অনবদ্য আয়োজনে ‘জয় বাংলা’ কনসার্ট, তারুণ্যের বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস

Posted on by 0 comment

উত্তরণ ডেস্ক: আতশবাজি, লেজার শো আর মূল উপাদান গান। সেখানেও দৃপ্ত কণ্ঠের ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ছোঁয়া। বঙ্গবন্ধুর সে ভাষণকে উপলক্ষ্য করে আয়োজিত কনসার্ট ‘জয় বাংলা’র সূচিও সাজানো হয়েছিল দেশের ব্যান্ড আর নানামাত্রিক চমকপ্রদ পরিবেশনার মাধ্যমে।
গত ৭ মার্চ রাজধানীর আর্মি স্টেডিয়ামে সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশনের (সিআরআই) এবং সহযোগী প্রতিষ্ঠান ইয়াং বাংলার আয়োজনে হয়ে গেল কনসার্টটি। এর পর্দা ওঠে বরেণ্য সংগীত পরিচালক আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলের নির্দেশনায় অর্কেস্ট্রায় জাতীয় সংগীত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে। এরপর ব্যান্ড আরবোভাইরাসের অংশগ্রহণে শুরু হয় কনসার্টের আনুষ্ঠানিকতা। নেমেসিস এসেছিল কিছুটা ভিন্ন সেটআপে। রাত ৮টার মঞ্চ মাতিয়েছে হেভি মেটাল ব্যান্ড ক্রিপটিক ফেইট। এরপর ছিল শিরোনামহীন। আয়োজনে অন্যতম এবং সবচেয়ে বড় চমক ছিল ১৯৪৭ থেকে ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ পর্যন্ত পর্যায়ক্রমিক নানা ঘটনার পরিবেশনা  ‘রঙিন বঙ্গবন্ধু’। এটা মঞ্চায়ন করে নাট্যদল প্রাচ্যনাট। এ ছাড়া ছিল ‘গর্জে ওঠো বাংলাদেশ’ প্রামাণ্যচিত্রের প্রদর্শনী।
জাতীয় চার নেতাকে নিয়ে নাটক
‘সিক্রেট অব হিস্ট্রি’
কারাগারে জাতীয় চার নেতা হত্যার ঘটনার গল্প অবলম্বনে বুনন থিয়েটারের প্রযোজনায় অচিরেই মঞ্চে আসছে নতুন নাটক ‘সিক্রেট অব হিস্ট্রি’। আগামী ৫ এপ্রিল সন্ধ্যা ৭টায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার পরীক্ষণ থিয়েটার হলে নতুন এই নাটকের উদ্বোধনী মঞ্চায়ন হবে। জাতীয় চার নেতা হত্যার ঘটনাকে উপজীব্য করে নাটকটি রচনা করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আনন জামান। নির্দেশনা দিয়েছেন শুদ্ধমান চৈতন। নাটকের বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করবেনÑ আনন জামান, তুষার কান্তি দে রাজন, আশরাফুল আলম বিলাস, উচ্ছ্বল হাসান, আবু ফাহিম, শাত-ইল রাস, আবিদ হাসান নির্ঝর, অমিত চৌধুরী, তুষার সোহাগ, হাজেরা আক্তার কেয়া, আয়েশা আক্তার কাকন, মারিয়া বিনতে লতিফ, নন্দদুলাল, রুদ্র বাউল, লাল হোসেন, জিহাদুল ইসলাম।
জেলের ভেতর জাতীয় চার নেতাকে নির্মম খুন ও তৎপরবর্তী ক্যান্টনমেন্ট ও রাষ্ট্রীয় ষড়যন্ত্র নিয়ে নতুন প্রযোজনা ‘সিক্রেট অব হিস্ট্রি’ নাটকের গল্প এগিয়েছে। নাটকের শুরুতেই দেখা যায়Ñ এক মহান রাষ্ট্রপতিকে হত্যা করে গদি দখল করা খুনি রাষ্ট্রপতি জেলের ভেতর হত্যাকৃত চার নেতার লাশ গোরস্তানে বয়ে এনেছে। উদ্দেশ্য রাতের আন্ধারিতে কবরে ছেপে দেওয়া। গোরস্তানের আদি ভৌতিক আবহে খুনি রাষ্ট্রপতির মুখোমুখি হয় জেলখানার দায়িত্বপ্রাপ্ত গার্ড, খুনি রিসালদার ও চার নেতার ছায়া শরীর।
কাহিনির মধ্যভাগে যুক্ত হয় এক খুনি মেজরÑ যে মেজর অন্ধকার হলেই লাশভরা ট্রাক নিয়ে পথে নামে গোরস্তান দেখলেই ছেপে দেয়। সে নয়খানি ট্রাকে শতখানি দ্রোহঠাসা সেনার লাশ গোরস্তানের ছায়ায় সারি করে রেখে রাষ্ট্রপতির সাথে যুক্ত হয়। খুনি রাষ্ট্রপতি আর মেজর একসাথে কৌশল নির্মাণ করে চলে লাশ ছেপে দেওয়ার জন্যÑ বাদসাধে বুদ্ধিজীবী অধ্যাপক মুনীর চৌধুরীর মুর্দা ফকির। সে দীঘল সাদা আলখেল্লার প্রান্ত উড়িয়ে লাশ আগলে দাঁড়ায়Ñ মুখে ঠোঁটে এক কথা তারÑ ‘এ লাশ কবরে যাবে না’। একে একে অভিনীত হয় সেনা বিদ্রোহ দমনের নামে ক্যান্টনমেন্টের হত্যাকৃত সেনাদের দীর্ঘশ্বাস ও নিগূঢ় হত্যার গোপন কথকতা। নাটকটির অভিনয় নির্মাণে নির্দেশক মূল অভিনয় মঞ্চ থেকে একটি রক্তবর্ণ গালিচা দর্শক সারির মধ্যভাগ পর্যন্ত রেখে একটি কাঠগড়ার সেট স্থাপন করা হবেÑ যা দর্শক অভিনেতার দূরত্ব ঘুচিয়েÑ দর্শক-শ্রোতাকে নাট্যস্থিত বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট করতে সহায়তা করবে বলে সংশ্লিষ্টদের বিশ্বাস।

Category:

Leave a Reply