কোমলমতি শিক্ষার্থীদের উসকানি দেওয়া হয়েছিল

uttaran

আওয়ামী লীগের আলোচনায় ওবায়দুল কাদের এমপি

উত্তরণ প্রতিবেদন: বিএনপি ও তাদের দোসরদের যে কোনো চক্রান্ত ও আন্দোলন মোকাবেলায় আওয়ামী লীগ প্রস্তুত জানিয়ে দলটির সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি বলেছেন, আমরা জানি এরকম আন্দোলন করার চক্রান্ত আছে। গোপন বৈঠক হচ্ছে দেশে-বিদেশে। এ বিষয়ে আমরা যথেষ্ট সতর্ক ও আমরাও প্রস্তুত। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত আমাদের অফিস সক্রিয় থাকে। প্রতিদিন আমরা পরিস্থিতির মূল্যায়ন করি। কোনো বিষয়ে আমাদের যদি ঘাটতি থাকে নেত্রীর (শেখ হাসিনা) সঙ্গে পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত নেই এবং এগিয়ে যাই।
গত ১৮ আগস্ট রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরে আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা উপ-কমিটি আয়োজিত ‘গুজব সন্ত্রাস-অপপ্রচার রুখে দাঁড়াও বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই সরকার উৎখাতের নামে বিএনপি-জামায়াতের ষড়যন্ত্র, আগুন-সন্ত্রাস, জ্বালাও-পোড়াও ও গুজব-অপপ্রচার নিয়ে একটি ভিডিওচিত্র প্রদর্শন করা হয়। এরপর সম্প্রতি নিরাপদ সড়ক দাবির আন্দোলনকে কেন্দ্র করে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের উসকানি দিতে সরকারবিরোধী মহলের অপপ্রচার ও গুজব নিয়ে অভিমত ব্যক্ত করেন বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা।
শিক্ষার্থী নিহতের গুজবকে কেন্দ্র করে নিরাপদ সড়কের দাবির আন্দোলনের সময় ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার কার্যালয়ের পাশে নির্বাচনী কার্যালয়ে হামলার ঘটনাটি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর সেই দিনের নির্দেশনার বিষয়টি তুলে ধরেন ওবায়দুল কাদের এমপি। তিনি বলেন, বারবার অফিস থেকে ফোন করেছিলাম, নেত্রী পার্টি অফিসের গেটে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আসছে। ওরা আক্রমণ করবে, আমরা কি করব? নেত্রী বললেন, মার খাও কিন্তু উত্তেজিত হওয়া চলবে না। নেত্রী যদি এই ধৈর্য ধরার পরামর্শ না দিতেন, ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর বলপ্রয়োগ করা যাবে না। পুলিশকে যদি এই নির্দেশনা না দিতেন তাহলে কি পুলিশ ধৈর্য ও সংযম দেখাতে পারত? যথাযথভাবে পরিস্থিতি মনিটরিং এবং মোকাবেলা করেছেন যোগ করেন তিনি।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, একটি আন্দোলনকে হিংসাত্মকভাবে ভয়াবহ রাজনৈতিক আন্দোলনে রূপ দেওয়ার যে বিপজ্জনক এজেন্ডা, সেই এজেন্ডাকে প্রধানমন্ত্রী সৎ সাহস ও দৃঢ়তা নিয়ে একজন স্ট্রেটসম্যান, চিন্তানায়ক ও রাষ্ট্রনায়কের মতো মোকাবেলা করেছেন। তিনি বলেন, আমাদের পার্টি এখন প্রো-অ্যাকটিভ পার্টি। আমাদের পার্টি যদি প্রো-অ্যাকটিভ না হতো তাহলে আমরা হেরে যাওয়া ৪টি সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে জিততে পারতাম না।
ওবায়দুল কাদের অভিযোগ করেন, কোটা আন্দোলনের ওপর বিএনপি ও তার সাম্প্রদায়িক দোসররা ভর করেছিল। লন্ডন থেকে নির্দেশনা এসেছে। ভয়ঙ্কর আরও কিছু হতে পারত; কিন্তু সেটা সরকার অত্যন্ত সুন্দরভাবে পরিস্থিতি হ্যান্ডেল করেছে এবং সেটা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে আমরা এখনও প্রস্তুত। আমরা জানি দেশে-বিদেশে আন্দোলনের নানা চক্রান্ত চলছে। তবে এ বিষয়ে আওয়ামী লীগ যথেষ্ট সতর্ক ও প্রস্তুত।
নিরাপদ সড়কের আন্দোলনের সময় গুজব রটনাকারীরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হওয়ার পর কোনো কোনো গণমাধ্যম সংবাদ প্রকাশ করেনি, উল্টো সড়ক পরিবহন খাতে নৈরাজ্য নিয়ে সম্প্রতি ওসব গণমাধ্যমে নানা সংবাদ প্রকাশের কথা উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, সবকিছুর একটা সীমা আছে। ধরা পড়ল। তারপরও কোনো কোনো পত্রিকায় কোনো নিউজ নেই। আর আমার বিরুদ্ধে তো লেগেই আছে। একটা দিনও বাদ নাই। আমি বুঝি কেন এটা হচ্ছে? আমি জানি এটা রাজনৈতিক আক্রমণ। ইন্টারভিউ দিতে আমাকে চিঠি লিখেছে, অনুরোধ করেছে। আমার দলের সিদ্ধান্ত, এখানে ইন্টারভিউ দেওয়া যাবে না। আমি দলের সিদ্ধান্ত মেনেছি। সেজন্য আমাকে আক্রমণ করছে কেন? এ সময় বাংলাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা এখনকার মতো উন্নয়ন কবে হয়েছিল এমন চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে সড়ক যোগাযোগ উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন দৃশ্যমান পদক্ষেপগুলোর কথা তুলে ধরেন সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি।
বিএনপি নির্বাচন নিয়ে বিভিন্ন বক্তব্যের সমালোচনা করে ওবায়দুল কাদের বলেন, তারা বলছে নির্বাচন প্রক্রিয়াই না-কি বাদ দিতে হবে! তাহলে কোন প্রক্রিয়ায় নির্বাচন হবে? নির্বাচন প্রক্রিয়া বাংলাদেশের সংবিধানের বিধান। এই নির্বাচন প্রক্রিয়া থেকে সরে যাওয়ার কোনো সুযোগ আগামী নির্বাচনের আগে নেই। এ ধরনের দাবি ‘মামা বাড়ির আবদার’ ছাড়া কিছুই নয়।
আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা উপ-কমিটির সদস্য সচিব ড. হাছান মাহমুদ এমপির সভাপতিত্বে ও উপ-প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিনের পরিচালনায় আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন বেসরকারি স্যাটেলাইট টেলিভিশন একাত্তরের সিইও মোজাম্মেল বাবু, ভিকারুন-নেসা নূন স্কুলের শিক্ষার্থী জাফরিন আহমেদ রূপন্তী, সিটি কলেজের শিক্ষার্থী মানরাজ হোসেন শামীম, সিটি কলেজের সহকারী শিক্ষক আহসান হাসীব রাজা, অভিনেত্রী অরুণা বিশ্বাস প্রমুখ। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক একেএম এনামুল হক শামীম, শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক শামসুন্নাহার চাঁপা, কার্যনির্বাহী সদস্য মারুফা আক্তার পপি প্রমুখ।

Category:

Leave a Reply