আলবদর মুজাহিদের ফাঁসির রায়

Posted on by 0 comment

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে

31আর ১০টা শিশুর মতো বাবার আদর-সোহাগ কিছুই পাইনি। বাবাকে এভাবে হারানোর যে শূন্যতা তা কখনও ভাষায় বোঝানো যায় না। যারা বাবাকে এভাবে হারিয়েছেন শুধু তারাই অনুভব করতে পারেন। জীবনের এমন কোনো দিক নেই যেখানে বাবাকে হারানোর প্রভাব পড়েনি। সামাজিক, অর্থনৈতিক ও জাতীয় জীবনের সবক্ষেত্রেই প্রভাব পড়েছে। জীবনের প্রতিটা ক্ষণ একটি অদৃশ্য ব্যথা নিয়ে কাটছে। আজ সেই ব্যথা কিছুটা প্রশমিত হলো। জামাতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের রায়ের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেছেন শহীদ বুদ্ধিজীবী ডা. আলীম চৌধুরীর মেয়ে ডা. নূজহাত চৌধুরী। তিনি আরও লেখেনÑ খুব শৈশবে বাবাকে হারিয়েছি। বাবার ছায়াহীন এ জীবনে সুধীসমাজ, বুদ্ধিজীবী আর রাষ্ট্রের কাছ থেকে আঘাত পেয়েছি বারবার। বারবার মরেছি। সেই আঘাত বা মৃত্যু যত না কষ্টের ছিল, তার চেয়ে বেশি কষ্ট পেয়েছি যখন বাবার হত্যাকারীরা গাড়িতে দেশের পতাকা উড়িয়েছে। তাই আজ স্বস্তির সাথে দাবি একটাই, বিচার করে জামাতকে নিষিদ্ধ করা হোক।
সাংবাদিক আজাদুর রহমান চন্দন কালেরকণ্ঠডটকমে লিখেছেনÑ
বুদ্ধিজীবী ঘাতকের গাড়িতে উড়েছিল জাতীয় পতাকা পঁচাত্তরের পটপরিবর্তনের পর স্বাধীনতাবিরোধী রাজাকার, আলবদর নেতাদের রাজনীতিতে আনতে জিয়া সরকার ধর্মভিত্তিক রাজনীতির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয় (বিশেষ অধ্যাদেশ ৪ মে, ১৯৭৬ এবং বাংলাদেশ সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনী, ২২ এপ্রিল, ১৯৭৭)। এভাবেই আবার জামাতের রাজনীতি শুরু হয়। ২০০১ সালে বিএনপি-জামাত নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট ক্ষমতায় এলে খালেদা জিয়ার সরকারে ঠাঁই হয় মুজাহিদের। তিনি হন সমাজ কল্যাণমন্ত্রী। তার গাড়িতে ওড়ে জাতীয় পতাকা।
ওয়েকআপ বাংলাদেশ নামক লাইক পেজে সাবেক ছাত্রনেতা আবদুল্লাহ আল মামুন ফেসবুকে লিখেছেনÑ
ফাঁসি দিয়ে জাতিকে কলঙ্কমুক্ত করুন।
ঢাকার মাধুরী সাহা তার ফেসবুক পেজে লিখেছেনÑ
পাপ ছাড়ে না বাপকেও!!
দৈনিক সংগ্রামের বিভিন্ন প্রতিবেদনে দেখা যায়, মুজাহিদ আলবদর বাহিনীর পূর্ব পাকিস্তান শাখার প্রধান ছিলেন। ১৯৭১ সালের নভেম্বরে এই বাহিনীর প্রধানের দায়িত্ব পালন শুরু করেন তিনি। এই বাহিনীর গোটা পাকিস্তান শাখার প্রধান বা কমান্ডার ছিলেন জামাতের বর্তমান আমির ও মানবতাবিরোধী অপরাধে ফাঁসির দ-প্রাপ্ত মতিউর রহমান নিজামী। আলবদর ও আলশামস বাহিনী ছিল জামাতের তৎকালীন ছাত্রসংগঠন ইসলামী ছাত্রসংঘের নেতা-কর্মীদের নিয়ে গঠিত। মুক্তিযুদ্ধের সময় সবচেয়ে বেশি নৃশংসতা চালানোর অভিযোগ আছে এ দুটি বাহিনীর বিরুদ্ধে।
আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক, একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সাব্বির খান বিডিনিউজটোয়েন্টিফোরডটকমে লিখেছেনÑ
আমেরিকার প্রথম প্রেসিডেন্ট জর্জ ওয়াশিংটন বলেছিলেন, ‘ইংল্যান্ডের সৈন্যরা, যারা আমাদের হাতে ধরা পড়েছে, তারা যুদ্ধবন্দী, যুদ্ধাপরাধী নয়। তারা ওপরওয়ালার নির্দেশে আমাদের দেশে যুদ্ধ করেছে। কিন্তু এই দেশের মানুষ হয়ে যারা নিজের দেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছে, নিজেদের মা-বাপ, ভাই-বোনকে হত্যা করেছে, তারা দেশদ্রোহী, তারা যুদ্ধাপরাধী। এদের অপরাধের ক্ষমা নেই।’
আমাদের একাত্তরের প্রসঙ্গে, আমরা কি যুদ্ধাপরাধের বিচারের গুরুত্বটি এভাবে উপলব্ধি করতে পারছি?
শহীদ বুদ্ধিজীবী সন্তান সাংবাদিক শাহিন রেজা নূর লিখেছেনÑ
আজকের রায়ে আমরা সন্তুষ্ট। ৪২ বছর আগে যে জঘন্য অপরাধ সংগঠিত হয়েছিল, আমার বাবাকে যারা তুলে নিয়ে হত্যা করেছিল তাদের শাস্তি হয়েছে। আমার মা অনেকদিন বসে ছিল এ বিচার দেখার জন্য। আজ আমার মা নেই কিন্তু বিচার হয়েছে। ওরা এতদিন চিৎকার করে বলেছিল যুদ্ধাপরাধ হয়নি। এ বিচারের মাধ্যমে তাদের সেই দাম্ভিকতার পতন হয়েছে।
গ্রন্থনা : সরদার মাহামুদ হাসান রুবেল

Category:

Leave a Reply