেশের মানুষ দেখেনি। এরা হত্যা, খুন, জঙ্গিবাদ ছাড়া আর কিছু বোঝে না।
হাসিনাবিহীন নির্বাচন প্রসঙ্গে খালেদা জিয়ার বক্তব্যের জবাব দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার আগের কিছু ঘটনা জাতির সামনে তুলে ধরেন। ওই হামলার আগেও বিএনপি নেত্রীসহ তার দলের নেতারা কী ইঙ্গিত দিয়েছিলেন? ২১ আগস্ট ঘটনার আগে বিএনপি কয়েকজন নেতা প্রকাশ্য হুমকি দিলেন, ১৫ আগস্ট বাপ যে পথে গেছে আমাকেও সেই পথে যেতে হবে! এরপর বিএনপি নেত্রী (খালেদা জিয়া) বললেন, আমি প্রধানমন্ত্রী কেন কোনোদিন বিরোধী দলের নেতাও হতে পারব না। আমার অস্তিত্ব থাকবে না এটা জেনেই উনি এ কথা বলেছিলেন।
তিনি বলেন, বিএনপি নেত্রী এখন অন্য কোনো পথ নেই। তাই হাসিনাবিহীন নির্বাচনের কথা বলে এখন উনি আবারও ঘোট পাকাচ্ছেন। আবারও আমাকে হত্যার মতো কোনো ষড়যন্ত্র করছেন কি-না কে জানে। কিন্তু আমি এসবে পরোয়া করি না। আল্লাহ যতদিন বাঁচিয়ে রাখবেন, ততদিন দেশের জনগণের জন্য কাজ করে যাব। আর দেশের জনগণের দোয়াও আমার সাথে আছে। তাই শকুদের দোয়ায় কখনও গরু মরবে না।
দেশবাসীর উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলেই কেবল দেশের উন্নয়ন হয়। বিএনপি-জামাত ক্ষমতায় আসলে দেশের উন্নয়ন করতে পারে না কেন? আমরা গত সাত বছরে দেশের যে উন্নয়ন করেছি, গত ২১ বছরেও তারা পারেনি কেন? এসব বিষয়গুলো একটু বিচার করুন।

‘ইউপি নির্বাচনেও বিএনপি জনসমর্থন পাচ্ছে না’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করা কোনো আন্দোলন নয়। এটি মানুষ হত্যা। জ্বালাও-পোড়াও আন্দোলন এবং মানুষ পুড়িয়ে হত্যার কারণেই ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনেও বিএনপি জনসমর্থন পাচ্ছে না। দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র ও বাধা মোকাবিলা করে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশ যখন মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় এগিয়ে যাচ্ছে, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চলছে, তখন সরকারকে হেয় করা ও ব্যতিব্যস্ত রাখতে চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। বাইরে থেকেও দেশের অগ্রগতিতে বাধা দেওয়া হচ্ছে। তবে সব ষড়যন্ত্র ও বাধা মোকাবিলা করেই আমরা এগিয়ে যাচ্ছি, এগিয়ে যাব।
গত ২৭ মার্চ রাজধানীর খামারবাড়ি কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগের আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে বিএনপির ‘গরজ নেই’ মন্তব্য করে আওয়ামী লীগ সভাপতি আরও বলেন, যার যার প্রতীক নিয়ে ইউপি নির্বাচন হচ্ছে। সেই নির্বাচনেও তাদের খুব একটা গরজ দেখছি না। কেমন যেন একটা ভাসাভাসা ভাব। বিএনপি কেবল বক্তৃতা-বিবৃতিই দিয়ে যাচ্ছে, অভিযোগ করে যাচ্ছে। কিন্তু তাদের নির্বাচনী কর্মকা-টা কোথায়? কেবল নালিশ করা! তো নালিশ করে কী হচ্ছে! নালিশ করে বালিশ পায়, ভাঙা জুতার বাড়ি খায়।
তিনি বলেন, বিএনপি কাদের কাছে নালিশ করে! এক ব্রিটিশ এমপির কাছে নালিশ করেছে। খোঁজ নিয়ে দেখুন, তাকে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট থেকে তিন মাসের জন্য সাসপেন্ড করা হয়েছে। বিএনপির কাউন্সিলেও এই এমপি এসেছিলেন। মানে রতনে রতন চেনে।
দেশকে সঠিকভাবে পরিচালনায় নানা প্রতিকূলতা ও বাধার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরাজিত শক্তি, পঁচাত্তরের খুনি এবং যুদ্ধাপরাধীদের দোসররা দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রা মেনে নেবে নাÑ এটিই স্বাভাবিক। এ কারণেই তারা দেশের এই অগ্রযাত্রায় বাধাও দেবে। তাদের বাধা মোকাবিলা করেই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। জাতির জনক বলেছিলেন, বাঙালিকে দাবিয়ে রাখতে পারবা না। বাঙালিকে কেউ দাবিয়ে রাখতে পারেনি। ২১ বছর যারা দাবিয়ে রাখার চেষ্টা করেছিল, তারাও পারেনি। ভবিষ্যতেও কেউ দাবিয়ে রাখতে পারবে না।
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি দলের নেত্রী স্বাধীনতা দিবসে স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানাতে গেলেন। কিন্তু তার মুখটা খুবই করুণ, মুখে হাসিও ছিল না। থাকবে কী করে, তার পেয়ারের লোকগুলোর একে একে ফাঁসি হয়ে যাচ্ছে। যুদ্ধাপরাধীদের শাস্তি হচ্ছে। তার মুখে তো হাসি থাকতে পারে না। বক্তব্যের শুরুতে বাঙালির স্বাধীনতা ও মুক্তিসংগ্রামের ইতিহাস তুলে ধরে এই সংগ্রামে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু ও আওয়ামী লীগের ভূমিকাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, স্বাধীনতার জন্য ১৯৪৮ সালেই বঙ্গবন্ধু বাংলাকে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা অর্জনের জন্য ভাষা আন্দোলন শুরু করেন। এরপর তিনিই ধাপে ধাপে আন্দোলন-সংগ্রামের পথ বেয়ে বাঙালি জাতিকে মুক্তিসংগ্রামের দিকে নিয়ে গেছেন।
আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য রাখেন আমির হোসেন আমু এমপি, তোফায়েল আহমেদ এমপি, মতিয়া চৌধুরী এমপি, শেখ ফজলুল করিম সেলিম এমপি, সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এমপি, অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, সতীশ চন্দ্র রায়, মাহবুব-উল-আলম হানিফ এমপি, ডা. দীপু মনি এমপি, অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক এমপি, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম এমপি, আহমদ হোসেন, ডা. বদিউজ্জামান ভূঁইয়া ডাবলু, এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন, ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস এমপি প্রমুখ। পরিচালনা করেন ড. হাছান মাহমুদ এমপি ও অসীম কুমার উকিল।

‘দেশের অগ্রযাত্রা ব্যাহত করতে সব ধরনের ষড়যন্ত্র হচ্ছে’
প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশ নিয়ে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র সরকার সততা দিয়ে মোকাবিলা করেছে। আসলে সততাই বড় শক্তি। সততা থাকলে জোর গলায় কথা বলা যায়, যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলা করা যায়। ষড়যন্ত্র দূর করেই পদ্মা সেতুর মতো বিশাল প্রকল্প নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়ন করতে পারছি, ওই একই কারণে। এই পদ্মা সেতু নির্মাণ বাঙালি জাতি হিসেবে আমাদের গর্ব ও চ্যালেঞ্জ ছিল। গত ১৮ মার্চ বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৯৬তম জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি আরও বলেন, এখনও দেশে ষড়যন্ত্র যে কমে গেছে তা নয়। পরাজিত শক্তিরা এখনও তাদের পুরনো প্রভুদের ভুলতে পারেনি। দেশের অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করতে সবভাবেই ষড়যন্ত্র হচ্ছে। বাংলাদেশের চলমান অগ্রযাত্রা কেউ যাতে বাধাগ্রস্ত করতে না পারে সেজন্য দেশবাসীকে সজাগ ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ষড়যন্ত্র সবভাবেই হয়েছেÑ মানুষ পুড়িয়ে, সম্পদ ধ্বংস করেও দেশের ভেতরে ষড়যন্ত্র করেছে বিএনপি-জামাত। কিন্তু ব্যর্থ হয়ে নাকে খত দিয়েই বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়াকে ঘরে ফিরতে হয়েছে। নির্বাচন বানচাল ও আন্দোলনের নামে বিএনপি-জামাত জোটের ভয়াল অগ্নিসন্ত্রাসের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, জনগণের কল্যাণ নয়, খুন-সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ সৃষ্টি-দুর্নীতি-এতিমের টাকা মেরে খাওয়া এসবই হচ্ছে বিএনপির নীতি। তারা এখনও পরাজিত পাকিস্তানের পুরনো প্রভুদের ভুলতে পারে না। খালেদা জিয়া বলেছিলেনÑ বর্তমান সরকারকে ক্ষমতা থেকে না হটিয়ে ঘরে ফিরে যাবেন না। এজন্য তিনি ৯২ দিন ধরে নিজ অফিসে বসে শত শত মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করলেন, দেশের সম্পদ ধ্বংস করলেন। কিন্তু মানুষের জীবন নিয়ে এভাবে খেললে আল্লাহও যে নারাজ হন, তা খালেদা জিয়ার ভাবা উচিত ছিল। এ কারণেই তাকে নাকে খত দিয়েই ঘরে ফিরে যেতে হয়েছে।
শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ হবে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে শান্তিময় উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ। এভাবেই আমরা দেশকে গড়ে তুলতে চাই। বাংলাদেশে কোনো জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসীদের জায়গা হবে না। জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে আমরা কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছি। আমরা কারোর কাছে হাত পেতে নিতে দারিদ্র্য পালন নয়, সত্যিকারভাবেই দেশকে দারিদ্র্যমুক্ত করতে চাই। বঙ্গবন্ধু একটি কথা বলতেনÑ ভিক্ষুক জাতির কোনো ইজ্জত থাকে না। তাই আমরা কারোর কাছে হাত পেতে চলতে চাই না, আমরা নিজের পায়ে দাঁড়াব। স্বাবলম্বী জাতি হিসেবে বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে চলব। আর পিতা বঙ্গবন্ধু আমাদের স্বাধীনতা দিয়ে গেছেন। তার স্বপ্নের ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত উন্নত সমৃদ্ধ সোনার বাংলা আমরা গড়ে তুলবÑ আজকের দিনে এই হোক আমাদের শপথ। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলা বিনির্মাণে দেশবাসীর সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপি-জামাতের চরিত্রই হচ্ছে অপরাধী-খুনিদের রক্ষা করা, মদদ দেওয়া এবং তাদের নিয়ে চলা। খুন ও অপরাধমূলক কর্মকা- করা। তারা তো দেশের কল্যাণে কোনো কাজ করতে পারে না। বাংলাদেশ স্বাধীন দেশ হিসেবে বিশ্বে মর্যাদা নিয়ে চলবে, এটাও বোধহয় তাদের পছন্দ না। তিনি বলেন, দেশে জঙ্গিবাদ সৃষ্টি করে গেছেন খালেদা জিয়া। বিএনপি যখন ক্ষমতায় ছিল তারা দেশে বাংলাভাই ও জঙ্গিবাদের সৃষ্টি করে। ক্ষমতায় থাকতে ৫টি বছর দেশে দুঃশাসন চালিয়েছে। দুর্নীতি, সন্ত্রাস, অর্থপাচার, এতিমের টাকা মেরে খাওয়াসহ এমন কোনো অপকর্ম নেই যে তারা করেনি। আমাদের হাজার হাজার নেতাকর্মীকে তারা হত্যা করেছে। সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়া, সংসদ সদস্য আহসানউল্লাহ মাস্টারকে তারা হত্যা করেছে। ২১ আগস্ট দিনে-দুপুরে আমাকে হত্যার জন্য ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা করে ২২ মানুষকে হত্যা করেছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, একাত্তরের পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতেই বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করা হয়েছে। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর অবৈধ ক্ষমতাকে বৈধ করতে জিয়াউর রহমান হাজার হাজার মুক্তিযোদ্ধা সামরিক অফিসার ও সৈনিককে হত্যা করেছে। একমাত্র বিমান বাহিনীতেই ৬৬৮ সামরিক অফিসার ও সৈনিককে হত্যা করা হয়। জেনারেল জিয়া একদিকে মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যা করেছে, অন্যদিকে স্বাধীনতাবিরোধী, যুদ্ধাপরাধী রাজাকার-আলবদরদের হাতে রক্ত¯œাত জাতীয় পতাকা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে মন্ত্রী-উপদেষ্টা বানিয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা একে একে ধ্বংস করে দিয়েছে। জেনারেল জিয়া ও খালেদা জিয়ার আমলে বঙ্গবন্ধুর খুনি ও স্বাধীনতা-বিরোধীদের পুনর্বাসনের চিত্র তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুর খুনিদের যাতে বিচার না হয় সেজন্য ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ দিয়ে বিভিন্ন দূতাবাসে চাকরি দিয়ে পুরস্কৃত করেছিলেন জিয়া। আর তার স্ত্রী খালেদা জিয়াও একই কাজ করেছেন।
২০২১ সালের মধ্যেই মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে শান্তিময়, উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে প্রতিষ্ঠা করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী। একই সাথে তিনি আগামী তিন বছরের মধ্যে দেশের প্রত্যেক গৃহহীন মানুষের জন্য গৃহ নির্মাণের নির্দেশ দিয়ে বলেন, আমাদের কাছে একটি পরিসংখ্যান এসেছে যে, দেশের প্রায় ২ লাখ ৮০ হাজার মানুষ গৃহহীন রয়েছে। আমি নির্দেশ দিয়েছি সবার জন্য একটি টিনের ঘর হলেও করে দিতে হবে। দেশের একটি মানুষও গৃহহীন থাকবে না। বাংলাদেশ এখন সারাবিশ্বের কাছে উন্নয়নের রোলমডেল। অসীম ত্যাগের বিনিময়ে বঙ্গবন্ধু আমাদের স্বাধীনতা দিয়ে গেছেন, এখন তার স্বপ্ন বাস্তবায়ন আমরা করে যাচ্ছি।
জাতীয় সংসদের উপনেতা ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী এমপির সভাপতিত্বে আলোচনায় আরও বক্তব্য রাখেনÑ আওয়ামী লীগের উপদেষ্টাম-লীর সদস্য ও শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু এমপি, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ এমপি, সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত এমপি, কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী এমপি, দলের সাধারণ সম্পাদক ও জনপ্রশাসন মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এমপি, প্রেসিডিয়াম সদস্য সাহারা খাতুন এমপি, সতীশ চন্দ্র রায়, সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়–য়া, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ এমপি, জাহাঙ্গীর কবির নানক এমপি, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম এমপি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম এমপি, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মেজবাহ উদ্দিন সিরাজ, শ্রমবিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান সিরাজ প্রমুখ। সভার শুরুতেই জাতির পিতার স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

‘বিএনপি শুধু মানুষ খুন করতে জানে’
ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ উপলক্ষে গত ৭ মার্চ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের বিশাল জনসভায় প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বিএনপির জাতীয় কাউন্সিলকে ‘নাটক’ আখ্যায়িত করে বলেছেন, নাটকটা ভালোই হয়েছে। চেয়ারপারসন ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান হয়েছেন দুই আসামি! একজন এতিমের টাকা চুরি করা মামলার আসামি (খালেদা জিয়া), আরেকজন তো (তারেক জিয়া) ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা, অর্থপাচারসহ বিভিন্ন মামলার পলাতক আসামি। তার নাম ইন্টারপোলের ওয়ান্টেড তালিকায় রয়েছে। তারা জনগণকে কী দেবে?
যুদ্ধাপরাধীদের মতো আগুন সন্ত্রাস ও মানুষকে পুড়িয়ে হত্যার জন্য একদিন খালেদা জিয়ারও বিচার বাংলার মাটিতে হবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি নেত্রীর জন্ম ভারতে, আর মনেপ্রাণে পাকিস্তানি। উনি দেশে আগুন দিয়ে মানুষ মারে, আর তার হৃদয়ে পেয়ারে পাকিস্তান। তাই উনি তার পেয়ারের পাকিস্তানে গেলেই তো পারেন, দেশে থেকে কেন জনগণকে যন্ত্রণা দিচ্ছেন? তিনি বলেন, আন্দোলনের নামে ৯২ দিন ধরে অফিসে থেকে বিএনপি নেত্রী প্রায় আড়াইশ মানুষকে পুড়িয়েছেন, হত্যা করিয়েছেন। কী অপরাধ ছিল এসব নিরীহ মানুষের? এর জবাব একদিন খালেদা জিয়াকে দিতে হবে। তার বিচারও বাংলার মাটিতে একদিন হবে। আর যতই বাধা আসুক না কেন আমরা সেই বাধাকে অতিক্রম করতে পারব। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু যে পথ আমাদের দেখিয়ে গেছেন সে পথ ধরে তার স্বপ্ন ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলা আমরা গড়ে তুলবই। এজন্য প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীর সহযোগিতাও কামনা করেন।
ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ উপলক্ষে আওয়ামী লীগ ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এই জনসভার আয়োজন করে। বিপুলসংখ্যক মানুষের উপস্থিতিতে জনসভাটি একপর্যায়ে জনসমুদ্রে রূপ নেয়। সংসদ উপনেতা ও আওয়ামী লীগ সভাপতিম-লীর সদস্য সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর সভাপতিত্বে জনসভায় বক্তব্য রাখেনÑ শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু এমপি, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ এমপি, কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী এমপি, স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম এমপি, শেখ ফজলুল করিম সেলিম এমপি, দলের সাধারণ সম্পাদক ও জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এমপি, গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এমপি, ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম এমপি, মাহবুব-উল-আলম হানিফ এমপি, ডা. দীপু মনি এমপি, জাহাঙ্গীর কবির নানক এমপি, একেএম রহমতউল্লাহ এমপি, খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম এমপি, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম এমপি, এনামুল হক শামীম, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আনিসুল হক, দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন, নগর আওয়ামী লীগের কামাল আহমেদ মজুমদার, মহিলা আওয়ামী লীগের সাবিহা খাতুন, যুবলীগের ওমর ফারুক চৌধুরী, হারুনুর রশিদ, স্বেচ্ছাসেবক লীগের মোল্লা মো. আবু কাওছার, শ্রমিক লীগের সিরাজুল ইসলাম, কৃষক লীগের অ্যাডভোকেট শামসুল হক রেজা, যুব মহিলা লীগের নাজমা আখতার এবং ছাত্রলীগের সাইফুর রহমান সোহাগ ও এসএম জাকির হোসাইন। জনসভা পরিচালনা করেন কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ ও উপ-প্রচার সম্পাদক অসীম কুমার উকিল। জেনারেল জিয়াউর রহমানের ক্ষমতা দখলকে অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের প্রদত্ত রায়ের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জিয়ার ক্ষমতা দখলকে হাইকোর্ট অবৈধ ঘোষণা করেছে। অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারীর হাতে জন্ম নেওয়া রাজনৈতিক দল মানুষের জন্য কী করবে? যার (বিএনপি) জন্মই অবৈধ পন্থায় অবৈধ ক্ষমতা দখলকারীদের হাতে। এদের কাছে দেশবাসী কিছু আশা করে না। বাস্তবে এরাই দেশের রাজনীতিকে কলুষিত করে গেছে। তিনি বলেন, বিএনপি শুধু মানুষ খুন করতে জানে। তারা নাকি নির্বাচন হতে দেবে না। আগুন সন্ত্রাস চালিয়ে প্রায় আড়াইশ মানুষকে পুড়িয়েছে, হত্যা করেছে। মায়ের সামনে, বাবার সামনে ছোট্ট শিশুকেও রেহাই দেওয়া হয়নি আগুনের আন্দোলন থেকে।
এ সময় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কড়া সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, উনি নাকি সরকারকে উৎখাত না করে ঘরে ফিরে যাবেন না। এই বলে ৬৮ জনকে নিয়ে দলীয় কার্যালয়ে ৯২ দিন ধরে অবস্থান করে মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করলেন। এখনও আগুনে দগ্ধরা দুর্বিষহ যন্ত্রণা ভোগ করছেন। কেন তাদের পোড়ানো হলো সেই জবাব খালেদা জিয়াকে দিতে হবে। মানুষ পুড়িয়ে উনি আন্দোলন করেন। সেই আন্দোলন মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধ্বংস করা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নকে বন্ধ করার আন্দোলন। কিন্তু দেশের জনগণ তার সেই আগুন সন্ত্রাসের আন্দোলন সমর্থন করেনি; বরং দেশের জনগণই তাদের ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ করেছেন।
জিয়া-খালেদা জিয়ার কঠোর সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা বাংলাদেশ সৃষ্টির বিরোধিতা ও গণহত্যার সাথে জড়িত ছিল, তাদের বিচার শুরু করেছিলেন বঙ্গবন্ধু। কিন্তু তাকে পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট সপরিবারে হত্যার পর পাল্টে যায় সবকিছু। যাদের এদেশে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল, তাদের ফিরিয়ে আনা হয়, যেসব যুদ্ধাপরাধী কারাগারে বন্দী ছিল তাদের মুক্তি দিয়ে পুনর্বাসিত করেন জেনারেল জিয়া। জিয়া নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা দাবি করেন, খেতাবও নেন। নিজেকে তিনি মুক্তিযোদ্ধা দাবি করলেও দালালি করেছেন ওই পরাজিত শক্তি পাকিস্তানের। আর তাই জেনারেল জিয়া যুদ্ধাপরাধীদের হাতে ত্রিশ লাখ শহীদের রক্ত¯œাত জাতীয় পতাকা তুলে দেন, রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠিত করেন। এদেশের বিরোধিতাকারীদের হাতে তার স্ত্রী খালেদা জিয়াও পতাকা তুলে দিয়েছেন। এরপর বাংলাদেশ পরিণত হয়েছিল লুটপাট-দুর্নীতি, জঙ্গি-সন্ত্রাসীদের দেশে। ২১টি বছর এমন ষড়যন্ত্র চলেছে।
বঙ্গবন্ধুকে হত্যা-পরবর্তী দীর্ঘ ২১ বছর বাংলাদেশ কী অবস্থায় ছিল, তা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশটাকে ধ্বংস করার সব রকম ষড়যন্ত্র চলেছে এই ২১ বছর। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ যখন সরকারে আসে তখন এই বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের কাজ শুরু করে। ’৭৫ থেকে ’৯৬ সাল পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ বাজানো নিষিদ্ধ ছিল। তারপরও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা যেখানে যেখানে সুযোগ পেয়েছেন তারা প্রতিবছর ৭ই মার্চের এই ভাষণ বাজাতে গিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়েছিলেন এবং অনেককে জীবনও দিতে হয়েছিল।
ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণের তাৎপর্য বর্ণনা করতে গিয়ে বঙ্গবন্ধু-কন্যা শেখ হাসিনা বলেন, ৭ই মার্চেই স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন জাতির পিতা। এই ঘোষণা আসলে তিনি দিয়ে আসছিলেন ১৯৪৮ সাল থেকেই। তারপর ধাপে ধাপে জাতিকে স্বাধীনতার দিকে নিয়ে এগোচ্ছিলেন বঙ্গবন্ধু। তিনি বলেন, ৪৫টি বছর ধরে বঙ্গবন্ধুর এই ঐতিহাসিক ভাষণটি জনগণকে উজ্জীবিত করে যাচ্ছে। পৃথিবীর আর কোনো ভাষণ নেইÑ যে ভাষণটি এত বছর ধরে মানুষ শুনছে, যার আবেদন এখনও এতটুকুও কমেনি। আজকে সারাবিশ্বে এই ভাষণ স্বীকৃত। তিনি বলেন, আজকে বিশ্বের অনেক দেশ এই ভাষণটি শুনতে চায়। ইতোমধ্যে ১২টি ভাষায় এই ভাষণ অনুবাদ করেছি এবং আরও অন্যান্য ভাষায় পর্যায়ক্রমিকভাবে আমরা অনুবাদ করে দিচ্ছি। এই ভাষণ এখন আন্তর্জাতিক মর্যাদা পেয়েছে। অথচ এই ভাষণকে জিয়াউর রহমান, মুশতাক, এরশাদ ও খালেদা জিয়া বারবার নিষিদ্ধ করতে চেষ্টা করেছে।
দেশবাসীর সহযোগিতা কামনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যে আদর্শ ও স্বপ্ন নিয়ে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশকে স্বাধীন করে গেছেন, সেই আদর্শ আমাদের বাস্তবায়ন করতে হবে। বাংলাদেশকে ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত করে গড়ে তুলতে হবে। ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে আমরা ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত মধ্যম আয়ের দেশে এবং ২০৪১ সালের মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে উন্নত-সমৃদ্ধ করে আমরা দেশকে গড়ে তুলব। যত বাধাই আসুক না কেন, সেই বাধাকে আমরা অতিক্রম করেই দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাব।

৭ই মার্চ উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু ভবনে সর্বস্তরের মানুষের ঢল
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদন, স্মৃতিচারণ, আলোচনা সভা এবং যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের রায় দ্রুত কার্যকর, সন্ত্রাস-নাশকতা-জঙ্গিবাদমুক্ত অসাম্প্রদায়িক চেতনার বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে বাঙালির মুক্তি সংগ্রামের ইতিহাসে অবিস্মরণীয় গৌরবের অনন্য দিন ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ বঙ্গবন্ধুর কালজয়ী ভাষণের ৪৫তম বর্ষপূর্তি পালিত হলো।
দিবসটি উপলক্ষে সোমবার ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে সর্বস্তরের জনতার ঢল নামে। বঙ্গবন্ধুর সেই জগত খ্যাত ভাষণকে স্মরণ করে ধানমন্ডিতে অবস্থিত তার প্রতিকৃতি ফুলে ফুলে ভরে যায়। আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনসহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠন, স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রী এবং সর্বস্তরের মানুষের উপস্থিতিতে বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে। এবার ৭ই মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণকে জাতীয়করণের দাবি উঠেছে সর্বত্র।
ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ উপলক্ষে ওই দিন প্রথম প্রহর থেকেই সারাদেশে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের কার্যালয়ে মাইকে বাজানো হয় বঙ্গবন্ধুর সেই অবিনাশী ভাষণÑ ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’ সকাল সাড়ে ৬টায় ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু ভবন ও সারাদেশে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সকাল ৭টায় ধানমন্ডিতে বঙ্গবন্ধু ভবনের সামনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর তিনি বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতির সামনে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থেকে তার স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। পরে আওয়ামী লীগের সভানেত্রী হিসেবে শেখ হাসিনা কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দকে সাথে নিয়ে দলের পক্ষ থেকে জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে আরেকবার পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এ সময় আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ ও মন্ত্রিসভার সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগ সম্মেলন
30আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেছেন, নিয়মিত সম্মেলন না হলে নতুন নেতৃত্ব তৈরি হয় না। আবার সাংগঠনিক ভিতও শক্ত থাকে না।  আগামীতে যাতে নিয়মিত সব কমিটির সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় সে ব্যাপারে নেতাকর্মীদের আন্তরিক হতে হবে। গত ২২ মার্চ ফরিদপুর শহরের ঐতিহাসিক অম্বিকা ময়দানে জেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। এর আগে সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এমপি সম্মেলনের উদ্বোধন করেন। সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন সংসদ উপনেতা ও দলের সভাপতিম-লীর সদস্য সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী এমপি। বিশেষ অতিথি ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন এমপি, দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ এমপি, জাহাঙ্গীর কবির নানক এমপি, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, বিএম মোজাম্মেল হক এমপি, শ্রম ও জনশক্তি বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান সিরাজ, কেন্দ্রীয় সদস্য আব্দুর রহমান এমপি, এসএম কামাল হোসেন, ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি লিয়াকত শিকদার প্রমুখ। সম্মেলনে অ্যাডভোকেট সুবল চন্দ্র সাহাকে সভাপতি ও সৈয়দ মাসুদ হোসেনকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়। নতুন সভাপতি অ্যাডভোকেট সুবল চন্দ্র সাহা জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করছিলেন। সৈয়দ মাসুদ হোসেন ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক।

শ্রেণী: