বাস্তবায়নের পথে পদ্মাসেতু

11-6-2018 5-47-23 PM

11-6-2018 5-47-23 PMড. ইঞ্জিনিয়ার মাসুদা সিদ্দিক রোজী: মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৯৮ সালে প্রথম পদ্মাসেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেন। শুরুতে বিশ্বব্যাংক পদ্মাসেতু নির্মাণ করতে আগ্রহ দেখায়। ২০১১ সালে এই প্রকল্পের জন্য বিশ্বব্যাংক ১২০ কোটি ডলারের ঋণ চুক্তি স্বাক্ষর করে। পরবর্তীতে ২০১২ সালে জুলাই মাসে দুর্নীতির অভিযোগ এনে এই ঋণ চুক্তি বাতিল করে। এরপর বাংলাদেশ সরকার নিজস্ব অর্থায়নে ও ব্যবস্থাপনায় পদ্মাসেতু নির্মাণের ঘোষণা দেয়। এই সেতুর নির্মাণ ব্যয় ধরা হয় প্রায় ৩০ হাজার ৭৯৩ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। ২০১৪ সালে ৭ ডিসেম্বর পদ্মাসেতুর কাজ শুরু হয়। বিশ্বব্যাংককে এক প্রকার চ্যালেঞ্জ করে ২০১৫ সালের ১২ ডিসেম্বর সেতুর কাজ আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পদ্মাসেতু মূলত দোতলা বিশিষ্ট। এর ওপরে তলায় থাকবে চার-লেনের সড়ক পথ এবং নিচতলায় থাকবে একটি একক রেলপথ। এছাড়া গ্যাস, বিদ্যুৎ ও অপটিক্যাল ফাইবার লাইন পরিবহনের সুবিধা এই সেতুতে রাখা হয়েছে। পদ্মাসেতুর দৈর্ঘ্য ৬.১৫ কিমি এবং প্রস্থ ৯.৪ ফুট। মূল নদীর মধ্যে ১৫০ মিটার পরপর ৪২টি পিলার ৪১টি স্প্যানের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ হবে এই সেতু। ৪২টি পিলার প্রতিটি পিলারে ৬টি করে মোট ২৫২টি পাইল থাকবে। পদ্মা নদীর পানির স্তর থেকে ৫০ ফুট উপরে বসবে প্রতিটি স্প্যান। পদ্মাসেতুর রং হবে সোনালি। তবে রাতে সেতুটি জ্বলবে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার আদলে লাল ও সবুজ বাতি। আমাজনের পর পদ্মা বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গতিসম্পন্ন নদী। তাই পদ্মাসেতুর নির্মাণকাজটি অতিরিক্ত চ্যালেঞ্জের।

এই প্রকল্পের কাজ চার ভাগে ভাগ করা হয়েছেÑ
১. মূল সেতু নির্মাণ;
২. নদী শাসন;
৩. দুই পাড়ের সংযোগ সড়ক নির্মাণ;
৪. টোল প্লাজা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ।
পদ্মায় মূল সেতু নির্মাণের কাজ করছে চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন কোম্পানি এবং নদী শাসনে কাজ করছে আরেকটি প্রতিষ্ঠান। পদ্মাসেতুর দুই প্রান্তে রেললাইন নির্মাণে কানাডিয়ান প্রতিষ্ঠান ক্যানোরেলের নেতৃত্বে একাধিক প্রতিষ্ঠান কাজ করছে। আর পুরো প্রকল্পের কাজ তদারকির দায়িত্বে রয়েছে কোরিয়ান এক্সপ্রেসওয়ে ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। পদ্মাসেতু বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের সাথে দেশের অন্যান্য অঞ্চলে যোগাযোগ নিশ্চিত করবে। মোংলা সমুদ্রবন্দর ও বেনাপোল স্থলবন্দরের সাথে রাজধানী ঢাকা এবং বন্দরনগর চট্টগ্রামের সাথে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপিত হবে। ফলে ব্যবসা-বাণিজ্যের সাথে বাড়বে কর্মসংস্থান। প্রতিবছর মোট দেশজ জিডিপি উৎপাদন বাড়বে ১.২৬ শতাংশ হারে। অনেক বিতর্ক ও বাধা পেরিয়ে সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে ও ব্যবস্থাপনায় পদ্মাসেতু নির্মাণ বিশ্বের সামনে বাংলাদেশের সক্ষমতা তুলে ধরবে।
এই সেতু নির্মাণে অর্থনীতিতে নিয়ে আসবে অত্যন্ত ইতিবাচক পরিবর্তন। বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জিং নির্মাণ প্রকল্প পদ্মাসেতু নির্মাণের মধ্যদিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এটা একটা বড় ধরনের দূরদর্শিতা এবং সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে পদ্মাসেতু এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। নানা প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে এগিয়ে চলেছে পদ্মাসেতু নির্মাণের কাজ। প্রায় ৫৮ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। যে করেই হোক নির্ধারিত সময়ের চেয়ে কিছু সময় বেশি লাগিয়ে হলেও বহুল আলোচিত এই সেতুর কাজ শেষ করতে চায় সরকার।

পদ্মাসেতুর নির্মাণ খরচ বাড়ার কারণÑ
১. রোড সেতুর সাথে রেলসেতু সংযোগ হওয়া;
২. নদী শাসন;
৩. দুই পাড়ের সংযোগ সড়ক নির্মাণ;
৪. ডিজাইনের পরিবর্তন (পাইলের সংখ্যা ও গভীরতা বেড়ে যাওয়া);
৫. নদী শাসন ও সংযোগ সড়ক নির্মাণের জন্য জমি ক্রয়;
৬. সেতু নির্মাণ তলদেশে জটিলতার কারণে ১৪টি পিলার স্থাপন করা যাচ্ছিল না। এ সমস্যা নিরসনে ব্রিটিশ একটি কনসালট্যান্ট নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ডিজাইনের কিছুটা পরিবর্তন করার পর পাইলের সংখ্যা বাড়িয়ে কাজ পুনরায় শুরু করা হয়। সেজন্য কিছু সময় বেশি লেগেছে। সেতুর মূল নকশা অনুযায়ী প্রথমে একতলা সড়ক সেতু করার কথা ছিল আর খরচ ছিল ১০ হাজার কোটি। পরে রেল যোগাযোগের কথা বুঝতে পেরে এটাকে রেল ও সড়ক উভয় বিবেচনায় সমন্বিত নকশা তৈরি করা হয়। একতলা সেতু হয়ে যায় দোতলা। সাথে নদী শাসন, সংযোগ সড়ক, সার্ভিস এরিয়াÑ সব খরচ মিলে সেটি এখন ৩০ হাজার কোটি দাঁড়িয়েছে। শুধু সড়কের সেতু করলে ৭০ থেকে ৮০ টন ওজন নিতে পারবেÑ এ রকম ব্রিজ করলে যথেষ্ট ছিল। যেহেতু রেল যুক্ত করা হয়েছে, তাই একে আরও বেশি ভার বহন করতে হচ্ছে। ফলে পাইলগুলো আরও বেশি গভীরে ঢোকাতে হচ্ছে। লোড নেওয়ার ক্ষমতা বাড়িয়ে ২ হাজার ৪০০ টন করতে হয়েছে।

পদ্মাসেতু নির্মাণের সুবিধাসমূহ
১. দক্ষিণাঞ্চলের জেলাগুলোর সাথে দূরত্ব কমাবে ১০০ থেকে ১৫০ কিমি পর্যন্ত। ফলে সময় বাঁচবে প্রায় ৩-৪ ঘণ্টা।
২. এই সেতুকে কেন্দ্র করে প্রায় ১০ মিলিয়ন/১ কোটি নতুন কর্মসংস্থান হবে। সরাসরি উপকৃত হবে ৩০ মিলিয়ন বা ৩ কোটি মানুষ।
৪. এডিবি’র হিসাব অনুযায়ী জাতীয় ও আঞ্চলিকভাবে বিনিয়োগ অনেক গুণ বাড়বে। শিল্প অবকাঠামো খাতে অভাবনীয় প্রভাব ফেলবে।
৫. ঋরহধহপরধষ ওহপষঁংরড়হ-এর আওতায় আসবে কোটি মানুষ।
৬. যেহেতু পদ্মাসেতুর সাথে পায়রা বন্দরের সংযোগ রয়েছে। তাই রেলে বা সড়কে খুব সহজে দ্রুত ঢাকাসহ সারাদেশে পণ্য সরবরাহ করা যাবে। মানি সার্কুলেশন যত বেশি হয় জিডিপি তত বাড়ে। যখন লেনদেনের গতি বাড়ে তখন সেটির প্রভাব সরাসরি অর্থনীতিতে পড়ে। রেল সংযোগের ফলে পরিবহন খরচ অনেক কমে আসবে।
৭. দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলা সরাসরি যোগাযোগ বরাবরই বিচ্ছিন্ন ছিল। এই সেতুর সাথে সরাসরি বরিশাল জোনে রেল সংযোগ প্রতিস্থাপন হওয়ায় রেলে পণ্য বহন করলে খরচ অনেক কমে যাবে।
বাংলাদেশের দ্বিতীয় দীর্ঘ নদী পদ্মা, দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম অংশকে উত্তর-পূর্ব অংশ থেকে পৃথক করবে এই পদ্মা। এই নদীর ওপর সেতু নির্মিত হলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ১৯ জেলার মানুষের জন্য এক নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে যাবে। সেই সাথে পদ্মাসেতু জাতীয় অর্থনীতিতে নিয়ে আসবে অত্যন্ত ইতিবাচক পরিবর্তন। বাংলাদেশ হয়ে উঠেছে উন্নয়নের রোল মডেল। এই মডেলের রূপকার জননেত্রী শেখ হাসিনা, যার একক সাহসিকতা ও দূরদর্শিতায় আজ আমাদের বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবার একটি স্থান হয়েছে। বিশ্ব আজ বাংলাদেশকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরছে।

শ্রেণী:

বিদ্যুতে ৬০ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ হচ্ছে : দুটি এমওইউ সই

Posted on by 0 comment

উত্তরণ ডেস্ক: বিদ্যুৎ খাতে ৬০ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ হচ্ছে। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি), দেশের বেসরকারি কোম্পানি সামিট পাওয়ার, মার্কিন কোম্পানি জেনারেল ইলেক্ট্রিক (জিই) এবং জাপানের মিৎসুবিসি কর্পোরেশন যৌথভাবে এই বিনিয়োগ করছে। দুটি ভিন্ন প্রকল্পে মহেশখালীতে মোট ৬০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্রের সঙ্গে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানির জন্য স্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে।
গত ১১ জুলাই রাজধানীতে পৃথক দুটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়েছে। দুপুরে রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে সামিট এবং জিই আরের মধ্যে প্রথম এমওইউটি সই হয়। সামিট পাওয়ার জিইর সঙ্গে ২৪০০ মেগাওয়াট এলএনজি-ভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করবে। সামিট এবং জিইর সঙ্গে প্রকল্পটিতে জাপানের মিতসুবিসি কর্পোরেশন অংশীদার হিসেবে থাকছে। দ্বিতীয় এমওইউটি সই হয়েছে একইদিন বিকেলে রাজধানীর বিদ্যুৎ ভবনে। যেখানে জিইর সঙ্গে পিডিবি যৌথভাবে ৩৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করবে।
উভয় এমওইউ সই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানিবিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী বীরবিক্রম। এছাড়া অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎ বিভাগ, পিডিবি, সামিট, জিই এবং মিতসুবিশির পদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

শ্রেণী:

রাজশাহী বরিশালে আওয়ামী লীগের জয়

Posted on by 0 comment
8-6-2018 7-05-49 PM

8-6-2018 7-05-49 PMউত্তরণ প্রতিবেদনঃ গত ৩০ জুলাই তিন সিটি কর্পোরেশনে উৎসবমুখর পরিবেশে শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। রাজশাহী ও বরিশাল সিটি কর্পোরেশনে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন ও সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ এবং সিলেটে বিএনপি প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী। যেসব কেন্দ্রে অভিযোগ পাওয়া গেছে কমিশনের পক্ষ থেকে যেসব কেন্দ্রে ভোট স্থগিত করে দেওয়া হয়েছে। অধিকাংশ ভোটকেন্দ্রে পুরুষের পাশাপাশি নারী ভোটারদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। তিন কর্পোরেশনেই ভোটাররা উৎসবের আমেজে প্রচ- রোদ, কয়েক দফায় গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি উপেক্ষা করে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দিয়েছেন। ভোটগ্রহণ শুরুর আগে থেকেই কেন্দ্রের সামনে জড়ো হতে থাকেন নানা বয়সী মানুষ। লম্বা লাইন দাঁড়িয়ে শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দেন ভোটাররা। কোনো প্রকার চাপ বা গ-গোল ছাড়াই পছন্দের প্রার্থীকে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দিতে পেরে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন ভোটাররা।
রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন (রাসিক) নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মেয়রপ্রার্থী এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন নৌকা প্রতীকে ১ লাখ ৬৬ হাজার ৩৯৪ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। আর বিএনপি প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল পেয়েছেন ৭৮ হাজার ৪৯২ ভোট। বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হওয়ার পর এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, বিজয়ী করে মানুষ যে দায়িত্ব দিয়েছে তা পালনের সর্বাত্মক চেষ্টা করব। এলাকার উন্নয়নে একনিষ্ঠভাবে কাজ করে যাব।
বরিশালে আওয়ামী লীগ প্রার্থী সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ ১০৭টি কেন্দ্রে ১ লাখ ৭ হাজার ৩৫৩ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম বিএনপি প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ার পেয়েছেন ১৩ হাজার ১৩৫ ভোট। এই সিটিতে ১৫টি ভোটকেন্দ্র স্থগিত এবং একটি কেন্দ্রের ভোট বাতিল করা হয়েছে। বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের বিজয়ী মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ বলেছেন, নগরবাসীর উন্নয়নে নিজেকে উৎসর্গ করব। বরিশালকে সুন্দর ও আধুনিক নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া হবে। তবে এ ব্যাপারে সবাইকে সহযোগিতা করতে হবে। চূড়ান্ত ফল ঘোষণায় বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হওয়ার পর এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি এসব কথা বলেন। আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়ন কর্মকা-ের জন্যই জনগণ নৌকায় ভোট দিয়ে আমাকে বিজয়ী করেছেন।
হালনাগাদ ভোটার তালিকা অনুযায়ী এবার সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৪২ হাজার ১৬৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ২১ হাজার ৪৩৬ জন এবং নারী ভোটার ১ লাখ ২০ হাজার ৭৩০ জন। এই সিটি কর্পোরেশনের চতুর্থ নির্বাচনে মেয়র পদে ৬ জন, সাধারণ ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে ৯৪ জন এবং সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে ৩৫ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র ১২৩টি এবং ভোটকক্ষের সংখ্যা ৭৫০। এর মধ্যে ১১টি কেন্দ্রে ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট গ্রহণ করা হবে। এই নির্বাচনে ২০৩ জন স্থানীয় ও তিনজন বিদেশি পর্যবেক্ষক নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করেন।
সিলেটে ঘোষিত বেসরকারি ফলাফলে ১৩৪ ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১৩২ কেন্দ্রে আরিফুল হক চৌধুরী পেয়েছেন ৯০ হাজার ৪৯৬ ভোট। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী বদরউদ্দিন আহমদ কামরান (নৌকা) পেয়েছেন ৮৫ হাজার ৮৭০ ভোট। আরিফুল ৪ হাজার ৬২৬ ভোটে এগিয়ে রয়েছেন।
অন্য দুটি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ স্থগিত রয়েছে। স্থগিত কেন্দ্র দুটিতে মোট ভোট ৪ হাজার ৭৮৭।
ফলে স্থগিত দুই কেন্দ্রের পুনর্নির্বাচনের পর চূড়ান্ত ফল পাওয়া যাবে। তবে ওই দুই কেন্দ্রে শতভাগ ভোট পড়লে মাত্র ১৬২ ভোট পেলেই জয় নিশ্চিত হবে আরিফুল হক চৌধুরীর। দুই প্রধান প্রার্থীর ভোটের ব্যবধান স্থগিত দুটি কেন্দ্রের ভোটের চেয়ে কম হওয়ায় সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে ফল ঘোষণা করা হয়নি। ভোটের দিন বিকেল ৪টায় ভোট গ্রহণ শেষ হওয়ার পর বিএনপির প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী হতাশার সুরে নতুন করে নির্বাচন আয়োজনের দাবি তোলেন। দিনভর কারচুপির অভিযোগ করলেও বিএনপি প্রার্থী আরিফুল হক ভোট বর্জন করেন। ফলাফল ঘোষণার শুরু থেকেই চমক দেখা যায়। সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে যে দুটি কেন্দ্রে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) গ্রহণ করা হয়েছে, তাতে এগিয়ে যান আরিফুল হক চৌধুরী। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মেয়র প্রার্থী ডা. মোয়াজ্জেম হোসেন খান ও সিপিবি-বাসদের মেয়র প্রার্থী ছিলেন আবু জাফর।

শ্রেণী:

মহাকাশে বাংলাদেশ

Posted on by 0 comment
6-5-2018 5-42-46 PM

6-5-2018 5-42-46 PMউত্তরণ প্রতিবেদন: ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১’ উৎক্ষেপণের মধ্য দিয়ে বিশ্বের ৫৭তম দেশ হিসেবে স্যাটেলাইট যুগে প্রবেশ করেছে বাংলাদেশ। ডিজিটাল বাংলাদেশের রূপকার, বাঙালির বিশ্বজয়ের স্বপ্ন-সারথি, সফল রাষ্ট্রনায়ক দেশরতœ জননেত্রী শেখ হাসিনার সুযোগ্য নেতৃত্বে অর্জিত সাফল্যের মুকুটে যুক্ত হয়েছে নতুন পালক। নিজস্ব স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণে বাংলাদেশের সামনে উন্মোচিত হয়েছে অপার সম্ভাবনার স্বর্ণ-দুয়ার। বিশ্বসভায় আত্মমর্যাদাশীল রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বাংলাদেশ। সমৃদ্ধ বাংলাদেশের অভিযাত্রায় ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১’ এক ঐতিহাসিক মাইলফলক। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৫ সালের ১৪ জুন বেতবুনিয়ায় দেশের প্রথম ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র উদ্বোধনের মাধ্যমে যে স্বপ্নের বীজ বপন করেছিলেন আজ তার পথ ধরেই বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এবং বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের সার্বক্ষণিক তত্ত্বাবধান এবং দিক-নির্দেশনায় নিজস্ব স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের মধ্য দিয়ে মহাকাশে স্থান করে নিয়েছে বাংলাদেশ। অনন্য সাধারণ এই সাফল্য বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামকে এগিয়ে নেওয়ার উজ্জ্বল সোপান।

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১  
বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ এর ডিজাইন এবং নির্মাণ করেছে ফ্রান্সের কোম্পানি থ্যালাস অ্যালেনিয়া স্পেস। আর যে রকেটের মাধ্যমে এটিকে মহাকাশে পাঠানো হয়েছে তা বানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশে বহনকারী রকেটের নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ‘স্পেস এক্সপ্লোরেশন টেকনোলজিস করপোরেশন (স্পেস-এক্স)’।
বাংলাদেশ সময় ১১ মে ২০১৮, শুক্রবার দিবাগত রাত ২টা ১৪ মিনিটে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার মহাকাশ কেন্দ্র ‘স্পেস-এক্স’ থেকে ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১’ বহনকারী রকেটটি সফলভাবে উৎক্ষেপণ করা হয়। এর মধ্য দিয়ে বিশ্বের ৫৭তম দেশ হিসেবে নিজস্ব স্যাটেলাইটের মালিকানা অর্জন করেছে লাল-সবুজের বাংলাদেশ। জননেত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নের ছোঁয়া লেগেছে জল-স্থল-পাতাল-অন্তরিক্ষে।
‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ (বিএস-১)’ কৃত্রিম উপগ্রহটি একটি জিওস্টেশনারি স্যাটেলাইট। এটি ১১৯ দশমিক ১ পূর্ব দ্রাঘিমাংশে অবস্থিত। ৩ হাজার ৫০০ কেজি ওজনের এই স্যাটেলাইটে রয়েছে ৪০টি ট্রান্সপন্ডার। স্যাটেলাইটটির ৪০টি ট্রান্সপন্ডার ক্যাপাসিটি থাকবে। এর মধ্যে ২০টি ট্রান্সপন্ডার বাংলাদেশের ব্যবহারের জন্য রাখা হবে। বাকিগুলো বাণিজ্যিকভিত্তিতে ভাড়া দেওয়া হবে। প্রতিটি ট্রান্সপন্ডার থেকে ৪০ মেগাহার্টজ হারে তরঙ্গ-বরাদ্দ (ফ্রিকোয়েন্সি) সরবরাহ পাওয়া সম্ভব। এ হিসাবে ৪০টি ট্রান্সপন্ডারের মোট ফ্রিকোয়েন্সি ক্ষমতা হলো ১ হাজার ৬০০ মেগাহার্টজ।
বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণে প্রথমবারের মতো ব্যবহার করা হয় ফ্যালকন-৯ রকেটের সর্বাধুনিক সংস্করণের ব্লুস্টার ব্লক-৫। মহাকাশে নির্দিষ্ট কক্ষপথে যেতে ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১’কে ৩৬ হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হয়েছে। উৎক্ষেপণের পর নির্দিষ্ট উচ্চতায় পৌঁছে রকেটের স্টেজ-১ খুলে যায়। এ সময় চালু হয় স্টেজ-২-এর ইঞ্জিন। স্টেজ-১ ফিরে আসে আটলান্টিকে ভাসমান ড্রোন শিপে। আর স্টেজ-২ স্যাটেলাইটকে নিয়ে যায় নির্দিষ্ট কক্ষপথের দিকে।
স্যাটেলাইটটি কার্যকর হওয়ার পর এর নিয়ন্ত্রণ যাবে যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি এবং কোরিয়ায় অবস্থিত ৩টি গ্রাউন্ড স্টেশনে। এই ৩টি স্টেশনের মাধ্যমে স্যাটেলাইটটির নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ফ্রান্সের থ্যালেস অ্যালেনিয়া স্পেস এটি পর্যবেক্ষণ করবে। প্রথম তিন বছর থ্যালাস অ্যালেনিয়ার সহায়তায় স্যাটেলাইটটি নিয়ন্ত্রণ করবে বাংলাদেশ। এরপর পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ নেবে বাংলাদেশ। এজন্য মহাকাশে কার্যকর হওয়ার পর বাংলাদেশ থেকে স্যাটেলাইটটি নিয়ন্ত্রণের জন্য দুটি গ্রাউন্ড স্টেশন নির্মাণ করা হয়েছে। যার মধ্যে জয়দেবপুরের গ্রাউন্ড স্টেশনটি স্যাটেলাইটটি নিয়ন্ত্রণের মূল কেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে আর বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা হবে রাঙ্গামাটির বেতবুনিয়া গ্রাউন্ড স্টেশন। উৎক্ষেপণের নির্দিষ্ট সময় পর  গ্রাউন্ড স্টেশনে সংকেত পাঠানো শুরু করে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১। ইতোমধ্যে উৎক্ষেপণের প্রথম ধাপ ‘লঞ্চ অ্যান্ড আরলি অরবিট ফেইজ (এলইওপি)’ সফলতার সাথে শেষ করে কক্ষপথে নিজের অবস্থানে পৌঁছেছে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১।

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ নিশ্চিত করবে যেসব সেবা   
বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ এর ন্যূনতম আয়ুষ্কাল ১৫ বছর। স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ পরবর্তী সময় ট্রান্সপন্ডার ভাড়া দেওয়া, বিপণন পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণে গঠন করা হয়েছে বাংলাদেশ কমিউনিকেশন্স স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেড (বিসিএসসিএল)। ইতোমধ্যে গ্রাউন্ড স্টেশন পরিচালনার জন্য ১৮ বাংলাদেশি তরুণকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে নির্মাতা প্রতিষ্ঠান থ্যালেস। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১-এর মাধ্যমে বাংলাদেশ ছাড়াও ভুটান, নেপাল, কিরগিজস্তান ও তাজিকিস্তানের মতো এশিয়ার বেশ কয়েকটি দেশে উন্নত কমিউনিকেশন্স এবং ব্রডকাস্টিং সার্ভিস দেওয়া যাবে।
টিভি চ্যানেলগুলোর স্যাটেলাইট সেবা নিশ্চিত করাই বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের প্রধান কাজ। এর সাহায্যে ডিটিএইচ (ডিরেক্ট টু হোম ডিশ সার্ভিস), ঝঅঞ, ব্রন্ডব্যান্ড ইন্টারনেট ইত্যাদি সেবার মাধ্যমে ব্যাপক বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা সম্ভব হবে। এছাড়া যেসব জায়গায় অপটিক ক্যাবল বা সাবমেরিন ক্যাবল পৌঁছায় নি সেসব জায়গায় নিশ্চিত করা যাবে ইন্টারনেট সংযোগ। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের মাধ্যমে টেলিযোগাযোগ ও সম্প্রচার সেবার পাশাপাশি টেলিমেডিসিন, ই-অ্যাডুকেশন এবং প্রতিরক্ষা ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সেক্টরে ব্যাপক উন্নয়ন সম্ভব হবে।
বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট ব্যবহারে একদিকে যেমন তথ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করবে, অন্যদিকে কমবে আমাদের পরনির্ভরশীলতা। দেশের টেলিভিশন চ্যানেলগুলোকে বিদেশি স্যাটেলাইট কোম্পানিকে আর বছরে বিপুল পরিমাণ অর্থ দিয়ে সম্প্রচার কার্যক্রম চালাতে হবে না; বরং আরও সাশ্রয়ী মূল্যে নিজ দেশের স্যাটেলাইট ব্যবহার করতে পারবে। সাশ্রয় হবে বছরে প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ মার্কিন ডলার। অন্যদিকে পার্শ্ববর্তী দেশসমূহে স্যাটেলাইটের অব্যবহৃত তরঙ্গ বিক্রি করে বৈদেশিক মুদ্রা আয় সম্ভব হবে। স্যাটেলাইট টেকনোলজি সেবার মান প্রসারের মাধ্যমে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং টেলিযোগাযোগ ও সম্প্রচার সেবার মান বৃদ্ধি পাবে।
বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের সামনে আজ মহাকাশ গবেষণার যে উন্মুক্ত সম্ভাবনার দুয়ার উন্মোচিত হয়েছে এবং একটি বিজ্ঞানমনস্ক দক্ষ জাতি গঠনে নতুন প্রজন্মের মাঝে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ যে স্বপ্নের সিঁড়ি সাজিয়েছে তা হিসাবের খাতায় মেলানো অসম্ভব।

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণের ইতিকথা
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুদূরপ্রসারী চিন্তার কারণে ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক টেলিকমিউনিকেশনস ইউনিয়নের (আইটিইউ) সদস্যপদ লাভ করে। ১৯৭৫ সালের ১৪ জুন বেতবুনিয়া ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র উদ্বোধনের মাধ্যমে তিনি বহির্বিশ্বের সঙ্গে বাংলাদেশের উন্নত টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থার সূচনা করেন। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ এর উৎক্ষেপণের মাধ্যমে জাতির পিতার সেই যাত্রাকে অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছেন বঙ্গবন্ধুর স্বার্থক উত্তরসূরি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহার ‘দিনবদলের সনদ, রূপকল্প-২০২১’-এর প্রধান সেøাগান ছিল ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’। ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন নিয়ে ২০০৮-এর নির্বাচনে বিজয় লাভ করে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। ডিজিটাল বাংলাদেশ আজ শুধু কথার কথা নয়, দৃশ্যমান বাস্তবতা। বাংলাদেশে আজ প্রতিটি ক্ষেত্রেই ডিজিটাল বিপ্লব ঘটেছে। প্রত্যন্ত গ্রাম পর্যন্ত ইন্টারনেট সেবা বিস্তৃত হয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ এবং ব্যবসার সুযোগ বৃদ্ধির জন্য বিভাগীয় শহরগুলোতে হাইটেক পার্ক নির্মাণ করা হচ্ছে। তথ্যপ্রযুক্তিতে ফ্রিল্যান্স পেশায় বিশ্বে বাংলাদেশের  অবস্থান এখন তৃতীয়। ২০২১ সালের মধ্যে ২০ লাখ তরুণ-তরুণী তথ্যপ্রযুক্তি পেশার সঙ্গে সম্পৃক্ত করার জন্য বহুমাত্রিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। সহজ ও সুলভ মূল্যে ইন্টারনেট সেবা পাওয়ার জন্য দুটি সাবমেরিন ক্যাবলের সঙ্গে বাংলাদেশ সংযুক্ত হয়েছে। নির্মাণ করা হয়েছে আন্তর্জাতিকমানের তথ্য ভা-ার। ইতোমধ্যে বাংলাদেশে ‘ফোর-জি’ সেবা চালু হয়েছে। যার ধারাবাহিকতায় তথ্যপ্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে স্যাটেলাইট বা উপগ্রহ। ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের আরেকটি উজ্জ্বল স্মারক ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১’।
আওয়ামী লীগের সরকার ক্ষমতায় আসার পর মহাকাশে স্যাটেলাইট প্রেরণের জন্য ২০০৯ সালের মে মাসে বিটিআরসি’র একজন কমিশনারকে আহ্বায়ক করে কমিটি গঠন করা হয়। ২০১০ সালে প্রকল্পের জন্য পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়। ২০১৩ সালের ৩১ মার্চ পরামর্শক প্রতিষ্ঠান হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের স্পেস পার্টনারশিপ ইন্টারন্যাশনালের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। পরামর্শক প্রতিষ্ঠান সম্প্রচারধর্মী একটি স্যাটেলাইট নির্মাণে প্রকল্প রূপরেখা তৈরির পর ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে একনেক সভায় ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ প্রকল্প’ শীর্ষক কার্যক্রমের অনুমোদন হয়। এরপর মহাকাশে অরবিটাল সøটের জন্য আন্তর্জাতিক টেলিকমিউনিকেশন্স ইউনিয়নে (আইটিইউ) আবেদন করা হয়। ধারাবাহিকভাবে চলে একের পর এক কার্যক্রম। অনুমোদন পর্যায়ে দেশের প্রথম স্যাটেলাইটের নাম রাখা হয় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে। প্রকল্পটি পরিচিতি পায় ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১’ নামে। প্রকল্প অনুমোদনের পর শুরু হয় মহাকাশে কক্ষপথ বরাদ্দ পাওয়ার জোর প্রচেষ্টা।
২০১৫ সালের ১৫ জানুয়ারি রাশিয়ার প্রতিষ্ঠান ইন্টার স্পুটনিকের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা (বিটিআরসি)। এরপরই শুরু হয় ‘কমিউনিকেশন এবং ব্রডকাস্টিং’ ক্যাটাগরিতে এ স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের জন্য মূল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিয়োগ প্রক্রিয়া। এ সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক দরপত্রে অংশ নেয় ফ্রান্সের থ্যালেস অ্যালেনিয়া স্পেস, চীনের গ্রেটওয়াল করপোরেশন, কানাডার এমডিএ এবং যুক্তরাষ্ট্রের অরবিটাল কেটিএ। সার্বিক মূল্যায়নে চূড়ান্ত করা হয় ফ্রান্সের থ্যালেস অ্যালেনিয়া স্পেসকে। ২০১৬ সালের ৭ অক্টোবর বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণে যুক্তরাষ্ট্রের স্পেস-এক্সের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এর মাধ্যমেই কার্যত স্যাটেলাইট নির্মাণ ও উৎক্ষেপণের উদ্দেশ্যে প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু হয়। এই স্যাটেলাইট নির্মাণে ব্যয় হয়েছে প্রায় ২ হাজার ৯৬৭ কোটি ৯৬ লাখ টাকা। নির্মাণে সময় লেগেছে প্রায় দুই বছর।

শ্রেণী:

সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী

Posted on by 0 comment
4-5-2018 7-25-46 PM

4-5-2018 7-25-46 PMমুফরাত রাহিন: ‘আঘাত করতে চাই এই ঘুণে ধরা সমাজব্যবস্থাকে। গ্রামে গ্রামে বহুমুখী কো-অপারেটিভ করা হবে। পাঁচ বছরের প্ল্যানে বাংলাদেশের ৬৫ হাজার গ্রামের প্রত্যেকটিতে বহুমুখী কো-অপারেটিভ করা হবে। বেকার অথচ কর্মক্ষম প্রত্যেকটি ব্যক্তিকে কো-অপারেটিভের সদস্য করা হবে। প্রতিটি মহকুমাকে জেলায় রূপান্তর করা হবে। নতুন জেলায় একটি করে প্রশাসনিক কাউন্সিল থাকবে। এর মধ্যে জনসাধারণের প্রতিনিধিত্ব থাকবে।’Ñ ১৯৭৫ সালের ২৬ মার্চ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে দৃপ্তকণ্ঠে এবং পরিষ্কারভাবে ঘোষণা করেছেন বঙ্গবন্ধু। সবচেয়ে বড় বিষয়, ’৭৪-’৭৫ সালের যে অর্থনীতি সেখানকার হিসাবে দেখা যায়, সামষ্টিক আয়ের প্রবৃদ্ধি ছিল সাড়ে ৬ থেকে ৭ শতাংশের মধ্যে। যেটা আমরা এতদিন পরে অর্জন করতে পারলাম ২০১৫-১৬ অর্থবছরে।
আজকের বাংলাদেশের বিশ্বের নজরকাড়া অর্থনৈতিক অগ্রগতি আর হৃদয়ে আশা জাগানিয়া অসামান্য সামাজিক অগ্রগতি জাতির পিতা সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি শেখ মুজিবের প্রদর্শিত পথে তারই সুযোগ্য কন্যা দূরদৃষ্টিসম্পন্ন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সংঘটিত হচ্ছে।
অভিভাবক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলার গরিব-দুঃখী মানুষদের উন্নয়ন এবং কল্যাণে শক্তিশালী ও যুগোপযোগী সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী প্রণয়ন করেছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সিদ্ধান্ত এবং নির্দেশে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর প্রকল্পগুলো হলো নিম্নরূপÑ
দারিদ্র্য বিমোচন কৌশলপত্র (পিআরএসপি) ১৮টি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি চিহ্নিত করেছে। এসব কর্মসূচি নগদ অর্থ সহায়তা বা অন্য কোনো সহায়তার সাথে যুক্ত। এ কর্মসূচিগুলো হলোÑ
* বয়স্ক ভাতা : সরকারি তথ্য অনুযায়ী মোট জনসংখ্যার ৭ শতাংশ লোক বয়স্ক হিসেবে চিহ্নিত। এর ২০ শতাংশ লোক এ বেষ্টনীর আওতাভুক্ত।
* বিধবা ও দুস্থ মহিলা ভাতা : মোট ৭ লাখ উপকারভোগী এর আওতাভুক্ত।
* দৈহিক অক্ষমতাসম্পন্ন দুস্থ ভাতা : এ বেষ্টনীর আকার সীমিত। প্রায় ২ লাখ লোক এর উপকারভোগী।
* দরিদ্র মাতাদের ভাতা : অন্যান্য বেষ্টনীর মতো এ বেষ্টনীর পরিধি সীমিত হওয়া সত্ত্বেও এ কর্মসূচিটি পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়িত হচ্ছে। ২০০৭-০৮ অর্থবছরে চালু করা এ বেষ্টনীর আওতায় মোট ৩ হাজার ইউনিয়ন রয়েছে। এতে ইউনিয়ন প্রতি উপকারভোগী হবে ১৫ জন।
* যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ভাতা : মুক্তিযুদ্ধে আহত ব্যক্তিদের এই ভাতা প্রদান করা হয়। প্রায় ১০ হাজার উপকারভোগী এ বেষ্টনীর আওতাভুক্ত।
* অনাথ আশ্রম কর্মসূচি : এ কর্মসূচি দুটি ধারায় কাজ করছে। প্রথমটি হলো সরকার কর্তৃক পরিচালিত শিশু পরিবার আশ্রম এবং দ্বিতীয়টি বেসরকারি অনাথ আশ্রম। প্রথমটির আওতায় প্রায় ১০ হাজার অনাথ শিশু সুবিধা ভোগ করে। দ্বিতীয়টির সুবিধাভোগীদের সংখ্যা প্রায় ৪৫,০০০।
* জ্বালানি তেলের ভর্তুকি : ডিজেলের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রান্তিক চাষিদের জন্য ভর্ভুকি দিয়ে সেচ কাজ পরিচালনার নিমিত্তে এই সুবিধা দেওয়া হয়। ২০০৭-০৮ অর্থবছরে সর্বমোট ভর্তুকি বরাদ্দ ছিল ৭৫০ কোটি টাকা।
* প্রাথমিক স্কুলের ছাত্রদের ভাতা : এ কর্মসূচির আওতায় সারাদেশে প্রায় ৫৫ লাখ ছাত্রকে সাহায্য দেওয়া হবে। ২০০৭-০৮ অর্থবছরে এর জন্য বরাদ্দ ছিল ৫০০ কোটি টাকা।
* ঝরেপড়া ছাত্র ভাতা : স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে এমন ছাত্রদের প্রদেয় ভাতায় প্রাথমিক স্কুলের প্রায় ৫ লাখ ছাত্র আওতাভুক্ত হয়েছে। ২০০৭-০৮ অর্থবছরে এর জন্য ৫৮৯ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়।
* ছাত্রী ভাতা : এ কর্মসূচির আওতায় ৩০ লাখ সুবিধাভোগী রয়েছে। ২০০৭-০৮ অর্থবছরে এর জন্য বরাদ্দ ছিল ২,৩২৪ কোটি টাকা।
* প্রতিবন্ধী ছাত্র ভাতা : সব পর্যায়ের প্রতিবন্ধী ছাত্রছাত্রী এ কর্মসূচির আওতাভুক্ত। ভাতার পরিমাণ পর্যায়ভিত্তিক কম-বেশি। ২০০৭-০৮ অর্থবছরে এর জন্য বরাদ্দ ছিল ৫ কোটি টাকা।
* পোশাক শিল্প শ্রমিকদের প্রশিক্ষণ ও সহায়তা তহবিল : এ কর্মসূচিটি ২০০৭-০৮ অর্থবছরে চালু করা হয়। বরাদ্দ ছিল ২০ কোটি টাকা।
* সাময়িক বেকারত্ব দূরীকরণ কর্মসূচি : এ কর্মসূচির আওতায় ২০০৭-০৮ অর্থবছরে ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ ছিল। দেশের উত্তরাঞ্চলের ৫টি জেলায় এ ধরনের বেকারত্ব প্রকট। বেকার ব্যক্তিদের সহায়তার জন্য এ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছিল। সাময়িক এ বেকারত্ব সমস্যাটি ‘মঙ্গা’ বলে পরিচিত।
* হতদরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য কর্মস্থান কর্মসূচি : ২০০৭-০৮ অর্থবছরে এক মাসের জন্য এ কর্মসূচিটি চালু হয়। মোট বরাদ্দ ছিল ১০০ কোটি টাকা। ওই বছরেই এ কর্মসূচিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া হয়। মোট বরাদ্দ ছিল ২০০০ কোটি টাকা। কর্মসূচির প্রথম পর্যায় বাস্তবায়িত হয়েছে এবং তা স্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
* প্রাকৃতিক দুর্যোগজনিত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তহবিল কর্মসূচি : এ কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য ২০০৭-০৮ অর্থবছরে ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়। উদ্দেশ্য ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা যাতে কর্মহীনতা ও মজুরি হ্রাসজনিত বিপদ মোকাবেলা করতে সক্ষম হয়।
* গ্রামীণ মাতৃকেন্দ্র (আরএমপি) কর্মসূচি : এ কর্মসূচির আওতায় গ্রামীণ দুস্থ মা’দের সুদমুক্ত ক্ষুদ্রঋণ প্রদান করা হয়। ৩১৮টি উপজেলায় সুবিধাভোগীর সংখ্যা ১২,৯৬৫। সুবিধাভোগীদের প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরিচর্যা, জন্মনিয়ন্ত্রণ ও অনানুষ্ঠানিক শিক্ষার জন্য প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়।
* মাতৃস্বাস্থ্য ভাউচার কর্মসূচি : স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। এর আওতায় গ্রামীণ দরিদ্র ও গর্ভবতী মহিলাদের নগদ অর্থ সহায়তা দেওয়া হয়। ২০০৭-০৮ অর্থবছরে এর জন্য বরাদ্দ ছিল ১২৬ কোটি টাকা।
* কমিউনিটি পুষ্টি কর্মসূচি : এ কর্মসূচির উদ্দেশ্য হলো গ্রামের দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে পুষ্টিহীনতা থেকে রক্ষা করা। ২০০৭-০৮ অর্থবছরে এর জন্য বরাদ্দ ছিল ১৫৮ কোটি টাকা। মোট ৩৪টি জেলার ১০৫টি উপজেলায় এ কর্মসূচি বাস্তবায়িত হচ্ছে।
* খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি : প্রধানত দুই ধরনেরÑ ১. সনাতনী টেস্ট রিলিফ এবং ২. কাজের বিনিময়ে খাদ্য (কাবিখা)। কাবিখা কর্মসূচির মধ্যে দুই প্রকার কার্যক্রম রয়েছে। একটি হলো ভালনারেবল গ্রুপ ফিডিং (ভিজিএফ)। এর আওতায় হতদরিদ্রদের বিনামূল্যে খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হয়। অন্যটি হলো ভালনারেবল গ্রুপ ডেভেলপমেন্ট (ভিজিডি)। এর আওতায় দল গঠন, প্রশিক্ষণ, দক্ষতা বৃদ্ধি ও সঞ্চয় কার্যক্রমও রয়েছে।
বিভিন্ন ধরনের নগদ অর্থ ও খাদ্য সহায়তা কর্মসূচির আওতায় ২০০৮-০৯ অর্থবছরে প্রায় ৮.৫ মিলিয়ন দরিদ্র পরিবার বা ৪২.৫ মিলিয়ন ব্যক্তি উপকৃত হয়েছিল। টেস্ট রিলিফ বা কাবিখার উপকারভোগীরা এর অন্তর্ভুক্ত নয়। সরকারি তথ্য অনুযায়ী এ দুই কর্মসূচির আওতায় ৯.৩ মিলিয়ন সুবিধাভোগী ছিল। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০০৮-০৯ অর্থবছরে ভিজিএফ-এ সবচেয়ে বেশি (২৮ শতাংশ) উপকারভোগী ছিল। এর পরেই নগদ অর্থ সহায়তা ছিল ৯.৯ শতাংশ এবং ভিজিডি ছিল ৩.৭ শতাংশ। অন্যান্য কর্মসূচির উপকারভোগীর সংখ্যা ছিল ১ শতাংশেরও কম।
* সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনী কর্মসূচির ভাতার পরিমাণ ও উপকারভোগীর সংখ্যা দুটিই বাড়ানো হয়েছে ২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে। এর মধ্যে কয়েকটি খাতে ভাতার পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা ও কল্যাণে ২৪ হাজার ৪৮৯ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে, যা উন্নয়ন ও অনুন্নয়ন বাজেটের ৬ শতাংশ।
* অর্থবছর ২০১৬-১৭ সালে এই খাতে বরাদ্দ ছিল ১৯ হাজার ২৯১ কোটি টাকা, যা উন্নয়ন ও অনুন্নয়ন বাজেটের ৫.২ শতাংশ। এর আগে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে এ খাতে বরাদ্দ ছিল ১৭ হাজার ৮০ কোটি টাকা।
* সামাজিক নিরাপত্তা খাতে এ বরাদ্দ রেখে জাতীয় সংসদে বাজেটে বলা হয়, ‘দারিদ্র্য ও পশ্চাৎপদ জনগোষ্ঠীর কল্যাণে আমরা বয়স্ক ভাতা, মাতৃত্বকালীন ভাতা, বিধবা-স্বামী নিগৃহীত-দুস্থ মহিলা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা, শিক্ষা উপবৃত্তি ভাতা, প্রতিবন্ধী শিক্ষা উপবৃত্তি, একটি বাড়ি একটি খামার, আশ্রয়ণ প্রকল্প, কাজের বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচি, টিআর, জিআর, চর জীবিকায়নসহ উল্লেখযোগ্যসংখ্যক সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে, যা আগামীতেও অব্যাহত থাকবে। বাজেটে বয়স্ক ভাতাপ্রাপ্তরা জনপ্রতি মাসিক ৫০০ টাকার পরিবর্তে ৬০০ টাকা করে পাবে। একই সঙ্গে উপকারভোগীর সংখ্যা বর্তমানে ৩১ লাখ ৫০ হাজার থেকে ৩৫ লাখে উন্নীত করা হচ্ছে।
এছাড়াও বিধবা ও স্বামী নিগৃহীত নারীদের ভাতা ৫০০ টাকার পরিবর্তে ৬০০ টাকা করা হচ্ছে। আর এই উপকারভোগীর সংখ্যা ১১ লাখ ৫০ হাজার থেকে ১০ শতাংশ বাড়িয়ে ১২ লাখ ৬৫ হাজার করা হচ্ছে।
* একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের গৃহীত সমবায় সমিতিভিত্তিক একটি দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক পরিকল্পনা। এই প্রকল্পটির আওতায় গ্রামের দরিদ্র পরিবারগুলোকে অর্থনৈতিক ইউনিট হিসেবে তৈরি করার মাধ্যমে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন ঘটানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
২০২০ সালের মধ্যে দেশে দারিদ্র্যতার হার ১০ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্যে এই প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়েছে। সমন্বিত গ্রাম উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রতিটি বাড়িকে অর্থনৈতিক কার্যাবলির কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে গড়ে তোলার প্রয়াসে ‘একটি বাড়ি একটি খামার’ প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ প্রকল্পটি ৬৪ জেলার ৪৯০ উপজেলার ৪ হাজার ৫০৩টি ইউনিয়নের ৪০ হাজার ৯৫০টি গ্রামে বাস্তবায়িত হচ্ছে।
বর্তমানে অসচ্ছল প্রতিবন্ধীরা ৭০০ টাকা করে মাসিক ভাতা পাচ্ছে। উপকারভোগীর সংখ্যা সাড়ে ৭ লাখ থেকে বাড়িয়ে করা হয়েছে ৮ লাখ ২৫ হাজার। হিজড়া জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন কার্যক্রমের অধীনে বিভিন্ন স্তরে প্রদেয় বিশেষ ভাতা/বয়স্ক ভাতা ৭০০ টাকা করা হয়েছে। উপকারভোগীর সংখ্যা ৬ হাজার ৯৭০ জন থেকে বাড়িয়ে করা হয়েছে ৭ হাজার ৫৫০ জন।
* বেদে ও অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন কার্যক্রমের অধীনে উপকারভোগীরা মাসে ৬০০ টাকা করে ভাতা পায়। আগামী অর্থবছর থেকে তারা ৭০০ টাকা করে ভাতা পাবে। এ জন্য সরকার এ খাতে বরাদ্দ দেয় ২০ কোটি ৬৮ লাখ টাকা।
* প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষা উপবৃত্তির হার প্রাথমিক স্তরে ৪০০ টাকা, মাধ্যমিক স্তরে ৬০০ টাকা, উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে ৭০০ টাকা এবং উচ্চতর স্তরে ১ হাজার ২০০ টাকা রাখা হয়েছে। উপকারভোগীর সংখ্যা প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে ১০ হাজার এবং ৮০ হাজার করা হয়েছে।
* চা-শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নেও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ খাতে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে চা-শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন কর্মসূচির অধীনে ১৫ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।
* মৌলিক চাহিদার ব্যয়ভিত্তিক দরিদ্র জনসংখ্যার মধ্যে ৪০ শতাংশ জনগোষ্ঠী বিভিন্ন কর্মসূচির আওতাভুক্ত। [তথ্যসূত্র : বাংলাপিডিয়া এবং উইকিপিডিয়া]
সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী রাষ্ট্র কর্তৃক দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীকে আর্থিক বা অন্য কোনো সহায়তা প্রদানের ব্যবস্থা। সম্পদের অপ্রতুলতার কারণে উন্নত দেশের তুলনায় অনুন্নত বা উন্নয়নশীল দেশে এ ধরনের ব্যবস্থা অপেক্ষাকৃত কম। তবুও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাহসী এবং দক্ষ নেতৃত্বে উন্নয়নশীল বাংলাদেশে শক্তিশালী সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী বাস্তবায়িত হয়েছে এবং সময়ের সাথে সাথে বৃহৎ আকারে প্রসারিত হচ্ছে।
সেদিন আর বেশি দূরে নয়, যেদিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কল্যাণে বঙ্গবন্ধুর ‘দুখী মানুষের মুখে হাসি ফুটিয়ে সোনার বাংলা’ গড়ার স্বপ্নের অবশিষ্ট কাজগুলো সুসম্পন্ন করা হবে।

শ্রেণী:

মাছে পরিপূর্ণ বাংলাদেশ

Posted on by 0 comment
3-4-2018 8-05-13 PM

3-4-2018 8-05-13 PMরাজিয়া সুলতানাঃ বাংলাদেশ একটি নদীমাতৃক দেশ। রয়েছে প্রায় ৩১০টি বা কারও মতে ২৩০টি নদী, দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলে প্রায় ৬০০টি বাঁওড়, সিলেট বিভাগে রয়েছে অসংখ্য হাওড়। তাছাড়া আরও রয়েছে খাল-বিল, নালা, হ্রদ, পুকুর ইত্যাদি। এই বিশাল স্বাদু পানির এলাকাগুলো মৎস্য সম্পদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ স্থান। তা ছাড়া রয়েছে বিশাল সমুদ্র ভা-ার। তাই আমরা আমাদের দেখতে পাই ‘মাছে-ভাতে বাঙালি’ সত্ত্বায়। মাছ নিয়ে এখন আর বাংলাদেশে হাহাকার নেই। মাছে পরিপূর্ণ সুজলা-সুফলা বাংলাদেশ। এখন আর খাদ্য তালিকায় বিদেশি পণ্য হিসেবে মাছকে রাখা হয় না। বরং মাছ উৎপাদনে স্বয়ং সম্পন্ন বাংলাদেশে থেকে বিপুল পরিমাণ মাছ রপ্তানি করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত রূপকল্প ২০২১-এ উল্লিখিত লক্ষ্যমাত্রা (৪৫ লাখ মেট্রিক টন মাছ) অর্জনের জন্য মৎস্য অধিদফতরের আওতায় এবং ব্যক্তি উদ্যোক্তারা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ফলে মৎস্য ভা-ারে অর্জিত হচ্ছে দৃশ্যমান সাফল্য। স্বাধীনতার ৪৬ বছর পর বাংলাদেশ আজ মৎস্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পন্ন। মৎস্য খাত বর্তমানে দেশের মোট জিডিপির ৩ দশমিক ৬১ শতাংশ এবং কৃষিজ জিডিপির ২৪ দশমিক ৪১ শতাংশের জোগান দিচ্ছে। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে মাছ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪০ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন, যা ছাড়িয়ে উৎপাদন হয়েছে ৪১ লাখ ৩৪ হাজার মেট্রিক টন। বলা বাহুল্য মাংস উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা (৭১ লাখ ৩৫ হাজার মেট্রিক টন) ছাড়িয়েও উৎপাদন হয়েছে ৭১ লাখ ৫৪ হাজার মেট্রিক টন। অর্থাৎ চাহিদা অনুযায়ী মাছ ও মাংস উৎপাদনে বাংলাদেশ এখন স্বয়ংসম্পূর্ণ। সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী মাছ রপ্তানি করে সরকারের বছরে আয় করেছে সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা।
দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও মানবদেহের পুষ্টির চাহিদা পূরণে মৎস্য সম্পদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। মানুষের দৈনন্দিন খাদ্য তালিকায় আমিষের ৬০ শতাংশই আসে মাছ থেকে। তাই শিক্ষা, স্বাস্থ্য খাতে পর মৎস্য খাতকে গুরুত্ব দিয়ে বর্তমান সরকার নানা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছে এবং করছে। যেমন আধুনিক পদ্ধতিতে মৎস্য চাষ ব্যবস্থাপনা, অপ্রচলিত মৎস্য পণ্য উৎপাদন, বিল নার্সারি কার্যক্রম বাস্তবায়ন, ব্যবস্থাপনা প্রবর্তন, প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্রের উন্নয়ন ও সংরক্ষণ, জাটকা সংরক্ষণ, ডিমওয়ালা ইলিশ রক্ষা, অভয় আশ্রম, মৎস্য সংরক্ষণ আইন কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন, দরিদ্র জেলেদের আপদকালীন খাদ্য সহায়তা প্রদান ও বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিসহ সকল কর্মসূচির সফল বাস্তবায়নের ফলে মৎস্য উৎপাদনে প্রবৃদ্ধি বেড়ে চলছে। এসব কাজের ফলে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার মূল্যায়নে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ মুক্ত জলাশয়ে মৎস্য উৎপাদনে বিশ্বে চতুর্থ স্থান এবং বদ্ধ জলাশয়ে মৎস্য উৎপাদানে পঞ্চম স্থান অধিকার করেছে। তাছাড়া সামুদ্রিক মাছ আহরণের দিক থেকে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান ২৫তম। ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে সমুদ্রজয়ের পর বঙ্গোপসাগর থেকে বাংলাদেশের মৎস্য আহরণ কয়েক গুণ বাড়বে। আগামী ২০২২ সাল নাগাদ বিশ্বে যে ৪টি দেশ মাছ চাষে ব্যাপক সাফল্য অর্জন করবে, তার শীর্ষে রয়েছে বাংলাদেশ। এরপরই আছে থাইল্যান্ড, ভারত ও চীনের নাম। মাছ উৎপাদনে শীর্ষ দেশগুলোর তালিকায় মিয়ানমারও এগিয়ে আসছে। শুধু দেশ নয়, বিদেশের চাহিদা মেটাতে এখন মাছ রপ্তানি করছে বাংলাদেশ।
আমাদের এ সাফল্যে মুখ্য ভূমিকা পালন করছে নোনা ও মিষ্টি পানির ইলিশ ও চিংড়ি, অভয়াশ্রমের চিতল, ফলি, বামোস, কালিবাউস, আইড়, টেংরা, মেনি, রানি, সরপুটি, মধু পাবদা, রিটা ও গজার, চাষকৃত মাছের মধ্যে তেলাপিয়া, পাঙ্গাশ, কমনকার্প, বিগহেড কার্প, থাইপুটি, মিররকার্প, চোষক মাছ, ব্লাক কার্প, থাই পাঙ্গাস, আফ্রিকান মাগুর, মিল্কফিশ, সিলভার কার্প, গ্রাস কার্প, ভিয়েতনামের কই, থাই কই, আফ্রিকান মাগুর, রুই ও কাতল ইত্যাদি। তবে উৎপাদিত মাছের প্রায় ২০ শতাংশ আসে রুই-কাতলা থেকে। এছাড়া ১৬ শতাংশ পাঙাশ, ১০ দশমিক ১৮ শতাংশ ইলিশ, প্রায় ১০ শতাংশ তেলাপিয়া থেকে। বিশেষ করে ময়মনসিংহ, গাজীপুর, বগুড়া ও কুমিল্লা জেলায় পুকুরে এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোতে ঘেরে মাছ চাষের ফলে এই অবস্থানে এসেছে বাংলাদেশের মৎস্য খাত। বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত করার ঘোষণার প্রধান লক্ষ্য হলো দারিদ্র্য নিরসন। দরিদ্রতা হ্রাসের অন্যতম উপায় হচ্ছে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা। মৎস্য খাত এ কর্মসংস্থান সৃষ্টি বিশাল ভূমিকা রাখছে। প্রতিবছর এ খাতে প্রায় ৬ লাখ লোকের নতুন কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হচ্ছে। গত ১০ বছরে প্রায় পুরুষ-মহিলা নির্বিশেষে দেশের ১১ শতাংশের অধিক বা প্রায় ১৭১ লাখ লোক তাদের জীবন-জীবিকার জন্য প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে মৎস্য উপ-খাতের ওপর নির্ভরশীল। মৎস্য সেক্টরে সংশ্লিষ্ট এ জনগোষ্ঠীর মধ্যে প্রায় ১০ শতাংশ নারী, যা দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ১ শতাংশ। এ ছাড়াও বিগত পাঁচ বছরে এই সেক্টরে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে অতিরিক্ত বার্ষিক ৬ লক্ষাধিক দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন সমীক্ষায় দেখা যায়, বর্তমানে মৎস্য প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানাগুলোতে নিয়োজিত শ্রমিকের ৮০ শতাংশের অধিক নারী।
কর্মসংস্থান, দারিদ্র্যবিমোচন, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন ইত্যাদির সাথে সাথে মৎস্য সম্পদের যে দিকটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তা হলো এর পুষ্টিগুণ। মাছ মানুষের দেহের বিভিন্ন ভিটামিনের অভাব বিশেষত ভিটামিন-এ এবং ভিটামিন-ই মাছ থেকেই পূরণসহ অত্যাবশ্যকীয় খনিজ লবণের জোগান দেয়। দেশীয় ছোট মাছ শিশুদের অন্ধত্ব, রক্ত শূন্যতা, গলগ- প্রভৃতি রোগ প্রতিরোধে সহায়তা করে। শুধু তাই নয়, সম্প্রতি বিজ্ঞানীরা মাছকে সবচেয়ে নিরাপদ আমিষের উৎস হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। এতে অত্যাবশ্যকীয় অ্যামাইনো এসিডের সবগুলোই উপস্থিত। রয়েছে শরীরের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় উপাদান ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড। যা রক্ত চাপকে নিয়ন্ত্রণ করে এবং হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমায়। তাছাড়া রিউম্যাটয়েড, বাত রোগ বা অর্থাইটিস রোগ প্রতিরোধ করে। মাছের অপর নাম মস্তিস্ক খাদ্য। তাছাড়া শিশুদের হাঁপানি, মহিলাদের স্তন ও পুরুষের প্রোস্টেট ক্যানসার প্রতিরোধে সাহায্য করে মাছ। শরীরের বাড়তি ওজন কমাতে ও মেনপোজাল বা পঞ্চাশোর্ধ্ব মহিলাদের দেহ-মন ভালো রাখতে সাহায্যও করে মাছ। শিশুদের মস্তিস্কের বিকাশ ও চোখের উপকারীতার জন্য অসবৎরপধহ ঐবধৎঃ অংংড়পরধঃরড়হ সপ্তাহে কমপক্ষে দুবার মাছ খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। মাছের ভিটামিন-এ চোখ ও ত্বকের জন্য উপকারী এবং রোগ ও বার্ধক্য প্রতিরোধক। তাহলে বলতে হয় আগামী পৃথিবী হওয়া উচিত সম্পূর্ণ মৎস্য সম্পদের অধীনে এবং মাছ হবে প্রধান খাদ্য। আর এ ধ্রুব সত্যকে উপলব্ধি করেই আমাদের মৎস্যপ্রেমী সরকার মৎস্য সম্পদ উন্নয়নের জন্য সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠীকে আধুনিক তথ্য সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি ও উদ্বুদ্ধকরণের নিমিত্তে উন্নত কলাকৌশল ও আধুনিক প্রযুক্তিবিষয়ক তথ্যাবলী বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাহায্যে সরবরাহ ও সেবা প্রদান নিশ্চিত করছে। সমৃদ্ধ ও আলোকিত বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়কে দৃঢ়ভাবে এগিয়ে নিচ্ছে। তবে ফারাক্কা জাতীয় বাঁধের কারণে নদীর নাব্য, তৎসংলগ্ন হাওর-বাঁওড়-বিল ভরাট হয়ে যাওয়া, কল-কারখানার বর্জ্যরে কারণে নদীর পানির দূষণ সৃষ্টি হচ্ছে। যা আমাদের মৎস্য সম্পদের জন্য ঝুঁকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

শ্রেণী:

কৃষির উপখাত প্রাণিসম্পদে বৈপ্লবিক সাফল্য

Posted on by 0 comment

50রাজিয়া সুলতানা: কৃষিপ্রধান বাংলাদেশে কৃষির অন্যতম উপখাত হচ্ছে প্রাণিসম্পদ। সরকার কৃষি খাতের উৎকর্ষ-উৎপাদন বৃদ্ধিতে কার্যকর নীতি, ভর্তুকি সহায়তা ছাড়াও ঋণ কার্যক্রম ও সম্প্রসারণসেবা অব্যাহতভাবে বৃদ্ধি করছে। ফলে কৃষি খাতে বাংলাদেশ ক্রমাগত উন্নয়ন-অগ্রগতিতে সমৃদ্ধ হচ্ছে। তবে প্রাণিসম্পদ খাত সম্ভাবনাময় হওয়ার পরও স্পর্ট লাইটে আসছে না। তারপরও নীরব এক সাফল্যের স্বাক্ষর রেখে চলেছে দেশের প্রাণিসম্পদ খাত।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী দেশজ উৎপাদন বিবেচনায় কৃষি খাতের অবদান প্রায় ১৬ শতাংশ। এর মধ্যে ২ শতাংশ অবদান প্রাণিসম্পদ খাতের। সরকারিভাবে এখন খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিতের পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতি ঢেলে সাজাতে দারিদ্র্য বিমোচন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির নানা উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। আর এজন্য বাড়তি গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে শুধু কৃষি খাতে। তবে উপখাতগুলো আরও গুরুত্ব দিলে দেশের সমৃদ্ধির পথ মসৃণ থাকত।
কৃষির অন্যতম উপখাত পশুসম্পদ দেশের জনগণের শুধু মাংসের চাহিদাই মিটায় না। কৃষকের জমি আবাদে লাঙল টানাসহ পণ্য পরিবহনের কাজেও ব্যবহার হয়। একসময় মাংসের চাহিদার জন্য প্রতিবেশী দেশ ভারত থেকে বিপুল পরিমাণ গরু আদমানি করা হতো। কিন্তু ২০১৪ সালে ভারত বাংলাদেশে গরু রপ্তানি বন্ধ করে দেয়। ফলে দেশীয় চাহিদা মেটাতে সরকার পশুসম্পদের উৎপাদন-প্রজননের ওপর জোর দিয়েছে। চাহিদার পুরোটা উৎপাদন করতে না পারলেও আমদানি-নির্ভরতা অনেকটাই কমে গেছে। সঙ্গে বাড়ছে গরুর দুধ উৎপাদনও। উৎপাদন বৃদ্ধির ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে আমদানির চাহিদা শূন্যের কোটায় নেমে আসবে। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে দেশে মাংস উৎপাদন হয়েছে ৭১ লাখ ৫৪ হাজার টন। পাশাপাশি দুধ উৎপাদন হয়েছে ৯২ লাখ ৮৩ হাজার টন। অন্যদিকে ডিম উৎপাদন হয়েছে প্রায় ১৪৯ কোটি ৩৩ লাখ। দুধ উৎপাদনে এখনও কিছুটা ঘাটতি থাকলেও মাংস ও ডিমের ক্ষেত্রে প্রায় স্বয়ম্ভরতার কাছাকাছি চলে এসেছে বাংলাদেশ। সংকটময় অবস্থা থেকে উত্তরণে সাফল্যের পথ দেখাচ্ছে দেশের প্রাণিসম্পদ খাত। বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের সর্বশেষ তথ্যমতে, দেশে গত বছর তরল দুধের চাহিদা ছিল প্রায় ১ কোটি ৪৮ লাখ ৬৫ হাজার টন। এর বিপরীতে উৎপাদন হয়েছে ৯২ লাখ ৮৩ হাজার টন। অর্থাৎ দেশে গত বছর দুধের ঘাটতি ছিল ৫৫ লাখ ৮২ হাজার টন।
চলতি অর্থবছরে দেশে গরু উৎপাদন হয়েছে ২ কোটি ৩৯ লাখ ৩৫ হাজার, মহিষ ১৪ লাখ ৭৮ হাজার, ভেড়া ৩৪ লাখ এবং ছাগল ২ কোটি ৫৯ লাখ ৩১ হাজার। এছাড়া উৎপাদন হয়েছে ২৭ কোটি ৫২ লাখ মুরগি ও ৫ কোটি ৪০ লাখ হাঁস। গত বছর দেশে প্রাণিসম্পদ খাতে মোট পশু উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ৩৮ কোটি ৩৯ লাখ ৪৫ হাজার। ২০০৭-০৮ অর্থবছরে মোট পশু উৎপাদনের পরিমাণ ছিল মাত্র ৩ কোটি। ২০১২-১৩ অর্থবছরে এর পরিমাণ ছিল ৩৫ কোটি।
পশুসম্পদে বাংলাদেশ ক্রমেই স্বয়ংসম্পূর্ণ হচ্ছে। অথচ বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের গবেষণা বলছে, দেশের বৃহদায়তনের গরুর খামারের সংখ্যা খুবই কম। এক থেকে ৫টি গরুর মালিক, এ ধরনের পরিবারের কাছেই রয়েছে দেশের ৯০ শতাংশ গরু। ৬-১০টি গরুর মালিক পরিবারে রয়েছে প্রায় ৬ শতাংশ গরু। অন্যদিকে ১০টি বা তার বেশি সংখ্যক গরুর মালিক পরিবারের কাছে গরু রয়েছে মাত্র ৪ শতাংশ।
কোরবানির বাজারে সরবরাহের ক্ষেত্রে অনেকটাই স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে উঠেছে বাংলাদেশ। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে সারাদেশে মোট পশু কোরবানি হয়েছিল ১ কোটি ৯ লাখ। চলতি বছর দেশের বাজারে ১ কোটি ১৫ লাখ ৫৭ হাজার পশু সরবরাহ করা হয়েছে। এর মধ্যে গরু ৩৩ লাখ ৩০ হাজার, মহিষ ১১ লাখ ২৭ হাজার এবং ছাগল ও ভেড়া প্রায় ৭১ লাখ। অর্থাৎ দেশে কোরবানিযোগ্য পশুর পরিমাণ বাড়ছে প্রতিবছরই। ২০১৫ সালে এ ধরনের পশুর সংখ্যা ছিল ৯৬ লাখ ৩৫ হাজার। গত বছর তা বেড়ে দাঁড়ায় ১ কোটি ৪ লাখে। এ বছর কোরবানিযোগ্য পশুর সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ১১ লাখ।
২০১৩-১৪ অর্থবছরে রাজশাহী, যশোর, খুলনা, সিলেট ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের ৩১টি করিডর দিয়ে ভারত থেকে আমদানি হয়েছিল ২০ লাখ গরু। তবে পরের অর্থবছর থেকেই দেশে গরু প্রবেশের সংখ্যা কমতে থাকে, যার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে চলতি বছর দেশে প্রবেশকৃত গরুর সংখ্যায়। চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে দেশে গরু প্রবেশ করেছে ৩ লাখ ৬৫ হাজার।
দুধের ঘাটতি মেটানোয় অগ্রগতি দেখা গেলেও এখনও চাহিদার তুলনায় অনেক পিছিয়ে বাংলাদেশ। সরকারের এক গবেষণায় দেখা গেছে, দৈনিক দুধ গ্রহণের তালিকায় দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সর্বনি¤েœ বাংলাদেশ। তালিকার শীর্ষে থাকা পাকিস্তানে মাথাপিছু দৈনিক গড় দুধ গ্রহণের পরিমাণ ৫২০ মিলিলিটার। ভারতে এই পরিমাণ ২২৭ মিলিলিটার। আর বাংলাদেশে মাথাপিছু দুধ গ্রহণের পরিমাণ মাত্র ৫৬ মিলিলিটার। তবে বর্তমানে এ পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি হচ্ছে। দেশে কয়েক বছর ধরে দুধ উৎপাদন বাড়ছে। ২০০৫-০৬ থেকে ২০০৯-১০ অর্থবছর পর্যন্ত দেশে দুধ উৎপাদন ২৩-২৪ লাখ টনের ঘরেই সীমাবদ্ধ ছিল। সেখান থেকে বেড়ে ২০১০-১১ অর্থবছরে তা প্রায় ৩০ লাখ টন, ২০১১-১২ অর্থবছরে ৩৫ লাখ, ২০১২-১৩ অর্থবছরে ৫১ লাখ, ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ৭০ লাখ ও ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ৭৩ লাখ টনে উন্নীত হয়। আর ২০১৬-১৭ অর্থবছরে উৎপাদন হয়েছে ৯২ লাখ ৮৩ হাজার টন দুধ। দেশে দুধের চাহিদা রয়েছে প্রায় ১ কোটি ৫৮ লাখ টন। অর্থাৎ দেশে দুধের ঘাটতি প্রায় ৫৬ লাখ টন।
দুগ্ধ উৎপাদন সক্ষমতায় বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় পিছিয়ে বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়ায় একটি গাভীর দুধ উৎপাদনক্ষমতা বার্ষিক ৪ হাজার ৯২৬ কেজি হলেও বাংলাদেশের গাভীর ক্ষমতা মাত্র ২০৭ কেজি। অন্যদিকে নেপালের গাভীগুলোর ক্ষেত্রে এই সক্ষমতা ৪১৫ কেজি, ভারতের ৯৮৭ ও পাকিস্তানের ১ হাজার ১৯৫ কেজি। পাশাপাশি দেশের মাংস উৎপাদনকারী গরুগুলোকে বিশ্বের অনান্য দেশের তুলনায় অনেক বেশি ঘাস বা খাদ্য খেতে দিতে হয়। অথচ তারা মাংস দিচ্ছে কম। উন্নত বিশ্বে যেখানে সাড়ে তিন-চার কেজি খাদ্য দিলে এক কেজি মাংস উৎপাদন করতে সক্ষম, সেখানে বাংলাদেশের গরুকে দিতে হয় ৭-৮.৫ কেজি। আর সেটি হচ্ছে একমাত্র উন্নত প্রযুক্তি না আসায়। গরুর জাত প্রজননে দেশে এখন ৩০ বছরের আগের ব্রিড নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। স্বাধীনতার পর যে ৪টি জাত দেশে ছাড়া হয়েছিল, এরপর আর দেশে জাত আনা হয়নি। এসব গরুর মধ্যে শতভাগ দেশি জাতের গরুর সংখ্যা ধীরে ধীরে কমে আসছে। বেশির ভাগই সংকর জাতের। দেশের প্রায় ১০ শতাংশ গরু বিদেশি জাত দ্বারা সংকরায়িত। অনেক গরুরই এখন ইনব্রিড শুরু হয়ে গেছে। আর এ কারণে মাংস বা দুধ উৎপাদনক্ষমতা কমে গেছে।
এ খাতের উন্নয়ন করতে আরও উন্নত জাতের ব্রিড আনতে হবে। দেশে মাংস ও দুধ উৎপাদনের জন্য ৪০-৫০ বছর ধরে যে জাত ব্যবহার করা হচ্ছে, সেগুলো পরিবর্তন করতে হবে। উন্নত জাত আনা সম্ভব না হলে যে জাত আছে, সেগুলো আর্টিফিসিয়াল সিমেন বা ফার্টাইল এমব্রয় সিমেন দিয়ে উন্নত করা যেতে পারে।
সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারিভাবে ব্র্যাকের আড়ং, প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ, আকিজ গ্রুপ, রংপুর ডেইরি ফুড অ্যান্ড প্রোডাক্ট লিমিটেড, আবুল মোনেম গ্রুপসহ আরও কিছু প্রতিষ্ঠান বিনিয়োগ করছে। মানুষের আয় বাড়ার কারণে খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন হচ্ছে। পুষ্টিকর খাবারের দিকে ঝুঁকছে সাধারণ মানুষ। ফলে দেশের তরল দুধসহ দুগ্ধ শিল্পের ব্যাপক চাহিদা বাড়ছে।
প্রাণিসম্পদ অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হওয়ার উদ্দেশে গবাদিপ্রাণী ও হাঁস-মুরগি প্রতিপালন করার জন্য খামার গড়ে তুলছে। গবাদিপ্রাণীর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছেÑ গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়া। এগুলো দেশের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। কারণ এসব প্রাণী কৃষি কার্যক্রমসহ বিভিন্ন কাজের চালিকাশক্তি, চামড়া ও সারের জোগান দেয়। এই প্রাণিসম্পদই দেশে মাংস ও দুধের প্রধান উৎস। অর্থাৎ বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রাণিসম্পদের ভূমিকা যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। তাই প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়ন নিশ্চিত এবং মসৃণ করতে গত অর্থবছর থেকে সরকার দুগ্ধ ও পশুপালন খাতের জন্য বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে থোক বরাদ্দ রেখেছে।
পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, মোট জাতীয় উৎপাদনের (জিডিপির) প্রায় ২.৯ শতাংশ জোগান দিচ্ছে প্রাণিসম্পদ খাত এবং এটির বার্ষিক প্রবৃদ্ধির হার ৫.৫ শতাংশ। বাংলাদেশের জনসংখ্যার প্রায় ২০ শতাংশ গবাদি প্রাণী ও হাঁস-মুরগি পালন ও প্রজনন কর্মসূচির আওতায় জীবিকা নির্বাহ করে। জমি চাষ, ভারবহন এবং গোবরের সার ও জ্বালানি সরবরাহে প্রাণিসম্পদের গুরুত্ব অনস্বীকার্য। পাশাপাশি প্রাণীর চামড়া, হাড়, নাড়িভুঁড়ি ও পালক ইত্যাদি বৈদেশিক মুদ্রা আয়ে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে। ভূমিহীন মানুষের জীবিকার হিসেবে প্রাণিসম্পদ প্রধান অবলম্বন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
লেখক : শিক্ষক, গবেষক এবং সমাজকর্মী

শ্রেণী:

বিশ্বের সৎ নেতার তালিকায় শেখ হাসিনা তৃতীয়

15

15উত্তরণ প্রতিবেদন: প্যারাডাইস পেপার্স আর পানামা পেপার্সের পর এবার পিপলস অ্যান্ড পলিটিকস, বিশ্বের পাঁচ সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানকে চিহ্নিত করেছে, যাদের কোনো দুর্নীতি স্পর্শ করেনি। এদের বিদেশে কোনো ব্যাংক অ্যাকাউন্টও নেই, উল্লেখ করার মতো কোনো সম্পদও নেই। বিশ্বের সবচেয়ে সৎ এই পাঁচ সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানের তালিকায় তৃতীয় স্থানে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
গত ২২ নভেম্বর জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে সৎ সরকারপ্রধান হিসেবে সারা বিশ্বের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তৃতীয় স্থান অধিকার করায় জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য ফখরুল ইমাম প্রধানমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া জানতে চান।
পিপলস অ্যান্ড পলিটিকসের গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ শিরোনাম হয়েছে। খবরে বলা হয়, বিশ্ব রাজনীতিতে যাদের সৎ ভাবা হতো, যাদের অনুকরণীয় মনে করা হতো তাদের অনেকেই কলঙ্কিত হয়েছেন পানামা পেপার্স এবং প্যারাডাইস পেপার্সে। তবে বিপরীতধর্মী প্রতিবেদন ৫টি প্রশ্নের উত্তর খুঁজে নেতৃত্বের সততার মান বিচার হয়েছে। প্রথম প্রশ্ন ছিল, সরকার/রাষ্ট্রপ্রধান হয়ে তিনি কি তার রাষ্ট্রের বাইরে কোনো ব্যাংক অ্যাকাউন্ট করেছে? দ্বিতীয় প্রশ্ন ছিল, ক্ষমতায় আসীন হওয়ার পর তার ব্যক্তিগত সম্পদ কতটুকু বেড়েছে। তৃতীয় প্রশ্ন ছিল, গোপন সম্পদ গড়েছেন কি না। চতুর্থ প্রশ্ন সরকার/রাষ্ট্রপ্রধানের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট দুর্নীতির অভিযোগ আছে কি না। আর পঞ্চম প্রশ্ন ছিল, দেশের জনগণ তার সম্পর্কে কী ভাবেন?
এই ৫টি উত্তর নিয়ে পিপলস অ্যান্ড পলিটিকস ১৭৩ দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানের কর্মকা- বিশ্লেষণ করেছে। এই গবেষণায় সংস্থাটি এ রকম মাত্র ১৭ সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধান পেয়েছেন যারা ৫০ শতাংশ দুর্নীতিমুক্ত হিসেবে উত্তীর্ণ হয়েছেন। ১৭৩ সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানের মধ্যে সবচেয়ে পরিচ্ছন্ন ও সৎ সরকারপ্রধান হিসেবে বিবেচিত হয়েছেন জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মেরকেল। ৫টি প্রশ্নে মোট ১০০ নম্বরের মধ্যে তিনি পেয়েছেন ৯০।
সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী লি সিয়েন লুং ৮৮ পেয়ে সৎ সরকারপ্রধানদের তালিকায় দ্বিতীয় হয়েছেন আর ৮৭ নম্বর পেয়ে এই তালিকায় তৃতীয় স্থানে আছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ৮৫ নম্বর পেয়ে বিশ্বে চতুর্থ সৎ সরকারপ্রধান বিবেচিত হয়েছেন নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী ইরনা সোলবার্গ। আর ৮১ নম্বর পেয়ে এই তালিকায় পঞ্চম স্থানে আছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি।
পিপলস অ্যান্ড পলিটিকসের গবেষণায় দেখা গেছে, শেখ হাসিনার বাংলাদেশের বাইরে কোনো ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নেই। সংস্থাটি গবেষণায় দেখেছে, বেতন ছাড়া শেখ হাসিনার সম্পদের স্থিতিতে কোনো সংযুক্তি নেই। শেখ হাসিনার কোনো গোপন সম্পদ নেই বলে নিশ্চিত হয়েছে পিপলস অ্যান্ড পলিটিকস। শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের ৭৮ শতাংশ মানুষ মনে করেন সৎ এবং ব্যক্তিগত লোভ লালসার ঊর্ধ্বে। তবে, তার সরকারের বিরুদ্ধে কিছু দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে বলে সংস্থাটির গবেষণা প্রতিবেদেন উল্লেখ করা হয়েছে।

বরিশালে হবে ‘শেখ হাসিনা সেনানিবাস’
বরিশালে নতুন একটি সেনানিবাস তৈরির অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামে এই সেনানিবাস স্থাপনে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৬৯৯ কোটি টাকা। চলতি বছর অক্টোবর থেকে শুরু করে ২০২১ সালের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের লক্ষ্য রয়েছে। একনেক বৈঠকে জানানো হয়েছে, বর্তমানে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের বৃহৎ উপকূলীয় এলাকা বরিশাল ও পটুয়াখালীতে কোনো সেনানিবাস নেই। জাতীয় নিরাপত্তা ও কৌশলগত কারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এ অঞ্চলটিতে প্রায়ই প্রাকৃতিক দুর্যোগ সংঘটিত হয়। সেনানিবাস না থাকায় প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় প্রায় ২০০ কিমি দূরে অবস্থিত যশোর সেনানিবাসের সহায়তা নিতে হয়। স্বাধীনতা পরবর্তী সময় হতে যশোর সেনানিবাসকে এ অঞ্চলের ২১টি জেলার প্রতিরক্ষা, দুর্যোগ মোকাবেলা এবং স্থানীয় প্রশাসনকে সহায়তার দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে, যা বর্তমানে প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। সরকার কর্তৃক গৃহীত ফোর্সেস গোল ২০৩০-এর আওতায় এই সেনানিবাসটি বরিশাল ও পটুয়াখালী জেলার মধ্যবর্তী স্থান লেবুখালীতে স্থাপন করা হবে।
গত ১৫ নভেম্বর শেরেবাংলা নগরস্থ এনইসি সম্মেলন কক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেক বৈঠকে মোট ১০টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৩৩৩ কোটি ৬৬ লাখ টাকা এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল (জিওবি) ৩ হাজার ৩১৮ কোটি ৩৯ লাখ টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব তহবিল হতে ১৫ কোটি ২৭ লাখ টাকা জোগান দেওয়া হবে। সভা শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এমপি প্রকল্পগুলোর বিষয়ে সাংবাদিকদের অবহিত করেন।
মন্ত্রী বলেন, দক্ষিণাঞ্চলজুড়ে সরকারের নেওয়া কিছু মেগা প্রকল্পের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেনানিবাসটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সভায় ৭১২ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে মংলা বন্দর চ্যানেলের আউটার বারে ড্রেজিং প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

শ্রেণী:

‘বাংলাদেশ স্বপ্নের পরমাণু যুগে প্রবেশ করল’

9
9

‘বাংলাদেশ স্বপ্নের পরমাণু যুগে প্রবেশ করল’ এই পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণ খরচ বেশি হলেও একবার নির্মাণ হয়ে গেলে অল্প খরচেই বিদ্যুতের চাহিদা মিটবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশে যে বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে তার অন্তত ১০ ভাগ এই বিদ্যুৎ কেন্দ্র পূরণ করতে সক্ষম হবে।

উত্তরণ ডেস্ক: নিরাপত্তার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশ স্বপ্নের পরমাণু যুগে প্রবেশ করল আজ। বহুল প্রতীক্ষিত দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের ক্ষেত্রে পারমাণবিক ও রেডিওলজিক্যাল নিরাপত্তার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করেছে। গত ৩০ নভেম্বর সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পাবনার ঈশ্বরদীর রূপপুরে নির্মাণস্থলে যে ভিতের ওপর পরমাণু চুল্লি তৈরি হবে তাতে কংক্রিট ঢালাই শুরু করে নির্মাণ কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) গাইডলাইন অক্ষরে অক্ষরে অনুসরণ করছি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী আইএইএ’র সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রক্ষা করে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের প্রতিটি স্তরে নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করছে। যে কোনো দুর্যোগে আমাদের এই পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে কোনো প্রকার দুর্ঘটনা যাতে না ঘটে, সেটি খেয়াল রেখে এই প্লান্টের ডিজাইন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, পারমাণবিক শক্তির নিরাপদ এবং সুরক্ষিত প্রয়োগ নিশ্চিত করা এবং দেশের সর্বপ্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের লক্ষ্যে দেশের জাতীয় পারমাণবিক নিয়ন্ত্রণ অবকাঠামো শক্তিশালী করার জন্য আমরা বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ আইন-২০১২ প্রণয়ন করেছি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ নামে একটি স্বাধীন পারমাণবিক নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ গঠন করা হয়েছে। এই সংস্থা সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য ইতোমধ্যে আইএইএ এবং রাশিয়ার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক স্থাপন করেছে।
তিনি বলেন, অত্যন্ত স্বচ্ছতার সঙ্গে আমরা আমাদের পারমাণবিক কর্মসূচি এগিয়ে নিচ্ছি। বাংলাদেশ ইতোমধ্যে পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ সংক্রান্ত সকল ধরনের আন্তর্জাতিক চুক্তি এবং প্রটোকলে অনুস্বাক্ষর করেছে। এই পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষ জনবল তৈরির জন্য প্রশিক্ষণসহ অন্যান্য কার্যকর উদ্যোগ আমরা গ্রহণ করেছি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরিবেশ ও মানুষের যাতে ক্ষতি না হয় তার জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। যে কোনো পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তার কারণ তার ব্যবহৃত জ্বালানি বা বর্জ্য অপসারণ ব্যবস্থাপনা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, রুশ ফেডারেশন এসব বর্জ্য তাদের দেশে ফেরত নিয়ে যাবে। এ ব্যাপারে রাশিয়ার সঙ্গে আমাদের চুক্তি হয়েছে।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরিফ এমপি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান ডা. আ ফ ম রুহুল হক এমপি, রাশিয়ার রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত নির্মাণ সংস্থা রোসাটামের মহাপরিচালক এ্যালেক্সি লেখাচভ এবং আইএইএ’র পরিচালক দোহি হ্যান অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তৃতা প্রদান করেন এবং প্রকল্প পরিচালক ড. মো. শওকত আকবর প্রকল্পের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
এই বিদ্যুৎকেন্দ্র ২০২৪ সালের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে ২৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের জোগান দেবে। রোসাটামের মাধ্যমে রাশিয়ার আর্থিক, কারিগরি ও প্রযুক্তিগত সহায়তায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের আওতায় বাংলাদেশ আণবিক শক্তি কমিশন এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এ লক্ষ্যে ২০১৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর বাংলাদেশ আণবিক শক্তি কমিশন ও জেএসসি এ্যাটমস্ট্রোস্পোর্টের মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এই রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ চুক্তিতে আণবিক শক্তি কমিশনের চেয়ারম্যান মো. মনিরুল আলম ও এ্যাটমস্ট্রোস্পোর্টের ভাইস প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির এন সাভুসকিন স্বাক্ষর করেন। রোসাটাম নিযুক্ত রাশিয়ার এ্যাটমস্ট্রোস্পোর্টের ১২ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে এই প্রকল্প নির্মাণ করবে।
২০১৫ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশ রাশিয়ার সঙ্গে দেশের এই সর্ববৃহৎ প্রকল্পের বিনিয়োগ ব্যয় চূড়ান্ত করে। এর আগে ২০১৩ সালের জানুয়ারিতে দুদেশের মধ্যে প্রকল্পের ইঞ্জিনিয়ারিং ডিজাইন, সাইট ডেভেলপমেন্ট ও পার্সোনাল ট্রেনিংয়ের জন্য ৫০০ মিলিয়ন ডলারের রাশিয়ার ঋণ চুক্তি এবং ২০১১ সালে রোসাটামের সঙ্গে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
চুক্তি অনুযায়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রটি স্থাপনে রাশিয়া সব ধরনের সহায়তা দেবে এবং জ্বালানি সরবরাহ করবে ও ব্যবহৃত জ্বালানি ফেরত নেবে। ২৬২ একর জমির ওপর নির্মাণাধীন এই প্রকল্পের দুই ইউনিটের উৎপাদন ক্ষমতা হচ্ছে ২৪০০ মেগাওয়াট।
এজন্য বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধিতে তার সরকার বহুমুখী প্রকল্প গ্রহণ করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তেল, গ্যাস, কয়লা, সৌর, জলবিদ্যুৎ, বায়ু যত রকমভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায়, তারপর ভারতের থেকে বিদ্যুৎ ক্রয় করাÑ সব রকম কাজ কিন্তু আমরা করে যাচ্ছি।
এই পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণ খরচ বেশি হলেও একবার নির্মাণ হয়ে গেলে অল্প খরচেই বিদ্যুতের চাহিদা মিটবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশে যে বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে তার অন্তত ১০ ভাগ এই বিদ্যুৎ কেন্দ্র পূরণ করতে সক্ষম হবে। সবকিছুর মূলে রয়েছে ২০২১ সাল নাগাদ বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করার পরিকল্পনার বাস্তবায়ন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেজন্যই তার সরকার একের পর এক পরিকল্পনা গ্রহণ এবং বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, এই বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে সব ধরনের নিরাপত্তার ব্যবস্থাই কিন্তু করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী এই বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ নিয়ে অহেতুক সমালোচকদের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, এটা নিয়ে যারাই প্রশ্নগুলো তোলেন আমার মনে হয় তাদের ভেতরে একটু আত্মবিশ্বাসের অভাব রয়েছে।
এ সময় ব্যক্তিজীবনে তার চাওয়া-পাওয়ার কিছু নেই উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমার বাবা এ দেশ স্বাধীন করে গেছেন। লাখো শহীদ রক্ত দিয়েছেন। দীর্ঘ ২৩ বছর এ দেশের মানুষ স্বাধীনতার জন্য সংগ্রাম করেছে। এই সংগ্রাম করতে গিয়ে আমাদের আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা কত না নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, জেল-জুলুম সহ্য করেছেন।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী তার বাবা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর জীবনের অধিকাংশ সময়ই কারাগারে থাকার স্মৃতিচারণ করেন।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ আমাদের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই স্বপ্নের শুরু হয়েছিল তদানীন্তন পাকিস্তান আমলে ১৯৬১ সালে। পাকিস্তানিরা আমাদের দেশের টাকা নিয়ে নিজেদের পশ্চিম পাকিস্তানে চলে যেত, আর আমাদের উন্নয়ন করবে বলে কেবল ‘মুলা’ ঝুলিয়ে রাখত। তেমনই ছিল এই পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পটি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জমি অধিগ্রহণসহ বেশ কিছু কাজ তখন সম্পন্ন হয়েছিল। কিন্তু পাকিস্তান সরকার হঠাৎ করে কাজ বন্ধ করে দিয়ে প্রকল্পটি পশ্চিম পাকিস্তানে সরিয়ে নিয়ে যায়।
স্বাধীনতার পর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠনের পাশাপাশি রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করেন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সে সময় দেশের বিশিষ্ট পরমাণু বিজ্ঞানী এবং তার প্রয়াত স্বামী ড. ওয়াজেদও এই প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ছিলেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ঘাতকেরা জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যা করার পর সে কাজ আর এগোয় নি।
তিনি বলেন, এরপর দীর্ঘদিন কোনো সরকারই এ নিয়ে আর কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করেনি। ১৯৯৬ সালে আমরা সরকার পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের কার্যক্রম হাতে নেই।
সরকারপ্রধান বলেন, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের জটিল এবং দীর্ঘ প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন কার্যাবলী সম্পন্ন করতেই তার সরকারের পাঁচ বছর চলে যায় এবং বিএনপি-জামাত ক্ষমতায় এসে প্রকল্পটি আবার বন্ধ করে রাখে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০৯ সালে সরকার পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে আমরা আবার প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করি। বন্ধু-রাষ্ট্র রাশিয়া এটি বাস্তবায়নে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়। এজন্য আমি রাশিয়ান ফেডারেশনের সরকার এবং সে দেশের বন্ধুপ্রতিম জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে ও যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশ পুনর্গঠনেও রাশিয়া এবং সে দেশের জনগণ সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন, ২০২৩ সাল নাগাদ রূপপুর পারমাণবিক কেন্দ্র থেকে ১২০০ মেগাওয়াট এবং পরের বছর আরও ১২০০ মেগাওয়াট মোট ২৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যোগ হবে। এ উপলক্ষে এর আগে প্রধানমন্ত্রী একটি স্মারক ডাকটিকিট ও একটি উদ্বোধনীর খাম অবমুক্ত করেন।
এই বিদ্যুৎকেন্দ্র ২০২৪ সালের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে ২৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের জোগান দেবে। রোসাটামের মাধ্যমে রাশিয়ার আর্থিক, কারিগরি ও প্রযুক্তিগত সহায়তায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের আওতায় বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এ লক্ষ্যে ২০১৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন ও জেএসসি এ্যাটমস্ট্রোস্পোর্টের মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এই রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ চুক্তিতে আণবিক শক্তি কমিশনের চেয়ারম্যান মো. মনিরুল আলম ও এ্যাটমস্ট্রোস্পোর্টের ভাইস প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির এন সাভুসকিন স্বাক্ষর করেন।
রোসাটাম নিযুক্ত রাশিয়ার এ্যাটমস্ট্রোস্পোর্টের ১২ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে এই প্রকল্প নির্মাণ করবে।
২০১৫ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশ রাশিয়ার সঙ্গে দেশের এই সর্ববৃহৎ প্রকল্পের বিনিয়োগ ব্যয় চূড়ান্ত করে। এর আগে ২০১৩ সালের জানুয়ারিতে দুদেশের মধ্যে প্রকল্পের ইঞ্জিনিয়ারিং ডিজাইন, সাইট ডেভেলপমেন্ট ও পার্সোনাল ট্রেনিংয়ের জন্য ৫০০ মিলিয়ন ডলারের রাশিয়ার ঋণ চুক্তি এবং ২০১১ সালে রোসাটামের সঙ্গে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
চুক্তি অনুযায়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রটি স্থাপনে রাশিয়া সব ধরনের সহায়তা দেবে এবং জ্বালানি সরবরাহ করবে ও ব্যবহৃত জ্বালানি ফেরত নেবে।
২৬২ একর জমির ওপর নির্মাণাধীন এই প্রকল্পের দুই ইউনিটের উৎপাদন ক্ষমতা হচ্ছে ২৪০০ মেগাওয়াট।
২০১৩ সালের ২ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পাবনার ঈশ্বরদীর রূপপুরে এই পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

শ্রেণী:

বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ : বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য

08

08উত্তরণ প্রতিবেদন: জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ এবার ‘বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য’র স্বীকৃতি পেল ইউনেস্কো থেকে। ভাষণটি সংস্থাটির ‘মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল রেজিস্টার’-এ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। গত ৩১ অক্টোবর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ইউনেস্কো মহাপরিচালক ইরিনা বোকোভা ৩০ অক্টোবর প্যারিসে ইউনেস্কোর কার্যালয়ে এ সিদ্ধান্তের ঘোষণা দিয়েছেন।
জাতির জাগরণে, একটি রাষ্ট্র গঠনের ক্ষেত্রে, দিনের পর দিন সশস্ত্র গেরিলা ও তাদের সমর্থক, সহায়তাকারী, আশ্রয়দাতা নিরস্ত্র মানুষকে উদ্দীপ্ত রাখতে ৭ মার্চের ঐতিহাসিক, দিক-নির্দেশনামূলক ভাষণের ভূমিকা অবশ্য অনেক আগে থেকেই বিশ্বের বিভিন্ন গবেষণা ও আলোচনায় স্বীকৃতি পেয়ে আসছে। বিশ্লেষকরা নিশ্চিত, বর্তমানে ও ভবিষ্যতেও বিশ্বের অবহেলিত, নির্যাতিত, বঞ্চিত জনগোষ্ঠীকে এ ভাষণ বিপুল অনুপ্রেরণা জোগাবে।
যেভাবে সিদ্ধান্ত এলো : ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণকে স্বীকৃতি দেওয়ার এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় ইউনেস্কোর বিশ্ব স্মৃতি বা মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড (এমওডব্লিউ) কার্যক্রমের আন্তর্জাতিক পরামর্শক কমিটি বা ইন্টারন্যাশনাল অ্যাডভাইজরি কমিটির (আইএসি) বৈঠকে। প্যারিসে ইউনেস্কোর সদর দফতরে ২৪-২৭ অক্টোবর পর্যন্ত চার দিনের বৈঠকে আইএসি ৭৮টি দলিল বা বিষয়কে দ্য মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল রেজিস্টারের জন্য মনোনয়ন দেয়। এগুলোর মধ্যে এই ভাষণও রয়েছে।
তবে বিষয়টি এখানেই চূড়ান্ত হয় না। নিয়ম অনুযায়ী, আইএসির সুপারিশে মহাপরিচালকেরও সম্মতি থাকতে হয়। না হলে কোনো দলিল তালিকায় যুক্ত হয় না। মহাপরিচালক ইরিনা বোকোভা ৭৮টি দলিলের তালিকায় সম্মতি দিয়ে তা ইউনেস্কোর নির্বাহী পরিষদে পাঠিয়ে দেন। গত ৩০ অক্টোবর আনুষ্ঠানিকভাবে দলিলের এই তালিকা প্রকাশিত হয়।
মনোনয়নগুলোতে সম্মতি দেওয়ার সময় মহাপরিচালক ইরিনা বোকোভা মন্তব্য করেন, ‘আমি গভীর ও দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, এ কর্মসূচি দালিলিক ঐতিহ্য ও স্মৃতি সংরক্ষণের লক্ষ্যে পরিচালিত হওয়া উচিত। যাতে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম সংলাপ, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, পারস্পরিক বোঝাপড়া ও শান্তির চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে তা মনের মধ্যে লালন করতে পারে।’
ইউনেস্কোর আইএসির এ বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের ন্যাশনাল আর্কাইভসের মহাপরিচালক ড. আবদুল্লাহ আলরাইসি। পৃথিবীর বিভিন্ন পর্যায় থেকে আসা বিভিন্ন প্রস্তাব দুবছর ধরে পর্যালোচনার মধ্য দিয়ে এই তালিকা চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে তার সাথে ছিলেন বিশ্বের বিখ্যাত আরও ১৪ জন বিশেষজ্ঞ সদস্য।
ইউনেস্কোর এবারের বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্যের এই তালিকায় আরও রয়েছে ফ্রান্সের ‘আর্কাইভস অব পেরে কাস্টর’, যুক্তরাজ্যের ‘দ্য অরওয়েল পেপার’, ইসরায়েলের ‘ইসরায়েল ফোকলোর আর্কাইভস’, জার্মানির ‘ফ্রাঙ্কফুর্ট অসউইজ ট্রায়াল’ ও ‘কনস্টিটুসিও আনতোনিনিয়ানা’ ইত্যাদি। ভারতের দুটি বিষয়ও এই তালিকায় রয়েছে।
ইউনেস্কোর এ স্বীকৃতির প্রতিক্রিয়ায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী এমপি বলেছেন, বিশ্ববাসী এখন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে আরও ভালোভাবে জানতে পারবে।
পরিপ্রেক্ষিত : ৪৬ বছর আগে ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাতির এক ক্রান্তিকালে স্বাধীনতাকামী ৭ কোটি মানুষের প্রতি ১৯ মিনিটের এই ভাষণ রাখতে গিয়ে বঙ্গবন্ধু যে যুক্তিপূর্ণ অথচ আবেগময়, সংক্ষিপ্ত অথচ সুদূরপ্রসারী, ইঙ্গিতপূর্ণ অথচ অর্থবহ বাক্য ব্যবহার করেন, বাংলাদেশের মানুষকে তা আজও উদ্দীপ্ত করে তোলে। এ বক্তব্যের ব্যাখ্যা, বিশ্নেষণ ও গবেষণায় নিত্যনতুন দিক উন্মোচিত হচ্ছে।
১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ঐতিহাসিক বিজয়ের পর ১৯৭১ সালের ১ মার্চ সামরিক জান্তা ইয়াহিয়া খান জাতীয় পরিষদের অধিবেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করলে বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে বাঙালি জাতি অসহযোগ আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ে। এমন প্রেক্ষাপটে ৭ মার্চের এই ভাষণটি ছিল জনগণের কাছে গেরিলা মুক্তিযুদ্ধের দিক-নির্দেশক। এই ভাষণের মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতি বিশ্ব ইতিহাসের নতুন এক শিখরে পৌঁছে। বিশ্ববাসীও নিশ্চিত হয়ে যায়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ স্বাধীনতার পথে হাঁটছে।
‘এ এক অনন্য কীর্তি’ : ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ ইউনেস্কোর ‘মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল রেজিস্টার’-এ অন্তর্ভুক্তির ঘটনা বঙ্গবন্ধুর মহান কীর্তির অনন্য স্বীকৃতি। এর ফলে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ সারাবিশ্বকে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে সমানভাবে আলোড়িত করবে। গত ৩১ অক্টোবর সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী এমপি।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের ইংরেজি রূপান্তরও করা হয়েছে। এটি প্রচারও করা হচ্ছে। এএইচ মাহমুদ আলী বলেন, গত বছরের শুরুতে ইউনেস্কোতে নিযুক্ত বাংলাদেশের তৎকালীন স্থায়ী প্রতিনিধি শহীদুল ইসলামকে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণকে ‘মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল রেজিস্টার’-এ অন্তর্ভুক্তির সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের নির্দেশ দেয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। পরে তথ্য মন্ত্রণালয় ও মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর কর্তৃপক্ষের সাথে পরামর্শ করে ভাষণটির মনোনয়ন সংক্রান্ত প্রস্তাব ইউনেস্কোতে দাখিল করা হয়।

শ্রেণী: