উন্নয়নের জন্য নৌকায় ভোট দিন

Posted on by 0 comment

ফরিদপুর, মাগুরা ও লক্ষ্মীপুরে জনসভা

33উত্তরণ প্রতিবেদন: প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা ফরিদপুরের বিশাল জনসভায় ২০১৯ সালের নির্বাচনে আবারও নৌকা মার্কায় ভোট দেওয়ার জন্য দেশবাসীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে নৌকা মার্কার কোনো বিকল্প নেই। নৌকা উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির প্রতীক। নৌকায় ভোট দিলে বাংলার মানুষ কিছু পায়। জনগণ নৌকায় ভোট দিয়ে রাষ্ট্র ভাষা পেয়েছে, ’৭০ সালে নৌকায় ভোট দিয়ে স্বাধীনতা পেয়েছে। আগামী নির্বাচনে আবারও নৌকায় ভোট দিন, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখুন।
গত ২৯ মার্চ বিকেলে ফরিদপুর রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে দেশবাসীকে সজাগ ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, একটি ছেলেমেয়েও যেন সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও মাদকাসক্তিতে না জড়ায়, সে জন্য বাবা-মা, অভিভাবক, শিক্ষকসহ সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ ও মাদকের বিরুদ্ধে জনগণকে রুখে দাঁড়াতে হবে। এদের বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে।
লাখো লাখো মানুষের প্রাণের দাবি মেনে নিয়ে অচিরেই বৃহত্তর ফরিদপুরকে বিভাগ করার ঘোষণা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন বড় বিভাগকে ভেঙে আমরা নতুন বিভাগ তৈরি করেছি। ঢাকা বিভাগকে ভেঙে ময়মনসিংহ বিভাগ করা হয়েছে। তেমনি ঢাকা বিভাগের গোপালগঞ্জ, রাজবাড়ী, শরীয়তপুর, মাদারীপুর নিয়ে বর্তমান সরকারের পৃথক বিভাগের পরিকল্পনা রয়েছে এবং তা অচিরেই বাস্তবায়ন করা হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, গরিবের বন্ধু আওয়ামী লীগ। বিএনপি-জামাত জঙ্গিবাদ নিয়ে ব্যস্ত থাকে। আর আওয়ামী লীগ জনগণের কল্যাণে কাজ করে। নৌকায় ভোট দিলেই মানুষ কিছু পায়। নৌকায় ভোট দিয়েছিল বলেই এ দেশের মানুষ ১৯৪৮ সালে যে রাষ্ট্রভাষার আন্দোলন শুরু হয়েছিল, সেই ভাষার মর্যাদা পেয়েছিল। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসেই বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করেছে। ২১শে ফেব্রুয়ারি শহীদ দিবস করেছে। আওয়ামী লীগই শহীদ মিনার গড়ে তুলেছে। 35সত্তরের নির্বাচনে নৌকায় ভোট দিয়েছিল বলেই বাংলার মানুষ স্বাধীনতা পেয়েছে।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী জনসভায় উপস্থিত লাখো মানুষের কাছে নৌকায় ভোট দেওয়ার অঙ্গীকার চাইলে জনতা দুই হাত তুলে তার প্রতি সমর্থন জানান। তিনি বলেন, আপনাদের কাছে নৌকা মার্কায় ভোট দেওয়ার অঙ্গীকার চাই। একই সাথে নৌকা মার্কার জন্য মানুষের কাছে ভোটও চাইবেন। তিনি বলেন, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ আমাদের পথ নয়। ইসলাম এটি সমর্থন করে না। আত্মহননের পথও ইসলাম পছন্দ করে না। ইসলাম শান্তির ধর্ম, পবিত্র ধর্ম। অথচ ইসলামের নামে মানুষ হত্যা করে ইসলামকে কলুষিত করা হচ্ছে। জনগণকে এ বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে।
জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট সুবল চন্দ্র সাহার সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মাসুদ হোসেনের জনসভায় আরও বক্তব্য রাখেনÑ আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য ও জাতীয় সংসদের উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী এমপি, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ এমপি, সাধারণ সম্পাদক ও সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি, স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন এমপি, সভাপতিম-লীর সদস্য কাজী জাফর উল্লাহ, নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান এমপি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দীপু মনি এমপি ও আবদুর রহমান এমপি, সাংগঠনিক সম্পাদক বাহাউদ্দিন নাছিম এমপি, শ্রমবিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান সিরাজ, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য এসএম কামাল হোসেন, মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদা বেগম ক্রিক, যুব মহিলা লীগের সভাপতি নাজমা আক্তার, ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ, ফরিদপুর সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান খন্দকার মোহতেশাম হোসেন বাবর, শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মোল্লা মো. আবু কায়সার, ফরিদপুর কোতোয়ালি আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুর রাজ্জাক মোল্যা, শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি নাজমুল ইসলাম খোন্দকার, জেলা শ্রমিক লীগের আহ্বায়ক আক্কাস হোসেন, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি শওকত আলী জাহিদ, জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম।
জনসভায় প্রধানমন্ত্রীর জামাতা খন্দকার মাশরুর হোসেন মিতু, সিরাজগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডা. হাবিব-ই-মিল্লাত এমপি ও শেখ হেলাল এমপিকে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। এ ছাড়া জনসভায় সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর এমপি ও ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলসহ বৃহত্তর ফরিদপুরের বিভিন্ন জেলার নির্বাচিত আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য, জেলা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকগণও উপস্থিত ছিলেন।
নিজের বক্তব্যে ফরিদপুরবাসীকে বঞ্চিত ও অবহেলিত আখ্যা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফরিদপুরবাসী বঞ্চিত ও অবহেলিত। আমি ফরিদপুরবাসীর জন্য আজ অনেক উপহার নিয়ে এসেছি। এ সময় প্রধানমন্ত্রী একে একে ১ হাজার ৩৫ কোটি লাখ টাকা ব্যয়ে শেষ হওয়া ফরিদপুরে ১৯টি প্রকল্পের কথা উল্লেখ করেন। এ ছাড়া ৪২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে আরও ১২টি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অচিরেই এগুলো বাস্তবায়ন করা হবে।
দেশ ও মানুষের কল্যাণে তার সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রমের বিবরণ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ দেশকে আমরা গড়ে তুলতে চাই। মানুষের কল্যাণ ও তাদের ভাগ্যের পরিবর্তনই আমাদের লক্ষ্য। বাংলাদেশের একটি মানুষও দরিদ্র থাকবে না, গৃহহারা থাকবে না। ইনশাআল্লাহ আমরা ২০২১ সালের মধ্যে দেশকে মধ্যম আয়ের এবং ২০৪১ সালের মধ্যে সুখী-সমৃদ্ধ ও উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করতে পারব।
এ প্রসঙ্গে ফরিদপুরের উন্নয়নে সরকার গৃহীত পদক্ষেপ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ফরিদপুর চিরদিনই অবহেলিত ছিল।
জনসভাস্থলে উপস্থিত হয়েই ফরিদপুর জেলার ১৯টি প্রকল্পের উদ্বোধন এবং ১২টি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। বিশাল এ জনসভায় ফরিদপুর সদর আসনের এমপি স্থানীয় সরকারমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন এমপি ফরিদপুরবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি ফরিদপুর বিভাগ ঘোষণার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে দাবি জানান। প্রধানমন্ত্রী তার বক্তৃতায় ফরিদপুর বিভাগ বাস্তবায়ন হবে বলে ঘোষণা দিলে জনসভায় উপস্থিত লাখো মানুষ উল্লাসে ফেটে পড়েন এবং গগনবিদারী স্লোগান দিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান।
একগুচ্ছ প্রকল্প উপহার ফরিদপুরবাসীকে : ফরিদপুর সফরে এসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ফরিদপুরের ১৯টি প্রকল্পের উদ্বোধন এবং ৯টি প্রকল্প কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। উদ্বোধন করা ১৯টি প্রকল্পের মধ্যে রয়েছেÑ ফরিদপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় নির্মাণ প্রকল্প, ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল নির্মাণ প্রকল্প, পল্লীকবি জসীম উদ্্দীন সংগ্রহশালা নির্মাণ প্রকল্প, ফরিদপুর ইনস্টিটিউট অব মেরিন টেকনোলজি নির্মাণ প্রকল্প, শিশু একাডেমি নির্মাণ প্রকল্প, কল-কারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদফতরের উপ-মহাপরিদর্শকের কার্যালয় নির্মাণ প্রকল্প, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণ প্রকল্প, আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস ফরিদপুর নির্মাণ প্রকল্প, ফরিদপুর ৫০ মেগাওয়াট পিকিং পাওয়ার প্ল্যান্ট নির্মাণ প্রকল্প, সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের একাডেমিক কাম পরীক্ষা হল নির্মাণ প্রকল্প, সদর উপজেলাধীন চর কমলাপুর খেয়া ঘাট হতে বিল মামুদপুর স্কুল সড়কে কুমার নদের ওপর ৯৬ মিটার দীর্ঘ আরসিসি ব্রিজ নির্মাণ প্রকল্প, ভাঙ্গা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা ভবন কমপ্লেক্স নির্মাণ প্রকল্প, মধুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ২১ থেকে ৫০ শয্যায় মান উন্নয়ন শীর্ষক প্রকল্প, আঞ্চলিক নির্বাচন অফিস নির্মাণ প্রকল্প, বিএসটিআই ভবন নির্মাণ প্রকল্প, ভাঙ্গা থানা ভবন নির্মাণ প্রকল্প, মধুখালী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স নির্মাণ প্রকল্প, সদর উপজেলা হতে বাখু-া জিসি হয়ে রসুলপুর ভায়া চর নিখুর্দি সড়ক বিসি দ্বারা উন্নয়ন প্রকল্প, ফরিদপুর সদর উপজেলাধীন ডিক্রিরচর ইউনিয়নের মুন্সিডাঙ্গি কমিনিউনিটি ক্লিনিক নির্মাণ প্রকল্প এবং ৩৩/১১ কেভি হাড়োকান্দি বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র প্রকল্প।
ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন : কুমার নদ পুনঃখনন প্রকল্প, কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র আলফাডাঙ্গার নির্মাণ প্রকল্প, ফরিদপুর পুলিশ সুপারের কার্যালয় নির্মাণ প্রকল্প, পুলিশ হাসপাতাল নির্মাণ প্রকল্প, পুলিশ অফিসার্স মেস নির্মাণ প্রকল্প, সালথা টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের একাডেমিক কাম প্রশাসনিক ভবন নির্মাণ প্রকল্প, চন্দ্রপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প, সরকারি সারদা সুন্দরী মহিলা কলেজের ছাত্রীনিবাস নির্মাণ প্রকল্প, চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত নির্মাণ প্রকল্প, ১ হাজার ৫০০ আসনবিশিষ্ট মাল্টি পারপাস হল নির্মাণ প্রকল্প, সালথা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন নির্মাণ প্রকল্প এবং সদরপুর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স নির্মাণ প্রকল্প।
মাগুরায় বিশাল জনসভায় প্রধানমন্ত্রী
মাগুরায় জনসমুদ্রের সামনে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে ২০১৯ সালের নির্বাচনে পুনর্বার নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগকে দেশসেবার সুযোগ দেওয়ার জন্য দেশবাসীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, যাদের (বিএনপি-জামাত জোট) ভোট চুরির অপরাধে জনগণ পদত্যাগে বাধ্য করেছিল, যারা নির্বিচারে মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করেছে, যারা সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের সৃষ্টি করেছে, যারা দেশের স্বাধীনতাতেই বিশ্বাস করে নাÑ তারা ক্ষমতায় এলে দেশকে আবারও ধ্বংস করে দেবে। তাই উন্নয়ন-অগ্রগতির স্বার্থে সবাই আওয়ামী লীগের পতাকাতলে শামিল হোন, আওয়ামী লীগের হাতকে শক্তিশালী করুন।
সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, কোনো যুদ্ধাপরাধী, একাত্তরের গণহত্যাকারী, যারা দেশের মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করেছে, যারা সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের সঙ্গে জড়িত, তাদের স্থান বাংলার মাটিতে হবে না। তিনি বলেন, আমার জীবনের কোনো চাওয়া-পাওয়া নেই। মাত্র একদিনে আমরা নিঃস্ব-রিক্ত ও এতিম হয়ে গেছি। আমার বাবা-মা, ভাইসহ পরিবারের ১৮ জনকে হত্যা করেছে। আমার পিতা বঙ্গবন্ধু এ দেশের মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে গিয়ে নিজের জীবন উৎসর্গ করে গেছেন। পিতার আদর্শ বুকে ধারণ করে দেশের মানুষের কল্যাণের জন্য আমিও যে কোনো ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুত। প্রয়োজন হলে বাবার মতোই আমার বুকের রক্ত দিয়ে দেশের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করব ইনশাআল্লাহ। গত ২১ মার্চ বিকেলে মাগুরা জেলার বীর মুক্তিযোদ্ধা আছাদুজ্জামান স্টেডিয়ামে জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত বিশাল জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। জনসভায় উপস্থিত লাখো মানুষের কাছে আগামী নির্বাচনে পুনর্বার নৌকায় ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আমাদের মূল লক্ষ্যই হচ্ছে দেশের উন্নয়ন, মানুষের কল্যাণ করা। আপনারা বারবার নৌকায় ভোট দিয়েছেন। নৌকায় ভোট দিয়েছেন বলেই আওয়ামী লীগ দেশের মানুষের ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠা ও স্বাধীনতা এনে দিয়েছে। নৌকায় ভোট দিয়েছেন বলেই আপনারা উন্নয়নের মুখ দেখছেন। তাই ২০১৯ সালের নির্বাচনেও আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়ে দেশসেবার সুযোগ দিন। আমরা দেশের আরও দ্রুত উন্নয়ন করব, দেশকে উন্নত-সমৃদ্ধশালী করে গড়ে তোলার পাশপাশি দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে শান্তিময়, কল্যাণকর ও দারিদ্র্যমুক্ত দেশ হিসেবে গড়ে তুলব।
২০০১ সালে ভারতের কাছে গ্যাস বিক্রির মুচলেকা দিয়ে বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া ক্ষমতায় এসেছিলেন দাবি করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা দেশপ্রেম নিয়ে দেশের জন্য কাজ করি। দেশের যখন উন্নয়ন হয় তখনই দেশের একটি শ্রেণি আছে তাতে বাধা দেয়। ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া বাংলাদেশের গ্যাস ভারতের কাছে বিক্রির মুচলেকা দিয়ে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ষড়যন্ত্রে ক্ষমতায় আসে। ক্ষমতায় এসেই আমাদের সব উন্নয়ন কর্মকা- বন্ধ করে দেয়, সারাদেশে ত্রাসের রাজত্ব সৃষ্টি করে। তিনি বলেন, বারবার আমাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু একমাত্র আল্লাহ ছাড়া আমি আর কারোর কাছে মাথানত করি না, কাউকে ভয় পাই না।
জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি তানজেল হোসেন খানের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক পংকজ কু-ুর পরিচালনায় জনসভায় আরও বক্তব্য রাখেনÑ আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু এমপি, সভাপতিম-লীর সদস্য পীযূষ কান্তি ভট্টাচার্য, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ এমপি, আবদুর রহমান এমপি, খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন এমপি, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ড. বীরেন শিকদার এমপি, পাট ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম এমপি, আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক এমপি, স্থানীয় সংসদ সদস্য মেজর জেনারেল (অব.) আবদুল ওয়াহাব, কেন্দ্রীয় নেতা এসএম কামাল হোসেন, পারভীন জাহান কল্পনা, মহিলা আওয়ামী লীগের সাফিয়া খাতুন, যুব মহিলা লীগের নাজমা আখতার ও অপু উকিল, স্বেচ্ছাসেবক লীগের নির্মল রঞ্জন গুহ, যুবলীগের আনোয়ার হোসেন, ছাত্রলীগের এসএম জাকির হোসেন, স্থানীয় নেতা এএফএম আবদুল ফাত্তাহ, মুন্সী রেজাউল হক, রুস্তম আলী, হাজী গোলাম মাওলা, আবু নাসির বাবলু, সৈয়দ শরিফুল ইসলাম, শফিকুজ্জামান বাচ্চু, খুরশিদ হায়দার টুটুল প্রমুখ। এ ছাড়া জনসভায় বৃহত্তর খুলনার বিভিন্ন জেলার নির্বাচিত আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য, জেলা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকগণও উপস্থিত ছিলেন।
একগুচ্ছ প্রকল্প উপহার মাগুরাবাসীকে : মাগুরা সফরে এসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মাগুরার উন্নয়নে প্রায় ৩১০ কোটি টাকার ১৯টি প্রকল্পের উদ্বোধন এবং ৯টি প্রকল্প কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। উদ্বোধন করা ১৯টি প্রকল্পের মধ্যে রয়েছেÑ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট মাগুরা হাসপাতাল, মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন, বীর মুক্তিযোদ্ধা আছাদুজ্জামান স্টেডিয়াম, মাগুরা কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, মাগুরা জেলার শ্রীপুর উপজেলা ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স স্টেশন, সদর উপজেলার মঘি ইউপি অফিস থেকে আন্দোলবাড়িয়া সড়কে ফটকি নদীর ওপর ১০০ দশমিক ১০ মিটার ব্রিজ, সদর উপজেলার জিসি-ইছাখাদা পর্যন্ত ৯ দশমিক ৭১ কিলোমিটার সড়ক, মাগুরা-শ্রীপুর সড়কে নতুন বাজার সেতু, ৩৫০ ঘনমিটার প্রতিঘণ্টা ক্ষমতাসম্পন্ন মাগুরা ভূগর্ভস্থ পানি শোধনাগার, সরকারি হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের প্রশাসনিক ভবন, আঞ্চলিক হাঁস প্রজনন খামার, প্রশিক্ষণ ভবন ও অতিথিশালা, মাগুরা জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়, শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৫০ শয্যায় উন্নীতকরণ, শালিখা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৫০ শয্যায় উন্নীতকরণ, মাগুরা টেক্সটাইল মিলস, আড়পাড়া মা ও শিশু কল্যাণকেন্দ্র ও মাগুরা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট।
এ ছাড়া মাগুরা আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস, শালিখা উপজেলার বুনাগাতী থেকে বেরোইলপলিতা সড়কে নালিয়া ঘাটে ফটকি নদীর ওপর ৯৬ মিটার ব্রিজ, একই উপজেলার বরইচারা আটিরভিটা-বরইচারা বাজার সড়কে ফটকি নদীর ওপর ৬৬ মিটার ব্রিজ, বাউলিয়া-শরশুনা সড়কে চিত্রা নদীর ওপর ৯৬ মিটার ব্রিজ, জাতীয় মহাসড়কের মাগুরা শহর অংশ চার-লেনে উন্নীতকরণ, মাগুরা পৌরসভার তৃতীয় নগর পরিচালন ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প (দ্বিতীয় পর্যায়), শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং ও ইনকিউবেশন সেন্টার (হাই-টেক পার্ক), শ্রীপুর উপজেলা মিনি স্টেডিয়াম ও শালিখা উপজেলা মিনি স্টেডিয়ামের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী।
লক্ষ্মীপুর জনসভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা আগামী নির্বাচনসহ সব নির্বাচনে নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগকে জয়যুক্ত করার জন্য দেশবাসীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, নৌকা, নূহ নবীর কিস্তি। বিপদে নৌকা মানুষকে রক্ষা করে। জনগণ নৌকায় ভোট দিয়ে সত্তরের নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে জয়যুক্ত করেছে বলেই আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি। আপনারা ভোট দিয়েছেন বলেই দেশের উন্নয়ন করতে পেরেছি। আর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলেই দেশের উন্নয়ন হয়। আমরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বাংলাদেশ গড়ে তুলব। বাংলাদেশকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উন্নত করতে চাই, শান্তি নিরাপত্তা আনতে চাই। আওয়ামী লীগের কাছে কখনও চাইতে হয় না, এ ভরসাটা রাখবেন।
প্রায় ২০ বছর পর সফরে এসে গত ১৪ মার্চ বিকেলে লক্ষ্মীপুর জেলা স্টেডিয়ামে আওয়ামী লীগ আয়োজিত বিশাল জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বিএনপি-জামাত জোটের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, আমাদের লক্ষ্যই হলো দেশের উন্নয়ন করা। আর বিএনপি ক্ষমতায় আসা মানেই দুর্নীতি, লুটপাট ও জঙ্গিবাদ সৃষ্টি করা। তারা ক্ষমতায় আসলে জনগণের নাভিশ্বাস ওঠে। কারণ তারা দেশে ত্রাসের রাজনীতি করে। ক্ষমতায় গিয়ে তারা দুর্নীতি ও লুট করে। আর বিরোধী দলে গিয়ে মানুষ হত্যা করে। ২০১৩ সালে নির্বাচন ঠেকানোর নামে জ্বালাও-পোড়াও করেছে। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া গুলশানের কার্যালয়ে বসে ও তার এক কুলাঙ্গার ছেলে বিদেশে বসে হুকুম দিয়েছে, আর তাদের ক্যাডার বাহিনী সাধারণ মানুষের ওপর অত্যাচার, হত্যা ও নির্যাতন করেছে।
তিনি বলেন, বিএনপি দেশের উন্নয়ন চায় না। নিজের ক্ষমতা জন্য দেশের মানুষকে হত্যা করেছে। আন্দোলনের ২০১৫ সালে ৯৩ দিন পর্যন্ত মানুষকে গৃহবন্দি করে রেখেছিল। ২৭১ জন মানুষকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করেছে। ১ হাজার ১৮০ জন মানুষকে বোমা মেরে আহত করেছে। ২ হাজার ৯৩টি বাস-ট্রাক আগুনে পুড়েছে। এ ছাড়া ৭০টি সরকারি অফিসে আগুন লাগিয়েছে। আরও আগুন লাগিয়েছে লঞ্চসহ অন্যান্য সরকারি-বেসরকারি অবকাঠামোতে। কিন্তু জনগণের প্রতিরোধের মুখে তাদের সেই আন্দোলন ব্যর্থ হয়ে গেছে। তিনি বলেন, বিএনপি-জামাত ক্ষমতায় থাকাকালে ভারতের কাছ থেকে এক ফোঁটা পানিও আনতে পারেনি। তারা কোনো স্থল চুক্তি করতে পারেনি, শান্তিচুক্তি করেনি। আমরা ক্ষমতায় এসে সব কিছু করেছি।
তিনি বলেন, বিএনপি ধর্মে বিশ্বাস করে না। ২০১৫ সালে আন্দোলনের নামে শত শত কোরআন শরিফ আগুনে পুড়িয়েছে, মসজিদে আগুন দিয়েছে। বগুড়ায় মসজিদের কোরআন তেলওয়াতকালে এক কৃষক লীগ নেতাকে কুপিয়ে খুন করেছে। যারা এরকম করে তারা কিসের ধর্মে বিশ্বাস করে? নিরীহ মানুষকে যারা হত্যা করে তারা জান্নাতে নয়, দোযখে যায়। উন্নয়নের অঙ্গীকার করে লক্ষ্মীপুরবাসীর কাছে দোয়া, ভালোবাসা ও নৌকায় ভোট চেয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আসুন আমরা সবাই মিলে দেশকে গড়ে তুলি। আমার ব্যক্তিগত কোনো চাওয়া-পাওয়া নেই। আমি তো সব হারিয়েছি। বাংলাদেশে এসেছি দেশের মানুষের ভাগ্যের উন্নয়নের জন্য কাজ করতে। আমি বাবার মতো, আমার পরিবারের মতো, আপনাদের কল্যাণে নিজের জীবন বিলিয়ে দেব। এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভোট দেবেন তো? এ সময় জনসভায় উপস্থিত লাখো জনতা দুহাত তুলে এবং সেøাগান দিয়ে ভোট দেওয়ার অঙ্গীকার করেন।
লক্ষ্মীপুরে প্রায় ২০ বছর পর সফরে এসে প্রধানমন্ত্রী জনসভায় ভাষণ প্রদান ছাড়াও ১০টি উন্নয়ন প্রকল্প এবং ১৭টি উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। লক্ষ্মীপুর জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি গোলাম ফারুক পিংকুর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নুরউদ্দিন চৌধুরী নয়নের সঞ্চালনায় জনসভায় আরও বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি, চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক একেএম এনামুল হক শামীম, ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আরিফ খান জয় এমপি, যুব ও ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক হারুনুর রশিদ, মহিলা সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী, স্থানীয় সংসদ সদস্য একেএম শাহজাহান কামাল, আবদুল্লাহ আল মামুন এমপি, বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশন মহাসচিব এমএ আউয়াল এমপি, জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি মোহাম্মদ নোমান এমপি, অ্যাডভোকেট নূরজাহান বেগম মুক্তা এমপি, পৌর মেয়র আবু তাহের, প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব অ্যাডভোকেট সাইফুজ্জামান শিখর, শহিদ ইসলাম পাপুল, মো. শাহজাহান, অধ্যাপক আবদুল ওয়াহেদ, আনোয়ার খান, আবুল কাসেম, অধ্যাপক মামুনুর রশিদ, যুবলীগ নেতা ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান একেএম সালাউদ্দিন টিপু, ছাত্রলীগ নেতা রাকিব হোসেন লোটাস প্রমুখ। এর আগে স্থানীয় নেতৃবৃন্দ জেলা পর্যায়ে বিএনপি-জামাত সরকারের আমলে তাদের ওপর অত্যাচার-নির্যাতনের চিত্র তুলে বক্তব্য রাখেন। একই সাথে প্রধানমন্ত্রীর কাছে জেলার বিভিন্ন দাবি-দাওয়া তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, ইসলামের উন্নয়নের আমরা প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় একটি মসজিদ ও ইসলামি কালচারাল সেন্টার প্রতিষ্ঠা করব। আমরা একদিন দেশের সব মানুষকে বিনা পয়সায় ঘরবাড়ি করে দেব। আমরাই দেশে বিনা পয়সায় বই বিতরণ করছি। আমরা দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য কাজ করি। আমরাই বর্গাচাষিদের বিনা সুদে ঋণ দেওয়া শুরু করি। ২০ লাখ মাকে মোবাইল ফোন দিয়েছি। উপবৃত্তির টাকা যাবে এসব মোবাইল ফোনে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, অতীতে যারা ক্ষমতায় ছিল তাদের কেউ লক্ষ্মীপুরের উন্নয়ন করেনি। বিএনপি লক্ষ্মীপুরের জন্য কিছুই করেনি। আমি আজ আপনাদের জন্য উপহার নিয়ে এসেছি। এ সময় প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা প্রকল্পসমূহের তালিকা পড়ে শোনান। এ ছাড়া লক্ষ্মীপুরের উন্নয়নের জন্য যা যা করার সবই করবেন বলেও আশ্বাস দেন। প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়নের বিবরণ তুলে ধরার পাশাপাশি বিএনপি-জামাত জোট সরকারের আমলের দুর্নীতি, অনিয়ম ও সন্ত্রাসের বর্ণনা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এই লক্ষ্মীপুরে তার দলের ৩৩ নেতাকর্মীকে বিএনপি-জামাত নির্মমভাবে হত্যা করেছে। আহত হয়েছে দুশতাধিক। জোট সরকারের সময় আওয়ামী লীগের কোনো নেতাকর্মী ঘর থাকতে পারেনি। এখানে বিএনপির নির্যাতন থেকে মুক্তিযোদ্ধারাও বাঁচতে পারেনি।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলে এলাকার মানুষকে উন্নয়নের অগ্রগতির কথা জানতে চান। তিনি বলেন, বিএনপি এখন একটি নালিশী দলে পরিণত হয়েছে। বিএনপি আগামী নির্বাচনকে ভয় পাচ্ছে। তাই বিভিন্ন অজুহাত তুলে জনগণের কাছে সরকারের বিরুদ্ধে উন্নয়নের ধারাকে ম্লান করার জন্য শুধু নালিশ করে যাচ্ছে। তাই তিনি বিএনপিকে বাংলাদেশ নালিশ পার্টি বলে আখ্যায়িত করেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তাকে নির্দেশ দিয়েছেন, এলাকার সকল সড়কের উন্নয়ন করার জন্য। তাই তিনিও তার দফতরের কর্মকর্তা প্রকৌশলীদের নির্দেশ দিয়েছেন।
২৭টি প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন : জনসভায় উপস্থিত হয়ে প্রধানমন্ত্রী লক্ষ্মীপুরের উন্নয়নে ১০টি প্রকল্পের উদ্বোধন ও ১৭টি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এগুলোর মধ্যে রয়েছেÑ লক্ষ্মীপুর মজুচৌধুরী হাট নৌবন্দর, লক্ষ্মীপুর রামগতি ও কমলনগর মেঘনা নদীর তীর সংরক্ষণ প্রকল্প, প্রায় ২৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ৯ তলা বিশিষ্ট নবনির্মিত লক্ষ্মীপুর চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবন, ১৮ কোটি ৫৬ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত লক্ষ্মীপুর যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, সদর উপজেলা পরিষদ ভবন, উপজেলা পরিষদ অডিটরিয়াম ভবন, কমলনগর উপজেলা পরিষদ ভবন ও অডিটরিয়াম, লক্ষ্মীপুর পৌর আইডিয়াল কলেজ ভবন, মোহাম্মদীয়া বাজার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র ভবন নির্মাণ ও কমলনগর উপজেলা প্রাণিসম্পদ দফতর ও প্রাণী হাসপাতাল। এ ছাড়া ১০০ শয্যাবিশিষ্ট লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালকে ২৫০ শয্যা হাসপাতালে উন্নীতকরণ, মজুচৌধুরীর হাটে প্রশাসনিক ভবন ও নাবিক নিবাস, সদর পুলিশ ফাঁড়ির অফিসার্স মেস, আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস ভবন, খাদ্য গোডাউনের নতুন গোডাউন নির্মাণ, রামগঞ্জে ১৩২/১৩৩ কেভি বৈদ্যুতিক গ্রিডলাইন উপকেন্দ্র নির্মাণ, পিয়ারাপুর ও চেউয়াখালী সেতু, মজুচৌধুরীর হাট এলাকায় নৌবন্দর, পৌর আধুনিক বিপণি বিতান রামগঞ্জে আনসার ও ভিডিপি ব্যাটালিয়ন সদর দফতর কমপ্লেক্স ভবন, লক্ষ্মীপুর পৌর আজিমশাহ হকার্স মার্কেট, লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজ একাডেমিক ভবন কাম পরীক্ষা কেন্দ্র, পুলিশ লাইন্স মহিলা ব্যারাক নির্মাণ, শহর সংযোগ সড়কে সেতু নির্মাণ, রায়পুর ও কমলনগরে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের ভিত্তিপ্রস্তর। তিনি দেশের অব্যাহত উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখার জন্য দেশের মানুষকে আগুন সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদী বিএনপি-জামাতকে পরিহার করে নৌকা প্রতীক প্রার্থীদের আগামী নির্বাচনসমূহ বিজয়ী করার আহ্বান জানান।

Category:

Leave a Reply