কৃষক বাঁচাতে সরকার সব করবে

Posted on by 0 comment
33

কৃষক লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

‘বর্গাচাষিদের বিনা জামানতে ঋণ প্রদানের বিষয় তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এক্ষেত্রেও অনেকে বিরোধিতা করে বলেছিল, বিনা জামানতে ঋণ দিলে তা ফেরত পাওয়া যাবে না।’

উত্তরণ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাঙালি জাতি বীরের জাতি। বাংলাদেশের মানুষ বুকের তাজা রক্ত ঢেলে এদেশকে স্বাধীন করেছে। তাই এদেশের মানুষকে নিয়ে কেউ তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করলে অন্য কেউ সহ্য করলেও আমি করব না। আমরা ভিক্ষা নিয়ে কিংবা হাত পেতে মাথানত করে চলব না। নিজেরা স্বয়ংসম্পূর্ণ ও আত্মনির্ভরশীল হয়েই বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে চলবÑ এটাই হচ্ছে আমাদের লক্ষ্য।
গত ১৯ এপ্রিল রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বাংলাদেশ কৃষক লীগের ৪৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় দেশকে আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তোলার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, পৃথিবীর মধ্যে বাংলাদেশই একমাত্র দেশ যে, বিশ্বমন্দার মধ্যেও প্রবৃদ্ধি ৬ শতাংশের ওপর রাখতে সক্ষম হয়েছে। জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে সঠিক পরিকল্পনা গ্রহণ করে তা বাস্তবায়নের কারণেই দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এখন ৭ শতাংশ অতিক্রম করেছে। বাংলাদেশের এমন উন্নতি দেখে অনেকেই বিস্ময় প্রকাশ করে। কিন্তু আমি বলি বিস্ময় নয়, ধারাবাহিক সঠিক পরিকল্পনা, মানুষের প্রতি কর্তব্যবোধ-দায়িত্ব, দেশপ্রেম ও আদর্শ নিয়ে আমরা কাজ করছি বলেই দেশের এমন অগ্রগতি হয়েছে।
সারাদেশে ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা হবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যথেচ্ছ কৃষি জমির অপব্যবহার রোধে আমরা সারাদেশে এসব বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলছি। সেখানে সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা থাকবে। কাউকে আর যত্রতত্র শিল্প গড়ে তোলার সুযোগ আমরা দেব না। আর এসব অর্থনৈতিক অঞ্চলে কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণকে বেশি উৎসাহিত করা হবে। কৃষকদের সবচেয়ে সম্মান দেওয়া উচিত উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, মাথার ঘাম পায়ে ফেলে দেশের ১৬ কোটি মানুষের খাদ্যের জোগান দিচ্ছে আমাদের কৃষকরা। তারা মানুষের ক্ষুধার জ্বালা নিবারণ করছে। তাই দেশের কৃষকদের আমাদের মাথায় তুলে রাখা উচিত। কৃষকরা হলেন আমাদের প্রাণ। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের অর্থনীতির মূল ভিত্তিই হচ্ছে কৃষি। আমাদের দেশের অর্থনীতিও কৃষিনির্ভর। তাই কৃষককে বাঁচাতে এবং কৃষি উৎপাদন বাড়াতে সরকার থেকে যা যা করার তার সবই করছে সরকার, ভবিষ্যতেও করা হবে। তিনি মাঠ পর্যায় থেকে কৃষকদের সুযোগ-সুবিধার তথ্য সংগ্রহের জন্য কৃষক লীগের নেতৃবৃন্দকে নির্দেশ দেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় আসার আগে আমরা ঘোষণা দিয়েছিলাম, ক্ষমতায় গেলে আমরা কৃষকদের ভর্তুকি দেব। তখন বিশ্বব্যাংকসহ দাতা সংস্থাগুলো হুমকি দিয়েছিল ভর্তুকি দিলে তারা সাহায্য দেবে না। আমি তখন সাফ জানিয়ে দিয়েছিলাম, সাহায্য না দিলেও আমরা নিজেদের অর্থে কৃষকদের ভর্তুকি দেব।
বর্গাচাষিদের বিনা জামানতে ঋণ প্রদানের বিষয় তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এক্ষেত্রেও অনেকে বিরোধিতা করে বলেছিল, বিনা জামানতে ঋণ দিলে তা ফেরত পাওয়া যাবে না। তখন আমি বলেছিলাম অনেক বড় বড় লোক ঋণ নিয়ে ফেরত দেন না কিন্তু আমাদের কৃষক সমাজ কখনও বেইমানি করবে না। আমাদের সময় কৃষককে ঋণ পেতে ব্যাংকে যেতে হয় না, কৃষকদের কাছেই ঋণ দিতে ব্যাংক যায়।
অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী বেলুন ও শান্তির প্রতীক পায়রা উড়িয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন। প্রধান অতিথি শেখ হাসিনাকে কৃষক লীগের সভাপতি মোতাহার হোসেন মোল্লা ও সাধারণ সম্পাদক খন্দকার শামসুল হক রেজা ক্রেস্ট এবং সমীর কুমার চন্দ্র চন্দ ও সাখাওয়াত হোসেন সুইট কৃষক লীগের নিয়মিত প্রকাশনা ‘কৃষকের কণ্ঠ’ প্রদান করেন। পুরো অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন কৃষক লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কৃষিবিদ সমীর চন্দ্র চন্দ। দেশি শাক-সবজি, ফুল ও ফল দিয়ে মূলমঞ্চ সাজানো হয়েছিল। হলরুমের বাইরেও ছিল দেশীয় বিভিন্ন ফলমূলের গাছ। কৃষক লীগ সভাপতি মোতাহার হোসেন মোল্লার সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী এমপি, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এমপি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ এমপি, কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক ড. আবদুর রাজ্জাক এমপি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এমপি, সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম এমপি, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক খন্দকার শামসুল হক রেজা প্রমুখ।
কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী এমপি বলেন, সকল ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত অদম্য সাহসিকতার সাথে মোকাবিলা করেই শেখ হাসিনা দেশকে সবদিক থেকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এমপি বলেন, ১৬ কোটির বাংলাদেশ আজ খাদ্য স্বয়ংসম্পূর্ণ।

Category:

Leave a Reply