কৃষি জমি নষ্ট না করে শিল্পায়ন করতে হবে

Posted on by 0 comment

4-9-2019 7-02-11 PMউত্তরণ প্রতিবেদন: রোজার মাসে কোনো নিত্যপণ্য ও খাদ্যদ্রব্যের সমস্যা বা দাম বৃদ্ধি না হয় এবং শিল্পায়নের ক্ষেত্রে ফসলি কৃষি জমি নষ্ট না হয় সেদিকে বিশেষ খেয়াল রাখার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের বেসরকারি বিনিয়োগকারী ও ব্যবসায়ীদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন।
শিল্পায়নের ক্ষেত্রে কৃষি জমি যেন নষ্ট না হয় সেজন্য ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের জমির স্বল্পতা আছে, আমার খাদ্য উৎপাদন করতে হবে। আমার কৃষি জমি বাঁচাতে হবে। আবার পাশাপাশি শিল্পায়ন একান্তভাবে প্রয়োজন। শিল্পায়ন ছাড়া একটা দেশে কখনও উন্নয়ন হয় না। তাই কৃষি জমি নেয়ার দরকার নেই। যা নেয়া আছে সেগুলো আগে ভরুক, তারপর দেখা যাবে। ফসলি জমি নষ্ট করা যাবে না। ফসলি জমি আপনারা নিয়েন না, আমরাও নেব না। তবে যারা জমির মালিক তারা যেন জমির দাম সঠিক সময়ে পায়। মানুষের জন্য আমরা কাজ করি। তাই মানুষের যেন কষ্ট না হয়। যাদের জমি তাদের পরিবারের সদস্যরা যেন যোগ্যতা অনুযায়ী কাজের সুযোগ পায় সেদিকেও খেয়াল রাখার অনুরোধ জানান প্রধানমন্ত্রী।
ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দেশব্যাপী বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত শিল্প স্থাপনের উপযোগী ১১ অর্থনৈতিক অঞ্চলের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন, নতুন ১৩ অর্থনৈতিক অঞ্চলের উন্নয়ন কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন, অর্থনৈতিক অঞ্চলে স্থাপিত ১৬ শিল্পপ্রতিষ্ঠানের বাণিজ্যিক উৎপাদন উদ্বোধন এবং নতুন ২০ শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ভিত্তি স্থাপনসহ ৬৫ উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী এমন অনুরোধ জানান। প্রধানমন্ত্রী গত ৩ এপ্রিল তার সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এসব প্রকল্পের উদ্বোধন করেন।
প্রধানমন্ত্রী পরে চট্টগ্রামের মিরেরসরাইয়ের বঙ্গবন্ধু শিল্প নগরী, নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ের মেঘনা ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইকোনমিক জোন, মৌলভীবাজারের শ্রীহট্ট অর্থনৈতিক অঞ্চল, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে সিটি ইকোনমিক জোন, সিরাজগঞ্জ ইকোনমিক জোন এবং মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ায় আবদুল মোনেম অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ, স্থানীয় প্রশাসন, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার জনগণ, স্থানীয় গণপ্রতিনিধি, উপকারভোগী এবং বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান এ-সময় গণভবনে উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক মো. আবুল কালাম আজাদ ভিডিও কনফারেন্সটি সঞ্চালনা করেন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন বেপজার নির্বাহী চেয়ারম্যান পবন চৌধুরী।
৬৫ উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী তার সূচনা বক্তব্য দেশি-বিদেশি-প্রবাসী যারাই আসবে তারা যেন বিনিয়োগ করতে পারে সে সুযোগ সৃষ্টি করার জন্যই অর্থনৈতিক অঞ্চল করা হচ্ছে উল্লেখ করে বলেন, আমাদের জমির স্বল্পতা আছে, আমাদের খাদ্য উৎপাদন করতে হবে। আমার কৃষি জমি বাঁচাতে হবে। আবার পাশাপাশি শিল্পায়ন একান্তভাবে প্রয়োজন। শিল্পায়ন ছাড়া একটা দেশ কখনও উন্নয়ন হয় না। আমাদের অর্থনীতি কৃষিনির্ভর। কিন্তু সেই কৃষিনির্ভর অর্থনীতিতে কৃষি আমাদের প্রয়োজন। সেই সঙ্গে আমাদের শিল্পায়নও প্রয়োজন। সে কথা চিন্তা করে আমরা সিদ্ধান্ত নিলাম আমরা সারা বাংলাদেশে ১০০ বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলব।

Category:

Leave a Reply