‘বাংলাদেশ স্বপ্নের পরমাণু যুগে প্রবেশ করল’

9
9

‘বাংলাদেশ স্বপ্নের পরমাণু যুগে প্রবেশ করল’ এই পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণ খরচ বেশি হলেও একবার নির্মাণ হয়ে গেলে অল্প খরচেই বিদ্যুতের চাহিদা মিটবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশে যে বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে তার অন্তত ১০ ভাগ এই বিদ্যুৎ কেন্দ্র পূরণ করতে সক্ষম হবে।

উত্তরণ ডেস্ক: নিরাপত্তার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশ স্বপ্নের পরমাণু যুগে প্রবেশ করল আজ। বহুল প্রতীক্ষিত দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের ক্ষেত্রে পারমাণবিক ও রেডিওলজিক্যাল নিরাপত্তার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করেছে। গত ৩০ নভেম্বর সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পাবনার ঈশ্বরদীর রূপপুরে নির্মাণস্থলে যে ভিতের ওপর পরমাণু চুল্লি তৈরি হবে তাতে কংক্রিট ঢালাই শুরু করে নির্মাণ কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) গাইডলাইন অক্ষরে অক্ষরে অনুসরণ করছি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী আইএইএ’র সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রক্ষা করে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের প্রতিটি স্তরে নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করছে। যে কোনো দুর্যোগে আমাদের এই পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে কোনো প্রকার দুর্ঘটনা যাতে না ঘটে, সেটি খেয়াল রেখে এই প্লান্টের ডিজাইন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, পারমাণবিক শক্তির নিরাপদ এবং সুরক্ষিত প্রয়োগ নিশ্চিত করা এবং দেশের সর্বপ্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের লক্ষ্যে দেশের জাতীয় পারমাণবিক নিয়ন্ত্রণ অবকাঠামো শক্তিশালী করার জন্য আমরা বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ আইন-২০১২ প্রণয়ন করেছি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ নামে একটি স্বাধীন পারমাণবিক নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ গঠন করা হয়েছে। এই সংস্থা সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য ইতোমধ্যে আইএইএ এবং রাশিয়ার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক স্থাপন করেছে।
তিনি বলেন, অত্যন্ত স্বচ্ছতার সঙ্গে আমরা আমাদের পারমাণবিক কর্মসূচি এগিয়ে নিচ্ছি। বাংলাদেশ ইতোমধ্যে পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ সংক্রান্ত সকল ধরনের আন্তর্জাতিক চুক্তি এবং প্রটোকলে অনুস্বাক্ষর করেছে। এই পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষ জনবল তৈরির জন্য প্রশিক্ষণসহ অন্যান্য কার্যকর উদ্যোগ আমরা গ্রহণ করেছি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরিবেশ ও মানুষের যাতে ক্ষতি না হয় তার জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। যে কোনো পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তার কারণ তার ব্যবহৃত জ্বালানি বা বর্জ্য অপসারণ ব্যবস্থাপনা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, রুশ ফেডারেশন এসব বর্জ্য তাদের দেশে ফেরত নিয়ে যাবে। এ ব্যাপারে রাশিয়ার সঙ্গে আমাদের চুক্তি হয়েছে।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরিফ এমপি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান ডা. আ ফ ম রুহুল হক এমপি, রাশিয়ার রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত নির্মাণ সংস্থা রোসাটামের মহাপরিচালক এ্যালেক্সি লেখাচভ এবং আইএইএ’র পরিচালক দোহি হ্যান অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তৃতা প্রদান করেন এবং প্রকল্প পরিচালক ড. মো. শওকত আকবর প্রকল্পের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
এই বিদ্যুৎকেন্দ্র ২০২৪ সালের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে ২৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের জোগান দেবে। রোসাটামের মাধ্যমে রাশিয়ার আর্থিক, কারিগরি ও প্রযুক্তিগত সহায়তায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের আওতায় বাংলাদেশ আণবিক শক্তি কমিশন এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এ লক্ষ্যে ২০১৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর বাংলাদেশ আণবিক শক্তি কমিশন ও জেএসসি এ্যাটমস্ট্রোস্পোর্টের মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এই রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ চুক্তিতে আণবিক শক্তি কমিশনের চেয়ারম্যান মো. মনিরুল আলম ও এ্যাটমস্ট্রোস্পোর্টের ভাইস প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির এন সাভুসকিন স্বাক্ষর করেন। রোসাটাম নিযুক্ত রাশিয়ার এ্যাটমস্ট্রোস্পোর্টের ১২ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে এই প্রকল্প নির্মাণ করবে।
২০১৫ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশ রাশিয়ার সঙ্গে দেশের এই সর্ববৃহৎ প্রকল্পের বিনিয়োগ ব্যয় চূড়ান্ত করে। এর আগে ২০১৩ সালের জানুয়ারিতে দুদেশের মধ্যে প্রকল্পের ইঞ্জিনিয়ারিং ডিজাইন, সাইট ডেভেলপমেন্ট ও পার্সোনাল ট্রেনিংয়ের জন্য ৫০০ মিলিয়ন ডলারের রাশিয়ার ঋণ চুক্তি এবং ২০১১ সালে রোসাটামের সঙ্গে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
চুক্তি অনুযায়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রটি স্থাপনে রাশিয়া সব ধরনের সহায়তা দেবে এবং জ্বালানি সরবরাহ করবে ও ব্যবহৃত জ্বালানি ফেরত নেবে। ২৬২ একর জমির ওপর নির্মাণাধীন এই প্রকল্পের দুই ইউনিটের উৎপাদন ক্ষমতা হচ্ছে ২৪০০ মেগাওয়াট।
এজন্য বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধিতে তার সরকার বহুমুখী প্রকল্প গ্রহণ করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তেল, গ্যাস, কয়লা, সৌর, জলবিদ্যুৎ, বায়ু যত রকমভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায়, তারপর ভারতের থেকে বিদ্যুৎ ক্রয় করাÑ সব রকম কাজ কিন্তু আমরা করে যাচ্ছি।
এই পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণ খরচ বেশি হলেও একবার নির্মাণ হয়ে গেলে অল্প খরচেই বিদ্যুতের চাহিদা মিটবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশে যে বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে তার অন্তত ১০ ভাগ এই বিদ্যুৎ কেন্দ্র পূরণ করতে সক্ষম হবে। সবকিছুর মূলে রয়েছে ২০২১ সাল নাগাদ বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করার পরিকল্পনার বাস্তবায়ন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেজন্যই তার সরকার একের পর এক পরিকল্পনা গ্রহণ এবং বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, এই বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে সব ধরনের নিরাপত্তার ব্যবস্থাই কিন্তু করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী এই বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ নিয়ে অহেতুক সমালোচকদের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, এটা নিয়ে যারাই প্রশ্নগুলো তোলেন আমার মনে হয় তাদের ভেতরে একটু আত্মবিশ্বাসের অভাব রয়েছে।
এ সময় ব্যক্তিজীবনে তার চাওয়া-পাওয়ার কিছু নেই উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমার বাবা এ দেশ স্বাধীন করে গেছেন। লাখো শহীদ রক্ত দিয়েছেন। দীর্ঘ ২৩ বছর এ দেশের মানুষ স্বাধীনতার জন্য সংগ্রাম করেছে। এই সংগ্রাম করতে গিয়ে আমাদের আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা কত না নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, জেল-জুলুম সহ্য করেছেন।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী তার বাবা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর জীবনের অধিকাংশ সময়ই কারাগারে থাকার স্মৃতিচারণ করেন।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ আমাদের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই স্বপ্নের শুরু হয়েছিল তদানীন্তন পাকিস্তান আমলে ১৯৬১ সালে। পাকিস্তানিরা আমাদের দেশের টাকা নিয়ে নিজেদের পশ্চিম পাকিস্তানে চলে যেত, আর আমাদের উন্নয়ন করবে বলে কেবল ‘মুলা’ ঝুলিয়ে রাখত। তেমনই ছিল এই পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পটি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জমি অধিগ্রহণসহ বেশ কিছু কাজ তখন সম্পন্ন হয়েছিল। কিন্তু পাকিস্তান সরকার হঠাৎ করে কাজ বন্ধ করে দিয়ে প্রকল্পটি পশ্চিম পাকিস্তানে সরিয়ে নিয়ে যায়।
স্বাধীনতার পর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠনের পাশাপাশি রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করেন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সে সময় দেশের বিশিষ্ট পরমাণু বিজ্ঞানী এবং তার প্রয়াত স্বামী ড. ওয়াজেদও এই প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ছিলেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ঘাতকেরা জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যা করার পর সে কাজ আর এগোয় নি।
তিনি বলেন, এরপর দীর্ঘদিন কোনো সরকারই এ নিয়ে আর কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করেনি। ১৯৯৬ সালে আমরা সরকার পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের কার্যক্রম হাতে নেই।
সরকারপ্রধান বলেন, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের জটিল এবং দীর্ঘ প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন কার্যাবলী সম্পন্ন করতেই তার সরকারের পাঁচ বছর চলে যায় এবং বিএনপি-জামাত ক্ষমতায় এসে প্রকল্পটি আবার বন্ধ করে রাখে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০৯ সালে সরকার পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে আমরা আবার প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করি। বন্ধু-রাষ্ট্র রাশিয়া এটি বাস্তবায়নে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়। এজন্য আমি রাশিয়ান ফেডারেশনের সরকার এবং সে দেশের বন্ধুপ্রতিম জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে ও যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশ পুনর্গঠনেও রাশিয়া এবং সে দেশের জনগণ সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন, ২০২৩ সাল নাগাদ রূপপুর পারমাণবিক কেন্দ্র থেকে ১২০০ মেগাওয়াট এবং পরের বছর আরও ১২০০ মেগাওয়াট মোট ২৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যোগ হবে। এ উপলক্ষে এর আগে প্রধানমন্ত্রী একটি স্মারক ডাকটিকিট ও একটি উদ্বোধনীর খাম অবমুক্ত করেন।
এই বিদ্যুৎকেন্দ্র ২০২৪ সালের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে ২৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের জোগান দেবে। রোসাটামের মাধ্যমে রাশিয়ার আর্থিক, কারিগরি ও প্রযুক্তিগত সহায়তায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের আওতায় বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এ লক্ষ্যে ২০১৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন ও জেএসসি এ্যাটমস্ট্রোস্পোর্টের মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এই রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ চুক্তিতে আণবিক শক্তি কমিশনের চেয়ারম্যান মো. মনিরুল আলম ও এ্যাটমস্ট্রোস্পোর্টের ভাইস প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির এন সাভুসকিন স্বাক্ষর করেন।
রোসাটাম নিযুক্ত রাশিয়ার এ্যাটমস্ট্রোস্পোর্টের ১২ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে এই প্রকল্প নির্মাণ করবে।
২০১৫ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশ রাশিয়ার সঙ্গে দেশের এই সর্ববৃহৎ প্রকল্পের বিনিয়োগ ব্যয় চূড়ান্ত করে। এর আগে ২০১৩ সালের জানুয়ারিতে দুদেশের মধ্যে প্রকল্পের ইঞ্জিনিয়ারিং ডিজাইন, সাইট ডেভেলপমেন্ট ও পার্সোনাল ট্রেনিংয়ের জন্য ৫০০ মিলিয়ন ডলারের রাশিয়ার ঋণ চুক্তি এবং ২০১১ সালে রোসাটামের সঙ্গে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
চুক্তি অনুযায়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রটি স্থাপনে রাশিয়া সব ধরনের সহায়তা দেবে এবং জ্বালানি সরবরাহ করবে ও ব্যবহৃত জ্বালানি ফেরত নেবে।
২৬২ একর জমির ওপর নির্মাণাধীন এই প্রকল্পের দুই ইউনিটের উৎপাদন ক্ষমতা হচ্ছে ২৪০০ মেগাওয়াট।
২০১৩ সালের ২ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পাবনার ঈশ্বরদীর রূপপুরে এই পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

শ্রেণী:

বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ : বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য

08

08উত্তরণ প্রতিবেদন: জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ এবার ‘বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য’র স্বীকৃতি পেল ইউনেস্কো থেকে। ভাষণটি সংস্থাটির ‘মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল রেজিস্টার’-এ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। গত ৩১ অক্টোবর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ইউনেস্কো মহাপরিচালক ইরিনা বোকোভা ৩০ অক্টোবর প্যারিসে ইউনেস্কোর কার্যালয়ে এ সিদ্ধান্তের ঘোষণা দিয়েছেন।
জাতির জাগরণে, একটি রাষ্ট্র গঠনের ক্ষেত্রে, দিনের পর দিন সশস্ত্র গেরিলা ও তাদের সমর্থক, সহায়তাকারী, আশ্রয়দাতা নিরস্ত্র মানুষকে উদ্দীপ্ত রাখতে ৭ মার্চের ঐতিহাসিক, দিক-নির্দেশনামূলক ভাষণের ভূমিকা অবশ্য অনেক আগে থেকেই বিশ্বের বিভিন্ন গবেষণা ও আলোচনায় স্বীকৃতি পেয়ে আসছে। বিশ্লেষকরা নিশ্চিত, বর্তমানে ও ভবিষ্যতেও বিশ্বের অবহেলিত, নির্যাতিত, বঞ্চিত জনগোষ্ঠীকে এ ভাষণ বিপুল অনুপ্রেরণা জোগাবে।
যেভাবে সিদ্ধান্ত এলো : ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণকে স্বীকৃতি দেওয়ার এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় ইউনেস্কোর বিশ্ব স্মৃতি বা মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড (এমওডব্লিউ) কার্যক্রমের আন্তর্জাতিক পরামর্শক কমিটি বা ইন্টারন্যাশনাল অ্যাডভাইজরি কমিটির (আইএসি) বৈঠকে। প্যারিসে ইউনেস্কোর সদর দফতরে ২৪-২৭ অক্টোবর পর্যন্ত চার দিনের বৈঠকে আইএসি ৭৮টি দলিল বা বিষয়কে দ্য মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল রেজিস্টারের জন্য মনোনয়ন দেয়। এগুলোর মধ্যে এই ভাষণও রয়েছে।
তবে বিষয়টি এখানেই চূড়ান্ত হয় না। নিয়ম অনুযায়ী, আইএসির সুপারিশে মহাপরিচালকেরও সম্মতি থাকতে হয়। না হলে কোনো দলিল তালিকায় যুক্ত হয় না। মহাপরিচালক ইরিনা বোকোভা ৭৮টি দলিলের তালিকায় সম্মতি দিয়ে তা ইউনেস্কোর নির্বাহী পরিষদে পাঠিয়ে দেন। গত ৩০ অক্টোবর আনুষ্ঠানিকভাবে দলিলের এই তালিকা প্রকাশিত হয়।
মনোনয়নগুলোতে সম্মতি দেওয়ার সময় মহাপরিচালক ইরিনা বোকোভা মন্তব্য করেন, ‘আমি গভীর ও দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, এ কর্মসূচি দালিলিক ঐতিহ্য ও স্মৃতি সংরক্ষণের লক্ষ্যে পরিচালিত হওয়া উচিত। যাতে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম সংলাপ, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, পারস্পরিক বোঝাপড়া ও শান্তির চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে তা মনের মধ্যে লালন করতে পারে।’
ইউনেস্কোর আইএসির এ বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের ন্যাশনাল আর্কাইভসের মহাপরিচালক ড. আবদুল্লাহ আলরাইসি। পৃথিবীর বিভিন্ন পর্যায় থেকে আসা বিভিন্ন প্রস্তাব দুবছর ধরে পর্যালোচনার মধ্য দিয়ে এই তালিকা চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে তার সাথে ছিলেন বিশ্বের বিখ্যাত আরও ১৪ জন বিশেষজ্ঞ সদস্য।
ইউনেস্কোর এবারের বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্যের এই তালিকায় আরও রয়েছে ফ্রান্সের ‘আর্কাইভস অব পেরে কাস্টর’, যুক্তরাজ্যের ‘দ্য অরওয়েল পেপার’, ইসরায়েলের ‘ইসরায়েল ফোকলোর আর্কাইভস’, জার্মানির ‘ফ্রাঙ্কফুর্ট অসউইজ ট্রায়াল’ ও ‘কনস্টিটুসিও আনতোনিনিয়ানা’ ইত্যাদি। ভারতের দুটি বিষয়ও এই তালিকায় রয়েছে।
ইউনেস্কোর এ স্বীকৃতির প্রতিক্রিয়ায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী এমপি বলেছেন, বিশ্ববাসী এখন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে আরও ভালোভাবে জানতে পারবে।
পরিপ্রেক্ষিত : ৪৬ বছর আগে ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাতির এক ক্রান্তিকালে স্বাধীনতাকামী ৭ কোটি মানুষের প্রতি ১৯ মিনিটের এই ভাষণ রাখতে গিয়ে বঙ্গবন্ধু যে যুক্তিপূর্ণ অথচ আবেগময়, সংক্ষিপ্ত অথচ সুদূরপ্রসারী, ইঙ্গিতপূর্ণ অথচ অর্থবহ বাক্য ব্যবহার করেন, বাংলাদেশের মানুষকে তা আজও উদ্দীপ্ত করে তোলে। এ বক্তব্যের ব্যাখ্যা, বিশ্নেষণ ও গবেষণায় নিত্যনতুন দিক উন্মোচিত হচ্ছে।
১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ঐতিহাসিক বিজয়ের পর ১৯৭১ সালের ১ মার্চ সামরিক জান্তা ইয়াহিয়া খান জাতীয় পরিষদের অধিবেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করলে বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে বাঙালি জাতি অসহযোগ আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ে। এমন প্রেক্ষাপটে ৭ মার্চের এই ভাষণটি ছিল জনগণের কাছে গেরিলা মুক্তিযুদ্ধের দিক-নির্দেশক। এই ভাষণের মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতি বিশ্ব ইতিহাসের নতুন এক শিখরে পৌঁছে। বিশ্ববাসীও নিশ্চিত হয়ে যায়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ স্বাধীনতার পথে হাঁটছে।
‘এ এক অনন্য কীর্তি’ : ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ ইউনেস্কোর ‘মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল রেজিস্টার’-এ অন্তর্ভুক্তির ঘটনা বঙ্গবন্ধুর মহান কীর্তির অনন্য স্বীকৃতি। এর ফলে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ সারাবিশ্বকে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে সমানভাবে আলোড়িত করবে। গত ৩১ অক্টোবর সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী এমপি।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের ইংরেজি রূপান্তরও করা হয়েছে। এটি প্রচারও করা হচ্ছে। এএইচ মাহমুদ আলী বলেন, গত বছরের শুরুতে ইউনেস্কোতে নিযুক্ত বাংলাদেশের তৎকালীন স্থায়ী প্রতিনিধি শহীদুল ইসলামকে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণকে ‘মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল রেজিস্টার’-এ অন্তর্ভুক্তির সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের নির্দেশ দেয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। পরে তথ্য মন্ত্রণালয় ও মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর কর্তৃপক্ষের সাথে পরামর্শ করে ভাষণটির মনোনয়ন সংক্রান্ত প্রস্তাব ইউনেস্কোতে দাখিল করা হয়।

শ্রেণী:

ভোলায় নতুন কূপ থেকে পরীক্ষামূলক গ্যাস উত্তোলন শুরু

06

06উত্তরণ ডেস্ক: ভোলা জেলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার শাহাবাজপুর গ্যাসফিল্ডের নতুন গ্যাসকূপ ইস্ট-১ থেকে পরীক্ষামূলকভাবে গ্যাস উত্তোলন শুরু করেছে বাপেক্স। গত ১ নভেম্বর সকাল সাড়ে ৮টা থেকে গ্যাস উত্তোলন কার্যক্রম শুরু করা হয়। সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত ২৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে নতুন কূপটিতে চূড়ান্তভাবে গ্যাসের সন্ধান নিশ্চিত করা হলো।
বাপেক্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. নওশাদ ইসলাম জানান, এখানে গ্যাস অনুসন্ধান পরীক্ষার বিভিন্ন উপাত্ত অনুযায়ী গ্যাসের যে পরিমাণ মজুদের ধারণা করা ছিল, তার সাথে বাস্তব অবস্থার মিল পাওয়া গেছে। এখন ২৫ মিলিয়ন গ্যাস পাওয়া গেছে, তবে এর উৎপাদন হারটা ক্রমশই বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে বোঝা যাচ্ছে, এখানে গ্যাসের ভালো মজুদ রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আমরা একটু একটু করে এগুচ্ছি। মাটির ৩ হাজার ৪০০ মিটারের নিচ থেকে গ্যাসটা উত্তোলন চলছে। গ্যাসের প্রবাহটাও বাড়ছে। আশা করছি, ৩০ মিলিয়ন ঘনফুট ছাড়িয়ে যাবে গ্যাসের পরীক্ষামূলক উত্তোলনে। এ প্রক্রিয়াটি আগামী তিন থেকে চার দিন ধরে চলবে বলে জানান তিনি।
গত ৬ আগস্ট বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ এমপি বোরহানউদ্দিনের শাহাবাজপুর গ্যাসফিল্ডের নতুন অনুসন্ধান গ্যাসকূপ খনন কাজের উদ্বোধন করেন। পরে ২৩ অক্টোবর মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম সাংবাদিকদের নতুন গ্যাসক্ষেত্রের ৭০০ বিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সন্ধানের কথা জানান। আর আজ সেই গ্যাস উত্তোলনের পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। এ ছাড়া আরও ৪টি কূপ থেকে এখানে গ্যাস উত্তোলন চলছে।

শ্রেণী:

সক্ষমতা সূচকে ৭ ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ

Posted on by 0 comment

বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় সক্ষমতা সূচকে (জিসিআই) এক বছরে সাত ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ। ১৩৭ দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৯৯তম। গত বছর ১৩৮ দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১০৬তম। জিসিআই পর্যবেক্ষণে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর গত ১৬ বছরের মধ্যে এবারই প্রথম ১০০-র নিচে নেমে আসার সম্মান অর্জন করল বাংলাদেশ। এক ডজন বিষয়ে ভালো অবস্থার ভিত্তিতে এ অবস্থান নির্ণয় করা হয়। এতে গতবারের শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে সুইজারল্যান্ড।
বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) ‘বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় সক্ষমতা প্রতিবেদন ২০১৭-১৮’ শীর্ষক জরিপ প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়। ২০১৬ সালের অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের নির্বাহীদের সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে তৈরি করা এ প্রতিবেদনটি গত ২৭ সেপ্টেম্বর সারাবিশ্বে একযোগে প্রকাশ করা হয়। বাংলাদেশে ডব্লিউইএফের অংশীদার বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) ঢাকায় এ প্রতিবেদন প্রকাশ করে। রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রতিবেদনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন সংস্থার গবেষণা পরিচালক ড. খোন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম। বাংলাদেশে দলনেতা হিসেবে জরিপ গবেষণাটি পরিচালনা করেন তিনি। সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য ও ড. মোস্তাফিজুর রহমান এতে উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, অবকাঠামো উন্নয়ন ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের সূচক এবার বাংলাদেশের অবস্থান উন্নয়নে ইতিচাক প্রভাব ফেলেছে। প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার এখনও বৈশ্বিক তুলনায় নি¤œ পর্যায়ে থাকলেও এ সূচকে গত বছরের ১২৫ থেকে এবার ১০৭তম অবস্থানে আসা সম্ভব হয়েছে। এই সূচকে ১৮ ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ। অবকাঠামো উন্নয়ন সূচকে তিন ধাপ এগিয়েছে। তবে এতদিন বাংলাদেশের ওপরে থাকা তিন দেশ বাদ পড়ার কারণেও সূচকে বাংলাদেশের অগ্রগতি সহজ হয়েছে। জরিপে ১২ পয়েন্টের মধ্যে স্কোর এবং অবস্থান দুই বিবেচনাতেই এগিয়েছে বাংলাদেশ। মোট ৭ স্কোরের মধ্যে বাংলাদেশের স্কোর বেড়েছে ২ দশমিক ৬ শতাংশ। ৩ দশমিক ৭ থেকে স্কোর এখন ৩ দশমিক ৯। ব্যবসা পরিচালনায় মৌলিক প্রয়োজন সূচকে অগ্রগতি বাংলাদেশের অগ্রগতিতে বড় ভূমিকা রেখেছে। এ সূচকে গত বছরের ১০৫ থেকে এবারের অবস্থান ১০১তম।
সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা সূচকে গতবারের তুলনায় ৯ ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ। ৬৫তম অবস্থান থেকে এখন ৫৬তম অবস্থানে বাংলাদেশ। স্বাস্থ্য ও প্রাথমিক শিক্ষায়ও অবস্থান কিছুটা এগিয়েছে। তবে মানবসম্পদ উন্নয়ন, উচ্চশিক্ষা, প্রযুক্তি খাতে উন্নয়ন, আর্থিক খাতের সংবেদনশীলতা, শ্রমবাজার উন্নয়নে বাংলাদেশের অগ্রগতি খুব বেশি সন্তোষজনক নয়। এ ধরনের অনেক সূচকে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের তুলনায় পিছিয়ে আছে বাংলাদেশ।

শ্রেণী:

পদ্মায় স্বপ্নের সেতু : শত্রুর মুখে ছাই

Posted on by 0 comment
17

17উত্তরণ প্রতিবেদন: অবশেষে দৃশ্যমান হয়েছে পদ্মাসেতু। গত ৩০ সেপ্টেম্বর সকালে প্রথম স্প্যান (সুপার স্ট্রাকচার) খুঁটির (পিয়ার) ওপর স্থাপন করা হয়েছে। সকাল ৮টা থেকে শুরু করে ১০টার মধ্যেই সেতুটির জাজিরা প্রান্তের ৩৭ ও ৩৮নং খুঁটির ওপর বসিয়ে দেওয়া হয়েছে। ১৫০ মিটার দীর্ঘ এই স্প্যানটি স্থাপনের মধ্য দিয়ে স্বপ্নের পদ্মাসেতুর অগ্রগতির আরেক ধাপ এগিয়ে গেল। এই মাহেন্দ্রক্ষণটিতে উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি, মুন্সিগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপিকা সাগুফতা ইয়াসমিন এমিলি, সেতু সচিব আনোয়ারুল ইসলাম, সেতুটির প্রকল্প পরিচালক শফিকুল ইসলাম, পদ্মাসেতুর সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী, সেনাবাহিনীর জেনারেল আবু সাইদ, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না মেজর ব্রিজের কোম্পানির প্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
বেলা সোয়া ১১টায় সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের পাশের সেতুর জাজিরা জেডিতে নেমে সাংবাদিকদের সার্বিক বিষয়ে ব্রিফিং করেন। মন্ত্রী বলেন, পদ্মাসেতুর প্রথম স্প্যান বাসনোর মধ্য দিয়ে আকাশে কালো মেঘ কেটে দৃশমান হয়েছে পদ্মসেতু। সকল বাধা উপেক্ষা করে সেতুর কাজ এগিয়ে চলেছে। যথাসময়েই সেতুর কাজ শেষ করার চেষ্টা চলছে। এ পর্যন্ত পুরো সেতুর কাজ সাড়ে ৪৭ শতাংশ অগ্রগতি হয়েছে। এখন পর্যায়ক্রমে অন্য স্প্যানগুলোও উঠবে।
মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী দেশে ফিরে খুব শিগগিরই এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। সেতুর কাজ যাতে এক মুহূর্তের জন্য বন্ধ না থাকে সেই জন্য তার নির্দেশে অনানুষ্ঠানিকভাবে সেতুর স্প্যান উঠানো হয়েছে। সেতু সচিব বলেন, অনেক ক্ষেত্রে পিয়ারের গভীরতা বৃদ্ধি বা প্রয়োজন অনুযায়ী তা পরিবর্তন করে চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। তার মানে সেতুর ডিজাইনের পরিবর্তন নয়।
এদিকে স্বপ্নের পদ্মাসেতু দৃশ্যমান হওয়ার পর প্রকল্পস্থলে বিশেষ পরিবেশ বিরাজ করছে। এই সাথে সংশ্লিষ্টরা আনন্দে উদ্বেল। এই দৃশ্য দেখার জন্য অনেকে পদ্মায় এলেও সেনাবাহিনীর কঠোর নিরাপত্তায় কেউ প্রবেশ করতে পারেনি। তবে দূর থেকেই অনেকে এই দৃশ্য অবলোকন করছে।
পদ্মাসেতুর সুপার স্ট্রাকচারবাহী ‘তিয়ান ই হাউ’ জাহাজের ৩ হাজার ৬০০ টন ক্ষমতার ক্রেনের সাথে এখনও স্প্যানটি বাঁধা রয়েছে। এটি বেয়ারিংয়ের সাথে নাটবল্টু ভালোভাবে স্থাপনের পরই ক্রেনটি সরিয়ে আনা হবে।
এর আগে প্রায় ৬ কিলোমিটার দূরের মাওয়ার কুমারভোগ কন্সট্রাকশন ইয়ার্ডের ওয়ার্কসপ থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর স্প্যানটি রওনা হয়। রাতে ২৩ নম্বর পিয়ারের কাছে এসে যাত্রাবিরতি করে। পরে ২৫ সেপ্টেম্বর সকালে রওনা হয়ে দুপুরে এটি ৩০ ও ৩১ নম্বর পিয়ারের মাঝামাঝি স্থানে নোঙ্গর করে। ২৯ সেপ্টেম্বর দুপুর ২টায় জাহাজটি স্প্যান নিয়ে হাজির হয় ৩৭ ও ৩৮ নম্বর পিলারের মাঝামাঝি। সন্ধ্যার আগেই খুঁটি দুটির ঠিক ১ মিটার ওপরে ঝুলিয়ে রাখে। পরে ৩০ সেপ্টেম্বর সকাল ৮টায় এটি স্থাপন শুরু করে।
সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা জানান, প্রথম স্প্যানটি স্থাপনের পর দ্রুততম সময়ের মধ্যে অন্যান্য স্প্যানও উঠানো শুরু হবে। এখন ৩৭ থেকে ৪২ নম্বর পর্যন্ত ৬টি পিয়ার সম্পন্ন পর্যায়ে। শিগগিরই শেষ হচ্ছে ৩৯ ও ৪০ নম্বর পিয়ারের কাজ। ৩৮ পিয়ারের সাথে যুক্ত হয়ে এই দুই পিয়ার ধরে আরও দুটি স্প্যান বসবে শিগগিরই। স্প্যানের মাঝ বরাবর নিচের লেনে চলবে ট্রেন। ওপরে কংক্রিটের চারলেনের সড়কে চলবে গাড়ি। তাই এই স্প্যানের ওপরে রাস্তা এবং নিচে ট্রেন লাইন স্থাপন করা হবে।
২০১৫ সালের ডিসেম্বরে পদ্মাসেতুর মূল অবকাঠামো নির্মাণকাজ শুরু হয়। এ পর্যন্ত প্রকল্পের প্রায় সাড়ে ৪৭ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। সেতুতে মোট ৪২টি পিলার থাকবে। এর মধ্যে ৪০টি পিলার নির্মাণ করা হবে নদীতে। দুটি নদীর তীরে। নদীতে নির্মাণ করা প্রতিটি পিলারে ৬টি করে পাইলিং করা হয়েছে, যার দৈর্ঘ্য গড়ে প্রায় ১২৭ মিটার পর্যন্ত। একটি পিয়ার থেকে আরেকটির দূরত্ব ১৫০ মিটার। ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সেতুতে দুটি পিলারের ওপর বসবে ৪১টি স্প্যান। এছাড়া দু-পাড়ের সংযোগ সেতুসহ সেতুটি ৯ কিলোমিটার দীর্ঘ। পদ্মাসেতু নির্মাণ প্রকল্পে ব্যয় হবে প্রায় ২৮ হাজার ৭৯৩ কোটি টাকা। আগামী বছরের ডিসেম্বরে কাজ শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রকৌশলীরা জানান, নদীতে মূল সেতুর মোট ২৪০টি পাইলের মধ্যে ৭৫টি পাইল বসেছে। এছাড়াও দু-পাড়ের দুটি ট্রান্সজিশন পিয়ারের ৩২টির মধ্যে ১৬টি স্থাপন হয়েছে। অর্থাৎ, জাজিরা প্রান্তে ৪২ নম্বর পিয়ারের ট্রান্সজিশন পিলারের ১৬টি পাইল বসে গেছে। এখন বাকি মাওয়া প্রান্তের ১ নম্বর ট্রান্সজিশন পিয়ারের ১৬টি পাইল। এটির কাজ এখনও শুরু হয়নি। ডিজাইন চূড়ান্ত হচ্ছে। এছাড়া জাজিরা প্রান্তে সংযোগ সেতুর ১৮৬টি পাইল বসেছে। এখানে আর মাত্র ৭টি পাইল বাকি সংযোগ সেতুর (ভয়াডাক্ট) জন্য। আর মাওয়ায় এ পর্যন্ত সংযোগ সেতুর ১৭২টির মধ্যে ৭টি পাইল বসেছে।
পদ্মাসেতু এখন দৃশ্যমান হচ্ছে ধূসর রঙে। তাই ধূসর রঙের ‘৭এ’ নম্বর স্প্যানটি বসার অল্প সময়ের পরই বসবে পরেরটি। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ‘৭বি’ নম্বর স্প্যানটির ফিটিং সম্পন্ন রয়েছে। এটিও শিগগিরই রং করা শুরু হবে। কারণ অক্টোবরের শেষ দিকে এই স্প্যানটি বসবে ৩৮ ও ৩৯ পিয়ারের। ইতোমধ্যেই ৩৯ নম্বর পিয়ারের কাজও দ্রুত এগিয়ে চলেছে। শিগগিরই শেষ হবে এর কাজ।
পদ্মাসেতুর দায়িত্বশীল প্রকৌশলীরা জানান, দুটি হ্যামার এখন হরদম পাইল বসাচ্ছে। জাজিরা ও মাওয়া উভয় প্রান্তে পাইল বসেছে। আগামী নভেম্বর মাসের শেষ দিকে আরেকটি হ্যামার জার্মানি থেকে আসছে মাওয়ায়।
পদ্মাসেতুর প্রকল্প পরিচালক শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, এই হ্যামারটি ডিসেম্বরের প্রথম দিকেই পাইল স্থাপনের কাজে যোগ দেবে। পদ্মাসেতুর ৪২টি খুঁটিতে প্রয়োজন হবে ৪১টি স্প্যান। প্রথম স্প্যানটি (৭এ) স্থাপন হলেও মাওয়ার কুমারভোগ আরও ৯টি স্প্যান রয়েছে। এর মধ্যে ফিটিং হয়েছে ৭টি। এছাড়া আরও ১২টি স্প্যান চীনে তৈরি রয়েছে। এগুলো পর্যায়ক্রমে মাওয়ায় আনা হবে। এছাড়া বাকি আরও ১৯টি স্প্যানও তৈরির প্রক্রিয়া চলছে চীনে।
শরীয়তপুরের জাজিরা পাড়ে দুটি পিলারের ওপর পদ্মাসেতুর প্রথম স্প্যান বসানোর খবরে বাপ-দাদার ভিটে-মাটি হারানো পদ্মা পাড়ের লোকজনসহ শরীয়তপুরে বইছে আনন্দের বন্যা। পদ্মাসেতুর দুটি পিলারে প্রথম সুপার স্ট্রাকচার (স্প্যান) বসানো হবে এমন খবরে ৩০ সেপ্টেম্বর ভোর থেকেই জাজিরার নাওডোবা এলাকায় পদ্মা পাড়ে লোকজনের ভিড় জমে। কীভাবে বসানো হবে, কারা এবং কেমনভাবে এটা বসাবে এ নিয়ে পদ্মা পাড়ে উপস্থিত সাধারণ লোকজনের মধ্যে ছিল নানা কৌতূহল।
সেতুটির ৩৭ ও ৩৮নং পিলারের ওপর স্প্যানটি স্থাপনের পর এখন দেখা যাচ্ছে পদ্মাসেতুর কাঠামো। ধূসর রঙের পদ্মাসেতুর এই স্প্যানটি ১৫০ মিটার দৈর্ঘ্যরে এবং যা নদীর পানি থেকে এর উচ্চতা ৫০ ফুট। স্প্যানটি স্থাপনের কাজে ৩ হাজার ৬০০ টনের ক্ষমতার স্ট্রাকচারবাহী তিয়ান ই হাউ ক্রেনটি ব্যবহার করা হয়। খুঁটির ওপর বসানো স্টিলের তৈরি স্প্যানটির ওজন প্রায় ৩ হাজার ২০০ টন। পদ্মাসেতুতে ৪২টি খুঁটির ওপর মোট এ রকম ৪১টি স্প্যান বসানো হবে। এই স্প্যানটি স্থাপনের মধ্য দিয়ে দৃশ্যমান হয়েছে পদ্মাসেতু। এখন সেতুর ১৫০ মিটার আকৃতি দৃশ্যমান হয়েছে। পুরো কাজ শেষ হলে এমন আকৃতি দেখা যাবে ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার। শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসক মো. মাহমুদুল হোসাইন খান বলেন, পদ্মাসেতুর এই প্রথম স্প্যান বসানোর ক্ষেত্রে কোনো আনুষ্ঠানিকতা ছিল না। তবে সেতুর এই প্রথম স্প্যানটি স্থাপনের পর সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি তার অনুভূতি ব্যক্ত করে সাংবাদিকদের বলেন, ওপারে যখন ঘন কুয়াশা, বিশ^ব্যাংক যখন পদ্মাসেতু ছেড়ে চলে যায়, সেদিন একটা অনিশ্চয়তার অন্ধকার ছিল, হতাশার মেঘ ছিল, অনেকে ভেবেছিলেন এই কুয়াশা কাটানো যাবে না। অনেকেই হয়তো ভেবেছিলেন পদ্মাসেতু আর হবে না। কিন্তু সেদিন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বীর কন্যা, দেশরতœ শেখ হাসিনা অসীম সাহসে সেদিনের মশাল হাতে নিয়েছিলেন। মহান আল্লাহর কাছে শোকরিয়া প্রকাশ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একক নেতৃত্বের সোনালি ফসল আজকের এই দৃশ্যমান পদ্মাসেতু। পদ্মাসেতু এখন আর কোনো রঙিন স্বপ্ন নয়। পদ্মাসেতু এখন দৃশ্যমান বাস্তবতা। পদ্মাসেতুর কাজের অগ্রগতি ৪৯ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, স্প্যান যখন একটা বসে গেছে, আরও ৪০টি স্প্যান কয়েকদিন পরপর বসবে। যথাসময়ে আমরা পদ্মাসেতুর কাজ শেষ করব। জানা গেছে, ৬.১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ পদ্মাসেতুর মোট ৪২টি পিলারের ওপর ৪১টি স্প্যান বসানো হবে। প্রত্যেক পিলারে ৬টি করে পাইল সাজানো। স্প্যানের ভেতরে থাকছে রেলপথ ও ওপরে সড়ক পথ। দ্বিতল পদ্মা বহুমুখী সেতুর পুরোটা হবে স্টিল আর কংক্রিট স্ট্রাকচারে। সেতুর ওপরের তলায় থাকবে চার-লেনের মহাসড়ক, নিচ দিয়ে যাবে রেললাইন। ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে কাজ শেষ করে সেতুটি চালু হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

পদ্মাসেতুর পথে ছিল যত বাধা
পদ্মাসেতু বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারভুক্ত প্রকল্প। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার আগে ‘দিনবদলের সনদ’ নামে আওয়ামী লীগে পক্ষ থেকে যে নির্বাচনী ইশতেহার দেওয়া হয় সেখানে প্রতিশ্রুতি ছিল পদ্মাসেতু নির্মাণের। ক্ষমতায় এসে সেই অনুযায়ী কাজও শুরু করে আওয়ামী লীগ সরকার। কিন্তু এরই মধ্যে শুরু হয় দুর্নীতির কথিত অভিযোগসহ বিভিন্ন ধরনের আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধকতা। বাংলাদেশের দীর্ঘতম এই সেতু নির্মাণে বিদেশি অর্থায়ন নিয়ে চলে নানা জটিলতা। সরকার সব বাধা-বিপত্তি পেরিয়ে নিজস্ব অর্থায়নেই শুরু করে এই সেতুর নির্মাণযজ্ঞ। গত ৩০ সেপ্টেম্বর পদ্মাসেতুর জাজিরা অংশে একটি স্প্যান স্থাপনের মধ্য দিয়ে পিলারের পর এখন এই সেতুর পাটাতনও দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে। সরকার আশা করছে, ২০১৮ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে এই সেতু যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া সম্ভব হবে।
পদ্মাসেতু নির্মাণে পিছিয়ে পড়ার কারণ হিসেবে সরকারের তরফ থেকে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রকে দায়ী করা হয়। এক্ষেত্রে সব থেকে বেশি দোষারোপ করা হয়েছে দাতা সংস্থা বিশ্বব্যাংককে। এছাড়া দেশীয় একাধিক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানও এই ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল বলে সরকারি দল থেকে বিভিন্ন সময়ে অভিযোগ এসেছে। বিশেষ করে শান্তিতে নোবেল জয়ী ড. মুহম্মদ ইউনূসকে এ জন্য দায়ী করা হয়। আওয়ামী লীগের অভিযোগ ছিল, অবৈধভাবে গ্রামীণ ব্যাংক প্রধানের পদে থাকতে না পেরে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের মাধ্যমে পদ্মাসেতুতে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন বন্ধ করে দিয়েছেন।
জানা যায়, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৯৮ পদ্মাসেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেন। সেই অনুযায়ী ১৯৯৮ থেকে ২০০০ এই সময়ে পূর্ব সম্ভাব্যতা যাচাই শুরু হয়। এরপর ২০০১ সালে জাপানিদের সহায়তায় সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ হয়। স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে ২০০১ সালের ৪ জুলাই মাওয়া পয়েন্টে পদ্মাসেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনও করেছিলেন শেখ হাসিনা। ২০০৪ সালে জুলাই মাসে জাপানের আন্তর্জাতিক সহায়তা সংস্থা জাইকার সুপারিশ মেনে মাওয়া-জাজিরার মধ্যে পদ্মাসেতু নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। ২০০৮ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্মাসেতুর নকশা প্রণয়নে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান চূড়ান্ত করে। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার শপথ নিয়েই নতুন করে পদ্মাসেতু নির্মাণের কাজ হাতে নেয়। পদ্মাসেতুতে অর্থায়নে আগ্রহ দেখায় বিশ্বব্যাংক। সেই সাথে সহযোগী হতে চায় এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিপি), ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক (আইডিবি) ও জাইকা। ২৯০ কোটি ডলার ব্যয়ে বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ পদ্মাসেতু প্রকল্পের জন্য ২০১১ সালের ২৮ এপ্রিল বিশ্বব্যাংকের সাথে ১২০ কোটি ডলারের ঋণচুক্তি স্বাক্ষর করে সরকার। এরপর ওই বছরের ১৮ মে জাইকা (৪০ কোটি ডলার), ২৪ মে আইডিবি (১৪ কোটি ডলার) এবং ৬ জুন এডিবি’র (৬২ কোটি ডলার) সাথে ঋণচুক্তি স্বাক্ষর হয়।
এরই মধ্যে শুরু হয়ে যায় বিপত্তি। বিশ্বব্যাংকের পক্ষ থেকে আসে দুর্নীতির অভিযোগ। ঋণচুক্তির পাঁচ মাসের মাথায় দুর্নীতির অভিযোগ এনে ওই বছর (২০১১) সেপ্টেম্বর মাসে বিশ্বব্যাংক অর্থায়ন স্থগিত করে। তৎকালীন যোগাযোগ মন্ত্রীসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নাম আসে দুর্নীতিতে জড়িত থাকার বিষয়ে। দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের সদস্যদের ওপরও। বিশ্বব্যাংকের পথ অনুসরণ করে অন্য দাতা সংস্থাগুলোও। ঋণচুক্তি স্থগিতের সময় ঋণ পুনর্বিবেচনার জন্য দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়াসহ ৪টি শর্ত জুড়ে দেয় বিশ্বব্যাংক। এ সময় দুই দফায় বিশ্বব্যাংক ‘দুর্নীতি’র কিছু তথ্য-প্রমাণও বাংলাদেশকে দেয়। সরকারের তরফ থেকে স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারে নানা দেন-দরবার চলতে থাকে। চুক্তি বাতিল এড়াতে এ সময় যোগাযোগ সচিবকে সরিয়ে দেওয়াসহ কিছু দৃশ্যমান পদক্ষেপও নেয় সরকার। কিন্তু বিশ্বব্যাংকের দৃষ্টিতে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সন্তোষজনক ব্যবস্থা ছিল না সেগুলো। ফলে, ২০১২ সালের ২৯ জুলাই আনুষ্ঠানিকভাবে ঋণচুক্তি বাতিল করে দেয় আন্তর্জাতিক এই সংস্থাটি।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশি ও প্রবাসীদের পদ্মাসেতু নির্মাণে সহযোগিতায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে সাড়া দিয়ে অনেকে এগিয়েও আসেন। শুরু হয় অর্থ সংগ্রহ। পরে মন্ত্রিসভার বৈঠকে পদ্মাসেতুর অর্থ সংগ্রহে প্রতিটি তফসিলি ব্যাংকে দুটি করে ব্যাংক হিসাব খোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বিশ্বব্যাংকের দেওয়া শর্ত অনুসারে এরই মধ্যে পদ্মাসেতুতে পরামর্শক নিয়োগের দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। ওই সময় বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধি দল একাধিকবার ঢাকায় এসে দুদকের সাথে বৈঠক করে। এসব বৈঠকে নতুন নতুন শর্ত আসতে থাকে। বিশ্বব্যাংকের সাথে দেন-দরবারের পাশাপাশি সরকার বিকল্প অর্থায়নের প্রচেষ্টা শুরু করে। নিজস্ব অর্থায়নে সেতু নির্মাণের উদ্যোগের কথাও এ সময় জোরেশোরে আলোচনা হতে থাকে। বিশ্বব্যাংকের টালবাহানায় ক্ষুব্ধ হয়ে ২০১৩ সালের ২৪ জানুয়ারি সংস্থাটিকে এক সপ্তাহের সময় দিয়ে আল্টিমেটাম দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ওই মাসের মধ্যে বিশ্বব্যাংক তাদের অবস্থান স্পষ্ট না করলে সরকার তাদের কাছ থেকে কোনো ঋণ নেবে না। তারা নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মাসেতু নির্মাণ করবে। পরে ৩১ জানুয়ারি সরকার পদ্মাসেতুর জন্য অর্থায়নের অনুরোধ প্রত্যাহার করে বিশ্বব্যাংককে চিঠি দেয়। বিশ্বব্যাংকের কাছে অর্থায়নের অনুরোধ প্রত্যাহারের আগে-পরে মালয়েশিয়া, চীনসহ কয়েকটি দেশ অর্থায়নে আগ্রহ দেখায়। তবে সেগুলো দেশের জন্য সাশ্রয়ী না হওয়ায় সরকার সেদিকে না গিয়ে সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে সেতু নির্মাণের কাজ হাতে নেয়। পরবর্তী অর্থবছরের (২০১৩-১৪) বাজেটে পদ্মাসেতু প্রকল্পের জন্য ৬ হাজার ৮৫২ কোটি টাকা বরাদ্দের মধ্য দিয়ে সেতু নির্মাণের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করে। ২০১৪ সালের ১৮ জুন মূল সেতু নির্মাণে চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন কোম্পানির সাথে চুক্তি সই করে সরকার। ২০১৫ সালের ১২ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী পদ্মাসেতুর মূল কাঠামো নির্মাণকাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
পদ্মাসেতু নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ উঠলেও কানাডার আদালতে তার কোনো প্রমাণ দিতে পারেনি বিশ্বব্যাংক। গত ১০ ফেব্রুয়ারি দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে কানাডার আদালত জানায়, পদ্মাসেতু প্রকল্পে দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের যে অভিযোগ তুলে বিশ্বব্যাংক ঋণ বাতিল করেছিল তার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

শ্রেণী:

বিশ্বের ১৮ নারী নেতার অন্যতম শেখ হাসিনা

Posted on by 0 comment
10

10উত্তরণ প্রতিবেদন: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ্বের বর্তমান ১৮ নারী জাতীয় নেতার মধ্যে অন্যতম হিসেবে চিত্রিত হয়েছেন। নারী রাজনীতিবিদদের নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন থেকে প্রকাশিত ‘উইমেন প্রেসিডেন্টস অ্যান্ড প্রাইম মিনিস্টার্স’ নামক একটি বইয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে গুরুত্বের সাথে তুলে ধরা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মানবাধিকার কর্মী রিচার্ড ও ব্রিয়েনের লেখা এই বইয়ে প্রচ্ছদে বিশ্বের আরও ছয় নারী রাষ্ট্রনায়কের পাশাপাশি স্থান পেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এতে রাজনীতিতে বঙ্গবন্ধু-কন্যার সাহস, ঝুঁকি, প্রজ্ঞা এবং অবদান নিয়ে সাজানো হয়েছে তার জীবনী। প্রধানমন্ত্রীর উদ্ধৃতি দিয়ে সেখানে লেখা হয়, ‘যেদিন আমি বাংলাদেশকে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে পারব, সেদিন গর্বিত বোধ করব।’
ওয়াশিংটনে বাংলাদেশের দূতাবাস থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ খবর জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, ওয়াশিংটনের ‘ওম্যানস ন্যাশনাল ডেমোক্র্যাটিক ক্লাব’-এ গত বুধবার এই বইটির মোড়ক উন্মোচন করা হয়। বইটির প্রকাশনা অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক, নারী নেতৃত্ব এবং সিভিল সোসাইটির প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এ বইটিতে বর্তমান বিশ্বের ১৮ নারী নেতৃত্বকে তুলে ধরা হয়েছে।
বইটিতে তিন পৃষ্ঠাজুড়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক সংগ্রাম এবং অবদানের কথা লেখা হয়েছে। লেখক জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু-কন্যার প্রশংসা করতে গিয়ে বলেছেন, শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে আরও গণতান্ত্রিক এবং সেদেশে সহিংসতা কমিয়ে আনার চেষ্টা করছেন। দেশটিতে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে কাজ করছেন তিনি। ও ব্রায়েন উল্লেখ করেন, শেখ হাসিনার বাবা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতার স্থপতি এবং প্রথম রাষ্ট্রপতি। কিন্তু ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট শেখ হাসিনা ও তার ছোট বোন শেখ রেহানা ছাড়া তাদের পরিবারের সবাইকে মেরে ফেলা হয়। তারা দু বোন দেশের বাইরে থাকায় বেঁচে যান। অনিচ্ছাকৃত দীর্ঘ প্রবাস জীবন শেষে ১৯৮১ সালে দেশে ফিরেই শেখ হাসিনা নির্বাচনী জালিয়াতি এবং নিপীড়নের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ শুরু করেন। বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তার দল আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হয়ে দেশে ফেরার পর আন্দোলন-প্রতিবাদ গড়ে তোলার কারণে নানা অন্যায়-অত্যাচারের শিকার হন। একপর্যায়ে তাকে গৃহবন্দিও করা হয়। কিন্তু এত কিছুর পরও শেখ হাসিনা বাংলাদেশের এতটাই প্রভাবশালী নেতা হয়ে ওঠেন যে, তার আন্দোলন-সংগ্রামের কারণেই ১৯৯০ সালে এরশাদ সরকারের পতন হয়।
এ বইয়ে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট শেখ হাসিনাকে হত্যার অপচেষ্টার বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে। লেখক লিখেছেন, তাকে গুপ্তহত্যার চেষ্টা করা হয়, যাতে অনেক লোক নিহত হয়। (আসলে সেদিন আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলা করে শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়)। এরপর ২০০৭ সালে শেখ হাসিনাকে গ্রেফতার করা হয়। যদিও প্রায় এক বছর জেলে কাটিয়ে মুক্ত হওয়ার পর নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিজয়ী হন আওয়ামী লীগ সভাপতি।
শেখ হাসিনার তিনবারের প্রধানমন্ত্রিত্বের আমলে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরে এসেছে, সহিংসতা উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে বলে লেখক তার নেতৃত্বের প্রশংসা করেন। এ বইটিতে ’৭১-পরবর্তী পুরো সময়েই এ দেশে রাজনৈতিক সহিংসতা ও অস্থিতিশীলতা ছিল মন্তব্য করে লেখক বলেন, বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে জীবনবাজি রেখে কাজ করছেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী। পার্বত্য শান্তিচুক্তি, স্থল মাইন ব্যবহারের নিষিদ্ধকরণসহ শেখ হাসিনার বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরা হয় বইটিতে। এছাড়া এই তিন পৃষ্ঠার জীবনীতে প্রধানমন্ত্রীর ‘মাদার তেরেসা’ এবং ‘মহাত্মা গান্ধী’ পুরস্কার প্রাপ্তির কথাও তুলে ধরা হয়।

শ্রেণী:

সায়মা ওয়াজেদ ‘অটিজম চ্যাম্পিয়ন’

Posted on by 0 comment
16
16

সায়মা হোসেনের নজিরবিহীন উদ্যোগ ও ত্যাগের ফলে শিশুদের মধ্যে অটিজম স্পেক্ট্রাম ডিজঅর্ডার, মানসিক ও অন্যান্য নিউরো- ডেভেলপমেন্ট ডিজঅর্ডারসহ বিভিন্ন রোগ সম্পর্কে বাংলাদেশ সরকারের পাশাপাশি সিয়ারোভুক্ত বিভিন্ন দেশ তথা বিশ্ববাসীর দৃষ্টি আকর্ষিত হয়।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তনয়া সায়মা ওয়াজেদ হোসেনকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের অটিজম চ্যাম্পিয়ন হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। বিশ্ব অটিজম দিবসের প্রাক্কালে গত ১ এপ্রিল ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লি থেকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক ড. পুনম ক্ষেত্রপাল বিশ্ব অটিজম দিবসের প্রাক্কালে দেওয়া এক বাণীতে বলেন, সায়মা হোসেনের নজিরবিহীন উদ্যোগ ও ত্যাগের ফলে শিশুদের মধ্যে অটিজম স্পেক্ট্রাম ডিজঅর্ডার, মানসিক ও অন্যান্য নিউরো ডেভেলপমেন্ট ডিজঅর্ডারসহ বিভিন্ন রোগ সম্পর্কে বাংলাদেশ সরকারের পাশাপাশি সিয়ারোভুক্ত বিভিন্ন দেশ তথা বিশ্ববাসীর দৃষ্টি আকর্ষিত হয়।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিশ্বে প্রতি ৬২ জন শিশুর মধ্যে একজন অটিজম স্পেক্ট্রাম ডিজঅর্ডারে আক্রান্ত। এ ধরনের একটি শিশুর পেছনে সারা জীবনে ১.৪ থেকে ২.৪ মিলিয়ন ডলার খরচ হয়।
নি¤œ ও মধ্য আয়ের দেশে এ সমস্যায় আক্রান্ত শিশুরা সুচিকিৎসা ও যথোপযুক্ত স্বাস্থ্যসেবা পায় না। তারা সামাজিকভাবে নানা অবহেলা ও বঞ্চনার শিকার হয়। এ সমস্যায় আক্রান্তদের সুচিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা এখন অন্যতম জনস্বাস্থ্য সমস্যা।
ড. পুনম ক্ষেত্রপাল বলেন, সিয়ারোভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অটিজম নিয়ে সর্বাগ্রে কাজ শুরু করে। এক্ষেত্রে সায়মা ওয়াজেদ হোসেন অগ্রপথিক হিসেবে বিষয়টিকে সিয়ারোভুক্ত দেশের পাশাপাশি বিশ্ববাসীর নজরে এনেছেন।
তার উদ্যোগের ফলে বাংলাদেশ সরকার স্বাস্থ্য খাতে খাতভিত্তিক কর্মসূচিতে অটিজম স্পেক্ট্রাম ডিজঅর্ডার ও নিউরো ডেভেলপমেন্ট সম্পর্কিত ডিজঅর্ডারকে অন্তর্ভুক্ত করে। নিউরো ডেভেলপমেন্ট ও অটিজম নামে একটি ইনস্টিটিউট স্থাপনের পাশাপাশি ১০টি সরকারি মেডিকেল কলেজে শিশুদের এ ধরনের সমস্যা চিহ্নিত করতে বিশেষ ইউনিট চালু করে।
‘অনন্য ছবি’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন
শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধী শিশু-কিশোরকে নিয়ে ২৬০টি ছবি নিয়ে একটি বই প্রকাশ করেছেন অটিজম বিশেষজ্ঞ ও প্রধানমন্ত্রীর কন্যা সায়মা ওয়াজেদ হোসেন পুতুল। গত ৪ এপ্রিল রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ১৩৬তম আইপিইউ সম্মেলনে দেশি-বিদেশি অতিথির সামনে সায়মা হোসেনের সম্পাদনায় প্রকাশিত ‘অনন্য ছবি’র বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করে জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী রঙিন বিশ্ব নির্মাণে সকলকে একত্রে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন। বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বিশেষ দক্ষতাসম্পন্ন (অটিস্টিক) শিশুশিল্পীর ২৬০টি চিত্রকর্ম স্থান পেয়েছে বইটিতে।
সায়মা হোসেনসহ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন আইপিইউ প্রেসিডেন্ট সাবের হোসেন চৌধুরী এমপি ও সেক্রেটারি জেনারেল মার্টিন চুংগং। এ সময় ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বি মিয়া, সংসদ সদস্যবৃন্দ এবং আইপিইউ সম্মেলনে আগত বিদেশি অতিথিবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন। বইটির প্রচ্ছদ এঁকেছেন শিল্পী পশলা ও ধ্রুপদ।
স্পিকার বলেন, সমাজের শারীরিক ও মানসিকভাবে অক্ষম জনগোষ্ঠীকে সামাজিক নিরাপত্তা ও তাদের অধিকার সম্পর্কে সাধারণ জনগণের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টিতে সংসদ সদস্যগণ ভূমিকা পালন করতে পারেন। এ বিষয়ে সারাবিশ্বের সংসদ সদস্যগণ ভূমিকা পালন করবেন এমন আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, আইপিইউ অ্যাসেম্বলির মতো মর্যাদাপূর্ণ একটি অনুষ্ঠানে বিদেশিদের উপস্থিতিতে এমন একটি আর্ট পুস্তকের মোড়ক উন্মোচন বিদেশিদের এ কাজের প্রতি সংহতির বহিঃপ্রকাশ। এ ধরনের কাজে সম্মিলিত প্রয়াস নিতে হবে।
তিনি বলেন, শারীরিক ও মানসিকভাবে অক্ষমদের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দিতে হবে। এদের সমাজের মূলধারায় সম্পৃক্ত করতে হবে। এই আর্ট পুস্তকের রঙিনের মতো আমরা সারা পৃথিবীর সাথে একইভাবে রঙিন বিশ্ব বিনির্মাণে কাজ করে যাব। তিনি এ ধরনের কাজে সম্মিলিত প্রয়াসের মাধ্যমে বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তিদের সহযোগিতার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের লাইসেন্সপ্রাপ্ত একজন স্কুল সাইকোলজিস্ট সায়মা ওয়াজেদ চিত্রকর্ম সংগ্রহের বিষয়ে বিস্তারিত বিবরণ দেন এবং বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তিদের যথাযথ সহযোগিতা প্রদান ও তাদের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে কীভাবে কাজ করে যাচ্ছেন সে ব্যাপারে তার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বিশেষভাবে সক্ষম সমাজের এসব ব্যক্তির জন্য আমাদের অনেক কিছুই করার রয়েছে। তাদের প্রতি সহযোগিতা ও সহমর্মিতা প্রকাশ মানবতার প্রতি দায়িত্ব পালন।
সায়মা হোসেন বলেন, অটিজম আক্রান্ত শিশু-কিশোর ও তরুণদের নিয়ে ২৬০টি চিত্রকর্ম আছে। তাই বইটি এসব শিল্পীর স্বপ্ন। এই বইয়ের মাধ্যমে তারা পুরো বিশ্বকে দেখছে। এসব ছবিতে তাদের চিন্তার জগতকে চেনা যাবে। তারা কী করে প্রকৃতিকে দেখে, উৎসবকে দেখে, কী করে আমাদের ইতিহাসকে দেখে তা এর মধ্য দিয়ে ফুটে উঠেছে। তিনি বলেন, বছরের পর বছর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব অটিস্টিক শিল্পীর আঁকা চিত্রকর্ম সংবলিত যেসব গিফট কার্ড ছেপেছেন, সেখান থেকে বইয়ের অনেক ছবি সংগ্রহ করা হয়েছে।
বই বিক্রির টাকা সূচনা ফাউন্ডেশনকে দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, বিশেষভাবে সক্ষম সমাজের ব্যক্তিদের এসব মানুষের জন্য অনেক কিছু করার রয়েছে। আমরা যেন অটিজমদের অসাধারণ এসব দিক দিয়েই তাদের দেখি। তারা অটিস্টিক। এই অসুস্থতা দিয়ে যেন তাদের বন্দী না করি। একটু সুযোগ পেলেই অটিস্টিকরা তাদের মেধার বিকাশ ঘটিয়ে এগিয়ে যাবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

শ্রেণী:

শতভাগ বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় আরও ৯ উপজেলা

Posted on by 0 comment

উত্তরণ ডেস্ক: দেশের আরও ৯ উপজেলা শতভাগ বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় এসেছে। উপজেলাগুলো হচ্ছেÑ ফরিদপুর, নীলফামারী, ময়মনসিংহ, যশোর, চাঁদপুর ও নাটোরের সদর উপজেলা, গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া, বরিশালের বাউফল ও সিলেটের ছাতক।
সূত্র জানায়, এই ৯ উপজেলার শতভাগ মানুষ বিদ্যুৎ ব্যবহার করছেন। এখানে সব বাড়িতে বিদ্যুৎ রয়েছে। সরকারের ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়ার অঙ্গীকার পালনের অংশ হিসেবে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। যদিও আগস্টে বিদ্যুৎ বিভাগের তরফ থেকে জানানো হয়েছিল দেশের ২৮ জেলা শতভাগ বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় আসবে। ওই সময় প্রধানমন্ত্রী আরও ৬টি উপজেলাকে শতভাগ বিদ্যুতায়িত উপজেলা হিসেবে ঘোষণা করেন। উপজেলাগুলো হচ্ছেÑ গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া, নারায়ণগঞ্জের বন্দর, নরসিংদীর পলাশ, চট্টগ্রামের বোয়ালখালী, কুমিল্লার আদর্শ সদর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট উপজেলা। এই উপজেলার যেসব বাড়িতে গ্রিডের বিদ্যুৎ দেওয়া সম্ভব হয়নি সেখানে সৌরবিদ্যুতের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
বিদ্যুৎ বিভাগের নেওয়া কর্মপরিকল্পনায় দেখা যায়, ২০২১ সালের মধ্যে বিদ্যুতের উৎপাদন ক্ষমতা ২৪০০০ এবং ২০৩০ সালে ৪০০০০ মেগাওয়াটে উন্নীত করা হবে। ২০২১ সালের মধ্যে প্রায় ৬ হাজার কিলোমিটার সঞ্চালন লাইন এবং ১ লাখ কিলোমিটার বিতরণ লাইন, প্রয়োজনীয় উপকেন্দ্র নির্মাণ ও ক্ষমতাবর্ধন করা হবে। এজন্য সরকারের ২০২১ সাল পর্যন্ত ২৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সংস্থান করতে হবে। অতীতে বিদ্যুতের প্রকল্প বাস্তবায়নে দাতা সংস্থার দিকে তাকিয়ে থাকতে হতো। দাতা সংস্থা বছরের পর বছর ঘুরিয়ে প্রকল্প বাতিল করত। এখন সেই পরিস্থিতি থেকে সরে এসে সরকার বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। অনেক ব্যাংকই বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ প্রস্তাব নিয়ে সরকারের কাছে আসছে। সরকার বলছে এখন প্রকল্প বাস্তবায়নে অর্থায়ন কোনো বড় সমস্যা নয়।
সরকারের পরিকল্পনায় দেখা যায়, ২০১৭ সালের জুনে আরও ৭৫টি উপজেলা এবং ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে ৬৯টি উপজেলার শতভাগ মানুষ বিদ্যুতের আওতায় চলে আসবে। এভাবে মোট ৪৬৫টি উপজেলার শতভাগ মানুষকে বিদ্যুতের আওতায় আনা হবে ২০১৮ সালের ডিসেম্বর নাগাদ। যদিও সরকার বলছে, শতভাগ বিদ্যুতের আওতায় আনা হবে ২০২১ সালে। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৩০ লাখ নতুন গ্রাহককে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হবে। এ জন্য ৩৫ হাজার কিলোমিটার লাইন স্থাপন করতে হবে।

শ্রেণী:

অব্যাহত সাফল্য অপ্রতিরোধ্য জয়যাত্রা সাফল্যগাথা ২০০৯-২০১৬

Posted on by 0 comment
32

32 33 34 35 36 37 38 39 40 41

শ্রেণী:

ফিরে এসেছে রুপালি ইলিশ

52

52রাজিয়া সুলতানা : বাংলাদেশের অর্থনীতিতে সুপারমুনের মতো ঔজ্জ্বল্য ছড়াতে চলেছে রুপালি ইলিশ। একসময় উচ্চমূল্যের কারণে ইলিশ আলোচনায় এলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ঘটনা ঘটছে উল্টো। বাঙালির কাছে দুষ্প্রাপ্য রুপালি ইলিশ এখন আর কোনো স্বপ্ন নয়। রয়েছে একেবারে ক্রয়সীমার মধ্যে। তাই বিপুল ইলিশ আহরণের রেকর্ড নিয়ে এখন বিস্তর আলোচনা। আলোচনা দাম কমে যাওয়ায়। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫-১৬ মৌসুমে ইলিশ সংগ্রহের পরিমাণ ইতোমধ্যেই ৫ লাখ টন ছাড়িয়ে গেছে, যা ভোজনরসিক বাঙালিদের কাছে অনেকটাই স্বপ্নের মতো; নতুন রাষ্ট্রীয় রেকর্ড।
মৎস্য অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, ২০০২-০৩ অর্থবছরে দেশে ২ লাখ টনের কম ইলিশ সংগ্রহ করা হয়। ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ইলিশ আহরণ করা হয়েছে ৩ লাখ ৮৫ হাজার টন। ২০১৪-১৫ মৌসুমে ইলিশ ধরা পড়ে ৩ লাখ ৮৭ হাজার টন।
‘মাছে-ভাতে বাঙালি’ এই চিরায়ত সত্যই বাঙালির ঐতিহ্যময় কৃষ্টি এবং সংস্কৃতি। আর বলতে দ্বিধা নেই মাছের রাজা ইলিশ। ইলিশের নাম শুনলেই জিভে পানি আসে এমন মানুষের সংখ্যা নেহাত কম নয়। এই ইলিশ মাছ নিয়ে সারাদেশে হাহাকার কম হয়নি। নি¤œ মধ্যবিত্তরা বটেই; মধ্যবিত্তরাও উৎসব আয়োজনে খাদ্য তালিকায় ইলিশ রাখত যোগ-বিয়োগের সমীকরণটা ঠিক রেখে। অথচ সেই ইলিশই এখন বর্তমান সরকারের দায়িত্বশীল যুগোপযোগী সিদ্ধান্তে নি¤œবিত্ত মানুষের ক্রয়সীমার মধ্যে। এটা সম্ভব হয়েছে বর্তমান সরকারের কার্যকর উদ্যোগে।
বাংলা আশ্বিন মাস ইলিশ মাছের ডিম ছাড়ার উপযুক্ত মৌসুম। ডিম ছাড়ার জন্য উপকূলীয় এলাকার মা ইলিশ এ সময়ে মিঠা পানির পদ্মা-মেঘনায় চলে আসে। এ সময় ইলিশ মাছ ধরলে মাছের বংশ বৃদ্ধি হতে পারে না। বর্তমান সরকারের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় প্রণীত ‘মা-ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান প্রকল্প’ প্রতি বছর এই সময়ে ইলিশ ধরা সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ করেছে। এই আইন অমান্যকারীদের কাঠোর শাস্তির বিধান ইলিশ জেলেদের নিবৃত্ত করেছে। ইলিশের প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ ধরার বিষয়ে সরকারি নিষেধাজ্ঞা বরাবরই ছিল। তবে ২০১১ সালে মৎস্য সংরক্ষণ আইন সংশোধন করে প্রধান প্রজনন মৌসুম নির্দিষ্ট এবং নিষেধাজ্ঞাও কড়াকড়িভাবে বলবৎ করা হয়।
ইলিশের প্রজননক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত নির্ধারিত ৭ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকার সীমানা হচ্ছে মীরসরাই উপজেলার শাহের খালী থেকে হাইতকান্দী পয়েন্ট, তজুমদ্দিন উপজেলার উত্তর তজুমদ্দিন থেকে পশ্চিম সৈয়দ আওলিয়া পয়েন্ট, কলাপাড়া উপজেলার লতাচাপালি পয়েন্ট ও কুতুবদিয়া উপজেলার উত্তর কুতুবদিয়া থেকে গ-ারমারা পয়েন্ট। আর ২৭টি জেলা হচ্ছে চাঁদপুর, লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী, ফেনী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী, বরগুনা, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বাগেরহাট, শরীয়তপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ঢাকা, মাদারীপুর, ফরিদপুর, রাজবাড়ী, জামালপুর, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, মানিকগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, খুলনা, কুষ্টিয়া ও রাজশাহী জেলা। এসব জেলার সব নদ-নদী ছাড়াও দেশের সমুদ্র উপকূল ও মোহনায় ১২ অক্টোবর রাত ১২টা থেকে ২২ দিন ইলিশ ধরা বন্ধ থাকে। মা ইলিশ ধরা ছাড়াও বাজারজাত, পরিবহনের ক্ষেত্রেও থাকে নিষেধাজ্ঞা।
বাঙালির খাবারের তালিকায় ইলিশ মাছ সম্প্রতি দুর্লভ হয়ে উঠেছিল। অনেকটা দুষ্প্রাপ্য হওয়ায় চড়া দাম হয়েছিল ইলিশের। ইলিশের সাম্প্রতিক দাম মানুষের কাছে কল্পনার মতো। সরকারের উদ্যোগে বিপুল পরিমাণ ইলিশ আহরণে সহায়তা করেছে। মা ইলিশ এবং জাটকা রক্ষার জন্য বছরের ২২ দিন মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকায় ইলিশের উৎপাদন প্রায় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে।
মৎস্য বিজ্ঞানীদের মতে, একটি ইলিশ একবারে গড়ে ১০ থেকে ১২ লাখ ডিম ছাড়ে। তাই ক্রমে বাড়ছে ইলিশ আহরণের পরিমাণ। এখন যে দেড়-দুই কেজি ওজনের ইলিশ বেশি পাওয়া যাচ্ছে, তার বয়স যথাক্রমে দুই ও চার বছর। তার মানে চার বছর ধরে ইলিশ রক্ষায় যেসব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, দেশের জনগণ তার সুফল পেতে শুরু করেছে। সব মা ইলিশ রক্ষা করা গেলে দেশ মাছে ভরে যাবে।
ইলিশ মাছ বাংলাদেশের জাতীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য-ইতিহাসের সাথে মিশে রয়েছে। প্রায় ৩০ লাখ মানুষের জীবিকা এর ওপর নির্ভরশীল। ফলে এই মাছের উৎপাদন বাড়লে তা বাংলাদেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করবে। ইলিশ বিচরণের জন্য জলাভূমি শুধু সরকারি সংস্থাগুলোর মাধ্যমে রক্ষা করা সম্ভব নয়। এজন্য ইলিশের ওপর নির্ভরশীল এবং ইলিশ উৎপাদন এলাকায় বসবাসকারী জনগোষ্ঠীকে দায়িত্ব নিতে হবে।
উন্নয়ন এবং উৎপাদনবান্ধব বর্তমান সরকার ইলিশ ধরার নিষেধাজ্ঞার সময় ১৪টি জেলার ৭৬টি উপজেলার সাড়ে ৩ লাখ পরিবারের জন্য বিনামূল্যে ২০ কেজি করে চাল বরাদ্দ দিয়েছে। মোট বরাদ্দ হয় ৭ হাজার ১৩৪ টন চাল আর অভিযান পরিচালনার জন্য ৪ কোটি টাকা। আইন অনুযায়ী, এই সময়ে কেউ মাছ ধরলে তাকে ন্যূনতম এক বছর বিনাশ্রম কারাদ-, ৫ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দ- দেওয়া হয়। জেলেরা কষ্ট করে হলেও নিষেধাজ্ঞার সময়ে মাছ ধরা বন্ধ রাখছে। মৌসুমে একজন সাধারণ জেলে প্রতিদিন প্রায় ২-৩ হাজার টাকা আয় করছেন। উৎপাদন বাড়াতে মা ইলিশ ও জাটকা ধরা বন্ধের পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরীণ নদীগুলোকে দূষণমুক্ত ও গভীরতা বাড়ানোর দিকে জোর দিতে হবে। পাশাপাশি স্বাধীনভাবে ইলিশের বিচরণও নিশ্চিত করতে হবে। ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধির সাথে সাথে ইলিশ রক্ষার পরবর্তী পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করতে হবে। না হলে জেলেরা ন্যায্য মূল্য পাবে না।
ইলিশ মাছ দুই ধরনের। এক মিষ্টি পানির ইলিশ। অন্যটা হলো সমুদ্রের লোনা পানির ইলিশ। এদের মধ্যে মিষ্টি পানির ইলিশই পুষ্টিকর। ইলিশ মাছে ভালো ফ্যাটের পরিমাণ অনেক বেশি। ইলিশ মাছে পলি আনস্যাচুরেটেড এবং মনো আন-স্যাচুরেটেড ফ্যাট বেশি থাকে। যা আমাদের শরীরের জন্য সব সময়ই উপকারী। তবে মাঝারি সাইজের ইলিশই সবচেয়ে পুষ্টিকর। ৭০০ গ্রাম থেকে এক কেজির ওজনের ইলিশ মাছের মধ্যেই একমাত্র পলি ও মনো আন-স্যাচুরেটেড ফ্যাট পাওয়া যায়। তার চেয়ে বেশি ওজনের ইলিশ মাছ আমাদের শরীরের পক্ষে ক্ষতিকর। আবার ছোট ইলিশও ততটা পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ নয়। এই মাছে একেবারে প্রোটিন নেই। মাঝারি সাইজের ইলিশে প্রচুর প্রোটিন, জিঙ্ক, ক্রোমিয়াম, সেলেনিয়ামের মতো খনিজ পদার্থ রয়েছে। ১০০ গ্রাম ইলিশ মাছে ২২.৩ শতাংশ প্রোটিন রয়েছে। জিঙ্ক ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য খুবই উপকারী। ইলিশের সেলেনিয়াম অ্যান্টি অক্সিডেন্টের কাজ করে। এ ছাড়া ইলিশে রয়েছে ক্যালসিয়াম আর আয়রনের পুষ্টিগুণও। ইলিশ মাছে ভিটামিন এ, ডি এবং ই রয়েছে।
আমরা শুধু ইলিশের স্বাদের ওপর গুরুত্ব দেই। কিন্তু ইলিশের পুষ্টিমানও অসাধারণ। এতে ফ্যাটি অ্যাসিডের মতো প্রয়োজনীয় ও গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান আছে, যা শিশু ও গর্ভবতী মায়েদের জন্য উপকারী। এটি মস্তিষ্কের বুদ্ধি বিকাশে খুবই উপকারী। হার্টের কর্মদক্ষতা বাড়িয়ে হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়, চোখের দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধি করে, প্রজননতন্ত্র গঠন ও বিকাশে সাহায্য করে। এটি ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে।
বাংলাদেশে পোলট্রি ও সবজি উৎপাদনে বিপ্লব ঘটেছে। মাছও ক্রমে সেই উন্নয়নের মহাসড়কে পা রেখেছে। সরকারের সময়োপযোগী পদক্ষেপ ইলিশের ক্ষেত্রে তেমন এক বিপ্লবের সম্ভাবনা সৃষ্টি করেছে। আশা করছি, জামদানি শাড়ির পর রুপালি ইলিশ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তেমন স্থান দখল করবে।

লেখক : কৃষিবিদ, গবেষক এবং সমাজকর্মী

শ্রেণী: