Blog Archives

২০১৫-১৬ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৭ শতাংশ

Posted on by 0 comment

11উত্তরণ ডেস্কঃ* অনুকূল সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, বর্ধিত সরকারি বিনিয়োগ সত্ত্বেও মূলত বেসরকারি বিনিয়োগের ধীরগতি উচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জনের পথে বাধা হিসেবে কাজ করছে। এ বাধা উত্তরণে বিদ্যুৎ, জ্বালানি, যোগাযোগ অবকাঠামো, বন্দর উন্নয়ন, অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠায় যে সকল কার্যক্রম আমরা বাস্তবায়ন করতে শুরু করেছি তাতে অর্থনৈতিক কর্মকা- তথা অভ্যন্তরীণ চাহিদা সচল থাকবে। জিডিপির অনুপাতে সরকারি ব্যয়, বিশেষ করে উন্নয়ন ব্যয় বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকবে। তেলের মূল্য হ্রাস পাওয়ায় ভর্তুকি ব্যয় কমেছে। এই সাশ্রয়কৃত অর্থ অগ্রাধিকার খাতে সঞ্চালন করা হবে। কৃষি খাতে সরকারের লক্ষ্যভিত্তিক প্রণোদনা সন্তোষজনক উৎপাদন নিশ্চিত করবে। এ ছাড়া, উৎপাদন প্রক্রিয়ায় মহিলাদের নির্বিঘœ অংশগ্রহণ নিশ্চিতকরণ এবং শ্রমশক্তির দক্ষতা উন্নয়নে সরকারের অব্যাহত প্রচেষ্টায় শ্রমের জোগান ও উৎপাদন নৈপুণ্য বৃদ্ধির মাধ্যমে প্রবৃদ্ধির গতি ত্বরান্বিত হবে।
bd* কৃষিসহ উৎপাদনশীল খাতসমূহে লক্ষ্যভিত্তিক ঋণ সরবরাহ, ক্রমহ্রাসমান সুদের হার, বাজার সংবেদনশীল মুদ্রা বিনিময় হার সব মিলিয়ে প্রবৃদ্ধি সহায়ক মুদ্রানীতির ধারাবাহিকতা অর্থনৈতিক কর্মকা-ে অনুকূল পরিবেশ তৈরি করবে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরো অঞ্চলের প্রবৃদ্ধির প্রক্ষেপিত পুনরুদ্ধার এবং তৈরি পোশাক খাতের সংস্কারসমূহ শিগগিরই রপ্তানি খাতকে চাঙা করবে। সর্বোপরি আশা করা যায়, জনগণের প্রত্যাশানুযায়ী দেশের বৃহত্তর স্বার্থে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে শুভবুদ্ধির উন্মেষ ঘটবে এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে, এতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা নতুন বিনিয়োগে উৎসাহিত হবেন।
* এসব অনুমোদনের ভিত্তিতে আগামী ২০১৫-১৬ অর্থবছরে আমি ৭.০ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছি। সরবরাহের দিক থেকে শিল্প ও সেবা খাত এবং চাহিদার দিক থেকে ব্যক্তি খাতের ভোগ ব্যয় এবং ব্যক্তি ও সরকারি খাতের বিনিয়োগ ব্যয় হবে এই প্রবৃদ্ধির চালিকা শক্তি। উপরন্তু, রাজস্ব ও মুদ্রানীতির সুসমন্বয় এ লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করবে।
* আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলসহ পণ্যমূল্য হ্রাস, সন্তোষজনক কৃষি উৎপাদন, অভ্যন্তরীণ সরবরাহ পরিস্থিতির ধারাবাহিক উন্নয়ন ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সতর্ক মুদ্রানীতির প্রভাবে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি আরও কমে আসবে বলে আমি মনে করি। পাশাপাশি, বাজেট ঘাটতি অতীতের মতো জিডিপির ৫ শতাংশের মধ্যেই থাকবে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে ২০১৫-১৬ অর্থবছরের জন্য মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা ৬.২ শতাংশ নির্ধারণ করেছি।
বিনিয়োগের লক্ষ্যমাত্রা : উচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জনের অন্যতম পূর্বশর্ত হলো বিনিয়োগ বৃদ্ধির মাধ্যমে ক্রমপুঞ্জিভূত মূলধন বাড়ানো। গত ১০ বছরে মোট বিনিয়োগ বেড়ে জিডিপির ২৫.৮ থেকে ২৮.৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে সরকারি বিনিয়োগ জিডিপির ৫.৫ থেকে ৬.৯ শতাংশে উন্নীত হলেও ব্যক্তি খাতের বিনিয়োগ জিডিপির ২১ থেকে ২২ শতাংশের মধ্যেই সীমিত রয়েছে। এই বাস্তবতায় আমাদের লক্ষ্য হলো, ব্যক্তি খাতে বিনিয়োগের স্থবিরতা দূর করে মধ্যমেয়াদে (২০১৬-১৮) তা জিডিপির ২৪.০ শতাংশে উন্নীত করা। একই সময়ে সরকারি বিনিয়োগও জিডিপির ৭.৮ শতাংশে উন্নীত হবে।
সরকারি বিনিয়োগে অগ্রাধিকার : সরকারি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বরাবরের মতো প্রবৃদ্ধি সহায়ক খাতসমূহ অগ্রাধিকার পাবে। বিশেষ করে, ভৌত ও সামাজিক অবকাঠামো খাত যেমনÑ বিদ্যুৎ, জ্বালানি, পরিবহন, যোগাযোগ, বন্দর উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও আইসিটি খাতে অধিকতর সম্পদ সঞ্চালন করা হবে। আমরা ২০২১ সাল নাগাদ বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ২৪ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত করতে চাই। এ লক্ষ্যে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন, পুরনো কেন্দ্রগুলোর সংস্কার, বিদ্যুৎ সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থার উন্নয়ন, পর্যায়ক্রমে প্রি-পেইড মিটার স্থাপন, উপ-আঞ্চলিক সহযোগিতার আওতায় বিদ্যুৎ আমদানি, জ্বালানি উৎস বহুমুখীকরণ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধির কার্যক্রম অব্যাহত রাখব। পরিবহন খাতে গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কসমূহকে চার লেনে উন্নীতকরণের চলমান কাজ দ্রুততার সাথে সম্পন্ন করা হবে। ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-ময়মনসিংহ চার লেন রাস্তা অবশ্যই এই অর্থবছরে সম্পন্ন হবে। পরিবহন খাতে এডিপিভুক্ত ১৩৩টি প্রকল্পের মধ্যে ২০১৫-১৬ অর্থবছরেই ৩৯টির কাজ শেষ হবে।
বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির বাস্তবায়ন : সরকারি বিনিয়োগের প্রধান হাতিয়ার হলো বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) এবং চ্যালেঞ্জ হলো এর সফল বাস্তবায়ন। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বৃহৎ ১০টি মন্ত্রণালয়ের এডিপি বাস্তবায়নে বিশেষ নজরদারির জন্য টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। একই সাথে, ধীরগতিসম্পন্ন ৫০টি প্রকল্পের বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ মেয়াদে আমাদের লক্ষ্য হলোÑ প্রকল্প সাহায্যের ব্যবহার বৃদ্ধি এবং এডিপির পূর্ণ বাস্তবায়ন। পাশাপাশি, এর গুণগত মান নিশ্চিত করার দিকেও বিশেষ দৃষ্টি দেওয়া হবে।
অর্থনৈতিক কর্মকা-ে নারীর অংশগ্রহণ : বিগত দশকজুড়ে নারী উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হলেও অর্থনৈতিক কর্মকা-ে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে নারীরা এখনও অনেক পিছিয়ে আছে। বর্তমানে কর্মক্ষম নারীর ৩৩.৫ শতাংশ অর্থনৈতিক কর্মকা-ে অংশগ্রহণ করছে। অন্যদিকে, সাম্প্রতিক সময়ে মোট শ্রমশক্তির বৃদ্ধির হারও হ্রাস পেয়েছে। এই বাস্তবতায় উপযুক্ত নীতি-কৌশল গ্রহণের মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক কর্মকা-ে নারীদের অংশগ্রহণ পুরুষের সমপর্যায়ে উন্নীত করতে পারলে জিডিপি প্রবৃদ্ধি অনেকখানি বাড়বে। কর্মক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ বাড়াতে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, বাল্যবিবাহ রোধ, নারী শিক্ষা, উপযুক্ত কর্মপরিবেশ সৃষ্টি, কর্মজীবী মহিলাদের জন্য আবাসন, শিশু-দিবাযতœ কেন্দ্র স্থাপন, যুব মহিলাদের বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ, চাকরিতে কোটা সংরক্ষণসহ নানা ধরনের নারীবান্ধব কর্মসূচি অব্যাহত রাখতে চাই।

মানবসম্পদ উন্নয়ন
শিক্ষা
প্রাথমিক শিক্ষা : প্রাথমিক পর্যায়েই শিক্ষার মূল ভিত রচিত হয়। তাই আমরা মানসম্পন্ন প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছি এবং ২০১৮ সাল নাগাদ প্রাথমিক শিক্ষাকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত সম্প্রসারণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। শতভাগ ভর্তির সুফল ধরে রাখতে ৯৩টি উপজেলার সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ৩৩ লাখ ৯০ হাজার শিশুর জন্য স্কুল ফিডিং কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, বিদ্যালয় নেই এমন গ্রামে ১ হাজার ৫০০টি প্রাথমিক বিদ্যালয় নির্মাণের পরিকল্পনার অধীনে ১ হাজার ১৯টির নির্মাণকাজ সমাপ্ত হয়েছে এবং অবশিষ্টগুলো নির্মাণের বিভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে। এ ছাড়া, ১১টি উপজাতীয় ভাষায় পাঠ্যক্রম প্রণয়নের ফলে উপজাতি শিশুরা মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষার সুযোগ পাচ্ছে।
মানসম্পন্ন শিক্ষার সম্প্রসারণ : মানসম্পন্ন শিক্ষার প্রসারে আমাদের উদ্ভাবিত সৃজনশীল প্রশ্নপত্রের ব্যবহার, মাধ্যমিক পর্যায় পর্যন্ত বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ, সৃজনশীল মেধা অন্বেষণ, উপবৃত্তি প্রদানের মতো কৌশলসমূহ বেশ ফলপ্রসূ হয়েছে, যা অব্যাহত থাকবে। একই সাথে চলমান থাকবে ইংরেজি ও গণিত শিক্ষকদের বিশেষ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম। প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট ফান্ডের ১ হাজার কোটি টাকা সিড মানির বিপরীতে অর্জিত ৭৫ কোটি টাকা মুনাফা থেকে ¯œাতক ও সমপর্যায়ের মেয়েদের উপবৃত্তি প্রদান কার্যক্রমও চলমান থাকবে।
কারিগরি শিক্ষার মানোন্নয়ন : জনমিতিক লভ্যাংশের সুবিধা কাজে লাগানোর জন্য আমাদের প্রয়োজন কারিগরি শিক্ষার ব্যাপক প্রসার। এ লক্ষ্যকে সামনে রেখে ৯২৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ১০০টি উপজেলায় একটি করে কারিগরি বিদ্যালয় স্থাপন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রতিটি বিভাগীয় শহরে একটি করে গার্লস টেকনিক্যাল স্কুল, ২৩টি জেলায় পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, ৪টি বিভাগীয় শহরে ৪টি মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট এবং সকল বিভাগে একটি করে ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ স্থাপনের জন্য উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এ ছাড়া, ১৫-৪৫ বছর বয়সী নিরক্ষর জনগোষ্ঠীকে মৌলিক সাক্ষরতা ও জীবনদক্ষতামূলক প্রশিক্ষণ প্রদানের জন্য একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
শিক্ষাক্ষেত্রে তথ্যপ্রযুক্তির প্রয়োগ এবং উচ্চ শিক্ষার প্রসার : শিক্ষাক্ষেত্রে তথ্যপ্রযুক্তির প্রয়োগ নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে শুরু হওয়া কার্যক্রমসমূহের পাশাপাশি আমরা সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট নির্মাণ করছি। এগিয়ে চলেছে ১২৮টি উপজেলায় রিসোর্স সেন্টার স্থাপনের কাজ। চলমান আছে বরিশালে ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ স্থাপনের কাজ। উদ্যোগ নিয়েছি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয়, গাজীপুর ডিজিটাল ইউনিভার্সিটি, খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয় এবং সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের উচ্চশিক্ষার গুণমত মান নিশ্চিত করতে আমরা ‘অ্যাক্রিডিটেশন কাউন্সিল’ গঠনের প্রক্রিয়া প্রায় চূড়ান্ত করে এনেছি।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ
কমিউনিটি ক্লিনিক : ‘মিনি ল্যাপটপ হবে ডিজিটাল ডাক্তার’Ñ এই স্লোগানকে সামনে রেখে কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে মোট ১৩ হাজার ৮৬১টি মিনি ল্যাপটপ প্রদানের পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে গ্রামীণ জনগণ টেলিমেডিসিন সেবা, স্বাস্থ্য সংক্রান্ত হালনাগাদ তথ্য ও স্বাস্থ্য শিক্ষার সুযোগ পাবেন।
টেলিমেডিসিন সেবার সম্প্রসারণ : ৬৪টি হাসপাতাল এবং ৪১৮টি উপজেলা হাসপাতালে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্য অফিসগুলোতে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
মাতৃস্বাস্থ্য ভাউচার স্কিম : গরিব, দুস্থ ও গর্ভবতী মায়েদের জন্য ৫৩টি উপজেলায় চালানো হচ্ছে মাতৃস্বাস্থ্য ভাউচার কর্মসূচি। আরও ২০টি উপজেলায় এ কর্মসূচি সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ১৩২টি উপজেলায় জরুরি প্রসূতিসেবা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার আধুনিকায়ন : জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার আধুনিকায়নে ‘জাতীয় ঔষধ নীতি ২০১৪’ প্রণয়ন করা হয়েছে। একই সাথে ঔষধ নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ ১৯৮২, ড্রাগ অ্যাক্ট ১৯৪০, ড্রাগ রুলস্ ১৯৪৫ ও ১৯৪৬-সহ বিভিন্ন সংশোধনী একত্রিত ও যুগোপযোগী করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষার প্রসার : বিজ্ঞানী, প্রযুক্তিবিদ, গবেষক ও শিক্ষাবিদ তৈরির লক্ষ্যে পিএইচডিসহ বিভিন্ন পর্যায়ের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণায় ‘বঙ্গবন্ধু ফেলোশিপ অন সাইন্স অ্যান্ড আইসিটি’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় বৃত্তি প্রদান করা হচ্ছে। ২০১৬ সালে এই প্রকল্প সমাপ্তির পর বৃত্তি প্রদান অব্যাহত রাখতে একটি ট্রাস্ট গঠন করা হবে। এ ছাড়া, সমুদ্রবিজ্ঞান সম্পর্কিত গবেষণা পরিচালনার জন্য কক্সবাজারের রামুতে জাতীয় সমুদ্র গবেষণা ইনস্টিটিউট স্থাপন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রকল্প সমাপ্তির পর এই এলাকায় একটি আন্তর্জাতিকমানের মেরিন অ্যাকুয়ারিয়াম স্থাপনের পরিকল্পনাও আছে।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি
বিদ্যুৎ : দীর্ঘদিনের পুঞ্জিভূত সমস্যার দ্রুততর সমাধান করতে গিয়ে বিদ্যুৎ খাতে প্রথম দিকে আমাদের স্বল্পমেয়াদি বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করতে হয়েছে। বিদ্যুৎ সমস্যা এখন অনেকটাই দূর হয়েছে। আমরা এখন দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই সমাধানের লক্ষ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছি।
কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন : ২০১৫ সালের পর কয়লাকে মূল জ্বালানি হিসেবে বিবেচনায় নিয়ে বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছে। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হলোÑ রামপালে ১৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের জন্য বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া ফেরেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি গঠন, মাতারবাড়ি ১২০০ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের জন্য জাইকার সাথে ঋণচুক্তি স্বাক্ষর; চীন, মালয়েশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া ও সিঙ্গাপুরের আর্থিক সহায়তায় মহেশখালীতে প্রতিটি ১২০০ মেগাওয়াট হিসাবে ৪৮০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার ৪টি এবং পটুয়াখালীর পায়রায় ১৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন। একই সাথে সরকারি ও বেসরকারি খাতে ১৪১১ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের জন্যেও চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়েছে।
পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন : বিদ্যুৎ সমস্যার দীর্ঘমেয়াদি সমাধানে পারমাণবিক শক্তি থেকে ২০২২ সালের মধ্যে ২০০০ মেগাওয়াট এবং ২০৩০ সালের মধ্যে ৪০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
উপ-আঞ্চলিক সহযোগিতার আওতায় বিদ্যুৎ আমদানি : ২০৩০ সালের মধ্যে পার্শ্ববর্তী দেশসমূহ থেকে ৬৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। নভেম্বর ২০১৩ হতে ভারত থেকে ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করছি। আরও ৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির কার্যক্রম চলমান আছে। নেপাল, ভুটান, মিয়ানমার ও ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল থেকে জলবিদ্যুৎ আমদানির জন্য আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
নবায়নযোগ্য জ্বালানি : ২০২০ সালের মধ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে ২০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে সাসটেইনেবল অ্যান্ড রিনিউঅ্যাবল এনার্জি ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (এসআরইডিএ) গঠন করা হয়েছে। গ্রহণ করা হয়েছে ৫০০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উন্নয়ন কর্মসূচি।
সঞ্চালন লাইন : ডিসেম্বর ২০১৪ পর্যন্ত প্রায় ৩ লাখ ৩১ হাজার কিলোমিটার বিতরণ লাইন নির্মাণের মাধ্যমে ১ কোটি ৬২ লাখ গ্রাহককে বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদান করা হয়েছে। উৎপাদিত বিদ্যুৎ সবার কাছে পৌঁছাতে সরকার ১০ হাজার কিলোমিটার নতুন সঞ্চালন লাইন এবং ১ লাখ ৫০ হাজার কিলোমিটার নতুন বিতরণ লাইন নির্মাণ করা হবে।

যোগাযোগ অবকাঠামো
সড়ক-সেতু অবকাঠামো উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ : দেশের পঞ্চিমাঞ্চলে যোগাযোগ নেটওয়ার্ক শক্তিশালী করার জন্য ওয়েস্টার্ন বাংলাদেশ ব্রিজ প্রোজেক্টের আওতায় ৬১টি সেতু পুনর্নির্মাণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। চলমান আছে দ্বিতীয় কাঁচপুর, দ্বিতীয় মেঘনা ও দ্বিতীয় গোমতী সেতু নির্মাণের কাজ। একই সাথে, গলাচিপা, পায়রা ও কচা নদীর ওপর সেতু নির্মাণের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া, পাটুরিয়া-গোয়ালনন্দ অবস্থানে ভবিষ্যতে দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা আছে।
* সড়ক অবকাঠামোর ক্ষেত্রে জয়দেবপুর-চন্দ্রা-টাঙ্গাইল-এলেঙ্গা মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণের কাজে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। আশা করি, আগামী ২০১৫-১৬ অর্থবছরের মধ্যে আমরা নিচের প্রকল্পগুলো সমাপ্ত করতে পারবÑ
Ñ ইস্টার্ন বাংলাদেশ ব্রিজ ইমপ্রুভমেন্ট প্রকল্প।
Ñ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক এবং জয়দেবপুর-ময়মনসিংহ চার লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্প।
Ñ বরিশাল-পটুয়াখালী-কুয়াকাটা মহাসড়কে শেখ কামাল, শেখ জামাল ও শেখ রাসেল সেতু নির্মাণ।
Ñ কক্সবাজার-টেকনাফ-মেরিন ড্রাইভ নির্মাণ দ্বিতীয় পর্যায় (ইনানী থেকে সীখালী)।
Ñ যাত্রাবাড়ী-কাঁচপুর সড়ক আট লেনে উন্নীতকরণ।
Ñ আড়িয়াল খাঁ নদীর ওপর সপ্তম বাংলাদেশ-চীন-মৈত্রী সেতু নির্মাণ।
রেলপথ উন্নয়ন : ২০ বছর মেয়াদি একটি রেলওয়ে মাস্টারপ্ল্যান গ্রহণ করা হয়েছে এবং সেখানে ২৩৫টি প্রকল্প বাস্তবায়নে ২ লাখ ৩৩ হাজার ৯৪৬ কোটি টাকা ব্যয় করা হবে। সরকারের উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপসমূহের মধ্যে আছেÑ দোহাজারী-কক্সবাজার-গুনদুম, নোলুখালী-ভাটিয়াপাড়া-গোপালগঞ্জ-টুঙ্গিপাড়া, পাঁচুরিয়া-ফরিদপুর-ভাঙ্গা, ঈশ্বরদী-পাবনা-ঢালারচর এবং খুলনা-মংলা নতুন রেললাইন নির্মাণ/পুনর্নির্মাণ, মেহেরপুর জেলাকে রেলওয়ে নেটওয়ার্কের আওতায় আনা, পদ্মা সেতুর ওপর দিয়ে রেল সার্ভিস চালু, যমুনা নদীর ওপর বঙ্গবন্ধু সেতুর উত্তরে রেল সেতু নির্মাণ, ঢাকা-টঙ্গী সেকশনে তৃতীয় ও চতুর্থ ডুয়েল গেজ লাইন এবং টঙ্গী-জয়দেবপুর সেকশনে ডুয়েল গেজ ডাবল লাইন নির্মাণ, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সেকশনে বিদ্যমান মিটারগেজ রেল লাইনের সামন্তরাল একটি ডুয়েল গেজ লাইন নির্মাণ ইত্যাদি। অন্যদিকে আঞ্চলিক নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের উদ্দেশে ‘আখাউড়া-আগরতলা’ রেল কানেকটিভিটি স্থাপন করতে যাচ্ছি আমরা।
পদ্মা সেতু নির্মাণ : নিজস্ব অর্থায়নে বহু প্রতীক্ষিত পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ অনেকদূর এগিয়ে এনেছি। প্রমত্ত পদ্মার দুই তীরে বাঁধ নির্মাণের কর্মযজ্ঞে ওই অঞ্চলের মানুষের জীবনে শুরু হয়েছে নতুন কর্মচাঞ্চল্য। আশা করছি, ২০১৮ সাল নাগাদ এই সেতু যানবাহন চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দিতে পারব।

ডিজিটাল বাংলাদেশ
ডিজিটাল অবকাঠামো উন্নয়ন : গাজীপুর জেলায় কালিয়াকৈর হাই-টেক পার্ক এবং যশোর সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক স্থাপন করা হচ্ছে। এলাকাভিত্তিক ডিজিটাল অবকাঠামো উন্নয়নে মহাখালী আইটি ভিলেজ, বরিশালের চন্দ্রদ্বীপ ক্লাউডচর, সিলেট ইলেকট্রনিক সিটি ও রাজশাহীর বরেন্দ্র সিলিকন সিটি স্থাপনের লক্ষ্যে জমি চিহ্নিত করা হয়েছে। পাশাপাশি, খুলনা, চট্টগ্রাম ও রংপুর বিভাগে হাই-টেক ও সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক স্থাপনের জন্য জমি নির্বাচনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এ ছাড়া, প্রতিটি জেলায় তথ্যপ্রযুক্তি শিল্পের বিকাশের লক্ষ্যে প্রথম পর্যায়ে ১২টি জেলায় আইটি ভিলেজ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ৮০০টি সরকারি অফিসে ভিডিও কনফারেন্সি সিস্টেম স্থাপন করছি।
ইন্টারনেট সেবা : জনগণকে ইন্টারনেটের সেবা প্রদানের লক্ষ্যে সবকটি জেলার ১ হাজার ৬টি ইউনিয়নে প্রায় ১১ হাজার কিলোমিটার অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবল স্থাপন করা হচ্ছে। এ ছাড়া, সারাদেশে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা প্রদানের জন্য ওয়্যারলেস ব্রডব্যান্ড নেটওয়ার্ক স্থাপনের প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। দ্বিতীয় সাবমেরিন কেবলে সংযুক্ত হয়ে শিগগিরই আমরা ব্যান্ডউইথ ক্যাপাসিটি ২০০ জিবিপিএস থেকে ১ হাজার ৩০০ জিবিপিএসে উন্নীত করব। এ ছাড়া, ৮ হাজার ৫০০টি পোস্ট-ই-সেন্টার চালুর কার্যক্রম ২০১৭ সালের জুন মাসের মধ্যেই সম্পন্ন করার আশা রাখি। ২০১৬ সালের মধ্যে মহাকাশে বাংলাদেশের প্রথম স্যাটেলাইট (বঙ্গবন্ধু-স্যাটেলাইট-১) উৎক্ষেপণের স্লট নির্ধারণ ও চুক্তি সম্পাদন করা হয়েছে।

Category:

এ বাজেট বাস্তবায়ন দেশকে উচ্চ প্রবৃদ্ধির দিকে নিয়ে যাবে : অর্থমন্ত্রী

Posted on by 0 comment

সংসদে বাজেট পাস

3অর্থবিল পাসের মধ্য দিয়ে গত ৩০ জুন জাতীয় সংসদে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে জাতীয় বাজেট পাস হয়েছে। অর্থবিল পাসের আগে সমাপনী বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, ২০১৫-১৬ অর্থবছরের বাজেট বাস্তবায়ন দেশকে উচ্চ প্রবৃদ্ধির দিকে নিয়ে সমৃদ্ধি নিশ্চিত করবে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রস্তাবিত বাজেট বাস্তবায়নের মাধ্যমে অর্জিত সাফল্য সকল নাগরিকের সুখ-শান্তি ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করে ২০২১ সালে মধ্য আয়ের দেশে পরিণত করার দিকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে।
আবুল মাল আবদুল মুহিত সমাপনী বক্তৃতায় প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সংসদে এবং সংসদের বাইরে বিভিন্ন সমালোচনার জবাবে বলেন, এ সমালোচনা বাজেট সংস্কার ও বাস্তবায়নে সহায়ক হবে। তিনি বাজেট উচ্চাভিলাষী এবং বাস্তবায়নে সংশয় রয়েছে এমন সমালোচনার জবাবে বলেন, বিগত বছরগুলোতে দেশের অর্থনীতির শক্তি সামর্থ্য এবং সরকারের নেতৃত্বের চৌকষতা ও গতিশীলতায় সংশয়বাদীদের সকল সংশয় অমূলক প্রমাণিত করে দেশ অনেক দূর এগিয়ে গেছে। অনুকূল বিশ্ব ও জাতীয় বাস্তবতা আর সকলের সমন্বিত কর্মপ্রচেষ্টায় সকল সন্দেহের অবসান হবে এবং এবারও কাক্সিক্ষত লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে। সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনের এই অভিযাত্রায় সকলের নিঃস্বার্থ দেশপ্রেম এবং আন্তরিক সহযোগিতা সরকারের চলার পথকে নিষ্কণ্টক করবে।
অর্থমন্ত্রী বাজেটে জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনের বিষয়ে সমালোচনার জবাবে ২০১৫-১৬ অর্থবছরের জন্য জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৭ শতাংশ অর্জনের ব্যাপারে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ চাহিদা দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধির অন্যতম নিয়ামক।
তিনি বলেন, ২০১৪-১৫ অর্থবছরের বড় একটা সময়জুড়ে রাজনৈতিক অস্থিরতায় ব্যবসা ও অর্থনৈতিক কর্মকা- ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অর্থনীতির প্রায় সকল খাতে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। তবে ২০০৯ থেকে সরকারের শুরু করা অর্থনৈতিক সংস্কার দেশকে যে সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। তার সুবাদে এসব ক্ষতি সামলে নিয়ে এই বিরূপ পরিস্থিতির মাঝেও ৬ শতাংশের ওপর প্রবৃদ্ধি অর্জন করা সম্ভব হয়েছে। বেসরকারি বিনিয়োগের প্রবৃদ্ধি আশানুরূপ ছিল না। তা সত্ত্বেও জিডিপি প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ৬.৫১ শতাংশ। রাজনৈতিক সুস্থিতি বজায় থাকলে আগামী অর্থবছরে ৭ শতাংশ অর্জন করা সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, সরকারের বিগত বছরগুলোর অর্জনের ভিত্তিতেই ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ২ লাখ ৯৫ হাজার ১০০ কোটি টাকার বাজেটের প্রস্তাব করা হয়েছে। বাজেট বাস্তবায়নের লক্ষ্যে রাজস্ব আহরন, ব্যয় ব্যবস্থাপনা, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন, প্রয়োজনীয় জনবলের সমাহার ঘটানো ইত্যাদি বিষয়ে সরকারের সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা রয়েছে। রাজস্ব আহরণের ক্ষেত্রে গত ছয় বছরের অর্জন বিগত ২৬ বছরের অর্জনের সমান।
অর্থমন্ত্রী শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে অতিরিক্ত বরাদ্দের দাবির বিষয়ে বলেন, এ দুটি খাতেই সরকার প্রতিবছর বরাদ্দ বাড়িয়েছে। যদিও জাতীয় আয়ের হিস্যা হিসাবে তা তেমন বাড়ছে না। এর কারণ হিসেবে তিনি বিগত সময়ে বিদ্যুৎ-জ্বালানি ও যোগাযোগ অবকাঠামো খাতে সরকারকে অতিরিক্ত মনোযোগ ও বরাদ্দ দিতে হয়েছে। এ দুই খাতের অনেক উন্নতি হয়েছে। এ উন্নতি না হলে দেশ বর্তমানের অবস্থায় পৌঁছত না।
বাজেট বক্তব্যে তিনি তার কর প্রস্তাবের কিছু খাতে পরিবর্তনের প্রস্তাব করেন। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রীর যে বিষয়ে অনুরোধ করেছেন তা নির্দেশ হিসেবে সেসব অনুরোধ গ্রহণ করে নেন। এক্ষেত্রে তিনি হেপাটাইটিস-বি ওষুধের আমদানির ওপর এবং ক্যানসারের ওষুধের কাঁচামালের আমদানির ওপর শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করে নেন। বেসরকারি মেডিকেল কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর প্রস্তাবিত ১০ শতাংশ মূসক হ্রাস করে ৭.৫ শতাংশ করেন। একইভাবে ইউনানী, আয়ুর্বেদ ও ভেষজ ওষুধের ওপর প্রস্তাবিত কর সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করে নেন।
অর্থমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাব অনুযায়ী পোল্ট্রি ফার্মের ওপর ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত করমুক্ত এবং ২১ থেকে ৩০ লাখ পর্যন্ত ৫ শতাংশ ও ৩০ লাখের অধিক অংকের অর্থের ১০ শতাংশ করার ঘোষণা দেন। পোশাক শিল্পে উৎসে কর প্রস্তাবিত দশমিক ৮০ থেকে হ্রাস করে পূর্বের ন্যায় দশমিক ৬০ শতাংশ করা হয়। মৎস্য, হাঁস, মুরগি ইত্যাদি খামারের ওপরও প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাব অনুযায়ী অর্জিত অর্থের ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত করমুক্ত, ২০ থেকে ৩০ লাখ পর্যন্ত ৩ শতাংশ এবং ৩০ লাখের ওপর ১০ শতাংশ করারোপের করা হয়।
এ ছাড়াও অর্থমন্ত্রী প্রস্তাবিত বেশ কয়েকটি কর প্রস্তাব সংশোধনের প্রস্তাব করেন। এর মধ্যে বিভিন্ন আবাসন খাত, ব্যক্তি ও অংশীদারী ব্যবসা খাত, চিনি, চালসহ বিভিন্ন খাদ্যপণ্যে আমদানি খাতে কর হ্রাসসহ বিভিন্ন পণ্যে কর প্রস্তাব পরিবর্তন করেন। পরে অর্থ বিল পাসের মধ্য দিয়ে অর্থমন্ত্রীর এসব প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়।

Category:

স্বপ্নের মেট্রোরেল নির্মাণে সংসদে বিল পাস

উত্তরণ প্রতিবেদন : রাজধানী ঢাকায় যানজট নিরসনে বহুল আলোচিত স্বপ্নের মেট্রোরেল প্রকল্পের পর্দা উঠল। মেট্রোরেল আর স্বপ্ন নয়, বাস্তবে রূপ দিতে যাচ্ছে সরকার। গত ২৬ জানুয়ারি জাতীয় সংসদে ‘মেট্রোরেল আইন-২০১৫’ নামের বহুল আলোচিত বিলটি পাস হয়েছে। এ বিলটি পাসের মাধ্যমে রাজধানীতে মেট্রোরেল চালুর কাজ আরও একধাপ অগ্রগতি হয়েছে। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন বিগত সরকার স্বল্পব্যয়ে দ্রুত ও উন্নত গণপরিবহন সেবা চালুর লক্ষ্যে বাংলাদেশে মেট্রোরেল চালুর পরিকল্পনা গ্রহণ করে। বিলটি প্রসঙ্গে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, নতুন প্রজন্মের স্বপ্নের এবং বর্তমান সরকারের মেগা প্রকল্প হচ্ছে দেশের ইতিহাসে প্রথম এ মেট্রোরেল স্থাপন প্রকল্প। পদ্মা সেতুর মতো বর্তমান সরকার স্বপ্নের এ মেট্রোরেল নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে। তিনি বলেন, ২০২৪ সালে মেট্রোরেল নির্মাণ প্রকল্পের কাজটি শেষ হওয়ার কথা থাকলেও জাইকা জানিয়েছে পাঁচ বছর আগেই অর্থাৎ এর নির্মাণকাজ শেষ হবে ২০১৯ সালেই। ২২ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে রাজধানীর উত্তরা থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক পর্যন্ত ২০ কিলোমিটারের কিছু বেশি দীর্ঘ নির্মিতব্য এই মেট্রোরেলের স্টেশন হবে ১৬টি। ভ্রমণ সময় হবে মাত্র ২৮ মিনিট। ঘণ্টায় এই মেট্রোরেল প্রায় ৬০ হাজার যাত্রী বহন করতে পারবে। নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ করা হচ্ছে আর মেট্রোরেল জাইকার সহযোগিতায় হচ্ছে। বিলটি পাসের আগে মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সংসদে বলেন, ঢাকা শহরের যানজট নিরসন এবং জনসাধারণকে দ্রুত ও উন্নত গণপরিবহন সেবা দেওয়ার লক্ষ্যে মেট্রোরেল নির্মাণের জন্য সরকার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। বাংলাদেশ প্রথম মেট্রোরেল চালু হবে। তাই মেট্রোরেল নির্মাণ, পরিচালনা, রক্ষণাবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণের জন্য সুনির্দিষ্ট আইনের প্রয়োজন। সেজন্য এ বিলটি আনা হয়েছে। সংসদে উত্থাপিত বিলে মেট্রোরেলের ভাড়া নির্ধারণের জন্য একটি উপ-কমিটি গঠনের কথা বলা হয়েছে। লাইসেন্স ছাড়া মেট্রোরেল পরিচালনা ও অনুমোদন ছাড়া মালিকানা হস্তান্তর নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আর সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে এই রেল স্থাপন, পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের সুযোগ রাখা হয়েছে। মেট্রোরেলে চলাচলকারী সকলের বীমা থাকবেন। কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে যাত্রীরা উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ পাবেন। বিলে এই রেল চলাচলে বাধা সৃষ্টি, বিনা টিকিটে ভ্রমণ এবং নিরাপত্তা বিঘিœত করলে বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। সর্বোচ্চ শাস্তির মধ্যে রয়েছে ১০ বছর কারাদ- ও ১ কোটি টাকা জরিমানা। বিলে মেট্রোরেলের যাত্রীদের জন্য বীমার বিধান রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। এ ছাড়া মেট্রোরেলের জন্য ভূমি অধিগ্রহণ আইনের বিধান অনুযায়ী ভূমি অধিগ্রহণের বিধান রাখা হয়েছে।

Category:

বিদেশি চাপ অগ্রাহ্য করে কৃষিতে ভর্তুকি দিচ্ছি

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা কৃষিতে ভর্তুকির ব্যাপারে আপত্তি জানালেও সেসব বিদেশি দাতা সংস্থার চাপ অগ্রাহ্য করে সরকার কৃষিতে ভর্তুকি অব্যাহত রেখেছে। কৃষককে ভর্তুকি দিয়ে বীজ, যন্ত্রপাতি সরবরাহ করা হচ্ছে এবং বছরে প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকা কৃষি ঋণ দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, অনেক উন্নত দেশ কৃষকদের সাপোর্ট দিয়ে যাচ্ছে; অথচ আমাদের বেলায় অনেক রকম শর্ত চলে আসে। যদিও আমরা তা গ্রহণ করি না। বাংলাদেশের একটা মানুষও যেন ক্ষুধায় কষ্ট না পায় সে লক্ষ্য নিয়ে কাজ করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে তিনি ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি কৃষিভিত্তিক খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প ও শষ্যের বহুমুখীকরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। গত ৯ নভেম্বর সচিবালয়ে খাদ্য মন্ত্রণালয় পরিদর্শন ও মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। শেখ হাসিনা বলেন, অনেক আন্তর্জাতিক সংস্থা কৃষিতে ভর্তুকির বিরোধিতা করে। ’৯৬-এর নির্বাচনের আগে ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের যে প্রতিনিধি বাংলাদেশে আসেন তিনি আমার কাছে বিশাল এক তালিকা নিয়ে আসে। এর মধ্যে, কৃষিতে ভর্তুকি বন্ধের কথা ছিল। আমি তখন তাকে বলি, ঠিক আছে। আমরা আমাদের নিজেদের টাকায় কৃষকদের ভর্তুকি দেব। প্রধানমন্ত্রী বলেন, খাদ্যটা যদি সঠিক সময়ে দিতে না পারি, তা হলে কাদের জন্য কাজ করছি? বাংলাদেশকে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত করতেই হবে। কৃষি উৎপাদন বাড়াতে প্রশিক্ষণের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, কৃষকদের আধুনিক যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রশিক্ষণ দিতে হবে।

Category:

বিচারপতি অপসারণের ক্ষমতা ফিরে পেল সংসদ

Posted on by 0 comment

সংবিধান (ষোড়শ সংশোধন) বিল সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত

43বহুল আলোচিত ‘সংবিধান (ষোড়শ সংশোধন) বিল-২০১৪’ জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। সংবিধানের বর্তমান ৯৬ অনুচ্ছেদের এই সংশোধনীর মধ্য দিয়ে বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতা সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের পরিবর্তে ফিরে এলো জাতীয় সংসদের হাতে। ১৯৭২ সালের সংবিধানের ৯৬ অনুচ্ছেদেও সংসদের হাতেই এই ক্ষমতা ছিল। প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টি (জাপা) চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদ ও বিরোধীদলীয় নেতা বেগম রওশন এরশাদসহ দলটির ৯ এমপি বিলটির ওপর জনমত যাচাই ও বাছাই কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাব দিলেও দলের উপস্থিত এমপিরা সবাই বিলের পক্ষেই ভোট দিয়েছেন। গত ১৭ সেপ্টেম্বর সংসদে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকারি জোট ১৪ দল, প্রধান বিরোধী দল জাপাসহ অন্যান্য ছোট বিরোধী দল ও স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যরা সর্বসম্মতভাবে বিলের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে কোনোরকম বিরোধিতা ছাড়াই বিভক্তি ভোটে নির্বিঘেœ বিলটি পাস করেন।
পাস হওয়া বিলটিতে বলা আছে, প্রমাণিত অসদাচরণ বা বিচারকাজে অসামর্থ্যরে কারণে বিচারকের অপসারণ নির্ধারিত হবে সংসদের ভোটাভুটিতে। সংসদের মোট সদস্য সংখ্যার দুই-তৃতীয়াংশ গরিষ্ঠতার দ্বারা সমর্থিত সংসদের প্রস্তাবক্রমে প্রদত্ত রাষ্ট্রপতির আদেশ ছাড়া কোনো বিচারককে অপসারণ করা যাবে নাÑ এমন বিধান সংযোজন করা হয়েছে সংশোধনীতে। বিলের দফা (৩)-এ বলা হয়েছেÑ কোনো বিচারকের অসদাচরণ বা অসামর্থ্য সম্পর্কে তদন্ত ও প্রমাণের পদ্ধতি সংসদ আইনের দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে।
স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে মাগরিবের নামাজের বিরতির পর নির্ধারিত সময় অনুযায়ী সন্ধ্যা ঠিক ৭টায় সংসদের অধিবেশন শুরু হয়। এর আগেই প্রায় কানায়-কানায় পরিপূর্ণ হয়ে যায় অধিবেশন কক্ষ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদসহ বেশিরভাগ সদস্যই এ সময় উপস্থিত ছিলেন। ৭টা ৩৭ মিনিটে স্পিকার সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সুপারিশকৃত আকারে ‘সংবিধান (ষোড়শ সংশোধন) বিল-২০১৪’ সংসদের বিবেচনার জন্য প্রস্তাব উত্থাপন করতে আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হককে আহ্বান জানান। বিলটির ওপর আনা জনমত যাচাই ও বাছাই কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাব এবং বিভিন্ন দফায় আনা সংশোধনী প্রস্তাবসমূহ কণ্ঠভোটে নাকচ হয়ে যাওয়ার পর রাত ১০টা ১৭ মিনিটে সংসদ সদস্যরা অধিবেশন কক্ষ থেকে বের হয়ে সংসদ লবিতে গিয়ে গোপন ব্যালটে স্বাক্ষরের মাধ্যমে বিলের পক্ষে ভোট দেন। বিলটির শিরোনাম, দফা এবং উদ্দেশ্য ও কারণ সম্বলিত বিবৃতি স্পিকার পৃথকভাবে ভোটে দিলে প্রত্যেকবারই সংসদ সদস্যরা লবিতে গিয়ে ভোট দেন। ভোট গ্রহণের এই প্রক্রিয়া শেষ হয় রাত ১১টা ৬ মিনিটে। এরপর স্পিকার বিভক্তি ভোটের ফলাফল ঘোষণা করেন। বিলের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়ে ৩২৮টি, আর বিপক্ষে কোনো ভোট পড়েনি। পরে রাত ১১টা ৭ মিনিটে স্পিকার বিলটি পাস হলো বলে উল্লেখ করেন। এ সময় সরকারি ও বিরোধী দলের সবাই একযোগে টেবিল চাপড়ে নিজেদের সমর্থন জানান।
অসামর্থ্যরে কারণেই কেবল অপসারণ হবে : আইনমন্ত্রী
সদস্যদের জনমত যাচাই ও বাছাই কমিটিতে প্রেরণের প্রস্তাবের বিরোধিতা করে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, প্রস্তাবকারীদের অনেকের প্রশ্ন ছিলÑ এতে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ক্ষুণœ হবে কিনা। আমি দৃঢ়ভাবে বলতে পারি, কোনো হস্তক্ষেপ হবে না। সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে প্রস্তাব পাসের পরেই কেবল সেটি রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো হবে। তিনি বলেন, বিলে বলা আছে, কেবলমাত্র প্রমাণিত গুরুতর অসদাচরণ ও বিচারকাজ করতে অসামর্থ্যরে কারণেই একজন বিচারককে অপসারণ করা যাবে। একজন বিচারক অত্যন্ত সম্মানিত ব্যক্তি। আমরা বলে থাকি, আল্লাহর পরেই বিচারক। সেই কারণে তার হাতের ক্ষমতা ক্ষুণœ হোক, আমরা সেটির পক্ষে নই। তিনি বলেন, এই বিলটি পাসের ফলে জনগণের অধিকার, বিচার বিভাগের সম্মান-জবাবদিহিতা-পবিত্রতা-দায়বদ্ধতা নিশ্চিত হবে।
বিলটির প্রেক্ষাপট
১৯৭২ সালে সংবিধান প্রণয়নের সময় উচ্চ আদালতের বিচারকদের পদের মেয়াদ নির্ধারণ ও তাদের সরানোর ক্ষমতা সংসদের হাতে ছিল। ১৯৭৫ সালে সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর পর এই ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির হাতে যায়। চতুর্থ সংশোধনী বাতিল হলে জিয়াউর রহমানের সামরিক সরকারের আমলে এক সামরিক আদেশে বিচারপতিদের অভিশংসনের জন্য সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠন করা হয়। গত ১৭ সেপ্টেম্বর বিলটি পাসের ফলে এখন আবার সংসদের হাতে বিচারকদের সরানোর ক্ষমতা ফিরল। তিন মাসের মধ্যে এই সংক্রান্ত আইন করা হবে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী।
৯৬ অনুচ্ছেদে সংশোধনের প্রস্তাবে যা বলা হয়েছে
বিলে সংবিধানের ৯৬ অনুচ্ছেদ সংশোধনের প্রস্তাবে বলা হয়েছে, একজন বিচারক ৬৭ বছর পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত স্বীয় পদে বহাল থাকবেন। প্রমাণিত অসদাচরণ বা অসামর্থ্যরে কারণে সংসদের মোট
সদস্যসংখ্যার অন্যূন দুই-তৃতীয়াংশ গরিষ্ঠতা দ্বারা সমর্থিত সংসদের প্রস্তাবক্রমে রাষ্ট্রপতির আদেশে কোনো বিচারককে অপসারণ করা যাবে। বিচারকের অসদাচরণ বা অসামর্থ্য সম্পর্কে তদন্ত ও প্রমাণের পদ্ধতি সংসদ আইনের দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করবে। এ ছাড়া কোনো বিচারক রাষ্ট্রপতিকে উদ্দেশ্য করে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রযোগে স্বীয় পদত্যাগ করতে পারবেন।
উল্লেখ্য, গত ৭ সেপ্টেম্বর বিলটি সংসদে উত্থাপন করেন আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সাত দিনের মধ্যে সংসদে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য ওইদিনই বিলটি আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়। যাচাই-বাছাই শেষে বিলের ওপর সংসদে প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন সংসদীয় কমিটির সভাপতি সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত।

Category: