সুস্থ হয়ে উঠছেন কবি নির্মলেন্দু গুণ

48

48উত্তরণ ডেস্ক : কবি নির্মলেন্দু গুণ ভালো হয়ে উঠছেন। ধীরে ধীরে শুকাচ্ছে তার বাইপাস সার্জারির ক্ষতস্থান। চিকিৎসক কার্ডিওলজিস্ট ডা. লুৎফর রহমান জানান, তিনি স্বাভাবিক নিয়মেই সুস্থ হয়ে উঠছেন। কবির সাথে আলাপ করেই বোঝা গেল তিনি সুস্থতার পথে আছেন। কথা বলছেন স্বাভাবিক। গত ১২ তারিখ বিকেল ৪টায় হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার কারণে বুকে ব্যথা অনুভব করলে তাকে প্রথম জাপান বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতাল, তারপর ওইদিন ল্যাবএইড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ১৩ তারিখ তার বাইপাস সার্জারি সম্পন্ন হয়। ২৬ তারিখ রাতে কবি নির্মলেন্দু গুণ বাসায় ফিরে যান। চিকিৎসক তাকে নিবিড় বিশ্রামে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। উল্লেখ্য, তার চিকিৎসা খরচ ল্যাবএইড হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বহন করে। সরকারের পক্ষ থেকে ল্যাবএইড হাসপাতালকে ধন্যবাদপত্র প্রদান করা হয়।
লালনের তিরোধান দিবস পালিত
ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনায় কুষ্টিয়ায় পালিত হলো লালন তিরোধান দিবস। বাউল সম্রাট লালন ফকিরের ১২৪তম তিরোধান দিবস উপলক্ষে ১৬ থেকে ২০ অক্টোবর পর্যন্ত চলে অন্যতম এই সাংস্কৃতিক উৎসব। শত বছরেরও আগে থেকে লালন শাহের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে প্রতিবছর অক্টোবরের তৃতীয় সপ্তাহে লালন তিরোধান দিবসটি যথাযথভাবে পালিত হয়ে আসছে।
শত বছরের ধারাবাহিকতায় দিবসটি এখন শ্রেণি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব মানুষের পুনর্মিলন ও বিনোদনের অফুরন্ত এক উৎসও বটে। উৎসব উপলক্ষে শহরের কুমারখালীর ছেঁউড়িয়া এলাকায় প্রতিষ্ঠিত লালন কমপ্লেক্সে দেশের নানা প্রান্ত থেকে শত শত বাউলের পাশাপাশি হাজার হাজার ভক্ত জড়ো হন। এবার নিয়ে পরপর অষ্টমবারের মতো বাংলালিংক এই উৎসবের সহযোগিতা করে। পাঁচ দিনব্যাপী উৎসবের আয়োজক ছিল লালন একাডেমি ও ডিসি অফিস কুষ্টিয়া। গত ২০ অক্টোবর খুলনার বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুস সামাদ সমাপনী অনুষ্ঠানটি ঘোষণা করেন।
১৬ অক্টোবর উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা প্রফেসর ড. গওহর রিজভী। উদ্বোধনকালে তিনি বলেন, লালনের ভক্ত হিসেবে আমি/আমরা এখানে এসেছি। লালনের গান, ভাবের টানে আমি/আমরা এখানে এসেছি। এখানে যে লাখ লাখ ভক্ত, অনুসারী আজ সমবেত হয়েছেন তারাও এখানে ছুটে এসেছেন লালনের অসাম্প্রদায়িক মানবতাবাদী চেতনার টানেই। জীবন দর্শনকে জাগিয়ে তুলে লালনই পারে মানুষকে এক করতে। সেদিন আলোচনায় অংশ নেনÑ লালন গবেষক ও লেখক, আনোয়ারুল কবীর, কুষ্টিয়া জেলা শিল্পকলা একাডেমির সাধারণ সম্পাদক মো. আমিরুল ইসলাম, কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক সৈয়দ বেলাল হোসেন, জেলা পরিষদ প্রশাসক জাহিদ হোসেন জাফর, কুষ্টিয়া পৌরসভার মেয়র আনোয়ার আলী, লালন মাজারের প্রধান খাদেম মোহাম্মদ আলী, কুমারখালী উপজেলার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সাহেলা আক্তার প্রমুখ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন লালন একাডেমির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মো. সেলিম হক।
কবি শামসুর রাহমান স্মরণ
গত ২৩ অক্টোবর আলোচনা, স্মৃতিচারণা, গানের সুরে, নৃত্যের ছন্দে ও কবিতার শিল্পিত উচ্চারণে উদযাপন করা হয়েছে কবি শামসুর রাহমানের ৮৬তম জন্মদিন। সেদিন বিকেলে কবিকে যৌথভাবে স্মরণ করে বাংলা একাডেমি, জাতীয় কবিতা পরিষদ ও শামসুর রাহমান স্মৃতি পরিষদ। আয়োজনের শুরুতেই ‘বিশ্বসাথে যুগে যুগে, যেইখানে তোমার নিবেদন’ রবীন্দ্রসংগীতের সুরে ছিল নৃত্যম নৃত্যগোষ্ঠীর নাচ। নৃত্যশিল্পী তামান্না রহমান নির্দেশিত এ পরিবেশনার পর শুরু হয় কবিকে নিয়ে আলোচনা। শামসুজ্জামান খানের সভাপতিত্বে অলোচনা করেনÑ সাংবাদিক সালেহ আহমেদ, অধ্যাপক কায়সার হক, অধ্যাপক মুহাম্মদ সামাদ। বক্তরা বলেন, শামসুর রাহমান আমাদের কাব্য-রুচি নির্মাণ করেছেন, আধুনিক কাব্য ভাষা নির্মাণ করেছে। তার প্রতিটি লেখায় এক একটি উক্তির মধ্য দিয়ে পূর্ববাংলার রূপবৈচিত্র্যের কথা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন জাতীয় কবিতা পরিষদের সভাপতি কবি হাবীবুল্লাহ সিরাজী। আলোচনা শেষে ছিল সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। শামসুর রাহমানের কবিতা থেকে আবৃত্তি করেন লায়লা আফরোজ, রফিকুল ইসলাম, রেজীনা ওয়ালী লীনা, শাহাদাৎ হোসেন ও মাহিদুল ইসলাম। সংগীত পরিবেশন করেন শিল্পী মহিউজ্জামান চৌধুরী, সুজিত মোস্তফা, সুমা রানী রায়, রাজিয়া মুন্নী ও ঐশিকা নদী।

শ্রেণী:

সুরে ও বাণীর মালায় নজরুল স্মরণ

63

63‘আমি চিরতরে দূরে চলে যাব, তবু আমারে দেব না ভুলিতে’ মনে অপার দুঃখ নিয়ে গেয়েছিলেন কাজী নজরুল। তবে তার লেখা গান সত্যি হয়েছে। তাকে সত্যিই ভোলা যায় না। আমাদের সামাজিক ও জাতীয় জীবন আর অস্তিত্বে মিশে আছেন মহান পুরুষ জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম। গণমানুষের প্রিয় কবি বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৩৮তম মৃত্যুবার্ষিকীও হৃদয়ের উষ্ণতায় তাকে স্মরণ করল পুরো জাতি। নজরুলের অপ্রতিদ্বন্দ্বী বৈচিত্র্যময় বাণী ও রাগ-রাগিণী সমৃদ্ধ সুর-ঐশ্বর্যের সম্মোহন আর অসাম্প্রদায়িক মানবতার বাণী উচ্চারণে মুখর ছিল প্রতিটি অনুষ্ঠান মঞ্চ। সাম্যবাদী ও দ্রোহী চেতনার ধারক বাংলাদেশের জাতীয় কবি নজরুলের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে গত ২৭ আগস্ট বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তার জীবনবোধ শিল্পীরা গানে, কবিতায় ফুটিয়ে তোলেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কাজী নজরুল ইসলামের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানাতে ওইদিন ভোর থেকেই মানুষের ঢল নামে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে কবির সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, সংগঠনসহ সর্বস্তরের হাজারও মানুষ। ভোর থেকে নানা অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ ‘মসজিদুল জামিয়া’তে ফজরের নামাজের পর কোরআনখানি অনুষ্ঠিত হয়। সকালে উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, শিক্ষক সমিতি ও ছাত্রছাত্রীরা কবির সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ, ফাতেহা পাঠ ও ‘নজরুল মঞ্চে’ আলোচনা করেন। কবি পরিবারের পক্ষ থেকে কবির নাতনি খিলখিল কাজীসহ অন্য সদস্যরা পুষ্পস্তবক অর্পণ ও ফাতেহা পাঠ করেন। দিনভর অনুষ্ঠানমালার মধ্যে ছিল গান, নৃত্য পরিবেশনা, আবৃত্তি, নৃত্যনাট্য মঞ্চায়ন, নজরুল বিষয়ক আলোচনা প্রভৃতি।
জাতীয় কবির সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, আওয়ামী লীগের পক্ষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি, দফতর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ প্রমুখ। বিএনপির পক্ষে দলের যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর নেতৃত্বে দলের নেতৃবৃন্দ। কবির সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলা একাডেমি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল, বুলবুল ললিতকলা একাডেমি, নজরুল একাডেমি, নজরুল ইনস্টিটিউট, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট, উদীচী, শিল্পকলা একাডেমি, নজরুল আবৃত্তি পরিষদ, শিশু একাডেমি এবং ছাত্রলীগ, ছাত্রদলসহ বিভিন্ন সংগঠন। নজরুল ইনস্টিটিউট সমাধিতে ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদন, আলোচনা সভা, নজরুল পদক প্রদান, আবৃত্তি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে জাতীয় কবির মহাপ্রয়াণ দিবস উদযাপন করেছে নজরুল ইনস্টিটিউট।
নজরুল চর্চায় বিশেষ অবদানের জন্য খিলখিল কাজীকে ও নজরুল সাহিত্য অনুবাদের জন্য পুরস্কার প্রদান করা হয় ড. নাশিদ কামালকে।

শ্রেণী: