ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়ন-সাফল্যে আওয়ামী লীগের অর্জন

Posted on by 0 comment

june2018আরিফ সোহেল : ক্রীড়াবান্ধব আওয়ামী লীগ সরকার যখনই ক্ষমতায়, তখনই এ দেশের ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়ন-অগ্রগতি-সমৃদ্ধি রচিত হয়েছে। অর্জিত হয়েছে সাড়া জাগানিয়া সাফল্য। ক্রিকেট-ফুটবল-হকি-শুটিং-ভারোত্তোলন-আরচারি-সাঁতার-ভলিবলের আন্তর্জাতিক আসর থেকে লেগেছে বাঙালি জাতির মাথায় গৌরবের পালক। জাতির পিতার মতো মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও খেলা-পাগল। সময়-সুযোগ পেলেই ছুটে যান স্টেডিয়ামে। অনুপ্রাণিত করেন খেলোয়াড়দের। সাকিব যখন বিশ্ব মাতিয়ে দেন, মাবিয়া-শাকিলরা যখন লাল-সবুজের পতাকা উড়িয়ে দিয়ে নিজের আবেগ ধরে রাখতে পারেন না; তখন মায়ের মমতায় তাদের ফোন করে অনুপ্রাণিত করেন প্রধানমন্ত্রী।
দেশি ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ক্রীড়াঙ্গনকে সমুন্নত রাখতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রতিশ্রুতিবব্ধ। হয়তো তাইÑ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ গঠনের রূপকল্প-২০২১ ও রূপকল্প-২০৪১-এ ক্রীড়াঙ্গনকে আলাদা মর্যাদার জায়গায় রেখেছেন। তার কারণও রয়েছেÑ ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়ন-সাফল্যে প্রশংসিত হয়েছে শেখ হাসিনা সরকার। সেই প্রশংসা এসেছে কখনও ক্রিকেট বিশ্বকাপে, কখনও কিশোর মেয়েদের ফুটবলে, কখনও এশিয়ান গেমস বা কমনওয়েলথ গেমসের আসর থেকে।
আন্তর্জাতিক আসর আয়োজনেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুনাম-সুখ্যাতি বিশ্বময় ছড়িয়ে রয়েছে। বিশ্বকাপ, এশিয়া কাপ এবং টোয়েন্টি২০ বিশ্বকাপ সার্বিকভাবে সাফল্যম-িত করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আইসিসি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। এসএ গেমস উদ্ভাসন আয়োজন ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে। দারুণ এবং সফল আয়োজনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক রোলার স্কেটিং, আরচারি, হকি, ভলিবলের নীতি-নির্ধারকরাও।

একই পথের যাত্রী
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আহ্বানে সাড়া দিয়েই সর্বস্তরের মানুষ মহান মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। ৩০ লাখ শহিদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে বাংলাদেশ মুক্ত করেছে পরাধীনতার শৃঙ্খল। পৃথিবীর মানচিত্রে বাঙালি জাতি খুঁজে পেয়েছে আপন ঠিকানা। স্বপ্নদ্রষ্টা জাতির পিতার নিজ হাতেই স্বাধীনতাত্তোর বাংলাদেশে খেলার জন্য অবকাঠামো নির্মাণ এবং ক্রীড়াঙ্গনকে সচল রাখতে নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। বঙ্গবন্ধু যেহেতু ছোটবেলা থেকে খেলাধুলায় পারদর্শী ছিলেন। ছিলেন পুরোদস্তুর ক্রীড়াবিদ। খেলতেন ফুটবল স্কুল জীবনেই। তাই দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকেই তিনি বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনকে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ গ্রহণ করেন। স্মৃতির অ্যালবাম বলছেÑ ১৯৭২ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকা স্টেডিয়ামে প্রদর্শনী ফুটবল ম্যাচের কথা। ম্যাচে অংশ নেয় রাষ্ট্রপতি একাদশ ও মুজিবনগর একাদশ। এই ম্যাচটি ছিল স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম ফুটবল ম্যাচ। মুজিবনগর একাদশে খেলেছেন স্বাধীন বাংলার ফুটবলাররা। বঙ্গবন্ধু ম্যাচের উদ্বোধন করেন তিনি। ১৯৭৫ সালের বিয়োগান্তক উপখ্যান, পরবর্তীতে নানা সরকারের আসা-যাওয়া। কিন্তু ক্রীড়াঙ্গনে সুবাতাস আর আসেনি। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ক্রীড়াঙ্গনের প্রতি আত্মনিবেদন করেন।

ক্রীড়া অবকাঠামোর ব্যাপক উন্নয়ন
একদিকে বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে সাফল্য ছুঁয়ে দেখা; অন্যদিকে আওয়ামী লীগ সরকার আমলেই স্টেডিয়াম-মাঠ-গ্যালারিসহ অবকাঠামো খাতে ব্যাপক উন্নয়ন ঘটেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুচিন্তিত পরামর্শ-নির্দেশনায় বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনও রূপায়িত হয়েছে উন্নয়ন ও অগ্রগতির রোল মডেলে। একদিকে সরকারি অর্থায়ন-উদ্যোগে পুরনো স্টেডিয়াম সংস্কার; অন্যদিকে প্রতিনিয়ত নতুন স্টেডিয়াম বিনির্মাণের প্রকল্প ও কর্মসূচি গ্রহণ ভিন্নমাত্রা যোগ করেছে। আওয়ামী সরকার আমলেই ৫টি জাতীয় স্টেডিয়াম, ৪টি বিভাগীয় স্টেডিয়াম, ৬২টি জেলা স্টেডিয়াম এবং থানা পর্যায়ে ৫টি স্টেডিয়াম নির্মাণ হয়েছে। নির্মাণ ও সংস্কার মিলিয়ে ঢাকাসহ সারাদেশে ৩২টি জিমনেসিয়াম, ২০টি সুইমিংপুল, ৭টি ইনডোর স্টেডিয়াম এবং ৪টি মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্স, ৫টি পূর্ণাঙ্গ ক্রীড়া কমপ্লেক্স, একটি করে হ্যান্ডবল, বক্সিং, ভলিবল ও কাবাডি, শেখ রাসেল রোলার স্কেটিং কমপ্লেক্সে তৈরি হচ্ছে আগামীদিনের তারকারা। উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ভেন্যু হিসেবে শের-ই-বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়াম, চট্টগ্রাম জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়াম, ফতুল্লা খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়াম, সিলেট বিভাগীয় স্টেডিয়াম, খুলনা শেখ আবু নাসের স্টেডিয়াম ক্রিকেট বিশ্বে প্রশংসিত হচ্ছে। সর্বশেষ দুরন্ত গতিতে চলছে ৪৯০টি উপজেলা পর্যায়ে মিনি স্টেডিয়াম বিনির্মাণের কাজ। ইতোমধ্যে সরকার ১৩১টি মিনি স্টেডিয়ামের অবকাঠামো নির্মাণের কাজ প্রায় শেষ হয়েছে। নতুন অর্থবছরে বাকি স্টেডিয়ামের কাজ সম্পাদনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া গত অর্থবছরে শুরু হয়েছে ৪টি নতুন গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের কাজ। এই ৪টি নতুন গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প হচ্ছেÑ
১. ঢাকার পূর্বাচলে ৩৭.৫ একর জমির ওপর ৬৫ হাজার দর্শক আসন সম্পন্ন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম;
২. কক্সবাজারে ৪৯.২ একর জায়গায় শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম এবং ক্রীড়া কমপ্লেক্স;
৩. মানিকগঞ্জে ২৫ একর জমির ওপর আন্তর্জাতিকমানের ক্রিকেট স্টেডিয়াম এবং
৪. ক্রীড়া পরিষদের নতুন ভবন নির্মাণের প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।
বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক ভলিবল টুর্নামেন্ট
বঙ্গবন্ধু সিনিয়র মেনস সেন্ট্রাল জোন আন্তর্জাতিক ভলিবল টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল স্বাগতিক বাংলাদেশ। ২৭ ডিসেম্বর ২০১৬ অনুষ্ঠিত পাঁচ জাতির এই আসরের ফাইনালে কিরগিজস্তানকে ৩-০ সেটে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়ে জাবির-রাশেদরা উড়িয়েছে লাল-সবুজের পতাকা। কিন্তু ২০১৮ সালে বাংলাদেশ হয়েছে রানার্সআপ। এবার ফাইনালে বাংলাদেশকে ৩-১ সেটে পরাজিত করে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক ভলিবল টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে তুর্কেমেনিস্তান।

এএইচএফ কাপ হকিতে চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ
হংকংয়ে এএইচএফ কাপ হকিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বাংলাদেশ। ২৭ নভেম্বর ২০১৭ ফাইনালে জিমি-আশরাফুলরা শ্রীলংকাকে    ৩-০ গোলের ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়ে টানা তৃতীয়বারের মতো শিরোপা জিতেছে। এর আগে ২০০৮ সালে সিঙ্গাপুর ও ২০১২ সালে থাইল্যান্ডে শিরোপা জিতেছিল বাংলাদেশ। পরবর্তীতে বিশ্বকাপের নির্ধারণী আসরেও বাংলাদেশ তৃতীয় হয়েছে। যার মানে বাংলাদেশের যুব দল বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পাচ্ছে।

চতুর্থ রোলবল বিশ্বকাপ টুর্নামেন্ট
ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহে বাংলাদেশে বসেছিল রোলার স্কেটিংয়ের চতুর্থ রোলবল বিশ্বকাপ টুর্নামেন্ট-২০১৭। আসরে পাঁচ মহাদেশের ৫৫টি দেশ অংশ নিয়েছে। এই আসরকে সামনে রেখে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়াম কমপ্লেক্সে জাতীয় রোলার স্কেটিং কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক এই আসরের বিজয়ী দলকে শিরোপা তুলে দিয়েছেন। বাংলাদেশ আসরে চতুর্থ হয়ে দারুণ চমক সৃষ্টি করেছে।

তৃণমূলে প্রতিভা অন্বেষণ কর্মসূচি
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের উদ্যোগে প্রথমবারের মতো দেশব্যাপী তৃণমূলে প্রতিভাবান খেলোয়াড় বাছাইয়ের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে ২০১৭ সালে। এই কর্মসূচির জন্য সরকার ১৫ কোটি ১০ লাখ টাকা অর্থ বরাদ্দ দিয়েছিল। এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচি থেকে ৩১টি ক্রীড়া ফেডারেশন খুঁজে নিয়েছে তাদের আগামী দিনের তারকা। তৃণমূলে এই কর্মসূচি ক্রীড়াঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন তুলেছে। প্রতিভা অন্বেষণে প্রশিক্ষণ কর্মসূচির জন্য ক্রীড়া ফেডারেশনগুলো দীর্ঘদিন সরকারের কাছে অর্থ বরাদ্দ চেয়ে আসছিল। চলতি বছরও তৃণমূলে প্রতিভা অন্বেষণের কর্মসূচি শুরু হতে যাচ্ছে।

বঙ্গবন্ধু এবং বঙ্গমাতা শিশু-কিশোর ফুটবল
প্রাথমিক স্কুল পর্যায়ে বঙ্গবন্ধু এবং বঙ্গমাতা গোল্ডকাপের আয়োজন সারাদেশের শিশু-কিশোর ও তরুণ-তরুণীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। বাংলাদেশের প্রমীলা ফুটবলের আজকের দীপ্ত পদচারণায় এই টুর্নামেন্টের যথেষ্ট ভূমিকা রয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিয়মিতই বঙ্গবন্ধু এবং বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিব প্রাথমিক বিদ্যালয় ফুটবল টুর্নামেন্টে উপস্থিত থাকেন এবং বিজয়ীদের পুরস্কৃত করেন। বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপে ৬৩ হাজার ৫০৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১০ লাখ ৭৯ হাজার ৬৫৩ ফুটবলার অংশ নেন। আর বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিব গোল্ডকাপে ৬৩ হাজার ৪৩১টি বিদ্যালয়ের ১০ লাখ ৭৮ হাজার ৩২৭  ফুটবলার অংশ নেন। বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেসা মুজিবের নামে দেশব্যাপী ফুটবল টুর্নামেন্ট বাংলাদেশে ক্ষুদে ফুটবলার তৈরির ক্ষেত্রে অনন্য ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। শুধু রাজধানী নয়, জেলা, উপজেলা, গ্রাম পর্যায়েও এই টুর্নামেন্ট এখন আলোচনার শীর্ষে। আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে মেয়েদের বয়সভিত্তিক ফুটবল দল। এই দলটি ওঠে এসেছে বঙ্গবন্ধু বঙ্গমাতা ফুটবল আসর থেকে।

১২তম সাউথ এশিয়া গেমস
ভারতের গোয়ায় অনুষ্ঠিত সাউথ এশিয়া গেমসে এবার ৪টি স্বর্ণ জিতে পঞ্চম স্থান অর্জন করেছে বাংলাদেশ। এই ৪টি স্বর্ণ জিতেছেন তিন অ্যাথলেট। দুই মেয়ে মাবিয়া আক্তার সীমান্ত ও মাহফুজা খাতুন শিলা এবং শুটার শাকিল আহমেদ। ভারোত্তোলন থেকে প্রথম স্বর্ণ এনেছেন মাবিয়া, এরপর সাঁতার থেকে বাকি দুটি স্বর্ণ জিতেছেন মাহফুজা খাতুন শিলা। বাংলাদেশের অ্যাথলেটরা ৪টি স্বর্ণ ছাড়াও ১৫ রৌপ্য এবং ৫৬ তাম্রপদক জিতেছেন।

গোল্ডকোস্ট কমনওয়েলথ গেমস
বাকি এবং শাকিল এবার অস্ট্রেলিয়ায় আয়োজিত গোল্ডকোস্ট কমনওয়েলথ গেমসে শুটিংয়ে দুটি পদক জিতেছে। অস্ট্রেলিয়ার গোল্ডকোস্ট কমনওয়েলথ গেমসে একক কীর্তিগাথার সুললিত সুর বাজিয়েছেন গাজীপুরের ছেলে ২৮ বছরের আবদুল্লাহ হেল বাকি। এই সাহসী শুটার কমনওয়েলথ গেমসে ১০ মিটার এয়ার রাইফেলে রৌপ্যপদক জিতেছেন। এছাড়া শাকিলের পিস্তল থেকেও বাংলাদেশ অর্জন করেছে ৫০ মিটার এয়ার রাইফেলে রৌপ্য।

ক্রিকেটের গৌরবময় অধ্যায়
ক্রিকেট এখন বাংলাদেশের অহঙ্কারের প্রতীক। বিশ্ব ক্রিকেটে নিত্যনতুন অধ্যায়ের সৃষ্টি করেছেন তামিম-সাকিব-মাশরাফি এবং মুস্তাফিজরা। ২০১৫ সালে বাংলাদেশ পাকিস্তান, ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দুবার সিরিজ জয় করে। সবচেয়ে বড় ঘটনা পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করা। সর্বশেষ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডসহ ৩টি দেশের বিপক্ষে জয় তুলে নিয়ে বাংলাদেশ কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠে। ২০১৬ সালে পাকিস্তান-শ্রীলংকাকে হারিয়ে বাংলাদেশের অনুষ্ঠিত এশিয়া কাপ ক্রিকেটে রানার্সআপ হয়েছে মাশরাফিরা। ভারতে অনুষ্ঠিত টোয়েন্টি২০ বিশ্বকাপে সুপার এইটে ওঠে বাংলাদেশ। দেশে আফগানিস্তানের বিপক্ষে জিতে টানা ৬ সিরিজ জয়ের রূপকথা সৃষ্টি করেছে বাংলাদেশ। ২০১৬ সালের অক্টোবরে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ ড্র করে বাংলাদেশ। এই ক্রিকেটের আন্তর্জাতিক অভিষেকও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে। প্রথম টেস্ট বাংলাদেশে তার উদ্বোধকও শেখ হাসিনা। বিশ্বকাপ ক্রিকেট আয়োজনও হয়েছে আওয়ামী লীগ সরকার আমলে। এ দেশে খেলে গেছে মেসির আর্জেন্টিনা-সুপার ঈগল নাইজেরিয়া; তাও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আন্তরিক সচ্ছিদার কারণে।

জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্রীড়া দিবস উদযাপন
২০১৭ সালে ‘শান্তি ও উন্নয়নের জন্য ক্রীড়া’ এই সেøাগানকে সামনে রেখে প্রথমবারের মতো উদযাপিত হয়েছিল জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্রীড়া দিবস। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জাতীয় ক্রীড়া দিবসের ঘোষণা দিয়েছিলেন। ক্রীড়াকে সবার কাছে জনপ্রিয় করার জন্য; সবাইকে ক্রীড়ায় মনোনিবেশ করার জন্য এই দিবসটি পালন করা হয়েছে। পৃথিবীর অন্যান্য দেশের সঙ্গে সমানতালে ২০১৪ সাল থেকে বাংলাদেশও ৬ এপ্রিল আন্তর্জাতিক ক্রীড়া দিবস পালন করে আসছে। এই দিবসের গুরুত্ব অন্যান্য বছরের তুলনায় বৃদ্ধি পায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৬ সালে জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে ৬ এপ্রিলকে জাতীয় ক্রীড়া দিবস ঘোষণা করার পর। চলতি বছরও ৬ এপ্রিল উৎসব রাঙানো একটি দিন পালন করেছে ক্রীড়া সংশ্লিষ্টরা। ক্রীড়া দিবস পালন করেছে উৎসবমুখর আয়োজনের মধ্য দিয়ে।

প্রথম জাতীয় যুব গেমস
বাংলাদেশে প্রথমবাবের মতো আয়োজন করা হয়েছে বাংলাদেশ যুব গেমস। প্রায় পাঁচ মাসব্যাপী এই আয়োজনকে ঘিরে ব্যাপক সাড়া পড়েছে। সারাদেশের হাজার হাজার তৃণমূলের প্রতিভাবান ক্রীড়াবিদ খুঁজে পাওয়া গেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই আয়োজনে সরাসরি সম্পৃক্ত থেকে উঠতি বয়সী তারকাদের প্রাণিত করেছেন। একেবারে উপজেলা পর্যায় থেকেই এই আসরের প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছিল। এই আসর থেকে আগামী দিনের সম্ভাবনাময় ক্রীড়াবিদ উঠে আসবে।

পিতা-আত্মজায় যেখানে মিলেমিশে একাকার
দেশপ্রধান বঙ্গবন্ধু নিজে উপস্থিত থেকে অনুপ্রাণিত করেছেন খেলোয়াড়দের। বিভিন্ন আসরে খেলোয়াড়রা দেশত্যাগের প্রাক্কালে তাদের উজ্জীবিত করতে জাতির পিতা মন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমান জাতীয় দলের বিদায়ক্ষণে গণভবনে ডেকে কুশলবিনিময় করতেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও পিতার পথ অনুসরণ করেছেন। ২০১৭ সালে বিশ্বকাপের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগের আগে গণভবনে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেছিলেন। পাকিস্তানের বিপক্ষে স্মরণীয় বিজয় উদযাপনের শুভক্ষণেই প্রধানমন্ত্রী ক্রিকেটারদের সম্বর্ধিত করেছেন। আইসিসি বিশ্বকাপ ২০১৫ আসরে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের চোখ ধাঁধানো সাফল্যের পাশাপাশি পাকিস্তান ক্রিকেট দলের বিপক্ষে ঐতিহাসিক সাফল্য অর্জনের ভূয়সী প্রশংসা করে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলকে ২ কোটি টাকা পুরস্কার দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আইসিসি চ্যাম্পিয়ন দলকে দিয়ে শুরু করে আন্তর্জাতিক এবং দেশীয় ক্রীড়াঙ্গনে সাফল্য অর্জন করা সব ক্রীড়াবিদকেই ক্ষেত্রবিশেষে জমি, ফ্ল্যাট, গাড়ি, নগদ টাকায় পুরস্কৃত করেছেন প্রধানমন্ত্রী।  তিনি ফুটবলের টানে অনেকবার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে ছুটে গেছেন। খেলোয়াড়দের সঙ্গে ছবি তুলেছেন। বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপে, ঘরোয়া ফুটবল আসরেও প্রধানমন্ত্রীকে দেখা গেছে।
ক্রিকেট ফুটবল থেকে শুরু গ্রামের হারিয়ে যাওয়া বউচি খেলার কথাও প্রধানমন্ত্রী মনে রাখছেন। তুলনামূলক বিচার করে সমানভাবেই খেয়াল রাখছেন। ক্রীড়াঙ্গনের সব অর্জনের সঙ্গে আওয়ামী লীগ সরকারের এই কাকতালীয় সম্পৃক্ততা যে কারোর কাছেই ঈর্ষণীয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কোন খেলোয়াড় কেমন খেলছে, কাকে কি দিতে, কাদের দিয়ে ক্রীড়াঙ্গনের উন্নতি হবে, ক্রীড়াঙ্গনের জন্য কত বাজেট রাখা উচিতÑ তার সব হিসাবই রাখেন। সেই কারণেÑ যখনই আওয়ামী লীগ ক্ষমতায়, তখনই ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়ন-অর্জনের জয় জয়কার।

Category:

Leave a Reply