উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের মর্যাদা রক্ষায় নৌকায় ভোট চাই

Posted on by 0 comment
19

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা এই অর্জনকে আরও এগিয়ে নিতে পারব, যদি ডিসেম্বরের নির্বাচনে জনগণ নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করে। দেশের জনগণের ওপরই আমরা সবকিছু ছেড়ে দিয়েছি।

প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে আগামী নির্বাচনে নৌকা মার্কায় ভোট দেয়ার জন্য দেশবাসীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, স্বল্পোন্নত থেকে উন্নয়নশীল দেশের এই অর্জনটা ধরে রাখতে পারব যদি দেশের জনগণ নির্বাচন কমিশন ঘোষিত ডিসেম্বরের নির্বাচনে নৌকায় মার্কায় ভোট দিয়ে আমাদের জয়যুক্ত করে। যদি ক্ষমতার পরিবর্তন হয়, বিএনপি-জামাত জোট বা অন্য কেউ ক্ষমতায় আসলে উন্নয়নের এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারবে না। পারবে একমাত্র আওয়ামী লীগ, এটা আমরা প্রমাণ করেছি।
স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে গত ১২ এপ্রিল দশম জাতীয় সংসদের ২০তম অধিবেশনের সমাপনী ভাষণ দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী দেশের উন্নয়ন-অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে সরকারের ধারাবাহিকতা রক্ষার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে বলেন, আগামী নির্বাচনে আমরা যদি সরকার গঠন করে দেশ সেবার সুযোগ পাই আর এই অর্জনটা যদি ধরে রাখতে পারি তাহলে আগামী ছয় বছরে উন্নয়নশীল দেশ অবশ্যই অর্জন করবই। তিনি বলেন, স্বল্পোন্নত দেশকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত করতে আমাদের পরিকল্পিতভাবে কাজ করতে হয়েছে। যে তিন শর্ত পূরণ করলে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হওয়া যায়, আমরা সেই ৩টি শর্তই পূরণ করেছি। শুধু শর্ত পূরণ নয়, আমরা অনেক দূর এগিয়ে গেছি। আর যতটুকু এগিয়ে আছি তাতে আগামী ছয় বছরে যতটুকু অর্জন করতে হবে সেটা আমরা এর মধ্যেই পূরণ করে ফেলেছি। কাজেই আগামী ছয় বছরেও কখনও হিসাব-নিকাশে আমাদের পেছনে ফেলতে পারবে না। আমরা এগিয়ে যাচ্ছি, এগিয়ে যাবই।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা স্বাধীনতাকে অর্থবহ করতে এবং স্বাধীনতার সুফল জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে চাই। সবসময়ই আমাদের একটাই লক্ষ্য ছিল দেশের মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন পূরণ করা। যখনই সরকার গঠন করেছি তখনই জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করেছি। নিজে কী পেলাম কখনও সেই হিসাব করিনি, করিও না। হিসাব করি মানুষ কতটুকু পেল, সেটাই আমার কাছে সবচেয়ে বিবেচ্য বিষয়। বাংলাদেশ আজ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের স্বীকৃতি পেয়েছে। এ অর্জনের জন্য আমাদের অনেক পথ পাড়ি দিতে হয়েছে। এ অর্জনের জন্য আমাদের পরিকল্পিতভাবে কাজ করতে হয়েছে। আমরা ৩টি শর্তই পূরণ করেছি এবং অনেক এগিয়ে আছি। আগামী ছয় বছরে যে অর্জন করতে হবে, সেই অর্জনও আমরা করে ফেলেছি। আমরা এগিয়ে যাচ্ছি, এগিয়ে যাব।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা এই অর্জনকে আরও এগিয়ে নিতে পারব, যদি ডিসেম্বরের নির্বাচনে জনগণ নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করে। দেশের জনগণের ওপরই আমরা সবকিছু ছেড়ে দিয়েছি। জনগণ যদি ভোট দেন তাহলে আমরা ক্ষমতায় আসব। আর এটাও বলতে চাই আমরা উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে শর্তগুলো পূরণে এমন পর্যায়ে করে দিয়েছি যদি আমরা না আসি, অন্য কেউ ক্ষমতায় আসে তারা এটাকে ধ্বংস করতে না চান বা এই উন্নয়নের ধারাটাও অব্যাহত রাখতে পারে তাহলে কিন্তু আমাদের কেউ পেছনে হঠাতে পারবে না। তবে এখানে আমাদের সন্দেহ আছে।
এ প্রসঙ্গে বিএনপি-জামাত জোট সরকারের আমলের কথা উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি-জামাত জোট ক্ষমতায় এসে আমাদের সকল গৃহীত বেশিরভাগ উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ একে একে বন্ধ করে দিয়েছিল। আমরা দেশকে খাদ্য স্বয়ংসম্পূর্ণতা করে রেখে এসেছিলাম। কিন্তু বিএনপি-জামাত জোট ক্ষমতায় আসার পর আবারও দেশ খাদ্য ঘাটতির দেশে পরিণত হয়। বিদ্যুৎ উৎপাদন, সাক্ষরতার হার কমিয়েছে। যদি ক্ষমতার পরিবর্তন হয়, বিএনপি-জামাত জোট বা অন্য কেউ আসলে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারবে না, পারবে একমাত্র আওয়ামী লীগ। আমরা তা প্রমাণ করেছি।
সংসদ নেতা বলেন, অতীতে সংসদে যে নোংরামি হতো, সেটি অবস্থা আজ নেই। বিরোধী দল এখন সংসদে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখছে। সত্যিকারের পার্লামেন্ট প্রাকটিস এখনই হচ্ছে। যারা ক্ষমতাকে ভোগবিলাস ও নিজেদের ভাগ্য গড়ার কাজে লাগায় তারা কোনোদিন দেশকে কিছু দিতে পারেনি, দিতেও পারবে না। একমাত্র আওয়ামী লীগই দেশকে উন্নয়ন-অগ্রগতি দিতে পারে আমরা তা প্রমাণ করেছি। দেশের একটি মানুষও গৃহহারা থাকবে না, প্রত্যেক মানুষের মৌলিক অধিকার আমরা পূরণ করব। বর্তমান সরকারের সময় প্রায় দেড় কোটি মানুষের কর্মসংস্থান করেছি, ১০ লাখ জনশক্তি আমরা রপ্তানি করেছি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষের কল্যাণের জন্য কাজ করছি, যার ফল দেশের মানুষ পাচ্ছে। দেশে রপ্তানি ও বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাচ্ছে। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে আমরা কৃষিতে উৎপাদন বৃদ্ধি করেছি। দেশের প্রত্যেক মানুষ এখন বলছে আমরা ভালো আছি। বাংলাদেশকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে কাজ করে যাচ্ছি। আজ উন্নয়নশীল দেশের স্বীকৃতি পেয়েছি। তিনি বলেন, স্বল্পোন্নত দেশ থাকলে ঋণ পেতে অনেক শর্ত দেয়া হতো। উন্নয়নশীল দেশ হওয়ায় আমাদের কেউ শর্তের বেড়াজালে বাঁধতে পারবে না, কারণ আমাদের সেই মর্যাদা আমরা অর্জন করেছি। বাজেটের ৯০ ভাগ আমরা নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়ন করছি। কারোর কাছে আমাদের হাত পেতে হয় না। আমরা অন্তর দিয়ে মানুষের জন্য কাজ করি, মানুষ ভালো আছে কি না সেটাই আমার মূল লক্ষ্য। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর আশীর্বাদ দেশের মানুষের প্রতি আছে বলেই আমরা এ অর্জন করতে পেরেছি।
তিনি বলেন, আমার ধন্যবাদ পাওয়ার কিছু নেই। এটা ছিল আমার কর্তব্য। মানুষের কল্যাণ, ভাগ্য পরিবর্তন করতে পারব, সেটাই আমার লক্ষ্য। বরং দেশবাসীকে ধন্যবাদ জানাই, কারণ ভোট দিয়ে আমাদের দেশ সেবার সুযোগ দিয়েছে বলেই বাংলাদেশকে আমরা উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত করতে পেরেছি। আমাদের এ অর্জন জনগণের প্রতি উৎসর্গ করেছি। কারণ তারা আমাদের প্রতি আস্থা-বিশ্বাস রেখেছে। ১৬ কোটি জনগণকে কেউ দাবায়ে রাখতে পারে না, আমরা তা প্রমাণ করেছি। অনেক ষড়যন্ত্র, বন্ধুর পথ পাড়ি দিয়েই আমরা এ অর্জন আনতে পেরেছি। ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে বিশ্বের মধ্যে উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে আমরা বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে পারব ইনশাল্লাহ। যে আকাক্সক্ষা নিয়ে জাতির পিতা আমাদের স্বাধীনতা দিয়ে গেছেন, কোনো শক্তিই এই স্বাধীনতাকে নস্যাৎ করতে পারবে না। বাঙালি জাতিকে কেউ দাবায়ে রাখতে পারবে না।

‘শেখ হাসিনার নেতৃত্বের বিকল্প নেই’
জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের উন্নয়ন নীতিবিষয়ক কমিটি (সিডিপি) বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের অগ্রযাত্রায় যুক্ত করার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও দেশের জনগণকে ধন্যবাদ জানিয়েছে জাতীয় সংসদে। ১২ এপ্রিল এ সংক্রান্ত ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর দীর্ঘ আলোচনা শেষে সরকার ও বিরোধী দলের সর্বসম্মত কণ্ঠভোটে তা গৃহীত হয়।
ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে সরকার ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দক্ষ, সাহসী ও প্রজ্ঞাবান নেতৃত্বের কারণেই বাংলাদেশ আজ সবদিক থেকে উন্নয়নের মহাসড়ক দিয়ে ধাবমান। একমাত্র তার যোগ্য নেতৃত্বের কারণেই বাংলাদেশ আজ বিশ্বের সামনে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হয়েছে। বাংলাদেশে শেখ হাসিনার নেতৃত্বের আর কোনো বিকল্প নেই। উন্নয়ন, অগ্রগতি ও আলোকিত এই ধারা অব্যাহত রাখতে হলে শেখ হাসিনা সরকারের কোনো বিকল্প নেই। তাই দেশবাসীকে আগামী নির্বাচনেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বিজয়ী করতে হবে। কেননা শেখ হাসিনা বাংলাদেশের জনগণের জন্য আল্লাহর নিয়ামত। অগ্নিসন্ত্রাসী, দুর্নীতিবাজ, অর্থপাচারকারী ও স্বাধীনতাবিরোধীরা ক্ষমতায় আসলে দেশ আবারও অন্ধকারে নিমজ্জিত হবে।
প্রথমে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী এবং পরে ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বি মিয়ার সভাপতিত্বে ১২ এপ্রিল জাতীয় সংসদ অধিবেশনে ধন্যবাদ প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন স্বতন্ত্র দলীয় সংসদ সদস্য ডা. রুস্তম আলী ফরাজী। প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নেন বিরোধী দলের নেতা বেগম রওশন এরশাদ, সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী শেখ ফজলুল হক সেলিম এমপি, জাসদ সভাপতি ও তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু এমপি, আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য ড. আবদুর রাজ্জাক এমপি, আবদুল মতিন খসরু এমপি, বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ এমপি, আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক এমপি, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ এমপি, সরকারি দলের ডা. দীপু মনি এমপি, আবদুর রহমান, অধ্যাপক আলী আশরাফ, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম এমপি, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, ড. হাছান মাহমুদ এমপি, মৃণাল কান্তি দাস এমপি, মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, মনিরুল ইসলাম, সানজিদা খানম, ফজিলাতুন নেসা বাপ্পি, নাভানা আক্তার, সাবিনা আক্তার তুহিন, বজলুল হক হারুন, আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরী, তরিকত ফেডারেশনের নজিবুল বশর মাইজভা-ারী, বিএনএফের এসএম আবুল কালাম আজাদ ও জাসদের শিরীন আখতার। দীর্ঘ আলোচনা শেষে স্পিকার প্রস্তাবটি ভোটে দিলে সরকার ও বিরোধী দলের সর্বসম্মত কণ্ঠভোটে তা সর্বসম্মতভাবে গৃহীত হয়।

Category:

Leave a Reply