পদ্মাসেতুর নতুন নকশা অনুমোদন

2-6-2019 8-47-17 PM

2-6-2019 8-47-17 PMউত্তরণ প্রতিবেদন: জটিলতা কাটিয়ে বহুল আলোচিত পদ্মাসেতুর ৬ ও ৭ নম্বর পিয়ারের (পিলার) নকশা চূড়ান্ত করা হয়েছে। পিলার দুটির চূড়ান্ত নকশা গত ১৫ জানুয়ারি অনুমোদন পেয়েছে। শিগগির শুরু হবে এ দুই পিলারের নির্মাণকাজ। মূল সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী দেওয়ান আবদুল কাদের সংবাদমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছেন।
নির্মাণাধীন ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ পদ্মাসেতুতে পিলারের সংখ্যা ৪২। দুটি পিলার নদীর দুই প্রান্তে নির্মাণ করা হয়েছে। বাকি ৪০ পিলার নির্মাণ করা হচ্ছে নদীগর্ভে। এর অধিকাংশের নির্মাণকাজ শেষের পথে। কিন্তু ৬ ও ৭ নম্বরসহ কয়েকটি পিলারের নকশা চূড়ান্ত করা যায়নি পানির তলদেশে দুর্বল মাটির স্তরের কারণে। এসব পিলার যেসব স্থানে নির্মাণ করা হবে, সেখানে মাটির তলদেশে কাদার স্তর রয়েছে।
প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, ৬, ৭, ৮, ৯, ১০, ১১, ১২, ২৬, ২৭, ২৯, ৩০, ৩১, ৩২ ও ৩৫ নম্বর পিলারের ক্ষেত্রে এ সমস্যা ছিল। পদ্মাসেতুর নদীগর্ভের এ পিলারগুলো নির্মাণের কথা ছিল ৯৬ থেকে ১২৮ মিটার গভীর পাইলের ওপর। কিন্তু পানির তলদেশে মাটির স্তর দুর্বল হওয়ায় সংশোধন করা ৬ ও ৭ নম্বর পিলারের পাইল নির্মাণের সময় তা দেবে যায়। আটকে যায় ১৪টি পিলারের কাজ।
সংশোধিত নকশা অনুযায়ী, ৬ ও ৭ নম্বরের দেবে যাওয়া পাইলের ওপরই পিলার নির্মাণ করা হবে। তবে বাড়বে একটি পাইল। অন্যান্য পিলার ৬টি পাইলের ওপর নির্মাণ করা হলেও দুর্বল মাটির স্তর রয়েছেÑ এমন স্থানে নির্মাণাধীন ১৪টি পিলারে থাকবে ৭টি করে পাইল।
পদ্মাসেতুর প্রকল্প পরিচালক শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, ‘স্কিন গ্রাফটিং’ পদ্ধতি থাকবে এই ১৪টি পিলারে। পাইলের বাইরের অংশে দেওয়া হবে খাঁজকাটা। ব্রিটিশ পরামর্শক প্রতিষ্ঠান কাউই ইউকে লিমিটেড সংশোধিত নকশা অনুমোদন করেছে। এসব পিলারে খাঁজকাটা পাইল বসিয়ে বিশেষ ধরনের সিমেন্টের মিশ্রণ ব্যবহার করে পানির তলদেশের কাদামাটি শক্ত করা হবে।
পদ্মাসেতুর বিশেষজ্ঞ দলের প্রধান অধ্যাপক ড. জামিলুর রেজা চৌধুরী জানান, সংশোধিত নকশা অনুযায়ী ৬টি পাইলের মাঝে অতিরিক্ত আরেকটি পাইল বসানো হবে। এর মধ্য দিয়ে পদ্মাসেতুতে সব ধরনের কারিগরি জটিলতার অবসান হলো।

শ্রেণী:

গ্রামকে শহরের সুবিধা দিতে ২০ কোটি ডলার দিচ্ছে এডিবি

2-6-2019 8-39-39 PM

2-6-2019 8-39-39 PMউত্তরণ ডেস্ক: দেশের পাঁচ বিভাগের ১৮০ উপজেলার গ্রামীণ অবকাঠামো তথা সড়ক উন্নয়নে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) কাছ থেকে ২০ কোটি ডলারের (১ হাজার ৬০০ কোটি টাকা) ঋণচুক্তি করেছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে ১০ কোটি ডলার সহজশর্তে ও অবশিষ্ট ১০ কোটি ডলার নিয়মিত হারে বাংলাদেশকে ঋণ দেবে এডিবি। ফলে ২০১৭ সালের বন্যায় চলাচলের অযোগ্য হয়ে যাওয়া ২১ জেলার পল্লি এলাকার সড়ক ও জলবায়ু পরিবর্তনে ১৩ জেলার ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক সংস্কারের আওতায় আসছে।
গত ১৩ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব মনোয়ার আহমেদ ও এডিবির পক্ষে সংস্থার ঢাকা আবাসিক মিশনের কান্ট্রি ডিরেক্টর মনমোহন প্রকাশ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। প্রকল্পের বিষয়ে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এলজিইডির সুপারিনটেনডিং ইঞ্জিনিয়ার আলী আকতার হোসেন। তিনি জানান, চুক্তির আওতায় দেওয়া অর্থ সফল ব্যবহারের মাধ্যমে পরবর্তীতে চুক্তি করবে এডিবি।
ইআরডি সচিব মনোয়ার আহমেদ বলেন, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার হচ্ছে গ্রামকে শহর বানানো। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে সেটি পূরণে সহায়ক হবে। সেই সঙ্গে এসডিজি ও সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন এবং কর্মসংস্থান বাড়াতে প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
মনমোহন প্রকাশ বলেন, ২০১৮ সালে বাংলাদেশকে ২ দশমিক ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সহায়তা দিয়েছে, যা বাংলাদেশের এ যাবতকালের সর্বোচ্চ এবং এডিবির সদস্য দেশের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সহায়তা। তিনি বলেন, সড়ক সংস্কার বাংলাদেশের জন্য অন্যতম একটি চ্যালেঞ্জ। সাধারণত সড়ক তৈরি হলেও অন্য প্রকল্পের মাধ্যমে সংস্কার বা ব্যবস্থাপনা করা হয়। কিন্তু এই প্রথমবারের মতো এ প্রকল্পের মাধ্যমে একসঙ্গেই সব কাজ করা হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের ফলে গ্রামীণ কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণ সহজ হবে। আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ঘটবে।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে জানানো হয়, দেশের পাঁচ বিভাগের ৩৪ জেলার মোট ১৮০ উপজেলায় প্রকল্পটি বাস্তবায়নের কাজ হবে। এর ২ হাজার ২১০ কিলোমিটার উপজেলা সড়ক সংস্কার করা হবে। সংস্কারের আওতায় আসবে ৪৯৫ কিলোমিটার ইউনিয়ন সড়ক। বৃক্ষরোপণ করা হবে ২৫০ কিলোমিটার সড়কে। ২০২৩ সালের মধ্যে এর কাজ শেষ করবে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি)।
‘রুরাল কানেক্টিভিটি ইম্প্রুভমেন্ট প্রজেক্ট’-এর মোট প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ৩৬৮ কোটি ৭ লাখ ৩০ হাজার টাকা (২৮৫.৩১ মিলিয়ন ডলার)। এর মধ্যে এডিবি ঋণ হিসেবে দেবে ১ হাজার ৬৬০ কোটি টাকা। ১০ কোটি ডলার সহজ শর্তে (অর্ডিনারি অপারেশন্স লোন-সিওএল), যার সুদের হার ২ শতাংশ। বাকি ১০ কোটি ডলার সহজশর্তে নয়, নিয়মিত (রেগুলার ওসিআর ভিত্তিতে সুদের হার) হিসেবে প্রদান করা হবে। এছাড়া শূন্য দশমিক ১০ শতাংশ হারে ম্যাজরিটি প্রিমিয়াম ও অব্যয়িত অর্থের ওপর শূন্য দশমিক ১৫ হারে কমিটমেন্ট চার্জ ওসিআর ঋণের জন্য প্রযোজ্য হবে। এই ঋণ পাঁচ বছর গ্রেস পিরিয়ডসহ ২৫ বছরে পরিশোধ করতে হবে। গত ৯ অক্টোবর প্রকল্পটি একনেকের সভায় অনুমোদন পায়। উৎপাদনশীল কৃষি এলাকায় উচ্চ আয় সৃষ্টি ও আর্থ-সামাজিক কেন্দ্রে যাতায়াত সুগম করতে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে সংযোগ উন্নয়ন, সড়ক অবকাঠামো, জলবায়ু সহিষ্ণু ও আবহাওয়া উপযোগী করতে প্রকল্পটি হাতে নেওয়া হয়েছে। এর কাজ শেষ হলে ৫ কোটি ১৫ লাখ কৃষিনির্ভর মানুষ সুফল পাবে বলে ধারণা দিয়েছে এডিবি। এ বিষয়ে এডিবির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সারাবছর সড়ক ব্যবহারের সুযোগ পাচ্ছেন বাংলাদেশের মাত্র ৪০ শতাংশ মানুষ। পল্লীর মাত্র ২৮ শতাংশ সড়ক বর্ষায় ব্যবহারের উপযুক্ত থাকে। ইউনিয়ন পর্যায়ের ৮৪ শতাংশ সড়ক এখনও কাঁচা। উপজেলা পর্যায়ে কাঁচা সড়কের হার ৩৩ শতাংশ। যাতায়াত অবকাঠামো ত্রুটিতে উন্নয়নের সুফল থেকে বঞ্চিত গ্রামের মানুষ। ২০২৩ সালের মধ্যে গ্রামের ৮০ শতাংশ সড়ক সারাবছর ব্যবহারযোগ্য করতে চায় সরকার। এ লক্ষ্যে ২০ কোটি ডলার সহায়তা দেবে সংস্থাটি।
কৃষি খাতের উন্নয়নে বাংলাদেশে পল্লী সড়ক বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কৃষি খাতের হাত ধরে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ১৫ শতাংশ এলেও এ খাতে মোট শ্রমশক্তির প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর্মসংস্থান হয়েছে। এডিবির অর্থায়নে প্রকল্পটি সরকারের সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় নেওয়া পল্লী সড়ক উন্নয়নের লক্ষ্য পূরণে সহায়ক হবে। ফলে পল্লী অঞ্চলের মানুষের আয় বাড়বে। অর্থনৈতিক উন্নতিতে কৃষির অবদান বাড়াতে প্রকল্পটি ভূমিকা রাখবে। বাংলাদেশের প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষ এখনও পল্লিতে বাস করেন। তাদের অধিকাংশই কৃষির ওপর নির্ভরশীল। পল্লীর নাজুক পরিবহন ব্যবস্থা, বাজারে অংশ নেওয়ার পর্যাপ্ত সুযোগের অভাব, বন্যা, ঘূর্ণিঝড় আর জলবায়ু পরিবর্তনের মতো কয়েকটি দুর্বলতায় দেশের কৃষি খাত পিছিয়ে আছে।
প্রকল্পের আওতায় ৩৪ জেলা নির্বাচনে ২০১৭ সালের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে এডিবি। জনসংখ্যা, কৃষির সম্ভাবনা, কৃষি ফার্মের সংখ্যা ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে প্রাধান্য দিয়ে প্রকল্পের আওতায় সড়ক নির্বাচন করা হয়েছে। এসব সড়কে বিভিন্ন ট্রাফিক চিহ্ন, পাহারা চৌকি, স্পিড ব্রেকার বানানোর উদ্যোগও থাকবে। কাজ শেষে পাঁচ বছর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের শর্তে সড়ক নির্মাণ করা হবে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে চট্টগ্রাম বিভাগের আট জেলা (ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চাঁদপুর, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, কক্সবাজার, ফেনী, লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালী); ঢাকা বিভাগের পাঁচ জেলা (ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর, রাজবাড়ী ও শরীয়তপুর); খুলনা বিভাগের ছয় জেলা (চুয়াডাঙ্গা, যশোর, ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়া, মাগুরা, মেহেরপুর ও নড়াইল); রাজশাহী বিভাগের ছয় জেলা (বগুড়া, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, জয়পুরহাট, নওগাঁ, নাটোর ও রাজশাহী) এবং রংপুর বিভাগের আট জেলার (রংপুর, দিনাজপুর, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, নীলফামারী, পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁও) মোট ১৮০ উপজেলার গ্রামীণ অবকাঠামোর উন্নয়ন করা হবে।

শ্রেণী:

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও ১৪ দলীয় জোটের বিজয়ী প্রার্থী তালিকা (ছবিসহ)

20 copy

20 copy 22 copy 21 copy 19 copy 18 copy 15 copy 14 copy 13 copy 12 copy 11 copy 23 copy

শ্রেণী:

শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় বিজয় দিবস উদযাপন

PM2

PM2আরিফ সোহেল: ১৬  ডিসেম্বর বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্যদিয়ে সারাদেশে শ্রদ্ধা এবং ভালোবাসায় উদযাপিত হয় মহান বিজয় দিবস। সাড়ে চার দশকের পর এবার মহান বিজয় দিবসটি এসেছে ভিন্ন আবহে। বিজয়ের এই মাসে অনুষ্ঠিত হচ্ছে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-২০১৮।
বিজয়ের ৪৭তম বর্ষে জাতীয় স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে বীর শহিদদের প্রথমে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। এর পরপরই বঙ্গবন্ধু-কন্যা শেখ হাসিনা শহিদদের স্মৃতির প্রতি ফুলেল শ্রদ্ধা জানান। এ-সময় বিউগলে বেজে ওঠে করুণ সুর। এক মিনিট নীরবতা পালন করে শহিদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয়। দলের সভাপতি হিসেবেও নেতা-কর্মীদের নিয়ে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এছাড়া মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, সংসদ সদস্য, তিন বাহিনীর প্রধান, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও কূটনীতিক, সরকারের পদস্থ সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তা ও সরকার-দলীয় নেতারা এ-সময় উপস্থিত ছিলেন। সব ছাপিয়ে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে নেমেছে শহিদদের প্রতি চিরকৃতজ্ঞ জনতার ঢল। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সর্বস্তরের মানুষ নিয়ে রাজধানীসহ সারাদেশের জেলা-উপজেলা পর্যায়ে বিজয়মঞ্চ স্থাপন করা হয়। যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটিতে রাষ্ট্রীয়ভাবে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।
বাঙালি জাতির সবচেয়ে বড় অর্জনের দিন মহান বিজয় দিবস। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর রক্তস্নাত ৯ মাসের যুদ্ধ শেষে জন্ম নেয় স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে মরণপণ লড়াই করে বীর বাঙালি ছিনিয়ে এনেছিল লাল-সবুজের পতাকা।
PMমহান বিজয় দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এক বাণীতে বলেন, লাখো শহিদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতার সুফল জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে দলমত নির্বিশেষে সম্মিলিত প্রচেষ্টার বিকল্প নেই। অনুরূপ বাণীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আসুন, মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে দেশের এই উন্নয়ন ও গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা রক্ষা করি। দেশ ও জাতির কল্যাণে আত্মনিয়োগ করি। ২০১৮ সালের বিজয় দিবসে এটাই হোক আমাদের অঙ্গীকার। প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীকে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন।
মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করে। বিজয় দিবস উপলক্ষে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় আলোকসজ্জার সুশোভিত করা হয়।

শ্রেণী:

বাস্তবায়নের পথে পদ্মাসেতু

11-6-2018 5-47-23 PM

11-6-2018 5-47-23 PMড. ইঞ্জিনিয়ার মাসুদা সিদ্দিক রোজী: মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৯৮ সালে প্রথম পদ্মাসেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেন। শুরুতে বিশ্বব্যাংক পদ্মাসেতু নির্মাণ করতে আগ্রহ দেখায়। ২০১১ সালে এই প্রকল্পের জন্য বিশ্বব্যাংক ১২০ কোটি ডলারের ঋণ চুক্তি স্বাক্ষর করে। পরবর্তীতে ২০১২ সালে জুলাই মাসে দুর্নীতির অভিযোগ এনে এই ঋণ চুক্তি বাতিল করে। এরপর বাংলাদেশ সরকার নিজস্ব অর্থায়নে ও ব্যবস্থাপনায় পদ্মাসেতু নির্মাণের ঘোষণা দেয়। এই সেতুর নির্মাণ ব্যয় ধরা হয় প্রায় ৩০ হাজার ৭৯৩ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। ২০১৪ সালে ৭ ডিসেম্বর পদ্মাসেতুর কাজ শুরু হয়। বিশ্বব্যাংককে এক প্রকার চ্যালেঞ্জ করে ২০১৫ সালের ১২ ডিসেম্বর সেতুর কাজ আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পদ্মাসেতু মূলত দোতলা বিশিষ্ট। এর ওপরে তলায় থাকবে চার-লেনের সড়ক পথ এবং নিচতলায় থাকবে একটি একক রেলপথ। এছাড়া গ্যাস, বিদ্যুৎ ও অপটিক্যাল ফাইবার লাইন পরিবহনের সুবিধা এই সেতুতে রাখা হয়েছে। পদ্মাসেতুর দৈর্ঘ্য ৬.১৫ কিমি এবং প্রস্থ ৯.৪ ফুট। মূল নদীর মধ্যে ১৫০ মিটার পরপর ৪২টি পিলার ৪১টি স্প্যানের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ হবে এই সেতু। ৪২টি পিলার প্রতিটি পিলারে ৬টি করে মোট ২৫২টি পাইল থাকবে। পদ্মা নদীর পানির স্তর থেকে ৫০ ফুট উপরে বসবে প্রতিটি স্প্যান। পদ্মাসেতুর রং হবে সোনালি। তবে রাতে সেতুটি জ্বলবে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার আদলে লাল ও সবুজ বাতি। আমাজনের পর পদ্মা বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গতিসম্পন্ন নদী। তাই পদ্মাসেতুর নির্মাণকাজটি অতিরিক্ত চ্যালেঞ্জের।

এই প্রকল্পের কাজ চার ভাগে ভাগ করা হয়েছেÑ
১. মূল সেতু নির্মাণ;
২. নদী শাসন;
৩. দুই পাড়ের সংযোগ সড়ক নির্মাণ;
৪. টোল প্লাজা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ।
পদ্মায় মূল সেতু নির্মাণের কাজ করছে চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন কোম্পানি এবং নদী শাসনে কাজ করছে আরেকটি প্রতিষ্ঠান। পদ্মাসেতুর দুই প্রান্তে রেললাইন নির্মাণে কানাডিয়ান প্রতিষ্ঠান ক্যানোরেলের নেতৃত্বে একাধিক প্রতিষ্ঠান কাজ করছে। আর পুরো প্রকল্পের কাজ তদারকির দায়িত্বে রয়েছে কোরিয়ান এক্সপ্রেসওয়ে ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। পদ্মাসেতু বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের সাথে দেশের অন্যান্য অঞ্চলে যোগাযোগ নিশ্চিত করবে। মোংলা সমুদ্রবন্দর ও বেনাপোল স্থলবন্দরের সাথে রাজধানী ঢাকা এবং বন্দরনগর চট্টগ্রামের সাথে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপিত হবে। ফলে ব্যবসা-বাণিজ্যের সাথে বাড়বে কর্মসংস্থান। প্রতিবছর মোট দেশজ জিডিপি উৎপাদন বাড়বে ১.২৬ শতাংশ হারে। অনেক বিতর্ক ও বাধা পেরিয়ে সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে ও ব্যবস্থাপনায় পদ্মাসেতু নির্মাণ বিশ্বের সামনে বাংলাদেশের সক্ষমতা তুলে ধরবে।
এই সেতু নির্মাণে অর্থনীতিতে নিয়ে আসবে অত্যন্ত ইতিবাচক পরিবর্তন। বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জিং নির্মাণ প্রকল্প পদ্মাসেতু নির্মাণের মধ্যদিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এটা একটা বড় ধরনের দূরদর্শিতা এবং সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে পদ্মাসেতু এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। নানা প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে এগিয়ে চলেছে পদ্মাসেতু নির্মাণের কাজ। প্রায় ৫৮ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। যে করেই হোক নির্ধারিত সময়ের চেয়ে কিছু সময় বেশি লাগিয়ে হলেও বহুল আলোচিত এই সেতুর কাজ শেষ করতে চায় সরকার।

পদ্মাসেতুর নির্মাণ খরচ বাড়ার কারণÑ
১. রোড সেতুর সাথে রেলসেতু সংযোগ হওয়া;
২. নদী শাসন;
৩. দুই পাড়ের সংযোগ সড়ক নির্মাণ;
৪. ডিজাইনের পরিবর্তন (পাইলের সংখ্যা ও গভীরতা বেড়ে যাওয়া);
৫. নদী শাসন ও সংযোগ সড়ক নির্মাণের জন্য জমি ক্রয়;
৬. সেতু নির্মাণ তলদেশে জটিলতার কারণে ১৪টি পিলার স্থাপন করা যাচ্ছিল না। এ সমস্যা নিরসনে ব্রিটিশ একটি কনসালট্যান্ট নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ডিজাইনের কিছুটা পরিবর্তন করার পর পাইলের সংখ্যা বাড়িয়ে কাজ পুনরায় শুরু করা হয়। সেজন্য কিছু সময় বেশি লেগেছে। সেতুর মূল নকশা অনুযায়ী প্রথমে একতলা সড়ক সেতু করার কথা ছিল আর খরচ ছিল ১০ হাজার কোটি। পরে রেল যোগাযোগের কথা বুঝতে পেরে এটাকে রেল ও সড়ক উভয় বিবেচনায় সমন্বিত নকশা তৈরি করা হয়। একতলা সেতু হয়ে যায় দোতলা। সাথে নদী শাসন, সংযোগ সড়ক, সার্ভিস এরিয়াÑ সব খরচ মিলে সেটি এখন ৩০ হাজার কোটি দাঁড়িয়েছে। শুধু সড়কের সেতু করলে ৭০ থেকে ৮০ টন ওজন নিতে পারবেÑ এ রকম ব্রিজ করলে যথেষ্ট ছিল। যেহেতু রেল যুক্ত করা হয়েছে, তাই একে আরও বেশি ভার বহন করতে হচ্ছে। ফলে পাইলগুলো আরও বেশি গভীরে ঢোকাতে হচ্ছে। লোড নেওয়ার ক্ষমতা বাড়িয়ে ২ হাজার ৪০০ টন করতে হয়েছে।

পদ্মাসেতু নির্মাণের সুবিধাসমূহ
১. দক্ষিণাঞ্চলের জেলাগুলোর সাথে দূরত্ব কমাবে ১০০ থেকে ১৫০ কিমি পর্যন্ত। ফলে সময় বাঁচবে প্রায় ৩-৪ ঘণ্টা।
২. এই সেতুকে কেন্দ্র করে প্রায় ১০ মিলিয়ন/১ কোটি নতুন কর্মসংস্থান হবে। সরাসরি উপকৃত হবে ৩০ মিলিয়ন বা ৩ কোটি মানুষ।
৪. এডিবি’র হিসাব অনুযায়ী জাতীয় ও আঞ্চলিকভাবে বিনিয়োগ অনেক গুণ বাড়বে। শিল্প অবকাঠামো খাতে অভাবনীয় প্রভাব ফেলবে।
৫. ঋরহধহপরধষ ওহপষঁংরড়হ-এর আওতায় আসবে কোটি মানুষ।
৬. যেহেতু পদ্মাসেতুর সাথে পায়রা বন্দরের সংযোগ রয়েছে। তাই রেলে বা সড়কে খুব সহজে দ্রুত ঢাকাসহ সারাদেশে পণ্য সরবরাহ করা যাবে। মানি সার্কুলেশন যত বেশি হয় জিডিপি তত বাড়ে। যখন লেনদেনের গতি বাড়ে তখন সেটির প্রভাব সরাসরি অর্থনীতিতে পড়ে। রেল সংযোগের ফলে পরিবহন খরচ অনেক কমে আসবে।
৭. দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলা সরাসরি যোগাযোগ বরাবরই বিচ্ছিন্ন ছিল। এই সেতুর সাথে সরাসরি বরিশাল জোনে রেল সংযোগ প্রতিস্থাপন হওয়ায় রেলে পণ্য বহন করলে খরচ অনেক কমে যাবে।
বাংলাদেশের দ্বিতীয় দীর্ঘ নদী পদ্মা, দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম অংশকে উত্তর-পূর্ব অংশ থেকে পৃথক করবে এই পদ্মা। এই নদীর ওপর সেতু নির্মিত হলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ১৯ জেলার মানুষের জন্য এক নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে যাবে। সেই সাথে পদ্মাসেতু জাতীয় অর্থনীতিতে নিয়ে আসবে অত্যন্ত ইতিবাচক পরিবর্তন। বাংলাদেশ হয়ে উঠেছে উন্নয়নের রোল মডেল। এই মডেলের রূপকার জননেত্রী শেখ হাসিনা, যার একক সাহসিকতা ও দূরদর্শিতায় আজ আমাদের বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবার একটি স্থান হয়েছে। বিশ্ব আজ বাংলাদেশকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরছে।

শ্রেণী:

বিদ্যুতে ৬০ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ হচ্ছে : দুটি এমওইউ সই

Posted on by 0 comment

উত্তরণ ডেস্ক: বিদ্যুৎ খাতে ৬০ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ হচ্ছে। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি), দেশের বেসরকারি কোম্পানি সামিট পাওয়ার, মার্কিন কোম্পানি জেনারেল ইলেক্ট্রিক (জিই) এবং জাপানের মিৎসুবিসি কর্পোরেশন যৌথভাবে এই বিনিয়োগ করছে। দুটি ভিন্ন প্রকল্পে মহেশখালীতে মোট ৬০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্রের সঙ্গে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানির জন্য স্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে।
গত ১১ জুলাই রাজধানীতে পৃথক দুটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়েছে। দুপুরে রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে সামিট এবং জিই আরের মধ্যে প্রথম এমওইউটি সই হয়। সামিট পাওয়ার জিইর সঙ্গে ২৪০০ মেগাওয়াট এলএনজি-ভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করবে। সামিট এবং জিইর সঙ্গে প্রকল্পটিতে জাপানের মিতসুবিসি কর্পোরেশন অংশীদার হিসেবে থাকছে। দ্বিতীয় এমওইউটি সই হয়েছে একইদিন বিকেলে রাজধানীর বিদ্যুৎ ভবনে। যেখানে জিইর সঙ্গে পিডিবি যৌথভাবে ৩৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করবে।
উভয় এমওইউ সই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানিবিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী বীরবিক্রম। এছাড়া অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎ বিভাগ, পিডিবি, সামিট, জিই এবং মিতসুবিশির পদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

শ্রেণী:

রাজশাহী বরিশালে আওয়ামী লীগের জয়

Posted on by 0 comment
8-6-2018 7-05-49 PM

8-6-2018 7-05-49 PMউত্তরণ প্রতিবেদনঃ গত ৩০ জুলাই তিন সিটি কর্পোরেশনে উৎসবমুখর পরিবেশে শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। রাজশাহী ও বরিশাল সিটি কর্পোরেশনে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন ও সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ এবং সিলেটে বিএনপি প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী। যেসব কেন্দ্রে অভিযোগ পাওয়া গেছে কমিশনের পক্ষ থেকে যেসব কেন্দ্রে ভোট স্থগিত করে দেওয়া হয়েছে। অধিকাংশ ভোটকেন্দ্রে পুরুষের পাশাপাশি নারী ভোটারদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। তিন কর্পোরেশনেই ভোটাররা উৎসবের আমেজে প্রচ- রোদ, কয়েক দফায় গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি উপেক্ষা করে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দিয়েছেন। ভোটগ্রহণ শুরুর আগে থেকেই কেন্দ্রের সামনে জড়ো হতে থাকেন নানা বয়সী মানুষ। লম্বা লাইন দাঁড়িয়ে শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দেন ভোটাররা। কোনো প্রকার চাপ বা গ-গোল ছাড়াই পছন্দের প্রার্থীকে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দিতে পেরে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন ভোটাররা।
রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন (রাসিক) নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মেয়রপ্রার্থী এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন নৌকা প্রতীকে ১ লাখ ৬৬ হাজার ৩৯৪ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। আর বিএনপি প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল পেয়েছেন ৭৮ হাজার ৪৯২ ভোট। বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হওয়ার পর এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, বিজয়ী করে মানুষ যে দায়িত্ব দিয়েছে তা পালনের সর্বাত্মক চেষ্টা করব। এলাকার উন্নয়নে একনিষ্ঠভাবে কাজ করে যাব।
বরিশালে আওয়ামী লীগ প্রার্থী সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ ১০৭টি কেন্দ্রে ১ লাখ ৭ হাজার ৩৫৩ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম বিএনপি প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ার পেয়েছেন ১৩ হাজার ১৩৫ ভোট। এই সিটিতে ১৫টি ভোটকেন্দ্র স্থগিত এবং একটি কেন্দ্রের ভোট বাতিল করা হয়েছে। বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের বিজয়ী মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ বলেছেন, নগরবাসীর উন্নয়নে নিজেকে উৎসর্গ করব। বরিশালকে সুন্দর ও আধুনিক নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া হবে। তবে এ ব্যাপারে সবাইকে সহযোগিতা করতে হবে। চূড়ান্ত ফল ঘোষণায় বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হওয়ার পর এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি এসব কথা বলেন। আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়ন কর্মকা-ের জন্যই জনগণ নৌকায় ভোট দিয়ে আমাকে বিজয়ী করেছেন।
হালনাগাদ ভোটার তালিকা অনুযায়ী এবার সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৪২ হাজার ১৬৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ২১ হাজার ৪৩৬ জন এবং নারী ভোটার ১ লাখ ২০ হাজার ৭৩০ জন। এই সিটি কর্পোরেশনের চতুর্থ নির্বাচনে মেয়র পদে ৬ জন, সাধারণ ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে ৯৪ জন এবং সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে ৩৫ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র ১২৩টি এবং ভোটকক্ষের সংখ্যা ৭৫০। এর মধ্যে ১১টি কেন্দ্রে ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট গ্রহণ করা হবে। এই নির্বাচনে ২০৩ জন স্থানীয় ও তিনজন বিদেশি পর্যবেক্ষক নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করেন।
সিলেটে ঘোষিত বেসরকারি ফলাফলে ১৩৪ ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১৩২ কেন্দ্রে আরিফুল হক চৌধুরী পেয়েছেন ৯০ হাজার ৪৯৬ ভোট। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী বদরউদ্দিন আহমদ কামরান (নৌকা) পেয়েছেন ৮৫ হাজার ৮৭০ ভোট। আরিফুল ৪ হাজার ৬২৬ ভোটে এগিয়ে রয়েছেন।
অন্য দুটি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ স্থগিত রয়েছে। স্থগিত কেন্দ্র দুটিতে মোট ভোট ৪ হাজার ৭৮৭।
ফলে স্থগিত দুই কেন্দ্রের পুনর্নির্বাচনের পর চূড়ান্ত ফল পাওয়া যাবে। তবে ওই দুই কেন্দ্রে শতভাগ ভোট পড়লে মাত্র ১৬২ ভোট পেলেই জয় নিশ্চিত হবে আরিফুল হক চৌধুরীর। দুই প্রধান প্রার্থীর ভোটের ব্যবধান স্থগিত দুটি কেন্দ্রের ভোটের চেয়ে কম হওয়ায় সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে ফল ঘোষণা করা হয়নি। ভোটের দিন বিকেল ৪টায় ভোট গ্রহণ শেষ হওয়ার পর বিএনপির প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী হতাশার সুরে নতুন করে নির্বাচন আয়োজনের দাবি তোলেন। দিনভর কারচুপির অভিযোগ করলেও বিএনপি প্রার্থী আরিফুল হক ভোট বর্জন করেন। ফলাফল ঘোষণার শুরু থেকেই চমক দেখা যায়। সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে যে দুটি কেন্দ্রে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) গ্রহণ করা হয়েছে, তাতে এগিয়ে যান আরিফুল হক চৌধুরী। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মেয়র প্রার্থী ডা. মোয়াজ্জেম হোসেন খান ও সিপিবি-বাসদের মেয়র প্রার্থী ছিলেন আবু জাফর।

শ্রেণী:

মহাকাশে বাংলাদেশ

Posted on by 0 comment
6-5-2018 5-42-46 PM

6-5-2018 5-42-46 PMউত্তরণ প্রতিবেদন: ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১’ উৎক্ষেপণের মধ্য দিয়ে বিশ্বের ৫৭তম দেশ হিসেবে স্যাটেলাইট যুগে প্রবেশ করেছে বাংলাদেশ। ডিজিটাল বাংলাদেশের রূপকার, বাঙালির বিশ্বজয়ের স্বপ্ন-সারথি, সফল রাষ্ট্রনায়ক দেশরতœ জননেত্রী শেখ হাসিনার সুযোগ্য নেতৃত্বে অর্জিত সাফল্যের মুকুটে যুক্ত হয়েছে নতুন পালক। নিজস্ব স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণে বাংলাদেশের সামনে উন্মোচিত হয়েছে অপার সম্ভাবনার স্বর্ণ-দুয়ার। বিশ্বসভায় আত্মমর্যাদাশীল রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বাংলাদেশ। সমৃদ্ধ বাংলাদেশের অভিযাত্রায় ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১’ এক ঐতিহাসিক মাইলফলক। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৫ সালের ১৪ জুন বেতবুনিয়ায় দেশের প্রথম ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র উদ্বোধনের মাধ্যমে যে স্বপ্নের বীজ বপন করেছিলেন আজ তার পথ ধরেই বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এবং বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের সার্বক্ষণিক তত্ত্বাবধান এবং দিক-নির্দেশনায় নিজস্ব স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের মধ্য দিয়ে মহাকাশে স্থান করে নিয়েছে বাংলাদেশ। অনন্য সাধারণ এই সাফল্য বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামকে এগিয়ে নেওয়ার উজ্জ্বল সোপান।

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১  
বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ এর ডিজাইন এবং নির্মাণ করেছে ফ্রান্সের কোম্পানি থ্যালাস অ্যালেনিয়া স্পেস। আর যে রকেটের মাধ্যমে এটিকে মহাকাশে পাঠানো হয়েছে তা বানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশে বহনকারী রকেটের নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ‘স্পেস এক্সপ্লোরেশন টেকনোলজিস করপোরেশন (স্পেস-এক্স)’।
বাংলাদেশ সময় ১১ মে ২০১৮, শুক্রবার দিবাগত রাত ২টা ১৪ মিনিটে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার মহাকাশ কেন্দ্র ‘স্পেস-এক্স’ থেকে ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১’ বহনকারী রকেটটি সফলভাবে উৎক্ষেপণ করা হয়। এর মধ্য দিয়ে বিশ্বের ৫৭তম দেশ হিসেবে নিজস্ব স্যাটেলাইটের মালিকানা অর্জন করেছে লাল-সবুজের বাংলাদেশ। জননেত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নের ছোঁয়া লেগেছে জল-স্থল-পাতাল-অন্তরিক্ষে।
‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ (বিএস-১)’ কৃত্রিম উপগ্রহটি একটি জিওস্টেশনারি স্যাটেলাইট। এটি ১১৯ দশমিক ১ পূর্ব দ্রাঘিমাংশে অবস্থিত। ৩ হাজার ৫০০ কেজি ওজনের এই স্যাটেলাইটে রয়েছে ৪০টি ট্রান্সপন্ডার। স্যাটেলাইটটির ৪০টি ট্রান্সপন্ডার ক্যাপাসিটি থাকবে। এর মধ্যে ২০টি ট্রান্সপন্ডার বাংলাদেশের ব্যবহারের জন্য রাখা হবে। বাকিগুলো বাণিজ্যিকভিত্তিতে ভাড়া দেওয়া হবে। প্রতিটি ট্রান্সপন্ডার থেকে ৪০ মেগাহার্টজ হারে তরঙ্গ-বরাদ্দ (ফ্রিকোয়েন্সি) সরবরাহ পাওয়া সম্ভব। এ হিসাবে ৪০টি ট্রান্সপন্ডারের মোট ফ্রিকোয়েন্সি ক্ষমতা হলো ১ হাজার ৬০০ মেগাহার্টজ।
বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণে প্রথমবারের মতো ব্যবহার করা হয় ফ্যালকন-৯ রকেটের সর্বাধুনিক সংস্করণের ব্লুস্টার ব্লক-৫। মহাকাশে নির্দিষ্ট কক্ষপথে যেতে ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১’কে ৩৬ হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হয়েছে। উৎক্ষেপণের পর নির্দিষ্ট উচ্চতায় পৌঁছে রকেটের স্টেজ-১ খুলে যায়। এ সময় চালু হয় স্টেজ-২-এর ইঞ্জিন। স্টেজ-১ ফিরে আসে আটলান্টিকে ভাসমান ড্রোন শিপে। আর স্টেজ-২ স্যাটেলাইটকে নিয়ে যায় নির্দিষ্ট কক্ষপথের দিকে।
স্যাটেলাইটটি কার্যকর হওয়ার পর এর নিয়ন্ত্রণ যাবে যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি এবং কোরিয়ায় অবস্থিত ৩টি গ্রাউন্ড স্টেশনে। এই ৩টি স্টেশনের মাধ্যমে স্যাটেলাইটটির নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ফ্রান্সের থ্যালেস অ্যালেনিয়া স্পেস এটি পর্যবেক্ষণ করবে। প্রথম তিন বছর থ্যালাস অ্যালেনিয়ার সহায়তায় স্যাটেলাইটটি নিয়ন্ত্রণ করবে বাংলাদেশ। এরপর পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ নেবে বাংলাদেশ। এজন্য মহাকাশে কার্যকর হওয়ার পর বাংলাদেশ থেকে স্যাটেলাইটটি নিয়ন্ত্রণের জন্য দুটি গ্রাউন্ড স্টেশন নির্মাণ করা হয়েছে। যার মধ্যে জয়দেবপুরের গ্রাউন্ড স্টেশনটি স্যাটেলাইটটি নিয়ন্ত্রণের মূল কেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে আর বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা হবে রাঙ্গামাটির বেতবুনিয়া গ্রাউন্ড স্টেশন। উৎক্ষেপণের নির্দিষ্ট সময় পর  গ্রাউন্ড স্টেশনে সংকেত পাঠানো শুরু করে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১। ইতোমধ্যে উৎক্ষেপণের প্রথম ধাপ ‘লঞ্চ অ্যান্ড আরলি অরবিট ফেইজ (এলইওপি)’ সফলতার সাথে শেষ করে কক্ষপথে নিজের অবস্থানে পৌঁছেছে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১।

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ নিশ্চিত করবে যেসব সেবা   
বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ এর ন্যূনতম আয়ুষ্কাল ১৫ বছর। স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ পরবর্তী সময় ট্রান্সপন্ডার ভাড়া দেওয়া, বিপণন পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণে গঠন করা হয়েছে বাংলাদেশ কমিউনিকেশন্স স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেড (বিসিএসসিএল)। ইতোমধ্যে গ্রাউন্ড স্টেশন পরিচালনার জন্য ১৮ বাংলাদেশি তরুণকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে নির্মাতা প্রতিষ্ঠান থ্যালেস। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১-এর মাধ্যমে বাংলাদেশ ছাড়াও ভুটান, নেপাল, কিরগিজস্তান ও তাজিকিস্তানের মতো এশিয়ার বেশ কয়েকটি দেশে উন্নত কমিউনিকেশন্স এবং ব্রডকাস্টিং সার্ভিস দেওয়া যাবে।
টিভি চ্যানেলগুলোর স্যাটেলাইট সেবা নিশ্চিত করাই বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের প্রধান কাজ। এর সাহায্যে ডিটিএইচ (ডিরেক্ট টু হোম ডিশ সার্ভিস), ঝঅঞ, ব্রন্ডব্যান্ড ইন্টারনেট ইত্যাদি সেবার মাধ্যমে ব্যাপক বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা সম্ভব হবে। এছাড়া যেসব জায়গায় অপটিক ক্যাবল বা সাবমেরিন ক্যাবল পৌঁছায় নি সেসব জায়গায় নিশ্চিত করা যাবে ইন্টারনেট সংযোগ। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের মাধ্যমে টেলিযোগাযোগ ও সম্প্রচার সেবার পাশাপাশি টেলিমেডিসিন, ই-অ্যাডুকেশন এবং প্রতিরক্ষা ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সেক্টরে ব্যাপক উন্নয়ন সম্ভব হবে।
বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট ব্যবহারে একদিকে যেমন তথ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করবে, অন্যদিকে কমবে আমাদের পরনির্ভরশীলতা। দেশের টেলিভিশন চ্যানেলগুলোকে বিদেশি স্যাটেলাইট কোম্পানিকে আর বছরে বিপুল পরিমাণ অর্থ দিয়ে সম্প্রচার কার্যক্রম চালাতে হবে না; বরং আরও সাশ্রয়ী মূল্যে নিজ দেশের স্যাটেলাইট ব্যবহার করতে পারবে। সাশ্রয় হবে বছরে প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ মার্কিন ডলার। অন্যদিকে পার্শ্ববর্তী দেশসমূহে স্যাটেলাইটের অব্যবহৃত তরঙ্গ বিক্রি করে বৈদেশিক মুদ্রা আয় সম্ভব হবে। স্যাটেলাইট টেকনোলজি সেবার মান প্রসারের মাধ্যমে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং টেলিযোগাযোগ ও সম্প্রচার সেবার মান বৃদ্ধি পাবে।
বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের সামনে আজ মহাকাশ গবেষণার যে উন্মুক্ত সম্ভাবনার দুয়ার উন্মোচিত হয়েছে এবং একটি বিজ্ঞানমনস্ক দক্ষ জাতি গঠনে নতুন প্রজন্মের মাঝে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ যে স্বপ্নের সিঁড়ি সাজিয়েছে তা হিসাবের খাতায় মেলানো অসম্ভব।

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণের ইতিকথা
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুদূরপ্রসারী চিন্তার কারণে ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক টেলিকমিউনিকেশনস ইউনিয়নের (আইটিইউ) সদস্যপদ লাভ করে। ১৯৭৫ সালের ১৪ জুন বেতবুনিয়া ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র উদ্বোধনের মাধ্যমে তিনি বহির্বিশ্বের সঙ্গে বাংলাদেশের উন্নত টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থার সূচনা করেন। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ এর উৎক্ষেপণের মাধ্যমে জাতির পিতার সেই যাত্রাকে অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছেন বঙ্গবন্ধুর স্বার্থক উত্তরসূরি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহার ‘দিনবদলের সনদ, রূপকল্প-২০২১’-এর প্রধান সেøাগান ছিল ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’। ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন নিয়ে ২০০৮-এর নির্বাচনে বিজয় লাভ করে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। ডিজিটাল বাংলাদেশ আজ শুধু কথার কথা নয়, দৃশ্যমান বাস্তবতা। বাংলাদেশে আজ প্রতিটি ক্ষেত্রেই ডিজিটাল বিপ্লব ঘটেছে। প্রত্যন্ত গ্রাম পর্যন্ত ইন্টারনেট সেবা বিস্তৃত হয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ এবং ব্যবসার সুযোগ বৃদ্ধির জন্য বিভাগীয় শহরগুলোতে হাইটেক পার্ক নির্মাণ করা হচ্ছে। তথ্যপ্রযুক্তিতে ফ্রিল্যান্স পেশায় বিশ্বে বাংলাদেশের  অবস্থান এখন তৃতীয়। ২০২১ সালের মধ্যে ২০ লাখ তরুণ-তরুণী তথ্যপ্রযুক্তি পেশার সঙ্গে সম্পৃক্ত করার জন্য বহুমাত্রিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। সহজ ও সুলভ মূল্যে ইন্টারনেট সেবা পাওয়ার জন্য দুটি সাবমেরিন ক্যাবলের সঙ্গে বাংলাদেশ সংযুক্ত হয়েছে। নির্মাণ করা হয়েছে আন্তর্জাতিকমানের তথ্য ভা-ার। ইতোমধ্যে বাংলাদেশে ‘ফোর-জি’ সেবা চালু হয়েছে। যার ধারাবাহিকতায় তথ্যপ্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে স্যাটেলাইট বা উপগ্রহ। ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের আরেকটি উজ্জ্বল স্মারক ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১’।
আওয়ামী লীগের সরকার ক্ষমতায় আসার পর মহাকাশে স্যাটেলাইট প্রেরণের জন্য ২০০৯ সালের মে মাসে বিটিআরসি’র একজন কমিশনারকে আহ্বায়ক করে কমিটি গঠন করা হয়। ২০১০ সালে প্রকল্পের জন্য পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়। ২০১৩ সালের ৩১ মার্চ পরামর্শক প্রতিষ্ঠান হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের স্পেস পার্টনারশিপ ইন্টারন্যাশনালের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। পরামর্শক প্রতিষ্ঠান সম্প্রচারধর্মী একটি স্যাটেলাইট নির্মাণে প্রকল্প রূপরেখা তৈরির পর ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে একনেক সভায় ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ প্রকল্প’ শীর্ষক কার্যক্রমের অনুমোদন হয়। এরপর মহাকাশে অরবিটাল সøটের জন্য আন্তর্জাতিক টেলিকমিউনিকেশন্স ইউনিয়নে (আইটিইউ) আবেদন করা হয়। ধারাবাহিকভাবে চলে একের পর এক কার্যক্রম। অনুমোদন পর্যায়ে দেশের প্রথম স্যাটেলাইটের নাম রাখা হয় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে। প্রকল্পটি পরিচিতি পায় ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১’ নামে। প্রকল্প অনুমোদনের পর শুরু হয় মহাকাশে কক্ষপথ বরাদ্দ পাওয়ার জোর প্রচেষ্টা।
২০১৫ সালের ১৫ জানুয়ারি রাশিয়ার প্রতিষ্ঠান ইন্টার স্পুটনিকের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা (বিটিআরসি)। এরপরই শুরু হয় ‘কমিউনিকেশন এবং ব্রডকাস্টিং’ ক্যাটাগরিতে এ স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের জন্য মূল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিয়োগ প্রক্রিয়া। এ সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক দরপত্রে অংশ নেয় ফ্রান্সের থ্যালেস অ্যালেনিয়া স্পেস, চীনের গ্রেটওয়াল করপোরেশন, কানাডার এমডিএ এবং যুক্তরাষ্ট্রের অরবিটাল কেটিএ। সার্বিক মূল্যায়নে চূড়ান্ত করা হয় ফ্রান্সের থ্যালেস অ্যালেনিয়া স্পেসকে। ২০১৬ সালের ৭ অক্টোবর বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণে যুক্তরাষ্ট্রের স্পেস-এক্সের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এর মাধ্যমেই কার্যত স্যাটেলাইট নির্মাণ ও উৎক্ষেপণের উদ্দেশ্যে প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু হয়। এই স্যাটেলাইট নির্মাণে ব্যয় হয়েছে প্রায় ২ হাজার ৯৬৭ কোটি ৯৬ লাখ টাকা। নির্মাণে সময় লেগেছে প্রায় দুই বছর।

শ্রেণী:

সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী

Posted on by 0 comment
4-5-2018 7-25-46 PM

4-5-2018 7-25-46 PMমুফরাত রাহিন: ‘আঘাত করতে চাই এই ঘুণে ধরা সমাজব্যবস্থাকে। গ্রামে গ্রামে বহুমুখী কো-অপারেটিভ করা হবে। পাঁচ বছরের প্ল্যানে বাংলাদেশের ৬৫ হাজার গ্রামের প্রত্যেকটিতে বহুমুখী কো-অপারেটিভ করা হবে। বেকার অথচ কর্মক্ষম প্রত্যেকটি ব্যক্তিকে কো-অপারেটিভের সদস্য করা হবে। প্রতিটি মহকুমাকে জেলায় রূপান্তর করা হবে। নতুন জেলায় একটি করে প্রশাসনিক কাউন্সিল থাকবে। এর মধ্যে জনসাধারণের প্রতিনিধিত্ব থাকবে।’Ñ ১৯৭৫ সালের ২৬ মার্চ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে দৃপ্তকণ্ঠে এবং পরিষ্কারভাবে ঘোষণা করেছেন বঙ্গবন্ধু। সবচেয়ে বড় বিষয়, ’৭৪-’৭৫ সালের যে অর্থনীতি সেখানকার হিসাবে দেখা যায়, সামষ্টিক আয়ের প্রবৃদ্ধি ছিল সাড়ে ৬ থেকে ৭ শতাংশের মধ্যে। যেটা আমরা এতদিন পরে অর্জন করতে পারলাম ২০১৫-১৬ অর্থবছরে।
আজকের বাংলাদেশের বিশ্বের নজরকাড়া অর্থনৈতিক অগ্রগতি আর হৃদয়ে আশা জাগানিয়া অসামান্য সামাজিক অগ্রগতি জাতির পিতা সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি শেখ মুজিবের প্রদর্শিত পথে তারই সুযোগ্য কন্যা দূরদৃষ্টিসম্পন্ন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সংঘটিত হচ্ছে।
অভিভাবক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলার গরিব-দুঃখী মানুষদের উন্নয়ন এবং কল্যাণে শক্তিশালী ও যুগোপযোগী সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী প্রণয়ন করেছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সিদ্ধান্ত এবং নির্দেশে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর প্রকল্পগুলো হলো নিম্নরূপÑ
দারিদ্র্য বিমোচন কৌশলপত্র (পিআরএসপি) ১৮টি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি চিহ্নিত করেছে। এসব কর্মসূচি নগদ অর্থ সহায়তা বা অন্য কোনো সহায়তার সাথে যুক্ত। এ কর্মসূচিগুলো হলোÑ
* বয়স্ক ভাতা : সরকারি তথ্য অনুযায়ী মোট জনসংখ্যার ৭ শতাংশ লোক বয়স্ক হিসেবে চিহ্নিত। এর ২০ শতাংশ লোক এ বেষ্টনীর আওতাভুক্ত।
* বিধবা ও দুস্থ মহিলা ভাতা : মোট ৭ লাখ উপকারভোগী এর আওতাভুক্ত।
* দৈহিক অক্ষমতাসম্পন্ন দুস্থ ভাতা : এ বেষ্টনীর আকার সীমিত। প্রায় ২ লাখ লোক এর উপকারভোগী।
* দরিদ্র মাতাদের ভাতা : অন্যান্য বেষ্টনীর মতো এ বেষ্টনীর পরিধি সীমিত হওয়া সত্ত্বেও এ কর্মসূচিটি পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়িত হচ্ছে। ২০০৭-০৮ অর্থবছরে চালু করা এ বেষ্টনীর আওতায় মোট ৩ হাজার ইউনিয়ন রয়েছে। এতে ইউনিয়ন প্রতি উপকারভোগী হবে ১৫ জন।
* যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ভাতা : মুক্তিযুদ্ধে আহত ব্যক্তিদের এই ভাতা প্রদান করা হয়। প্রায় ১০ হাজার উপকারভোগী এ বেষ্টনীর আওতাভুক্ত।
* অনাথ আশ্রম কর্মসূচি : এ কর্মসূচি দুটি ধারায় কাজ করছে। প্রথমটি হলো সরকার কর্তৃক পরিচালিত শিশু পরিবার আশ্রম এবং দ্বিতীয়টি বেসরকারি অনাথ আশ্রম। প্রথমটির আওতায় প্রায় ১০ হাজার অনাথ শিশু সুবিধা ভোগ করে। দ্বিতীয়টির সুবিধাভোগীদের সংখ্যা প্রায় ৪৫,০০০।
* জ্বালানি তেলের ভর্তুকি : ডিজেলের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রান্তিক চাষিদের জন্য ভর্ভুকি দিয়ে সেচ কাজ পরিচালনার নিমিত্তে এই সুবিধা দেওয়া হয়। ২০০৭-০৮ অর্থবছরে সর্বমোট ভর্তুকি বরাদ্দ ছিল ৭৫০ কোটি টাকা।
* প্রাথমিক স্কুলের ছাত্রদের ভাতা : এ কর্মসূচির আওতায় সারাদেশে প্রায় ৫৫ লাখ ছাত্রকে সাহায্য দেওয়া হবে। ২০০৭-০৮ অর্থবছরে এর জন্য বরাদ্দ ছিল ৫০০ কোটি টাকা।
* ঝরেপড়া ছাত্র ভাতা : স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে এমন ছাত্রদের প্রদেয় ভাতায় প্রাথমিক স্কুলের প্রায় ৫ লাখ ছাত্র আওতাভুক্ত হয়েছে। ২০০৭-০৮ অর্থবছরে এর জন্য ৫৮৯ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়।
* ছাত্রী ভাতা : এ কর্মসূচির আওতায় ৩০ লাখ সুবিধাভোগী রয়েছে। ২০০৭-০৮ অর্থবছরে এর জন্য বরাদ্দ ছিল ২,৩২৪ কোটি টাকা।
* প্রতিবন্ধী ছাত্র ভাতা : সব পর্যায়ের প্রতিবন্ধী ছাত্রছাত্রী এ কর্মসূচির আওতাভুক্ত। ভাতার পরিমাণ পর্যায়ভিত্তিক কম-বেশি। ২০০৭-০৮ অর্থবছরে এর জন্য বরাদ্দ ছিল ৫ কোটি টাকা।
* পোশাক শিল্প শ্রমিকদের প্রশিক্ষণ ও সহায়তা তহবিল : এ কর্মসূচিটি ২০০৭-০৮ অর্থবছরে চালু করা হয়। বরাদ্দ ছিল ২০ কোটি টাকা।
* সাময়িক বেকারত্ব দূরীকরণ কর্মসূচি : এ কর্মসূচির আওতায় ২০০৭-০৮ অর্থবছরে ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ ছিল। দেশের উত্তরাঞ্চলের ৫টি জেলায় এ ধরনের বেকারত্ব প্রকট। বেকার ব্যক্তিদের সহায়তার জন্য এ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছিল। সাময়িক এ বেকারত্ব সমস্যাটি ‘মঙ্গা’ বলে পরিচিত।
* হতদরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য কর্মস্থান কর্মসূচি : ২০০৭-০৮ অর্থবছরে এক মাসের জন্য এ কর্মসূচিটি চালু হয়। মোট বরাদ্দ ছিল ১০০ কোটি টাকা। ওই বছরেই এ কর্মসূচিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া হয়। মোট বরাদ্দ ছিল ২০০০ কোটি টাকা। কর্মসূচির প্রথম পর্যায় বাস্তবায়িত হয়েছে এবং তা স্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
* প্রাকৃতিক দুর্যোগজনিত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তহবিল কর্মসূচি : এ কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য ২০০৭-০৮ অর্থবছরে ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়। উদ্দেশ্য ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা যাতে কর্মহীনতা ও মজুরি হ্রাসজনিত বিপদ মোকাবেলা করতে সক্ষম হয়।
* গ্রামীণ মাতৃকেন্দ্র (আরএমপি) কর্মসূচি : এ কর্মসূচির আওতায় গ্রামীণ দুস্থ মা’দের সুদমুক্ত ক্ষুদ্রঋণ প্রদান করা হয়। ৩১৮টি উপজেলায় সুবিধাভোগীর সংখ্যা ১২,৯৬৫। সুবিধাভোগীদের প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরিচর্যা, জন্মনিয়ন্ত্রণ ও অনানুষ্ঠানিক শিক্ষার জন্য প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়।
* মাতৃস্বাস্থ্য ভাউচার কর্মসূচি : স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। এর আওতায় গ্রামীণ দরিদ্র ও গর্ভবতী মহিলাদের নগদ অর্থ সহায়তা দেওয়া হয়। ২০০৭-০৮ অর্থবছরে এর জন্য বরাদ্দ ছিল ১২৬ কোটি টাকা।
* কমিউনিটি পুষ্টি কর্মসূচি : এ কর্মসূচির উদ্দেশ্য হলো গ্রামের দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে পুষ্টিহীনতা থেকে রক্ষা করা। ২০০৭-০৮ অর্থবছরে এর জন্য বরাদ্দ ছিল ১৫৮ কোটি টাকা। মোট ৩৪টি জেলার ১০৫টি উপজেলায় এ কর্মসূচি বাস্তবায়িত হচ্ছে।
* খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি : প্রধানত দুই ধরনেরÑ ১. সনাতনী টেস্ট রিলিফ এবং ২. কাজের বিনিময়ে খাদ্য (কাবিখা)। কাবিখা কর্মসূচির মধ্যে দুই প্রকার কার্যক্রম রয়েছে। একটি হলো ভালনারেবল গ্রুপ ফিডিং (ভিজিএফ)। এর আওতায় হতদরিদ্রদের বিনামূল্যে খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হয়। অন্যটি হলো ভালনারেবল গ্রুপ ডেভেলপমেন্ট (ভিজিডি)। এর আওতায় দল গঠন, প্রশিক্ষণ, দক্ষতা বৃদ্ধি ও সঞ্চয় কার্যক্রমও রয়েছে।
বিভিন্ন ধরনের নগদ অর্থ ও খাদ্য সহায়তা কর্মসূচির আওতায় ২০০৮-০৯ অর্থবছরে প্রায় ৮.৫ মিলিয়ন দরিদ্র পরিবার বা ৪২.৫ মিলিয়ন ব্যক্তি উপকৃত হয়েছিল। টেস্ট রিলিফ বা কাবিখার উপকারভোগীরা এর অন্তর্ভুক্ত নয়। সরকারি তথ্য অনুযায়ী এ দুই কর্মসূচির আওতায় ৯.৩ মিলিয়ন সুবিধাভোগী ছিল। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০০৮-০৯ অর্থবছরে ভিজিএফ-এ সবচেয়ে বেশি (২৮ শতাংশ) উপকারভোগী ছিল। এর পরেই নগদ অর্থ সহায়তা ছিল ৯.৯ শতাংশ এবং ভিজিডি ছিল ৩.৭ শতাংশ। অন্যান্য কর্মসূচির উপকারভোগীর সংখ্যা ছিল ১ শতাংশেরও কম।
* সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনী কর্মসূচির ভাতার পরিমাণ ও উপকারভোগীর সংখ্যা দুটিই বাড়ানো হয়েছে ২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে। এর মধ্যে কয়েকটি খাতে ভাতার পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা ও কল্যাণে ২৪ হাজার ৪৮৯ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে, যা উন্নয়ন ও অনুন্নয়ন বাজেটের ৬ শতাংশ।
* অর্থবছর ২০১৬-১৭ সালে এই খাতে বরাদ্দ ছিল ১৯ হাজার ২৯১ কোটি টাকা, যা উন্নয়ন ও অনুন্নয়ন বাজেটের ৫.২ শতাংশ। এর আগে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে এ খাতে বরাদ্দ ছিল ১৭ হাজার ৮০ কোটি টাকা।
* সামাজিক নিরাপত্তা খাতে এ বরাদ্দ রেখে জাতীয় সংসদে বাজেটে বলা হয়, ‘দারিদ্র্য ও পশ্চাৎপদ জনগোষ্ঠীর কল্যাণে আমরা বয়স্ক ভাতা, মাতৃত্বকালীন ভাতা, বিধবা-স্বামী নিগৃহীত-দুস্থ মহিলা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা, শিক্ষা উপবৃত্তি ভাতা, প্রতিবন্ধী শিক্ষা উপবৃত্তি, একটি বাড়ি একটি খামার, আশ্রয়ণ প্রকল্প, কাজের বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচি, টিআর, জিআর, চর জীবিকায়নসহ উল্লেখযোগ্যসংখ্যক সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে, যা আগামীতেও অব্যাহত থাকবে। বাজেটে বয়স্ক ভাতাপ্রাপ্তরা জনপ্রতি মাসিক ৫০০ টাকার পরিবর্তে ৬০০ টাকা করে পাবে। একই সঙ্গে উপকারভোগীর সংখ্যা বর্তমানে ৩১ লাখ ৫০ হাজার থেকে ৩৫ লাখে উন্নীত করা হচ্ছে।
এছাড়াও বিধবা ও স্বামী নিগৃহীত নারীদের ভাতা ৫০০ টাকার পরিবর্তে ৬০০ টাকা করা হচ্ছে। আর এই উপকারভোগীর সংখ্যা ১১ লাখ ৫০ হাজার থেকে ১০ শতাংশ বাড়িয়ে ১২ লাখ ৬৫ হাজার করা হচ্ছে।
* একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের গৃহীত সমবায় সমিতিভিত্তিক একটি দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক পরিকল্পনা। এই প্রকল্পটির আওতায় গ্রামের দরিদ্র পরিবারগুলোকে অর্থনৈতিক ইউনিট হিসেবে তৈরি করার মাধ্যমে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন ঘটানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
২০২০ সালের মধ্যে দেশে দারিদ্র্যতার হার ১০ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্যে এই প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়েছে। সমন্বিত গ্রাম উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রতিটি বাড়িকে অর্থনৈতিক কার্যাবলির কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে গড়ে তোলার প্রয়াসে ‘একটি বাড়ি একটি খামার’ প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ প্রকল্পটি ৬৪ জেলার ৪৯০ উপজেলার ৪ হাজার ৫০৩টি ইউনিয়নের ৪০ হাজার ৯৫০টি গ্রামে বাস্তবায়িত হচ্ছে।
বর্তমানে অসচ্ছল প্রতিবন্ধীরা ৭০০ টাকা করে মাসিক ভাতা পাচ্ছে। উপকারভোগীর সংখ্যা সাড়ে ৭ লাখ থেকে বাড়িয়ে করা হয়েছে ৮ লাখ ২৫ হাজার। হিজড়া জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন কার্যক্রমের অধীনে বিভিন্ন স্তরে প্রদেয় বিশেষ ভাতা/বয়স্ক ভাতা ৭০০ টাকা করা হয়েছে। উপকারভোগীর সংখ্যা ৬ হাজার ৯৭০ জন থেকে বাড়িয়ে করা হয়েছে ৭ হাজার ৫৫০ জন।
* বেদে ও অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন কার্যক্রমের অধীনে উপকারভোগীরা মাসে ৬০০ টাকা করে ভাতা পায়। আগামী অর্থবছর থেকে তারা ৭০০ টাকা করে ভাতা পাবে। এ জন্য সরকার এ খাতে বরাদ্দ দেয় ২০ কোটি ৬৮ লাখ টাকা।
* প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষা উপবৃত্তির হার প্রাথমিক স্তরে ৪০০ টাকা, মাধ্যমিক স্তরে ৬০০ টাকা, উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে ৭০০ টাকা এবং উচ্চতর স্তরে ১ হাজার ২০০ টাকা রাখা হয়েছে। উপকারভোগীর সংখ্যা প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে ১০ হাজার এবং ৮০ হাজার করা হয়েছে।
* চা-শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নেও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ খাতে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে চা-শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন কর্মসূচির অধীনে ১৫ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।
* মৌলিক চাহিদার ব্যয়ভিত্তিক দরিদ্র জনসংখ্যার মধ্যে ৪০ শতাংশ জনগোষ্ঠী বিভিন্ন কর্মসূচির আওতাভুক্ত। [তথ্যসূত্র : বাংলাপিডিয়া এবং উইকিপিডিয়া]
সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী রাষ্ট্র কর্তৃক দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীকে আর্থিক বা অন্য কোনো সহায়তা প্রদানের ব্যবস্থা। সম্পদের অপ্রতুলতার কারণে উন্নত দেশের তুলনায় অনুন্নত বা উন্নয়নশীল দেশে এ ধরনের ব্যবস্থা অপেক্ষাকৃত কম। তবুও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাহসী এবং দক্ষ নেতৃত্বে উন্নয়নশীল বাংলাদেশে শক্তিশালী সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী বাস্তবায়িত হয়েছে এবং সময়ের সাথে সাথে বৃহৎ আকারে প্রসারিত হচ্ছে।
সেদিন আর বেশি দূরে নয়, যেদিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কল্যাণে বঙ্গবন্ধুর ‘দুখী মানুষের মুখে হাসি ফুটিয়ে সোনার বাংলা’ গড়ার স্বপ্নের অবশিষ্ট কাজগুলো সুসম্পন্ন করা হবে।

শ্রেণী:

মাছে পরিপূর্ণ বাংলাদেশ

Posted on by 0 comment
3-4-2018 8-05-13 PM

3-4-2018 8-05-13 PMরাজিয়া সুলতানাঃ বাংলাদেশ একটি নদীমাতৃক দেশ। রয়েছে প্রায় ৩১০টি বা কারও মতে ২৩০টি নদী, দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলে প্রায় ৬০০টি বাঁওড়, সিলেট বিভাগে রয়েছে অসংখ্য হাওড়। তাছাড়া আরও রয়েছে খাল-বিল, নালা, হ্রদ, পুকুর ইত্যাদি। এই বিশাল স্বাদু পানির এলাকাগুলো মৎস্য সম্পদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ স্থান। তা ছাড়া রয়েছে বিশাল সমুদ্র ভা-ার। তাই আমরা আমাদের দেখতে পাই ‘মাছে-ভাতে বাঙালি’ সত্ত্বায়। মাছ নিয়ে এখন আর বাংলাদেশে হাহাকার নেই। মাছে পরিপূর্ণ সুজলা-সুফলা বাংলাদেশ। এখন আর খাদ্য তালিকায় বিদেশি পণ্য হিসেবে মাছকে রাখা হয় না। বরং মাছ উৎপাদনে স্বয়ং সম্পন্ন বাংলাদেশে থেকে বিপুল পরিমাণ মাছ রপ্তানি করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত রূপকল্প ২০২১-এ উল্লিখিত লক্ষ্যমাত্রা (৪৫ লাখ মেট্রিক টন মাছ) অর্জনের জন্য মৎস্য অধিদফতরের আওতায় এবং ব্যক্তি উদ্যোক্তারা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ফলে মৎস্য ভা-ারে অর্জিত হচ্ছে দৃশ্যমান সাফল্য। স্বাধীনতার ৪৬ বছর পর বাংলাদেশ আজ মৎস্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পন্ন। মৎস্য খাত বর্তমানে দেশের মোট জিডিপির ৩ দশমিক ৬১ শতাংশ এবং কৃষিজ জিডিপির ২৪ দশমিক ৪১ শতাংশের জোগান দিচ্ছে। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে মাছ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪০ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন, যা ছাড়িয়ে উৎপাদন হয়েছে ৪১ লাখ ৩৪ হাজার মেট্রিক টন। বলা বাহুল্য মাংস উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা (৭১ লাখ ৩৫ হাজার মেট্রিক টন) ছাড়িয়েও উৎপাদন হয়েছে ৭১ লাখ ৫৪ হাজার মেট্রিক টন। অর্থাৎ চাহিদা অনুযায়ী মাছ ও মাংস উৎপাদনে বাংলাদেশ এখন স্বয়ংসম্পূর্ণ। সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী মাছ রপ্তানি করে সরকারের বছরে আয় করেছে সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা।
দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও মানবদেহের পুষ্টির চাহিদা পূরণে মৎস্য সম্পদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। মানুষের দৈনন্দিন খাদ্য তালিকায় আমিষের ৬০ শতাংশই আসে মাছ থেকে। তাই শিক্ষা, স্বাস্থ্য খাতে পর মৎস্য খাতকে গুরুত্ব দিয়ে বর্তমান সরকার নানা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছে এবং করছে। যেমন আধুনিক পদ্ধতিতে মৎস্য চাষ ব্যবস্থাপনা, অপ্রচলিত মৎস্য পণ্য উৎপাদন, বিল নার্সারি কার্যক্রম বাস্তবায়ন, ব্যবস্থাপনা প্রবর্তন, প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্রের উন্নয়ন ও সংরক্ষণ, জাটকা সংরক্ষণ, ডিমওয়ালা ইলিশ রক্ষা, অভয় আশ্রম, মৎস্য সংরক্ষণ আইন কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন, দরিদ্র জেলেদের আপদকালীন খাদ্য সহায়তা প্রদান ও বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিসহ সকল কর্মসূচির সফল বাস্তবায়নের ফলে মৎস্য উৎপাদনে প্রবৃদ্ধি বেড়ে চলছে। এসব কাজের ফলে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার মূল্যায়নে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ মুক্ত জলাশয়ে মৎস্য উৎপাদনে বিশ্বে চতুর্থ স্থান এবং বদ্ধ জলাশয়ে মৎস্য উৎপাদানে পঞ্চম স্থান অধিকার করেছে। তাছাড়া সামুদ্রিক মাছ আহরণের দিক থেকে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান ২৫তম। ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে সমুদ্রজয়ের পর বঙ্গোপসাগর থেকে বাংলাদেশের মৎস্য আহরণ কয়েক গুণ বাড়বে। আগামী ২০২২ সাল নাগাদ বিশ্বে যে ৪টি দেশ মাছ চাষে ব্যাপক সাফল্য অর্জন করবে, তার শীর্ষে রয়েছে বাংলাদেশ। এরপরই আছে থাইল্যান্ড, ভারত ও চীনের নাম। মাছ উৎপাদনে শীর্ষ দেশগুলোর তালিকায় মিয়ানমারও এগিয়ে আসছে। শুধু দেশ নয়, বিদেশের চাহিদা মেটাতে এখন মাছ রপ্তানি করছে বাংলাদেশ।
আমাদের এ সাফল্যে মুখ্য ভূমিকা পালন করছে নোনা ও মিষ্টি পানির ইলিশ ও চিংড়ি, অভয়াশ্রমের চিতল, ফলি, বামোস, কালিবাউস, আইড়, টেংরা, মেনি, রানি, সরপুটি, মধু পাবদা, রিটা ও গজার, চাষকৃত মাছের মধ্যে তেলাপিয়া, পাঙ্গাশ, কমনকার্প, বিগহেড কার্প, থাইপুটি, মিররকার্প, চোষক মাছ, ব্লাক কার্প, থাই পাঙ্গাস, আফ্রিকান মাগুর, মিল্কফিশ, সিলভার কার্প, গ্রাস কার্প, ভিয়েতনামের কই, থাই কই, আফ্রিকান মাগুর, রুই ও কাতল ইত্যাদি। তবে উৎপাদিত মাছের প্রায় ২০ শতাংশ আসে রুই-কাতলা থেকে। এছাড়া ১৬ শতাংশ পাঙাশ, ১০ দশমিক ১৮ শতাংশ ইলিশ, প্রায় ১০ শতাংশ তেলাপিয়া থেকে। বিশেষ করে ময়মনসিংহ, গাজীপুর, বগুড়া ও কুমিল্লা জেলায় পুকুরে এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোতে ঘেরে মাছ চাষের ফলে এই অবস্থানে এসেছে বাংলাদেশের মৎস্য খাত। বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত করার ঘোষণার প্রধান লক্ষ্য হলো দারিদ্র্য নিরসন। দরিদ্রতা হ্রাসের অন্যতম উপায় হচ্ছে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা। মৎস্য খাত এ কর্মসংস্থান সৃষ্টি বিশাল ভূমিকা রাখছে। প্রতিবছর এ খাতে প্রায় ৬ লাখ লোকের নতুন কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হচ্ছে। গত ১০ বছরে প্রায় পুরুষ-মহিলা নির্বিশেষে দেশের ১১ শতাংশের অধিক বা প্রায় ১৭১ লাখ লোক তাদের জীবন-জীবিকার জন্য প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে মৎস্য উপ-খাতের ওপর নির্ভরশীল। মৎস্য সেক্টরে সংশ্লিষ্ট এ জনগোষ্ঠীর মধ্যে প্রায় ১০ শতাংশ নারী, যা দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ১ শতাংশ। এ ছাড়াও বিগত পাঁচ বছরে এই সেক্টরে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে অতিরিক্ত বার্ষিক ৬ লক্ষাধিক দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন সমীক্ষায় দেখা যায়, বর্তমানে মৎস্য প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানাগুলোতে নিয়োজিত শ্রমিকের ৮০ শতাংশের অধিক নারী।
কর্মসংস্থান, দারিদ্র্যবিমোচন, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন ইত্যাদির সাথে সাথে মৎস্য সম্পদের যে দিকটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তা হলো এর পুষ্টিগুণ। মাছ মানুষের দেহের বিভিন্ন ভিটামিনের অভাব বিশেষত ভিটামিন-এ এবং ভিটামিন-ই মাছ থেকেই পূরণসহ অত্যাবশ্যকীয় খনিজ লবণের জোগান দেয়। দেশীয় ছোট মাছ শিশুদের অন্ধত্ব, রক্ত শূন্যতা, গলগ- প্রভৃতি রোগ প্রতিরোধে সহায়তা করে। শুধু তাই নয়, সম্প্রতি বিজ্ঞানীরা মাছকে সবচেয়ে নিরাপদ আমিষের উৎস হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। এতে অত্যাবশ্যকীয় অ্যামাইনো এসিডের সবগুলোই উপস্থিত। রয়েছে শরীরের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় উপাদান ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড। যা রক্ত চাপকে নিয়ন্ত্রণ করে এবং হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমায়। তাছাড়া রিউম্যাটয়েড, বাত রোগ বা অর্থাইটিস রোগ প্রতিরোধ করে। মাছের অপর নাম মস্তিস্ক খাদ্য। তাছাড়া শিশুদের হাঁপানি, মহিলাদের স্তন ও পুরুষের প্রোস্টেট ক্যানসার প্রতিরোধে সাহায্য করে মাছ। শরীরের বাড়তি ওজন কমাতে ও মেনপোজাল বা পঞ্চাশোর্ধ্ব মহিলাদের দেহ-মন ভালো রাখতে সাহায্যও করে মাছ। শিশুদের মস্তিস্কের বিকাশ ও চোখের উপকারীতার জন্য অসবৎরপধহ ঐবধৎঃ অংংড়পরধঃরড়হ সপ্তাহে কমপক্ষে দুবার মাছ খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। মাছের ভিটামিন-এ চোখ ও ত্বকের জন্য উপকারী এবং রোগ ও বার্ধক্য প্রতিরোধক। তাহলে বলতে হয় আগামী পৃথিবী হওয়া উচিত সম্পূর্ণ মৎস্য সম্পদের অধীনে এবং মাছ হবে প্রধান খাদ্য। আর এ ধ্রুব সত্যকে উপলব্ধি করেই আমাদের মৎস্যপ্রেমী সরকার মৎস্য সম্পদ উন্নয়নের জন্য সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠীকে আধুনিক তথ্য সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি ও উদ্বুদ্ধকরণের নিমিত্তে উন্নত কলাকৌশল ও আধুনিক প্রযুক্তিবিষয়ক তথ্যাবলী বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাহায্যে সরবরাহ ও সেবা প্রদান নিশ্চিত করছে। সমৃদ্ধ ও আলোকিত বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়কে দৃঢ়ভাবে এগিয়ে নিচ্ছে। তবে ফারাক্কা জাতীয় বাঁধের কারণে নদীর নাব্য, তৎসংলগ্ন হাওর-বাঁওড়-বিল ভরাট হয়ে যাওয়া, কল-কারখানার বর্জ্যরে কারণে নদীর পানির দূষণ সৃষ্টি হচ্ছে। যা আমাদের মৎস্য সম্পদের জন্য ঝুঁকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

শ্রেণী: