এ বাজেট বাস্তবায়ন দেশকে উচ্চ প্রবৃদ্ধির দিকে নিয়ে যাবে : অর্থমন্ত্রী

Posted on by 0 comment
3

সংসদে বাজেট পাস

3অর্থবিল পাসের মধ্য দিয়ে গত ৩০ জুন জাতীয় সংসদে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে জাতীয় বাজেট পাস হয়েছে। অর্থবিল পাসের আগে সমাপনী বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, ২০১৫-১৬ অর্থবছরের বাজেট বাস্তবায়ন দেশকে উচ্চ প্রবৃদ্ধির দিকে নিয়ে সমৃদ্ধি নিশ্চিত করবে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রস্তাবিত বাজেট বাস্তবায়নের মাধ্যমে অর্জিত সাফল্য সকল নাগরিকের সুখ-শান্তি ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করে ২০২১ সালে মধ্য আয়ের দেশে পরিণত করার দিকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে।
আবুল মাল আবদুল মুহিত সমাপনী বক্তৃতায় প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সংসদে এবং সংসদের বাইরে বিভিন্ন সমালোচনার জবাবে বলেন, এ সমালোচনা বাজেট সংস্কার ও বাস্তবায়নে সহায়ক হবে। তিনি বাজেট উচ্চাভিলাষী এবং বাস্তবায়নে সংশয় রয়েছে এমন সমালোচনার জবাবে বলেন, বিগত বছরগুলোতে দেশের অর্থনীতির শক্তি সামর্থ্য এবং সরকারের নেতৃত্বের চৌকষতা ও গতিশীলতায় সংশয়বাদীদের সকল সংশয় অমূলক প্রমাণিত করে দেশ অনেক দূর এগিয়ে গেছে। অনুকূল বিশ্ব ও জাতীয় বাস্তবতা আর সকলের সমন্বিত কর্মপ্রচেষ্টায় সকল সন্দেহের অবসান হবে এবং এবারও কাক্সিক্ষত লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে। সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনের এই অভিযাত্রায় সকলের নিঃস্বার্থ দেশপ্রেম এবং আন্তরিক সহযোগিতা সরকারের চলার পথকে নিষ্কণ্টক করবে।
অর্থমন্ত্রী বাজেটে জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনের বিষয়ে সমালোচনার জবাবে ২০১৫-১৬ অর্থবছরের জন্য জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৭ শতাংশ অর্জনের ব্যাপারে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ চাহিদা দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধির অন্যতম নিয়ামক।
তিনি বলেন, ২০১৪-১৫ অর্থবছরের বড় একটা সময়জুড়ে রাজনৈতিক অস্থিরতায় ব্যবসা ও অর্থনৈতিক কর্মকা- ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অর্থনীতির প্রায় সকল খাতে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। তবে ২০০৯ থেকে সরকারের শুরু করা অর্থনৈতিক সংস্কার দেশকে যে সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। তার সুবাদে এসব ক্ষতি সামলে নিয়ে এই বিরূপ পরিস্থিতির মাঝেও ৬ শতাংশের ওপর প্রবৃদ্ধি অর্জন করা সম্ভব হয়েছে। বেসরকারি বিনিয়োগের প্রবৃদ্ধি আশানুরূপ ছিল না। তা সত্ত্বেও জিডিপি প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ৬.৫১ শতাংশ। রাজনৈতিক সুস্থিতি বজায় থাকলে আগামী অর্থবছরে ৭ শতাংশ অর্জন করা সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, সরকারের বিগত বছরগুলোর অর্জনের ভিত্তিতেই ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ২ লাখ ৯৫ হাজার ১০০ কোটি টাকার বাজেটের প্রস্তাব করা হয়েছে। বাজেট বাস্তবায়নের লক্ষ্যে রাজস্ব আহরন, ব্যয় ব্যবস্থাপনা, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন, প্রয়োজনীয় জনবলের সমাহার ঘটানো ইত্যাদি বিষয়ে সরকারের সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা রয়েছে। রাজস্ব আহরণের ক্ষেত্রে গত ছয় বছরের অর্জন বিগত ২৬ বছরের অর্জনের সমান।
অর্থমন্ত্রী শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে অতিরিক্ত বরাদ্দের দাবির বিষয়ে বলেন, এ দুটি খাতেই সরকার প্রতিবছর বরাদ্দ বাড়িয়েছে। যদিও জাতীয় আয়ের হিস্যা হিসাবে তা তেমন বাড়ছে না। এর কারণ হিসেবে তিনি বিগত সময়ে বিদ্যুৎ-জ্বালানি ও যোগাযোগ অবকাঠামো খাতে সরকারকে অতিরিক্ত মনোযোগ ও বরাদ্দ দিতে হয়েছে। এ দুই খাতের অনেক উন্নতি হয়েছে। এ উন্নতি না হলে দেশ বর্তমানের অবস্থায় পৌঁছত না।
বাজেট বক্তব্যে তিনি তার কর প্রস্তাবের কিছু খাতে পরিবর্তনের প্রস্তাব করেন। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রীর যে বিষয়ে অনুরোধ করেছেন তা নির্দেশ হিসেবে সেসব অনুরোধ গ্রহণ করে নেন। এক্ষেত্রে তিনি হেপাটাইটিস-বি ওষুধের আমদানির ওপর এবং ক্যানসারের ওষুধের কাঁচামালের আমদানির ওপর শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করে নেন। বেসরকারি মেডিকেল কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর প্রস্তাবিত ১০ শতাংশ মূসক হ্রাস করে ৭.৫ শতাংশ করেন। একইভাবে ইউনানী, আয়ুর্বেদ ও ভেষজ ওষুধের ওপর প্রস্তাবিত কর সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করে নেন।
অর্থমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাব অনুযায়ী পোল্ট্রি ফার্মের ওপর ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত করমুক্ত এবং ২১ থেকে ৩০ লাখ পর্যন্ত ৫ শতাংশ ও ৩০ লাখের অধিক অংকের অর্থের ১০ শতাংশ করার ঘোষণা দেন। পোশাক শিল্পে উৎসে কর প্রস্তাবিত দশমিক ৮০ থেকে হ্রাস করে পূর্বের ন্যায় দশমিক ৬০ শতাংশ করা হয়। মৎস্য, হাঁস, মুরগি ইত্যাদি খামারের ওপরও প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাব অনুযায়ী অর্জিত অর্থের ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত করমুক্ত, ২০ থেকে ৩০ লাখ পর্যন্ত ৩ শতাংশ এবং ৩০ লাখের ওপর ১০ শতাংশ করারোপের করা হয়।
এ ছাড়াও অর্থমন্ত্রী প্রস্তাবিত বেশ কয়েকটি কর প্রস্তাব সংশোধনের প্রস্তাব করেন। এর মধ্যে বিভিন্ন আবাসন খাত, ব্যক্তি ও অংশীদারী ব্যবসা খাত, চিনি, চালসহ বিভিন্ন খাদ্যপণ্যে আমদানি খাতে কর হ্রাসসহ বিভিন্ন পণ্যে কর প্রস্তাব পরিবর্তন করেন। পরে অর্থ বিল পাসের মধ্য দিয়ে অর্থমন্ত্রীর এসব প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়।

শ্রেণী:

স্বপ্নের মেট্রোরেল নির্মাণে সংসদে বিল পাস

উত্তরণ প্রতিবেদন : রাজধানী ঢাকায় যানজট নিরসনে বহুল আলোচিত স্বপ্নের মেট্রোরেল প্রকল্পের পর্দা উঠল। মেট্রোরেল আর স্বপ্ন নয়, বাস্তবে রূপ দিতে যাচ্ছে সরকার। গত ২৬ জানুয়ারি জাতীয় সংসদে ‘মেট্রোরেল আইন-২০১৫’ নামের বহুল আলোচিত বিলটি পাস হয়েছে। এ বিলটি পাসের মাধ্যমে রাজধানীতে মেট্রোরেল চালুর কাজ আরও একধাপ অগ্রগতি হয়েছে। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন বিগত সরকার স্বল্পব্যয়ে দ্রুত ও উন্নত গণপরিবহন সেবা চালুর লক্ষ্যে বাংলাদেশে মেট্রোরেল চালুর পরিকল্পনা গ্রহণ করে। বিলটি প্রসঙ্গে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, নতুন প্রজন্মের স্বপ্নের এবং বর্তমান সরকারের মেগা প্রকল্প হচ্ছে দেশের ইতিহাসে প্রথম এ মেট্রোরেল স্থাপন প্রকল্প। পদ্মা সেতুর মতো বর্তমান সরকার স্বপ্নের এ মেট্রোরেল নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে। তিনি বলেন, ২০২৪ সালে মেট্রোরেল নির্মাণ প্রকল্পের কাজটি শেষ হওয়ার কথা থাকলেও জাইকা জানিয়েছে পাঁচ বছর আগেই অর্থাৎ এর নির্মাণকাজ শেষ হবে ২০১৯ সালেই। ২২ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে রাজধানীর উত্তরা থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক পর্যন্ত ২০ কিলোমিটারের কিছু বেশি দীর্ঘ নির্মিতব্য এই মেট্রোরেলের স্টেশন হবে ১৬টি। ভ্রমণ সময় হবে মাত্র ২৮ মিনিট। ঘণ্টায় এই মেট্রোরেল প্রায় ৬০ হাজার যাত্রী বহন করতে পারবে। নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ করা হচ্ছে আর মেট্রোরেল জাইকার সহযোগিতায় হচ্ছে। বিলটি পাসের আগে মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সংসদে বলেন, ঢাকা শহরের যানজট নিরসন এবং জনসাধারণকে দ্রুত ও উন্নত গণপরিবহন সেবা দেওয়ার লক্ষ্যে মেট্রোরেল নির্মাণের জন্য সরকার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। বাংলাদেশ প্রথম মেট্রোরেল চালু হবে। তাই মেট্রোরেল নির্মাণ, পরিচালনা, রক্ষণাবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণের জন্য সুনির্দিষ্ট আইনের প্রয়োজন। সেজন্য এ বিলটি আনা হয়েছে। সংসদে উত্থাপিত বিলে মেট্রোরেলের ভাড়া নির্ধারণের জন্য একটি উপ-কমিটি গঠনের কথা বলা হয়েছে। লাইসেন্স ছাড়া মেট্রোরেল পরিচালনা ও অনুমোদন ছাড়া মালিকানা হস্তান্তর নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আর সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে এই রেল স্থাপন, পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের সুযোগ রাখা হয়েছে। মেট্রোরেলে চলাচলকারী সকলের বীমা থাকবেন। কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে যাত্রীরা উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ পাবেন। বিলে এই রেল চলাচলে বাধা সৃষ্টি, বিনা টিকিটে ভ্রমণ এবং নিরাপত্তা বিঘিœত করলে বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। সর্বোচ্চ শাস্তির মধ্যে রয়েছে ১০ বছর কারাদ- ও ১ কোটি টাকা জরিমানা। বিলে মেট্রোরেলের যাত্রীদের জন্য বীমার বিধান রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। এ ছাড়া মেট্রোরেলের জন্য ভূমি অধিগ্রহণ আইনের বিধান অনুযায়ী ভূমি অধিগ্রহণের বিধান রাখা হয়েছে।

শ্রেণী:

বিদেশি চাপ অগ্রাহ্য করে কৃষিতে ভর্তুকি দিচ্ছি

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা কৃষিতে ভর্তুকির ব্যাপারে আপত্তি জানালেও সেসব বিদেশি দাতা সংস্থার চাপ অগ্রাহ্য করে সরকার কৃষিতে ভর্তুকি অব্যাহত রেখেছে। কৃষককে ভর্তুকি দিয়ে বীজ, যন্ত্রপাতি সরবরাহ করা হচ্ছে এবং বছরে প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকা কৃষি ঋণ দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, অনেক উন্নত দেশ কৃষকদের সাপোর্ট দিয়ে যাচ্ছে; অথচ আমাদের বেলায় অনেক রকম শর্ত চলে আসে। যদিও আমরা তা গ্রহণ করি না। বাংলাদেশের একটা মানুষও যেন ক্ষুধায় কষ্ট না পায় সে লক্ষ্য নিয়ে কাজ করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে তিনি ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি কৃষিভিত্তিক খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প ও শষ্যের বহুমুখীকরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। গত ৯ নভেম্বর সচিবালয়ে খাদ্য মন্ত্রণালয় পরিদর্শন ও মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। শেখ হাসিনা বলেন, অনেক আন্তর্জাতিক সংস্থা কৃষিতে ভর্তুকির বিরোধিতা করে। ’৯৬-এর নির্বাচনের আগে ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের যে প্রতিনিধি বাংলাদেশে আসেন তিনি আমার কাছে বিশাল এক তালিকা নিয়ে আসে। এর মধ্যে, কৃষিতে ভর্তুকি বন্ধের কথা ছিল। আমি তখন তাকে বলি, ঠিক আছে। আমরা আমাদের নিজেদের টাকায় কৃষকদের ভর্তুকি দেব। প্রধানমন্ত্রী বলেন, খাদ্যটা যদি সঠিক সময়ে দিতে না পারি, তা হলে কাদের জন্য কাজ করছি? বাংলাদেশকে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত করতেই হবে। কৃষি উৎপাদন বাড়াতে প্রশিক্ষণের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, কৃষকদের আধুনিক যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রশিক্ষণ দিতে হবে।

শ্রেণী:

বিচারপতি অপসারণের ক্ষমতা ফিরে পেল সংসদ

Posted on by 0 comment
43

সংবিধান (ষোড়শ সংশোধন) বিল সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত

43বহুল আলোচিত ‘সংবিধান (ষোড়শ সংশোধন) বিল-২০১৪’ জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। সংবিধানের বর্তমান ৯৬ অনুচ্ছেদের এই সংশোধনীর মধ্য দিয়ে বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতা সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের পরিবর্তে ফিরে এলো জাতীয় সংসদের হাতে। ১৯৭২ সালের সংবিধানের ৯৬ অনুচ্ছেদেও সংসদের হাতেই এই ক্ষমতা ছিল। প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টি (জাপা) চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদ ও বিরোধীদলীয় নেতা বেগম রওশন এরশাদসহ দলটির ৯ এমপি বিলটির ওপর জনমত যাচাই ও বাছাই কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাব দিলেও দলের উপস্থিত এমপিরা সবাই বিলের পক্ষেই ভোট দিয়েছেন। গত ১৭ সেপ্টেম্বর সংসদে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকারি জোট ১৪ দল, প্রধান বিরোধী দল জাপাসহ অন্যান্য ছোট বিরোধী দল ও স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যরা সর্বসম্মতভাবে বিলের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে কোনোরকম বিরোধিতা ছাড়াই বিভক্তি ভোটে নির্বিঘেœ বিলটি পাস করেন।
পাস হওয়া বিলটিতে বলা আছে, প্রমাণিত অসদাচরণ বা বিচারকাজে অসামর্থ্যরে কারণে বিচারকের অপসারণ নির্ধারিত হবে সংসদের ভোটাভুটিতে। সংসদের মোট সদস্য সংখ্যার দুই-তৃতীয়াংশ গরিষ্ঠতার দ্বারা সমর্থিত সংসদের প্রস্তাবক্রমে প্রদত্ত রাষ্ট্রপতির আদেশ ছাড়া কোনো বিচারককে অপসারণ করা যাবে নাÑ এমন বিধান সংযোজন করা হয়েছে সংশোধনীতে। বিলের দফা (৩)-এ বলা হয়েছেÑ কোনো বিচারকের অসদাচরণ বা অসামর্থ্য সম্পর্কে তদন্ত ও প্রমাণের পদ্ধতি সংসদ আইনের দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে।
স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে মাগরিবের নামাজের বিরতির পর নির্ধারিত সময় অনুযায়ী সন্ধ্যা ঠিক ৭টায় সংসদের অধিবেশন শুরু হয়। এর আগেই প্রায় কানায়-কানায় পরিপূর্ণ হয়ে যায় অধিবেশন কক্ষ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদসহ বেশিরভাগ সদস্যই এ সময় উপস্থিত ছিলেন। ৭টা ৩৭ মিনিটে স্পিকার সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সুপারিশকৃত আকারে ‘সংবিধান (ষোড়শ সংশোধন) বিল-২০১৪’ সংসদের বিবেচনার জন্য প্রস্তাব উত্থাপন করতে আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হককে আহ্বান জানান। বিলটির ওপর আনা জনমত যাচাই ও বাছাই কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাব এবং বিভিন্ন দফায় আনা সংশোধনী প্রস্তাবসমূহ কণ্ঠভোটে নাকচ হয়ে যাওয়ার পর রাত ১০টা ১৭ মিনিটে সংসদ সদস্যরা অধিবেশন কক্ষ থেকে বের হয়ে সংসদ লবিতে গিয়ে গোপন ব্যালটে স্বাক্ষরের মাধ্যমে বিলের পক্ষে ভোট দেন। বিলটির শিরোনাম, দফা এবং উদ্দেশ্য ও কারণ সম্বলিত বিবৃতি স্পিকার পৃথকভাবে ভোটে দিলে প্রত্যেকবারই সংসদ সদস্যরা লবিতে গিয়ে ভোট দেন। ভোট গ্রহণের এই প্রক্রিয়া শেষ হয় রাত ১১টা ৬ মিনিটে। এরপর স্পিকার বিভক্তি ভোটের ফলাফল ঘোষণা করেন। বিলের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়ে ৩২৮টি, আর বিপক্ষে কোনো ভোট পড়েনি। পরে রাত ১১টা ৭ মিনিটে স্পিকার বিলটি পাস হলো বলে উল্লেখ করেন। এ সময় সরকারি ও বিরোধী দলের সবাই একযোগে টেবিল চাপড়ে নিজেদের সমর্থন জানান।
অসামর্থ্যরে কারণেই কেবল অপসারণ হবে : আইনমন্ত্রী
সদস্যদের জনমত যাচাই ও বাছাই কমিটিতে প্রেরণের প্রস্তাবের বিরোধিতা করে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, প্রস্তাবকারীদের অনেকের প্রশ্ন ছিলÑ এতে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ক্ষুণœ হবে কিনা। আমি দৃঢ়ভাবে বলতে পারি, কোনো হস্তক্ষেপ হবে না। সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে প্রস্তাব পাসের পরেই কেবল সেটি রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো হবে। তিনি বলেন, বিলে বলা আছে, কেবলমাত্র প্রমাণিত গুরুতর অসদাচরণ ও বিচারকাজ করতে অসামর্থ্যরে কারণেই একজন বিচারককে অপসারণ করা যাবে। একজন বিচারক অত্যন্ত সম্মানিত ব্যক্তি। আমরা বলে থাকি, আল্লাহর পরেই বিচারক। সেই কারণে তার হাতের ক্ষমতা ক্ষুণœ হোক, আমরা সেটির পক্ষে নই। তিনি বলেন, এই বিলটি পাসের ফলে জনগণের অধিকার, বিচার বিভাগের সম্মান-জবাবদিহিতা-পবিত্রতা-দায়বদ্ধতা নিশ্চিত হবে।
বিলটির প্রেক্ষাপট
১৯৭২ সালে সংবিধান প্রণয়নের সময় উচ্চ আদালতের বিচারকদের পদের মেয়াদ নির্ধারণ ও তাদের সরানোর ক্ষমতা সংসদের হাতে ছিল। ১৯৭৫ সালে সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর পর এই ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির হাতে যায়। চতুর্থ সংশোধনী বাতিল হলে জিয়াউর রহমানের সামরিক সরকারের আমলে এক সামরিক আদেশে বিচারপতিদের অভিশংসনের জন্য সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠন করা হয়। গত ১৭ সেপ্টেম্বর বিলটি পাসের ফলে এখন আবার সংসদের হাতে বিচারকদের সরানোর ক্ষমতা ফিরল। তিন মাসের মধ্যে এই সংক্রান্ত আইন করা হবে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী।
৯৬ অনুচ্ছেদে সংশোধনের প্রস্তাবে যা বলা হয়েছে
বিলে সংবিধানের ৯৬ অনুচ্ছেদ সংশোধনের প্রস্তাবে বলা হয়েছে, একজন বিচারক ৬৭ বছর পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত স্বীয় পদে বহাল থাকবেন। প্রমাণিত অসদাচরণ বা অসামর্থ্যরে কারণে সংসদের মোট
সদস্যসংখ্যার অন্যূন দুই-তৃতীয়াংশ গরিষ্ঠতা দ্বারা সমর্থিত সংসদের প্রস্তাবক্রমে রাষ্ট্রপতির আদেশে কোনো বিচারককে অপসারণ করা যাবে। বিচারকের অসদাচরণ বা অসামর্থ্য সম্পর্কে তদন্ত ও প্রমাণের পদ্ধতি সংসদ আইনের দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করবে। এ ছাড়া কোনো বিচারক রাষ্ট্রপতিকে উদ্দেশ্য করে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রযোগে স্বীয় পদত্যাগ করতে পারবেন।
উল্লেখ্য, গত ৭ সেপ্টেম্বর বিলটি সংসদে উত্থাপন করেন আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সাত দিনের মধ্যে সংসদে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য ওইদিনই বিলটি আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়। যাচাই-বাছাই শেষে বিলের ওপর সংসদে প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন সংসদীয় কমিটির সভাপতি সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত।

শ্রেণী: