বর্ণিল আয়োজনে সম্পন্ন ১০ দিনব্যাপী ‘মুজিব চিরন্তন’ অনুষ্ঠানমালা

রায়হান কবির : সারাদেশে বর্ণাঢ্য কর্মসূচির মধ্য দিয়ে বর্ণিল উৎসব ও আনন্দঘন পরিবেশে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ ‘মুজিববর্ষ’ ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপিত হয়েছে। জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির আয়োজনে জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত হয় ১০ দিনব্যাপী ‘মুজিব চিরন্তন’ শীর্ষক অনুষ্ঠানমালা। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী সীমিত পরিসরে আয়োজিত হলেও, আনন্দ-উৎসবের ঢেউ ছড়িয়ে পড়ে গোটাদেশে, প্রতিটি বাঙালি হৃদয়ে।
জাতির পিতার জন্মদিন ১৭ মার্চ থেকে ঢাকার প্যারেড গ্রাউন্ডে শুরু হয় ১০ দিনব্যাপী অনুষ্ঠান। প্রতিদিন আলাদা আলাদা থিমের ওপর আলোচনা পর্ব, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, প্রামাণ্যচিত্র, অডিও ভিজ্যুয়াল এবং অন্যান্য বিশেষ পরিবেশনার মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হয়েছিল স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস। স্মরণ করা হয়েছে স্বাধীনতা ও মুক্তিসংগ্রামের মহানায়ক ও হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোসহ বিভিন্ন বন্ধু-রাষ্ট্রের সাংস্কৃতিক পরিবেশনাও ছিল মনোমুগ্ধকর। এসব অনুষ্ঠানে অনুষ্ঠানে প্রতিবেশী ৫টি দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানরা সশরীরে যোগ দেন। তারা হচ্ছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, শ্রীলংকার প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকসে, নেপালের রাষ্ট্রপতি বিদ্যা দেবী ভান্ডারি, মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম মোহাম্মদ সলিহ এবং ভুটানের প্রধানমন্ত্রী ডা. লোটে শেরিং। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান, মন্ত্রিপরিষদ সদস্য এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রধানদের ভিডিও বার্তা অথবা শুভেচ্ছা বার্তা পাঠ করে শোনানো হয়েছে। অনেক নেতা লিখিত অভিনন্দন বার্তাও পাঠিয়েছেন।
এছাড়াও ১০ দিনের এই অনুষ্ঠানমালায় বাংলাদেশের জনগণ ও সরকারকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বার্তা পাঠিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন, চীনের রাষ্ট্রপতি শি জিনপিং, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন, কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন, জাপানের প্রধানমন্ত্রী ইয়োশিহিদে সুগা, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান, কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হুন সেন, দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রী চুং সেয় কিউন, ভ্যাটিকানের পোপ দ্বিতীয় ফ্রান্সিস, রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সেরগেই লাভরভ, জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস, ওআইসির মহাসচিব ড. ইউসেফ আল ওথাইমিন, ইউনেস্কোর মহাপরিচালক অড্রে আজুলে, ভারতীয় কংগ্রেসের সভাপতি সোনিয়া গান্ধী, ফ্রান্সের সিনেটর জাকুলিন ডেরোমেডিসহ অনেকেই।
জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি আয়োজিত ১০ দিনব্যাপী জাতীয় পর্যায়ের অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু-কন্যা দেশরতœ জননেত্রী শেখ হাসিনা এমপি। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী ও বঙ্গবন্ধু-কন্যা শেখ রেহানা। অনুষ্ঠান পরিচালনায় সার্বিক দায়িত্ব পালন করেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি জাতীয় অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম এবং প্রধান সমন্বয়ক ড. কামাল আবদুল নাসেরসহ কমিটির সম্মানিত সদস্যগণ।

‘ভেঙেছ দুয়ার, এসেছ জ্যোতির্ময়’
১০ দিনব্যাপী আয়োজিত বর্ণাঢ্য কর্মসূচির প্রথম দিন গত ১৭ মার্চ অনুষ্ঠিত হয় ‘ভেঙেছ দুয়ার, এসেছ জ্যোতির্ময়’ শীর্ষক জাঁকজমকপূর্ণ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। সংগীত, কবিতা, পুঁথিপাঠ, নাটক, নৃত্য, ডকুমেন্টারিসহ শিল্পের নানা ফর্মে জাতির পিতাকে মূর্ত করে তোলা হয়। বরেণ্য শিল্পীদের মনমুগ্ধকর পরিবেশনা ফুটে ওঠে বাঙালির স্বাধীনতা সংগ্রামের বীরত্বগাঁথা ইতিহাসের সুবর্ণ রেখা। ১০ দিনব্যাপী আয়োজনের প্রথম দিন সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অভিনেতা তারিক আনাম খানের নির্দেশনায় ছিল সঞ্চালনা ড্রামা। দলীয় পরিবেশনার মধ্য দিয়ে শেখ মুজিবের বেড়ে ওঠা অহর্নিশ সংগ্রাম ও অর্জনের কথা ধারাবাহিকভাবে বর্ণনা করা হয়। নাসির উদ্দীন ইউসুফের নির্দেশনায় ছিল আরেকটি অনবদ্য পরিবেশনা। সংগীত ও অভিনয়সহ কয়েকটি আর্ট ফর্ম ব্যবহার করেন শিল্পীরা। ৯ মিনিটের পরিবেশনায় অংশ নেন ১০০ শিল্পী। এদিন মাগুরার শিল্পীরা বাজান জয়-ঢাক। চারঘাট থেকে আসা ঢুলিরাও ঢোল বাজিয়ে মুগ্ধ করেন। কুষ্টিয়ার শিল্পীরা পরিবেশন করেন লাঠি নৃত্য। রেকর্ড করা একটি থিমসং প্রদর্শন হয় অনুষ্ঠানে। অনুষ্ঠানে যোগ দেন বন্ধুরাষ্ট্র ভারতের শিল্পীরাও।

মহাকালের তর্জনী
মুজিববর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর ১০ দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালার দ্বিতীয় দিনে ১৮ মার্চ সন্ধ্যায় রাজধানীর প্যারেড গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত হয় ‘মহাকালের তর্জনী’ শীর্ষক অনুষ্ঠামালা। ১৯৭১ সালের ঐতিহাসিক ৭ মার্চ যে তর্জনী বাঙালিকে স্বাধীনতা অর্জনের পথ নির্দেশ করেছিল বঙ্গবন্ধুর সেই তর্জনীকে রূপক হিসেবে গ্রহণ করেই সাজানো হয় এদিনের অনুষ্ঠানমালা। এদিন শিল্পের নানা মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর জীবন ও সংগ্রামের বিভিন্ন পর্যায় তুলে ধরা হয়। দেশের বেশ কয়েকজন স্বনামধন্য গায়ক-গায়িকা অনুষ্ঠানে একক সংগীত পরিবেশন করেন। অনুষ্ঠানের সূচনা করা হয় ঐতিহ্যবাহী পটের গান দিয়ে। বঙ্গবন্ধুকে পটচিত্রে এঁকে সেই পটচিত্র প্রদর্শন করতে করতেই গান করেন শিল্পীরা। গানে গানে জাতির পিতার সংগ্রামী জীবনের গল্প তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানের বিশেষ আকর্ষণ ছিল পশ্চিমবঙ্গের সংগীত পরিচালক দেবজ্যোতি মিশ্র’র অর্কেস্ট্রেশন।

‘যতকাল রবে পদ্মা যমুনা’
‘মুজিব চিরন্তন’ শীর্ষক অনুষ্ঠানমালার তৃতীয় দিনে ১৯ মার্চও ছিল বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু-কন্যা শেখ হাসিনা ও তার ছোট বোন শেখ রেহানা। একই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত হয়ে এসেছিলেন শ্রীলংকার প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকসে। বিশেষ বক্তৃতা শেষে দুই প্রধানমন্ত্রী পাশাপাশি বসে অনুষ্ঠান উপভোগ করেন। এদিনও সংগীত নৃত্য এবং থিয়েট্রিক্যাল পরিবেশনায় বাঙালির মহান নেতাকে স্মরণ করা হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে ছিল শ্রীলংকার শিল্পীদের পরিবেশনা। একক কণ্ঠে ‘পদ্মার ঢেউরে’ গেয়ে শোনান কিরণ চন্দ্র রায়। লোকগানে মুজিবের বন্দনা করেন চন্দনা মজুমদার। তার গাওয়া ‘নেতার নেতা হইছে শেখের বেটা’ গানে মানানসই ফিউশন করা হয়। তারুণ্যের প্রিয় গায়ক অর্ণব নতুন গান গেয়ে শোনান। গানটি : শেখ মুজিবের সোনার বাংলা আনলো নতুন দিন/তোরা দেখ আসিয়ারে বাংলাদেশ হইয়াছে স্বাধীন…। সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়ের গাওয়া ‘বঙ্গবন্ধু ফিরে এলে তোমার স্বপ্নের স্বাধীন বাংলায়’ গানটি গেয়ে জাতির পিতার প্রতি শ্রদ্ধা জানান কিংবদন্তি শিল্পী।

তারুণ্যের আলোকশিখা
‘মুজিব চিরন্তন’ অনুষ্ঠানমালার চতুর্থ দিন ২০ মার্চও নানা আয়োজনে মুখরিত হয় রাজধানীর প্যারেড গ্রাউন্ড। প্রতিদিনের মতো এদিনও ছিল বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানের মূল প্রতিপাদ্য ছিল ‘তারুণ্যের আলোকশিখা’। তরুণদের প্রাধান্য দিয়েই পরিকল্পনা সাজানো হয়েছিল। বিভিন্ন বয়সী তরুণ তরুণীরা গান করেন। ছিল থিম্যাটিক কোরিওগ্রাফি। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের তরুণদের পাশাপাশি বিশেষ দৃষ্টি কাড়েন জাপানের শিল্পীরা। তাদের সংগীত ও উপস্থাপনার আকর্ষণীয় ধরন মুগ্ধ হয়ে উপভোগ করেন দর্শক। এদিন গেয়ে শোনান দেশের জনপ্রিয় তরুণ শিল্পীরা। এছাড়াও ছিল পূজা সেনগুপ্তর একটি অনন্য সাধারণ কোরিওগ্রাফি। বড় দল নিয়ে মঞ্চে আসেন শিল্পী। পরিবেশনায় বাঙালির সংগ্রামের ইতিহাস ও বঙ্গবন্ধুকে ধারাবাহিকভাবে তুলে ধরা হয়। সব মিলিয়ে বেশ কাটে সন্ধ্যাটি। দেশের বিভিন্ন সেক্টরের সফল তরুণরা অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেন।

প্যারেড গ্রাউন্ডে পঞ্চম দিন
‘মুজিব চিরন্তন’ অনুষ্ঠানমালার পঞ্চম দিন ২১ মার্চও নানা আয়োজনে মুখরিত ছিল রাজধানীর প্যারেড গ্রাউন্ড। প্রতিদিনের মতো এদিনও ছিল বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানের মূল প্রতিপাদ্য ছিল ‘ধ্বংসস্তূপে জীবনের গান’। ধ্বংসস্তূপ বলতে বোঝানো হয়Ñ একাত্তরের যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশের কথা, যেখান থেকে এগিয়ে চলা আজকের সমৃদ্ধ বাংলাদেশের অভিযাত্রা। এদিনের আলোচনা অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এমপি। আলোচনা করেন সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি। তিনি বলেন, দেশকে স্বাধীন করার পর নতুন সংগ্রাম শুরু হয় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর। তিনি যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশকে পুনর্গঠন করেন। দেশের এ-প্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্ত ছুটে বেড়িয়েছেন, বুকজুড়ে ৫৪ হাজার বর্গমাইল ফুলে ফুলে শোভিত করতে বঙ্গবন্ধু ছুটে বেড়িয়েছেন। এছাড়াও বিশেষ বক্তৃতা করেন ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ছোট বোন শেখ রেহানা। এদিন প্রথমেই ছিল চীনের শিল্পীদের পরিবেশনা। এছাড়াও বাইরের বিভিন্ন দেশের শিল্পীরা এ মঞ্চে সংগীত নৃত্য ইত্যাদি পরিবেশন করেছেন। চীনের অর্কেস্ট্রা দলটি ‘বন্ধুত্ব চিরন্তন’ শীর্ষক একটি ক্লাসিক বাজিয়ে শোনায়। একই সঙ্গে চলে নৃত্যায়োজন। অনুষ্ঠানে শিল্পীরা ‘পুরানো সেই দিনের কথা ভুলবি কি রে হায়’ গানটির সুর বাজিয়ে শোনান। অর্কেস্ট্রেশনের সঙ্গে মিলিয়ে এ সময় বাংলাদেশের সঙ্গে চীনের কূটনৈতিক সম্পর্কের অতীত ও বর্তমান আলোকচিত্রের সাহায্যে তুলে ধরা হয়। বঙ্গবন্ধুর চীন সফরের বিভিন্ন ছবি দেখানো হয় ব্যাকড্রপে।
এদিনের বিষয়ের ওপর আগেই ছবি এঁকেছিলেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন শিল্পী শাহাবুদ্দিনসহ মোট ১০০ জন। সেসব ছবি কাব্য সুর ও নৃত্যায়োজনে যুদ্ধোত্তর বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধুর নতুন যে সংগ্রাম, সেটি তুলে ধরার প্রয়াস নেওয়া হয়। ‘ক্যানভাসে বঙ্গবন্ধুর সাড়ে তিন বছর : শূন্য থেকে মহাশূন্যে’ শীর্ষক আয়োজনটিতে নতুনত্ব খুঁজে পান দর্শক। পরে ছিল ঐতিহ্যবাহী পালা, জারি ও গম্ভীরা পরিবেশনা করা হয়। অনুষ্ঠানে ছিল তারুণ্যের প্রিয় ব্যান্ডসংগীতও। মঞ্চে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে ‘২৮৮ দিন’ শিরোনামে একটি নাটক পরিবেশিত হয়। এ নাটকের গল্প শুরু হয় ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ থেকে। মুজিবের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের মধ্য দিয়ে শেষ হয় নাটক। আসাদুল ইসলাম রচিত নাটকের নির্দেশনা দেন আমিনুর রহমান মুকুল। আয়োজনে ছিল শিশুদের পরিবেশনা। ১০০ শিশুর গাওয়া ‘আলো আমার আলো’ যেন নতুন আলোর পথ দেখায়।

বাংলার মাটি আমার মাটি
২২ মার্চ ‘মুজিব চিরন্তন’ অনুষ্ঠানমালার ষষ্ঠ দিনে ‘বাংলার মাটি আমার মাটি’ শীর্ষক আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানের প্রথমে ছিল আলোচনা পর্ব। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন নেপালের প্রেসিডেন্ট বিদ্যা দেবী ভান্ডারি। স্বাগত বক্তব্য রাখেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এমপি। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম এমপি। অনুষ্ঠানে বিশেষ বক্তৃতা করেন কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন। এরপর সন্ধ্যা ৭টায় শুরু হয় সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। মূল অনুষ্ঠানের পরিকল্পনায় ছিল শিল্পকলা একাডেমি। কয়েকশ’ শিল্পীকে সঙ্গে নিয়ে এ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হয়। প্রথমেই ছিল অনবদ্য অর্কেস্ট্রেশন। শততম জন্মবার্ষিকীতে ১০০ শিল্পী যন্ত্রসংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে জাতির পিতাকে শ্রদ্ধা জানান। বন্ধুদেশগুলোর মধ্যে এদিন ছিল নেপালের শিল্পীদের পরিবেশনা। নিজেদের অনবদ্য পরিবেশনা বঙ্গবন্ধুকে উৎসর্গ করেন তারা। উপস্থাপন করা হয় নৃত্যালেখ্য ‘হাজার বছর ধরে’। সৈয়দ শামসুল হক ও নির্মলেন্দু গুণের বিখ্যাত কবিতার সঙ্গে কালজয়ী কিছু গানের চমৎকার সমন্বয় করা হয়। ছিল কোরিওগ্রাফিও। নৃত্যালেখ্যটির মধ্য দিয়ে বাঙালির ইতিহাস ও সে ইতিহাসের বরপুত্র শেখ মুজিবুর রহমানকে উপস্থাপন করা হয়। এদিনের অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে ছিল যাত্রাপালা। মিলন কান্তি দে রচিত ও নির্দেশিত যাত্রাপালায় বঙ্গবন্ধু হত্যাকা- পরবর্তী সময়ের টানাপড়েন তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানে ৬০ জনের একটি দল বাংলার ষড়ঋতুর রূপবৈচিত্র্য ও পরিবর্তনের চিত্র তুলে ধরে। ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ ও দেশাত্মবোধক গানের মেডলি নিয়ে ছিল আরেকটি কোরিওগ্রাফি।

‘নারীমুক্তি, সাম্য ও স্বাধীনতা’
‘মুজিব চিরন্তন’ অনুষ্ঠানমালার সপ্তম দিন ২৩ মার্চও নানা আয়োজনে মুখরিত ছিল রাজধানীর প্যারেড গ্রাউন্ড। অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বে আলোচনা সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী এমপি। বক্তব্য রাখেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। ইউনেস্কোর মহাপরিচালক অড্রে আজুলে-এর ভিডিও বার্তা প্রচার করা হয়। সন্ধ্যায় শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। প্রথমেই বন্ধু-রাষ্ট্র সুইজারল্যান্ডের নিবেদন। সুইজারল্যান্ড দূতাবাসের কর্মকর্তারা একটি তথ্যচিত্র নিয়ে দর্শকের সামনে আসেন। দেশি শিল্পীদের পরিবেশনার প্রায় পুরোটাজুড়েই ছিলেন নারীরা। কবিতা গান নাচের ভাষায় তারা কখনও বঙ্গবন্ধুকে তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে স্বনামধন্য গায়িকা ফাতেমা তুজ জোহরা, সালমা আকবর, সামিনা চৌধুরী সংগীত পরিবেশ করেন। এর পরপরই ছিল দলীয় নৃত্য। ‘অনন্যা অপরাজিতা’ শীর্ষক থিম্যাটিক কোরিওগ্রাফিতে বহু শিল্পীর অংশগ্রহণ চোখে পড়ে। এই কোরিওগ্রাফির মাধ্যমেও নারী জীবন ও অধিকারের কথা বলার চেষ্টা করা হয়। আলাদা দৃষ্টি কাড়ে আদিবাসীদের ট্র্যাডিশনাল গান ও কোরিওগ্রাফি। বঙ্গবন্ধুকে নিবেদিত গান দিয়ে শেষ হয় অনুষ্ঠান।

রবীন্দ্র-নজরুলের গান এবং পুঁথি পাঠে মুজিববন্দনা
‘মুজিব চিরন্তন’ অনুষ্ঠানমালার অষ্টম দিনে ২৪ মার্চ নানা আয়োজনে মুখরিত ছিল রাজধানীর প্যারেড গ্রাউন্ড। এ দিনের প্রতিপাদ্য ছিল ‘শান্তি, মুক্তি ও মানবতার অগ্রদূত’। প্রথম বর্ষে আলোচনা সভা শেষে সন্ধ্যায় শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। পুরো অনুষ্ঠানে ফিলার হিসেবে প্রচারিত হয় অভিনেতা ফজলুর রহমান বাবুর পুঁথিপাঠ। পুঁথির ফর্মে অত্যন্ত আকর্ষণীয়ভাবে মহান নেতার জীবন ও সংগ্রাম তুলে ধরেন তিনি। অনুষ্ঠানে শিল্পীরা রবীন্দ্র নজরুল ও লোকসংগীতসহ নানা পরিবেশনায় স্মরণ করেন বাঙালির অবিসংবাদিত নেতাকে। ‘ঐ মহামানব আসে’ শীর্ষক আয়োজনে ছিল রবীন্দ্রসংগীতের পরিবেশনা। সুরের ধারার শিল্পীদের বিশাল একটি দল নিয়ে রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যার নেতৃত্বে গানে গানে জাতির পিতার প্রতি শ্রদ্ধা জানায়। নজরুলের গানে শ্রদ্ধা জানান শবনম মুশতারী ও ইয়ামিন মুশতারীসহ সাত শিল্পী। ‘অজর, অমর, অক্ষয়’ শীর্ষক আয়োজনে গাওয়া গানগুলোর মধ্যে ছিল ‘প্রভু নিরজনে’, ‘দুর্গম গিরি কান্তার মরু’ ও ‘জয় হোক’। অনুষ্ঠানে ছিল ‘লোকনায়ক’ শিরোনামে লোকগানের অনবদ্য পরিবেশনা। এ পর্বে মঞ্চে উপস্থিত হন লালনের গানের কিংবদন্তি শিল্পী ফরিদা পারভীন। কিরণ চন্দ্র রায়, শফি ম-লসহ সিনিয়র জুনিয়র শিল্পীরা প্রথমে গেয়ে শোনান ‘শেখ মুজিব বঙ্গবন্ধু সবাই কয়’ গানটি। ব্যান্ড দল স্পন্দন ‘মহাকালের গণনায়ক : তোরা সব জয়ধ্বনি কর’ শীর্ষক আয়োজন নিয়ে মঞ্চে আসে। অনুষ্ঠানের শেষভাগে ১৯৭১ সালের ১ আগস্ট বাংলাদেশের সহায়তায় আয়োজিত বিখ্যাত ‘কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’র চুম্বক অংশ দেখানো হয়।

‘গণহত্যার কালরাত্রি ও আলোকের অভিযাত্রা’
‘মুজিব চিরন্তন’ অনুষ্ঠানমালার নবম দিনে ২৫ মার্চ অনুষ্ঠিত ‘গণহত্যার কালরাত্রি ও আলোকের অভিযাত্রা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে সংগীত কবিতা ও নৃত্যায়োজনসহ নানা পরিবেশনায় ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালরাত্রির ইতিহাস স্মরণ করে স্বাধীনতা সংগ্রামের শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। এদিন পরিবেশনায় যুক্ত করা হয়েছিল স্যান্ড আর্ট। বালি দিয়ে ছবি এঁকে পাকিস্তানিদের বর্বরতার চিত্র তুলে ধরেন শিল্পী জীবন রায়। একাত্তরে বাংলাদেশে পরিচালিত গণহত্যার প্রতিবাদকারী যুক্তরাষ্ট্রের মানবতাবাদী গায়িকা জোয়ান বায়েজ বাংলাদেশের পক্ষে বিশ্বজনমত গড়ে তুলতে গেয়েছিলেন ‘দ্য স্টোরি অব বাংলাদেশ’ গানটি। তার সেই কালজয়ী গানটি এদিন মঞ্চে গেয়ে শোনান এলিটা ও বাপ্পা মজুমদার। একাত্তরের আরেক বন্ধু কবি এ্যালেন গিন্সবার্গ। তার বিখ্যাত কবিতা ‘সেপ্টেম্বর অন যশোর রোড’ থেকে অনবদ্য সংগীত সৃষ্টি করেছিলেনন পশ্চিমবঙ্গের আরেক স্বনামধন্য শিল্পী মৌসুমী ভৌমিক। তার সেই গানের সঙ্গে এদিন ছিল অনবদ্য থিয়েট্রিক্যাল পারফর্মেন্স। পরিবেশনাটি নিয়ে মঞ্চে আসে বাঁধনহারা নামের একটি দল। অনুষ্ঠানে আরও ছিল চট্টগ্রামের ‘যুদ্ধ শিশু’ দলের পরিবেশনা। একই সময় ভিডিও ক্লিপে দেখানো হয় কয়েকজন বীরাঙ্গনাদের দুঃখগাথা।
এদিনের আয়োজনে গান করেন কিংবদন্তি শিল্পী সাবিনা ইয়াসমিন। একাত্তরের শহিদদের প্রতি আলাদা করে শ্রদ্ধা জানিয়ে সম্মেলক কণ্ঠে গাওয়া হয় ‘সালাম সালাম হাজার সালাম সকল শহীদ স্মরণে’ গানটি। এ সময় মঞ্চে ছিলেন রফিকুল ইসলাম, তিমির নন্দী, খুরশিদ আলমের মতো সিনিয়র শিল্পীরা। উদীচী ও স্বভূমির শিল্পীরাও অংশ নেন এ গানে। ‘যতকাল রবে পদ্মা যমুনা গৌরী মেঘনা বহমান’ গানটি গেয়ে শোনান নজরুল সংগীতশিল্পী সুজিত মোস্তফা। ‘স্বভূমি’র একদল শিল্পী তার সঙ্গে কণ্ঠ মেলান। এদিনের আয়োজনে রাখা হয়েছিল মঞ্চ নাটকও।

স্বাধীনতার ৫০ বছর ও অগ্রগতির সুবর্ণরেখা
২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবসের দিন ‘স্বাধীনতার ৫০ বছর ও অগ্রগতির সুবর্ণরেখা’ প্রতিপাদ্যে ১০ দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের উপস্থিতিতে সন্ধ্যায় শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। একাত্তরের সবচেয়ে বড় বন্ধু ঘনিষ্ঠ মিত্র ভারতের শিল্পীদের অংশগ্রহণে বাংলাদেশ-ভারত দুই দেশের শিল্পীদের অনবদ্য পরিবেশনায় দারুণ উপভোগ্য হয়ে ওঠে অনুষ্ঠান। আলোচনা পর্বের আগে অনুষ্ঠানে সমবেত কণ্ঠে সংগীত পরিবেশন করেন দেশের খ্যাতিমান শিল্পীরা। তবে মূল পরিবেশনা শুরু করে বন্ধু-রাষ্ট্র ভারত। মঞ্চে আলো ছড়ান উপমহাদেশের প্রখ্যাত শাস্ত্রীয় সংগীতশিল্পী প-িত অজয় চক্রবর্তী। বাংলাদেশের সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে একটি নতুন রাগ সৃষ্টি করেছেন তিনি। ‘মৈত্রী’ শিরোনামের এ রাগ অনুষ্ঠানে প্রথমবারের মতো পরিবেশন করেন অজয়। অনুষ্ঠানে নতুন রাগ নির্ভর তিন ভাষায় রচিত ৩টি গান গেয়ে শোনান শিল্পী। প্রথম গানটি ছিল সংস্কৃত ভাষায়। রচনা করেন ড. অরিন্দম চক্রবর্তী। দ্বিতীয়টি শোনান হিন্দিতে। এটি রচনা করেন ড. সুস্মিতা বসু ও রবি বর্মণ। সবশেষে বাংলা গানটি করেন তিনি। নিজের ছেলে অনল চট্টোপাধ্যায়ের লেখা গানের কথাগুলো ছিল এ রকম : আজ আবার অতীত বেয়ে ইতিহাস ছুঁয়ে দেখা/অর্ধশতক বর্ষে দু’চোখে স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখা…।
অনুষ্ঠানের আরেক চমক নিয়ে আসেন এ আর রহমান। অস্কার বিজয়ী ভারতীয় শিল্পী ও সংগীত পরিচালক সশরীরে উপস্থিত না থাকলেও, বাংলাদেশের সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে অসাধারণ একটি গান করে পাঠিয়েছেন। সংগীত পরিচালনা করার পাশাপাশি গানে নিজেই কণ্ঠও দিয়েছেন। অনুষ্ঠানে ছিল ‘পিতা দিয়েছে স্বাধীন স্বদেশ, কন্যা দিয়েছে আলো’ শীর্ষক থিমেটিক কোরিওগ্রাফি। চমৎকার কোরিওগ্রাফির মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন, স্বাধীনতার সংগ্রাম ও বর্তমানে এগিয়ে চলা বাংলাদেশের চিত্র তুলে ধরা হয়। কোরিওগ্রাফিতে অংশ ধৃতি নর্তনালয়। পরিবেশনাটির বিশেষ বৈশিষ্ট্য এই যে, এতে প্রধানমন্ত্রী ও বঙ্গবন্ধু-কন্যা শেখ হাসিনার কণ্ঠ ব্যবহার করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে ‘যে মাটির বুকে ঘুমিয়ে আছে লক্ষ মুক্তি সেনা’, ‘মা গো ভাবনা কেন’সহ কয়েকটি গান গেয়ে শোনান সৈয়দ আবদুল হাদী। একক কণ্ঠে গান করেন গায়িকা মমতাজও। স্বাধীনতার ৫০ বছরে এসে বাংলাদেশের সব অর্জনের আনন্দ ঢাক-ঢোলের সমবেত বাদ্য ও কোরিওগ্রাফি সহযোগে প্রকাশ করা হয়। ‘বাংলাদেশের গর্জন : আজ শুনুক পুরো বিশ্ব’ শীর্ষক আয়োজন দারুণ এক উৎসবের আমেজ ছড়ায়। সবশেষে ফায়ার ওয়ার্কস ও লেজার শো’র মধ্য দিয়ে শেষ হয় অনুষ্ঠান।

বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটারের ১০ দিনব্যাপী নাট্যোৎসব
১০ দিনব্যাপী জাতীয় অনুষ্ঠানমালার পাশাপাশি রাজধানীসহ সারাদেশে বঙ্গবন্ধুর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে অনুষ্ঠিত হয় বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানমালা। বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশন আয়োজিত ১০ দিনব্যাপী নাট্যোৎসব। থিয়েটার আর্ট ইউনিটের প্রযোজনায় মঞ্চস্থ হয় নাটক ‘কোর্ট মার্শাল। ১৭ থেকে ২৬ মার্চ পর্যন্ত প্রতিদিন সন্ধ্যা ৭টায় যে নাটকগুলো মঞ্চায়ন হয় সেগুলো হলোÑ ঢাকা নান্দনিকের ‘গ্রহণকাল’, দৃশ্যকাব্যের ‘বাঘ’, শব্দ নাট্যচর্চা কেন্দ্রের ‘রাইফেল’, নাগরিক নাট্যাঙ্গন অনসাম্বলের ‘তোরা সব জয়ধ্বনি কর’, ঢাকা পদাতিকের ‘কথা ৭১’, খেয়ালী নাট্যগোষ্ঠীর ‘কদমতলী আর্মী ক্যাম্প’, প্রাঙ্গণে মোরের ‘কনডেমড সেল’, পদাতিক নাট্য সংসদ টিএসসির ‘কালরাত্রি’ এবং উৎসবের শেষ দিন ২৬ মার্চ মঞ্চায়ন হয় থিয়েটার বেইলি রোডের নাটক ‘পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়’। এছাড়াও জাতীয় জাদুঘরের কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে সকালে ‘বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ বিশ্লেষণ ও দিকনির্দেশনা’ শীর্ষক সেমিনার ও সিনেপ্লেক্সে অনুষ্ঠিত হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর মিলনায়তনে আয়োজন করা হয় শিশু-কিশোর সমাবেশ ও আনন্দানুষ্ঠান। বিভিন্ন স্কুলের শিশুদের নাচ, গান ও আবৃত্তিতে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply