কার স্বার্থে বাজেট?

Posted on by 0 comment

একাদশ জাতীয় সংসদে ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট পাস হয়ে গেছে। তৃতীয় মেয়াদে সরকার গঠনের পর শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের এটাই প্রথম বাজেট। অন্যদিকে নতুন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল এমপিও প্রথমবারের মতো বাজেট পেশ করলেন। বাংলাদেশের ইতিহাসের সর্বোচ্চ আকারের এই বাজেট। যেমন বেড়েছে ব্যয় বরাদ্দ, তেমনি সম্ভাব্য আয়ের উৎস। প্রশ্ন হচ্ছে, এত বিশাল বাজেট কার স্বার্থে?
এই প্রশ্নের এক কথায় উত্তর হলো, দেশের স্বার্থে, জনগণের স্বার্থে। কিন্তু আমাদের এই উত্তরে অনেকেই সন্তুষ্ট হবেন না। তারা হতে পারেন ডান-বাম মিলিয়ে বিরোধী দলের। আবার নাগরিক সমাজেরও অনেকের মনে এই প্রশ্নটি থাকা স্বাভাবিক।
বাজেট নিয়ে জাতীয় সংসদে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। বাজেট আলোচনায় মৌলিক কোনো প্রশ্ন উত্থাপিত হয়নি। বিভিন্ন খাতওয়ারি আলোচনায় জনপ্রতিনিধিগণ বরাদ্দ বৃদ্ধির দাবি যেমন জানিয়েছেন, তেমনি এই বাজেট কতটা জনবান্ধব তারও অনুপুঙ্খ আলোচনা করেছেন। ঐতিহ্যগতভাবে সংসদ সদস্যগণ বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনার পর যার যার নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন দাবি-দাওয়া ও প্রস্তাব ইত্যাদি তুলে ধরেছেন।
সংসদের ভিতরে-বাইরে, বাজেট নিয়ে যেসব সমালোচনা হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছেÑ ১. কালো টাকা সাদা করার সুযোগ অব্যাহত রাখা ২. ঋণখেলাপিদের বিষয়ে সরকারি পদক্ষেপ ৩. ধানের দাম ৪. মাথাপ্রতি আয় বাড়ার পাশাপাশি ধনী-দরিদ্রের আয় বৈষম্য এবং ৫. দুর্নীতি।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তার সমাপনী বক্তৃতা এবং বাজেট নিয়ে সংবাদ সম্মেলনের ভাষণে প্রতিটি প্রশ্নের জবাব দিয়েছিলেন। আওয়ামী লীগ ‘উট পাখি’ নয়। কোনো সমস্যা বা প্রশ্নকে এড়িয়ে যাওয়ার মানসিকতা নেই আওয়ামী লীগের। জনগণের কাছে জবাবদিহিতা তার রাজনৈতিক অঙ্গীকার। এই অঙ্গীকার আছে বলেই মানুষ যেমন আওয়ামী লীগের কাছে বেশি প্রত্যাশা করে, তেমনি আওয়ামী লীগকেই তাদের ভরসাস্থল মনে করে।
‘কালো টাকা’ সমস্যাটি নতুন নয়। জিয়া, এরশাদ ও খালেদা Ñ সামরিক ও বেসামরিক স্বৈরাচার এই উত্তরাধিকারটি জনগণের ওপর চাপিয়ে গেছে। কালো টাকা ও দুর্নীতির দায়ে যেখানে একটি দেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী (বেগম খালেদা জিয়া) আইনের বিচারে দ-প্রাপ্ত হয়, যেখানে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর পুত্র মানিলন্ডারিংয়ের দায়ে এফবিআই-এর সাক্ষ্যে দোষী সাব্যস্ত হয়ে দ-প্রাপ্ত হয় এবং যেখানে তাদের (কোকো-তারেক) পাচার করা টাকা বিদেশে ধরা পড়ার পর সেখানকার কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করার মতো ঘটনা ঘটে; বুঝতে হবে কালো টাকা, পাচার ও দুর্নীতির উৎস কোথায় ছিল, তার শেকড় কত গভীরে। খেলাপি সংস্কৃতি এবং দুর্নীতি ও আওয়ামী লীগ অতীতের উত্তরাধিকার হিসেবেই পেয়েছে। তবে দুর্নীতির ব্যাপারটি আওয়ামী লীগ একাদশ সংসদ নির্বাচনের ইশতেহারেই ‘জিরো টলারেন্স’-এর কথা ঘোষণা করেছে। একটু ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করলেই মানুষ বুঝতে পারবে আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনা কোনো ফাঁকা কথা বলেন নি।
বাংলাদেশের মাথাপ্রতি আয় ২ হাজার ডলার ছুঁই ছুঁই করছে। প্রবৃদ্ধি ও মাথাপ্রতি আয় একদিকে যেমন একটি দেশের সম্পদ বৃদ্ধি, উন্নয়ন ও অগ্রগতির পরিচায়ক, অন্যদিকে এই দুটি সূচক বাড়লেই তার অংশীদারিত্ব যে দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ পাবে, তা কিন্তু স্বতঃসিদ্ধ নয়। এখানেই রাষ্ট্র পরিচালনায় নিয়োজিত সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি ও ভূমিকা বিচার্য। আওয়ামী লীগ ও জননেত্রী শেখ হাসিনা কেবল সম্পদ সৃষ্টিই নয়, সম্পদের সুষম বণ্টনের নীতিতে বিশ্বাসী। সামাজিক নিরাপত্তা ও দারিদ্র্য নির্মূলে এই সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের ফলে বাংলাদেশে দারিদ্র্য হার ২১ শতাংশে নেমে এসেছে। মঙ্গা শব্দটি নির্বাসিত হয়েছে। সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনিতে ক্রমবর্দ্ধমান হারে হতদরিদ্র মানুষকে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। ধনী-দরিদ্র্যের আয় বৈষম্য কমিয়ে আনা কিছুটা সময়সাপেক্ষ। বর্তমান বিশ্ববাস্তবতায় শেখ হাসিনা বাংলাদেশে একটি ভারসাম্যপূর্ণ ‘কল্যাণ অর্থনীতি’ প্রতিষ্ঠার জন্য নিরলসভাবে কাজ করছেন।
উত্তরণ-এর চলতি সংখ্যাটি আমরা একটু ভিন্নভাবে সাজিয়েছে। বাজেট কার স্বার্থে? Ñ এই প্রশ্নের সরাসরি ও সহজবোধ্য তথ্য পরিসংখ্যান এবং গ্রাফিক্স দিয়ে পাঠকের কাছে বোধগম্য করে তোলার চেষ্টা করা হয়েছে। আশা করি, আমাদের এই উদ্যোগের ফলে বাজেট নিয়ে উত্থাপিত সকল প্রশ্ন ও সমালোচনার জবাব পাওয়া যাবে। মোদ্দা কথা বাজেট জাতীয় স্বার্থে। জাতীয় স্বার্থ-হতদরিদ্র মানুষের স্বার্থ সমুন্নত রেখেই বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে; এগিয়ে যাবে।

Category:

Leave a Reply