আগামী এক বছরে মাথাপিছু আয় হবে ২ হাজার ডলার

Posted on by 0 comment

‘ভিক্ষা চেয়ে নয়, দেশের নিজস্ব সম্পদ নিয়ে আমরা এগিয়ে যাব। কারণ আমাদের দেশের সম্পদ জনগণ আর দেশের মাটি হচ্ছে উর্বর। আমরা দেশের যে উন্নতি করতে পারি তা আজ প্রমাণিত। আগামী এক বছরে দেশের মানুষের মাথাপিছু আয় ২ হাজার মার্কিন ডলারে উন্নীত করতে পারব বলে আমরা আশাবাদী’

PMf উত্তরণ প্রতিবেদন: প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা বলেছেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতার এক দশকে বাংলাদেশ উন্নয়নের মহীসোপানে যাত্রা শুরু করেছে। দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, আমরা দেশকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাব। দেশের যে অগ্রযাত্রা শুরু হয়েছে, তা আরও এগিয়ে নিয়ে যাব। দেশকে আরও সমৃদ্ধশালী করব। ২০২০ সালে জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী, ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী আমরা পালন করব ভিক্ষুকমুক্ত, ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত দেশ হিসেবে। ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ হবে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে উন্নত-সমৃদ্ধশালী দেশ।
সম্প্রতি সামাজিক অপরাধ বৃদ্ধি ও শিশুদের ওপর পাশবিক অত্যাচারের বিরুদ্ধে আবারও কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রয়োজনে বিদ্যমান আইনকে আরও কঠোর করা হবে, জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা ঘটানোর কেউ সাহস না পায়। এ ব্যাপারে গণমাধ্যমের সহযোগিতা কামনা করে তিনি বলেন, ধর্ষকদের চেহারা যেন বারবার দেখানো ও প্রকাশ করা হয়। যাতে এই জঘন্য অপরাধীরা লজ্জা পায়। পাশাপাশি পুরুষ সমাজকেও ধর্ষকদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, নারীরা কেন একা প্রতিবাদ করবে। এ বিষয়ে পুরুষদেরও সোচ্চার হওয়া প্রয়োজন।
স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে গত ১১ জুলাই রাতে একাদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের সমাপনী বক্তৃতায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী দৃঢ়কণ্ঠে বলেন, রাজনীতি করি দেশ ও দেশের মানুষের জন্য। দেশের সম্পদ বিক্রি করে ক্ষমতায় আসতে হবে সেই রাজনীতি আমি করি না। আমার প্রধান লক্ষ্যই হচ্ছে দেশের উন্নতি ও দেশের মানুষের কল্যাণ। দেশের মানুষকে একটু সুন্দর জীবন দেয়াই আমার প্রধান লক্ষ্য। প্রধানমন্ত্রীর সমাপনী বক্তব্য শেষে স্পিকার রাষ্ট্রপতির আদেশ পাঠ করে সংসদ অধিবেশনের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ যখনই ক্ষমতায় আসে তখনই দেশের উন্নয়ন হয়। আওয়ামী লীগের ক্ষমতার গত এক দশকে বাংলাদেশ উন্নয়নের মহীসোপানে যাত্রা শুরু করেছে। সারাবিশ্বেই এখন বাংলাদেশ উন্নয়নের রোলমডেল। তিনি বলেন, দেশের আরও উন্নতি করতে হলে দ্রুত প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে হবে। এবারের বাজেটে আমরা প্রবৃদ্ধি ৮ দশমিক ২ ভাগে উন্নীত করতে পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি। কারণ আমরা দেশকে উন্নয়নের পথে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু বাংলাদেশে নয়, আন্তর্জাতিক বিশ্বেও আজ প্রমাণিত উন্নয়নে বাংলাদেশ দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। আমরা এখন বিশাল বাজেট নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়ন করছি। বাজেটের বৈদেশিক সাহায্যের পরিমাণ মাত্র শূন্য দশমিক ৮ ভাগ। আমরা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি মানুষের কল্যাণের জন্য। ভিক্ষা চেয়ে নয়, দেশের নিজস্ব সম্পদ নিয়ে আমরা এগিয়ে যাব। কারণ আমাদের দেশের সম্পদ জনগণ আর দেশের মাটি হচ্ছে উর্বর। আমরা দেশের যে উন্নতি করতে পারি তা আজ প্রমাণিত। আগামী এক বছরে দেশের মানুষের মাথাপিছু আয় ২ হাজার মার্কিন ডলারে উন্নীত করতে পারব বলে আমরা আশাবাদী।
দেশের উন্নয়ন ও সফলতার বিবরণ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মূল্যস্ফীতি আমরা ৪ দশমিক ৯ ভাগে ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছি। সবার জন্য খাদ্য নিরাপত্তা আমরা নিশ্চিত করেছি, দেশ আজ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। দেশের মানুষের পুষ্টিও নিশ্চিত করেছি বলেই পুরুষের গড় আয়ু ৭২ দশমিক ৮ ভাগ এবং নারীর গড় আয়ু ৭৩ বছরে উন্নীত হয়েছে। খাদ্য ভেজালের কথা বলা হয়, অথচ মানুষের গড় আয়ু বাড়ছে। রপ্তানি আয় অনেকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
PMf2সংসদ নেতা বলেন, আমাদের সরকার প্রতিটি গ্রামকে শহরে পরিণত করতে চায়। আকাশ, রেল, নৌপথ, সড়কপথ সবক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে তা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি। গত ১০ বছরে আমরা ১০ হাজার চিকিৎসককে নিয়োগ দিয়েছি। নার্সদের শিক্ষার মানও বৃদ্ধি করেছি।
চাকরিতে বয়সের সীমা বাড়ানোর প্রস্তাব কার্যত নাকচ করে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখন আগের মতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অস্ত্রের ঝনঝনানি নেই। শিক্ষার কার্যকর পরিবেশ রয়েছে। ৩টি বিসিএস পরীক্ষার ফলের চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, ২৩ থেকে ২৫ বছর বয়সী পরীক্ষার্থীদের পাসের হার ৪০ দশমিক ৬০ ভাগ, ২৫-২৭ বছর বয়সীদের পাসের হার ৩০ দশমিক ২৯ ভাগ, ২৭-২৯ বছর বয়সীদের পাসের হার ১৩ দশমিক ১৭ ভাগ এবং ২৯ বছরের বেশি বয়সীদের পাসের হার মাত্র ৩ দশমিক ৪৫ ভাগ। এক্ষেত্রে চাকরিতে প্রবেশের বয়স ৩৫ বছর করা হলে ঘর-সংসার সামলিয়ে আদৌ পরীক্ষায় পাস করতে পারবে কি না, তাতে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। আর নিয়মিত পড়াশোনা করলে এখন ২৩ বছরের মধ্যে মাস্টার্স পাস করা যায়। সেক্ষেত্রে ২৩ থেকে ৩০ বছর পর্যন্ত চাকরিতে প্রবেশের সময় থাকে। এরা প্রতিটি বিসিএস পরীক্ষায় অংশ নিতে পারে, যা বিশ্বের কোথাও এমন সুযোগ দেয়া হয় না।

Category:

Leave a Reply