সংরক্ষিত ৫০ নারী আসনের মেয়াদ আরও ২৫ বছর

Posted on by 0 comment
8-6-2018 7-13-04 PM
8-6-2018 7-13-04 PM

সংসদে সর্বসম্মতিক্রমে সংবিধানের সপ্তদশ সংশোধনী পাস

উত্তরণ প্রতিবেদন: জাতীয় সংসদে ২৯৮ : শূন্য বিভক্তি ভোটে অর্থাৎ সর্বসম্মতিক্রমে গত ৮ জুলাই জাতীয় সংসদে সংবিধান (সপ্তদশ সংশোধন) বিল-২০১৮ পাস হয়েছে। দু-দফা বিভক্তি ভোটে সরকার ও বিরোধী দলের অধিবেশনে উপস্থিত ২৯৮ এমপির সবাই ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে বিলটিতে সমর্থন জানান। প্রায় ২ ঘণ্টাব্যাপী এই বিভক্তি ভোট চলার পর ভোট গণনা শেষে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী ২৯৮ : শূন্য ভোটের ব্যবধানে সর্বসম্মতিক্রমে বিলটি পাসের ঘোষণা করলে সবাই তুমুল টেবিল চাপড়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। বিলটি পাসের ফলে জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত ৫০ নারী আসনের মেয়াদ আরও ২৫ বছর বাড়ল।
স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে বিলটি পাসের জন্য উত্থাপন করেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক এমপি।
সংবিধানের ৬৫ অনুচ্ছেদের (৩) উপ-দফায় সংশোধনী এনে বলা হয়েছেÑ “সংবিধান (সপ্তদশ সংশোধন) আইন-২০১৮ প্রবর্তনকালে বিদ্যমান সংসদের অব্যবহিত পরবর্তী সংসদের প্রথম বৈঠকের তারিখ থেকে পঁচিশ বছর অতিবাহিত হওয়ার অব্যবহিত পরবর্তীতে সংসদে ভেঙে না যাওয়া পর্যন্ত পঞ্চাশটি আসন শুধু নারী সদস্যদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে এবং তারা আইনানুযায়ী আগের সদস্যদের মাধ্যমে সংসদে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতির ভিত্তিতে একক হস্তান্তরযোগ্য ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হবেন।”
বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সম্বলিত বিবৃতিতে বলা হয়েছেÑ স্বাধীনতার স্থপতি ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশনায় বাংলাদেশে জাতীয় পর্যায়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও আইন প্রণয়নে নারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে তদানীন্তন গণপরিষদ প্রণীত ১৯৭২ সালের মূল সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৬৫-এর দফা (৩)-এর বিধানে জাতীয় সংসদে নারী সদস্যদের জন্য সংবিধান প্রবর্তন থেকে ১০ বছর সময় অতিবাহিত হওয়ার অব্যবহিত পরবর্তী সময়ে সংসদ ভেঙে না যাওয়া পর্যন্ত ১৫টি আসন সংরক্ষণ করা হয়।
সংরক্ষিত নারী আসনের ধারাবাহিকতা বজায় থাকার কারণে সমাজে সবক্ষেত্রে নারীদের অধিকতর অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়েছে। সর্বশেষ সংশোধনী অনুযায়ী সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৬৫-এর দফা (৩)-এর বিদ্যমান বিধান অনুযায়ী বর্তমানে সংরক্ষিত নারী আসনের ১০ (দশ) বছর মেয়াদ ২৮ জানুয়ারি ২০১৯ শেষ হবে। সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে মেয়াদ বৃদ্ধি করা না হলে ওই সময় অতিবাহিত হওয়ার পর জাতীয় সংসদে নারীদের জন্য কোনো আসন সংরক্ষিত থাকবে না। সংরক্ষিত আসনের প্রয়োজনীয়তা এখনও বিদ্যমান রয়েছে। একাদশ জাতীয় সংসদ সংরক্ষিত আসনের নারী সদস্যদের নিয়ে গঠন করতে হলে দশম সংসদ বহাল থাকা অবস্থায় সংবিধানে এ সংক্রান্ত বিধান সংশোধন করা আবশ্যক।
আমাদের সংসদীয় ব্যবস্থায় ১৯৭৩ সালের নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত প্রথম সংসদে সংরক্ষিত নারী আসন ছিল ১৫টি। ১৯৭৯ সালের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে গঠিত দ্বিতীয় সংসদে তা বাড়িয়ে ৩০টি করা হয়। ১৯৮৬ সালের নির্বাচনের পর গঠিত সংসদ সংখ্যা একই ছিল। কিন্তু আইনের মেয়াদ শেষ হওয়ার কারণে ১৯৮৮ সালের নির্বাচনে গঠিত চতুর্থ সংসদ ছিল সংরক্ষিত নারী আসনবিহীন। ১৯৯১ সালের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে গঠিত পঞ্চম সংসদে আইন পাস হওয়ার মধ্য দিয়ে আবার ৩০টি সংরক্ষিত নারী আসন ব্যবস্থা সংসদে বহাল হয়। ১৯৯৬ সালের সংসদেও এই ৩০টি আসনই ছিল। কিন্তু ২০০১ সালের নির্বাচনের পর গঠিত অষ্টম সংসদে আবার সংরক্ষিত নারী আসন ছিল না আইনের কার্যকাল শেষ হওয়ার কারণে। ২০০৮ সালের নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত নবম সংসদে সংরক্ষিত নারী ছিল ৪৫টি। ২০০৪ সালে চতুর্দশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংরক্ষিত নারী আসন ৩৫ থেকে বাড়িয়ে ৪৫ করা হয়েছিল। অবশেষে ২০১১ সালে ৪৫ থেকে বেড়ে তা দাঁড়ায় ৫০-এ, যা বর্তমান সংসদ পর্যন্ত বহাল রয়েছে।

শ্রেণী:

উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের মর্যাদা রক্ষায় নৌকায় ভোট চাই

Posted on by 0 comment
19
19

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা এই অর্জনকে আরও এগিয়ে নিতে পারব, যদি ডিসেম্বরের নির্বাচনে জনগণ নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করে। দেশের জনগণের ওপরই আমরা সবকিছু ছেড়ে দিয়েছি।

প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে আগামী নির্বাচনে নৌকা মার্কায় ভোট দেয়ার জন্য দেশবাসীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, স্বল্পোন্নত থেকে উন্নয়নশীল দেশের এই অর্জনটা ধরে রাখতে পারব যদি দেশের জনগণ নির্বাচন কমিশন ঘোষিত ডিসেম্বরের নির্বাচনে নৌকায় মার্কায় ভোট দিয়ে আমাদের জয়যুক্ত করে। যদি ক্ষমতার পরিবর্তন হয়, বিএনপি-জামাত জোট বা অন্য কেউ ক্ষমতায় আসলে উন্নয়নের এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারবে না। পারবে একমাত্র আওয়ামী লীগ, এটা আমরা প্রমাণ করেছি।
স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে গত ১২ এপ্রিল দশম জাতীয় সংসদের ২০তম অধিবেশনের সমাপনী ভাষণ দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী দেশের উন্নয়ন-অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে সরকারের ধারাবাহিকতা রক্ষার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে বলেন, আগামী নির্বাচনে আমরা যদি সরকার গঠন করে দেশ সেবার সুযোগ পাই আর এই অর্জনটা যদি ধরে রাখতে পারি তাহলে আগামী ছয় বছরে উন্নয়নশীল দেশ অবশ্যই অর্জন করবই। তিনি বলেন, স্বল্পোন্নত দেশকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত করতে আমাদের পরিকল্পিতভাবে কাজ করতে হয়েছে। যে তিন শর্ত পূরণ করলে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হওয়া যায়, আমরা সেই ৩টি শর্তই পূরণ করেছি। শুধু শর্ত পূরণ নয়, আমরা অনেক দূর এগিয়ে গেছি। আর যতটুকু এগিয়ে আছি তাতে আগামী ছয় বছরে যতটুকু অর্জন করতে হবে সেটা আমরা এর মধ্যেই পূরণ করে ফেলেছি। কাজেই আগামী ছয় বছরেও কখনও হিসাব-নিকাশে আমাদের পেছনে ফেলতে পারবে না। আমরা এগিয়ে যাচ্ছি, এগিয়ে যাবই।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা স্বাধীনতাকে অর্থবহ করতে এবং স্বাধীনতার সুফল জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে চাই। সবসময়ই আমাদের একটাই লক্ষ্য ছিল দেশের মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন পূরণ করা। যখনই সরকার গঠন করেছি তখনই জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করেছি। নিজে কী পেলাম কখনও সেই হিসাব করিনি, করিও না। হিসাব করি মানুষ কতটুকু পেল, সেটাই আমার কাছে সবচেয়ে বিবেচ্য বিষয়। বাংলাদেশ আজ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের স্বীকৃতি পেয়েছে। এ অর্জনের জন্য আমাদের অনেক পথ পাড়ি দিতে হয়েছে। এ অর্জনের জন্য আমাদের পরিকল্পিতভাবে কাজ করতে হয়েছে। আমরা ৩টি শর্তই পূরণ করেছি এবং অনেক এগিয়ে আছি। আগামী ছয় বছরে যে অর্জন করতে হবে, সেই অর্জনও আমরা করে ফেলেছি। আমরা এগিয়ে যাচ্ছি, এগিয়ে যাব।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা এই অর্জনকে আরও এগিয়ে নিতে পারব, যদি ডিসেম্বরের নির্বাচনে জনগণ নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করে। দেশের জনগণের ওপরই আমরা সবকিছু ছেড়ে দিয়েছি। জনগণ যদি ভোট দেন তাহলে আমরা ক্ষমতায় আসব। আর এটাও বলতে চাই আমরা উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে শর্তগুলো পূরণে এমন পর্যায়ে করে দিয়েছি যদি আমরা না আসি, অন্য কেউ ক্ষমতায় আসে তারা এটাকে ধ্বংস করতে না চান বা এই উন্নয়নের ধারাটাও অব্যাহত রাখতে পারে তাহলে কিন্তু আমাদের কেউ পেছনে হঠাতে পারবে না। তবে এখানে আমাদের সন্দেহ আছে।
এ প্রসঙ্গে বিএনপি-জামাত জোট সরকারের আমলের কথা উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি-জামাত জোট ক্ষমতায় এসে আমাদের সকল গৃহীত বেশিরভাগ উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ একে একে বন্ধ করে দিয়েছিল। আমরা দেশকে খাদ্য স্বয়ংসম্পূর্ণতা করে রেখে এসেছিলাম। কিন্তু বিএনপি-জামাত জোট ক্ষমতায় আসার পর আবারও দেশ খাদ্য ঘাটতির দেশে পরিণত হয়। বিদ্যুৎ উৎপাদন, সাক্ষরতার হার কমিয়েছে। যদি ক্ষমতার পরিবর্তন হয়, বিএনপি-জামাত জোট বা অন্য কেউ আসলে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারবে না, পারবে একমাত্র আওয়ামী লীগ। আমরা তা প্রমাণ করেছি।
সংসদ নেতা বলেন, অতীতে সংসদে যে নোংরামি হতো, সেটি অবস্থা আজ নেই। বিরোধী দল এখন সংসদে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখছে। সত্যিকারের পার্লামেন্ট প্রাকটিস এখনই হচ্ছে। যারা ক্ষমতাকে ভোগবিলাস ও নিজেদের ভাগ্য গড়ার কাজে লাগায় তারা কোনোদিন দেশকে কিছু দিতে পারেনি, দিতেও পারবে না। একমাত্র আওয়ামী লীগই দেশকে উন্নয়ন-অগ্রগতি দিতে পারে আমরা তা প্রমাণ করেছি। দেশের একটি মানুষও গৃহহারা থাকবে না, প্রত্যেক মানুষের মৌলিক অধিকার আমরা পূরণ করব। বর্তমান সরকারের সময় প্রায় দেড় কোটি মানুষের কর্মসংস্থান করেছি, ১০ লাখ জনশক্তি আমরা রপ্তানি করেছি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষের কল্যাণের জন্য কাজ করছি, যার ফল দেশের মানুষ পাচ্ছে। দেশে রপ্তানি ও বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাচ্ছে। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে আমরা কৃষিতে উৎপাদন বৃদ্ধি করেছি। দেশের প্রত্যেক মানুষ এখন বলছে আমরা ভালো আছি। বাংলাদেশকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে কাজ করে যাচ্ছি। আজ উন্নয়নশীল দেশের স্বীকৃতি পেয়েছি। তিনি বলেন, স্বল্পোন্নত দেশ থাকলে ঋণ পেতে অনেক শর্ত দেয়া হতো। উন্নয়নশীল দেশ হওয়ায় আমাদের কেউ শর্তের বেড়াজালে বাঁধতে পারবে না, কারণ আমাদের সেই মর্যাদা আমরা অর্জন করেছি। বাজেটের ৯০ ভাগ আমরা নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়ন করছি। কারোর কাছে আমাদের হাত পেতে হয় না। আমরা অন্তর দিয়ে মানুষের জন্য কাজ করি, মানুষ ভালো আছে কি না সেটাই আমার মূল লক্ষ্য। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর আশীর্বাদ দেশের মানুষের প্রতি আছে বলেই আমরা এ অর্জন করতে পেরেছি।
তিনি বলেন, আমার ধন্যবাদ পাওয়ার কিছু নেই। এটা ছিল আমার কর্তব্য। মানুষের কল্যাণ, ভাগ্য পরিবর্তন করতে পারব, সেটাই আমার লক্ষ্য। বরং দেশবাসীকে ধন্যবাদ জানাই, কারণ ভোট দিয়ে আমাদের দেশ সেবার সুযোগ দিয়েছে বলেই বাংলাদেশকে আমরা উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত করতে পেরেছি। আমাদের এ অর্জন জনগণের প্রতি উৎসর্গ করেছি। কারণ তারা আমাদের প্রতি আস্থা-বিশ্বাস রেখেছে। ১৬ কোটি জনগণকে কেউ দাবায়ে রাখতে পারে না, আমরা তা প্রমাণ করেছি। অনেক ষড়যন্ত্র, বন্ধুর পথ পাড়ি দিয়েই আমরা এ অর্জন আনতে পেরেছি। ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে বিশ্বের মধ্যে উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে আমরা বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে পারব ইনশাল্লাহ। যে আকাক্সক্ষা নিয়ে জাতির পিতা আমাদের স্বাধীনতা দিয়ে গেছেন, কোনো শক্তিই এই স্বাধীনতাকে নস্যাৎ করতে পারবে না। বাঙালি জাতিকে কেউ দাবায়ে রাখতে পারবে না।

‘শেখ হাসিনার নেতৃত্বের বিকল্প নেই’
জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের উন্নয়ন নীতিবিষয়ক কমিটি (সিডিপি) বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের অগ্রযাত্রায় যুক্ত করার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও দেশের জনগণকে ধন্যবাদ জানিয়েছে জাতীয় সংসদে। ১২ এপ্রিল এ সংক্রান্ত ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর দীর্ঘ আলোচনা শেষে সরকার ও বিরোধী দলের সর্বসম্মত কণ্ঠভোটে তা গৃহীত হয়।
ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে সরকার ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দক্ষ, সাহসী ও প্রজ্ঞাবান নেতৃত্বের কারণেই বাংলাদেশ আজ সবদিক থেকে উন্নয়নের মহাসড়ক দিয়ে ধাবমান। একমাত্র তার যোগ্য নেতৃত্বের কারণেই বাংলাদেশ আজ বিশ্বের সামনে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হয়েছে। বাংলাদেশে শেখ হাসিনার নেতৃত্বের আর কোনো বিকল্প নেই। উন্নয়ন, অগ্রগতি ও আলোকিত এই ধারা অব্যাহত রাখতে হলে শেখ হাসিনা সরকারের কোনো বিকল্প নেই। তাই দেশবাসীকে আগামী নির্বাচনেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বিজয়ী করতে হবে। কেননা শেখ হাসিনা বাংলাদেশের জনগণের জন্য আল্লাহর নিয়ামত। অগ্নিসন্ত্রাসী, দুর্নীতিবাজ, অর্থপাচারকারী ও স্বাধীনতাবিরোধীরা ক্ষমতায় আসলে দেশ আবারও অন্ধকারে নিমজ্জিত হবে।
প্রথমে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী এবং পরে ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বি মিয়ার সভাপতিত্বে ১২ এপ্রিল জাতীয় সংসদ অধিবেশনে ধন্যবাদ প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন স্বতন্ত্র দলীয় সংসদ সদস্য ডা. রুস্তম আলী ফরাজী। প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নেন বিরোধী দলের নেতা বেগম রওশন এরশাদ, সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী শেখ ফজলুল হক সেলিম এমপি, জাসদ সভাপতি ও তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু এমপি, আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য ড. আবদুর রাজ্জাক এমপি, আবদুল মতিন খসরু এমপি, বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ এমপি, আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক এমপি, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ এমপি, সরকারি দলের ডা. দীপু মনি এমপি, আবদুর রহমান, অধ্যাপক আলী আশরাফ, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম এমপি, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, ড. হাছান মাহমুদ এমপি, মৃণাল কান্তি দাস এমপি, মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, মনিরুল ইসলাম, সানজিদা খানম, ফজিলাতুন নেসা বাপ্পি, নাভানা আক্তার, সাবিনা আক্তার তুহিন, বজলুল হক হারুন, আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরী, তরিকত ফেডারেশনের নজিবুল বশর মাইজভা-ারী, বিএনএফের এসএম আবুল কালাম আজাদ ও জাসদের শিরীন আখতার। দীর্ঘ আলোচনা শেষে স্পিকার প্রস্তাবটি ভোটে দিলে সরকার ও বিরোধী দলের সর্বসম্মত কণ্ঠভোটে তা সর্বসম্মতভাবে গৃহীত হয়।

শ্রেণী:

মো. আবদুল হামিদ আওয়ামী লীগের রাষ্ট্রপতি প্রার্থী মনোনীত

05

05গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ২১তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। গত ৩১ জানুয়ারি রাতে গণভবনে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের সংসদীয় বোর্ডের এক সভায় সর্বসম্মতিক্রমে তাকে রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচনে মনোনয়ন দেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
গত ২ ফেব্রুয়ারি সকালে মো. আবদুল হামিদের পক্ষে সংসদের চিপ হুইপ আ স ম ফিরোজ নির্বাচন কমিশন ভবন থেকে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন। এ সময় তার সঙ্গে আওয়ামী লীগের পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দলও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। এ সময় প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নুরুল হুদা সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
পরে আওয়ামী লীগের একটি প্রতিনিধি দল রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী হিসেবে নির্বাচন কমিশন থেকে সংগৃহীত মনোনয়নপত্র বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের কাছে হস্তান্তর করেন।
নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি দেশের ২১তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২০তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন মো. আবদুল হামিদ।

শ্রেণী:

বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন প্রধান বিচারপতি নিয়োজিত

05a

05aদেশের ২২তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথ নিয়েছেন বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন। গত ৩ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা ৭টা ১০ মিনিটে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ নতুন প্রধান বিচারপতিকে শপথ পড়ান। বঙ্গভবনের দরবার হলে এই শপথ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, মন্ত্রিসভার জ্যেষ্ঠ সদস্যবৃন্দ, সাবেক প্রধান বিচারপতিগণ, সুপ্রিমকোর্টের আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতিগণ, সিনিয়র আইনজীবীসহ সরকারের পদস্থ বেসামরিক-সামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন।
সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগের এই বিচারপতিকে গত ২ ফেব্রুয়ারি প্রধান বিচারপতি পদে নিয়োগ দেন রাষ্ট্রপতি। ওই দিন প্রধান বিচারপতি নিয়োগ সংক্রান্ত পত্রে স্বাক্ষর করেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ। এরপর এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়। ৩ ফেব্রুয়ারি শপথ নেন বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন। শপথ শেষে শপথনামায় সই করেন নতুন প্রধান বিচারপতি ও রাষ্ট্রপতি।

শ্রেণী:

দশম জাতীয় সংসদের ৪ বছর পূর্তি

06

06সরদার মাহামুদ হাসান রুবেল: ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের মধ্য দিয়ে গঠিত বর্তমান দশম সংসদ সবার স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে প্রাণবন্তভাবে ৪ বছর পূর্ণ হয়েছে গত ২৯ জানুয়ারি। এই সংসদের মেয়াদ শেষ হবে ২০১৯ সালের ২৮ জানুয়ারি। বিএনপি-জামাত জোট নির্বাচন বর্জন করলেও গত চার বছরে অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে দশম জাতীয় সংসদে সক্রিয় ছিল ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দল। অধিবেশনগুলোতে স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতির পাশাপাশি নানা ইস্যুতে সরব হতে দেখা গেছে উভয় দলের সংসদ সদস্যদের। চার বছরে সংসদ বর্জনের সংস্কৃতির অবসান হয়েছে। দেশে প্রথমবারের মতো প্রধান বিরোধী দলও (জাপা) সরকারের মন্ত্রিসভায়Ñ এই বিবেচনায় চলতি দশম জাতীয় সংসদ ‘ব্যতিক্রমী’। দেশের সংসদীয় ইতিহাসে এবারই প্রথম একজন নারী স্পিকার নির্বাচিত হয়েছেন ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী।
দশম সংসদের চার বছরে বড় ধরনের কূটনৈতিক সফলতা অর্জনের বিষয়টি সর্বত্র প্রশংসিত হয়েছে। জাতীয় সংসদের উদ্যোগে ঢাকায় সংসদীয় গণতান্ত্রিক দেশগুলোর বৃহত্তর দুটি সংগঠন কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারি অ্যাসোসিয়েশন (সিপিএ) ও ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) সম্মেলন হয়েছে। এই সংসদে গত চার বছরে জনগণের স্বার্থসংশ্লিষ্ট ইস্যুতে আলোচনায় নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে।
আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া শেষে বিলটি পাসের জন্য যখন সংসদে আসে, তখনও বিরোধী দল থেকে অনেক সংশোধনী আনা হয়, সেটার ওপর আলোচনাও হয়। অনেক ক্ষেত্রে মাননীয় মন্ত্রীরা সেসব সংশোধনী গ্রহণও করেছেন এগুলো জনগণের কাছে ছিল খুব ইতিবাচক। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া এবং সংসদীয় গণতন্ত্রকে সুসংহত করার ক্ষেত্রে সকল দলের সদস্যদের মধ্যে এই যে আলোচনা এবং তার মধ্য থেকে একটা আইনকে চূড়ান্ত করাÑ সেই বিষয়টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেক ক্ষেত্রে, ঠিক যখন বিলটা উত্থাপনের জন্য সংসদে আসে, সেই উত্থাপনের সময়ও বিরোধী দল অনেক সময় আপত্তি জানায় এবং মন্ত্রী সেটার উত্তর দেন, তারপর সংসদে ভোট পেয়ে সেটা সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে যাচ্ছে। সংসদীয় গণতন্ত্র চর্চার জন্য এ বিষয়গুলো খুব সহায়ক প্রক্রিয়া।
তারপর বিরোধী দল গঠনমূলক সমালোচনার জায়গাটিকে অনেক বেশি শক্তিশালী করছে। সবকিছুতেই তারা যে একমত তাও নয়; কিন্তু যে দ্বিমতটা তারা প্রকাশ করছেনÑ সেটা খুব সুন্দরভাবে তারা সংসদে উপস্থাপন করছেন। সরকার যেন সরকারের কাজগুলো আরও গঠনমূলকভাবে এগিয়ে নিতে পারে, সেক্ষেত্রে বিরোধী দল সহযোগিতা করছে। আবার বিরোধিতা বা যেখানে দ্বিমত আছে, সেখানে তারা সেটা সংসদে নির্বিঘেœ প্রকাশ করছেন। এই সংসদে অনির্ধারিত আলোচনায়ও অনেক বিষয় উঠে এসেছে। বিরোধী দলের সদস্যরা যথেষ্ট ক্রিটিক্যালি সেগুলো সংসদে উপস্থাপন করেন। এসব ক্ষেত্রে স্বতন্ত্র সদস্যদেরও স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ রয়েছে; তারাও প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীদের প্রশ্ন করেন, জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নোটিসের ওপর আলোচনা করছেন, কখনও কখনও তাদের মতামত গ্রহণও করা হয়। এগুলোর মধ্য দিয়েই সংসদ এগিয়ে যাচ্ছে।
বিরোধী দল হিসেবে জাপা বিদ্যুৎ-গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে ২০১৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর প্রথমবারের মতো ওয়াকআউট করেছিল। সম্প্রতি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে পরিবারের সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধি সংক্রান্ত বিলের প্রতিবাদে দলটি ওয়াকআউট করে। এছাড়াও তারা বিভিন্ন কারণে হাতেগোনা কয়েকবার ওয়াকআউট করেছে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণকে ইউনেস্কো স্বীকৃতি দেওয়ায় সংসদের সবাই একই সুরে প্রশংসা করেছে। সংসদে সর্বসম্মত ধন্যবাদ প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। এই সংসদ একাত্তরে পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যার বিরুদ্ধ স্বোচ্চার ছিল। ২৫ মার্চকে ‘গণহত্যা দিবস’ হিসেবে ঘোষণার প্রস্তাবও এই সংসদে গৃহীত হয়েছে। সেভাবেই ২৫ মার্চকে দেশের ভিতরে ‘গণহত্যা দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এমনিভাবে প্যালেস্টাইনের জনগণ যখন নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন, তখনও তীব্র নিন্দা জানিয়ে সংসদে প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। এই সংসদ ‘বর্জন সংস্কৃতি’ অবসানকারী সংসদ বলে মনে করে সরকার ও বিরোধী দল।
গত চার বছরের ১৯ অধিবেশনে বৈঠক হয়েছে ৩২৮ দিন। এর মধ্যে সবচেয়ে লম্বা অধিবেশন ছিল প্রথমটি। ৩৬ কার্যদিবসের এই অধিবেশন শেষ হয় ১০ এপ্রিল। আর সব থেকে ছোট অধিবেশন ছিল মাত্র ৫ কার্যদিবসের ১৫ ও ১৭তম অধিবেশন।
গত ৭ জানুয়ারি ১৯তম অধিবেশন শুরু হয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের ভাষণের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই অধিবেশনেই দেশের নতুন ২১তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হওয়ার কথা হয়। এই সংসদে এ পর্যন্ত ১২৮টি আইন পাস হয়েছে। বিল পাস, প্রশ্নোত্তরসহ অন্যান্য ইস্যুতেও সক্রিয় ছিলেন সংসদ সদস্যরা। সর্বশেষ ৪ লাখ কোটি টাকার ওপরে বাজেট পাস করে নতুন রেকর্ড সৃষ্টি করেছে এই সংসদ।
বিগত বছরগুলোতে জনগুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে সরকারকে চাপে রাখতে একাধিকবার সংসদ বর্জন (ওয়াকআউট) করেছিল বিরোধী দল। সর্বশেষ চলতি অধিবেশনে ব্যাংক কোম্পানি আইন পাসের প্রতিবাদে সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেন তারা। জাতীয় নির্বাচনের এ বছরের শুরু থেকেই অবশ্য সরকারের বিরুদ্ধে সংসদে উত্তাপ ছড়াচ্ছে বিরোধী দল। প্রতিটি বিল উত্থাপন ও পাসের সময় তাদের রুটিন বিরোধিতাও অব্যাহত রয়েছে। বিরোধী দলের পাশাপাশি সরকারি দলের সদস্যরাই মাঝে মাঝে সরকারের নেওয়া জনবিরোধী সিদ্ধান্তগুলো কঠোর বিরোধিতা করে সংসদকে প্রাণবন্ত রাখেন। বিভিন্ন ইস্যুতে দলীয় এমপিদের এই সংসদীয় আক্রমণে রীতিমতো বিব্রত হয়েছেন একাধিক মন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর মহানুভবতায় নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে বিশ্ববাসীর প্রশংসা অর্জন নিয়ে সংসদে আলোচনা হয়েছে।
এ বিষয়ে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, বর্তমান জাতীয় সংসদ অতীতের যে কোনো সময়ের থেকে বেশ কার্যকর। এই সংসদের রেকর্ড সংখ্যক আইন পাসের পাশাপাশি জনগুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে আলোচনা হয়েছে। এক্ষেত্রে ক্ষমতাসীন দলের পাশাপাশি বিরোধী দলও ভূমিকা রাখছে। তাদের সহযোগিতায় দেশে দুটি বৃহত্তর আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজন করা সম্ভব হয়েছে। এর মাধ্যমে বিশ্ববাসী স্বচক্ষে বাংলাদেশের গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রা ও অর্থনৈতিক অগ্রগতিসহ অন্যান্য বিষয় দেখার সুযোগ পেয়েছে। এটা বাংলাদেশের জন্য বয়ে এনেছে অনন্য সম্মান। তিনি আরও বলেন, সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী বিদেশি অতিথিরা বাংলাদেশের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। এর মাধ্যমে বিশ্বে আমাদের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়েছে। যা আমাদের সংসদীয় গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রায় বড় ভূমিকা রাখবে।
মাননীয় বিরোধী দলের নেতাও বাজেট আলোচনা, অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্য এবং রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপরসহ প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রেখেছেন। এমনকি প্রধামন্ত্রীর প্রশ্নোত্তরকালে এবং মন্ত্রীদের প্রশ্নোত্তর পর্বেও তিনি সরাসরি প্রশ্ন করেছেন। জনগণের অনেক সমস্যা তিনি সংসদে তুলে ধরেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যিনি এই দশম জাতীয় সংসদের সংসদ নেতা, তিনিই কিন্তু প্রতি বুধবার ৩০ মিনিট প্রধানমন্ত্রীর এই প্রশ্নোত্তর প্রক্রিয়ার প্রচলন করেন। তারই ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রী নিয়মিত প্রশ্নোত্তরে অংশ নিচ্ছেন। সময়ে তুলনামূলকভাবে বিরোধী দলের সদস্যদেরই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে বেশি প্রশ্ন করার সুযোগ দেওয়ার চেষ্টা করে দিয়েছে স্পিকার। কাজেই প্রশ্নকালগুলো ছিল অত্যন্ত প্রাণবন্ত। এবং অনেক সময় অনেক বিষয়ে তিনি দীর্ঘসময় বিস্তারিত উত্তর দেন। সংসদে প্রধানমন্ত্রীর নিয়মিত এবং প্রায় সার্বক্ষণিক উপস্থিতিও আমরা সংসদে দেখতে পাই। কাজেই এগুলো খুব ইতিবাচক। প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন সময়ে অনেক পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। ‘প্ল্যানেট ফিফটি ফিফটি’, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় অবদানের জন্য ‘চ্যাম্পিয়ন অব দ্য আর্থ’ ইত্যাদি। সেই বিষয়গুলোকে অভিনন্দন জানিয়ে সংসদে প্রস্তাব পাস হয়েছে।
জাতীয় সংসদ সবিচালয়ের কর্মকর্তাদের জন্য বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সংসদ সদস্যরাও অনেক ধরনের কর্মশালায় অংশ নিয়েছেন। যেমন অটিজমের ওপর প্রশিক্ষণে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল বক্তব্য রেখেছেন। ‘সামাজিক নিরাপত্তা’ কার্যক্রমের ওপর কর্মশালা হয়েছে। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বা এসডিজি-কে কীভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায় সে বিষয়ে কর্মশালা হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্যোগের ঝুঁকি মোকাবিলাসহ বিভিন্ন বিষয়ে সংসদ সদস্যরা কাজ করছেন। বিশেষ করে সংসদ সদস্যরা তাদের নির্বাচনী এলাকাগুলোতে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ এবং মাতৃ-শিশু মৃত্যুরোধে জনসচেতনতা গড়ে তোলার জন্য কাজ করছেন। ‘এসপিসিপিডি’ প্রকল্পের মাধ্যমে এগুলো বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
চার বছরে ৫০টি সংসদীয় কমিটির সহস্রাধিক বৈঠক হয়েছে। সবচেয়ে বেশি বৈঠক করেছে সরকারি হিসাব সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি। সবচেয়ে কম বৈঠক করেছে পিটিশন কমিটি। প্রথম দুই বছর কার্যপ্রণালি বিধি-সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির কোনো বৈঠক না হলেও গত দুই বছরে কয়েকটি বৈঠক করেছে।

শ্রেণী:

রায়ে স্বাধীনতাবিরোধীদের ভাষারই পুনরাবৃত্তি

Posted on by 0 comment
20
20

ষোড়শ সংশোধনী বাতিল করে বিতর্কিত পর্যবেক্ষণের কঠোর সমালোচনা

প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা ষোড়শ সংবিধান সংশোধনী বাতিল করে দেওয়া প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার বিতর্কিত পর্যবেক্ষণের কঠোর সমালোচনা করে বলেছেন, বিএনপি-জামাতসহ স্বাধীনতাবিরোধীরা যে ভাষায় কথা বলে, প্রধান বিচারপতি তার রায়ে সেই ভাষাগুলোরই পুনরাবৃত্তি করেছেন। তার এই স্ববিরোধিতাপূর্ণ রায় জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পায়নি, কারও কাছে গ্রহণযোগ্য হয়নি। এমন রায় দিয়ে প্রধান বিচারপতি নিজেকেই শুধু বিতর্কিত করেন নি, সংসদ, সংবিধান ও গণতন্ত্রকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করেছেন। এর পেছনের উদ্দেশ্য কী? সুপ্রিমকোর্ট সংসদে প্রণীত কোনো আইনের ব্যত্যয় ঘটলে ব্যাখা দিতে পারে; কিন্তু সংবিধান সংশোধন করতে পারে না, সেই অধিকার তাদের নেই। সংবিধান সংশোধনের একমাত্র অধিকার সার্বভৌম জাতীয় সংসদের।
স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে গত ১৩ অক্টোবর জাতীয় সংসদ অধিবেশনে ষোড়শ সংশোধনী রায় নিয়ে কার্যপ্রণালি বিধির ১৪৭ বিধি অনুযায়ী আনীত সাধারণ প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, সংসদকে হেয় করা, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতাকে কেড়ে নেয়ার চেষ্টা, দেশের স্বাধীনতা ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে হেয় করার চেষ্টা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। তিনি বলেন, প্রধান বিচারপতির রায়ে অনেক স্ববিরোধিতা ও সাংঘর্ষিক বিষয় রয়েছে। রায়টি কোথা থেকে কে করে দিয়েছে সেটা দেখতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিরোধী দলের নেতা বেগম রওশন এরশাদ ছাড়াও সরকার ও বিরোধী দলের ১৮ জন সংসদ সদস্য আনীত এই প্রস্তাবটি সমর্থন করে প্রায় সাড়ে ৫ ঘণ্টা আলোচনা করেন। আলোচনা শেষে জাসদের মইন উদ্দীন খান বাদলের আনীত প্রস্তাবটি স্পিকার ভোটে দিলে তা সর্বসম্মতক্রমে গৃহীত হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সুপ্রিমকোর্টের যে রায় দেয়া হয়েছে এটা কারও কাছে গ্রহণযোগ্যতা পায়নি। রায়ের পর বিএনপি খুশি হয়ে মিষ্টি বিতরণ করেছে। এমন হতে পারে এই রায়ে জিয়াউর রহমানের অবৈধ ক্ষমতা দখল বানানো গণতন্ত্র বলা হয়েছে। হয়তো ওটাতে খুশি হয়ে এতদিন আমরা যেটা বলতাম সেটা মেনে নিয়ে মিষ্টি বিতরণ করেছে। তিনি বলেন, গণতন্ত্রকে সমুন্নত রাখতে হবে। গণতন্ত্র ছাড়া দেশের উন্নতি কখনও হয়নি, হবেও না। তাই গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী আনীত প্রস্তাবটি সর্বাত্মক সমর্থন করে বলেন, রায়ের পর্যবেক্ষণে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সম্পর্কে যেসব কথা বলা হয়েছে, স্বাধীনতা-বিরোধী বিএনপি-জামাত যেভাবে কথা বলে, সেই ভাষারই পুনরাবৃত্তি করা হয়েছে ওই রায়ে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী রায়ে সংসদ সদস্য ও সংরক্ষিত নারী এমপিদের নিয়েও কটাক্ষ করেছেন। তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতিকে নির্বাচিত করেন সংসদের সকল সংসদ সদস্যরা। সংরক্ষিত নারী আসনের এমপিরাও এতে ভোট দেন। রাষ্ট্রপতি নিয়োগ দেন বিচারপতিদের। এখন উনি (প্রধান বিচারপতি) যদি সংসদ সদস্যদের নিয়ে এভাবে কথা বলেন তাহলে উনার অবস্থান কোথায় থাকে?
প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রধান বিচারপতি তার রায়ে রাষ্ট্রপতিকে অপমান করেও কথা বলেছেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। যা আমাদের কাছে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। রায়টার ভেতরে সাংঘর্ষিক বিষয় আছে। উনার বক্তব্যে স্ববিরোধিতা আছে। কোথায় কে করে দিয়েছে তা দেখতে হবে। তিনি বলেন, আমরা সংবিধানের মূল কাঠামোতে যখন ফিরে গেলাম, প্রধান বিচারপতি সেটা মানছেন না। তিনি সামরিক অধ্যাদেশকে সংবিধানের মূল কাঠামো বলছেন, এর উদ্দেশ্য কী? কোন বিষয়ে আপিল হলে সুপ্রিমকোর্ট আপিলের রায় দিতে পারেন, ব্যাখ্যা দিতে পারেন। কিন্তু সংবিধান সংশোধন করে দিতে পারেন না। এ অধিকার সংবিধান সুপ্রিমকোর্টকে দেয়নি। আসলে প্রধান বিচারপতি বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলে নিজেকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন। সংবিধান ও গণতন্ত্রকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন।
সংসদ নেতা বলেন, রাষ্ট্রের মূল কাঠামোই হচ্ছে নির্বাহী, আইন ও বিচার বিভাগ। এই ৩টি স্তম্ভ একে অপরের পরিপূরক ও সমান অধিকার রয়েছে। কেউ কাউকে খাটো করবে না। সংসদে পাস হওয়া কোনো আইনে ব্যত্যয় ঘটলে সর্বোচ্চ আদালত এ ব্যাপারে বিশ্লেষণ করতে পারেন, কিন্তু সংবিধান সংশোধন করতে পারেন না। রায়ের পর্যবেক্ষণে প্রধান বিচারপতি শত শত বছর আগের বিষয়গুলো টেনে এনেছেন। জবাবদিহিতা সবার থাকতেই হবে। আমরা প্রতি পাঁচ বছর পরপর জনগণের কাছে গিয়ে কাজের জবাবদিহি করি।
সুপ্রিম জুডিসিয়াল কাউন্সিল প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রধান বিচারপতি ও অন্য দুই বিচারপতির নেতৃত্বে এই কাউন্সিল হয়। এই এক ব্যক্তি কোনো বিচারপতিকে পছন্দ না হলে অপসারণ করতে পারবেন। কে বিচারপতি থাকবেন কি থাকবেন নাÑ তা ওই এক ব্যক্তির ইচ্ছার ওপর নির্ভর করবে। কারও (বিচারপতি) প্রতি এতটুকু বৈরী হলে সেই বিচারপতির চাকরি চলে যাবে। প্রধান বিচারপতি রায়ে আমিত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। অথচ সুপ্রিম জুডিসিয়াল কাউন্সিলের মাধ্যমে উনি নিজেই আমিত্ব প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছেন। অথচ ষোড়শ সংশোধনী অনুযায়ী কোনো বিচারপতিকে অপসারণ করতে হলে সংসদের দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠ সংসদ সদস্যদের সমর্থন লাগবে। এরপর আইনের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি ব্যবস্থা নিতে পারবেন। অথচ এই ব্যবস্থাকেই করা হলো অবৈধ!
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংবিধান অনুযায়ী জনগণই সকল ক্ষমতার মালিক। আর জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে আমরা দেশের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। আর আপিল বিভাগের এখতিয়ারও সংবিধানে উল্লেখ রয়েছে। তিনি বলেন, রায়ে বলা হয়েছে সংসদ পরিচালনা হয় না-কি কেবিনেটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী। বাস্তবে সংসদ পরিচালনার ক্ষেত্রে কেবিনেটের কোনো ভূমিকাই নেই। সংসদ পরিচালনা হয় সংসদের কার্যোপদেষ্টা কমিটির সিদ্ধান্তে, সংবিধান ও কার্যপ্রণালি বিধি অনুযায়ী। এমন অনেক কিছুই প্রধান বিচারপতির রায়ে স্ববিরোধিতা ও সাংঘর্ষিক বিষয় রয়েছে। সবাইকে মনে রাখতে হবে, জনগণের শক্তিই মূল শক্তি, জনগণের এ অধিকার সমুন্নত রাখতে হবে।

১২০০ কোটি টাকা পাচার করেছে জিয়া পরিবার
প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা বলেছেন, জিয়া পরিবার দুবাইসহ ১২টি দেশে ১২০০ কোটি টাকা পাচার করেছে। এ সংক্রান্ত যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গোয়েন্দা সংস্থা গ্লোবাল ইন্টেলিজেন্স নেটওয়ার্কের (জিআইএন) রিপোর্ট সরকারের হাতে এসেছে। বিষয়টির তদন্ত চলছে। তদন্তে রিপোর্টের সত্যতা প্রমাণিত হলে, যারা দেশের জনগণের সম্পদ লুণ্ঠন করে বিদেশে পাচার করেছে তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে পাচারকৃত অর্থ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেশে ফেরত আনা হবে।
গত ১৩ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে জাতীয় পার্টির (এ) সংসদ সদস্য ফখরুল ইমামের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, তদন্ত করে যখনই আমরা সঠিক তথ্য পাব কোথায় কীভাবে অর্থ রয়েছে, নিশ্চয় আমরা ফেরত আনার পদক্ষেপ নেব। ইতোমধ্যে আমরা কিছু পদক্ষেপ নিয়েছি। তদন্ত চলার স্বার্থে হয়তো সব আমি বলতে পারলাম না। তবে সত্যতা প্রমাণিত হলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ সময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। প্রশ্নকারী ফখরুল ইমাম জিআইএনের রিপোর্টের কিছু অংশ তুলে ধরে বলেন, জিআইএনের প্রতিবেদন অনুযায়ী শুধু দুবাই নয়, অন্ততপক্ষে ১২টি দেশে জিয়া পরিবারের সম্পদ রয়েছে। যার প্রাক্কলিত মূল্য ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা। সৌদি আরবে আল আরাবা শপিংমল রয়েছে, এর মালিকানা বেগম জিয়ার। কাতারে বহুতল বাণিজ্যিক ভবন ইকরা’র মালিকও উনি এবং তার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান। তা ছাড়া খালেদা জিয়ার ভাতিজা তুহিনের নামে কানাডায় ৩টি বাড়ি রয়েছে। এছাড়া বিএনপির সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ড. খন্দকার মোশাররফ সিঙ্গাপুরের হোটেল মেরেনডি’র ১৩ হাজার শেয়ারের মালিক। বিএনপির সাবেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার আমিনুল হকের নামে লন্ডনে স্টেন্ডফোর্ড ও অলগেটিতে দুটি অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে। আরেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের নামেও অ্যাপার্টমেন্ট আছে। বিএনপি আমলের মন্ত্রী মির্জা আব্বাসের স্ত্রীর নামে দুবাইতে আছে বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট। সিঙ্গাপুরেও মির্জা আব্বাস ও তার সন্তানদের নামে রয়েছে দুটি অ্যাপার্টমেন্ট। বিএনপি নেতা নজরুল ইসলাম খানের নামেও সিঙ্গাপুরে রয়েছে বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, উল্লিখিত তথ্যগুলো যখন বের হয়েছে তখন নিশ্চয় আমাদের কাছে আছে এবং এটা নিয়ে তদন্ত চলছে। তা ছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের অধীনে মানিলন্ডারিং আইনেও তদন্ত করা হচ্ছে। এই তদন্তের মধ্য দিয়ে সত্যতা যাচাই করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিষয়টি নিয়ে সংসদে প্রশ্ন করায় জাতীয় পার্টির এমপিকে ধন্যবাদ জানিয়ে সংসদ নেতা বলেন, সংসদে তথ্যটি তুলে ধরার জন্য সংসদ সদস্যকে ধন্যবাদ জানাই। আমরা সরকার থেকে তুলে ধরলে বহু লোক আছে, তারা মায়াকান্না শুরু করত, বলত আমরা হিংসাত্মক হয়ে এটা করি। বিরোধী দল থেকে যেহেতু এটা এসেছে, নিশ্চয়ই মানুষ এটা উপলব্ধি করতে পারবেÑ জনগণের সম্পদ কীভাবে লুট করেছে। যার কারণে তাদের আমলে বাংলাদেশ পাঁচ-পাঁচবার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। কোনো উন্নতি করতে পারেনি। আর্থ-সামাজিক অবস্থার অবনতি ঘটেছিল।
শেখ হাসিনা বলেন, এ কথা তো সকলেই জানে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর একদিকে মানুষ হত্যা-খুন করেছে। আন্দোলনের নামে আগুন দিয়ে মানুষ পুড়িয়ে মেরেছে। একদিকে সন্ত্রাস জঙ্গিবাদ, অপরদিকে ক্ষমতায় থাকতে দুর্নীতি, অর্থ পাচার করা এ ধরনের বহু অভিযোগ তো জনগণ সব সময় করেছে এবং এটা সকলেই জানে। এজন্য খালেদা জিয়ার ছোট ছেলের পাচারকৃত কিছু টাকা আমরা ফেরত এনেছি। বোধহয় বাংলাদেশের ইতিহাসে এটাই প্রথম কারও পাচার করা টাকা ফেরত আনা সম্ভব হয়েছে।

শ্রেণী:

জাতিসংঘসহ বিশ্ব নেতৃবৃন্দের প্রতি আহ্বান

22
22

সংসদে সর্বসম্মত প্রস্তাব পাস : রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে

রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ফিরিয়ে নিয়ে নাগরিকত্ব অধিকার ও নিরাপদে বসবাসের ব্যবস্থা গ্রহণে মিয়ানমার সরকারের ওপর জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিকমহলের জোরাল কূটনৈতিক চাপ প্রয়োগের আহ্বান জানিয়ে আনীত সাধারণ প্রস্তাব গত ১২ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে সর্বসম্মতভাবে গৃহীত হয়েছে।
সরকার ও বিরোধীদলের সংসদ সদস্যরা অভিন্ন কণ্ঠে রোহিঙ্গা ইস্যুতে জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনান কমিশনের রিপোর্ট পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নে বিশ্ব নেতৃবৃন্দকে মিয়ানমার সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টির আহ্বান জানিয়েছেন। মিয়ানমারকে বর্বর রাষ্ট্র আখ্যায়িত করে জাতিসংঘ শান্তি বাহিনীর মাধ্যমে দেশটিতে সেফ জোন তৈরি করে রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা প্রদানের দাবি জানিয়ে তারা বলেন, মিয়ানমারে যা হচ্ছে তা সম্পূর্ণ গণহত্যার শামিল। তারা মধ্যযুগীয় বর্বরতাকেও হার মানিয়েছে। তাই রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে মিয়ানমারে ফিরিয়ে নিয়ে নাগরিকত্বের অধিকার দিয়ে নিরাপদে বসবাসের ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি। এ বিষয়ে মিয়ানমার সরকারের ওপর জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিকমহলের জোরাল কূটনৈতিক চাপ প্রয়োজন। যাতে তাদের নাগরিক ফেরত নিতে মিয়ানমার সরকার বাধ্য হয়। আর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মুসলমান বলে জায়গা দেননি, মানুষ হিসেবে সম্পূর্ণ মানবিক কারণে দেশে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছেন। তাই এই ইস্যুতে বিশ্ব নেতৃবৃন্দকে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আমাদের দেশের জঙ্গিগোষ্ঠীরা এসব রোহিঙ্গাকে তাদের ফায়দা হাসিলে ব্যবহার করতে না পারে সেজন্যও সরকারকে তাদের কঠোর নজরদারির মধ্যে রাখতে হবে।
স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশনে কার্যপ্রণালি বিধির ১৪৭ বিধির আওতায় সন্ধ্যা সোয়া ৭টায় সাধারণ প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি এমপি। প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নেন বিরোধী দলের নেতা রওশন এরশাদ, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ এমপি, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী এমপি, সরকারি দলের শেখ ফজলুল করিম সেলিম এমপি, ড. মহিউদ্দীন খান আলমগীর এমপি, অ্যাডভোকেট আবদুল মতিন খসরু এমপি, ড. হাছান মাহমুদ এমপি, মেজর জেনারেল (অব.) এটিএম আবদুল ওয়াহহাব এমপি, সাইমুন সারোয়ার কমল এমপি, ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি ও বিমানমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন এমপি, জাসদের মইন উদ্দীন খান বাদল এমপি, শিরীন আক্তার এমপি, তরিকত ফেডারেশনের নজিবুল বশর মাইজভা-ারী এমপি ও বিরোধী দল জাতীয় পার্টির ফখরুল ইমাম এমপি। সরকার ও বিরোধী দলের সরব অংশগ্রহণে দীর্ঘ আলোচনা শেষে স্পিকার প্রস্তাবটি ভোটে দিলে তা সংসদে কণ্ঠভোটে সর্বসম্মতক্রমে গৃহীত হয়।
রোহিঙ্গা ইস্যুটি জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে তুলে ধরা হবে
প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা মানবিক কারণে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গাদের সাময়িক আশ্রয় প্রদানের কথা তুলে ধরে বলেছেন, কে হিন্দু-মুসলমান-বৌদ্ধ বা খ্রিস্টান তা আমরা দেখিনি, আমরা মানুষকে মানুষ হিসেবে দেখি এবং মানবিক কারণেই পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের সাময়িক আশ্রয় দিয়েছি। আমরা তো অমানুষ ও অমানবিক হতে পারি না বলেই সহিংসতার শিকার রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়িয়েছি। তবে মিয়ানমার সরকার এ সমস্যার সৃষ্টি করেছে, সমাধানও তাদেরই করতে হবে। প্রয়োজনে প্রতিবেশী দেশ হিসেবে আমরা তাদের সহযোগিতা করতে পারি। অবশ্যই বাংলাদেশে আসা তাদের প্রত্যেক নাগরিককে মিয়ানমার সরকারকে ফেরত নিতে হবে। প্রয়োজনে মিয়ানমারে সেফ জোন সৃষ্টি করে তাদের নিরাপদ বসবাস নিশ্চিত করতে হবে। মিয়ানমার সরকারকে অবশ্যই স্বীকার করতে হবে এদেশে আসা রোহিঙ্গারা তাদের দেশেরই নাগরিক। জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনানের তদন্ত প্রতিবেদন ও সুপারিশ বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, দুর্ভোগের শিকার হয়ে বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গা ইস্যুতে কেউ যেন রাজনীতি বা রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের চেষ্টা না করে। আবার কেউ যেন রোহিঙ্গাদের নিয়ে নিজেদের ভাগ্য গড়া বা ব্যক্তিগত ফায়দা লোটার চেষ্টা না করে। সাহায্য বা সহযোগিতা না করে কেউ বড় বড় স্টেটমেন্ট দেবেন, সেটি হবে না। আমরা দেশের ১৬ কোটি মানুষের মুখে খাবার তুলে দিচ্ছি। আর এই ৪-৫ লাখ লোকের মুখে খাবার তুলে দেওয়ার ক্ষমতাও আমাদের রয়েছে। সত্যিকার যারা এসেছে তাদের আইডেনটিটি থাকবে, ছবি থাকবে। সাময়িকভাবে তাদের আশ্রয় দেওয়ার ব্যবস্থা নিয়েছি। এটা সাময়িক ব্যবস্থা। মিয়ানমারকে অবশ্যই তাদের নাগরিকদের ফিরিয়ে নিতে হবে। এই ইস্যুটি জাতিসংঘের আসন্ন সাধারণ অধিবেশনে জোরালভাবে তুলে ধরার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী।
স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে ১১ সেপ্টেম্বর সংসদ অধিবেশনে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি কর্তৃক রোহিঙ্গা ইস্যুতে কার্যপ্রণালি বিধির ১৪৭(১) বিধি অনুসারে আনীত প্রস্তাবটি (সাধারণ) সমর্থন জানিয়ে বক্তব্য প্রদানকালে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। সন্ধ্যা সোয়া ৭টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত প্রায় পৌনে তিন ঘণ্টার সাধারণ আলোচনায় সরকার ও বিরোধী দলের মোট ১৬ জন বক্তব্য রাখেন। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য শেষ হলে স্পিকার প্রস্তাবটি ভোটে দিলে তা সর্বসম্মতভাবে গৃহীত হয়।
আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, রোহিঙ্গারা মিয়ানমারেরই নাগরিক। ১৯৫৪ সালেই মিয়ানমারের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গাসহ দেশটির সকল ক্ষুদ্র গোষ্ঠীকে সমান অধিকার প্রদানের ঘোষণা দিয়েছিলেন। অথচ তাদের নাগরিকত্ব কেড়ে নিয়ে এখন তাদের দেশ থেকে বিতাড়ন করা হচ্ছে। সেখানে রোহিঙ্গাদের ওপর যেভাবে অত্যাচার-নির্যাতন করা হচ্ছে তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। গোটা বিশ্ব বিবেকের হৃদয়কে নাড়া দিয়েছে এ ঘটনা।
তিনি বলেন, মিয়ানমার থেকে গত কয়েক দিনে কয়েক লাখ মানুষ এ দেশে আসতে বাধ্য হয়েছে। অত্যাচারের যে চিত্র দেখলাম তা বলার ভাষা খুুঁজে পাচ্ছি না। রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের নাগরিক। এটা তো সবাই জানে। ১৯৭৪ সালে মিয়ানমারের মিলিটারি জান্তা তাদের অধিকার কেড়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করে। ’৮১ ও ’৮২ সালে তারা যে আইন করে সেখানে চার স্তর বিশিষ্ট সিটিজেনশিপ চালু করে। এর উদ্দেশ্য ছিল তাদের অধিকার কেড়ে নেওয়া। একটা জাতির ওপর মিয়ানমার সরকার এ ধরনের আচরণ কেন করছে তা জানি না। আমরা বারবার রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ নিয়ে প্রতিবাদ করছি। আমি যে ক’বার মিয়ানমার সফর করেছি তাদের বলেছি আপনারা আপনাদের নাগরিক আমাদের দেশ থেকে ফিরিয়ে নিন। ফিরিয়ে নেওয়া তো দূরের কথা। তারা উল্টো তাদের ওপর অত্যাচার চালাতে লাগল।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০১২ সালে ও ২০১৬ সালে দুষ্কৃতকারীরা তাদের পুলিশের ওপর হামলা চালায়। এর জেরে সাধারণ মানুষদের ওপর অত্যাচার চালানো শুরু করে। শিশুর লাশ নাফ নদীতে ভাসছে। গুলি খাওয়া মানুষ আছে। মেয়েদের ওপর পাশবিক অত্যাচার করা হয়েছে। আমরা তো মানুষ। তাদের আশ্রয়ে নিষেধ করব কীভাবে? আমাদের তো অভিজ্ঞতা রয়েছে। ১৯৭১ সালে আমাদের সঙ্গে পাকিস্তানিরা যে ঘটনা ঘটিয়েছিল সেসব চিত্র চোখের সামনে ভেসে উঠেছে। আমরা তো ভুক্তভোগী ছিলাম। আমিও তো ছয় বছর ধরে রিফিউজি হয়ে ছিলাম। রিফিউজি হয়ে থাকার কষ্ট আমরা জানি। তাই এদের আশ্রয় দিয়েছি মানবিক কারণে, অন্য কোনো কারণে নয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রত্যেক দেশের সঙ্গে আমরা সুসম্পর্ক বজায় রেখে চলতে চাই। মিয়ানমার সরকারকে বলতে চাই, রোহিঙ্গাদের ভোটের অধিকার কেড়ে নেওয়া, হঠাৎ রোহিঙ্গাদের দেশ থেকে বিতাড়িত করার ফলাফল কি হতে পারে সেটা কি তারা চিন্তা করছে। তিনি বলেন, আমরা কখনই এ ধরনের কর্মকা-কে সমর্থন করব না। উদাহরণ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে অশান্ত পরিবেশ ছিল। এই অশান্ত পরিবেশ মোকাবেলা করতে সামরিকভাবে সমাধানের চেষ্টা করা হতো। ’৮১ সালে দেশে এসে ঘোষণা দিয়েছিলাম এটা সামরিকভাবে সমাধান করা সম্ভব নয়। রাজনৈতিকভাবে সমস্যার সমাধান করতে হবে। পরে সরকারে এসে আমরা শান্তিচুক্তি করি। ভারতে থাকা আমাদের সকল নাগরিককে ফেরত এনে তাদের পুনর্বাসন করি। তিনি বলেন, আমাদের দেশের নাগরিক অন্য দেশে রিফিউজি হয়ে থাকবে এটা মোটেই দেশের জন্য সম্মানজনক নয়। মিয়ানমার সরকারকে এটা আমরা বার বার বলেছি। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মুসলমানদের ওপর হামলা-নির্যাতনের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে মুসলমানদের ওপর হামলার ঘটনা দেখতে পাই। সমস্ত মুসলিম উম্মাহ যদি এটা অনুভব করত বা ঐক্যবদ্ধ থাকত তাহলে এ ধরনের ঘটনা ঘটত না। তিনি বলেন, অং সান সু চি নিয়ে অনেকে কথা বলেছেন। মিয়ানমারে কেবল গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু হয়েছে। কিন্তু আইন করে সু চি’কে ক্ষমতা দেওয়া হয়নি। তাকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এ হিসেবে সেখানে সেনাবাহিনীর প্রতিনিধি বেশি। এখানে অং সান সু চি’রই বা ক্ষমতা কতটুকু সেটাও ভেবে দেখা দরকার। তিনি বলেন, মিয়ানমারের এক জেনারেল ঘোষণা দিয়েছেন এরা সব বাঙালি। বাঙালি তো পৃথিবীর অনেক দেশেই রয়েছে। আর বাঙালি বলেই কি এভাবে নির্যাতন করবে, তাড়িয়ে দেবে? তারা তো বছরের পর বছর সেখানে বাস করছে।
বাংলাদেশের মাটি ব্যবহার করে প্রতিবেশী দেশে কোনো সন্ত্রাসী কর্মকা- পরিচালনা করতে না দিতে তার সরকারের দৃঢ় অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা (দেশটির সন্ত্রাসী গোষ্ঠী) মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও পুলিশ ব্যারাকে হামলা চালিয়েছে তারা কি অর্জন করছে? তারা এটা কি বোঝে না তাদের কারণে আজ লাখ লাখ মানুষের ওপর পাশবিক অত্যাচার হচ্ছে। এ অবস্থা কেন তারা সৃষ্টি করে দিচ্ছে? যারা তাদের অস্ত্র জোগান দিচ্ছে হয়তো তারা লাভবান হচ্ছে। তাদের সন্ত্রাসী কার্যক্রমের কারণে আজ মিয়ানমারের সাধারণ নাগরিক কষ্ট পাচ্ছে। এসব বন্ধ করতে হবে। আমি বলেছি, প্রয়োজনে সন্ত্রাসীদের ধরতে যৌথভাবে কাজ করতে পারি। তবে গুটিকয়েক সন্ত্রাসীর কারণে লাখ লাখ নিরীহ মানুষের ওপর অত্যাচার-নির্যাতন কেন? শিশু-নারীরা কি অপরাধ করেছে? এটা আমরা মানতে পারি না, মানতে চাই না। যারা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে তাদের প্রত্যেককে ফিরিয়ে নিতে হবে। প্রয়োজনে সেফ জোন করে তাদের থাকার ব্যবস্থা করতে হবে। রাখাইন রাজ্য থেকে যাদের বিতাড়ন করা হয়েছে তাদেরও ফেরত নিতে হবে। আনান কমিশন রিপোর্ট বাস্তবায়ন করতে হবে। এই সমস্যা মিয়ানমার সৃষ্টি করেছে এর সমাধান মিয়ানমারকেই করতে হবে।

শ্রেণী:

নতুন বেতন স্কেল অনুমোদন

Posted on by 0 comment

নববর্ষ ভাতা চালু
উত্তরণ প্রতিবেদন: মন্ত্রিসভায় নতুন বেতন স্কেল অনুমোদন দেশের বিভিন্ন পর্যায়ের প্রায় ২১ লাখ চাকরিজীবীর বেতন বাড়ছে। গ্রেড ভেদে মূল বেতন ৯১ থেকে ১০১ শতাংশ বাড়ার বিষয়টি অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা। নতুন স্কেলে প্রথম গ্রেডে সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা (নির্ধারিত)। আর ২০তম গ্রেডে সর্বনি¤œ মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা। এখন সরকারি চাকুরেরা সর্বোচ্চ ৪০ হাজার টাকা ও সর্বনি¤œ ৪ হাজার ১০০ টাকা মূল বেতন পান।
গত ৭ সেপ্টেম্বর সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠকে অষ্টম জাতীয় বেতন স্কেল অনুমোদন করা হয়। কয়েক মাস ধরে বিষয়টি নিয়ে নানা রকম আলোচনা চলছিল। সর্বশেষ বেতন স্কেল দেওয়া হয়েছিল ২০০৯ সালে। সশস্ত্র বাহিনীর জন্যও নতুন বেতন কাঠামো অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা। প্রধানমন্ত্রী তিন বাহিনীর প্রধানদের বেতন ও পদমর্যাদা একই রকম করার অনুশাসন দিয়েছেন বলে বৈঠক শেষে সংবাদ ব্রিফিংয়ে জানান মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব মোশাররাফ হোসাইন ভূইঞা। নতুন স্কেল কার্যকর হবে চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে। আগামী কিছুদিনের মধ্যে প্রজ্ঞাপন জারি হলে বকেয়াসহ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বেতন পাবেন। চলতি বছরে শুধু মূল বেতন এবং আগামী অর্থবছরের ১ জুলাই মূল বেতনের সাথে অন্যান্য ভাতা যুক্ত হবে। এই অর্থবছরে পুরনো বেতন স্কেলে অন্যান্য ভাতা দেওয়া হবে।
মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, সশস্ত্র বাহিনীর কর্মকর্তা ও সদস্য, স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মান্থলি পেমেন্ট অর্ডার পাওয়া (এমপিওভুক্ত) শিক্ষক, সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নতুন জাতীয় বেতনে ১ জুলাই থেকে অন্তর্ভুক্ত হবেন। মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, স্বশাসিত সংস্থা, রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান এবং বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সরকারি মালিকানাধীন ব্যাংক ও অর্থলগ্নি প্রতিষ্ঠানে কর্মরতদের ক্ষেত্রেও এই সময় থেকে নতুন বেতন স্কেল প্রযোজ্য হবে।
তবে মন্ত্রিসভার বৈঠকে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের বেতন, মর্যাদা ও পৃথক বেতন স্কেলের বিষয়টি পর্যালোচনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বেতন বৈষম্য নিরসন সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিকে। এর আগ পর্যন্ত তারা যে গ্রেডে আছেন, সেই গ্রেডে নতুন স্কেল অনুযায়ী বেতন পাবেন। আর এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষকদের বিষয়টি শিক্ষা মন্ত্রণালয় পর্যালোচনা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সিদ্ধান্ত দেবে, এরপর অর্থ বিভাগ এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করবে। জাতীয় বেতন স্কেলে ২০টি গ্রেড ছাড়াও দুটি বিশেষ গ্রেড থাকছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব পাবেন ৮৬ হাজার টাকা করে, সরকারের জ্যেষ্ঠ সচিবরা পাবেন ৮২ হাজার টাকা করে। তিন বাহিনীর প্রধানরা মন্ত্রিপরিষদ সচিব এবং মুখ্য সচিবের সমান বেতন পাবেন। আর জ্যেষ্ঠ সচিবের সমান বেতন পাবেন লে. জেনারেল ও সমপদমর্যাদার সামরিক কর্মকর্তারা।
গ্রেড থাকবে, শ্রেণি বাদ : নতুন বেতন স্কেলে এখনকার মতোই ২০টি গ্রেড থাকবে। ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিনের নেতৃত্বাধীন বেতন ও চাকরি কমিশন ১৬টি গ্রেডের প্রস্তাব করলেও সচিব কমিটি সরকারের আর্থিক সামর্থ্য ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রত্যাশা বিবেচনা করে ২০টি গ্রেড বহাল রাখে।
তবে শ্রেণি (প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণি) তুলে দেওয়া হয়েছে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিজ নিজ গ্রেড দিয়েই পরিচিত হবেন।
বার্ষিক প্রবৃদ্ধি নির্দিষ্ট করে দেওয়া হলো : এই প্রথম সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মূল বেতনের ওপর বার্ষিক প্রবৃদ্ধি নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। প্রতিবছরের ১ জুলাই সবার জন্য একই সাথে বার্ষিক প্রবৃদ্ধি হবে। ২০ থেকে ষষ্ঠ গ্রেড পর্যন্ত বার্ষিক প্রবৃদ্ধি হবে মূল বেতনের ৫ শতাংশ। পঞ্চম গ্রেডে বার্ষিক প্রবৃদ্ধি হবে সাড়ে ৪ শতাংশ। ৩ ও ৪ নম্বর গ্রেডে প্রবৃদ্ধি হবে ৪ শতাংশ। গ্রেড ২-এর বার্ষিক প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ। তবে ১ নম্বর গ্রেডে প্রবৃদ্ধি হবে না।
তিন বাহিনীর প্রধানদের বেতন ও মর্যাদা সমান : সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর প্রধানরা একই স্কেলে বেতন-ভাতা পাবেন। এর আগে সেনাপ্রধানের পদমর্যাদা ও বেতন অন্য দুই বাহিনীর প্রধানদের ওপরে ছিল। সেনাপ্রধান এখন ৪৫ হাজার টাকা মূল বেতন পান, অন্য দুই বাহিনীর প্রধানরা পান ৪২ হাজার টাকা করে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, তিন বাহিনীর প্রধানরা বেতন পাবেন ৮৬ হাজার টাকা করে। মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর প্রধানদের র‌্যাংকও উন্নীত করা হবে।
নববর্ষ ভাতা চালু : সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারী, শিক্ষক, সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা ও সদস্যদের জন্য বাংলা নববর্ষ ভাতা চালুর বিষয়টি অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, দেশে ধর্মভিত্তিক উৎসব রয়েছে। কিন্তু বাংলা নববর্ষ ভাতা সব সম্প্রদায়ের মানুষ একই সাথে এবং একই সময়ে পাবেন। এই ভাতা হবে মূল বেতনের ২০ শতাংশ। মন্ত্রিসভা প্রশিক্ষণ ভাতা, ঝুঁকি ভাতা, চিকিৎসা ভাতা, শিক্ষা ভাতাসহ সব ধরনের বিশেষ ভাতা টাকার অঙ্কে নির্দিষ্ট করে দিয়েছে। প্রেষণ ভাতা তুলে দেওয়া হয়েছে। তবে বাড়ি ভাড়া এখনকার মতো মূল বেতনের শতাংশ হারে (কোথায় ৪০, কোথাও ৫০ শতাংশ) দেওয়া হবে।
বাড়ল অবসর সুবিধা : নতুন বেতন স্কেলে অবসর সুবিধা বাড়বে। ২০০৯ সালের বেতন স্কেলে সরকারি চাকুরেদের অবসরের সময় মূল বেতনের ৮০ শতাংশ ধরে পেনশন নির্ধারণ হতো। নতুন স্কেলে মূল বেতনের ৯০ শতাংশ ধরে পেনশন নির্ধারণ করা হবে।

শ্রেণী:

‘যারা নিজেদের সভ্য ও উন্নত দেশ হিসেবে দাবি করে, তারাই ঘৃণ্য ঘাতকদের আশ্রয় দিয়েছে’

Posted on by 0 comment
37

জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

37উত্তরণ প্রতিবেদন: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বঙ্গবন্ধুর খুনিদের ফেরাতে তথ্য দিচ্ছে না পাকিস্তান। বঙ্গবন্ধুর পলাতক দুই খুনির খোঁজ পেতে পাকিস্তান সরকারের কাছ থেকে কোনো সহযোগিতা পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তিনি।
গত ২ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে ভাষণ দেন সংসদ নেতা শেখ হাসিনা। তিনি আওয়ামী লীগের উপাধ্যক্ষ আবদুস শহীদের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে বঙ্গবন্ধুর খুনিদের আশ্রয় দেওয়ায় কানাডা ও আমেরিকার সমালোচনা করে বলেন, বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের বিচার হয়েছে। কয়েকজনের রায় কার্যকর হয়েছে। কয়েকজন বিভিন্ন দেশে পালিয়ে রয়েছে। অনেকবার সেসব দেশের সরকারের কাছে খুনিদের ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হলেও তারা দেয়নি। ওই সব দেশের সরকারের কাছে সহযোগিতারও অনুরোধ করা হয়েছে। যে কারণেই হোক, তারা সহযোগিতা করছে না। এটিই হচ্ছে বাস্তবতা। এটিও দেশবাসীর জানা দরকার। তবে প্রচেষ্টা এখনও অব্যাহত রয়েছে। কূটনৈতিক ও আইনগতভাবে খুনিদের ফিরিয়ে আনার চেষ্টা হচ্ছে। এ জন্য                      আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ইন্টারপোলের রেড   অ্যালার্ট জারি হয়েছে।
বিদেশে পলাতক খুনিদের ফিরিয়ে এনে বিচারের রায় কার্যকরের দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা নিজেদের সভ্য ও উন্নত দেশ হিসেবে দাবি করে, তারাই ঘৃণ্য ঘাতকদের আশ্রয় দিয়েছে। এটি দুঃখজনক। কেন আমেরিকা ও কানাডার মতো দেশ এটা করছে, তা জানা নেই। তবে খুনি খুনিই। সে যেখানেই থাকুক। তাই বঙ্গবন্ধুর খুনিদের মধ্যে যারা বিদেশে পলাতক রয়েছে, তাদের ফিরিয়ে এনে ফাঁসির রায়                    কার্যকর করা হবে।
প্রধানমন্ত্রী তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও প্রাণনাশের চেষ্টা প্রসঙ্গে বলেন, যে দেশে খুনিদের পুরস্কৃত ও দায়মুক্তি দেওয়া হয়, সে দেশে পদে পদে বাধা ও আঘাত আসবেÑ সেটি তার জানা। কিন্তু তিনি মৃত্যুভয় ও ঘাতকদের পরোয়া করেন না। দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য তিনি রাজনীতি করেন। তিনি তার জীবন এ দেশের মানুষের জন্য উৎসর্গ করেছেন। আল্লাহ ছাড়া জীবনে কখনও কারও কাছে মাথা নত করেন নি, করবেনও না।
প্রধানমন্ত্রী জানান, বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় দ-প্রাপ্ত খুনিদের মধ্যে দুজন আমেরিকায় ও একজন কানাডায় রয়েছে। দুজন লিবিয়ায় ছিল। পরে পাকিস্তানে গেছে। যদিও পাকিস্তান সরকার তা স্বীকার করে না। এ প্রসঙ্গে ওয়ান-ইলেভেনের সময় চ্যানেল আইয়ে বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনি কর্নেল রশিদের সাক্ষাৎকার প্রচারের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, চ্যানেল আইয়ের তৃতীয় মাত্রা যিনি চালান, সেই জিল্লুর রহমান বঙ্গবন্ধুর খুনি কর্নেল রশিদের ইন্টারভিউ করে নিয়ে এসেছিলেন। তার মানে তিনি জানেন, খুনি রশিদ কোথায়? তবে জানা গেছে, ওই সময় রশিদ লিবিয়ায় থাকলেও এখন পাকিস্তানে আছে। ডালিমও পাকিস্তানে। কিন্তু তাদের খোঁজ করার ব্যাপারে পাকিস্তান সরকারের কাছ থেকে কোনো সহযোগিতা পাওয়া যাচ্ছে না।
সংরক্ষিত আসনের ফজিলাতুন নেসা বাপ্পির সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা তার প্রাণনাশের ষড়যন্ত্র প্রসঙ্গে বলেন, যত বাধা বা আঘাতই আসুক, তিনি ভয় পান না। আল্লাহ যতদিন বাঁচিয়ে রাখবেন, ততদিনই মানুষের কল্যাণে তিনি কাজ করে যাবেন। তার বিশ্বাস, সততা, দৃঢ়তা ও আদর্শ নিয়ে কাজ করলে অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছানো যায়। তিনি সেই লক্ষ্য নিয়েই চাওয়া-পাওয়া সব কিছুর ঊর্ধ্বে থেকে নির্মোহভাবে দেশবাসীর জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। তাই কেন ভয় পেতে যাবেন? কেন ঘাতকদের পরোয়া করবেন?
স্বতন্ত্র সদস্য রুস্তম আলী ফরাজীর প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পঁচাত্তরে বঙ্গবন্ধু হত্যাকা-ের পর যারা উল্লসিত হয়েছিল, তারা স্বাধীনতার শত্রু। পরাজিত শক্তির পদলেহনকারী। বাঙালির বিজয় যারা মেনে নিতে পারেনি, তারাই সেদিন উল্লসিত হয়েছিল। আর পুরো বাঙালি জাতি বুঝতে পেরেছিল, বঙ্গবন্ধু হত্যার মাধ্যমে তাদের সবকিছু কেড়ে নেওয়া হয়েছে।
শেখ হাসিনা আরও বলেন, বঙ্গবন্ধু দেশের মানুষকে গভীরভাবে ভালোবাসতেন। মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে আমৃত্যু ত্যাগ স্বীকার করে গেছেন। পৃথিবীর কোনো দেশের ইতিহাসে নেই যে, ইনডেমনিটি দিয়ে খুনিদের বিচার বন্ধ করা হয়। জিয়াউর রহমানরা তা-ই করেছিলেন।
ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য স্বল্পমূল্যে বঙ্গবন্ধুর ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ গ্রন্থটি সরবরাহের উদ্যোগের কথা জানিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, বঙ্গবন্ধুর জীবদ্দশার যত ভাষণ, বক্তৃতা, স্বাধীনতা-পরবর্তী ভাষণ, কারাবন্দি থাকাবস্থায় লেখা ডায়রিগুলো সংগ্রহ করে বড় ধরনের ডকুমেন্টারি তৈরি এবং শিশুদের জন্যও কমিকস আকারে ছোট ছোট বই বের করে নতুন প্রজন্মের কাছে সঠিক ইতিহাস তুলে ধরার কাজ চলছে।
স্বতন্ত্র সদস্য হাজি মোহাম্মদ সেলিমের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী অতিরঞ্জিত নয়, বঙ্গবন্ধু ও স্বাধীনতা সম্পর্কে সঠিক তথ্যগুলো আগামী প্রজন্মের সামনে তুলে ধরার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, পঁচাত্তর-পরবর্তী ২১ বছর বঙ্গবন্ধুর নাম অনেকটাই নিষিদ্ধ ছিল। স্বাধীনতার ইতিহাস বিকৃত করে কয়েকটি প্রজন্মকে ভুল ইতিহাস শেখানো হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর ছবি টানানো এবং ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ বাজাতে গিয়ে আওয়ামী লীগের অসংখ্য নেতাকর্মীকে জীবন দিতে হয়েছে। কিন্তু               সত্য ইতিহাসকে কখনও মিথ্যা দিয়ে ঢেকে রাখা যায় না। ঘাতকরা ব্যক্তি বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করতে পারলেও তার               আদর্শকে হত্যা করতে পারেনি। বাঙালির হৃদয়ে বঙ্গবন্ধু চিরঞ্জীব, চির জাগরূক।
ফজিলাতুন নেসা বাপ্পির লিখিত প্রশ্নের জবাবে বঙ্গবন্ধুর নৃশংস হত্যাকা–পরবর্তী সময়ে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের বাড়িতে প্রবেশের পর ভয়াল ও বীভৎস দৃশ্যের আবেগঘন বর্ণনা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, খুনি মোশতাক ও তার দোসর জিয়াউর রহমান ১৫ আগস্টের হত্যাকা- ঘটায়। এরপরই দেশে হত্যা, ক্যু ও ষড়যন্ত্রের রাজনীতি শুরু।
শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৭৫ সালের ৩০ জুলাই আমি ও শেখ রেহানা জার্মানিতে রওনা হই। ১৫ দিনের মাথায় শুনি, আমরা দুই বোন এতিম হয়ে গেছি। নিঃস্ব ও রিক্ত হয়ে গেছি। আমি এখনও মাঝে মধ্যেই ৩২ নম্বর ধানমন্ডির বাড়িতে যাই। আমার সব ব্যথা-বেদনা সহ্য করার শক্তি আর বাংলার দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফুটিয়ে তোলার জন্য কাজ করার প্রেরণা সঞ্চয় করার জায়গা এটি। এই বাড়ি থেকেই যেন শক্তি পাই। একদিকে সব হারানোর বেদনা, অন্যদিকে মানুষের সেবা করার প্রেরণাÑ সবই ধানমন্ডির এই বাড়িতে এলে পেয়ে থাকি।
এ সময় শেখ হাসিনা নিজের চোখের পানি সংবরণ করতে পারেননি। সংসদে উপস্থিত সংসদ সদস্যরাও আবেগাপ্লুত            হয়ে পড়েন।

শ্রেণী:

২০১৫-১৬ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৭ শতাংশ

Posted on by 0 comment
11

11উত্তরণ ডেস্কঃ* অনুকূল সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, বর্ধিত সরকারি বিনিয়োগ সত্ত্বেও মূলত বেসরকারি বিনিয়োগের ধীরগতি উচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জনের পথে বাধা হিসেবে কাজ করছে। এ বাধা উত্তরণে বিদ্যুৎ, জ্বালানি, যোগাযোগ অবকাঠামো, বন্দর উন্নয়ন, অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠায় যে সকল কার্যক্রম আমরা বাস্তবায়ন করতে শুরু করেছি তাতে অর্থনৈতিক কর্মকা- তথা অভ্যন্তরীণ চাহিদা সচল থাকবে। জিডিপির অনুপাতে সরকারি ব্যয়, বিশেষ করে উন্নয়ন ব্যয় বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকবে। তেলের মূল্য হ্রাস পাওয়ায় ভর্তুকি ব্যয় কমেছে। এই সাশ্রয়কৃত অর্থ অগ্রাধিকার খাতে সঞ্চালন করা হবে। কৃষি খাতে সরকারের লক্ষ্যভিত্তিক প্রণোদনা সন্তোষজনক উৎপাদন নিশ্চিত করবে। এ ছাড়া, উৎপাদন প্রক্রিয়ায় মহিলাদের নির্বিঘœ অংশগ্রহণ নিশ্চিতকরণ এবং শ্রমশক্তির দক্ষতা উন্নয়নে সরকারের অব্যাহত প্রচেষ্টায় শ্রমের জোগান ও উৎপাদন নৈপুণ্য বৃদ্ধির মাধ্যমে প্রবৃদ্ধির গতি ত্বরান্বিত হবে।
bd* কৃষিসহ উৎপাদনশীল খাতসমূহে লক্ষ্যভিত্তিক ঋণ সরবরাহ, ক্রমহ্রাসমান সুদের হার, বাজার সংবেদনশীল মুদ্রা বিনিময় হার সব মিলিয়ে প্রবৃদ্ধি সহায়ক মুদ্রানীতির ধারাবাহিকতা অর্থনৈতিক কর্মকা-ে অনুকূল পরিবেশ তৈরি করবে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরো অঞ্চলের প্রবৃদ্ধির প্রক্ষেপিত পুনরুদ্ধার এবং তৈরি পোশাক খাতের সংস্কারসমূহ শিগগিরই রপ্তানি খাতকে চাঙা করবে। সর্বোপরি আশা করা যায়, জনগণের প্রত্যাশানুযায়ী দেশের বৃহত্তর স্বার্থে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে শুভবুদ্ধির উন্মেষ ঘটবে এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে, এতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা নতুন বিনিয়োগে উৎসাহিত হবেন।
* এসব অনুমোদনের ভিত্তিতে আগামী ২০১৫-১৬ অর্থবছরে আমি ৭.০ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছি। সরবরাহের দিক থেকে শিল্প ও সেবা খাত এবং চাহিদার দিক থেকে ব্যক্তি খাতের ভোগ ব্যয় এবং ব্যক্তি ও সরকারি খাতের বিনিয়োগ ব্যয় হবে এই প্রবৃদ্ধির চালিকা শক্তি। উপরন্তু, রাজস্ব ও মুদ্রানীতির সুসমন্বয় এ লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করবে।
* আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলসহ পণ্যমূল্য হ্রাস, সন্তোষজনক কৃষি উৎপাদন, অভ্যন্তরীণ সরবরাহ পরিস্থিতির ধারাবাহিক উন্নয়ন ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সতর্ক মুদ্রানীতির প্রভাবে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি আরও কমে আসবে বলে আমি মনে করি। পাশাপাশি, বাজেট ঘাটতি অতীতের মতো জিডিপির ৫ শতাংশের মধ্যেই থাকবে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে ২০১৫-১৬ অর্থবছরের জন্য মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা ৬.২ শতাংশ নির্ধারণ করেছি।
বিনিয়োগের লক্ষ্যমাত্রা : উচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জনের অন্যতম পূর্বশর্ত হলো বিনিয়োগ বৃদ্ধির মাধ্যমে ক্রমপুঞ্জিভূত মূলধন বাড়ানো। গত ১০ বছরে মোট বিনিয়োগ বেড়ে জিডিপির ২৫.৮ থেকে ২৮.৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে সরকারি বিনিয়োগ জিডিপির ৫.৫ থেকে ৬.৯ শতাংশে উন্নীত হলেও ব্যক্তি খাতের বিনিয়োগ জিডিপির ২১ থেকে ২২ শতাংশের মধ্যেই সীমিত রয়েছে। এই বাস্তবতায় আমাদের লক্ষ্য হলো, ব্যক্তি খাতে বিনিয়োগের স্থবিরতা দূর করে মধ্যমেয়াদে (২০১৬-১৮) তা জিডিপির ২৪.০ শতাংশে উন্নীত করা। একই সময়ে সরকারি বিনিয়োগও জিডিপির ৭.৮ শতাংশে উন্নীত হবে।
সরকারি বিনিয়োগে অগ্রাধিকার : সরকারি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বরাবরের মতো প্রবৃদ্ধি সহায়ক খাতসমূহ অগ্রাধিকার পাবে। বিশেষ করে, ভৌত ও সামাজিক অবকাঠামো খাত যেমনÑ বিদ্যুৎ, জ্বালানি, পরিবহন, যোগাযোগ, বন্দর উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও আইসিটি খাতে অধিকতর সম্পদ সঞ্চালন করা হবে। আমরা ২০২১ সাল নাগাদ বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ২৪ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত করতে চাই। এ লক্ষ্যে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন, পুরনো কেন্দ্রগুলোর সংস্কার, বিদ্যুৎ সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থার উন্নয়ন, পর্যায়ক্রমে প্রি-পেইড মিটার স্থাপন, উপ-আঞ্চলিক সহযোগিতার আওতায় বিদ্যুৎ আমদানি, জ্বালানি উৎস বহুমুখীকরণ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধির কার্যক্রম অব্যাহত রাখব। পরিবহন খাতে গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কসমূহকে চার লেনে উন্নীতকরণের চলমান কাজ দ্রুততার সাথে সম্পন্ন করা হবে। ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-ময়মনসিংহ চার লেন রাস্তা অবশ্যই এই অর্থবছরে সম্পন্ন হবে। পরিবহন খাতে এডিপিভুক্ত ১৩৩টি প্রকল্পের মধ্যে ২০১৫-১৬ অর্থবছরেই ৩৯টির কাজ শেষ হবে।
বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির বাস্তবায়ন : সরকারি বিনিয়োগের প্রধান হাতিয়ার হলো বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) এবং চ্যালেঞ্জ হলো এর সফল বাস্তবায়ন। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বৃহৎ ১০টি মন্ত্রণালয়ের এডিপি বাস্তবায়নে বিশেষ নজরদারির জন্য টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। একই সাথে, ধীরগতিসম্পন্ন ৫০টি প্রকল্পের বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ মেয়াদে আমাদের লক্ষ্য হলোÑ প্রকল্প সাহায্যের ব্যবহার বৃদ্ধি এবং এডিপির পূর্ণ বাস্তবায়ন। পাশাপাশি, এর গুণগত মান নিশ্চিত করার দিকেও বিশেষ দৃষ্টি দেওয়া হবে।
অর্থনৈতিক কর্মকা-ে নারীর অংশগ্রহণ : বিগত দশকজুড়ে নারী উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হলেও অর্থনৈতিক কর্মকা-ে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে নারীরা এখনও অনেক পিছিয়ে আছে। বর্তমানে কর্মক্ষম নারীর ৩৩.৫ শতাংশ অর্থনৈতিক কর্মকা-ে অংশগ্রহণ করছে। অন্যদিকে, সাম্প্রতিক সময়ে মোট শ্রমশক্তির বৃদ্ধির হারও হ্রাস পেয়েছে। এই বাস্তবতায় উপযুক্ত নীতি-কৌশল গ্রহণের মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক কর্মকা-ে নারীদের অংশগ্রহণ পুরুষের সমপর্যায়ে উন্নীত করতে পারলে জিডিপি প্রবৃদ্ধি অনেকখানি বাড়বে। কর্মক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ বাড়াতে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, বাল্যবিবাহ রোধ, নারী শিক্ষা, উপযুক্ত কর্মপরিবেশ সৃষ্টি, কর্মজীবী মহিলাদের জন্য আবাসন, শিশু-দিবাযতœ কেন্দ্র স্থাপন, যুব মহিলাদের বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ, চাকরিতে কোটা সংরক্ষণসহ নানা ধরনের নারীবান্ধব কর্মসূচি অব্যাহত রাখতে চাই।

মানবসম্পদ উন্নয়ন
শিক্ষা
প্রাথমিক শিক্ষা : প্রাথমিক পর্যায়েই শিক্ষার মূল ভিত রচিত হয়। তাই আমরা মানসম্পন্ন প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছি এবং ২০১৮ সাল নাগাদ প্রাথমিক শিক্ষাকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত সম্প্রসারণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। শতভাগ ভর্তির সুফল ধরে রাখতে ৯৩টি উপজেলার সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ৩৩ লাখ ৯০ হাজার শিশুর জন্য স্কুল ফিডিং কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, বিদ্যালয় নেই এমন গ্রামে ১ হাজার ৫০০টি প্রাথমিক বিদ্যালয় নির্মাণের পরিকল্পনার অধীনে ১ হাজার ১৯টির নির্মাণকাজ সমাপ্ত হয়েছে এবং অবশিষ্টগুলো নির্মাণের বিভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে। এ ছাড়া, ১১টি উপজাতীয় ভাষায় পাঠ্যক্রম প্রণয়নের ফলে উপজাতি শিশুরা মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষার সুযোগ পাচ্ছে।
মানসম্পন্ন শিক্ষার সম্প্রসারণ : মানসম্পন্ন শিক্ষার প্রসারে আমাদের উদ্ভাবিত সৃজনশীল প্রশ্নপত্রের ব্যবহার, মাধ্যমিক পর্যায় পর্যন্ত বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ, সৃজনশীল মেধা অন্বেষণ, উপবৃত্তি প্রদানের মতো কৌশলসমূহ বেশ ফলপ্রসূ হয়েছে, যা অব্যাহত থাকবে। একই সাথে চলমান থাকবে ইংরেজি ও গণিত শিক্ষকদের বিশেষ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম। প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট ফান্ডের ১ হাজার কোটি টাকা সিড মানির বিপরীতে অর্জিত ৭৫ কোটি টাকা মুনাফা থেকে ¯œাতক ও সমপর্যায়ের মেয়েদের উপবৃত্তি প্রদান কার্যক্রমও চলমান থাকবে।
কারিগরি শিক্ষার মানোন্নয়ন : জনমিতিক লভ্যাংশের সুবিধা কাজে লাগানোর জন্য আমাদের প্রয়োজন কারিগরি শিক্ষার ব্যাপক প্রসার। এ লক্ষ্যকে সামনে রেখে ৯২৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ১০০টি উপজেলায় একটি করে কারিগরি বিদ্যালয় স্থাপন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রতিটি বিভাগীয় শহরে একটি করে গার্লস টেকনিক্যাল স্কুল, ২৩টি জেলায় পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, ৪টি বিভাগীয় শহরে ৪টি মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট এবং সকল বিভাগে একটি করে ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ স্থাপনের জন্য উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এ ছাড়া, ১৫-৪৫ বছর বয়সী নিরক্ষর জনগোষ্ঠীকে মৌলিক সাক্ষরতা ও জীবনদক্ষতামূলক প্রশিক্ষণ প্রদানের জন্য একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
শিক্ষাক্ষেত্রে তথ্যপ্রযুক্তির প্রয়োগ এবং উচ্চ শিক্ষার প্রসার : শিক্ষাক্ষেত্রে তথ্যপ্রযুক্তির প্রয়োগ নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে শুরু হওয়া কার্যক্রমসমূহের পাশাপাশি আমরা সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট নির্মাণ করছি। এগিয়ে চলেছে ১২৮টি উপজেলায় রিসোর্স সেন্টার স্থাপনের কাজ। চলমান আছে বরিশালে ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ স্থাপনের কাজ। উদ্যোগ নিয়েছি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয়, গাজীপুর ডিজিটাল ইউনিভার্সিটি, খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয় এবং সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের উচ্চশিক্ষার গুণমত মান নিশ্চিত করতে আমরা ‘অ্যাক্রিডিটেশন কাউন্সিল’ গঠনের প্রক্রিয়া প্রায় চূড়ান্ত করে এনেছি।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ
কমিউনিটি ক্লিনিক : ‘মিনি ল্যাপটপ হবে ডিজিটাল ডাক্তার’Ñ এই স্লোগানকে সামনে রেখে কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে মোট ১৩ হাজার ৮৬১টি মিনি ল্যাপটপ প্রদানের পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে গ্রামীণ জনগণ টেলিমেডিসিন সেবা, স্বাস্থ্য সংক্রান্ত হালনাগাদ তথ্য ও স্বাস্থ্য শিক্ষার সুযোগ পাবেন।
টেলিমেডিসিন সেবার সম্প্রসারণ : ৬৪টি হাসপাতাল এবং ৪১৮টি উপজেলা হাসপাতালে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্য অফিসগুলোতে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
মাতৃস্বাস্থ্য ভাউচার স্কিম : গরিব, দুস্থ ও গর্ভবতী মায়েদের জন্য ৫৩টি উপজেলায় চালানো হচ্ছে মাতৃস্বাস্থ্য ভাউচার কর্মসূচি। আরও ২০টি উপজেলায় এ কর্মসূচি সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ১৩২টি উপজেলায় জরুরি প্রসূতিসেবা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার আধুনিকায়ন : জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার আধুনিকায়নে ‘জাতীয় ঔষধ নীতি ২০১৪’ প্রণয়ন করা হয়েছে। একই সাথে ঔষধ নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ ১৯৮২, ড্রাগ অ্যাক্ট ১৯৪০, ড্রাগ রুলস্ ১৯৪৫ ও ১৯৪৬-সহ বিভিন্ন সংশোধনী একত্রিত ও যুগোপযোগী করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষার প্রসার : বিজ্ঞানী, প্রযুক্তিবিদ, গবেষক ও শিক্ষাবিদ তৈরির লক্ষ্যে পিএইচডিসহ বিভিন্ন পর্যায়ের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণায় ‘বঙ্গবন্ধু ফেলোশিপ অন সাইন্স অ্যান্ড আইসিটি’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় বৃত্তি প্রদান করা হচ্ছে। ২০১৬ সালে এই প্রকল্প সমাপ্তির পর বৃত্তি প্রদান অব্যাহত রাখতে একটি ট্রাস্ট গঠন করা হবে। এ ছাড়া, সমুদ্রবিজ্ঞান সম্পর্কিত গবেষণা পরিচালনার জন্য কক্সবাজারের রামুতে জাতীয় সমুদ্র গবেষণা ইনস্টিটিউট স্থাপন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রকল্প সমাপ্তির পর এই এলাকায় একটি আন্তর্জাতিকমানের মেরিন অ্যাকুয়ারিয়াম স্থাপনের পরিকল্পনাও আছে।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি
বিদ্যুৎ : দীর্ঘদিনের পুঞ্জিভূত সমস্যার দ্রুততর সমাধান করতে গিয়ে বিদ্যুৎ খাতে প্রথম দিকে আমাদের স্বল্পমেয়াদি বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করতে হয়েছে। বিদ্যুৎ সমস্যা এখন অনেকটাই দূর হয়েছে। আমরা এখন দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই সমাধানের লক্ষ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছি।
কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন : ২০১৫ সালের পর কয়লাকে মূল জ্বালানি হিসেবে বিবেচনায় নিয়ে বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছে। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হলোÑ রামপালে ১৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের জন্য বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া ফেরেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি গঠন, মাতারবাড়ি ১২০০ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের জন্য জাইকার সাথে ঋণচুক্তি স্বাক্ষর; চীন, মালয়েশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া ও সিঙ্গাপুরের আর্থিক সহায়তায় মহেশখালীতে প্রতিটি ১২০০ মেগাওয়াট হিসাবে ৪৮০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার ৪টি এবং পটুয়াখালীর পায়রায় ১৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন। একই সাথে সরকারি ও বেসরকারি খাতে ১৪১১ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের জন্যেও চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়েছে।
পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন : বিদ্যুৎ সমস্যার দীর্ঘমেয়াদি সমাধানে পারমাণবিক শক্তি থেকে ২০২২ সালের মধ্যে ২০০০ মেগাওয়াট এবং ২০৩০ সালের মধ্যে ৪০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
উপ-আঞ্চলিক সহযোগিতার আওতায় বিদ্যুৎ আমদানি : ২০৩০ সালের মধ্যে পার্শ্ববর্তী দেশসমূহ থেকে ৬৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। নভেম্বর ২০১৩ হতে ভারত থেকে ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করছি। আরও ৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির কার্যক্রম চলমান আছে। নেপাল, ভুটান, মিয়ানমার ও ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল থেকে জলবিদ্যুৎ আমদানির জন্য আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
নবায়নযোগ্য জ্বালানি : ২০২০ সালের মধ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে ২০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে সাসটেইনেবল অ্যান্ড রিনিউঅ্যাবল এনার্জি ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (এসআরইডিএ) গঠন করা হয়েছে। গ্রহণ করা হয়েছে ৫০০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উন্নয়ন কর্মসূচি।
সঞ্চালন লাইন : ডিসেম্বর ২০১৪ পর্যন্ত প্রায় ৩ লাখ ৩১ হাজার কিলোমিটার বিতরণ লাইন নির্মাণের মাধ্যমে ১ কোটি ৬২ লাখ গ্রাহককে বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদান করা হয়েছে। উৎপাদিত বিদ্যুৎ সবার কাছে পৌঁছাতে সরকার ১০ হাজার কিলোমিটার নতুন সঞ্চালন লাইন এবং ১ লাখ ৫০ হাজার কিলোমিটার নতুন বিতরণ লাইন নির্মাণ করা হবে।

যোগাযোগ অবকাঠামো
সড়ক-সেতু অবকাঠামো উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ : দেশের পঞ্চিমাঞ্চলে যোগাযোগ নেটওয়ার্ক শক্তিশালী করার জন্য ওয়েস্টার্ন বাংলাদেশ ব্রিজ প্রোজেক্টের আওতায় ৬১টি সেতু পুনর্নির্মাণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। চলমান আছে দ্বিতীয় কাঁচপুর, দ্বিতীয় মেঘনা ও দ্বিতীয় গোমতী সেতু নির্মাণের কাজ। একই সাথে, গলাচিপা, পায়রা ও কচা নদীর ওপর সেতু নির্মাণের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া, পাটুরিয়া-গোয়ালনন্দ অবস্থানে ভবিষ্যতে দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা আছে।
* সড়ক অবকাঠামোর ক্ষেত্রে জয়দেবপুর-চন্দ্রা-টাঙ্গাইল-এলেঙ্গা মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণের কাজে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। আশা করি, আগামী ২০১৫-১৬ অর্থবছরের মধ্যে আমরা নিচের প্রকল্পগুলো সমাপ্ত করতে পারবÑ
Ñ ইস্টার্ন বাংলাদেশ ব্রিজ ইমপ্রুভমেন্ট প্রকল্প।
Ñ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক এবং জয়দেবপুর-ময়মনসিংহ চার লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্প।
Ñ বরিশাল-পটুয়াখালী-কুয়াকাটা মহাসড়কে শেখ কামাল, শেখ জামাল ও শেখ রাসেল সেতু নির্মাণ।
Ñ কক্সবাজার-টেকনাফ-মেরিন ড্রাইভ নির্মাণ দ্বিতীয় পর্যায় (ইনানী থেকে সীখালী)।
Ñ যাত্রাবাড়ী-কাঁচপুর সড়ক আট লেনে উন্নীতকরণ।
Ñ আড়িয়াল খাঁ নদীর ওপর সপ্তম বাংলাদেশ-চীন-মৈত্রী সেতু নির্মাণ।
রেলপথ উন্নয়ন : ২০ বছর মেয়াদি একটি রেলওয়ে মাস্টারপ্ল্যান গ্রহণ করা হয়েছে এবং সেখানে ২৩৫টি প্রকল্প বাস্তবায়নে ২ লাখ ৩৩ হাজার ৯৪৬ কোটি টাকা ব্যয় করা হবে। সরকারের উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপসমূহের মধ্যে আছেÑ দোহাজারী-কক্সবাজার-গুনদুম, নোলুখালী-ভাটিয়াপাড়া-গোপালগঞ্জ-টুঙ্গিপাড়া, পাঁচুরিয়া-ফরিদপুর-ভাঙ্গা, ঈশ্বরদী-পাবনা-ঢালারচর এবং খুলনা-মংলা নতুন রেললাইন নির্মাণ/পুনর্নির্মাণ, মেহেরপুর জেলাকে রেলওয়ে নেটওয়ার্কের আওতায় আনা, পদ্মা সেতুর ওপর দিয়ে রেল সার্ভিস চালু, যমুনা নদীর ওপর বঙ্গবন্ধু সেতুর উত্তরে রেল সেতু নির্মাণ, ঢাকা-টঙ্গী সেকশনে তৃতীয় ও চতুর্থ ডুয়েল গেজ লাইন এবং টঙ্গী-জয়দেবপুর সেকশনে ডুয়েল গেজ ডাবল লাইন নির্মাণ, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সেকশনে বিদ্যমান মিটারগেজ রেল লাইনের সামন্তরাল একটি ডুয়েল গেজ লাইন নির্মাণ ইত্যাদি। অন্যদিকে আঞ্চলিক নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের উদ্দেশে ‘আখাউড়া-আগরতলা’ রেল কানেকটিভিটি স্থাপন করতে যাচ্ছি আমরা।
পদ্মা সেতু নির্মাণ : নিজস্ব অর্থায়নে বহু প্রতীক্ষিত পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ অনেকদূর এগিয়ে এনেছি। প্রমত্ত পদ্মার দুই তীরে বাঁধ নির্মাণের কর্মযজ্ঞে ওই অঞ্চলের মানুষের জীবনে শুরু হয়েছে নতুন কর্মচাঞ্চল্য। আশা করছি, ২০১৮ সাল নাগাদ এই সেতু যানবাহন চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দিতে পারব।

ডিজিটাল বাংলাদেশ
ডিজিটাল অবকাঠামো উন্নয়ন : গাজীপুর জেলায় কালিয়াকৈর হাই-টেক পার্ক এবং যশোর সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক স্থাপন করা হচ্ছে। এলাকাভিত্তিক ডিজিটাল অবকাঠামো উন্নয়নে মহাখালী আইটি ভিলেজ, বরিশালের চন্দ্রদ্বীপ ক্লাউডচর, সিলেট ইলেকট্রনিক সিটি ও রাজশাহীর বরেন্দ্র সিলিকন সিটি স্থাপনের লক্ষ্যে জমি চিহ্নিত করা হয়েছে। পাশাপাশি, খুলনা, চট্টগ্রাম ও রংপুর বিভাগে হাই-টেক ও সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক স্থাপনের জন্য জমি নির্বাচনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এ ছাড়া, প্রতিটি জেলায় তথ্যপ্রযুক্তি শিল্পের বিকাশের লক্ষ্যে প্রথম পর্যায়ে ১২টি জেলায় আইটি ভিলেজ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ৮০০টি সরকারি অফিসে ভিডিও কনফারেন্সি সিস্টেম স্থাপন করছি।
ইন্টারনেট সেবা : জনগণকে ইন্টারনেটের সেবা প্রদানের লক্ষ্যে সবকটি জেলার ১ হাজার ৬টি ইউনিয়নে প্রায় ১১ হাজার কিলোমিটার অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবল স্থাপন করা হচ্ছে। এ ছাড়া, সারাদেশে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা প্রদানের জন্য ওয়্যারলেস ব্রডব্যান্ড নেটওয়ার্ক স্থাপনের প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। দ্বিতীয় সাবমেরিন কেবলে সংযুক্ত হয়ে শিগগিরই আমরা ব্যান্ডউইথ ক্যাপাসিটি ২০০ জিবিপিএস থেকে ১ হাজার ৩০০ জিবিপিএসে উন্নীত করব। এ ছাড়া, ৮ হাজার ৫০০টি পোস্ট-ই-সেন্টার চালুর কার্যক্রম ২০১৭ সালের জুন মাসের মধ্যেই সম্পন্ন করার আশা রাখি। ২০১৬ সালের মধ্যে মহাকাশে বাংলাদেশের প্রথম স্যাটেলাইট (বঙ্গবন্ধু-স্যাটেলাইট-১) উৎক্ষেপণের স্লট নির্ধারণ ও চুক্তি সম্পাদন করা হয়েছে।

শ্রেণী: