জঙ্গিদের কোনো ধর্ম নেই

Posted on by 0 comment
18

ওলামা মাশায়েখ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী

যুবসমাজসহ কোনো ব্যক্তি যেন জঙ্গিবাদে জড়িয়ে ইসলাম ধর্মের ক্ষতি না করে সে জন্য তাদের যথাযথভাবে শিক্ষিত করার জন্য মসজিদের ইমাম ও ওলামায়ে কেরামদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গত ৬ এপ্রিল রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ৪২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ওলামা মাশায়েখ মহাসম্মেলনে তিনি এ আহ্বান জানিয়ে বলেন, ইসলাম কখনও নিরীহ মানুষকে হত্যায় বিশ্বাস করে না। মুসলমান হয়ে জঙ্গিরা মুসলমানদের হত্যা করছে। এতে লাভবান হচ্ছে অস্ত্র ব্যবসায়ীরা। জঙ্গিরা ইসলামের কেউ নয়। এদের কোনো ধর্ম নেই। সন্ত্রাস ও জঙ্গিপনাই এদের ধর্ম। ইসলামে সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদের কোনো স্থান নেই বলে পবিত্র মক্কা ও মসজিদে নববীর দুই খতিব যে বক্তব্য দিয়েছেন তা সবার কাছে পৌঁছে দিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, অতিথিরা তাদের বক্তব্যে স্পষ্টভাবে বলেছেন, ইসলাম হলো শান্তির ধর্ম। ইসলাম কখনও নিরীহ মানুষকে হত্যায় বিশ্বাস করে না। ইসলাম সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদকে স্থান দেয় না। অথচ ইসলামের কথা বলে মানুষ হত্যা করলেই বেহেস্তে যাওয়া যাবে বলে প্রচার করে জঙ্গিবাদ ছড়ানো হচ্ছে। যারা এ ধরনের কর্মকা-ে জড়িত তারা ইসলামের ক্ষতি করছে। একজন মুসলমান হয়ে আরেকজন নিরীহ মুসলমানকে হত্যা করে জান্নাতের পথে চলে যাওয়ার ভ্রান্ত ধারণাকে কেন বিশ্বাস করা হচ্ছে? আমাদের পবিত্র কোরআন শরিফে আছে এবং নবী করিম (সা.) বলেছেন, নিরীহ মানুষকে হত্যা যদি করা হয়, তা হলে সে কখনও জান্নাতে যেতে পারে না।
ইসলাম শান্তি ও ভ্রাতৃত্বে বিশ্বাস করে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ মুসলিম অধ্যুষিত রাষ্ট্র। এখানকার ৯০ ভাগ মানুষ মুসলমান। কিন্তু অন্য ধর্মের মানুষও আছেন এই ভূখ-ে। ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব এবং সব ধর্মের মানুষ তার ধর্ম পালন করবে। আমরা এটা পালন করতে পেরেছি। সব ধর্মের মানুষ স্বাধীনভাবে ধর্ম পালন করছে। আমাদের ধর্ম পবিত্র ধর্ম, শান্তির ধর্ম। এ ধর্মে নিবেদিতরা যেন ঠিকভাবে সব পালন করতে পারেন সেই লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি। আমরা চাই, ধর্মকে কেউ যেন হেয় না করে। মুসলমান ভাই ভাই হিসেবে বসবাস করবে।
ইসলাম শান্তির ধর্ম এবং এখানে সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদের কোনো স্থান নেই বলে পবিত্র মক্কা ও মসজিদে নববীর দুই খতিব যে বক্তব্য দিয়েছেন তা সবার কাছে পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বলেন, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে পবিত্র দুই মসজিদের খতিবের বক্তব্য সরকারের প্রচেষ্টাকে এগিয়ে নেবে এবং সহজ করবে। শেখ হাসিনার বক্তব্যের আগে সম্মেলনে বক্তৃতা করেন মসজিদে নববীর ইমাম ও খতিব ড. আবদুল মুহসিন আল কাসিম এবং মক্কার হারাম শরিফের দ্বিতীয় প্রশাসনিক প্রধান ড. মুহাম্মাদ বিন নাসের আল খুজাইম। তারা জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সৌদি সরকারের অবস্থান জানিয়ে এ বিষয়ে সবাইকে সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যকার সম্পর্ক অনেক মজবুত অবস্থানে রয়েছে।
দুদেশের সম্পর্কোন্নয়নে ভূমিকা রাখায় বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত এবং সৌদিতে নিযুক্ত বাংলাদেশি রাষ্ট্রদূতকে বিশেষ ধন্যবাদ দেন প্রধানমন্ত্রী। বঙ্গবন্ধুকে স্মরণ করে শেখ হাসিনা বলেন, স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ইসলাম ধর্ম প্রচার ও প্রসারের জন্য ইসলামিক ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। আজকের এই দিনে তাকে স্মরণ করছি। স্বাধীনতার পর জাতির পিতা মদ-জুয়া সব বন্ধ করে দিয়েছিলেন। যারা পঁচাত্তরের পর ক্ষমতায় এসেছিল তারা মাদককে উন্মুক্ত করে দিয়েছিল। মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড জাতির পিতা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। আমাদের ধর্ম শান্তির ধর্ম। পঁচাত্তরে বঙ্গবন্ধুকে নির্মমভাবে হত্যার ২১ বছর পর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসে। তারপর থেকে ইসলামের কল্যাণে কাজ করে আসছে আওয়ামী লীগ।
শেখ হাসিনা বলেন, জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে আমরা নারীদের নামাজের ব্যবস্থা করেছি। এই মসজিদে ৫ হাজারের ওপরে নারী এখন নামাজ পড়তে পারেন। আমরা আরবি বিশ্ববিদ্যালয় করে দিয়েছি। মাদ্রাসায় অনাথদের জন্য কার্যক্রম শুরু করেছি। আমাদের শান্তির ধর্ম পালনে যারা নিবেদিত, তারা যেন যথাযথভাবে পালন করতে পারেন, সে ব্যবস্থাও করে দিয়েছি।
শেখ হাসিনা আরও বলেন, বাংলাদেশের এই ভূখ-ে প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষ মুসলমান। ইসলামের যে ধর্মীয় শিক্ষা সেটা আমাদের পালন করতে হবে। অন্য ধর্মের মানুষ এখানে বাস করে, তাদের প্রতি আমাদের সম্মান দেখাতে হবে। যেন সবাই সবার ধর্ম পালন করতে পারে।
ধর্মের নামে কেউ যেন কারও ক্ষতি না করে, জঙ্গিবাদী কর্মকা- করতে না পারে সেদিকে সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রত্যেকে এক হয়ে ইসলামের পথে কাজ করতে হবে। কেউ যেন জঙ্গিবাদের পথে না যায় সেটা খেয়াল করতে হবে। ইসলাম সবসময় মানবতাবাদে বিশ্বাস করে। ইসলাম ক্ষমা ও ভ্রাতৃত্বের ধর্ম। অসহায়দের সহায়তা করতে ইসলাম শিক্ষা দেয়।
বিশ্বে যারা শান্তিতে বিশ্বাস করে, তাদের নিয়ে কাজ করতে হবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী সৌদি সরকারের উদ্দেশে বলেন, সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ দমনে আমরা একসাথে কাজ করব। প্রতিটি দেশের মানুষের মধ্যে যেন শান্তি ফিরে আসে সে পথে আমাদের কাজ করতে হবে।
সন্ত্রাসবাদী-জঙ্গিবাদী কর্মকা-ে অস্ত্র ব্যবসায়ীরাই লাভবান হয় জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের শান্তি প্রতিষ্ঠায় কাজ করতে হবে। শান্তির বাণী মানুষের মধ্যে প্রচার করা আমাদের দায়িত্ব বলে মনে করি। সেজন্য ইমাম-মোয়াজ্জিনের কল্যাণে আমরা ট্রাস্ট গঠন করে দিয়েছি। যেন তারা আর্থিক সহায়তা পান সে ব্যবস্থা করে দিয়েছি। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম যেন ডিজিটাল পদ্ধতিতে করা হয় সে ব্যবস্থা আমরা করেছি।
এ সময় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, যেখানেই সন্ত্রাস বা জঙ্গিবাদ মাথাচাড়া দেবে, সেখানে আপনাদের ব্যবস্থা নিতে হবে। অবশ্য এরই মধ্যে আপনারা সে ব্যবস্থা নিয়েছেনও। যারা জঙ্গিবাদে বিশ্বাস করে, তাদের কোনো ধর্ম নেই। জঙ্গিবাদই তাদের ধর্ম, যারা ইসলামকে হেয় করতে চায়, তাদের সেই ভুল পথ থেকে ফিরিয়ে আনতে হবে। যারা জঙ্গিবাদে চলে গেছে, তারা যদি স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে চায়, তবে তাদের সব ধরনের সহযোগিতা সরকার করবে।
অর্থনৈতিক মুক্তির পথে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ দেশে কোনো মানুষ না খেয়ে মরবে না, আমরা সেই ব্যবস্থা করেছি। সবাইকে নিয়ে আমরা শান্তির দেশ গড়ব।

Category:

Leave a Reply